Jumjournal Logo

পাওমুম থারক্লা: লামার ম্রো শিশুদের স্কুল ও ছাত্রাবাস, নিজের ভাষায় পড়ার উদ্যোগ

Last updated Nov 3rd, 2026

1

নীল আকাশের নিচে সবুজ গাছে ঢাকা পাহাড়ের সারি, সামনে ঘন ঝোপ — বান্দরবানের লামা উপজেলার সুখিয়া ভ্যালি

বান্দরবানে ম্রো ভাষায় পড়াশোনার স্কুল হিসেবে সংবাদমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি এসেছে লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ‘পাওমুম থারক্লা’। প্রথম আলোর 13 ডিসেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সেখানে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ছে 68 জন ম্রো শিশু, যাদের 30 জন থাকে হোস্টেলে; শিশুরা নিজের ভাষা শেখার পাশাপাশি বাংলা, গণিত ও ইংরেজি শেখে। স্কুলটি বেসরকারি, আর ম্রো ভাষা সরকারের মাতৃভাষা-পাঠ্যবইয়ের পাঁচ ভাষার তালিকায় নেই।

প্রথম আলোর সেই প্রতিবেদন স্কুলঘরের বর্ণনা দিয়েছে এভাবে: দুর্গম পাহাড়ে গাছ, বাঁশ আর ছনের ছাউনির ছোট্ট একটি স্কুল, যার শিশুরা “কেউ কোনো দিন লামার বাইরেও যায়নি”। চার বছর আগে, ফেব্রুয়ারি 2021-এ প্রথম আলোর আরেক প্রতিবেদক সেখানে তিন দিন কাটিয়ে লিখেছিলেন ফাদু খালের ওপর বাঁশের সাঁকো আর ফাইন ছড়ার মিলনস্থল থেকে পাহাড়ে ওঠার পথের কথা। এই লেখা সেই স্কুলের হিসাব: কোথায়, কবে, কারা শুরু করলেন, কতজন পড়ে, কী পড়ানো হয়, টাকা আসে কোথা থেকে, পরীক্ষার ফল কী — আর বিভিন্ন বছরের প্রতিবেদনে সংখ্যা ও নাম কোথায় মেলে না। প্রতিটি সংখ্যার পাশে উৎস ও সাল দেওয়া হলো, কারণ একই স্কুলের শিক্ষার্থীসংখ্যা উৎসভেদে 68 থেকে 110 পর্যন্ত।

ম্রো লিপির ইতিহাস ও বর্ণমালা আছে ম্রো লিপি: মেনলে ম্রোর বর্ণমালা, 31টি অক্ষর, ইউনিকোড ও স্কুল লেখায়; ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বইয়ের কথা ‘ততোং’: ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই কীভাবে তৈরি হলো লেখায়; ম্রো ভাষায় রূপকথা ও শিশুপাঠের বইয়ের কথা ইয়াংঙান ম্রো ও তাঁর বই লেখায়। সরকারি মাতৃভাষা-পাঠ্যবই কর্মসূচির পুরো সময়রেখা আছে মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম কবে শুরু লেখায়। এখানে সেগুলো আবার বলা হবে না।

এই লেখায়

  1. বান্দরবানে ম্রো ভাষায় পড়াশোনার স্কুল: পাওমুম থারক্লা কোথায়
  2. নামের মানে কী: “ফুলের কলি”, “কুঁড়ি” না “ফুলের বাগান”
  3. কবে শুরু: 2014, 2016 নাকি 2017
  4. কারা শুরু করেছিলেন, শুরুর গল্প কোন উৎসে কেমন
  5. কতজন শিশু পড়ে: 2021 থেকে 2026 পর্যন্ত সংখ্যার ছক
  6. কোন শ্রেণি পর্যন্ত, কী পড়ানো হয়
  7. ম্রো ভাষা কি সরকারি মাতৃভাষা-পাঠ্যবইয়ের তালিকায় আছে
  8. শিক্ষক কারা
  9. পরীক্ষার ফল ও ঝরে পড়া
  10. হোস্টেল, ফি ও বছরের খরচ
  11. বাঁশ-ছনের স্কুলঘর: কে নকশা করলেন, কী দিয়ে তৈরি
  12. ঢাকায় ‘পাওমুম পার্বণ’ 2025
  13. 2026 সালে স্কুলটি কোন অবস্থায়
  14. লামা ও গজালিয়ায় ম্রো জনসংখ্যা ও সাক্ষরতা: জনশুমারি 2022
  15. একই সংগঠকদের অন্য স্কুল, আর বান্দরবানের অন্য ম্রো উদ্যোগ
  16. উৎসভেদে অমিল: এক ছকে
  17. সচরাচর জিজ্ঞাসা
  18. যা এখনো জানা যায়নি
  19. তথ্যসূত্র

বান্দরবানে ম্রো ভাষায় পড়াশোনার স্কুল: পাওমুম থারক্লা কোথায়

পাওমুম থারক্লা বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নে। প্রথম আলোর 22 অক্টোবর 2026-এর প্রতিবেদন জায়গাটি আরও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে: লামা উপজেলা সদর থেকে প্রায় 25 কিলোমিটার দূরে, গজালিয়া (প্রতিবেদনের বানানে ‘গোজালিয়া’) ইউনিয়নের 9 নম্বর ওয়ার্ডের চিংককপাড়ায়। প্রায় সব উৎস এলাকাটিকে “দুর্গম” বলেছে।

ফেব্রুয়ারি 2021-এ প্রথম আলোর প্রতিবেদক সজীব মিয়া লিখেছেন, বাঁশের সাঁকোর নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের নাম ফাদু; কয়েক কদম সামনে তাতে এসে মিশেছে ফাইন নামের একটি ছড়া, আর সেই মিলনস্থল থেকে পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে হয়। সেই পাহাড়ের গোড়ায় তখন ছিল বাঁশ-কাঠ আর টিনের বিদ্যালয়টি — শ্রেণিকক্ষ ছাড়া একটিমাত্র দপ্তর-কক্ষ; তার কিছুটা নিচে রান্নাঘরসহ একটি মাচাং, যেখানে আবাসিক শিশুরা থাকত। একই প্রতিবেদন জানায়, বিদ্যালয়টি ঘিরে একটি বাজারও গড়ে উঠেছে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এপ্রিল 2023-এর একটি লেখা অনুযায়ী 2017 সালে যাত্রা শুরুর সময় স্কুলটি ছিল একটি পাহাড়ের চূড়ায় একটিমাত্র ছোট ঘর, চারপাশে চারটি ছোট গ্রাম। আশপাশের কতটি পাড়া থেকে শিশুরা আসে, সে হিসাব উৎসভেদে আলাদা: প্রথম আলো (2021) ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ভিডিও (2021, 2025) বলেছে 5টি ম্রো পাড়া; স্কুলের ওয়েবসাইট ও আর্থ আইল্যান্ড জার্নাল (2026) বলেছে 6টি ম্রো গ্রাম।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মানচিত্রে লামা উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন রঙে আলাদা করা; মাঝখানে সবুজ রঙে 47-গজালিয়া ইউনিয়ন, দক্ষিণে লামা পৌরসভা ও মাতামুহুরী নদী
লামা উপজেলার মৌজা জিওকোড মানচিত্র; সবুজ অংশটি 47-গজালিয়া ইউনিয়ন। মানচিত্রে স্কুলের অবস্থান চিহ্নিত নেই। উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, Small Area Atlas of Bangladesh – Bandarban Zila (2017), উইকিমিডিয়া কমন্সের মাধ্যমে · বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশনা

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022-এর বান্দরবান জেলা প্রতিবেদন (জুন 2024) অনুযায়ী গজালিয়া ইউনিয়নে 3,106টি খানায় মোট 13,880 জন মানুষ থাকেন (সারণি 01, পৃ. 107)। মানচিত্রে ইউনিয়নটি লামা উপজেলার মাঝখানে, পূর্বে রুমা ও থানচি উপজেলার সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। গজালিয়ার সাক্ষরতা ও ম্রো জনসংখ্যার হিসাব আছে নিচে জনশুমারির অংশে।

নামের মানে কী: “ফুলের কলি”, “কুঁড়ি” না “ফুলের বাগান”

‘পাওমুম থারক্লা’ ম্রো ভাষার শব্দ। প্রথম আলো (ডিসেম্বর 2025) এর অর্থ লিখেছে “ফুলের কলি ফোটাতে হবে”; একই পত্রিকার 2021-এর প্রতিবেদনের শিরোনাম “কুঁড়ি থেকে ফুল ফোটানোর স্কুল”। ইংরেজি উৎসগুলোর অর্থ আলাদা — কোনোটি “কুঁড়ি”, কোনোটি “ফুলের বাগান”। নামটি কে রেখেছিলেন, তা একটিমাত্র উৎসে আছে।

উৎস ও তারিখ নামের বানান অর্থ যেভাবে লেখা
প্রথম আলো, 27 ফেব্রুয়ারি 2021পাওমুম থারক্লাশিরোনামে “কুঁড়ি থেকে ফুল ফোটানোর স্কুল”
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ভিডিও, 28 সেপ্টেম্বর 2021পাওমুম থারাক্লাশিরোনামে “কলি থেকে ফুল ফোটানোর স্কুল”
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 11 এপ্রিল 2023Pawmum Tharkla (একবার Pawmum Thakla)“flower garden” (ফুলের বাগান); নাম রেখেছিলেন স্থানীয় কারবারি
টিবিএস গ্র্যাজুয়েটস, 9 জুন 2025Paomum Tharkla“new bud” বা “blossoming from a bud”
প্রথম আলো, 13 ডিসেম্বর 2025পাওমুম থারক্লা“ফুলের কলি ফোটাতে হবে”
সময়ের কণ্ঠস্বর, 16 মার্চ 2026পাওমুম থারকলা“নতুন কুঁড়ি” (স্কুলের বিকল্প নাম হিসেবে)
আর্থ আইল্যান্ড জার্নাল, শরৎ 2026Pawmum Tharkla“tiny bud” (ছোট্ট কুঁড়ি)

স্কুলের নিজের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পাতায় বাংলা বানান ‘পাওমুম থারক্লা’, ইংরেজিতে ‘Pawmum Tharkla’। শব্দ দুটির কোনটির অর্থ ‘ফুল’ আর কোনটির ‘কলি’ বা ‘বাগান’ — শব্দভেঙে সে ব্যাখ্যা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি, আর ম্রো ভাষার কোনো অভিধানে মিলিয়ে দেখাও যায়নি।

কবে শুরু: 2014, 2016 নাকি 2017

প্রতিষ্ঠার সাল নিয়ে উৎসগুলো তিনটি আলাদা সাল দেয়। স্কুলের ওয়েবসাইট লেখে “Est. 2014” এবং 2014 সালে 20 জন শিক্ষার্থী দিয়ে শুরু; প্রথম আলো (2025), টিবিএস গ্র্যাজুয়েটস (2025), সময়ের কণ্ঠস্বর (2026) ও আর্থ আইল্যান্ড জার্নাল (2026) লেখে 2016; প্রথম আলো (2021) ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (2023) লেখে 2017। শুরুর শিক্ষার্থীসংখ্যাও আলাদা — তিনজন, প্রায় 20 জন, নাকি “হাতে গোনা কয়েকজন”।

উৎস ও তারিখ শুরুর সাল শুরুর শিক্ষার্থী / শুরুর ঘর
প্রথম আলো, 27 ফেব্রুয়ারি 20212017 সালে “চালু হয়”আগে কারবারির বাড়িতে সান্ধ্য ক্লাস
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ভিডিও, 2021 ও 20252016 সালে “তৈরী করা হয়”উল্লেখ নেই
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 11 এপ্রিল 20232017পাহাড়চূড়ায় একটি ছোট ঘর
টিবিএস গ্র্যাজুয়েটস, 9 জুন 20252016ছনের ঘরে কয়েকজন ম্রো শিশু
প্রথম আলো, 13 ডিসেম্বর 20252016 (“শুরুটা হয়েছিল ১০ বছর আগে”)তিনজন শিশু
দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ডিসেম্বর 2025“এক দশকেরও বেশি আগে”ছোট একটি বাঁশের ঘরে “হাতে গোনা কয়েকজন” শিশু
সময়ের কণ্ঠস্বর, 16 মার্চ 20262016উল্লেখ নেই
স্কুলের ওয়েবসাইট (pawmum.org), 2026201420 জন শিক্ষার্থী
আর্থ আইল্যান্ড জার্নাল, শরৎ 20262016একটি শৈলশিরায় ছনের ঘরে প্রায় 20 জন ম্রো শিশু

সালগুলো হয়তো আলাদা ঘটনার: প্রথম আলোর 2021-এর বর্ণনায় আগে কারবারির বাড়িতে সান্ধ্য ক্লাস, তারপর পাহাড় দান ও ঘর তোলা, তারপর 2017-এ “চালু”; টিবিএস গ্র্যাজুয়েটসের বর্ণনায় আগে 2016-এ ছনের ঘরে ক্লাস, পরে টিনের চালের তিন কক্ষের ঘর। কোন সালটি কোন ধাপের, তা কোনো উৎস আলাদা করে বলেনি।

কারা শুরু করেছিলেন, শুরুর গল্প কোন উৎসে কেমন

উৎসগুলোতে চারজনের নাম প্রতিষ্ঠার সঙ্গে আসে: শাহরিয়ার (বা শাহারিয়ার) পারভেজ, মেনরুং ম্রো, স্থানীয় পাড়া-কারবারি (নামের বানান উৎসভেদে ছংকক বা চংকত ম্রো) এবং উথোয়াইয়ই মারমা। কাকে ‘প্রতিষ্ঠাতা’ বা ‘সহপ্রতিষ্ঠাতা’ বলা হয়েছে, আর শুরুর গল্পটা কেমন, তা প্রতিবেদনভেদে আলাদা।

শুরুর তিনটি গল্প

ঝড়ের রাতের গল্প (প্রথম আলো, 2021): শাহরিয়ার পারভেজের বর্ণনায়, মেনরুং ম্রো তখন অন্য একটি বিদ্যালয়ে পড়াতেন। এক রাতে বাড়ি ফেরার পথে ঝড়ে তিনি এই ম্রো পাড়ায় আটকে পড়েন, কারবারির বাড়িতে আশ্রয় নেন, আর কারবারির কাছেই শোনেন যে আশপাশের পাড়ায় কোনো বিদ্যালয় নেই। মেনরুং কথাটি জানান শাহরিয়ারদের, যাঁরা “পাহাড়ে শিক্ষা নিয়ে” স্বেচ্ছায় কাজ করতেন। তাঁরা শিক্ষা-উপকরণ নিয়ে কারবারির বাড়িতে সান্ধ্য ক্লাস শুরু করেন; কারবারি স্কুলের জন্য একটি পাহাড় দেন, পাড়াবাসী বাঁশ-কাঠ আর স্বেচ্ছাশ্রম দেন।

মুরগি খোঁজার গল্প (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 2023): এই লেখায় সহপ্রতিষ্ঠাতা দুজন — শাহরিয়ার পারভেজ ও “Man Rong Mro”। তাঁরা লামায় একটি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছিলেন এবং হাঁস-মুরগি পালনের মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা তোলার চেষ্টা করছিলেন; মুরগি খুঁজতে দূরের গ্রামে গিয়েই মেনরুং এই জনপদের কথা জানেন। গ্রামের কাছে কোনো স্কুল ছিল না।

ঘুরতে গিয়ে পরিচয়ের গল্প (প্রথম আলো, 2025): শাহারিয়ার পারভেজ তখন শিক্ষার্থী; ঘুরতে গিয়ে লামার পাহাড়বাসীর সঙ্গে পরিচয় হয়, জানতে পারেন দুর্গম পাহাড়ের শিশুরা স্কুলে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে না। তিনি পাড়া-কারবারি চংকত ম্রোর বাড়িতে সান্ধ্য ক্লাস দিয়ে যাত্রা শুরু করেন; কিছুদিন পর কারবারি একটি পাহাড় অনুদান দেন। পরে যুক্ত হন লামার চেয়ারম্যানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উথোয়াইয়ই মারমা। এই প্রতিবেদনে মেনরুং ম্রোর নাম নেই।

কাকে কোন ভূমিকায় দেখা যায়

নাম (উৎসের বানানে) যে ভূমিকায় উৎস
শাহরিয়ার / শাহারিয়ার পারভেজ (Shahriar / Shahariar / Shariar Parvez)“বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতাদের একজন” (2021); সহপ্রতিষ্ঠাতা (2023, 2025); ফ্রিল্যান্সার (টিবিএস গ্র্যাজুয়েটস 2025, সময়ের কণ্ঠস্বর 2026); ঢাকার একটি ক্রিয়েটিভ এজেন্সির জ্যেষ্ঠ কপিরাইটার (প্রথম আলো 2025); “ঢাকাভিত্তিক কমিউনিটি এডুকেটর” (আর্থ আইল্যান্ড 2026)সব উৎস
মেনরুং ম্রো (Man Rong Mro)প্রাথমিক বিদ্যালয়টির পরিচালক (2021); সহপ্রতিষ্ঠাতা (2023); “স্থানীয় শিক্ষক” ও সহপ্রতিষ্ঠাতা (2026)প্রথম আলো 2021; টিবিএস 2023; আর্থ আইল্যান্ড 2026
কারবারি ছংকক ম্রো / চংকত ম্রো (Chong Kok Mro)স্কুলের জন্য পাহাড় দান; বিদ্যালয়ের সভাপতি (2021); নাম রেখেছিলেন (2023); সহপ্রতিষ্ঠাতা (2026)প্রথম আলো 2021 ও 2025; টিবিএস 2023; আর্থ আইল্যান্ড 2026
উথোয়াইয়ই মারমা (Uthoiyoy Marma; সময়ের কণ্ঠস্বরে ‘উথাইয়া মারমা’)চেয়ারম্যানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক; সহপ্রতিষ্ঠাতা; ‘পাওমুম পার্বণ’-এর প্রধান সংগঠকপ্রথম আলো 2025; টিবিএস গ্র্যাজুয়েটস 2025; ডেইলি স্টার ও টিবিএস ডিসেম্বর 2025; সময়ের কণ্ঠস্বর 2026

কারবারির নামের দুটি বাংলা বানান — প্রথম আলোর 2021-এর প্রতিবেদনে ‘ছংকক ম্রো’, 2025-এর প্রতিবেদনে ‘চংকত ম্রো’। ইংরেজিতে আর্থ আইল্যান্ড লিখেছে ‘Chong Kok Mro’। 22 অক্টোবর 2026-এর প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জায়গার নাম ‘চিংককপাড়া’। কোন বানানটি ম্রো উচ্চারণের সবচেয়ে কাছাকাছি, তা কোনো উৎস বলেনি।

টিবিএস গ্র্যাজুয়েটসের লেখায় উথোয়াইয়ই মারমার ভূমিকা আলাদা করে আছে: 2016-এ শাহারিয়ার পারভেজ ও আরও কয়েকজন গজালিয়ার একটি দুর্গম ম্রো গ্রামে কমিউনিটি-ভিত্তিক স্কুল শুরু করেন; সেই গ্রামে বেড়াতে গিয়ে উথোয়াইয়ই তাঁর সঙ্গে পরিচিত হন, এবং দুজনে মিলে ছনের স্কুলটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন; সম্মিলিত চেষ্টায় টিনের চালের তিন কক্ষের একটি ঘর ওঠে। একই লেখায় তাঁর উদ্ধৃতি: “We sold paintings, fruits, and dreams, anything to keep the doors of learning open.”

কতজন শিশু পড়ে: 2021 থেকে 2026 পর্যন্ত সংখ্যার ছক

সর্বশেষ সংবাদ-প্রতিবেদনের হিসাবে শিক্ষার্থী 78 জন (সময়ের কণ্ঠস্বর, 16 মার্চ 2026); তার তিন মাস আগে প্রথম আলো লিখেছে 68 জন, যার 30 জন হোস্টেলে (13 ডিসেম্বর 2025)। স্কুলের ওয়েবসাইট ও আর্থ আইল্যান্ড জার্নাল (শরৎ 2026) দুটিই লেখে 110 জন। করোনার আগে সংখ্যা ছিল 120 (প্রথম আলো, 2025)।

সময় (উৎস) মোট শিক্ষার্থী আবাসিক পাড়া/গ্রাম
করোনার আগে (প্রথম আলো, 13 ডিসেম্বর 2025-এর বর্ণনা)120——
ফেব্রুয়ারি 2021 (প্রথম আলো, 27 ফেব্রুয়ারি 2021)8535 (বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলার দুর্গম পাড়া থেকে)আশপাশের 5টি ম্রো পাড়া
সেপ্টেম্বর 2021 (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ভিডিওর বিবরণ)85355টি ম্রো পাড়া
এপ্রিল 2023 (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড)নতুন ভবনের নকশা “প্রায় 100 জন” শিক্ষার্থীর জন্য—চারটি ছোট গ্রাম (2017-এর বর্ণনা)
মার্চ 2025 (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ভিডিওর বিবরণ)75405টি ম্রো পাড়া
ডিসেম্বর 2025 (প্রথম আলো, 13 ডিসেম্বর 2025)6830—
মার্চ 2026 (সময়ের কণ্ঠস্বর, 16 মার্চ 2026)78 (“পাহাড়ি শিশু”)——
2026, তারিখহীন (স্কুলের ওয়েবসাইট)110; মেয়ে 38%“residential school for 110 children”6টি ম্রো গ্রাম
শরৎ 2026 (আর্থ আইল্যান্ড জার্নাল)110110 (“residential students”)6টি ম্রো গ্রাম

প্রথম আলো (2025) সংখ্যা কমার দুটি কারণ লিখেছে: করোনার সময় অনেক শিশু স্কুল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে, আর জুমচাষে মা-বাবার সঙ্গে কাজ করতে হয় বলে অনেকে ঝরে পড়ে। ওয়েবসাইটের 110 আর আর্থ আইল্যান্ডের 110 একই উৎস থেকে নেওয়া কি না, তা জানা যায়নি; আর্থ আইল্যান্ড স্কুলের ওয়েবসাইট থেকে অন্তত একটি বাক্য উদ্ধৃত করেছে।

প্রথম আলো (2021) ও প্রথম আলো (2025) — দুটিতেই লেখা, শিক্ষার্থীদের প্রায় সবাই বা বেশির ভাগ “পরিবারের প্রথম স্কুলপড়ুয়া”। 2021-এর প্রতিবেদন একজন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর কথাবার্তা তুলে ধরেছে, যে বাংলা অনেকটা বোঝে কিন্তু বলতে আটকায়; প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা এগিয়েছে একজন শিক্ষকের দোভাষীগিরিতে।

কোন শ্রেণি পর্যন্ত, কী পড়ানো হয়

প্রথম আলো (2025) লিখেছে, 2,500 বর্গফুটের স্কুলে শিশুরা পড়ে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত; নিজের ভাষা শেখার পাশাপাশি বাংলা, গণিত ও ইংরেজি। 2021-এ সহপ্রতিষ্ঠাতা শাহরিয়ার পারভেজ প্রথম আলোকে বলেছিলেন, “তাঁদের ভাষায় পড়ানো হয়। সঙ্গে বাংলা, ইংরেজি, গণিত।” কোন শ্রেণিতে কত ঘণ্টা ম্রো ভাষায় পড়ানো হয়, কোন বই দিয়ে — কোনো উৎসে তা নেই।

উৎস ধরে পাঠের বিবরণ

  • প্রথম আলো, 2021: খুদে পড়ুয়াদের ম্রো বর্ণমালা শেখানো হয় (একটি ছবির ক্যাপশন); বাংলা, ইংরেজি, গণিত।
  • দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ভিডিও, 2021 ও 2025: “এখানে তাঁদের ভাষায় পড়ানো হয়। সঙ্গে বাংলা, ইংরেজি, গণিতও শেখানো হয়।”
  • প্রথম আলো, 2025: নিজের ভাষা শেখার পাশাপাশি বাংলা, গণিত ও ইংরেজি।
  • স্কুলের ওয়েবসাইট, 2026: প্রাথমিক শিক্ষা “বাংলা ও ক্রামা (ম্রো লিপি)” দুই মাধ্যমে; জাতীয় কাঠামোর বাইরে জীবনদক্ষতা, কৃষি, হস্তশিল্প ও আত্মরক্ষা; প্রতিটি শিশু বাংলার পাশাপাশি ক্রামা শেখে; ঐতিহ্যবাহী ম্রো নাচ, প্লুং বাঁশি ও মৌখিক ইতিহাস থেকে নেওয়া নাটক; সাইটের ভাষায় সংস্কৃতি “পাঠ্যক্রমের অর্ধেক”। বছরে 11 মাস আবাসিক ও অনাবাসিক সহায়তা।
  • আর্থ আইল্যান্ড জার্নাল, 2026: প্রাথমিক বিদ্যালয় সার্টিফিকেটের জন্য দরকারি বাংলা, গণিত, বিজ্ঞান ইত্যাদি; চাষাবাদ, হস্তশিল্প ও আত্মরক্ষা; বীজ গুনে গণিত, বনে হেঁটে গাছ চিনে জীববিজ্ঞান; সৌরপ্যানেলে চলা ডিজিটাল সরঞ্জাম।

ওয়েবসাইট ও আর্থ আইল্যান্ড ‘ক্রামা’ শব্দটি লিপির নাম হিসেবে ব্যবহার করেছে। ম্রো লিপি ও ক্রামা ধর্মের নাম ও উৎপত্তির বিস্তারিত আছে ম্রো লিপির লেখায়; প্লুং বাঁশির ধরন আছে প্লুং বাঁশি ম্রো সমাজে কীভাবে বানানো হয় লেখায়।

স্কুলের দিন: যা প্রতিবেদনে দেখা গেছে

প্রথম আলোর প্রতিবেদক 21 ফেব্রুয়ারি 2021-এর সকালের প্রাত্যহিক সমাবেশের বর্ণনা দিয়েছেন: সারিবদ্ধ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে জাতীয় সংগীত, তার আগে প্রভাতফেরি, আর কাঠের শহীদ মিনারে পাহাড় থেকে আনা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা। করোনার কারণে কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর তখন সবে শ্রেণিকক্ষে পাঠ শুরু হয়েছে; বিদ্যালয়ের সভাপতি কারবারির কথায়, দীর্ঘ বন্ধে ঝরে পড়ার আশঙ্কা থেকে “নিজেদের মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে” মাসখানেক আগে চালু করা হয়েছিল। শেষ বিকেলে কেউ ছোট মাঠে ফুটবল খেলছিল, কেউ বিকেলে পড়তে বসেছিল।

পাঁচ বছর পর স্কুলের ওয়েবসাইটের সংবাদ-তালিকায় 21 ফেব্রুয়ারি 2026-এর একটি এন্ট্রি আছে: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ক্রামা দুই ভাষাকেই ফুল, পতাকা আর “নিজেদের বিপন্ন লিপিতে” হাতে লেখা চিঠি দিয়ে সম্মান জানিয়েছে। একই তালিকায় 22 অক্টোবর 2025-এর একটি তিন দিনের কর্মশালার কথা আছে, যেখানে ম্রো প্রবীণেরা বাঁশের বুনন ও বাঁশি বানানো শিখিয়েছেন; আর 2 ডিসেম্বর 2025-এ আশপাশের পাহাড় থেকে শিক্ষার্থীদের 47 ব্যাগ প্লাস্টিক বর্জ্য তোলার কথা।

ম্রো ভাষা কি সরকারি মাতৃভাষা-পাঠ্যবইয়ের তালিকায় আছে

না। 2017 সাল থেকে সরকার পাঁচটি ভাষায় প্রাক্‌-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের মাতৃভাষা-পাঠ্যবই দিচ্ছে — চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (ককবরক), গারো ও সাদরি। বাংলা ট্রিবিউনের 21 ফেব্রুয়ারি 2023-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী এমএলই ফোরামের সুপারিশে ম্রো ছিল দ্বিতীয় পর্যায়ের ছয় ভাষার প্রথম নাম; সেই পর্যায় 2020-এর দিকে শুরুর কথা থাকলেও শুরু হয়নি।

বাংলা ট্রিবিউনের সেই প্রতিবেদনে দ্বিতীয় পর্যায়ের তালিকা: “ম্রো, মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া, মণিপুরী মৈতেই, তঞ্চঙ্গা, খাসিয়া এবং বম”। প্রতিবেদন লিখেছে, পাঁচটি ভাষার কার্যক্রম চালুর পর 2020 সালের দিকে দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর কথা ছিল, করোনার কারণে পিছিয়ে পড়ে, আর করোনা শেষ হলেও শুরু হয়নি। এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান সেখানে বলেছেন, দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য কারিকুলাম প্রস্তুত, তবে মন্ত্রণালয়, এমএলই ফোরাম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও এনসিটিবিকে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 2026 শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এনসিটিবির তালিকায় পাঁচটি ভাষাই আছে — এর পূর্ণ সময়রেখা ও দলিল আছে মাতৃভাষা-পাঠ্যবইয়ের সময়রেখা লেখায়।

যে পাঁচ ভাষায় বই আছে, সেখানেও পড়ানো নিয়ে সমস্যা আছে। প্রথম আলোর 20 ফেব্রুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদন (বুদ্ধজ্যোতি চাকমা) অনুযায়ী 2017 থেকে তিন পার্বত্য জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা শিশুদের প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণির মাতৃভাষার বই দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু শিক্ষক না থাকায় নয় বছরেও পাঠদান শুরু হয়নি। একই প্রতিবেদনে লামা পৌরসভার নুনারবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহেদ সরোয়ার বলেছেন, তৃতীয় শ্রেণির রুটিনে সপ্তাহে এক দিন বিষয়টি রাখা হলেও কে, কীভাবে পড়াবে তা বলা হয়নি। বান্দরবানের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিণয় চাকমা জানিয়েছেন, তিন পার্বত্য জেলায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ জেলা পরিষদে ন্যস্ত।

ম্রো শিশুদের বেলায় সরকারি বই-ই নেই। 2019 সালের আগস্টে দ্য ডেইলি স্টারের একটি প্রতিবেদনে (Sanjoy Kumar Barua) বান্দরবানের তৎকালীন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (Tabibur Rahman) বলেছিলেন, জেলায় চাকমা, মারমা ও ককবরক (ত্রিপুরা) ভাষায় প্রায় 10,000 বই বিতরণ করা হয়েছে, কিন্তু পড়ানোর মতো দক্ষ শিক্ষক খুব কম। একই প্রতিবেদনে একজন ম্রো লেখক (Sing Young Mro) বলেছেন, ভাষার বাধাই প্রাথমিক স্তরে ম্রোসহ আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার প্রধান কারণ। পাওমুম থারক্লায় ম্রো ভাষা পড়ানো তাই সরকারি কর্মসূচির অংশ নয়, স্কুলের নিজের সিদ্ধান্ত। স্বেচ্ছাসেবীরা সরকারি স্কুলে কীভাবে অন্য একটি ভাষার বর্ণমালা পড়ান, তার তুলনা পাওয়া যাবে দীঘিনালায় চাকমা বর্ণমালা শেখানোর লেখায়।

উথোয়াইয়ই মারমা প্রথম আলোকে (2025) স্কুলের ভাষা-ভাবনা ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে: “ম্রো ভাষা ও সংস্কৃতি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। নিজের ভাষায় শিক্ষা শুরু করলে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ে।”

শিক্ষক কারা

শিক্ষকেরা ম্রো সম্প্রদায়ের তরুণ — এ কথা প্রথম আলো (2021) ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ভিডিও (2021, 2025) দুটিতেই আছে। সংখ্যা উৎসভেদে চার বা পাঁচ: প্রথম আলো 2021 ও 2025-এ চারজন (2025-এ সঙ্গে একজন বাবুর্চি), স্কুলের ওয়েবসাইটে (2026) পাঁচজন।

প্রথম আলোর 2021-এর প্রতিবেদনে চার শিক্ষকের নাম আছে — ক্রংচুং ম্রো, কাইংপং ম্রো, মেংকং ম্রো ও মাংয়া ম্রো। প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁরা নিজেরাও তখন শিক্ষার্থী: 20 বছর বয়সী ক্রংচুং লামার একটি মিশনারি স্কুল থেকে সেবার এসএসসি দেবেন, কাইংপং সেবার উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। প্রতিবেদক লিখেছেন, সবার গল্প কমবেশি এক — পাহাড়ে বেড়ে ওঠা, কষ্টে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনো। কাইংপং ম্রোর উদ্ধৃতি: “আমরা ভাষাসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি।”

শিক্ষকের বেতন সম্পর্কে একটিই তথ্য পাওয়া যায় — স্কুলের ওয়েবসাইটে দাতাদের জন্য দেওয়া হিসাব: এক বছরের জন্য একজন শিক্ষকের পূর্ণ বেতন 60,000 টাকা, আর ওয়েবসাইটের ভাষায় প্রতিটি বাড়তি শিক্ষক মানে “আরও 22 জন ম্রো শিশু” পূর্ণ মনোযোগে পড়ানো। এটি স্কুলের প্রকাশিত অঙ্ক; শিক্ষকেরা বাস্তবে কত পান, তা অন্য কোনো উৎসে নেই।

পরীক্ষার ফল ও ঝরে পড়া

প্রথম আলোর ফেব্রুয়ারি 2021-এর প্রতিবেদনে পরিচালক মেনরুং ম্রো বলেছেন, স্কুলের পাঁচজন শিক্ষার্থী “প্রথমবারের মতো এবার” প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। স্কুলের ওয়েবসাইট (2026) লিখেছে, 25 জন পিএসসি পাস করেছে। প্রথম আলোর ডিসেম্বর 2025-এর প্রতিবেদনে উথোয়াইয়ই মারমা বলেছেন, এই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে এখন অন্য স্কুল বা কলেজে পড়ছে এমন শিক্ষার্থী 12 জন।

সূচক সংখ্যা কে বলেছেন, কোথায়, কবে
প্রথমবার পিইসি উত্তীর্ণ5 জনমেনরুং ম্রো, প্রথম আলো, 27 ফেব্রুয়ারি 2021
পিএসসি উত্তীর্ণ (মোট)25 জনস্কুলের ওয়েবসাইট, 2026 (তারিখহীন)
পঞ্চম শ্রেণির পর অন্য স্কুল বা কলেজে পড়ছে12 জনউথোয়াইয়ই মারমা, প্রথম আলো, 13 ডিসেম্বর 2025
করোনার আগে সর্বোচ্চ শিক্ষার্থী120 জনপ্রথম আলো, 13 ডিসেম্বর 2025

পিইসি-র বছরটি প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট করা নেই — শুধু “এবার”। 25 জন কোন কোন বছরে পাস করেছে, আর পিএসসি দিতে গিয়ে কেউ অকৃতকার্য হয়েছে কি না, ওয়েবসাইট তা বলেনি। ঝরে পড়ার হার নিয়ে উৎসগুলোর বক্তব্য দুই রকম: প্রথম আলো (2021) লিখেছে, অনাবাসিকদের বিনা পয়সায় পড়ানো হয় বলে এখানে ঝরে পড়ার হার কম; প্রথম আলো (2025) লিখেছে, করোনায় অনেকে স্কুল ছেড়েছে, জুমের কাজে অনেকে ঝরে পড়ে, আর অনেকে পঞ্চম শ্রেণির পর আর পড়া চালাতে পারে না। কোনো উৎসে ঝরে পড়ার হার সংখ্যায় দেওয়া নেই।

প্রথম আলো (2021) ম্রো সম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষার হার “একেবারে কম” লিখেছে, তবে কোনো সংখ্যা দেয়নি। জনগোষ্ঠীভিত্তিক সাক্ষরতার হার জনশুমারি 2022-এর জেলা প্রতিবেদনেও নেই; ইউনিয়নভিত্তিক হার আছে, যা নিচে দেওয়া হলো।

হোস্টেল, ফি ও বছরের খরচ

অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে পড়ে; হোস্টেলে থাকার জন্য বছরে 9,000 টাকা নেওয়া হয়, কিস্তিতে। টাকা দিতে না পারলে পরিবার চাল, ডাল, সবজি বা স্কুলের দরকারি কিছু দেয় — প্রথম আলোর 2021 ও 2025 দুই প্রতিবেদনেই এই হিসাব একই। প্রথম আলো (2025) লিখেছে, হোস্টেলটি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সহায়তায় তৈরি।

বছরের বাজেট: স্কুলের প্রকাশিত হিসাব

স্কুলের ওয়েবসাইট বছরের খরচ 13,95,045 টাকা (প্রায় 12,700 মার্কিন ডলার) বলে প্রকাশ করেছে, তিন খাতে ভাগ করে। আর্থ আইল্যান্ড জার্নাল (2026) স্কুল চালানোর খরচ লিখেছে “বছরে প্রায় 10,000 ডলার”।

খাত (ওয়েবসাইটের ভাষায়) বছরে (টাকা)
প্রশাসন — বেতন, কর্মী, পরিচালনা4,16,000
শিক্ষা-উপকরণ — বই, খাতা-কলম, ইউনিফর্ম1,59,650
হোস্টেল ও খাবার — খাবার, পোশাক, স্বাস্থ্যবিধি, কম্বল8,19,395
মোট13,95,045

দাতাদের জন্য ওয়েবসাইটে চারটি অঙ্ক আছে: একটি শিশুর এক মাসের খাবার 800 টাকা; একটি শিশুর পুরো বছরের খাবার, ইউনিফর্ম, বই, হোস্টেল ও পড়ার খরচ 14,000 টাকা; একজন শিক্ষকের এক বছরের বেতন 60,000 টাকা; আর কংক্রিট ছাড়া তৈরি একটি টুইন-পিট পরিবেশবান্ধব শৌচাগার 35,000 টাকা। ওয়েবসাইট নিজেকে “self-funded” বা স্বনির্ভর স্কুল বলে।

টাকা আসে কোথা থেকে

  • শিশুদের আঁকা ছবি বিক্রি: দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীরা এসে ছবি আঁকা শেখান, শিশুদের আঁকা ছবির টাকা স্কুলের তহবিলে যায় (প্রথম আলো, 2025)।
  • কনসার্ট: ঢাকায় ‘পাওমুমের জন্য গান’ শিরোনামের কনসার্টের আয় (প্রথম আলো, 2025); ওয়েবসাইট অনুযায়ী 14 জানুয়ারি 2026-এ Zhir Zhir-এর দ্বিতীয় বেনিফিট কনসার্ট ‘Concert for Pawmum 2.0’ থেকে 50,000 টাকা উঠেছে।
  • ক্রাউডফান্ডিং ও জিনিসপত্রে দান: আর্থ আইল্যান্ড (2026) লিখেছে, আয়বর্ধক হস্তশিল্প, কৃষি সমবায় ও মেডিকেল ক্যাম্প চলে ক্রাউডফান্ডিং ও জিনিসপত্রে দানের টাকায়।
  • পাহাড়বাসীর শ্রম: প্রথম আলো (2025): “কেউ পরামর্শ দেন, কেউ শ্রম দেন, কেউ দেন সামান্য সামর্থ্যের সাহায্য।”
  • জেলা পরিষদ: হোস্টেল তৈরিতে বান্দরবান জেলা পরিষদের সহায়তা (প্রথম আলো, 2025)।

টিবিএস গ্র্যাজুয়েটস (2025) উথোয়াইয়ই মারমার স্কুলগুলোর “অংশগ্রহণমূলক মডেলের” কথা লিখেছে — প্রতিটি শিশু মাসে 200 টাকা দেয়, জমি দান হিসেবে আসে, অভিভাবকেরা বাগান দেখাশোনার মতো কাজে স্বেচ্ছাশ্রম দেন, ফল বিক্রি করে টাকা তোলা হয়। এই বিবরণ তাঁর সব স্কুল মিলিয়ে, পাওমুম থারক্লার জন্য আলাদা করে নয়; প্রথম আলো (2021, 2025) পাওমুম থারক্লার অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পড়া বিনা মূল্যে বলেছে।

বাঁশ-ছনের স্কুলঘর: কে নকশা করলেন, কী দিয়ে তৈরি

প্রথম আলো (2025) লিখেছে, বুয়েটের স্থাপত্যবিদ সায়নসুর ও কৌশিক কুমারের নকশায় 2021 সালে পাওমুম থারক্লার পরিবেশবান্ধব দোতলা স্কুলঘর তৈরি হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের 11 এপ্রিল 2023-এর লেখা (Zannat Husna) অনুযায়ী স্কুলে এখন দুটি দোতলা ভবন, তৈরি কেবল স্থানীয় বাঁশ, কাঠ ও প্রাকৃতিক উপকরণে; ইট-কংক্রিট নেই, স্ক্রু-বল্টু কেবল একান্ত দরকারে।

2021 সালের ফেব্রুয়ারিতেই পুরোনো ঘর ভেঙে নতুন করে গড়ার পরিকল্পনার কথা শাহরিয়ার পারভেজ প্রথম আলোকে বলেছিলেন: শিক্ষার্থী বাড়ছে, তাই আলাদা শ্রেণিকক্ষ, দাপ্তরিক কক্ষ, শিক্ষকদের কক্ষ ও গ্রন্থাগার দরকার; বুয়েটের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় নকশা করা হয়েছে, স্থানীয় উপকরণে তৈরি হবে।

ভবনের মাপ ও উপকরণ

  • প্রধান ভবন 25 ফুট উঁচু, ছনের ছাদ 52 ফুট লম্বা ও 25 ফুট চওড়া (টিবিএস, 2023)।
  • একটি ভবনে পাঁচটি কক্ষ, দুটি বারান্দা ও একটি করিডর; শ্রেণিকক্ষ দোতলায়। নিচতলার একটি কক্ষ শিক্ষকদের, একটি বারান্দা গ্রন্থাগার হওয়ার কথা — 2023-এ নিচতলা তখনো অসমাপ্ত (টিবিএস, 2023)।
  • অন্য ভবনটি প্রায় অ্যাম্ফিথিয়েটারের মতো খোলা নকশার, বড় জমায়েতের জন্য (টিবিএস, 2023)।
  • বাঁশ রাসায়নিক দিয়ে শোধন করা; স্থানীয় নামে ‘বাইজ্যা বাঁশ’ (baijya bash) প্রায় 1,000টি ও ‘পায়া বাঁশ’ (paya bash) 15,000টি; সেগুন গাছ ও ছন; উপকরণের প্রায় অর্ধেক এসেছে পাড়াবাসীর দান থেকে (টিবিএস, 2023)।
  • স্কুলের ওয়েবসাইটের হিসাব: 1,20,000টি বাঁশের খুঁটি, 20টি সেগুন গাছ, প্রায় 1,000 আঁটি ছন, আর শূন্য গ্রাম কংক্রিট।
  • পুরো স্কুলের আয়তন 2,500 বর্গফুট (প্রথম আলো, 2025)।

বাঁশের সংখ্যা দুই উৎসে আলাদা: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (2023) লিখেছে প্রায় 1,000টি বাইজ্যা বাঁশ ও 15,000টি পায়া বাঁশ, স্কুলের ওয়েবসাইট লিখেছে 1,20,000টি বাঁশের খুঁটি। দুটি সংখ্যা একই কাজের হিসাব কি না — নাকি ওয়েবসাইটের অঙ্কে পরের নির্মাণও ধরা আছে — তা কোনো উৎস বলেনি।

নকশাকার সায়ন সুরের (টিবিএস লিখেছে “Sayon Sur”, প্রথম আলো “সায়নসুর”) পরিচয় টিবিএস দিয়েছে বুয়েটের স্নাতক এবং রামুর বিদ্যানন্দ স্কুল নির্মাণ দলের সদস্য হিসেবে। নকশা নিয়ে তাঁর কথা: “We knew we did not want to build something alien.” নিচতলা খোলা রাখার দুটি কারণ তিনি বলেছেন — সেখানে কমিউনিটির স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন কর্মসূচি হবে, আর নার্সারি ও প্রথম শ্রেণির শিশুরা নিয়মিত স্কুলে এসে খেলবে।

ঢাকায় ‘পাওমুম পার্বণ’ 2025

17 থেকে 24 ডিসেম্বর 2025 ঢাকার ধানমন্ডিতে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে স্কুলটি ‘পাওমুম পার্বণ 2025: ফ্রম হিলস টু হোপ’ নামে সপ্তাহব্যাপী উৎসব করে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (19 ডিসেম্বর 2025) লিখেছে, উৎসবটি প্রতিবছর স্কুলপ্রাঙ্গণে হয়; সেবার প্রথম শহরে আনা হয়। বেশির ভাগ শিশুর এটিই ছিল পাহাড়ের বাইরে প্রথম যাত্রা।

কতজন এসেছিলেন, সে হিসাব উৎসভেদে আলাদা: প্রথম আলো (13 ডিসেম্বর 2025) লিখেছে, স্কুলের 26 শিশুসহ ম্রো জনগোষ্ঠীর 40 জন; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (14 ডিসেম্বর 2025) ও আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের ইভেন্ট-পাতা লিখেছে, ভ্রমণ সহযোগী Shohoz “40 Mro children and community members”-এর লামা-ঢাকা যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে।

  • অনুষ্ঠানসূচি: শিশুদের আঁকা ছবি, বাঁশের কাজ, আলোকচিত্র, বুনন, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র; ম্রো নাচ-গান ও প্লুং বাঁশি; কার্টুন ও ক্যালিগ্রাফি কর্মশালা; প্রাচ্যনাটের সঙ্গে ম্রো শিশুদের যৌথ নাটক (দ্য ডেইলি স্টার, 22 ডিসেম্বর 2025; টিবিএস, 19 ডিসেম্বর 2025)।
  • সহযোগী: Shohoz (ভ্রমণ), প্রাচ্যনাট (থিয়েটার), Together for Bangladesh (ইভেন্ট ও স্বেচ্ছাসেবক), ZhirZhir (কনসার্ট), Graam Cha Initiative (লজিস্টিক), Cartoon People (প্রদর্শনী ও সাজসজ্জা), আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ (ভেন্যু) — টিবিএস, 14 ডিসেম্বর 2025।
  • অর্থায়ন: বড় কোনো করপোরেট পৃষ্ঠপোষক ছাড়া, স্বেচ্ছাসেবক, সহযোগী সংগঠন ও ব্যক্তির সহায়তায় (তিন উৎসেই)। প্রথম আলো লিখেছে, প্রস্তুতি চলছিল ক্রাউডফান্ডিংয়ে, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে জায়গা মিলেছে বিনা মূল্যে; শাহারিয়ার পারভেজের হিসাবে তখনো স্বেচ্ছাসেবীসহ 50 জনের 10 দিনের খাবার বাবদ প্রায় দেড় লাখ টাকার ঘাটতি ছিল।
  • বিক্রি: একটি স্টলে ঐতিহ্যবাহী বোনা পোশাক, বাঁশি, বাঁশের জিনিস বিক্রি হয়েছে, পুরো আয় স্কুলের তহবিলে (দ্য ডেইলি স্টার, 22 ডিসেম্বর 2025)।
  • বিরতি: প্রথম দুই দিনের পর “অনিবার্য কারণে” আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ অনুষ্ঠান 21 ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখে, 22 ডিসেম্বর থেকে আবার শুরুর কথা জানায় (টিবিএস, 19 ডিসেম্বর 2025)।

উৎসবে একজন প্লুংবাদক টিবিএসকে কয়েক ধরনের প্লুংয়ের নাম বলেছেন — “plung kakmo, plung klang, tinteng plung, and plung keycho”। ম্রো বাদ্যযন্ত্রের তালিকায় টিবিএস আরও দুটির নাম দিয়েছে: বেহালার মতো ‘ত্রো’ (tro) ও বাঁশি ‘প্রুই’ (prui)।

2026 সালে স্কুলটি কোন অবস্থায়

2026 সালের তিনটি উৎস তিন রকম ছবি দেয়। মার্চে সময়ের কণ্ঠস্বর জানায়, সৌরপ্যানেল বসিয়ে স্কুলে প্রথমবার বাতি ও পাখা চলেছে এবং 78 জন শিশু পড়ছে। শরতে আর্থ আইল্যান্ড জার্নাল লেখে 110 জন আবাসিক শিক্ষার্থীর কথা। আর 22 অক্টোবর 2026-এ প্রথম আলো জায়গাটিকে বলেছে ‘পাওমুম থারক্লা ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস’, যার শিশুরা “পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে”।

প্রথম আলোর অক্টোবর 2026-এর প্রতিবেদনটি লামায় এক দুর্ঘটনার খবর: ঢাকা থেকে 12 জন তরুণ এক সপ্তাহের কর্মশালায় ছাত্রাবাসের শিশুদের ছবি আঁকা শেখাতে গিয়েছিলেন, তাঁদের একজন পাড়া-কারবারির পুকুরে গোসল করতে নেমে মারা যান। সেই প্রতিবেদন প্রতিষ্ঠানটিকে বর্ণনা করেছে এভাবে: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই এমন দুর্গম এলাকার দরিদ্র ম্রো পরিবারের শিশুরা সেখানে থাকে, তারা পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে, আর ঢাকা ও চট্টগ্রামের কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ছাত্রাবাসটি চালান।

এই বর্ণনা আর আগের প্রতিবেদনগুলোর বর্ণনা — যেখানে পাওমুম থারক্লা নিজেই প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো বিদ্যালয় — পাশাপাশি রাখা হলো। 2025-এর ডিসেম্বরে শাহারিয়ার পারভেজ প্রথম আলোকে বলেছিলেন, স্কুলটিকে সরকারিভাবে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান করার প্রক্রিয়া চলছে। নিবন্ধন হয়েছে কি না, শিশুরা এখন কোন বিদ্যালয়ের খাতায় নিবন্ধিত, আর ম্রো ভাষার ক্লাস কোথায় হয় — 2026-এর কোনো উৎসে তা স্পষ্ট নয়।

ঘোষিত পরিকল্পনা

  • স্কুলটিকে মাধ্যমিক স্তরে নেওয়া, হোস্টেলের উন্নয়ন, খাবার পানি, সৌরবিদ্যুৎ ও মেডিকেল ক্যাম্প (শাহারিয়ার পারভেজ, প্রথম আলো, ডিসেম্বর 2025)।
  • আইসিটি সরঞ্জাম ও স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগ পেলে অনলাইন ক্লাস (উদ্যোক্তারা, সময়ের কণ্ঠস্বর, মার্চ 2026)।
  • কংক্রিট ছাড়া টুইন-পিট শৌচাগার, যার নাম ওয়েবসাইটে “the PawMum Throne” (স্কুলের ওয়েবসাইট, 2026)।

ওয়েবসাইট স্কুলের বাইরের কাজেরও দাবি করেছে: 4টি গ্রামের 400-র বেশি ম্রোর জন্য বিশুদ্ধ পানি কর্মসূচি, মেডিকেল কর্মশালা, আর নারীদের জন্য হস্তশিল্প ও সমবায়ভিত্তিক আয়ের প্রকল্প। এই দাবিগুলো স্কুলের নিজের; কোনো স্বাধীন উৎসে যাচাই করা যায়নি।

লামা ও গজালিয়ায় ম্রো জনসংখ্যা ও সাক্ষরতা: জনশুমারি 2022

জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022-এর বান্দরবান জেলা প্রতিবেদন (বিবিএস, জুন 2024) অনুযায়ী জেলায় ম্রো জনসংখ্যা 51,448 — মারমার পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী; লামা উপজেলায় ম্রো 10,781 জন। সাক্ষরতার হার (5 বছর ও তার বেশি বয়সী) জেলায় 62.75%, লামা উপজেলায় 64.88%, গজালিয়া ইউনিয়নে 52.44%।

সূচক বান্দরবান জেলা লামা উপজেলা গজালিয়া ইউনিয়ন
মোট জনসংখ্যা4,81,1061,39,68913,880
আদিবাসী (জনশুমারির ভাষায় ‘ethnic’) জনসংখ্যা—33,221ইউনিয়নভিত্তিক সারণি নেই
ম্রো জনসংখ্যা51,448 (পুরুষ 26,099, নারী 25,349)10,781 (পুরুষ 5,522, নারী 5,259)ইউনিয়নভিত্তিক সারণি নেই
সাক্ষরতা, 5+ বছর (মোট)62.75%64.88%52.44%
সাক্ষরতা, 5+ বছর (পুরুষ / নারী)67.66% / 57.54%68.60% / 61.09%60.49% / 44.22%
সাক্ষরতা, 15+ বছর (মোট)58.40%59.32%45.48%

সূত্র: বিবিএস, Population and Housing Census 2022, District Report: Bandarban (জুন 2024) — ম্রো ও আদিবাসী জনসংখ্যা সারণি P17, পৃ. 201 ও 203; সাক্ষরতা সারণি P08, পৃ. 162–163; জেলা, লামা ও গজালিয়ার মোট জনসংখ্যা সারণি 01 (গজালিয়া পৃ. 107)।

জেলা প্রতিবেদনে আদিবাসী জনসংখ্যার হিসাব উপজেলা পর্যন্ত, ইউনিয়ন পর্যন্ত নয়; তাই গজালিয়ায় কতজন ম্রো থাকেন, জনশুমারিতে তা নেই। সাক্ষরতার হারও জনগোষ্ঠীভেদে দেওয়া হয়নি। প্রথম আলো (2025) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের বরাতে একই সংখ্যা (51,448) দিয়েছে এবং লিখেছে, বান্দরবানের 7টি উপজেলায় সরকারিভাবে স্বীকৃত 11টি পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠী আছে।

ম্রো জনসংখ্যা ও ভাষাভাষীর সংখ্যা নিয়ে অন্য দুটি উৎসের অঙ্ক জনশুমারির সঙ্গে মেলে না। আর্থ আইল্যান্ড জার্নাল (2026) লিখেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও প্রতিবেশী মিয়ানমার মিলিয়ে প্রায় 80,000 ম্রোর মধ্যে মাত্র প্রায় 25% এখনো ম্রো ভাষা বলতে পারেন; স্কুলের ওয়েবসাইট লিখেছে, ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সংযোগস্থলে “প্রায় 3,00,000” ম্রো থাকেন। দ্য ডেইলি স্টারের 2019-এর প্রতিবেদনে ম্রো লেখক Sing Young Mro বান্দরবানে ম্রোর সংখ্যা বলেছিলেন প্রায় 65,000। এগুলোর কোনোটির উৎস-সমীক্ষার নাম দেওয়া নেই।

একই সংগঠকদের অন্য স্কুল, আর বান্দরবানের অন্য ম্রো উদ্যোগ

টিবিএস গ্র্যাজুয়েটসের 9 জুন 2025-এর লেখা অনুযায়ী উথোয়াইয়ই মারমা পাওমুম থারক্লার পর আরও তিনটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন, আর একটির উদ্যোগ চলছে। এগুলোর কোনোটিতে ম্রো ভাষা পড়ানো হয় কি না, লেখাটি বলেনি; তাঁর লক্ষ্য হিসেবে লিখেছে, বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের পাশাপাশি স্থানীয় ভাষায় শিক্ষা।

সাল স্কুল (লেখার ইংরেজি বানান থেকে) জায়গা
2016পাওমুম থারক্লা (Paomum Tharkla)গজালিয়া ইউনিয়ন, লামা
2021Chennoy Non-Government Primary SchoolSarai Union, লামা
2022Rengyonpara Asha-Hofnung Schoolনাইক্ষ্যংছড়ি
2025Asha-Hofnung Anandamoyi SchoolPopa Badlapara
উদ্যোগ চলছে (2025)Sairao TharbaKalopara, গজালিয়া

একই লেখার শুরুতে বলা হয়েছে, “Lama Union”-এর একটি দুর্গম পাহাড়ি জনপদে Asha Hoffnung Bangladesh ও Syed Shakil Welfare Trust-এর অর্থায়নে একটি স্কুল হয়েছে; সেটি তালিকার কোন স্কুল, লেখায় স্পষ্ট নয়। স্কুলগুলোর বাংলা নাম কোনো বাংলা উৎসে পাওয়া যায়নি, তাই ইংরেজি বানানেই রাখা হলো।

বান্দরবানে ম্রো শিশুদের মাতৃভাষায় পড়ানোর আরেকটি ব্যক্তিগত উদ্যোগের খবর দিয়েছিল দ্য ডেইলি স্টার, 9 আগস্ট 2019: বান্দরবান সদর উপজেলার Cramadi Para-য় 48 বছর বয়সী কৃষক Menpoy Mro পাঁচ বছর ধরে নিজের বাড়িতে বিনা মূল্যে ম্রো শিশুদের মাতৃভাষায় পড়াচ্ছিলেন; প্রতিবেদনের দিন সেখানে 35 জন শিশু ম্রো ভাষায় বর্ণ, ছড়া, এমনকি জাতীয় সংগীত পড়ছিল। ম্রো ভাষা শেখানোর সমাজভিত্তিক স্কুল ও কমিটির পুরোনো ইতিহাস — 1980-এর দশক থেকে — আছে ম্রো লিপির লেখায়; ম্রো ভাষার শিশুপাঠ্য বইয়ের লেখক-প্রকাশকদের কথা আছে ইয়াংঙান ম্রোর বইয়ের লেখায়।

উৎসভেদে অমিল: এক ছকে

পাওমুম থারক্লা নিয়ে উৎসগুলোর মধ্যে নিচের বিষয়গুলোতে অঙ্ক বা নাম মেলে না। কোনটি ঠিক, তা এখানে বিচার করা হয়নি — প্রতিটি দাবি তার উৎসের নামসহ পাশাপাশি রাখা হলো।

বিষয় যা বলা হয়েছে (উৎস)
প্রতিষ্ঠার সাল2014 (স্কুলের ওয়েবসাইট); 2016 (প্রথম আলো 2025, টিবিএস গ্র্যাজুয়েটস, সময়ের কণ্ঠস্বর, আর্থ আইল্যান্ড, টিবিএস ভিডিও); 2017 (প্রথম আলো 2021, টিবিএস 2023)
শুরুর শিক্ষার্থী3 জন (প্রথম আলো 2025); প্রায় 20 জন (ওয়েবসাইট, আর্থ আইল্যান্ড); “হাতে গোনা কয়েকজন” (ডেইলি স্টার, টিবিএস 2025)
নামের অর্থ“ফুলের কলি ফোটাতে হবে” (প্রথম আলো 2025); “flower garden” (টিবিএস 2023); “new bud” (টিবিএস গ্র্যাজুয়েটস); “tiny bud” (আর্থ আইল্যান্ড); “নতুন কুঁড়ি” (সময়ের কণ্ঠস্বর)
কারবারির নামছংকক ম্রো (প্রথম আলো 2021); চংকত ম্রো (প্রথম আলো 2025); Chong Kok Mro (আর্থ আইল্যান্ড)
সহপ্রতিষ্ঠাতা কারাশাহরিয়ার পারভেজ ও মেনরুং ম্রো (টিবিএস 2023); শাহারিয়ার পারভেজ ও উথোয়াইয়ই মারমা (প্রথম আলো 2025); কারবারি, মেনরুং ম্রো ও শাহরিয়ার পারভেজ (আর্থ আইল্যান্ড)
বর্তমান শিক্ষার্থী68, আবাসিক 30 (প্রথম আলো, ডিসেম্বর 2025); 78 (সময়ের কণ্ঠস্বর, মার্চ 2026); 110, সবাই আবাসিক (ওয়েবসাইট; আর্থ আইল্যান্ড 2026)
শিক্ষক4 (প্রথম আলো 2021, 2025); 5 (ওয়েবসাইট)
বছরের খরচ13,95,045 টাকা ≈ 12,700 ডলার (ওয়েবসাইট); প্রায় 10,000 ডলার (আর্থ আইল্যান্ড)
বাঁশের সংখ্যাপ্রায় 1,000 বাইজ্যা + 15,000 পায়া বাঁশ (টিবিএস 2023); 1,20,000 বাঁশের খুঁটি (ওয়েবসাইট)
ঢাকার উৎসবে কতজন26 শিশুসহ 40 জন ম্রো (প্রথম আলো); 40 জন শিশু ও কমিউনিটির সদস্য (টিবিএস, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ)
শিশুরা কোথায় পড়েপাওমুম থারক্লাতেই, প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি (প্রথম আলো 2025, ওয়েবসাইট, আর্থ আইল্যান্ড); ছাত্রাবাসে থেকে পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (প্রথম আলো, 22 অক্টোবর 2026)

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভাষা, শিক্ষা ও জনগোষ্ঠী নিয়ে আমাদের অন্য লেখাগুলো একসঙ্গে পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

পাওমুম থারক্লা কোথায়?

পাওমুম থারক্লা বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নে, ম্রো শিশুদের একটি বেসরকারি আবাসিক স্কুল। প্রথম আলোর 22 অক্টোবর 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী জায়গাটি লামা উপজেলা সদর থেকে প্রায় 25 কিলোমিটার দূরে, ইউনিয়নের 9 নম্বর ওয়ার্ডের চিংককপাড়ায়। 2021-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ফাদু খাল ও ফাইন ছড়ার মিলনস্থলের কাছে পাহাড়ের ওপর।

পাওমুম থারক্লা নামের অর্থ কী?

নামটি ম্রো ভাষার। প্রথম আলো (ডিসেম্বর 2025) অর্থ লিখেছে “ফুলের কলি ফোটাতে হবে”; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (2023) লিখেছে “flower garden”; টিবিএস গ্র্যাজুয়েটস (2025) “new bud”; আর্থ আইল্যান্ড জার্নাল (2026) “tiny bud”; সময়ের কণ্ঠস্বর (2026) স্কুলটিকে ‘নতুন কুঁড়ি’ নামেও ডেকেছে। টিবিএস (2023) অনুযায়ী নামটি রেখেছিলেন স্থানীয় কারবারি।

পাওমুম থারক্লা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উৎসভেদে তিনটি সাল পাওয়া যায়। স্কুলের ওয়েবসাইট লেখে 2014, 20 জন শিক্ষার্থী নিয়ে। প্রথম আলো (2025), টিবিএস গ্র্যাজুয়েটস (2025), সময়ের কণ্ঠস্বর (2026) ও আর্থ আইল্যান্ড জার্নাল (2026) লেখে 2016; প্রথম আলো 2025 বলেছে তিনজন শিশু নিয়ে শুরু। প্রথম আলো (2021) ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (2023) লেখে 2017।

পাওমুম থারক্লা কারা প্রতিষ্ঠা করেন?

উৎসগুলোতে চারজনের নাম আসে: শাহরিয়ার (শাহারিয়ার) পারভেজ, মেনরুং ম্রো, স্কুলের জন্য পাহাড় দানকারী পাড়া-কারবারি (ছংকক বা চংকত ম্রো) এবং চেয়ারম্যানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উথোয়াইয়ই মারমা। টিবিএস (2023) সহপ্রতিষ্ঠাতা বলেছে শাহরিয়ার ও মেনরুংকে; প্রথম আলো (2025) শাহারিয়ার ও উথোয়াইয়ইকে; আর্থ আইল্যান্ড (2026) কারবারি, মেনরুং ও শাহরিয়ারকে।

পাওমুম থারক্লায় কতজন শিশু পড়ে?

সংখ্যা উৎসভেদে আলাদা। প্রথম আলো: ফেব্রুয়ারি 2021-এ 85 জন (আবাসিক 35), ডিসেম্বর 2025-এ 68 জন (হোস্টেলে 30); দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ভিডিও: মার্চ 2025-এ 75 জন (আবাসিক 40); সময়ের কণ্ঠস্বর: মার্চ 2026-এ 78 জন; স্কুলের ওয়েবসাইট ও আর্থ আইল্যান্ড জার্নাল (2026): 110 জন, ছয়টি ম্রো গ্রাম থেকে। করোনার আগে ছিল 120 জন।

পাওমুম থারক্লায় কোন শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়?

প্রথম আলোর 13 ডিসেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাও দিয়েছে: 2021-এর প্রতিবেদনে পাঁচজনের প্রথমবার পিইসি পাসের কথা আছে, স্কুলের ওয়েবসাইট (2026) লিখেছে 25 জন পিএসসি পাস করেছে। মাধ্যমিক স্তর চালুর পরিকল্পনার কথা উদ্যোক্তারা 2025-এ বলেছেন।

পাওমুম থারক্লায় কি ম্রো ভাষায় পড়ানো হয়?

হ্যাঁ, উৎসগুলো তাই বলে। প্রথম আলো (2021, 2025) ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ভিডিও (2021, 2025) অনুযায়ী শিশুরা নিজের ভাষা শেখে, সঙ্গে বাংলা, গণিত ও ইংরেজি। স্কুলের ওয়েবসাইট (2026) লিখেছে, পাঠদান বাংলা ও ক্রামা লিপি দুই মাধ্যমেই। কোন শ্রেণিতে কত ঘণ্টা ম্রো ভাষা পড়ানো হয়, কোনো উৎসে তা নেই।

ম্রো ভাষায় কি সরকারি পাঠ্যবই আছে?

না। 2017 থেকে সরকারি মাতৃভাষা-পাঠ্যবই কেবল পাঁচ ভাষায়: চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (ককবরক), গারো ও সাদরি। বাংলা ট্রিবিউনের 21 ফেব্রুয়ারি 2023-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ম্রো ছিল দ্বিতীয় পর্যায়ের সুপারিশে; সেই পর্যায় 2020-এর দিকে শুরুর কথা থাকলেও শুরু হয়নি। পাওমুম থারক্লায় ম্রো ভাষা পড়ানো তাই সরকারি কর্মসূচির বাইরে।

পাওমুম থারক্লার হোস্টেলে থাকতে কত টাকা লাগে?

প্রথম আলোর 2021 ও 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী হোস্টেলে থাকার জন্য বছরে 9,000 টাকা নেওয়া হয়, কিস্তিতে। টাকা দিতে না পারলে পরিবার চাল, ডাল, সবজি দেয়। অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে পড়ে। প্রথম আলো (2025) লিখেছে, হোস্টেলটি বান্দরবান জেলা পরিষদের সহায়তায় তৈরি।

পাওমুম থারক্লা চালাতে বছরে কত খরচ হয়?

স্কুলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বছরের বাজেট 13,95,045 টাকা (প্রায় 12,700 ডলার): প্রশাসন 4,16,000, শিক্ষা-উপকরণ 1,59,650, হোস্টেল ও খাবার 8,19,395 টাকা। আর্থ আইল্যান্ড জার্নাল (2026) খরচ লিখেছে বছরে প্রায় 10,000 ডলার। টাকা আসে শিশুদের আঁকা ছবি বিক্রি, কনসার্ট, ক্রাউডফান্ডিং ও দান থেকে।

পাওমুম থারক্লায় কতজন শিক্ষক আছেন?

প্রথম আলোর 2021 ও 2025-এর প্রতিবেদনে চারজন শিক্ষক; 2025-এ সঙ্গে একজন বাবুর্চি। স্কুলের ওয়েবসাইট (2026) লিখেছে পাঁচজন। শিক্ষকেরা ম্রো সম্প্রদায়ের তরুণ; 2021-এর প্রতিবেদনে তাঁদের কেউ তখন এসএসসি দিচ্ছিলেন, কেউ উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। ওয়েবসাইট একজন শিক্ষকের বছরের বেতন 60,000 টাকা ধরেছে।

পাওমুম থারক্লার স্কুলঘর কী দিয়ে তৈরি?

বাঁশ, কাঠ, সেগুন ও ছন দিয়ে, কংক্রিট ছাড়া। প্রথম আলো (2025) অনুযায়ী বুয়েটের স্থাপত্যবিদ সায়ন সুর ও কৌশিক কুমারের নকশায় 2021 সালে দোতলা স্কুলঘর তৈরি হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (2023) লিখেছে দুটি দোতলা ভবন, প্রধান ভবন 25 ফুট উঁচু, প্রায় 1,000টি বাইজ্যা ও 15,000টি পায়া বাঁশ লেগেছে; স্কুলের ওয়েবসাইট লিখেছে 1,20,000টি বাঁশের খুঁটি।

পাওমুম পার্বণ কী?

পাওমুম পার্বণ স্কুলটির বার্ষিক উৎসব, যা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী প্রতিবছর স্কুলপ্রাঙ্গণে হয়। 17–24 ডিসেম্বর 2025 প্রথমবার এটি ঢাকার ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে হয়, নাম ‘পাওমুম পার্বণ 2025: ফ্রম হিলস টু হোপ’। প্রথম আলো অনুযায়ী স্কুলের 26 শিশুসহ ম্রো জনগোষ্ঠীর 40 জন অংশ নেন; ছিল শিশুদের আঁকা ছবি, প্লুং বাঁশি ও প্রাচ্যনাটের সঙ্গে নাটক।

2026 সালে পাওমুম থারক্লার শিশুরা কোথায় পড়ে?

উৎসগুলো দুই রকম বলে। স্কুলের ওয়েবসাইট ও আর্থ আইল্যান্ড জার্নাল (2026) পাওমুম থারক্লাকে 110 শিশুর আবাসিক বিদ্যালয় বলেছে। প্রথম আলোর 22 অক্টোবর 2026-এর প্রতিবেদন প্রতিষ্ঠানটিকে ‘পাওমুম থারক্লা ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস’ বলেছে, যার শিশুরা পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। ডিসেম্বর 2025-এ সরকারি নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চলছিল।

যা এখনো জানা যায়নি

  • ম্রো ভাষায় ঠিক কতটা পড়ানো হয়: কোন শ্রেণিতে সপ্তাহে কত ঘণ্টা ম্রো ভাষা বা ক্রামা লিপি পড়ানো হয়, কোন বই বা উপকরণ দিয়ে, আর অন্য বিষয় (গণিত, বিজ্ঞান) পড়ানোর মাধ্যম ম্রো না বাংলা — কোনো উৎসে নেই।
  • সরকারি নিবন্ধন: ডিসেম্বর 2025-এ নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চলছিল; তা শেষ হয়েছে কি না জানা যায়নি।
  • 2026-এর বর্ণনা: অক্টোবর 2026-এর প্রথম আলো প্রতিবেদন শিশুদের পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার কথা বলেছে। পাঠদান কোনো সরকারি বিদ্যালয়ে সরে গেছে, নাকি হোস্টেলের কিছু শিশু সরকারি স্কুলে পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত — জানা যায়নি; পাশের সরকারি বিদ্যালয়টির নামও প্রতিবেদনে নেই।
  • পরীক্ষার ফলের বছরভিত্তিক হিসাব: পিইসি/পিএসসি-তে কোন বছরে কতজন বসেছে, কতজন পাস করেছে; শিক্ষার্থীরা কোন কেন্দ্রে, কোন বিদ্যালয়ের নামে পরীক্ষা দেয় — প্রকাশিত হয়নি।
  • ঝরে পড়ার হার: কোনো সংখ্যা পাওয়া যায়নি।
  • অর্থের স্বাধীন হিসাব: ওয়েবসাইটের বাজেট স্কুলের নিজের; নিরীক্ষিত হিসাব বা কোনো দাতা সংস্থার প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। জেলা পরিষদ হোস্টেলে কত টাকা দিয়েছে, তাও জানা যায়নি।
  • নামের ব্যুৎপত্তি: ‘পাওমুম’ ও ‘থারক্লা’ — কোন শব্দের কী অর্থ, ম্রো ভাষার কোনো অভিধান বা ভাষাবিদের উৎসে মেলানো যায়নি।
  • প্রতিষ্ঠার সাল: 2014, 2016 ও 2017 — কোনটি কোন ধাপের (সান্ধ্য ক্লাস, ছনের ঘর, আনুষ্ঠানিক যাত্রা), কোনো উৎস আলাদা করে বলেনি।
  • গজালিয়ায় ম্রো জনসংখ্যা: জনশুমারির জেলা প্রতিবেদনে জনগোষ্ঠীভিত্তিক হিসাব উপজেলার নিচে নেই।

তথ্যসূত্র

প্রাথমিক উৎস — সরকারি নথি ও জুমজার্নাল আর্কাইভ

  1. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, Population and Housing Census 2022 – District Report: Bandarban, জুন 2024 — সারণি P17 (পৃ. 201, 203), P08 (পৃ. 162–163), 01 (পৃ. 107)। লিংক
  2. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, Small Area Atlas of Bangladesh – Bandarban Zila, Lama Upazila mauza geocode map, 2017 (উইকিমিডিয়া কমন্সে)। লিংক
  3. “মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম কবে শুরু: 2012-র সভা থেকে 2027-এর দরপত্র পর্যন্ত সময়রেখা”, জুমজার্নাল, 2026। লিংক
  4. “ম্রো লিপি: মেনলে ম্রোর বর্ণমালা, 31টি অক্ষর, ইউনিকোড ও স্কুল”, জুমজার্নাল, 2026। লিংক

স্কুলের নিজের প্রকাশনা

  1. Pawmum Tharkla — A Mro Community School, অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (দেখা হয়েছে 3 নভেম্বর 2026) — প্রতিষ্ঠার সাল, শিক্ষার্থী-শিক্ষক সংখ্যা, পাঠ্যক্রম, বাজেট, সংবাদ-তালিকা। লিংক

সংবাদ প্রতিবেদন ও ফিচার

  1. Sanjoy Kumar Barua, “Mother tongue-based lessons help Mro kids to learn with ease”, The Daily Star, 9 August 2019। লিংক
  2. সজীব মিয়া, “কুঁড়ি থেকে ফুল ফোটানোর স্কুল”, প্রথম আলো, 27 ফেব্রুয়ারি 2021। লিংক
  3. “কলি থেকে ফুল ফোটানোর স্কুল || A School where Flowers Bloom”, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (ইউটিউব ভিডিও ও বিবরণ), 28 সেপ্টেম্বর 2021। লিংক
  4. এস এম আববাস, “শিক্ষক সংকটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষা শিক্ষা”, বাংলা ট্রিবিউন, 21 ফেব্রুয়ারি 2023। লিংক
  5. Zannat Husna, “Pawmum Tharkla: A structure that responds to the community’s needs”, The Business Standard, 11 April 2023। লিংক
  6. “ম্রো সম্প্রদায়ের স্কুল পাওমুম থারাক্লা”, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (ইউটিউব ভিডিও ও বিবরণ), 31 মার্চ 2025। লিংক
  7. “A beacon of hope in the hills: Uthoiyoy Marma’s journey to bring education to remote Bandarban”, TBS Graduates (The Business Standard), 9 June 2025। লিংক
  8. মানসুরা হোসাইন, “পাহাড়ের গল্প শোনাতে ‘পাওমুম থারক্লা’র শিশুরা আসছে ঢাকায়”, প্রথম আলো, 13 ডিসেম্বর 2025। লিংক
  9. “Pawmum parbon 2025 to showcase MRO culture in Dhaka”, The Business Standard, 14 December 2025। লিংক
  10. “AFD hosts ‘Pawmum Parban 2025’ celebrating Mro heritage”, The Daily Star, 17 December 2025। লিংক
  11. Faisal Uddin Siam, “Pawmum Parban: From distant hills to the city of hope”, The Business Standard, 19 December 2025। লিংক
  12. Maisha Islam Monamee, “‘Pawmum Parban’ brings Mro children’s stories to Dhaka”, The Daily Star, 22 December 2025। লিংক
  13. “Pawmum Parbon”, Alliance Française de Dhaka, ইভেন্ট-পাতা (ডিসেম্বর 2025)। লিংক
  14. বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, “মাতৃভাষায় শিক্ষা কাগজে আছে, বাস্তবে নেই”, প্রথম আলো, 20 ফেব্রুয়ারি 2026। লিংক
  15. মুহাম্মদ এমরান, “লামার দুর্গম পাহাড়ে ‘নতুন কুঁড়ি’ স্কুলে জ্বলল শিক্ষার আলো”, সময়ের কণ্ঠস্বর, 16 মার্চ 2026। লিংক
  16. Zakir Hossain Chowdhury, “A Forest School in Bangladesh Merges Land Care and Cultural Survival”, Earth Island Journal, Autumn 2026। লিংক
  17. প্রতিনিধি, “দুর্গম পাহাড়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন শেখাতে এসেছিলেন তরুণ, ফিরলেন লাশ হয়ে”, প্রথম আলো, 22 অক্টোবর 2026। লিংক

সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026

প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, বান্দরবান, মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা, মাতৃভাষায় শিক্ষা, ম্রো

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা