Last updated Oct 19th, 2026
0

পর্যটন শুরুর আগে, অর্থাৎ 2014 সালে সড়ক পৌঁছানোর আগে, সাজেক উপত্যকার পাহাড়চূড়ার রুইলুই, কংলাক ও হামারি পাড়ায় থাকতেন মূলত লুসাই, পাংখোয়া ও ত্রিপুরা পরিবার; বাংলা উইকিপিডিয়া চাকমাদের নামও যোগ করে। রুইলুই পাড়া বসেছিল 1885 সালে বলে bdnews24-এর 2016 সালের প্রতিবেদন জানায়, তবে কোন পাড়ায় কোন জনগোষ্ঠী সংখ্যায় বেশি, আর হেডম্যান কোন জনগোষ্ঠীর, তা নিয়ে উৎসগুলো একমত নয়। সাজেক কারা থাকে, রুইলুই পাড়া কবে বসেছিল, এই দুই প্রশ্নের উত্তর তাই এক বাক্যে দেওয়া যায় না; এই লেখা উৎস ধরে ধরে সেই ইতিহাস সাজিয়েছে।
অক্টোবর 2007। সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, দ্য ডেইলি স্টার যাঁর নাম ছেপেছিল L Thanga Pankhua, দুজন ত্রিপুরা ইউপি সদস্যকে নিয়ে জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদে খাদ্যসহায়তার আবেদন জমা দিয়েছেন। বাঁশে ফুল এসেছে, ইঁদুর খেয়ে ফেলেছে জুমের ধান, আর লংকর, বেটলিং, রুইলুই, তুইচুইসহ সাজেকের ছয় মৌজায় প্রায় 3,500 পরিবার খাবারের অভাবে। পর্যটকের চাঁদের গাড়ি তখনো এই পাহাড়ে ওঠেনি। আজ যেখানে রিসোর্টের সারি, সেই রুইলুই তখন খাদ্যসংকটের তালিকার একটি মৌজার নাম মাত্র।
সাজেক নিয়ে আমাদের আর্কাইভে দুটি লেখা পর্যটনের দিক থেকে কথা বলেছে: সাজেকের ট্যুরিজম নিয়ে 2020 সালের একটি প্রবন্ধ, আর পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটনে কার জমি, কার আয়, তা নিয়ে লেখাটির সাজেক অংশ, যেখানে রিসোর্টের সংখ্যা, পানির সংকট আর 2025 সালের আগুনের হিসাব আছে। এই লেখা সেগুলোর পুনরাবৃত্তি নয়। এখানে প্রশ্ন একটাই: রিসোর্ট আসার আগে এই পাহাড়ে কারা ছিলেন, কবে থেকে, আর তাঁদের সংখ্যা কেন কমেছে।
এই লেখায় যা আছে
সাজেক উপত্যকার পাড়াগুলোতে লুসাই, পাংখোয়া ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বাস, এ কথায় প্রায় সব উৎস একমত। মতভেদ দুই জায়গায়: চাকমা ও মারমাদের নাম তালিকায় থাকবে কি না, আর কোন পাড়ায় কারা সংখ্যায় বেশি। নিচের ছকে আটটি উৎস যা লিখেছে, তা হুবহু অর্থে পাশাপাশি রাখা হলো।
| উৎস ও সাল | রুইলুই পাড়া | কংলাক পাড়া | সাজেক উপত্যকা সাধারণভাবে |
|---|---|---|---|
| bdnews24, জানুয়ারি 2016 | বেশিরভাগ ত্রিপুরা ও লুসাই; 1885 সালে প্রতিষ্ঠিত | লুসাই ও ত্রিপুরা | — |
| প্রথম আলো, আগস্ট 2019 | প্রায় 1,720 ফুট উঁচু | পাহাড়টি 1,800 ফুট | লুসাই, পাংখোয়া ও ত্রিপুরা |
| প্রথম আলো, সেপ্টেম্বর 2019 | — | লুসাই ও ত্রিপুরা; সাজেকের শেষ গ্রাম | — |
| দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, জুন 2021 | — | প্রধানত লুসাই | লুসাইদের পাশাপাশি ত্রিপুরা, পাংখোয়া ও চাকমা |
| Asian Review of Social Sciences-এর গবেষণা, 2023 | পর্যটন এলাকা প্রধানত ত্রিপুরা-অধ্যুষিত; লুসাই পরিবার মাত্র 30–35টি | প্রধানত লুসাই | ত্রিপুরা, পাংখোয়া ও চাকমাও আছেন |
| বাংলা উইকিপিডিয়া (সাজেক উপত্যকা) | 1880 ও 1885, একই নিবন্ধে দুই সাল | 1,800 ফুট | চাকমা, লুসাই, পাংখোয়া ও ত্রিপুরা |
| বাংলা উইকিপিডিয়া (কংলাক পাহাড়) | — | ত্রিপুরা ও লুসাই; কমলাক পাড়া নামেও পরিচিত | — |
| ইংরেজি উইকিপিডিয়া (Sajek Valley) | উপত্যকার প্রবেশমুখে | শেষ প্রান্তে, পাহাড়চূড়ায় | চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, পাংখোয়া, লুসাই ও অন্যান্য |
ছকটি থেকে দুটি কথা বেরিয়ে আসে। প্রথমত, কংলাক পাড়াকে পাঁচটি উৎস লুসাই অথবা লুসাই-ত্রিপুরা পাড়া বলেছে, কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইটের গ্রামতালিকায় কংলাক নামে আলাদা করে “কমলাক পাংখোয়া পাড়া” আর “কমলাক ত্রিপুরা পাড়া” আছে, লুসাই নামের কোনো পাড়া নেই (নিচে ত্রিপুরা পাড়া অংশে সংখ্যাসহ)। দ্বিতীয়ত, রুইলুই নিয়ে 2016 সালের প্রতিবেদন ত্রিপুরা ও লুসাইকে সমান রেখেছে, আর 2023 সালের গবেষণা বলছে পর্যটন এলাকায় ত্রিপুরারাই বেশি, লুসাই পরিবার হাতে গোনা। দুটি তথ্য পরস্পরবিরোধী নয়; সংখ্যার ফারাকটা হয়তো সময়ের ফারাক। কিন্তু কোনো পাড়ার জাতিভিত্তিক গণনা কোনো সরকারি উৎসে পাওয়া যায়নি।
ইংরেজি উইকিপিডিয়ার জনসংখ্যা-অংশের সূত্র দ্য ডেইলি অবজারভারের 2017 সালের একটি ভ্রমণ-প্রতিবেদন; মারমাদের নাম কেবল সেখান থেকেই এসেছে। চাকমাদের কথা বাংলা উইকিপিডিয়া, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও 2023-এর গবেষণা তিনটিতেই আছে, তবে কোনোটিই রুইলুই বা কংলাকের ভেতরের কোনো চাকমা পাড়ার নাম দেয়নি। সাজেক ইউনিয়নের বড় অংশ যে চাকমা-অধ্যুষিত, তা শুমারির সংখ্যায় স্পষ্ট (শুমারির অংশ দেখুন); কিন্তু সেই গ্রামগুলো উপত্যকার পর্যটন এলাকা থেকে অনেক নিচে, বাঘাইহাট-মাচালং অঞ্চলে।
রুইলুই পাড়ার প্রতিষ্ঠা-সাল হিসেবে দুটি সংখ্যা ঘোরে: 1885 ও 1880। bdnews24-এর 29 জানুয়ারি 2016-এর প্রতিবেদন 1885 লিখেছে, ইংরেজি উইকিপিডিয়া সেটিকেই “Settlement 1885” হিসেবে বসিয়েছে, আর বাংলা উইকিপিডিয়ার একই নিবন্ধে প্রথম অনুচ্ছেদে 1880, ইতিহাস-অংশে 1885। কোনো উৎসই এই সালের পেছনে কোনো দলিল, জরিপ বা মৌখিক বয়ানের নাম দেয়নি।
bdnews24-এর প্রতিবেদনে বাক্যটি এসেছে কংলাক পাহাড়ের একটি ছবির ক্যাপশনের ঠিক পরে, “১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রামটিই” দিয়ে শুরু হয়ে রুইলুই পাড়ার রিসোর্টের বর্ণনায় চলে গেছে; প্রসঙ্গ থেকে বোঝা যায় গ্রামটি রুইলুই। বাংলা উইকিপিডিয়ার 1880 সালের দাবির পেছনে কোনো আলাদা সূত্র নেই। 1885 সালের দাবিটিও তাই কার্যত একটি সংবাদ-প্রতিবেদনের একটি বাক্যের ওপর দাঁড়িয়ে [যাচাই প্রয়োজন]।
এই সালটির সঙ্গে সমসাময়িক ঔপনিবেশিক নথি মেলানো যায় কেবল পরোক্ষভাবে। আর. এইচ. স্নেইড হাচিনসনের 1906 সালের An Account of the Chittagong Hill Tracts অনুযায়ী কাসালং সংরক্ষিত বন গঠিত হয় 1 মার্চ 1881-এ, আর লুসাই পাহাড়ে ব্রিটিশ সেনা স্থায়ীভাবে ঢোকে 1890 সালে। অর্থাৎ 1880-এর দশকে এই সীমান্ত-পাহাড় ছিল দুই প্রশাসনের মাঝখানের এলাকা; সেখানে কোনো পাড়া কবে বসল, তার সরকারি হিসাব রাখার মতো কোনো দপ্তর তখন এই চূড়ায় ছিল না। হাচিনসনের বইয়ে “Sajek” বা “Ruilui” নামটি পাওয়া যায় না।
“রুইলুই” নামের অর্থ বা কোন ভাষার শব্দ, তা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। কংলাক নিয়ে বাংলা উইকিপিডিয়া একটি স্থানীয় ব্যাখ্যা দিয়েছে: পাড়ার পাশে বড় কমলাবাগান থাকায় এটি “কমলাক পাড়া” নামেও পরিচিত, আর পাহাড়ের নিচের কংলাক ঝরনার নাম থেকে পাহাড়ের নাম। ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইটও গ্রামতালিকায় “কমলাক” বানানই লিখেছে। ব্যাখ্যাটির পেছনে কোনো ভাষাতাত্ত্বিক সূত্র নেই [যাচাই প্রয়োজন]।
ব্রিটিশ আমলের যে তিনটি ঘটনা সাজেকের আজকের মানচিত্র তৈরি করেছে, সেগুলো হলো 1871–72 ও 1889–90-এর লুসাই অভিযান, 1881 সালে কাসালং সংরক্ষিত বন ঘোষণা, আর 1898 সালে লুসাই পাহাড়কে আসামের অধীনে একীভূত করা। হাচিনসনের 1906 সালের বিবরণ তিনটিরই সাল দেয়; সাজেক নামটি সেখানে আলাদা করে নেই।
হাচিনসন লিখেছেন, লুসাইদের ধারাবাহিক হামলার পর ভারত সরকার দুটি সেনাদল পাঠায়: একটি কাছাড় থেকে জেনারেল বুশিয়ারের অধীনে, অন্যটি চট্টগ্রাম থেকে জেনারেল ব্রাউনলোর অধীনে। চট্টগ্রাম দলের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকর্তা ছিলেন ক্যাপ্টেন লুইন। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার লুসাই অভিযান নিবন্ধ অনুযায়ী প্রথম হামলাটি হয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রামেই, 31 ডিসেম্বর 1870-এ। 1888 সালে আবার সংঘাত বাধে; 1890 সালে দণ্ডমূলক অভিযান লুসাই দেশে ঢোকে “and from that time forward the country was occupied by a military force”। উত্তর অংশ যায় আসামের প্রশাসনে, দক্ষিণ অংশ বাংলার; 1894 সালে শেষ সেনা সরে, আর 1898 সালে দুই জেলা আসামের অধীনে একত্র হয়।
জুমজার্নালের আর্কাইভে সংরক্ষিত লুসাই জনগোষ্ঠীর প্রথা ও রীতিনীতি নিয়ে লেখাটি ঘটনাগুলোকে লুসাইদের দিক থেকে দেখে: 1871 সালের অক্টোবরে এবং 1892 সালের “সর্ববৃহৎ লুসাই অভিযানের” পর পার্বত্য চট্টগ্রামে যাযাবর জীবনযাপনকারী লুসাইদের অনেকে লুসাই হিলস ডিস্ট্রিক্টে, অর্থাৎ আজকের মিজোরামে, স্থায়ী বসতি গড়েন। হাচিনসন ও আর্কাইভের লেখাটি দ্বিতীয় অভিযানের সাল নিয়ে আলাদা: হাচিনসনে 1889–90 ও 1890, আর্কাইভে 1892।
কাসালং সংরক্ষিত বন নিয়ে হাচিনসনের ছক স্পষ্ট: আয়তন 736 বর্গমাইল, গঠনের তারিখ 1 মার্চ 1881, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচটি সংরক্ষিত বনের মধ্যে সবচেয়ে বড়। 2017 সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর Small Area Atlas দেখায়, সাজেক ইউনিয়নের 4,37,760 একরের মধ্যে 3,86,560 একরই “Kasalong R.F. (Part)”, অর্থাৎ সংরক্ষিত বনের অংশ। ইউনিয়নের প্রায় 88 শতাংশ জমি তাই আইনের চোখে বনভূমি। 2008 সালে সাজেকে আগুনের পর তথ্যানুসন্ধান দলের প্রতিবেদন নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের লেখায় এ কথাও আছে যে এখানকার পাহাড়িরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রথাগত রীতিতে বাস করছেন, কোনো সরকারি দলিল ছাড়াই।
হাচিনসন আরও একটি জায়গার কথা লিখেছেন, যা সাজেকে যাওয়ার পথের সঙ্গে জড়িত। ইংরেজি উইকিপিডিয়া অনুযায়ী সাজেকে যেতে মাইনী রেঞ্জ ও মাইনী নদী পার হতে হয়। হাচিনসন সেই মাইনী নদীর তীরে, কাসালং বনের ভেতরে, একটি ধ্বংসাবশেষ দেখেছিলেন, যেটিকে স্থানীয়ভাবে একসময়ের “Tipera” রাজ্যের রাজধানী বলা হতো: একটি বড় বাড়ির ভিত, চার-পাঁচটি বড় পুকুর আর পোড়া ইটের ঘাট। তাঁর অনুমান, এখানে একসময় ত্রিপুরাদের বড় বসতি ছিল। সাজেকের আজকের ত্রিপুরা পাড়াগুলোর সঙ্গে এই ধ্বংসাবশেষের কোনো সম্পর্ক কোনো উৎস দেখায়নি।
প্রশাসনিকভাবে সাজেক ইউনিয়ন ছয়টি মৌজা আর কাসালং সংরক্ষিত বনের একটি অংশ নিয়ে গঠিত: বেটলিং, কংলাক, লংকর, রুইলুই, শিয়ালদাইলুই ও তুইচুই। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর Small Area Atlas: Rangamati Zila (জুন 2017), যার সংখ্যাগুলো 2011 সালের আদমশুমারির, প্রতিটি মৌজার আয়তন, খানা ও জনসংখ্যা দেয়।
| মৌজা (BBS-এর বানান) | আয়তন (একর) | খানা | জনসংখ্যা (2011) | আর্কাইভের ছকে মৌজা নম্বর |
|---|---|---|---|---|
| বেটলিং (Betling) | 12,800 | 214 | 1,074 | 171 |
| কংলাক (Kanglak) | 6,400 | 468 | 2,508 | 168 |
| লংকর (Lengker) | 12,800 | 372 | 1,840 | 156 |
| রুইলুই (Ruilui) | 6,400 | 306 | 1,657 | 167 |
| শিয়ালদাইলুই (Sealdailui) | 6,400 | 415 | 2,199 | 169 (সিয়াল দাই) |
| তুইচুই (Tuichui) | 6,400 | 586 | 3,047 | 170 |
| কাসালং সংরক্ষিত বন (অংশ) | 3,86,560 | 3,100 | 15,243 | — |
| সাজেক ইউনিয়ন মোট | 4,37,760 | 5,461 | 27,568 |
শেষ কলামের নম্বরগুলো আসছে আমাদের আর্কাইভের পাংখোয়া জাতির আদ্যোপান্ত লেখার ছক থেকে; এগুলো রাজস্ব-মৌজার নম্বর, BBS-এর জিওকোড (575, 366 ইত্যাদি) নয়। 167 নম্বর রুইলুই মৌজার উল্লেখ The Business Standard-এর 2025 সালের প্রতিবেদনেও আছে, তাই অন্তত এই নম্বরটি দুই উৎসে মেলে।
ছকের সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো সংখ্যা হলো, 2011 সালে ইউনিয়নের 27,568 জনের 15,243 জন, অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি, থাকতেন সংরক্ষিত বনের অংশে, ছয়টি মৌজার বাইরে। রুইলুই মৌজা ছিল ছয়টির মধ্যে জনসংখ্যায় পঞ্চম: 306 খানা, 1,657 জন। মৌজার সীমানা মানে পাড়ার সীমানা নয়; একটি মৌজায় একাধিক জনগোষ্ঠীর একাধিক পাড়া থাকতে পারে। মৌজা ও হেডম্যান ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে, তা নিয়ে আমাদের লেখা মৌজা হেডম্যান ও কার্বারি আসলে কী কী করেন।
দ্য ডেইলি স্টারের অক্টোবর 2007-এর প্রতিবেদনে সাজেকের যে মৌজাগুলোর নাম এসেছিল, সেগুলো লংকর, বেটলিং, রুইলুই, তুইচুই ও “Haldalui”; শেষ নামটি সম্ভবত শিয়ালদাইলুইয়ের ভিন্ন বানান [যাচাই প্রয়োজন]। প্রতিবেদন মৌজার সংখ্যা ছয় বললেও নাম দিয়েছে পাঁচটির। 2023 সালের গবেষণা আবার বলছে সাজেক ইউনিয়নে আটটি মৌজায় আটজন হেডম্যান। BBS-এর অ্যাটলাস ছয়টি মৌজা আর এক খণ্ড সংরক্ষিত বন গোনে; আটের হিসাব কোন মৌজাগুলো নিয়ে, গবেষণাপত্রে তা বলা নেই।
লুসাইরা পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে ছোট জনগোষ্ঠী; 2022 সালের শুমারিতে সারা দেশে 380 জন, রাঙামাটি জেলায় 147 জন। আমাদের আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী তাঁদের মূল বসতি রাঙামাটি সদর ও বাঘাইছড়ির সাজেক উপত্যকায়। সাজেকে লুসাই পরিবার একসময় 200-র বেশি ছিল বলে 2023 সালের গবেষণা জানায়; গবেষণার সময় ছিল 30–35টি, বাকিরা মূলত ভারতের মিজোরামে চলে গেছেন।
লুসাইদের সংখ্যা নিয়ে উৎসগুলো এক জায়গায় আসে না, কারণ প্রত্যেকে আলাদা সময়ের আলাদা গণনা উদ্ধৃত করে:
কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে উৎসগুলো দুই রকম কথা বলে। আর্কাইভের লেখা উনিশ শতকের লুসাই অভিযান আর তার পরের প্রতিকূলতাকে কারণ বলেছে। 2023 সালের গবেষণা ও আজকের পত্রিকার 2026 সালের একটি ভ্রমণ-প্রতিবেদন বলছে সুযোগ-সুবিধার অভাব, আর উন্নত শিক্ষা, চিকিৎসা ও নাগরিক সুবিধার টানে মিজোরামে চলে যাওয়ার কথা। প্রথম আলো 2025 সালে লিখেছে, সাজেক “একসময় লুসাই–অধ্যুষিত ছিল”, এখন বহু পরিবার মিজোরামে অভিবাসন করেছে। একই প্রতিবেদন রুইলুই ও কংলাক পাড়াকে লুসাইদের “প্রাচীন বাসস্থান” বলেছে। কোন বছরে কতটি পরিবার গেছে, তার কোনো তালিকা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
লুসাইদের সীমান্তজীবন নিয়ে একটি একাডেমিক কাজের সন্ধান মেলে: আজিজুল রাসেলের “Experiencing the Border: The Lushai People and Transnational Space”, যা Amsterdam University Press-এর Borders and Mobility in South Asia and Beyond (2018) বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়। প্রকাশকের সারাংশ অনুযায়ী অধ্যায়টি সাজেকের লুসাইদের নিয়ে, আর এর মূল যুক্তি হলো লুসাইরা দৈনন্দিন জীবনে সীমান্তের কড়াকড়িকে পাশ কাটিয়ে মিজোরামের লুসাইদের সঙ্গে একটি জাতিগত ঐক্য বজায় রাখেন। অধ্যায়ের পূর্ণ পাঠ উন্মুক্ত নয়, তাই এর ভেতরের সংখ্যা এখানে ব্যবহার করা হয়নি।
আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী ব্রিটিশ শাসনের আগে লুসাই সমাজে বিচার ও শাসন চলত সর্দার বা “লাল”-এর কর্তৃত্বে। তাঁকে সাহায্য করতেন উপা (পরামর্শক), পুইথিয়াম (পুরোহিত), জালেন, রামহুয়ালতু (ভূমি বিশেষজ্ঞ), টলাংআউ (ঘোষক) আর থিরদেং (কামার)। পরে 1900 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশনে হেডম্যান, কার্বারি ও সার্কেল চিফের তিন স্তরের ব্যবস্থা আসে। একই লেখা বলছে, লুসাইরা পারিবারিক বিরোধ মেটাতে মিজোরামে প্রচলিত “মিজৌ হ্লাম দান” (1956, সংস্কার 1960) অনুসরণ করেন। সীমান্তের ওপারের সঙ্গে এই আইনি যোগসূত্রটি রাসেলের অধ্যায়ের “সীমান্ত-পেরোনো ঐক্য”-র যুক্তির সঙ্গে মেলে।
প্রথম আলোর ডিসেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন আরেকটি প্রতিষ্ঠানের নাম দেয়: “জলবুক”, এমন একটি ঘর যেখানে লুসাই পুরুষেরা অস্ত্র হাতের কাছে রেখে থাকতেন, যাতে যেকোনো মুহূর্তে লড়াইয়ে যোগ দেওয়া যায়। কৌতূহলের বিষয়, bdnews24-এর 2016 সালের প্রতিবেদনে কংলাক পাহাড়ের গোড়ার একটি কটেজের নামও “জলবুক ইকো কটেজ”। নামটি কেন বা কে বেছে নিয়েছিলেন, প্রতিবেদনে তা নেই।
লুসাইদের নামের অর্থ নিয়েও দুই ব্যাখ্যা আছে। আজকের পত্রিকা লিখেছে “লু” মানে মাথা, “সাই” মানে লম্বা; হাচিনসন জানান এই ব্যাখ্যাটি মেজর শেক্সপিয়ারের, আর লুইন মনে করতেন শব্দটি এসেছে “লু” (মাথা) আর কাটা অর্থের একটি ক্রিয়ামূল থেকে। হাচিনসন নিজে দুটির কোনোটিই মানেননি; তাঁর মতে নামটি “সাইলু” গোত্রনামের অক্ষর উল্টে তৈরি।
সাজেক ইউনিয়নে পাংখোয়াদের অন্তত আটটি পাড়ার নাম আমাদের আর্কাইভে আছে: নিউ লংকর, ওল্ড লংকর, মামোয়াম, ছিঃপুই, চিঃপুই, লুনতিয়ান, থাংনাং ও জৌপুই। পাংখোয়া জাতির আদ্যোপান্ত লেখাটি জানায়, পাংখোয়ারা আদিকাল থেকে উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় বসতি করতে পছন্দ করেন; সাজেকের পাড়াগুলোর অবস্থান সেই কথার সঙ্গে মেলে।
একই লেখার শিক্ষা-অংশে একটি বাক্য সাজেকের ভূগোলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: তথ্য নেওয়া হয়েছিল “সাজেক ইউনিয়নের নিউ লংকর, ওল্ড লংকর, মামোয়াম বা কংলাক” থেকে। অর্থাৎ আর্কাইভের লেখক মামোয়াম পাড়া আর কংলাককে একই জায়গা বা একই এলাকা হিসেবে লিখেছেন। আবার একই লেখার মৌজা-ছকে “মা মুয়াম” পাড়া বসানো হয়েছে 167 নম্বর রুইলুই মৌজায়, আর কংলাক মৌজায় (168) বসানো হয়েছে “ছিপ পুই” পাড়া। দুটি জায়গায় মামোয়ামের অবস্থান তাই দুই রকম; কোনটি ঠিক, লেখাটি থেকে মেলানো যায়নি।
ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইটে (তথ্য হালনাগাদ অক্টোবর 2015) “কমলাক পাংখোয়া পাড়া” নামে একটি গ্রাম আছে, 15 পরিবার, 83 জন। ওল্ড লংকরে 32 পরিবার (149 জন), নিউ লংকরে 17 পরিবার (87 জন)। একই ওয়েবসাইটের হেডম্যান-তালিকায় (নভেম্বর 2015) ওল্ড লংকর ও থাংনাং পাড়ার দুজন হেডম্যানের নামের শেষে পাংখোয়া পদবি আছে।
আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী পাংখোয়াদের মধ্যে খ্রিষ্টধর্ম প্রচার শুরু হয় 1943 সালের দিকে, যখন ভারতের নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া জেনারেল মিশন মিজোরাম থেকে দুজন লুসাই পালককে পাঠায়। তাঁরা প্রচার করতেন লুসাই ভাষায়, আর মিশনের প্রথম স্কুলে পাংখোয়ারা লুসাই ভাষা শিখতেন। লেখার ভাষায়, এঁদের কাজের ফলে “সাজেকের দিকে ও দুম্বা পাহাড়ের দিকে পাঁচ হাজারেরও বেশি পাংখোয়া খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে”, আর তাঁদের অনেকে 1943 থেকে 1960 সালের মধ্যে মিজোরামে চলে যান।
সাজেকের পাংখোয়া ও লুসাই ইতিহাস তাই আলাদা করে পড়া কঠিন: একই মিশন, একই ভাষা, একই সীমান্তের ওপারে যাওয়া। আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী লেখাটি উইকিপিডিয়া থেকে একটি অসামঞ্জস্যের কথা জানায়: লুসাইরা পাংখো ভাষা বোঝেন না, কিন্তু পাংখোয়ারা লুসাই ভাষা বোঝেন। মিশনের ইতিহাস এর একটি সম্ভাব্য পটভূমি, তবে কোনো উৎস দুটিকে সরাসরি যুক্ত করেনি।
পাংখোয়াদের সংখ্যাও তিন রকম সূত্রে তিন রকম। হাচিনসন লিখেছেন, ক্যাপ্টেন লুইন 1865 সালে বনযোগী ও পাংখোয়া দুই জনগোষ্ঠী মিলিয়ে 3,000 জনের হিসাব দিয়েছিলেন, অথচ 1901 সালের শুমারিতে দুটি মিলে 1,680 জন, যার মধ্যে পাংখোয়া মাত্র 144। আর্কাইভের লেখা 1,680 সংখ্যাটিকে পাংখোয়াদের মোট সংখ্যা হিসেবে লিখেছে। 1991 সালের শুমারিতে পাংখোয়া 3,227 জন, যার 608 জন বাঘাইছড়ি উপজেলায় (আর্কাইভ); 2022 সালে সারা দেশে 1,857, রাঙামাটিতে 1,398 (BBS)। জেলা-প্রতিবেদনের উপজেলাভিত্তিক ছকে বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাংখোয়া 117 জন; 1991 সালের 608 জনের সঙ্গে তুলনা করলে সংখ্যাটি পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমেছে, যদিও দুই শুমারির গণনা-পদ্ধতি এক কি না, তা কোনো উৎস বলেনি। বাংলাপিডিয়া পাংখোয়াদের আবাস হিসেবে সাজেক উপত্যকা থেকে বান্দরবানের রুমা পর্যন্ত এলাকার কথা বলে।
ধর্ম নিয়েও একটি অমিল লিখে রাখা দরকার: আর্কাইভের লেখা বলছে এখন সব পাংখোয়া খ্রিষ্টধর্ম পালন করেন, আর বাংলাপিডিয়ার বাংলা নিবন্ধ বলছে পাংখোয়ারা নিজেদের বৌদ্ধ বলে দাবি করেন।
সাজেকের উঁচু অংশে ত্রিপুরাদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি নথিভুক্ত হয়েছে সাম্প্রতিক উৎসে। 2023 সালের গবেষণা বলছে পর্যটন এলাকা “mainly populated by Tripura”। ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইটে (অক্টোবর 2015) 6 নম্বর ওয়ার্ডে তিনটি ত্রিপুরা পাড়ার নাম আছে: “কমলাক ত্রিপুরা পাড়া” (22 পরিবার, 132 জন), “ফাইলেং ত্রিপুরা পাড়া” (13 পরিবার, 77 জন) ও “গনেকা ত্রিপুরা পাড়া” (17 পরিবার, 91 জন)। একই ওয়েবসাইটের হেডম্যান-তালিকায় 9 নম্বর ওয়ার্ডের শিয়ালদাইয়ে একজন ত্রিপুরা হেডম্যান, আর সেই ওয়ার্ডের প্রায় সব কার্বারির পদবি ত্রিপুরা।
রুইলুইয়ের তিনটি পাড়ার হিসাবও একই ওয়েবসাইটে আছে, তবে জনগোষ্ঠীর নাম ছাড়া: উত্তর রুইলুই পাড়া 32 পরিবার (170 জন), রুইলুই হেডম্যান পাড়া 19 পরিবার (84 জন), দক্ষিণ রুইলুই পাড়া 44 পরিবার (192 জন)। তিনটি মিলিয়ে 95 পরিবার, 446 জন। পর্যটন পুরোদমে শুরুর ঠিক পরের এই হিসাবটি, অক্টোবর 2015-এর, রুইলুই পাড়ার আকার বোঝার মতো একমাত্র সরকারি সংখ্যা।
2020 সালের গোড়ায় সাজেক ইউনিয়নের কয়েকটি ত্রিপুরা গ্রামে হামের প্রাদুর্ভাব হয়। The Business Standard-এর 7 এপ্রিল 2020-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 200-র বেশি শিশু আক্রান্ত হয়, 16 ফেব্রুয়ারি থেকে 31 মার্চের মধ্যে 9 শিশুর মৃত্যু হয়, আর পুরো ইউনিয়নের প্রায় 50,000 মানুষের জন্য মাচালং বাজারে একটিমাত্র কমিউনিটি ক্লিনিক ছিল, তাতেও চিকিৎসক নেই। আমাদের ত্রিপুরা জাতির আদ্যোপান্ত লেখায় আগেই লেখা ছিল, বাঘাইছড়ি উপজেলায় দুই-তৃতীয়াংশ ত্রিপুরা গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই।
2023 সালের গবেষণা ত্রিপুরা ও লুসাইদের সম্পর্ক নিয়েও একটি পর্যবেক্ষণ দেয়: প্রকাশ্য সংঘাত নেই, কিন্তু পারস্পরিক আস্থার অভাব আছে। ত্রিপুরারা মনে করেন লুসাইরা ও তাঁদের হেডম্যানদের কারণে তাঁরা অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত; লুসাইরা আবার মনে করেন চাকমাদের মতো প্রভাবশালী জনগোষ্ঠীর তুলনায় তাঁরাই বেশি বঞ্চিত। একই গবেষণায় একজন বাঙালি ব্যবসায়ীর বয়ান আছে যে একজন ত্রিপুরা ইউপি সদস্য নির্বাচিত হলে লুসাইরাই প্রথমে মালা নিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।
হামারি পাড়া সাজেক উপত্যকার তিনটি পাড়ার একটি বলে তিনটি উৎস নাম নিয়েছে: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস (2021), বাংলা উইকিপিডিয়া, আর 2023 সালের গবেষণা, যা নিজেই ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস উদ্ধৃত করেছে। ইংরেজি উইকিপিডিয়া একে “দুর্গম বসতিগুলোর একটি” বলেছে। পাড়াটি কোথায়, কবে বসেছে, কারা থাকেন, তা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইটের প্রায় 150টি গ্রামের তালিকায় হামারি নামে কোনো গ্রাম নেই; BBS-এর মৌজা তালিকাতেও এই নাম নেই। হতে পারে তালিকায় পাড়াটি অন্য নামে আছে, হতে পারে নামটি স্থানীয় মুখের নাম। বাংলা উইকিপিডিয়ার সাজেক-নিবন্ধে হামারির কথা যে বাক্যে আছে, তার সূত্র হিসেবে bdnews24-এর 2016 সালের প্রতিবেদন দেওয়া, কিন্তু সেই প্রতিবেদনে হামারি নামটি নেই। অর্থাৎ হামারি পাড়া নিয়ে প্রাচীনতম যাচাইযোগ্য লিখিত উল্লেখ আপাতত 2021 সালের একটি সংবাদ-ফিচার [যাচাই প্রয়োজন]।
রুইলুই মৌজার হেডম্যানকে 2025 সালের The Business Standard ও প্রথম আলো লিখেছে লুসাই (Lal Thanga Lusai, লালথাঙ্গা লুসাই)। কিন্তু 2021 সালে প্রকাশিত আমাদের আর্কাইভের ছকে 167 নম্বর রুইলুই মৌজার হেডম্যানের নাম “লাল থাংয়া পাংখোয়া”, আর 2007 সালের ডেইলি স্টার সাজেকের ইউপি চেয়ারম্যানের নাম ছেপেছিল “L Thanga Pankhua”। তিনটি নাম একই ব্যক্তির কি না, কোনো উৎস বলেনি।
পাশাপাশি রাখলে ছবিটি এমন:
| উৎস | যা লিখেছে |
|---|---|
| দ্য ডেইলি স্টার, 26 অক্টোবর 2007 | সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান L Thanga Pankhua |
| জুমজার্নাল আর্কাইভ, পাংখোয়া জাতির আদ্যোপান্ত (প্রকাশ 2021) | রুইলুই মৌজা (167): হেডম্যান লাল থাংয়া পাংখোয়া। কংলাক মৌজা (168): হেডম্যান চংমিং থাং পাংখোয়া। সাক্ষাৎকারদাতার তালিকায় “এল, ঙ্গাক থাংয়া পাংখোয়া, সাজেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান”। বাঘাইছড়ির ছয়টি মৌজার পাঁচটির হেডম্যানের পদবি পাংখোয়া, একটির (তুইচুই) ত্রিপুরা |
| সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইট (নভেম্বর 2015) | তালিকায় তিনজন হেডম্যান: ওল্ড লংকর ও থাংনাং পাড়ায় দুজন পাংখোয়া, শিয়ালদাইয়ে একজন ত্রিপুরা; রুইলুই ও কংলাকের হেডম্যানের নাম তালিকায় নেই |
| Asian Review of Social Sciences-এর গবেষণা, 2023 | আট মৌজায় আটজন হেডম্যান: ছয়জন লুসাই, দুজন ত্রিপুরা; রুইলুই ও কংলাক পাড়ার দুজন হেডম্যানই লুসাই |
| The Business Standard ও প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারি ও ডিসেম্বর 2025 | 167 নম্বর রুইলুই মৌজার হেডম্যান Lal Thanga Lusai / লালথাঙ্গা লুসাই |
ছকের সবচেয়ে বড় অমিলটি সংখ্যায়: আর্কাইভ পাঁচটি মৌজার হেডম্যানকে পাংখোয়া লিখেছে, 2023 সালের গবেষণা ছয়জনকে লুসাই। একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, বাইরের লেখকেরা কাছাকাছি দুই কুকি-চিন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীকে একটির নামে লিখেছেন; আরেকটি হলো, সময়ের সঙ্গে পদে মানুষ বদলেছেন। কোনোটিই কোনো উৎস নিশ্চিত করেনি। সার্কেল চিফের দপ্তরের হেডম্যান-তালিকা প্রকাশিত হলে এই প্রশ্নের নিষ্পত্তি সম্ভব। হেডম্যান-পদ কোন সার্কেলের অধীনে, সে বিষয়ে আর্কাইভ বলছে পাংখোয়ারা সাধারণভাবে চাকমা সার্কেলে বাস করেন; বিস্তারিত আমাদের সার্কেল চিফ: তিনটি সার্কেল, আর রাজার ক্ষমতা আসলে কতটুকু লেখায়।
সড়ক হওয়ার আগে রুইলুই থেকে সবচেয়ে কাছের সাপ্তাহিক হাট বাঘাইহাটে যেতে দুই দিন লাগত, আর রাঙামাটি শহর থেকে রুইলুই পৌঁছাতে লাগত প্রায় দুই দিন। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে একজন আলোকচিত্রী জানিয়েছেন, হেঁটে ও ছোট নৌকায় 16 ঘণ্টায় ওল্ড লংকর, তারপর আরও 8 ঘণ্টায় রুইলুই। সড়কটি বানাতে সেনাবাহিনীর প্রায় 10 বছর লেগেছিল; পর্যটক আসা শুরু হয় 2014 সালে।
2023 সালের গবেষণাপত্র স্থানীয়দের সাক্ষাৎকার থেকে পর্যটনের আগের সাজেকের আরও কয়েকটি তথ্য দেয়। তখন এই এলাকায় বাংলা বলতেন কেবল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যরা, আর তাঁদের মাসিক রেশন আসত হেলিকপ্টারে। ইউনিয়ন পরিষদ থাকলেও এখানে তার কোনো কাজ হতো না; সব কাজ হতো পাশের মারিশ্যা ইউনিয়নে। একজন ত্রিপুরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গবেষকদের বলেছেন, আগে পণ্য বেচতে দুই দিন হেঁটে বাঘাইছড়ি বা মারিশ্যা যেতে হতো। রুইলুইয়ের হেডম্যান বলেছেন, তখন হাতি, বাঘ আর ভালুক বাড়ির আশপাশ থেকে গৃহপালিত পশু ধরে নিয়ে যেত।
ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইটের একটি পুরনো পাতা, সেপ্টেম্বর 2013-এ হালনাগাদ, সেই সময়ের ছবিটা অন্যভাবে ধরে রেখেছে। “দর্শনীয় স্থান” হিসেবে সেখানে লেখা একটিমাত্র জিনিস: মারিশ্যা থেকে বাঘাইহাট, মাচালং হয়ে রুইলুই ক্যাম্প থেকে ভারতের মিজোরামের বিএসএফ ক্যাম্পের বিস্তীর্ণ এলাকা দেখা। কোনো রিসোর্ট, হেলিপ্যাড বা পাড়ার নাম নেই। ওয়েবসাইট অনুযায়ী আজ ইউনিয়নে পাকা সড়ক 42 কিলোমিটার, কাঁচা সড়ক 232 কিলোমিটার, আর খাল-ছড়া পথ 264 কিলোমিটার (তথ্য হালনাগাদ মে 2018)।
2007 সালে বাঁশে ব্যাপক ফুল আসার পর ইঁদুরের আক্রমণে সাজেক ইউনিয়নের প্রায় 3,779 পরিবার খাদ্যসংকটে পড়ে, যার মধ্যে প্রায় 3,500 পরিবার লংকর, বেটলিং, রুইলুই, তুইচুইসহ ছয়টি মৌজার। দ্য ডেইলি স্টারের 26 অক্টোবর 2007-এর প্রতিবেদন এই সংখ্যাগুলো দিয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বরাতে। স্থানীয়ভাবে এই ঘটনার নাম “ইন্দুর বন্যা”।
প্রতিবেদনে সাজেক থেকে আসা একজন ত্রিপুরা জুমচাষির হিসাব আছে: পাঁচ একর জুমে ধান লাগিয়ে পেয়েছেন মাত্র 160 কেজি। প্রবীণদের বরাতে প্রতিবেদন জানায়, বাঁশে ফুল আসে মোটামুটি 50 বছর পরপর, এর আগে বড় আকারে এসেছিল 1937 সালে, আর একবার শুরু হলে ইঁদুরের উপদ্রব সাধারণত তিন বছর চলে। প্রতিবেদনের মূল কথাটিও সাজেকের পর্যটনপূর্ব অবস্থার দলিল: দুর্গম এই এলাকাগুলো সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচির বাইরে, আর বেসরকারি সংস্থার সহায়তাও সেখানে পৌঁছায় না।
খাদ্যসংকট সাজেকের এক বছরের ঘটনা ছিল না। আমাদের আর্কাইভের করোনাকালীন খাদ্য সংকট নিয়ে 2020 সালের লেখাটি অতীতের পরিসংখ্যান ধরে সাজেককে সেই এলাকাগুলোর তালিকায় রেখেছে, যেখানে “এখনো খাদ্যের অভাব দেখা দেয়”। আর 2020 সালের সাজেক-প্রবন্ধের লেখকের ভাষায়, “সাজেক এরিয়াতেই প্রতি বছর খাদ্যসঙ্কট হয়”।
সাজেক ইউনিয়নের ইতিহাস কেবল পাহাড়চূড়ার তিন পাড়ার ইতিহাস নয়। ইউনিয়নের নিচের অংশে, বাঘাইহাট থেকে গঙ্গারাম মুখ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে, প্রধানত চাকমা গ্রাম। এই অংশ থেকে কাপ্তাই বাঁধের পর মানুষ দলে দলে ভারতে চলে যান, আর 2008 ও 2010 সালে এখানকার গ্রামগুলোতে আগুন দেওয়া হয়। রুইলুই বা কংলাকে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে, এমন কোনো তথ্য কোনো উৎসে নেই।
বড়পরং: কাপ্তাই বাঁধ শেষ হয় 1961 সালে। তার পরের দেশত্যাগ নিয়ে আমাদের আর্কাইভে সংরক্ষিত মৌখিক বয়ান অনুযায়ী, ভারতে গেলে সরকার দায়িত্ব নেবে, এই খবরের পর “বাঘাইছড়ি সাজেক হতে দিঘীনালার মইনী চেঙেই থেকে দলে দলে মানুষ চলে গেল বর-পরং-এ”। কোন সালে সাজেক থেকে কতজন গিয়েছিলেন, বয়ানে তা নেই; ভারত সরকার 1964 থেকে 1969 সালের মধ্যে 14,888 জন চাকমা ও হাজংকে নেফায় পুনর্বাসন করে। বিস্তারিত পাওয়া যাবে বড়পরং যাত্রার বয়ানে এবং ভারতের চাকমাদের নিয়ে লেখায়।
20 এপ্রিল 2008: দ্য ডেইলি স্টারের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী সেই রাতে সাজেক ইউনিয়নের সাতটি গ্রামে, যেমন নার্সারি পাড়া, বাইবাছড়া, পূর্ব পাড়া, রেতকাবা ও গঙ্গারাম মুখে, ঘরবাড়ি পোড়ানো হয়। পাহাড়ি ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় পাহাড়িদের 77টি ঘর পুড়েছে এবং তিনজন আহত হয়েছেন; সেটেলারদেরও 15টি কুঁড়েঘর পুড়েছে। পাহাড়িরা দায়ী করেন বাঙালি সেটেলারদের; সেটেলারদের পক্ষ থেকে উল্টো দাবি করা হয় যে বেশিরভাগ পোড়া ঘর তাঁদের। দুটি নাগরিক তথ্যানুসন্ধান দল ঘটনাস্থলে যায়; দ্বিতীয় দলটি দেখেছে প্রায় চার কিলোমিটার জুড়ে পোড়া ঘর, আর তাদের সিদ্ধান্ত ছিল আগুন ঘর থেকে ঘরে ছড়ায়নি, প্রতিটি ঘরে আলাদা করে আগুন দেওয়া হয়েছিল। আমাদের আর্কাইভের পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যার চিত্র লেখাটি একে সাজেকে রাস্তা নির্মাণ ও রাস্তার দুই পাশে সেটেলার পুনর্বাসনের সঙ্গে যুক্ত করেছে; এটি লেখকের অভিযোগ, কোনো সরকারি তদন্তের সিদ্ধান্ত নয়।
19–20 ফেব্রুয়ারি 2010: দ্য ডেইলি স্টারের 20 ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী গঙ্গারাম মুখ এলাকার 11টি গ্রামে আদিবাসীদের অন্তত 200টি ঘর পোড়ে। পুলিশ দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত করে; আদিবাসীরা অন্তত ছয়জন, পিসিজেএসএস আটজন, আর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রায় দশজনের মৃত্যুর কথা বলেন। সেনাবাহিনীর বক্তব্য ছিল, আদিবাসীরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিজেদের ঘরে আগুন দিয়েছেন; স্থানীয়রা অভিযোগ করেন সেনাবাহিনী সেটেলারদের সহায়তা করেছে। bdnews24-এর প্রতিবেদনে সেটেলারদের দাবিও আছে যে “উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা” আগে গুলি চালিয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের 2010 সালের মানবাধিকার প্রতিবেদন জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্তের সুপারিশ করেছিল। সেই তদন্ত হয়েছিল কি না, কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
এই দুই ঘটনা যে এলাকায়, সেটিই আজ পর্যটকের সাজেক-যাত্রার পথ: বাঘাইহাট সেনা জোন পেরিয়ে, গঙ্গারাম মুখের সেতু পার হয়ে মাচালং হয়ে রুইলুই। bdnews24-এর 2016 সালের প্রতিবেদন সেই পথের বর্ণনা দেয়, গঙ্গারাম মুখে তিন নদীর মিলনস্থল দেখার পরামর্শসহ; পথের দুই ধারের গ্রামগুলোর ইতিহাস সেখানে নেই।
2011 সালের শুমারিতে সাজেক ইউনিয়নের জনসংখ্যা ছিল 27,568 জন (পুরুষ 14,762, নারী 12,806), খানা 5,461, আয়তন 4,37,760 একর; সূত্র বাংলাপিডিয়া ও BBS-এর অ্যাটলাস। 2011 সালে সাক্ষরতার হার ছিল 27.2 শতাংশ (বাংলাপিডিয়া)। 2022 সালের হিসাবে বাংলা উইকিপিডিয়া 31,385 জন লিখেছে, যার মধ্যে চাকমা 22,484, বাঙালি 3,199, মারমা 31, তঞ্চঙ্গ্যা 1 এবং “অন্যান্য” 5,671। ধর্মভিত্তিক সংখ্যাগুলো BBS-এর রাঙামাটি জেলা-প্রতিবেদনের Table P05-এর সঙ্গে মেলে: বৌদ্ধ 22,460, হিন্দু 5,524, মুসলিম 2,895, খ্রিষ্টান 503, অন্যান্য 3; মোট জনসংখ্যা 31,385 (পুরুষ 17,157, নারী 14,228; Table P02)। কিন্তু জাতিভিত্তিক সংখ্যা BBS ইউনিয়ন স্তরে প্রকাশ করেনি; জেলা-প্রতিবেদনের জাতিভিত্তিক ছক উপজেলা পর্যন্তই। উইকিপিডিয়ার জাতিভিত্তিক ভাগটির উৎস তাই যাচাই করা যায়নি [যাচাই প্রয়োজন]। উপজেলা স্তরে BBS-এর হিসাব: বাঘাইছড়িতে চাকমা 70,350, ত্রিপুরা 5,457, পাংখোয়া 117, লুসাই 111।
উইকিপিডিয়ার ভাগ ঠিক হলে লুসাই, পাংখোয়া ও ত্রিপুরারা আছেন ওই “অন্যান্য” 5,671 জনের মধ্যে, অর্থাৎ ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশেরও কম; আর তাঁদের বসতি ইউনিয়নের পূর্ব প্রান্তে, মিজোরাম সীমান্ত বরাবর। ধর্মের হিসাবে ইউনিয়নে খ্রিষ্টান 503 জন; আমাদের আর্কাইভ ও বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী লুসাইরা খ্রিষ্টান, আর আর্কাইভ অনুযায়ী পাংখোয়ারাও।
ইউনিয়নের আয়তন নিয়েও সংখ্যার অমিল আছে: বাংলাপিডিয়া ও BBS 4,37,760 একর (প্রায় 1,771 বর্গকিলোমিটার, অর্থাৎ প্রায় 684 বর্গমাইল), ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইট 607 বর্গমাইল, বাংলা উইকিপিডিয়ার সাজেক উপত্যকা নিবন্ধ 702 বর্গমাইল। একে দেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন বলে ইংরেজি উইকিপিডিয়া ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস; বাংলা উইকিপিডিয়ার ইউনিয়ন-নিবন্ধ বলছে চট্টগ্রাম বিভাগের সবচেয়ে বড়।
পর্যটনের অর্থনীতি নিয়ে বিস্তারিত হিসাব আমাদের পর্যটনে কার জমি, কার আয়, কার সম্মতি লেখায়, আর ভ্রমণকারীর জন্য পরিচিতি পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রমণ লেখায়। এখানে কেবল সেই পরিবর্তনগুলো, যা পাড়ার মানুষের পরিচয় ও বসতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
জীবিকা: 2023 সালের গবেষণায় পর্যটন এলাকার দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, এখানকার প্রায় সব লুসাই এখন ব্যবসায়ী, অথচ পাঁচ-ছয় বছর আগে তাঁরা কেবল জুমচাষ করতেন। একজন বাঙালি রিসোর্ট ব্যবসায়ী গবেষকদের বলেছেন, স্থানীয়রা জমি ও রিসোর্ট ভাড়া দিচ্ছেন। স্থানীয় একজন রিসোর্ট ব্যবসায়ী ও জুমচাষি জানিয়েছেন, শুরুতে রিসোর্ট কম থাকায় পর্যটকেরা স্থানীয়দের বাড়িতেই থাকতেন; পরে কিছু স্থানীয় মানুষ ছোট রিসোর্টে পুঁজি খাটান, আর এখন অনেকে নিজের রিসোর্ট নিজে না চালিয়ে বাঙালি ব্যবসায়ীদের ভাড়া দেন। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে রুইলুই মৌজার হেডম্যান বলেছিলেন, বাইরের ব্যবসায়ীরা হয় স্থানীয়দের সঙ্গে অংশীদারিত্বে, নয়তো জমির মালিককে ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করছেন।
বসতি: একই গবেষণা পর্যটনের প্রধান “বর্জনমূলক” দিক হিসেবে প্রথমেই লিখেছে স্থানীয় জাতিগোষ্ঠীর পরিবারকে সরিয়ে দেওয়ার কথা, যার উদ্দেশ্য সেখানে রিসোর্ট বা অবকাঠামো বানানো। কতটি পরিবার, কোন পাড়া থেকে, কবে, তার কোনো সংখ্যা গবেষণাপত্রে নেই।
পরিচয়: প্রথম আলোর ডিসেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী রুইলুই পর্যটনকেন্দ্রের প্রবেশমুখে “লুসাই ভাংখুয়া পার্ক” বা লুসাই সাংস্কৃতিক পার্ক গড়ে উঠেছে রুইলুই মৌজার হেডম্যান ও তাঁর পরিবারের উদ্যোগে; পার্কটি কবে চালু হয়, প্রতিবেদনে তা নেই। পরিবারের একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলে লুসাই জনগোষ্ঠী এখন খুবই কম, ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে, তাই পার্কটি। পার্কের ব্যবস্থাপক একজন ত্রিপুরা। প্রবেশ টিকিট 30 টাকা, আর লুসাই পোশাক পরে ছবি তোলার ভাড়া 100 টাকা।
আগুন: 24 ফেব্রুয়ারি 2025-এর আগুনে রুইলুই মৌজার হেডম্যানের নিজের বাড়িও পুড়ে যায় (The Business Standard ও প্রথম আলো)। পোড়া স্থাপনার সংখ্যা নিয়ে উৎসভেদে হিসাব আলাদা; সেই তুলনা আছে আমাদের পর্যটন-লেখার সাজেক অংশে। লুসাই পার্কের আয়ের একটি অংশ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্রদের দেওয়া হয়েছে বলে পার্কের ব্যবস্থাপক প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।
পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠী, ভূমি ও ইতিহাস নিয়ে আমাদের সব লেখা একসঙ্গে পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভে। সীমান্তের ওপারে লুসাই ও মিজোদের নিয়ে আছে নাগা ও মিজো: সীমান্তের ওপারে একই ভাষাপরিবার, আলাদা আইন।
সাজেক উপত্যকার রুইলুই, কংলাক ও হামারি পাড়ায় মূলত লুসাই, পাংখোয়া ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বাস; কয়েকটি উৎস চাকমাদের নামও দেয়। পুরো সাজেক ইউনিয়নে চাকমারাই সবচেয়ে বেশি: বাংলা উইকিপিডিয়ার হিসাবে 2022 সালে 31,385 জনের মধ্যে 22,484 জন চাকমা, যদিও BBS ইউনিয়ন স্তরে জাতিভিত্তিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি। চাকমা গ্রামগুলো মূলত ইউনিয়নের নিচের অংশে, বাঘাইহাট ও মাচালং এলাকায়।
bdnews24-এর 29 জানুয়ারি 2016-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী রুইলুই পাড়া প্রতিষ্ঠিত হয় 1885 সালে; ইংরেজি উইকিপিডিয়াও এই সাল দেয়। বাংলা উইকিপিডিয়ার একই নিবন্ধে 1880 ও 1885 দুটি সালই আছে। কোনো উৎস এই সালের পেছনে কোনো দলিল বা মৌখিক ইতিহাসের নাম দেয়নি, তাই সালটি এখনো যাচাইসাপেক্ষ।
bdnews24 (2016) লিখেছে রুইলুই পাড়ার বেশিরভাগ বাসিন্দা ত্রিপুরা ও লুসাই। 2023 সালে Asian Review of Social Sciences-এ প্রকাশিত গবেষণা বলছে পর্যটন এলাকা প্রধানত ত্রিপুরা-অধ্যুষিত, আর লুসাই পরিবার মাত্র 30–35টি। সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের 2015 সালের তালিকায় রুইলুইয়ের তিন পাড়ায় মোট 95 পরিবার, 446 জন, তবে জনগোষ্ঠীর ভাগ দেওয়া নেই।
bdnews24 (2016) ও প্রথম আলো (2019) অনুযায়ী কংলাক পাড়ায় লুসাই ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বাস; ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস (2021) একে প্রধানত লুসাই পাড়া বলেছে। সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের 2015 সালের গ্রামতালিকায় কংলাক নামে “কমলাক পাংখোয়া পাড়া” (15 পরিবার) ও “কমলাক ত্রিপুরা পাড়া” (22 পরিবার) আছে। কংলাক পাড়া প্রায় 1,800 ফুট উঁচু কংলাক পাহাড়ের চূড়ায়।
হামারি পাড়াকে সাজেক উপত্যকার তিনটি পাড়ার একটি বলেছে দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস (2021), বাংলা উইকিপিডিয়া ও 2023 সালের একটি গবেষণা; ইংরেজি উইকিপিডিয়া একে দুর্গম বসতি বলেছে। পাড়াটির সঠিক অবস্থান, বাসিন্দাদের জনগোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠার সাল কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় 150টি গ্রামের তালিকায় এবং BBS-এর মৌজা তালিকায় হামারি নামটি নেই।
উৎসগুলো দুই রকম কারণ দেয়। জুমজার্নালের আর্কাইভের লেখা বলছে 1871 ও 1892 সালের ব্রিটিশ লুসাই অভিযানের পর অনেক লুসাই আজকের মিজোরামে স্থায়ী হন। 2023 সালের একটি গবেষণা বলছে সাজেকে একসময় 200-র বেশি লুসাই পরিবার ছিল, সুযোগ-সুবিধার অভাবে বেশিরভাগ ভারতে চলে যাওয়ায় এখন 30–35টি। 2022 সালের শুমারিতে সারা দেশে লুসাই 380 জন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় 111 জন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর Small Area Atlas (2017, আদমশুমারি 2011-এর তথ্য) অনুযায়ী সাজেক ইউনিয়নে ছয়টি মৌজা: বেটলিং, কংলাক, লংকর, রুইলুই, শিয়ালদাইলুই ও তুইচুই; এর বাইরে 3,86,560 একর কাসালং সংরক্ষিত বনের অংশ। 2023 সালের একটি গবেষণা আটটি মৌজা ও আটজন হেডম্যানের কথা বলেছে; কোন আটটি, তা উল্লেখ করেনি।
The Business Standard ও প্রথম আলোর 2025 সালের প্রতিবেদনে 167 নম্বর রুইলুই মৌজার হেডম্যানের নাম Lal Thanga Lusai বা লালথাঙ্গা লুসাই। জুমজার্নালের আর্কাইভের 2021 সালের পাংখোয়া-বিষয়ক লেখার ছকে একই মৌজার হেডম্যানের নাম “লাল থাংয়া পাংখোয়া”। নাম দুটি একই ব্যক্তির কি না, এবং পদবির এই অমিল কেন, কোনো উৎস তা ব্যাখ্যা করেনি।
দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের 2021 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী সড়ক সংযোগের পর 2014 সাল থেকে পর্যটকেরা সাজেকে আসতে শুরু করেন; সড়কটি বানাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রায় 10 বছর লেগেছিল। একই প্রতিবেদনে কটেজ মালিক সমিতির হিসাবে নিবন্ধিত রিসোর্ট 2016 সালের 6টি থেকে 2020 সালে 83টিতে পৌঁছায়। এর আগে রাঙামাটি শহর থেকে রুইলুই পৌঁছাতে প্রায় দুই দিন লাগত।
2023 সালের একটি গবেষণায় স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সড়কের আগে সবচেয়ে কাছের সাপ্তাহিক হাট বাঘাইহাটে যেতে দুই দিন লাগত, এলাকায় বাংলা বলতেন কেবল বিজিবি সদস্যরা, আর তাঁদের রেশন আসত হেলিকপ্টারে। জীবিকা ছিল মূলত জুমচাষ। 2007 সালে বাঁশে ফুল আসার পর ইঁদুরের আক্রমণে সাজেক ইউনিয়নের প্রায় 3,779 পরিবার খাদ্যসংকটে পড়ে (দ্য ডেইলি স্টার)।
20 এপ্রিল 2008 রাতে সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট-গঙ্গারাম মুখ এলাকার সাতটি গ্রামে আগুন দেওয়া হয়; পাহাড়ি ভুক্তভোগীরা 77টি ঘর পোড়ার কথা বলেন। 19–20 ফেব্রুয়ারি 2010 একই এলাকায় অন্তত 200টি ঘর পোড়ে; পুলিশ দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত করে, আদিবাসী নেতারা আরও বেশি মৃত্যুর দাবি করেন। এই গ্রামগুলো প্রধানত চাকমা, রুইলুই বা কংলাকে নয়।
বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে সাজেক ইউনিয়নের আয়তন 4,37,760 একর, অর্থাৎ প্রায় 1,771 বর্গকিলোমিটার বা 684 বর্গমাইল। ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইট 607 বর্গমাইল এবং বাংলা উইকিপিডিয়ার সাজেক উপত্যকা নিবন্ধ 702 বর্গমাইল লিখেছে। BBS-এর হিসাবে এর প্রায় 88 শতাংশ কাসালং সংরক্ষিত বনের অংশ, যা 1 মার্চ 1881-এ গঠিত হয়।
জুমজার্নালের নিজস্ব আর্কাইভ
সরকারি নথি ও তথ্যভান্ডার
ঔপনিবেশিক নথি
গবেষণা
সংবাদ ও ফিচার
বিশ্বকোষ
সর্বশেষ হালনাগাদ: 17 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:ত্রিপুরা, পাংখোয়া, লুসাই, সাজেক
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।