Last updated Oct 19th, 2026

রাঙামাটি জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে, চট্টগ্রাম বিভাগে অবস্থিত একটি পার্বত্য জেলা; আয়তন 6,116.11 বর্গ কিলোমিটার, আর সেই হিসাবে এটি দেশের সবচেয়ে বড় জেলা। জনশুমারি 2022 অনুযায়ী এখানে 6,47,586 জন মানুষের বাস, উপজেলা 10টি। সরকারি কাগজে নামটি লেখা হয় “রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা”; পুরো কাপ্তাই হ্রদ, চাকমা সার্কেলের বড় অংশ আর সাজেক উপত্যকা এই জেলার ভেতরেই।
এই লেখায় জেলার অবস্থান, আয়তন, প্রতিষ্ঠার সাল, নামের উৎস, দশ উপজেলা, জনসংখ্যা, জনগোষ্ঠী, নদী-হ্রদ-পাহাড় আর জীবিকার তথ্য এক জায়গায় রাখা হয়েছে। সংখ্যাগুলো নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) জনশুমারি 2022-এর জেলা রিপোর্ট, জেলা প্রশাসনের সরকারি পোর্টাল ও বাংলাপিডিয়া থেকে। যেখানে এই উৎসগুলোর সংখ্যা মেলে না, সেখানে দুটোই পাশাপাশি দেওয়া আছে। পুরো অঞ্চলের প্রেক্ষাপটের জন্য দেখতে পারেন আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভ।
সূচিপত্র
রাঙামাটি চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা। এর অবস্থান 22°27′ থেকে 23°44′ উত্তর অক্ষাংশ এবং 91°56′ থেকে 92°33′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে। উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে বান্দরবান জেলা, পূর্বে ভারতের মিজোরাম ও মিয়ানমারের চিন প্রদেশ, পশ্চিমে খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলা। তথ্যগুলো বাংলাপিডিয়ার।
সীমানার বর্ণনায় তিন উৎসে সামান্য ফারাক আছে। জেলা পোর্টালের “এক নজরে” পাতার ছকে পূর্ব দিকে কেবল মিজোরামের নাম আছে, মিয়ানমারের নাম নেই। BBS-এর জেলা রিপোর্ট উত্তরে ত্রিপুরার সঙ্গে মিজোরামকেও রাখে, আর দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের চিন রাজ্যকে আলাদা করে উল্লেখ করে। দ্রাঘিমাংশের শেষ সীমা BBS-এ 92°32′, পোর্টাল ও বাংলাপিডিয়ায় 92°33′।
তিন উৎস মিলিয়ে একটি কথা পরিষ্কার: রাঙামাটি বাংলাদেশের সেই জেলা, যার সীমানা একই সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমার দুই দেশকে ছুঁয়েছে। ভারতের দিকে আবার দুটি আলাদা রাজ্য, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
জেলার ভেতরের উপজেলাগুলোর সীমানা দেখলে ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়। পোর্টালের বর্ণনায় বাঘাইছড়ির উত্তরে ত্রিপুরা আর পূর্বে মিজোরাম; বিলাইছড়ির পূর্বে মিজোরাম ও মিয়ানমার, দক্ষিণে বান্দরবানের রুমা ও থানচি। পশ্চিম প্রান্তের কাউখালীর গায়ে লেগে আছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া।
রাঙামাটি জেলার আয়তন 6,116.11 বর্গ কিলোমিটার; BBS-এর 2022 ও 2011 সালের শুমারি এবং বাংলাপিডিয়া এই সংখ্যাই দেয়। জেলা পোর্টাল এবং BBS-এর 2001 ও 1991 সালের কলামে সংখ্যাটি 6,116.13 বর্গ কিলোমিটার। আয়তনের দিক থেকে এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জেলা, কথাটি পোর্টাল ও BBS দুই জায়গাতেই আছে।
জেলার ভেতরে আয়তনের বণ্টন খুব অসম। সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ি, 1,931.28 বর্গ কিলোমিটার; হিসাব করলে জেলার মোট আয়তনের প্রায় 31.6 শতাংশ এই এক উপজেলায়। BBS-এর রিপোর্ট বাঘাইছড়িকে আয়তনে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা বলেছে। সবচেয়ে ছোট উপজেলা রাজস্থলী, 145.04 বর্গ কিলোমিটার।
দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা নিয়ে দুই উৎসে দুই রকম তথ্য আছে। পোর্টালের উপজেলা তালিকা বিলাইছড়িকে (745.92 বর্গ কিমি) জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বলেছে; বাংলাপিডিয়ার ছকে বরকলের আয়তন 760.89 বর্গ কিমি, যা বিলাইছড়ির 745.91-এর চেয়ে বেশি।
এত বড় জেলায় মানুষ কম। BBS-এর হিসাবে 2022 সালে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে গড়ে 105.88 জনের বাস। 1991 সালে এই সংখ্যা ছিল 66, 2001-এ 83, 2011-তে 97।
এই প্রশ্নের দুটি উত্তর চালু আছে, আর দুটিরই সরকারি ভিত্তি আছে। জেলা পোর্টাল লেখে “জেলা সৃষ্টি: 20 জুন 1860”, কারণ সেদিনের পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলারই মূল অংশ আজকের রাঙামাটি। BBS ও বাংলাপিডিয়া বলে 1983, কারণ সে বছর রাঙামাটি মহকুমা আলাদা জেলায় উন্নীত হয়।
পোর্টালের “এক নজরে” পাতার ভাষায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা থেকে 1981 সালে বান্দরবান এবং 1983 সালে খাগড়াছড়ি আলাদা জেলা হলে মূল অংশটি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। জেলার আগের নাম পার্বত্য চট্টগ্রাম, তারও আগের নাম কার্পাস মহল (1715–1860)।
1860 সালের তারিখ নিয়েও পোর্টালের দুই পাতায় দুই রকম লেখা। “এক নজরে” পাতায় জেলা সৃষ্টির তারিখ 20 জুন 1860; “জেলার পটভূমি” পাতায় বলা হয়েছে, 1860 সালের ACT XXII ওই বছরের 1 আগস্ট কার্যকর হয় এবং তখনই পার্বত্য অঞ্চল রেগুলেশন জেলা চট্টগ্রাম থেকে আলাদা হয়।
1891 সাল নিয়েও দুই বয়ান। BBS-এর রিপোর্টে আছে, ব্রিটিশ আমলে 1891 সালে এলাকাটি মহকুমা হিসেবে সৃষ্টি হয়। পোর্টালের পটভূমি পাতা বলছে, 1891 সালে ব্রিটিশরা লুসাই পাহাড় দখল করার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার গুরুত্ব কমে যায় এবং জেলার মর্যাদা কমিয়ে মহকুমা করা হয়।
পোর্টালের বয়ান অনুযায়ী, 1715 সালে চাকমা রাজা জালাল খাঁ সমতলের সঙ্গে পাহাড়ের বাণিজ্য চালু রাখতে চট্টগ্রামের মোগল প্রশাসককে বছরে 11 মণ কার্পাস তুলা দিতে চুক্তিবদ্ধ হন। মোগল প্রশাসকেরা পরে এলাকাটিকে নিজেদের অধীন অঞ্চল ধরে “কার্পাস মহল” নাম দিয়ে কর আদায় করতে চান। 1760 সালে চট্টগ্রাম অঞ্চল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে যায়।
কোম্পানির আমলেও শুরুতে পাহাড়ের ভেতরের শাসনে হাত দেওয়া হয়নি। পোর্টাল লিখেছে, 1829 সালে কমিশনার হ্যালহেড স্বীকৃতি দেন যে পাহাড়ের মানুষ ব্রিটিশ প্রজা নন, কেবল করদাতা, আর তাঁদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের অধিকার ব্রিটিশদের নেই। রাজাদের ধারাবাহিকতা এই লেখার বিষয় নয়; সেটি আছে আমাদের চাকমা রাজবংশের ইতিহাস লেখায়।
নিচের ছকের সব তথ্য জেলা পোর্টালের “জেলার পটভূমি” পাতা থেকে নেওয়া; যেখানে অন্য উৎস ভিন্ন কথা বলে, সেখানে তা উল্লেখ করা হয়েছে।
| সাল | কী ঘটেছিল |
|---|---|
| 1715 | মোগল প্রশাসকের সঙ্গে 11 মণ কার্পাস তুলার চুক্তি; এলাকার নাম হয় কার্পাস মহল |
| 1760 | চট্টগ্রাম অঞ্চল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে সমর্পিত |
| 1859 | বিভাগীয় কমিশনার পাহাড়ি এলাকাকে চট্টগ্রাম থেকে আলাদা করে একজন সুপারিনটেনডেন্ট নিয়োগের সুপারিশ করেন |
| 1860 | ACT XXII দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম আলাদা জেলা (কার্যকর 1 আগস্ট; “এক নজরে” পাতায় 20 জুন); সদর দপ্তর চন্দ্রঘোনায় |
| 1867 | জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদবি সুপারিনটেনডেন্ট থেকে বদলে ডেপুটি কমিশনার |
| নভেম্বর 1868 | জেলা সদর দপ্তর চন্দ্রঘোনা থেকে রাঙামাটিতে স্থানান্তর |
| 1891 | জেলার মর্যাদা কমিয়ে মহকুমা (BBS-এর ভাষায়: মহকুমা হিসেবে সৃষ্টি) |
| 1900 | 1 নম্বর রেগুলেশনে আবার জেলা; চাকমা, মং ও বোমাং তিন সার্কেলে ভাগ; রাঙামাটি, বান্দরবান ও রামগড় তিন মহকুমা |
| 1920 | রেগুলেশন সংশোধন; পার্বত্য চট্টগ্রাম “শাসন বহির্ভূত অঞ্চল” হিসেবে গভর্নরের দায়িত্বে |
| 1947 | আগস্টে জেলাটি পাকিস্তানের অধিক্ষেত্রে আসে |
| 1960 | কর্ণফুলী নদীতে কাপ্তাই বাঁধ |
| 10 সেপ্টেম্বর 1979 | খাগড়াছড়ি, লামা ও কাপ্তাই নামে নতুন মহকুমা |
| এপ্রিল 1981 | বান্দরবান ও লামা মহকুমা নিয়ে বান্দরবান জেলা |
| 1983 | খাগড়াছড়ি ও রামগড় মহকুমা নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা; রাঙামাটি মহকুমা জেলায় উন্নীত (BBS, বাংলাপিডিয়া) |
| 25 ফেব্রুয়ারি 1985 | রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার আলাদা নামকরণ ও সীমানা নির্ধারণ |
| 1989 | তিন পার্বত্য জেলায় স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠন |
| 1997 | চুক্তির পর স্থানীয় সরকার পরিষদের নাম হয় পার্বত্য জেলা পরিষদ; তিন জেলা নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত |
ছকের একটি তথ্য আলাদা করে চোখে পড়ে: জেলার প্রথম সদর দপ্তর রাঙামাটি ছিল না, ছিল চন্দ্রঘোনা। সেই চন্দ্রঘোনা আজ কাপ্তাই উপজেলার একটি ইউনিয়ন।
রাঙামাটি নামের উৎস নিয়ে কোনো প্রামাণিক দলিল পাওয়া যায় না। জেলা পোর্টালের উপজেলা তালিকা নিজেই বলেছে, নামকরণের “সুস্পষ্ট কোন প্রামাণিক তথ্য নেই”। সেখানে উল্লেখ করা জনশ্রুতি হলো: এখানকার ছড়া বা ঝরনার মাটির রং ঈষৎ লাল, তাই এলাকার নাম কালক্রমে “রাঙ্গামাটি”, অর্থাৎ রঙিন মাটি।
ব্যাখ্যাটি একটিমাত্র উৎসের, আর সেই উৎস নিজেই একে জনশ্রুতি বলেছে। চাকমা বা অন্য কোনো আদিবাসী ভাষায় জায়গাটির আদি নাম কী ছিল, তা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
একই পোর্টাল পাতায় কয়েকটি উপজেলার নামের ব্যাখ্যাও আছে। প্রতিটিই জনশ্রুতি বা “অনেকের ধারণা” হিসেবে দেওয়া।
শেষ নামটির আদি রূপের সমর্থন মেলে আরেক জায়গায়। প্রথম আলোয় ইলিরা দেওয়ানের কলামে (6 ফেব্রুয়ারি 2023) পার্বত্য চট্টগ্রামের বদলে যাওয়া স্থাননামের একটি তালিকা আছে। সেখানে রাঙামাটি জেলার তিনটি নাম পাওয়া যায়: নান্যাচর থেকে নানিয়াচর, বেতবন্যা থেকে বেতবুনিয়া, চিংম্রং থেকে চিৎমরম। তাঁর বক্তব্য, আদি নামগুলোর পেছনে কোনো না কোনো ঘটনা জড়িয়ে আছে, আর নাম বদলের সঙ্গে সেই ইতিহাসও মুছে যাচ্ছে।
রাঙামাটি জেলায় উপজেলা 10টি: রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি, লংগদু, কাউখালী, কাপ্তাই, বরকল, নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি, রাজস্থলী ও জুরাছড়ি। পৌরসভা 2টি (রাঙামাটি ও বাঘাইছড়ি), ইউনিয়ন 50টি, থানা 12টি। জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড় রাঙামাটি সদর (1,46,601), সবচেয়ে ছোট জুরাছড়ি (26,932)।
উপজেলা 10টি হলেও থানা 12টি, কারণ দুই উপজেলায় দুটি করে থানা। পোর্টালের হিসাবে কাপ্তাই উপজেলায় কাপ্তাই ও চন্দ্রঘোনা থানা, বাঘাইছড়ি উপজেলায় বাঘাইছড়ি ও সাজেক থানা।
নিচের ছকে আয়তন বাংলাপিডিয়ার (2011 সালের শুমারির ছক), জনসংখ্যা ও সাক্ষরতা BBS-এর জনশুমারি 2022 থেকে, আর আদিবাসী জনসংখ্যা BBS-এর Table 3.1.29 থেকে নেওয়া। BBS ওই সারণিতে “Ethnic Population” শব্দটি ব্যবহার করে। শতাংশ এই দুই সংখ্যা থেকে হিসাব করা।
| উপজেলা | আয়তন (বর্গ কিমি) | জনসংখ্যা 2022 | এর মধ্যে আদিবাসী | শতাংশ | সাক্ষরতা (7 বছর+) |
|---|---|---|---|---|---|
| রাঙামাটি সদর | 546.48 | 1,46,601 | 69,883 | 47.7% | 80.51% |
| বাঘাইছড়ি | 1,931.25 | 1,06,287 | 76,289 | 71.8% | 67.72% |
| লংগদু | 388.49 | 90,408 | 21,248 | 23.5% | 70.63% |
| কাউখালী | 339.28 | 66,313 | 36,550 | 55.1% | 71.18% |
| কাপ্তাই | 258.99 | 55,410 | 24,543 | 44.3% | 73.24% |
| বরকল | 760.89 | 49,708 | 35,315 | 71.0% | 70.15% |
| নানিয়ারচর | 393.67 | 48,523 | 39,659 | 81.7% | 69.18% |
| বিলাইছড়ি | 745.91 | 29,540 | 24,852 | 84.1% | 55.88% |
| রাজস্থলী | 145.03 | 27,864 | 18,855 | 67.7% | 68.02% |
| জুরাছড়ি | 606.05 | 26,932 | 25,681 | 95.4% | 61.17% |
| জেলা | 6,116.11 | 6,47,586 | 3,72,875 | 57.6% | 71.41% |
ছকটি একটি বৈপরীত্য দেখায়। জুরাছড়িতে প্রতি 100 জনে 95 জনের বেশি আদিবাসী, লংগদুতে 24 জনেরও কম। জেলার গড় 57.6 শতাংশ দিয়ে তাই কোনো একটি উপজেলাকে বোঝা যায় না।
নিচের তথ্যগুলো জেলা পোর্টালের উপজেলা তালিকা থেকে নেওয়া।
দুটোই। রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সদর উপজেলার নামও রাঙামাটি সদর, আর জেলা শহরটির নামও রাঙামাটি। তাই “রাঙামাটি” বললে প্রসঙ্গ ধরে বুঝতে হয় জেলা, উপজেলা না শহরের কথা হচ্ছে।
গ্রাম ও মৌজার সংখ্যায় পোর্টাল ও BBS মেলে না। পোর্টাল বলছে জেলায় গ্রাম 1,347টি ও মৌজা 159টি; BBS-এর 2022 সালের হিসাবে গ্রাম 2,057টি ও মৌজা 173টি। BBS-এর টীকা অনুযায়ী 2022 সালে জনবসতিহীন মৌজাও গণনায় ধরা হয়েছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022 অনুযায়ী রাঙামাটি জেলার জনসংখ্যা 6,47,586 জন। এর মধ্যে পুরুষ 3,33,204, নারী 3,14,356 এবং হিজড়া 26 জন। খানার সংখ্যা 1,53,430, সাধারণ খানার গড় আকার 4.15 জন। জনসংখ্যার বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার 0.74 শতাংশ, যা 2011 সালে ছিল 1.58 শতাংশ।
| শুমারির বছর | জনসংখ্যা | বার্ষিক বৃদ্ধির হার | ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) | সাক্ষরতা (7 বছর+) |
|---|---|---|---|---|
| 1991 | 4,01,388 | 2.89% | 66 | 36.48% |
| 2001 | 5,08,182 | 2.39% | 83 | 43.60% |
| 2011 | 5,95,979 | 1.58% | 97 | 49.73% |
| 2022 | 6,47,586 | 0.74% | 105.88 | 71.41% |
ছকের সব সংখ্যা BBS-এর জেলা রিপোর্টের “Key Findings” অংশ থেকে। তিন দশকে জনসংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু বাড়ার গতি প্রতি শুমারিতে কমেছে। দুটি উপজেলায় 2011 থেকে 2022-এর মধ্যে জনসংখ্যা কমেছে: কাপ্তাইয়ে 59,693 থেকে 55,410, জুরাছড়িতে 27,786 থেকে 26,932।
জেলা পোর্টাল 2011 সালের জন্য জনসংখ্যা দেখায় 6,20,214 জন; BBS-এর গণনাকৃত সংখ্যা 5,95,979।
শহর-গ্রামের হিসাবে 2022 সালে 3,07,984 জন (47.56%) শহরে আর 3,39,602 জন গ্রামে থাকেন। 2011 সালে শহুরে অংশ ছিল 26.78%। তবে এই দুই সংখ্যার সরাসরি তুলনা চলে না: BBS-এর টীকা অনুযায়ী 2022 সালে উপজেলা সদর ও গ্রোথ সেন্টারকেও শহর ধরা হয়েছে, 2011 সালে ধরা হয়েছিল কেবল সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাকে।
জেলার মানুষ তরুণ। BBS-এর সারাংশ অনুযায়ী 15 বছরের কম বয়সী 28.05 শতাংশ, 30 বছরের কম বয়সী 56.14 শতাংশ। প্রতি 100 নারীর বিপরীতে পুরুষ 106 জন; 1991 সালে এই অনুপাত ছিল 121.5।
BBS-এর Table P17 অনুযায়ী রাঙামাটি জেলায় আদিবাসী জনসংখ্যা 3,72,875 জন (পুরুষ 1,87,977, নারী 1,84,898), যা জেলার মোট জনসংখ্যার 57.58 শতাংশ। সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী চাকমা, 2,76,048 জন। এরপর মারমা 51,403, তঞ্চঙ্গ্যা 27,975 এবং ত্রিপুরা 12,300 জন।
| জনগোষ্ঠী | জনসংখ্যা (2022) | যে উপজেলায় সবচেয়ে বেশি |
|---|---|---|
| চাকমা | 2,76,048 | বাঘাইছড়ি (70,350) |
| মারমা | 51,403 | কাউখালী (18,477) |
| তঞ্চঙ্গ্যা | 27,975 | বিলাইছড়ি (11,452) |
| ত্রিপুরা | 12,300 | বাঘাইছড়ি (5,457) |
| খিয়াং | 1,670 | রাজস্থলী (1,420) |
| পাংখোয়া | 1,398 | বিলাইছড়ি (498) |
| রাখাইন | 568 | রাঙামাটি সদর (216) |
| বম | 441 | বিলাইছড়ি (356) |
| ম্রো | 258 | বিলাইছড়ি (139) |
| লুসাই | 147 | বাঘাইছড়ি (111) |
| খুমি | 44 | বিলাইছড়ি (25) |
| গুর্খা | 43 | — |
| চাক | 41 | — |
| সাঁওতাল | 35 | — |
| অন্যান্য (Others) | 405 | — |
BBS-এর সারণিতে বানানগুলো ইংরেজিতে: তঞ্চঙ্গ্যা সেখানে “Tonchonga”, পাংখোয়া “Pankhoa/Pankho”, রাখাইন “Rakhain”। ছকের বাইরে আরও কয়েকটি শ্রেণি আছে, যাদের প্রতিটির সংখ্যা 25 বা তার কম; যেমন খাসিয়া 25, গারো 20, বর্মন 11, মণিপুরী 5।
P17 সারণি উপজেলা ধরে ভাঙলে দেখা যায়, দশ উপজেলার ছয়টিতে আদিবাসীদের মধ্যে চাকমারাই বড় সংখ্যাগরিষ্ঠ: বরকল (35,315 জনের 34,462), জুরাছড়ি (25,681 জনের 24,548), নানিয়ারচর (39,659 জনের 38,766), লংগদু (21,248 জনের 20,888), বাঘাইছড়ি (76,289 জনের 70,350) ও রাঙামাটি সদর (69,883 জনের 60,449)।
বাকি চার উপজেলার ছবি আলাদা। কাপ্তাইয়ে মারমা 15,844 ও তঞ্চঙ্গ্যা 6,881, চাকমা মাত্র 1,246। রাজস্থলীতে মারমা 10,213, তঞ্চঙ্গ্যা 4,542, ত্রিপুরা 2,273 ও খিয়াং 1,420। কাউখালীতে মারমা (18,477) ও চাকমা (17,188) প্রায় সমান। বিলাইছড়িতে তঞ্চঙ্গ্যারাই সবচেয়ে বেশি (11,452), এরপর চাকমা 7,882, মারমা 2,650, ত্রিপুরা 1,796, পাংখোয়া 498 ও বম 356।
অর্থাৎ জেলার দক্ষিণ ভাগ, কাপ্তাই-রাজস্থলী-বিলাইছড়ি, জনগোষ্ঠীর দিক থেকে সবচেয়ে মিশ্র। জেলার খিয়াংদের প্রায় সবাই রাজস্থলী ও কাপ্তাইয়ে, আর বম, ম্রো ও খুমিদের বেশির ভাগ বিলাইছড়িতে।
রাঙামাটিতে কয়টি জনগোষ্ঠীর বাস, তার উত্তর উৎসভেদে বদলায়। পোর্টালের “এক নজরে” পাতা বলছে বাঙালিসহ 14টি; “ভাষা ও সংস্কৃতি” পাতা বলছে দশ ভাষাভাষী এগারটি জাতিসত্তা (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, চাক, খিয়াং, খুমী, পাংখোয়া, বোম ও লুসাই); BBS-এর P17 সারণিতে জেলার জন্য ত্রিশটির বেশি শ্রেণি আছে। “এক নজরে” পাতার তালিকায় “সুজেসাওতাল” বলে একটি নাম আছে; শব্দটি কোন জনগোষ্ঠীকে বোঝায়, তা স্পষ্ট নয়।
প্রতিটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সমাজ ও ভাষার বিবরণ এই লেখার পরিসরের বাইরে। সেগুলো আলাদা লেখায় আছে: চাকমা জাতি, মারমা জাতির আদ্যোপান্ত, তঞ্চঙ্গ্যা জাতির আদ্যোপান্ত এবং খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখোয়া ও লুসাই: ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী।
জনশুমারি 2022 অনুযায়ী রাঙামাটি জেলায় বৌদ্ধ 3,70,793 জন (57.26%), মুসলিম 2,34,834 জন (36.26%), হিন্দু 33,112 জন (5.11%), খ্রিষ্টান 8,547 জন (1.32%) এবং অন্যান্য 300 জন। জেলা হিসেবে বৌদ্ধরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, তবে উপজেলাভেদে অনুপাত অনেক বদলায়।
| উপজেলা | বৌদ্ধ | মুসলিম | হিন্দু | খ্রিষ্টান |
|---|---|---|---|---|
| রাঙামাটি সদর | 48.50% | 40.69% | 10.29% | 0.45% |
| বাঘাইছড়ি | 67.99% | 24.74% | 6.67% | 0.57% |
| লংগদু | 23.74% | 74.62% | 1.23% | 0.40% |
| কাউখালী | 56.76% | 40.05% | 3.09% | 0.08% |
| কাপ্তাই | 45.35% | 47.37% | 6.23% | 1.02% |
| বরকল | 75.81% | 22.74% | 0.87% | 0.55% |
| নানিয়ারচর | 83.18% | 14.84% | 1.87% | 0.08% |
| বিলাইছড়ি | 78.21% | 10.62% | 1.24% | 9.60% |
| রাজস্থলী | 58.48% | 21.92% | 8.77% | 10.83% |
| জুরাছড়ি | 95.60% | 3.26% | 0.63% | 0.52% |
সূত্র: BBS, Table 3.1.13। জুরাছড়িতে প্রায় সবাই বৌদ্ধ; লংগদুতে তিন-চতুর্থাংশ মুসলিম; কাপ্তাইয়ে দুই ধর্মের মানুষ প্রায় সমান। খ্রিষ্টানদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো কেবল রাজস্থলী (3,017 জন) ও বিলাইছড়িতে (2,837 জন)। 1991 থেকে 2022 পর্যন্ত জেলায় বৌদ্ধ জনসংখ্যা 2,16,067 থেকে বেড়ে 3,70,793 আর মুসলিম জনসংখ্যা 1,57,650 থেকে বেড়ে 2,34,834 হয়েছে।
ভাষা নিয়ে পোর্টালের “ভাষা ও সংস্কৃতি” পাতার বক্তব্য: চাকমাদের নিজস্ব বর্ণমালা আছে, মারমারা বর্মী বর্ণমালায় লেখেন। চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা ভাষা সমগোত্রের এবং দুটিই হিন্দ-আর্য শাখার। মারমা ও ম্রো ভাষাকে পাতাটি তিব্বতি-বর্মী দলে রেখেছে; খিয়াং, লুসাই, পাংখোয়া, বম ও খুমী ভাষাকে কুকি-চিন দলে। ত্রিপুরাদের ভাষার নাম সেখানে “ককবরক”। এই শ্রেণিবিভাগ সরকারি পোর্টালের; ভাষাবিদদের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে।
রাঙামাটিতে সাধারণ জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি প্রথাগত প্রশাসন ও পার্বত্য জেলা পরিষদ একসঙ্গে কাজ করে। জেলা পোর্টাল নিজেই একে “এক জটিল ও বিশেষ ধরণের প্রশাসনিক কাঠামো” বলেছে। প্রথাগত দিকে জেলাটি দুই সার্কেলে পড়ে: চাকমা সার্কেল এবং বোমাং সার্কেলের কিছু অংশ।
পোর্টালের “এক নজরে” পাতার হিসাবে জেলায় মৌজা 159টি, তার 14টি বোমাং সার্কেলের। হেডম্যান 155 জন; এর বাইরে চাকমা চিফ নিজে 4টি মৌজার হেডম্যান। কার্বারি 997 জন। “জেলার ঐতিহ্য” পাতা বলছে, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার 177টি মৌজা নিয়ে চাকমা সার্কেল গঠিত।
সার্কেল ব্যবস্থার শুরু 1900 সালের রেগুলেশনে। পোর্টালের পটভূমি পাতা অনুযায়ী তখন জেলাকে চাকমা, মং ও বোমাং সার্কেলে ভাগ করে সার্কেল চিফদের রাজস্ব আদায় ও নিজ এলাকার অভ্যন্তরীণ বিষয় দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেলার মধ্য ও উত্তর ভাগ পড়ে চাকমা সার্কেলে। একই পাতার তথ্যে, 1978 সাল থেকে চাকমা রাজার দায়িত্বে আছেন দেবাশীষ রায়।
রাজপুণ্যাহ এই ব্যবস্থার সবচেয়ে দৃশ্যমান অনুষ্ঠান। পোর্টালের বর্ণনায়, এই অনুষ্ঠানে চাকমা রাজা রাজদরবারে আনুষ্ঠানিকভাবে বসেন এবং হেডম্যানদের কাছ থেকে খাজনা নেন; হেডম্যান ও কার্বারিরা খাজনার সঙ্গে উপঢৌকনও দেন। আগে অনুষ্ঠানটি প্রতি বছর হতো।
আধুনিক কাঠামোর দিকে, 1989 সালে তিন পার্বত্য জেলায় স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠিত হয়; 1997 সালের চুক্তির পর তার নাম হয় পার্বত্য জেলা পরিষদ। তিন জেলা নিয়ে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদর দপ্তরও রাঙামাটি শহরে। জাতীয় সংসদে জেলাটির আসন “299 নং রাঙ্গামাটি”, পোর্টালের জনপ্রতিনিধি পাতা অনুযায়ী।
হেডম্যান-কার্বারির কাজ, সার্কেল চিফের ক্ষমতার সীমা আর জেলা পরিষদের আসন-বণ্টন আলাদা লেখার বিষয়: চাকমা সার্কেল, হেডম্যান ও কার্বারি, সার্কেল চিফ: তিনটি সার্কেল, আর রাজার ক্ষমতা আসলে কতটুকু এবং পার্বত্য জেলা পরিষদে আসন ভাগ হয় কীভাবে।
রাঙামাটির প্রধান নদী কর্ণফুলী; বাংলাপিডিয়া এর সঙ্গে কাসালং, চেঙ্গী ও মাইনীর নাম দেয়। জেলার মাঝখানে কাপ্তাই হ্রদ, যা দশ উপজেলার আটটিকে ছুঁয়েছে। সর্বোচ্চ গিরিশৃঙ্গ থাং নাং, বরকল উপজেলায়, উচ্চতা 2,409 ফুট বা 734.26 মিটার (জেলা পোর্টাল)।
পোর্টালের “নদ ও নদী” পাতা অনুযায়ী, কর্ণফুলী ভারতের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন। জেলার উত্তর-পূর্ব সীমান্তে বরকল উপজেলার থেগামুখে ভারতের লুসাই নদী আর বাংলাদেশ অংশের থেগা খাল মিলে “কর্ণফুলী” নাম নেয়। এরপর বরকল, সুবলং ও কাপ্তাইয়ের কাছে তিনটি পর্বতশ্রেণি কেটে চন্দ্রঘোনার কাছে জেলা থেকে বেরিয়ে যায়।
পোর্টালের তালিকায় কর্ণফুলীর উপনদী সাতটি: থেগা, হরিণা, কাসালং, সুবলং, চিংগ্রী, রেনখিয়াং ও কাপ্তাই। কাসালংয়ের আবার তিনটি উপনদী: মাইনি, গংগারাম ও শিজক। বাংলাপিডিয়া ডান তীরের উপনদী হিসেবে কাসালং, চেঙ্গী, হালদা ও ধুরুং এবং বাম তীরে সুবলং, কাপ্তাই, রিংকিয়ং ও থেগার নাম দেয়। নদীর দৈর্ঘ্য পোর্টালের হিসাবে প্রায় 170 মাইল; বাংলাপিডিয়া বলছে নদীটি 180 কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পেরিয়ে রাঙামাটির বাঁকে পৌঁছায়।
পোর্টাল আরও জানায়, কর্ণফুলীতে বরকল ও উঠানতারায় দুটি জলপ্রপাত ছিল, আর কাপ্তাই হ্রদ হওয়ার আগে বরকলের জলপ্রপাতটি বেশ প্রসিদ্ধ ছিল। বরকল নামের জনশ্রুতিতে যে বড় ঝরনার কথা আছে, তার সঙ্গে এই তথ্য মিলে যায়।
বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় কাপ্তাই হ্রদ পুরোটাই রাঙামাটি জেলার ভেতরে এবং আট উপজেলা জুড়ে: রাঙামাটি সদর, কাপ্তাই, নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি। BBS বলছে হ্রদটি এই আট উপজেলার সঙ্গে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি ও দীঘিনালাকেও যুক্ত করেছে। হ্রদটি ইংরেজি “H” অক্ষরের আকৃতির; দুই বাহু সুবলংয়ের কাছে একটি সরু গিরিখাত দিয়ে যুক্ত।
হ্রদের আয়তন নিয়ে চার উৎসে চার সংখ্যা:
| উৎস | আয়তন |
|---|---|
| BBS, জেলা রিপোর্ট 2022 | 687.707 বর্গ কিমি |
| জেলা পোর্টাল, “এক নজরে” | 725 বর্গ কিমি |
| বাংলাপিডিয়া | 58,300 হেক্টর (583 বর্গ কিমি) |
| জেলা পোর্টাল, “নদ ও নদী” | স্বাভাবিক অবস্থায় 256 বর্গমাইল, বর্ষায় 400 বর্গমাইল পর্যন্ত |
শেষ সারিটি অমিলের একটি সম্ভাব্য কারণ দেখায়: হ্রদের আয়তন মৌসুমভেদে বদলায়। পোর্টালের হিসাবে হ্রদটি কাপ্তাই থেকে উত্তরে মারিশ্যা ও মাইচছড়ি পর্যন্ত প্রায় 90 মাইল লম্বা; মগবান ও বড়কাট্টলি এলাকায় প্রস্থ আনুমানিক 10 মাইল। বাংলাপিডিয়া গড় গভীরতা দেয় 9 মিটার, সর্বোচ্চ 32 মিটার।
জেলায় একটি প্রাকৃতিক হ্রদও আছে, রেংখিয়ং হ্রদ। পোর্টালের বর্ণনায় এটি রেংখিয়ং নদীর উৎসস্থলে, দৈর্ঘ্য এক মাইল।
জেলার সর্বোচ্চ গিরিশৃঙ্গ থাং নাংয়ের উচ্চতা পোর্টালে 734.26 মিটার। একই পোর্টালের উপজেলা তালিকায় আবার রাজস্থলীর সর্বোচ্চ পাহাড় “জান্দিমইন”-এর উচ্চতা লেখা প্রায় 800 মিটার, যা জেলার ঘোষিত সর্বোচ্চ শৃঙ্গের চেয়ে বেশি।
পানি আর পাহাড় মিলে যোগাযোগকে কঠিন করেছে। BBS-এর রিপোর্ট অনুযায়ী বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি এই তিন উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের কোনো সড়ক যোগাযোগ নেই; নৌপথই একমাত্র উপায়। BBS আরও লিখেছে, জেলার বেশির ভাগ এলাকা সংরক্ষিত বনে ঢাকা।
কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দেওয়ায় রাঙামাটির মানচিত্রই বদলে যায়: মধ্য-কর্ণফুলী উপত্যকার প্রায় পুরোটা আর চেঙ্গী, কাসালং ও রিংকিয়ং নদীর নিম্ন অববাহিকা পানির নিচে চলে যায়। জেলা পোর্টালের পটভূমি পাতা লিখেছে, বাঁধের কারণে 1,00,000 অধিবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং পাহাড়ি অধিবাসীদের অসন্তোষের কারণগুলোর মধ্যে এটি ছিল অন্যতম।
বাঁধের সাল নিয়ে উৎসে সামান্য ভিন্নতা আছে। পোর্টালের “নদ ও নদী” পাতা বলছে, বাঁধের কাজ শুরু 1954 সালে, শেষ 1960 সালে; উপজেলা তালিকা ও BBS-এর রিপোর্ট বলছে বাঁধটি 1962 সালে নির্মিত। বাঁধের দৈর্ঘ্য মূল স্থানে 2,200 ফুট, প্রস্থ গোড়ায় 800 ফুট ও চূড়ায় 25 ফুট (পোর্টাল)।
কোথায় কী ডুবেছিল, তার কিছু চিহ্ন উপজেলার পরিচিতিতে আছে। লংগদুর পরিচিতি বলছে, 1960 সালে প্রকল্প চালু হওয়ার পর লংগদুর বিশাল অঞ্চল জলমগ্ন হয়ে হ্রদে পরিণত হয়। বাঘাইছড়ির পরিচিতি বলছে, উদ্বাস্তু মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য কাচালং ও মাচালংয়ের কিছু এলাকাকে বনমুক্ত ঘোষণা করা হয়। বাংলাপিডিয়া জানায়, কর্ণফুলীর রাঙামাটি ও ধুলিয়াছড়ি বাঁক এখন জলাধারের নিচে।
আমাদের আর্কাইভের লেখা কাপ্তাই বাঁধ ও বড়পরং-এ ক্ষতির হিসাব আরও নির্দিষ্ট: 369টি মৌজার 125টি পানির নিচে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হন 1 লাখ মানুষ, 18 হাজার পরিবার। উচ্ছেদ হওয়া মানুষের নিজের মুখের কথা আছে কাপ্তাই বাঁধ- সকল দুঃখের কারণ এবং “কাপ্তাই বাঁধ আমার ছোট বোনকে কেড়ে নিয়ে গেছে” লেখা দুটিতে। সেই কাহিনি এখানে আবার বলা হলো না।
হ্রদটির নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও তথ্য আছে। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে পলি জমে 1990-এর দশকের শুরুতেই, অর্থাৎ 30 বছরে, হ্রদ তার আয়তনের প্রায় 25 শতাংশ হারিয়েছে; হ্রদের আনুমানিক আয়ু ধরা হয় 90 বছর। হ্রদপাড়ের মানুষের 85 শতাংশ পান, রান্না, ধোয়া ও গোসলের জন্য এই পানির ওপর নির্ভরশীল, আর দূষণের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে।
ডুবে যাওয়া পুরনো শহরটি নিয়ে একটি পুরো বই আমাদের ই-বুক লাইব্রেরিতে আছে: আজাদ বুলবুলের “কাপ্তাই বাঁধে ডুবে যাওয়া রাঙ্গামাটি”।
রাঙামাটি পরিচিত মূলত চারটি কারণে: এটি আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় জেলা; পুরো কাপ্তাই হ্রদ এখানে; দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এখানে; আর এটি চাকমা সার্কেলের কেন্দ্র, যেখানে চাকমা রাজবাড়ি অবস্থিত। জেলা পোর্টাল রাঙামাটি শহরকে “দেশের এক মাত্র রিক্সা বিহীন শহর” এবং হ্রদ পরিবেষ্টিত পর্যটন শহর বলেছে।
দর্শনীয় স্থানের তালিকা BBS ও বাংলাপিডিয়া দুই জায়গাতেই আছে। দুই তালিকা মিলিয়ে:
সাজেক কোন জেলায়, এ প্রশ্ন প্রায়ই ওঠে। জেলা পোর্টালের উপজেলা তালিকা অনুযায়ী সাজেক উপত্যকা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায়, মিজোরাম সীমান্তে। সাজেকে আলাদা একটি থানাও আছে।
বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র কাউখালী উপজেলায়। BBS-এর রিপোর্ট অনুযায়ী কেন্দ্রটির উদ্বোধন হয় 14 জুন 1975 তারিখে; 31 জুলাই 2018 তারিখে একই চত্বরে আরেকটি স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন উদ্বোধন করা হয়।
সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে আছে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান (1999, 13,498 একর) ও পাবলাখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য (1986, 162.43 বর্গমাইল); তথ্য দুটি আমাদের আর্কাইভের পার্বত্য চট্টগ্রামের চাষযোগ্য জমি নিয়ে লেখা থেকে। BBS-এর বর্ণনায় জেলার বনে বন্য হাতি, বানর, হরিণ, শূকর, ভালুক ও বনমোরগ আছে, আর হ্রদে প্রায় 80 প্রজাতির মাছ।
প্রত্নসম্পদ হিসেবে বাংলাপিডিয়া তিনটি নাম দেয়: রাজা জান বখশ খানের প্রাসাদ, দিঘি ও মসজিদ; রাজা হরিশ চন্দ্র রায়ের বাসভবনের ধ্বংসাবশেষ (1873); এবং ডেপুটি কমিশনারের বাসভবন (1868)। শেষ সালটি সদর দপ্তর রাঙামাটিতে আসার বছরের সঙ্গে মেলে।
রাঙামাটির অর্থনীতি এখনো মূলত কৃষিনির্ভর। জনশুমারি 2022 অনুযায়ী কর্মে নিয়োজিত মানুষের 56.63 শতাংশ কৃষিখাতে, 39.67 শতাংশ সেবাখাতে এবং 3.70 শতাংশ শিল্পখাতে কাজ করেন। 2011 সালে কৃষিখাতের অংশ ছিল 64.07 শতাংশ, সেবাখাতের 29.52 শতাংশ।
5 বছর ও তার বেশি বয়সী জনসংখ্যার 36.90 শতাংশ কাজে নিয়োজিত, 27.05 শতাংশ গৃহস্থালি কাজে, 2.07 শতাংশ কাজ খুঁজছেন। নারী-পুরুষের ফারাক বড়: পুরুষদের 59.79 শতাংশ কাজে নিয়োজিত, নারীদের 12.60 শতাংশ। উপজেলার মধ্যে এই হার সবচেয়ে বেশি বিলাইছড়িতে (46.32%), সবচেয়ে কম লংগদুতে (33.59%)। বিলাইছড়িতে নারীদের কাজে নিয়োজিত থাকার হারও সবচেয়ে বেশি, 24.10 শতাংশ।
15 থেকে 24 বছর বয়সী তরুণদের 39,520 জন শিক্ষা, কাজ বা প্রশিক্ষণ কোনোটিতেই নেই; এটি ওই বয়সী জনসংখ্যার 31.11 শতাংশ।
বাংলাপিডিয়া আয়ের প্রধান উৎসের একটি পুরনো হিসাব দেয়: কৃষি 59.08%, চাকরি 13.48%, ব্যবসা 10.70%, অকৃষি শ্রম 6.06%। হিসাবটি কোন বছরের, সেখানে উল্লেখ নেই।
পোর্টালের “ব্যবসা বাণিজ্য” পাতা অনুযায়ী, অতীতে এ অঞ্চলের অর্থনীতি ছিল জুমনির্ভর। জুমে ধান, তুলা, তিল, ভুট্টা, আদা, হলুদ, মরিচ, চালকুমড়া ইত্যাদি ফলত, আর তার সিংহভাগ চাষিরা নিজেরাই ভোগ করতেন। এখনকার প্রধান অর্থকরী ফসল আদা, হলুদ, কচু, কাঁঠাল, আনারস, আম, কলা, মরিচ, পেঁপে, সরিষা ও কাজুবাদাম। পাতাটি একটি সমস্যাও চিহ্নিত করেছে: জেলায় কোনো হিমাগার নেই, তাই মৌসুমি ফল সংরক্ষণ করা যায় না এবং কৃষক ন্যায্য দাম পান না।
কাপ্তাই হ্রদ নিজেই একটি বড় জীবিকা। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে হ্রদের বার্ষিক গড় মাছ উৎপাদন 7,000 টনের বেশি, আর হ্রদের পানি নামলে জেগে ওঠা প্রায় 6,075 হেক্টর জমিতে ইজারার ভিত্তিতে চাষ হয়। তবে মাছের ধরন বদলে গেছে: 1966 সালে মোট উৎপাদনে বড় মাছের অংশ ছিল 78 শতাংশ, 1993 সালে তা নেমে আসে 2 শতাংশে। এখন ধরা মাছের অর্ধেকের বেশি চাপিলা ও কেচকি।
পোর্টালের “রাঙ্গামাটির শিল্প” পাতা বলছে, বন ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্ভাবনা থাকলেও জেলায় ভারী শিল্প গড়ে ওঠেনি। যা আছে:
জনশুমারি 2022 রাঙামাটির ঘরগৃহস্থালির যে ছবি দেয়, তাতে পাহাড়ি জেলার বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট: প্রতি চারটি ঘরের প্রায় তিনটি কাঁচা (72.70%), 42.84 শতাংশ খানার বিদ্যুতের প্রধান উৎস সৌর প্যানেল, আর প্রতি সাতটি খানার একটি পানীয় জল নেয় ঝরনা থেকে (14.19%)।
| সূচক (2022) | হার |
|---|---|
| কাঁচা ঘর | 72.70% |
| আধাপাকা ঘর | 11.43% |
| পাকা ঘর | 7.23% |
| নিজের ঘরে বাস | 84.88% |
| বিদ্যুৎ: জাতীয় গ্রিড | 47.54% |
| বিদ্যুৎ: সৌর | 42.84% |
| বিদ্যুৎ সুবিধা নেই | 7.73% |
| পানীয় জল: নলকূপ | 56.88% |
| পানীয় জল: কুয়া | 22.09% |
| পানীয় জল: ঝরনা | 14.19% |
| রান্নার জ্বালানি: কাঠ | 79.39% |
| নিজের ব্যবহারের মোবাইল ফোন আছে (5 বছর+) | 57.91% |
| ইন্টারনেট ব্যবহারকারী (5 বছর+) | 26.97% |
বিদ্যুতের পরিবর্তনটি বড়। 2011 সালে জেলার 58.17 শতাংশ খানায় বিদ্যুৎ ছিল না; 2022 সালে সেই সংখ্যা 7.73 শতাংশ। ঘরের ছাউনিতে 82.67 শতাংশ খানা টিন ব্যবহার করে; দেয়ালে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার কাঠ-বাঁশের (51.52%)।
শিক্ষায় অগ্রগতিও দ্রুত। 7 বছর ও তার বেশি বয়সীদের সাক্ষরতার হার 2011 সালের 49.73 শতাংশ থেকে 2022 সালে 71.41 শতাংশ হয়েছে; পুরুষ 77.79 শতাংশ, নারী 64.64 শতাংশ। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রাঙামাটি সদর (80.51%), সবচেয়ে পিছিয়ে বিলাইছড়ি (55.88%) ও জুরাছড়ি (61.17%)। বিলাইছড়িতে নারীদের সাক্ষরতা 43.69 শতাংশ, যা জেলার সর্বনিম্ন। যে তিন উপজেলায় সড়ক পৌঁছায়নি, তার দুটিই সাক্ষরতায় সবার নিচে।
রাঙামাটির প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক। জেলা পোর্টালের “জেলার ঐতিহ্য” পাতা অনুযায়ী এটি চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের উৎসব, পালিত হয় চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন ও বৈশাখের প্রথম দিন মিলিয়ে তিন দিন ধরে। তিন দিনের নাম প্রতিটি সমাজে আলাদা।
| সমাজ | প্রথম দিন | দ্বিতীয় দিন | তৃতীয় দিন |
|---|---|---|---|
| চাকমা | ফুলবিজু | মূল বিজু | গজ্জ্যেপজ্জ্যে |
| মারমা | পাইং ছোয়াই | সাংগ্রাই আফ | সাংগ্রাই আপ্যাইং |
| ত্রিপুরা | হারিবৈসুক | বৈসুকমা | বিসিকাতাল |
নামগুলো সরকারি পোর্টালের বানানে দেওয়া হলো; প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজের উচ্চারণে বানান ভিন্ন হতে পারে। পোর্টাল আরও তিনটি অনুষ্ঠানের কথা বলে। মারমাদের “রিলং পোয়েহ্” বা পানি উৎসব হয় সাংগ্রাইয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে; রাঙামাটিতে এটি “মৈত্রী পানি উৎসব” নামে পরিচিত। ত্রিপুরা সমাজের পুরুষেরা করেন “গরাইয়া নৃত্য”। চাকমা সমাজের সমষ্টিগত পূজার মধ্যে আছে “থানমানা”; পোর্টালের ব্যাখ্যায় “থান” মানে স্থান বা ভূমি, “মানা” মানে পূজা করা, আর পূজাটি হয় গ্রামের মঙ্গলের জন্য।
BBS-এর রিপোর্ট চাকমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হিসেবে কঠিন চীবর দানের নাম দেয়। তিন দিনের উৎসবের আচার কোন সমাজে কী ক্রমে হয়, সেই বিবরণ আছে আমাদের বৈসাবি: বিজু, সাংগ্রাই ও বৈসুর আলাদা আচার-ক্রম লেখায়।
স্থানীয় সংবাদপত্রের মধ্যে বাংলাপিডিয়া দৈনিক গিরিদর্পণ, রাঙামাটি ও পার্বত্য বার্তা এবং সাপ্তাহিক বনভূমির নাম দেয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় রাঙামাটি ছিল 1 নম্বর সেক্টরের অধীনে, আর জেলাটি মুক্ত হয় 14 ডিসেম্বর 1971 তারিখে (বাংলাপিডিয়া)। 27 মার্চ রাঙামাটি স্টেশন ক্লাবের মাঠে মুক্তিযুদ্ধের অস্থায়ী প্রশিক্ষণ শিবির খোলা হয়; তথ্যটি বাংলাপিডিয়া, BBS ও জেলা পোর্টাল তিন জায়গাতেই আছে।
পোর্টালের “মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা” পাতা অনুযায়ী, 1971 সালের মার্চে রাঙামাটি সদরে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় রাঙামাটি সরকারি কলেজের তৎকালীন ছাত্রনেতা গৌতম দেওয়ান ও সুনীল কান্তি দে-র নেতৃত্বে। তখনকার জেলা প্রশাসক ছিলেন হোসেন তৌফিক ইমাম। বাংলাপিডিয়া লিখেছে, 2 এপ্রিল তিনি ট্রেজারি থেকে অর্থ ও অস্ত্র-গোলাবারুদ মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দেন।
20 এপ্রিল 1971 তারিখে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ একাই পাকিস্তানি বাহিনীর 2টি গানবোট ও একটি স্পিডবোট ধ্বংস করেন; এই ভূমিকার জন্য তিনি বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি পান (বাংলাপিডিয়া)। তাঁর সমাধি নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে, চেঙ্গী নদীর পারে। বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, 1971 সালে বরকল ও ফারুয়ায় পাকিস্তানি বাহিনীর ঘাঁটি ছিল, আর ফারুয়া এলাকার সংঘর্ষে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।
রাঙামাটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে, চট্টগ্রাম বিভাগের একটি পার্বত্য জেলা। এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে বান্দরবান, পূর্বে ভারতের মিজোরাম ও মিয়ানমারের চিন প্রদেশ, পশ্চিমে খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলা। অবস্থান 22°27′ থেকে 23°44′ উত্তর অক্ষাংশ এবং 91°56′ থেকে 92°33′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে। জেলা সদরের নামও রাঙামাটি।
রাঙামাটি চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সঙ্গে মিলে এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল গঠন করে। তিন জেলা নিয়ে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদর দপ্তর রাঙামাটি শহরে। সরকারি নাম রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা; এই নামকরণ ও সীমানা নির্ধারণ হয় 25 ফেব্রুয়ারি 1985 তারিখে।
রাঙামাটি জেলার আয়তন 6,116.11 বর্গ কিলোমিটার (BBS জনশুমারি 2022 ও বাংলাপিডিয়া); জেলা পোর্টালে সংখ্যাটি 6,116.13। আয়তনে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা। জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ি, 1,931.28 বর্গ কিলোমিটার, আর সবচেয়ে ছোট রাজস্থলী, 145.04 বর্গ কিলোমিটার। জেলার জনঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে 105.88 জন।
দুটি উত্তর আছে। জেলা পোর্টাল জেলা সৃষ্টির তারিখ দেয় 20 জুন 1860, কারণ সে বছর গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার মূল অংশই আজকের রাঙামাটি। BBS ও বাংলাপিডিয়া বলে 1983, যে বছর রাঙামাটি মহকুমা জেলায় উন্নীত হয়। জেলার সদর দপ্তর চন্দ্রঘোনা থেকে রাঙামাটিতে আসে 1868 সালের নভেম্বরে।
জনশুমারি 2022 অনুযায়ী রাঙামাটি জেলার জনসংখ্যা 6,47,586 জন; পুরুষ 3,33,204, নারী 3,14,356 ও হিজড়া 26 জন। খানা 1,53,430টি। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে গড়ে 105.88 জনের বাস। 2011 সালের শুমারিতে জনসংখ্যা ছিল 5,95,979; বার্ষিক বৃদ্ধির হার এখন 0.74 শতাংশ। জেলার 47.56 শতাংশ মানুষ শহর এলাকায় থাকেন।
রাঙামাটি জেলায় 10টি উপজেলা: রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি, লংগদু, কাউখালী, কাপ্তাই, বরকল, নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি, রাজস্থলী ও জুরাছড়ি। এ ছাড়া পৌরসভা 2টি (রাঙামাটি ও বাঘাইছড়ি), ইউনিয়ন 50টি এবং থানা 12টি। জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড় রাঙামাটি সদর (1,46,601), সবচেয়ে ছোট জুরাছড়ি (26,932)। কাপ্তাই ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় দুটি করে থানা আছে।
BBS-এর জনশুমারি 2022 অনুযায়ী জেলায় আদিবাসী জনসংখ্যা 3,72,875 জন, মোট জনসংখ্যার 57.58 শতাংশ। এর মধ্যে চাকমা 2,76,048, মারমা 51,403, তঞ্চঙ্গ্যা 27,975, ত্রিপুরা 12,300, খিয়াং 1,670, পাংখোয়া 1,398, রাখাইন 568, বম 441, ম্রো 258 ও লুসাই 147 জন। জেলা পোর্টালের হিসাবে বাঙালিসহ 14টি জনগোষ্ঠী এখানে বাস করে।
নামের উৎস নিয়ে প্রামাণিক দলিল নেই; জেলা পোর্টাল নিজেই বলেছে নামকরণের সুস্পষ্ট প্রামাণিক তথ্য নেই। প্রচলিত জনশ্রুতি হলো, এখানকার ছড়া বা ঝরনার মাটির রং ঈষৎ লাল হওয়ায় এলাকার নাম কালক্রমে রাঙ্গামাটি, অর্থাৎ রঙিন মাটি। আদিবাসী ভাষায় জায়গাটির আদি নাম কী ছিল, তা জানা যায়নি।
রাঙামাটি আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা এবং কাপ্তাই হ্রদের জেলা। দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র (230 মেগাওয়াট) ও কর্ণফুলী পেপার মিলস কাপ্তাই উপজেলায়। চাকমা রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, ঝুলন্ত সেতু, শুভলং ঝরনা, সাজেক ভ্যালি ও বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র এই জেলায়। জেলা পোর্টাল রাঙামাটিকে দেশের একমাত্র রিকশাবিহীন শহর বলেছে।
কাপ্তাই হ্রদ রাঙামাটি জেলায়, জেলার দশ উপজেলার আটটি জুড়ে; BBS-এর মতে হ্রদটি খাগড়াছড়ির মহালছড়ি ও দীঘিনালাকেও যুক্ত করেছে। আয়তন উৎসভেদে আলাদা: BBS বলছে 687.707 বর্গ কিলোমিটার, জেলা পোর্টাল 725 বর্গ কিলোমিটার, বাংলাপিডিয়া 58,300 হেক্টর। কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দেওয়ায় এই কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি।
সাজেক ভ্যালি রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায়, ভারতের মিজোরাম সীমান্তে। তথ্যটি জেলা প্রশাসনের সরকারি পোর্টালের উপজেলা তালিকায় আছে। বাঘাইছড়ি উপজেলায় দুটি থানা আছে, বাঘাইছড়ি ও সাজেক। বাঘাইছড়ি আয়তনে রাঙামাটির সবচেয়ে বড় এবং BBS-এর মতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা। এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, পূর্বে মিজোরাম।
জেলা প্রশাসনের সরকারি পোর্টালের জনপ্রতিনিধি পাতায় রাঙামাটির সংসদীয় আসনের নাম লেখা আছে “299 নং রাঙ্গামাটি”। জেলার প্রশাসনে সংসদ সদস্যের পাশাপাশি পার্বত্য জেলা পরিষদ, চাকমা সার্কেল চিফ, 155 জন হেডম্যান ও 997 জন কার্বারি নিয়ে প্রথাগত কাঠামোও কাজ করে। আঞ্চলিক পরিষদের সদর দপ্তরও রাঙামাটি শহরে।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:ইতিহাস ও রাজনীতি
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।