Last updated Oct 19th, 2026
1

রাঙামাটির জেলা পরিষদে কে কোন আসনে প্রার্থী হতে পারবেন, তার শুরু একটি মাত্র বাক্যে। রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ আইন উপজাতীয় সংজ্ঞা দিয়েছে 2(খ) ধারায়, আর সেখানে নাম ধরে সাতটি জাতির কথা লেখা: চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখোয়া ও খেয়াং — শর্ত একটাই, তাঁদের রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত হতে হবে। সাতটি নাম 1989 সাল থেকেই আইনে আছে; 2014 সালে বদলেছে কেবল দুটি নামের বানান।
পাশের দুই জেলার আইন একই দিনে — 6 মার্চ 1989 — রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলেও তালিকা আলাদা। খাগড়াছড়ির আইনে নাম তিনটি, বান্দরবানের আইনে বারোটি। এই লেখা তিনটি আইনের সংজ্ঞা-ধারা হুবহু পাশাপাশি রাখে, দেখায় কোন নাম কবে কোন বানানে ছিল, আর জনশুমারি 2022-এর জেলাভিত্তিক সংখ্যার সঙ্গে আইনের তালিকা মিলিয়ে দেখায় — কারা জেলায় থাকেন অথচ সেই জেলার আইনের তালিকায় নেই।
এই লেখার পাশের দুটি লেখা আলাদা কাজ করে। আসন কীভাবে ভাগ হয়, তা আছে পার্বত্য জেলা পরিষদে আসন ভাগ হয় কীভাবে লেখায়। রাষ্ট্র কোন দলিলে ‘উপজাতি’, কোথায় ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ লেখে — সেই পরিভাষা-প্রশ্ন আছে রাষ্ট্র কোন শব্দ ব্যবহার করে: সংবিধান, শুমারি ও সরকারি নির্দেশনায় ‘আদিবাসী’ প্রশ্নের নথি-কালানুক্রম লেখায়। এখানে বিষয় কেবল সংজ্ঞা-ধারার পাঠ, তার ইতিহাস আর তার ফল।
সূচিপত্র
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989 (1989 সনের 19 নং আইন)-এর 2(খ) দফা বলে, ‘উপজাতীয়’ অর্থ রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত সাতটি নির্দিষ্ট উপজাতির সদস্য। নামগুলো: চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যাঁ, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখোয়া ও খেয়াং। আইনটি 6 মার্চ 1989 তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতি পায়।
আইন মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ পাঠ (bdlaws) অনুযায়ী দফাটি হুবহু এই:
“উপজাতীয়” অর্থ রাংগামাটি পার্বত্য জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত চাকমা, মারমা, [তঞ্চঙ্গ্যাঁ], ত্রিপুরা, লুসাই, [পাংখোয়া] ও খেয়াং উপজাতির সদস্য;
দুটি নামের চারপাশে তৃতীয় বন্ধনী আইনি সংকলনের রীতি: বন্ধনীর ভেতরের শব্দ পরের কোনো সংশোধনী আইনে বসানো হয়েছে, আর পাদটীকায় লেখা থাকে কোন আইন কী বদলেছে। এই দুটি বন্ধনী কী বোঝায়, তা পরের অংশে।
আইনের নাম নিয়ে একটি ছোট কথা। আইনের নিজের পাঠে বানান ‘রাংগামাটি’; সাধারণ লেখায় ‘রাঙ্গামাটি’ ও ‘রাঙামাটি’ দুটোই চলে। উদ্ধৃতির ভেতরে এখানে আইনের বানানই রাখা হয়েছে। আর ‘উপজাতীয়’ শব্দটি আইনের পারিভাষিক শব্দ — এটি একটি আইনি শ্রেণির নাম, আর এই লেখায় শব্দটি সেই অর্থেই উদ্ধৃত। জুমজার্নাল নিজের লেখায় ‘আদিবাসী’ ব্যবহার করে; দুই অবস্থানের নথিভিত্তিক বিবরণ আছে রাষ্ট্রের পরিভাষা নিয়ে আমাদের লেখায়।
সংজ্ঞার সাতটি নামই আইনের 4(3) ধারায় আসন-তালিকা হয়ে ফিরে আসে। 20টি উপজাতীয় সদস্যপদের মধ্যে 10টি চাকমা, 4টি মারমা, 2টি তঞ্চঙ্গ্যা, আর ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখোয়া ও খেয়াং — প্রত্যেকের জন্য একটি করে আসন। সংজ্ঞা ও আসন তাই একে অপরের সঙ্গে বাঁধা।
| 2(খ) দফার নাম (বর্তমান পাঠ) | 1989–2014 পর্যন্ত বানান | 4(3) ধারায় আসন |
|---|---|---|
| চাকমা | চাকমা | 10 |
| মারমা | মারমা | 4 |
| তঞ্চঙ্গ্যাঁ | তনচৈংগা | 2 |
| ত্রিপুরা | ত্রিপুরা | 1 |
| লুসাই | লুসাই | 1 |
| পাংখোয়া | পাংখু | 1 |
| খেয়াং | খেয়াং | 1 |
উৎস: রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989, ধারা 2(খ) ও 4(3) — bdlaws ও আমাদের ই-বুক লাইব্রেরির 2010 সালের হালনাগাদ কপি।
না। সাতটি জাতিই 1989 সালের মূল আইনে ছিল। 2014 সালের রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন (2014 সনের 16 নং আইন) কেবল দুটি বানান বদলেছে: ‘তনচৈংগা’-র জায়গায় ‘তঞ্চঙ্গ্যাঁ’, আর ‘পাংখু’-র জায়গায় ‘পাংখোয়া’। নতুন কোনো জাতি যোগ হয়নি, কোনো নাম বাদও যায়নি।
bdlaws-এর পাদটীকা দুটি হুবহু এই: “তঞ্চঙ্গ্যাঁ” শব্দটি “তনচৈংগা” শব্দটির পরিবর্তে, আর “পাংখোয়া” শব্দটি “পাংখু” শব্দটির পরিবর্তে, ওই 2014 সালের আইনের 2(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত। একই আইনের 3(ক) ও 3(খ) ধারা 4(3) ধারার আসন-তালিকাতেও একই দুটি বানান বদলেছে।
পুরনো বানান কেমন ছিল, তা নিজের চোখে দেখা যায় আমাদের ই-বুক লাইব্রেরিতে রাখা আইনের একটি কপিতে। কপিটির ফাইলের ভেতরের শিরোনাম বলছে এটি 1 জুন 2010 তারিখে হালনাগাদ করা পাঠ — অর্থাৎ 2014 সালের সংশোধনীর আগের। সেখানে 2(খ) দফা পড়ে এভাবে:
“উপজাতীয়” অর্থ রাংগামাটি পার্বত্য জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত চাকমা, মারমা, তনচৈংগা, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখু ও খেয়াং উপজাতির সদস্য ;
এই কপির 2(খ) দফায় কোনো পাদটীকা নেই, অথচ একই পাতার অন্য দফাগুলোতে (যেমন 2(কক), 2(ঘঘ), 2(ঞ)) 1998 ও 2000 সালের সংশোধনীর পাদটীকা আছে। সংকলনটি সংশোধনী এলেই পাদটীকা দিয়েছে; 2(খ)-তে পাদটীকা না থাকা মানে 2010 পর্যন্ত দফাটি মূল পাঠেই ছিল। কপির 4(3) ধারাতেও একই বানান — “দুই জন নির্বাচিত হইবেন তনচৈংগা উপজাতি হইতে”, “এক জন নির্বাচিত হইবেন পাংখু উপজাতি হইতে”।
জুমজার্নালের পুরনো আর্কাইভ পোস্টেও আইনটির পূর্ণ পাঠ আছে — রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন — সেখানে bdlaws-এর মতোই বন্ধনী ও পাদটীকাসহ বর্তমান পাঠ।
তাই “তঞ্চঙ্গ্যা ও পাংখোয়া পরে যোগ হয়েছে” কথাটি পাদটীকার একটি ভুল পাঠ। বন্ধনী বলে শব্দটি পরে বসানো, কিন্তু পাদটীকা বলে কী সরিয়ে বসানো — আর সরানো শব্দটিও একই জাতির নাম, পুরনো বানানে।
2(খ) দফায় একজন মানুষ ‘উপজাতীয়’ হতে তিনটি শর্ত একসঙ্গে পূরণ করতে হয়: তিনি তালিকার সাত জাতির কোনো একটির সদস্য, তিনি রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় থাকেন, আর সেই বসবাস স্থায়ী। একটি শর্তও না মিললে দফার আক্ষরিক পাঠে তিনি এই আইনের ‘উপজাতীয়’ নন।
প্রথম শর্তটি নামের। আইন কোনো সাধারণ বর্ণনা দেয়নি — যেমন ‘পার্বত্য অঞ্চলের আদি বাসিন্দা’ বা ‘নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির জনগোষ্ঠী’। দিয়েছে একটি বন্ধ তালিকা। তালিকায় নাম না থাকলে সংজ্ঞায় ঢোকার অন্য কোনো পথ দফাটিতে নেই।
দ্বিতীয় শর্তটি জেলার। একই চাকমা বা মারমা পরিবার খাগড়াছড়িতে থাকলে খাগড়াছড়ির আইনে, বান্দরবানে থাকলে বান্দরবানের আইনে বিচার্য। রাঙামাটির আইন কেবল রাঙামাটির বাসিন্দাদের কথা বলে।
তৃতীয় শর্তটি ‘স্থায়ীভাবে বসবাসরত’। এই শব্দবন্ধের আলাদা কোনো সংজ্ঞা 2 ধারায় নেই। আইনের 6(1) ধারায় উপজাতীয় সদস্য হওয়ার যোগ্যতায় আবার বলা হয়েছে “রাংগামাটি পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হইলে”, আর 6(3)(ঘ) বলে কেউ “অন্যত্র স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য রাংগামাটি পার্বত্য জেলা ত্যাগ” করলে সদস্য হওয়ার বা থাকার যোগ্যতা হারাবেন। ‘স্থায়ী বাসিন্দা’ কে, সেই সনদ কে দেন — সে প্রশ্ন নিজেই একটি বিতর্ক; তার একটি নমুনা আমাদের আর্কাইভে তাতিন্দ্র লাল চাকমার লেখা স্থায়ী বাসিন্দার সনদপত্র প্রসঙ্গে।
লক্ষ করার মতো একটি বিষয়: সংজ্ঞায় ধর্ম, ভাষা বা জন্মস্থানের কোনো কথা নেই। আছে কেবল জাতির নাম আর বসবাস। কে কোন জাতির সদস্য, সেটি আইন নিজে ঠিক করে না — ঠিক করার দায় দিয়েছে সার্কেল চিফকে (নিচে কেউ উপজাতীয় কিনা, তা ঠিক করেন কে অংশে)।
একই ধারার 2(ক) দফা বলে, “‘অ-উপজাতীয়’ অর্থ যিনি উপজাতীয় নহেন”। সংজ্ঞাটি নেতিবাচক: 2(খ)-র তিন শর্তের বাইরে যে-কেউ, তিনি অ-উপজাতীয়। তাই তালিকার বাইরের কোনো জাতির মানুষ রাঙামাটিতে স্থায়ীভাবে থাকলেও দফার আক্ষরিক পাঠে তিনি এই আইনের ‘অ-উপজাতীয়’ শ্রেণিতে পড়েন।
উদাহরণ দিয়ে দেখা যাক, আইনের পাঠ ঠিক কী বলে। বম, ম্রো, খুমী ও চাক — এই চার জাতির নাম রাঙামাটির 2(খ) দফায় নেই, যদিও বান্দরবানের আইন ও আঞ্চলিক পরিষদ আইনে চারটিই আছে। রাঙামাটির আইনের 4(3) ধারায় তাঁদের জন্য কোনো উপজাতীয় আসনও নেই। 2(ক) দফা কোনো ব্যতিক্রম রাখেনি — যিনি উপজাতীয় নহেন, তিনিই অ-উপজাতীয়।
এই পাঠ বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ হয় — রাঙামাটিতে বসবাসরত কোনো বম বা ম্রো ব্যক্তি জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোন আসনে প্রার্থী হতে পারবেন, সার্কেল চিফ তাঁকে কোন সনদ দেবেন — তার কোনো প্রকাশিত সিদ্ধান্ত, প্রজ্ঞাপন বা আদালতের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। 1989 সালের পর জেলা পরিষদে কোনো নির্বাচনই হয়নি, তাই প্রশ্নটি ভোটের মাঠে পরীক্ষিতও হয়নি (নির্বাচন না হওয়ার হিসাব আছে শান্তিচুক্তির ধারা ধরে লেখায়)। এখানে যা বলা হলো, তা কেবল আইনের পাঠ।
2(কক) দফায় আরেকটি শ্রেণি আছে — ‘অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা’। এটি 1998 সালে শান্তিচুক্তির পর যোগ হয়েছে, আর এর পাঠ নিয়ে দুই রকম সংস্করণ আছে। সেটি আলাদা অংশে: ‘বা’ না ‘এবং’।
জনশুমারি 2022-এর রাঙামাটি জেলা রিপোর্ট বলছে, জেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা 3,72,875। এর মধ্যে আইনের তালিকার সাত জাতির মোট 3,70,941 — 99 শতাংশের বেশি। তালিকার বাইরে রাখাইন 568, বম 441, ম্রো 258, খুমি 44, গুর্খা 43, চাক 41 ও সাঁওতাল 35 জনের নাম সারণিতে আছে।
নিচের ছকে সংখ্যাগুলো বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) Population and Housing Census 2022, District Report: Rangamati-এর Table P17 থেকে। BBS তঞ্চঙ্গ্যাদের নাম লিখেছে Tonchonga বানানে, বমদের Bom।
| জনগোষ্ঠী | রাঙামাটিতে জনসংখ্যা (2022) | রাঙামাটির আইনের 2(খ) তালিকায়? |
|---|---|---|
| চাকমা | 2,76,048 | আছে |
| মারমা | 51,403 | আছে |
| তঞ্চঙ্গ্যা | 27,975 | আছে |
| ত্রিপুরা | 12,300 | আছে |
| খিয়াং (আইনে ‘খেয়াং’) | 1,670 | আছে |
| পাংখোয়া | 1,398 | আছে |
| লুসাই | 147 | আছে |
| রাখাইন | 568 | নেই |
| বম | 441 | নেই |
| ম্রো | 258 | নেই |
| খুমি | 44 | নেই |
| গুর্খা | 43 | নেই |
| চাক | 41 | নেই |
| সাঁওতাল | 35 | নেই |
উৎস: BBS, Population and Housing Census 2022, District Report: Rangamati, Table P17; আইনের কলাম: রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989, ধারা 2(খ)। সারণিতে ‘অন্যান্য’ নামে আরও 405 জন আছেন, যাঁদের জনগোষ্ঠী আলাদা করে লেখা নেই।
ছক থেকে তিনটি জিনিস পরিষ্কার। এক, 1989 সালের তালিকা আর 2022 সালের জনসংখ্যার মধ্যে বড় অমিল নেই — জেলার আদিবাসী জনসংখ্যার প্রায় পুরোটাই সাত জাতির। দুই, তালিকার সবচেয়ে ছোট দুই জাতি — পাংখোয়া (1,398) ও লুসাই (147) — প্রত্যেকে একটি করে সংরক্ষিত আসন পায়, অথচ জেলায় তালিকার বাইরের রাখাইন (568) বা বমদের (441) জন্য কোনো আসন নেই। তিন, বম, ম্রো, খুমি ও চাক — চারটি জাতিরই সবচেয়ে বড় অংশ বান্দরবানে, আর বান্দরবানের আইনে চারটিই আছে।
পাংখোয়া ও লুসাইদের বসতির বেশিটাই রাঙামাটিতে, বিশেষ করে সাজেক এলাকায় — তাঁদের গ্রামের ইতিহাস আছে সাজেকে পর্যটনের আগে কারা থাকতেন লেখায়, আর পাঁচ ক্ষুদ্রতম জনগোষ্ঠীর পরিচয় আছে খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখোয়া, লুসাই লেখায়।
1989 সালে রাঙামাটিতে কোন জাতির কত মানুষ ছিলেন, আর তালিকা বানানোর সময় কোন হিসাব সামনে রাখা হয়েছিল — সে নথি পাওয়া যায়নি। তাই 2022-এর সংখ্যা দিয়ে 1989-এর সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করা যায় না; ছকটি কেবল আজকের অবস্থা দেখায়। পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসংখ্যার দীর্ঘ মেয়াদি হিসাব আছে পাহাড়ি ও বাঙালি জনসংখ্যার অনুপাত, 1941–2022 লেখায়।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989 (1989 সনের 20 নং আইন)-এর 2(খ) দফায় তালিকা সবচেয়ে ছোট — কেবল চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা। 4(3) ধারায় 21টি উপজাতীয় আসন ভাগ হয় চাকমা 9, ত্রিপুরা 6, মারমা 6 হারে। এই আইনে তালিকার কোনো নাম কখনো সংশোধিত হয়নি।
bdlaws-এর পাঠে দফাটি:
“উপজাতীয়” অর্থ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা উপজাতির সদস্য;
আমাদের ই-বুক লাইব্রেরির খাগড়াছড়ির আইনের কপিটি 1998 সনের 10 নং আইন দ্বারা সংশোধিত পাঠ; সেখানেও 2(খ) একই তিন নামে। খাগড়াছড়ির আইনে নামের পাদটীকা না থাকায় বানানের কোনো ইতিহাসও নেই।
জনশুমারি 2022-এর খাগড়াছড়ি জেলা রিপোর্ট (Table P17) অনুযায়ী জেলায় চাকমা 1,75,165, ত্রিপুরা 98,500 ও মারমা 74,210 জন। তালিকার বাইরে সাঁওতাল 541, রাখাইন 475, গারো 97, তঞ্চঙ্গ্যা 79, চাক 22, ম্রো 18, বম 16, লুসাই 11, পাংখোয়া 5 ও খিয়াং 4 জনের নাম সারণিতে আছে। অর্থাৎ যে তঞ্চঙ্গ্যা, লুসাই, পাংখোয়া ও খিয়াং রাঙামাটির আইনে ‘উপজাতীয়’, খাগড়াছড়িতে স্থায়ীভাবে থাকলে সেখানকার আইনের আক্ষরিক পাঠে তাঁরা সেই শ্রেণিতে পড়েন না।
তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় অংশ খাগড়াছড়িতে — BBS-এর তিন জেলা রিপোর্টে খাগড়াছড়িতে 98,500, বান্দরবানে 22,572, রাঙামাটিতে 12,300। খাগড়াছড়ির আসন-বণ্টনে ত্রিপুরাদের ছয়টি আসন সেই চিত্রেরই প্রতিফলন, যদিও আইনে কোনো জনসংখ্যা-সূত্র লেখা নেই।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989 (1989 সনের 21 নং আইন)-এর 2(খ) দফায় বারোটি নাম: মারমা, ম্রো (মুরং), ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যাঁ, বম, চাকমা, খুমী, উচাই, চাক, খিয়াং, পাংখোয়া ও লুসাই। এর চারটি নামের বানান 2014 সালের সংশোধনীতে বদলেছে। তিন জেলা আইনের মধ্যে কেবল এখানেই ‘উচাই’ আছে।
bdlaws-এর পাঠে দফাটি:
“উপজাতীয়” অর্থ বান্দরবান পার্বত্য জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত মারমা, ম্রো (মুরং), ত্রিপুরা, [তঞ্চঙ্গ্যাঁ], [ বম], চাকমা, [খুমী], উচাই, চাক, খিয়াং, [পাংখোয়া] ও লুসাই উপজাতির সদস্য;
পাদটীকা অনুযায়ী বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, 2014 (2014 সনের 18 নং আইন) চারটি শব্দ বদলেছে: ‘তনচৈংগা’ থেকে ‘তঞ্চঙ্গ্যাঁ’, ‘বোম’ থেকে ‘বম’, ‘খুশী’ থেকে ‘খুমী’, আর ‘পাংখু’ থেকে ‘পাংখোয়া’। রাঙামাটির মতোই, এগুলো বানানের বদল — নতুন জাতি নয়।
‘খুশী’ নামটি নিয়ে একটি অমিল আছে। 1 জুলাই 2014 তারিখে সংসদে উত্থাপিত বিলে (বা. জা. স. বিল নং 13/2014) বলা হয়েছে, মূল আইনের 2(খ) দফা ও 4(3)(ছ) দফায় লেখা ‘খুশী’ শব্দের পরিবর্তে ‘খুমী’ বসবে। অথচ আমাদের ই-বুক লাইব্রেরির বান্দরবানের আইনের কপিতে — যার ফাইলের ভেতরের শিরোনাম 1 জুন 2010 তারিখের হালনাগাদ পাঠ বলে — 2(খ) দফায় ‘খুমী’ই ছাপা। অর্থাৎ বিল বলছে আইনে ‘খুশী’ ছিল, আর 2010 সালের একটি সংকলিত কপিতে ‘খুমী’। মূল 1989 সালের গেজেট দেখে কোনটি ঠিক, তা মেলানো যায়নি।
একই 2010 সালের কপি তঞ্চঙ্গ্যাদের নাম দুই জায়গায় দুই বানানে ছেপেছে: 2(খ) দফায় ‘তনচৈংগা’, আর 4(3)(ঘ) দফার আসন-তালিকায় ‘তৈনচংগ্যা’। কপিতে বম, লুসাই ও পাংখোয়াদের আসনের দফায় নাম ‘বোম, লুসাই ও পাংখু’।
‘উচাই’ নামটি তিন জেলার মধ্যে কেবল বান্দরবানের আইনে আছে; আঞ্চলিক পরিষদ আইনের এগারোটি নামে নেই। 2010 সালের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইনের তফসিলে ‘উসাই (উসুই)’ নামে একটি নাম ছিল, যা 2019 সালের তফসিলে নেই। IWGIA-র The Indigenous World 2019-এর বাংলাদেশ অধ্যায়ের পাদটীকায় উসুইকে ত্রিপুরাদের একটি গোত্র বলা হয়েছে — এটি IWGIA-র ব্যাখ্যা, সরকারের নয় (বিস্তারিত স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা 27 থেকে 50 হলো কীভাবে লেখায়)। বান্দরবানের আইনের ‘উচাই’ আর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইনের ‘উসাই (উসুই)’ একই নাম কিনা, কোনো সরকারি দলিলে তা বলা হয়নি। আসন-বণ্টনে বান্দরবানের আইন উচাইদের ত্রিপুরাদের সঙ্গে এক আসনে রেখেছে: “এক জন নির্বাচিত হইবেন ত্রিপুরা ও উচাই উপজাতি হইতে”।
জনশুমারি 2022-এর বান্দরবান জেলা রিপোর্ট (Table P17) অনুযায়ী মারমা 84,170, ম্রো 51,448, ত্রিপুরা 22,572, তঞ্চঙ্গ্যা 14,889, বম 11,854, চাকমা 3,712, খুমি 3,287, চাক 2,662, খিয়াং 2,502, লুসাই 58 ও পাংখোয়া 55 জন। আইনের বারোটি নামের এগারোটি সারণিতে আছে; উচাই নামে আলাদা সারি নেই। তালিকার বাইরে সারণিতে রাখাইন 355 জন, আর ‘অন্যান্য’ 273।
বান্দরবানের 19টি উপজাতীয় আসন ভাগ হয় এভাবে: মারমা ও খিয়াং মিলে 10, ম্রো 3, ত্রিপুরা ও উচাই মিলে 1, তঞ্চঙ্গ্যা 1, বম-লুসাই-পাংখোয়া মিলে 1, চাকমা 1, খুমী 1, চাক 1। অর্থাৎ বারোটি নাম থাকলেও আসন আটটি দফায় — কয়েকটি জাতি এক আসনে ভাগাভাগি করে। তিন জেলার আসন-বণ্টনের পূর্ণ ছক আছে আসন ভাগের লেখায়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের চারটি আইন ‘উপজাতীয়’-র সংজ্ঞা দিয়েছে — তিন জেলা পরিষদ আইন আর পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998। মোট বারোটি নাম আছে এই চার তালিকায়। চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা চারটিতেই আছে; উচাই কেবল একটিতে। খাগড়াছড়ির তালিকায় তিনটি, রাঙামাটির সাতটি, আঞ্চলিক পরিষদের এগারোটি, বান্দরবানের বারোটি।
নিচের ছক প্রতিটি জাতি ধরে দেখায় কোন আইনে কোন বানানে নামটি আছে। বর্তমান পাঠ bdlaws থেকে; খালি ঘর মানে সেই আইনের তালিকায় নামটি নেই।
| জাতি | রাঙামাটি আইন 2(খ) | খাগড়াছড়ি আইন 2(খ) | বান্দরবান আইন 2(খ) | আঞ্চলিক পরিষদ আইন 2(গ) |
|---|---|---|---|---|
| চাকমা | চাকমা | চাকমা | চাকমা | চাকমা |
| মারমা | মারমা | মারমা | মারমা | মারমা |
| ত্রিপুরা | ত্রিপুরা | ত্রিপুরা | ত্রিপুরা | ত্রিপুরা |
| তঞ্চঙ্গ্যা | তঞ্চঙ্গ্যাঁ (আগে তনচৈংগা) | — | তঞ্চঙ্গ্যাঁ (আগে তনচৈংগা) | তনৈচংগা |
| লুসাই | লুসাই | — | লুসাই | লুসাই |
| পাংখোয়া | পাংখোয়া (আগে পাংখু) | — | পাংখোয়া (আগে পাংখু) | পাংখো |
| খিয়াং | খেয়াং | — | খিয়াং | খিয়াং |
| ম্রো | — | — | ম্রো (মুরং) | ম্রো |
| বম | — | — | বম (আগে বোম) | বোম |
| খুমী | — | — | খুমী (পাদটীকায় আগে খুশী) | খুমী |
| চাক | — | — | চাক | চাক |
| উচাই | — | — | উচাই | — |
| মোট নাম | 7 | 3 | 12 | 11 |
উৎস: রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989; পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998 — সবই আইন মন্ত্রণালয়ের bdlaws পাঠ। পুরনো বানান bdlaws-এর পাদটীকা থেকে।
আঞ্চলিক পরিষদ আইনের 2(গ) দফা গোটা অঞ্চলের কথা বলে: “‘উপ-জাতীয়’ অর্থ পার্বত্য জেলাসমূহে স্থায়ীভাবে বসবাসরত চাকমা, মারমা, তনৈচংগা, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখো, খিয়াং, ম্রো, বোম, খুমী ও চাক উপ-জাতীয় কোন সদস্য”। জেলা আইনের সঙ্গে এর দুটি পার্থক্য চোখে পড়ে। এক, এখানে জেলার শর্ত নেই — তিন জেলার যেকোনোটিতে স্থায়ী বসবাসই যথেষ্ট। দুই, এই আইনে বানানগুলো 2014 সালে বদলানো হয়নি, তাই এখনো ‘তনৈচংগা’, ‘পাংখো’, ‘বোম’।
ফলে একজন বম নারী বান্দরবানে স্থায়ীভাবে থাকলে বান্দরবান জেলা পরিষদ আইনে ও আঞ্চলিক পরিষদ আইনে — দুটোতেই ‘উপজাতীয়’। রাঙামাটিতে থাকলে আঞ্চলিক পরিষদ আইনে ‘উপ-জাতীয়’, কিন্তু রাঙামাটি জেলা পরিষদ আইনের তালিকায় তাঁর জাতির নাম নেই। একই মানুষ, একই অঞ্চল, দুটি আইনে দুটি শ্রেণি। আঞ্চলিক পরিষদের আসন-বণ্টন আছে আঞ্চলিক পরিষদ: গঠন, ক্ষমতা ও আসন-বণ্টন লেখায়।
আইনগুলোতে একই জাতির নাম একাধিক বানানে আছে, কখনো একই আইনের দুই ধারায়। রাঙামাটির আইনের 2(খ) দফায় ‘খেয়াং’, অথচ একই আইনের 16ক(2)(গ) দফায় ‘খিয়াং’। তঞ্চঙ্গ্যাদের নাম আইনগুলোর বিভিন্ন পাঠে চারভাবে এসেছে — তনচৈংগা, তৈনচংগ্যা, তনৈচংগা, তঞ্চঙ্গ্যাঁ।
রাঙামাটির ক্ষেত্রটি সবচেয়ে কৌতূহলজাগানো। 2(খ) দফা ও 4(3)(ছ) দফায় নাম ‘খেয়াং’ — এক আসন “খেয়াং উপজাতি হইতে”। কিন্তু 2014 সালে প্রতিস্থাপিত অন্তর্বর্তী পরিষদের 16ক(2)(গ) দফায় লেখা “খিয়াং,লুসাই ও পাংখোয়া উপজাতীয় হইতে মনোনীত একজন সদস্য”। একই আইনে দুটি বানান বসেছে, আর কোনো দফা বলেনি যে খেয়াং ও খিয়াং একই জাতি। জুমজার্নালের নিজের আর্কাইভে দুটি বানানই চলে — যেমন ‘খেয়াং, চাক, খুমী, বম ও হালাম রূপকথা’ শিরোনামের সংকলন, আবার ‘খিয়াং’ নামের পরিচিতি-লেখা। বাংলাপিডিয়ার ইংরেজি সংস্করণে নাম Khyang, আর সেখানে বলা হয়েছে খিয়াংরা রাঙামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় থাকেন।
পাংখোয়াদের নাম 1989 সালে দুই জেলা আইনেই ছিল ‘পাংখু’, আঞ্চলিক পরিষদ আইনে ‘পাংখো’, 2014-এর পর জেলা আইনে ‘পাংখোয়া’, আর 2019 সালের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তফসিলে ‘পাংখোয়া/পাংখো’। ইংরেজি উইকিপিডিয়া অনুসারে পাংখোয়াদের ভাষার নাম পাংখু — এ তথ্যটি আমাদের পাঁচ ক্ষুদ্রতম জনগোষ্ঠীর লেখায় আছে। 1989 সালের আইনে ‘পাংখু’ বানান কোন উৎস থেকে এসেছিল, তা কোনো নথিতে পাওয়া যায়নি।
বম জাতির নাম বান্দরবানের আইনে 2014 পর্যন্ত ছিল ‘বোম’, আঞ্চলিক পরিষদ আইনে এখনো ‘বোম’। BBS-এর জনশুমারি সারণিতে নাম Bom। ম্রো জাতির নাম বান্দরবানের আইনে বন্ধনীতে বিকল্পসহ — ‘ম্রো (মুরং)’; আঞ্চলিক পরিষদ আইনে কেবল ‘ম্রো’।
2014 সালের সংশোধনী জেলা আইনের বানানগুলোকে মোটামুটি জাতিগুলোর নিজস্ব ব্যবহারের কাছে এনেছে — তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়া, বম। কিন্তু তিনটি জিনিস অপরিবর্তিত থেকে গেছে: রাঙামাটির 2(খ)-র ‘খেয়াং’, আঞ্চলিক পরিষদ আইনের পুরনো বানানগুলো, আর বান্দরবানের ‘ম্রো (মুরং)’। আইনি কাগজে বানানের এই অমিল ব্যবহারিক প্রশ্ন তোলে কিনা — যেমন সনদে কোন বানান লিখতে হবে — তার কোনো প্রকাশিত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
রাঙামাটির আইনের 4(5) ধারা অনুযায়ী কেউ উপজাতীয় কিনা, আর হলে কোন উপজাতির সদস্য, তা স্থির করেন জেলার সার্কেল চিফ। তাঁর সনদ ছাড়া কেউ উপজাতীয় হিসেবে চেয়ারম্যান বা উপজাতীয় সদস্যপদে প্রার্থী হতে পারেন না। 1989 সালের মূল পাঠে এই ক্ষমতা ছিল ডেপুটি কমিশনারের; 1998 সালের সংশোধনী তা সার্কেল চিফকে দেয়।
bdlaws-এর পাদটীকা বলছে, 4(5) ধারায় “সার্কেল চিফ” শব্দগুলো “ডেপুটি কমিশনার” শব্দগুলোর পরিবর্তে বসেছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ (সংশোধন) আইন, 1998 (1998 সনের 9 নং আইন) দিয়ে। রাঙামাটির আইনের 2(ঞ) দফা — সেটিও 1998 সালে যোগ হওয়া — বলে, “‘সার্কেল চীফ’ অর্থ চাকমা চীফ”। খাগড়াছড়ির আইনে সার্কেল চিফ মানে মং চিফ, বান্দরবানের আইনে বোমাং চিফ।
1998 সালে 4(6) নামে একটি উপধারাও যোগ হয়। এটি অ-উপজাতীয়দের জন্য: কেউ অ-উপজাতীয় কিনা, আর হলে কোন সম্প্রদায়ের সদস্য, তা সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার চেয়ারম্যানের দেওয়া সনদের ভিত্তিতে সার্কেল চিফ স্থির করবেন, আর সার্কেল চিফের সনদ ছাড়া কেউ অ-উপজাতীয় সদস্যপদে প্রার্থী হতে পারবেন না।
অর্থাৎ দুই দিকের সনদই শেষ পর্যন্ত সার্কেল চিফের হাতে। 2(খ) দফার বন্ধ তালিকা আর 4(5) ধারার সনদ মিলে একটি কাঠামো তৈরি করে: আইন বলে কোন সাত জাতি, সার্কেল চিফ বলেন কে সেই সাতটির কোনটির সদস্য। সার্কেল চিফের পদ ও ক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আছে সার্কেল চিফ: তিনটি সার্কেল, আর রাজার ক্ষমতা আসলে কতটুকু লেখায়।
একটি জিনিস আইনের পাঠে নেই: তালিকার বাইরের জাতির কেউ সার্কেল চিফের কাছে গেলে তাঁকে কোন সনদ দেওয়া হবে। 4(5) ধারা কেবল বলে কেউ “উপজাতীয় কি না” স্থির হবে; ‘উপজাতীয়’-র অর্থ 2(খ) দফা আগেই সাত নামে বেঁধে দিয়েছে। এই ফাঁক বাস্তবে কীভাবে সামলানো হয়, তার প্রকাশিত কোনো বিবরণ পাওয়া যায়নি।
রাঙামাটির আইনে ‘উপজাতীয়’ শব্দটি অন্তত নয়টি জায়গায় কাজ করে: আসন (4), চেয়ারম্যান পদ (4(4), 5), প্রার্থিতার যোগ্যতা (6), সভার সভাপতিত্ব (25(2)), সচিব নিয়োগ (31), কর্মচারী নিয়োগ (32), জেলা পুলিশ নিয়োগ (62), সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি (66) আর সংসদের আইনে আপত্তি (79)। সব জায়গায় অর্থ একটাই — 2(খ)-র সাত জাতি।
| ধারা | ‘উপজাতীয়’ শব্দটি কী নির্ধারণ করে |
|---|---|
| 4(1)(খ), 4(3) | 20টি উপজাতীয় সদস্যপদ, সাত জাতির মধ্যে নির্দিষ্ট হারে ভাগ |
| 4(1)(ঘ) | তিনজন মহিলা সদস্যের দুজন উপজাতীয়; ব্যাখ্যায় বলা, এঁদের ক্ষেত্রে জাতিভিত্তিক কোটা থাকবে না |
| 4(4), 5 | চেয়ারম্যান উপজাতীয়দের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন; যিনি উপজাতীয় সদস্য হওয়ার যোগ্য, তিনিই চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্য |
| 6(1) | নাগরিক, রাঙামাটির স্থায়ী বাসিন্দা, কোনো উপজাতির অন্তর্ভুক্ত ও 25 বছর বয়সী হলে নিজের উপজাতির আসনে প্রার্থী হওয়া যায় |
| 25(2) | চেয়ারম্যান না থাকলে সভায় সভাপতিত্ব করবেন উপজাতীয় সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত কেউ |
| 31 | পরিষদের সচিব (মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা) নিয়োগে উপজাতীয় কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার |
| 32(2) | তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগে জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার |
| 62(1) | জেলা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ও তার নিচের পদে নিয়োগে উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার |
| 66 | উপজাতীয়দের মধ্যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা উপজাতীয় বিরোধ কারবারি বা হেডম্যান প্রচলিত রীতিতে নিষ্পত্তি করবেন; আপিল সার্কেল চিফ, তারপর বিভাগীয় কমিশনার |
| 79 | সংসদের কোনো আইন জেলার জন্য কষ্টকর বা উপজাতীয়দের জন্য আপত্তিকর হলে পরিষদ সংশোধনের আবেদন জানাতে পারে |
উৎস: রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989 — bdlaws।
এই ছক থেকে বোঝা যায় 2(খ) দফার তালিকা কেবল নির্বাচনের প্রশ্ন নয়। পুলিশ ও কর্মচারী নিয়োগে অগ্রাধিকার, প্রথাগত বিচারের এখতিয়ার — সবখানেই ‘উপজাতীয়’ মানে ওই সাত জাতি। আইনের পাঠে তালিকার বাইরের কোনো জাতির মানুষ এসব অগ্রাধিকারের আওতায় পড়েন না।
66 ধারার প্রথাগত বিচার কারবারি থেকে বিভাগীয় কমিশনার পর্যন্ত কীভাবে যায়, তা আসন ভাগের লেখার ‘প্রথাগত বিচার’ অংশে আছে; এখানে কেবল এটুকু: ধারাটি প্রযোজ্য “রাংগামাটি পার্বত্য জেলার বাসিন্দা এমন উপজাতীয়গণের মধ্যে” বিরোধে।
2014 সালের সংশোধনী শুধু বানান বদলায়নি, অন্তর্বর্তী পরিষদের গঠনও বদলেছে। আগে আইন বলত একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য; 2014-এর পর চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের ভাগ জাতি ধরে লেখা। রাঙামাটির নতুন 16ক(2) দফায় চাকমা 4, মারমা 1, খিয়াং-লুসাই-পাংখোয়া মিলে 1, তঞ্চঙ্গ্যা 1, ত্রিপুরা 1, অ-উপজাতীয় 3 এবং দুজন মহিলা সদস্য।
আমাদের ই-বুক লাইব্রেরির 2010 সালের কপিতে রাঙামাটির 16ক(2) উপধারা এক লাইনের: “একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য সমন্বয়ে সরকার অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করিবে।” কোন জাতি থেকে কতজন, সে কথা ছিল না।
bdlaws-এর বর্তমান পাঠে উপধারাটি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, 2014-এর 4 ধারায় প্রতিস্থাপিত: “একজন চেয়ারম্যান যিনি উপজাতীয় হইবেন ও নিম্নবণির্ত চৌদ্দ জন সদস্য সমন্বয়ে সরকার অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করিবে”। এরপর আটটি দফা। একটি অসংগতি আছে: bdlaws-এর পাঠে আটটি দফার সদস্যসংখ্যা যোগ করলে হয় 13 (4+1+1+1+1+3+1+1), অথচ উপধারার শুরুতে লেখা ‘চৌদ্দ জন’। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের একই উপধারার দফাগুলো যোগ করলে ঠিক 14 হয়। রাঙামাটির মূল সংশোধনী আইনের গেজেট-পাঠ দেখে এই পার্থক্য মেলানো যায়নি।

সংশোধনী কেন আনা হয়েছিল, তার একটি সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায় বান্দরবানের বিলের ‘উদ্দেশ্য ও কারণ-সম্বলিত বিবৃতি’-তে। বিলটি 1 জুলাই 2014 তারিখে সংসদে উত্থাপিত হয়, আর বিবৃতিতে স্বাক্ষর ভারপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং-এর। বিবৃতি বলছে, 24-05-2009 তারিখে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ বিলুপ্ত করে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য নিয়ে অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠিত হয়, আর পরিষদ “চেয়ারম্যানসহ মাত্র ০৫ (পাঁচ) জনে সীমাবদ্ধ হওয়ায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসমূহের কোন প্রতিনিধিত্ব দীর্ঘদিন যাবত বান্দরবন পার্বত্য জেলা পরিষদে নেই।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পরিষদে ইতিমধ্যে 21টি বিভাগ হস্তান্তরিত হয়েছে, যা মাত্র পাঁচজনে দেখাশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
উত্থাপিত বিলটি আর পাস হওয়া আইন এক নয়। বিলে প্রস্তাব ছিল একজন চেয়ারম্যান ও দশজন সদস্য, আর 2(খ) দফায় কেবল একটি শব্দ বদল — ‘খুশী’-র বদলে ‘খুমী’। বিলের অন্তর্বর্তী পরিষদের তালিকায় তখনো পুরনো বানান: ‘তনচৈংগা’, ‘বোম’, ‘পাংখু’। bdlaws-এর বর্তমান পাঠে বান্দরবানের অন্তর্বর্তী পরিষদ চৌদ্দজন সদস্যের, আর তঞ্চঙ্গ্যাঁ, বম, পাংখোয়া — তিনটি বানানই 2(খ) দফাতেও বদলানো। অর্থাৎ সংসদে বিল পাসের পথে সদস্যসংখ্যা বেড়েছে এবং বাকি বানান-সংশোধন যোগ হয়েছে। এই বদল কোন পর্যায়ে — সংসদীয় কমিটিতে না অন্য কোথাও — হয়েছিল, তার নথি পাওয়া যায়নি। রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিল দুটির পাঠও পাওয়া যায়নি।
জেলা পরিষদে নির্বাচন না হওয়ায় এই অন্তর্বর্তী কাঠামোই এখন চালু। বাংলা ট্রিবিউনের 20 আগস্ট 2026 তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী সেদিনের প্রজ্ঞাপনে “রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯ এবং সংশ্লিষ্ট সংশোধনী আইনের আওতায়” একজন চেয়ারম্যান ও 14 জন সদস্য নিয়ে পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়। প্রতিবেদনে কোন সদস্য কোন জাতির আসনে মনোনীত, তা বলা নেই।
1997 সালের 2 ডিসেম্বরের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির খ-খণ্ডের প্রথম ধারা বলে, পরিষদের আইনে বিভিন্ন ধারায় ব্যবহৃত “উপজাতি” শব্দটি বলবৎ থাকবে। চুক্তি 2(খ) দফার জাতি-তালিকায় কোনো বদলের কথা বলেনি; বরং খ-খণ্ডের 4(খ) ধারায় লেখা, 4 ধারার উপধারা 1, 2, 3 ও 4 মূল আইন মোতাবেক বলবৎ থাকবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রাখা চুক্তির পাঠ অনুযায়ী খ-খণ্ডের শুরুতেই দুই পক্ষ তিন জেলার “পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন, 1989” সংশোধনে একমত হয়। তারপর ধারাগুলো:
4(3) উপধারাই আসন-তালিকা, আর তার সাত জাতি 2(খ)-র সাত জাতি। খ-4(খ) ধারা তাই কার্যত জেলা পরিষদের জাতি-কাঠামো 1989 সালের মতোই রেখে দিয়েছে। 1998 সালের সংশোধনী আইন এই ধারাগুলোই বাস্তবায়ন করেছে: 2(কক) দফা যোগ, 4(5)-এ সার্কেল চিফ, 4(6) উপধারা যোগ — আর 2(খ) দফায় হাত দেওয়া হয়নি। চুক্তির ধারা ধরে পূর্ণ বিশ্লেষণ আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997: ধারা ধরে ধরে, আর বাস্তবায়নের হিসাব লেখায়।
চুক্তির ক-খণ্ডের প্রথম ধারাও এই প্রসঙ্গে প্রাসঙ্গিক: দুই পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রামকে “উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল” হিসেবে বিবেচনা করেছে। জেলা পরিষদ আইনের প্রস্তাবনাতেও একই ভাষা — রাঙামাটির আইনের প্রস্তাবনা শুরু হয় “যেহেতু রাংগামাটি পার্বত্য জেলা বিভিন্ন অনগ্রসর উপজাতি অধ্যুষিত” বলে। চুক্তির শব্দ নিয়ে আদিবাসী সংগঠনগুলোর আপত্তি ও রাষ্ট্রের অবস্থান — দুই দিকই উৎসসহ আছে পরিভাষার নথি-কালানুক্রমে।
2(কক) দফার ‘অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা’-র সংজ্ঞা দুই রকম পাঠে পাওয়া যায়। bdlaws-এর বর্তমান পাঠে বৈধ জায়গা-জমি থাকা “বা” সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় সাধারণত বসবাস করা — যেকোনো একটি যথেষ্ট। শান্তিচুক্তি, আঞ্চলিক পরিষদ আইন ও আমাদের আর্কাইভের সংকলিত কপিগুলোতে শব্দটি “এবং” — দুটোই লাগবে।
শব্দটি ছোট, কিন্তু অর্থ আলাদা। ‘বা’ হলে পার্বত্য জেলায় জমি আছে কিন্তু সেখানে থাকেন না এমন কেউও অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা; ‘এবং’ হলে জমি ও বসবাস দুটোই দরকার। এই দফাটি ‘উপজাতীয়’-র সংজ্ঞা নয়, কিন্তু 2(খ)-র ঠিক পাশের দফা, আর ভোটার তালিকা ও অ-উপজাতীয় আসনের প্রশ্নে এর গুরুত্ব আছে।
উৎসভেদে পাঠ এরকম:
| উৎস | শব্দ |
|---|---|
| পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, খ-খণ্ড, ধারা 3 (MoCHTA-র পাঠ) | এবং |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998, ধারা 2(খ) (bdlaws) | এবং |
| রাঙ্গামাটি আইন, 2(কক) — আমাদের ই-বুক লাইব্রেরির 2010 সালের কপি | {এবং}, পাদটীকাসহ |
| খাগড়াছড়ি আইন, 2(কক) — আমাদের ই-বুক লাইব্রেরির 1998 সালের সংশোধিত কপি | এবং |
| রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান আইন, 2(কক) — bdlaws | বা |
রাঙামাটির 2010 সালের কপিতে ‘এবং’ শব্দটি বাঁকা বন্ধনীতে, আর তার পাদটীকা বলছে: রাংগামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ (সংশোধন) (সংশোধন) আইন, 1998 (1998 সনের 23 নং আইন)-এর 2 ধারা মোতাবেক “বা” শব্দটি “এবং” শব্দ দ্বারা প্রতিস্থাপিত। অর্থাৎ ওই কপি অনুযায়ী 1998 সালের 9 নং আইন প্রথমে দফাটি ‘বা’ দিয়ে বসিয়েছিল, আর একই বছরের 23 নং আইন সেটিকে ‘এবং’ করেছে। bdlaws-এর পাঠে এই দ্বিতীয় সংশোধনীর কোনো পাদটীকা নেই।
কোন পাঠটি বলবৎ, সে বিচার এই লেখার কাজ নয়। দুটি পাঠই এখানে তাদের উৎসসহ রাখা হলো। যাঁরা এই দফা উদ্ধৃত করবেন, তাঁরা মূল গেজেট মিলিয়ে নিতে পারেন।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989-এর 2(খ) দফা অনুযায়ী ‘উপজাতীয়’ মানে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত সাত জাতির সদস্য: চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যাঁ, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখোয়া ও খেয়াং। তালিকাটি বন্ধ — এর বাইরের কোনো জাতির নাম সংজ্ঞায় নেই, আর একই সাতটি নাম 4(3) ধারায় 20টি উপজাতীয় আসনের তালিকা হয়ে আসে।
না। দুটি জাতিই 1989 সালের মূল আইনে ছিল, তবে ভিন্ন বানানে — ‘তনচৈংগা’ ও ‘পাংখু’। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, 2014 (2014 সনের 16 নং আইন) এই দুটি শব্দের বদলে ‘তঞ্চঙ্গ্যাঁ’ ও ‘পাংখোয়া’ বসিয়েছে। bdlaws-এর বন্ধনী ও পাদটীকা সেই বানান-বদলই দেখায়, নতুন জাতি যোগ নয়।
আইনের 4(3) ধারা অনুযায়ী 20টি উপজাতীয় সদস্যপদের মধ্যে চাকমা 10, মারমা 4, তঞ্চঙ্গ্যা 2, আর ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখোয়া ও খেয়াং একটি করে। এর বাইরে 10টি অ-উপজাতীয় আসন এবং তিনটি মহিলা আসন আছে, যার দুটি উপজাতীয়; মহিলা আসনে জাতিভিত্তিক কোটা নেই। চেয়ারম্যান হবেন উপজাতীয়দের মধ্য থেকে।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989 (1989 সনের 20 নং আইন)-এর 2(খ) দফায় কেবল তিনটি নাম: চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা, খাগড়াছড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাসরত। 21টি উপজাতীয় আসন ভাগ হয় চাকমা 9, ত্রিপুরা 6, মারমা 6 হারে। জনশুমারি 2022-এ জেলায় তঞ্চঙ্গ্যা 79, ম্রো 18, বম 16 জনসহ আরও কয়েকটি জাতির মানুষ আছেন, যাঁদের নাম তালিকায় নেই।
বারোটি। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989-এর 2(খ) দফায় মারমা, ম্রো (মুরং), ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যাঁ, বম, চাকমা, খুমী, উচাই, চাক, খিয়াং, পাংখোয়া ও লুসাই। 2014 সনের 18 নং আইন চারটি বানান বদলেছে — তনচৈংগা, বোম, খুশী ও পাংখু থেকে বর্তমান রূপে। উচাই নামটি কেবল এই আইনেই আছে।
রাঙামাটি জেলা পরিষদ আইনের 2(খ) দফায় বম ও ম্রো জাতির নাম নেই, আর 2(ক) দফা বলে ‘অ-উপজাতীয়’ অর্থ যিনি উপজাতীয় নহেন। আক্ষরিক পাঠে তাই তাঁরা এই আইনের ‘উপজাতীয়’ শ্রেণিতে পড়েন না। তবে আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998-এর তালিকায় দুটি জাতিই আছে। বাস্তবে তাঁদের কীভাবে গণ্য করা হয়, তার প্রকাশিত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
জনশুমারি 2022-এর রাঙামাটি জেলা রিপোর্টের Table P17 অনুযায়ী জেলার 3,72,875 জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে তালিকার সাত জাতির 3,70,941 জন। তালিকার বাইরে নাম ধরে আছেন রাখাইন 568, বম 441, ম্রো 258, খুমি 44, গুর্খা 43, চাক 41 ও সাঁওতাল 35 জন; ‘অন্যান্য’ হিসেবে আরও 405 জন।
রাঙামাটির আইনের 4(5) ধারা অনুযায়ী জেলার সার্কেল চিফ — রাঙামাটিতে চাকমা চিফ — স্থির করেন কেউ উপজাতীয় কিনা এবং কোন উপজাতির সদস্য। তাঁর সনদ ছাড়া কেউ উপজাতীয় হিসেবে চেয়ারম্যান বা সদস্যপদে প্রার্থী হতে পারেন না। 1989 সালে এই ক্ষমতা ছিল ডেপুটি কমিশনারের; 1998 সনের 9 নং আইন তা বদলায়।
আইনের পাঠে দুটি বানানই আছে। রাঙামাটির আইনের 2(খ) ও 4(3)(ছ) দফায় ‘খেয়াং’, অথচ একই আইনের 2014 সালে বসানো 16ক(2)(গ) দফায় ‘খিয়াং’। বান্দরবানের আইন ও আঞ্চলিক পরিষদ আইনে ‘খিয়াং’, জনশুমারি 2022-এও খিয়াং। বাংলাপিডিয়ার ইংরেজি সংস্করণে নাম Khyang। কোনো আইন আলাদা করে বলেনি যে দুটি বানান একই জাতির।
না। 1997 সালের চুক্তির খ-খণ্ডের ধারা 1 বলে, পরিষদের আইনে ব্যবহৃত ‘উপজাতি’ শব্দ বলবৎ থাকবে, আর ধারা 4(খ) বলে 4 ধারার উপধারা 1 থেকে 4 মূল আইন মোতাবেক থাকবে — যার মধ্যে আসনের জাতি-তালিকাও আছে। চুক্তি নতুন করে যোগ করিয়েছে ‘অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা’-র সংজ্ঞা আর সনদের দায় ডেপুটি কমিশনার থেকে সার্কেল চিফে সরিয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998-এর 2(গ) দফায় এগারোটি নাম: চাকমা, মারমা, তনৈচংগা, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখো, খিয়াং, ম্রো, বোম, খুমী ও চাক, যাঁরা পার্বত্য জেলাসমূহে স্থায়ীভাবে বসবাসরত। এখানে কোনো একটি জেলার শর্ত নেই। এই আইনের বানান 2014 সালে বদলানো হয়নি, আর উচাই নামটি এখানে নেই।
রাঙামাটির আইনের 16ক(2) দফা, যা 2014 সালে প্রতিস্থাপিত, বলে উপজাতীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে চাকমা 4, মারমা 1, খিয়াং-লুসাই-পাংখোয়া মিলে 1, তঞ্চঙ্গ্যা 1, ত্রিপুরা 1, অ-উপজাতীয় 3, এবং একজন উপজাতীয় ও একজন অ-উপজাতীয় মহিলা সদস্য। উপধারায় ‘চৌদ্দ জন’ লেখা থাকলেও bdlaws-এর পাঠে দফাগুলোর যোগফল 13। 2014-এর আগে ছিল চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, রাঙ্গামাটি
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।