Last updated Oct 19th, 2026

পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠী কয়টি — এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে কে গুনছে তার ওপর। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন নাম ধরে 11টি জনগোষ্ঠীর কথা বলে, বাংলাপিডিয়া বলে 13টি, আর জুমজার্নালের আর্কাইভে সংরক্ষিত একটি লেখা 11টির সঙ্গে আরও 3টি যোগ করে — মোট 14। এই এগারোটি হলো চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, বম, খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখোয়া ও লুসাই।
সংখ্যার হিসাবটি এ রকম: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) 2022 সালের জনশুমারি ও গৃহগণনায় রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান — এই তিন জেলার প্রতিবেদনে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” হিসেবে গোনা হয়েছে যথাক্রমে 372,875, 349,390 ও 197,983 জন। তিনটি সংখ্যা যোগ করলে দাঁড়ায় 920,248 — তিন জেলার মোট 1,842,811 জনের 49.94%। এই যোগফল ও শতাংশ BBS-এর ছাপা সংখ্যা নয়; তিনটি জেলা-প্রতিবেদনের Table P17 ও Table 3.1.13 থেকে করা নিজস্ব হিসাব।
এই পাতাটি একটি সূচি। প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জন্য এখানে আছে চারটি তথ্য — কোন জেলা-উপজেলায় তাঁরা থাকেন, 2022 সালের শুমারিতে কতজন, কোন ভাষায় কথা বলেন, আর জুমজার্নালের কোন লেখায় তাঁদের পূর্ণ পরিচিতি পাওয়া যাবে। ইতিহাস, গোত্র, বিয়ে, পোশাক বা উৎসবের বিবরণ এখানে নেই; সেগুলোর জন্য প্রতিটি অনুচ্ছেদের শেষে আলাদা লেখার লিংক দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বাকি সব বিষয়ের সূচি পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব-পাতায়।
একটি কথা শুরুতেই পরিষ্কার থাকা দরকার। এগারোটি জনগোষ্ঠীর প্রত্যেকে আলাদা — আলাদা ভাষা, আলাদা বসতি-এলাকা, আলাদা ইতিহাস। তাই এই পাতায় কোনো জনগোষ্ঠীর তথ্য অন্য জনগোষ্ঠীর বেলায় খাটানো হয়নি; প্রতিটি সংখ্যার পাশে তার উৎস বলা আছে।
তিনটি সংখ্যাই চালু আছে, এবং তিনটিরই উৎস আছে। আইনের সংজ্ঞায় 11টি নাম, বাংলাপিডিয়ার ভুক্তিতে 13টি “স্বতন্ত্র উপজাতি”, আর আমাদের আর্কাইভের গুর্খা-বিষয়ক লেখায় 11টির সঙ্গে গুর্খা, অহমিয়া ও সাঁওতাল মিলিয়ে 14টি। 2022 সালের শুমারি তিন জেলায় এর চেয়েও অনেক বেশি নাম গুনেছে।
আইনে 11টি। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998-এর ধারা 2(গ)-তে সংজ্ঞাটি এ রকম: “উপ-জাতীয়” অর্থ পার্বত্য জেলাসমূহে স্থায়ীভাবে বসবাসরত “চাকমা, মারমা, তনৈচংগা, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখো, খিয়াং, ম্রো, বোম, খুমী ও চাক” উপ-জাতীয় কোনো সদস্য। আইনের বানান এখানে হুবহু রাখা হলো — “তনৈচংগা” মানে তঞ্চঙ্গ্যা, “পাংখো” মানে পাংখোয়া, “বোম” মানে বম। আইনটির পূর্ণ পাঠ আর্কাইভে আছে: পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন।
একই আইনের ধারা 5 এই এগারোটি নামকে পরিষদের আসনেও ভাগ করে দিয়েছে। বারোজন “উপ-জাতীয়” সদস্যের মধ্যে পাঁচজন চাকমা, তিনজন মারমা, দুইজন ত্রিপুরা, একজন ম্রো ও তঞ্চঙ্গ্যাদের মধ্য থেকে, আর একজন লুসাই, বম, পাংখোয়া, খুমি, চাক ও খিয়াং — এই ছয় জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন। অর্থাৎ ছয়টি ছোট জনগোষ্ঠীর জন্য আইনে আসন একটি। দুইজন নারী সদস্যের একজন চাকমা নারীদের মধ্য থেকে, অন্যজন বাকি জনগোষ্ঠীগুলোর নারীদের মধ্য থেকে।
আর্কাইভের লেখায় 14টি। গুর্খা জাতির আদ্যোপান্ত লেখাটি বলছে, আঞ্চলিক পরিষদ আইন ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনে স্বীকৃত 11টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ছাড়াও “গুর্খা, অহমিয়া বা আসাম ও সাঁওতাল নামে আরো ৩টি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী” দীর্ঘকাল ধরে এ অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। অহমিয়াদের নিয়ে আর্কাইভের লেখাটি আলাদা করে জানাচ্ছে, ব্রিটিশ আমল থেকে বসবাস করলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো আইনে অহমিয়া জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতি নেই।
বাংলাপিডিয়ায় 13টি। বাংলাপিডিয়ার “পার্বত্য চট্টগ্রাম” ভুক্তি লিখেছে, “প্রকৃতপক্ষে ১৩টি স্বতন্ত্র উপজাতি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করে” (ইংরেজি সংস্করণে: “thirteen different tribes”)। বাংলাপিডিয়ার পাংখোয়া ভুক্তিও “১৩টি” আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কথা বলে। কোন তেরোটি — নাম ধরে সে তালিকা এই ভুক্তিগুলোতে দেওয়া নেই।
শুমারিতে আরও বেশি নাম। 2022 সালের শুমারির জেলা-প্রতিবেদনের Table P17 (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান) তিন জেলায় মোট 43টি আলাদা নামের সারি দেখায়, সঙ্গে একটি “Others” সারি। আইনের 11টির বাইরে সেখানে আছে রাখাইন, সাঁওতাল, গুর্খা, গারো এবং আরও অনেক নাম, যাদের বেশির ভাগের সংখ্যা তিন জেলায় এক অঙ্ক বা দুই অঙ্কের। তিন জেলার 920,248 জনের মধ্যে আইনের এগারোটি জনগোষ্ঠী মিলিয়ে 916,964 জন — 99.64% (দুটিই তিন জেলার Table P17-এর নিজস্ব যোগফল)।
পরিভাষা নিয়ে একটি টীকা: আইন লিখেছে “উপ-জাতীয়”, BBS লিখেছে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” (ইংরেজিতে Ethnic Population), আর জুমজার্নাল নিজের লেখায় “আদিবাসী” শব্দটি ব্যবহার করে। এই পাতায় উৎসের কথা উদ্ধৃত করার সময় উৎসের শব্দই রাখা হয়েছে।
2022 সালের শুমারিতে তিন পার্বত্য জেলায় “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” জনসংখ্যা 920,248 — রাঙামাটিতে 372,875, খাগড়াছড়িতে 349,390, বান্দরবানে 197,983। তিন জেলার মোট জনসংখ্যা 1,842,811। দুটি যোগফলই তিনটি জেলা-প্রতিবেদনের সংখ্যা যোগ করে পাওয়া; BBS নিজে “তিন পার্বত্য জেলা” বলে আলাদা কোনো মোট সংখ্যা ছাপেনি।
| জেলা | মোট জনসংখ্যা (Table 3.1.13) | ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যা (Table P17) | শতাংশ (নিজস্ব হিসাব) |
|---|---|---|---|
| রাঙামাটি | 647,586 | 372,875 | 57.58% |
| খাগড়াছড়ি | 714,119 | 349,390 | 48.93% |
| বান্দরবান | 481,106 | 197,983 | 41.15% |
| তিন জেলা — যোগফল (নিজস্ব হিসাব) | 1,842,811 | 920,248 | 49.94% |
ছকের প্রথম তিন সারির সংখ্যা BBS-এর জেলা-প্রতিবেদন থেকে নেওয়া: District Report: Rangamati, District Report: Khagrachhari ও District Report: Bandarban — প্রতিটির Table 3.1.13 (ধর্ম ও উপজেলা অনুযায়ী জনসংখ্যা, যেখানে জেলার মোট জনসংখ্যা আছে) এবং Table P17 (Ethnic Population by Category, Sex and Upazila, 2022)। শেষ সারি ও শতাংশের কলাম ওই সংখ্যাগুলো থেকে করা যোগ-ভাগ।
হিসাবটি থেকে তিনটি জিনিস দেখা যায়। রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যা জেলার মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি (57.58%), খাগড়াছড়িতে অর্ধেকের সামান্য কম (48.93%), আর বান্দরবানে পাঁচ ভাগের দুই ভাগের মতো (41.15%)। তিন জেলা একসঙ্গে ধরলে অনুপাতটি প্রায় সমান সমান — 49.94%।
জাতীয় হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে: জাতীয় প্রতিবেদনের (National Report, Volume I) Table P29 অনুযায়ী সারা দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যা 1,650,478, এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে 991,013 — দেশের মোটের 60.04%। একই প্রতিবেদনের Table P28 চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলো আলাদা করে দেখায়: তিন পার্বত্য জেলার বাইরে চট্টগ্রাম জেলায় 48,245, কক্সবাজারে 14,881, চাঁদপুরে 2,863, কুমিল্লায় 2,044। তিন পার্বত্য জেলার যোগফল 920,248 সারা দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যার 55.76% (নিজস্ব হিসাব)।
জাতীয় প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় নভেম্বর 2023-এ, জেলা-প্রতিবেদনগুলো জুন 2024-এ। জাতীয় প্রতিবেদনের ছকের নিচে BBS একটি টীকা দিয়েছে: হিজড়া জনগোষ্ঠীকে এই ছকে ধরা হয়নি বলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মোট সংখ্যা অন্য ছকের তুলনায় সামান্য কম দেখায়।
পুরনো শুমারির সঙ্গে তুলনা করতে গেলে একটি অমিল চোখে পড়ে। বাংলাপিডিয়ার বাংলা সংস্করণ 1991 সালের শুমারিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যা লিখেছে 10 লক্ষ 5 হাজার 362; ইংরেজি সংস্করণে একই শুমারির সংখ্যা 1.042 মিলিয়ন। 2022 সালে তিন জেলার যোগফল 1,842,811।
2022 সালের শুমারিতে সারা দেশে চাকমা 483,365, মারমা 224,299, ত্রিপুরা 156,620, ম্রো 52,463, তঞ্চঙ্গ্যা 45,974, বম 13,193, খিয়াং 4,826, খুমি 3,780, চাক 3,077, পাংখোয়া 1,857 ও লুসাই 380 জন। নিচের ছকে এই জাতীয় সংখ্যার পাশে তিন জেলার সংখ্যা ও তাদের যোগফল রাখা হলো।
| জনগোষ্ঠী (BBS-এর বানান) | সারা দেশ (Table P29) | রাঙামাটি (Table P17) | খাগড়াছড়ি (Table P17) | বান্দরবান (Table P17) | তিন জেলার যোগফল (নিজস্ব হিসাব) | জাতীয় সংখ্যার কত অংশ তিন জেলায় (নিজস্ব হিসাব) |
|---|---|---|---|---|---|---|
| চাকমা (Chakma) | 483,365 | 276,048 | 175,165 | 3,712 | 454,925 | 94.12% |
| মারমা (Marma) | 224,299 | 51,403 | 74,210 | 84,170 | 209,783 | 93.53% |
| ত্রিপুরা (Tripura) | 156,620 | 12,300 | 98,500 | 22,572 | 133,372 | 85.16% |
| ম্রো (Mro) | 52,463 | 258 | 18 | 51,448 | 51,724 | 98.59% |
| তঞ্চঙ্গ্যা (Tonchonga) | 45,974 | 27,975 | 79 | 14,889 | 42,943 | 93.41% |
| বম (Bom) | 13,193 | 441 | 16 | 11,854 | 12,311 | 93.31% |
| খিয়াং (Khiang) | 4,826 | 1,670 | 4 | 2,502 | 4,176 | 86.53% |
| খুমি (Khumi) | 3,780 | 44 | 0 (সারি নেই) | 3,287 | 3,331 | 88.12% |
| চাক (Chak) | 3,077 | 41 | 22 | 2,662 | 2,725 | 88.56% |
| পাংখোয়া (Pankhoa/Pankho) | 1,857 | 1,398 | 5 | 55 | 1,458 | 78.51% |
| লুসাই (Lusai) | 380 | 147 | 11 | 58 | 216 | 56.84% |
| গুর্খা (Gurkha) | 101 | 43 | 5 | 1 | 49 | 48.51% |
| রাখাইন (Rakhain) | 11,197 | 568 | 475 | 355 | 1,398 | 12.49% |
| সাঁওতাল (Saontal) | 129,056 | 35 | 541 | 43 | 619 | 0.48% |
ছকটি কীভাবে পড়তে হবে: “সারা দেশ” কলামের সংখ্যা BBS-এর জাতীয় প্রতিবেদন (Volume I)-এর Table P29 “Ethnic Population by Category, Sex and Division, 2022” থেকে। তিন জেলার কলামগুলো প্রতিটি জেলা-প্রতিবেদনের Table P17 থেকে। শেষ দুটি কলাম — “তিন জেলার যোগফল” ও শতাংশ — BBS-এর ছাপা সংখ্যা নয়; তিনটি Table P17-এর সংখ্যা যোগ করে এবং Table P29-এর জাতীয় সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে পাওয়া। প্রথম এগারোটি সারি আইনে নাম থাকা জনগোষ্ঠী; শেষ তিনটি সারি তার বাইরের।
ছক থেকে কয়েকটি বিষয় সরাসরি পড়া যায়। ম্রোদের 98.59% তিন পার্বত্য জেলায় গোনা হয়েছে — এগারোটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীভূত। লুসাইদের ক্ষেত্রে অনুপাতটি সবচেয়ে কম: সারা দেশের 380 জনের মধ্যে তিন জেলায় 216 জন, অর্থাৎ 56.84%। ত্রিপুরাদের 23,248 জন এবং চাকমাদের 28,440 জন তিন পার্বত্য জেলার বাইরে গোনা হয়েছেন। খাগড়াছড়ির Table P17-এ খুমি নামে কোনো সারি নেই।
বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কারা? Table P29 অনুযায়ী প্রথম চাকমা (483,365), দ্বিতীয় মারমা (224,299), তৃতীয় ত্রিপুরা (156,620), চতুর্থ সাঁওতাল (129,056)। প্রথম তিনটিই পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠী। ছকে BBS মোট 50টি নাম আলাদা সারিতে দেখিয়েছে, সঙ্গে “Others” সারিতে 68,588 জন।
একই শুমারির দুই রকম সংখ্যা। 25 জুন 2026 তারিখে সংসদে সংস্কৃতিমন্ত্রীর দেওয়া উত্তর নিয়ে UNB-র প্রতিবেদনে শুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন ধরে চাকমা 483,299, মারমা 224,261, ত্রিপুরা 156,578 ও সাঁওতাল 129,049 লেখা হয়েছে; BBS-এর চূড়ান্ত জাতীয় প্রতিবেদনে সংখ্যাগুলো যথাক্রমে 483,365, 224,299, 156,620 ও 129,056। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী গেজেটভুক্ত জনগোষ্ঠী 50টি, মোট জনসংখ্যা প্রায় 16.5 লাখ। এই পাতার সব সংখ্যা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের।
ম্রোদের সংখ্যা নিয়েও দুই রকম অঙ্ক ঘুরছে। আমাদের ম্রো-বিষয়ক লেখায় 52,455 (ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় উদ্ধৃত) ও 51,724 — দুটি সংখ্যাই আছে। BBS-এর চূড়ান্ত ছক মিলিয়ে দেখলে ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়: 52,463 হলো সারা দেশের সংখ্যা (Table P29), আর 51,724 তিন পার্বত্য জেলার যোগফল (তিনটি Table P17-এর নিজস্ব যোগ)।
2022 সালের শুমারিতে সারা দেশে চাকমা জনসংখ্যা 483,365 — বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। রাঙামাটিতে 276,048, খাগড়াছড়িতে 175,165, বান্দরবানে 3,712; তিন জেলার যোগফল 454,925 (তিনটি Table P17-এর নিজস্ব যোগ)। সবচেয়ে বেশি চাকমা থাকেন বাঘাইছড়ি, দীঘিনালা ও রাঙামাটি সদর উপজেলায়।
আমাদের আর্কাইভের চাকমা জাতি লেখাটি জানাচ্ছে, তিন পার্বত্য জেলাতেই চাকমাদের বসবাস, তবে সবচেয়ে বেশি রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে; এ ছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের 11টি স্থানে চাকমা বসতি আছে। বাংলাপিডিয়া একই কথা বলে: চাকমাদের শতকরা 90 জনের বেশি রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে কেন্দ্রীভূত, এবং তাঁরা নিজেদের বলেন “চাঙমা”। শুমারির হিসাবেও তাই — রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি মিলিয়ে 451,213 জন, জাতীয় সংখ্যার 93.35% (নিজস্ব হিসাব)।
বাংলাদেশের বাইরে চাকমারা থাকেন ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম, অরুণাচল, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে, এবং মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলে — আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী। বাংলাপিডিয়ার ইংরেজি ভুক্তি ভারতে চাকমাদের সংখ্যা প্রায় 100,000 বলে উল্লেখ করেছে।
ভাষা: আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কেবল চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারের আর্য শাখার। বাংলাপিডিয়া যোগ করেছে, এমন ইঙ্গিত আছে যে চাকমারা একসময় এক ধরনের তিব্বতি-বর্মি ভাষায় কথা বলতেন, তবে বর্তমান ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয়; নিজস্ব লিপি আছে, যদিও ইংরেজি ভুক্তি অনুযায়ী এখন সাধারণত বাংলা হরফেই লেখা হয়।
| উপজেলা | জেলা | চাকমা জনসংখ্যা (2022) |
|---|---|---|
| বাঘাইছড়ি | রাঙামাটি | 70,350 |
| দীঘিনালা | খাগড়াছড়ি | 61,618 |
| রাঙামাটি সদর | রাঙামাটি | 60,449 |
| নানিয়ারচর | রাঙামাটি | 38,766 |
| খাগড়াছড়ি সদর | খাগড়াছড়ি | 36,937 |
| বরকল | রাঙামাটি | 34,462 |
| পানছড়ি | খাগড়াছড়ি | 30,270 |
| জুরাছড়ি | রাঙামাটি | 24,548 |
| মহালছড়ি | খাগড়াছড়ি | 21,357 |
| লংগদু | রাঙামাটি | 20,888 |
| কাউখালী | রাঙামাটি | 17,188 |
| লক্ষ্মীছড়ি | খাগড়াছড়ি | 13,936 |
পূর্ণ পরিচিতি: চাকমা জাতি। ইতিহাসের জন্য: চাংমাটারা – চাকমা জাতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।
2022 সালের শুমারিতে সারা দেশে মারমা জনসংখ্যা 224,299 — দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। বান্দরবানে 84,170, খাগড়াছড়িতে 74,210, রাঙামাটিতে 51,403; তিন জেলার যোগফল 209,783 (তিনটি Table P17-এর নিজস্ব যোগ)। এগারোটির মধ্যে মারমারাই তিন জেলায় সবচেয়ে সমানভাবে ছড়ানো।
আর্কাইভের মারমা জাতির আদ্যোপান্ত লেখা অনুযায়ী মারমারা পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখ্যায় দ্বিতীয় বৃহত্তম, সবচেয়ে বেশি থাকেন বান্দরবানে, যেখানে জেলার সর্বত্র তাঁদের বসতি। লেখাটি আরও বলছে, খাগড়াছড়িতে দীঘিনালা ছাড়া অন্য সব উপজেলায় এবং রাঙামাটির চন্দ্রঘোনা, রাজস্থলী, কাউখালী ও সদর উপজেলায় মারমা বসতি আছে। শুমারির ছক এই বিবরণের সঙ্গে মেলে: দীঘিনালায় মারমা মাত্র 73 জন, অথচ পাশের গুইমারায় 20,293।
বান্দরবান সদরে একাই 26,628 জন মারমা। রাঙামাটিতে মারমারা তিনটি উপজেলায় কেন্দ্রীভূত — কাউখালী (18,477), কাপ্তাই (15,844) ও রাজস্থলী (10,213) মিলিয়ে 44,534 জন, জেলার মোট মারমা জনসংখ্যার 86.64% (নিজস্ব হিসাব)। আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী বাংলাদেশের বাইরে ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরামে এবং মিয়ানমারে মারমা জনগোষ্ঠীর বসবাস আছে।
ভাষা: আর্কাইভের লেখা ও বাংলাপিডিয়া — দুই উৎসই বলছে মারমাদের ভাষা ভোট-বর্মী (তিব্বতি-বর্মী) শাখার বর্মী দলভুক্ত, এবং নিজস্ব বর্ণমালা আছে। বাংলাপিডিয়া বর্ণমালার নাম দিয়েছে “ম্রাইমাজা”; আর্কাইভের লেখায় বর্ণসংখ্যা মোট 45টি।
| উপজেলা | জেলা | মারমা জনসংখ্যা (2022) |
|---|---|---|
| বান্দরবান সদর | বান্দরবান | 26,628 |
| গুইমারা | খাগড়াছড়ি | 20,293 |
| কাউখালী | রাঙামাটি | 18,477 |
| কাপ্তাই | রাঙামাটি | 15,844 |
| লামা | বান্দরবান | 15,819 |
| খাগড়াছড়ি সদর | খাগড়াছড়ি | 14,792 |
| মানিকছড়ি | খাগড়াছড়ি | 14,431 |
| রোয়াংছড়ি | বান্দরবান | 13,716 |
| রাজস্থলী | রাঙামাটি | 10,213 |
| রুমা | বান্দরবান | 10,097 |
| থানচি | বান্দরবান | 9,345 |
| মহালছড়ি | খাগড়াছড়ি | 7,487 |
পূর্ণ পরিচিতি: মারমা জাতির আদ্যোপান্ত।
2022 সালের শুমারিতে সারা দেশে ত্রিপুরা জনসংখ্যা 156,620 — তৃতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। খাগড়াছড়িতে 98,500, বান্দরবানে 22,572, রাঙামাটিতে 12,300; তিন জেলার যোগফল 133,372 (তিনটি Table P17-এর নিজস্ব যোগ)। জাতীয় সংখ্যার 62.89% একা খাগড়াছড়ি জেলায়।
খাগড়াছড়ির ভেতরে ত্রিপুরা জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি সদর উপজেলায় (28,576) ও মাটিরাঙ্গায় (23,647)। বান্দরবানে তাঁরা মূলত থানচি (6,336), লামা (5,755) ও আলীকদমে (3,452); রাঙামাটিতে বাঘাইছড়িতে (5,457)।
ত্রিপুরাদের 23,248 জন — জাতীয় সংখ্যার 14.84% — পার্বত্য তিন জেলার বাইরে গোনা হয়েছেন (জাতীয় সংখ্যা থেকে তিন জেলার যোগফল বাদ দিয়ে নিজস্ব হিসাব); চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা — এই তিন বড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই অনুপাত ত্রিপুরাদেরই সবচেয়ে বেশি। আর্কাইভের ত্রিপুরা জাতির আদ্যোপান্ত লেখাটি সমতলের কুমিল্লা, সিলেট, বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা, রাজবাড়ি, চাঁদপুর ও ফরিদপুরে ত্রিপুরা বসতির কথা বলে; আর জানায়, এ জাতির মূল অংশ থাকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে। শুমারির Table P29-এও সিলেট বিভাগে 2,166 ও ঢাকা বিভাগে 2,136 জন ত্রিপুরা গোনা হয়েছে।
ভাষা: ত্রিপুরাদের ভাষার নাম ককবরক — আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী “কক” মানে ভাষা, “বরক” মানে মানুষ। আমাদের পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা লেখায় আছে, 2012 সালের 3 ডিসেম্বর একটি সরকারি কমিটির সিদ্ধান্তে ত্রিপুরাদের পাঠ্যবই রোমান বর্ণমালায় ছাপার কথা ঠিক হয়।
| উপজেলা | জেলা | ত্রিপুরা জনসংখ্যা (2022) |
|---|---|---|
| খাগড়াছড়ি সদর | খাগড়াছড়ি | 28,576 |
| মাটিরাঙ্গা | খাগড়াছড়ি | 23,647 |
| পানছড়ি | খাগড়াছড়ি | 13,295 |
| গুইমারা | খাগড়াছড়ি | 10,007 |
| দীঘিনালা | খাগড়াছড়ি | 8,523 |
| রামগড় | খাগড়াছড়ি | 8,065 |
| থানচি | বান্দরবান | 6,336 |
| লামা | বান্দরবান | 5,755 |
| বাঘাইছড়ি | রাঙামাটি | 5,457 |
| মানিকছড়ি | খাগড়াছড়ি | 4,313 |
| আলীকদম | বান্দরবান | 3,452 |
| রুমা | বান্দরবান | 2,913 |
পূর্ণ পরিচিতি: ত্রিপুরা জাতির আদ্যোপান্ত।
2022 সালের শুমারিতে সারা দেশে তঞ্চঙ্গ্যা জনসংখ্যা 45,974 (BBS-এর বানানে Tonchonga)। রাঙামাটিতে 27,975, বান্দরবানে 14,889, খাগড়াছড়িতে 79; তিন জেলার যোগফল 42,943 (তিনটি Table P17-এর নিজস্ব যোগ)। সবচেয়ে বেশি থাকেন রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় — 11,452 জন।
শুমারির ছকে তঞ্চঙ্গ্যা বসতির উপজেলাগুলো রাঙামাটি ও বান্দরবান — দুই জেলায় ভাগ হয়ে আছে: বিলাইছড়ি, কাপ্তাই (6,881), রাজস্থলী (4,542), তারপর বান্দরবান সদর (5,605), রোয়াংছড়ি (3,990), নাইক্ষ্যংছড়ি (2,881) ও আলীকদম (1,977)। বাংলাপিডিয়া পার্বত্য তিন জেলার বাইরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার বইস্যাবিলি এলাকা এবং কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের নামও দিয়েছে, আর 2001 সালের শুমারিতে সংখ্যা লিখেছে 31,164।
খাগড়াছড়ি নিয়ে উৎসে অমিল আছে: বাংলাপিডিয়া রাঙামাটি ও বান্দরবানের সঙ্গে খাগড়াছড়িকেও তঞ্চঙ্গ্যাদের বসবাসের জেলা বলেছে, অথচ 2022 সালের শুমারিতে খাগড়াছড়িতে তঞ্চঙ্গ্যা মাত্র 79 জন; আর আমাদের আর্কাইভের লেখার উপজেলাভিত্তিক ছকটিও “খাগড়াছড়ি জেলা ব্যতীত” বলে শুরু হয়েছে।
নাম ও ভাষা: আর্কাইভের তঞ্চঙ্গ্যা জাতির আদ্যোপান্ত লেখা অনুযায়ী দেশভেদে তাঁরা “তঞ্চঙ্গ্যা” ও “দাইনাক” নামে পরিচিত, এবং তাঁদের বর্তমান ভাষা ভারতীয় আর্য ভাষার অন্তর্ভুক্ত। বাংলাপিডিয়াও ভাষাটিকে ভারতীয় আর্য ভাষার অন্তর্গত বলেছে, এবং জানিয়েছে গোত্রভেদে উচ্চারণে কিছুটা পার্থক্য আছে।
| উপজেলা | জেলা | তঞ্চঙ্গ্যা জনসংখ্যা (2022) |
|---|---|---|
| বিলাইছড়ি | রাঙামাটি | 11,452 |
| কাপ্তাই | রাঙামাটি | 6,881 |
| বান্দরবান সদর | বান্দরবান | 5,605 |
| রাজস্থলী | রাঙামাটি | 4,542 |
| রোয়াংছড়ি | বান্দরবান | 3,990 |
| রাঙামাটি সদর | রাঙামাটি | 3,488 |
| নাইক্ষ্যংছড়ি | বান্দরবান | 2,881 |
| আলীকদম | বান্দরবান | 1,977 |
| জুরাছড়ি | রাঙামাটি | 898 |
| কাউখালী | রাঙামাটি | 677 |
পূর্ণ পরিচিতি: তঞ্চঙ্গ্যা জাতির আদ্যোপান্ত।
2022 সালের শুমারিতে সারা দেশে ম্রো জনসংখ্যা 52,463, এর মধ্যে 51,448 জন বান্দরবান জেলায় — জাতীয় সংখ্যার 98.07% (নিজস্ব হিসাব)। রাঙামাটিতে 258, খাগড়াছড়িতে 18; তিন জেলার যোগফল 51,724। বান্দরবানে মারমার পরেই ম্রোরা দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী।
বান্দরবানের সাতটি উপজেলার সবকটিতেই ম্রো আছেন, তবে সবচেয়ে বেশি দুটি উপজেলায় — আলীকদম (15,168) ও লামা (10,781) মিলিয়ে 25,949 জন, জেলার ম্রো জনসংখ্যার অর্ধেকের সামান্য বেশি। আলীকদম উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যার (25,113) মধ্যে ম্রোরাই সবচেয়ে বড় দল।
আমাদের ম্রো জাতি: ক্রামা, বর্ণমালা ও চিম্বুকের পাহাড় লেখায় বসতি-এলাকা হিসেবে বান্দরবানের সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা ও আলীকদম এবং রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ভার্জ্যাতলী মৌজার নাম আছে। শুমারিতে রাঙামাটির 258 জন ম্রোর মধ্যে কাপ্তাইয়ে 8 জন, আর বিলাইছড়িতে 139 জন। বাংলাপিডিয়া বান্দরবানের 17টি মৌজার নাম দিয়েছে।
নাম: ম্রো, মুরুং, মুরং — কোন নামটি নিজস্ব, তা নিয়ে আর্কাইভে একজন ম্রো লেখকের আলাদা লেখা আছে: মুরুং, মুরং, ম্র নাকি ম্রো — কোনটা সঠিক?। সেখানে বলা হয়েছে, জাতির নিজস্ব নাম “ম্রো”। বাংলাপিডিয়ার ভুক্তির শিরোনামও “ম্রো” (ইংরেজি সংস্করণে “Mru”)।
ভাষা: বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী ম্রোরা তিব্বতি-বর্মী দলের একটি ভাষায় কথা বলেন; আগে বর্ণমালা ছিল না, এখন নিজস্ব বর্ণমালায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই আছে। একটি সতর্কতা: বাংলাপিডিয়ার ওই ভুক্তিতে 1991 সালের শুমারিতে ম্রোদের সংখ্যা লেখা 222,167, যা 2022 সালের 52,463-এর চার গুণের বেশি; ইংরেজি সংস্করণও একই সংখ্যা দিয়ে একে 1991 সালের শুমারির হিসাব বলেছে, কিন্তু মূল শুমারি-সারণির সঙ্গে সংখ্যাটি মেলানো যায়নি।
| উপজেলা | জেলা | ম্রো জনসংখ্যা (2022) |
|---|---|---|
| আলীকদম | বান্দরবান | 15,168 |
| লামা | বান্দরবান | 10,781 |
| বান্দরবান সদর | বান্দরবান | 7,280 |
| রুমা | বান্দরবান | 7,157 |
| থানচি | বান্দরবান | 7,021 |
| নাইক্ষ্যংছড়ি | বান্দরবান | 2,356 |
| রোয়াংছড়ি | বান্দরবান | 1,685 |
| বিলাইছড়ি | রাঙামাটি | 139 |
| রাঙামাটি সদর | রাঙামাটি | 43 |
পূর্ণ পরিচিতি: ম্রো জাতি: ক্রামা, বর্ণমালা ও চিম্বুকের পাহাড়।
2022 সালের শুমারিতে সারা দেশে বম জনসংখ্যা 13,193 (BBS-এর বানানে Bom)। বান্দরবানে 11,854, রাঙামাটিতে 441, খাগড়াছড়িতে 16; তিন জেলার যোগফল 12,311 (তিনটি Table P17-এর নিজস্ব যোগ)। প্রায় অর্ধেক বম থাকেন একটি উপজেলায় — রুমায়, 6,470 জন।
রুমার পরে বান্দরবান সদর (2,748), রোয়াংছড়ি (1,882) ও থানচি (685), আর রাঙামাটির বিলাইছড়ি (356)। আর্কাইভের বম জাতির আদ্যোপান্ত লেখা ও বাংলাপিডিয়া — দুই উৎসই ঠিক এই পাঁচটি উপজেলার নাম দেয় এবং বলে, মোট 70টি গ্রামে বমদের বসবাস। শুমারির হিসাবে এই পাঁচ উপজেলায় মোট 12,141 জন — তিন জেলার বম জনসংখ্যার 98.62% (নিজস্ব হিসাব)।
আমাদের বম জাতি: নাম, গোত্র, খ্রিষ্টধর্ম ও নিজস্ব বর্ণমালা লেখায় আছে, বাংলাদেশের বাইরে ভারতের মণিপুর ও মিজোরাম এবং মিয়ানমারের চিন প্রদেশেও বম জনগোষ্ঠীর বসবাস।
ভাষা: আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী বমরা কুকি-চিন ভাষাভাষী। নিজস্ব ভাষার জন্য রোমান-ভিত্তিক বর্ণমালা আছে; গোত্র, খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ ও বর্ণমালার ইতিহাস ওই দুই লেখায় বিস্তারিত।
| উপজেলা | জেলা | বম জনসংখ্যা (2022) |
|---|---|---|
| রুমা | বান্দরবান | 6,470 |
| বান্দরবান সদর | বান্দরবান | 2,748 |
| রোয়াংছড়ি | বান্দরবান | 1,882 |
| থানচি | বান্দরবান | 685 |
| বিলাইছড়ি | রাঙামাটি | 356 |
| লামা | বান্দরবান | 56 |
| রাঙামাটি সদর | রাঙামাটি | 48 |
পূর্ণ পরিচিতি: বম জাতির আদ্যোপান্ত এবং বম জাতি: নাম, গোত্র, খ্রিষ্টধর্ম ও নিজস্ব বর্ণমালা।
2022 সালের শুমারিতে সারা দেশে খিয়াং 4,826, খুমি 3,780, চাক 3,077, পাংখোয়া 1,857 ও লুসাই 380 জন — পাঁচটি মিলিয়ে 13,920 (Table P29-এর পাঁচটি সংখ্যার নিজস্ব যোগ)। সংখ্যায় ছোট বলে এক শিরোনামের নিচে রাখা হলেও এঁরা পাঁচটি আলাদা জনগোষ্ঠী, থাকেনও আলাদা আলাদা এলাকায়।
পাঁচটিকে একসঙ্গে নিয়ে আমাদের আলাদা একটি লেখা আছে: খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখোয়া, লুসাই: পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী। নিচে প্রত্যেকের কেবল বসতি, সংখ্যা ও ভাষার তথ্য।
সারা দেশে 4,826 জন; বান্দরবানে 2,502, রাঙামাটিতে 1,670, খাগড়াছড়িতে 4 — তিন জেলার যোগফল 4,176 (নিজস্ব হিসাব)। বাকিরা তিন জেলার বাইরে গোনা হয়েছেন; Table P29 অনুযায়ী গোটা চট্টগ্রাম বিভাগে খিয়াং 4,709 জন। সবচেয়ে বেশি থাকেন রাঙামাটির রাজস্থলীতে (1,420) ও বান্দরবান সদরে (1,310)।
আর্কাইভের খিয়াং লেখাটি রাঙামাটির রাজস্থলী ও কাপ্তাই এবং বান্দরবানের সদর, রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলার নাম দেয় — শুমারির ছকের প্রথম ছয়টি উপজেলাও ঠিক এগুলোই। বাংলাপিডিয়া রাঙামাটি ও বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলার নামও বলেছে। ভাষা: দুই উৎসই বলছে খিয়াংদের ভাষা তিব্বতি-ব্রহ্ম শাখার কুকি-চিন দলভুক্ত, এবং নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।
| উপজেলা | জেলা | খিয়াং জনসংখ্যা (2022) |
|---|---|---|
| রাজস্থলী | রাঙামাটি | 1,420 |
| বান্দরবান সদর | বান্দরবান | 1,310 |
| রোয়াংছড়ি | বান্দরবান | 652 |
| থানচি | বান্দরবান | 359 |
| কাপ্তাই | রাঙামাটি | 177 |
| রুমা | বান্দরবান | 158 |
পূর্ণ পরিচিতি: খিয়াং জাতির আদ্যোপান্ত।
সারা দেশে 3,780 জন; বান্দরবানে 3,287, রাঙামাটিতে 44 — তিন জেলার যোগফল 3,331 (নিজস্ব হিসাব)। প্রায় অর্ধেক খুমি থাকেন থানচি উপজেলায় (1,829), তারপর রুমা (890) ও রোয়াংছড়ি (436)।
আর্কাইভের খুমী জাতির আদ্যোপান্ত লেখা অনুযায়ী খুমিরা কেবল রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচিতে থাকেন — 11টি মৌজায় মোট 36টি গ্রাম (থানচিতে 21, রুমায় 11, রোয়াংছড়িতে 4)। শুমারি এই তিন উপজেলার বাইরেও খুমি গুনেছে: বান্দরবান সদরে 81, লামায় 44, রাঙামাটির বিলাইছড়িতে 25 জন। বাংলাপিডিয়া আবার থানচি ও রোয়াংছড়ির সঙ্গে লামার নাম দিয়েছে। ভাষা: আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী তিব্বতি-বর্মী কুকি-চিন দলভুক্ত; বাংলাপিডিয়া বলছে নিজস্ব ভাষা আছে, বর্ণমালা নেই।
| উপজেলা | জেলা | খুমি জনসংখ্যা (2022) |
|---|---|---|
| থানচি | বান্দরবান | 1,829 |
| রুমা | বান্দরবান | 890 |
| রোয়াংছড়ি | বান্দরবান | 436 |
| বান্দরবান সদর | বান্দরবান | 81 |
| লামা | বান্দরবান | 44 |
| বিলাইছড়ি | রাঙামাটি | 25 |
পূর্ণ পরিচিতি: খুমী জাতির আদ্যোপান্ত।
সারা দেশে 3,077 জন; বান্দরবানে 2,662, যার 2,329 জন একটি উপজেলায় — নাইক্ষ্যংছড়িতে। রাঙামাটিতে 41, খাগড়াছড়িতে 22; তিন জেলার যোগফল 2,725 (নিজস্ব হিসাব)। চাক ও চাকমা দুটি আলাদা জনগোষ্ঠী; শুমারির ছকেও তাঁদের সারি আলাদা।
আর্কাইভের চাক জাতির আদ্যোপান্ত লেখা অনুযায়ী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার 4টি ইউনিয়ন ও 17টি মৌজার মধ্যে 3টি ইউনিয়নের 5টি মৌজায় ছোট-বড় মোট 15টি চাক বসতি আছে। বাংলাপিডিয়া এলাকাগুলোর নাম দিয়েছে: বাইশারি, নাইক্ষ্যংছড়ি, কামিছড়া, ক্রোক্ষং, বাকখালি, আলেখ্যং, ক্রোয়াংঝিড়ি ও ডুছড়ি। ভাষা: বাংলাপিডিয়ার ইংরেজি ভুক্তি চাকদের ভাষাকে তিব্বতি-বর্মী শাখার “সাক” বা “লাই” দলে রেখেছে; আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী নিজস্ব ভাষা আছে, নিজস্ব বর্ণমালা নেই।
| উপজেলা | জেলা | চাক জনসংখ্যা (2022) |
|---|---|---|
| নাইক্ষ্যংছড়ি | বান্দরবান | 2,329 |
| বান্দরবান সদর | বান্দরবান | 225 |
| লামা | বান্দরবান | 83 |
| আলীকদম | বান্দরবান | 17 |
পূর্ণ পরিচিতি: চাক জাতির আদ্যোপান্ত।
সারা দেশে 1,857 জন (BBS-এর বানানে Pankhoa/Pankho); রাঙামাটিতে 1,398, বান্দরবানে 55, খাগড়াছড়িতে 5 — তিন জেলার যোগফল 1,458 (নিজস্ব হিসাব)। পাঁচটি ছোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে কেবল পাংখোয়াদের মূল বসতি রাঙামাটিতে; সবচেয়ে বেশি বিলাইছড়িতে (498)।
আর্কাইভের পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত লেখায় বিলাইছড়ি, বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়ন, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু, কাপ্তাই ও রাঙামাটি সদরের পাড়াগুলোর নাম ধরে তালিকা আছে; লেখাটি বলছে, পাংখোয়ারা আদিকাল থেকে উঁচু পাহাড়ের ওপরে বসবাস করতে পছন্দ করেন। শুমারির ছকে প্রথম সাতটি উপজেলা হুবহু এই সাতটিই। বাংলাপিডিয়া এলাকাটিকে বলেছে “সাজেক উপত্যকা থেকে বান্দরবানের রুমা পর্যন্ত”। ভাষা: আর্কাইভের লেখায় কুকি-চিন পরিবারভুক্ত; বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী নিজস্ব ভাষা আছে, তবে তা মৌখিক, লিখিত রূপ নেই।
| উপজেলা | জেলা | পাংখোয়া জনসংখ্যা (2022) |
|---|---|---|
| বিলাইছড়ি | রাঙামাটি | 498 |
| রাঙামাটি সদর | রাঙামাটি | 228 |
| বরকল | রাঙামাটি | 208 |
| কাপ্তাই | রাঙামাটি | 143 |
| বাঘাইছড়ি | রাঙামাটি | 117 |
| জুরাছড়ি | রাঙামাটি | 116 |
| লংগদু | রাঙামাটি | 66 |
পূর্ণ পরিচিতি: পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত।
সারা দেশে 380 জন — শুমারির ছকে আইনের এগারোটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে ছোট। রাঙামাটিতে 147 (এর মধ্যে বাঘাইছড়িতে 111), বান্দরবানে 58, খাগড়াছড়িতে 11; তিন জেলার যোগফল 216 (নিজস্ব হিসাব)। বাকি 164 জন তিন জেলার বাইরে গোনা হয়েছেন, যার মধ্যে ঢাকা বিভাগে 86।
আর্কাইভের লুসাই জনগোষ্ঠী: প্রচলিত রীতিনীতি ও প্রথা লেখা অনুযায়ী লুসাইরা থাকেন মূলত রাঙামাটি সদর ও বাঘাইছড়ির সাজেক উপত্যকায়, এবং বান্দরবান সদর ও রুমায় অল্প সংখ্যায়; শুমারির ছকের প্রথম চারটি উপজেলাও এগুলোই। সংখ্যা নিয়ে তিন উৎসে তিন রকম অঙ্ক: আর্কাইভের লেখায় “আনুমানিক এক হাজার”, বাংলাপিডিয়ায় 1991 সালের শুমারি ধরে 662, আর 2022 সালের শুমারিতে 380। ভাষা: আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী তিব্বতি-বর্মী শাখার কুকি-চিন দলের; বাংলাপিডিয়া জানায়, মিশনারিদের চেষ্টায় রোমান অক্ষরের অনুকরণে লুসাই বর্ণমালা তৈরি হয়।
| উপজেলা | জেলা | লুসাই জনসংখ্যা (2022) |
|---|---|---|
| বাঘাইছড়ি | রাঙামাটি | 111 |
| রুমা | বান্দরবান | 28 |
| বান্দরবান সদর | বান্দরবান | 27 |
| রাঙামাটি সদর | রাঙামাটি | 20 |
| খাগড়াছড়ি সদর | খাগড়াছড়ি | 10 |
ব্লগে লুসাইদের “আদ্যোপান্ত” ধাঁচের পূর্ণ পরিচিতি এখনো নেই; সবচেয়ে কাছের লেখা: লুসাই জনগোষ্ঠী: প্রচলিত রীতিনীতি ও প্রথা।
আইনের এগারোটি নামের বাইরে তিন পার্বত্য জেলায় শুমারি সবচেয়ে বেশি গুনেছে রাখাইন (1,398) ও সাঁওতাল (619); গুর্খা 49 জন — তিনটিই তিন জেলার Table P17-এর নিজস্ব যোগফল। অহমিয়া নামে শুমারির ছকে আলাদা কোনো সারি নেই। “Others” সারিতে তিন জেলায় আরও 814 জন।
গুর্খা। শুমারিতে সারা দেশে 101 জন, রাঙামাটিতে 43 — এর মধ্যে 40 জন রাঙামাটি সদরে। আর্কাইভের গুর্খা জাতির আদ্যোপান্ত লেখা অনুযায়ী গুর্খারা থাকেন রাঙামাটির মাঝেরবস্তি, আসামবস্তি, জেল রোড ও কন্ট্রাক্টর পাড়া এলাকায়, বান্দরবানেও চার-পাঁচটি পরিবার আছে; লেখাটির অনুমান, পার্বত্য চট্টগ্রামে গুর্খাদের সংখ্যা 300 থেকে 500-এর মধ্যে হতে পারে — শুমারির সংখ্যার কয়েক গুণ। তাঁদের ভাষা নেপালি।
অহমিয়া। আর্কাইভের অহমিয়া জাতির আদ্যোপান্ত লেখা অনুযায়ী অহমিয়ারা — স্থানীয়ভাবে যাঁদের “আসাম” বলা হয় — তিন পার্বত্য জেলাতেই দীর্ঘকাল ধরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, বিশেষ করে রাঙামাটির আসামবস্তি, মাঝেরবস্তি ও গর্জনতলী এলাকায়। লেখাটিতে তাঁদের নিজেদের অনুমান, তিন জেলায় সংখ্যা 2,000 থেকে 2,200-এর মতো। 2022 সালের শুমারির Table P29 বা Table P17-এ অহমিয়া নামে কোনো সারি নেই, তাই শুমারি থেকে এই অনুমান মেলানোর উপায় নেই।
সাঁওতাল। সারা দেশে 129,056 জন সাঁওতালের মধ্যে তিন পার্বত্য জেলায় 619 জন, তার 541 জনই খাগড়াছড়িতে — পানছড়িতে 258 ও লক্ষ্মীছড়িতে 158। রাঙামাটিতে 35, বান্দরবানে 43।
রাখাইন। সারা দেশে 11,197 জন; তিন পার্বত্য জেলায় 1,398 — রাঙামাটিতে 568, খাগড়াছড়িতে 475, বান্দরবানে 355। Table P29 অনুযায়ী রাখাইনদের বড় অংশ চট্টগ্রাম বিভাগে (8,832) ও বরিশাল বিভাগে (1,923)। শুমারি মারমা ও রাখাইনকে আলাদা সারিতে গোনে। আর্কাইভের একটি পুরনো লেখা, রাখাইন বা মারমা জাতির সংক্ষিপ্ত ইতি কথা, ভিন্ন অবস্থান নেয়: সেখানে বলা হয়েছে, কক্সবাজার, বরিশাল ও পটুয়াখালীতে যাঁরা থাকেন তাঁরা নিজেদের রাখাইন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যাঁরা থাকেন তাঁরা মারমা।
এর বাইরে তিন জেলার ছকে গারো আছেন 154 জন (খাগড়াছড়িতে 97, বান্দরবানে 37, রাঙামাটিতে 20); বাকি নামগুলোর — যেমন Barman, Khasia/Khasi, Monipuri, Oraon, Munda — প্রতিটির সংখ্যা তিন জেলা মিলিয়ে পঞ্চাশের নিচে।
রাঙামাটিতে সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী চাকমা (276,048), খাগড়াছড়িতেও চাকমা (175,165), আর বান্দরবানে মারমা (84,170)। বান্দরবানই একমাত্র জেলা যেখানে শুমারির ছকে আইনের এগারোটি জনগোষ্ঠীর সবকটির সারি আছে; খাগড়াছড়ির ছকে খুমি নেই।
রাঙামাটি (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যা 372,875): চাকমা 276,048 > মারমা 51,403 > তঞ্চঙ্গ্যা 27,975 > ত্রিপুরা 12,300 > খিয়াং 1,670 > পাংখোয়া 1,398 > বম 441 > ম্রো 258 > লুসাই 147 > খুমি 44 > চাক 41। জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যার 74.03% চাকমা (নিজস্ব হিসাব)।
খাগড়াছড়ি (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যা 349,390): চাকমা 175,165 > ত্রিপুরা 98,500 > মারমা 74,210 > তঞ্চঙ্গ্যা 79 > চাক 22 > ম্রো 18 > বম 16 > লুসাই 11 > পাংখোয়া 5 > খিয়াং 4। চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা — এই তিনটি মিলিয়ে 347,875 জন, জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যার 99.57% (নিজস্ব হিসাব)।
বান্দরবান (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যা 197,983): মারমা 84,170 > ম্রো 51,448 > ত্রিপুরা 22,572 > তঞ্চঙ্গ্যা 14,889 > বম 11,854 > চাকমা 3,712 > খুমি 3,287 > চাক 2,662 > খিয়াং 2,502 > লুসাই 58 > পাংখোয়া 55। এখানে কোনো একটি জনগোষ্ঠী অর্ধেকের বেশি নয়; সবচেয়ে বড় মারমারা জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যার 42.51% (নিজস্ব হিসাব)।
নিচের তিনটি ছকে তিন জেলার 26টি উপজেলা আলাদা করে দেওয়া হলো। “মোট জনসংখ্যা” কলাম প্রতিটি জেলা-প্রতিবেদনের Table 3.1.13 থেকে, “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” কলাম ও জনগোষ্ঠীর নাম Table P17 থেকে; শতাংশের কলাম এই দুটি সংখ্যার নিজস্ব ভাগফল।
| উপজেলা | মোট জনসংখ্যা (Table 3.1.13) | ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী (Table P17) | শতাংশ (নিজস্ব হিসাব) | সবচেয়ে বড় তিন জনগোষ্ঠী (Table P17) |
|---|---|---|---|---|
| বাঘাইছড়ি | 106,287 | 76,289 | 71.78% | চাকমা 70,350, ত্রিপুরা 5,457, পাংখোয়া 117 |
| বরকল | 49,708 | 35,315 | 71.04% | চাকমা 34,462, মারমা 436, পাংখোয়া 208 |
| বিলাইছড়ি | 29,540 | 24,852 | 84.13% | তঞ্চঙ্গ্যা 11,452, চাকমা 7,882, মারমা 2,650 |
| জুরাছড়ি | 26,932 | 25,681 | 95.35% | চাকমা 24,548, তঞ্চঙ্গ্যা 898, পাংখোয়া 116 |
| কাপ্তাই | 55,410 | 24,543 | 44.29% | মারমা 15,844, তঞ্চঙ্গ্যা 6,881, চাকমা 1,246 |
| কাউখালী | 66,313 | 36,550 | 55.12% | মারমা 18,477, চাকমা 17,188, তঞ্চঙ্গ্যা 677 |
| লংগদু | 90,408 | 21,248 | 23.50% | চাকমা 20,888, ত্রিপুরা 250, পাংখোয়া 66 |
| নানিয়ারচর | 48,523 | 39,659 | 81.73% | চাকমা 38,766, মারমা 842, ত্রিপুরা 23 |
| রাজস্থলী | 27,864 | 18,855 | 67.67% | মারমা 10,213, তঞ্চঙ্গ্যা 4,542, ত্রিপুরা 2,273 |
| রাঙামাটি সদর | 146,601 | 69,883 | 47.67% | চাকমা 60,449, তঞ্চঙ্গ্যা 3,488, মারমা 2,765 |
| উপজেলা | মোট জনসংখ্যা (Table 3.1.13) | ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী (Table P17) | শতাংশ (নিজস্ব হিসাব) | সবচেয়ে বড় তিন জনগোষ্ঠী (Table P17) |
|---|---|---|---|---|
| দীঘিনালা | 115,440 | 70,420 | 61.00% | চাকমা 61,618, ত্রিপুরা 8,523, রাখাইন 157 |
| গুইমারা | 53,258 | 34,303 | 64.41% | মারমা 20,293, ত্রিপুরা 10,007, চাকমা 3,927 |
| খাগড়াছড়ি সদর | 136,141 | 80,636 | 59.23% | চাকমা 36,937, ত্রিপুরা 28,576, মারমা 14,792 |
| লক্ষ্মীছড়ি | 27,148 | 20,156 | 74.24% | চাকমা 13,936, মারমা 5,924, সাঁওতাল 158 |
| মহালছড়ি | 49,077 | 30,944 | 63.05% | চাকমা 21,357, মারমা 7,487, ত্রিপুরা 1,948 |
| মানিকছড়ি | 77,027 | 20,357 | 26.43% | মারমা 14,431, ত্রিপুরা 4,313, চাকমা 1,489 |
| মাটিরাঙ্গা | 126,609 | 30,257 | 23.90% | ত্রিপুরা 23,647, চাকমা 3,950, মারমা 2,621 |
| পানছড়ি | 68,678 | 46,000 | 66.98% | চাকমা 30,270, ত্রিপুরা 13,295, মারমা 2,143 |
| রামগড় | 60,741 | 16,317 | 26.86% | ত্রিপুরা 8,065, মারমা 6,446, চাকমা 1,681 |
| উপজেলা | মোট জনসংখ্যা (Table 3.1.13) | ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী (Table P17) | শতাংশ (নিজস্ব হিসাব) | সবচেয়ে বড় তিন জনগোষ্ঠী (Table P17) |
|---|---|---|---|---|
| আলীকদম | 63,800 | 25,113 | 39.36% | ম্রো 15,168, মারমা 3,857, ত্রিপুরা 3,452 |
| বান্দরবান সদর | 111,096 | 47,804 | 43.03% | মারমা 26,628, ম্রো 7,280, তঞ্চঙ্গ্যা 5,605 |
| লামা | 139,689 | 33,221 | 23.78% | মারমা 15,819, ম্রো 10,781, ত্রিপুরা 5,755 |
| নাইক্ষ্যংছড়ি | 76,477 | 12,636 | 16.52% | মারমা 4,708, তঞ্চঙ্গ্যা 2,881, ম্রো 2,356 |
| রোয়াংছড়ি | 27,721 | 24,808 | 89.49% | মারমা 13,716, তঞ্চঙ্গ্যা 3,990, ত্রিপুরা 2,143 |
| রুমা | 32,533 | 28,298 | 86.98% | মারমা 10,097, ম্রো 7,157, বম 6,470 |
| থানচি | 29,790 | 26,103 | 87.62% | মারমা 9,345, ম্রো 7,021, ত্রিপুরা 6,336 |
উপজেলার ছকগুলো জেলার গড় সংখ্যার আড়ালে থাকা ফারাকটি দেখায়। রাঙামাটির জুরাছড়িতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যা উপজেলার মোটের 95.35%, অথচ একই জেলার লংগদুতে 23.50%। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় 23.90%, লক্ষ্মীছড়িতে 74.24%। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে 16.52%, থানচিতে 87.62%, রুমায় 86.98%। সব শতাংশই নিজস্ব হিসাব।
রুমা উপজেলা একটি আলাদা উদাহরণ: এখানে মারমা (10,097), ম্রো (7,157), বম (6,470), ত্রিপুরা (2,913) ও খুমি (890) — পাঁচটি জনগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় পাশাপাশি থাকেন।
আইনের এগারোটি জনগোষ্ঠীর সারা দেশের মোট সংখ্যা 989,834, তিন পার্বত্য জেলার যোগফল 916,964; অর্থাৎ 72,870 জন তিন জেলার বাইরে গোনা হয়েছেন (Table P29 ও তিনটি Table P17 থেকে নিজস্ব হিসাব)। এঁদের বড় অংশ চট্টগ্রাম বিভাগের অন্য জেলায় ও ঢাকা বিভাগে।
| জনগোষ্ঠী | সারা দেশ (P29) | তিন পার্বত্য জেলার যোগফল (নিজস্ব হিসাব, P17) | চট্টগ্রাম বিভাগ (P29) | চট্টগ্রাম বিভাগের বাকি জেলা (নিজস্ব হিসাব) | ঢাকা বিভাগ (P29) | বাকি ছয় বিভাগ (নিজস্ব হিসাব) |
|---|---|---|---|---|---|---|
| চাকমা | 483,365 | 454,925 | 475,548 | 20,623 | 6,732 | 1,085 |
| মারমা | 224,299 | 209,783 | 220,067 | 10,284 | 3,292 | 940 |
| ত্রিপুরা | 156,620 | 133,372 | 151,656 | 18,284 | 2,136 | 2,828 |
| ম্রো | 52,463 | 51,724 | 52,022 | 298 | 264 | 177 |
| তঞ্চঙ্গ্যা | 45,974 | 42,943 | 45,636 | 2,693 | 229 | 109 |
| বম | 13,193 | 12,311 | 12,529 | 218 | 390 | 274 |
| খিয়াং | 4,826 | 4,176 | 4,709 | 533 | 61 | 56 |
| খুমি | 3,780 | 3,331 | 3,360 | 29 | 189 | 231 |
| চাক | 3,077 | 2,725 | 2,968 | 243 | 80 | 29 |
| পাংখোয়া | 1,857 | 1,458 | 1,547 | 89 | 63 | 247 |
| লুসাই | 380 | 216 | 237 | 21 | 86 | 57 |
“চট্টগ্রাম বিভাগ” ও “ঢাকা বিভাগ” কলাম সরাসরি জাতীয় প্রতিবেদনের Table P29 থেকে। “চট্টগ্রাম বিভাগের বাকি জেলা” কলামটি বিভাগের সংখ্যা থেকে তিন পার্বত্য জেলার যোগফল বাদ দিয়ে পাওয়া; শুমারির প্রকাশিত ছকে জনগোষ্ঠী ধরে জেলাভিত্তিক সংখ্যা কেবল সংশ্লিষ্ট জেলা-প্রতিবেদনে আছে, তাই এই 20,623 জন চাকমা বা 18,284 জন ত্রিপুরা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা বা চাঁদপুর — কোন জেলায় কতজন, তা এই হিসাব থেকে বলা যায় না।
ছকটি আর্কাইভের লেখাগুলোর কয়েকটি কথার সঙ্গে মেলে। চাকমাদের ক্ষেত্রে আর্কাইভ টেকনাফের বসতির কথা বলে, তঞ্চঙ্গ্যাদের ক্ষেত্রে বাংলাপিডিয়া রাঙ্গুনিয়া, উখিয়া ও টেকনাফের কথা বলে, ত্রিপুরাদের ক্ষেত্রে আর্কাইভ কুমিল্লা, চাঁদপুর ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের কথা বলে — তিনটি ক্ষেত্রেই শুমারি চট্টগ্রাম বিভাগের অন্য জেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যা দেখায়। ঢাকা বিভাগের সংখ্যাগুলো — চাকমা 6,732, মারমা 3,292, ত্রিপুরা 2,136 — পাহাড়ের বাইরে রাজধানী-অঞ্চলে থাকা মানুষের একটি সরকারি হিসাব দেয়।
উৎসগুলো অনুযায়ী এগারোটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের ভাষা ইন্দো-আর্য; মারমাদের ভাষা তিব্বতি-বর্মী শাখার বর্মী দলের; ত্রিপুরাদের ভাষা ককবরক; বম, খিয়াং, খুমি, পাংখোয়া ও লুসাইদের ভাষা কুকি-চিন দলের; চাকদের ভাষা সাক দলের। ম্রো ভাষার শ্রেণিবিভাগ নিয়ে ভাষাবিদদের মধ্যে মতভেদ আছে।
| জনগোষ্ঠী | ভাষা বা ভাষাদল (উৎস যা বলে) | লিপি বা বর্ণমালা | উৎস |
|---|---|---|---|
| চাকমা | ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারের আর্য শাখা | নিজস্ব লিপি আছে | আর্কাইভ; বাংলাপিডিয়া |
| তঞ্চঙ্গ্যা | ভারতীয় আর্য ভাষার অন্তর্ভুক্ত | উৎসে উল্লেখ পাওয়া যায়নি | আর্কাইভ; বাংলাপিডিয়া |
| মারমা | ভোট-বর্মী (তিব্বতি-বর্মী) শাখার বর্মী দল | নিজস্ব বর্ণমালা — “ম্রাইমাজা” | আর্কাইভ; বাংলাপিডিয়া |
| ত্রিপুরা | ককবরক | পাঠ্যবই রোমান বর্ণমালায় (2012 সালের সিদ্ধান্ত) | আর্কাইভ; আর্কাইভ |
| ম্রো | তিব্বতি-বর্মী দলের ভাষা; কুকি-চিন কি না তা নিয়ে মতভেদ | নিজস্ব বর্ণমালা; তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই | বাংলাপিডিয়া; আর্কাইভ |
| বম | কুকি-চিন | রোমান-ভিত্তিক বর্ণমালা | আর্কাইভ; আর্কাইভ |
| খিয়াং | তিব্বতি-ব্রহ্ম শাখার কুকি-চিন দল | নিজস্ব বর্ণমালা নেই | আর্কাইভ; বাংলাপিডিয়া |
| খুমি | তিব্বতি-বর্মী কুকি-চিন দল | বর্ণমালা নেই (বাংলাপিডিয়া) | আর্কাইভ; বাংলাপিডিয়া |
| চাক | তিব্বতি-বর্মী শাখার “সাক” বা “লাই” দল | নিজস্ব বর্ণমালা নেই | বাংলাপিডিয়া; আর্কাইভ |
| পাংখোয়া | কুকি-চিন | মৌখিক; লিখিত রূপ নেই | আর্কাইভ; বাংলাপিডিয়া |
| লুসাই | তিব্বতি-বর্মী শাখার কুকি-চিন দল | রোমান অক্ষরের অনুকরণে বর্ণমালা | আর্কাইভ; বাংলাপিডিয়া |
একটি মতভেদ এখানে লিখে রাখা দরকার। আর্কাইভের খুমী জাতির আদ্যোপান্ত লেখায় কুকি-চিন ভাষার বিশেষজ্ঞ মার্কিন ভাষাবিদ ডেভিড এ পিটারসনের মত উদ্ধৃত আছে: বম, খিয়াং, পাংখোয়া ও লুসাইদের ভাষা খুমি ভাষার মতোই কুকি-চিন দলভুক্ত, তবে প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন ভাষা। একই লেখা অনুযায়ী অনেক ভাষাবিদ ম্রো ভাষাকেও কুকি-চিন দলভুক্ত বলেন, কিন্তু পিটারসনের মতে বাক্যগঠনের আচরণ দেখে ম্রো ভাষাকে পুরোপুরি কুকি-চিন পরিবারভুক্ত বলা যায় না।
চাকমা ভাষা নিয়েও দুই উৎসের জোর দুই জায়গায়। আর্কাইভের লেখা ভাষাটিকে সরাসরি আর্য ভাষার অন্তর্ভুক্ত বলে, এবং বাংলা, অসমীয়া ও হিন্দির সঙ্গে মৌলিক শব্দের সাদৃশ্যের কথা তোলে। বাংলাপিডিয়া বর্তমান ভাষাকে ইন্দো-ইউরোপীয় বললেও যোগ করে, চাকমারা একসময় তিব্বতি-বর্মি কোনো ভাষায় কথা বলতেন বলে ইঙ্গিত আছে। তঞ্চঙ্গ্যাদের ক্ষেত্রেও আর্কাইভের লেখা একই ধরনের কথা বলে: তাঁরা “তিবেতো-বর্মন ভাষাভাষী নৃগোষ্ঠীর মানুষ, যদিও বর্তমানে তাদের ভাষা ভারতীয় আর্য ভাষার অন্তর্ভুক্ত”।
2022 সালের শুমারির প্রকাশিত ছকগুলোতে মাতৃভাষা ধরে জনসংখ্যার কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি; তাই কোন ভাষায় কতজন কথা বলেন, তা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা থেকে অনুমান করা ছাড়া শুমারি থেকে জানার উপায় নেই। লিপি, পাঠ্যবই ও মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার পূর্ণ আলোচনা আছে পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা: লিপি, কর্মসূচি ও বাস্তবতা লেখায়।
1991 সালের শুমারির পর জনগোষ্ঠী ধরে আলাদা সরকারি সংখ্যা দীর্ঘদিন প্রকাশিত হয়নি — আর্কাইভের একাধিক লেখা এ কথা বলে। নিচের ছকে আর্কাইভের লেখা ও বাংলাপিডিয়ায় পাওয়া পুরনো সংখ্যার পাশে 2022 সালের সংখ্যা রাখা হলো। পুরনো সংখ্যাগুলো মাধ্যমিক উৎস থেকে নেওয়া, মূল শুমারি-প্রতিবেদন থেকে নয়।
| জনগোষ্ঠী | পুরনো শুমারি (উৎসসহ) | সম্প্রদায়ের নিজস্ব জরিপ বা অনুমান | 2022 শুমারি, সারা দেশ (Table P29) |
|---|---|---|---|
| চাকমা | 1991: 239,417 (তিন পার্বত্য জেলা) — আর্কাইভ; 1991: প্রায় 253,000 — বাংলাপিডিয়া | — | 483,365 |
| মারমা | 1991: 142,334 (পার্বত্য চট্টগ্রাম) — আর্কাইভ; 1991: 157,301 (বাংলাদেশ) — বাংলাপিডিয়া | সম্প্রদায়ের ভাষ্যে “২ লক্ষাধিক” | 224,299 |
| ত্রিপুরা | 1991: 81,014; 2001: 119,901 — আর্কাইভ | — | 156,620 |
| তঞ্চঙ্গ্যা | 1991: 21,639 (রাঙামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার মিলিয়ে) — আর্কাইভ; 2001: 31,164 — বাংলাপিডিয়া | 2008: 51,773 (বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার জরিপ) | 45,974 |
| বম | 1991: 6,978 — আর্কাইভ; বাংলাপিডিয়া | 2003: 9,500 (বম সোশাল কাউন্সিল বাংলাদেশ) | 13,193 |
| খিয়াং | 1981: 5,453; 1991: 1,950 — আর্কাইভ | 2010: 2 থেকে 3 হাজার — বাংলাপিডিয়া | 4,826 |
| খুমি | 1931: 1,549; 1951: 1,951; 1981: 1,094; 1991: 1,241 — আর্কাইভ | 2006: 2,094 (সিঅং খুমির নেতৃত্বে জরিপ) | 3,780 |
| চাক | 1991: 2,000 (372 পরিবার) — আর্কাইভ; বাংলাপিডিয়া | — | 3,077 |
| পাংখোয়া | 1901: 1,680; 1991: 3,227 — আর্কাইভ | পাংখোয়াদের মতে প্রায় 4,000 | 1,857 |
| লুসাই | 1991: 662 — বাংলাপিডিয়া | আনুমানিক 1,000 — আর্কাইভ | 380 |
ছকে একই শুমারির জন্য দুই উৎসে দুই রকম সংখ্যা আছে — চাকমার ক্ষেত্রে 239,417 বনাম প্রায় 253,000, মারমার ক্ষেত্রে 142,334 বনাম 157,301। দুই ক্ষেত্রেই আর্কাইভের সংখ্যাটি স্পষ্টভাবে তিন পার্বত্য জেলার, আর বাংলাপিডিয়ার সংখ্যাটি গোটা বাংলাদেশের বলে লেখা; ফারাকের কারণ এটিই কি না, তা মূল প্রতিবেদন ছাড়া বলা যায় না।
ছকের দুটি সারিতে 2022 সালের অঙ্ক 1991 সালের চেয়ে কম — পাংখোয়া ও লুসাই। পাংখোয়াদের সংখ্যা 3,227 থেকে 1,857। আর্কাইভের লেখায় 1991 সালের উপজেলাভিত্তিক ভাগও আছে — বিলাইছড়ি 922, রাঙামাটি সদর 771, বাঘাইছড়ি 608, বরকল 528, জুরাছড়ি 256, লংগদু 43। 2022 সালে একই উপজেলাগুলোতে শুমারি গুনেছে যথাক্রমে 498, 228, 117, 208, 116 ও 66। লুসাইদের ক্ষেত্রে বাংলাপিডিয়ার 1991 সালের 662 থেকে 2022 সালে 380।
তঞ্চঙ্গ্যাদের ক্ষেত্রে সম্প্রদায়ের নিজস্ব জরিপ ও 2022 সালের শুমারি উপজেলা স্তরে কাছাকাছি। বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার 2008 সালের জরিপে — আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী — বিলাইছড়িতে 11,000, কাপ্তাইয়ে 6,200, রাজস্থলীতে 4,063 ও রাঙামাটি সদরে 3,200 জন; 2022 সালের শুমারিতে একই চার উপজেলায় 11,452, 6,881, 4,542 ও 3,488।
শুমারির সংখ্যাই একমাত্র সরকারি হিসাব, কিন্তু আর্কাইভের একাধিক লেখায় সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মানুষ নিজেরাই বলেছেন, শুমারিতে তাঁদের ঠিকভাবে গোনা হয় না। আপত্তিগুলো চার ধরনের: পুরনো শুমারিতে অস্বাভাবিক ওঠানামা, এক জনগোষ্ঠীকে অন্য নামে গোনা, সম্প্রদায়ের নিজস্ব অনুমানের সঙ্গে ফারাক, আর একই শুমারির প্রাথমিক ও চূড়ান্ত সংখ্যার অমিল।
অস্বাভাবিক ওঠানামা। খিয়াংদের সংখ্যা 1981 সালের শুমারিতে 5,453, 1991 সালে 1,950। আর্কাইভের খিয়াং-বিষয়ক লেখাটি এ নিয়ে সরাসরি লিখেছে: “আদমশুমারিতে খিয়াং জনগোষ্ঠীর লোকসংখ্যা যথাযথভাবে গণনা করা হয় না।” খুমিদের ক্ষেত্রেও সরকারি সংখ্যা 1951 সালের 1,951 থেকে 1991 সালে 1,241-এ নেমেছে, অথচ 2006 সালে সিঅং খুমির নেতৃত্বে করা জরিপে পাওয়া যায় 2,094 জন।
অন্য নামে গোনা। আর্কাইভের তঞ্চঙ্গ্যা-বিষয়ক লেখা অনুযায়ী বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় এবং কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে বসবাসরত তঞ্চঙ্গ্যাদের একটি অংশ চাকমা নামে পরিচয় দেন, এবং সরকারি শুমারিতে তাঁদের চাকমা নামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; তঞ্চঙ্গ্যাদের ধারণা, শুমারিতে তাঁদের সংখ্যা সঠিক নয়। বমদের সম্পর্কেও আর্কাইভের লেখা বলছে, তাঁরা সরকারি পরিসংখ্যান যথাযথ মনে করেন না।
নিজস্ব অনুমানের সঙ্গে ফারাক। লুসাইদের ক্ষেত্রে আর্কাইভের লেখায় “আনুমানিক এক হাজার”, শুমারিতে 380। গুর্খাদের ক্ষেত্রে আর্কাইভের অনুমান পার্বত্য চট্টগ্রামে 300 থেকে 500, শুমারিতে তিন জেলায় 49। পাংখোয়াদের নিজেদের মতে প্রায় 4,000, শুমারিতে 1,857। উল্টো দিকে মারমাদের ক্ষেত্রে সম্প্রদায়ের ভাষ্য “২ লক্ষাধিক” আর শুমারির 224,299 একই দিকে; চাকমাদের ক্ষেত্রে আর্কাইভের লেখায় উদ্ধৃত অনুমানগুলো — 3 লক্ষ, 4 লক্ষ, 5 লক্ষাধিক — শুমারির 483,365-এর দুই পাশে ছড়ানো।
প্রাথমিক বনাম চূড়ান্ত। একই শুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন ও চূড়ান্ত জাতীয় প্রতিবেদনে চাকমার সংখ্যা যথাক্রমে 483,299 ও 483,365, মারমার 224,261 ও 224,299 — ফারাক কয়েক ডজনের। সংবাদমাধ্যমে ও সংসদের উত্তরে এখনো প্রাথমিক সংখ্যাটি ঘুরছে, তাই কোনো সংখ্যা উদ্ধৃত করার সময় কোন প্রতিবেদনের, তা বলে দেওয়া ভালো।
এই পাতার “তিন জেলার যোগফল” সংখ্যাগুলোর আরেকটি সীমা আছে: এগুলো তিনটি আলাদা জেলা-প্রতিবেদনের সংখ্যা যোগ করে পাওয়া। প্রতিটি জেলার Table P17-এ উপজেলাগুলোর যোগফল জেলার মোটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং মিলেছে; কিন্তু BBS নিজে তিন জেলাকে এক করে কোনো সংখ্যা ছাপেনি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998-এর ধারা 2(গ) 11টি জনগোষ্ঠীর নাম দেয়: চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখোয়া, খিয়াং, ম্রো, বম, খুমি ও চাক। বাংলাপিডিয়া বলে 13টি, তবে নামের তালিকা দেয়নি। জুমজার্নালের আর্কাইভের একটি লেখা 11টির সঙ্গে গুর্খা, অহমিয়া ও সাঁওতাল যোগ করে 14টি বলে। জুমজার্নাল এঁদের আদিবাসী বলে; আইনের শব্দ “উপ-জাতীয়”।
2022 সালের শুমারিতে রাঙামাটি জেলার জনসংখ্যা 647,586, খাগড়াছড়ির 714,119 ও বান্দরবানের 481,106। তিনটি যোগ করলে 1,842,811 — এটি BBS-এর ছাপা সংখ্যা নয়, তিন জেলা-প্রতিবেদনের Table 3.1.13-এর যোগফল। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যা 920,248, অর্থাৎ 49.94% (Table P17-এর যোগফল থেকে নিজস্ব হিসাব)।
BBS-এর 2022 সালের শুমারির চূড়ান্ত জাতীয় প্রতিবেদন (Table P29) অনুযায়ী বাংলাদেশে চাকমা জনসংখ্যা 483,365 — দেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। এর মধ্যে রাঙামাটিতে 276,048, খাগড়াছড়িতে 175,165 ও বান্দরবানে 3,712; তিন জেলার যোগফল 454,925 (নিজস্ব হিসাব)। শুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদনে সংখ্যাটি ছিল 483,299।
2022 সালের শুমারিতে বাংলাদেশে মারমা জনসংখ্যা 224,299 — দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। বান্দরবানে 84,170, খাগড়াছড়িতে 74,210 ও রাঙামাটিতে 51,403; তিন জেলার যোগফল 209,783 (তিন জেলা-প্রতিবেদনের Table P17 থেকে নিজস্ব হিসাব)। একক উপজেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি মারমা থাকেন বান্দরবান সদরে — 26,628 জন।
2022 সালের শুমারিতে বাংলাদেশে ত্রিপুরা জনসংখ্যা 156,620 — তৃতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। খাগড়াছড়িতে 98,500, বান্দরবানে 22,572 ও রাঙামাটিতে 12,300; তিন জেলার যোগফল 133,372 (নিজস্ব হিসাব)। বাকি 23,248 জন তিন পার্বত্য জেলার বাইরে গোনা হয়েছেন, যার মধ্যে সিলেট বিভাগে 2,166 ও ঢাকা বিভাগে 2,136।
চাকমারা মূলত রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় থাকেন — 2022 সালের শুমারিতে এই দুই জেলায় 451,213 জন, জাতীয় সংখ্যার 93.35%। সবচেয়ে বেশি বাঘাইছড়ি (70,350), দীঘিনালা (61,618) ও রাঙামাটি সদর (60,449) উপজেলায়। বান্দরবানে 3,712 জন। জুমজার্নালের আর্কাইভ অনুযায়ী কক্সবাজারের টেকনাফেও চাকমা বসতি আছে, এবং ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম ও অরুণাচলে চাকমারা থাকেন।
বাংলাদেশে ত্রিপুরাদের বড় অংশ থাকেন খাগড়াছড়ি জেলায় — 2022 সালের শুমারিতে 98,500 জন, জাতীয় সংখ্যার 62.89%। সবচেয়ে বেশি খাগড়াছড়ি সদর (28,576) ও মাটিরাঙ্গা (23,647) উপজেলায়। বান্দরবানের থানচি ও লামা এবং রাঙামাটির বাঘাইছড়িতেও ত্রিপুরা বসতি আছে। জুমজার্নালের আর্কাইভ অনুযায়ী সমতলের কুমিল্লা, সিলেট ও চাঁদপুরেও তাঁরা থাকেন।
BBS-এর 2022 সালের শুমারির Table P29 অনুযায়ী বৃহত্তম চাকমা (483,365), দ্বিতীয় মারমা (224,299), তৃতীয় ত্রিপুরা (156,620) এবং চতুর্থ সাঁওতাল (129,056)। প্রথম তিনটিই পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠী। সারা দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যা মোট 1,650,478, যার 991,013 জন চট্টগ্রাম বিভাগে — দেশের মোটের 60.04%।
2022 সালের শুমারির ছকে আইনে নাম থাকা এগারোটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে ছোট লুসাই — সারা দেশে 380 জন, তিন পার্বত্য জেলায় 216 জন (নিজস্ব যোগফল), যার 111 জন রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায়। তবে জুমজার্নালের আর্কাইভের একটি লেখা লুসাইদের সংখ্যা আনুমানিক এক হাজার বলেছে। লুসাইয়ের পরে পাংখোয়া (1,857) ও চাক (3,077)।
না। চাক ও চাকমা দুটি আলাদা জনগোষ্ঠী; আঞ্চলিক পরিষদ আইনের সংজ্ঞায় দুটি নামই আলাদা করে আছে, এবং 2022 সালের শুমারিতেও আলাদা সারি। চাকদের সংখ্যা সারা দেশে 3,077, যার 2,329 জন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়; চাকমাদের সংখ্যা 483,365। উৎস অনুযায়ী চাকদের ভাষা তিব্বতি-বর্মী শাখার সাক দলের, চাকমাদের ভাষা ইন্দো-আর্য।
হ্যাঁ, একই জনগোষ্ঠীর দুটি নাম। জুমজার্নালের আর্কাইভে একজন ম্রো লেখকের লেখা অনুযায়ী জাতির নিজস্ব নাম “ম্রো”; “মুরুং” বা “মুরং” অন্যদের দেওয়া ডাক। আইনে ও 2022 সালের শুমারিতে নামটি ম্রো (Mro)। শুমারিতে সারা দেশে ম্রো 52,463 জন, যার 51,448 জন বান্দরবান জেলায় — সবচেয়ে বেশি আলীকদম (15,168) ও লামা (10,781) উপজেলায়।
2022 সালের শুমারির বান্দরবান জেলা-প্রতিবেদনে আইনের এগারোটি জনগোষ্ঠীর সবকটির সারি আছে: মারমা 84,170, ম্রো 51,448, ত্রিপুরা 22,572, তঞ্চঙ্গ্যা 14,889, বম 11,854, চাকমা 3,712, খুমি 3,287, চাক 2,662, খিয়াং 2,502, লুসাই 58 ও পাংখোয়া 55। জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যা মোট 197,983।
দুই জেলাতেই চাকমা। 2022 সালের শুমারিতে রাঙামাটিতে চাকমা 276,048, তারপর মারমা 51,403 ও তঞ্চঙ্গ্যা 27,975। খাগড়াছড়িতে চাকমা 175,165, তারপর ত্রিপুরা 98,500 ও মারমা 74,210। রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যা মোট 372,875, খাগড়াছড়ির 349,390 — সংখ্যাগুলো BBS-এর সংশ্লিষ্ট জেলা-প্রতিবেদনের Table P17 থেকে নেওয়া।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।