Last updated Nov 3rd, 2026
2

2026 সালের আগস্টে টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের জলছত্র ও জয়েনশাহী সংলগ্ন গারো পাড়াগুলো ঘুরে এক সংবাদদাতা একটি দৃশ্য লিখেছিলেন: মা-বাবা নিজের ভাষায় ডাকলে সন্তানের উত্তর আসে বাংলায়। ঠিক বিশ বছর আগে, 2006 সালে, আরেক সংবাদপত্রের প্রতিবেদক মধুপুরেই প্রায় একই কথা লিখেছিলেন — শিশুরা বাড়িতে মা-বাবার মুখে ভাষাটি শুনে কিছুটা বোঝে, কিন্তু সেই ভাষায় জবাব দিতে পারে না।
আচিক ভাষা মধুপুরে কতটা টিকে আছে — এর কোনো মাপা উত্তর নেই, কারণ মধুপুরের গারোরা ঘরে কোন ভাষা বলেন তা কোনো সরকারি শুমারি গোনে না। যা আছে তা হলো 2005 সালের একটি ভাষা-জরিপ, যেখানে মধুপুরের একটি গ্রামসহ বাংলাদেশের গারোদের 97% বলেছিলেন শিশুরা প্রথমে নিজেদের ভাষাই শেখে; আর 2006 ও 2026 সালের দুটি সংবাদ-প্রতিবেদন, যেখানে মধুপুরের নেতারা বলছেন নতুন প্রজন্মের বেশির ভাগ শিশু ভাষাটি বলতে পারে না। এই লেখা প্রতিটি উৎস আলাদা করে দেখায় — কে কবে কোথায় কী মেপেছেন, কী মাপেননি।
মধুপুরের জমি, জাতীয় উদ্যান ও বন মামলার ইতিহাস আছে আমাদের মধুপুর শালবনের মান্দিদের বন মামলার ধারাবাহিক লেখায়; গারো সমাজের ভেতরের কাঠামো আছে মাহারি ও নকমা লেখায়। এখানে শুধু ভাষা।

সূচিপত্র
মধুপুরের গারো ভাষা নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের উৎস মোটে কয়েকটি, আর সেগুলো আলাদা আলাদা জিনিস মেপেছে। একটি পদ্ধতিগত ভাষা-জরিপ (SIL, মাঠকাজ 2005), একজন ভাষাবিজ্ঞানীর ব্যাকরণ ও শব্দকোষ (Robbins Burling, 2003), দুটি জনশুমারি (2011, 2022) যা কেবল জনসংখ্যা গোনে, আর কয়েকটি সংবাদ-প্রতিবেদন যেখানে স্থানীয় নেতা ও শিক্ষকের বক্তব্য আছে।
নিচের ছকে প্রতিটি উৎস কী মেপেছে আর কী বলেছে, পাশাপাশি রাখা হলো। কোনটি মধুপুরের ভেতরের তথ্য আর কোনটি সারা দেশের গারোদের, সেটিও আলাদা করে লেখা।
| উৎস | সাল | কোথায় | পদ্ধতি | ভাষা নিয়ে মূল কথা |
|---|---|---|---|---|
| Robbins Burling, The Language of the Modhupur Mandi (Garo) | 2003 | মধুপুর (Gaira, Jalichira-সহ কয়েকটি গ্রামে বসবাস) | ভাষাবিজ্ঞানীর দীর্ঘ মাঠকাজ, ব্যাকরণ ও শব্দকোষ | মধুপুরের উপভাষা আবেং-এর একটি রূপ; লিখিত গারোর ভিত্তি যে উপভাষা, তার থেকে সবচেয়ে দূরে; গারো পাহাড়ের উপভাষার চেয়েও বেশি বাংলা-প্রভাবিত |
| SIL, The Garos of Bangladesh: A Sociolinguistic Survey | মাঠকাজ এপ্রিল–জুন 2005, প্রকাশ 2012 | 13টি গারো গ্রাম, তার একটি মধুপুরের চুনিয়া | 150 জনের প্রশ্নমালা, শব্দতালিকা, রেকর্ড করা গল্পের পরীক্ষা | ঘরে 97% নিজের ভাষা; 97% বলেছেন শিশুরা প্রথমে নিজের ভাষা শেখে; শিক্ষিতদের মধ্যে বাংলার ব্যবহার বেশি |
| দ্য ডেইলি স্টার, Star Insight | 1 আগস্ট 2006 | মধুপুর অঞ্চল | প্রতিবেদকের পরিদর্শন, নেতাদের বক্তব্য | বেশির ভাগ গারো শিশু মাতৃভাষায় কথা বলতে পারে না; শুনে কিছুটা বোঝে, জবাব দিতে পারে না |
| বিবিএস, জেলা প্রতিবেদন টাঙ্গাইল | 2011 ও 2022 | মধুপুর উপজেলা | জনশুমারি | ভাষার প্রশ্ন নেই; কেবল জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা (2022: গারো 12,385) |
| Glottolog 5.3 (ElCat-এর মূল্যায়ন উদ্ধৃত) | 2022 মূল্যায়ন | গারো ভাষা সামগ্রিকভাবে | প্রকাশিত গবেষণার ভিত্তিতে শ্রেণিকরণ | “threatened”; ElCat: “Vulnerable”, বাংলাদেশে ভারতের চেয়ে বেশি বিপন্ন |
| দেশ রূপান্তর | 9 আগস্ট 2026 | মধুপুর গড়, জলছত্র ও জয়েনশাহী সংলগ্ন পাড়া | প্রতিবেদকের পরিদর্শন, নেতাদের বক্তব্য | নতুন প্রজন্মের সিংহভাগ শিশু মাতৃভাষা বলতে পারে না; মা-বাবা ডাকলে উত্তর আসে বাংলায় |
ছকের সবচেয়ে বড় ফাঁকটি চোখে পড়ার মতো: 2005-এর পর মধুপুরে কোনো পদ্ধতিগত ভাষা-জরিপের প্রকাশিত ফল পাওয়া যায়নি। 2006 ও 2026 সালের বক্তব্যগুলো প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় নেতাদের, কোনো নমুনা-জরিপের নয়। দুই ধরনের উৎসকে তাই পাশাপাশি পড়তে হয়, একটি দিয়ে আরেকটিকে বাতিল করা যায় না।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ও গারো সংগঠনগুলো সাধারণত গারোদের ভাষাকে “আচিক” বলে। ভাষাবিজ্ঞানের উৎসগুলো আরও সূক্ষ্ম ভাগ করে: SIL ও Burling দুজনেই লিখেছেন, বাংলাদেশের গারোদের প্রধান কথ্য রূপ আবেং (A·beng), আর “আচিক” নামে যে লিখিত মান-ভাষা পরিচিত, তা ভারতের গারো পাহাড়ের উত্তর-পূর্ব কোণের উপভাষার ভিত্তিতে গড়া।
এই নামের প্রশ্নটি পুরো আলোচনার জন্য জরুরি, কারণ “আচিক কতজন বলেন” আর “গারো ভাষা কতজন বলেন” — দুটি আলাদা প্রশ্ন হয়ে যেতে পারে।
মার্কিন ভাষাবিজ্ঞানী Robbins Burling মধুপুরের গারোদের ভাষা নিয়ে তিন খণ্ডের কাজ করেছেন; প্রথম খণ্ড (ব্যাকরণ) 2003 সালে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা থেকে উন্মুক্তভাবে প্রকাশিত। বইয়ের শুরুতেই তিনি গারো পাঠকদের সতর্ক করেছেন যে বইটি মূলত বাংলাদেশের, বিশেষ করে মধুপুর এলাকার উপভাষার বিবরণ। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশের গারোরা নিজেদের উপভাষাকে “a form of A’beng” মনে করেন (খণ্ড 1, ভূমিকা, পৃ. 2)।
এর পরের বাক্যগুলো মধুপুরের ভাষা-পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। Burling লিখেছেন, মধুপুর গারো বসতির দক্ষিণতম প্রান্তের একটি; অন্যদিকে লিখিত গারো ভাষা প্রথম গড়া হয়েছিল গারো এলাকার একেবারে উত্তর-পূর্ব কোণের উপভাষা ধরে। ভৌগোলিক ও ভাষাগত — দুই দিক থেকেই এই দুই উপভাষা “about as distant from one another as two dialects of Garo can be” (খণ্ড 1, পৃ. 2–3)।
একই জায়গায় তিনি লিখেছেন, লিখিত ভাষাটি তার ভিত্তি-উপভাষাকে একধরনের মানে পরিণত করেছে, যার দিকে শিক্ষিত গারোরা প্রায়ই নিজেদের কথা মিলিয়ে নেন। তবে তাঁর মতে, উপভাষার এই পার্থক্যের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের উপভাষা বা গারো পাহাড়ের শিক্ষিতদের উপভাষা — কোনোটি “ভুল”।
SIL বাংলাদেশের 2005 সালের জরিপ (প্রতিবেদন প্রকাশ ফেব্রুয়ারি 2012; লেখক Amy Kim, Seung Kim, Sayed Ahmad, Mridul Sangma) লিখেছে, বাংলাদেশের মান্দিরা একটি একক “মান্দি” ভাষা নয়, কয়েকটি ভাষারূপ বলেন: আবেং, আতং, ব্রাক, চিবক, দুয়াল ও মেগাম। আবেং, ব্রাক, চিবক ও দুয়াল আন্তর্জাতিক ভাষা-কোডে [grt] বা “গারো”; আতং [aot] আর মেগাম [mef] আলাদা কোডের ভাষা (প্রতিবেদন, পৃ. 1)।
জরিপ অনুযায়ী আবেংই বাংলাদেশের গারোদের সংযোগ-ভাষা — অন্য ভাষারূপের মানুষও আবেং ব্যাপকভাবে বোঝেন — আর এটিই বাংলাদেশের অধিকাংশ গারোর মাতৃভাষা (পৃ. 11)। মধুপুরের যে গ্রামটি জরিপে ছিল, সেই চুনিয়ার মাতৃভাষা প্রতিবেদনের পরিশিষ্টে লেখা আছে “Abeng” (পরিশিষ্ট P, পৃ. 191)।
“আচিক” সম্পর্কে SIL লিখেছে: মিশনারিরা আচিককে লিখিত রূপ দিয়ে মান-ভাষা করেছেন, ভারতের মেঘালয়ে এটি সরকারিভাবে স্বীকৃত এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়ানো হয়। বাংলাদেশের গারোরা আচিকের মর্যাদা স্বীকার করেন, “but without the accompanying fluency in speaking, reading, or writing it” — অর্থাৎ বলা, পড়া বা লেখায় সেই দক্ষতা ছাড়াই (পৃ. 10)।
SIL নিজেই জানিয়েছে, প্রশ্নমালা নেওয়ার সময় “আচিক” আর “আবেং” নাম নিয়ে বিভ্রান্তি হয়েছিল। জরিপকর্মীরা বুঝিয়ে দিতেন যে আচিক ভারতের অনেক গারোর ভাষা আর আবেং বাংলাদেশের অধিকাংশ গারোর ভাষা। তবু প্রতিবেদন লিখেছে, কেউ কেউ হয়তো আবেং বোঝাতেই “আচিক” বলেছেন। আর কেউ শুধু “মান্দি” বললে এবং নির্দিষ্ট রূপের নাম বলতে না পারলে, বিশ্লেষণে তা আবেং হিসেবে ধরা হয়েছে (পৃ. 21)।
ঢাকা ট্রিবিউনে 2018 সালে এক গারো লেখক (Mithun Raksham) লিখেছিলেন, বাংলাদেশের মান্দি সমাজের 13টি দলের মধ্যে সাতটি “আচিক”-কে গারো ভাষা হিসেবে স্বীকার করে। এই লেখায় “আচিক ভাষা” বলতে তাই বাংলাদেশের প্রচলিত অর্থই নেওয়া হয়েছে — মধুপুরের গারোরা যে ভাষা বলেন — আর যেখানে কোনো উৎস মেঘালয়ের মান-আচিক বুঝিয়েছে, সেখানে আলাদা করে বলা হয়েছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022-এর টাঙ্গাইল জেলা প্রতিবেদন অনুযায়ী মধুপুর উপজেলায় গারো 12,385 জন — পুরুষ 6,310, নারী 6,075 — আর সব মিলিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ 14,443 জন। কিন্তু স্থানীয় সংগঠনের নেতারা 2006 ও 2026 দুবারই সংখ্যাটি বলেছেন প্রায় 25,000; এক প্রতিবেদনে 30,000।
কোন সংখ্যা কোথা থেকে, তা নিচের ছকে। সংখ্যাগুলো এক রকম জিনিস গোনেনি — কোনোটি উপজেলা, কোনোটি “মধুপুর অঞ্চল”, কোনোটি কেবল বনের 44টি গ্রাম।
| উৎস | সাল | এলাকা | সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| 1951 সালের আদমশুমারি (প্রথম আলোর 2019 সালের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত) | 1951 | অরণখোলা ইউনিয়ন | জনসংখ্যা 9,800; প্রায় সবাই গারো, কিছু কোচ |
| দ্য ডেইলি স্টার (স্থানীয় সংগঠনের নেতাদের বরাতে) | 2006 | মধুপুর অঞ্চল | প্রায় 25,000 গারো (সারা দেশে অন্তত 1,25,000) |
| বিবিএস, জিলা রিপোর্ট টাঙ্গাইল, সারণি H09 (পৃ. 57) | 2011 | মধুপুর উপজেলা | ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মোট 16,408 (এই প্রতিবেদনে জাতিভিত্তিক ভাগ নেই) |
| দ্য ডেইলি স্টার, “Torchbearer of Madhupur” | 2017 | মধুপুর | “30,000-strong Garo community” |
| সেড-এর জরিপ (প্রথম আলো, 20 জুন 2019) | 2017–2018 | মধুপুর শালবনের 44টি গ্রাম | মোট 47,726 জন, যার 35.39% গারো, 64.61% বাঙালি |
| বিবিএস, জেলা প্রতিবেদন টাঙ্গাইল, সারণি 3.1.29 (পৃ. 76) ও P17 (পৃ. 254–255) | 2022 | মধুপুর উপজেলা | ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী 14,443; তার মধ্যে গারো 12,385, বর্মন 1,364, কোচ 549 |
| দেশ রূপান্তর (“সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য”) | 2026 | মধুপুর গড় অঞ্চল | প্রায় 25,000 গারো (সারা দেশে প্রায় সোয়া লাখ) |
একই 2022-এর প্রতিবেদন বলছে, পুরো টাঙ্গাইল জেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ 23,708 জন, যার সবচেয়ে বেশি মধুপুরে; জেলায় গারো 12,610 জন। জাতীয় প্রতিবেদনের সারণি P29 (পৃ. 365) অনুযায়ী সারা দেশে গারো 76,854 জন, তার 23,462 জন ঢাকা বিভাগে (টাঙ্গাইল এই বিভাগে) আর 45,164 জন ময়মনসিংহ বিভাগে। জাতিগোষ্ঠীর জেলাভিত্তিক পূর্ণ হিসাব আছে আমাদের জনশুমারি 2022: ৫০ জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা লেখায়।
ভাষার প্রশ্নে সংখ্যাটির গুরুত্ব এক জায়গায়: সেডের জরিপ অনুযায়ী মধুপুর বনের 44টি গ্রামেই এখন বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, যেখানে 1951 সালের শুমারিতে অরণখোলা ইউনিয়নের প্রায় সবাই ছিলেন গারো। গারো শিশুরা যে স্কুল, বাজার ও খেলার মাঠে বড় হয়, সেখানে প্রতিবেশী কারা — এই দুটি সংখ্যা সেই প্রেক্ষাপট দেয়। জমির মালিকানা ও বসতির বিস্তারিত আছে বন মামলার ধারাবাহিক লেখায়।
2022 সালের জনশুমারি মানুষের জাতিগোষ্ঠী জিজ্ঞেস করেছে, মাতৃভাষা নয়। টাঙ্গাইল জেলা প্রতিবেদন লিখেছে, জাতিগোষ্ঠীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, 2010” অনুসারে। প্রতিবেদনে জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যার সারণি আছে, মাতৃভাষা বা ঘরে-বলা ভাষার কোনো সারণি নেই।
জাতীয় প্রতিবেদনেও (খণ্ড 1, নভেম্বর 2023) জাতিভিত্তিক সারণি লিঙ্গ ও বিভাগ ধরে সাজানো; “language” শব্দটি সেখানে এসেছে সাক্ষরতার সংজ্ঞায় — কোনো ভাষায় চিঠি লিখতে-পড়তে পারলেই সাক্ষর ধরা হয়েছে। 2011 সালের টাঙ্গাইল জিলা রিপোর্টেও “ethnic population” কেবল মোট সংখ্যা, পরিবার ও সাক্ষরতার হিসাবে।
ফলে 12,385 জন গারোর কতজন গারো ভাষা বলেন, কতজন শুধু বোঝেন, আর কতজনের ঘরের ভাষা এখন বাংলা — শুমারি থেকে তা জানার উপায় নেই। “জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা” আর “ভাষাভাষীর সংখ্যা” এক নয়; মধুপুরের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়টির কোনো সরকারি হিসাব প্রকাশিত হয়নি।
SIL-এর জরিপে 13টি গ্রামের 150 জন গারোকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল বিভিন্ন জায়গায় তাঁরা বেশির ভাগ সময় কোন ভাষা বলেন। ঘরে 97% বলেছেন নিজের মাতৃভাষা, গ্রামের একই ভাষার বন্ধুদের সঙ্গেও 97%; কিন্তু অন্য ভাষার প্রতিবেশীর সঙ্গে 96% বাংলা, গির্জায় 86% বাংলা আর বাজারের দোকানির সঙ্গে 99% বাংলা।
150 জনের মধ্যে 76 জন পুরুষ, 74 জন নারী; 72 জনের বয়স 35-এর নিচে, 78 জনের বেশি। 82 জন অন্তত অষ্টম শ্রেণি পাস — জরিপকারীরা তাঁদের “শিক্ষিত” ধরেছেন (পৃ. 21)। SIL নিজেই সতর্ক করেছে, শিক্ষিত মানুষ ইচ্ছা করে বেশি নেওয়ায় নমুনাটি পুরো গারো জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি নয় (পৃ. 25)।
আবেং-ভাষী তিনটি গ্রামে প্রশ্নমালা নেওয়া হয় — পশ্চিমে শেরপুরের ঝিনাইগাতী, পূর্বে নেত্রকোনার দুর্গাপুর আর দক্ষিণে টাঙ্গাইলের মধুপুর (পৃ. 21)। মধুপুরের গ্রামটি চুনিয়া, পীরগাছা মিশনের ঠিক উল্টো দিকে।
প্রতিবেদনের পরিশিষ্টে (P.1.2, পৃ. 191) চুনিয়ার যে বিবরণ আছে, তা মধুপুরের একটি গারো গ্রামের ভাষা-পরিবেশের একমাত্র প্রকাশিত মাঠ-নথি:
এই বিবরণে গ্রামবাসীর ভাষা-ব্যবহারের আলাদা হিসাব নেই; জরিপের সব সংখ্যা 13টি গ্রাম মিলিয়ে দেওয়া। মধুপুরের জন্য আলাদা শতাংশ প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়নি।
| প্রশ্ন: বেশির ভাগ সময় কোন ভাষা বলেন… | মাতৃভাষা | আবেং* | অন্য গারো রূপ | বাংলা |
|---|---|---|---|---|
| ঘরে | 97% | 5% | 1% | 3% |
| গ্রামে একই মাতৃভাষার বন্ধুর সঙ্গে | 97% | 13% | 4% | 7% |
| গ্রামে অন্য মাতৃভাষার বন্ধুর সঙ্গে | 1% | 17% | 3% | 96% |
| গির্জায় | 15% | 1% | 7% | 86% |
| বাজারে দোকানির সঙ্গে | 3% | — | — | 99% |
| সাধারণ একটি সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি | 81% | 5% | 1% | 19% |
* “আবেং” কলামটি কেবল সেই 114 জনের জন্য, যাঁদের মাতৃভাষা আবেং নয়। একাধিক ভাষা বলায় যোগফল 100%-এর বেশি। উৎস: SIL ESR 2012-007, সারণি 7।
SIL-এর সারাংশে এর ব্যাখ্যা এরকম: গারোরা যেখানে সম্ভব, অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে — ঘরে, গ্রামে — নিজেদের ভাষা বলেন; তার বাইরে বাংলা। আবেং-ভাষীদের মধ্যে যে পাঁচজন বলেছেন নিজেদের ভাষার বন্ধুর সঙ্গেও বাংলা বলেন, তাঁরা সবাই শিক্ষিত এবং দুর্গাপুরের বিরিশিরির বাসিন্দা (পৃ. 23)।
2005 সালের জরিপে 97% উত্তরদাতা বলেছিলেন, তাঁদের গ্রামের শিশুরা প্রথমে নিজেদের মাতৃভাষাই শেখে, আর 96% বলেছিলেন দশ বছর বয়সী শিশুরা ভাষাটি “ভালোভাবে” বলে। একই সঙ্গে 57% বলেছিলেন, অনেক শিশু স্কুলে যাওয়ার আগেই আরেকটি ভাষা বলে — তাঁদের বেশির ভাগের উত্তরে সেই ভাষা বাংলা।
| প্রশ্ন | হ্যাঁ | না |
|---|---|---|
| ছোট শিশু ছাড়া গ্রামে এমন কেউ আছেন যিনি মাতৃভাষা ভালো বলতে পারেন না? | 21% | 79% |
| দশ বছর বয়সীরা কি ভাষাটি যেমন বলা উচিত তেমন ভালো বলে? | 96% | 4% |
| দশ বছর বয়সীরা কি অন্য কোনো ভাষা মাতৃভাষার চেয়ে ভালো বলে? | 20% | 79% |
| স্কুলে যাওয়ার আগে অনেক শিশু কি মাতৃভাষা ছাড়া আরেকটি ভাষা বলে? | 57% | 43% |
সংখ্যার পাশে উত্তরদাতাদের মন্তব্যও প্রতিবেদনে আছে। যাঁরা বলেছেন শিশুরা ভাষাটি ভালো বলে, তাঁদের কয়েকজন যোগ করেছেন — “with Abeng mixed in” বা “with some Bangla words”। SIL-এর ব্যাখ্যা: অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন অন্য ভাষার শব্দ মিশিয়ে মাতৃভাষা বলাও “ভালো বলা”, অর্থাৎ ভাষাগুলোর বদলে যাওয়াটা সমাজে মেনে নেওয়া হয়েছে (পৃ. 31)।
জরিপের উপসংহার দুই দিকেই: অধিকাংশ গারো শিশু তখনো মাতৃভাষাকেই প্রথম ভাষা হিসেবে শিখছিল; আবার বেশ কিছু শিশু অন্য ভাষাকে সেরা ভাষা হিসেবে বলছিল এবং খুব ছোট বয়সে দ্বিতীয় ভাষা শেখা শুরু করছিল — যা থেকে প্রতিবেদন লিখেছে, কিছু গারো ভাষারূপ হারিয়ে যাওয়া বা বড় পরিবর্তনের ঝুঁকিতে আছে (পৃ. 32)। ছয়টি রূপের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে ব্রাক; আবেংকে প্রতিবেদন বলেছে সম্ভবত সবচেয়ে প্রাণবন্ত (পৃ. 35)।
SIL-এর জরিপে অষ্টম শ্রেণি পাস করা উত্তরদাতাদের 27% বলেছেন তাঁরা সপ্তাহের বেশির ভাগ সময় বাংলা বলেন, কম শিক্ষিতদের মধ্যে 10%। যে 21 জন বাংলাকে নিজের “সেরা ভাষা” বলেছেন, তাঁদের 17 জন অষ্টম শ্রেণি বা তার বেশি পড়েছেন। প্রতিবেদনের সিদ্ধান্ত: বাংলা-মাধ্যম শিক্ষা যত বাড়বে, মাতৃভাষার ব্যবহার তত কমবে।
| দল | মাতৃভাষা | বাংলা |
|---|---|---|
| সব উত্তরদাতা | 81% | 19% |
| শিক্ষিত (অষ্টম শ্রেণি বা বেশি) | 77% | 27% |
| অষ্টম শ্রেণির কম | 85% | 10% |
সব উত্তরদাতা (100%) বলেছেন তাঁরা বাংলা বলতে পারেন। 35-এর বেশি বয়সীরা গড়ে সাত বছর বয়সে বাংলা শেখা শুরু করেছিলেন, তরুণেরা ছয় বছরে। SIL নিজেই লিখেছে পার্থক্যটি “not dramatic”, তবে এটি বাংলার ক্রমবর্ধমান প্রাধান্যের ইঙ্গিত হতে পারে (সারণি 18, পৃ. 36)।
89% বলেছেন তাঁদের সেরা ভাষা মাতৃভাষা, 14% বাংলা (কয়েকজন দুটিকে সমান বলেছেন)। দ্বিতীয় সেরা ভাষা হিসেবে 65% বাংলার নাম করেছেন (সারণি 19, পৃ. 38)। তিনজন তরুণ, শিক্ষিত উত্তরদাতা — দুজন আবেং, একজন চিবক — বলেছেন বাংলাই তাঁদের সেরা ভাষা আর মাতৃভাষায় সব সময় মনের কথা বলতে পারেন না। SIL-এর মন্তব্য: শিক্ষা বাড়লে এমন মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে (পৃ. 39)।
একটি প্রশ্নের উত্তর উল্টো দিকে গেছে। “গারো শিশুরা মাতৃভাষার চেয়ে অন্য ভাষা ভালো বললে আপনার ভালো লাগবে?” — শিক্ষিতদের 44% বলেছেন “না”, কম শিক্ষিতদের 26%। SIL-এর অনুমান, শিক্ষিত গারোরা নিশ্চিত যে সন্তান অন্য ভাষা শিখবেই, তাই নিজেদের ভাষার টিকে থাকা নিয়ে বেশি চিন্তিত (সারণি 12, পৃ. 28)।
মধুপুরে স্কুলশিক্ষার বিস্তার নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের 2017 সালের একটি প্রতিবেদন লিখেছিল, মধুপুরের গারোরা অধিকাংশই “well-schooled”, আর তাদের জন্য প্রায় 100টি প্রাথমিক ও তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত অজয় এ মৃ বলেছিলেন, গারোরা, বিশেষ করে নারীরা, এখন অনেকের চেয়ে বেশি শিক্ষিত।
মধুপুর থেকে লেখা দুটি সংবাদ-প্রতিবেদন, বিশ বছরের ব্যবধানে, প্রায় একই কথা বলে: বেশির ভাগ গারো শিশু মাতৃভাষায় কথা বলতে পারে না, বাড়িতে শুনে কিছুটা বোঝে, জবাব দেয় বাংলায়। দুটিতেই স্থানীয় নেতারা কারণ হিসেবে বলেছেন বাংলা-মাধ্যম স্কুল, কর্মক্ষেত্রে বাংলা আর মাতৃভাষায় পড়ার সুযোগ না থাকা।
দ্য ডেইলি স্টারের Star Insight পাতায় 1 আগস্ট 2006 প্রকাশিত প্রতিবেদনের শুরু: লেখক মধুপুর অঞ্চল ঘুরে দেখেছেন, বেশির ভাগ আদিবাসী গারো শিশু মাতৃভাষায় কথা বলতে পারে না; কেউ কেউ বাড়িতে মা-বাবার মুখে শুনে কিছুটা বোঝে, কিন্তু জবাব দিতে পারে না।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বক্তব্যগুলো:
প্রতিবেদন আরও লিখেছে, কয়েকটি আদিবাসী সংগঠন ও এনজিও দু-তিনটি সম্প্রদায়ের শিশুদের মাতৃভাষায় পড়ানোর উদ্যোগ নিলেও মধুপুরের গারো শিশুরা তখনো সেই সুযোগ পায়নি।
দেশ রূপান্তরে 9 আগস্ট 2026 প্রকাশিত “‘আচিক’ ভাষা রক্ষায় গারোদের লড়াই” প্রতিবেদন (আহমেদ রাসেল, টাঙ্গাইল) লিখেছে, মধুপুর গড়ের বিভিন্ন পাড়া ও গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, “নতুন প্রজন্মের সিংহভাগ শিশুই তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা বলতে পারছে না।” জলছত্র ও জয়েনশাহী সংলগ্ন পাড়ায় স্কুলপড়ুয়া শিশুরা মাতৃভাষা ভালো বলতে পারে না; কেউ কেউ বাড়িতে মা-বাবার মুখে শুনে কিছুটা বোঝে, কিন্তু উত্তর দিতে পারে না — “মা-বাবা নিজের ভাষায় ডাকলেও উত্তর আসে বাংলায়।”
প্রতিবেদনে স্থানীয় প্রবীণদের বরাতে বলা হয়েছে, অতীতে মধুপুরের গারোরা আচিক ছাড়া অন্য ভাষা জানতেন না বা ব্যবহার করতেন না; জীবিকা ও উচ্চশিক্ষার জন্য আশপাশের বাঙালিপ্রধান এলাকায় যাওয়া, স্কুল-কলেজে বাংলা মাধ্যম আর অফিস-আদালতে বাংলার ব্যবহারে পরিবার ও সমাজে আচিক-চর্চা “প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে যাচ্ছে”।
ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মধুপুর শাখার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ঝুমুর মৃ বলেছেন, মাতৃভাষা ধরে রাখতে তাঁরা বাড়িতে সব সময় আচিকে কথা বলেন, তবু ভাষাটি রক্ষা করা যাচ্ছে না — “বাংলার সঙ্গে ক্রমেই মিশে যাচ্ছে।”
দুই প্রতিবেদনে তিনটি বক্তব্য প্রায় একই রকম: শিশুরা শুনে বোঝে কিন্তু জবাব দেয় না; ঘরে আচিক বলেও বাংলার মিশ্রণ ঠেকানো যাচ্ছে না; মধুপুরে গারো প্রায় 25,000। দুটি প্রতিবেদনই তথ্যসূত্রে লিংক করা আছে।
এই সংবাদ-সাক্ষ্য আর 2005-এর SIL জরিপের সংখ্যা এক জিনিস মাপে না। SIL জিজ্ঞেস করেছিল বড়দের — শিশুরা প্রথমে কোন ভাষা শেখে; প্রতিবেদকেরা শিশুদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছেন তারা কোন ভাষায় জবাব দেয়। দুই ধরনের তথ্যের বিস্তারিত তুলনা নিচে “উৎসভেদে অমিল” অংশে।
Burling তাঁর মধুপুরের মান্দি ভাষার শব্দকোষে (খণ্ড 2, 2003) লিখেছেন, গারো পাহাড়ের উপভাষার তুলনায় মধুপুরের মান্দির শব্দভান্ডার “even more heavily influenced by Bengali”। মান্দিরা শ্রোতা বুঝবেন মনে করলে যেকোনো বাংলা শব্দ নিজেদের কথায় নিতে সম্পূর্ণ স্বাধীন — নীতিগতভাবে পুরো বাংলা শব্দভান্ডারই তাঁদের হাতের নাগালে (ভূমিকা, পৃ. vi–vii)।
তিনি লিখেছেন, বাংলা শব্দ একেবারে বাদ দিলে শব্দকোষটি “a terribly false picture of the language as it is actually spoken” দেখাত; সমস্যা ছিল কোনগুলো রাখা হবে তা ঠিক করা। তাঁর সিদ্ধান্তগুলো মধুপুরের দৈনন্দিন ভাষার একটি ছবি দেয়:
শব্দকোষে প্রতিটি বাংলা থেকে আসা শব্দ “<B” আর ইংরেজি থেকে আসা শব্দ “<E” চিহ্নে আলাদা করা হয়েছে, আর বানান রাখা হয়েছে মান্দিদের উচ্চারণ অনুযায়ী — যা প্রায়ই বাংলাভাষীদের উচ্চারণ থেকে আলাদা (পৃ. vii–viii)।
2006 সালে Shanti Sangma ও 2026 সালে ঝুমুর মৃ যে “বাংলার সঙ্গে মিশে যাওয়ার” কথা বলেছেন, Burling তার ভাষাবৈজ্ঞানিক বিবরণ দিয়েছেন দুই দশক আগে। ভাষাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে Burling-এর কোনো মন্তব্য শব্দকোষের এই ভূমিকায় নেই।
2005 সালের SIL জরিপে 86% গারো বলেছিলেন গির্জায় তাঁরা বেশির ভাগ সময় বাংলা ব্যবহার করেন। এক ক্যাথলিক উত্তরদাতা কারণ বলেছিলেন: পুরোহিতেরা বাঙালি, তাই উপাসনা বাংলায়। আচিকে পূর্ণ বাইবেল ও গানের বই আছে, আর আবেংয়ে বাংলা হরফে নতুন নিয়ম ছাপা হয়েছে — কিন্তু জরিপের সময় গির্জায় এগুলোর ব্যবহার সীমিত ছিল।
SIL লিখেছে, বাংলাদেশের গারোদের কাছে আচিক তখনো দৈনন্দিন ব্যবহারের ভাষা হয়নি; এর ব্যবহার গির্জার কিছু ক্ষেত্রে সীমিত — মূলত কিছু স্তোত্রগান ও বাইবেল পাঠে, কিন্তু “tellingly, not for sermons, announcements, or after-service conversation” — উপদেশ, ঘোষণা বা উপাসনার পরের আলাপে নয় (পৃ. 10)।
আবেং-ভাষী উত্তরদাতাদের 25% (নয়জন) বলেছেন গির্জায় বেশির ভাগ সময় আবেং ব্যবহার করেন, 11% (চারজন) আচিক। এক আবেং উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাঁদের গির্জায় সাধারণত বাংলা চলে, তবে মাসে একবার উপাসনা হয় আবেংয়ে (পৃ. 23)।
SIL-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি আবেং ভাষায় বাংলা হরফে নতুন নিয়ম (New Testament) প্রকাশ করেছে; প্রতিবেদন লেখার সময় এটি কতটা গৃহীত হবে তা দেখার বাকি ছিল (পৃ. 10)। প্রকাশের সাল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
| কোন ভাষা হওয়া উচিত… | মাতৃভাষা | বাংলা | আচিক | আবেং* |
|---|---|---|---|---|
| গির্জায় | 35% | 41% | 26% | 4% |
| প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যম | 37% | 59% | 9% | 5% |
| মা সন্তানের সঙ্গে | 93% | 5% | 1% | 4% |
* কেবল অ-আবেং উত্তরদাতাদের মধ্যে। উৎস: SIL ESR 2012-007, সারণি 11।
SIL-এর পর্যবেক্ষণ: নিজের ভাষায় গির্জার উপাসনা চান 35%, কিন্তু সত্যিই ব্যবহার করেন 15% — অর্থাৎ বেশি মানুষ চান ভাষাটি প্রকাশ্যে আরও ব্যবহৃত হোক। অনেকে বলেছেন, উপাসনায় বাঙালিরাও থাকেন যাঁরা গারো ভাষা বোঝেন না, তাই বাংলা লাগে। গির্জা ও স্কুল — দুই ক্ষেত্রেই বয়স্করা আচিক আর তরুণেরা বাংলা বেশি চেয়েছেন (পৃ. 27–28)।
মধুপুরের গির্জার সঙ্গে ভাষা-গবেষণার যোগও নথিতে আছে। Burling তাঁর বইয়ের কৃতজ্ঞতা অংশে লিখেছেন, মধুপুরে জলছত্র ও পীরগাছার ক্যাথলিক মিশনে Father Eugene Homrich ও তাঁর সহকর্মীরা তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিলেন; SIL-এর জরিপকারীরা প্রতিবেদনের মুখবন্ধে পীরগাছা মিশনের ফাদার ও কর্মীদের ধন্যবাদ দিয়েছেন থাকার ব্যবস্থার জন্য। তবে মধুপুরের গির্জাগুলোতে আজ উপাসনা কোন ভাষায় হয়, তার কোনো সাম্প্রতিক প্রকাশিত বিবরণ পাওয়া যায়নি।
মধুপুরে গারো শিশুদের মাতৃভাষায় পড়ানোর একটি নথিভুক্ত উদ্যোগ জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের: 2008 সালে গড় এলাকায় 12টি স্কুল চালু হয়েছিল, যেখানে আচিকে পড়ানো হতো; তিন বছর চলার পর দাতা সংস্থার অর্থ না পাওয়ায় সেগুলো বন্ধ হয়ে যায় (দেশ রূপান্তর, 2026)। 2017 সাল থেকে সরকার প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত গারো ভাষার বই দিচ্ছে।
সরকারি পাঁচ ভাষার পাঠ্যবই কবে কীভাবে এল, তার পূর্ণ সময়রেখা আছে মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের সময়রেখা লেখায়, আর গারো কেন সেই পাঁচ ভাষার একটি, তা কোন পাঁচটি ভাষায় পাঠ্যবই দেওয়া হয় লেখায়। এখানে শুধু মধুপুরের প্রশ্নের সঙ্গে যা জড়িত।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) 2026 শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক পাতায় গারো ভাষার দুটি বই আছে — “আমার বই” ও “এসো লিখতে শিখি”। “আমার বই”-এর গারো সংস্করণের নামপাতায় রোমান হরফে লেখা “Angni Ki·tap”, তার নিচে “A·bachengo Sningani”; ভেতরের পাঠও রোমান হরফে।

মধুপুরের কোন স্কুলে এই বই পৌঁছায় আর কে পড়ান, তার কোনো প্রকাশিত হিসাব পাওয়া যায়নি। অন্য গারো এলাকার নথি আছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের 21 ফেব্রুয়ারি 2024-এর প্রতিবেদনে (কাজী নাফিয়া রহমান) নেত্রকোনার বারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ডলি ম্রং বলেছেন:
“এখানে গারো শিক্ষার্থী আছে, পাঠ্যবই আছে। কিন্তু বোঝানোর জন্য গারো ভাষায় শিক্ষক নেই। থাকলে পাঠ্যবইটা কাজে আসত।”
একই শিক্ষক বলেছেন, পাঠ্যবইয়ে গারো ভাষার যে রূপ ব্যবহার হয়েছে, তা তিনি নিজেই বোঝেন না: “এটি আমাদের খাঁটি ‘আচিক’ ভাষায় লেখা। কিন্তু আমরা তো আঞ্চলিকতায় অভ্যস্ত।” এই বক্তব্য নেত্রকোনার, মধুপুরের নয়; তবে Burling ও SIL যে উপভাষা-দূরত্বের কথা লিখেছেন, শ্রেণিকক্ষে তা কেমন দেখায় — সেটি এখানে সরাসরি শোনা যায়।
দ্য ডেইলি স্টারের 21 ফেব্রুয়ারি 2026-এর ক্রোড়পত্রে ভাষা-জরিপকারী ও FEEL (Friend of Endangered Ethnic Languages)-এর Michael Mridul Kanti Sangma বলেছেন, এনসিটিবি প্রাক-প্রাথমিক উপকরণ প্রকাশ করলেও তা “only available in limited areas”; বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও বাধ্যতামূলক পাঠ্যক্রম ছাড়া এই বই প্রায়ই পড়ে থেকে ধুলা জমে।
SIL-এর জরিপে 97% উত্তরদাতা বলেছিলেন, গ্রামের নেতারা শিশুদের মান্দি পড়া-লেখার ক্লাস খুললে তাঁরা সন্তান পাঠাবেন; 83% বলেছিলেন এর জন্য সামান্য বেতন দেওয়াও সার্থক। কোন রূপে পড়ানো হবে — এই প্রশ্নে 55% বলেছেন আচিক, 37% নিজের মাতৃভাষা। আবেং-ভাষীদের মধ্যে 67% আচিক চেয়েছেন। ক্লাসে পাঠানোর সবচেয়ে সাধারণ কারণ ছিল “আচিক শেখা” (32%), তারপর “মাতৃভাষা আরও ভালো শেখা” (21%)।
SIL-এর ব্যাখ্যা: খুব কম গারো শিশু আচিক বলে, তাই অনেকে এই ক্লাসকে কেবল পড়া-লেখা নয়, আচিক বলা-শোনা শেখার পথ হিসেবেও দেখেছেন (পৃ. 29)।
প্রতিবেদনের সুপারিশ অংশে SIL লিখেছে, আচিক বাংলাদেশের অধিকাংশ গারোর মাতৃভাষা নয়, খুব কম মানুষ তা ভালো বোঝেন বা বলেন, আর রোমান হরফে অধিকাংশ বাংলাদেশি গারো স্বচ্ছন্দ নন — তাই আচিকে সাক্ষরতা কার্যক্রম কার্যত দ্বিতীয় ভাষায় সাক্ষরতা হবে। SIL-এর প্রস্তাব ছিল সাক্ষরতা ও সাহিত্যের জন্য আবেংকে বিকশিত করা। কারণ হিসেবে লেখা: বেশি বেশি তরুণ গারো বাংলা-মাধ্যমে শিক্ষিত হয়ে বাংলাকে প্রথম ভাষা হিসেবে ব্যবহার করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আবেং বলার ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমার “danger” আছে (পৃ. 41)।
লিপির প্রশ্নে SIL ইচ্ছা করে কোনো সুপারিশ করেনি: গারো সমাজ সামগ্রিকভাবে রোমান ও বাংলা — দুই হরফকেই সমর্থন করে, আর বিষয়টি আরও গবেষণার (পৃ. 41)।
গারো ভাষা মেঘালয়ে ও বাংলাদেশের সরকারি পাঠ্যবইয়ে রোমান হরফে লেখা হয়। 2005 সালের SIL জরিপে নিজের ভাষায় পড়া-লেখা জানা উত্তরদাতাদের মধ্যে রোমান ও বাংলা হরফের ব্যবহার প্রায় সমান ছিল। পাশাপাশি গারো সমাজে প্রচলিত একটি কাহিনি বলে, প্রাচীন লিখিত শাস্ত্র হারিয়ে গিয়েছিল; আর কয়েকজন গবেষক নতুন বর্ণমালাও প্রস্তাব করেছেন।
150 জনের 37% বলেছেন তাঁরা নিজের মাতৃভাষায় চিঠি ও নোটিশ পড়তে-লিখতে পারেন; আবেং-ভাষীদের মধ্যে 44%। SIL লিখেছে, নমুনায় শিক্ষিত মানুষ বেশি থাকায় গোটা গারো জনগোষ্ঠীতে এই হার “undoubtedly lower”। হরফের প্রশ্নে 21% রোমান, 20% বাংলা; আবেং-ভাষীদের মধ্যে রোমান 28%, বাংলা 19%। SIL-এর মন্তব্য, বাংলা হরফে আবেং সাহিত্য থাকা সত্ত্বেও বেশি মানুষ রোমান বলছেন — এটি আচিকের প্রভাব, যা বহু আগে রোমান হরফে লেখা শুরু হয়েছিল।

দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনে অজয় এ মৃ বলেছেন, “আচিক ভাষার লিখিত কোনো বর্ণমালা নেই।” তিনি একটি প্রচলিত কাহিনিও বলেছেন: তিব্বত ছেড়ে আসার পথে যাঁর কাছে পশুর চামড়ায় লেখা পুঁথি ছিল, তিনি ক্ষুধার জ্বালায় সেগুলো সেদ্ধ করে খেয়ে ফেলেন — ফলে বর্ণমালা হারিয়ে যায়। দ্য ডেইলি স্টারের 2006 সালের প্রতিবেদনেও বর্ণমালা হারানোর একই রকম কাহিনি আছে, আর আমাদের আর্কাইভের “গারো ইতিহাস ও সংস্কৃতি” লেখায় আছে, গারো উপকথা অনুযায়ী গণ্ডারের চামড়ায় তাঁদের লিখিত শাস্ত্র ছিল।
অন্যদিকে SIL লিখেছে, আচিক রোমান হরফে লেখা এবং সবচেয়ে বিকশিত গারো রূপ; Banglapedia-র 2003 সালের ভুক্তি যে বলেছিল আচিকের “কোনো বর্ণমালা নেই”, SIL একে “patently untrue” বলেছে (পৃ. 10)। দ্য ডেইলি স্টারের 2026 সালের ক্রোড়পত্রে লেখা হয়েছে, ভাষাটি উনিশ শতকের শেষ দিকে আমেরিকান ব্যাপটিস্ট মিশনারিদের হাতে লাতিন হরফে আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। দুই ভাষ্যের পার্থক্য মূলত “নিজস্ব বর্ণমালা” আর “লিখিত রূপ”-এর মধ্যে।
আর্কাইভের ওই একই লেখা বলছে “গারো ভাষা বাংলা বর্ণমালায় লেখা হয়”; SIL-এর জরিপে বাংলা ও রোমান — দুই হরফেরই ব্যবহারকারী পাওয়া গেছে, আর সরকারি পাঠ্যবই রোমান হরফে।
ঢাকা ট্রিবিউনে 2018 সালে লেখা হয়েছে, John Thusin Richil, Daniel R Ruram, Martin Rema ও Pradeep Shangma — এই চার গবেষক গারো ভাষার জন্য চারটি আলাদা বর্ণমালা তৈরি করেছেন, যেগুলো তখন যাচাইয়ের মধ্যে ছিল; আপাতত আচিক সাহিত্য লেখা হচ্ছে বাংলা ও রোমান হরফে। এই প্রস্তাবগুলোর কোনোটি মধুপুরের স্কুল বা গির্জায় ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশে গারো ভাষায় বই প্রকাশ হয়, তবে ছোট পরিসরে; প্রকাশনা সংস্থা থকবিরিম প্রতি বছর একুশে বইমেলায় অংশ নেয় এবং 2021 সালে ঢাকায় আলাদা গারো বইমেলা করেছিল। শিশু-কিশোরদের জন্য গারো ভাষার সাহিত্য প্রায় নেই বলে লেখকেরা নিজেরাই বলেছেন। তরুণদের মধ্যে মোবাইলে গারো কিবোর্ড ব্যবহারের নতুন উদ্যোগও নথিতে আছে।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন (“To keep the language alive”, 2021) অনুযায়ী থকবিরিম ঢাকার শিশু মালঞ্চ স্কুলে 21 ফেব্রুয়ারি থেকে একটি গারো বইমেলা করেছিল — ঢাকার যে এলাকায় সবচেয়ে বেশি গারো থাকেন, সেখানে। মেলার আয়োজক, থকবিরিমের মালিক Mithun Raksam বলেছেন, সংবাদপত্র থেকে তাঁরা জেনেছেন বাংলাদেশে অন্তত 14টি আদিবাসী ভাষা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে, আর ভাষা ও সাহিত্যচর্চা বাঁচিয়ে রাখতেই এই মেলা।
মেলায় কবি Apurbo Mrong বলেছেন, “There is hardly any literature for children and youths in Garo language.” এটি না হলে পরের প্রজন্ম গারো সাহিত্য পড়তে আগ্রহী হবে না। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের এক পরিচালক বলেছেন, ইনস্টিটিউট ভাষা-গবেষণা ও প্রশিক্ষণে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু বইমেলায় সরাসরি সহায়তা দেয় না।
আদিবাসী ভাষার বই কে ছাপে, কার টাকায় — তার বিস্তারিত আছে আদিবাসী ভাষার বই প্রকাশনা লেখায়; গারো অভিধান কোথায় ছাপা হয়েছে, তা আছে আদিবাসী ভাষার অভিধান লেখায়।
Burling 2003 সালে লিখেছিলেন, ভালো গারো-ইংরেজি অভিধান আছে, তবে সবগুলোই মূলত উত্তর-পূর্বের সেই উপভাষার, যার ভিত্তিতে লিখিত ভাষা গড়া। সবচেয়ে সহজলভ্য অভিধানটিও “may be difficult to find in Bangladesh”, আর ইংরেজি-গারো অভিধানগুলোর কোনোটিই বাংলাদেশে সহজে পাওয়া যায় না (খণ্ড 1, পৃ. 5–6)।
দ্য ডেইলি স্টারের 21 ফেব্রুয়ারি 2026-এর ক্রোড়পত্রে (“The digital evolution of Garo identity in Bangladesh”, Musrat Hossain Mithila) লেখা হয়েছে, সম্প্রদায়ের উদ্যোগে স্মার্টফোনের জন্য গারো কিবোর্ড তৈরি হয়েছে, যাতে গ্রামের কিশোর বাংলা অটোকারেক্টের বাধা ছাড়াই দাদি-নানিকে নিজের ভাষায় বার্তা লিখতে পারে। Michael Mridul Kanti Sangma-র মতে তরুণেরা ডিজিটাল মাধ্যমে সাহিত্যচর্চায় বেশি আগ্রহী হচ্ছে।
একই লেখায় বলা হয়েছে, ঢাকার মতো শহরে মা-বাবা প্রায়ই বাংলা ও ইংরেজিকে অগ্রাধিকার দেন, যাতে সন্তানের ক্যারিয়ার সীমিত না হয়। এর ফল ভাষাবিজ্ঞানীরা যাকে বলেন “receptive fluency” — তরুণ গারোরা মা-বাবার গল্প বোঝে, কিন্তু নিজের ভাষায় জবাব দেওয়ার শব্দ খুঁজে পায় না। মধুপুর থেকে 2006 ও 2026 সালের প্রতিবেদনে শিশুদের যে বর্ণনা, এটি তার সঙ্গে মেলে; তবে ক্রোড়পত্রের এই অংশটি শহরের পরিবারের কথা বলছে।
মধুপুরের ভাষা-প্রশ্নের একটি অংশ মধুপুরের বাইরে: 2005 সালের SIL জরিপকারীরা লিখেছেন, এমন গারো গ্রাম খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল যার কোনো পরিবারের কেউ ঢাকায় থাকেন না। ঢাকায় বসত গড়া গারো পরিবারে বাংলা ঘরের ভাষা হয়ে উঠছে, ফলে শিশুরা গারো বলতে না শিখেই বড় হচ্ছে — এটি SIL-এর পর্যবেক্ষণ, আর পরের গবেষণা ও লেখাতেও একই কথা।
SIL-এর ভাষায়, ঢাকায় বসত গড়ে সন্তান বড় করা গারো পরিবারে বাংলা যে গারোর জায়গা নিচ্ছে, “so that the young grow up not being able to speak Garo”, তা বিস্ময়কর নয় (পৃ. 8)। ঢাকায় গারোদের উপস্থিতির কারণ হিসেবে প্রতিবেদন লিখেছে এনজিওর চাকরি, পোশাক কারখানা ও বিউটি পার্লারের কাজ আর উচ্চশিক্ষা।
ঢাকা ট্রিবিউনে 2018 সালে Mithun Raksham লিখেছিলেন তিনটি দৃশ্য। একটিতে ঢাকায় বড় হওয়া শিশুদের মান্দিতে নাম জিজ্ঞেস করলে তারা চুপ করে থাকে, বাংলায় জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেয়। আরেকটিতে বাবা-ছেলে বাংলায় কথা বলায় প্রতিবেশী ছেলেটিকে বাড়ির বাঙালি কাজের ছেলে ভেবেছিলেন। তাঁর বর্ণনায়, শহরে বড় হওয়া গারো শিশুরা ভাষাটি কম জানে, তাদের সুবিধার জন্য মা-বাবাও বাংলা বলতে শুরু করেন, আর একসময় বাংলাই তাদের মাতৃভাষা হয়ে যায়।
ঢাকার গারো অভিবাসীদের নিয়ে সৈয়দা আফসানা ফেরদৌসীর গবেষণা (Arts Faculty Journal, খণ্ড 11, সংখ্যা 16, জুলাই 2020–জুন 2021) জানিয়েছে, প্রায় 34% উত্তরদাতা ভাষা বদলের প্রধান কারণ বলেছেন বাঙালি সংস্কৃতিতে আত্তীকরণ, আর 7%-এর কিছু বেশি দায়ী করেছেন মা-বাবার অসচেতনতাকে, কারণ “many parents do not teach their children Garo language”। এই গবেষণা ঢাকার, মধুপুরের নয়; তবে মধুপুরের পরিবারগুলোর একটি অংশ যেখানে যায়, সেখানকার ছবি দেয়।
মধুপুরের সঙ্গে তুলনার জন্য অন্য দুটি গারো এলাকার সাম্প্রতিক নথি আছে। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় 2021 সালের একটি প্রতিবেদন বলছে, অনেক মান্দি শিশু পরিবারে ও বাইরে বাংলায় কথা বলতে অভ্যস্ত হচ্ছে। হালুয়াঘাট ও ফুলপুরে 21 জনের ওপর 2023 সালের একটি গবেষণা বলছে, পরিবার ও আত্মীয়দের মধ্যে মান্দি টিকে আছে, গির্জায় বাংলা।
সমকালের 8 আগস্ট 2021-এর প্রতিবেদন (“মান্দি শিশুরা ভুলতে বসেছে মাতৃভাষা”, কবীর উদ্দিন সরকার হারুন, ফুলবাড়িয়া) অনুযায়ী নাওগাঁও ও রাঙামাটিয়া ইউনিয়নে প্রায় 300 পরিবারে অন্তত দুই হাজার মান্দির বাস। রাঙামাটিয়ার হাতিলেইট গ্রামের অন্তত 20 জন মান্দি শিশু-কিশোর বলেছে তারা আচিক জানে না; অল্প কিছু সচেতন পরিবার সন্তানদের বলতে শিখিয়েছে, তবে কেউ পড়তে-লিখতে জানে না।
প্রতিবেদন লিখেছে, এনজিওর অর্থায়নে চলা মাতৃভাষা শিক্ষার একমাত্র স্কুলটি চার বছর ধরে বন্ধ; দোলমা গ্রামের কারিতাস-অর্থায়িত আলোঘর শিক্ষাকেন্দ্রও বন্ধ। মিশন-পরিচালিত দরগাচালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিল্পী মারাক বলেছেন, সরকার মাতৃভাষার বই দিলেও সরকারি পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পড়ানো খুব কঠিন, আর আচিকে পড়ানোর পারিশ্রমিকও তাঁরা পান না। দোলমার পঞ্চায়েতপ্রধান জগদীশ মারাক বলেছেন, “গ্রামের কোনো শিশু এখন আর তার মাতৃভাষায় কথা বলে না।”
Jiniya Bhoraty ও Rahman M. Mahbub-এর গবেষণাপত্রটি (Research Square-এ প্রি-প্রিন্ট, 15 ডিসেম্বর 2023) হালুয়াঘাট ও ফুলপুরের 21 জন গারোর সঙ্গে আধা-কাঠামোবদ্ধ সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে লেখা। এর সিদ্ধান্ত: আত্মীয় ও পরিবারের পরিসর গারো ভাষা টিকিয়ে রাখতে প্রধান ভূমিকা রাখে, অন্য পরিসরের প্রভাব তুলনায় কম। গির্জার পরিসরে ভাষাটি “poorly maintained”, কারণ সেখানে বাঙালি খ্রিষ্টানরাও আছেন এবং মান্দি ভাষার প্রার্থনা-বই নেই।
এই দুটি নথিও মধুপুরের নয়; একটি গোষ্ঠীর কথা অন্য এলাকার ক্ষেত্রে সরাসরি খাটানো যায় না। তবু 2005-এর SIL জরিপ যে তিনটি পরিসরের কথা বলেছিল — ঘর টিকে আছে, গির্জা ও স্কুল বাংলায় — দুই এলাকার নথিতেই সেই একই বিভাজন দেখা যায়।
ভাষা-ডেটাবেস Glottolog (সংস্করণ 5.3) গারো ভাষার “Agglomerated Endangerment Status” দিয়েছে “threatened”। উৎস হিসেবে উদ্ধৃত Catalogue of Endangered Languages (ElCat, Campbell ও সহলেখক, 2022), যেখানে গারোকে “Vulnerable” বলা হয়েছে — প্রমাণের ভিত্তিতে 80 শতাংশ নিশ্চয়তায়। এটি গারো ভাষার সামগ্রিক মূল্যায়ন, মধুপুরের আলাদা নয়।
ElCat-এর মন্তব্যটি Burling (2003)-এর ভিত্তিতে লেখা: বাংলাদেশের গারোরা ফেরিওয়ালা, দোকানি এবং সরকারি ও গির্জার কর্মকর্তাদের সঙ্গে দৈনন্দিন কাজে বাংলা ব্যবহার করেন; বাংলাদেশে শিক্ষার ভাষাও বাংলা। ভারতের গারোদের ওপর বাংলার প্রভাব কম, কারণ সেখানে বাংলা শিক্ষা, প্রশাসন বা ব্যবসার ভাষা নয়। সামগ্রিকভাবে গারো “more endangered in Bangladesh than in India”। তবে মন্তব্যের শেষ বাক্য: “even in Bangladesh most children of Garo parents learn Garo as their first language.”
এই শেষ বাক্যটি Burling-এর 2003 সালের পর্যবেক্ষণ — SIL জরিপের সময়কার। 2006 ও 2026 সালের মধুপুরের সংবাদ-প্রতিবেদন ভিন্ন ছবি দেয়। Glottolog-এর মূল্যায়ন কোনো নতুন মাঠ-জরিপে হালনাগাদ হয়েছে, এমন তথ্য পাতায় নেই।
সরকারি পাঠ্যবইয়ের পাঁচ ভাষার বাইরের ভাষাগুলো, বিশেষ করে বিপন্ন ভাষাগুলোর অবস্থা নিয়ে আলোচনা আছে পাঁচ ভাষার লেখায়।
মধুপুরের গারো ভাষা নিয়ে উৎসগুলো কয়েকটি জায়গায় আলাদা কথা বলে। নিচের ছকে প্রতিটি অমিল দুই দিকের উৎসসহ রাখা হলো; কোনটি সঠিক, সে বিচার এখানে করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে পার্থক্যের কারণ সময় (2005 বনাম 2026), এলাকা (সারা দেশ বনাম মধুপুর) বা মাপার পদ্ধতি।
| প্রশ্ন | এক উৎস | অন্য উৎস |
|---|---|---|
| শিশুরা কি গারো ভাষা বলে? | SIL (2005, 13 গ্রাম): 97% বলেছেন শিশুরা প্রথমে মাতৃভাষা শেখে; ElCat/Burling (2003): বাংলাদেশেও অধিকাংশ শিশু গারো প্রথম ভাষা হিসেবে শেখে | দ্য ডেইলি স্টার (2006, মধুপুর): বেশির ভাগ শিশু বলতে পারে না; দেশ রূপান্তর (2026, মধুপুর): সিংহভাগ শিশু বলতে পারে না |
| মধুপুরে গারো কতজন | বিবিএস 2022: 12,385 (উপজেলা) | স্থানীয় নেতা (2006, 2026): প্রায় 25,000; দ্য ডেইলি স্টার (2017): 30,000 |
| বাংলাদেশে গারো কতজন | বিবিএস 2022: 76,854 | স্থানীয় নেতা (2006): অন্তত 1,25,000; দেশ রূপান্তর (2026): প্রায় সোয়া লাখ; Michael Mridul Kanti Sangma (2026): 2,00,000-এর বেশি ভাষাভাষী |
| মধুপুরের গারোদের ভাষার নাম | সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সংগঠন: আচিক | Burling (2003): আবেং-এর একটি রূপ; SIL (2005): চুনিয়ার মাতৃভাষা আবেং, আচিক ভারতের মান-রূপ |
| ভাষার বর্ণমালা আছে কি | অজয় এ মৃ (দেশ রূপান্তর, 2026): লিখিত কোনো বর্ণমালা নেই | SIL: আচিক রোমান হরফে লেখা, “বর্ণমালা নেই” কথাটি “patently untrue”; দ্য ডেইলি স্টার (2026): উনিশ শতকের শেষে লাতিন হরফে আনুষ্ঠানিক রূপ |
| কোন হরফে লেখা হয় | জুমজার্নাল আর্কাইভ (2020): বাংলা বর্ণমালায় | এনসিটিবির বই: রোমান; SIL (2005): রোমান 21%, বাংলা 20% |
| পাঠ্যবই কার উপযোগী | এনসিটিবি: গারো ভাষার বই, রোমান হরফে | ডলি ম্রং, নেত্রকোনা (বিডিনিউজ, 2024): বইটি “খাঁটি আচিক”-এ, আঞ্চলিক রূপে অভ্যস্ত শিক্ষক নিজেই বোঝেন না |
আচিক গারো বা মান্দি জনগোষ্ঠীর ভাষার নাম হিসেবে বাংলাদেশে প্রচলিত। ভাষাবিজ্ঞানের উৎসে আচিক বলতে বোঝায় ভারতের গারো পাহাড়ের উত্তর-পূর্বের উপভাষাভিত্তিক লিখিত মান-রূপ, যা মিশনারিরা রোমান হরফে লিখেছিলেন। SIL-এর 2005 সালের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের অধিকাংশ গারোর কথ্য ভাষা আবেং, আর আচিক ভালো বলেন অল্প কয়েকজন।
মধুপুরের গারোরা ঘরে নিজেদের মান্দি ভাষা বলেন, যাকে ভাষাবিজ্ঞানী Robbins Burling (2003) আবেং উপভাষার একটি রূপ বলেছেন। SIL-এর জরিপে মধুপুরের চুনিয়া গ্রামের মাতৃভাষা লেখা হয়েছে আবেং। বাইরের কাজে — বাজার, স্কুল, অফিস, অনেক ক্ষেত্রে গির্জায় — তাঁরা বাংলা ব্যবহার করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ভাষাটিকে আচিক বলে।
জনশুমারি 2022-এর টাঙ্গাইল জেলা প্রতিবেদন অনুযায়ী মধুপুর উপজেলায় গারো 12,385 জন (পুরুষ 6,310, নারী 6,075), আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সব মিলিয়ে 14,443 জন। স্থানীয় নেতারা 2006 ও 2026 সালে সংখ্যাটি প্রায় 25,000 বলেছেন, দ্য ডেইলি স্টারের 2017 সালের প্রতিবেদনে 30,000। শুমারি কতজন গারো ভাষা বলেন তা গোনে না।
না। 2022 সালের জনশুমারি “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, 2010” অনুসারে জাতিগোষ্ঠীর তথ্য নিয়েছে, মাতৃভাষার নয়। টাঙ্গাইল জেলা প্রতিবেদন ও জাতীয় প্রতিবেদনে জাতিভিত্তিক জনসংখ্যার সারণি আছে, ভাষাভিত্তিক সারণি নেই। 2011 সালের টাঙ্গাইল জিলা রিপোর্টেও কেবল জাতিগোষ্ঠীর মোট সংখ্যা ও সাক্ষরতা দেওয়া।
সাম্প্রতিক কোনো জরিপ নেই। দেশ রূপান্তরের 9 আগস্ট 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী মধুপুর গড়ের নতুন প্রজন্মের সিংহভাগ শিশু মাতৃভাষা বলতে পারে না, শুনে কিছুটা বোঝে কিন্তু উত্তর দেয় বাংলায়। দ্য ডেইলি স্টার 2006 সালে একই কথা লিখেছিল। 2005 সালের SIL জরিপে সারা দেশের গারোদের 97% বলেছিলেন শিশুরা প্রথমে মাতৃভাষাই শেখে।
“The Garos of Bangladesh: A Sociolinguistic Survey” SIL বাংলাদেশের ভাষা-জরিপ; মাঠকাজ এপ্রিল–জুন 2005, প্রকাশ ফেব্রুয়ারি 2012 (SIL Electronic Survey Report 2012-007)। 13টি গ্রামের 150 জনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। আবেং-ভাষী তিনটি গ্রামের একটি মধুপুরের চুনিয়া, পীরগাছা মিশনের কাছে। প্রতিবেদনের সংখ্যাগুলো সব গ্রাম মিলিয়ে, মধুপুরের আলাদা হিসাব নেই।
Glottolog 5.3 গারো ভাষাকে “threatened” বলেছে, Catalogue of Endangered Languages-এর 2022 সালের মূল্যায়নের ভিত্তিতে, যেখানে গারো “Vulnerable”। সেই মূল্যায়ন Burling (2003)-এর ভিত্তিতে বলছে, বাংলাদেশে গারো ভারতের চেয়ে বেশি বিপন্ন, কারণ এখানে শিক্ষা ও দৈনন্দিন লেনদেনের ভাষা বাংলা; তবে বাংলাদেশেও অধিকাংশ গারো শিশু গারোকে প্রথম ভাষা হিসেবে শেখে।
হ্যাঁ। 2017 সাল থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত গারো ভাষার বই দিচ্ছে। 2026 সালের প্রাক-প্রাথমিক “আমার বই”-এর গারো সংস্করণের নাম রোমান হরফে “Angni Ki·tap”। তবে নেত্রকোনার এক শিক্ষক 2024 সালে বলেছেন, পড়ানোর মতো গারো ভাষার শিক্ষক নেই, আর বইয়ের ভাষারূপ আঞ্চলিক কথ্যরূপ থেকে আলাদা।
দেশ রূপান্তরের 2026 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ 2008 সালে মধুপুর গড় এলাকায় 12টি স্কুল চালু করেছিল, যেখানে গারো শিশুদের আচিকে পড়ানো হতো। তিন বছর চলার পর দাতা সংস্থার অর্থ বন্ধ হলে স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এখনকার কোনো মাতৃভাষা স্কুলের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সরকারি পাঠ্যবই ও মেঘালয়ের লিখিত মান-ভাষা রোমান হরফে। SIL-এর 2005 সালের জরিপে নিজের ভাষায় পড়া-লেখা জানাদের মধ্যে 21% রোমান ও 20% বাংলা হরফ ব্যবহারের কথা বলেছেন; বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি আবেংয়ে বাংলা হরফে নতুন নিয়ম ছেপেছে। ঢাকা ট্রিবিউনের 2018 সালের লেখা অনুযায়ী চারজন গবেষক চারটি নতুন বর্ণমালাও প্রস্তাব করেছেন।
Robbins Burling তাঁর 2003 সালের শব্দকোষে লিখেছেন, মধুপুরের মান্দি গারো পাহাড়ের উপভাষার চেয়েও বেশি বাংলা-প্রভাবিত, আর মান্দিরা যেকোনো বাংলা শব্দ নিতে স্বাধীন। সপ্তাহের দিনের জন্য তাঁরা কেবল বাংলা নাম ব্যবহার করেন, কৃষিচক্রে বাংলা মাস। 2006 ও 2026 সালে মধুপুরের নেতারাও বলেছেন ভাষাটি বাংলার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।
SIL-এর 2005 সালের জরিপে 93% উত্তরদাতা বলেছেন মায়ের উচিত সন্তানের সঙ্গে মাতৃভাষায় কথা বলা, মাত্র 5% বাংলা। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যম হিসেবে 59% বাংলা চেয়েছেন, মাতৃভাষা 37%। মধুপুরের নেতারা 2006 ও 2026 সালে জানিয়েছেন, তাঁরা ঘরে আচিক বলেও ভাষাটি ধরে রাখতে পারছেন না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতলের আদিবাসী বিষয়ে আমাদের সব লেখার সূচি আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব পাতায়।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, আদিবাসীদের ভাষা বিলুপ্তি, গারো, মধুপুর, মাতৃভাষায় শিক্ষা
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।