Jumjournal Logo

স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা 27 থেকে 50 হলো কীভাবে

Last updated Oct 17th, 2026

0

Featured image

২০১০ সালের ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ গেজেটের একটি অতিরিক্ত সংখ্যার শেষ পাতায় ছাপা হয়েছিল একটি ছোট তালিকা — চাকমা দিয়ে শুরু, কোল দিয়ে শেষ, মোট 27টি নাম। নয় বছর পর, 2019 সালের 23 মার্চের গেজেটে সেই তালিকাটি পুরোপুরি বদলে বসানো হলো নতুন একটি তালিকা, যাতে নাম 50টি। তাই আজ বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কতটি — এই প্রশ্নের সরকারি উত্তর 50, আর সেই উত্তরের আইনি ভিত্তি এই দুটি গেজেট।

সংখ্যাটা বদলাল কোনো নতুন আইন পাস করে নয়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০-এর ধারা 19 সরকারকে কেবল একটি প্রজ্ঞাপন দিয়ে তফসিল বদলানোর ক্ষমতা দিয়েছিল; সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সেই ক্ষমতাতেই 19 মার্চ 2019 তারিখে এস.আর.ও. নং 78-আইন/2019 জারি করে। মাঝের নয় বছরে জেলা প্রশাসকদের পাঠানো 228টি নাম, একটি জাতীয় কমিটি, আর আদিবাসী সংগঠনগুলোর দীর্ঘ আপত্তি — সবই এই বদলের পেছনের গল্প।

নিচে দুটি গেজেটের প্রতিটি নাম, কোন নাম বাদ পড়েছে, কোনটি জুড়ে দেওয়া হয়েছে আর কোন 26টি নাম 2019 সালে প্রথম যুক্ত হয়েছে, তার পূর্ণ হিসাব দেওয়া হলো — মূল গেজেটের পাতা থেকে মিলিয়ে।

সূচিপত্র

  1. বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কতটি — সরকারি উত্তর
  2. তালিকাটি আইনের কোথায় থাকে
  3. ২০১০ সালের তফসিলে কোন 27টি নাম ছিল
  4. ২০১০-এর তালিকা নিয়ে আপত্তি কী ছিল
  5. “24 থেকে 50” কথাটি কোথা থেকে এল
  6. তালিকা বাড়ানোর কাজ কীভাবে এগোল
  7. 2019 সালের প্রজ্ঞাপনে ঠিক কী লেখা আছে
  8. 2019 সালের তফসিলের 50টি নাম
  9. কোন নাম বাদ গেল, কোনটি জুড়ল, কোনগুলো নতুন
  10. ২০১০-এর আগে সরকারি তালিকা কেমন ছিল
  11. কারা এখনো তালিকার বাইরে
  12. তালিকায় নাম থাকা না-থাকায় কী আসে যায়
  13. তালিকা আবার বদলাতে কী লাগে
  14. প্রশ্নোত্তর
  15. যা এখনো জানা যায়নি
  16. তথ্যসূত্র

বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কতটি — সরকারি উত্তর

সরকারি হিসাবে 50টি। এই সংখ্যার উৎস ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০-এর তফসিল, যা 19 মার্চ 2019 তারিখের প্রজ্ঞাপনে নতুন করে লেখা হয় এবং 23 মার্চ 2019 তারিখের গেজেটে ছাপা হয়। 2026 সালের জুনে সংস্কৃতিমন্ত্রী জাতীয় সংসদেও একই সংখ্যা জানিয়েছেন।

সংসদের সেই উত্তরটি সবচেয়ে সাম্প্রতিক সরকারি বক্তব্য। বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী 25 জুন 2026 তারিখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার লিখিত প্রশ্নের জবাবে বলেন, “দেশে বর্তমানে গেজেটভুক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০টি” — আর সংখ্যাটি আইনের তফসিল (সংশোধিত-২০১৯) অনুযায়ী (বাসস, 25 জুন 2026)। একই দিনে ইউএনবি-র ইংরেজি প্রতিবেদনেও “50 gazetted ethnic communities” কথাটি আছে (UNB, 25 জুন 2026)।

প্রশ্নটির উত্তর অনলাইনে খুঁজলে 48, 50, 51 — নানা সংখ্যা চোখে পড়ে। এর কারণ, দুটি ভিন্ন প্রশ্ন প্রায়ই এক হয়ে যায়: সরকার কতগুলো জনগোষ্ঠীর নাম আইনের তফসিলে লিখেছে, আর দেশে আসলে কতগুলো আলাদা জনগোষ্ঠী আছে। প্রথম প্রশ্নের উত্তর গেজেট দেখে নিশ্চিত বলা যায় — 50। দ্বিতীয় প্রশ্নে আদিবাসী সংগঠন ও গবেষকদের হিসাব আলাদা; সেটি নিচের “কারা এখনো তালিকার বাইরে” অংশে আছে।

জনসংখ্যার প্রশ্নটি — 50টি জনগোষ্ঠীর মানুষ মোট কত, কোন জেলায় কত — আলাদা একটি লেখার বিষয়: “জনশুমারি ২০২২: ৫০ জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা, জেলা ধরে ধরে”। এখানে কেবল এটুকু যথেষ্ট যে, সংস্কৃতিমন্ত্রীর ওই উত্তরে জনশুমারি 2022-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন ধরে মোট সংখ্যা বলা হয়েছে 16,50,159 জন।

তালিকাটি আইনের কোথায় থাকে: ধারা 2(2), তফসিল আর ধারা 19

তালিকাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ২৩ নং আইন)-এর একমাত্র তফসিলে থাকে। আইনের ধারা 2(2) “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” বলতে বোঝায় তফসিলে লেখা জনগোষ্ঠীকে, আর ধারা 19 সরকারকে গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে সেই তফসিল বদলানোর ক্ষমতা দেয় — সংসদে নতুন আইন পাস না করেই।

আইনটি সংসদে পাস হয়ে 12 এপ্রিল 2010 (২৯শে চৈত্র, ১৪১৬) তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতি পায় এবং সেদিনই গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ছাপা হয় (বাংলাদেশ গেজেট, 12 এপ্রিল 2010, পৃ. 2257–2267)। আইনটির পূর্ণ পাঠ আমাদের আর্কাইভে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ শিরোনামে রাখা আছে; তবে সেই অনুলিপিতে এবং আইন মন্ত্রণালয়ের bdlaws ওয়েবসাইটের পাঠে তফসিলটি নেই — ধারা 22-এ গিয়েই লেখা শেষ। তফসিলের নামগুলো পাওয়া যায় কেবল মূল গেজেটের শেষ পাতায়। এ কারণেই অনলাইনে 2010 সালের তালিকা নিয়ে এত বিভ্রান্তি।

আইনের তিনটি জায়গা একসঙ্গে পড়লে তালিকাটির কাজ বোঝা যায়:

ধারা গেজেটে যা লেখা এর মানে
2(1) “তফসিল” অর্থ এই আইনের তফসিল তালিকাটি আইনেরই অংশ
2(2) “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” অর্থ তফসিলে উল্লিখিত বিভিন্ন আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও শ্রেণীর জনগণ এই আইনের চোখে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” কেবল তফসিলের নামগুলো
19 সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে নাম যোগ-বাদ দিতে সংসদ লাগে না, মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনই যথেষ্ট

ধারা 2(2)-এর শব্দচয়ন নিয়ে নৃবিজ্ঞানী প্রশান্ত ত্রিপুরা একটি লক্ষ্য করার মতো কথা লিখেছেন: সংবিধানে “আদিবাসী” শব্দ না থাকায় শব্দটি নিষিদ্ধ — এমন ব্যাখ্যা গণমাধ্যমে আসে, অথচ “সরকারি আইনেই ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ বলতে আদিবাসীদের বোঝানো হয়েছে” (আমাদের আর্কাইভে প্রশান্ত ত্রিপুরার লেখা)। পরিভাষার এই বিতর্ক — রাষ্ট্রের “উপজাতি / ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” বনাম আত্মপরিচয়ের “আদিবাসী” — এই লেখার বিষয় নয়; এখানে প্রশ্ন কেবল কোন নামগুলো তালিকায় উঠেছে এবং কীভাবে।

আইনটির মূল কাজ অবশ্য তালিকা নয়, প্রতিষ্ঠান। ধারা 4 সাতটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে — বিরিশিরি (নেত্রকোণা)-র কালচারাল একাডেমী, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, রাজশাহী বিভাগীয় কালচারাল একাডেমী এবং মৌলভীবাজারের মণিপুরী ললিতকলা একাডেমী। ধারা 9 অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ “সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বসবাসরত প্রত্যেক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের” ইতিহাস, ভাষা, সাহিত্য, সংগীত ইত্যাদি সংগ্রহ ও গবেষণা। “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” যেহেতু তফসিল দিয়ে সংজ্ঞায়িত, তাই কাগজে-কলমে তফসিলই ঠিক করে দেয় এই প্রতিষ্ঠানগুলো কাদের সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করবে।

২০১০ সালের তফসিলে কোন 27টি নাম ছিল

মূল গেজেটের পৃষ্ঠা 2267-এ তফসিলের শিরোনাম “বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও শ্রেণীর জনগণের নাম”, আর তাতে ক্রমিক নম্বরসহ ঠিক 27টি নাম আছে। তালিকাটি শুরু হয় পার্বত্য চট্টগ্রামের এগারোটি জনগোষ্ঠী দিয়ে; তারপর আসে সমতলের নামগুলো। নিচের ছকে বানান গেজেটে যেমন ছাপা, তেমনই রাখা হয়েছে।

ক্রমিক ২০১০ সালের তফসিলে নাম ক্রমিক ২০১০ সালের তফসিলে নাম
1 চাকমা 15 উসাই (উসুই)
2 মারমা 16 রাখাইন
3 ত্রিপুরা 17 মণিপুরী
4 ম্রো 18 গারো
5 তঞ্চঙ্গা 19 হাজং
6 বম 20 খাসিয়া
7 পাংখোয়া 21 মং
8 চাক 22 ওরাও
9 খিয়াং 23 বর্মন
10 খুমি 24 পাহাড়ী
11 লুসাই 25 মালপাহাড়ী
12 কোচ 26 মুন্ডা
13 সাঁওতাল 27 কোল
14 ডালু    

উৎস: বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, 12 এপ্রিল 2010, পৃ. 2267। তফসিলের নিচে সই করেছেন সচিব আশফাক হামিদ।

তালিকার প্রথম এগারোটি নাম — চাকমা থেকে লুসাই — পার্বত্য চট্টগ্রামের সেই এগারোটি জনগোষ্ঠী, যাদের নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অংশে আমাদের লেখাগুলো, যেমন খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখোয়া ও লুসাই বা ম্রো জাতি নিয়ে লেখা। বাকি 16টি নাম সমতলের — ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর অঞ্চল আর কক্সবাজার-পটুয়াখালীর উপকূলের জনগোষ্ঠী।

তিনটি জায়গায় 2010-এর তালিকা পরে প্রশ্নের মুখে পড়ে: 15 নম্বরের উসাই (উসুই), 21 নম্বরের মং, আর 24 ও 25 নম্বরে পাহাড়ী ও মালপাহাড়ীকে দুটি আলাদা নাম হিসেবে লেখা। 2019 সালে ঠিক এই তিন জায়গাতেই বদল আসে — কীভাবে, তা নিচের তুলনা অংশে আছে।

২০১০-এর তালিকা নিয়ে আপত্তি কী ছিল

মূল আপত্তি ছিল, তালিকায় অনেক জনগোষ্ঠী বাদ পড়েছে। আদিবাসী নেতারা তখন দেশে 46 থেকে 54টির বেশি জনগোষ্ঠীর কথা বলতেন, আর তফসিলে নাম ছিল 27টি। বাদ পড়াদের অভিযোগ ছিল, এতে তারা প্রত্যয়নপত্র, জনশুমারির আলাদা শ্রেণি আর উন্নয়ন-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আমাদের আর্কাইভে এই আপত্তির কয়েকটি সমসাময়িক দলিল আছে। রাঙ্গামাটির লেখক ও প্রাবন্ধিক মঙ্গল কুমার চাকমা লিখেছেন, আইনের তফসিলে “ত্রুটিপূর্ণভাবে কেবলমাত্র ২৭টি জাতির নাম উল্লেখ রয়েছে”, অথচ “আদিবাসীদের মতে দেশে ৫৪টির অধিক আদিবাসী জাতি রয়েছে”; ফলে “প্রায় অর্ধেকাংশ আদিবাসী জাতি উক্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়” (আদিবাসী জাতিসমূহের সাংস্কৃতিক অধিকার ও বর্তমান অবস্থা)। একই লেখায় তিনি দুটি পরিণতির কথা বলেছেন: তালিকা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় 2011 সালের আদমশুমারিতে আদিবাসীদের প্রকৃত গণনা হয়নি, আর বাদ পড়া জাতিগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ কার্যাদি বিভাগের উন্নয়ন-সুবিধা পাচ্ছে না।

এর আগে, 20 এপ্রিল 2011 তারিখে কাপেং ফাউন্ডেশন ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা লিখিত বক্তব্যে বলেন, পাহাড় ও সমতল মিলে দেশে “৪৬টির অধিক আদিবাসী জাতি” বাস করে (আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও এর প্রাসঙ্গিকতা)। ছয় বছরের ব্যবধানে আদিবাসী সংগঠনগুলোর নিজেদের হিসাবও তাই এক ছিল না — 46 থেকে 54।

আদমশুমারির প্রসঙ্গটি সংবাদমাধ্যমেও এসেছিল। 2011 সালের শুমারির ঠিক আগে নিউ এজ-এর যে প্রতিবেদনটি ইউএনপিও পুনঃপ্রকাশ করে, তাতে লেখা ছিল, শুমারির প্রশ্নপত্রে “distinct categories for only 27 communities” — অর্থাৎ 2010 সালের আইনের সেই 27টি নাম। প্রতিবেদন অনুযায়ী মাহাতো, বড়াইক, মাহালী, অহমিয়া, রাজবংশী, রাই প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর আলাদা শ্রেণি ছিল না, আর পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক বলেছিলেন, তালিকায় না থাকা জনগোষ্ঠীকে তাঁরা যোগ করতে পারবেন না (UNPO, 28 ফেব্রুয়ারি 2011)।

রাজবংশী সম্প্রদায়ের দাবিটি সবচেয়ে বেশি নথিভুক্ত। 4 নভেম্বর 2015 তারিখে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় সম্প্রদায়ের নেতারা বলেন, 2010 সালের আইন প্রণয়নের সময় রাজবংশীরা তালিকা থেকে “dropped” হয়েছেন। সেখানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন বলেন, দেশে মোট 47টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আছে, তার 27টি গেজেটভুক্ত, বাকিদের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া চলছে (The Daily Star, 4 নভেম্বর 2015)। অর্থাৎ সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী নিজেই তখন স্বীকার করছেন যে তালিকার বাইরে আরও 20টি জনগোষ্ঠী আছে।

তালিকায় না থাকার বাস্তব ফল কী দাঁড়াত, তার একটি স্থানীয় উদাহরণ দৈনিক জনকণ্ঠের নাটোর প্রতিবেদন। নাটোরে প্রায় 22টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বাস, অথচ তার পাঁচটি গেজেটভুক্ত; জেলা প্রশাসক জানান, “আমরা কেবল তাদেরই প্রত্যয়নপত্র দিচ্ছি” — অর্থাৎ যাদের নাম গেজেটে আছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রত্যয়নপত্র না পেয়ে বাকিরা স্কুল-কলেজে ভর্তি, চাকরি ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন (দৈনিক জনকণ্ঠ, 11 ডিসেম্বর 2015)।

“24 থেকে 50” কথাটি কোথা থেকে এল

2010 সালের গেজেটে নাম 27টি — এটি নথিতে স্পষ্ট। “24” সংখ্যাটির একটি লিখিত উৎস হলো আন্তর্জাতিক সংস্থা IWGIA-র The Indigenous World 2019, যেখানে বলা হয়েছে, 2019 সালের সিদ্ধান্তে স্বীকৃত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা “from 24 to 50” — দ্বিগুণ হয়েছে। IWGIA-র যুক্তি: 27টি নামের তিনটি আলাদা জনগোষ্ঠী নয়।

IWGIA-র বাংলাদেশ অধ্যায়টি লিখেছেন পল্লব চাকমা ও বাবলু চাকমা। তার পাদটীকায় বলা হয়েছে, তফসিলে 27টি নাম থাকলেও উল্লিখিত দুটি নাম — মং ও পাহাড়ী — “do not exist”, আর আরেকটি নাম, উসুই, মূলত একটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ত্রিপুরার একটি গোত্র (IWGIA, The Indigenous World 2019: Bangladesh)। 27 থেকে এই তিনটি বাদ দিলে থাকে 24। এটি IWGIA-র বিশ্লেষণ; 2010 সালের গেজেট নিজে কোনো নামকে অস্তিত্বহীন বলেনি।

লক্ষ্য করার বিষয় হলো, 2019 সালের তফসিলে ঠিক এই তিন জায়গাতেই বদল এসেছে: উসাই (উসুই) ও মং আর তালিকায় নেই, আর পাহাড়ী ও মালপাহাড়ী মিলে একটি নাম হয়েছে — “পাহাড়ী/মালপাহাড়ী”। ফলে 2010-এর 27টি নাম থেকে 2019-এর তালিকায় পৌঁছেছে ঠিক 24টি এন্ট্রি, আর তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছে 26টি নতুন নাম: 24 + 26 = 50। তাই “24 থেকে 50” আর “27 থেকে 50” — দুটি সংখ্যাই নিজ নিজ হিসাবে মেলে, তবে গেজেটের ভাষায় যাত্রা শুরু 27 থেকে।

24 সংখ্যাটি আরেকটি প্রসঙ্গেও আসে, এবং সেখানে উৎসগুলো মেলে না। ডেইলি স্টার বাংলার 2022 সালের প্রতিবেদনে আদিবাসী নেতাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সরকার 2011 সালের আদমশুমারিতে “শুধু ২৪টি ভিন্ন জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করেছে” (ডেইলি স্টার বাংলা, 9 আগস্ট 2022); অথচ 2011 সালের শুমারির আগের ইউএনপিও/নিউ এজ প্রতিবেদন প্রশ্নপত্রে 27টি শ্রেণির কথা বলেছিল। এই অমিলের কারণ কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

এই লেখার শিরোনামে তাই 27 রাখা হয়েছে — কারণ 2010 সালের গেজেটে ক্রমিক নম্বরসহ ছাপা নামের সংখ্যা 27, আর 2019 সালের প্রজ্ঞাপন সেই 27টি নামের তফসিলকেই প্রতিস্থাপন করেছে।

তালিকা বাড়ানোর কাজ কীভাবে এগোল: জেলা প্রশাসকের তালিকা থেকে জাতীয় কমিটি

2010 সালের পর সরকার জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে বাদ পড়া জনগোষ্ঠীর নাম চায়; 228টি নতুন নাম আসে। 25 মার্চ 2013 তারিখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্মারকে একটি জাতীয় কমিটি গঠিত হয়, 7 জুন 2018 তারিখে সেটি পুনর্গঠিত হয়। IWGIA অনুযায়ী এই কমিটিই বিশেষজ্ঞ সভার পর 50টি নাম চূড়ান্ত করে।

প্রথম ধাপের বিবরণ দৈনিক জনকণ্ঠের 2015 সালের প্রতিবেদনে আছে: 2010 সালের তালিকা নিয়ে আপত্তির পর সরকার সব জেলা প্রশাসককে বাদ পড়া জনগোষ্ঠীর তালিকা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলে; এরপর “আরও ২২৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাতিসত্তার নামের তালিকা” জমা পড়ে, আর 27টি মিলিয়ে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় 255-তে। একই প্রতিবেদন জানায়, আদিবাসী বিষয়ক 30 সদস্যের সংসদীয় ককাস 75টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের নাম গেজেটভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল (দৈনিক জনকণ্ঠ, 11 ডিসেম্বর 2015)। 228টি নাম কী কী, তা প্রতিবেদনে নেই। আইনজ্ঞ মোহাম্মদ হাসানের 2024 সালের একটি গবেষণাপত্রেও 228 সংখ্যাটি আছে; সেখানে বলা হয়েছে, কমিটি 2010 সালের 27টি বাদ রেখে এই তালিকা যাচাই করে এবং কিছু জায়গা সরেজমিনে দেখে (Mohammad Hasan, Southwestern Journal of International Law, 2024)।

কমিটির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল মন্ত্রণালয়ের নিজের স্মারক। খাগড়াছড়ির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে রাখা 7 জুন 2018 তারিখের স্মারকটির বিষয় “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তালিকা প্রণয়নের জন্য জাতীয় কমিটি গঠন সংক্রান্ত” (সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্মারক নং 43.00.0000.129.99.076.17.230)। স্মারকটি থেকে কয়েকটি তথ্য স্পষ্ট:

  • কমিটি প্রথম গঠিত হয় 25 মার্চ 2013 তারিখের স্মারকে, যার নম্বরে “জেলা প্রশাসক সম্মেলন-৩৯/২০০৯” কথাটি আছে; 2018 সালের স্মারকে সেই কমিটিকে “পুনর্গঠন” করা হয়।
  • প্রধান উপদেষ্টা তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর; উপদেষ্টা হিসেবে আছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, তিন সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার (রাঙ্গামাটি), কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (খাগড়াছড়ি) ও জুয়েল আরেং (ময়মনসিংহ-১), এবং সংস্কৃতি সচিব।
  • আহ্বায়ক বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক।
  • সদস্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের একজন করে শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক, পরিসংখ্যান ব্যুরোর একজন পরিচালক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ও রাখাইন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের একজন করে প্রতিনিধি, এবং আইনের ধারা 4-এর সাতটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা।
  • কার্যপরিধি ছিল দুটি: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, বিশেষ পেশাজীবী সম্প্রদায়, বর্ণাশ্রিত সম্প্রদায় ও অনগ্রসর/প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংজ্ঞা ও চিহ্নিতকরণের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ; আর যে তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে তা বহাল রেখে অন্যদের তালিকা “দ্রুত যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন পেশ” করা।

কমিটি কবে গঠিত হয়েছিল, তা নিয়ে উৎসে অমিল আছে: হাসানের গবেষণাপত্র বলছে 2009, মন্ত্রণালয়ের স্মারক বলছে 25 মার্চ 2013 (যদিও সেই স্মারকের নম্বরে 2009 সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উল্লেখ আছে)।

মাঝের বছরগুলোতে কাজ কতদূর এগিয়েছিল, তার আভাস আছে আমাদের আর্কাইভের আরেকটি লেখায়। 2018 সালের ইউপিআর অধিবেশনের আগে বাবলু চাকমা ও মানিক সরেন লেখেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আদিবাসী প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে “বাদপড়া ২৪টি আদিবাসী জাতির নাম প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত” করেছে, কিন্তু তখনো আইনে যুক্ত হয়নি (ইউপিআর সুপারিশের আলোকে আদিবাসীদের মানবাধিকার)। শেষ পর্যন্ত গেজেটে নতুন নাম এসেছে 26টি — সেই প্রাথমিক 24টির সঙ্গে কোন দুটি যোগ হয়েছে, তা জানা যায়নি। কাপেং ফাউন্ডেশনের 2015 সালের মানবাধিকার প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল, আইনটি “only 27 out of more than 54” জনগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেয় এবং মন্ত্রণালয় সে বছর তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেনি (Kapaeeng Foundation, Human Rights Report 2015)।

IWGIA-র 2019 সালের প্রতিবেদন এই প্রক্রিয়ার শেষটুকু বলে: “After a series of expert meetings, the committee, headed by the Cultural Affairs Minister, Asaduzzaman Noor MP, decided to include a total of 50 indigenous groups on the list”। কোনো আনুষ্ঠানিক নৃতাত্ত্বিক সমীক্ষার নাম কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি; 18 এপ্রিল 2019 তারিখে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ কেবল “a recent government study”-র কথা বলেছিলেন (Dhaka Tribune, 18 এপ্রিল 2019)।

2019 সালের প্রজ্ঞাপনে ঠিক কী লেখা আছে

প্রজ্ঞাপনটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের, তারিখ ০৫ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ / 19 মার্চ 2019, নম্বর এস.আর.ও. নং 78-আইন/2019। এটি ছাপা হয় শনিবার, 23 মার্চ 2019 তারিখের গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায়, পৃষ্ঠা 13707–13709-এ। ধারা 19-এর ক্ষমতায় এটি আগের তফসিল সংশোধন করেনি — পুরোটা সরিয়ে নতুন তফসিল বসিয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের কার্যকর বাক্যটি এরকম: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ২৩ নং আইন) এর ধারা ১৯ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার “উক্ত আইনের তফসিলের পরিবর্তে নিম্নরূপ নতুন তফসিল প্রতিস্থাপন করিল” (বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, 23 মার্চ 2019; গেজেটের সরকারি তালিকা-পাতা)। “প্রতিস্থাপন” শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ — 2010 সালের তালিকার কোনো নাম আপনা-আপনি টিকে থাকেনি; যে নাম নতুন তফসিলে নেই, তা আইনের তফসিলেও আর নেই।

নতুন তফসিলে দুটি ছোট বদলও চোখে পড়ে। শিরোনাম 2010 সালের “বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও শ্রেণীর জনগণের নাম” থেকে হয়েছে “বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নাম”, আর কলামের শিরোনাম “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নাম”। প্রজ্ঞাপনে “রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে” সই করেছেন অতিরিক্ত সচিব মোঃ নিজাম উদ্দিন। প্রজ্ঞাপনে নাম বাছাইয়ের কোনো কারণ, মানদণ্ড বা কমিটির উল্লেখ নেই।

সরকারি ঘোষণাটি সংবাদমাধ্যমে আসে প্রায় চার সপ্তাহ পরে। 18 এপ্রিল 2019 তারিখে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের এক সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, “সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন সংশোধন করে ২৭ থেকে ৫০টি গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে” (প্রথম আলো, 19 এপ্রিল 2019)। ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে তাঁর কথা আরও নির্দিষ্ট: 23 মার্চ গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে “50 indigenous communities—instead of 27” স্বীকৃতি পেয়েছে (Dhaka Tribune, 19 এপ্রিল 2019)। লক্ষণীয়, একজন মন্ত্রী নিজেই “27 থেকে 50” বলেছেন — IWGIA-র “24 থেকে 50” নয়।

2019 সালের তফসিলের 50টি নাম: কোনগুলো আগে ছিল, কোনগুলো নতুন

নতুন তফসিলে 50টি এন্ট্রি। ক্রমিক 1 থেকে 24 হলো 2010-এর তালিকা থেকে আসা নাম (কয়েকটির বানান বা বিকল্প নামসহ), আর 25 থেকে 50 পর্যন্ত 26টি নাম প্রথমবার তফসিলে উঠেছে। নিচের ছকে গেজেটের ক্রম ও বানান হুবহু রাখা হয়েছে; শেষ কলামে 2010-এর সঙ্গে মিল দেখানো হয়েছে।

ক্রমিক ২০১৯ সালের তফসিলে নাম ২০১০-এর তালিকায়
1 ওরাওঁ ছিল (“ওরাও”, ক্রমিক 22)
2 কোচ ছিল (12)
3 কোল ছিল (27)
4 খাসিয়া/খাসি ছিল (“খাসিয়া”, 20)
5 খিয়াং ছিল (9)
6 খুমি ছিল (10)
7 গারো ছিল (18)
8 চাক ছিল (8)
9 চাকমা ছিল (1)
10 ডালু ছিল (14)
11 তঞ্চঙ্গ্যা ছিল (“তঞ্চঙ্গা”, 5)
12 ত্রিপুরা ছিল (3)
13 পাংখোয়া/পাংখো ছিল (“পাংখোয়া”, 7)
14 বম ছিল (6)
15 বর্মণ ছিল (“বর্মন”, 23)
16 মণিপুরী ছিল (17)
17 মারমা ছিল (2)
18 পাহাড়ী/মালপাহাড়ী দুটি আলাদা নাম ছিল (24, 25), এখন একটি
19 মুন্ডা ছিল (26)
20 ম্রো ছিল (4)
21 রাখাইন ছিল (16)
22 লুসাই ছিল (11)
23 সাঁওতাল ছিল (13)
24 হাজং ছিল (19)
25 মাহাতো/কুর্মি মাহাতো/বেদিয়া মাহাতো নতুন
26 কন্দ নতুন
27 কড়া নতুন
28 গঞ্জু নতুন
29 গড়াইত নতুন
30 গুর্খা নতুন
31 তেলী নতুন
32 তুরি নতুন
33 পাত্র নতুন
34 বাগদী নতুন
35 বানাই নতুন
36 বড়াইক/বাড়াইক নতুন
37 বেদিয়া নতুন
38 ভিল নতুন
39 ভূমিজ নতুন
40 ভূঁইমালী নতুন
41 মালো/ঘাসিমালো নতুন
42 মাহালী নতুন
43 মুসহর নতুন
44 রাজোয়াড় নতুন
45 লোহার নতুন
46 শবর নতুন
47 হুদি নতুন
48 হো নতুন
49 খারিয়া/খাড়িয়া নতুন
50 খারওয়ার/খেড়োয়ার নতুন

উৎস: বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, 23 মার্চ 2019, পৃ. 13707–13709 (এস.আর.ও. নং 78-আইন/2019)। একই গেজেটের স্ক্যান বিরিশিরির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমীর ওয়েবসাইটেও রাখা আছে।

কোন নাম বাদ গেল, কোনটি জুড়ল, কোন 26টি নতুন

দুটি গেজেট পাশাপাশি রাখলে বদল চার ধরনের: দুটি নাম বাদ (উসাই/উসুই ও মং), দুটি নাম মিলে একটি (পাহাড়ী ও মালপাহাড়ী), পাঁচটি নামে বানান বা বিকল্প নাম যোগ, আর 26টি সম্পূর্ণ নতুন নাম। পার্বত্য চট্টগ্রামের এগারোটি জনগোষ্ঠীর নাম দুই তালিকাতেই আছে।

যে দুটি নাম আর তালিকায় নেই

উসাই (উসুই) আর মং — 2010 সালের এই দুটি নাম 2019 সালের তফসিলে নেই। গেজেট বা প্রজ্ঞাপনে বাদ দেওয়ার কোনো কারণ লেখা নেই। একমাত্র লিখিত ব্যাখ্যা IWGIA-র পাদটীকা: মং নামে কোনো জনগোষ্ঠী নেই, আর উসুই ত্রিপুরাদের একটি গোত্র। এই ব্যাখ্যা IWGIA-র, সরকারের নয়; সরকারি কোনো দলিলে একই কথা পাওয়া যায়নি।

যে দুটি নাম মিলে একটি হলো

2010 সালে পাহাড়ী (24) ও মালপাহাড়ী (25) ছিল দুটি আলাদা ক্রমিকে; 2019 সালে তারা একটি এন্ট্রি — “পাহাড়ী/মালপাহাড়ী” (18)। স্ল্যাশ চিহ্ন দিয়ে একাধিক নাম লেখা নতুন তফসিলের একটি সাধারণ রীতি: খাসিয়া/খাসি, পাংখোয়া/পাংখো, বড়াইক/বাড়াইক, মালো/ঘাসিমালো, খারিয়া/খাড়িয়া, খারওয়ার/খেড়োয়ার, আর তিন নামের মাহাতো/কুর্মি মাহাতো/বেদিয়া মাহাতো। প্রতিটি স্ল্যাশ-এন্ট্রি একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে গোনা হয়েছে, তাই 50 সংখ্যাটি এন্ট্রির সংখ্যা, নামের সংখ্যা নয়।

যে নামগুলোর বানান বদলেছে

পাঁচটি নামে বদল চোখে পড়ে: তঞ্চঙ্গা → তঞ্চঙ্গ্যা, ওরাও → ওরাওঁ, বর্মন → বর্মণ, খাসিয়া → খাসিয়া/খাসি, পাংখোয়া → পাংখোয়া/পাংখো। তঞ্চঙ্গ্যা বানানটি সম্প্রদায়ের নিজের ব্যবহারের সঙ্গে মেলে — আমাদের আর্কাইভে সম্প্রদায়ের সংগঠনের নামও “বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থা”। একইভাবে বেদিয়া (37) একটি আলাদা এন্ট্রি, আবার “বেদিয়া মাহাতো” আছে 25 নম্বর এন্ট্রির ভেতরে — দুটি গেজেটে দুই জায়গায়।

যে 26টি নাম প্রথম তালিকায় উঠল

ক্রমিক 25 থেকে 50: মাহাতো/কুর্মি মাহাতো/বেদিয়া মাহাতো, কন্দ, কড়া, গঞ্জু, গড়াইত, গুর্খা, তেলী, তুরি, পাত্র, বাগদী, বানাই, বড়াইক/বাড়াইক, বেদিয়া, ভিল, ভূমিজ, ভূঁইমালী, মালো/ঘাসিমালো, মাহালী, মুসহর, রাজোয়াড়, লোহার, শবর, হুদি, হো, খারিয়া/খাড়িয়া ও খারওয়ার/খেড়োয়ার। এদের কেউই পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠী নয়; গেজেটে কারও বসবাসের এলাকা লেখা নেই। 2011 সালের ইউএনপিও প্রতিবেদনে যে জনগোষ্ঠীগুলোর আলাদা শ্রেণি না থাকার কথা বলা হয়েছিল, তার তিনটি — মাহাতো, বড়াইক ও মাহালী — এবার তালিকায় এসেছে; বাকি তিনটি — অহমিয়া, রাজবংশী ও রাই — আসেনি।

এক নজরে হিসাব: 2010-এর 27টি নাম − 2টি বাদ (উসাই, মং) − 1টি জোড়া লাগায় কমা (পাহাড়ী + মালপাহাড়ী) = 24টি পুরনো এন্ট্রি। 24 + 26টি নতুন = 50।

গেজেটের ক্রমেও এই ভাগ চোখে পড়ে। প্রথম 24টি নাম মোটামুটি বর্ণানুক্রমে সাজানো (ওরাওঁ, কোচ, কোল, খাসিয়া… হাজং), যদিও পাহাড়ী/মালপাহাড়ী সেই ক্রমের বাইরে 18 নম্বরে বসেছে। তারপর 25 থেকে আবার একটি আলাদা বর্ণানুক্রম শুরু হয় (কন্দ, কড়া, গঞ্জু… হো), আর মাহাতো এন্ট্রিটি সেই ক্রমের মাথায় এবং খারিয়া ও খারওয়ার একদম শেষে বসেছে। এই সাজানো থেকে মনে হয় দুটি আলাদা তালিকা জোড়া লাগানো হয়েছে — তবে গেজেটে তা বলা নেই।

২০১০-এর আগে সরকারি তালিকা কেমন ছিল: 1950 সালের আইন ও 1991 সালের শুমারি

2010 সালের আগে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”র কোনো আইনি তালিকা ছিল না, তবে অন্য উদ্দেশ্যে তালিকা ছিল। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা 97-এ জমি হস্তান্তরের সুরক্ষার জন্য 21টি “aboriginal castes or tribes”-এর নাম আছে। 1991 সালের শুমারির জনগোষ্ঠী-ভিত্তিক সংখ্যা নিয়ে উৎসগুলো মেলে না — 27 না 29।

1950 সালের প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা 97

East Bengal State Acquisition and Tenancy Act (আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আইন নং XXVIII of 1951)-এর ধারা 97 সরকারকে প্রজ্ঞাপন দিয়ে কয়েকটি “aboriginal castes or tribes”-এর জমি অ-আদিবাসীর কাছে হস্তান্তরে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষমতা দেয়। আইনে নামগুলো এরকম: Sonthals, Banais, Bhuiyas, Bhumijes, Dalus, Garos, Gonds, Hadis, Hajangs, Hos, Kharias, Kharwars, Kochs (Dhaka Division), Koras, Maghs (Bakerganj District), Mal and Sauria Paharias, Maches, Mundas, Mundais, Oraons ও Turis (bdlaws, ধারা 97)। এর মধ্যে “Banais” নামটি পরে যোগ হয়, State Acquisition and Tenancy (Amendment) Act, 1974-এর ধারা 3 দিয়ে।

এই তালিকার সঙ্গে 2019 সালের তফসিলের তুলনা আকর্ষণীয়। ইংরেজি নামের সঙ্গে সরাসরি মেলে এমন বেশ কয়েকটি নাম 2010 সালে বাদ পড়ে 2019 সালে তফসিলে ঢুকেছে — যেমন বানাই, ভূমিজ, হো, খারিয়া, খারওয়ার ও তুরি। অর্থাৎ 1950-এর দশক থেকে ভূমি আইনে “আদিবাসী” হিসেবে চিহ্নিত কয়েকটি জনগোষ্ঠী 2010 সালের সাংস্কৃতিক আইনের তালিকায় জায়গা পায়নি। অন্যদিকে Bhuiyas, Gonds, Maches ও Mundais নামের কোনো এন্ট্রি 2019 সালের তফসিলেও নেই। Hadis ও Koras-এর সঙ্গে 2019-এর হুদি ও কড়া এক জনগোষ্ঠী কি না, শুধু নামের মিল দেখে বলা যায় না [যাচাই প্রয়োজন]।

1991 সালের আদমশুমারি: 27 না 29

বিশ্বব্যাংকের 2008 সালের একটি খসড়া প্রতিবেদনে 1991 সালের শুমারির ভিত্তিতে একটি ছক আছে, যাতে 29টি জনগোষ্ঠীর নাম ও সংখ্যা, সঙ্গে “Others” এবং মোট 12,05,978 জন (World Bank, Indigenous/Tribal Population and Access to Secondary Schools, খসড়া, 2008)। অন্যদিকে মোহাম্মদ হাসানের 2024 সালের গবেষণাপত্র বলছে, 1991 সালের সরকারি শুমারি “only 27 ‘tribal’ communities” চিহ্নিত করেছিল। বিশ্বব্যাংক 29 বলছে, হাসান 27 বলছেন; পরিসংখ্যান ব্যুরোর মূল 1991 সালের প্রতিবেদন অনলাইনে পাওয়া যায়নি।

বিশ্বব্যাংকের ছকটি নিজেও একটু সাবধানে পড়ার মতো। তাতে Murang ও Muro/MO আলাদা সারিতে, Tipra ও Tripura-ও আলাদা সারিতে — অথচ ম্রো জাতির নাম নিয়ে আমাদের লেখায় যেমন দেখানো হয়েছে, “মুরং” ও “ম্রো” একই জনগোষ্ঠীর দুটি নাম। ছকে Rajbangshi (5,444 জন), Harijon, Bangshi ও Buna-ও আছে — এর মধ্যে রাজবংশী 2010 বা 2019, কোনো তফসিলেই আসেনি। ছকের অন্য সংখ্যাতেও অন্য উৎসের সঙ্গে অমিল আছে: বিশ্বব্যাংক 1991 সালে চাকমা দেখায় 2,52,986 জন, বাংলাপিডিয়া দেখায় 2,52,258 জন (Banglapedia, Population)।

অন্য বছরের হিসাব

1981 সালের শুমারি নিয়ে মার্কিন লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের দেশ-পরিচিতিতে কেবল মোট সংখ্যা আছে — 8,97,828 জন, দেশের জনসংখ্যার এক শতাংশের সামান্য বেশি (Library of Congress Country Studies); জনগোষ্ঠীর সংখ্যা নেই। 2001 ও 2011 সালের শুমারি নিয়ে হাসান লিখেছেন, এগুলো কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে আলাদা শ্রেণিতে ভাগ করেনি; অথচ ইউএনপিও প্রতিবেদন 2011 সালের প্রশ্নপত্রে 27টি শ্রেণির কথা বলে, আর ডেইলি স্টার বাংলা আদিবাসী নেতাদের উদ্ধৃত করে 24টির কথা বলে। 2022 সালের শুমারিতে “দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়” (প্রথম আলো, 27 জুলাই 2022) — অর্থাৎ 2019 সালের তফসিলই এবার শুমারির ভিত্তি।

বছর / দলিল নাম বা শ্রেণির সংখ্যা উৎস
1950 প্রজাস্বত্ব আইন, ধারা 97 (1974 সংশোধনসহ) 21 bdlaws
1991 আদমশুমারি 29 (বিশ্বব্যাংক) / 27 (হাসান) উৎসে অমিল
2010 আইনের তফসিল 27 গেজেট, 12 এপ্রিল 2010
2011 আদমশুমারির প্রশ্নপত্র 27 (ইউএনপিও) / 24 (ডেইলি স্টার বাংলা) উৎসে অমিল
2015, জেলা প্রশাসকদের পাঠানো নামসহ 255 (27 + 228) জনকণ্ঠ
2019 আইনের নতুন তফসিল 50 গেজেট, 23 মার্চ 2019
2022 জনশুমারি 50 প্রথম আলো

কারা এখনো তালিকার বাইরে

2019 সালের তফসিলের পরও কয়েকটি জনগোষ্ঠী তালিকার বাইরে, যাদের মধ্যে রাজবংশী সবচেয়ে বেশি আলোচিত। আদিবাসী সংগঠনগুলোর হিসাবে দেশে 54টির বেশি জনগোষ্ঠী; 2026 সালেও চা-শ্রমিকেরা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি ও গেজেট সংশোধনের দাবি তুলেছেন।

রাজবংশী নামটি 1991 সালের শুমারির বিশ্বব্যাংক ছকে আছে, 2011 সালের ইউএনপিও প্রতিবেদনে বাদ পড়াদের তালিকায় আছে, 2015 সালে তাঁদের দাবি নিয়ে প্রেসক্লাবে সভা হয়েছে — কিন্তু 2019 সালের 50টি নামের মধ্যে নেই। উন্নয়ন সংস্থা সেড (SEHD)-এর ব্রাত্যজন রিসোর্স সেন্টারের পাতায় সমতলের যেসব জনগোষ্ঠীকে “yet to be accommodated in the official list” বলা হয়েছে, তাদের নাম: Bhuiya, Bindumondol, Buna, Chowhan, Ghatual/Ghatuar, Hajra, Hari, Kadar, Kairi, Kalwar, Karmokar, Koda, Modok, Noonia, Pal (Kumar), Rajbhar, Rajbongshi, Robidas, Tanti এবং খাসিদের একটি অংশ Lyngam (SEHD, Brattyajan Resource Centre)। পাতাটিতে প্রকাশের তারিখ নেই। এই তালিকার Bhuiya নামটি 1950 সালের প্রজাস্বত্ব আইনে আছে, Buna আছে 1991 সালের বিশ্বব্যাংক ছকে — অর্থাৎ পুরনো সরকারি দলিলে উল্লেখ থাকা নামও বর্তমান তফসিলের বাইরে।

মোট সংখ্যা নিয়ে আদিবাসী সংগঠনগুলোর হিসাবও সময়ের সঙ্গে বদলেছে। বিশ্বব্যাংকের 2008 সালের খসড়া বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের 2002 সালের প্রকাশনা “Solidarity” উদ্ধৃত করে বলে, দেশে প্রায় 45টি আলাদা আদিবাসী জনগোষ্ঠী। 2011 সালে আদিবাসী ফোরামের নেতা বলেছেন 46টির বেশি, আর জনকণ্ঠ অনুযায়ী সংসদীয় ককাস প্রস্তাব দিয়েছিল 75টি নামের। মার্চ 2017 সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটিতে কাপেং ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি সংগঠনের যৌথ প্রতিবেদন বলে, “Over 54 indigenous peoples” বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করেন (Joint Submission to the UN Human Rights Committee, 119th Session, 2017)। IWGIA-র দেশ-পাতাতেও “more than 54 indigenous peoples speaking more than 35 languages” লেখা। জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র নিয়ে আমাদের UNDRIP লেখায়ও এই 54-এর হিসাবটি এসেছে।

সর্বশেষ দাবিটি সিলেটের চা-বাগান থেকে। 16 সেপ্টেম্বর 2026 তারিখে হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার 23টি চা-বাগানের শ্রমিক প্রতিনিধিরা স্থানীয় সংসদ সদস্যকে স্মারকলিপি দেন; তাতে “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট গেজেট সংশোধনের দাবি তোলা হয়” (দেশ রূপান্তর, 16 সেপ্টেম্বর 2026)। স্মারকলিপিতে কোন কোন জনগোষ্ঠীর নাম যোগের দাবি, প্রতিবেদনে তা নেই। গবেষক ফিলিপ গাইনও 2022 সালে বলেছিলেন, সিলেটের চা-বাগানে বসবাসরত 23টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনশুমারিতে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি (ডেইলি স্টার বাংলা, 9 আগস্ট 2022)।

তালিকায় নাম থাকা না-থাকায় কী আসে যায়

তিনটি জায়গায় পার্থক্য নথিতে দেখা যায়: জেলা প্রশাসনের প্রত্যয়নপত্র, আদমশুমারিতে আলাদা গণনা, আর আইনের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের পরিধি। তালিকাটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের আইনে থাকলেও বাস্তবে এটি সরকারি স্বীকৃতির তালিকা হিসেবেই ব্যবহৃত হয়।

প্রত্যয়নপত্র। নাটোরের উদাহরণে জেলা প্রশাসক স্পষ্ট বলেছিলেন, তিনি কেবল গেজেটভুক্তদের প্রত্যয়নপত্র দেন, আর গেজেটের বাইরের কাউকে দেওয়া “আইনবিরোধী বটে” (জনকণ্ঠ, 2015)। প্রত্যয়নপত্র না থাকলে ভর্তি ও চাকরিতে কী সমস্যা হয়, প্রতিবেদনে তার বিস্তারিত নেই; শুধু “বঞ্চিত” হওয়ার কথা আছে। গেজেটভুক্ত হলেও সমস্যা পুরোপুরি মেটে না — 2022 সালে ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোচ-রাজবংশী-বর্মণ সংগঠন সমাবেশ করে “স্বীকৃতি সনদ বা প্রত্যয়নপত্র দেওয়া ও তাদের হয়রানি বন্ধসহ” চার দফা দাবি জানায় — অথচ কোচ ও বর্মণ দুটি নামই 2010 সাল থেকে তফসিলে আছে (ডেইলি স্টার বাংলা, 25 আগস্ট 2022)।

আদমশুমারি। 2011 সালে প্রশ্নপত্রে কেবল তফসিলের জনগোষ্ঠীগুলোর আলাদা ঘর ছিল, আর পরিসংখ্যান ব্যুরো তালিকার বাইরের কাউকে যোগ করতে রাজি হয়নি। 2022 সালে 50টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা আলাদা করে প্রকাশ হয়েছে, আর সংস্কৃতিমন্ত্রীর 2026 সালের উত্তর অনুযায়ী মোট সংখ্যায় “তফসিলভুক্ত এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” দুটোই ধরা হয়েছে। অর্থাৎ তালিকার বাইরের জনগোষ্ঠী এখন মোট হিসাবে আছে, কিন্তু নিজের নামে নেই। শুমারির গণনা-পদ্ধতি ও প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক — 16 লাখ না 30 লাখ — নিয়ে আলাদা লেখা প্রস্তুত হচ্ছে।

সরকারি সেবা ও প্রতিষ্ঠান। IWGIA-র মতে 2019 সালের স্বীকৃতি আগে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীগুলোর জন্য সরকারি সেবা পাওয়ার “pathways” খুলে দেয়। আইনের ধারা 9 অনুযায়ী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণা, প্রকাশনা, প্রশিক্ষণ ও শিল্পী-সম্মাননার কাজ “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের” জন্য — আর আইনের ভাষায় সেই সম্প্রদায় মানে তফসিলের নাম। আইনের ধারা 12 আরও বলে, প্রতিষ্ঠানগুলোর শতকরা আশি ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ হবে “স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্য হইতে”। মঙ্গল কুমার চাকমার লেখা অনুযায়ী তালিকার বাইরের জনগোষ্ঠী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ কার্যাদি বিভাগের উন্নয়ন-সুবিধাও পাচ্ছিল না।

তবে একটি সীমাও স্পষ্ট। তালিকাটি একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের আইনের তফসিল; জনগোষ্ঠীর ভূমি, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বা আত্মপরিচয়ের কোনো অধিকার এই আইনে নেই। বাবলু চাকমা ও মানিক সরেন সেই কথাই লিখেছেন — সরকার সংস্কৃতি সংরক্ষণের বিধান করলেও জাতিসত্তা, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি দেয়নি।

তালিকা আবার বদলাতে কী লাগে

শুধু একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন। ধারা 19 অনুযায়ী সরকার গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে তফসিল সংশোধন করতে পারে; 2019 সালে ঠিক তাই হয়েছিল। সংসদে বিল আনতে হয় না, জনমত যাচাই বা আদিবাসী প্রতিনিধিদের সম্মতি নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতাও আইনে লেখা নেই।

এর দুটি দিক আছে। সুবিধার দিক হলো, নতুন নাম যোগ করা প্রশাসনিকভাবে সহজ — একটি কমিটির সুপারিশ আর মন্ত্রণালয়ের একটি এস.আর.ও. যথেষ্ট। কিন্তু একই পথে নাম বাদও দেওয়া যায়, এবং 2019 সালে দুটি নাম — উসাই ও মং — ঠিক এভাবেই তফসিল থেকে উঠে গেছে, কোনো লিখিত কারণ ছাড়া। ধারা 19-এ “সংশোধন” করার ক্ষমতা আছে, আর 2019 সালের প্রজ্ঞাপন সেটিকে পুরো তফসিল “প্রতিস্থাপন” হিসেবে ব্যবহার করেছে।

2019 সালের পর তফসিল আবার বদলেছে — এমন কোনো প্রজ্ঞাপন পাওয়া যায়নি। 25 জুন 2026 তারিখে সংসদে সংস্কৃতিমন্ত্রীর উত্তরেও সংখ্যা 50, এবং বাসস বা ইউএনবি-র প্রতিবেদনে নতুন নাম যোগের কোনো প্রস্তাবের উল্লেখ নেই। আদিবাসী সংগঠনগুলোর দাবি, অবশ্য, আরও বড় পরিসরের — অনেকে তালিকা বাড়ানোর চেয়ে সংবিধানে “আদিবাসী” হিসেবে স্বীকৃতিকে বড় প্রশ্ন মনে করেন। শক্তিপদ ত্রিপুরা 2011 সালেই সতর্ক করেছিলেন, সংবিধানে নতুন একটি তফসিল বানিয়ে নামের তালিকা দিলেই সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়টি “শেষ হয়ে যেতে পারে না”।

প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কতটি?

সরকারি হিসাবে 50টি। এই সংখ্যা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০-এর তফসিল থেকে, যা সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় 19 মার্চ 2019 তারিখের এস.আর.ও. নং 78-আইন/2019 দিয়ে নতুন করে লেখে এবং 23 মার্চ 2019 তারিখের গেজেটে ছাপা হয়। 25 জুন 2026 তারিখে সংসদেও সংস্কৃতিমন্ত্রী একই সংখ্যা জানান। আদিবাসী সংগঠনগুলোর হিসাবে প্রকৃত সংখ্যা 54টির বেশি।

২০১০ সালের আইনে কয়টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নাম ছিল?

27টি। 12 এপ্রিল 2010 তারিখের গেজেটের পৃষ্ঠা 2267-এ তফসিলে ক্রমিক নম্বরসহ নামগুলো ছাপা: চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গা, বম, পাংখোয়া, চাক, খিয়াং, খুমি, লুসাই, কোচ, সাঁওতাল, ডালু, উসাই (উসুই), রাখাইন, মণিপুরী, গারো, হাজং, খাসিয়া, মং, ওরাও, বর্মন, পাহাড়ী, মালপাহাড়ী, মুন্ডা ও কোল। আইন মন্ত্রণালয়ের bdlaws পাঠে তফসিলটি নেই, তাই মূল গেজেটই নির্ভরযোগ্য উৎস।

২৭ থেকে ৫০ হলো কবে এবং কীভাবে?

19 মার্চ 2019 তারিখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আইনের ধারা 19-এর ক্ষমতায় পুরনো তফসিল সরিয়ে 50টি নামের নতুন তফসিল বসায়; গেজেট ছাপা হয় 23 মার্চ 2019। এর আগে জেলা প্রশাসকেরা 228টি নতুন নাম পাঠিয়েছিলেন, আর 2013 সালে গঠিত ও 2018 সালে পুনর্গঠিত একটি জাতীয় কমিটি বিশেষজ্ঞ সভার পর 50টি নাম চূড়ান্ত করে।

কেউ কেউ “২৪ থেকে ৫০” বলেন কেন?

IWGIA-র The Indigenous World 2019 লিখেছে, স্বীকৃত জনগোষ্ঠী “from 24 to 50” হয়েছে। তাদের পাদটীকা অনুযায়ী 2010 সালের 27টি নামের মধ্যে মং ও পাহাড়ী নামে আলাদা জনগোষ্ঠী নেই, আর উসুই ত্রিপুরাদের একটি গোত্র; 27 থেকে তিনটি বাদ দিলে 24। গেজেটে অবশ্য নাম 27টি, আর প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ 2019 সালে “২৭ থেকে ৫০” বলেছিলেন।

২০১৯ সালে কোন কোন নাম নতুন যুক্ত হয়েছে?

26টি: মাহাতো/কুর্মি মাহাতো/বেদিয়া মাহাতো, কন্দ, কড়া, গঞ্জু, গড়াইত, গুর্খা, তেলী, তুরি, পাত্র, বাগদী, বানাই, বড়াইক/বাড়াইক, বেদিয়া, ভিল, ভূমিজ, ভূঁইমালী, মালো/ঘাসিমালো, মাহালী, মুসহর, রাজোয়াড়, লোহার, শবর, হুদি, হো, খারিয়া/খাড়িয়া এবং খারওয়ার/খেড়োয়ার। গেজেটে এরা ক্রমিক 25 থেকে 50-এ আছে। এদের কেউই পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠী নয়।

২০১০-এর তালিকা থেকে কোন নাম বাদ পড়েছে?

দুটি নাম — উসাই (উসুই) ও মং — 2019 সালের তফসিলে নেই। এছাড়া পাহাড়ী ও মালপাহাড়ী দুটি আলাদা নাম থেকে একটি এন্ট্রি “পাহাড়ী/মালপাহাড়ী” হয়েছে। গেজেটে বাদ দেওয়ার কারণ লেখা নেই; IWGIA-র ব্যাখ্যা হলো মং নামে জনগোষ্ঠী নেই এবং উসুই ত্রিপুরাদের একটি গোত্র।

পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়টি জনগোষ্ঠী তালিকায় আছে?

এগারোটি: চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, পাংখোয়া/পাংখো, চাক, খিয়াং, খুমি ও লুসাই। এই এগারোটি নাম 2010 সালের তালিকার প্রথম এগারোটি ক্রমিকেই ছিল এবং 2019 সালের তফসিলেও আছে; বদল এসেছে শুধু বানানে — তঞ্চঙ্গা থেকে তঞ্চঙ্গ্যা, আর পাংখোয়ার সঙ্গে বিকল্প নাম পাংখো।

রাজবংশীরা কি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তালিকায় আছেন?

না। রাজবংশী নাম 2010 বা 2019 — কোনো তফসিলেই নেই। 2015 সালে রাজবংশী নেতারা ঢাকায় সভা করে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান; তখন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন বলেছিলেন, দেশে 47টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, 27টি গেজেটভুক্ত। 1991 সালের শুমারির বিশ্বব্যাংক ছকে রাজবংশী 5,444 জন হিসেবে আলাদা সারিতে ছিলেন।

তালিকায় নতুন নাম যোগ করতে কি সংসদে আইন পাস করতে হয়?

না। আইনের ধারা 19 বলে, “সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে।” অর্থাৎ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি এস.আর.ও.-ই যথেষ্ট, যেমনটি 2019 সালে হয়েছে। একই ক্ষমতায় নাম বাদও দেওয়া যায়; 2019 সালে উসাই ও মং এভাবেই তফসিল থেকে উঠে গেছে।

২০১০-এর আগে কোনো সরকারি আদিবাসী তালিকা ছিল কি?

সাংস্কৃতিক অর্থে ছিল না, তবে জমির সুরক্ষার জন্য ছিল। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা 97-এ 21টি “aboriginal castes or tribes”-এর নাম আছে — সাঁওতাল, গারো, হাজং, কোচ, ওরাওঁ, মুন্ডা প্রভৃতি; বানাই যোগ হয় 1974 সালের সংশোধনীতে। এর কয়েকটি নাম, যেমন ভূমিজ, হো, খারিয়া ও তুরি, 2010-এর তালিকায় ছিল না, 2019-এ এসেছে।

তালিকায় নাম না থাকলে কী সমস্যা হয়?

নথিভুক্ত সমস্যা তিনটি। নাটোরের জেলা প্রশাসক 2015 সালে জানান, তিনি কেবল গেজেটভুক্তদের প্রত্যয়নপত্র দেন; 2011 সালের আদমশুমারিতে তালিকার বাইরের জনগোষ্ঠীর আলাদা শ্রেণি ছিল না; আর আদিবাসী লেখকদের মতে বাদ পড়ারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ কার্যাদি বিভাগের উন্নয়ন-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছিলেন।

তালিকাটি কে তৈরি করেছে?

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তালিকা প্রণয়নের জন্য জাতীয় কমিটি”। এটি 25 মার্চ 2013 তারিখে গঠিত হয়ে 7 জুন 2018 তারিখে পুনর্গঠিত হয়; প্রধান উপদেষ্টা সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আহ্বায়ক শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক। সদস্যদের মধ্যে ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের শিক্ষক, পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং সাতটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা ছিলেন।

যা এখনো জানা যায়নি

  • 228টি নামের তালিকা। জেলা প্রশাসকেরা যে 228টি নাম পাঠিয়েছিলেন, তা কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি। কোন নাম কেন বাদ গেল আর কোনটি কেন 50-এ উঠল, সেই যুক্তিও জানা যায়নি।
  • কমিটির প্রতিবেদন ও মানদণ্ড। 2018 সালের স্মারকে কমিটিকে “সংজ্ঞা ও চিহ্নিতকরণের বৈশিষ্ট্য” নির্ধারণ করতে বলা হয়েছিল; সেই সংজ্ঞা বা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে কি না, জানা যায়নি।
  • উসাই ও মং বাদ দেওয়ার সরকারি কারণ। একমাত্র লিখিত ব্যাখ্যা IWGIA-র; কোনো সরকারি দলিলে কারণ পাওয়া যায়নি।
  • প্রাথমিক 24টি নাম বনাম চূড়ান্ত 26টি। বাবলু চাকমা ও মানিক সরেন প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত হওয়া 24টি নামের কথা লিখেছিলেন; শেষে কোন দুটি নাম যোগ হলো, জানা যায়নি।
  • “1984 সালে 24টি” দাবি। অনলাইনে প্রচলিত এই দাবির পক্ষে কোনো প্রতিবেদন বা দলিল পাওয়া যায়নি।
  • 1991 ও 2011 সালের শুমারির শ্রেণি। 1991 নিয়ে উৎসে 27 ও 29, আর 2011 নিয়ে 27, 24 ও “কোনো শ্রেণি নয়” — তিন রকম তথ্য আছে; পরিসংখ্যান ব্যুরোর মূল প্রতিবেদন অনলাইনে পাওয়া যায়নি।
  • পুরনো ও নতুন নামের মিল। 1950 সালের আইনের Hadis ও Koras আর 2019 সালের হুদি ও কড়া একই জনগোষ্ঠী কি না, কোনো উৎসে মেলানো পাওয়া যায়নি।
  • প্রতিটি জনগোষ্ঠীর বসবাসের এলাকা। 2019 সালের গেজেটে কোনো জনগোষ্ঠীর এলাকা লেখা নেই, তাই নতুন 26টির কোনটি কোন জেলার, তা এই দুই দলিল থেকে বলা যায় না।

তথ্যসূত্র

প্রাথমিক দলিল

  1. বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, “২০১০ সনের ২৩ নং আইন — ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০”, বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, 12 এপ্রিল 2010, পৃ. 2257–2267 (তফসিল পৃ. 2267)। dpp.gov.bd
  2. সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, “এস.আর.ও. নং ৭৮-আইন/২০১৯”, 19 মার্চ 2019; বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, 23 মার্চ 2019, পৃ. 13707–13709। dpp.gov.bd (PDF); গেজেট তালিকা-পাতা
  3. সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তালিকা প্রণয়নের জন্য জাতীয় কমিটি গঠন সংক্রান্ত”, স্মারক নং 43.00.0000.129.99.076.17.230, 7 জুন 2018। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি
  4. আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ (তফসিলবিহীন পাঠ)। bdlaws.minlaw.gov.bd
  5. আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়, The State Acquisition and Tenancy Act, ধারা 97। bdlaws.minlaw.gov.bd

জুমজার্নাল আর্কাইভ

  1. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ (পূর্ণ পাঠ)। জুমজার্নাল
  2. মঙ্গল কুমার চাকমা, “আদিবাসী জাতিসমূহের সাংস্কৃতিক অধিকার ও বর্তমান অবস্থা”। জুমজার্নাল
  3. বাবলু চাকমা ও মানিক সরেন, “ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ (ইউপিআর) সুপারিশসমূহের আলোকে বাংলাদেশের আদিবাসীদের মানবাধিকার”। জুমজার্নাল
  4. শক্তিপদ ত্রিপুরা, “আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও এর প্রাসঙ্গিকতা”, আলোচনা সভা, 20 এপ্রিল 2011। জুমজার্নাল
  5. প্রশান্ত ত্রিপুরা, “আদিবাসী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক কিছু ভাবনা”। জুমজার্নাল

সংবাদ, প্রতিবেদন ও গবেষণা

  1. বাসস, “দেশে গেজেটভুক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০টি”, 25 জুন 2026। bssnews.net
  2. UNB, “Bangladesh has 50 gazetted ethnic communities…”, 25 জুন 2026। unb.com.bd
  3. IWGIA, Pallab Chakma ও Bablu Chakma, “The Indigenous World 2019: Bangladesh”, এপ্রিল 2019 (Wayback অনুলিপি)। iwgia.org
  4. প্রথম আলো, “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতির বিকাশে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দরকার”, 19 এপ্রিল 2019। prothomalo.com
  5. Dhaka Tribune, “State Minister for Cultural Affairs KM Khalid: Government to build three cultural centres in CHT”, 19 এপ্রিল 2019। dhakatribune.com
  6. Dhaka Tribune, “Preserving cultures of small ethnic groups”, 18 এপ্রিল 2019। dhakatribune.com
  7. কালিদাস রায়, “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা ২৫৫ গেজেটভুক্ত ২৭”, দৈনিক জনকণ্ঠ, 11 ডিসেম্বর 2015। dailyjanakantha.com
  8. The Daily Star, “Inclusion of Rajbongshis as ethnic group sought”, 4 নভেম্বর 2015। thedailystar.net
  9. UNPO (The Indigenous Portal / New Age-এর প্রতিবেদন), “Chittagong Hill Tracts: Over 40 Ethnic Groups Unrecognized in Census”, 28 ফেব্রুয়ারি 2011 (Wayback অনুলিপি)। unpo.org
  10. ডেইলি স্টার বাংলা, “‘জনশুমারিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আসেনি'”, 9 আগস্ট 2022। bangla.thedailystar.net
  11. ডেইলি স্টার বাংলা, “কোচ-রাজবংশী-বর্মণদের অধিকার নিশ্চিতের দাবি”, 25 আগস্ট 2022। bangla.thedailystar.net
  12. প্রথম আলো, “ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা বেশি”, 27 জুলাই 2022। prothomalo.com
  13. দেশ রূপান্তর, “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বীকৃতিসহ ৬ দফা দাবি চা শ্রমিকদের”, 16 সেপ্টেম্বর 2026। deshrupantor.com
  14. Kapaeeng Foundation, Human Rights Report 2015 on Indigenous Peoples in Bangladesh, 2016। kapaeeng.org (PDF)
  15. Kapaeeng Foundation ও অন্যান্য, Joint Submission to the UN Human Rights Committee, 119th Session, মার্চ 2017। ecoi.net (PDF)
  16. Mohammad Hasan, “Politics of Recognition…”, Southwestern Journal of International Law, খণ্ড XXX, 2024। swlaw.edu (PDF)
  17. World Bank, “Bangladesh: Indigenous/Tribal Population and Access to Secondary Schools” (খসড়া), 2008। worldbank.org (PDF)
  18. SEHD, Brattyajan Resource Centre (তারিখবিহীন)। sehd.org
  19. Banglapedia, “Population”। en.banglapedia.org
  20. Library of Congress, Country Studies: Bangladesh। countrystudies.us

সর্বশেষ হালনাগাদ: 16 অক্টোবর 2026

 

প্রসঙ্গ:আদিবাসী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা