Jumjournal Logo

কোন পাঁচটি ভাষায় পাঠ্যবই দেওয়া হয়, কেন এই পাঁচটি — আর বাকি ভাষাগুলোর কী হবে

Last updated Nov 3rd, 2026

1

কমলা রঙের পাঁচটি বইয়ের প্রচ্ছদের ওপরের অংশ: চাকমা লিপিতে চাকমা, বর্মি-ধাঁচের লিপিতে মারমা, রোমান হরফে ককবরক ও গারো এবং বাংলা হরফে সাদরি ভাষার শিরোনাম

কোন পাঁচটি ভাষায় পাঠ্যবই দেওয়া হয়? জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) 2026 শিক্ষাবর্ষের তালিকায় ভাষাগুলো চাকমা, মারমা, গারো, সাদরি ও ত্রিপুরা (ককবরক)। এই পাঁচটি কেন — তার উত্তর প্রকাশিত কোনো সরকারি আদেশে পাওয়া যায়নি; সভার বিবরণ, সংসদে মন্ত্রীর বক্তব্য আর কমিটির সদস্যদের ভাষ্যে যে কারণগুলো পাওয়া যায় তা হলো জনসংখ্যা, লিখিত রূপ ও লিপির সিদ্ধান্ত, আর এমএলই ফোরামের অগ্রাধিকার-তালিকা। বাকি ভাষাগুলোর জন্য 2013 সালে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের তালিকা হয়েছিল; সেই তালিকার কোনো ভাষায় সরকারি বই এখনো বের হয়নি।

এই লেখা কর্মসূচির সময়রেখা নয় — 2012-র প্রথম সভা থেকে 2027-এর দরপত্র পর্যন্ত তারিখ ধরে বিবরণ আছে মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের সময়রেখা লেখায়। এখানে কেবল দুটি প্রশ্ন: বাছাইয়ের পক্ষে নথি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কী কারণ বলেছেন, আর বাকি ভাষাগুলো নিয়ে সরকার কবে কী ঘোষণা করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম-বিষয়ক অন্যান্য লেখা পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব পাতায়।

কমলা রঙের পাঁচটি বইয়ের প্রচ্ছদের ওপরের অংশ: চাকমা লিপিতে চাকমা, বর্মি-ধাঁচের লিপিতে মারমা, রোমান হরফে ককবরক ও গারো এবং বাংলা হরফে সাদরি ভাষার শিরোনাম
2026 শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক “আমার বই”-এর পাঁচ প্রচ্ছদের ওপরের অংশ — ওপরে বাঁ থেকে চাকমা, মারমা, ককবরক; নিচে গারো ও সাদরি। একই বই, পাঁচ ভাষা, চার রকম হরফ। ছবি: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, 2026 শিক্ষাবর্ষের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রাক-প্রাথমিক স্তর পাতার বইয়ের প্রচ্ছদ থেকে কাটা অংশ (সরকারি প্রকাশনা, নথি হিসেবে ব্যবহৃত)।

সূচিপত্র

  1. কোন পাঁচটি ভাষায় পাঠ্যবই দেওয়া হয়: সরকারি তালিকা কী বলে
  2. বাছাইটি কারা করেছিলেন: মন্ত্রণালয়ের সভা, জাতীয় কমিটি ও এমএলই ফোরাম
  3. প্রথম কারণ: জনসংখ্যা — নথিতে যা লেখা
  4. দ্বিতীয় কারণ: লিখিত রূপ ও লিপির সিদ্ধান্ত
  5. ছয় থেকে পাঁচ: সাঁওতালি কেন তালিকা থেকে সরে গেল
  6. চুক্তি, আইন ও শিক্ষানীতিতে কোনো ভাষার নাম আছে কি
  7. দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ভাষা: তালিকা ও জনশুমারির সংখ্যা
  8. বাকি ভাষাগুলো নিয়ে সরকারের ঘোষণা: বছর ধরে
  9. 2026-এর সংসদ: “নীতিগত সিদ্ধান্ত” ও পঞ্চম ভাষার নাম নিয়ে প্রশ্ন
  10. মণিপুরি ও ম্রো: দ্বিতীয় পর্যায়ের দুই উদাহরণ
  11. বিপন্ন ভাষাগুলো কোন পর্যায়ে
  12. সমতল ও চা-বাগানের ভাষা
  13. সরকারি তালিকার বাইরে যেসব ভাষায় পড়ানো হয়
  14. উৎসভেদে অমিল
  15. প্রশ্নোত্তর
  16. যা এখনো জানা যায়নি
  17. তথ্যসূত্র

কোন পাঁচটি ভাষায় পাঠ্যবই দেওয়া হয়: সরকারি তালিকা কী বলে

এনসিটিবির ওয়েবসাইটে 2026 শিক্ষাবর্ষের “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রাক-প্রাথমিক স্তর” ও “প্রাথমিক স্তর” — দুটি পাতাতেই কলামের নাম একই ক্রমে: চাকমা, মারমা, গারো, সাদরি, ত্রিপুরা। প্রাক-প্রাথমিকে প্রতিটি ভাষায় “আমার বই” ও “এসো লিখতে শিখি”; প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বইয়ের তালিকা আলাদা পাতায়।

সরকারের অন্য একটি নথিতেও একই পাঁচ নাম। ইউনেসকোর “শিক্ষায় বৈষম্যবিরোধী সনদ (1960)” বিষয়ে একাদশ পরামর্শের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে প্রতিবেদন (2024–2025) জমা দিয়েছে, তাতে লেখা: পাঠ্যবই “translated into five indigenous languages, i.e. Chakma, Marma, Tripura, Garo, and Sadri”, প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য (প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা 17)।

বইয়ের প্রচ্ছদ খুললে দেখা যায়, “পাঁচ ভাষা” মানে পাঁচ রকম লেখাও নয়। 2026-এর প্রাক-প্রাথমিক “আমার বই”-এর চাকমা সংস্করণের শিরোনাম চাকমা লিপিতে, মারমা সংস্করণের মারমা লিপিতে, গারো সংস্করণের নাম রোমান হরফে “Angni Ki·tap”, ককবরক সংস্করণের “ANI BIJAP”, আর সাদরি সংস্করণের নাম বাংলা হরফে “হামার বই”।

ককবরক বইয়ের প্রচ্ছদে বন্ধনীতে “ককবরক” লেখা থাকলেও এনসিটিবির তালিকায় কলামের নাম “ত্রিপুরা”; গারো বইয়ের ভেতরে ভাষার নাম “গারো ভাষা”। মান্দি বা আচিক নামটি তালিকায় নেই। প্রথম আলোর 2024 সালের কলামে তারিক মনজুর ভাষাগুলো লিখেছেন “চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (ককবরক), সাদরি (ওঁরাও) ও গারো (মান্দি)”।

বাছাইটি কারা করেছিলেন: মন্ত্রণালয়ের সভা, জাতীয় কমিটি ও এমএলই ফোরাম

প্রাপ্ত উৎস অনুযায়ী ভাষা বাছাই হয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায়, 31 অক্টোবর 2012; পাঁচে নামানো হয় 14 জুলাই 2013-র জাতীয় কমিটির সভায়। বাছাইয়ের প্রস্তাব এসেছিল বেসরকারি সংস্থাগুলোর জোট এমএলই ফোরামের অগ্রাধিকার-তালিকা থেকে — বাংলা ট্রিবিউন ও ফোরামের এক সদস্য দুজনেই তা বলেছেন।

মন্ত্রণালয়ের সভা ও কমিটি

সভাগুলোর বিবরণের প্রধান উৎস জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার লেখা, যিনি নিজে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এমএলই পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন (প্রথম আলো, 2015)। গণসাক্ষরতা অভিযানের “সাক্ষরতা বুলেটিন”-এর আগস্ট 2015 সংখ্যায় প্রকাশিত তাঁর লেখাটি আমাদের আর্কাইভে আছে — আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা: অপেক্ষার শেষ কোথায়?।

লেখাটি অনুযায়ী 31 অক্টোবর 2012-র সভার সভাপতি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সচিব এম এম নিয়াজউদ্দিন। ওই সভায় অতিরিক্ত সচিবের (উন্নয়ন) নেতৃত্বে একটি কমিটি হয়, যাতে “সংশ্লিষ্ট আদিবাসী জাতিগোষ্ঠির প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট সরকারী-বেসরকরী সংস্থার প্রতিনিধি” রাখা হয়। কমিটির প্রথম সভা 3 ডিসেম্বর 2012। পরে টেকনিক্যাল কমিটি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কমিটি ও ভাষাভিত্তিক লেখক প্যানেল গঠিত হয়।

3 ডিসেম্বর 2012-র সভায় যে চারটি সিদ্ধান্তের কথা লেখায় আছে, তার একটিতে কমিটিতে নির্দিষ্ট কয়েকটি সংস্থার প্রতিনিধি রাখার কথা: পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আইসিডিপি প্রকল্পের পরিচালক, সেভ দ্য চিলড্রেন, অক্সফাম ও গণসাক্ষরতা অভিযান।

এমএলই ফোরামের অগ্রাধিকার-তালিকা

বাংলা ট্রিবিউন 21 ফেব্রুয়ারি 2023-এ লিখেছে, গণসাক্ষরতা অভিযানের উদ্যোগে মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো এমএলই ফোরাম গঠন করে। ফোরামটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও এনসিটিবির জন্য একটি সুপারিশমালা তৈরি করে, এবং “অগ্রাধিকারভিত্তিতে ৫/৬টি নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা নির্বাচন করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়”। প্রথম পর্যায়ের সুপারিশে ছিল ছয়টি ভাষা: চাকমা, সাঁওতাল, সাদরি (ওরাওঁ ও অন্যান্য), মারমা, ত্রিপুরা ও গারো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল — গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কালেকটিভের (আরডিসি) সভাপতি ও এমএলই ফোরামের সদস্য — 7 জানুয়ারি 2017-এ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, কর্মসূচি শুরুর আগে সরকার ফোরাম ও আরডিসির পরামর্শ নিয়েছিল। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার লেখাতেও আছে, এমএলই ফোরামকে “সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পৃক্ত” করা হয়েছিল।

ফোরাম তালিকা বানানোর সময় কোন মানদণ্ড ব্যবহার করেছিল, সুপারিশমালার মূল দলিলটি পাওয়া না যাওয়ায় তা জানা যায়নি। ফোরাম ও আরডিসির যৌথ “ম্যাপিং” সমীক্ষা — মেসবাহ কামাল, জেন্স স্ট্রাটমান্স, মনিস রফিক ও শাহ শামীম আহমেদের লেখা, ইউনেসকো ঢাকার প্রকাশনা — নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের আলোচনায় সমীক্ষার সারকথা আছে, কিন্তু ভাষা বাছাইয়ের মানদণ্ড নেই (নিচে “সরকারি তালিকার বাইরে” অংশে সংখ্যাগুলো আছে)।

পাঠ্যবই তৈরির কারিগরি কমিটি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সৌরভ সিকদারকে বিডিনিউজ২৪ 2022 সালে উল্লেখ করেছে “পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পাঠ্যবই তৈরির কারিগরি কমিটির সদস্য” হিসেবে, আর 2024 সালে “a linguist who headed the development of textbooks for five ethnic groups” হিসেবে। তিনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের “বাংলাদেশের নৃভাষাবৈজ্ঞানিক সমীক্ষা”-রও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন। পরের ধাপে কোন ভাষা আসবে, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নিচে আছে।

প্রথম কারণ: জনসংখ্যা — নথিতে যা লেখা

ভাষা বাছাইয়ের কারণ হিসেবে সবচেয়ে সরাসরি বাক্যটি আছে মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার 2015 সালের লেখায়: 31 অক্টোবর 2012-র সভাতেই “জনসংখ্যার পরিমাণ বিবেচনায়” ছয়টি জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আরও তিনটি উৎসে জনসংখ্যা বা “সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত” ভাষার কথা আছে।

চারটি উৎসের ভাষ্য

  1. মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা (সাক্ষরতা বুলেটিন, আগস্ট 2015): “এই সভাতেই জনসংখ্যার পরিমাণ বিবেচনায় চাকমা, মারমা, গারো, সাঁওতাল, ত্রিপুরা ও সাদরি আদিবাসীদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে এই কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।”
  2. প্রথম আলো (11 জুলাই 2016): এনসিটিবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদন — “এই পাঁচ জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১০ লাখের বেশি।”
  3. মেসবাহ কামাল (দ্য ডেইলি স্টার, 7 জানুয়ারি 2017): সরকার বই বিতরণ করেছে “five most-used languages of the indigenous communities”-তে; আর সাঁওতালদের বই দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল কারণ তাঁদের জনসংখ্যা প্রায় 8 লাখ, এবং চাকমাদের পরে তাঁরাই দেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
  4. কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা (ঢাকা ট্রিবিউন, 22 ফেব্রুয়ারি 2022): বাছাইয়ের সমালোচনা করে বলেন, মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা শুরুর ক্ষেত্রে “the most backward and endangered language should be considered as a priority, not the five most popular ones”।

জনশুমারি 2022-এ ছয় জনগোষ্ঠী

বাছাইয়ের সময় (2012) হাতে ছিল 2011-র শুমারি। নিচের সংখ্যাগুলো পরের শুমারির — বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022, জাতীয় প্রতিবেদন (খণ্ড 1), টেবিল P29, পৃষ্ঠা 365। শুমারি জাতিগোষ্ঠী গোনে, ভাষা নয়; তাই সাদরির পাশে সংখ্যাটি ওরাওঁ জনগোষ্ঠীর, সাদরিভাষীর নয়।

প্রথম পর্যায়ের ভাষা (2012)শুমারির জনগোষ্ঠীজনসংখ্যা, 2022বর্তমান অবস্থা
চাকমাChakma483,365বই আছে
মারমাMarma224,299বই আছে
ত্রিপুরা (ককবরক)Tripura156,620বই আছে
সাঁওতালিSaontal129,05614 জুলাই 2013-য় স্থগিত (নিচে দেখুন)
সাদরিOraon (সাদরি অন্য জনগোষ্ঠীরও ভাষা)85,858বই আছে
গারোGaro76,854বই আছে

একই টেবিলে ম্রো 52,463, মুন্ডা 60,201, তঞ্চঙ্গ্যা 45,974 ও মণিপুরি 22,979 জন। সারা দেশে শুমারিতে গোনা মোট ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনসংখ্যা 16,50,478। জনসংখ্যা-গণনার পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি ও বিকল্প অনুমান আছে আমাদের জনশুমারিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গোনার পদ্ধতি লেখায়।

বিবিএসের জনশুমারি 2022 জাতীয় প্রতিবেদনের টেবিল P29-এর পাতা: ওরাওঁ, গারো, চাকমা, ত্রিপুরা, মারমা, ম্রো, সাঁওতালসহ জাতিগোষ্ঠীর নাম ও জনসংখ্যার ইংরেজি ছক
জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022, জাতীয় প্রতিবেদন (খণ্ড 1), টেবিল P29 “Ethnic Population by Category, Sex and Division, 2022”, পৃষ্ঠা 365 — জাতীয় অংশ। ছবি: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, প্রতিবেদনের পিডিএফ (সরকারি প্রকাশনা, নথি হিসেবে ব্যবহৃত)।

দ্বিতীয় কারণ: লিখিত রূপ ও লিপির সিদ্ধান্ত

এনসিটিবির এক সদস্য 2022 সালে বলেছেন, সরকার এই পাঁচ ভাষা বেছেছিল কারণ এগুলোর “written forms that can be preserved”। কিন্তু 2016 সালে এনসিটিবিরই এক শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, পাঁচটির তিনটির — ত্রিপুরা, গারো ও সাদরি — নিজস্ব লিপি নেই, আর কোন লিপিতে বই হবে তা নিয়ে মতবিরোধে সময় লেগেছে।

“লিখিত রূপ আছে” — এনসিটিবির ভাষ্য

ঢাকা ট্রিবিউন 22 ফেব্রুয়ারি 2022-এ লিখেছে, “The government chose to provide textbooks in Chakma, Marma, Tripura, Garo, and Sadri as these languages have written forms that can be preserved.” একই প্রতিবেদনে এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামানের উদ্ধৃতি: আদিবাসী ভাষাগুলোর বর্ণমালা পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে “A lot of time and funding is needed”, আর “Some of the communities do not have written literature to begin with.”

“তিনটির নিজস্ব লিপি নেই” — এনসিটিবির আরেক ভাষ্য

প্রথম আলোর 11 জুলাই 2016-এর প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করা এনসিটিবির এক শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ বলেন, শিক্ষানীতি অনুমোদনের পর শিক্ষাক্রম সংশোধন শেষ হলে বই দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিন্তু ভালো লেখক পাওয়া যাচ্ছিল না, “তা ছাড়া লিপি একটা বড় সংকট হয়ে দেখা দেয়। চাকমা ও মারমাদের মৌখিক ও লিখিত উভয় রূপ থাকলেও ত্রিপুরা, গারো ও সাদরি নৃগোষ্ঠীর ভাষার নিজস্ব লিপি নেই।” তাঁর হিসাবে দেশে 37টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, যাদের বেশির ভাগের নিজস্ব লিপি নেই।

3 ডিসেম্বর 2012: কোন ভাষা কোন হরফে

মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার লেখা অনুযায়ী 3 ডিসেম্বর 2012-র কমিটি-সভায় হরফের সিদ্ধান্ত হয়: “চাকমা ও মারমা নিজস্ব বর্ণমালা, গারো ও ত্রিপুরা রোমান বর্ণমালা এবং ওঁরাও-দের ক্ষেত্রে বাংলা বর্ণমালা”; সাঁওতালদের বলা হয় জাতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাতে। পাভেল পার্থের লেখায় নিউ এজ একই বিভাজন লিখেছে — চাকমার জন্য চাঙমা বর্ণমালা, মারমার জন্য মারমা বর্ণমালা, ত্রিপুরা ও মান্দির জন্য “reformed Roman alphabet”, আর সাদরিভাষী মুন্ডা-ওরাওঁদের জন্য বাংলা বর্ণমালা। 2026-এর প্রচ্ছদগুলো এই বিভাজনই দেখায়।

এর আগেও কয়েকটি সম্প্রদায় নিজেরা হরফ বেছে নিয়েছিল। সেভ দ্য চিলড্রেনের 2007 সালের প্রতিবেদন “Mother Language First” (টেরি ডার্নিয়ান) লিখেছে: “the Tripura and Garo communities have decided to use Roman script for the representation of their languages. Chakma has its own historic script.” একই পাতায় ওরাওঁদের ব্যবহৃত বাংলা হরফের নমুনা আছে (পৃষ্ঠা 12–13)। ককবরকের হরফ-বিতর্ক — রোমান না বাংলা — নিয়ে বিস্তারিত আছে ককবরক রোমান না বাংলা লিপিতে লেখা হবে লেখায়।

কোন ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা আছে: ইনস্টিটিউটের তালিকা

আইটিভি 21 ফেব্রুয়ারি 2026-এ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের তথ্য উদ্ধৃত করে লিখেছে, বাংলা ছাড়াও 41টি ভাষার মানুষ দেশে বাস করেন, আর নিজস্ব বর্ণমালা আছে আটটি ভাষার: বাংলা, চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, রাখাইন (প্রতিবেদনে “লাখাইনম” ছাপা), ম্রো, মণিপুরি ও অহমিয়া। ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “দেশের প্রচলিত ৩৩ ভাষার কোনো লিপি নেই।”

নিউ এজের ওই লেখায় নিজস্ব বর্ণমালার তালিকা কিছুটা আলাদা: চাকমা, মারমা, রাখাইন, ত্রিপুরা, মৈতৈ মণিপুরি, সাঁওতাল, ম্রো ও বর্মন-খাত্রিয়া; আর মান্দি, লিংগাম ও কোচদের প্রস্তাবিত বর্ণমালা আছে।

চাকমা ও মারমা লিপির ইতিহাস আলাদা দুটি লেখায় আছে — চাকমা লিপি (অঝাপাত) ও ম্রাইমাজা: মারমা বর্ণমালা; চাকমা বর্ণমালা স্কুলের বাইরে কারা শেখাচ্ছেন, সে বিবরণ দীঘিনালার স্বেচ্ছাসেবীদের চাকমা বর্ণমালা পাঠ লেখায়।

ছয় থেকে পাঁচ: সাঁওতালি কেন তালিকা থেকে সরে গেল

সব উৎসই একমত, সাঁওতালি বাদ পড়েছে হরফ নিয়ে সাঁওতাল নেতৃত্বের মতভেদে — বাংলা, রোমান না অলচিকি। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার বিবরণে স্থগিতের সিদ্ধান্ত 14 জুলাই 2013-র জাতীয় কমিটির সভায়। এনসিটিবির চেয়ারম্যান 2017 সালে দায় দিয়েছেন সাঁওতালদের “অসহযোগিতার”; সাঁওতাল নেতাদের বক্তব্যে এসেছে হরফের অধিকারের প্রশ্ন।

সরকারি পক্ষের বক্তব্য

  • প্রথম আলো, 11 জুলাই 2016 (এনসিটিবির বিশেষজ্ঞ): একটি পক্ষ বাংলা লিপির পক্ষে, আরেকটি রোমান হরফের পক্ষে; “এ বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় সাঁওতাল ভাষার পাঠ্যপুস্তক এবার বের করা সম্ভব হচ্ছে না।”
  • ঢাকা ট্রিবিউন, 24 নভেম্বর 2017: এনসিটিবির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা বিলম্বের জন্য সাঁওতালদের দায়ী করে বলেন, “It is because of their non-cooperation”; তাঁদের লেখার পদ্ধতি ও বর্ণমালা তখনো চূড়ান্ত হয়নি, এবং সাঁওতাল শিক্ষার্থীরা কয়টি বই পাবে তা-ও ঠিক হয়নি।
  • ঢাকা ট্রিবিউন, 22 ফেব্রুয়ারি 2022 (মশিউজ্জামান): সম্প্রদায়টি “Roman, Bangla, or Manipuri alphabet” — কোনটি শিখবে ঠিক করতে না পারায় পরিকল্পনা বাদ যায়।
  • বিডিনিউজ২৪, 20 ফেব্রুয়ারি 2022: এনসিটিবি জানায়, শুরুতে সাঁওতাল ভাষায় বইয়ের পরিকল্পনা থাকলেও “লিপি নিয়ে জটিলতায় তা আটকে যায়। একই সমস্যা তৈরি হয় মনিপুরিদের ভাষার ক্ষেত্রেও।”

সাঁওতাল পক্ষের বক্তব্য

দ্য ডেইলি স্টারের 7 জানুয়ারি 2017-এর প্রতিবেদনে মেসবাহ কামালের ভাষ্য: সাঁওতালদের প্রায় 55 শতাংশ খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন, যাঁদের বেশির ভাগ রোমান হরফের পক্ষে, অন্যরা বাংলার পক্ষে; 2013 সালের এক মন্ত্রণালয়-সভায় দুই হরফেই বই ছাপানোর সরকারি প্রস্তাবও সাঁওতাল নেতারা ফিরিয়ে দেন। প্রতিবেদনে আরও তিনটি অবস্থান আছে:

  • জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন: আগে থেকে বাংলা হরফ পরিচিত হলে মূলধারার বাংলা বইয়ের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে শিশুদের সুবিধা হবে; অলচিকিতে একটি সংস্করণও হতে পারে।
  • আদিবাসী মুক্তি মোর্চার সভাপতি যোগেন্দ্রনাথ সরেন: রোমান হরফ “রোমান” নয়, কারণ প্রায় 154 বছর আগে তা সাঁওতালি বর্ণমালা হিসেবে “accepted” হয়েছিল।
  • রাজশাহীর তৎকালীন সংসদ সদস্য ও আদিবাসী-বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সভাপতি ফজলে হোসেন বাদশা: “Books should be printed in both scripts. It is the Santal students who will make the choice.”

ওই প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের বরাতে বলা হয়, এর ফলে প্রায় 50,000 সাঁওতাল প্রাক-প্রাথমিক শিশু বই থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অলচিকি লিপির উৎপত্তি ও গঠন নিয়ে আমাদের আর্কাইভে আছে সাঁওতালি ভাষা শিক্ষা লেখাটি।

চুক্তি, আইন ও শিক্ষানীতিতে কোনো ভাষার নাম আছে কি

মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকারের যে চারটি সরকারি ভিত্তি উৎসগুলোতে বারবার আসে — 1997-এর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, 1998-এ সংশোধিত পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 2006-এর পিইডিপি-২ কর্মপরিকল্পনা ও জাতীয় শিক্ষানীতি 2010 — তার কোনোটিতে নির্দিষ্ট ভাষার নাম বা ভাষা বাছাইয়ের মানদণ্ড পাওয়া যায়নি। সবগুলোর ভাষা সাধারণ: “মাতৃভাষা”, “সকল জাতিসত্তা”।

দলিলধারা / অংশযা বলা হয়েছেভাষার নাম?
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, 1997খ খণ্ড, ধারা 33(খ)(2) — মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার উদ্ধৃতি অনুযায়ী“মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা”নেই
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989প্রথম তফসিল (পরিষদের কার্যাবলী, ধারা 22), দফা 3 “শিক্ষা”, উপদফা (ঠ)“মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা” — 1998 সালের 9 নং আইনের (সংশোধনী) ধারা 36 দিয়ে যুক্তনেই
“Primary Education Situational Analysis, Strategies and Action Plan for Mainstreaming Tribal Children”, 2006 (পিইডিপি-২)—মাতৃভাষায় শিক্ষাদান, আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগ, প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়উৎসগুলোর বিবরণে নেই
জাতীয় শিক্ষানীতি 2010প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য“to facilitate learning in the mother languages of the indigenous peoples and small ethnic groups at the primary level of education”নেই

পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের তফসিলের উপদফাটি সরাসরি আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তফসিল-পিডিএফ থেকে পড়া (রাঙ্গামাটি আইনের মুদ্রিত পৃষ্ঠা 293–294)। একই তফসিলের পাদটীকা বলছে, দফা (ট), (ঠ) ও (ড) “রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ (সংশোধন) আইন, 1998 (1998 সনের 9 নং আইন)”-এর ধারা 36 দিয়ে সংযোজিত।

শিক্ষানীতির বাক্যটি বিশ্বব্যাংকের 2026 সালের একটি পরিবেশ-সামাজিক মূল্যায়ন নথিতে উদ্ধৃত ইংরেজি পাঠ থেকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইউনেসকো-প্রতিবেদন (2024–2025) একই উদ্দেশ্যকে লিখেছে “Facilitating learning of indigenous and ethnic groups in their mother tongues at the primary level”, আর এর পাশে রেখেছে “Ensuring the availability of teachers from ethnic communities” (প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা 14–15)।

শিক্ষানীতির বাংলা পাঠে একটি বানান নিয়েও পুরোনো আপত্তি আছে। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা লিখেছেন, নীতিতে “মাতৃভাষা শিক্ষা” (‘য়’ ছাড়া) লেখা হয়েছিল, যাকে বিভিন্ন সভায় কর্মকর্তারা “এক ধরণের মুদ্রণ প্রমাদ” বলেছিলেন; একই বানান 2013-র খসড়া শিক্ষা আইনেও ছিল। “মাতৃভাষায় শিক্ষা” আর “মাতৃভাষা শিক্ষা” — প্রথমটি মাধ্যম, দ্বিতীয়টি বিষয়।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ভাষা: তালিকা ও জনশুমারির সংখ্যা

প্রথম পর্যায়ের ছয়টির পর আরও বারোটি ভাষা দুই পর্যায়ে রাখা হয়েছিল — দ্বিতীয় পর্যায়ে ম্রো, দুই মণিপুরি, তঞ্চঙ্গ্যা, খাসি ও বম; তৃতীয় পর্যায়ে কোচ, কুড়ুখ, হাজং, রাখাইন, খুমি ও খিয়াং। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা ও বাংলা ট্রিবিউন দুই উৎসেই তালিকা হুবহু এক। মোট 18 ভাষা।

মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা এগুলোকে লিখেছেন সিদ্ধান্ত হিসেবে (“বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়”); বাংলা ট্রিবিউন লিখেছে এমএলই ফোরামের সুপারিশ হিসেবে (“দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য সুপারিশে ছিল”)। পর্যায়গুলোর ক্রম কীভাবে ঠিক হয়েছিল, কোনো উৎসে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

পর্যায়ভাষা (উৎসের বানানে)শুমারির জনগোষ্ঠীজনসংখ্যা, 2022
দ্বিতীয়ম্রোMro52,463
মণিপুরী (বিষ্ণুপ্রিয়া)Monipuri (দুই ভাষা একসঙ্গে গোনা)22,979
মণিপুরী (মৈতৈ)
তঞ্চঙ্গ্যাTonchonga45,974
খাসিKhasia/Khasi12,422
বমBom13,193
তৃতীয়কোচKoch13,704
কুড়ুক (ওঁরাও)Oraon (সাদরিভাষী ওরাওঁসহ)85,858
হাজংHajong7,996
রাখাইনRakhain11,197
খুমিKhumi3,780
খ্যাং / খিয়াংKhiang4,826

জনসংখ্যা: বিবিএস, জনশুমারি 2022, টেবিল P29, পৃষ্ঠা 365। ওরাওঁদের নাম তালিকায় দুবার এসেছে — প্রথম পর্যায়ে সাদরির পাশে, তৃতীয় পর্যায়ে কুড়ুখের পাশে। এর কারণ, বাংলাদেশের ওরাওঁদের একাংশ কুড়ুখ বলেন, অন্য অংশ সাদরি; সে বিভাজনের বিবরণ আছে কুড়ুখ: ওরাওঁদের ভাষা বরেন্দ্র অঞ্চলে কীভাবে টিকে আছে লেখায়।

এই 18-ভাষার তালিকার বাইরেও ভাষা আছে। শুমারির টেবিলে মুন্ডা 60,201 জন — মুন্ডা পর্যায়-তালিকায় নেই; নিউ এজের লেখা অনুযায়ী সাদরিভাষীদের মধ্যে মুন্ডারাও আছেন। লুসাই, পাংখোয়া, চাক, পাত্র (লালেং) প্রভৃতি ভাষাও কোনো পর্যায়ে নেই (নিচে “বিপন্ন ভাষা” অংশ)।

বাকি ভাষাগুলো নিয়ে সরকারের ঘোষণা: বছর ধরে

2012 থেকে 2026 পর্যন্ত প্রায় প্রতিবারই সরকারি বক্তব্য একই রকম — “পর্যায়ক্রমে” বাকি ভাষাগুলোতে বই হবে। কোনো বক্তব্যে নির্দিষ্ট ভাষা, শিক্ষাবর্ষ বা বাজেট পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর একমাত্র প্রকাশিত সময়সীমা “2020 সালের দিকে” (বাংলা ট্রিবিউন), যা কোভিডে পিছিয়ে যায় এবং পরে শুরু হয়নি।

তারিখকে, কোথায়বাকি ভাষা নিয়ে যা বলা হয়
31 অক্টোবর 2012মন্ত্রণালয়ের সভা (মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার “বাংলাদেশের আদিবাসী ভাষা” লেখায়)“পরে পর্যায়ক্রমে সকল ভাষায় অনুরূপ উদ্যোগ গ্রহণ করার পরিকল্পনাও হাতে রাখা হয়”
14 জুলাই 2013এমএলই-বিষয়ক জাতীয় কমিটিদ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে ছয়টি করে ভাষা
24 নভেম্বর 2017এনসিটিবি চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা (ঢাকা ট্রিবিউন)সাঁওতাল বইয়ের সংখ্যাও ঠিক হয়নি
20 ফেব্রুয়ারি 2022পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সং (বিডিনিউজ২৪)“প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে অন্যান্য ভাষায়ও পাঠ্যবই করা হবে”
20 ফেব্রুয়ারি 2022এনসিটিবি চেয়ারম্যান ফরহাদুল ইসলাম (বিডিনিউজ২৪)মাতৃভাষায় পাঠ্যবই তৈরির প্রক্রিয়া “স্থগিত হয়ে গেছে”
20 ফেব্রুয়ারি 2023প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত (বাংলা ট্রিবিউন)“পাঁচটি ভাষা দিয়ে শুরু হয়েছে, আমরা পর্যায়ক্রমে বাড়াবো”
ফেব্রুয়ারি 2023এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান (বাংলা ট্রিবিউন)দ্বিতীয় পর্যায়ের “কারিকুলাম প্রস্তুত রয়েছে”; মন্ত্রণালয়, এমএলই ফোরাম, অধিদপ্তর ও এনসিটিবির বৈঠকে সিদ্ধান্ত লাগবে
22 ফেব্রুয়ারি 2024অধ্যাপক সৌরভ সিকদার (বিডিনিউজ২৪)আরও পাঁচ ভাষায় বইয়ের কাজ চলছে; দুই বছর কমিটির কোনো বৈঠক হয়নি
21 মার্চ 2024দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদকীয়সরকারের পাঁচটির বাইরে বই প্রকাশের “no plan” এখন নেই
30 এপ্রিল 2025এনসিটিবি মিলনায়তনে কর্মশালা (তথ্য অধিদপ্তরের ছবির বিবরণ)শিরোনাম: পাঁচটি ভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, বিতরণ ও বাস্তবায়ন পর্যালোচনা
14 জুলাই 2026শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, জাতীয় সংসদ (বাসস)অন্যান্য ভাষায় এমএলই সম্প্রসারণের “নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে”

2022: মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও এনসিটিবি

বিডিনিউজ২৪-এর 20 ফেব্রুয়ারি 2022-এর প্রতিবেদনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সং পাঁচ ভাষার অবস্থা বর্ণনা করেন এভাবে: “আমাদের যে পাঁচটি ভাষায় পাঠ্যবই দেওয়া হল, সেগুলো চালাতে গিয়েই হিমশিম অবস্থা। শিক্ষক নেই। আমি নিজে বলতে পারি, কিন্তু লিখতে পারি না।” পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য, খাগড়াছড়ির তৎকালীন সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, “আমরা অন্যান্য ভাষাগুলোতেও পাঠ্যবই করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

একই প্রতিবেদনে এনসিটিবির চেয়ারম্যান ফরহাদুল ইসলাম পাঁচ ভাষার বইয়ের ব্যবস্থাপনাকে বলেন “খুব খারাপ”, আর নতুন ভাষায় বই তৈরি থেমে যাওয়ার কারণ হিসেবে মণিপুরি ভাষার দুই শাখার বিরোধের কথা বলেন (নিচে বিস্তারিত)। তিনি আরও বলেন, জনগোষ্ঠীগুলো মনে করে “সরকারই সব করবে”। প্রতিবেদনের ইংরেজি সংস্করণে স্থগিতের কারণ লেখা হয়েছে “conflicts among sub-groups and their indifference”।

কারিগরি কমিটির সদস্য সৌরভ সিকদার একই প্রতিবেদনে পরের ধাপের মানদণ্ড বলেন: “পরবর্তীতে অন্যান্য যে জনগোষ্ঠীর লোকসংখ্যা বেশি, যাদের রিসোর্স পার্সন আছে, লিটারেচার আছে, তাদের নিয়ে কাজ করব আমরা। সাঁওতাল ভাষায় লিপির সমস্যার কারণে এটা আটকে গেছে, তাদেরও আমরা নেব।” তাঁর মত, নতুন ভাষার আগে পাঁচ ভাষার “সফল বাস্তবায়ন” দরকার; 2013-য় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ডেটাবেইজ তৈরির পরামর্শ দেওয়া হলেও তা শুরু হয়নি, আর “২০২০ সাল থেকে এই কাজটা স্থবির হয়ে আছে।”

কোন ভাষায় অভিধান, ব্যাকরণ বা প্রকাশিত সাহিত্য আছে — সিকদারের “লিটারেচার আছে” মানদণ্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পাঠক দেখতে পারেন আদিবাসী ভাষার অভিধান: কোন ভাষার অভিধান আছে ও আদিবাসী ভাষার বই প্রকাশনা লেখা দুটি।

2023: “কারিকুলাম প্রস্তুত”

বাংলা ট্রিবিউনের 21 ফেব্রুয়ারি 2023-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী পাঁচ ভাষা চালুর পর “২০২০ সালের দিকে দ্বিতীয় পর্যায়ের ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার কথা ছিল। তবে করোনার কারণে তা পিছিয়ে পড়ে। করোনা শেষ হলেও এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয়নি।” এমএলই ফোরামের সদস্য সচিব তপন কুমার দাস বলেন, “দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরুই হয়নি।” এনসিটিবির সদস্য রিয়াজুল হাসানের ভাষ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের কারিকুলাম প্রস্তুত, সিদ্ধান্ত আটকে আছে চার পক্ষের বৈঠকে।

2024: “আরও পাঁচ ভাষায় কাজ চলছে”

বিডিনিউজ২৪-এর 22 ফেব্রুয়ারি 2024-এর ইংরেজি প্রতিবেদনে সৌরভ সিকদার বলেন, “Books in other languages are not available yet, and work to create books in five more languages is ongoing.” কোন পাঁচটি ভাষা, প্রতিবেদনে নাম নেই। একই সঙ্গে তিনি জানান, “no meetings have been held in two years”। এনসিটিবি চেয়ারম্যান ফরহাদুল ইসলাম বলেন, অনেক ভাষায় লিপির ঘাটতি আছে, কোন লিপিতে বই হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে, আর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ-ম্যানুয়াল সদ্য শেষ হয়েছে।

এক মাস পর, 21 মার্চ 2024, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদকীয় লিখেছে: “Since most ethnic languages do not have alphabets, the government currently has no plan to publish textbooks in languages other than the designated five”।

2025: এনসিটিবির কর্মশালা

উইকিমিডিয়া কমন্সে সংরক্ষিত তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) ছবির বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার 30 এপ্রিল 2025 মতিঝিলে এনসিটিবি মিলনায়তনে “প্রাথমিক স্তরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পাঁচটি ভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, বিতরণ ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়াদি পর্যালোচনা” শীর্ষক কর্মশালা হয়; প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। কর্মশালায় নতুন ভাষা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছিল কি না, পড়া যায় এমন কোনো প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

2026-এর সংসদ: “নীতিগত সিদ্ধান্ত” ও পঞ্চম ভাষার নাম নিয়ে প্রশ্ন

14 জুলাই 2026 জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, পাঁচ ভাষার বাইরে “অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায়ও বহুভাষিক শিক্ষা (এমএলই) সম্প্রসারণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।” এটিই এ পর্যন্ত বাকি ভাষাগুলো নিয়ে সর্বশেষ সরকারি ঘোষণা। কোন ভাষা ও কোন বছর থেকে — উত্তরে তা নেই।

বক্তব্যের প্রেক্ষাপট

বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী মন্ত্রী কথাগুলো বলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-19-এর সরকারি দলের সংসদ সদস্য আন্না মিনজের কার্যপ্রণালী বিধির 71 বিধিতে আনা মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে। তিনি জানান:

  • জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক শ্রেণি-রুটিনে এসব মাতৃভাষার পাঠদান অন্তর্ভুক্ত করেছে।
  • 2026 সালে পাঁচটি পিটিআইয়ে 15টি ব্যাচে 450 জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
  • এনসিটিবি এ বছর পাঁচ ভাষায় 37টি নতুন বই প্রকাশ করছে।
  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে বিলুপ্তপ্রায় 30টি ভাষা সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষক-স্বল্পতা বড় চ্যালেঞ্জ; স্থানীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পঞ্চম ভাষা কোনটি: সাদরি না সাঁওতালি

বাসসের বাংলা প্রতিবেদন (নয়া দিগন্তে প্রকাশিত) অনুযায়ী মন্ত্রী পাঁচ ভাষার নাম বলেছেন “চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাঁওতালী”। বাসসের ইংরেজি প্রতিবেদনেও “Chakma, Marma, Tripura, Garo and Santal”। ইউএনবির প্রতিবেদনে সম্প্রসারণের বাক্যে আছে “beyond Chakma, Marma, Tripura and Santal languages”।

অন্যদিকে এনসিটিবির 2026 শিক্ষাবর্ষের দুটি তালিকা-পাতায় পঞ্চম কলাম “সাদরি”, এবং 2026-এর সাদরি প্রাক-প্রাথমিক বইটি বাংলা হরফে “হামার বই”। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের 2024–2025-এর ইউনেসকো-প্রতিবেদনেও “Sadri”। এনসিটিবির কোনো তালিকায় সাঁওতালি বই পাওয়া যায়নি।

একই বছরের মাঠের খবর

সংসদের বক্তব্যের পাঁচ মাস আগে, 20 ফেব্রুয়ারি 2026, প্রথম আলো বান্দরবান থেকে লিখেছিল, তিন পার্বত্য জেলায় 2026 শিক্ষাবর্ষে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর 66,687 শিশু মাতৃভাষার বই পেয়েছে, কিন্তু শিক্ষক না থাকায় “৯ বছরেও পাঠদান শুরু হয়নি”। শিক্ষকদের ভাষ্যে, এ বছর শিশু শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সপ্তাহে চার দিন মাতৃভাষার একটি করে বিষয় রুটিনে রাখা হয়েছে। বান্দরবানের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিণয় চাকমা একে বলেছেন “এক ধাপ অগ্রগতি”।

মণিপুরি ও ম্রো: দ্বিতীয় পর্যায়ের দুই উদাহরণ

দ্বিতীয় পর্যায়ের ছয় ভাষার দুটির ক্ষেত্রে কেন কাজ এগোয়নি, তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ উৎসে আছে। মণিপুরির কাজ এনসিটিবি নিজেই শুরু করেছিল, থেমেছে ভাষার দুই শাখার বিরোধে। ম্রো ভাষার নিজস্ব লিপি আছে, কিন্তু সরকারি বইয়ের কোনো উদ্যোগের খবর পাওয়া যায়নি; ভাষাটি পড়ানো হচ্ছে কমিউনিটি স্কুলে।

মণিপুরি: “একটি ভাষার মধ্যে দুটি শাখা”

বিডিনিউজ২৪-এর 20 ফেব্রুয়ারি 2022-এর প্রতিবেদনে এনসিটিবি চেয়ারম্যান ফরহাদুল ইসলাম বলেন: “আমরা মনিপুরি ভাষায় পাঠ্যবইয়ের কাজটা যখন করতে গেলাম, তখন তাদের মধ্যে দুটি ভাগ তাদের ভাষায় করতে বললেন। অর্থাৎ একটি ভাষার মধ্যে দুটি শাখা। এক পক্ষ বলছে, তাদেরটা করতে হবে, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। সরকার অনেক দূর এগিয়ে কাজটি আর করতে পারল না।”

2013-র পর্যায়-তালিকায় বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈতৈ মণিপুরি আলাদা দুটি ভাষা হিসেবে আছে। শুমারি দুটিকে “Monipuri” নামে একসঙ্গে গোনে (22,979 জন)। আইটিভির 2026-এর প্রতিবেদনে ইনস্টিটিউটের নিজস্ব-বর্ণমালার তালিকায় “মণিপুরি” আছে, আর নিউ এজের তালিকায় “মৈতৈ মণিপুরি”।

ম্রো: নিজস্ব লিপি, কমিউনিটি স্কুল

ম্রো দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথম নাম। ইনস্টিটিউটের তালিকায় ম্রো আটটি নিজস্ব-বর্ণমালার ভাষার একটি; শুমারিতে ম্রো 52,463 জন। মেনলে ম্রোর তৈরি বর্ণমালার বিবরণ আছে ম্রো লিপি: মেনলে ম্রোর বর্ণমালা লেখায়, আর ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বইয়ের কথা ততোং: ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই লেখায়। সিকদারের “রিসোর্স পার্সন, লিটারেচার” মানদণ্ডে ম্রো কোথায় দাঁড়ায়, কোনো সরকারি মূল্যায়ন পাওয়া যায়নি।

সরকারি বই না থাকলেও বান্দরবানের লামায় ম্রো শিশুদের জন্য কমিউনিটি স্কুল আছে। দ্য ডেইলি স্টার 22 ডিসেম্বর 2025-এ লিখেছে, লামায় এক দশকের বেশি আগে প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি স্কুল পাওমুম থারক্লা “continues to work towards preserving the Mro language, early childhood education, and cultural practices”; স্কুলটির আয়োজনে ঢাকায় সপ্তাহব্যাপী “পাওমুম পার্বণ” হয়। বিডিনিউজ২৪ 2024-এ লামার চাম্পাঝিরি পাড়ার আরেকটি আবাসিক বিদ্যালয় “পাওমাং”-এর খবর দিয়েছে — 2013-য় প্রতিষ্ঠিত, 116 শিক্ষার্থীর 95 শতাংশ ম্রো। দুটি নাম একই প্রতিষ্ঠানের কি না, উৎস দুটি থেকে স্পষ্ট নয়।

বিপন্ন ভাষাগুলো কোন পর্যায়ে

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের বিপন্ন-ভাষার তালিকায় 14টি ভাষা। এর দুটি — খুমি ও খিয়াং — তৃতীয় পর্যায়ে আছে; বাকি বারোটি 2013-র কোনো পর্যায়ে নেই। কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা 2022-এ বলেছেন, অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত বিপন্ন ভাষার, বহুল ব্যবহৃত পাঁচটির নয়।

ইনস্টিটিউটের তালিকায় বিপন্ন ভাষা (আইটিভি, 2026)2013-র পর্যায়-তালিকায়
খুমিতৃতীয় পর্যায়
খিয়াংতৃতীয় পর্যায় (“খ্যাং”)
কন্দ, খাড়িয়া, কোডা, সৌরা, মুণ্ডারি, কোল, মালতো, পাংখোয়া, রেংমিত্চা, চাক, লুসাই, লালেংনেই

সংখ্যাটি নিয়েও উৎসে ভিন্নতা আছে। বিডিনিউজ২৪-এর বাংলা প্রতিবেদন (2022) ইনস্টিটিউটের বরাতে 14টি বিপন্ন ভাষার কথা বলেছে; একই প্রতিবেদনের ইংরেজি সংস্করণে তথ্যটি “A 2010 anthropological study”-র। তারিক মনজুর প্রথম আলোয় (2024) লিখেছেন “১৪টির বেশি ভাষা বিপন্ন”, যাদের প্রতিটিতে 40–50 জন থেকে বড়জোর 2–3 হাজার মানুষ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী সংসদে (2026) বলেছেন 30টি বিলুপ্তপ্রায় ভাষার কথা। ঢাকা ট্রিবিউন (2022) ইনস্টিটিউটের বরাতে লিখেছে, গত 50 বছরে দেশ থেকে 14টি ভাষা হারিয়ে গেছে।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান আইটিভিকে জানান, কন্দ, খাড়িয়া, রেংমিত্চা ও খুমি — চার ভাষা রক্ষায় ইনস্টিটিউট কাজ করছে। তালিকার লালেং ভাষা নিয়ে আমাদের লেখা লালেং থার: সিলেটের পাত্র জনগোষ্ঠীর ভাষা।

তারিক মনজুর একই কলামে লিখেছেন, “বিপন্নপ্রায় ভাষাকে রক্ষা করার সবচেয়ে ভালো উপায় হতে পারে শিক্ষার্থীর জন্য সেই ভাষায় পাঠ্যবই তৈরি করে দেওয়া।” সৌরভ সিকদার 2022-এ বলেছেন, “যে ভাষাগুলো বিলুপ্তির পথে, সেগুলো তো এখনও পাঠ্যবইয়ের সুযোগ পাচ্ছে না।”

সমতল ও চা-বাগানের ভাষা

পাঁচ ভাষার তিনটি — চাকমা, মারমা, ককবরক — পার্বত্য চট্টগ্রামের, দুটি — গারো ও সাদরি — প্রধানত সমতলের। দ্য ডেইলি স্টার 2025-এ এভাবেই বর্ণনা করেছে প্রথম পর্যায়কে। চা-বাগানের প্রায় 15টি ভাষা কোনো সরকারি তালিকায় নেই। সমতলে বিতরণ ও প্রশিক্ষণ পাহাড়ের চেয়েও দুর্বল বলে একাধিক প্রতিবেদন জানিয়েছে।

“তিনটি পাহাড়ের, দুটি সমতলের”

দ্য ডেইলি স্টারের 21 ফেব্রুয়ারি 2025-এর প্রতিবেদন লিখেছে, প্রথম পর্যায়টি “focused on three languages from the hilly regions — Chakma, Marma, and Tripura — and two from the plains — Sadri and Garo”। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী চা-বাগানের প্রায় 5 লাখ বাসিন্দা প্রায় 15টি ভাষায় কথা বলেন; এসআইএল চা-বাগানের মধ্যে 15টি বিপন্ন ভাষা চিহ্নিত করেছে, যেমন কন্দ, গঞ্জু, বানাই, বড়াইক, ভূমিজ। এসআইএলের কান্ট্রি ডিরেক্টর কর্নেলিয়াস টুডু এসব ভাষার ক্ষয়ের কারণ হিসেবে আর্থসামাজিক দুরবস্থার কথা বলেন।

প্রথম আলোর 20 ফেব্রুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদন অন্যভাবে লিখেছে: এনসিটিবি “পাহাড় ও সমতলে তিনটি করে ছয়টি জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করেছে।” সমতলের তৃতীয় জাতিগোষ্ঠী কোনটি, প্রতিবেদনে নাম নেই।

সমতলে বই ও শিক্ষক

দ্য ডেইলি স্টারের 20 ফেব্রুয়ারি 2020-এর প্রতিবেদনে সিলেট বিভাগে প্রাথমিক শিক্ষার উপপরিচালক এ কে এম শাফায়েত আলম বলেন, গারো ও ত্রিপুরা ভাষার শিক্ষকের সংকট এত তীব্র যে সেখানে প্রশিক্ষণ আয়োজন প্রায় অসম্ভব। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ত্রিপুরা শিক্ষার্থী জানায়, বছরের শুরুতে বই পেলেও সেই বই দিয়ে কোনো ক্লাস হয়নি। নিউ এজের লেখায় আছে, 2017-য় বই পার্বত্য চট্টগ্রামের শিশুদের কাছে পৌঁছালেও সমতলের সব আদিবাসী শিশু তা পায়নি।

দিনাজপুরে সাঁওতাল শিশুদের অবস্থা বিডিনিউজ২৪ 2024-এ তুলে ধরেছে: সদর উপজেলার বেলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের 123 শিক্ষার্থীর 30 জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর, বেশির ভাগ সাঁওতাল, কিন্তু তাদের ভাষায় বই বা শিক্ষক নেই। একই প্রতিবেদনে দিনাজপুরের কড়া জনগোষ্ঠীর কথা আছে — দেশের 28টি কড়া পরিবারের 24টি বিরল উপজেলার ঝিনাইকুড়ি গ্রামে।

সরকারি তালিকার বাইরে যেসব ভাষায় পড়ানো হয়

সরকারি বইয়ের আগে থেকেই বেসরকারি সংস্থাগুলো মাতৃভাষায় পড়াচ্ছিল, এবং সংখ্যায় তা সরকারি পাঁচ ভাষার চেয়ে অনেক বিস্তৃত। এমএলই ফোরাম ও আরডিসির ম্যাপিং সমীক্ষা 102টি সংস্থাকে 78টি জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃভাষাভিত্তিক কার্যক্রম চালাতে পেয়েছিল। তবে সেখানেও আদিবাসী ভাষায় লেখা বইয়ের বেশির ভাগ চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা শিশুদের জন্য।

ম্যাপিং সমীক্ষার সংখ্যা

দ্য ডেইলি স্টারে সমীক্ষার আলোচনায় সিডিআইপির আলমগীর খান লিখেছেন: 102টি সংস্থা 29 জেলার 112টি উপজেলায় 78টি আদিবাসী ও জাতিগত জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক এমএলই কার্যক্রম চালায়; আদিবাসী ভাষায় লেখা 185 ধরনের বই পাওয়া গেছে, “most of which are for Chakma, Marma and Tripura children”; শিক্ষার্থী প্রাক-প্রাথমিকে 7,411 ও প্রাথমিকে 65,739; শিক্ষক 3,496, যাঁদের 93 শতাংশ আদিবাসী; এমএলই স্কুলের 46 শতাংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে। সমীক্ষার শিরোনাম “Mapping of Multilingual Education Programs in Bangladesh” (ইউনেসকো ঢাকা)।

কয়েকটি উদ্যোগ

  • জাবারাং কল্যাণ সমিতি, খাগড়াছড়ি: প্রথম আলোর 2015 সালের প্রতিবেদনে মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা জানান, 2006 সাল থেকে সংস্থাটির এমএলই কার্যক্রম চলছে; তিন উপজেলার 49টি বিদ্যালয়ে প্রায় 900 শিক্ষার্থী। একই প্রতিবেদনে খাগড়াছড়ির বিরাশিমুড়া পাড়ার অঙ্কুর বিদ্যালয়ে শিশুরা ককবরক লিখতে পারে বলে লেখা আছে।
  • সেভ দ্য চিলড্রেন, 2007: “Mother Language First” প্রতিবেদন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ, জাবারাং কল্যাণ সমিতি ও সেভ দ্য চিলড্রেনের যৌথ প্রকাশনা। প্রচ্ছদে শিরোনামটি ছয় ভাষায় ছাপা — ককবরক, মারমা, সাঁওতালি, চাকমা, আচিক (গারো) ও সাদরি।
  • কড়া পাঠশালা, দিনাজপুর: বিডিনিউজ২৪ (2024) অনুযায়ী বেসরকারি সংস্থা ভাবনা প্রতিষ্ঠিত পাঠশালায় 21 শিক্ষার্থী; শিক্ষকেরা সাদরিভাষী এবং কড়া ভাষা বোঝেন।
  • গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র, দিনাজপুর: একই প্রতিবেদন অনুযায়ী সদরের আট ইউনিয়নের 18টি স্কুলে প্রতি প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে একজন করে শিক্ষক দিয়ে আদিবাসী শিশুদের নিজ ভাষায় পড়ানো হয়।
  • ম্রো কমিউনিটি স্কুল, লামা: ওপরের “মণিপুরি ও ম্রো” অংশ দেখুন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা বর্ণমালা শেখানোর স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের বিবরণ দীঘিনালার চাঙমা সাহিত্য বা লেখায় আছে। লিপি, কর্মসূচি ও শ্রেণিকক্ষের বাস্তবতার সামগ্রিক চিত্রের জন্য দেখতে পারেন পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা: লিপি, কর্মসূচি ও বাস্তবতা।

উৎসভেদে অমিল

নিচের অমিলগুলো উৎসের নামসহ পাশাপাশি রাখা হলো; কোনটি সঠিক, এখানে বিচার করা হয়নি।

প্রশ্নএক উৎসঅন্য উৎস
পঞ্চম ভাষাএনসিটিবি 2026 তালিকা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইউনেসকো-প্রতিবেদন: সাদরিশিক্ষামন্ত্রী, সংসদ, 14 জুলাই 2026 (বাসস, ইউএনবি): সাঁওতালি
বাছাইয়ের কারণমথুরা বিকাশ ত্রিপুরা (2015): “জনসংখ্যার পরিমাণ বিবেচনায়”ঢাকা ট্রিবিউন (2022): লিখিত রূপ আছে বলে
লিখিত রূপঢাকা ট্রিবিউন (2022): পাঁচটিরই “written forms” আছেএনসিটিবির বিশেষজ্ঞ, প্রথম আলো (2016): ত্রিপুরা, গারো ও সাদরির নিজস্ব লিপি নেই
সাঁওতালির বিকল্প হরফপ্রথম আলো (2016): বাংলা বনাম রোমানঢাকা ট্রিবিউন (2022): রোমান, বাংলা বা “Manipuri”; দ্য ডেইলি স্টার (2017): অলচিকির কথাও
পর্যায়গুলোর মর্যাদামথুরা বিকাশ ত্রিপুরা: সরকারি সিদ্ধান্তবাংলা ট্রিবিউন (2023): এমএলই ফোরামের সুপারিশ
কতটি জাতিগোষ্ঠীর বইএনসিটিবি তালিকা ও অধিকাংশ উৎস: পাঁচপ্রথম আলো (2026): পাহাড় ও সমতলে তিনটি করে ছয়
শিক্ষানীতিতে কী আছেশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংকের উদ্ধৃতি: প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় শিক্ষার সুবিধাঢাকা ট্রিবিউন (2017): নীতিতে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণিতে 100%, দ্বিতীয়তে 75%, তৃতীয়তে 50%, চতুর্থে 25% মাতৃভাষার বই
প্রথম বই কবেএনসিটিবি ও অধিকাংশ উৎস: 2017দ্য ডেইলি স্টার (2025): “By 2014”
সাঁওতালদের অবস্থানমেসবাহ কামাল, দ্য ডেইলি স্টার (2017): চাকমাদের পরে বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠীবিবিএস শুমারি 2022: চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরার পরে চতুর্থ (129,056)
বিপন্ন ভাষাইনস্টিটিউট (আইটিভি 2026, বিডিনিউজ২৪ 2022): 14শিক্ষামন্ত্রী (2026): 30; তারিক মনজুর (2024): 14-র বেশি

প্রশ্নোত্তর

কোন পাঁচটি ভাষায় পাঠ্যবই দেওয়া হয়?

এনসিটিবির 2026 শিক্ষাবর্ষের তালিকায় চাকমা, মারমা, গারো, সাদরি ও ত্রিপুরা (ককবরক)। বই আছে প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের 2024–2025-এর ইউনেসকো-প্রতিবেদনেও এই পাঁচ নাম। তবে 14 জুলাই 2026 সংসদে শিক্ষামন্ত্রী সাদরির জায়গায় সাঁওতালির নাম বলেছেন বলে বাসস ও ইউএনবি জানিয়েছে।

পাঁচটি ভাষা কেন বেছে নেওয়া হয়েছিল?

প্রকাশিত কোনো সরকারি আদেশে কারণ লেখা নেই। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার 2015 সালের বিবরণ অনুযায়ী 31 অক্টোবর 2012-র মন্ত্রণালয়-সভায় “জনসংখ্যার পরিমাণ বিবেচনায়” ছয়টি ভাষা বাছা হয়। ঢাকা ট্রিবিউন 2022-এ লিখেছে, ভাষাগুলোর লিখিত রূপ আছে বলে বাছা হয়েছিল। মেসবাহ কামাল 2017-এ এগুলোকে বলেছেন “five most-used languages”।

ভাষা বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত কারা নিয়েছিল?

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব এম এম নিয়াজউদ্দিনের সভাপতিত্বে 31 অক্টোবর 2012-র সভায় ছয় ভাষা বাছা হয়, আর 14 জুলাই 2013-র এমএলই-বিষয়ক জাতীয় কমিটি পাঁচে নামায়। বাংলা ট্রিবিউন 2023-এ লিখেছে, অগ্রাধিকারভিত্তিক ভাষার তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল গণসাক্ষরতা অভিযানের উদ্যোগে গঠিত এমএলই ফোরাম।

সাঁওতালি ভাষায় সরকারি পাঠ্যবই নেই কেন?

বই কোন হরফে হবে — বাংলা, রোমান না অলচিকি — তা নিয়ে সাঁওতাল নেতৃত্বের মতভেদের কারণে 14 জুলাই 2013-র জাতীয় কমিটির সভায় সাঁওতালির উপকরণ প্রণয়ন স্থগিত হয়। দ্য ডেইলি স্টার 2017-এ জানায়, 2013-র এক মন্ত্রণালয়-সভায় দুই হরফে বই ছাপানোর প্রস্তাবও সাঁওতাল নেতারা ফিরিয়ে দেন। এনসিটিবি চেয়ারম্যান 2017-এ একে বলেন সাঁওতালদের “non-cooperation”।

ত্রিপুরা, গারো ও সাদরি বই কোন হরফে লেখা?

ককবরক (ত্রিপুরা) ও গারো বই রোমান হরফে, সাদরি বই বাংলা হরফে; চাকমা ও মারমা বই নিজস্ব লিপিতে। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার বিবরণে এই সিদ্ধান্ত 3 ডিসেম্বর 2012-র কমিটি-সভার। 2026-এর প্রাক-প্রাথমিক প্রচ্ছদেও তা-ই: গারো “Angni Ki·tap”, ককবরক “ANI BIJAP”, সাদরি “হামার বই”।

দ্বিতীয় পর্যায়ে কোন কোন ভাষা থাকার কথা ছিল?

ম্রো, মণিপুরী (বিষ্ণুপ্রিয়া), মণিপুরী (মৈতৈ), তঞ্চঙ্গ্যা, খাসি ও বম। তৃতীয় পর্যায়ে কোচ, কুড়ুখ (ওরাওঁ), হাজং, রাখাইন, খুমি ও খিয়াং। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা ও বাংলা ট্রিবিউনের তালিকা একই। বাংলা ট্রিবিউন 2023-এ জানায়, দ্বিতীয় পর্যায় 2020 সালের দিকে শুরুর কথা ছিল, কোভিডে পিছিয়ে যায়, পরে আর শুরু হয়নি।

বাকি ভাষাগুলোতে কবে পাঠ্যবই হবে?

কোনো তারিখ ঘোষণা হয়নি। সর্বশেষ সরকারি বক্তব্য 14 জুলাই 2026-এর: শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন সংসদে বলেন, অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায়ও এমএলই সম্প্রসারণের “নীতিগত সিদ্ধান্ত” হয়েছে। এর আগে 2023-এ এনসিটিবি দ্বিতীয় পর্যায়ের কারিকুলাম প্রস্তুত বলেছিল, আর 2024-এ সৌরভ সিকদার আরও পাঁচ ভাষায় কাজ চলার কথা বলেছিলেন।

মণিপুরি ভাষার পাঠ্যবইয়ের কাজ থেমে গেল কেন?

এনসিটিবি চেয়ারম্যান ফরহাদুল ইসলাম 20 ফেব্রুয়ারি 2022-এ বিডিনিউজ২৪-কে বলেন, কাজ শুরু করার পর মণিপুরিদের দুটি ভাগ নিজ নিজ ভাষায় বই চায়, এক পক্ষ নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দাবি করে, ফলে “সরকার অনেক দূর এগিয়ে কাজটি আর করতে পারল না।” পর্যায়-তালিকায় বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈতৈ মণিপুরি আলাদা দুটি ভাষা।

ম্রো ভাষায় কি কোনো স্কুলে পড়ানো হয়?

সরকারি বই নেই; ম্রো দ্বিতীয় পর্যায়ের তালিকায়। বান্দরবানের লামায় কমিউনিটি স্কুল পাওমুম থারক্লা ম্রো ভাষা ও প্রারম্ভিক শিক্ষা নিয়ে কাজ করছে বলে দ্য ডেইলি স্টার 22 ডিসেম্বর 2025-এ লিখেছে। ইনস্টিটিউটের তালিকায় ম্রো নিজস্ব বর্ণমালা থাকা আটটি ভাষার একটি; শুমারি 2022-এ ম্রো 52,463 জন।

বিপন্ন ভাষাগুলো কি পাঠ্যবইয়ের পরিকল্পনায় আছে?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের 14টি বিপন্ন ভাষার মধ্যে কেবল খুমি ও খিয়াং তৃতীয় পর্যায়ের তালিকায় আছে; কন্দ, খাড়িয়া, কোডা, সৌরা, মুণ্ডারি, কোল, মালতো, পাংখোয়া, রেংমিত্চা, চাক, লুসাই ও লালেং কোনো পর্যায়ে নেই। কাপেং ফাউন্ডেশনের পল্লব চাকমা 2022-এ বলেছেন, অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত ছিল বিপন্ন ভাষার।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বা শিক্ষানীতিতে কি নির্দিষ্ট ভাষার নাম আছে?

না। চুক্তির খ খণ্ডের 33 ধারা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন 1989-এর প্রথম তফসিলের দফা 3(ঠ) (1998-এ যুক্ত) ও জাতীয় শিক্ষানীতি 2010 — সবগুলোতে “মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা” বা সব জাতিসত্তার মাতৃভাষার কথা আছে, কোনো ভাষার নাম বা বাছাইয়ের মানদণ্ড নেই।

পাঁচ ভাষার জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা কত?

বিবিএসের জনশুমারি 2022-এর টেবিল P29 অনুযায়ী চাকমা 483,365, মারমা 224,299, ত্রিপুরা 156,620, ওরাওঁ 85,858 ও গারো 76,854; বাদ পড়া সাঁওতাল 129,056। শুমারি জাতিগোষ্ঠী গোনে, ভাষা নয় — সাদরি ওরাওঁ ছাড়া অন্য জনগোষ্ঠীরও ভাষা। 2016 সালে এনসিটিবির কর্মকর্তারা পাঁচ জাতিগোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা 10 লাখের বেশি বলেছিলেন।

যা এখনো জানা যায়নি

  • সভার কার্যবিবরণী: 31 অক্টোবর 2012, 3 ডিসেম্বর 2012 ও 14 জুলাই 2013-র সভার মূল কার্যবিবরণী কোথাও প্রকাশিত পাওয়া যায়নি। “জনসংখ্যার পরিমাণ বিবেচনায়” বাক্যটি একজন কমিটি-সদস্যের লেখা থেকে, সরকারি নথি থেকে নয়।
  • এমএলই ফোরামের সুপারিশমালা: “অগ্রাধিকারভিত্তিতে” ভাষা বাছাইয়ের মানদণ্ড কী ছিল, মূল দলিলটি পাওয়া যায়নি।
  • পর্যায়ের ক্রম: ম্রো কেন দ্বিতীয় আর খুমি কেন তৃতীয় পর্যায়ে — ক্রম নির্ধারণের কোনো ব্যাখ্যা উৎসে নেই।
  • “আরও পাঁচ ভাষা”: সৌরভ সিকদার 2024-এ যে পাঁচ ভাষায় কাজ চলার কথা বলেছেন, সেগুলোর নাম জানা যায়নি; 2023-এ “প্রস্তুত” বলা দ্বিতীয় পর্যায়ের কারিকুলামও প্রকাশিত হয়নি।
  • 2026-এর “নীতিগত সিদ্ধান্ত”: কবে, কোন সভায়, কোন ভাষার জন্য — সংসদের বক্তব্যের প্রতিবেদনে তথ্য নেই।
  • সাদরি না সাঁওতালি: সংসদে মন্ত্রীর বক্তব্যে সাঁওতালির নাম কেন এসেছে, কোনো সংশোধনী বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
  • 2025-এর কর্মশালা: 30 এপ্রিল 2025-এর এনসিটিবি কর্মশালায় নতুন ভাষা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছিল কি না, জানা যায়নি।
  • নৃভাষাবৈজ্ঞানিক সমীক্ষা: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সমীক্ষার পূর্ণ খণ্ডগুলো প্রকাশিত হয়নি বলে বিডিনিউজ২৪ জানিয়েছে; ফলে কোন ভাষার কত বক্তা, কত লিখিত উপকরণ — সরকারি পূর্ণ হিসাব পাওয়া যায় না।

তথ্যসূত্র

জুমজার্নাল আর্কাইভ

  1. মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, “আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা : অপেক্ষার শেষ কোথায় ?”, গণসাক্ষরতা অভিযান, সাক্ষরতা বুলেটিন, আগস্ট 2015; জুমজার্নাল আর্কাইভ — লিংক (31 অক্টোবর 2012-র সভা, “জনসংখ্যার পরিমাণ বিবেচনায়”, 3 ডিসেম্বর 2012-র চার সিদ্ধান্ত, ছয় থেকে পাঁচ, দ্বিতীয়-তৃতীয় পর্যায়, চুক্তির ধারা, “মাতৃভাষা শিক্ষা” বানান)
  2. মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, “বাংলাদেশের আদিবাসী ভাষা : এ যেন আলো আঁধারি পথ রেখায় অন্তহীন পদযাত্রা”, জুমজার্নাল আর্কাইভ — লিংক (“পর্যায়ক্রমে সকল ভাষায়” পরিকল্পনা)
  3. “সাঁওতালি ভাষা শিক্ষা”, জুমজার্নাল আর্কাইভ — লিংক (অলচিকি লিপি)

সরকারি নথি ও আইন

  1. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, “২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রাক-প্রাথমিক স্তর” — লিংক; “২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রাথমিক স্তর” — লিংক (পাঁচ ভাষার নাম; প্রাক-প্রাথমিক “আমার বই”-এর পাঁচ প্রচ্ছদ, পিডিএফ তৈরি 22 ডিসেম্বর 2025)
  2. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, Population and Housing Census 2022, National Report (Volume I), Table P29 “Ethnic Population by Category, Sex and Division, 2022”, পৃষ্ঠা 365 — পিডিএফ (ইন্টারনেট আর্কাইভ)
  3. রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989, প্রথম তফসিল, দফা 3(ঠ); 1998 সনের 9 নং আইনের ধারা 36 — আইনের পাতা, তফসিল পিডিএফ (মুদ্রিত পৃষ্ঠা 293–294)
  4. সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, এস. আর. ও. নং-৭৮-আইন/২০১৯, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, 2010-এর তফসিল প্রতিস্থাপন, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত), 23 মার্চ 2019 — গেজেট তালিকা
  5. Ministry of Education, Government of Bangladesh, “Report for the Eleventh consultation of Member States on the application of the Convention and the Recommendation against Discrimination in Education (1960) (2024-2025)”, পৃষ্ঠা 14–15, 17 — পিডিএফ
  6. শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় শিক্ষানীতি 2010 — পিডিএফ
  7. World Bank, “Learning Enhancement and Acceleration in Primary Education in Bangladesh (P512645), Program for Results — Environmental and Social System Assessment”, 2026 (শিক্ষানীতি 2010-এর উদ্দেশ্যের ইংরেজি উদ্ধৃতি) — পিডিএফ
  8. Press Information Department, “Workshop On Textbooks in Five Indigenous Languages Dhaka 2025-04-30 (PID-0002117)”, ছবির বিবরণ, উইকিমিডিয়া কমন্স — লিংক

গবেষণা ও প্রতিবেদন

  1. Terry Durnnian, “Mother Language First: Towards achieving EFA for Adivasi children in Bangladesh”, Save the Children, Khagrachari Hill District Council ও Zabarang Kalyan Samity, 2007, পৃষ্ঠা 12–13, 26 — পিডিএফ
  2. আলমগীর খান, “Education for indigenous children” (Mesbah Kamal et al., Mapping of Multilingual Education Programs in Bangladesh, UNESCO Dhaka-র আলোচনা), দ্য ডেইলি স্টার — লিংক
  3. পাভেল পার্থ, “Indigenous languages and linguistic pluralism”, নিউ এজ, 21 ফেব্রুয়ারি 2021 — লিংক

সংবাদ ও মতামত

  1. “মাতৃভাষায় শিক্ষা কত দূর”, প্রথম আলো, 1 মার্চ 2015 — লিংক
  2. Star Online Report, “Pre-primary books to be in 5 ethnic languages: Nahid”, দ্য ডেইলি স্টার, 24 মে 2016 — লিংক
  3. “এবার মাতৃভাষায় বই পাচ্ছে পাঁচ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা”, প্রথম আলো, 11 জুলাই 2016 — লিংক
  4. “Santal children yet to get textbooks in mother tongue”, দ্য ডেইলি স্টার, 7 জানুয়ারি 2017 — লিংক
  5. “Textbook in mother tongue still a dream for Santal students”, ঢাকা ট্রিবিউন, 24 নভেম্বর 2017 — লিংক
  6. “Education in mother tongue: Govt move for ethnic minority students faltering”, দ্য ডেইলি স্টার, 20 ফেব্রুয়ারি 2020 — লিংক
  7. কাজী নাফিয়া রহমান, “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী: মাতৃভাষায় পড়ার উদ্যোগ এগোচ্ছে না কেন?”, বিডিনিউজ২৪, 20 ফেব্রুয়ারি 2022 — লিংক; ইংরেজি সংস্করণ “A decade ago, Bangladesh promised lessons on small ethnic groups’ languages…” — লিংক
  8. “Indigenous languages on the verge of extinction”, ঢাকা ট্রিবিউন, 22 ফেব্রুয়ারি 2022 — লিংক
  9. “শিক্ষক সংকটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষা শিক্ষা”, বাংলা ট্রিবিউন, 21 ফেব্রুয়ারি 2023 — লিংক
  10. “Saving languages through textbooks in mother tongues: What challenges Bangladesh face?”, বিডিনিউজ২৪, 22 ফেব্রুয়ারি 2024 — লিংক
  11. তারিক মনজুর, “চাকমা–মারমা ভাষায় পাঠদান কেন সফল হচ্ছে না”, প্রথম আলো, 6 মার্চ 2024 — লিংক
  12. সম্পাদকীয়, “Indigenous languages in Bangladesh”, দ্য ডেইলি স্টার, 21 মার্চ 2024 — লিংক
  13. “Tea garden languages: A neglected issue in national discourse”, দ্য ডেইলি স্টার, 21 ফেব্রুয়ারি 2025 — লিংক
  14. “‘Pawmum Parban’ brings Mro children’s stories to Dhaka”, দ্য ডেইলি স্টার, 22 ডিসেম্বর 2025 — লিংক
  15. “মাতৃভাষায় শিক্ষা কাগজে আছে, বাস্তবে নেই”, প্রথম আলো, 20 ফেব্রুয়ারি 2026 — লিংক
  16. “ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ৩৩ ভাষার সুনির্দিষ্ট লিপি নেই, ১৪টিই বিপন্নের মুখে”, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন (আইটিভি), 21 ফেব্রুয়ারি 2026 — লিংক
  17. “দেশে গেজেটভুক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কতটি লোকসংখ্যা কত, জানালেন মন্ত্রী”, বাংলা ট্রিবিউন, 25 জুন 2026 — লিংক
  18. বাসস, “Govt working to expand mother tongue-based education for indigenous communities: Education Minister”, 14 জুলাই 2026 — লিংক; বাংলা সংস্করণ, নয়া দিগন্ত — লিংক
  19. ইউএনবি, “Govt expanding mother tongue education for ethnic communities: Minister”, 14 জুলাই 2026 — লিংক

সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026

প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, ককবরক ভাষা, চাকমা ভাষা, মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা, মাতৃভাষায় শিক্ষা

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা