Jumjournal Logo

পাংখোয়া জনগোষ্ঠী: বিলাইছড়ির পাংখোয়াদের জনসংখ্যা, ভাষা, গ্রাম, ধর্ম ও বর্তমান অবস্থা

Last updated Oct 24th, 2026

0

মেঘে ঢাকা আকাশের নিচে বিলাইছড়ির জলাশয়, তীরে গাছপালার ফাঁকে কয়েকটি ঘর আর পানিতে একটি ছোট নৌকা

পাংখোয়া জনগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে ছোট আদিবাসী জাতিগুলোর একটি — 2022 সালের জনশুমারিতে সারা দেশে পাংখোয়া গোনা হয়েছে 1,857 জন, যার 1,398 জন রাঙামাটি জেলায় এবং সবচেয়ে বেশি, 498 জন, বিলাইছড়ি উপজেলায়। তাঁদের ভাষা কুকি-চিন দলের, নিজস্ব লিপি নেই, আর আমাদের আর্কাইভের পাংখোয়া লেখকের ভাষায় “এখন সকল পাংখোয়া খ্রিস্টধর্ম পালন করে”।

নামটির বানান এক নয়। এই লেখা পাংখোয়া বানানটি ব্যবহার করছে, কারণ রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন 2014 সালের সংশোধনীর পর এই বানানই লেখে, আর আমাদের আর্কাইভের পাংখোয়া লেখকও তা-ই লেখেন। অন্য প্রচলিত রূপ: পাংখো (পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, বাংলা উইকিপিডিয়া), পাংখুয়া (সুগত চাকমার বই), আর পুরনো আইনে পাংখু। জনশুমারি 2022-এর পরিসংখ্যান-সারণিতে নামটি ইংরেজিতে “Pankhoa/Pankho” — অর্থাৎ শুমারি পাংখোয়া ও পাংখো দুটি নাম একসঙ্গে লেখে; একই শুমারির রাঙামাটি জেলা-প্রতিবেদনের ইংরেজি ভূমিকায় বানানটি “Pangkhoya”।

পাংখোয়াদের নিয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত লেখাটি আমাদের আর্কাইভেই আছে: পাংখোয়া লেখক লাল চুয়াক লিয়ামা পাংখোর “পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত”। এই পাতা সেটির পুনরাবৃত্তি নয়। এখানে সেই লেখাটিকে পাশে রেখে আরও ছয় ধরনের উৎস মেলানো হয়েছে — 2022 শুমারির উপজেলা ধরে হিসাব, ঔপনিবেশিক নথি (হাচিনসন, 1906), সুগত চাকমার বাংলা একাডেমি-প্রকাশিত বই, বাংলাপিডিয়া, SIL-এর 2007–08 সালের ভাষা-জরিপ ও ভাষাবিদ জাহিদ আকতারের 2024 সালের গবেষণা — আর দেখানো হয়েছে কোথায় উৎসগুলো একমত, কোথায় আলাদা। পাঁচটি ক্ষুদ্রতম জনগোষ্ঠীর তুলনা আছে খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখোয়া ও লুসাই নিয়ে আমাদের মূল লেখায়; পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জনগোষ্ঠী ও বিষয়ের সূচি আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব পাতায়।

সূচিপত্র

  1. পাংখোয়া জনগোষ্ঠী কারা, আর ‘পাংখোয়া’ নামের মানে কী
  2. পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা কত: 2022 শুমারির হিসাব, উপজেলা ধরে
  3. পাংখোয়াদের সংখ্যা কি কমছে: 1865 থেকে 2022 পর্যন্ত হিসাব
  4. বাংলাদেশের বাইরে পাংখোয়ারা কোথায় থাকেন
  5. পাংখোয়ারা কবে, কোথা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে এলেন
  6. পাংখোয়ারা কোথায় থাকেন: উপজেলা, মৌজা ও পাড়া
  7. পাংখোয়া ভাষা কোন পরিবারের, আর কারা কোন ভাষা বোঝেন
  8. পাংখোয়া ভাষা কি বিপন্ন?
  9. পাংখোয়াদের কি নিজস্ব বর্ণমালা আছে?
  10. পাংখোয়া সমাজের গোত্র: দুটি না পঁচিশটি?
  11. পাংখোয়া বিয়ে, পণ ও বিবাহবিচ্ছেদ: কোন উৎস কী বলে
  12. জন্ম, মৃত্যু ও পুরনো বিশ্বাস: যে আচারগুলো নথিভুক্ত
  13. পাংখোয়াদের ধর্ম কী: খ্রিস্টধর্ম, আর পুরনো খোজিং বিশ্বাস
  14. উৎসব, গান, নাচ ও পোশাক: যতটুকু নথিভুক্ত
  15. পাংখোয়াদের জীবিকা: জুম, বন আর বনজ ওষুধ
  16. পাংখোয়াদের শিক্ষা: কত জন পাস করেছেন, কেন ঝরে পড়েন
  17. পাংখোয়াদের বর্তমান অবস্থা: সংখ্যা, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিনিধিত্ব
  18. সচরাচর জিজ্ঞাসা
  19. যা এখনো জানা যায়নি
  20. তথ্যসূত্র

পাংখোয়া জনগোষ্ঠী কারা, আর ‘পাংখোয়া’ নামের মানে কী

পাংখোয়ারা কুকি-চিন ভাষাভাষী একটি ছোট জনগোষ্ঠী, যাঁদের বাস বাংলাদেশে রাঙামাটি জেলায় এবং সীমান্তের ওপারে ভারতের মিজোরামে। নামের অর্থ নিয়ে দুটি বাংলা উৎস একমত: পাংখোয়া ভাষায় “পাং” মানে শিমুল ফুল, “খোয়া” মানে গ্রাম — অর্থাৎ শিমুল ফুলের গ্রাম থেকে আসা মানুষ।

আর্কাইভের লেখক লিখেছেন, পাংখোয়াদের বিশ্বাস সুদূর অতীতে তাঁরা লুসাই পাহাড়ের “পাংখোয়া” নামের একটি গ্রাম থেকে এসেছিলেন, যে গ্রাম শিমুল গাছে ভরা ছিল; কোথা থেকে এসেছেন জানতে চাইলে তাঁরা শিমুল ফুলের গ্রামের কথা বলতেন, তাই থেকে নাম। সুগত চাকমা (বাংলা একাডেমি, 1985) প্রায় একই কথা লিখেছেন: পাংখুয়াদের বিশ্বাস, অতীতে তাঁরা লুসাই পাহাড়ের “পাংখোয়া” নামের গ্রামে বাস করতেন। আর্কাইভের লেখাটি আরও জানায়, মিজোরামের তৎকালীন ছিমতুইপুই জেলার সা-ঙাও শহরের অদূরে পাংখোয়া নামে একটি গ্রাম আছে, আর লুংলেই জেলায় “পাংজল” নামে আরেকটি।

ঔপনিবেশিক লেখক আর. এইচ. স্নেইড হাচিনসন (1906) উল্টো কথা লিখেছিলেন — বনযোগী নামের ব্যুৎপত্তি তিনি দিয়েছেন, কিন্তু “পাংখো” নামের কোনো ব্যুৎপত্তি খুঁজে পাননি বলে লিখেছেন। অর্থাৎ শিমুল-ফুলের ব্যাখ্যাটি পাওয়া যায় পরের বাংলা উৎসে, ঔপনিবেশিক নথিতে নয়।

একই জাতির কয়টি নাম

নামের রূপগুলো এক জায়গায়:

উৎস: আর্কাইভের “পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত”; রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ আইনের সংজ্ঞা নিয়ে আমাদের লেখা (bdlaws-এর পাদটীকা উদ্ধৃত); স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তালিকা নিয়ে আমাদের লেখা; BBS জনশুমারি 2022; সুগত চাকমা; Akter 2024; Konow 1903 (Akter-এ উদ্ধৃত)।
রূপ কোথায় পাওয়া যায়
পাংখোয়া রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন (2014 সালের সংশোধনীর পর); ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইনের 2010 সালের তফসিল; বাংলাপিডিয়ার বাংলা ভুক্তি; আর্কাইভের পাংখোয়া লেখক
পাংখোয়া/পাংখো 2019 সালের সংশোধিত তফসিল (একই সারিতে দুটি নাম)
Pankhoa/Pankho BBS জনশুমারি 2022-এর সারণি (Table P29, P17)
পাংখো পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998; বাংলা উইকিপিডিয়া; ইংরেজি বাংলাপিডিয়া (“Pankho”)
পাংখু দুই জেলা পরিষদ আইনের 1989 সালের মূল পাঠ; আর্কাইভের লেখক জানান, পাংখোয়ারা নিজেদের “পাংখু” বা “পাংখোয়া” নামে পরিচয় দেন
পাংখুয়া সুগত চাকমা, “বাংলাদেশের উপজাতি” (1985)
Pangkhua (paŋkʰuɑ) ভাষাবিদ জাহিদ আকতার (2024), যিনি এটিকে জাতি ও ভাষা দুটিরই নিজ-নাম বলেছেন; SIL-এর 2011 সালের জরিপ
Pānkhū Linguistic Survey of India (Konow, 1903), আকতারের উদ্ধৃতিতে
পাংখাউই, পাংহয়, পাংকুয়া, পানখুয়া আর্কাইভের লেখক জানান, বিভিন্ন লেখক এসব নামেও উল্লেখ করেছেন

আইনে বানান বদলের একটি প্রশ্ন প্রায়ই ওঠে — পাংখোয়ারা কি রাঙামাটির আইনে পরে যোগ হয়েছেন? না। 1989 সালের মূল আইনেই জাতিটি ছিল “পাংখু” নামে; 2014 সালের সংশোধনী কেবল বানানটি বদলে “পাংখোয়া” করেছে। বিস্তারিত আছে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ আইনের ‘উপজাতীয়’ সংজ্ঞা নিয়ে আমাদের লেখায়।

পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা কত: 2022 শুমারির হিসাব, উপজেলা ধরে

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022 অনুযায়ী দেশে পাংখোয়া 1,857 জন — পুরুষ 943, নারী 914। এর 1,547 জন চট্টগ্রাম বিভাগে; তার মধ্যে রাঙামাটি জেলায় 1,398, বান্দরবানে 55 ও খাগড়াছড়িতে 5। রাঙামাটির আটটি উপজেলায় পাংখোয়া আছেন; বিলাইছড়িতেই প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ।

জাতীয় সংখ্যা ও বিভাগ ধরে ভাগ জাতীয় প্রতিবেদনের Table P29-এ; জেলা ও উপজেলার সংখ্যা জেলা-প্রতিবেদনের Table P17-এ।

উৎস: BBS, National Report Vol. I, Table P29। আট বিভাগের সংখ্যা যোগ করলে 1,857 মেলে। খুলনা বিভাগের সারণিতে পাংখোয়া সারি নেই।
এলাকা পাংখোয়া (2022) টীকা
বাংলাদেশ (মোট) 1,857 পুরুষ 943, নারী 914
চট্টগ্রাম বিভাগ 1,547 তিন পার্বত্য জেলার বাইরে বিভাগের অন্য জেলায় 89 জন (বিয়োগফল)
সিলেট বিভাগ 123  
রাজশাহী বিভাগ 88  
ঢাকা বিভাগ 63  
রংপুর বিভাগ 29  
ময়মনসিংহ বিভাগ 4  
বরিশাল বিভাগ 3  

চট্টগ্রাম বিভাগের বাইরে 310 জন পাংখোয়ার হিসাব একটু অবাক করার মতো — সিলেটে 123, রাজশাহীতে 88। শুমারির প্রকাশিত ছক থেকে বোঝা যায় না এঁরা কারা, কবে থেকে সেখানে; কোনো উৎস এর ব্যাখ্যা দেয়নি। শুমারি গণনায় একজন মানুষ নিজের জাতিগত পরিচয় কীভাবে লেখান, সে পদ্ধতির আলোচনা আছে জনশুমারিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গোনার পদ্ধতি নিয়ে আমাদের লেখায়।

রাঙামাটি ও বান্দরবানের উপজেলা ধরে

উৎস: BBS, District Report: Rangamati, Table P17 ও District Report: Bandarban, Table P17। “উপজেলার মোট জনসংখ্যায় অংশ” কলামটি নিজস্ব হিসাব, উপজেলার মোট জনসংখ্যা একই প্রতিবেদনের Table 3.1.13 থেকে। কাউখালী, নানিয়ারচর, নাইক্ষ্যংছড়ি এবং খাগড়াছড়ির উপজেলাভিত্তিক সংখ্যা এখানে নেই — প্রথম তিনটির ছকে পাংখোয়া সারি নেই।
উপজেলা জেলা পাংখোয়া পুরুষ / নারী উপজেলার মোট জনসংখ্যায় অংশ
বিলাইছড়ি রাঙামাটি 498 241 / 257 1.69% (মোট 29,540)
রাঙামাটি সদর রাঙামাটি 228 121 / 107 0.16%
বরকল রাঙামাটি 208 117 / 91 0.42%
কাপ্তাই রাঙামাটি 143 65 / 78 0.26%
বাঘাইছড়ি রাঙামাটি 117 70 / 47 0.11%
জুরাছড়ি রাঙামাটি 116 54 / 62 0.43%
লংগদু রাঙামাটি 66 41 / 25 0.07%
রাজস্থলী রাঙামাটি 22 16 / 6 0.08%
রাঙামাটি জেলা   1,398 725 / 673 জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যার 0.37%
রোয়াংছড়ি বান্দরবান 33 15 / 18  
বান্দরবান সদর বান্দরবান 9 3 / 6  
আলীকদম বান্দরবান 6 2 / 4  
লামা বান্দরবান 3 3 / 0  
রুমা বান্দরবান 2 2 / 0  
থানচি বান্দরবান 2 0 / 2  
বান্দরবান জেলা   55 25 / 30  

খাগড়াছড়ির 5 জনের হিসাব জেলা-প্রতিবেদনের Table P17 থেকে, যা আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠী: কয়টি, কারা, কোথায়, কতজন লেখায় উদ্ধৃত। তিন জেলা মিলিয়ে 1,458 জন — দেশের পাংখোয়াদের 78.5%।

দুটি জিনিস ছকে চোখে পড়ে। এক, রাঙামাটির উপজেলাগুলোর নাম প্রায় হুবহু আর্কাইভের পাড়া-তালিকার উপজেলাগুলো — বিলাইছড়ি, বরকল, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, লংগদু, কাপ্তাই, সদর, রাজস্থলী। দুই, আর্কাইভ বান্দরবানের রুমা উপজেলায় দুটি পাড়ার নাম দেয়, কিন্তু শুমারিতে রুমায় পাংখোয়া মাত্র 2 জন, আর পাশের রোয়াংছড়িতে 33। পাড়া দুটির বাসিন্দারা কোন জাতি হিসেবে গোনা হয়েছেন, সে প্রশ্নের উত্তর কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

জেলার জাতিভিত্তিক সংখ্যার সার্বিক ছবি আছে জনশুমারি 2022-এর 50 জাতিগোষ্ঠীর জেলাভিত্তিক হিসাবে ও রাঙামাটি জেলা পরিচিতিতে।

পাংখোয়াদের সংখ্যা কি কমছে: 1865 থেকে 2022 পর্যন্ত হিসাব

উৎসগুলো পাশাপাশি রাখলে সংখ্যাটি ওঠানামা করে, আর 1991 থেকে 2022-এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক কমেছে: 1991 সালের শুমারিতে 3,227, 2022 সালে 1,857। আর্কাইভের লেখক লিখেছেন, অনেক পাংখোয়া ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে মিজোরামে চলে গেছেন। দুই শুমারির গণনা-পদ্ধতি এক কি না, কোনো উৎস বলেনি।

প্রতিটি সংখ্যা উৎসের নামসহ। 1865 ও 1901 হাচিনসনের বই থেকে; 1981 সুগত চাকমা থেকে; 1991 আর্কাইভের লেখা থেকে (লেখক 1991 সালের আদমশুমারি উদ্ধৃত করেছেন); 2022 BBS থেকে।
সাল সংখ্যা উৎস ও টীকা
1865 3,000 ক্যাপ্টেন লুইন, হাচিনসনের উদ্ধৃতিতে — বনযোগী ও পাংখো দুই জাতি মিলিয়ে। আর্কাইভের লেখা সংখ্যাটি কেবল পাংখোয়াদের বলে লিখেছে এবং সালটি “১৯৬৫” ছেপেছে
1901 144 1901 সালের শুমারি, হাচিনসনের ছকে: পুরুষ 76, নারী 68। বনযোগীসহ দুই জাতি মিলে 1,680; আর্কাইভ 1,680 সংখ্যাটিকে পাংখোয়াদের মোট বলে লিখেছে
1981 2,404 “1981 সালের প্রাথমিক আদমশুমারি রিপোর্ট”, সুগত চাকমার উদ্ধৃতিতে
1991 3,227 আদমশুমারি 1991, আর্কাইভের উদ্ধৃতিতে, উপজেলা ধরে ভাগসহ (নিচের ছক)
2001 — আর্কাইভ জানায়, 2001 সালের শুমারিতে জাতিভিত্তিক আলাদা তথ্য ছিল না
অনির্দিষ্ট প্রায় 4,000 পাংখোয়াদের নিজেদের অনুমান, আর্কাইভের লেখায়
2012 3,200 (ভাষাভাষী) Ethnologue, ইংরেজি উইকিপিডিয়ার উদ্ধৃতিতে
2017–2020 প্রায় 2,000 ভাষাবিদ জাহিদ আকতার, মাঠকর্মের ভিত্তিতে (Himalayan Linguistics, 2024)
2022 1,857 BBS জনশুমারি, Table P29

1991 আর 2022: একই উপজেলায় কত কম

আর্কাইভের লেখা 1991 সালের সংখ্যা উপজেলা ধরে দিয়েছে। 2022 সালের BBS-এর সংখ্যা পাশে রাখলে দেখা যায়, লংগদু ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় সংখ্যা কমেছে; সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি কমেছে রাঙামাটি সদরে (543 জন), আর অনুপাতে বাঘাইছড়িতে — 608 থেকে 117, যেখানে সাজেক ইউনিয়নের পাড়াগুলো।

1991: আর্কাইভের “পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত”। 2022: BBS জেলা-প্রতিবেদন, Table P17। পরিবর্তনের কলাম নিজস্ব হিসাব। 1991 সালের তালিকায় কাপ্তাই ও রাজস্থলী আলাদা করে নেই; “অন্যান্য স্থান” 99 জন।
উপজেলা 1991 2022 পরিবর্তন
বিলাইছড়ি 922 498 −424
রাঙামাটি সদর 771 228 −543
বাঘাইছড়ি 608 117 −491
বরকল 528 208 −320
জুরাছড়ি 256 116 −140
লংগদু 43 66 +23
অন্যান্য স্থান 99 624 (কাপ্তাই 143, রাজস্থলী 22, বান্দরবান 55, খাগড়াছড়ি 5, অন্য জেলা 399)  
মোট 3,227 1,857 −1,370

সংখ্যা কমার কারণ নিয়ে একমাত্র লিখিত ব্যাখ্যা আর্কাইভের লেখকের: অনেক পাংখোয়া ইতিমধ্যে পাশের দেশ ভারতের মিজোরামে পাড়ি দিয়েছেন, আর প্রধান কারণ ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সমস্যা; জীবিকার অংশে তিনি অর্থনৈতিক দুরবস্থাকেও কারণ বলেছেন। একই লেখক জানান, পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর অনেকে 1991 সালের সংখ্যাকেই সঠিক বলে মানতে রাজি নন। ধর্মান্তরের ইতিহাসের সঙ্গেও অভিবাসন জড়িয়ে আছে: তাঁর লেখায়, 1943 থেকে 1960 সালের মধ্যে সাজেক ও দুম্বা পাহাড়ের দিকের অনেক পাংখোয়া মিজোরামে চলে যান। 1991-এর পর কত জন গেছেন, এমন কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশের বাইরে পাংখোয়ারা কোথায় থাকেন

সীমান্তের ওপারে পাংখোয়াদের বাস ভারতের মিজোরাম রাজ্যে। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার ভাষা-নিবন্ধ এলাকাগুলোর নাম দেয়: Lawngtlai জেলার Chamdur উপত্যকা ও আশপাশের পাহাড়, Tlabung ও West Phaileng মহকুমা। ভারতে তাঁদের সংখ্যা কত, তা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি; উইকিপিডিয়ার জনগোষ্ঠী-নিবন্ধে ভারত ও মিয়ানমার দুটির ঘরেই লেখা “unknown”।

হাচিনসন 1906 সালে লিখেছিলেন, তিনি লুসাই পাহাড়ে Kolodyne নদীর উজানের গ্রামগুলোতে কিছু বনযোগী ও পাংখোর দেখা পেয়েছিলেন। বাংলাপিডিয়ার বাংলা ভুক্তিও বসতির এলাকা হিসেবে “ভারতের মিজোরাম রাজ্য সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা”র কথা বলে।

সীমান্তের দুই পাশের সম্পর্ক ভাষাতেও ধরা পড়ে। SIL-এর জরিপে দেখা যায়, সাজেকের পাংখোয়ারা মিজোরামের লুসাইদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে থাকেন এবং কেউ কেউ প্রায়ই মিজোরামে যান; ভাষা অংশে তা আলাদা করে বলা হয়েছে।

পাংখোয়ারা কবে, কোথা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে এলেন

সব উৎস একটি কথায় একমত: পাংখোয়ারা পূর্ব দিক থেকে, আজকের মিজোরাম বা মিয়ানমারের চিন পাহাড়ের দিক থেকে এসেছেন। কবে এবং ঠিক কোন অঞ্চল থেকে, সেখানে উৎসগুলো আলাদা — কেউ সপ্তদশ শতাব্দী বলেন, কেউ অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ, কেউ লুসাই পাহাড়, কেউ বার্মার শান অঞ্চল।

প্রতিটি দাবি উৎস অনুযায়ী, কোনো বিচার ছাড়া।
উৎস কোথা থেকে, কবে
টি এইচ লুইন, আর্কাইভের উদ্ধৃতিতে খুমিদের হাতে আরাকান থেকে বিতাড়িত হয়ে সপ্তদশ শতাব্দীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে বসতি
আর্কাইভের লেখক (ঐতিহাসিক ও নৃবিজ্ঞানীদের বরাতে) মূল আবাস মিয়ানমারের চিন প্রদেশ; অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষে ফালাম-হাকা অঞ্চল থেকে অভিবাসন, আরাকান ও লুসাই পাহাড় হয়ে একটি অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে
পাংখোয়াদের নিজস্ব বিশ্বাস (আর্কাইভ) তাঁরা বার্মার শান জাতির অংশ, দক্ষিণ দিক থেকে এসেছেন; আবার শিমুল-ফুলের গ্রামের গল্পে লুসাই পাহাড়
সুগত চাকমা (1985) লুসাই পাহাড় বা মিজোরামের দিক থেকে অতীতে পার্বত্য চট্টগ্রামে
হাচিনসন (1906) চিন পাহাড়ে উত্তরে Tashon ও দক্ষিণে Zan দেশের মাঝের “Lai”-দের শাখা; আরাকানের রাজার 1787 সালের একটি চিঠিতে “লাই”দের উল্লেখকে তিনি পাংখো-বনযোগীর প্রাচীন উপস্থিতির প্রমাণ বলেছেন
বাংলাপিডিয়া (ইংরেজি) পূর্বপুরুষের বাস সম্ভবত বার্মায়; কয়েকশ বছর আগে সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে এ অঞ্চলে

আর্কাইভের লেখায় আরও কয়েকজন ঔপনিবেশিক লেখকের মত সংক্ষেপে আছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তা হাচিনসন পাংখোয়া ও বমকে একই জাতির অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন — “একই পিতার দুই সন্তান” থেকে বংশোদ্ভব; লুইন পাংখোয়াদের লুসাই ও কুকিদের অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন; জি এ গ্রিয়ারসন ভাষার মিল দেখে “মধ্য চীন” নৃগোষ্ঠীতে রেখেছেন। পাংখোয়ারা নিজেরা এক রাজার কথা বলেন — গুংজংনোহ — যাঁর আমলে তাঁরা প্রভাবশালী ও সংখ্যায় বড় ছিলেন বলে তাঁদের বিশ্বাস।

“বনযোগী” নামটি এখানে বারবার আসে, কারণ পুরনো উৎসগুলো পাংখো ও বনযোগীকে প্রায় এক সঙ্গে লিখেছে। হাচিনসনের পর্যবেক্ষণে সাধারণ মানুষের চোখে দুই জাতির পার্থক্য প্রায় কেবল চুলের খোঁপায়: বনযোগীর খোঁপা মাথার ওপরে, পাংখোর মাথার পেছনে। সুগত চাকমাও একই পার্থক্য লিখেছেন, তবে লুসেই-পাংখুয়া বনাম বমদের প্রসঙ্গে: প্রথম দুই দলের পুরুষেরা খোঁপা বাঁধতেন মাথার পেছনে, বমেরা সামনে। ইংরেজি বাংলাপিডিয়া পাংখো ও বনযোগীকে একসঙ্গে বর্ণনা করে এবং লেখে, অনেকের মতে দুটি একসময়ের এক জাতির দুই শাখা।

পাংখোয়ারা কোথায় থাকেন: উপজেলা, মৌজা ও পাড়া

পাংখোয়াদের প্রধান বসতি রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায়, বিশেষত বিলাইছড়ি ইউনিয়নের পাংখোয়া পাড়ায়। এর বাইরে বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়ন, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু, কাপ্তাই ও রাঙামাটি সদরে পাড়া আছে। আর্কাইভের লেখক 22 সারির একটি পাড়া-ছক দিয়েছেন — মৌজার নাম ও নম্বরসহ।

আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী পাংখোয়ারা আদিকাল থেকে উঁচু পাহাড়ের ওপর বসতি করতে পছন্দ করেন। সবচেয়ে পুরনো পাড়াটি রাঙামাটি সদরে কর্ণফুলী নদীর পূর্ব পাড়ে, 1,610 ফুট উঁচু বসন্ত মোন-এ; সেখানে প্রায় 200 বছরেরও আগে বসতি হয়েছিল বলে লেখক জানান।

বিলাইছড়ি উপজেলার মানচিত্র: উত্তরের ছোট অংশে বিলাইছড়ি ইউনিয়ন ও উপজেলা সদর, দক্ষিণে বড় অংশজুড়ে ফারুয়া ইউনিয়ন; পূর্বে ভারতের মিজোরাম, দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের চিন রাজ্য
বিলাইছড়ি উপজেলার মৌজা মানচিত্র — দেশের পাংখোয়াদের সবচেয়ে বড় অংশ এই উপজেলায়; আর্কাইভ এখানে বিলাইছড়ি ও ফারুয়া ইউনিয়নে পাড়ার নাম দেয়। মানচিত্রের সংখ্যাগুলো BBS-এর জিওকোড, রাজস্ব-মৌজার নম্বর নয়। মানচিত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, Small Area Atlas of Bangladesh – Rangamati Zila · সরকারি প্রকাশনা · উইকিমিডিয়া কমন্স
উৎস: আর্কাইভের “পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত” লেখার ছক (হেডম্যানের নামের কলাম এখানে বাদ)। মৌজার নম্বর রাজস্ব-মৌজার; লেখাটির রচনাকাল উল্লেখ নেই, তাই তালিকাটি কোন সালের তা জানা যায় না। বানান ছক অনুযায়ী।
উপজেলা মৌজা (নম্বর) পাড়া
রাঙামাটি সদর বসন্ত (128) রাল আও (বসন্ত পাড়া)
রাঙামাটি সদর ভাজ্যতলী (119) হরিণছড়া
কাপ্তাই বারুদ গোলা (130) বেথেল পাড়া
বিলাইছড়ি তিনকুনিয়া দিন থার (মালুম্যা)
বিলাইছড়ি রাইনখ্যাং ফরেস্ট নিউ জোদিন
বিলাইছড়ি রাইনখ্যাং ফরেস্ট জগনা ছড়ি
রাজস্থলী ঘিলাছড়ি (333) নিউ থলাংপুই (ঝান্ডিমোন)
জুরাছড়ি দুমদুম্যা (150) কন্ডাছড়ি
লংগদু কাকপুজ্যে (18) থলাংপুই
বরকল বামে হালাম্বা (21) জৌতুই
বরকল কুকিছড়া (156) বুংমুন
বরকল কলাবুনিয়া (163) লাইজৌ; জৌ তুই
বরকল সাইচাল (164) সাইচাল
বাঘাইছড়ি লংকর (156) ওল্ড লংকর ও নিউ লংকর
বাঘাইছড়ি রুই লুই (167) মা মুয়াম
বাঘাইছড়ি কংলাক (168) ছিপ পুই
বাঘাইছড়ি সিয়াল দাই (169) চিঃপুই
বাঘাইছড়ি তুই চুই (170) লুনতিয়ান
বাঘাইছড়ি বেটালিং (171) থাং নাং ও জৌ পুই
রুমা (বান্দরবান) খুমি খিয়াং (352) সাইজাম পাড়া
রুমা (বান্দরবান) বগা খাইন (357) বড়তলি

একই লেখার বর্ণনামূলক অংশে আরও কয়েকটি নাম আছে, যা ছকের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না: বিলাইছড়ি ইউনিয়নে “পাংখোয়া পাড়া”, ফারুয়া ইউনিয়নে “যমুনাছড়ি মডেল পাড়া” ও “ধুপশীল লতাপাহাড়ে নিউজৌডিন পাড়া”, জুরাছড়ির দুমদুম্যা ইউনিয়নে “গন্দাছড়ি পাড়া”, কাপ্তাইয়ের বারুদগোলা মৌজায় বেথেল পাড়া, আর রুমায় “নানখারপাড়া (বড়থুলী)”। একই পাড়ার বানান দুই জায়গায় দুই রকম (কন্ডাছড়ি/গন্দাছড়ি, নিউ জোদিন/নিউজৌডিন) কি না, লেখা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

বিলাইছড়ির পাংখোয়া পাড়া: “দিনথার”

দেশের সবচেয়ে বড় পাংখোয়া গ্রামটি বিলাইছড়ির পাংখোয়া পাড়া — SIL-এর 2007–08 সালের জরিপ একে বরকল ও বিলাইছড়ির বৃহত্তম পাংখোয়া গ্রাম বলেছে। ভাষাবিদ জাহিদ আকতার (2024) লেখেন, মোট পাংখোয়াদের প্রায় 600 জন এই গ্রামে থাকেন, বাকিরা রাঙামাটি জেলার নানা জায়গায় ছোট ছোট পরিবারে ছড়ানো।

গ্রামবাসীরা নিজেদের গ্রামকে বলেন “দিনথার” (Dinthar)। আকতারের ব্যাখ্যায় “দিন” মিজো শব্দ, মানে থাকা; “থার” পাংখোয়া ও মিজো দুই ভাষাতেই নতুন — “নতুন বসতি”। নামটি গ্রামটির বর্তমান জায়গায় তুলনামূলক সাম্প্রতিক প্রতিষ্ঠার কথা বলে: 1979 সালে। আর্কাইভের ছকে বিলাইছড়ির তিনকুনিয়া মৌজার পাড়াটির নাম “দিন থার (মালুম্যা)” — একই নাম।

পাড়ায় পৌঁছানো সহজ নয়। 2019 সালের এক গবেষণা-প্রবন্ধ লেখে, বর্ষায় পাংখোয়া পাড়ায় যাওয়ার একমাত্র পথ মোটরবোট, সময় লাগে 6 ঘণ্টা; শুকনো মৌসুমে হেঁটে 8 ঘণ্টার বেশি। দ্য ডেইলি স্টারের 2017 সালের একটি ভ্রমণ-লেখায় রাঙামাটির ঘাট থেকে নৌকায় প্রায় তিন ঘণ্টায় বিলাইছড়ির কাছে পাংখোয়া গ্রামে পৌঁছানোর বর্ণনা আছে; গ্রামগুলো রাইনখ্যাং নদীর পাশের পাহাড়ে, আর পাংখোয়া শিশুদের স্কুল-কমিউনিটি ভবন দূর থেকে চোখে পড়ে। SIL জানায়, কাপ্তাই হ্রদের পাশের জুরাছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়ির পাংখোয়া গ্রামে যেতে হয় মোটরবোটে; গ্রীষ্মে পানি কমলে অনেক পথ হাঁটতে হয়।

সাজেকের পাংখোয়া পাড়া

বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নে আর্কাইভ আটটি পাংখোয়া পাড়ার নাম দেয়। SIL-এর জরিপে সাজেকে “অল্প কয়েকটি” পাংখোয়া গ্রামের কথা আছে, যার একটি কংলাক। সাজেকের পাড়াগুলোর ইতিহাস, ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইটের পরিবার-সংখ্যা আর রুইলুই-কংলাকের হেডম্যান কোন জাতির — তা নিয়ে উৎসের অমিল বিস্তারিত আছে সাজেকে পর্যটনের আগে কারা থাকতেন: রুইলুই, কংলাক ও হামারি পাড়ার ইতিহাস লেখায়।

পাংখোয়া ভাষা কোন পরিবারের, আর কারা কোন ভাষা বোঝেন

পাংখোয়া (পাংখু) তিব্বতি-বর্মী পরিবারের কুকি-চিন শাখার ভাষা; SIL একে “কেন্দ্রীয় কুকি-চিন” দলে বম ও লুসাইয়ের পাশে রেখেছে। ISO কোড pkh, Glottolog কোড pank1249। শব্দভান্ডারে বমের সঙ্গে মিল 36–41%, লুসাইয়ের সঙ্গে 30–33% — আলাদা ভাষা বলার মতো কম।

এখানে উৎসে একটি অমিল আছে: ইংরেজি উইকিপিডিয়া, SIL-এর এই প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে, লেখে পাংখোয়া, Tlanglau, Falam Chin, বম ও মিজোর মধ্যে ভাষাগত পার্থক্য সামান্য; অথচ একই প্রতিবেদনের শব্দ-তুলনা বমের সঙ্গে 36–41% ও লুসাইয়ের সঙ্গে 30–33% মিল দেখায়, আর প্রতিবেদনের সিদ্ধান্ত হলো এগুলো একই ভাষার উপভাষা বলার মতো যথেষ্ট নয়।

সংখ্যাগুলো SIL International-এর 2011 সালের প্রতিবেদন “The Kuki-Chin Communities of Bangladesh” থেকে, যার মাঠকর্ম হয়েছিল অক্টোবর 2007 থেকে জানুয়ারি 2008। গবেষকেরা দুটি পাংখোয়া গ্রাম থেকে শব্দতালিকা নেন — বিলাইছড়ির পাংখোয়া পাড়া ও সাজেকের কংলাক। দূরের দুই গ্রামের শব্দে মিল 88%, অর্থাৎ ভাষার ভেতরে বড় আঞ্চলিক পার্থক্য নেই। আকতারও (2024) লেখেন, তিনি কোনো উপভাষাগত পার্থক্য দেখেননি বা কোথাও তার বিবরণ পাননি।

আর্কাইভের লেখক জানান, আমেরিকান ভাষাবিদ ডেভিড এ পিটারসন বম, খিয়াং, পাংখোয়া ও লুসাইয়ের ভাষাকে কুকি-চিন দলের ভিন্ন ভিন্ন ভাষা মনে করেন। শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে পুরো ঐকমত্য নেই: আকতারের প্রবন্ধের মূল দাবিগুলোর একটি হলো, দক্ষিণ-কেন্দ্রীয় (কুকি-চিন) উপদলের ভেতরে পাংখোয়ার অবস্থান যতটা স্পষ্ট ভাবা হয়, ততটা নয়।

উৎস: Kim, Roy ও Sangma, SIL 2011, Figure 6 (শব্দভান্ডারের মিল, শতাংশ)।
তুলনা শব্দে মিল
পাংখোয়া (বিলাইছড়ি) — পাংখোয়া (কংলাক) 88%
পাংখোয়া — বম 36–41%
পাংখোয়া — লুসাই 30–33%
বম — লুসাই 46–47%
পাংখোয়া — খিয়াং 10–12%
পাংখোয়া — খুমি 7–8%
পাংখোয়া — বাংলা 2–3%

ধ্বনি ও গঠন: আকতারের বিবরণ

জাহিদ আকতার 2017–2020 সালে বিলাইছড়ির পাংখোয়া পাড়ায় এক বছরের বেশি মাঠকর্ম করে প্রায় বিশ ঘণ্টার অডিও-ভিডিও সংগ্রহ করেন, যার প্রায় আট ঘণ্টা পুরোপুরি প্রতিলিপি ও অনুবাদ করা। তাঁর বিবরণ এবং উইকিপিডিয়ার সারাংশ অনুযায়ী পাংখোয়ায় 21টি ব্যঞ্জনধ্বনি, 7টি স্বরধ্বনি, আর দুটি সুর — উঁচু ও নিচু। আত্মীয়বাচক শব্দে -pui যোগ করলে বড়, -te যোগ করলে ছোট বোঝায়; -ləu যোগে বিপরীত অর্থ, যেমন dam (সুস্থ) থেকে damləu (অসুস্থ)। কুকি-চিন ভাষার বৈশিষ্ট্য — ক্রিয়ামূলের দুই রূপ — পাংখোয়াতেও আছে, তবে মিজো বা হাখা লাইয়ের মতো ব্যাপকভাবে নয়।

কে কোন ভাষা বোঝেন

ইংরেজি উইকিপিডিয়া একটি অসম বোঝাপড়ার কথা লেখে: লুসাইরা পাংখোয়া ভাষা বোঝেন না, কিন্তু পাংখোয়ারা লুসাই বোঝেন। সুগত চাকমাও লিখেছেন, পাংখুয়ারা লুসেইদের ভাষা কিছু কিছু বুঝতে পারেন। SIL-এর জরিপ ছবিটিকে দুই ভাগ করে:

  • বিলাইছড়ির পাংখোয়া পাড়া: 11 জন উত্তরদাতার 4 জন লুসাইকে, 7 জন বমকে সবচেয়ে সহজবোধ্য বলেছেন। শিক্ষিতরা লুসাই ভাষার খ্রিস্টীয় বই পড়েন, আর আশপাশে বমদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকায় অনেকে বম ভালো বোঝেন। 82% বলেছেন তাঁরা বাংলা বলতে পারেন, 82% লুসাই, 91% বম, 73% চাকমা।
  • সাজেকের কংলাক: গবেষকেরা সেখানে প্রশ্নমালা ব্যবহার করেননি, কারণ গ্রামের মানুষ আর নিয়মিত পাংখোয়াকে মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহার করেন না; তাঁরা প্রথম ভাষা হিসেবে লুসাই বলেন। শব্দতালিকার একজন তথ্যদাতা অবশ্য বলেছেন, তিনি পাংখোয়া এখনো জানেন।

উল্লেখ করার মতো একটি বৈপরীত্য: বিলাইছড়ির প্রত্যেক উত্তরদাতা বলেছেন, তিনি নিজে ও গ্রামের শিশুরা মাতৃভাষাকেই প্রথম ও সবচেয়ে ভালো ভাষা হিসেবে বলেন, এবং তিরিশ বছর পরও শিশুরা পাংখোয়াই বলবে। অথচ একই জরিপ সাজেকের একটি পাংখোয়া গ্রামে ভাষা-বদল নথিভুক্ত করেছে।

পাংখোয়া ভাষা কি বিপন্ন?

হ্যাঁ — অন্তত চারটি তালিকায় পাংখোয়া ঝুঁকিপূর্ণ ভাষা হিসেবে আছে, যদিও ঝুঁকির মাত্রায় তারা একমত নয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের (IMLI) 2018 সালে শেষ হওয়া জরিপের 14টি বিপন্ন ভাষার তালিকায় পাংখোয়া আছে; Glottolog বলছে “threatened”; Endangered Languages Project বলছে “vulnerable”।

উৎস: দ্য ডেইলি স্টার, 20 ফেব্রুয়ারি 2021 (IMLI জরিপ); Global Voices, 24 আগস্ট 2025; Glottolog (pank1249); ইংরেজি উইকিপিডিয়ার “List of endangered languages in Bangladesh” (Endangered Language Alliance-এর তালিকা উদ্ধৃত); Akter 2024।
উৎস মূল্যায়ন
IMLI ভাষা-জরিপ (শেষ 2018), ডেইলি স্টারে 14টি বিপন্ন ভাষার একটি (“Pangkhua”)
Glottolog AES অবস্থা: threatened
Endangered Languages Project (Glottolog-এ উদ্ধৃত) Vulnerable, “80 percent certain”, SIL 2011-এর ভিত্তিতে
Endangered Language Alliance-এর তালিকা (উইকিপিডিয়ায় উদ্ধৃত) Severely endangered, ভাষাভাষী 2,730
জাহিদ আকতার (2024) “underdocumented” ও “largely endangered”, প্রায় 2,000 ভাষাভাষী

ডেইলি স্টারের 2021 সালের প্রতিবেদন জানায়, IMLI-র জরিপে প্রতিটি ভাষার 300টি শব্দ ও তার বাংলা-ইংরেজি অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল, আর এই 14টি ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার কোনো সরকারি উদ্যোগ তখনো ছিল না। Global Voices (2025) জানায়, 2022 সালে সরকারি উদ্যোগে তৈরি জাতীয় ডিজিটাল ভাষা-সংগ্রহশালায় 42টি ভাষার নমুনা রাখার লক্ষ্য, আর সেখানে পাংখো রোমান হরফে লেখা ভাষাগুলোর তালিকায়।

মাতৃভাষায় শিক্ষা নিয়ে পাংখোয়াদের নিজেদের মত SIL-এর জরিপে কিছুটা ধরা আছে। প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যম কী হওয়া উচিত — এই প্রশ্নে 11 জনের 9 জন (82%) বলেছেন বাংলা, 1 জন মাতৃভাষা, 1 জন ইংরেজি। আবার প্রথমে মাতৃভাষা, পরে বাংলা পড়ানোর ক্লাস হলে সন্তান পাঠাবেন কি না — 8 জন হ্যাঁ, 2 জন জানেন না, 1 জন না; শেষজন বলেছেন, মাতৃভাষা ঘরেই শেখা যায়। পাহাড়ের মাতৃভাষা-শিক্ষা কর্মসূচির সার্বিক অবস্থা আছে পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা নিয়ে আমাদের লেখায়।

পাংখোয়াদের কি নিজস্ব বর্ণমালা আছে?

না। নিজস্ব লিপি নেই — এ কথায় সব উৎস একমত। আর্কাইভের লেখক জানান, পাংখোয়ারা রোমান হরফ গ্রহণ করেছেন, যা লুসাইদের জন্য তৈরি বর্ণমালা; বাংলাপিডিয়া বলে ভাষাটি কেবল মৌখিক, লিখিত রূপ নেই; SIL বলে পাংখোয়া ভাষায় কার্যত কোনো সাহিত্য নেই, লোককাহিনি ও গান ছাড়া।

এই তিনটি বক্তব্য পরস্পরবিরোধী নয় — একটি বলে কোন হরফে লেখা হয়, অন্য দুটি বলে লেখা সাহিত্য প্রায় নেই। আর্কাইভের লেখায় বর্ণমালার একটি ছকও আছে: A, Aw, B, CH, D, E, F, G, NG, H, I, J, K, L, M, N, O, P, R, S, T, U, V, Z — লুসাই বর্ণমালার মতো। SIL জানায়, পাংখোয়ারা লুসাই ভাষার খ্রিস্টীয় বই পড়েন, কারণ নিজেদের ভাষায় খ্রিস্টীয় সাহিত্য নেই; জরিপের সুপারিশ ছিল, বিলাইছড়ির পাংখোয়ারা বম ভাষার বই, আর সাজেকের পাংখোয়ারা মিজো বই আরও বেশি ব্যবহার করে দেখতে পারেন, অথবা নিজেদের একটি ভাষা-উন্নয়ন কমিটি গড়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

বর্ণমালার উৎস-সাল নিয়ে আর্কাইভের লেখায় একটি ছাপার ভুলের মতো অমিল আছে — “১৯৯৪ সালে” লুসাই বর্ণমালা তৈরির কথা। অন্য উৎসগুলো সালটি 1894 লেখে। রোমান হরফের লুসাই বর্ণমালা কীভাবে বম ও পাংখোয়াদের কাছে পৌঁছাল, তা আছে পাহাড়ে খ্রিস্টধর্ম কীভাবে এল: বম, পাংখোয়া, লুসাই ও খুমি সমাজে ধর্মান্তরের নথিভুক্ত ইতিহাস লেখায়।

পাংখোয়া সমাজের গোত্র: দুটি না পঁচিশটি?

উৎসভেদে গোত্রের সংখ্যা আলাদা। হাচিনসন (1906) লিখেছেন পাংখোদের দুটি মাত্র গোত্র — পাংখো ও ভানজাং — এবং দুটি সমমর্যাদার; বাংলাপিডিয়াও দুটি গোত্রের কথা বলে, “পাংখোয়া ও ভানজাঙ”। আর্কাইভের পাংখোয়া লেখক 25টি গোত্রের নাম দিয়েছেন, যার প্রথমটি ভান জাং।

আর্কাইভের লেখক জানান, পাংখোয়াদের নামের আগে-পরে গোত্রের নাম থাকে না, তাই কে কোন গোত্রের, তা সহজে বোঝা যায় না; এসব গোত্রের নামের সঙ্গে বমদের গোত্রের মিল দেখা যায়। তাঁর তালিকা (ইংরেজি বানান লেখকের দেওয়া):

ভান জাং (Van zang), লাই স্লোয়াং (Lai tluang), সেইজাং (Sei zang), লাইঙুক (Lai nguk), লাইবুর (Lai bur), সিরসিয়ার (Sir siar), খেয়ালরিং (Khual ring), চংনাম (Chawng nam), মিলাই (Milai), রামা (Rama), সা খং (Sa khawng), রোয়াললেং (Rual leng), পিপিলিং (Pipiling), বংখোয়াই (Bawngkhuai), পালাং (Palang), সেভাল (Seval), ডন (Dawn), চে-নু (Che-noo), লন সিং (Lawn sing), রি-পাচেই (Ri-pachei), রেই-হাং (Rei-hang), থাংতু (Thangtu), সিংলা (Singla), লাই ষোয়া (Laisuah) ও হ্লাং লাউ (Tlang lau)।

তালিকার কয়েকটি নাম হাচিনসনের বনযোগী-গোত্রের নামের সঙ্গে মেলে — তিনি বনযোগীদের তিনটি গোত্রের নাম দিয়েছিলেন: Doi Tlung, Lon Sing ও Sunkla। আবার আর্কাইভের “হ্লাং লাউ (Tlang lau)” নামটি উইকিপিডিয়ার ভাষা-নিবন্ধে উল্লিখিত “Tlanglau” ভাষার নামের সঙ্গে মেলে, যার সঙ্গে পাংখোয়ার পার্থক্য সামান্য বলা হয়েছে। এই মিলগুলোর ব্যাখ্যা কোনো উৎস দেয়নি।

গ্রামের নেতৃত্ব ও সামাজিক বিচার

আর্কাইভ অনুযায়ী পাংখোয়াদের গ্রাম পর্যায়ে কার্বারি, মৌজা পর্যায়ে হেডম্যান; তাঁরা সাধারণত চাকমা সার্কেলের ভেতরে থাকেন, তাই সামাজিক ও ভূমি-বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে চাকমা রাজার দ্বারস্থ হন। কার্বারির রায়ে সন্তুষ্ট না হলে হেডম্যানের আদালতে, তারপর রাজার আদালতে আপিল করা যায়। উত্তরাধিকারের মতো প্রশ্নে লেখক “লাল” বা সমাজপতির সিদ্ধান্তের কথাও লেখেন। সার্কেল-ব্যবস্থার কাঠামো আছে সার্কেল চিফ: তিনটি সার্কেল, আর রাজার ক্ষমতা আসলে কতটুকু লেখায়।

পাংখোয়া বিয়ে, পণ ও বিবাহবিচ্ছেদ: কোন উৎস কী বলে

পাংখোয়া বিয়ে চলে অভিভাবকের সম্মতি, ঘটক ও কনেপণের রীতিতে; নিজের গোত্রে, বিশেষত পিতার বংশে বিয়ে নিষিদ্ধ। এখন বিয়ে হয় গির্জায়, আংটি পরিয়ে। প্রথাগত আইনের পূর্ণ বিবরণ আমাদের আর্কাইভে তিনটি আলাদা লেখায় আছে, তাই এখানে কেবল উৎসের অমিলগুলো।

বিস্তারিত পড়ুন: পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর বিবাহ (ইননেই), পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর বিবাহ বিচ্ছেদ (ইনসেন), পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর উত্তরাধিকার (রৌহুইতু), আর তিনটি একসঙ্গে নারীর দিক থেকে — প্রথাগত আইনে আদিবাসী পাংখোয়া নারীর অবস্থান।

উৎস: হাচিনসন 1906; আর্কাইভের “পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত”; আর্কাইভের “পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর বিবাহ (ইননেই)”; বাংলাপিডিয়া।
প্রশ্ন উৎসগুলোর বক্তব্য
বহুবিবাহ চলে কি? হাচিনসন: সব জাতির মধ্যে কেবল এরাই বহুবিবাহ অনুমোদন করে না। আর্কাইভ: স্ত্রী থাকা অবস্থায়ও একাধিক বিয়ে করা যায়, কোনো সীমা নেই
কনেপণ কত? হাচিনসন: 30 থেকে 150 টাকা, এককালীন, কিস্তিতে বা শ্রমে। বিবাহ-বিষয়ক আর্কাইভ লেখা: “প্রাচীন সমাজে” 30 থেকে 150 টাকা। আদ্যাপান্ত লেখা: 20–30টি রৌপ্যমুদ্রা, একটি বড় ঘণ্টা বা গাভী/গয়াল, একটি সেলাই মেশিন, একটি পিতলের থালা; বিধবার ক্ষেত্রে 10–15টি মুদ্রা
বিয়ের মূল আচার কী? হাচিনসন: দা দিয়ে মুরগির বুকে আঘাত করে রক্ত বের করা, সেই রক্তে বর-কনের কপালে দাগ। আর্কাইভ: সকালে বর-কনে একই মদের পাত্র থেকে দুটি বাঁশের নলে একসঙ্গে পান — “মুর মতং জু”; এখন তার জায়গায় গির্জায় আংটি
বিবাহবিচ্ছেদ ও বিধবা বিবাহ বাংলাপিডিয়া ও আর্কাইভ দুটিই অনুমোদিত বলে; বিচ্ছেদ (ইনসেন) হয় কার্বারি বা হেডম্যানের আদালতে
বাল্যবিবাহ বাংলাপিডিয়া: প্রচলন নেই। নারী-অবস্থান বিষয়ে আমাদের লেখা (প্রথাগত আইনের বিবরণ উদ্ধৃত করে): নির্দিষ্ট বয়সের মাপকাঠি নেই, গ্রামে কম বয়সে বিয়ে প্রচলিত
অন্য জাতিতে বিয়ে হাচিনসন: বনযোগীর সঙ্গে অনুমোদিত, অন্য জাতির সঙ্গে নয়। আর্কাইভ: পাংখোয়া পুরুষেরা এখন চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বম, লুসাইসহ অন্যদের বিয়ে করছেন, কিন্তু বম ও লুসাই ছাড়া অন্য জাতির পুরুষকে কোনো পাংখোয়া মেয়ে বিয়ে করেছেন — এমন তথ্য নেই

আর্কাইভের লেখায় দুটি রীতি বিশেষভাবে পাংখোয়া। একটি “পোয়ানসিলপুই” (Puansil Pui) — জুমের তুলায় বোনা বড় কাপড়, বুনতে অন্তত 3 মণ তুলা লাগে, মেয়ে বড় হলেই অভিভাবকেরা বুনে রাখেন, আর কনে সেটি স্বামীর ঘরে নিয়ে যান; এখন তার জায়গায় কম্বল যায়। অন্যটি সময়ের নিষেধ: জুলাই মাসে বিয়ে তো নয়ই, বিয়ের প্রস্তাবও দেওয়া যায় না, কারণ মাসটি পাংখোয়া ভাষায় “জিং হ্লা” — অন্ধকার মাস।

উত্তরাধিকারে উৎসগুলো একটি জায়গায় মেলে, আরেক জায়গায় নয়। সম্পত্তি পুত্রের — বাংলাপিডিয়া, হাচিনসন ও আর্কাইভ তিনটিই বলে; কন্যা ও বিধবা স্ত্রী উত্তরাধিকারী নন, কেবল ভরণপোষণ পান (আর্কাইভ)। কিন্তু কোন পুত্র? হাচিনসন লিখেছেন কনিষ্ঠ পুত্র বড় ভাগ পান; আর্কাইভের নারী-অংশও কনিষ্ঠ পুত্রকে সম্পত্তি দেওয়ার রীতির কথা বলে — “পা ইন রা তুং মা তুক তু”, অর্থাৎ পিতার গড়া কুটিরের ধারক — আবার একই লেখার উত্তরাধিকার-তালিকা পুত্র বা পুত্রদের সাধারণভাবে উত্তরাধিকারী বলে।

জন্ম, মৃত্যু ও পুরনো বিশ্বাস: যে আচারগুলো নথিভুক্ত

আর্কাইভের লেখায় জন্ম ও মৃত্যুর পুরনো আচার আর এখনকার খ্রিস্টীয় রীতি — দুটিই বর্ণিত। পুরনো রীতিতে শিশুর জন্মের পর ঘরের সিঁড়ির গোড়ায় শূকরছানা ও ছড়ায় মোরগ বলি দেওয়া হতো; মৃতদেহ কফিনে বনে ঝুলিয়ে রাখা হতো এক বছর। এখন নামকরণ গির্জায়, কবর খ্রিস্টীয় রীতিতে।

নামকরণ হতো জন্মের নয় দিন বা এক মাস পরে: ছেলের জন্য একটি লাল মোরগ ও 5 পাত্র মদ, মেয়ের জন্য 2টি মুরগি ও 3 পাত্র মদ দিয়ে পাড়ার মুরব্বিদের আপ্যায়ন; ধাত্রী সবার আগে খেতেন। মৃত্যুর পুরনো রীতিতে আত্মীয়েরা প্রতিদিন ঝুলন্ত কফিনের নিচে ধোঁয়া দিতেন; এক বছর পর হাড় ধুয়ে কাপড়ে বেঁধে কবর দেওয়া হতো, ওপরে নামফলক। এখন প্রার্থনার পর মৃতদেহ কবরে রাখা হয় দক্ষিণমুখী করে। বাংলাপিডিয়াও লেখে, পাংখোয়ারা মৃতদেহ কবর দেন।

সুগত চাকমা (1985) একটি প্রতিরক্ষামূলক রীতির কথা লিখেছেন: আগে কলেরা বা অন্য মহামারির সময় বাইরের লোক যাতে গ্রামে ঢুকে রোগ না ছড়ায়, সেজন্য পাংখুয়ারা গ্রামের প্রবেশপথে গোলপোস্টের মতো একটি কাঠামো বানিয়ে তাতে মুগুর ঝুলিয়ে রাখতেন — অর্থ, প্রবেশ নিষেধ; তখন গ্রামের ভেতরে দেবতাদের উদ্দেশে শূকর ও মোরগ বলি দেওয়া হতো। তিনি লিখেছেন, এসব প্রথা এখন লোপ পেতে বসেছে।

আর্কাইভ পুরনো বিশ্বাসের একটি তালিকাও দেয়, যার কয়েকটি এখনো সমাজে আছে বলে লেখক জানান: অপরাধের বিচারে দা, বর্শা, বন্দুক ও রক্ত সাক্ষী রেখে শপথ; চুরি হলে হেডম্যানের বর্শা মাটিতে গেঁথে সবাইকে ছুঁয়ে শপথ করানো; স্বপ্নের লক্ষণ — স্বপ্নে পরিষ্কার পানি তোলা রোগমুক্তি, ঘোলা পানি অসুখ, হাতি দেখা কাজে সাফল্য। গর্ভাবস্থায় লাউ-কুমড়ার মতো লতানো ফল, বেগুন বা আনারস না খাওয়ার নিষেধগুলো লেখকের ভাষায় “আর নেই বললেই চলে”, প্রত্যন্ত এলাকা ছাড়া।

পাংখোয়াদের ধর্ম কী: খ্রিস্টধর্ম, আর পুরনো খোজিং বিশ্বাস

আর্কাইভের পাংখোয়া লেখক লিখেছেন, “এখন সকল পাংখোয়া খ্রিস্টধর্ম পালন করে”, শুধু প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চে। SIL-এর জরিপও বলে পাংখোয়ারা খ্রিস্টান। কিন্তু বাংলাপিডিয়ার ভুক্তি — ইংরেজি ও বাংলা দুটিই — লেখে পাংখোয়ারা নিজেদের বৌদ্ধ বলে দাবি করেন, তবে প্রকৃতির পূজাও করেন। উইকিপিডিয়া লেখে সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিস্টান, সংখ্যালঘু বৌদ্ধ।

খ্রিস্টধর্ম কীভাবে এল — কোন মিশন, কোন পালক, কোন গ্রামে প্রথম প্রচার, আর বম গির্জার উৎসের সঙ্গে সালের অমিল (1929 না 1943) — সবটা আছে আমাদের পাহাড়ে খ্রিস্টধর্ম কীভাবে এল লেখায়; এখানে আর পুনরাবৃত্তি নয়। সংক্ষেপে আর্কাইভের সাংগঠনিক কালানুক্রম: শুরুতে নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া জেনারেল মিশনের অধীনে, 1974–1980 বমদের ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টান চার্চের অধীনে, 1980-র শেষে নিজস্ব ডিনোমিনেশন, যা এখন ইভানজেলিকাল চার্চ অব বাংলাদেশ (ECB) নামে পাংখোয়াদের বৃহত্তম চার্চ।

শুমারি কোনো জাতির ধর্ম আলাদা করে প্রকাশ করে না। জেলা-প্রতিবেদনের Table 3.1.13 অনুযায়ী বিলাইছড়ি উপজেলায় খ্রিস্টান 2,837 জন, উপজেলার জনসংখ্যার 9.60% — রাঙামাটির উপজেলাগুলোর মধ্যে রাজস্থলীর (10.83%) পরেই। একই উপজেলায় পাংখোয়া 498, বম 356 ও ত্রিপুরা 1,796 জন; কোন জাতির কতজন খ্রিস্টান, সে হিসাব নেই। জেলা ধরে ধর্মের সার্বিক হিসাব আছে পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টান জনসংখ্যা নিয়ে আমাদের লেখায়।

খ্রিস্টধর্মের আগে: খোজিং, পাত্যেন ও শিব

পুরনো বিশ্বাস নিয়ে তিন উৎসের তিন রকম বিবরণ:

  • বাংলাপিডিয়া: সৃষ্টিকর্তার নাম পাত্যেন (Patyen), যিনি লুসেইদের পুথিয়ানের মতো; তাঁর পরে প্রধান দেবতা খোজিং — অরণ্যের কর্তা, জুমের ভালোমন্দ তাঁর হাতে। বাঘ খোজিংয়ের পোষা প্রাণী। বৈশাখের শুরুতে খোজিংয়ের উদ্দেশে নাচ, মূল খোজিং পূজা শ্রাবণে — পাংখোয়া সমাজের সবচেয়ে বড় উৎসব।
  • হাচিনসন (1906): ধর্মের আচার সামান্য; তাঁরা এক সর্বজনীন ঈশ্বরকে মানেন, নাম “Kozing”; আর “Kornu Bol” নামের এক আত্মাকে মুরগি বলি দিয়ে সন্তুষ্ট করেন — মানত করে কবজিতে সুতো বাঁধেন, বলির পর সুতো খুলে গলায় পালকের গুচ্ছ পরেন।
  • আর্কাইভের পাংখোয়া লেখক: আদিতে পাংখোয়ারা শিবের অনুসারী ছিলেন; মঠ-মন্দির ছিল না, বটগাছের গোড়ায় পূজা, অসুখে ছড়ায় মোরগ বলি। সবচেয়ে বড় পূজা “সুনথা মা-জির” (ধন-সম্পদের দেবতা, অসুখ থেকে মুক্তির মানত), আর নতুন বছরের শুভ কামনায় “ডাই মাহের”। তিনি খোজিংকে প্রধান দেবতা বলেছেন, আর বাঘকে খোজিংয়ের বাড়ির পোষা কুকুরের মতো।

তিন বিবরণের একটি সুতো মিলে যায়: খোজিং/Kozing নামটি তিনটিতেই আছে, আর বাঘের সঙ্গে খোজিংয়ের সম্পর্ক দুটিতে। বাংলাপিডিয়ার “বৌদ্ধ” দাবি আর আর্কাইভের “সকলেই খ্রিস্টান” — কোনটি কোন সময়ের ছবি, তা জানা যায়নি; বাংলাপিডিয়ার ভুক্তিতে সময় উল্লেখ নেই।

উৎসব, গান, নাচ ও পোশাক: যতটুকু নথিভুক্ত

খ্রিস্টান পাংখোয়াদের প্রধান উৎসব এখন বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ — দূর থেকে মানুষ এক গ্রামে জড়ো হয়ে ধর্মীয় গান করেন। আর্কাইভ অনুযায়ী পাংখোয়া সমাজে গান জানেন না বা গিটার বাজাতে পারেন না এমন তরুণ খুব কম। বাংলাপিডিয়াও লেখে, ভাষাটিতে গানের অভাব নেই, বিশেষত প্রেমের গান।

আর্কাইভের লেখক উৎসবের গানের কয়েকটি ধরন নাম ধরে দিয়েছেন: “সাখা লা” (শিকার মিললে শিকারির নাচের গান), “ভার হাই লা” (জুম কাটার সময় একাকীত্বের লোকগীত), “লেং দের লা” (শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনার গান, দলগত নাচসহ), “নাউ ওয়াই লা” (ঘুমপাড়ানি গান), “ব-লা” (শিকার মেলার খবর দূরে জানানোর ডাক), আর “লা লেং লং” (প্রেমের গান)। নাচের মধ্যে আছে দলীয় “লামদেপ”, একক শিকারি নাচ “সালু মালাম”, রাজহাঁসের পালক নিয়ে “পোয়াল মা থলা লাম”, গয়ালের শিং নিয়ে “চাং রাপাল দেং”, আর সমবেদনার দলীয় নাচ “লেংদের কাই লাম”। লেখকের সতর্কবাণী: আদিকালের গান ও নাচ এখনকার তরুণেরা প্রায় জানে না, শুনলে অন্য জাতির গান মনে করবে।

বাদ্যযন্ত্রের তালিকায় আছে গয়ালের শিং (সিয়াল রাকি), ছোট পিতলের ঘণ্টা (ডার সন), বড় ঘণ্টা বা মং (ডার পুই), গাছের ঢোল (খোয়াং), বাঁশের ঢোল (রুয়া খোয়াং) ও বাঁশের গিটার (রুয়া টিংটাং)। অন্য জাতির যন্ত্রের সঙ্গে তুলনা আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাদ্যযন্ত্রের তালিকায়।

পোশাক ও চুল

আর্কাইভ অনুযায়ী মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ছিল নিজের বোনা স্কার্ট “কেংজেল ভেল”, ওপরে “করড”, আর বিশেষ দিনে সাদা কাপড় “পোয়ান ঙৌ”; পুরুষদের কোমরে “রেনতে রেং”, কোমর-তাঁতে বোনা “পোয়ান পুই”, জুমের তুলার জামা, আর কাজের সময় পাগড়ি। লেখক জানান, এসব পোশাক এখন প্রায় দেখা যায় না; মেয়েরা সালোয়ার-কামিজ ও শাড়ি, ছেলেরা জিন্স ও টি-শার্ট পরেন, কেবল কিছু জায়গায় বয়স্কদের পোয়ান পুই পরতে দেখা যায়। বাংলাপিডিয়া লেখে, মেয়েদের পোশাক “পিরহান”, যা চাকমা মেয়েদের পোশাকের মতো।

হাচিনসন 1906 সালে এক তরুণীর সাজের বর্ণনা দিয়েছিলেন — কোমরে ছয়টি নকশাদার কটিবন্ধ, শেষটি পিতলের ঝুনঝুনির; মাথায় নিজের বোনা পুঁতির মুকুট, গলায় এক ডজন মালা। চুলের খোঁপা — বনযোগীর মাথার ওপরে, পাংখোর পেছনে — আগের অংশে বলা হয়েছে।

বাঘের সঙ্গে বন্ধুত্ব: একটি বিশ্বাস ও একটি নিষেধ

আর্কাইভের লেখক যে লোককাহিনিকে সবচেয়ে জনপ্রিয় বলেছেন, তার নাম “বাঘের সাথে বন্ধুত্ব” (Mi in Mariampa insian thu)। কাহিনির সারকথা: পাংখোয়া পূর্বপুরুষ ও বাঘ ছিল পরম বন্ধু, শিকারের ভালো অংশ একে অন্যের জন্য রেখে দিত। সেই বিশ্বাস থেকে একটি সামাজিক নিষেধ — পাংখোয়া সমাজে বাঘ শিকার নিষিদ্ধ, বাঘের মাংসও খাওয়া হয় না। বাংলাপিডিয়াও লেখে, বাঘ বা চিতার মাংস পাংখোয়াদের জন্য নিষিদ্ধ। খাদ্যের অংশে আর্কাইভ বাঁশের চোঙায় রান্না তরকারি (আন মুং) ও ভাত (বু মুং), আর মাসের পর মাস হাঁড়িতে রাখা শূকরের চর্বি “মে থু”-র কথাও লেখে। পাহাড়ের অন্য জাতিগুলোর রূপকথার সূচি আছে আমাদের রূপকথা-বিষয়ক লেখায়; সেখানে পাংখোয়া কাহিনি আলাদা করে নেই।

পাংখোয়াদের জীবিকা: জুম, বন আর বনজ ওষুধ

পাংখোয়াদের জীবিকার মূল ভিত্তি জুম চাষ। আর্কাইভের লেখক লিখেছেন, এখনো 90%-এর বেশি পাংখোয়া জুমের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু জুমের জমি কমা, জমি বিশ্রামের সময় কমা ও উর্বরতা হারানোয় জুম থেকে বড়জোর তিন-চার মাসের খোরাকি মেলে। বাংলাপিডিয়া জুম ও শিকারকে জীবনের ভিত্তি বলে, সঙ্গে কাঠ সংগ্রহ।

আর্কাইভ জুমের প্রতিটি ধাপের পাংখোয়া নাম দেয় — এটি লেখাটির সবচেয়ে বিরল অংশগুলোর একটি:

উৎস: আর্কাইভের “পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত” (পাংখোয়া নাম ও রোমান বানান লেখকের)।
ধাপ পাংখোয়া নাম যা হয়
জুমের জায়গা চিহ্নিত করা ফালদার জে (Phaldar zeh) জানুয়ারির দিকে বাঁশ চিরে ক্রুশের মতো চিহ্ন; সেই রাতের স্বপ্ন ভালো হলে তবেই জুম
জুম কাটা লৌ ভাত (Lo-vat) ফেব্রুয়ারি–মার্চ; 3–4 জন পালা করে একে অন্যের জুম কাটেন; প্রথম দিন অন্তত একটি মুরগি বলি
জুম পোড়ানো লৌ ওর (Lo-ur) কাটার প্রায় দেড় মাস পরে
জুমঘর তোলা লৌ চু সাক (Lo Chu Sak) জুমের মাঝখানে অস্থায়ী ঘর
পরিষ্কার করা মাং রা-সম (Mang Ra Sawm) না-পোড়া ডাল ও আগাছা সরানো
বীজ বোনা চিমু খং কা হ্লাক ধান, তিল, মিষ্টি কুমড়া, শসা, তুলা, ভুট্টা, কচু
নিড়ানি লৌ হ্ল (Lo-Thlaw) সাধারণত তিনবার
পাহারা লৌ ভেং / ভা ভেং দড়িতে বাঁধা বাঁশ নেড়ে পাখি তাড়ানো, বুনো শূকর-ভালুকের জন্য ফাঁদ (কাবুক)
ধান কাটা সাংশিন (Sang-sin) আত্মীয়-বন্ধুরা মিলে
মাড়াই সাং-রা চিল পা দিয়ে মাড়াই, অথবা ঝুড়িতে আঘাত করে
ঘরে তোলা সাং ফুর (Sang-Phur) ধান রাখা হয় “পাং” বা গোলায়

জুমের বাইরে বিকল্প সামান্য। আর্কাইভের লেখক লিখেছেন, পাংখোয়া নারীরা তাঁতে দক্ষ, বাঁশ-বেতের কাজেও পারদর্শী, কিন্তু বাজারজাতকরণের অভাবে তা পেশা হয়ে ওঠেনি; বনজ সম্পদ সংগ্রহ ও বিক্রি সরকারি বাধানিষেধে অনিশ্চিত; সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে পাংখোয়া “নেই বললেই চলে”। বাংলাপিডিয়া লেখে, জুম ও কাঠের কাজে নারী পুরুষের সমান অংশ নেন, আর হাটবাজার মূলত মেয়েরাই করেন।

বনজ ওষুধ: 117টি উদ্ভিদ

2019 সালে Journal of Ethnobiology and Ethnomedicine-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিলাইছড়ির পাংখোয়া পাড়াগুলোতে জানুয়ারি 2016 থেকে সেপ্টেম্বর 2017 পর্যন্ত 218 জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে 117টি ঔষধি উদ্ভিদের ব্যবহার নথিভুক্ত করেছে — সবচেয়ে বেশি পেটের রোগে (49 প্রজাতি), তারপর শ্বাসতন্ত্রের রোগে (39)। গবেষকেরা লেখেন, প্রায় প্রত্যেক বয়স্ক মানুষ জ্বর, কাশি, আমাশয়ের মতো সাধারণ অসুখের ওষুধ বানাতে পারেন; জন্ডিস, কলেরা বা ম্যালেরিয়ার মতো রোগে তাঁরা পেশাদার কবিরাজের কাছে যান, আর প্রতিটি গ্রামের কার্বারি নিজেও কবিরাজ। গবেষণার একটি পর্যবেক্ষণ: কবিরাজেরা মূলত বয়স্ক, তরুণ প্রজন্ম এই ভূমিকা নিতে আগ্রহী নয়।

পাংখোয়াদের শিক্ষা: কত জন পাস করেছেন, কেন ঝরে পড়েন

পাংখোয়াদের শিক্ষার একমাত্র প্রকাশিত হিসাব আর্কাইভের লেখায়: কয়েকটি পাড়ার প্রতিনিধির কাছ থেকে নেওয়া তথ্যে মাত্র 4 জন বিএ, 14 জন এইচএসসি ও 29 জন এসএসসি পাস, আর তখন পর্যন্ত মাস্টার্স ডিগ্রিধারী কোনো পাংখোয়ার খোঁজ মেলেনি। লেখাটির রচনাকাল উল্লেখ নেই, তাই হিসাবটি কোন সালের তা জানা যায় না।

তথ্য নেওয়া হয়েছিল সাজেকের নিউ লংকর, ওল্ড লংকর ও মামোয়াম বা কংলাক, বিলাইছড়ি ও ফারুয়া ইউনিয়নের পাংখোয়া পাড়া, নিউ জৌদিন, যমুনাছড়ি ও ঝান্দি মুইন পাড়া, আর বরকলের লাইজৌ ও সাইচাল পাড়া থেকে। লেখক পিছিয়ে পড়ার তিনটি কারণ দিয়েছেন:

  1. ভাষা: পাংখোয়া ভাষা বাংলা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, ছোটবেলায় বাংলা চর্চার সুযোগ কম; অনেকে কয়েকবার চেষ্টা করেও এসএসসি পাস করতে পারেন না।
  2. দূরত্ব: উঁচু পাহাড় ও গভীর বনের পাড়া থেকে উচ্চ বিদ্যালয়-কলেজে যাওয়া প্রায় অসম্ভব, তাই প্রাথমিকের পর অধিকাংশ পড়া ছাড়ে।
  3. দারিদ্র্য: জুম ও শিকার ছাড়া অন্য পেশা নেই, তাই ম্যাট্রিক-আইএ পাসের পরও উচ্চশিক্ষা হয় না।

SIL-এর জরিপ ভাষার কারণটিকে সংখ্যায় দেখায়: বিলাইছড়ির 11 জন উত্তরদাতার 4 জন বাংলাকে দ্বিতীয় সেরা ভাষা বলেছেন এবং চারজনই শিক্ষিত; গবেষকদের সিদ্ধান্ত, শিক্ষিত পাংখোয়ারা বাংলায় ভালো, কিন্তু সামগ্রিকভাবে সমাজের বাংলা-দক্ষতা বাংলা বই ব্যবহারের মতো যথেষ্ট নয়। ইতিহাসের দিক থেকে, আর্কাইভ জানায়, মিশন প্রথমে বরকলের লুংইনখারে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত একটি স্কুলে সাহায্য করত, যেখানে পাংখোয়ারা লুসাই ভাষা ও প্রাথমিক শিক্ষা নিতেন।

সাম্প্রতিক কোনো সংখ্যা — কতজন পাংখোয়া এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে, বা প্রথম মাস্টার্স ডিগ্রিধারী কে — প্রকাশিত কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

পাংখোয়াদের বর্তমান অবস্থা: সংখ্যা, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিনিধিত্ব

তিনটি বিষয়ে পাংখোয়াদের বর্তমান অবস্থা নথিভুক্ত: সংখ্যা কমছে (1991 সালে 3,227, 2022 সালে 1,857); দুর্গম পাড়া থেকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা দূরে; আর রাঙামাটি জেলা পরিষদে পাংখোয়াদের জন্য একটি সংরক্ষিত আসন আইনে থাকলেও 1989-এর পর পরিষদে আর নির্বাচন হয়নি — বিস্তারিত জেলা পরিষদের নির্বাচন ও ভোটার তালিকা নিয়ে আমাদের লেখায়।

স্বাস্থ্যসেবা

2019 সালের ঔষধি-উদ্ভিদ গবেষণা লেখে, পাংখোয়া পাড়াগুলোর সবচেয়ে কাছের সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বিলাইছড়ি উপজেলা সদরে, প্রায় 15 কিলোমিটার দূরে, যেখানে সেবা দেন দুজন চিকিৎসক ও তিনজন প্যারামেডিক। গবেষকদের মতে আধুনিক চিকিৎসা পাংখোয়াদের নাগালের বাইরে এবং অধিকাংশের সাধ্যের বাইরে; অনেকে মনে করেন আধুনিক চিকিৎসা নিলে সমাজের বন্ধন দুর্বল হয়, আর সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে আধুনিক চিকিৎসা নিতে বাধ্য করতে হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক ছবি এই লেখার বাইরে।

আইনে আসন, বাস্তবে প্রতিনিধিত্ব

উৎস: পার্বত্য জেলা পরিষদে আসন ভাগ নিয়ে আমাদের লেখা ও রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ আইনের সংজ্ঞা নিয়ে লেখা (দুটিই bdlaws-এর আইনপাঠ উদ্ধৃত); আর্কাইভের “পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত”।
পরিষদ পাংখোয়াদের আসন
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ (নির্বাচিত পরিষদের বিধান) 20টি উপজাতীয় আসনের 1টি — নিজস্ব
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ (অন্তর্বর্তী পরিষদ) খিয়াং, লুসাই ও পাংখোয়া তিন জাতি মিলে 1টি
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ বম, লুসাই ও পাংখোয়া মিলে 1টি
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ তালিকায় নেই
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ লুসাই, বম, পাংখো, খুমী, চাক ও খিয়াং ছয় জাতি মিলে 1টি

আর্কাইভের লেখক লিখেছেন, দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় পরিষদগুলো মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে চলছে, ফলে আসন সংরক্ষিত থাকলেও রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদে পাংখোয়াদের প্রতিনিধিত্ব অনুপস্থিত। আঞ্চলিক পরিষদে ছয় জাতি মিলে একটি আসন নিয়ে তিনি লেখেন, এতে পাংখোয়াদের প্রতিনিধিত্ব যথার্থভাবে হবে না বলে অনেকে সন্দেহ করেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে পাংখোয়াদের সম্পৃক্ততা “চোখে পড়ে না”, তবে ইউনিয়ন পরিষদে কিছু অংশগ্রহণ আছে — এটিও লেখকের পর্যবেক্ষণ।

জেলা পরিষদে আসনে দাঁড়ানোর জন্য জাতিসত্তার সনদ লাগে সার্কেল চিফের কাছ থেকে; রাঙামাটিতে তা চাকমা চিফ। সেই প্রক্রিয়ার বিবরণ আছে আসন-বণ্টনের লেখায়।

নারী

আর্কাইভের লেখক পাংখোয়া নারীর সামাজিক চলাফেরাকে “স্বাধীন” বলেছেন, আবার একই অংশে লিখেছেন সমাজ পিতৃতান্ত্রিক, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পুরুষের, আর খাবার, খেলাধুলা, লেখাপড়ার সুযোগ ও মজুরিতে মেয়েরা বৈষম্যের শিকার; ছেলেসন্তানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথাগত আইনে নারীর অধিকার, ভরণপোষণ ও বিচ্ছেদের নিয়ম আছে প্রথাগত আইনে আদিবাসী পাংখোয়া নারীর অবস্থান লেখায়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা: পাংখোয়া জনগোষ্ঠী নিয়ে প্রশ্নোত্তর

পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা কত?

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি 2022 অনুযায়ী দেশে পাংখোয়া 1,857 জন — পুরুষ 943, নারী 914। এর 1,398 জন রাঙামাটি জেলায়, 55 জন বান্দরবানে ও 5 জন খাগড়াছড়িতে। 1991 সালের শুমারিতে সংখ্যাটি ছিল 3,227, আর পাংখোয়াদের নিজেদের পুরনো অনুমান প্রায় 4,000।

পাংখোয়ারা কোথায় বাস করেন?

পাংখোয়াদের প্রধান বসতি রাঙামাটি জেলায়। 2022 শুমারিতে বিলাইছড়িতে 498, রাঙামাটি সদরে 228, বরকলে 208, কাপ্তাইয়ে 143, বাঘাইছড়িতে 117 ও জুরাছড়িতে 116 জন। সবচেয়ে বড় গ্রাম বিলাইছড়ির পাংখোয়া পাড়া, যেখানে প্রায় 600 জন থাকেন। সীমান্তের ওপারে মিজোরামেও পাংখোয়া আছেন।

পাংখো, পাংখোয়া না পাংখুয়া — সঠিক বানান কোনটি?

একটিমাত্র সঠিক বানান নেই। রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলা পরিষদ আইন 2014 সালের সংশোধনীর পর “পাংখোয়া” লেখে, আঞ্চলিক পরিষদ আইন লেখে “পাংখো”, সুগত চাকমার বই “পাংখুয়া”। জনশুমারি 2022-এর সারণিতে নামটি “Pankhoa/Pankho”। আর্কাইভের লেখক জানান, পাংখোয়ারা নিজেদের “পাংখু” বা “পাংখোয়া” বলেন।

পাংখোয়া শব্দের অর্থ কী?

দুটি বাংলা উৎস অনুযায়ী পাংখোয়া ভাষায় “পাং” মানে শিমুল ফুল, “খোয়া” মানে গ্রাম। পাংখোয়াদের বিশ্বাস, অতীতে তাঁরা লুসাই পাহাড়ের শিমুল গাছে ভরা “পাংখোয়া” নামের গ্রামে বাস করতেন। ঔপনিবেশিক লেখক হাচিনসন 1906 সালে লিখেছিলেন, তিনি নামটির কোনো ব্যুৎপত্তি খুঁজে পাননি।

পাংখোয়া ভাষা কোন ভাষা পরিবারের?

পাংখোয়া তিব্বতি-বর্মী পরিবারের কুকি-চিন শাখার ভাষা; SIL একে বম ও লুসাইয়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কুকি-চিন দলে রেখেছে। ISO কোড pkh। SIL-এর 2007–08 সালের জরিপে শব্দভান্ডারে বমের সঙ্গে মিল 36–41%, লুসাইয়ের সঙ্গে 30–33% — অর্থাৎ এটি আলাদা ভাষা, উপভাষা নয়।

পাংখোয়া ভাষা কি বিলুপ্তির পথে?

ঝুঁকিতে আছে, তবে মাত্রা নিয়ে উৎস একমত নয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের জরিপে এটি দেশের 14টি বিপন্ন ভাষার একটি; Glottolog বলছে “threatened”, Endangered Languages Project “vulnerable”। SIL 2008 সালের আগে সাজেকের কংলাক গ্রামে দেখেছে, মানুষ পাংখোয়ার বদলে লুসাইকে প্রথম ভাষা হিসেবে বলেন।

পাংখোয়াদের কি নিজস্ব বর্ণমালা আছে?

না। পাংখোয়াদের নিজস্ব লিপি নেই। আর্কাইভের পাংখোয়া লেখক জানান, তাঁরা লুসাইদের জন্য তৈরি রোমান হরফের বর্ণমালা ব্যবহার করেন। বাংলাপিডিয়া ভাষাটিকে কেবল মৌখিক বলে, আর SIL লেখে পাংখোয়া ভাষায় লোককাহিনি ও গান ছাড়া কার্যত কোনো সাহিত্য নেই; ধর্মীয় বই পড়া হয় লুসাই ভাষায়।

পাংখোয়াদের ধর্ম কী?

আর্কাইভের পাংখোয়া লেখকের মতে এখন সব পাংখোয়া খ্রিস্টান, প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চে; বৃহত্তম চার্চ ইভানজেলিকাল চার্চ অব বাংলাদেশ। বাংলাপিডিয়া অবশ্য লেখে পাংখোয়ারা নিজেদের বৌদ্ধ বলে দাবি করেন এবং প্রকৃতিপূজাও করেন। পুরনো বিশ্বাসে অরণ্যের দেবতা খোজিং প্রধান, যাঁর পূজা শ্রাবণে হতো।

পাংখোয়া সমাজে কয়টি গোত্র আছে?

উৎসভেদে আলাদা। হাচিনসন (1906) ও বাংলাপিডিয়া দুটি গোত্রের কথা বলে — পাংখো ও ভানজাং। আর্কাইভের পাংখোয়া লেখক 25টি গোত্রের নাম দিয়েছেন, যেমন ভান জাং, লাই স্লোয়াং, সেইজাং ও সিংলা। লেখকের মতে নামের সঙ্গে গোত্রের নাম লেখা হয় না, আর এসব নামের সঙ্গে বম গোত্রের মিল আছে।

পাংখোয়া ও বম কি একই জাতি?

না, আলাদা জাতি, তবে ঘনিষ্ঠ। SIL-এর জরিপে দুই ভাষার শব্দে মিল 36–41%, যা আলাদা ভাষা হওয়ার মতো কম। আর্কাইভের লেখায় হাচিনসনের মত হিসেবে আছে যে দুটি একই পিতার দুই সন্তান থেকে উদ্ভূত। বিলাইছড়ির অনেক পাংখোয়া বম ভাষা বোঝেন; বান্দরবান জেলা পরিষদে বম, লুসাই ও পাংখোয়া মিলে একটি আসন।

পাংখোয়াদের সংখ্যা কেন কমছে?

1991 সালের শুমারিতে পাংখোয়া ছিলেন 3,227 জন, 2022 সালে 1,857। আর্কাইভের পাংখোয়া লেখক কারণ হিসেবে মিজোরামে অভিবাসনের কথা বলেছেন — ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপে। দুই শুমারির গণনা-পদ্ধতি একই ছিল কি না, বা কতজন দেশ ছেড়েছেন, তার কোনো প্রকাশিত হিসাব পাওয়া যায়নি।

পাংখোয়াদের জন্য জেলা পরিষদে কি আসন আছে?

আছে। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনে 20টি উপজাতীয় আসনের একটি পাংখোয়াদের নিজস্ব; বান্দরবানে বম ও লুসাইয়ের সঙ্গে একটি যৌথ আসন; আঞ্চলিক পরিষদে ছয় জাতি মিলে একটি। আর্কাইভের লেখক জানান, 1989-এর পর নির্বাচন না হওয়ায় পরিষদ মনোনীত সদস্যে চলে, তাই রাঙামাটিতে পাংখোয়া প্রতিনিধিত্ব কার্যত অনুপস্থিত।

যা এখনো জানা যায়নি

  • 1991 সালের 3,227 থেকে 2022 সালের 1,857 — এই পতনের কতটা মিজোরামে অভিবাসনের কারণে, কতটা গণনা-পদ্ধতির পার্থক্যে, কোনো প্রকাশিত উৎসে ব্যাখ্যা নেই।
  • সিলেট (123) ও রাজশাহী (88) বিভাগে শুমারির গোনা পাংখোয়ারা কারা, কোথায় থাকেন — জানা যায়নি।
  • বান্দরবানের রুমায় আর্কাইভ দুটি পাংখোয়া পাড়ার নাম দেয়, অথচ শুমারিতে রুমায় পাংখোয়া 2 জন; পাড়া দুটির বাসিন্দারা কোন পরিচয়ে গোনা হয়েছেন, জানা যায়নি।
  • ভারতে, বিশেষত মিজোরামে, পাংখোয়াদের সংখ্যা — কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
  • আর্কাইভের পাড়া-তালিকা ও শিক্ষার হিসাব কোন সালের — লেখায় রচনাকাল নেই; নতুন কোনো পাড়াভিত্তিক তালিকা পাওয়া যায়নি।
  • গোত্র দুটি (হাচিনসন, বাংলাপিডিয়া) না পঁচিশটি (আর্কাইভ) — দুই হিসাবের সম্পর্ক কোনো উৎস ব্যাখ্যা করেনি।
  • বাংলাপিডিয়ার “নিজেদের বৌদ্ধ বলে দাবি” বক্তব্যটি কোন সময়ের, কোন সূত্রের — ভুক্তিতে উল্লেখ নেই।
  • বহুবিবাহ নিয়ে হাচিনসন (অনুমোদিত নয়) ও আর্কাইভের (সীমাহীন অনুমোদিত) বিরোধ কোনো উৎসে মেটানো হয়নি।
  • সাজেকের কংলাকের মতো আর কোন পাংখোয়া গ্রামে মাতৃভাষা ছেড়ে লুসাই প্রথম ভাষা হয়েছে — 2008-এর পরের কোনো জরিপ পাওয়া যায়নি।
  • বর্তমানে কতজন পাংখোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন বা চাকরিতে আছেন — সাম্প্রতিক কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র

  1. লাল চুয়াক লিয়ামা পাংখো, “পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত”, জুমজার্নাল আর্কাইভ (সাইটে প্রকাশ 1 জুন 2021)। লিংক
  2. “পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর বিবাহ (ইননেই)”, জুমজার্নাল আর্কাইভ। লিংক
  3. “পাংখোয়া জনগোষ্ঠী: বিবাহ বিচ্ছেদ (ইনসেন)”, জুমজার্নাল আর্কাইভ। লিংক
  4. “পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর উত্তরাধিকার (রৌহুইতু)”, জুমজার্নাল আর্কাইভ। লিংক
  5. “প্রথাগত আইনে আদিবাসী পাংখোয়া নারীর অবস্থান”, জুমজার্নাল। লিংক
  6. সুগত চাকমা, বাংলাদেশের উপজাতি, বাংলা একাডেমী, ঢাকা; প্রথম প্রকাশ 1985, পুনর্মুদ্রণ এপ্রিল 2000 — “লুসেই ও পাংখুয়া”, পৃ. 64–67। জুমজার্নাল ই-বুক লাইব্রেরি। লিংক
  7. R. H. Sneyd Hutchinson, An Account of the Chittagong Hill Tracts, Calcutta: Bengal Secretariat Book Depot, 1906 — জনসংখ্যার ছক ও “Banjogis and Pankhos”, পৃ. 158–162 (Internet Archive)। লিংক
  8. Bangladesh Bureau of Statistics, Population and Housing Census 2022, National Report Vol. I, Table P29 “Ethnic Population by Category, Sex and Division, 2022” (Internet Archive কপি)। লিংক
  9. Bangladesh Bureau of Statistics, Population and Housing Census 2022, District Report: Rangamati, Table P17 ও Table 3.1.13 (Internet Archive কপি)। লিংক
  10. Bangladesh Bureau of Statistics, Population and Housing Census 2022, District Report: Bandarban, Table P17 (Internet Archive কপি)। লিংক
  11. Ahmed Rafique, “Pankho, The”, Banglapedia, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি (শেষ সম্পাদনা 18 জুন 2021)। লিংক
  12. আহমেদ রফিক, “পাংখোয়া”, বাংলাপিডিয়া (বাংলা সংস্করণ)। লিংক
  13. Amy Kim, Palash Roy ও Mridul Sangma, The Kuki-Chin Communities of Bangladesh: A sociolinguistic survey, SIL Electronic Survey Report 2011-025 (মাঠকর্ম অক্টোবর 2007–জানুয়ারি 2008)। লিংক
  14. Zahid Akter, “An overview of Pangkhua: A South Central Tibeto-Burman (Kuki-Chin) language of Bangladesh”, Himalayan Linguistics 23(2), 2024। লিংক
  15. Hammarström, Forkel, Haspelmath ও Bank, “Pangkhua (pank1249)”, Glottolog। লিংক
  16. “Pangkhu language”, English Wikipedia (দেখা হয়েছে অক্টোবর 2026)। লিংক
  17. “Pankho people”, English Wikipedia (দেখা হয়েছে অক্টোবর 2026)। লিংক
  18. “List of endangered languages in Bangladesh”, English Wikipedia (Endangered Language Alliance-এর তালিকা উদ্ধৃত)। লিংক
  19. M. O. Faruque ও সহলেখক, “Qualitative and quantitative ethnobotanical study of the Pangkhua community in Bilaichari Upazilla, Rangamati District, Bangladesh”, Journal of Ethnobiology and Ethnomedicine, 5 ফেব্রুয়ারি 2019। লিংক
  20. “14 languages disappearing for lack of preservation efforts”, The Daily Star, 20 ফেব্রুয়ারি 2021। লিংক
  21. “A living archive: 42 Indigenous languages in Bangladesh preserved under one online portal”, Global Voices, 24 আগস্ট 2025। লিংক
  22. “By the tranquil waters”, The Daily Star, 30 জানুয়ারি 2017। লিংক
  23. “পাহাড়ে খ্রিস্টধর্ম কীভাবে এল: বম, পাংখোয়া, লুসাই ও খুমি সমাজে ধর্মান্তরের নথিভুক্ত ইতিহাস”, জুমজার্নাল। লিংক
  24. “সাজেকে পর্যটনের আগে কারা থাকতেন: রুইলুই, কংলাক ও হামারি পাড়ার ইতিহাস”, জুমজার্নাল। লিংক
  25. “রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ আইন উপজাতীয় সংজ্ঞা”, জুমজার্নাল (bdlaws-এর আইনপাঠ ও পাদটীকা উদ্ধৃত)। লিংক
  26. “পার্বত্য জেলা পরিষদে আসন ভাগ হয় কীভাবে”, জুমজার্নাল। লিংক
  27. “স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা 27 থেকে 50 হলো কীভাবে”, জুমজার্নাল (2010 ও 2019 সালের তফসিল উদ্ধৃত)। লিংক
  28. “পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠী: কয়টি, কারা, কোথায়, কতজন”, জুমজার্নাল (খাগড়াছড়ি জেলা-প্রতিবেদনের Table P17 উদ্ধৃত)। লিংক

সর্বশেষ হালনাগাদ: 23 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, পাংখোয়া, পাংখোয়া জনগোষ্ঠী, রাঙ্গামাটি

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা