Last updated Oct 23rd, 2026
1

পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচন হয়েছিল একবারই — 25 জুন 1989, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে একই দিনে। তারপর 37 বছরে তিন পরিষদের কোনোটিতে আর ভোট হয়নি; বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নিজের সরকারি পাতাতেই লেখা আছে, প্রথম প্রত্যক্ষ নির্বাচনের পর “অদ্যাবধি আর কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি”। পরিষদ চলছে সরকারের মনোনীত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ দিয়ে, আর নির্বাচন আটকে আছে একটি প্রশ্নে: ভোটার তালিকায় কারা থাকবেন — জেলার “স্থায়ী বাসিন্দা”, নাকি জাতীয় তালিকার সবাই।
এই লেখা সেই আটকে থাকার নথি ধরে ধরে হিসাব: 1989-এর ভোট, তিন বছরের মেয়াদ কীভাবে আট বছর গড়াল, অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের বিধান কোন সংশোধনীতে এল, চুক্তি ভোটার তালিকা নিয়ে কী বলেছিল, আইনে কী ঢুকেছে, আর কোন পক্ষ কী বলছে। আসন-বণ্টন ও পরিষদের ক্ষমতা নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে — পার্বত্য জেলা পরিষদে আসন ভাগ হয় কীভাবে — এখানে সেগুলো আবার বলা হয়নি।
সূচিপত্র
তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রথম ও একমাত্র প্রত্যক্ষ নির্বাচন হয় 25 জুন 1989। তখন পরিষদগুলোর নাম ছিল “পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ”। বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি পরিষদের সরকারি পাতায় তারিখটি লেখা আছে, আর প্রথম আলোর 2016 সালের প্রতিবেদন বলছে সরকারি সূত্রের চোখে পরের নির্বাচনের প্রধান বাধা ভোটার তালিকা।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সরকারি পরিচিতি-পাতা অনুযায়ী রাঙ্গামাটি স্থানীয় সরকার পরিষদ বিল 26 ফেব্রুয়ারি 1989 রাষ্ট্রপতির সম্মতি পায়, 6 মার্চ 1989 গেজেটে প্রকাশিত হয়, আর “সে বছর ২৫ জুন অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে” চেয়ারম্যানসহ 31 সদস্যের পরিষদ গঠিত হয় (রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ)। বান্দরবান পরিষদের “এক নজরে” পাতা আরও দুটি তারিখ দেয়: 11 জুলাই 1989 পরিষদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, 12 জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু (বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ)। খাগড়াছড়ি পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানদের তালিকায় প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যানের কার্যকাল শুরু 10 জুলাই 1989 থেকে (খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ)।
নির্বাচনটি বিতর্ক ছাড়া হয়নি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ডিসেম্বর 1991-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী এরশাদ সরকার 1988 সালে কিছু পাহাড়ি নেতার সঙ্গে আলোচনা করে জেলা পরিষদসহ একটি শান্তি-পরিকল্পনা করে; ফেব্রুয়ারি 1989-এ সংসদ আইন পাস করে; জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) আইনটির বিরোধিতা করে, “তবু” জুন 1989-এ নির্বাচন হয় (Amnesty International, ASA 13/09/91)। একই প্রতিবেদন বলছে, 7 জানুয়ারি 1991 জেএসএস জেলা পরিষদগুলো ভেঙে দেওয়ার দাবিও তোলে, আর তখনকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি জানান পরিষদ ভাঙা হবে না।
তারপর কেন ভোট হয়নি — সেই প্রশ্নের সবচেয়ে স্পষ্ট লিখিত উত্তর এসেছে 2016 সালে। প্রথম আলোর প্রতিবেদক অরুণ কর্মকার লেখেন, নির্বাচন না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সরকারের একটি সূত্র বলে, “প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোটার তালিকা” (প্রথম আলো, 20 অক্টোবর 2016)। বাকি লেখা সেই তালিকা নিয়েই।

তিন জেলার জন্য তিনটি আলাদা আইন হয়েছিল — রাঙ্গামাটি 1989 সনের 19 নং, খাগড়াছড়ি 20 নং, বান্দরবান 21 নং আইন। 1989-এর পরিষদে নারী আসন ছিল না; পরিষদগুলোর নিজস্ব হিসাবে চেয়ারম্যানসহ সদস্যসংখ্যা ছিল 31, যা 1998 সালের সংশোধনীতে তিনটি নারী আসন যোগ হয়ে 34-এ দাঁড়ায়।
বান্দরবান পরিষদের “এক নজরে” পাতায় 1989-এর গঠন দেওয়া আছে: চেয়ারম্যান 1 (উপজাতীয়), উপজাতীয় সদস্য 19, অ-উপজাতীয় সদস্য 11 — মোট 31। একই পাতা বলছে, 1998 সনের 11 নং আইনে নাম বদলে “বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ” হয় এবং আরও 3 জন নারী সদস্য যোগ হয় — 2 জন উপজাতীয়, 1 জন অ-উপজাতীয় (বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ)। বান্দরবান পরিষদের সাবেক সদস্যদের তালিকায় 1989-এর পরিষদের 31 জনের নামই আছে — চেয়ারম্যান ও 30 জন “Councilor”, প্রত্যেকের যোগদান 02/07/1989 (বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ, সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ)।
খাগড়াছড়ি পরিষদের “ইতিহাস ও কার্যাবলী” পাতায় গঠন: একজন চেয়ারম্যান, 21 জন উপজাতীয় সদস্য, 9 জন অ-উপজাতীয় সদস্য; চেয়ারম্যান ও সদস্যরা “জনসাধারণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন”, আর তাঁদের “অনুপস্থিতিতে” সরকার-গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ কাজ চালায় (খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ)। রাঙ্গামাটি পরিষদ তাদের আজকের পূর্ণ গঠন দেয় 34 জন — চেয়ারম্যান 1, অ-উপজাতীয় 10, চাকমা 10, মারমা 8, তঞ্চঙ্গ্যা 2, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখো ও খিয়াং 1 জন করে, আর তিনটি সংরক্ষিত নারী আসন।
প্রথম আলোর 2016 সালের প্রতিবেদন অবশ্য নির্বাচিত পরিষদে “একজন চেয়ারম্যান ও ৩২ জন সদস্য” থাকার কথা লিখেছে — পরিষদগুলোর নিজের পাতার 34-এর সঙ্গে সংখ্যাটি মেলে না। কোন জনগোষ্ঠী কয়টি আসন পায়, তিন জেলায় হিসাব কেন আলাদা — সে বিস্তারিত আসন-বণ্টনের লেখায়।
1989-এর ভোটে কত শতাংশ ভোট পড়েছিল, কোন আসনে কতজন প্রার্থী ছিলেন, কোথাও ভোট বর্জন সফল হয়েছিল কি না — এসবের কোনো সরকারি ফল-বিবরণী অনলাইনে পাওয়া যায়নি।
মূল আইনে পরিষদের মেয়াদ ছিল প্রথম অধিবেশন থেকে তিন বছর। কিন্তু খাগড়াছড়ির প্রথম নির্বাচিত পরিষদ টিকে ছিল 10 জুলাই 1989 থেকে 4 জুলাই 1997 পর্যন্ত — প্রায় আট বছর। এর আইনি ব্যাখ্যা আছে 1992 ও 1997 সালের দুটি সংশোধনীতে, যা নির্বাচনের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার পথ খুলেছিল।
জুমজার্নালের আর্কাইভে থাকা রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের পাঠ ও তার পাদটীকা ধরে ধাপগুলো এমন:
| সংশোধনী | কোন ধারা | কী বদলাল |
|---|---|---|
| 1992 সনের 31 নং আইন | 16(1)-এর শর্তাংশ | প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে “কোন বিশেষ কারণে” নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন সম্ভব না হলে মেয়াদের শেষ দিনের পরের নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে নির্বাচন করার সুযোগ যোগ হয় |
| 1997 সনের 2 নং আইন, 2 ধারা | 16(1)-এর শর্তাংশ | সেই দিনের সংখ্যা “১৬৪০” থেকে “১৮২০” করা হয় |
| 1997 সনের 2 নং আইন, 3 ধারা | নতুন 16ক ধারা | সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হলে পরিষদ বাতিল, ক্ষমতা যায় সরকার-গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদে |
| 1998 সনের 9 নং আইন, 9 ধারা | 10 ধারা | মেয়াদ “তিন বত্সর” থেকে “পাঁচ বত্সর” |
1820 দিন মানে প্রায় পাঁচ বছর। খাগড়াছড়ির হিসাব দিয়ে মিলিয়ে দেখা যায়: 10 জুলাই 1989-এ যাত্রা শুরু করা পরিষদের তিন বছর পূর্ণ হয় জুলাই 1992-এ; 10 জুলাই 1992 থেকে 1820 দিন গুনলে দাঁড়ায় 4 জুলাই 1997 — আর খাগড়াছড়ি পরিষদের তালিকায় প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যানের কার্যকাল শেষ ঠিক 04/07/1997-এ, পরদিন 05/07/1997 থেকে “১ম অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান”। বান্দরবানে নির্বাচিত পরিষদের সদস্যদের কার্যকাল শেষ হয় 05/08/1997-এ, দিনের হিসাব এক মাসের মতো আলাদা।
শর্তাংশে আরেকটি বাক্য আছে, 16ক(5) উপধারায়: অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের পর যে নতুন পরিষদ নির্বাচিত হবে, তার বেলায় 16 ধারার এই শর্তাংশ “প্রযোজ্য হইবে না”। অর্থাৎ ভবিষ্যতের নির্বাচিত পরিষদ আর এভাবে 1820 দিন বাড়তি পাবে না — কিন্তু সেই নির্বাচিত পরিষদ এখনো আসেনি।
1992 সালের সংশোধনীতে মূলত কত দিনের কথা লেখা ছিল, আর 1640 সংখ্যাটি কোন সংশোধনীতে বসেছিল, আইনের পাদটীকায় তা নেই; সেই মধ্যবর্তী আইনগুলোর পাঠ পাওয়া যায়নি।
1997 সনের 2 নং আইন 16ক ধারা যোগ করে: নির্ধারিত সময়ে সাধারণ নির্বাচন না হলে মেয়াদ শেষের দিনেই পরিষদ বাতিল, আর “যাবতীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব” যায় সরকার-গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদে। শুরুতে এই পরিষদ ছিল চেয়ারম্যানসহ পাঁচজনের; 2014 সালে তা 15 জনের করা হয়।
ধারাটির চারটি উপধারা নির্বাচন না হওয়ার অবস্থাকে স্থায়ী রূপ দিয়েছে (রাংগামাটি আইনের পাঠ অনুযায়ী):
পরিষদগুলোর নিজের তালিকায় 1997-এর রূপান্তর দেখা যায়। খাগড়াছড়িতে প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান সমীরণ দেওয়ানই 05/07/1997 থেকে 14/10/1998 পর্যন্ত “১ম অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান” — পাশে মন্তব্য “মনোনীত” (খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ)। বান্দরবানের তালিকায় 05/08/1997 থেকে পরিষদে আছেন পাঁচজন — একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য; 25/12/1998 থেকে একই পাঁচজন “Hill District Council” নামে (বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ)। প্রথম আলোর 2016 সালের প্রতিবেদনেও আছে, নির্বাচন না হওয়ায় সরকার “একজন চেয়ারম্যানসহ পাঁচ সদস্যের মনোনীত পরিষদ” গঠন করে।
অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের গঠন কী, নির্বাচিত পরিষদের তুলনায় ছোট জনগোষ্ঠীগুলো সেখানে কীভাবে আসন হারায় — সেই বিশ্লেষণ আসন-বণ্টনের লেখার “নির্বাচন না হলে কী হয়” অংশে।
2 ডিসেম্বর 1997-এর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির “খ” খণ্ড জেলা পরিষদ আইনগুলোর সংশোধন ঠিক করে দেয়। তার 9 নম্বর ধারায় ভোটার হওয়ার চারটি শর্তের চতুর্থটি: তিনি পার্বত্য জেলার “স্থায়ী বাসিন্দা” হবেন। 3 নম্বর ধারা অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দার সংজ্ঞা দেয় — বৈধ জমি “এবং” নির্দিষ্ট ঠিকানায় সাধারণ বসবাস।
জাতিসংঘের শান্তিচুক্তি-সংগ্রহে থাকা চুক্তির ইংরেজি পাঠ অনুযায়ী (UN Peacemaker), “খ” খণ্ডের যে ধারাগুলো নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত:
| চুক্তির ধারা | বিষয় | নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্ক |
|---|---|---|
| খ-3 | “অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা”: যিনি উপজাতীয় নন, পার্বত্য জেলায় বৈধ জমি আছে এবং নির্দিষ্ট ঠিকানায় সাধারণত বাস করেন | ভোটার তালিকায় কোন অ-উপজাতীয় ব্যক্তি থাকবেন, তা এই সংজ্ঞার উপর নির্ভর করে |
| খ-4(ক) | প্রতি পরিষদে নারীর জন্য 3টি আসন, এক-তৃতীয়াংশ অ-উপজাতীয় | নির্বাচিত পরিষদের গঠন বদলায় |
| খ-7 | 10 ধারার “তিন বছর”-এর জায়গায় “পাঁচ বছর” | মেয়াদ |
| খ-9 | 17 ধারা প্রতিস্থাপন: নাগরিক, অন্যূন 18 বছর, আদালত-ঘোষিত মানসিক অসুস্থ নন, এবং পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা | ভোটার হওয়ার যোগ্যতা |
| খ-10 | 20(2) ধারায় “নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ” যোগ | নির্বাচন-বিধিতে নির্বাচনী এলাকা ঠিক করার ক্ষমতা |
নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রক ইনস্টিটিউটের Peace Accords Matrix (PAM) এই ধারাগুলোর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেছে এভাবে: প্রথম তিনটি শর্ত 1989-এর মূল আইনেই ছিল, চুক্তি নতুন যোগ করে চতুর্থটি — কেবল সনদপ্রাপ্ত স্থায়ী বাসিন্দারাই পার্বত্য চট্টগ্রামের নির্বাচনে ভোট দেবেন। PAM-এর মতে পুরোপুরি কার্যকর হলে এই শর্ত অ-স্থায়ী বাসিন্দাদের, অর্থাৎ বসতি-স্থাপনকারী বাঙালিদের, ভোটার তালিকার বাইরে রাখত, আর তাতে জুম্ম জনগোষ্ঠী নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেত (PAM, Electoral/Political Party Reform)।
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালি জনসংখ্যার অনুপাত কীভাবে বদলেছে, তা কেন এই তালিকাকে এত গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে — শুমারির সংখ্যা পাহাড়ি ও বাঙালি জনসংখ্যার অনুপাত, 1941–2022 লেখায়।
আইনের পাঠে জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য নিজস্ব ভোটার তালিকার কথা আছে: 2000 সালের সংশোধনীর পর 17(2) ধারা বলছে, নির্বাচন কমিশন “পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে” ভোটার তালিকা প্রণয়ন করবে। অথচ প্রথম আলোকে 2016 সালে সরকারি সূত্র বলেছে, আইন অনুযায়ী দেশে একটিই ভোটার তালিকা, আলাদা তালিকা “সম্ভব নয়”।
রাংগামাটি আইনের পাঠ ও পাদটীকা অনুযায়ী ভোটার-সংক্রান্ত তিনটি ধারা এখন এমন:
অর্থাৎ 2000 সালের সংশোধনী শব্দ বদলে স্পষ্ট করেছে যে ভোট হবে 17 ধারার অধীনে প্রণীত তালিকা দিয়ে। এর বিপরীতে প্রথম আলোর 2016 সালের প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বক্তব্য: “আইন অনুযায়ী সব ধরনের নির্বাচনের জন্য দেশে একটিই মাত্র ভোটার তালিকা হবে”, বর্তমান তালিকায় পুনর্বাসিত বাঙালিরাও আছেন, আর জেলা পরিষদের জন্য আলাদা তালিকা “আইনের বিধান অনুযায়ী সম্ভব নয়”। কোন আইনের কোন ধারার কথা সূত্রটি বলছে, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ নেই।
PAM আরেকটি আইনি স্তরের কথা বলেছে। তাদের বিশ্লেষণে সংবিধানের 122(2)(ঘ) অনুচ্ছেদ ও 1982 সালের ভোটার তালিকা অধ্যাদেশের 4 ধারা অনুযায়ী কেউ যেখানে “সাধারণত” বাস করেন, সেই এলাকারই বাসিন্দা গণ্য হন; PAM-এর মতে চুক্তির পরিবর্তনগুলো এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক, আর পার্বত্য চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা সাংবিধানিক ভোটাধিকার বহাল রেখেছেন (PAM)। এটি PAM-এর ব্যাখ্যা; আদালত এ প্রশ্নে কোনো রায় দিয়েছে কি না, তা পাওয়া যায়নি।
ভোটার তালিকার প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায় দুটি প্রশ্নে: স্থায়ী বাসিন্দার সংজ্ঞা কী, আর সেই সনদ কে দেন। চুক্তি চেয়েছিল সংজ্ঞায় জমি “এবং” বসবাস দুটোই থাকুক, কিন্তু আইনে বসেছে “বা”; আর সনদের ক্ষমতা জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সরানোর কথা থাকলেও 1999 সালের মন্ত্রণালয়ের আদেশ জেলা প্রশাসকের ক্ষমতা বহাল রাখে।
রাংগামাটি আইনের 2(কক) দফায় এখনকার সংজ্ঞা: “অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা” মানে যিনি উপজাতীয় নন “এবং যাঁহার পার্বত্য জেলায় বৈধ জায়গা-জমি আছে বা যিনি পার্বত্য জেলায় সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় সাধারণতঃ বসবাস করেন”। চুক্তির খ-3-এর ইংরেজি পাঠে সংযোজকটি “and”। এই এক শব্দের পার্থক্য, সরকারের নিজের মূল্যায়নে তার অবস্থা, আর সনদ নিয়ে বিরোধের বিস্তারিত আছে জেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজাতীয় সনদপত্রের লেখায়।
PAM-এর 1999 সালের নোট অনুযায়ী চুক্তির নকশা ছিল স্থায়ী বাসিন্দার সনদের ক্ষমতা জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া; কিন্তু তা প্রত্যাহার তো হয়ইনি, বরং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের 1999 সালের একটি আদেশ (HDC/Certificate/62/99-587) জেলা প্রশাসকের সনদ দেওয়ার ক্ষমতা আবার নিশ্চিত করে (PAM, Indigenous Minority Rights – 1999)। PAM-এর ব্যাখ্যায় এটাই ভোটার তালিকার শর্ত অকার্যকর থাকার দ্বিতীয় কারণ — জেলা প্রশাসকদের দেওয়া স্থায়ী বাসিন্দার সনদে বসতি-স্থাপনকারী বাঙালিরা ভোটার তালিকায় উঠেছেন।
সার্কেল চিফ কোন সনদ দেন, আর তিন সার্কেলের এখতিয়ার কোথায় — তা সার্কেল চিফের ক্ষমতা নিয়ে লেখায়।
জনসংহতি সমিতিসহ আঞ্চলিক দলগুলো চায় কেবল স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা; পুনর্বাসিত বাঙালিরা এর বিরোধিতা করেন; সরকারি সূত্র বলে আলাদা তালিকা আইনে সম্ভব নয়; আর নির্বাচন কমিশন বলে সরকার না বললে তারা উদ্যোগ নিতে পারে না। চারটি অবস্থানই 2016 সালের প্রথম আলোর প্রতিবেদনে আছে।
প্রথম আলো (2016) লিখেছে, জেএসএসসহ আঞ্চলিক দলগুলোর দাবি — “পাহাড়ি-বাঙালিনির্বিশেষে ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া কেউ ভোটার হতে পারবেন না”; প্রতিবেদকের ভাষায় এর সারমর্ম, পুনর্বাসিত (সেটেলার) বাঙালিরা জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার হতে পারবেন না। আঞ্চলিক পরিষদ ও জেএসএসের সূত্র জানায়, তারা নির্বাচন বিধিমালা এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা তৈরির বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে, নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দিয়েছে, “কিন্তু কোনো জবাব পায়নি”।
জেএসএসের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা চুক্তির 26 বছর পূর্তিতে প্রথম আলোয় লেখেন, “এসব পরিষদের নির্বাচনের জন্য স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা প্রণয়ন” এখনো অবাস্তবায়িত (প্রথম আলো, 2 ডিসেম্বর 2023)।
PAM-এর সংকলন অনুযায়ী 2001 সালের সংসদ নির্বাচনের আগে তৈরি ভোটার তালিকায় অ-স্থায়ী বাঙালি বসতি-স্থাপনকারীরা থাকায় জেএসএস তালিকাটি প্রত্যাখ্যান করে, আর 27 সেপ্টেম্বর 2001 হরতাল ডেকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। PAM জেএসএসের 2011 সালের বাস্তবায়ন-প্রতিবেদন থেকে উদ্ধৃত করেছে: আশির দশকে আনা “অন্তত তিন লাখ” বাঙালি বসতি-স্থাপনকারী সাম্প্রতিক ভোটার তালিকায় উঠেছেন। এটি জেএসএসের দাবি; সংখ্যাটি নির্বাচন কমিশনের কোনো প্রকাশিত হিসাবে যাচাই করা যায়নি।
প্রথম আলো (2016) এক বাক্যে লিখেছে: “জেএসএসের এই দাবির বিরোধিতা করছে পুনর্বাসিত বাঙালিরা।” তাঁদের সংগঠনগুলোর লিখিত অবস্থান — কোন সংগঠন, কোন যুক্তিতে — কোনো প্রকাশিত নথিতে পাওয়া যায়নি; PAM-এর বিশ্লেষণে তাঁদের পক্ষে যে আইনি যুক্তি দাঁড়ায় তা সাংবিধানিক ভোটাধিকার, যা আগের অংশে বলা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের অবস্থান — এক দেশ, এক তালিকা — উপরের অংশে আছে। নির্বাচন কমিশনের সূত্র প্রথম আলোকে বলেছে, সরকার না বললে তারা পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে পারে না, কারণ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অনুষ্ঠান তাদের “সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়, আইনি দায়িত্ব”।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান 2016 সালে বলেন, নির্বাচন “খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে”, কিন্তু কবে হবে তা অনিশ্চিত। (অ্যামনেস্টির 1991 সালের প্রতিবেদনে একই নামে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের তখনকার চেয়ারম্যানের উল্লেখ আছে।)
খাগড়াছড়ি পরিষদের সরকারি তালিকায় 1989 থেকে 2026 পর্যন্ত একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান আর দশটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের চেয়ারম্যান; প্রত্যেক অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যানের পাশে মন্তব্য “মনোনীত”। বান্দরবানে 1997 থেকে কোনো পরিষদই নির্বাচিত নয় — পরিষদের নিজের পাতা অনুযায়ী 1989-এর পর আর নির্বাচন হয়নি। রাঙ্গামাটি পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানদের তালিকা তাদের পোর্টালে পাওয়া যায়নি।
| পদ | নাম | কার্যকাল | কীভাবে |
|---|---|---|---|
| ১ম নির্বাচিত চেয়ারম্যান | সমীরণ দেওয়ান | 10/07/1989 – 04/07/1997 | নির্বাচিত |
| ১ম অন্তর্বর্তীকালীন | সমীরণ দেওয়ান | 05/07/1997 – 14/10/1998 | মনোনীত |
| ২য় অন্তর্বর্তীকালীন | যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা | 15/10/1998 – 13/02/2002 | মনোনীত |
| ৩য় অন্তর্বর্তীকালীন | নক্ষত্র লাল দেববর্মণ | 14/02/2002 – 28/03/2006 | মনোনীত |
| ৪র্থ অন্তর্বর্তীকালীন | মণীন্দ্র লাল ত্রিপুরা | 29/03/2006 – 31/10/2008 | মনোনীত |
| ৫ম অন্তর্বর্তীকালীন | রূইথি কার্বারী | 31/10/2008 – 20/04/2010 | মনোনীত |
| ৬ষ্ঠ অন্তর্বর্তীকালীন | কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা | 21/04/2010 – 01/12/2013 | মনোনীত |
| ৭ম অন্তর্বর্তীকালীন | চাইথোঅং মারমা | 02/12/2013 – 28/03/2015 | মনোনীত |
| ৮ম অন্তর্বর্তীকালীন | কংজরী চৌধুরী | 29/03/2015 – 13/12/2020 | মনোনীত |
| ৯ম অন্তর্বর্তীকালীন | মংসুইপ্রু চৌধুরী | 14/12/2020 – 07/11/2024 | মনোনীত |
| ১০ম অন্তর্বর্তীকালীন | জিরুনা ত্রিপুরা | 07/11/2024 – 08/07/2025 | মনোনীত |
| ১০ম অন্তর্বর্তীকালীন (অস্থায়ী) | শেফালিকা ত্রিপুরা | 08/07/2025 – 23/08/2026 | দায়িত্বপ্রাপ্ত |
| বর্তমান চেয়ারম্যান | ম্রাসা থোয়াই মারমা | যোগদান 23/08/2026 | পোর্টালের “চেয়ারম্যান” পাতা |
সূত্র: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যানগণের তালিকা ও চেয়ারম্যান পাতা। তালিকার নোট: 25/12/1998 থেকে নাম “পার্বত্য জেলা পরিষদ”। পরিষদের বর্তমান সদস্যদের তালিকায় 14 জনের প্রত্যেকের যোগদানের তারিখ 23/08/2026।
বান্দরবানের তালিকায় নামগুলো ইংরেজিতে লেখা; বাংলা বানানের সরকারি উৎস কেবল বর্তমান চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে, তাই বাকি নাম পোর্টালে যেভাবে আছে সেভাবেই রাখা হলো।
| পরিষদ | চেয়ারম্যান (পোর্টালের বানানে) | কার্যকাল |
|---|---|---|
| নির্বাচিত স্থানীয় সরকার পরিষদ (31 জন) | Sha Ching Prue Jery | 02/07/1989 – 03/03/1996 |
| একই নির্বাচিত পরিষদ | Mong Kyaw Ching Chy. (1989-এর সদস্য তালিকাতেও নাম আছে) | 03/03/1996 – 05/08/1997 |
| পাঁচ সদস্যের পরিষদ | Thawain Chaw Prue | 05/08/1997 – 24/12/1998 |
| “Hill District Council” | Thwain Chaw Prue | 25/12/1998 – 01/09/2000 |
| অন্তর্বর্তীকালীন | Kyaw Shwe Hla | 11/09/2000 – 16/02/2002 |
| অন্তর্বর্তীকালীন | Ma Mya Ching | 16/02/2002 – 15/07/2007 |
| অন্তর্বর্তীকালীন | Prof. Thanjama Lusai | 15/07/2007 – 24/05/2009 |
| অন্তর্বর্তীকালীন (তিন দফা) | Kyaw Shwe Hla | 25/05/2009 – 25/03/2015; 25/03/2015 – 09/12/2020; 10/12/2020 – 07/11/2024 |
| অন্তর্বর্তীকালীন | Prof. Thanjama Lusai (বাংলা পাতায়: অধ্যাপক থানজাম লুসাই) | 11/11/2024 – “till now” |
সূত্র: বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ ও এক নজরে। পোর্টালের সদস্যবৃন্দ পাতার শিরোনাম “নবগঠিত ১১ তম অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ” — সেই পাতায় 14 জন সদস্যের নাম আছে, কিন্তু গঠনের তারিখ বা চেয়ারম্যানের নাম নেই; “এক নজরে” পাতায় চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক থানজাম লুসাইয়ের নামের সঙ্গে ভিন্ন নামের একটি সদস্য-তালিকা আছে — দুই পাতা একই সময়ের নয় বলে ধরে নিতে হয়, কিন্তু কোনটি কবেকার তা পাতায় লেখা নেই।
দুই তালিকায় 1997 থেকে কোনো চেয়ারম্যানই ভোটে আসেননি। প্রথম আলোর 2016 সালের প্রতিবেদন এর রাজনৈতিক দিকটি সরাসরি লিখেছে: নির্বাচন না হওয়ায় “পরিষদ চলছে সরকারের মনোনীত দলীয় ব্যক্তিদের দিয়ে”; প্রতিবেদনে উল্লিখিত দুর্নীতির অভিযোগ খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পরিষদের তখনকার চেয়ারম্যানরা অস্বীকার করেন।
2014 সালের সংশোধনী আইন (রাংগামাটির ক্ষেত্রে 2014 সনের 16 নং আইন) অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদকে চেয়ারম্যানসহ পাঁচজন থেকে বাড়িয়ে 15 জনের করে — একজন উপজাতীয় চেয়ারম্যান ও 14 জন মনোনীত সদস্য। প্রথম আলো (2016) লিখেছে, “নির্বাচনের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়ায়” প্রতিনিধিত্বশীল করার জন্য এই বৃদ্ধি।
রাংগামাটি আইনের বর্তমান 16ক(2) “চৌদ্দ জন সদস্য”-এর কথা বলে, কিন্তু আর্কাইভে থাকা আইনের পাঠে দফাগুলো যোগ করলে দাঁড়ায় 13: চাকমা 4, মারমা 1, খিয়াং-লুসাই-পাংখোয়া মিলে 1, তঞ্চঙ্গ্যা 1, ত্রিপুরা 1, অ-উপজাতীয় 3, উপজাতীয় নারী 1, অ-উপজাতীয় নারী 1। রাঙ্গামাটি পরিষদের পরিচিতি-পাতা ভাগটি লিখেছে 10 জন উপজাতীয় ও 4 জন অ-উপজাতীয় সদস্য, আর পরিষদের সদস্য-পাতায় চেয়ারম্যানের পরে 14 জনের নাম আছে। বান্দরবান পরিষদের “এক নজরে” পাতাও নিশ্চিত করে, “বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৪ মোতাবেক ০৫ সদস্যের পরিবর্তে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট” অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠিত হয়; সেখানে বর্তমান বান্দরবান পরিষদের ভাগে মারমা 3, ম্রো 1, ত্রিপুরা 1, চাক 1, বম-লুসাই-পাংখোয়া 1, খিয়াং ও খুমী 1, তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকমা 1, অ-উপজাতীয় 3 এবং দুই নারী আসন দেখা যায়।
সমালোচনাও ছিল। গৌতম দেওয়ান প্রথম আলোকে বলেন, মনোনীত পরিষদের আকার বাড়ানোও চুক্তি ও জেলা পরিষদ আইনের লঙ্ঘন, কারণ এ ধরনের বিষয়ে আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা, “কিন্তু তা করা হয়নি”। রাঙ্গামাটি পরিষদের পরিচিতি-পাতায় অন্তর্বর্তী পরিষদের বিধানের উৎস হিসেবে 1997 সনের সংশোধিত 16ক(2), (4) এবং “২০১৪ সনে সংশোধিত ৪ (২) উপধারা”-র উল্লেখ আছে।
চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নির্বাচিত হবেন পরোক্ষভাবে — তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে। জেলা পরিষদে নির্বাচিত সদস্য না থাকায় আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচনও হয়নি; 1999 সাল থেকে চলছে সরকার-নিযুক্ত অন্তর্বর্তী আঞ্চলিক পরিষদ।
চুক্তির “গ” খণ্ডের 2 নম্বর ধারা বলে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর “নির্বাচিত সদস্যদের” পরোক্ষ ভোটে; 5 নম্বর ধারা সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই কথা বলে; আর 12 নম্বর ধারা বলে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার অন্তর্বর্তী আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করতে পারবে (চুক্তির পাঠ, UN Peacemaker)।
PAM লিখেছে, মে 1999-এ রাঙ্গামাটিতে 22 সদস্যের অন্তর্বর্তী আঞ্চলিক পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সব সদস্য সরকার-নিযুক্ত, কারণ নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত সংস্কারে অগ্রগতি না থাকায় “গ্রহণযোগ্য কোনো ভোটার তালিকা” ছিল না (PAM)। 2024 সালের মে মাসে আঞ্চলিক পরিষদের 25 বছর পূর্তিতে প্রথম আলোর সম্পাদকীয় লেখে, জেএসএস আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে, আর “চুক্তিতে স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে আলাদা ভোটার তালিকা করে জেলা পরিষদের নির্বাচন করার কথা ছিল, যা গত আড়াই দশকেও বাস্তবায়ন হয়নি” (প্রথম আলো, 30 মে 2024)।
অর্থাৎ ভোটার তালিকার একটি প্রশ্ন দুই স্তরের প্রতিনিধিত্বই আটকে রেখেছে। আঞ্চলিক পরিষদের গঠন, ক্ষমতা ও অন্তর্বর্তী বিধানের আইনি বিবরণ আঞ্চলিক পরিষদ: গঠন, ক্ষমতা ও আসন-বণ্টন লেখায়।
সরকারের আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির নভেম্বর 2022-এর হিসাবে চুক্তির 72টি ধারার 65টি বাস্তবায়িত, আর জেলা পরিষদ-সংক্রান্ত “খ” খণ্ডের 35টি ধারার 33টি আইনে সংযোজনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত। জেএসএসের হিসাবে 72টির মাত্র 25টি বাস্তবায়িত; তাদের মতে আইনে ঢুকলেও ধারাগুলো কার্যকর হয়নি, যার একটি ভোটার তালিকা।
এই দুই হিসাব মঙ্গল কুমার চাকমার 2023 সালের লেখায় পাশাপাশি আছে। তাঁর বক্তব্য, “অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা” সংজ্ঞা-সংক্রান্ত খ-3 ধারা তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে “সত্য, কিন্তু কার্যকর করা হয়নি” (প্রথম আলো, 2 ডিসেম্বর 2023)।
দুই হিসাবের পার্থক্যের মূল কারণ এখানেই: সরকার গোনে আইনে শব্দ বসেছে কি না, জেএসএস গোনে শব্দটি মাঠে প্রয়োগ হয়েছে কি না। ভোটার-যোগ্যতার খ-9 ধারা এর পরিষ্কার উদাহরণ — 1998 সনের 9 নং আইনে 17 ধারায় হুবহু বসেছে, PAM-ও তা নিশ্চিত করে, কিন্তু সেই ধারার অধীনে আজ পর্যন্ত কোনো ভোটার তালিকা তৈরি হয়ে নির্বাচন হয়নি।
2024 সালে সরকার বদলের পর নভেম্বর 2024-এ খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে নতুন অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান আসেন; খাগড়াছড়িতে আবার নতুন পরিষদ বসে 23 আগস্ট 2026। এর মধ্যে আগস্ট 2026-এ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা পরিষদে দ্রুত নির্বাচনের দাবি তোলে।
পরিষদগুলোর পোর্টাল অনুযায়ী খাগড়াছড়ির ১০ম অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান যোগ দেন 07/11/2024, বান্দরবানে অধ্যাপক থানজাম লুসাই 11/11/2024। খাগড়াছড়ির ১০ম পরিষদের সদস্যদের কার্যকাল শুরু 07/11/2024; একজন সদস্যের কার্যকাল 08/07/2025-এ শেষ, বাকিদের 23/08/2026-এ (খাগড়াছড়ি, প্রাক্তন সদস্যগণের তালিকা)। 23/08/2026 থেকে খাগড়াছড়িতে নতুন চেয়ারম্যান ও 14 সদস্যের পরিষদ।
রাঙ্গামাটির দৈনিক পাহাড়ের সময়-এর সম্পাদক মিলটন বড়ুয়া 7 আগস্ট 2026 প্রকাশিত মতামত-প্রতিবেদনে লেখেন, চুক্তি ও আইনি জটিলতার কারণে তিন জেলা পরিষদে নির্বাচনের “কোন সুযোগ নাই”, যখন যে সরকার এসেছে তাদের মনোনীতদের দিয়ে পরিষদ গঠিত হয়েছে, আর সে সময় পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পরিষদ “এখনো বহাল” (পাহাড়ের সময়)। এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম 26 আগস্ট 2026 রাঙ্গামাটিতে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে পরিষদগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি (দৈনিক অধিকার, 27 আগস্ট 2026)।
সেপ্টেম্বর 2026-এ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক — তিনটি কমিটি গঠনের গেজেট প্রকাশ করে। জেএসএস উদ্বেগ জানিয়ে বলে, আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকায় রাখা হয়নি (প্রথম আলো, 28 সেপ্টেম্বর 2026)। নির্বাচন বা ভোটার তালিকা নিয়ে এসব কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত প্রতিবেদনে নেই।
আইন ও প্রতিবেদনগুলো একসঙ্গে পড়লে তিনটি জিনিস দরকার দাঁড়ায়: 17(2) ধারায় নির্বাচন কমিশনের প্রণীত জেলা পরিষদের ভোটার তালিকা, 20(2) ধারায় সরকারের প্রণীত নির্বাচন বিধিমালা, আর নির্বাচন কমিশনের সূত্রের ভাষায় সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগের অনুরোধ। এর কোনোটি সম্পন্ন হওয়ার খবর প্রকাশিত নথিতে পাওয়া যায়নি।
এর পরেও “এক তালিকা” বনাম “আলাদা তালিকা”-র আইনি প্রশ্ন, আর PAM-এর তোলা সাংবিধানিক প্রশ্ন, মীমাংসা ছাড়া থেকে যায়। এই প্রশ্নে কোনো আদালতের রায় বা আইন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত মতামত পাওয়া যায়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের আইন, প্রশাসন ও ভূমি নিয়ে আমাদের সব লেখা একসঙ্গে পাবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব-পাতায়; চুক্তির আরেকটি অসমাপ্ত তালিকার প্রশ্ন — উদ্বাস্তুদের তালিকা — নিয়ে লেখা অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু টাস্কফোর্স: তালিকায় কারা থাকবেন।
একবারই — 25 জুন 1989, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে একসঙ্গে। তখন নাম ছিল পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সরকারি “এক নজরে” পাতায় লেখা, 25 জুন 1989-এর প্রথম প্রত্যক্ষ নির্বাচনের পর “অদ্যাবধি আর কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি”। খাগড়াছড়ির নির্বাচিত পরিষদ চলেছিল 10 জুলাই 1989 থেকে 4 জুলাই 1997 পর্যন্ত।
প্রথম আলোর 20 অক্টোবর 2016-এর প্রতিবেদনে সরকারি সূত্র বলেছে, প্রধান সমস্যা ভোটার তালিকা। জেএসএসসহ আঞ্চলিক দলগুলো চায় কেবল জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা ভোটার হোন; পুনর্বাসিত বাঙালিরা এর বিরোধিতা করেন; সরকারি সূত্রের মতে দেশে একটিই ভোটার তালিকা, আলাদা তালিকা আইনে সম্ভব নয়; আর নির্বাচন কমিশন বলে সরকার না বললে তারা উদ্যোগ নিতে পারে না।
জেলা পরিষদ আইনের 17(1) ধারা অনুযায়ী চারটি শর্ত: বাংলাদেশের নাগরিক, বয়স অন্যূন 18 বছর, কোনো আদালত মানসিকভাবে অসুস্থ ঘোষণা করেননি, এবং সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। চতুর্থ শর্তটি পার্বত্য চুক্তির “খ” খণ্ডের 9 নম্বর ধারা অনুযায়ী 1998 সালের সংশোধনীতে যোগ হয়; প্রথম তিনটি 1989-এর মূল আইনেই ছিল।
রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের 17(2) ধারা, যা 2000 সনের 33 নং আইনে যোগ হয়, বলে নির্বাচন কমিশন “পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে” ভোটার তালিকা প্রণয়ন করবে; 18 ধারায় ভোট দেওয়া যায় “ধারা ১৭ এর অধীনে প্রণীত” তালিকায় নাম থাকলে। অন্যদিকে 2016 সালে সরকারি সূত্র প্রথম আলোকে বলেছে, আইন অনুযায়ী দেশে একটিই ভোটার তালিকা।
1997 সনের 2 নং আইনে যোগ হওয়া 16ক ধারা অনুযায়ী সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হলে পরিষদ বাতিল হয়ে যায়, আর সব ক্ষমতা যায় সরকার-গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদে। এর কোনো মেয়াদসীমা নেই, সরকার চাইলে পুনর্গঠন করতে পারে। খাগড়াছড়িতে প্রথম অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যানের কার্যকাল শুরু 5 জুলাই 1997, বান্দরবানে পাঁচ সদস্যের পরিষদ 5 আগস্ট 1997।
শুরুতে চেয়ারম্যানসহ পাঁচজন। 2014 সালের সংশোধনীতে তা 15 জন করা হয় — একজন উপজাতীয় চেয়ারম্যান ও 14 জন মনোনীত সদস্য। রাঙ্গামাটি আইনের 16ক(2)-এর দফাগুলো যোগ করলে অবশ্য 13 জন হয় (চাকমা 4, মারমা 1, খিয়াং-লুসাই-পাংখোয়া 1, তঞ্চঙ্গ্যা 1, ত্রিপুরা 1, অ-উপজাতীয় 3, দুই নারী আসন), আর পরিষদের পাতা বলে 10 জন উপজাতীয় ও 4 জন অ-উপজাতীয়।
1992 সনের 31 নং আইন 16 ধারায় শর্তাংশ যোগ করে: প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে বিশেষ কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন সম্ভব না হলে মেয়াদ শেষের পরের নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। 1997 সনের 2 নং আইন সংখ্যাটি 1640 থেকে 1820 দিন করে। খাগড়াছড়ির হিসাবে 10 জুলাই 1992 থেকে 1820 দিন গুনলে দাঁড়ায় 4 জুলাই 1997, যেদিন নির্বাচিত চেয়ারম্যানের কার্যকাল শেষ।
চুক্তির “খ” খণ্ডের 3 নম্বর ধারার ইংরেজি পাঠে অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা মানে যাঁর পার্বত্য জেলায় বৈধ জমি আছে “and” যিনি নির্দিষ্ট ঠিকানায় সাধারণত বাস করেন। রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের 2(কক) দফায় বসেছে “বা” — জমি থাকা অথবা বসবাস করা, যেকোনো একটি। জেএসএস বলে, সংজ্ঞাটি আইনে ঢুকলেও কার্যকর করা হয়নি।
চুক্তির “গ” খণ্ডের 2 ও 5 নম্বর ধারা অনুযায়ী আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নির্বাচিত হবেন তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের পরোক্ষ ভোটে। জেলা পরিষদে নির্বাচিত সদস্য নেই বলে সেই ভোটও সম্ভব হয়নি। Peace Accords Matrix অনুযায়ী মে 1999-এ গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকার অভাবে 22 সদস্যের সরকার-নিযুক্ত অন্তর্বর্তী আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হয়।
খাগড়াছড়ি পরিষদের সরকারি তালিকায় 1997 থেকে 2025 পর্যন্ত দশটি অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদের চেয়ারম্যান আছেন, প্রত্যেকের পাশে “মনোনীত”; 8 জুলাই 2025 থেকে 23 আগস্ট 2026 পর্যন্ত একজন অস্থায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। 23 আগস্ট 2026 থেকে নতুন চেয়ারম্যান ও 14 সদস্যের পরিষদ কাজ করছে। পুরো সময়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান একজনই — 1989 থেকে 1997।
প্রথম আলোর 2016 সালের প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের সূত্র বলেছে, স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অনুষ্ঠান কমিশনের “সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়, আইনি দায়িত্ব”, তাই সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তারা এই দায়িত্ব পালন করে; সরকার না বললে উদ্যোগ নিতে পারে না। একই প্রতিবেদনে আঞ্চলিক পরিষদ ও জেএসএস জানায়, তারা কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল কিন্তু জবাব পায়নি।
না। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ডিসেম্বর 1991-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী জনসংহতি সমিতি জেলা পরিষদ আইনের বিরোধিতা করেছিল, তবু জুন 1989-এ নির্বাচন হয়। 7 জানুয়ারি 1991 জেএসএস জেলা পরিষদ ভেঙে দেওয়ার দাবি তোলে; অন্য কয়েকটি সংগঠনও একই দাবি জানায়। তখনকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি জানান, পরিষদ ভাঙা হবে না।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 23 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।