Last updated Oct 19th, 2026
2

পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টান কত — 2022 সালের জনশুমারির তিন জেলা-প্রতিবেদন যোগ করলে উত্তর 60,008 জন, তিন জেলার মোট 18,42,811 জনের 3.26%। এর 47,054 জন বান্দরবানে, 8,547 জন রাঙামাটিতে আর 4,407 জন খাগড়াছড়িতে। 1991 সালের শুমারিতে একই তিন জেলায় খ্রিস্টান ছিলেন 22,206 জন, অর্থাৎ একত্রিশ বছরে সংখ্যাটি প্রায় পৌনে তিন গুণ হয়েছে, যদিও মোট জনসংখ্যায় তাঁদের অংশ 2011 আর 2022 সালে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে।
সংখ্যাটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে প্রায়ই, আর উত্তর হিসেবে যা ঘোরে তার বড় অংশ শুমারি থেকে আসেনি। 2011 সালের সেপ্টেম্বরে একটি মাসিক পত্রিকা লিখেছিল, দুই দশকে তিন জেলায় “১২ হাজার ২শ উপজাতীয় পরিবারকে খ্রিস্টান বানানো হয়েছে”; সংখ্যাটির কোনো প্রকাশিত দলিল নেই, তবু এটি আজও উদ্ধৃত হয়। এই পাতা তাই কেবল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) শুমারি-প্রতিবেদন থেকে, জেলা ও শুমারি-বছর ধরে, ছকের নম্বরসহ খ্রিস্টান জনসংখ্যার হিসাব দেয়; যেখানে অনলাইনে ঘোরা সংখ্যা শুমারির সঙ্গে মেলে না, সেখানে দুটোই উৎসসহ পাশাপাশি রাখে, আর পাঠক যাতে নিজে মিলিয়ে নিতে পারেন সে জন্য যোগ-বিয়োগগুলো খোলাখুলি দেখায়।
তিন জেলার সব ধর্মের হিসাব, কোন জনগোষ্ঠী কোন ধর্মের অনুসারী, আর ইউনিয়ন ধরে “অন্যান্য” ধর্মের ঘর — এগুলো থাকবে আমাদের প্রকাশিতব্য লেখা “পার্বত্য চট্টগ্রামের ধর্ম: কোন জেলায়, কোন জনগোষ্ঠীতে কোন ধর্মের মানুষ কত”-তে। 1941 থেকে 2022 পর্যন্ত পাহাড়ি ও বাঙালি জনসংখ্যার অনুপাত আছে পাহাড়ি ও বাঙালি জনসংখ্যার অনুপাত নিয়ে আমাদের শুমারিভিত্তিক লেখায়। এখানে সেগুলো আবার বলা হয়নি; এই পাতার বিষয় কেবল খ্রিস্টানদের সংখ্যা, আর সেই সংখ্যার আশেপাশে যা যা প্রচলিত। পুরো অঞ্চলের অন্য লেখাগুলো পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভে।
এই লেখায়
2022 সালের জনশুমারিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় খ্রিস্টান 60,008 জন — বান্দরবানে 47,054 (জেলার 9.78%), রাঙামাটিতে 8,547 (1.32%), খাগড়াছড়িতে 4,407 (0.62%)। তিনটি সংখ্যাই BBS-এর জেলা-প্রতিবেদনের Table 3.1.13 “Population by Religion and Upazila, 2022” (পৃ. 54) থেকে; তিন জেলার যোগফল ও তার শতাংশ এই পাতায় হিসাব করা।
| জেলা | মোট জনসংখ্যা | খ্রিস্টান | জেলার কত % | তিন জেলার খ্রিস্টানের কত % |
|---|---|---|---|---|
| বান্দরবান | 4,81,106 | 47,054 | 9.78% | 78.4% |
| রাঙামাটি | 6,47,586 | 8,547 | 1.32% | 14.2% |
| খাগড়াছড়ি | 7,14,119 | 4,407 | 0.62% | 7.3% |
| তিন জেলা (যোগফল) | 18,42,811 | 60,008 | 3.26% | 100% |
অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতি পাঁচজন খ্রিস্টানের প্রায় চারজন বান্দরবানের। জেলাগুলোর মধ্যে ফারাক এত বড় যে “পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টান 3.26%” কথাটি কোনো জেলার ছবিই ঠিকভাবে দেয় না: বান্দরবানে প্রায় প্রতি দশজনে একজন, খাগড়াছড়িতে দেড়শো জনে একজনের কম।
একই শুমারির অন্য দুটি ছকে সংখ্যাগুলো সামান্য আলাদা। BBS-এর জাতীয় প্রতিবেদনের (National Volume 1) Table P08 “Population by Religion, Sex and District, 2022” (পৃ. 191) বান্দরবানের খ্রিস্টান দেখায় 47,053 জন, রাঙামাটির 8,547, খাগড়াছড়ির 4,407 — তিন জেলায় 60,007 (BBS, জাতীয় প্রতিবেদন)। বান্দরবান জেলা-প্রতিবেদনের ইউনিয়নভিত্তিক Table P05-এও জেলার খ্রিস্টান 47,053। এক জনের এই পার্থক্য সম্ভবত ছক তৈরির ধাপে, তবে প্রতিবেদন তা ব্যাখ্যা করেনি; এই লেখায় জেলার সংখ্যা হিসেবে Table 3.1.13-এর সংখ্যাই ব্যবহার করা হয়েছে।
BBS-এর 2011 সালের তিনটি Zila Report-এর Table PT14 “Population by Religion, 1981–2011” (পৃ. 22) চার শুমারির ধর্মভিত্তিক সংখ্যা একসঙ্গে ছেপেছে; তার সঙ্গে 2022-এর জেলা-প্রতিবেদন জুড়লে পাঁচটি শুমারির ধারা পাওয়া যায়। তিন জেলায় খ্রিস্টান ছিলেন 1981 সালে 18,973, 1991 সালে 22,206, 2001 সালে 41,072, 2011 সালে 52,066 আর 2022 সালে 60,008 জন।
| শুমারি | রাঙামাটি | খাগড়াছড়ি | বান্দরবান | তিন জেলা (যোগফল) |
|---|---|---|---|---|
| 1981 | 4,599 (1.52%) | 637 (0.23%) | 13,737 (8.01%) | 18,973 (2.52%) |
| 1991 | 4,498 (1.12%) | 939 (0.27%) | 16,769 (7.27%) | 22,206 (2.28%) |
| 2001 | 8,781 (1.73%) | 3,745 (0.71%) | 28,546 (9.58%) | 41,072 (3.08%) |
| 2011 | 8,663 (1.45%) | 4,070 (0.66%) | 39,333 (10.13%) | 52,066 (3.26%) |
| 2022 | 8,547 (1.32%) | 4,407 (0.62%) | 47,054 (9.78%) | 60,008 (3.26%) |
শতাংশের হিসাবের ভিত্তি প্রতিটি জেলার নিজস্ব মোট জনসংখ্যা, যা একই ছকে ছাপা: রাঙামাটি 1981 সালে 3,01,753, 1991 সালে 4,01,388, 2001 সালে 5,08,182, 2011 সালে 5,95,979; খাগড়াছড়ি যথাক্রমে 2,78,461, 3,42,488, 5,25,664, 6,13,917; বান্দরবান 1,71,478, 2,30,569, 2,98,120, 3,88,335। 2022 সালে তিন জেলার মোট জনসংখ্যা আগের ছকে দেওয়া আছে।
ধারাটির তিনটি দিক চোখে পড়ে। প্রথমত, তিন জেলা মিলিয়ে খ্রিস্টানদের অংশ 1991 সালে ছিল সবচেয়ে কম (2.28%), 2001 সালে লাফ দিয়ে 3.08%, তারপর 2011 ও 2022 — দুই শুমারিতেই 3.26%। দ্বিতীয়ত, 2001 থেকে রাঙামাটিতে খ্রিস্টানের সংখ্যা প্রায় স্থির — 8,781, 8,663, 8,547 — অথচ জেলার মোট জনসংখ্যা বেড়েছে; তাই অংশ কমেছে 1.73% থেকে 1.32%-এ। তৃতীয়ত, বান্দরবানে সংখ্যা প্রতি শুমারিতে বেড়েছে, কিন্তু অংশের দিক থেকে চূড়া 2011 সালে (10.13%); 2022 সালে তা নেমেছে 9.78%-এ।
এই ধারার 1981, 1991 ও 2001 সালের সংখ্যাগুলো সেই বছরের মূল প্রতিবেদন থেকে নয়, 2011 সালের Zila Report যেভাবে পুনর্মুদ্রণ করেছে সেভাবে নেওয়া। ঐ বছরগুলোর মূল জেলা-প্রতিবেদন অনলাইনে পাওয়া যায়নি, তাই সেগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়নি। তিনটি Zila Report-এর ঠিকানা: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান (Internet Archive-এ সংরক্ষিত কপি)।
দুই শুমারির মাঝের হিসাব ধরলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন 1991 থেকে 2001 সালে: তিন জেলায় খ্রিস্টান 22,206 থেকে 41,072, অর্থাৎ 18,866 জন বা 85% বৃদ্ধি। এরপর 2001–2011-এ বেড়েছে 10,994 জন (26.8%), আর 2011–2022-এ 7,942 জন (15.3%)। নিচের ছকের পরিবর্তন ও শতাংশ সবই আগের ছকের সংখ্যা থেকে নিজস্ব হিসাব।
| সময়কাল | রাঙামাটি | খাগড়াছড়ি | বান্দরবান | তিন জেলা |
|---|---|---|---|---|
| 1981–1991 | −101 (−2.2%) | +302 (+47.4%) | +3,032 (+22.1%) | +3,233 (+17.0%) |
| 1991–2001 | +4,283 (+95.2%) | +2,806 (+298.8%) | +11,777 (+70.2%) | +18,866 (+85.0%) |
| 2001–2011 | −118 (−1.3%) | +325 (+8.7%) | +10,787 (+37.8%) | +10,994 (+26.8%) |
| 2011–2022 | −116 (−1.3%) | +337 (+8.3%) | +7,721 (+19.6%) | +7,942 (+15.3%) |
| 1991–2022 (মোট) | +4,049 (+90.0%) | +3,468 (+369.3%) | +30,285 (+180.6%) | +37,802 (+170.2%) |
তুলনার জন্য একই সময়ে জেলাগুলোর মোট জনসংখ্যা কত বেড়েছে, সেটিও PT14-এর মোট সারি থেকে হিসাব করা যায়। 1991–2001-এ রাঙামাটির জনসংখ্যা বেড়েছে 26.6%, খাগড়াছড়ির 53.5%, বান্দরবানের 29.3%। অর্থাৎ ঐ দশকে তিন জেলাতেই খ্রিস্টানের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার চেয়ে দ্রুত বেড়েছে। 2001–2011-এ ছবিটা ভিন্ন: রাঙামাটির জনসংখ্যা বেড়েছে 17.3% কিন্তু খ্রিস্টান কমেছে 1.3%; খাগড়াছড়িতে জনসংখ্যা 16.8%, খ্রিস্টান 8.7%; কেবল বান্দরবানে খ্রিস্টান (37.8%) মোট জনসংখ্যার (30.3%) চেয়ে দ্রুত বেড়েছে। 2011–2022-এ বান্দরবানে খ্রিস্টান বেড়েছে 19.6%, জেলার জনসংখ্যা 23.9%।
খাগড়াছড়ির 1991–2001 দশকের বৃদ্ধি (939 থেকে 3,745) শতাংশে সবচেয়ে বড় দেখালেও সংখ্যায় ছোট — 2,806 জন। একই দশকে জেলার মোট জনসংখ্যাও 3,42,488 থেকে 5,25,664-এ উঠেছে, যা অন্য দুই জেলার চেয়ে অনেক দ্রুত। এই দশকের বৃদ্ধির কারণ BBS-এর প্রতিবেদন ব্যাখ্যা করেনি; শুমারির পদ্ধতি বা জেলার সীমানায় কোনো পরিবর্তন ছিল কি না, তাও প্রতিবেদনে বলা নেই।
রাঙামাটির ধারাটি উল্টো দিকের প্রশ্ন তোলে: তিন শুমারি ধরে খ্রিস্টানের সংখ্যা প্রায় একই থাকলে জন্ম-মৃত্যুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিটুকু কোথায় গেল? শুমারি এর উত্তর দেয় না। জেলা ছেড়ে যাওয়া, অন্য ধর্ম হিসেবে গণনা, বা গণনার কভারেজ — যেকোনোটি হতে পারে; কোনোটির পক্ষেই শুমারির প্রতিবেদনে তথ্য নেই।
2022 সালের শুমারিতে বাংলাদেশে খ্রিস্টান 4,88,583 জন, যার 60,008 জন — প্রায় 12.3% — পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায়। অথচ তিন জেলায় দেশের মোট জনসংখ্যার এক শতাংশের সামান্য বেশি মানুষ থাকেন। 1991 সালে দেশের খ্রিস্টানের 6.4% ছিলেন এই অঞ্চলে; প্রতিটি শুমারিতে অংশটি বেড়েছে।
| শুমারি | দেশে মোট খ্রিস্টান | পার্বত্য তিন জেলায় | দেশের খ্রিস্টানের কত % |
|---|---|---|---|
| 1981 | 2,74,481 | 18,973 | 6.91% |
| 1991 | 3,46,062 | 22,206 | 6.42% |
| 2001 | 3,88,855 | 41,072 | 10.56% |
| 2011 | 4,47,009 | 52,066 | 11.65% |
| 2022 | 4,88,583 | 60,008 | 12.28% |
জাতীয় সংখ্যাটিও একই শুমারির দুই ছকে দুই রকম। জেলা-প্রতিবেদনের পরিশিষ্টে 2022-এর জাতীয় খ্রিস্টান 4,88,583, আর জাতীয় প্রতিবেদনের Table P08-এ 4,88,555 (BBS, জাতীয় প্রতিবেদন, পৃ. 191)। পার্থক্য 28 জনের; শতাংশে এর প্রভাব নেই বললেই চলে। দুটি সংখ্যার কোনটি “সমন্বিত” বা “গণনাকৃত”, পরিশিষ্টের ছকে তা আলাদা করে বলা নেই।
এই অংশের অর্থ হলো, দেশের খ্রিস্টান জনসংখ্যার আলোচনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছোট কোনো পাদটীকা নয় — আর তার ভেতরেও প্রায় পুরো ভার বান্দরবানের। 2022 সালে কেবল বান্দরবানের 47,054 জন দেশের সব খ্রিস্টানের 9.6%।
উপজেলা ধরে দেখলে খ্রিস্টানদের বসতি আরও ঘন হয়ে আসে। 2022 সালে বান্দরবানের রুমা (12,142 জন, 37.32%) আর থানচি (10,256 জন, 34.43%) — এই দুই উপজেলাতেই তিন জেলার খ্রিস্টানের 37% থাকেন। রাঙামাটিতে খ্রিস্টানের প্রায় 69% রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি দুই উপজেলায়, আর খাগড়াছড়িতে অর্ধেকের বেশি খাগড়াছড়ি সদরে।
2011 সালের সংখ্যা Zila Report-এর Table P05 “Population by Religion, Age group and Residence” থেকে (রাঙামাটি পৃ. 107, খাগড়াছড়ি পৃ. 93, বান্দরবান পৃ. 89 থেকে শুরু); 2022 সালের সংখ্যা District Report-এর Table 3.1.13 থেকে (পৃ. 54)। প্রতিটি জেলায় উপজেলার যোগফল জেলার মোট খ্রিস্টানের সঙ্গে হুবহু মেলে।
| উপজেলা | 2011 | 2022 | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| রুমা | 11,124 (38.23%) | 12,142 (37.32%) | +1,018 |
| থানচি | 8,577 (36.36%) | 10,256 (34.43%) | +1,679 |
| লামা | 6,628 (6.08%) | 8,715 (6.24%) | +2,087 |
| বান্দরবান সদর | 4,511 (5.11%) | 6,473 (5.83%) | +1,962 |
| রোয়াংছড়ি | 4,548 (16.68%) | 4,942 (17.83%) | +394 |
| আলীকদম | 3,657 (7.42%) | 4,153 (6.51%) | +496 |
| নাইক্ষ্যংছড়ি | 288 (0.47%) | 373 (0.49%) | +85 |
| বান্দরবান জেলা | 39,333 (10.13%) | 47,054 (9.78%) | +7,721 |
রুমা ও থানচিতে খ্রিস্টানের সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু অংশ সামান্য কমেছে, কারণ মোট জনসংখ্যা আরও দ্রুত বেড়েছে। সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে লামা (+2,087) আর বান্দরবান সদরে (+1,962)। রুমা এখনো একমাত্র উপজেলা যেখানে খ্রিস্টান (37.32%) অন্য যেকোনো ধর্মের মানুষের চেয়ে বেশি; একই উপজেলায় বৌদ্ধ 36.80%।
| উপজেলা | 2011 | 2022 | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| রাজস্থলী | 3,211 (12.31%) | 3,017 (10.83%) | −194 |
| বিলাইছড়ি | 2,796 (9.80%) | 2,837 (9.60%) | +41 |
| রাঙামাটি সদর | 484 (0.39%) | 657 (0.45%) | +173 |
| বাঘাইছড়ি | 858 (0.89%) | 604 (0.57%) | −254 |
| কাপ্তাই | 452 (0.76%) | 564 (1.02%) | +112 |
| লংগদু | 244 (0.30%) | 361 (0.40%) | +117 |
| বরকল | 318 (0.67%) | 272 (0.55%) | −46 |
| জুরাছড়ি | 90 (0.32%) | 139 (0.52%) | +49 |
| কাউখালী | 83 (0.14%) | 55 (0.08%) | −28 |
| নানিয়ারচর | 127 (0.29%) | 41 (0.08%) | −86 |
| রাঙামাটি জেলা | 8,663 (1.45%) | 8,547 (1.32%) | −116 |
রাঙামাটির জেলা-সংখ্যা স্থির দেখালেও উপজেলার ভেতরে নড়াচড়া আছে: রাজস্থলী (−194), বাঘাইছড়ি (−254) ও নানিয়ারচরে (−86) কমেছে, রাঙামাটি সদর (+173), লংগদু (+117) ও কাপ্তাইয়ে (+112) বেড়েছে। যোগ-বিয়োগে জেলার মোট প্রায় অপরিবর্তিত।
| উপজেলা | 2011 | 2022 | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| খাগড়াছড়ি সদর | 2,049 (1.83%) | 2,380 (1.75%) | +331 |
| মাটিরাঙ্গা | 465 (0.37%) | 536 (0.42%) | +71 |
| দীঘিনালা | 416 (0.40%) | 380 (0.33%) | −36 |
| পানছড়ি | 286 (0.46%) | 341 (0.50%) | +55 |
| রামগড় | 164 (0.23%) | 248 (0.41%) | +84 |
| মানিকছড়ি | 432 (0.70%) | 221 (0.29%) | −211 |
| মহালছড়ি | 230 (0.45%) | 200 (0.41%) | −30 |
| গুইমারা | — | 65 (0.12%) | — |
| লক্ষ্মীছড়ি | 28 (0.11%) | 36 (0.13%) | +8 |
| খাগড়াছড়ি জেলা | 4,070 (0.66%) | 4,407 (0.62%) | +337 |
খাগড়াছড়ির তুলনায় একটি সতর্কতা দরকার। 2011 সালের ছকে উপজেলা আটটি, 2022 সালে নয়টি — গুইমারা 2022 সালের ছকে আলাদা উপজেলা হিসেবে আছে, 2011 সালে নেই। ফলে যে উপজেলাগুলোর এলাকা থেকে গুইমারা গঠিত, সেগুলোর দুই শুমারির সংখ্যা সরাসরি তুলনীয় নয়; মানিকছড়ির −211 বা রামগড়ের মোট জনসংখ্যা কমে যাওয়া (71,677 থেকে 60,741) এই সীমানা-বদলের ফল হতে পারে। কোন উপজেলার কোন অংশ গুইমারায় গেছে, শুমারির প্রতিবেদনে তা বলা নেই।
2022 সালের জেলা-প্রতিবেদনের Table P05 “Population by Religion, Sex, Paurashava, Union and Location” ইউনিয়ন পর্যন্ত ধর্মের হিসাব দেয় (বান্দরবান পৃ. 133, খাগড়াছড়ি পৃ. 141, রাঙামাটি পৃ. 144 থেকে)। তিন জেলার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভার মধ্যে মাত্র দুটিতে খ্রিস্টানরা মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি — দুটিই বান্দরবানে।
| ইউনিয়ন (BBS-এর বানান) | উপজেলা, জেলা | পাঁচ ধর্মের যোগফল | খ্রিস্টান | অংশ |
|---|---|---|---|---|
| Remakriprangsa | রুমা, বান্দরবান | 5,319 | 3,882 | 72.98% |
| Tindu | থানচি, বান্দরবান | 5,310 | 3,139 | 59.11% |
| Barathali | বিলাইছড়ি, রাঙামাটি | 3,595 | 1,422 | 39.55% |
| Remakri | থানচি, বান্দরবান | 8,148 | 2,940 | 36.08% |
| Paindu | রুমা, বান্দরবান | 5,968 | 2,050 | 34.35% |
| Ruma | রুমা, বান্দরবান | 14,635 | 4,530 | 30.95% |
| Ghilachhari | রাজস্থলী, রাঙামাটি | 8,391 | 2,459 | 29.31% |
| Perachhara | খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি | 13,024 | 668 | 5.13% |
সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি খ্রিস্টান রুমা ইউনিয়নে (4,530), তারপর Remakriprangsa (3,882) ও Tindu (3,139)। রাঙামাটির সবচেয়ে বড় দুটি কেন্দ্র — Ghilachhari (2,459) আর Barathali (1,422) — জেলার মোট খ্রিস্টানের প্রায় 45%। খাগড়াছড়িতে কোনো ইউনিয়নেই খ্রিস্টানের অংশ 6% ছোঁয়নি; সর্বোচ্চ Perachhara-তে 668 জন। বান্দরবানের ইউনিয়নগুলোর পূর্ণ ছক, আর “অন্যান্য” ধর্মের ঘরের সঙ্গে তার তুলনা, আমাদের প্রকাশিতব্য ধর্মবিষয়ক লেখায় থাকবে।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে 2022 সালে খ্রিস্টান 503 জন, ইউনিয়নের 1.60%। পর্যটনকেন্দ্র হয়ে ওঠার আগে সাজেকের রুইলুই ও কংলাক পাড়ায় কারা থাকতেন, তা আছে সাজেকের পাড়াগুলোর ইতিহাস নিয়ে আমাদের লেখায়।
ইউনিয়নের নামগুলো এখানে BBS-এর ইংরেজি ছকের বানানে রাখা হয়েছে, কারণ প্রতিবেদনের এই ছকে বাংলা নাম নেই।
পার্বত্য চট্টগ্রামের খ্রিস্টানরা মূলত গ্রামের মানুষ: 2011 সালে তিন জেলার 52,066 জনের 47,775 জন (91.8%) গ্রামে ছিলেন। 2022 সালে গ্রামে 44,937 আর শহরে 15,071 — শহরের অংশ 8.2% থেকে 25.1%। তবে এই লাফের বড় অংশ সম্ভবত শহরের সংজ্ঞা বদলের ফল, মানুষের স্থানান্তরের নয়।
| জেলা | 2011 গ্রাম | 2011 শহর | 2022 গ্রাম | 2022 শহর |
|---|---|---|---|---|
| রাঙামাটি | 8,227 | 436 | 6,320 | 2,227 |
| খাগড়াছড়ি | 2,737 | 1,333 | 3,150 | 1,257 |
| বান্দরবান | 36,811 | 2,522 | 35,467 | 11,587 |
| তিন জেলা | 47,775 | 4,291 | 44,937 | 15,071 |
2022 সালের জেলা-প্রতিবেদনের পরিশিষ্টের টীকা (বান্দরবান প্রতিবেদন, পৃ. 249) জানায়, 2022 সালে সিটি কর্পোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট, পৌরসভা, গ্রোথ সেন্টার এবং পৌরসভা নয় এমন উপজেলা সদরকেও শহর ধরা হয়েছে; 2011 সালে শহর ছিল কেবল সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা। উপজেলা সদর শহরের ঘরে আসায় রুমা বা থানচির মতো উপজেলার সদর এলাকার মানুষ 2022 সালে “শহুরে” হয়েছেন, যদিও তাঁরা হয়তো কোথাও যাননি। তাই 2011 আর 2022-এর গ্রাম-শহর ভাগ পাশাপাশি রেখে “খ্রিস্টানরা শহরমুখী হচ্ছেন” বলা যায় না।
একই সংজ্ঞার ভেতরে দেখলে 2022 সালের ছবি এমন: বান্দরবানের গ্রামে খ্রিস্টান 12.37%, শহরে 5.96%; রাঙামাটির গ্রামে 1.86%, শহরে 0.72%; খাগড়াছড়ির গ্রামে 0.76%, শহরে 0.42% (তিন জেলা-প্রতিবেদন, Table 3.1.13)। তিন জেলাতেই খ্রিস্টানদের অংশ গ্রামে বেশি।
2022 সালে পার্বত্য তিন জেলার খ্রিস্টানদের মধ্যে পুরুষ 30,100 আর নারী 29,907 জন — প্রতি 100 নারীর বিপরীতে প্রায় 100.6 জন পুরুষ। জাতীয় প্রতিবেদনের Table P08-এর এই হিসাব (পৃ. 191) আরেকটি তুলনাও সম্ভব করে: একই জেলাগুলোতে মুসলিমদের মধ্যে পুরুষের অনুপাত অনেক বেশি।
| জেলা | খ্রিস্টান পুরুষ | খ্রিস্টান নারী | প্রতি 100 নারীতে পুরুষ: খ্রিস্টান | বৌদ্ধ | মুসলিম |
|---|---|---|---|---|---|
| বান্দরবান | 23,569 | 23,484 | 100.4 | 100.2 | 109.5 |
| রাঙামাটি | 4,297 | 4,250 | 101.1 | 101.6 | 113.4 |
| খাগড়াছড়ি | 2,234 | 2,173 | 102.8 | 98.2 | 102.9 |
তিন জেলাতেই খ্রিস্টান ও বৌদ্ধদের মধ্যে নারী-পুরুষ প্রায় সমান। রাঙামাটি ও বান্দরবানের মুসলিমদের মধ্যে পুরুষের আধিক্যের কারণ শুমারির প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা নেই; এই লেখার বিষয়ও সেটি নয়। খাগড়াছড়িতে খ্রিস্টানদের অনুপাত (102.8) বৌদ্ধদের (98.2) চেয়ে মুসলিমদের (102.9) কাছাকাছি — তবে জেলার মোট খ্রিস্টান মাত্র 4,407 জন, তাই কয়েক ডজন মানুষের পার্থক্যেই অনুপাত বদলে যায়।
2011 সালের শুমারিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের খ্রিস্টানদের মধ্যে 15 বছরের কম বয়সী শিশুর অংশ জেলার গড়ের চেয়ে বেশি ছিল: বান্দরবানে 44.0% (জেলার সব ধর্ম মিলিয়ে 39.9%), রাঙামাটিতে 43.7% (জেলায় 35.7%), খাগড়াছড়িতে 39.8% (জেলায় 37.9%)। হিসাবটি Zila Report 2011-এর Table P05-এর বয়সভিত্তিক সারি (0–4, 5–9, 10–14) যোগ করে।
| জেলা | খ্রিস্টান: 0–14 বছর | খ্রিস্টানের কত % | বৌদ্ধ: কত % | মুসলিম: কত % | জেলার সবাই: কত % |
|---|---|---|---|---|---|
| বান্দরবান | 17,292 | 44.0% | 36.6% | 41.5% | 39.9% |
| রাঙামাটি | 3,790 | 43.7% | 35.2% | 36.9% | 35.7% |
| খাগড়াছড়ি | 1,620 | 39.8% | 34.9% | 39.4% | 37.9% |
অর্থাৎ 2011 সালে তিন জেলাতেই খ্রিস্টানরা তুলনামূলক তরুণ জনগোষ্ঠী, আর রাঙামাটি ও বান্দরবানে বৌদ্ধদের চেয়ে লক্ষণীয়ভাবে তরুণ। রাঙামাটির ক্ষেত্রে এটি একটি প্রশ্ন রেখে যায়: 2011 সালে যে জনগোষ্ঠীর প্রায় 44% শিশু, তার মোট সংখ্যা পরের এগারো বছরে বাড়ল না কেন (8,663 থেকে 8,547)? শুমারির প্রতিবেদনে এর ব্যাখ্যা নেই। 2022 সালের জেলা-প্রতিবেদনে ধর্ম ও বয়সের এমন আড়াআড়ি ছক পাওয়া যায়নি, তাই তুলনাটি 2011-তেই থেমে আছে।
2022 সালের শুমারিতে 7 বছর ও তার বেশি বয়সী খ্রিস্টানদের সাক্ষরতার হার খাগড়াছড়িতে 75.49%, বান্দরবানে 58.33%, রাঙামাটিতে 58.18%; দেশের সব খ্রিস্টানের ক্ষেত্রে হারটি 76.88%। সংখ্যাগুলো BBS জাতীয় প্রতিবেদনের Table P15 “Literacy Rate of Population Aged 7 Years and above by Sex, Religion and District, 2022” (পৃ. 266) থেকে।
| জেলা | 2011: সবাই | 2011: পুরুষ | 2011: নারী | 2022: সবাই | 2022: পুরুষ | 2022: নারী |
|---|---|---|---|---|---|---|
| বান্দরবান | 37.00% | 43.65% | 30.22% | 58.33% | 66.90% | 49.78% |
| রাঙামাটি | 44.89% | 52.52% | 36.88% | 58.18% | 68.05% | 48.31% |
| খাগড়াছড়ি | 53.50% | 61.88% | 44.41% | 75.49% | 83.04% | 67.78% |
| দেশের সব খ্রিস্টান | — | — | — | 76.88% | 80.16% | 73.69% |
একই ছকে অন্য ধর্মের হার পাশে রাখলে ছবিটা জেলাভেদে উল্টে যায়। 2022 সালে বান্দরবানে খ্রিস্টানদের হার (58.33%) বৌদ্ধদের (51.98%) চেয়ে বেশি, মুসলিমদের (73.03%) চেয়ে কম; রাঙামাটিতে খ্রিস্টানদের হার (58.18%) তিন বড় ধর্মের মধ্যে সবচেয়ে কম — বৌদ্ধ 66.73%, মুসলিম 78.48%; খাগড়াছড়িতে খ্রিস্টানদের হার (75.49%) বৌদ্ধ (67.85%) ও হিন্দুদের (64.92%) চেয়ে বেশি, মুসলিমদের (77.45%) প্রায় কাছাকাছি।
2011 সালের ছকে একটি তথ্য স্পষ্ট: শহরের খ্রিস্টানদের সাক্ষরতা গ্রামের চেয়ে অনেক বেশি — বান্দরবানের শহরে 70.85%, গ্রামে 34.39%; রাঙামাটির শহরে 85.86%, গ্রামে 42.35%; খাগড়াছড়ির শহরে 68.06%, গ্রামে 45.95%। যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রামের খ্রিস্টানদের বড় অংশ গ্রামে থাকেন, জেলার গড় হার গ্রামের দিকেই টানা।
2011 থেকে 2022-এ প্রতিটি জেলায় হার বেড়েছে, তবে দুই শুমারির হার পাশাপাশি রাখার আগে মনে রাখা দরকার, দুই প্রতিবেদনের ছক আলাদা ধরনের (2011-এর জেলা-প্রতিবেদন বনাম 2022-এর জাতীয় প্রতিবেদন), আর সাক্ষরতা নির্ণয়ের পদ্ধতি দুই শুমারিতে একই ছিল কি না, এই ছকগুলোতে বলা নেই।
পার্বত্য চট্টগ্রামের খ্রিস্টান জনসংখ্যা নিয়ে অনলাইনে যে সংখ্যাগুলো প্রচলিত, তার কিছু শুমারির সঙ্গে মেলে, কিছু মেলে না, আর কিছু শুমারি থেকে আসেইনি। নিচের ছকে প্রতিটি সংখ্যার পাশে শুমারির সংখ্যা রাখা হলো; কোনটি গ্রহণযোগ্য, সে বিচার পাঠকের।
| প্রচলিত সংখ্যা | কোথায় | শুমারির সংখ্যা | শুমারির উৎস |
|---|---|---|---|
| দুই দশকে (1992–2010) তিন জেলায় 12,200 উপজাতীয় পরিবার খ্রিস্টান হয়েছে; খাগড়াছড়িতে 4,031, বান্দরবানে 6,480, রাঙামাটিতে প্রায় 1,690 পরিবার | মাসিক আলকাউসার, সেপ্টেম্বর 2011; সূত্র হিসেবে বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদন, যা একটি দৈনিকে 12 আগস্ট প্রকাশিত | শুমারি ধর্মান্তর গোনে না; 1991–2011-এ তিন জেলায় খ্রিস্টান বেড়েছেন 29,860 জন (22,206 থেকে 52,066) | Zila Report 2011, Table PT14 |
| তিন জেলায় খ্রিস্টান গির্জা 194টি; খাগড়াছড়িতে 73, বান্দরবানে 117 | মাসিক আলকাউসার, সেপ্টেম্বর 2011 | শুমারি উপাসনালয় গোনে না | — |
| বান্দরবানে গির্জা 2টি | ইংরেজি উইকিপিডিয়া, Bandarban District (একটি 2014 সালের ব্লগ-উৎস উদ্ধৃত) | শুমারি উপাসনালয় গোনে না | — |
| 2011 সালে বান্দরবানে খ্রিস্টান 9.73% | পার্বত্যনিউজ, 22 সেপ্টেম্বর 2022 | 10.13% (39,333 ÷ 3,88,335) | Zila Report 2011 Bandarban, Table PT14 |
| 2022 সালে তিন জেলায় খ্রিস্টান 60,028 (3.26%); রাঙামাটি 8,548, খাগড়াছড়ি 4,428, বান্দরবান 47,052 — “প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে” | পার্বত্যনিউজ, 22 সেপ্টেম্বর 2022 | 60,008; রাঙামাটি 8,547, খাগড়াছড়ি 4,407, বান্দরবান 47,054 | District Report 2022, Table 3.1.13 |
| খাগড়াছড়িতে খ্রিস্টান 3,961 (মোট 5,69,715) | বাংলাপিডিয়া (ইংরেজি), Khagrachhari District | 2011: 4,070 (মোট 6,13,917) | Zila Report 2011 Khagrachhari, Table PT14 |
| বান্দরবানে খ্রিস্টানরা “মাত্র 10 শতাংশ”, খাগড়াছড়িতে 0.62% | দৈনিক ইনকিলাব, সম্পাদকীয় পাতা, 28 মে 2024 | 9.78% ও 0.62% (2022) | District Report 2022, Table 3.1.13 |
ছকের কয়েকটি অমিল ব্যাখ্যা করা যায়। পার্বত্যনিউজ 2011 সালের বান্দরবানের মোট জনসংখ্যা লিখেছে 4,04,093, যেখানে Zila Report-এর ছকে 3,88,335। পার্বত্যনিউজের শতাংশগুলো ঐ বড় মোটের ভিত্তিতে: 39,333 ÷ 4,04,093 = 9.73%। অর্থাৎ খ্রিস্টানের সংখ্যা দুই জায়গায় একই (39,333), পার্থক্য কেবল ভাজকে। 4,04,093 সংখ্যাটি কোথা থেকে, লেখায় বলা নেই।
2022 সালের ক্ষেত্রে পার্বত্যনিউজের সংখ্যাগুলো শুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন থেকে বলে লেখা হয়েছে, আর পরে প্রকাশিত জেলা-প্রতিবেদনের সঙ্গে পার্থক্য সামান্য — তিন জেলায় 20 জন। প্রাথমিক প্রতিবেদনটি নিজে এখানে মিলিয়ে দেখা যায়নি। একই লেখায় 2011 সালের তিন জেলার হিসাবে খ্রিস্টান 52,066 (3.23%) লেখা আছে, যা Zila Report-এর তিন জেলার যোগফলের সঙ্গে হুবহু মেলে; ঐ অনুচ্ছেদের 17,380 (1.08%) সংখ্যাটি “অন্যান্য” ধর্মের, খ্রিস্টানদের নয়।
বাংলাপিডিয়ার খাগড়াছড়ি ভুক্তির মোট জনসংখ্যা (5,69,715) কোন শুমারির কোন ছক থেকে, ভুক্তিতে বলা নেই; একই বিশ্বকোষের রাঙামাটি ও বান্দরবান ভুক্তির সংখ্যা 2011 সালের Zila Report-এর সঙ্গে হুবহু মেলে (খ্রিস্টান 8,663 ও 39,333), কেবল খাগড়াছড়িরটি মেলে না।
গির্জার সংখ্যা নিয়ে দুই দাবির ব্যবধান সবচেয়ে বড়: আলকাউসার বলছে বান্দরবানে গির্জা 117টি, ইংরেজি উইকিপিডিয়া বলছে 2টি। কোনো দাবির পেছনেই শুমারি বা প্রকাশিত সরকারি তালিকা নেই। উপাসনালয়ের কোনো জেলাভিত্তিক সরকারি গণনা পাওয়া যায়নি।
আলকাউসারের দাবি পরিবারের সংখ্যায়, শুমারি গোনে মানুষ; তাই সরাসরি তুলনা করা যায় না, কিন্তু পরিবারের গড় আকার দিয়ে মোটামুটি মানুষের সংখ্যায় রূপান্তর করা যায়। শুমারির গড় পরিবার-আকার দিয়ে গুণ করলে 12,201 পরিবার মানে প্রায় 56,700 থেকে 60,700 জন; অথচ 1991 থেকে 2011 পর্যন্ত শুমারিতে তিন জেলায় খ্রিস্টান বেড়েছেন মোট 29,860 জন।
হিসাবের ধাপগুলো নিচে। আলকাউসারের তিনটি জেলা-সংখ্যা যোগ করলে 4,031 + 6,480 + 1,690 = 12,201, যা দাবির “১২ হাজার ২শ”-র সঙ্গে মেলে। পরিবারের গড় আকার নেওয়া হয়েছে 2011 সালের Zila Report-এর Table HT03 “Household Size (General) by Residence, 1974–2011” থেকে (পৃ. 14): রাঙামাটি 1991 সালে 5.21, 2011 সালে 4.56; খাগড়াছড়ি 4.80 ও 4.53; বান্দরবান 5.02 ও 4.75। এগুলো জেলার সব পরিবারের গড়, শুধু খ্রিস্টান বা শুধু পাহাড়ি পরিবারের নয় — এই হিসাবের সবচেয়ে বড় সীমা এটাই।
| জেলা | দাবিকৃত পরিবার (1992–2010) | মানুষে রূপান্তর (2011-এর গড় আকারে) | মানুষে রূপান্তর (1991-এর গড় আকারে) | শুমারিতে খ্রিস্টান বৃদ্ধি, 1991–2011 | শুমারিতে খ্রিস্টান, 2011 |
|---|---|---|---|---|---|
| খাগড়াছড়ি | 4,031 | ≈ 18,260 | ≈ 19,350 | 3,131 | 4,070 |
| বান্দরবান | 6,480 | ≈ 30,780 | ≈ 32,530 | 22,564 | 39,333 |
| রাঙামাটি | 1,690 | ≈ 7,710 | ≈ 8,800 | 4,165 | 8,663 |
| মোট | 12,201 | ≈ 56,750 | ≈ 60,680 | 29,860 | 52,066 |
খাগড়াছড়ির সারিটি সবচেয়ে স্পষ্ট। দাবি অনুযায়ী জেলায় 4,031টি পরিবার খ্রিস্টান হয়েছে; শুমারিতে 2011 সালে জেলার মোট খ্রিস্টানই 4,070 জন, আর 1991 থেকে বেড়েছে 3,131 জন। প্রতিটি পরিবারে একজন করে মানুষ ধরলেও দাবিকৃত সংখ্যা শুমারির পুরো বৃদ্ধির চেয়ে বেশি। বান্দরবানে দাবিটি মানুষে রূপান্তর করলে প্রায় 31,000–32,500 জন, যেখানে শুমারির বৃদ্ধি 22,564 — আর সেই বৃদ্ধির ভেতরে জন্ম-মৃত্যুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিও আছে। রাঙামাটিতে রূপান্তরিত সংখ্যা (প্রায় 7,700–8,800) প্রায় 2011 সালের মোট খ্রিস্টান সংখ্যার (8,663) সমান।
এই হিসাব দুইভাবে পড়া যায়, এবং দুটোই উৎসসহ এখানে রাখা হলো। এক, দাবিটির সংখ্যাগুলো শুমারির সঙ্গে মেলে না। দুই, শুমারি ধর্ম লেখে উত্তরদাতা যা বলেন সেভাবে; কেউ ধর্মান্তরিত হয়ে থাকলেও গণনায় আগের ধর্ম লেখা হয়ে থাকলে সংখ্যাটি শুমারিতে ধরা পড়বে না। দ্বিতীয় সম্ভাবনার পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য তথ্য শুমারির প্রতিবেদনে নেই। আলকাউসারের লেখায় উল্লিখিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনটি নিজে প্রকাশিত হয়নি, আর যে দৈনিকে তার সারাংশ ছাপা হয়েছিল, লেখায় তার নামও নেই।
শুমারি প্রতিটি মানুষের ধর্ম লেখে পাঁচটি ঘরের একটিতে — Muslim, Hindu, Christian, Buddhist, Others। খ্রিস্টানদের ভেতরে ক্যাথলিক, ব্যাপ্টিস্ট বা অন্য কোনো ধারার ভাগ নেই, আর কোন জনগোষ্ঠীর কতজন খ্রিস্টান, সেই আড়াআড়ি ছকও প্রতিবেদনে নেই।
ফলে কিছু প্রশ্নের উত্তর শুমারি থেকে পাওয়া যায় না। বমদের কতজন খ্রিস্টান, ত্রিপুরাদের কত অংশ, খিয়াং বা পাংখোয়াদের কত — এগুলোর জন্য বর্ণনামূলক উৎসই ভরসা। যেমন বাংলাপিডিয়ার বম ভুক্তি বলছে, প্রায় সব বম এখন খ্রিস্টান (Banglapedia, Bawm); আমাদের বম জাতি নিয়ে লেখা, ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী নিয়ে লেখা ও ত্রিপুরা জাতির পরিচিতি নিজ নিজ জনগোষ্ঠীর বিবরণ দেয়। এগুলো সংখ্যা নয়, বিবরণ; শুমারির ধর্মের ছকের সঙ্গে জুড়ে “এত জন বম খ্রিস্টান” বলা যায় না।
শুমারির মোট জনসংখ্যারও দুটি রূপ আছে। জেলা-প্রতিবেদনের ছকগুলো গণনাকৃত (enumerated) সংখ্যা; জাতীয় পর্যায়ে BBS গণনার ঘাটতি হিসাব করে সমন্বিত (adjusted) সংখ্যাও প্রকাশ করে — 2022 সালের নিট কভারেজ ত্রুটি জাতীয়ভাবে 2.75%, 2011 সালে 3.97% (District Report 2022 Bandarban, পরিশিষ্ট, পৃ. 250)। ধর্মের জেলাভিত্তিক ছক গণনাকৃত সংখ্যায়। তাই কোনো লেখা যদি খ্রিস্টানের গণনাকৃত সংখ্যাকে সমন্বিত মোট দিয়ে ভাগ করে, শতাংশ কম দেখাবে — 2011 সালের বান্দরবানের 9.73% বনাম 10.13% সম্ভবত এরকমই একটি উদাহরণ।
আরও একটি সীমা: “Others” ঘরে বান্দরবানে 2022 সালে 21,738 জন। এঁদের মধ্যে কারা প্রকৃতি-পূজারি, কারা ক্রামা ধর্মের অনুসারী, শুমারি তা ভাঙেনি। খ্রিস্টানের সংখ্যায় এর প্রভাব নেই, তবে জেলার ধর্মীয় ছবি বুঝতে ঘরটি মনে রাখা দরকার।
BBS-এর ধারার আগের শুমারিগুলো ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের। আমাদের পাহাড়ি-বাঙালি অনুপাতের লেখা Census of India 1941 থেকে দেখিয়েছে, তখনকার পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলায় খ্রিস্টানের ঘরে ছিলেন 77 জন — তবে সে বছর যেকোনো জনগোষ্ঠীর সদস্যকে, ধর্ম যা-ই হোক, “Tribes” ঘরে গোনা হয়েছিল, তাই পাহাড়ি খ্রিস্টানরা ঐ 77-এর মধ্যে নেই। 1951 সালের ধর্মের ছকে (Table 6) পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টান 3,745 জন। দুই শুমারির শ্রেণিবিভাগ আলাদা বলে সংখ্যা দুটি পাশাপাশি তুলনা করা যায় না; বিস্তারিত ঐ লেখাতেই।
1961 ও 1974 সালের শুমারিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ধর্মভিত্তিক সংখ্যা অনলাইনে পাওয়া যায়নি। 2011 সালের Zila Report-এর ধারা শুরু 1981 থেকে; সেখান থেকেই এই লেখার মূল ছক।
বাংলাপিডিয়ার বম ভুক্তি অনুযায়ী খ্রিস্টান মিশনারিরা উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে বমদের মধ্যে প্রচার করছেন, আর প্রায় সব বম এখন খ্রিস্টান (Banglapedia); আমাদের আর্কাইভের লেখা বলছে, বম ও পাংখুয়ারা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ শুরু করেন 1918 খ্রিস্টাব্দের পরবর্তী সময়ে, আর এই কাজে পাস্টর এইচ ডালার (Pastor H. Dala) ভূমিকা প্রধান (বম জাতি: নাম, গোত্র, খ্রিষ্টধর্ম ও নিজস্ব বর্ণমালা)। প্রচার শুরু আর দীক্ষা শুরু এক জিনিস না-ও হতে পারে; দুই তারিখ দুই উৎসের। পাহাড়ে খ্রিস্টধর্মের ইতিহাস — কোন মিশন কবে কোন জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাল — আলাদা লেখার বিষয়; এখানে কেবল সংখ্যা।
2022 সালের জনশুমারিতে তিন পার্বত্য জেলায় খ্রিস্টান 60,008 জন, তিন জেলার মোট 18,42,811 জনের 3.26%। বান্দরবানে 47,054, রাঙামাটিতে 8,547 আর খাগড়াছড়িতে 4,407 জন। সংখ্যাগুলো BBS-এর তিন জেলা-প্রতিবেদনের Table 3.1.13 থেকে; যোগফল নিজস্ব হিসাব। জাতীয় প্রতিবেদনের Table P08-এ বান্দরবানের সংখ্যা এক কম, 47,053।
2022 সালের শুমারিতে বান্দরবানে খ্রিস্টান 47,054 জন, জেলার 4,81,106 জনের 9.78%। 2011 সালে ছিলেন 39,333 জন (10.13%), 1991 সালে 16,769 (7.27%)। পার্বত্য চট্টগ্রামের খ্রিস্টানদের প্রায় 78% বান্দরবানে থাকেন। উৎস: BBS District Report 2022 ও Zila Report 2011, Table PT14।
2022 সালের শুমারিতে রাঙামাটিতে খ্রিস্টান 8,547 জন, জেলার 1.32%। 2001 সালে 8,781 আর 2011 সালে 8,663 — অর্থাৎ দুই দশকে সংখ্যাটি প্রায় স্থির, কিন্তু মোট জনসংখ্যা বাড়ায় অংশ 1.73% থেকে 1.32%-এ নেমেছে। জেলার খ্রিস্টানদের বেশির ভাগ রাজস্থলী (3,017) ও বিলাইছড়িতে (2,837)।
2022 সালের শুমারিতে খাগড়াছড়িতে খ্রিস্টান 4,407 জন, জেলার 0.62% — তিন জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম। 1991 সালে ছিলেন মাত্র 939 জন, 2001 সালে 3,745, 2011 সালে 4,070। জেলার অর্ধেকের বেশি খ্রিস্টান খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় (2,380)। বাংলাপিডিয়া 2011-এর সংখ্যা 3,961 দেখায়, Zila Report দেখায় 4,070।
সংখ্যা ও অংশ — দুই দিক থেকেই বান্দরবানের রুমা উপজেলা: 2022 সালে 12,142 জন, উপজেলার 37.32%। এটিই একমাত্র উপজেলা যেখানে খ্রিস্টানরা অন্য যেকোনো ধর্মের মানুষের চেয়ে বেশি; সেখানে বৌদ্ধ 36.80%। দ্বিতীয় থানচি (10,256 জন, 34.43%), তৃতীয় রোয়াংছড়ি (4,942, 17.83%)। উৎস: বান্দরবান জেলা-প্রতিবেদন, Table 3.1.13।
হ্যাঁ, দুটিতে। 2022 সালের শুমারির Table P05 অনুযায়ী রুমা উপজেলার Remakriprangsa ইউনিয়নে খ্রিস্টান 3,882 জন (72.98%) আর থানচির Tindu ইউনিয়নে 3,139 জন (59.11%)। তিন পার্বত্য জেলার আর কোনো ইউনিয়ন বা পৌরসভায় খ্রিস্টানের অংশ অর্ধেক ছোঁয়নি; রাঙামাটিতে সর্বোচ্চ বিলাইছড়ির Barathali ইউনিয়ন, 39.55%।
তিন জেলায় খ্রিস্টান 1991 সালে 22,206 থেকে 2022 সালে 60,008 — বৃদ্ধি 37,802 জন বা 170%। সবচেয়ে বড় লাফ 1991–2001 দশকে (+18,866)। মোট জনসংখ্যায় তাঁদের অংশ 1991 সালে 2.28%, 2001 সালে 3.08%, আর 2011 ও 2022 — দুই শুমারিতেই 3.26%। হিসাবটি Zila Report 2011 Table PT14 ও District Report 2022 Table 3.1.13-এর সংখ্যা থেকে।
2022 সালে দেশে খ্রিস্টান 4,88,583 জন (District Report 2022-এর পরিশিষ্ট, পৃ. 250), যার 60,008 জন পার্বত্য তিন জেলায় — প্রায় 12.3%। 1991 সালে অংশটি ছিল 6.4%, 2001 সালে 10.6%, 2011 সালে 11.7%। কেবল বান্দরবানেই দেশের খ্রিস্টানদের প্রায় 9.6% থাকেন।
মাসিক আলকাউসারের সেপ্টেম্বর 2011 সংখ্যার একটি লেখা থেকে, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অপ্রকাশিত প্রতিবেদনের সারাংশ উদ্ধৃত করেছে। দাবি অনুযায়ী 1992–2010-এ খাগড়াছড়িতে 4,031, বান্দরবানে 6,480, রাঙামাটিতে প্রায় 1,690 পরিবার। শুমারিতে 1991–2011-এ তিন জেলায় খ্রিস্টান বেড়েছেন 29,860 জন, আর খাগড়াছড়িতে মাত্র 3,131 জন।
না। BBS-এর জেলা-প্রতিবেদনে ধর্মের ছক আর জনগোষ্ঠীর ছক আলাদা; কোন জনগোষ্ঠীর কতজন কোন ধর্মের, এমন আড়াআড়ি ছক নেই। তাই “প্রায় সব বম খ্রিস্টান” (বাংলাপিডিয়া) ধরনের কথাগুলো বর্ণনামূলক, শুমারির সংখ্যা নয়। শুমারি ধর্ম লেখে পাঁচ ঘরে — মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য।
মূলত গ্রামে। 2011 সালে তিন জেলার খ্রিস্টানদের 91.8% গ্রামে ছিলেন। 2022 সালের ছকে শহরের অংশ 25.1%, কিন্তু 2022 সালে উপজেলা সদর ও গ্রোথ সেন্টারকেও শহর ধরা হয়েছে, 2011 সালে কেবল পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন। তাই দুই বছরের গ্রাম-শহর ভাগ সরাসরি তুলনীয় নয়। 2022 সালে বান্দরবানের গ্রামে খ্রিস্টান 12.37%, শহরে 5.96%।
BBS জাতীয় প্রতিবেদনের Table P15 অনুযায়ী 2022 সালে 7 বছর ও তার বেশি বয়সী খ্রিস্টানদের সাক্ষরতার হার খাগড়াছড়িতে 75.49%, বান্দরবানে 58.33% আর রাঙামাটিতে 58.18%; দেশের সব খ্রিস্টানের হার 76.88%। 2011 সালের Zila Report-এর Table P09-এ হার ছিল যথাক্রমে 53.50%, 37.00% ও 44.89%। তিন জেলাতেই খ্রিস্টান নারীদের হার পুরুষদের চেয়ে কম।
BBS জাতীয় প্রতিবেদনের Table P08 অনুযায়ী 2022 সালে তিন জেলার খ্রিস্টানদের মধ্যে পুরুষ 30,100 আর নারী 29,907 জন — প্রতি 100 নারীতে প্রায় 100.6 পুরুষ। বান্দরবানে পুরুষ 23,569, নারী 23,484; রাঙামাটিতে 4,297 ও 4,250; খাগড়াছড়িতে 2,234 ও 2,173।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:খাগড়াছড়ি, পার্বত্য চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।