Jumjournal Logo

পাহাড়ে খ্রিস্টধর্ম কীভাবে এল: বম, পাংখোয়া, লুসাই ও খুমি সমাজে ধর্মান্তরের নথিভুক্ত ইতিহাস

Last updated Oct 19th, 2026

0

বান্দরবান শহরের একটি সাদা গির্জাভবন, চূড়ায় ক্রুশ, সামনে খিলানযুক্ত বারান্দা আর রাস্তার ধারে বড় ধূসর লোহার ফটক ও কমলা টালির দুটি স্তম্ভ

বম সমাজের নিজস্ব গির্জা-ইতিহাস অনুযায়ী 1918 সালের 12 ডিসেম্বর মণিপুরের একটি মিশন থেকে আসা একজন ওয়েলশ মিশনারি ও তাঁর সঙ্গীরা পার্বত্য চট্টগ্রামের Vairelh নামের একটি বম গ্রামে পৌঁছান — পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টান মিশনারি কাজের যে ইতিহাস লিখিতভাবে টিকে আছে, বম, পাংখোয়া ও লুসাইদের ক্ষেত্রে তার বেশির ভাগ এই একই মিশনের সঙ্গে জড়ানো। কিন্তু চার জনগোষ্ঠীর সময়রেখা এক নয়: বমদের মধ্যে প্রথম দীক্ষা 1928-এ, পাংখোয়াদের মধ্যে ব্যাপক ধর্মান্তরের যে বিবরণ আছে তা 1943-এর পরের, লুসাইদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-অংশের আলাদা কোনো তারিখ নথিতে পাওয়া যায়নি, আর খুমিদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম আজও চারটি ধর্মবিশ্বাসের একটি মাত্র।

এই লেখা প্রতিটি জনগোষ্ঠীকে আলাদা করে দেখে, কারণ উৎসগুলোও আলাদা। বমদের ইতিহাস লিখেছেন বম গির্জার নেতারা নিজেরাই; পাংখোয়াদের ইতিহাস লিখেছেন একজন পাংখোয়া লেখক; খুমিদের সম্পর্কে সবচেয়ে বিস্তারিত বিবরণ একজন খুমি গবেষকের। পাশাপাশি আছে বাংলা একাডেমির 1985 সালের একটি পরিচিতি-গ্রন্থ, বাংলাপিডিয়া, মিশনারিদের জীবনী এবং 2025 সালের একটি বিতর্কের সংবাদ। উৎস যেখানে একে অন্যের সঙ্গে মেলে না, সেখানে দুটোই লেখা হয়েছে।

এই লেখায়

  1. চার জনগোষ্ঠী, চারটি আলাদা সময়রেখা
  2. পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টান মিশনারি প্রথম কবে এসেছিলেন
  3. বমদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম: 1918 সালের ডিসেম্বর
  4. প্রথম দীক্ষা কবে: 1921 থেকে 1929
  5. পাস্টর এইচ ডালা কে ছিলেন
  6. মিশন থেকে নিজেদের চার্চ: ইভানজেলিকাল খ্রিস্টান চার্চ
  7. বর্ণমালা, বাইবেল ও স্কুল
  8. পাংখোয়াদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম কীভাবে এল
  9. লুসাইদের খ্রিস্টধর্ম: সীমান্তের ওপারের ইতিহাস
  10. খুমিদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম: চারটি বিশ্বাসের একটি
  11. ধর্মান্তরের পর আচার-প্রথায় কী বদলেছে
  12. ধর্মান্তর নিয়ে কে কী বলেছেন
  13. সংখ্যায় খ্রিস্টান কত
  14. প্রশ্নোত্তর
  15. যা এখনো জানা যায়নি
  16. তথ্যসূত্র

চার জনগোষ্ঠী, চারটি আলাদা সময়রেখা: এক নজরে

বম, পাংখোয়া, লুসাই ও খুমি — চারটিই কুকি-চিন ভাষাদলের জনগোষ্ঠী, কিন্তু খ্রিস্টধর্ম তাদের কাছে একই সময়ে বা একই পথে পৌঁছায়নি। বমদের ক্ষেত্রে শুরু 1918, প্রথম দীক্ষা 1928; পাংখোয়াদের ক্ষেত্রে বড় পরিসরের প্রচারের বিবরণ 1943-এর পরের; লুসাইদের বাংলাদেশ-অংশের তারিখ পাওয়া যায়নি; খুমিদের ক্ষেত্রে 1985-এর একটি পরিচিতি-গ্রন্থের খুমি অধ্যায়ে খ্রিস্টধর্মের উল্লেখই নেই।

নিচের ছকটি এই লেখার উৎসগুলো থেকে জোড়া লাগানো। প্রতিটি ঘরের বক্তব্য সেই উৎসের, যার নাম পাশে আছে; একটি উৎসের কথা অন্য জনগোষ্ঠীর ঘরে বসানো হয়নি।

জনগোষ্ঠী প্রচার শুরুর সময় (উৎস অনুযায়ী) কার মাধ্যমে প্রথম দীক্ষা / প্রথম গির্জা আজকের অবস্থা (উৎসের ভাষায়)
বম 12 ডিসেম্বর 1918 (Thimkhup Buiting; Sangrem Mawi Hernandez); “1918” (জির কুং সাহু); “উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে” (বাংলাপিডিয়া) মণিপুরের Thado-Kuki Pioneer Mission, পরে North East India General Mission (NEIGM); মিজোরাম থেকে আসা প্রচারক 25 ডিসেম্বর 1928, Tlangpi গ্রামে 12 জন; প্রথম গির্জা 1929 (Hernandez)। ভিন্নমত: প্রথম ধর্মান্তর 1926 (উইকিপিডিয়া) “100%” খ্রিস্টান (Buiting 2004; জির কুং সাহু); “প্রায় সব” (বাংলাপিডিয়া)
পাংখোয়া “1943 খ্রিস্টাব্দের দিকে” (লাল চুয়াক লিয়ামা পাংখো); “ব্রিটিশ আমলে” (ইংরেজি উইকিপিডিয়া) NEIGM-এর পাঠানো দুজন লুসাই পালক; পরে পাস্টর নেইথাং বম (1956–1972) লুংইনখারে মিশনের স্কুল; কোনো সাল দেওয়া দীক্ষার বিবরণ পাওয়া যায়নি “সকল পাংখোয়া খ্রিস্টধর্ম পালন করে” (পাংখো); “নিজেদের বৌদ্ধ বলে দাবি করেন” (বাংলাপিডিয়া)
লুসাই বম, পাংখোয়া ও লুসাই মিলিয়ে “1918” (জির কুং সাহু); লুসাইদের জন্য আলাদা সাল পাওয়া যায়নি “খ্রিস্টান মিশনারিদের কাছে” (সুগত চাকমা, 1985) পাওয়া যায়নি “একশত ভাগই খ্রিস্টিয়ান” (জির কুং সাহু)
খুমি বাংলাদেশ-অংশে সাল পাওয়া যায়নি; “1930-এর দশক পর্যন্ত সর্বপ্রাণবাদী” (ইংরেজি উইকিপিডিয়া, দেশ উল্লেখ ছাড়া) “খ্রিস্ট মিশনারিদের সহযোগিতায়” সাক্ষরতা (লেলুং খুমী) খুমি পাড়ায় গির্জা আছে (লেলুং খুমী); প্রথমটির সাল পাওয়া যায়নি আনুমানিক 45% খ্রিস্টান (লেলুং খুমী); “বৌদ্ধ, ক্রামা, খ্রীষ্টান ও প্রকৃতি পূজারী” (জাক, 2004)

ছকের সবচেয়ে বড় ফাঁকটি চোখে পড়ার মতো: চার জনগোষ্ঠীর মধ্যে কেবল বমদের ইতিহাসেই দিন-তারিখ, ব্যক্তির নাম ও গ্রামের নামসহ ধারাবাহিক বিবরণ আছে, কারণ বম গির্জা নিজেই সেই ইতিহাস লিখে রেখেছে। বাকি তিনটির ক্ষেত্রে বিবরণ ছেঁড়া-ছেঁড়া।

পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টান মিশনারি প্রথম কবে এসেছিলেন?

কোনো একক উৎস এর উত্তর দেয় না। বাংলাপিডিয়া বলে মিশনারিরা উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে বমদের মধ্যে প্রচার করছেন। উইকিপিডিয়ার জীবনী অনুযায়ী দুজন ব্যাপটিস্ট মিশনারি 1890-এর দশকের শুরুতে কয়েক মাস কাসালং গ্রামে কাটিয়েছিলেন। আর বম গির্জার নিজস্ব ইতিহাস প্রথম প্রচারের তারিখ দেয় 12 ডিসেম্বর 1918।

বাংলাপিডিয়ার “উনিশ শতকের মাঝামাঝি”

বাংলাপিডিয়ার ইংরেজি সংস্করণে বম ভুক্তির এক বাক্য: খ্রিস্টান মিশনারিরা উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে বমদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করে আসছেন, এবং প্রায় সব বম এখন খ্রিস্টান। ভুক্তিটির লেখক Sadat Ullah Khan; কোন মিশন, কোন বছর, কোন গ্রাম — এর কোনোটিই সেখানে নেই, কোনো সূত্রও দেওয়া নেই। বম লেখকদের ইতিহাস যে তারিখ দেয় (1918), তার সঙ্গে এই বাক্য মেলে না; দুটোই এখানে পাশাপাশি থাকল।

কাসালংয়ে দুই ব্যাপটিস্ট মিশনারি

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভেতরে কোনো নামধারী মিশনারির উপস্থিতির যে বিবরণ পাওয়া যায়, তার একটি আছে Frederick William Savidge-এর ইংরেজি উইকিপিডিয়া জীবনীতে। Savidge ও তাঁর সঙ্গী James Herbert Lorrain — আর্কাইভে এঁদের নাম লেখা হয়েছে “লুরিয়ান” ও “সেভিজ” — লন্ডনের Arthington Aborigines Mission-এর হয়ে 1891 সালের নভেম্বরে কলকাতায় পৌঁছান। পরিকল্পনা ছিল ত্রিপুরায় কাজ শুরু করা, কিন্তু ত্রিপুরার মহারাজা আপত্তি করেন। তখন তাঁরা চট্টগ্রামের দিকে যান এবং লুসাই পাহাড়ে ঢোকার অনুমতির অপেক্ষায় কাসালং গ্রামে কয়েক মাস থাকেন। জীবনীটির বর্ণনায় সেখানে খাদ্যাভাব ছিল, তাঁরা আমাশয়ে আক্রান্ত হন, আর রাঙামাটির কমিশনার আত্মরক্ষার জন্য তাঁদের একটি রাইফেল দিয়েছিলেন। এরপর তাঁরা দার্জিলিং যান, 1893 সালের পুরোটা কাটান শিলচরে, আর 11 জানুয়ারি 1894 আইজলে পৌঁছান। মিজোরামে দিনটি আজ “Missionary Day” হিসেবে সরকারি ছুটি।

কাসালংয়ে তাঁরা কাউকে দীক্ষা দিয়েছিলেন বা প্রচার করেছিলেন — এমন কোনো তথ্য জীবনীতে নেই। তবু এই দুজনের নাম পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে বারবার ফিরে আসে অন্য কারণে: আইজলে পৌঁছানোর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, 1894 সালের মার্চ-এপ্রিলে, তাঁরা রোমান হরফে লুসাই ভাষার যে বর্ণমালা তৈরি করেন, সেটিই পরে বম ও পাংখোয়াদের লিখিত ভাষার ভিত্তি হয় (নিচে “বর্ণমালা, বাইবেল ও স্কুল” অংশ)।

1938 সালের শিক্ষা বোর্ডে একজন মিশনারি

আমাদের আর্কাইভে মংক্যশোয়েনু নেভীর একটি প্রবন্ধে আরেকটি সূত্র আছে: 1938 সালে ব্রিটিশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার জন্য আলাদা শিক্ষা বোর্ড গঠন করে, এবং তার কমিটিতে তিন সার্কেলের রাজা ও তিনজন হেডম্যানের সঙ্গে ছিলেন একটি ব্যাপটিস্ট খ্রিস্টান মিশনের একজন “Sister”। তিনি কে, কোন মিশনের — প্রবন্ধে নাম নেই। একই প্রবন্ধ বলে খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রচেষ্টায় আদিবাসীদের মধ্যে “উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান” ছড়িয়েছিল, তবে কোন জনগোষ্ঠীর মধ্যে, কোন সময়ে — তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।

বমদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম কীভাবে এল: 1918 সালের ডিসেম্বর

বম গির্জার দুটি সংকলন একই তারিখ দেয়: 12 ডিসেম্বর 1918। সেদিন মণিপুরভিত্তিক Thado-Kuki Pioneer Mission-এর পাঠানো একজন ওয়েলশ মিশনারি ও তাঁর সঙ্গীরা পার্বত্য চট্টগ্রামের Vairelh গ্রামে পৌঁছান, বাইবেলের ছবি দেখিয়ে প্রচার করেন, তারপর আশপাশের Tlangpi, Fiangpidung ও Pankhiang গ্রামে যান।

দুটি বম উৎস, একই কাহিনি

প্রথম উৎসটি Rev. Thimkhup Buiting-এর লেখা “The Advent of Christianity among the Bâwms”, যা 2004 সালে Bawm Literature Forum-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয়টি 2026 সালে Sangrem Mawi Hernandez-এর সংকলন, যিনি জানিয়েছেন তাঁর লেখা দাঁড়িয়েছে বম ভাষায় লেখা দুটি অপ্রকাশিত নথির ওপর — Pastor Lal Ruat Lian Bawm-এর “Brief history of Evangelical Christian Church (1918–2020)” এবং পাস্টর এইচ ডালার কাজ নিয়ে Buiting, Rev. Zir Kung Shahu প্রমুখের লেখা। অর্থাৎ দুটি উৎস একই গির্জার ভেতরের নথি থেকে আসা; এগুলো পুরোপুরি স্বাধীন নয়।

Buiting-এর বিবরণ অনুযায়ী মিশনটি 1913 সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন Watkin R. Roberts। মিজোরাম ও মণিপুরে কাজ বাড়ার পর 1918 সালে মিশন Edwin Rowlands-কে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাঠায়; মিজোরা তাঁকে ডাকত “Zo Sapthar”। Buiting লিখেছেন লিখিত নথির অভাবে মণিপুর থেকে রওনার দিন ঠিক বলা কঠিন; সম্ভবত 1918-এর ডিসেম্বরের শুরুতে তাঁরা রওনা হন এবং “বহু দিন ঘন জঙ্গল পেরিয়ে” 12 ডিসেম্বর Vairelh পৌঁছান। Hernandez গ্রামটির নাম লিখেছেন “Vairelhte”, আর Rowlands-এর দুই সঙ্গীর নাম দিয়েছেন Pu Patlai ও Pu Kuaichik; Tlangpi গ্রামে তাঁদের আতিথ্য দিয়েছিলেন Pu Lalkim। বম এলাকা ঘুরে তাঁরা বার্মার দিকে চলে যান।

আমাদের আর্কাইভে বম লেখক জির কুং সাহুর “বম জাতির আদ্যোপান্ত” লেখাটিও একই সালে শুরু ধরে, তবে ঘটনাটি কিছুটা অন্যভাবে বলে: বমদের কাছে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করেছিলেন মণিপুর ও মিজোরামের “একই ভাষাভাষী স্বগোত্রীয় লুসাইরা”, যারা চুরাচাঁদপুরের নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া জেনারেল মিশনে চাকরি করতেন; আর তাঁদের পাঠানোর আগে 1918 সালে এলাকা ঘুরে গিয়েছিলেন “এক আমেরিকান মিশনারি Rev. Roland Edwin”। Hernandez-এর তালিকায় পরবর্তী গির্জা-নেতাদের মধ্যে Rev. Zir Kung Shahu-র নাম আছে ইভানজেলিকাল খ্রিস্টান চার্চের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে — অর্থাৎ আর্কাইভের এই লেখক নিজেও গির্জার নেতৃত্বের অংশ ছিলেন।

মিশনারিটি কে ছিলেন: নাম ও দেশ নিয়ে অমিল

একই ব্যক্তির নাম ও পরিচয় উৎসভেদে আলাদা। Buiting লেখেন “Wales Missionary Edwin Rowlands”; Hernandez লেখেন “Rev. Edwin Roland”, ওয়েলসের Abergele থেকে আসা; জির কুং সাহু লেখেন “আমেরিকান মিশনারি Rev. Roland Edwin”; আর উইকিপিডিয়ার “Hill Tracts Presbyterian Church” নিবন্ধ লেখে “Welsh missionary Rev. Edwin Rowland”। এঁরা একই ব্যক্তি কি না, তা কোনো উৎস সরাসরি মিলিয়ে দেখায়নি; তবে চারটি উৎসই তাঁকে 1918 সালের সফরের সঙ্গে যুক্ত করে।

এখানে একটি দ্বিতীয় অমিলও লিখে রাখা দরকার। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার Edwin Rowlands জীবনী (মিজো ভাষার লেখক B. Lalthangliana-র 2003 সালের জীবনীগ্রন্থসহ কয়েকটি সূত্রের ওপর দাঁড়ানো) বলছে তিনি 1917–1919 সালের দিকে মহারাষ্ট্রে Swedish Alliance Mission-এর হয়ে কাজ করছিলেন এবং Thado-Kuki Pioneer Mission-এ যোগ দেন 1920 সালে। বম গির্জার ইতিহাস বলছে 1918 সালের ডিসেম্বরে তিনি বম গ্রামে ছিলেন। দুটি বিবরণ কীভাবে মেলে, কোনো উৎস তা ব্যাখ্যা করেনি।

মিশনের নাম বদলের সাল নিয়েও দুই রকম তথ্য: Watkin Roberts-এর উইকিপিডিয়া জীবনী ও Buiting দুজনেই লেখেন Thado-Kuki Pioneer Mission নাম বদলে North East India General Mission হয় 1919 সালে; Rowlands-এর জীবনী লেখে 1923। Buiting যোগ করেছেন, মিশনের কাজ ত্রিপুরা ও পার্বত্য চট্টগ্রামে ছড়ানোর পরেই নাম বদলানো হয়েছিল বলে শোনা যায়।

সাদা-ধূসর দেয়ালের একতলা গির্জা, চূড়ায় ক্রুশ, সামনের ফলকে লেখা Songchoen Bethel Church, Vill. Bethel, Ruma, Bandarban Hill Dist.; তিনটি খিলান, সামনে লাল কাঠের ছোট ফটক আর বাঁশের বেড়া
রুমা উপজেলার বেথেল গ্রামের Songchoen Bethel Church — ফলকে গ্রাম ও জেলার নাম লেখা। Hernandez-এর সংকলন অনুযায়ী ইভানজেলিকাল খ্রিস্টান চার্চের সচিবালয় 1985 সালে বেথেল গ্রামে সরানো হয়েছিল। ছবি: জেরেত বম · জুমজার্নাল আর্কাইভ (“বম জাতির আদ্যোপান্ত”)

বমদের প্রথম দীক্ষা কবে: 1921 থেকে 1929

বম গির্জার ইতিহাস অনুযায়ী 1918 থেকে 1920 পর্যন্ত কোনো ধারাবাহিক প্রচার হয়নি। 1921 সালে NEIGM মিজোরাম থেকে তিনজন স্থানীয় প্রচারক পাঠায়, প্রথম ধর্মান্তরিতরা আসেন Tlangpi গ্রাম থেকে, আর 25 ডিসেম্বর 1928 প্রথম বারোজন বমকে দীক্ষা দেওয়া হয়। উইকিপিডিয়া প্রথম ধর্মান্তরের সাল দেয় 1926।

“প্রস্তুতির কাল”, তারপর তিন প্রচারক

Buiting লেখেন, 1918–1920 সময়টিকে বম খ্রিস্টান নেতা H. Thangnin বলেছেন বমদের মধ্যে সুসমাচারের “প্রস্তুতির কাল”। 1921 সালে NEIGM মিজোরাম থেকে তিনজন প্রচারক পাঠায় — Buiting-এর বানানে Pastor Patlaia, Lianthawnga ও Saikunga; Hernandez-এর বানানে Pastor Patlai, Pu Lianthawng ও Pu Saikung। Hernandez আরও নাম যোগ করেন: 1927–1928 সালে আসেন Pu Senvuai, Pu Kawha, Pu Thanghuaia ও Pu Tleikawnga।

Buiting প্রথম ধর্মান্তরিত হিসেবে তিনজনের নাম দেন — Kualthang, Ngunkhar ও Tlingbil, তিনজনই Tlangpi গ্রামের। এরপর তালিকায় আছেন Lalkim, Niangthluai, Saikham, Thawngnin Thangchul, Rotling, Sawmcheu, Ngunfawm ও Altlem। Buiting-এর ভাষায় এই নতুন খ্রিস্টানরাই নিজেদের লোকের মধ্যে প্রচারের “instruments” হয়ে ওঠেন।

1928 সালের বড়দিন

Buiting-এর বিবরণে 24 ডিসেম্বর 1928 Tlangpi গ্রামে প্রথম খ্রিস্টান সমাবেশ হয়, আর পরদিন, প্রথম বড়দিনে, বারোজন নতুন বিশ্বাসীকে দীক্ষা দেওয়া হয়। Hernandez যোগ করেন যে দীক্ষা দিয়েছিলেন পাস্টর এইচ ডালা, এবং 1929 সালে Fiangpidung গ্রামে প্রথম গির্জা প্রতিষ্ঠিত হয়। 19 জানুয়ারি 1940 সেখানেই প্রথম “Area Presbytery” সভা হয়।

উইকিপিডিয়ার “Hill Tracts Presbyterian Church” নিবন্ধ — যার একমাত্র সূত্র সংস্কারপন্থী (Reformed) গির্জার একটি ঠিকানা-তথ্যভান্ডার — প্রথম ধর্মান্তরের সাল লেখে 1926, আর প্রথম গির্জাঘর খোলার সাল 1929। গির্জার নিজস্ব দুই উৎস প্রথম ধর্মান্তরের আলাদা সাল দেয়নি; তারা প্রথম দীক্ষার তারিখ দেয় 25 ডিসেম্বর 1928।

একটি হিসাব থেকে এই দশ বছরের ধীর গতি বোঝা যায়: প্রথম প্রচার (1918) থেকে প্রথম দীক্ষা (1928) পর্যন্ত লেগেছিল দশ বছর, আর দীক্ষিতের সংখ্যা ছিল বারো। Hernandez লেখেন, 1975 সালের মধ্যে বম জনগোষ্ঠীর “100%” খ্রিস্টান হয়ে যান — অর্থাৎ ব্যাপক রূপান্তর ঘটেছে মূলত পরের পাঁচ দশকে।

পাস্টর এইচ ডালা কে ছিলেন?

পাস্টর এইচ ডালা (Hau Dala) ছিলেন NEIGM-এর ফিল্ড সুপারিনটেনডেন্ট, যিনি 1929 সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে আসেন, প্রায় দশ বছর ম্রো এলাকায় কাজ করে 1939–1940 সালে বম এলাকায় সরে যান, এবং 3 জানুয়ারি 1963 মারা যান। আইজলে পড়াশোনা করা এই পালক বম বাইবেল ও স্তোত্রগ্রন্থ তৈরির মূল কারিগরদের একজন।

আমাদের আর্কাইভের “বম জাতির আদ্যোপান্ত” লেখায় তাঁকে বলা হয়েছে বম সমাজে “খ্রিস্ট ধর্ম শিক্ষা, চার্চ প্রতিষ্ঠা এবং সম্প্রসারণের প্রধান ভূমিকা পালনকারী”, এবং বলা হয়েছে তাঁর সন্তানেরা আজ বম সমাজের নেতৃত্বে। কিন্তু তিনি কোথা থেকে এসেছিলেন, কবে কাজ শুরু করেন — আর্কাইভে তা ছিল না; আমাদের বম জাতির নাম, গোত্র ও খ্রিষ্টধর্ম নিয়ে লেখা পরিচিতিতে প্রশ্নটি খোলা রাখা হয়েছিল। বম গির্জার দুই সংকলন এখন সেই ফাঁকের একটি অংশ ভরায়।

গির্জার নথিতে তাঁর জীবন

  • পরিচয়: Hernandez অনুযায়ী তিনি Engthanga ও Hmarchhingpuii-র সন্তান, স্ত্রী Rozami, পড়াশোনা আইজলে। Buiting লেখেন তিনি ছিলেন Dr. Peter Fraser-এর ছাত্র — সেই চিকিৎসক-মিশনারি, যাঁর সঙ্গে Watkin Roberts ভারতে এসেছিলেন।
  • আগমন, 1929: দুই উৎসেই তিনি 1929 সালে Pastor R. Ruala-র সঙ্গে আসেন; Hernandez লেখেন তাঁরা এসেছিলেন আজকের ত্রিপুরার Rengram থেকে। Ruala-কে দেওয়া হয় Saichal ও Sajek এলাকার দায়িত্ব।
  • ম্রো এলাকায় দশ বছর: Hernandez-এর বিবরণে 1931 সালে তিনি বান্দরবানের Ngarua ও চিম্বুকে কাজ করেন, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলেন যার শিক্ষক ছিলেন Menkroi Mru, এবং তাঁর সাহায্যে মথি ও যোহনের সুসমাচার ম্রো ভাষায় অনুবাদ করেন।
  • বম এলাকায়, 1939–1940: Buiting লেখেন 1939 সালে তাঁরা বম এলাকায় সরে আসেন এবং Pankhiang, Mualpi, Arthah, Munnuam ও Lunginkhar গ্রামে থাকেন। Ruala হন Saichal ও Sajek এলাকার সুপারিনটেনডেন্ট, আর ডালা বম এলাকার “Pastoral superintendent”।
  • মৃত্যু: 3 জানুয়ারি 1963 (Hernandez)।

Hernandez এই অংশের তথ্যের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন Pastor Parkhum Mangaing-কে, যাঁকে তিনি পাস্টর ডালার নাতি বলে পরিচয় দিয়েছেন। ফলে ডালার জীবনের এই বিবরণ মূলত পরিবার ও গির্জার স্মৃতি থেকে আসা; বাইরের কোনো স্বাধীন নথিতে এগুলো মিলিয়ে দেখা যায়নি।

চিম্বুকে ম্রো ভাষায় সুসমাচার অনুবাদের এই তথ্যটি ম্রো সমাজের পরবর্তী ধর্মীয় ইতিহাসের পাশে রাখার মতো — 1985 সালে মেনলে ম্রো যে ক্রামা ধর্ম প্রবর্তন করেন, তার গল্প আছে আমাদের ক্রামা ধর্ম ও মেনলে ম্রোর নতুন লিপি নিয়ে লেখায়। দুটির মধ্যে কোনো সম্পর্ক কোনো উৎস দেখায়নি।

মিশন থেকে নিজেদের চার্চ: ইভানজেলিকাল খ্রিস্টান চার্চ কবে গড়ে উঠল

বম খ্রিস্টানদের প্রধান সংগঠন ইভানজেলিকাল খ্রিস্টান চার্চ (ECC) নামটি গ্রহণ করে 1965 সালে, আমেরিকান মিশনারি Dr. Pierce D. Samuels দেশে ফেরার আগে। 1968 সালে, প্রথম প্রচারের পঞ্চাশ বছরে, চার্চটি স্বনির্ভর হয়। 1971 সালের পর বিদেশি মিশনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়।

Samuels দম্পতি ও “সংরক্ষিত এলাকা”

Buiting লেখেন Dr. ও Mrs. Pierce D. Samuels 1956 সালে এসে দায়িত্ব নেন; Hernandez তাঁদের আগমনের তারিখ দেন 13 জানুয়ারি 1957। তাঁরা প্রথমে Arthah, পরে Munnuam গ্রামে থাকেন। Buiting-এর বিবরণে পাকিস্তান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিদেশিদের জন্য “restricted area” ঘোষণা করলে তাঁরা চট্টগ্রাম শহরে চলে যান এবং 1967 সালে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন।

Buiting 2 ফেব্রুয়ারি 1967 তারিখের Samuels-স্বাক্ষরিত একটি সনদ উদ্ধৃত করেছেন। তাতে বলা আছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বম ও পাংখোয়াদের মধ্যে খ্রিস্টান কাজ 1918 সালে শুরু হওয়া NEIGM-এর মিশনারি কাজ থেকে বেড়ে উঠেছে; 1965 সালে তারা “Evangelical Christian Church” নাম গ্রহণ করে; আর 1962 সাল থেকে International Missions Inc. তাদের শিক্ষক ও ছাত্রদের জন্য সহায়তা দিয়েছে। Hernandez নামকরণের তারিখ দেন 27 ফেব্রুয়ারি 1965, Arthah-এ একটি প্রেসবিটারি সভায়।

1968 থেকে আজ

  • 1968: প্রথম প্রচারের পঞ্চাশ বছর পূর্তি; চার্চ স্বনির্ভর হয় (Hernandez; উইকিপিডিয়াও 1968-এ ECC-র স্বনির্ভরতার কথা লেখে)।
  • 1971: Hernandez অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের সময় Samuels-এর বাড়ি পুড়ে যায়, বিদেশি মিশনারিদের চট্টগ্রাম অঞ্চলে থাকার অনুমতি থাকে না, Samuels পরিবার চলে যায় এবং NEIGM-এর সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয়। Buiting অবশ্য লেখেন Samuels দম্পতি 1967 সালে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান।
  • 1974–1999: World Vision-এর সঙ্গে অংশীদারত্ব (Hernandez)।
  • 1980: Hernandez অনুযায়ী ইভানজেলিকাল চার্চ অব বাংলাদেশ আলাদা সংগঠন হিসেবে গড়ে ওঠে; উইকিপিডিয়া অনুযায়ী কয়েকটি বিভাজনের পর 1980 সালে Hill Tracts Presbyterian Church গঠিত হয়, যার সদস্য 2,236 জন, মণ্ডলী 26টি (সালবিহীন হিসাব)।
  • 1985 ও 1997: ECC-র সচিবালয় বেথেল গ্রামে, পরে রুমার Zion-এ সরে (Hernandez)।
  • 18–20 জানুয়ারি 2019: বম খ্রিস্টধর্মের শতবর্ষ উদ্‌যাপন রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে; Hernandez-এর হিসাবে উপস্থিত ছিলেন 6,000–7,000 জন, বিদেশি অতিথি 51 জন।

Hernandez 2026 সালে বম সমাজে কার্যরত এগারোটি গির্জা-সংগঠনের তালিকা দিয়েছেন — ECC ছাড়াও প্রেসবিটারিয়ান, ব্যাপটিস্ট, সেভেনথ-ডে অ্যাডভেন্টিস্ট, ইউনাইটেড পেন্টিকস্টাল ইত্যাদি। অর্থাৎ “বম খ্রিস্টান” আজ একটি সংগঠন নয়; একটি মিশন থেকে শুরু হয়ে এখন অনেক ধারায় ভাগ।

বর্ণমালা, বাইবেল ও স্কুল: বম ভাষা লিখিত হলো কীভাবে

বম ভাষার লিখিত রূপ এসেছে 1894 সালে আইজলে Lorrain ও Savidge-এর তৈরি রোমান-হরফের লুসাই বর্ণমালা থেকে, যা লুসাই প্রচারকেরা 1918-এর পরে বম ও পাংখোয়াদের মধ্যে নিয়ে আসেন। বম ভাষায় পূর্ণ বাইবেল অনুবাদ শেষ হয় 1989 সালে, আর বিতরণের অনুমতি মেলে 1992-এ।

একটি বর্ণমালার যাত্রা

জির কুং সাহুর দুটি লেখা — “বম জাতির আদ্যোপান্ত” ও “বম ভাষা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ” — একই কথা বলে: খ্রিস্টান মিশনারিরা আসার আগে বম, পাংখোয়া ও লুসাই ভাষার কোনো বর্ণমালা ছিল না; 1894 সালে আইজলে Lorrain ও Savidge রোমান হরফ অনুসরণে বর্ণমালা তৈরি করে বাইবেলের অংশ, ধর্মীয় পুস্তিকা ও অভিধান প্রকাশ করেন; পরে মিজোরাম থেকে আসা লুসাই প্রচারকেরা সেই বর্ণমালা বম ও পাংখোয়াদের মধ্যে প্রচলন করেন। দ্বিতীয় লেখাটি অনুমান করে বর্ণমালাটি বমদের কাছে পৌঁছায় “সম্ভবত ১৯২০ সালের পরবর্তী কালে”, আর প্রচারকেরা এক পৃষ্ঠার কাগজে ছোট-বড় হরফ ও শব্দ গঠনের নমুনা দিয়ে পাঠ দিতেন। প্রথম দিকে লুসাই ভাষার বাইবেল ও স্তোত্রই ব্যবহার হতো; পাংখোয়ারা আর্কাইভের লেখার সময় পর্যন্তও লুসাই (মিজো) ভাষার বাইবেল ব্যবহার করতেন।

উইকিপিডিয়ার Edwin Rowlands জীবনী একটি তথ্য যোগ করে: তিনি Lorrain ও Savidge-এর তৈরি মিজো বর্ণমালার ধ্বনিচিহ্ন সংশোধন করেছিলেন, যা প্রমিত মিজো বানানের ভিত্তি হয়। পাহাড়ি ভাষাগুলোর লিপির বৃহত্তর ছবি আছে আমাদের পাহাড়ি ভাষা, লিপি ও মাতৃভাষায় শিক্ষা নিয়ে লেখায়, আর সীমান্তের ওপারের মিজোদের সঙ্গে এই ভাষাগত যোগ নিয়ে আছে নাগা ও মিজো জনগোষ্ঠী নিয়ে লেখাটি।

বম বাইবেল: 1953 থেকে 1992

Hernandez-এর সংকলনে অনুবাদের ধাপগুলো এভাবে আছে:

  1. 1953 — মথির সুসমাচার বম ভাষায় অনূদিত।
  2. 1954 — স্তোত্রগ্রন্থ।
  3. 1961 — মার্কের সুসমাচার।
  4. 1956–1976 — নূতন নিয়ম সম্পূর্ণ।
  5. 1976 থেকে — ইংরেজি TEV থেকে পূর্ণ বাইবেলের অনুবাদ; অনুবাদকদের মধ্যে পাস্টর এইচ ডালা, পাস্টর Kualthang, Pu Chalkhup, পাস্টর Leiniar ও Pu Kiplei।
  6. 1989 — পূর্ণ বাইবেল (পুরাতন ও নূতন নিয়ম) অনুবাদ শেষ।
  7. 1991 — হংকংয়ে ছাপা হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে, কিন্তু সরকারি অনুমতির জটিলতায় বিতরণ আটকে থাকে; সেই সময়ের ঘূর্ণিঝড়ে অনেক কপি নষ্ট হয়।
  8. 1992 — সরকার অনুমতি দেয়; বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির মাধ্যমে বিতরণ।

ডালার মৃত্যু 1963-এ, অথচ 1976 থেকে শুরু হওয়া অনুবাদদলের তালিকায় তাঁর নাম আছে; সংকলনে এই অসঙ্গতির কোনো ব্যাখ্যা নেই।

জির কুং সাহু লিখেছেন ইভানজেলিকাল খ্রিস্টান চার্চের প্রকাশিত মাসিক পত্রিকার নাম Kawhmi Arfi, আর বর্ণমালা শেখার প্রাথমিক বই (Bawm Premier) পড়ানো হয় পরিবারে, গির্জায় বা পাড়াভিত্তিক উদ্যোগে। তাঁর মতে বম ভাষা আজ “টিকিয়ে রেখেছে চার্চসমূহ”, আর বম ভাষায় প্রকাশনা মূলত চার্চভিত্তিক।

মিশন স্কুল

Hernandez-এর তালিকায় বম এলাকার প্রথম স্কুলগুলো: 1932 সালে Pankhiang গ্রামের মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রথম শিক্ষক Pu Challianthang; 1940 সালে Pankhiang-এ Middle English School, যাকে তিনি বম সমাজের প্রথম আনুষ্ঠানিক স্কুল বলেছেন; 1946 সালে Arthah গ্রামে বাইবেল স্কুল ও জুনিয়র হাই স্কুল (একই সংকলনের আরেক জায়গায় Arthah-এ মিশন সরানোর সাল 1947)। NEIGM-এর সহায়তায় বম ও খুমি ছাত্ররা মণিপুরের চুরাচাঁদপুরে পড়তে যেত।

জির কুং সাহুর লেখা একটু ভিন্ন তথ্য দেয়: 1956/57 সালে রুমা সদর থেকে 20 কিলোমিটার দূরে খামংখ্যং মৌজার আর্থা পাড়ায় একটি ইংরেজি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়, এবং বান্দরবান জেলার প্রথম বিএ পাস ব্যক্তি ছিলেন একজন বম, প্রয়াত লাল নাগ বম। Arthah ও আর্থা পাড়া একই গ্রাম বলে মনে হয়, তবে 1946-এর স্কুল আর 1956/57-এর স্কুল একই প্রতিষ্ঠান কি না, দুটি উৎসের কোনোটি তা বলে না।

এই দুই লেখার পটভূমিতে আর্কাইভের সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত দাবিটি — বম সমাজের “শতকরা আশি জন নিজ ভাষায় লেখাপড়া জানে” — কোন জরিপ থেকে নেওয়া, তা আজও অজানা। দাবিটি বম লেখকের, এবং সেটি নিজ ভাষার সাক্ষরতা নিয়ে, বাংলা নয়।

পাংখোয়াদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম কীভাবে এল?

পাংখোয়া লেখক লাল চুয়াক লিয়ামা পাংখোর বিবরণে 1943 সালের দিকে NEIGM মিজোরাম থেকে দুজন লুসাই পালককে পরিবারসহ পাঠায়; তাঁরা বরকলের সাইচাল ও লুংইনখার গ্রামে লুসাই ভাষায় প্রচার শুরু করেন, প্রায় পনেরো বছর কাজ করেন, এবং সাজেক ও দুম্বা পাহাড়ের দিকে পাঁচ হাজারের বেশি পাংখোয়া খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন।

দুই লুসাই পালক

আমাদের আর্কাইভের “পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত” লেখায় দুই পালকের নাম “পাস্টার আর, রুয়ালা লুসাই” ও “পাস্টার পাথলাই লুসাই”। তাঁরা পাংখোয়াদের পাশাপাশি বমদের মধ্যেও কাজ করেন। মিশন প্রথমে লুংইনখারে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত একটি জুনিয়র হাই স্কুল খুলে আর্থিক সাহায্য দেয়; সেখানে পাংখোয়ারা লুসাই ভাষা শিখতেন ও প্রাথমিক শিক্ষা পেতেন। লেখকের ভাষায়, এই দুজনের কাছ থেকেই পাংখোয়ারা প্রথম যিশুর সুসমাচার শোনেন।

এই অংশে লেখাটির একটি বাক্য নিজের ভেতরেই টান তৈরি করে: সাজেক ও দুম্বা পাহাড়ের দিকে পাঁচ হাজারের বেশি পাংখোয়া খ্রিস্টান হন এবং তাঁদের অনেকে 1943 থেকে 1960 সালের মধ্যে “নানা কারণে” মিজোরামে চলে যান, অথচ “তখনো পর্যন্ত সাইচাল এলাকায় কোনো পাংখোয়া খ্রিস্টান হয় নাই” — যদিও সাইচালেই প্রচার শুরু হয়েছিল বলে একই লেখা জানায়। মিজোরামে চলে যাওয়ার কারণ লেখক বলেননি।

নেইথাং বম ও বিশজন

পরের পর্ব অনেক ছোট পরিসরের। ওই দুই পালকের উত্তরসূরি পাস্টর নেইথাং বম 1956 থেকে 1972 সাল পর্যন্ত সাইচাল এলাকার বম ও পাংখোয়াদের মধ্যে প্রচার করেন, এবং লেখকের হিসাবে তাঁর কাজের ফলে “প্রায় ২০ জন” পাংখোয়া খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। ষোলো বছরে বিশজন — আগের পর্বের পাঁচ হাজারের পাশে সংখ্যাটি লক্ষ করার মতো, কিন্তু লেখক এই ব্যবধানের কারণ ব্যাখ্যা করেননি।

NEIGM থেকে ইভানজেলিকাল চার্চ অব বাংলাদেশ

পাংখোয়া লেখকের দেওয়া সাংগঠনিক কালানুক্রম:

  1. শুরুতে পাংখোয়া খ্রিস্টানরা NEIGM-এর অধীনে ধর্মীয় কাজ চালাতেন।
  2. 1974–1980: বমদের নিয়ে গঠিত ইভানজেলিকাল খ্রিস্টান চার্চের (ECC) অধীনে।
  3. 1980-এর শেষ দিকে: নিজেদের ডিনোমিনেশন “ইভানজেলিকাল প্রেসবিটারিয়ান চার্চ” গঠন।
  4. 21 মে 1981: ন্যাশনাল খ্রিস্টিয়ান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের অ্যাফিলিয়েশন।
  5. লেখার সময়: নাম ইভানজেলিকাল চার্চ অব বাংলাদেশ (ECB), পাংখোয়াদের সবচেয়ে বড় ডিনোমিনেশন; কেউ কেউ ব্যাপটিস্ট সংঘ ও ইউনাইটেড পেন্টিকস্টাল চার্চের সদস্য। লেখকের দাবি, পাংখোয়ারা কেবল প্রোটেস্ট্যান্ট ডিনোমিনেশনেই আছেন।

লেখাটির তথ্যসূত্রের তালিকায় একটি নিবন্ধের নাম আছে — স্যামসন পণ্ডিতের “পাংখোয়াদের খ্রিস্টীয়ান হওয়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস”; নিবন্ধটির প্রকাশস্থান বা সাল তালিকায় নেই।

সাল নিয়ে দুই রকম তথ্য

এখানে বম গির্জার উৎসের সঙ্গে একটি স্পষ্ট অমিল আছে। পাংখোয়া লেখক দুই লুসাই পালকের আগমন 1943 সালের দিকে ধরেন; Buiting ও Hernandez দুজনেই লেখেন Pastor Ruala এসেছিলেন 1929 সালে এবং Saichal ও Sajek এলাকার সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন, আর Pastor Patlai(a)-কে NEIGM পাঠায় 1921 সালে; Hernandez-এর বিবরণে Pu Patlai 1918 সালের সফরেও Rowlands-এর সঙ্গী ছিলেন। নাম মিলে যায় (রুয়ালা/Ruala, পাথলাই/Patlai), সাল মেলে না। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার পাংখোয়া নিবন্ধ কেবল বলে তাঁরা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন “ব্রিটিশ আমলে” — 1943 ও 1929 দুটোই সেই সময়ের মধ্যে পড়ে।

আর বর্ণমালার সাল নিয়ে একটি ছাপার ভুলের মতো অমিল: পাংখোয়া লেখাটিতে লেখা আছে “১৯৯৪ সালে লন্ডন ব্যাপ্টিস্ট মিশন এর পাদ্রি লুরিয়ান এবং সেভিজ মিজোরামে লুসাইদের প্রথমে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করেছিলেন”; জির কুং সাহুর লেখা ও উইকিপিডিয়া দুজনের আইজলে আগমনের সাল দেয় 1894।

ধর্মবিশ্বাস নিয়ে দুই উৎসের দুই কথা

পাংখোয়া লেখকের বক্তব্য: আদিতে পাংখোয়ারা শিবের অনুসারী ছিলেন, বটগাছের গোড়ায় পূজা করতেন, অসুখে ছড়ায় গিয়ে মোরগ বলি দিতেন; “এখন সকল পাংখোয়া খ্রিস্টধর্ম পালন করে।” বাংলাপিডিয়ার পাংখোয়া ভুক্তি বলে পাংখোয়ারা নিজেদের বৌদ্ধ বলে দাবি করেন, তবে প্রকৃতিপূজা করেন; স্রষ্টা পাত্যেন, আর জুমের নিয়ন্তা বনদেবতা খোজিং, যাঁর পূজা পাংখোয়াদের সবচেয়ে বড় উৎসব। দুটি বিবরণ এক সময়ের কি না, বাংলাপিডিয়ার ভুক্তিতে সাল নেই। সাজেকের পাংখোয়া পাড়াগুলোর অবস্থান ও এই মিশনের ভৌগোলিক পটভূমি আছে আমাদের সাজেকের রুইলুই, কংলাক ও হামারি পাড়ার ইতিহাস নিয়ে লেখায়।

লুসাইদের খ্রিস্টধর্ম: সীমান্তের ওপারের ইতিহাস, এপারের নীরবতা

পার্বত্য চট্টগ্রামের লুসাইরা কবে, কার মাধ্যমে খ্রিস্টান হন — এ নিয়ে আলাদা কোনো সাল বা মিশনের নাম কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। জির কুং সাহু বম, পাংখোয়া ও লুসাই তিনটিকে একসঙ্গে “একশত ভাগই খ্রিস্টিয়ান” বলেন এবং প্রচার শুরুর সাল ধরেন 1918; সুগত চাকমা 1985 সালে লেখেন লুসাইরা খ্রিস্টান মিশনারিদের কাছে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন।

লুসাই অভিযান ও মিজোরামের দিকে সরে যাওয়া

পটভূমিটা ধর্মের নয়, যুদ্ধের। আমাদের আর্কাইভের “লুসাই জনগোষ্ঠী: প্রচলিত রীতিনীতি ও প্রথা” লেখাটি বলে, 1871 সালের অক্টোবরে এবং 1892 সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় লুসাই অভিযানের পর পার্বত্য চট্টগ্রামে যাযাবর জীবনযাপনকারী লুসাইদের অনেকে মিজোরামে চলে যান। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত সুগত চাকমার “বাংলাদেশের উপজাতি” (প্রথম প্রকাশ 1985, পুনর্মুদ্রণ 2000) এর সঙ্গে যোগ করে যে 1871–72 সালে দুই জেনারেলের নেতৃত্বে অভিযান পাঠানো হয়েছিল, এবং “মূলত ১৮৬০ সালে লুসেইদের প্রচণ্ড চাপের ফলেই” Chittagong Hill Tracts District গঠিত হয়েছিল।

অর্থাৎ যে লুসাইরা এপারে থেকে গেছেন, তাঁরা সংখ্যায় খুব কম — আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী নিয়ে লেখায় সংখ্যার হিসাব আছে — আর তাঁদের ধর্মীয় ইতিহাস কার্যত মিজোরামের ইতিহাসের সঙ্গে জোড়া।

সুগত চাকমার বর্ণনা

সুগত চাকমা লেখেন, ব্রিটিশ আমলে লুসাইরা দীর্ঘদিন শান্তভাবে জীবনযাপন করেন এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের কাছে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করায় তাঁদের সংস্কৃতিতে পাশ্চাত্যের প্রভাব পড়েছে। একই অধ্যায়ে তিনি লেখেন, অতীতে লুসাই ভূমিতে নরমুণ্ড শিকারের রীতি ছিল, যা “খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রচেষ্টায়” লোপ পেয়েছে। বইটি কোনো তারিখ বা মিশনের নাম দেয় না, এবং বাক্যগুলো লুসাই জনগোষ্ঠী নিয়ে সাধারণভাবে লেখা — পার্বত্য চট্টগ্রামের লুসাই না মিজোরামের লুসাই, আলাদা করা হয়নি।

আর্কাইভে লুসাইদের পুরোনো বিশ্বাস

আর্কাইভের লুসাই প্রথা-বিষয়ক লেখা অনুযায়ী লুসাইরা আদিতে সৃষ্টিকর্তা “পাথিয়েন”-এ বিশ্বাস করতেন, পশুবলি দিয়ে শিব পূজা ও নদী পূজা করতেন, এবং ভূতপ্রেত ও অপদেবতায় বিশ্বাস ছিল। খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের পর ধর্মবিশ্বাস ও সামাজিক রীতিতে “ব্যাপক পরিবর্তন” এসেছে। বাংলাপিডিয়ার পাংখোয়া ভুক্তিও লুসাইদের স্রষ্টার নাম দেয় “Puthian”, পাংখোয়াদের পাত্যেনের সঙ্গে মিলিয়ে।

লেখাটিতে একটি সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ আছে: এসব প্রথা “খ্রিস্টীয় ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে অনেক ক্ষেত্রে দ্বান্দ্বিক”, তবু লুসাই সমাজে “প্রয়োজনের তাগিদে” এগুলো মানা হচ্ছে, যদিও আগের চেয়ে অনেক কম। লুসাইরা তাঁদের খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি প্রাচীন রীতিকে সামাজিক শাসন ও শৃঙ্খলা রক্ষার সহায়ক মনে করেন।

মিজোরামে কী ঘটেছিল (তুলনার জন্য)

সীমান্তের ওপারের ঘটনাগুলো উইকিপিডিয়ার মিশনারি-জীবনীতে বিস্তারিত আছে। Lorrain ও Savidge 1894–1897 আইজলে কাজ করেন; 1897 সালে Arthington মিশন এলাকাটি ওয়েলশ ক্যালভিনিস্টিক মেথডিস্ট মিশনের হাতে দেয়; 1903 সালে দুজন Baptist Missionary Society-র হয়ে দক্ষিণ মিজোরামের লুংলেইতে ফেরেন। Lorrain-এর জীবনী অনুযায়ী 1919 থেকে 1924 সালের মধ্যে সেখানকার গির্জা দ্রুত বাড়ে, এবং 1932 সালে তাঁর অবসরের সময় মিজোরাম ভারতের সবচেয়ে খ্রিস্টানপ্রধান অঞ্চলগুলোর একটি হয়ে উঠেছিল। এগুলো মিজোরামের তথ্য; পার্বত্য চট্টগ্রামের লুসাইদের ক্ষেত্রেও একই সময়রেখা প্রযোজ্য — এমন কথা কোনো উৎস বলেনি।

খুমিদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম: চারটি বিশ্বাসের একটি

খুমিদের ক্ষেত্রে খ্রিস্টধর্ম সর্বজনীন নয়। খুমি গবেষক লেলুং খুমীর অনুমান অনুযায়ী খুমি সমাজে খ্রিস্টান প্রায় 45%, প্রকৃতিপূজারি 45% এবং ক্রামা অনুসারী প্রায় 10%। 1985 সালের একটি পরিচিতি-গ্রন্থের খুমি অধ্যায়ে খ্রিস্টধর্মের উল্লেখই নেই; 2004 সালের একটি খুমি সংকলন খ্রিস্টধর্মকে চারটি ধর্মের একটি হিসেবে লেখে।

তিনটি সময়ের তিনটি ছবি

1985: সুগত চাকমার “বাংলাদেশের উপজাতি” বইয়ের খুমি অধ্যায় (পৃষ্ঠা 71–73) খুমিদের রুমা ও থানচির বাসিন্দা হিসেবে বর্ণনা করে, 1981 সালের প্রাথমিক আদমশুমারি অনুযায়ী সংখ্যা দেয় 1,258, এবং যুদ্ধ, সর্দারপ্রথা ও গো-হত্যা নাচের বিবরণ দেয়। ধর্ম বা খ্রিস্টধর্মের কোনো উল্লেখ সেখানে নেই। একই বইয়ের বম অধ্যায়ে কিন্তু স্পষ্ট লেখা আছে বমরা “বর্তমানে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হয়েছে”। দুই অধ্যায়ের এই পার্থক্য তথ্য হিসেবে লক্ষণীয়; তবে একটি বইয়ের নীরবতা থেকে তখন খুমিদের মধ্যে খ্রিস্টান ছিলেন না — এমন সিদ্ধান্ত টানা যায় না।

2004: রাঙামাটির জুম ঈস্থেটিকস কাউন্সিল (জাক) এপ্রিল 2004-এ খুমিদের নিয়ে বিশেষ সংকলন “লাঙ” প্রকাশ করে (সম্পাদক শান্তিময় চাকমা)। এর “ধর্ম” অনুচ্ছেদে এক বাক্য: বৌদ্ধ, ক্রামা, খ্রীষ্টান ও প্রকৃতিপূজারী — এই চার ধরনের ধর্ম খুমিদের মধ্যে আছে, “এমনকি একই পরিবারে একাধিক ধর্ম বিশ্বাসী সদস্যও” দেখা যায়। একই পাতায় খুমিদের নিজস্ব 1999–2000 সালের জরিপের কথা আছে: রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়িতে খুমি 1,734 জন, পরিবার 451। বইটি জুমজার্নালের ই-বুক লাইব্রেরিতে আছে।

জুমজার্নালে 2021 সালে প্রকাশিত লেখা: লেলুং খুমীর “খুমী জাতির আদ্যোপান্ত” চারের জায়গায় তিনটি ধর্মের কথা বলে — প্রকৃতিপূজা, ক্রামা ও খ্রিস্টান — এবং শুরুতেই লেখে খুমিরা “বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বলে পরিচয় দিলেও প্রকৃতপক্ষে তারা প্রকৃতি পূজারি”। অঞ্চলভেদে ছবিটা আলাদা: রোয়াংছড়ির কিছু খুমি ক্রামা অনুসারী, কিন্তু রুমা ও থানচির খুমিদের মধ্যে ক্রামা অনুসারী নেই — সেখানে একাংশ প্রকৃতিপূজারি, একাংশ খ্রিস্টান। লেখকের হিসাব: খ্রিস্টান প্রায় 45%, প্রকৃতিপূজারি 45%, ক্রামা প্রায় 10%, এবং খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরের হার “দিন দিন বাড়ছে”। খুমি পাড়ায় প্রকৃতিপূজারিদের কোনো উপাসনালয় না থাকলেও খ্রিস্টান ও ক্রামা অনুসারীদের জন্য গির্জা ও ক্যাং আছে।

বর্ণমালা: মিয়ানমারে আগে, বাংলাদেশে পরে

খুমিদের রোমান-হরফের বর্ণমালার উৎস ভিন্ন। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার Edwin Rowlands জীবনী অনুযায়ী 1924 সালের দিকে তিনি মিয়ানমারের চিন রাজ্যের খুমিদের কাছে যান, 1925 সালে খুমি বর্ণমালা তৈরি করেন, 1926 সালে প্রথম ধর্মান্তরিত হন Heng Naw, পালেতোয়ায় গির্জা প্রতিষ্ঠিত হয়, আর বাইশটি গ্রামে গির্জা গড়ার পর 1932 সালে তিনি মিশনটি Bible Church Missionary Society-কে হস্তান্তর করেন। Hernandez একই ব্যক্তির “Khumi Mission” প্রতিষ্ঠার সাল লেখেন 1907 — উইকিপিডিয়ার সঙ্গে এখানে প্রায় দুই দশকের অমিল।

লেলুং খুমী লেখেন, রোমান হরফে খুমি ভাষায় বাইবেল ও ধর্মীয় সংগীতের বই আছে; বার্মার চিন প্রদেশের খুমিরা দীর্ঘদিন ধরে এই বর্ণমালা চর্চা করলেও বাংলাদেশের খুমিরা চর্চা করছেন “সম্প্রতি”, এবং মূলত খ্রিস্টান খুমিরাই। খ্রিস্ট মিশনারিদের সহযোগিতায় নিজ ভাষায় সাক্ষর খুমিরা অন্য পাড়ায় গিয়ে অক্ষর শেখাচ্ছেন। জাকের 2004 সংকলন অবশ্য বর্ণমালা-ব্যবহারের একটি ভিন্ন ছক দেয়: রোমান বর্ণমালা ব্যবহারকারী 80% (ভারত, বার্মা ও বাংলাদেশের অধিকাংশ খুমি), ক্রামা বর্ণমালা 40% (কেবল ক্রামা অনুসারীরা), বাংলা “নাই” — মাত্র আধুনিক শিক্ষিতদের মধ্যে। শতাংশগুলো যোগ করলে 100 ছাড়িয়ে যায়; সংকলন এর ব্যাখ্যা দেয়নি।

ইংরেজি উইকিপিডিয়ার খুমি নিবন্ধ আজকের খুমিদের “primarily Christian” বলে এবং লেখে তাঁরা 1930-এর দশক পর্যন্ত সর্বপ্রাণবাদী ছিলেন, ব্রিটিশ মিশনারি কাজের পর বদল আসে। নিবন্ধটি মিয়ানমার ও বাংলাদেশের খুমিদের একসঙ্গে বর্ণনা করে; বাক্যটি কোন দেশের খুমিদের নিয়ে, স্পষ্ট নয়।

ধর্মান্তরের পর আচার-প্রথায় কী বদলেছে: চার জনগোষ্ঠী আলাদা করে

উৎসগুলো চার জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা পরিবর্তনের কথা লেখে: বমদের পুরোনো বিশ্বাস ও মৃতের সঙ্গে অস্ত্র কবর দেওয়ার প্রথা লোপ, পাংখোয়াদের নামকরণ-বিবাহ-কবর গির্জার রীতিতে, লুসাইদের পশুবলির ভোজ বন্ধ ও চার্চে বিয়ের ঘোষণা, আর খুমিদের মধ্যে মদ ও শিকারের স্মারক ঝোলানোর প্রথা কমে আসা।

জনগোষ্ঠী আগে যা ছিল (উৎসের বর্ণনা) এখন যা হয় উৎস
বম স্রষ্টা খুজিং-পাথিয়ান, যাঁর পূজা লাগে না; অপদেবতার উদ্দেশে “বলশান” পূজা, পুরোহিত “বলপু”; মৃতের কবরে অস্ত্রশস্ত্র বিয়ের নোটিশ চার্চে, পাদ্রির উপস্থিতিতে বিয়ে, চার্চ থেকে বিয়ের সনদ; ভিন্ন ধর্ম থেকে আসা পাত্রীকে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে হয় জির কুং সাহু; সুগত চাকমা (1985); আর্কাইভ “বম জনগোষ্ঠীর বিবাহ”
পাংখোয়া শুভকাজ, নতুন কাজ ও অসুখে পূজা; বিয়ের প্রথাগত আচার “মুর মতং জু”, মদ এসব উপলক্ষে বাইবেল পাঠ ও প্রার্থনা; নামকরণ খ্রিস্টীয় রীতিতে; চার্চে আংটি পরিয়ে বিয়ে, মদের বদলে চা-কফি; ভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিয়েতে খ্রিস্টান হতে হয় লাল চুয়াক লিয়ামা পাংখো; আর্কাইভ “পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর বিবাহ”
লুসাই মৃতের আত্মার উদ্দেশে পশুবলি দিয়ে ভোজ; অস্থি সংরক্ষণের দায়িত্ব কনিষ্ঠ পুত্রের পশুবলির ভোজ আর নেই; খ্রিস্টীয় রীতিতে কবর; চার্চে “বান” প্রকাশ করে বিয়ে, চার্চ বা চার্চ-এল্ডারের দেওয়া বিয়ের সনদ আর্কাইভ “লুসাই জনগোষ্ঠী: প্রচলিত রীতিনীতি ও প্রথা”; “লুসাই জনগোষ্ঠীর বিবাহ”
খুমি মদ তৈরি ও পান সামাজিক মূল্যবোধের অংশ; শিকারের পশুর খুলি ও পাখির পালক দরজার ওপর; বাঁশির তালে গো-হত্যা অনুষ্ঠান; নবান্ন ক্রামা ও খ্রিস্টান খুমিদের অনুষ্ঠানে মদ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে; পুরোনো প্রথাগুলো “দিন দিন বিলুপ্ত হচ্ছে”; ভিন্ন ধর্মের কারণে বিয়ে ও বিচারে মতবিরোধ লেলুং খুমী

একটি বিষয় লক্ষণীয়: তিন জনগোষ্ঠীর প্রথাগত বিবাহ-আইনের লিখিত রূপেই — যা আমাদের আর্কাইভে আছে — গির্জা এখন আনুষ্ঠানিক অংশ। বম ও লুসাইদের বিবাহের প্রমাণ হিসেবে চার্চ বা চার্চ-এল্ডারের সনদ গণ্য; পাংখোয়াদের ক্ষেত্রে সার্কেল চিফ, হেডম্যান বা কার্বারির সনদের পাশাপাশি গির্জার সনদও প্রমাণ। অর্থাৎ ধর্মান্তর কেবল বিশ্বাসের প্রশ্ন থাকেনি; প্রথাগত আইনের কাঠামোতেও ঢুকে গেছে।

লুসাই প্রথা-বিষয়ক লেখায় একটি নিয়ম ধর্মান্তরকে অন্য দিক থেকেও দেখে: “লুসাই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন যার উপর প্রযোজ্য নয়”, তাঁদের তালিকায় আছেন সেই লুসাই, যিনি “ধর্মান্তরিত ও জাতিচ্যুত হয়ে” ভিন্ন জনগোষ্ঠী থেকে স্বামী বা স্ত্রী গ্রহণ করেন এবং লুসাই রীতিনীতি পরিহার করেন। লেখাটির ভাষায়, জন্মসূত্রে একজন লুসাই ততক্ষণ লুসাই হিসেবে গণ্য, যতক্ষণ না তিনি স্বেচ্ছায় ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সামাজিক রীতি ও প্রথা পরিত্যাগ করেন। অর্থাৎ যে সমাজ নিজেই খ্রিস্টান, সেখানেও “ধর্মান্তর” শব্দটি পরিচয় হারানোর একটি শর্ত হিসেবে আইনে রয়ে গেছে।

ধর্মান্তর নিয়ে কে কী বলেছেন

ধর্মান্তরের কারণ ও অর্থ নিয়ে উৎসগুলো ভিন্ন ভাষায় কথা বলে। বম গির্জার লেখকেরা একে “সুসমাচারের আলো” বলেন; বাংলা একাডেমির পরিচিতি-গ্রন্থ একে পাশ্চাত্যের প্রভাব হিসেবে বর্ণনা করে; খুমি লেখক সংস্কৃতির “আমূল পরিবর্তন” লেখেন; আর 2025 সালে বান্দরবানে একটি সংগঠন ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ তোলে, যার প্রতিবাদে খ্রিস্টানরা মানববন্ধন করেন।

গির্জার লেখকদের ভাষা

Buiting তাঁর লেখা শুরু করেন এই দাবি দিয়ে যে বমরা বহু বছর স্রষ্টাকে না জেনে প্রকৃতির উপাসনা করেছেন, আর 1918 সালে “gospel light” বমদের মধ্যে জ্বলতে শুরু করে। এটি একজন গির্জা-নেতার ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি, এবং লেখাটি সেভাবেই পড়া উচিত। জির কুং সাহু তুলনায় বর্ণনামূলক: “১৯১৮ সন হতে বম জনগোষ্ঠী পর্যায়ক্রমে খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত হওয়াতে” তাঁদের ধর্মবিশ্বাসের পাশাপাশি সামাজিক রীতিনীতিতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। একই লেখক তাঁর ভাষা-বিষয়ক লেখায় বলেন, বম ভাষা আজ টিকিয়ে রেখেছে গির্জা।

পরিচিতি-গ্রন্থ ও গবেষকদের ভাষা

সুগত চাকমা বমদের সম্পর্কে লেখেন, খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের ফলে তাঁদের সমাজজীবন, পোশাক ও সংস্কৃতিতে “পাশ্চাত্যের প্রভাব বিস্তারলাভ করেছে”, রুমায় তরুণ-তরুণীদের প্রায়ই গিটার বাজিয়ে গান গাইতে দেখা যায়; আর বমদের পুরোনো বিশ্বাস — মৃতের দেশ “মিথিখোয়া”, বাঘ খোয়াভাং-এর পালিত পশু — “আধুনিক শিক্ষা ও খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের ফলে” আর নেই। এটি মূল্যায়ন নয়, বর্ণনা; বইটি পরিবর্তনকে ভালো বা মন্দ বলেনি।

লেলুং খুমী নিজে খুমি সমাজের মানুষ, এবং তাঁর লেখায় উদ্বেগ স্পষ্ট: “ত্রিমুখী ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রভাব” খুমিদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির “আমূল পরিবর্তন” ঘটাচ্ছে, আর বিভিন্ন ধর্মের কারণে বিয়ে, আচার ও বিচারে মতবিরোধ দেখা দিচ্ছে। তিনি ক্রামা ও খ্রিস্টধর্ম দুটোকেই এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখেন, আলাদা করে কোনোটিকে দায়ী করেন না।

লুসাই প্রথা-বিষয়ক আর্কাইভ-লেখা মাঝামাঝি একটি অবস্থান দেয়: পুরোনো প্রথা খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের সঙ্গে “দ্বান্দ্বিক”, তবু সমাজ শৃঙ্খলা রক্ষায় সেগুলো ধরে রাখা হয়েছে।

অক্টোবর 2025: অভিযোগ ও প্রতিবাদ

দৈনিক দেশ রূপান্তরের 25 অক্টোবর 2025 তারিখের প্রতিবেদন একই ঘটনার দুই পক্ষের বক্তব্য দেয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী 21 অক্টোবর বান্দরবানের একটি আবাসিক হোটেলে তিনজন কোরিয়ান ও একজন আমেরিকান নাগরিকসহ কয়েকজন বিদেশি পর্যটক প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া স্থানীয় খ্রিস্টানদের সঙ্গে একটি সভা করেন। এরপর পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ হোটেল ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে এবং বিদেশিদের বিরুদ্ধে ধর্মান্তর প্রচেষ্টার অভিযোগ তোলে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করে বিদেশিদের বান্দরবান ত্যাগের নির্দেশ দেন।

25 অক্টোবর বান্দরবান প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে “সর্বস্তরের খ্রিস্টান সম্প্রদায়, বান্দরবান পার্বত্য জেলা” ব্যানারে মানববন্ধন হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী এর প্রতিবাদের বিষয় ছিল ‘জোরপূর্বক খ্রিস্টানকরণের মাধ্যমে খ্রিস্টান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক প্রচারণা; প্রতিবেদনটি নিজেও প্রচারণাটিকে “মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে বর্ণনা করেছে। বক্তারা বলেন, কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খ্রিস্টানরা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র করছে বলে প্রচার চলছে, যা পাহাড়ের খ্রিস্টানদের মধ্যে ঘৃণা ও অবিশ্বাস তৈরি করছে। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লাল জার বম এবং লেলং খুমী। আয়োজকেরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেন।

প্রতিবেদনটি কোন গণমাধ্যম বা কোন পোস্টে প্রচারণাটি হয়েছিল, তা নাম দিয়ে উল্লেখ করেনি; ধর্মান্তরের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ বা তদন্তের ফলও প্রতিবেদনে নেই। এই লেখা কোনো পক্ষের দাবিকে সত্য বা মিথ্যা বলছে না; দুই পক্ষ যা বলেছে, সেটুকুই এখানে আছে।

সংখ্যায় পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টান কত?

BBS-এর জনশুমারি 2022-এর জেলা-প্রতিবেদন অনুযায়ী রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান মিলিয়ে খ্রিস্টান 60,008 জন, যার 47,054 জন বান্দরবানে। শুমারি ধর্মের হিসাব জনগোষ্ঠী ধরে দেয় না, তাই এই সংখ্যা থেকে বম, পাংখোয়া, লুসাই বা খুমিদের আলাদা হিসাব বের করা যায় না। 1981 থেকে 2022 পর্যন্ত জেলা ও উপজেলাভিত্তিক খ্রিস্টান সংখ্যার বিস্তারিত ছক আছে পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টান জনসংখ্যা নিয়ে আমাদের শুমারিভিত্তিক লেখায়। সব ধর্মের হিসাব থাকবে আমাদের প্রকাশিতব্য লেখা “পার্বত্য চট্টগ্রামের ধর্ম: কোন জেলায়, কোন জনগোষ্ঠীতে কোন ধর্মের মানুষ কত”-এ।

পুরো অঞ্চল সম্পর্কে আরও পড়তে দেখুন জুমজার্নালের পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব-পাতা।

প্রশ্নোত্তর

পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টধর্ম প্রথম কবে এল?

একক উত্তর নেই। বাংলাপিডিয়া বলে মিশনারিরা উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে বমদের মধ্যে প্রচার করছেন। উইকিপিডিয়া অনুযায়ী দুজন ব্যাপটিস্ট মিশনারি Lorrain ও Savidge 1890-এর দশকের শুরুতে কয়েক মাস কাসালংয়ে ছিলেন। বম গির্জার নিজস্ব ইতিহাস বমদের মধ্যে প্রথম প্রচারের তারিখ দেয় 12 ডিসেম্বর 1918।

বমরা কবে খ্রিস্টান হন?

বম গির্জার নেতা Thimkhup Buiting ও Sangrem Mawi Hernandez-এর সংকলন অনুযায়ী প্রথম প্রচার 12 ডিসেম্বর 1918, প্রথম বারোজনের দীক্ষা 25 ডিসেম্বর 1928, প্রথম গির্জা 1929 সালে Fiangpidung গ্রামে। Hernandez লেখেন 1975 সালের মধ্যে বমরা “100%” খ্রিস্টান হন। উইকিপিডিয়া প্রথম ধর্মান্তরের সাল দেয় 1926।

বমদের মধ্যে কোন মিশন খ্রিস্টধর্ম প্রচার করেছিল?

মণিপুরভিত্তিক Thado-Kuki Pioneer Mission, যা পরে North East India General Mission (NEIGM) নামে পরিচিত হয়। Watkin R. Roberts 1913 সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। মিশনটি 1918 সালে একজন ওয়েলশ মিশনারিকে এবং 1921 সালে মিজোরাম থেকে তিনজন প্রচারককে বম এলাকায় পাঠায়। আর্কাইভের বম লেখক জির কুং সাহু প্রচারকদের চুরাচাঁদপুরের এই মিশনের কর্মী বলেছেন।

পাস্টর এইচ ডালা কে?

পাস্টর হাউ ডালা (H. Dala) ছিলেন NEIGM-এর ফিল্ড সুপারিনটেনডেন্ট। বম গির্জার সংকলন অনুযায়ী তিনি আইজলে পড়াশোনা করেন, 1929 সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে আসেন, প্রায় দশ বছর ম্রো এলাকায় কাজ করে 1939–1940 সালে বম এলাকায় যান, বম বাইবেল ও স্তোত্র তৈরিতে কাজ করেন, এবং 3 জানুয়ারি 1963 মারা যান।

পাংখোয়ারা কবে খ্রিস্টান হন?

পাংখোয়া লেখক লাল চুয়াক লিয়ামা পাংখো লেখেন, 1943 সালের দিকে NEIGM দুজন লুসাই পালক — রুয়ালা ও পাথলাই — পাঠালে সাজেক ও দুম্বা পাহাড়ের দিকে পাঁচ হাজারের বেশি পাংখোয়া খ্রিস্টান হন। বম গির্জার উৎস রুয়ালার আগমন 1929 সালে ধরে। উইকিপিডিয়া কেবল “ব্রিটিশ আমল” বলে।

পাংখোয়ারা কি সবাই খ্রিস্টান?

উৎসে দুই রকম কথা। পাংখোয়া লেখকের লেখা জুমজার্নাল আর্কাইভের নিবন্ধ বলে সকল পাংখোয়া খ্রিস্টধর্ম পালন করেন এবং কেবল প্রোটেস্ট্যান্ট ডিনোমিনেশনে আছেন, যার বৃহত্তমটি ইভানজেলিকাল চার্চ অব বাংলাদেশ। বাংলাপিডিয়ার পাংখোয়া ভুক্তি বলে তাঁরা নিজেদের বৌদ্ধ দাবি করেন এবং বনদেবতা খোজিংয়ের পূজা করেন।

লুসাইরা কোন ধর্মের অনুসারী?

জুমজার্নাল আর্কাইভে বম লেখক জির কুং সাহু লেখেন, বম, পাংখোয়া ও লুসাইরা “একশত ভাগই খ্রিস্টিয়ান”; আর্কাইভের লুসাই প্রথা-বিষয়ক লেখা খ্রিস্টীয় রীতিতে বিয়ে ও কবরের কথা বলে। সুগত চাকমা (বাংলা একাডেমি, 1985) লেখেন লুসাইরা খ্রিস্টান মিশনারিদের কাছে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। আদিতে তাঁরা স্রষ্টা পাথিয়েনে বিশ্বাস করতেন।

খুমিরা কি খ্রিস্টান?

আংশিকভাবে। খুমি গবেষক লেলুং খুমীর অনুমান: খ্রিস্টান প্রায় 45%, প্রকৃতিপূজারি 45%, ক্রামা প্রায় 10%। জুম ঈস্থেটিকস কাউন্সিলের 2004 সালের সংকলন “লাঙ” বৌদ্ধ, ক্রামা, খ্রিস্টান ও প্রকৃতিপূজা — চার ধর্মের কথা বলে, এমনকি একই পরিবারে একাধিক ধর্মের। রুমা ও থানচিতে ক্রামা অনুসারী নেই।

বম ভাষার বর্ণমালা কি মিশনারিদের তৈরি?

বম লেখক জির কুং সাহুর মতে মিশনারিদের আগে বম, পাংখোয়া ও লুসাই ভাষার বর্ণমালা ছিল না। 1894 সালে আইজলে J. H. Lorrain ও F. W. Savidge রোমান হরফে লুসাই বর্ণমালা তৈরি করেন; লুসাই প্রচারকেরা 1918-এর পর সেটি বম ও পাংখোয়াদের মধ্যে আনেন। বমদের কাছে এটি পৌঁছায় সম্ভবত 1920-এর পর।

বম ভাষায় পূর্ণ বাইবেল কবে প্রকাশিত হয়?

Sangrem Mawi Hernandez-এর সংকলন অনুযায়ী বম ভাষায় মথির সুসমাচার অনূদিত হয় 1953 সালে, নূতন নিয়ম শেষ হয় 1956–1976 সময়ে, আর পূর্ণ বাইবেলের অনুবাদ শেষ হয় 1989 সালে। হংকংয়ে ছাপা বাইবেল 1991 সালে চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকে; সরকারের অনুমতি মেলে 1992 সালে, বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির মাধ্যমে বিতরণ।

ইভানজেলিকাল খ্রিস্টান চার্চ কী?

বম খ্রিস্টানদের প্রধান গির্জা-সংগঠন। বম গির্জার সংকলন অনুযায়ী আমেরিকান মিশনারি Dr. Pierce D. Samuels-এর সময়ে, 1965 সালে Arthah-এর প্রেসবিটারি সভায়, নামটি গৃহীত হয়। 1968 সালে চার্চটি স্বনির্ভর হয়; সচিবালয় 1997 থেকে রুমার Zion-এ। 1974–1980 পাংখোয়া খ্রিস্টানরাও এর অধীনে ছিলেন।

2025 সালে বান্দরবানে ধর্মান্তর নিয়ে কী ঘটেছিল?

দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী 21 অক্টোবর 2025 বান্দরবানের এক হোটেলে কয়েকজন বিদেশি অনুমতি ছাড়া স্থানীয় খ্রিস্টানদের সঙ্গে সভা করলে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ ধর্মান্তর প্রচেষ্টার অভিযোগ তোলে; প্রশাসন বিদেশিদের বান্দরবান ছাড়তে বলে। 25 অক্টোবর খ্রিস্টানরা “অপপ্রচারের” প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টান কতজন?

BBS জনশুমারি 2022-এর জেলা-প্রতিবেদন অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলায় খ্রিস্টান 60,008 জন, যার 47,054 জন বান্দরবানে। শুমারি ধর্মের হিসাব জনগোষ্ঠী ধরে প্রকাশ করেনি, তাই বম, পাংখোয়া, লুসাই বা খুমিদের মধ্যে খ্রিস্টানের সংখ্যা সরকারি হিসাবে আলাদা করে জানা যায় না।

যা এখনো জানা যায়নি

  • লুসাইদের নিজস্ব সময়রেখা। পার্বত্য চট্টগ্রামের লুসাইদের মধ্যে প্রথম প্রচার, প্রথম দীক্ষা বা প্রথম গির্জার কোনো সাল কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। বিদ্যমান সব বিবরণ হয় মিজোরামের, নয়তো বম-পাংখোয়ার সঙ্গে মিলিয়ে লেখা।
  • খুমিদের মধ্যে প্রথম গির্জা ও প্রথম মিশন। বাংলাদেশের খুমিদের মধ্যে কোন মিশন কবে কাজ শুরু করে, তা জানা যায়নি। মিয়ানমারের খুমিদের ইতিহাস (1924–1932) আছে, কিন্তু সীমান্তের এপারে তা প্রযোজ্য কি না, কোনো উৎস বলেনি।
  • 1918 সালের মিশনারির পরিচয়। চারটি উৎস চার রকম নাম ও দেশ দেয় (ওয়েলশ Edwin Rowlands, ওয়েলশ Edwin Roland, আমেরিকান Roland Edwin, ওয়েলশ Edwin Rowland); আর তাঁর জীবনী অনুযায়ী 1917–1919 সালে তিনি মহারাষ্ট্রে ছিলেন। এই অমিলের নিষ্পত্তি কোনো উৎসে নেই।
  • পাংখোয়াদের মধ্যে প্রচারের শুরু 1929 না 1943। বম ও পাংখোয়া উৎসে একই পালকদের আগমনের সাল আলাদা।
  • প্রথম ধর্মান্তর 1926 না 1928। উইকিপিডিয়ার একমাত্র সূত্রটি একটি ঠিকানা-তথ্যভান্ডার; গির্জার উৎস 1928-এর দীক্ষার কথা বলে, 1926-এর কোনো ঘটনার উল্লেখ করে না।
  • বাংলাপিডিয়ার “উনিশ শতকের মাঝামাঝি”। এই দাবির পেছনে কোনো মিশন, ব্যক্তি বা নথি পাওয়া যায়নি।
  • “আশি শতাংশ সাক্ষরতা”-র উৎস। কোন জরিপ, কোন বছর — অজানা।
  • বম গির্জার মূল নথিগুলো। Pastor Lal Ruat Lian Bawm-এর “Brief history of Evangelical Christian Church (1918–2020)” এবং পাস্টর ডালার ইতিহাস বম ভাষায় অপ্রকাশিত; এগুলো সরাসরি পড়া যায়নি, পাওয়া গেছে কেবল ইংরেজি সংকলনের মাধ্যমে।
  • 2025 সালের অভিযোগের পরবর্তী অবস্থা। বিদেশিদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত বা মামলা হয়েছিল কি না, পরবর্তী কোনো প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
  • জনগোষ্ঠী ধরে ধর্মের সরকারি হিসাব। শুমারি তা প্রকাশ করেনি; সব শতাংশ (100%, 45% ইত্যাদি) সম্প্রদায়ের লেখকদের অনুমান বা দাবি।

তথ্যসূত্র

জুমজার্নালের নিজস্ব আর্কাইভ ও ই-বুক লাইব্রেরি

  1. জির কুং সাহু, “বম জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল আর্কাইভ। লিংক
  2. জির কুং সাহু, “বম ভাষা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ”, জুমজার্নাল আর্কাইভ (মূল: বৈসুক-সাংগ্রাই-বিঝু-বিষু-বিহু সংকলন, জাক)। লিংক
  3. লাল চুয়াক লিয়ামা পাংখো, “পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত”, জুমজার্নাল আর্কাইভ। লিংক
  4. লেলুং খুমী, “খুমী জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল আর্কাইভ। লিংক
  5. “লুসাই জনগোষ্ঠী: প্রচলিত রীতিনীতি ও প্রথা”, জুমজার্নাল আর্কাইভ। লিংক
  6. “বম জনগোষ্ঠীর বিবাহ (উমহ্‌নাক)”, জুমজার্নাল আর্কাইভ। লিংক
  7. “পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর বিবাহ (ইননেই)”, জুমজার্নাল আর্কাইভ। লিংক
  8. “লুসাই জনগোষ্ঠীর বিবাহ (ইননেইহ্‌)”, জুমজার্নাল আর্কাইভ। লিংক
  9. মংক্যশোয়েনু নেভী, “পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থা: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের রূপরেখা”, জুমজার্নাল আর্কাইভ। লিংক
  10. সুগত চাকমা, বাংলাদেশের উপজাতি, বাংলা একাডেমি, ঢাকা; প্রথম প্রকাশ 1985, পুনর্মুদ্রণ এপ্রিল 2000 — বম (পৃ. 61–63), লুসেই ও পাংখুয়া (পৃ. 64–67), খুমি (পৃ. 71–73)। জুমজার্নাল ই-বুক লাইব্রেরি। লিংক
  11. শান্তিময় চাকমা (সম্পা.), লাঙ — খুমী বিষয়ক বিশেষ সংকলন, জুম ঈস্থেটিকস কাউন্সিল (জাক), রাঙামাটি, এপ্রিল 2004 — পৃ. 5–6। জুমজার্নাল ই-বুক লাইব্রেরি। লিংক

সম্প্রদায় ও গির্জার লেখা

  1. Rev. Thimkhup Buiting, “The Advent of Christianity among the Bâwms”, Bawm Literature Forum, 2004 (Internet Archive কপি)। লিংক
  2. Sangrem Mawi Hernandez, “The History of Bawm Christianity”, ilearnisharebysangrem, 2 মে 2026 (বম ভাষার অপ্রকাশিত গির্জা-নথি থেকে সংকলিত)। লিংক

বিশ্বকোষ ও জীবনী

  1. Sadat Ullah Khan, “Bawm, The”, Banglapedia (English)। লিংক
  2. “Pankho, The”, Banglapedia (English)। লিংক
  3. “Frederick William Savidge”, English Wikipedia। লিংক
  4. “James Herbert Lorrain”, English Wikipedia। লিংক
  5. “Edwin Rowlands”, English Wikipedia। লিংক
  6. “Watkin Roberts”, English Wikipedia। লিংক
  7. “Hill Tracts Presbyterian Church”, English Wikipedia। লিংক
  8. “Pankho people”, English Wikipedia। লিংক
  9. “Khumi people”, English Wikipedia। লিংক

সংবাদ ও সরকারি পরিসংখ্যান

  1. “খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বান্দরবানে মানববন্ধন”, দেশ রূপান্তর, 25 অক্টোবর 2025। লিংক
  2. Bangladesh Bureau of Statistics, Population and Housing Census 2022, District Report: Bandarban (লিংক), Rangamati (লিংক), Khagrachhari (লিংক) — Internet Archive কপি, ধর্ম-ছক (Table 3.1.13)।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026

 

প্রসঙ্গ:খুমি, ধর্ম বিশ্বাস, পাংখোয়া, বম, বান্দরবান, লুসাই

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা