Jumjournal Logo

১৬ লাখ না ৩০ লাখ — জনশুমারিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গোনা হয় কীভাবে

Last updated Oct 17th, 2026

0

Featured image

জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022 বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ গুনেছে 1,650,478 জন। আদিবাসী সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন প্রকৃত সংখ্যা অন্তত 30 লাখ, কেউ বলছেন 40 লাখ, আন্তর্জাতিক একটি প্রতিবেদনে আছে 50 লাখ। “জনশুমারিতে প্রকৃত সংখ্যা আসেনি” — 2022 সালের আগস্ট থেকে এই অভিযোগ বারবার উঠছে। দুই পক্ষের সংখ্যা আসলে দুই রকম পদ্ধতিতে তৈরি: শুমারির সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র, একটি আইনি তালিকা আর ঘরে ঘরে গণনার ফল; বিকল্প সংখ্যাগুলোর বেশিরভাগের পেছনের হিসাব-পদ্ধতি প্রকাশিত নয়।

এই লেখা কোনো সংখ্যাকে ঠিক বা ভুল বলছে না। এখানে আছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) নিজের নথি থেকে শুমারির পদ্ধতি — প্রশ্নপত্রের প্রশ্ন কীভাবে লেখা, কাকে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” ধরা হয়, কারা গুনেছেন, শুমারির পরের যাচাই কী মাপে আর কী মাপে না — এবং প্রতিটি বিকল্প সংখ্যা কে দিয়েছেন, কবে, কোন ভিত্তিতে। কোন জাতিগোষ্ঠী কতজন, জেলা ধরে সেই পূর্ণ ছক আছে আমাদের আলাদা লেখা “জনশুমারি ২০২২: ৫০ জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা, জেলা ধরে ধরে”-তে; এখানে সেগুলো আবার দেওয়া হয়নি।

এই লেখার মূল নথি

BBS-এর National Report (Volume I) (নভেম্বর 2023) — অধ্যায় 1 (শুমারি পদ্ধতি), অংশ 2.31 (সংজ্ঞা), অধ্যায় 3.1 (শুমারি-পরবর্তী যাচাই), অংশ 3.2.11; Preliminary Report (আগস্ট 2022), Annex 3-এ ছাপা প্রশ্নপত্র (পৃ. 55); 2011 শুমারির প্রশ্নপত্র ও নির্দেশনা; আর জাতিসংঘের শুমারি নির্দেশিকা (Revision 3, 2017)। গণনাকারীদের 2022 সালের প্রশিক্ষণ-ম্যানুয়াল প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

পরিভাষা: শুমারি ও আইনের শব্দ “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”; BBS-এর ইংরেজি প্রশ্নপত্রে “ethnic minority group”। জুমজার্নাল সাধারণ লেখায় “আদিবাসী” ব্যবহার করে। এই লেখায় নথি উদ্ধৃত করার সময় নথির শব্দই রাখা হয়েছে।

সূচিপত্র

  1. কোন সংখ্যা কে দেয়: এক ছকে
  2. শুমারিতে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” কাকে বলা হয়
  3. প্রশ্নপত্রে প্রশ্নটি ঠিক কীভাবে লেখা
  4. 2011 থেকে 2022: প্রশ্নের ধরন কী বদলেছে
  5. কে গুনেছেন, কত দিনে, কোন প্রশিক্ষণে
  6. শুমারি-পরবর্তী যাচাই কী মাপে, কী মাপে না
  7. “জনশুমারিতে প্রকৃত সংখ্যা আসেনি”: দাবিটি কারা করেন
  8. জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব জরিপ বনাম শুমারি
  9. 30, 40, 50 লাখ: প্রতিটি সংখ্যার উৎস
  10. সরকার ও BBS কী বলে
  11. এক শুমারির সঙ্গে আরেক শুমারি মেলানো কঠিন কেন
  12. পার্বত্য চট্টগ্রামের হিসাব নিয়ে আলাদা প্রশ্ন
  13. জাতিসংঘের নির্দেশিকা কী বলে
  14. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ 2026: BBS-এর আলাদা গণনা
  15. প্রশ্নোত্তর
  16. যা এখনো জানা যায়নি
  17. তথ্যসূত্র

১৬ লাখ না ৩০ লাখ: কোন সংখ্যা কে দেয়, এক ছকে

সরকারি সংখ্যা একটিই উৎস থেকে আসে: BBS-এর জনশুমারি, সর্বশেষটি জুন 2022-এর। বিকল্প সংখ্যাগুলো এসেছে আদিবাসী সংগঠনের নেতা, মানবাধিকার সংগঠন ও গবেষকদের কাছ থেকে — 20 লাখ থেকে 50 লাখ পর্যন্ত। নিচের ছকে প্রতিটি সংখ্যার পাশে আছে কে দিয়েছেন, কবে, আর উৎসে হিসাবের পদ্ধতি বলা আছে কি না।

সংখ্যা কে দিয়েছেন, কোথায় কবে পদ্ধতি প্রকাশিত?
1,650,478 BBS, জনশুমারি 2022-এর চূড়ান্ত জাতীয় প্রতিবেদন নভেম্বর 2023 হ্যাঁ — প্রশ্নপত্র, সংজ্ঞা, গণনার নিয়ম
1,650,159 BBS, প্রাথমিক প্রতিবেদন, Table 2.8; জুন 2026-এ সংসদে সংস্কৃতিমন্ত্রী এটিই উদ্ধৃত করেন আগস্ট 2022 হ্যাঁ
প্রায় 30 লাখ Kapaeeng Foundation, মানবাধিকার প্রতিবেদন 2011 (“approximately 3 million”) জানুয়ারি 2012 না
অন্তত 30 লাখ সঞ্জীব দ্রং, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (দ্য ডেইলি স্টার; AFP) আগস্ট 2022 না
3.0 মিলিয়নের বেশি জাতিসংঘের UPR-এ আদিবাসী সংগঠনগুলোর যৌথ প্রতিবেদন (Kapaeeng, AIPP, IWGIA) — উৎস হিসেবে ডেইলি স্টারের আগস্ট 2022-এর খবর 2023 না
প্রায় 40 লাখ “আদিবাসী সংগঠনগুলোর মতে” — আমাদের আর্কাইভের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস 2026-এর লেখা আগস্ট 2026 না
প্রায় 50 লাখ IWGIA, The Indigenous World 2023 — উৎস অধ্যাপক আবুল বারকাতের 2015 সালের সম্মেলন-প্রবন্ধ মার্চ 2023 IWGIA-র পাতায় না
50 লাখ আদিবাসী নেতাদের দাবি হিসেবে একটি সংবাদ-প্রতিবেদন, Kapaeeng-এর 2015 সালের মানবাধিকার প্রতিবেদনে পুনর্মুদ্রিত 2015 না
শুধু সমতলে প্রায় 20 লাখ সঞ্জীব দ্রং (সংবাদ-প্রতিবেদন), এবং Kapaeeng-এর 2014 সালের প্রতিবেদনে “2.0 million” — সমতলের আদিবাসীদের দাবি 2014–2015 না

ছকের শেষ কলামটিই এই বিতর্কের কেন্দ্র। শুমারির সংখ্যা কীভাবে তৈরি, তা BBS-এর নথিতে ধাপে ধাপে লেখা আছে, ফলে তার দুর্বলতাও নথি থেকেই খুঁজে বের করা যায়। বিকল্প সংখ্যাগুলোর কোনোটির সঙ্গে প্রকাশিত গণনা-পদ্ধতি পাওয়া যায়নি; সেগুলো সংগঠনের দাবি বা অনুমান হিসেবেই উদ্ধৃত হয়। ব্যতিক্রম কয়েকটি একক জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব জরিপ, সেগুলো নিচে আলাদা ছকে আছে।

জনশুমারিতে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” কাকে বলা হয়: আইনের তফসিলই সংজ্ঞা

শুমারি নিজে কোনো সংজ্ঞা বানায়নি। BBS-এর জাতীয় প্রতিবেদনের অংশ 2.31 বলছে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হলো সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, 2010” যাদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বলে সংজ্ঞায়িত করে। আর ওই আইনের সংজ্ঞা একটি তালিকা: তফসিলে যাদের নাম আছে, তারাই। 2022 সালে তালিকায় নাম ছিল 50টি।

আইনের ধারা 2(2) অনুযায়ী “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” অর্থ “তফসিলে উল্লিখিত বিভিন্ন আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও শ্রেণীর জনগণ”। ধারা 19 সরকারকে গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়েই তফসিল বদলানোর ক্ষমতা দেয় — সংসদে যেতে হয় না। সেই ক্ষমতায় 19 মার্চ 2019 তারিখের প্রজ্ঞাপন (এস.আর.ও. নং 78-আইন/2019, গেজেটে প্রকাশ 23 মার্চ 2019) পুরোনো তফসিলের জায়গায় 50টি নামের নতুন তফসিল বসায়। তালিকাটি 27 থেকে 50-এ কীভাবে গেল, তার নথিভিত্তিক বিবরণ আমাদের আলাদা লেখা “স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা 27 থেকে 50 হলো কীভাবে”-তে।

শুমারির জন্য এর মানে তিনটি:

  1. তালিকার নামই আলাদা সারি পায়। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের Table P29-এ 50টি নাম আলাদা সারিতে, তার বাইরের সবাই এক সারিতে — “Others”, 68,588 জন। এই 68,588 জন কোন কোন জনগোষ্ঠীর, প্রকাশিত কোনো ছকে ভাঙা নেই।
  2. তালিকা বদলালে গণনার ভিত্তিও বদলায়। 2011 সালের শুমারিতে পূর্বনির্ধারিত কোড ছিল 27টি নামের, 2022-এ 50টির। তাই দুই শুমারির মোট সংখ্যা একই মাপকাঠিতে মাপা নয় (নিচে বিস্তারিত)।
  3. পরিচয়ের প্রশ্নটি আইনি তালিকায় বাঁধা। শুমারির প্রশ্ন “আপনি কোন জাতির” জানতে চায়নি; জানতে চেয়েছে খানায় “ethnic minority group”-এর সদস্য আছেন কি না, তারপর তালিকা থেকে নাম বাছাই (পরের অংশ)।

আরও একটি বিষয় নথি থেকে স্পষ্ট: আইনের নাম “সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন”। এর মূল কাজ সাংস্কৃতিক একাডেমি ও প্রতিষ্ঠান চালানো, জনসংখ্যা গোনা নয়। BBS-এর প্রতিবেদন অংশ 3.2.11-এ লিখেছে, জাতিগোষ্ঠীর তথ্য এই আইনের “বিধান অনুসারে” কয়েকটি মাত্রায় সংগ্রহ করা হয়েছে। এর বাইরে আলাদা কোনো পরিসংখ্যানগত সংজ্ঞা প্রতিবেদনে নেই।

জনশুমারির প্রশ্নপত্রে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রশ্নটি ঠিক কীভাবে লেখা

2022 সালের প্রশ্নপত্রে প্রশ্নটি দুই ধাপে। খানা-অংশের প্রশ্ন 11 জিজ্ঞেস করে, খানায় কোনো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য আছেন কি না। উত্তর “হ্যাঁ” হলে ব্যক্তি-অংশের প্রশ্ন 33-এ প্রত্যেক সদস্যের জন্য একটি তালিকা থেকে জাতিগোষ্ঠীর নাম বাছাই করা হয়। প্রথম ধাপে “না” গেলে দ্বিতীয় ধাপটি পূরণ হয় না।

প্রাথমিক প্রতিবেদনের Annex 3-এ ছাপা ইংরেজি প্রশ্নপত্রে (পৃ. 55) শব্দগুলো এরকম:

প্রশ্ন ছাপা পাঠ উত্তরের ঘর ও নির্দেশ
খানা-অংশ, প্রশ্ন 11 “Are there any members of any ethnic minority group in the household?” Yes — “[Q33 will be filled]”; No; ভাসমান বা ছিন্নমূল হলে প্রশ্ন 13-এ চলে যেতে হবে
ব্যক্তি-অংশ, প্রশ্ন 33 “Select the name of ethnic minority group” “[Q11 yes, select from list]”

এই গঠন থেকে কয়েকটি বিষয় নথিতেই দেখা যায়:

  • প্রথম প্রশ্নটি খানার, ব্যক্তির নয়। খানায় একজনও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য আছেন কি না — এই এক উত্তরের উপর নির্ভর করে সেই খানার প্রত্যেকের জাতিগোষ্ঠী জিজ্ঞেস করা হবে কি না। খানার কে উত্তর দেবেন, আর প্রত্যেক সদস্য নিজের পরিচয় নিজে বলবেন কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো নির্দেশনা নেই।
  • নাম বাছাই হয় তালিকা থেকে। প্রশ্ন 33-এর নির্দেশ “select from list”। তালিকায় কোন কোন নাম ছিল, আর “অন্যান্য” বেছে নিলে নাম লিখে দেওয়ার ঘর ছিল কি না, ছাপা প্রশ্নপত্রে দেখা যায় না; চূড়ান্ত ছকে 50টি নাম ও “Others” সারি থাকায় তালিকাটি তফসিলের নাম আর একটি “অন্যান্য” বিকল্প ছিল বলে ধারণা করা যায়, তবে প্রশ্নপত্রের নথিতে তা লেখা নেই।
  • ভাসমান মানুষের জাতিগোষ্ঠী জিজ্ঞেস করা হয়নি। প্রশ্ন 11-এর ঘরে নির্দেশ: ভাসমান বা ছিন্নমূল হলে প্রশ্ন 13-এ যাও। শুমারির রাতে (14 জুন মধ্যরাত থেকে 15 জুন ভোর 6টা) রাস্তা, স্টেশন, টার্মিনালে গোনা ভাসমান মানুষ ছিলেন 22,185 জন (জাতীয় প্রতিবেদন, মূল সূচক 08)। তাঁদের কেউ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর হলেও প্রশ্নপত্রের নিয়মে তা ধরা পড়ার কথা নয়।
  • ছাপার একটি অসঙ্গতি। প্রশ্ন 11-এর ছাপা পাতায় “No” ঘরের নিচেও “[Q33 will be filled]” লেখা — “Yes”-এর নিচের নির্দেশের হুবহু পুনরাবৃত্তি। ট্যাবলেটের CAPI অ্যাপে প্রশ্নটি কীভাবে প্রোগ্রাম করা ছিল, ছাপা পাতা থেকে বোঝা যায় না।

প্রশ্নপত্রে মোট প্রশ্ন 35টি — খানা-অংশে 15, ব্যক্তি-অংশে 20 (জাতীয় প্রতিবেদন, অংশ 1.8)। প্রশ্নপত্র তৈরির ধাপ প্রতিবেদনে এভাবে বর্ণিত: 2011-এর প্রশ্নপত্র ধরে প্রথম খসড়া; মন্ত্রণালয়, শিক্ষাবিদ, গবেষক, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কর্মশালা; পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের টেকনিক্যাল সাপোর্ট টিম ও বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকদের “Professor’s Forum”-এর পর্যালোচনা; মাঠে প্রাক-পরীক্ষা; প্রতিটি বিভাগে CAPI সংস্করণের মাঠ-পরীক্ষা; তারপর 821টি গণনা এলাকায় আবার প্রাক-পরীক্ষা। পরামর্শ-কর্মশালার অংশগ্রহণকারীদের যে তালিকা প্রতিবেদনে আছে, তাতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংগঠন বা প্রতিনিধির আলাদা উল্লেখ নেই।

শুমারির পদ্ধতি “modified de facto”: শুমারির মুহূর্তে যে যেখানে ছিলেন সেখানেই গোনা, তবে যাত্রাপথে, হাসপাতালে বা দায়িত্বে থাকা মানুষকে তাঁদের স্বাভাবিক বাসস্থানে (অংশ 1.10)। অর্থাৎ ঢাকায় কারখানায় কাজ করা কোনো ত্রিপুরা বা সাঁওতাল তরুণকে ঢাকার খানাতেই গোনা হওয়ার কথা — আর সেই খানার প্রশ্ন 11-এর উত্তরেই নির্ভর করবে তাঁর জাতিগোষ্ঠী নথিভুক্ত হবে কি না।

2011 থেকে 2022: শুমারির প্রশ্নের ধরন কী বদলেছে

2011 সালে জাতিগোষ্ঠী ছিল পুরো খানার একটি পরিচয়: প্রশ্নপত্রে খানাপ্রতি একটি কোড বসত। 2022-এ প্রথম ধাপ খানার, কিন্তু নাম বাছাই হয় প্রত্যেক সদস্যের জন্য আলাদা। তালিকাও বদলেছে — 2011-এ 27টি নামের কোড আর একটি “Other”, 2022-এ 50টি নাম।

2011 শুমারির প্রশ্নপত্রের (IPUMS-এ সংরক্ষিত) খানা-অংশে প্রশ্ন ছিল: 11a. Is it a household of ethnic population? এবং 11b. If yes, write the code of ethnic community। গণনাকারীর নির্দেশনায় লেখা: খানাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর হলে উত্তরদাতা যে জনগোষ্ঠীর নাম বলবেন, ট্যালি শিটের পেছনের পাতায় তার কোড খুঁজে ইংরেজি অঙ্কে ঘরে লিখতে হবে। কোড-তালিকায় নাম ছিল এই ক্রমে (বানান মূল নথির):

01 Chakma, 02 Marma, 03 Tripura, 04 Mro, 05 Tanchaynga, 06 Bawm, 07 Pankhua, 08 Chak, 09 Khyang, 10 Khumi, 11 Lusai, 12 Coach, 13 Shaotal, 14 Dalu, 15 Uchai, 16 Rakhain, 17 Monipuri, 18 Garu, 19 Hajong, 20 Khasia, 21 Mong, 22 Orao, 23 Barmon, 24 Pahari, 25 Malpahari, 26 Monda, 27 Cool, 28 Other

দুই শুমারির পার্থক্য এক ছকে:

বিষয় 2011 (15–19 মার্চ) 2022 (15–21 জুন)
তথ্য নেওয়ার মাধ্যম কাগজের প্রশ্নপত্র, সাক্ষাৎকার ট্যাবলেট, CAPI
জাতিগোষ্ঠী কার পরিচয় খানার — খানাপ্রতি একটি কোড ব্যক্তির — খানায় “হ্যাঁ” হলে প্রত্যেক সদস্যের জন্য
নামের তালিকা 27টি কোড + Other 2019-এর তফসিলের 50টি নাম; ছকে “Others” সারি
গণনাকৃত সংখ্যা 1,586,141 1,650,478
শুমারি-পরবর্তী যাচাইয়ে মোট বাদ পড়ার হার 3.97% 2.75%

2011-এ কয়টি জনগোষ্ঠী “বিবেচনায়” ছিল, তা নিয়ে উৎসে অমিল আছে: সঞ্জীব দ্রং দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন 24টি, আর 2011 সালের প্রশ্নপত্রের কোড-তালিকায় নাম 27টি। Kapaeeng Foundation-এর 2011 সালের মানবাধিকার প্রতিবেদন তখনই লিখেছিল, প্রশ্নপত্রে আলাদা ঘর ছিল কেবল 2010 সালের আইনের 27টি জনগোষ্ঠীর; মাহাতো, বড়াইক, মাহালি, রাজবংশী, রাইসহ অনেক জনগোষ্ঠী স্বীকৃত হয়নি, আর প্রতিবেদনের অনুমানে এরা মিলে প্রায় 10 লাখ মানুষ। একই প্রতিবেদনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের বক্তব্য আছে, এই জনগোষ্ঠীগুলোকে স্বীকৃতি না দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন।

জনশুমারি 2022-এ কে গুনেছেন, কত দিনে, কোন প্রশিক্ষণে

দেশকে 3,81,053টি গণনা এলাকায় ভাগ করে 3,65,791 জন গণনাকারী নিয়োগ দেওয়া হয়, সাধারণত প্রতি এলাকায় একজন। তাঁদের বাছাই করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে উপজেলা কমিটি, মূলত স্থানীয় তরুণদের মধ্য থেকে, ICT জ্ঞান ও স্মার্টফোন চালানোর দক্ষতা দেখে। প্রশিক্ষণ ছিল চার দিনের। গণনাকারীর ভাষা-দক্ষতা বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এলাকার জন্য আলাদা ব্যবস্থার কথা প্রতিবেদনে নেই।

জাতীয় প্রতিবেদনের অধ্যায় 1 থেকে শুমারির মাঠ-কাঠামো:

  • জনবল (অংশ 1.15): 3,779 জন জোনাল অফিসার (BBS ও অন্যান্য সরকারি দপ্তর থেকে), সমসংখ্যক ICT সুপারভাইজার, 552 জন উপজেলা, 163 জন জেলা ও 12 জন বিভাগীয় শুমারি সমন্বয়কারী; মোট প্রায় 4 লাখ 37 হাজার মানুষ।
  • প্রশিক্ষণ (অংশ 1.12): তিন ধাপে, প্রতিটি চার দিনের। গণনাকারী ও সুপারভাইজাররা প্রশিক্ষণ পান 4–7 জুন ও 9–12 জুন 2022, উপজেলা-জোন-ইউনিয়ন পর্যায়ে, জোনাল অফিসারদের কাছে। ম্যানুয়ালের পাশাপাশি অডিও-ভিজ্যুয়াল মডিউল ও প্রতিটি প্রশ্নের জন্য অ্যানিমেটেড প্রশিক্ষণ-অ্যাপ বানানো হয়েছিল।
  • খানা চিহ্নিতকরণ (অংশ 1.16): গণনার আগের দুই দিন, 13 ও 14 জুন, গণনাকারীরা নিজ নিজ এলাকার খানা চিহ্নিত করেন। এর আগে তিন দফা “জোনাল অপারেশন”-এ গণনা এলাকার মানচিত্র, ভূ-কোড ও “restricted areas”-এর তালিকা তৈরি হয় (অংশ 1.3)। কোন এলাকা সংরক্ষিত তালিকায় ছিল আর সেখানে গণনা কীভাবে হয়েছে, প্রতিবেদনে তা বলা নেই।
  • সময় (অংশ 1.16): 15–21 জুন 2022। আকস্মিক বন্যায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় সময় সাত দিন বাড়িয়ে 28 জুন পর্যন্ত।
  • বাদ পড়লে কী করা যেত (অংশ 1.13): 30 মে থেকে 30 জুন পর্যন্ত 24 ঘণ্টার কল সেন্টার (09602998877), যা সাধারণ মানুষের জন্যও খোলা ছিল, যাতে কেউ নিজে ফোন করে গণনায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
  • প্রচার (অংশ 1.14): ভয়েস কল, SMS, টেলিভিশন, সামাজিক মাধ্যম, জুমার নামাজে ইমামদের মাধ্যমে প্রচার, তারপর মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জায়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় প্রচারের কোনো উল্লেখ প্রতিবেদনে নেই।

গণনাকারীদের প্রশিক্ষণ-ম্যানুয়াল বা নির্দেশিকা — যেখানে প্রশ্ন 11 ও 33 কীভাবে জিজ্ঞেস করতে হবে তা লেখা থাকার কথা — প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। 2011-এর নির্দেশনাটুকু প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ছাপা থাকায় পড়া যায় (উপরে)। ফলে 2022-এ গণনাকারীদের কী বলা হয়েছিল — উত্তরদাতাকে নাম জিজ্ঞেস করবেন, নাকি তালিকা পড়ে শোনাবেন, পরিবারে মিশ্র পরিচয় হলে কী করবেন — তা জানা যায়নি।

মাঠের একটি অভিজ্ঞতা দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে আছে। শ্রীমঙ্গলের রাজঘাট ইউনিয়নের শুমারি সুপারভাইজার রিপন বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, কিছু তথ্য সংগ্রাহক “ঝামেলা এড়াতে” তাঁদের ডিভাইসের “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী” অপশনটি ব্যবহার করেননি। প্রশ্নপত্রের গঠনের সঙ্গে মেলালে, প্রশ্ন 11-এ “না” দিলে খানার কারও জন্য প্রশ্ন 33 আর আসে না। এমন কতগুলো খানা ছিল, তার কোনো হিসাব প্রকাশিত হয়নি। কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের গণনাকারী রাম পাপাং জানিয়েছেন, শুরুতে দুর্গম তিনটি গ্রামে গণনা হয়নি; অভিযোগের পর শেষ দিনে তিনি সেখানে যান।

শুমারি-পরবর্তী যাচাই (PEC) কী মাপে, আর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বেলায় কী মাপে না

শুমারির পর বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (BIDS) নমুনা এলাকায় আবার গুনে দেখেছে কত মানুষ বাদ পড়েছেন। ফল: সারা দেশে নিট বাদ পড়ার হার 2.75%। এই হার দিয়ে BBS মোট জনসংখ্যা সমন্বয় করেছে লিঙ্গ, ধর্ম, বয়স, বিভাগ ও গ্রাম-শহর ধরে — কিন্তু জাতিগোষ্ঠী ধরে নয়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কোনো সমন্বিত সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি।

জাতীয় প্রতিবেদনের অধ্যায় 3.1 ও অংশ 1.17 অনুযায়ী যাচাইটির কাঠামো:

  • কে, কবে: BIDS, স্বাধীনভাবে, 10–16 অক্টোবর 2022। প্রতিবেদন প্রকাশ 6 ফেব্রুয়ারি 2023।
  • নমুনা: শুমারির 3,81,053টি গণনা এলাকা থেকে 378টি। 163টি “শুমারি-জেলা”র প্রতিটি থেকে স্তরিত দৈবচয়নে 2টি করে (326টি), সঙ্গে 12টি সিটি কর্পোরেশন থেকে 12টি, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে 14টি, উপকূল থেকে 2টি; কিছু এলাকায় খানা কম থাকায় পাশের এলাকা থেকে আরও 24টি। প্রতিবেদন বলছে, এই নমুনা জাতীয় পর্যায়ে এবং গ্রাম-শহর ও বিভাগ ধরে বাদ পড়ার হার মাপার জন্য যথেষ্ট।
  • পদ্ধতি: 354 জন গণনাকারী ও 36 জন সুপারভাইজার নমুনা এলাকার সব খানা আবার গোনেন; তারপর কম্পিউটারে শুমারির তথ্যের সঙ্গে খানা ও ব্যক্তি মিলিয়ে দেখা হয়, অনিশ্চিত মিলগুলো মাঠে গিয়ে নিষ্পত্তি।
  • ফল (Table 3.1.2): নিট বাদ পড়ার হার 2.75% (95% আস্থা-ব্যবধান 1.60–3.90); গ্রামে 2.55%, শহরে 3.19%। 2011-এ ছিল 3.97%। সমন্বিত মোট জনসংখ্যা 16,98,28,911, গণনাকৃত 16,51,58,616।

এখানে তিনটি বিষয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রশ্নে সরাসরি প্রাসঙ্গিক:

  1. সমন্বয় হয়েছে কোন কোন ভাগে। Table 3.1.3–3.1.5-এ সমন্বিত জনসংখ্যা দেওয়া আছে গ্রাম-শহর, বিভাগ, লিঙ্গ, ধর্ম (মুসলিম ও অমুসলিম) আর বয়স ধরে। জাতিগোষ্ঠী ধরে কোনো সমন্বিত সারি নেই। শুমারির সময় BBS-এর কর্মকর্তা দীপংকর রায় AFP-কে বলেছিলেন, তৃতীয় পক্ষের যাচাইয়ে কম বা বেশি গোনা ধরা পড়লে তা সমন্বয় করা হবে (AFP, ঢাকা ট্রিবিউনে, 11 আগস্ট 2022)। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা গণনাকৃত সংখ্যাই রয়ে গেছে।
  2. জাতিগোষ্ঠীর উত্তর যাচাই হয়নি। উত্তরের মান (“content error”) মাপা হয়েছে পাঁচটি বিষয়ে — লিঙ্গ, খানাপ্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম ও বয়স (Table 3.1.6)। শুমারি আর যাচাইয়ে একই মানুষের জাতিগোষ্ঠী একই উত্তর এসেছে কি না, তা মাপা হয়নি।
  3. বিভাগের হার আছে, পার্বত্য জেলার নেই। বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন (6 ফেব্রুয়ারি 2023) অনুযায়ী BIDS-এর হিসাবে চট্টগ্রাম বিভাগে বাদ পড়ার হার 2.86%, সবচেয়ে বেশি সিলেটে 3.33%, সবচেয়ে কম রাজশাহীতে 2.12%। তিন পার্বত্য জেলা বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী-প্রধান এলাকার আলাদা হার কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি। নমুনা-কাঠামো অনুযায়ী প্রতিটি শুমারি-জেলা থেকে মাত্র 2টি এলাকা নেওয়া হয়েছে, তাই জেলা পর্যায়ের হার এই যাচাই থেকে পাওয়ার কথাও নয়।

ধর্ম ধরে একটি হার অবশ্য প্রকাশিত: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী মুসলিমদের মধ্যে বাদ পড়ার হার 2.75%, অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে 2.68%। একই প্রতিবেদন শহরে বাদ পড়ার হার 3.70% ও গ্রামে 2.54% লিখেছে; BBS-এর জাতীয় প্রতিবেদনের Table 3.1.2-এ শহরে 3.19%, গ্রামে 2.55%, আর 3.71% সংখ্যাটি সেখানে কেবল সিটি কর্পোরেশনের।

“জনশুমারিতে প্রকৃত সংখ্যা আসেনি”: দাবিটি কারা করেন, কী যুক্তিতে

প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের দুই সপ্তাহের মধ্যে, 9 আগস্ট 2022, দ্য ডেইলি স্টার (বাংলা) “জনশুমারিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আসেনি” শিরোনামে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতা, গবেষক ও মাঠকর্মীদের বক্তব্য ছাপে। তাঁদের মূল অভিযোগ: দুর্গম এলাকায় গণনাকারী যাননি, নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ হয়নি, আর তালিকা দ্বিগুণ হলেও মোট সংখ্যা প্রায় বাড়েনি।

প্রতিবেদনটিতে (পিনাকী রায় ও মিন্টু দেশোয়ারা) কে কী বলেছেন:

বক্তা পরিচয় বক্তব্য
সঞ্জীব দ্রং সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম 50টি জনগোষ্ঠী বিবেচনায় নেওয়া হলেও বৃদ্ধির হারে তার প্রতিফলন নেই; “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা অন্তত ৩০ লাখ হবে”
রবীন্দ্রনাথ সরেন সভাপতি, বাংলাদেশ আদিবাসী পরিষদ সাঁওতাল “৫ লাখের কম নই”; “আদিবাসী” নাম বদলে “ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী” করার পর সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হচ্ছে
ফিলিপ গাইন সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (SEHD) প্রতিবেদন “স্পষ্টতই প্রশ্নবিদ্ধ”; সিলেটের চা বাগানের 23টি জনগোষ্ঠী যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি
মেসবাহ কামাল ইতিহাসের অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 50টি নাম রাখার জন্য সাধুবাদ, কিন্তু নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করায় “পদ্ধতিগত ত্রুটি”; প্রকৃত সংখ্যার জন্য “বিশেষায়িত জনশুমারি” দরকার
গৌরাঙ্গ পত্র সভাপতি, পত্র সম্প্রদায় কল্যাণ পরিষদ গণনাকারী তাঁর বাড়িতে আসেননি, শেষ দিনে নিজে ফোন করে তথ্য দেন
পিউস নানাউর খড়িয়া মানবাধিকারকর্মী “কেউ আমার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে আসেনি”
রিপন বন্দোপাধ্যায় শুমারি সুপারভাইজার, রাজঘাট, শ্রীমঙ্গল কিছু তথ্য সংগ্রাহক “ঝামেলা এড়াতে” ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অপশন ব্যবহার করেননি

দুই দিন পর, 11 আগস্ট, ফরাসি বার্তা সংস্থা AFP-র প্রতিবেদনে সঞ্জীব দ্রং আবার প্রায় 30 লাখের অনুমান দেন — সরকারি সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ — আর সতর্ক করেন, গোনা না হলে ভূমি অধিকার, উন্নয়ন বাজেট ও মানবাধিকারের দাবি উপেক্ষা করা সহজ হয়। ফিলিপ গাইন AFP-কে গণনাকারীদের “carelessness, neglect and lack of skills”-কে দায়ী করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কম গোনার সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দেন। একই দিনে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদকীয় প্রশ্ন তোলে, তালিকার জনগোষ্ঠী দ্বিগুণ হওয়ার পরও 11 বছরে মোট সংখ্যা মাত্র 64 হাজার বাড়ল কীভাবে, আর CAPI-তে প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পর অদক্ষতা কেন মেনে নেওয়া যায়।

এই অভিযোগগুলো তিন ধরনের — একই কথা নয়, আলাদা করে পড়া দরকার:

  • গণনার আওতা: খানা বা গ্রাম গোনাই হয়নি (গৌরাঙ্গ পত্র, পিউস নানাউর, রাম পাপাং)। শুমারি-পরবর্তী যাচাই ঠিক এই ধরনের বাদ পড়াই মাপে, তবে জাতিগোষ্ঠী ধরে নয়।
  • পরিচয় নথিভুক্তি: খানা গোনা হয়েছে, কিন্তু জাতিগোষ্ঠীর প্রশ্নে “না” গেছে বা ভুল নাম বসেছে (রিপন বন্দোপাধ্যায়)। এ ধরনের ত্রুটি যাচাইয়ে মাপা হয়নি (Table 3.1.6)।
  • সংজ্ঞা ও তালিকা: যাঁরা তালিকার নামে পড়েন না বা নিজেদের অন্য নামে চেনেন (ফিলিপ গাইন, রবীন্দ্রনাথ সরেন)। এটি গণনার ভুল নয়, শ্রেণিবিভাগের প্রশ্ন।

জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব জরিপ বনাম শুমারি: এক ছকে

জাতীয় পর্যায়ের বিকল্প সংখ্যার পদ্ধতি প্রকাশিত না হলেও কয়েকটি জনগোষ্ঠী নিজেরা গুনেছে — কোথাও গ্রাম ধরে, কোথাও পরিবার ধরে। তাদের সংখ্যা প্রায় সবসময় শুমারির চেয়ে বেশি। নিচের ছকে প্রতিটি দাবির উৎস ও বছর, পাশে শুমারির সংখ্যা।

জনগোষ্ঠী নিজস্ব হিসাব বা দাবি (কে, কবে) শুমারির সংখ্যা
সাঁওতাল অন্তত 5 লাখ — রবীন্দ্রনাথ সরেন, 2022 (দাবি, জরিপ নয়) 2022: 129,056 (চূড়ান্ত); প্রাথমিক 129,049। ডেইলি স্টার লিখেছে 1991 শুমারিতে “২ লাখের বেশি”
গারো 2011-এ 84,565 — আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের 2016 সালের প্রকাশনা, সঞ্জীব দ্রংয়ের উদ্ধৃতিতে 2022: 76,854 (চূড়ান্ত); প্রাথমিক 76,846
পত্র 705 পরিবার, 3,999 জন — পত্র সম্প্রদায় কল্যাণ পরিষদের জরিপ, 2020 2022: 3,103 (চূড়ান্ত); প্রাথমিক 3,100
খড়িয়া সিলেট বিভাগের 41টি গ্রামে 5,700 জন — পিউস নানাউরের জরিপ, 2020 2022: 3,100 (চূড়ান্ত, “Kharia/Khadria”); প্রাথমিক 3,099
বেদিয়া মাহাতো 41টি গ্রামে 14–15 হাজার — বিভূতিভুষণ মাহাতো, বাংলাদেশ বেদিয়া মাহাতো ইউথ নেট তিনি তুলনা করেছেন 7,207-এর সঙ্গে, যা প্রাথমিক প্রতিবেদনের “Bedia” সারি; একই ছকে আলাদা সারি “Mahato/Kurmi Mahato/Bedia Mahato” — চূড়ান্ত হিসাবে 19,271
কোড়া প্রায় 2,000 — রিদেশ মুদি, মালনীছড়া চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় 2022: 816
গুর্খা 83টি পরিবার — পরিমল সিং বারাইক, চা জনগোষ্ঠী আদিবাসী ফ্রন্ট 2022: 101 (চূড়ান্ত); প্রাথমিক 100
তঞ্চঙ্গ্যা 51,773 (পার্বত্য চট্টগ্রাম 41,973, কক্সবাজার 5,600, চট্টগ্রাম 4,200) — বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার জরিপ, 2008 2022: 45,974
বম 9,500 — বম সোশাল কাউন্সিল বাংলাদেশের জরিপ, 2003 1991: 6,978; 2022: 13,193
খুমি 2,094 — সিঅং খুমির নেতৃত্বে জরিপ, 2006 1991: 1,241; 2022: 3,780
খিয়াং আনুমানিক 3,600 (700-র বেশি পরিবার) — আমাদের আর্কাইভের খিয়াং-বিষয়ক লেখা 1981: 5,453; 1991: 1,950; 2022: 4,826
ত্রিপুরা “২ লক্ষের কাছাকাছি” — প্রয়াত সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরার অনুমান, আমাদের আর্কাইভের ত্রিপুরা-বিষয়ক লেখায় 1991: 81,014; 2001: 119,901; 2022: 156,620

উৎস: প্রথম সাতটি সারির দাবি দ্য ডেইলি স্টার, 9 আগস্ট 2022; তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খুমি, খিয়াং ও ত্রিপুরার দাবি ও পুরোনো শুমারির সংখ্যা জুমজার্নাল আর্কাইভ (তথ্যসূত্র দেখুন)। 2022-এর সংখ্যা BBS জাতীয় প্রতিবেদন Table P29 ও প্রাথমিক প্রতিবেদন Table A-1.4।

ছকটি দুটি ভিন্ন জিনিস দেখায়। কোথাও পার্থক্য বড় এবং দাবিটি গ্রাম ধরে গোনা জরিপ থেকে (খড়িয়া, পত্র) — এগুলো গণনার আওতার প্রশ্ন। কোথাও পার্থক্য তৈরি হচ্ছে নাম ও সারি থেকে: বেদিয়া মাহাতোর ক্ষেত্রে শুমারির ছকে দুটি সারিতেই “Bedia” শব্দ আছে, আর কোনটির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে তার উপর পার্থক্যের মাপ বদলে যায়। আবার কয়েকটি জনগোষ্ঠীর পুরোনো নিজস্ব জরিপের সংখ্যা (বম 2003, খুমি 2006) পরের শুমারি নিজেই ছাড়িয়ে গেছে — এক বছরের জরিপের সঙ্গে আরেক বছরের শুমারি সরাসরি তুলনীয় নয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রতম জনগোষ্ঠীগুলোর সংখ্যা-সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আছে খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখোয়া, লুসাই: পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী লেখায়; বমদের গ্রাম ও বসতির বিবরণ বম জাতি: নাম, গোত্র, খ্রিষ্টধর্ম ও নিজস্ব বর্ণমালা লেখায়।

আদিবাসী 30 লাখ, 40 লাখ, নাকি 50 লাখ: প্রতিটি সংখ্যা কোথা থেকে এসেছে

বিকল্প সংখ্যাগুলোর মধ্যে “প্রায় 30 লাখ” সবচেয়ে পুরোনো ও সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত — অন্তত 2011 সাল থেকে Kapaeeng Foundation ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এটি বলে আসছে। 40 লাখ ও 50 লাখও উদ্ধৃত হয়, কখনো একই ধরনের সংগঠনের নামে। কোনোটির সঙ্গেই গণনার পদ্ধতি প্রকাশিত হয়নি; প্রতিটিকে দাবি বা অনুমান হিসেবেই পড়া উচিত, যেভাবে উৎসগুলো নিজেরাও লিখেছে।

প্রায় 30 লাখ

Kapaeeng Foundation-এর 2011 সালের মানবাধিকার প্রতিবেদনের (প্রকাশ জানুয়ারি 2012) ভূমিকায় লেখা: বাংলাদেশে 54টির বেশি জাতিগোষ্ঠীর “approximately 3 million” আদিবাসী মানুষ আছেন। সংখ্যাটির উৎস বা হিসাব প্রতিবেদনে দেওয়া নেই। 2022-এ সঞ্জীব দ্রং একই সংখ্যা দেন দ্য ডেইলি স্টার ও AFP-কে। 2023 সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সর্বজনীন পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনায় (UPR) Kapaeeng Foundation, এশিয়া ইনডিজেনাস পিপলস প্যাক্ট (AIPP) ও IWGIA-র যৌথ প্রতিবেদন লেখে, আদিবাসীদের মতে সংখ্যাটি “more than 3.0 million”, আর শুমারিতে তাঁরা “not properly enumerated”। এই বাক্যের পাদটীকায় উৎস হিসেবে আছে ডেইলি স্টারের 9 আগস্ট 2022-এর খবর — অর্থাৎ আন্তর্জাতিক নথিতে সংখ্যাটি গেছে একটি সংবাদপত্রে উদ্ধৃত দাবি হয়ে। (একই প্রতিবেদন শুমারির বছর লিখেছে “2021 census”, সংখ্যা দিয়েছে প্রাথমিক প্রতিবেদনের 1,650,159।) অক্টোবর 2026-এ বাংলা ট্রিবিউনের একটি প্রতিবেদনও লিখেছে, “আদিবাসী সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী এই সংখ্যা ৩০ লাখের কাছাকাছি”।

প্রায় 40 লাখ

আমাদের আর্কাইভে আগস্ট 2026-এর আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস 2026 লেখায় আছে: 2022 শুমারিতে প্রায় 16 লাখ 50 হাজার, “তবে আদিবাসী সংগঠনগুলোর মতে, প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখের কাছাকাছি”। কোন সংগঠন, কোন হিসাবে — লেখাটিতে বলা নেই। অন্য কোনো উৎসে 40 লাখের পেছনের হিসাব পাওয়া যায়নি। জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র নিয়ে আমাদের লেখা জাতিসংঘ আদিবাসী ঘোষণাপত্র (UNDRIP): কী বলে, বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে-তেও এই দুই সংখ্যা পাশাপাশি আছে, আর সেখানে লেখা আছে ফারাকের পদ্ধতিগত কারণ কোনো উৎসে ব্যাখ্যা করা নেই — এই লেখার কাজ সেই ফাঁকটুকু নথি দিয়ে ভরা।

প্রায় 50 লাখ

আন্তর্জাতিক সংগঠন IWGIA-র বার্ষিক প্রতিবেদন The Indigenous World 2023-এর বাংলাদেশ অধ্যায় (29 মার্চ 2023) শুমারির 1,650,159 উল্লেখ করে লিখেছে, আদিবাসীরা দাবি করেন তাঁদের সংখ্যা “some five million”। পাদটীকায় উৎস: অধ্যাপক আবুল বারকাতের প্রবন্ধ “Political Economy of Unpeopling of Indigenous Peoples: The Case of Bangladesh”, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির 19তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন, 8–10 জানুয়ারি 2015। প্রবন্ধটি পরে 2016 সালে একই নামে বই হয়। বইটির দুটি পর্যালোচনায় (দ্য ডেইলি স্টার, অক্টোবর 2017; ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ফেব্রুয়ারি 2017) মোট জনসংখ্যার কোনো সংখ্যা বা তার হিসাব-পদ্ধতি উল্লেখ নেই; ডেইলি স্টারের পর্যালোচনা অনুযায়ী বইটি অন্তত 49টি জনগোষ্ঠী ও 40টির বেশি ভাষার কথা বলে, আর ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস লিখেছে, লেখক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ও আকার নিয়ে “statistical politics” বন্ধ করার কথা বলেছেন।

50 লাখ সংখ্যাটি আরেকটি জায়গায় পাওয়া যায়: Kapaeeng Foundation-এর 2015 সালের মানবাধিকার প্রতিবেদনে পুনর্মুদ্রিত মাতৃভাষা-শিক্ষাবিষয়ক একটি সংবাদ-প্রতিবেদন, যেখানে লেখা, নিজেদের “আদিবাসী” বলা জনগোষ্ঠীগুলোর নেতারা দাবি করেন তাঁরা 48টির বেশি সম্প্রদায়ের 50 লাখ মানুষ। একই অনুচ্ছেদে 2011 শুমারির সংখ্যা লেখা “17,84,000”, আর BBS-এর মূল সূচকের ছকে 2011-এর সংখ্যা 15,86,141 — এই দুটি মেলে না।

শুধু সমতলে প্রায় 20 লাখ

Kapaeeng Foundation-এর 2014 সালের প্রতিবেদন লিখেছে, সমতলের আদিবাসীরা দাবি করেন শুধু তাঁদের সংখ্যাই “2.0 million”; একই প্রতিবেদনে পুনর্মুদ্রিত একটি বাজেট-বিষয়ক সংবাদে সঞ্জীব দ্রং বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে প্রায় 20 লাখ আদিবাসী আছেন। দুটি সংখ্যাতেই হিসাবের ভিত্তি দেওয়া নেই। একই প্রতিবেদন 2011 শুমারির 1,586,141-কে দেশের জনসংখ্যার “1.8%” লিখেছে; দ্য ডেইলি স্টারের হিসাবে অংশটি 1.10%।

সরকার ও BBS কী বলে: “এটাই বাস্তবতা”

BBS-এর অবস্থান হলো, শুমারির সংখ্যা গণনার ফল, অনুমান নয়। 2022-এর শুমারি প্রকল্পের কারিগরি প্রধান দীপংকর রায় দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন, মানবাধিকারকর্মীরা “তাদের ইচ্ছেমতো যেকোনো সংখ্যা অনুমান করতে পারেন”, কিন্তু প্রতিবেদন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি। AFP-কে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কম গোনার সম্ভাবনা নাকচ করেন।

দীপংকর রায়ের যুক্তির একটি অংশ মোট জনসংখ্যা নিয়ে: অনেকে দেশের জনসংখ্যা 18 বা 20 কোটি অনুমান করেছিলেন, শুমারিতে এসেছে 16 কোটি 51 লাখ, “এটাই বাস্তবতা”। শুমারির পর প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণের সম্পাদকীয় (30 জুলাই 2022) জানায়, সরকার বলেছে শুমারি সব আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে হয়েছে এবং চূড়ান্ত ফলাফলে সন্দেহ দূর হবে; যাচাই হবে প্রতিনিধিত্বমূলক জরিপে, প্রতিটি বাড়িতে আবার গিয়ে নয়। সম্পাদকীয়টি নিজেও কয়েকটি সম্ভাব্য ত্রুটির কথা লিখেছিল: তথ্য নেওয়ার সময় সদস্যদের অনুপস্থিতি, গণনাকারীর বাড়ি বাদ পড়া, অনেকের অভিযোগ যে কেউ তাঁদের বাড়িতে আসেননি।

সরকারি অবস্থান এখনো প্রাথমিক সংখ্যাতেই দাঁড়িয়ে। 25 জুন 2026 সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দেশে গেজেটভুক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী 50টি, মোট সংখ্যা 16.5 লাখ, জনসংখ্যার প্রায় 1 শতাংশ — উৎস হিসেবে শুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন (UNB)। সরকারের দিক থেকে বিকল্প কোনো সংখ্যা স্বীকৃত হয়নি; তবে 2026 সালে BBS নিজেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য আলাদা জরিপ শুরু করেছে (নিচে)।

এক শুমারির সঙ্গে আরেক শুমারি মেলানো কঠিন কেন

শুমারির সংখ্যা সময়ের সঙ্গে তুলনা করার সময় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, কে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” হিসেবে গোনা হবেন, তার তালিকা ও প্রশ্নের ধরন বারবার বদলেছে। BBS-এর মূল সূচকের ছকে 1981 থেকে 2022 পর্যন্ত পাঁচটি সংখ্যা পাশাপাশি আছে (897,828 থেকে 1,650,478), কিন্তু প্রতিটি শুমারির সংজ্ঞা ও তালিকা কী ছিল, ছকটি বলে না।

নথিতে পাওয়া কয়েকটি স্তর:

  • 1872: প্রথম গণনা, সব এলাকা নয়। আমাদের আর্কাইভে জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার লেখা পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের বসতি স্থাপন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার এইচ. এ. ককরেলের 6 ডিসেম্বর 1873-এর চিঠিতে আছে, 1872-এর গণনায় কেবল বান্দরবান সদর ও শঙ্খ নদী মহকুমার জনসংখ্যা (61,957) দেখানো হয়েছিল, চাকমা সার্কেল ও মং সার্কেলের কোনো হিসাব ছিল না। লেখকের মতে এই কম দেখানোর কারণেই 1872 (69,607) থেকে 1881 (101,597)-এ বৃদ্ধি এত বেশি দেখায়।
  • 1941: ধর্ম থেকে জাতিতে। একই লেখা অনুযায়ী 1941-এ পার্বত্য চট্টগ্রামে হিন্দু জনসংখ্যা আগের দশকের তুলনায় প্রায় আট ভাগের এক ভাগে নেমে আসে, কারণ হিন্দু ধর্মাবলম্বী ত্রিপুরাদের সেবার “ত্রিপুরা” হিসেবে আলাদা দেখানো হয় — 35,246 জন। একই মানুষ, শ্রেণি বদলেছে।
  • 1981–1991: যে সংখ্যা কমে গেল। আর্কাইভের খিয়াং-বিষয়ক লেখা অনুযায়ী খিয়াংদের সংখ্যা 1981-তে 5,453, 1991-এ 1,950। লেখাটির সিদ্ধান্ত: “এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আদমশুমারিতে খিয়াং জনগােষ্ঠীর লােকসংখ্যা যথাযথভাবে গণনা করা হয় না।” (খিয়াং)
  • নামের ভেতরে নাম। আর্কাইভের তঞ্চঙ্গ্যা জাতির আদ্যোপান্ত লেখায় বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা লিখেছেন, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকার মুঅ গসা ও ধন্যা গসার তঞ্চঙ্গ্যারা নিজেদের চাকমা নামে পরিচয় দেন, অন্যরাও তাঁদের চাকমা বলেন, আর সরকারি আদমশুমারিতে তাঁদের চাকমা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লেখাটিতে 1991 শুমারির সংখ্যার পাশে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের দেখানো “সংশোধিত” সংখ্যাও আছে।
  • 2011 থেকে 2022: তালিকা 27 থেকে 50। তালিকায় নাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, কিন্তু মোট সংখ্যা বেড়েছে 64,337 জন, প্রায় 4%। একই সময়ে দেশের গণনাকৃত জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় 14.7%। এই অঙ্ক থেকেই ডেইলি স্টারের সম্পাদকীয় ও সঞ্জীব দ্রংয়ের প্রশ্ন। অন্যদিকে 2011-এ জাতিগোষ্ঠী ছিল খানার কোড, 2022-এ ব্যক্তির উত্তর — প্রশ্নের ধরন বদলেছে, ফলে দুই সংখ্যা একই মাপকাঠির নয়।

পাঁচ শুমারির সংখ্যার ছক ও জাতিগোষ্ঠী ধরে 2022-এর পূর্ণ হিসাব আছে “জনশুমারি ২০২২: ৫০ জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা, জেলা ধরে ধরে” লেখায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনসংখ্যা কত: তিন জেলার হিসাব নিয়ে আলাদা প্রশ্ন

2022 শুমারির তিনটি জেলা-প্রতিবেদনের Table P17 যোগ করলে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ 920,248 জন — তিন জেলার মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। প্রাথমিক প্রতিবেদনের জেলা-সংখ্যা যোগ করলে আসে 920,217। এই সংখ্যাগুলো নিয়েও সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন হিসাব ঘুরছে।

দ্য ডেইলি স্টারের 26 ফেব্রুয়ারি 2025-এর বার্ষিকী-ক্রোড়পত্রে “How are Indigenous people faring in the new Bangladesh?” লেখায় দাবি করা হয়েছে, 2011 শুমারিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনসংখ্যা ছিল 920,217, আর 2022-এ তা নেমে 852,540। লেখাটি প্রশ্ন রেখেছে — ইচ্ছাকৃতভাবে কম দেখানো, নাকি হিসাবের ভুল — এবং BBS-এর কাছে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চেয়েছে।

নথির সঙ্গে মেলালে দেখা যায়: লেখাটির “2011”-এর সংখ্যা 920,217 হুবহু মেলে 2022 সালের প্রাথমিক প্রতিবেদনের তিন জেলার যোগফলের সঙ্গে — সংসদে সংস্কৃতিমন্ত্রীর দেওয়া রাঙামাটি 372,864, খাগড়াছড়ি 349,378 ও বান্দরবান 197,975 যোগ করলে ঠিক এই সংখ্যা হয়। 852,540 কোন শুমারির কোন ছক থেকে এসেছে, তা যাচাই করা যায়নি। আরেক উৎস, Kapaeeng Foundation-এর 2014 সালের প্রতিবেদন, 2011 শুমারির বরাতে পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম জনসংখ্যা “around 845 thousands” লিখেছে, যা 852,540-এর কাছাকাছি, কিন্তু সমান নয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে জুমজার্নালের অন্যান্য লেখা পাবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।

জাতিসংঘের শুমারি নির্দেশিকা জাতিগোষ্ঠী গোনার বিষয়ে কী বলে

BBS জানিয়েছে, শুমারি জাতিসংঘের “Principles and Recommendations for Population and Housing Censuses (Revision-3)” অনুসরণ করেছে (জাতীয় প্রতিবেদন, অধ্যায় 1)। নির্দেশিকাটির অনুচ্ছেদ 4.183–4.192 জাতিগোষ্ঠী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী গোনার কথা বলে। সেখানে মূল সুপারিশ: পরিচয় হবে উত্তরদাতার নিজের ঘোষণায়, একাধিক পরিচয় দেওয়ার সুযোগ থাকবে, আর আগে থেকে বানানো তালিকার পাশে নিজে লিখে দেওয়ার ঘর রাখা ভালো।

নির্দেশিকার সুপারিশ আর 2022 শুমারির প্রকাশিত নথি পাশাপাশি:

জাতিসংঘ নির্দেশিকা (2017) 2022 শুমারির নথিতে যা আছে
জাতিগত তথ্য নিতে হবে উত্তরদাতার নিজের ঘোষণায় (“self-declaration”); আদিবাসী পরিচয়ের প্রশ্নে আত্মপরিচয়ের নীতি (অনু. 4.185, 4.190) খানা-পর্যায়ের প্রশ্ন দিয়ে শুরু; প্রত্যেক সদস্য নিজে উত্তর দেবেন কি না, প্রকাশিত নথিতে নির্দেশনা নেই
একাধিক জাতিগত পরিচয় দেওয়ার সুযোগ; মিশ্র পরিবারের সন্তানের পরিচয় কীভাবে লেখা হবে, তা নির্দেশনায় বলে দিতে হবে (অনু. 4.186) প্রশ্ন 33: তালিকা থেকে একটি নাম বাছাই; মিশ্র পরিবারের নির্দেশনা প্রকাশিত নথিতে পাওয়া যায়নি
আগে থেকে শ্রেণিবদ্ধ তালিকা বৈচিত্র্যের তথ্য হারাতে পারে, যদি না নিজে লিখে দেওয়ার ঘর থাকে (অনু. 4.185) “select from list”; চূড়ান্ত ছকে “Others” 68,588 জন, ভাঙা নয়
“None” বা “Not declared” বলার সুযোগ (অনু. 4.186) ছাপা প্রশ্নপত্রে এমন বিকল্প দেখা যায় না
মানদণ্ড ও শ্রেণিবিভাগের পদ্ধতি নথিভুক্ত করে ব্যবহারকারীদের জানাতে হবে (অনু. 4.187) অংশ 2.31: সংজ্ঞা 2010 সালের আইন অনুযায়ী — এর বাইরে বিস্তারিত নেই
আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে তথ্য তৈরি ও সংগ্রহে যুক্ত করা, স্থানীয় ভাষা ব্যবহার, স্থানীয় আদিবাসীদের দোভাষী বা কর্মী হিসেবে নিয়োগ (অনু. 4.192); পরিকল্পনায় সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ, বিশেষত বিচ্ছিন্ন বসতির ক্ষেত্রে, কম গোনা ঠেকাতে (অনু. 2.26) গণনাকারী বাছাই হয়েছে স্থানীয় তরুণদের মধ্য থেকে ICT দক্ষতা দেখে; ভাষা বা আদিবাসী প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শের উল্লেখ নেই
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র বা পরিপূরক জরিপও হতে পারে — যেমন কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে (অনু. 4.191) 2022-এ হয়নি; 2026-এ BBS আলাদা জরিপ চালাচ্ছে

নির্দেশিকা নিজেই বলে, জাতিগোষ্ঠীর এমন কোনো একক সংজ্ঞা বা শ্রেণিবিভাগ নেই যা সব দেশে প্রযোজ্য (অনু. 4.187), আর কোন শব্দে আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা হবে, তা দেশভেদে আলাদা (অনু. 4.190)। অর্থাৎ নির্দেশিকা মানদণ্ড ঠিক করে দেয় না, প্রক্রিয়ার মান বলে দেয়। বাংলাদেশে “আদিবাসী” শব্দ নিয়ে রাষ্ট্রের অবস্থান কীভাবে বদলেছে, তা আমাদের লেখা “রাষ্ট্র কোন শব্দ ব্যবহার করে: সংবিধান, শুমারি ও সরকারি নির্দেশনায় ‘আদিবাসী’ প্রশ্নের নথি-কালানুক্রম”-এ আছে।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ 2026: BBS নিজেই আলাদা করে গুনছে

অক্টোবর 2026-এ BBS দেশজুড়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য আলাদা একটি জরিপ চালাচ্ছে। BBS-এর জেলা কার্যালয়ের নোটিশ অনুযায়ী মাঠের কাজ 1 থেকে 25 অক্টোবর 2026। এর লক্ষ্য আর্থসামাজিক অবস্থা, দারিদ্র্য ও জনমিতির তথ্য; জরিপটি থেকে জাতিগোষ্ঠী ধরে নতুন জনসংখ্যা-হিসাব প্রকাশিত হবে কি না, তা এখনো ঘোষিত হয়নি।

উৎসগুলো থেকে যা জানা যায়:

  • নাম: BBS ঢাকা জেলা কার্যালয়ের ওয়েবসাইটের নোটিশে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ সামাজিক অবস্থা ও দারিদ্র পরিস্থিতি নিরূপণ জরিপ ২০২৫”, “০১ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ … মোট ২৫ দিনব্যাপী সারা দেশব্যাপী”। BBS বগুড়া কার্যালয়ের নোটিশে “দেশে চলমান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ-২০২৬” — আশেপাশে কোনো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী থাকলে জেলা বা উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসকে জানানোর অনুরোধসহ।
  • প্রকল্পের মেয়াদ: দেশ রূপান্তরের 18 জুন 2026-এর প্রতিবেদন (নেত্রকোনার দুর্গাপুরে আঞ্চলিক কর্মশালা) অনুযায়ী প্রকল্প শুরু আগের বছরের 24 অক্টোবর, চলবে 30 জুন 2028 পর্যন্ত; খসড়া প্রশ্নপত্রে সাতটি মডিউল।
  • উদ্দেশ্য: দেশ রূপান্তরের 14 আগস্ট 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী আর্থসামাজিক অবস্থা, দারিদ্র্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনমিতির একটি “স্বতন্ত্র পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার”, আর সামাজিক সুরক্ষার উপকারভোগী বাছাইয়ের জন্য Proxy Means Test স্কোর। প্রকল্প পরিচালক ফারহানা সুলতানা।
  • গণনাকারীর সংখ্যা — দুই উৎসে দুই রকম: দেশ রূপান্তর (জুন 2026) লিখেছে 17টি জেলায় 60 জন তথ্য সংগ্রহকারী; দৈনিক সংবাদে কলামিস্ট মিথুশিলাক মুরমু (8 অক্টোবর 2026) লিখেছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার গণনাকারী।
  • সময় নিয়েও অমিল: দেশ রূপান্তরের আগস্টের প্রতিবেদনে “আগস্ট মাসজুড়ে” তথ্য সংগ্রহের কথা, আর BBS-এর জেলা নোটিশে 1–25 অক্টোবর।
  • আদিবাসী তথ্য সংগ্রাহক: উন্নয়নকর্মী ষ্টেফান সরেন দৈনিক সংবাদে (3 অক্টোবর 2026) লিখেছেন, এই জরিপে তথ্য সংগ্রাহক হিসেবে আদিবাসীদের যুক্ত করা হয়েছে; তিনি ভয় বা দ্বিধা, আর প্রবীণ ও নারীদের বাংলায় স্বাচ্ছন্দ্যের অভাবকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মিথুশিলাক মুরমুর কলামে পরামর্শ-সভায় ওঠা আপত্তিগুলোও আছে: প্রশ্নপত্রে “আদিবাসী”র বদলে “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী” শব্দ; গেজেটের 50 নামের বাইরের ছোট জনগোষ্ঠীকে অন্য শ্রেণিতে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা; বৃহত্তর সিলেটের চা বাগানে প্রায় 116টি জনগোষ্ঠী কাজ করে বলে অভিজ্ঞদের দাবি, যে সংখ্যায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো একমত নয়; সাঁওতালদের সারনা ধর্মের মতো প্রথাগত বিশ্বাসের আলাদা ঘর না থাকা; মাতৃভাষার সরাসরি প্রশ্ন না থাকা। তিনি জমি হারানো, অভ্যন্তরীণ অভিবাসন, সামাজিক সুরক্ষা ও মাতৃভাষার ক্ষয় নিয়ে চারটি প্রশ্ন যোগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

অর্থাৎ 2022 শুমারি নিয়ে যে আপত্তিগুলো উঠেছিল — আদিবাসী গণনাকারী, ভাষা, তালিকার বাইরের জনগোষ্ঠী — তার কয়েকটির জবাব এই জরিপের নকশায় দেওয়ার চেষ্টা আছে, আর তালিকা ও পরিভাষার প্রশ্নটি একই জায়গায় রয়ে গেছে। জরিপটি যদি জাতিগোষ্ঠী ধরে জনসংখ্যার হিসাব প্রকাশ করে, তাহলে “16 লাখ না 30 লাখ” প্রশ্নে শুমারির বাইরে BBS-এর নিজেরই আরেকটি সূত্র পাওয়া যাবে।

প্রশ্নোত্তর: জনশুমারিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গণনা

জনশুমারি 2022 অনুযায়ী বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ কতজন?

BBS-এর চূড়ান্ত জাতীয় প্রতিবেদন (নভেম্বর 2023) অনুযায়ী 1,650,478 জন — পুরুষ 824,933, নারী 825,545 — দেশের গণনাকৃত জনসংখ্যার প্রায় 1 শতাংশ। আগস্ট 2022-এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে সংখ্যাটি ছিল 1,650,159, আর জুন 2026-এ সংসদে সংস্কৃতিমন্ত্রী এই প্রাথমিক সংখ্যাই উদ্ধৃত করেছেন। শুমারি-পরবর্তী যাচাইয়ের ভিত্তিতে জাতিগোষ্ঠী ধরে কোনো সমন্বিত সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি।

আদিবাসী সংগঠনগুলো কেন বলে প্রকৃত সংখ্যা 30 লাখ?

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং আগস্ট 2022-এ দ্য ডেইলি স্টার ও AFP-কে বলেন, সংখ্যা অন্তত 30 লাখ; যুক্তি হিসেবে দেন দুর্গম এলাকায় গণনাকারী না যাওয়া, আর তালিকা 27 থেকে 50 হলেও মোট সংখ্যা মাত্র 64 হাজার বাড়া। Kapaeeng Foundation 2011 সাল থেকেই “approximately 3 million” লিখে আসছে। এই সংখ্যার হিসাব-পদ্ধতি কোনো উৎসে প্রকাশিত নয়।

জনশুমারিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কীভাবে গোনা হয়?

2022-এ ট্যাবলেটে দুই ধাপে। খানা-অংশের প্রশ্ন 11: “Are there any members of any ethnic minority group in the household?” উত্তর হ্যাঁ হলে প্রশ্ন 33-এ প্রত্যেক সদস্যের জাতিগোষ্ঠীর নাম একটি তালিকা থেকে বাছাই করা হয়। তালিকার ভিত্তি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, 2010-এর তফসিল, যেখানে 2019 সাল থেকে 50টি নাম। প্রথম প্রশ্নে “না” গেলে খানার কারও জাতিগোষ্ঠী নথিভুক্ত হয় না।

জনশুমারিতে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”র সংজ্ঞা কী?

BBS-এর জাতীয় প্রতিবেদনের অংশ 2.31 নিজে কোনো সংজ্ঞা দেয় না; বলে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, 2010 যাদের সংজ্ঞায়িত করে তারাই। আইনের ধারা 2(2) অনুযায়ী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অর্থ “তফসিলে উল্লিখিত বিভিন্ন আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও শ্রেণীর জনগণ”। ধারা 19-এ সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়েই তফসিল বদলাতে পারে; 23 মার্চ 2019-এর প্রজ্ঞাপনে নাম হয় 50টি।

তালিকার বাইরের জনগোষ্ঠীর মানুষ কোথায় গোনা হন?

চূড়ান্ত প্রতিবেদনের Table P29-এ 50টি নামের প্রতিটির আলাদা সারি, আর তালিকার বাইরের সবাই একটি সারিতে — “Others”, 68,588 জন। এই মানুষেরা কোন কোন জনগোষ্ঠীর, তা কোনো প্রকাশিত ছকে ভাঙা নেই। প্রশ্ন 33-এ “অন্যান্য” বাছলে নাম লিখে দেওয়ার ঘর ছিল কি না, ছাপা প্রশ্নপত্রে দেখা যায় না।

2011 আর 2022 শুমারির সংখ্যা কি সরাসরি তুলনা করা যায়?

পুরোপুরি নয়। 2011-এ জাতিগোষ্ঠী ছিল খানার পরিচয় — খানাপ্রতি একটি কোড, তালিকায় 27টি নাম ও “Other”। 2022-এ প্রত্যেক সদস্যের জন্য আলাদা নাম, তালিকায় 50টি। গণনাকৃত সংখ্যা 2011-এ 1,586,141, 2022-এ 1,650,478। তালিকা ও প্রশ্নের ধরন দুটোই বদলানোয় সংখ্যা দুটি একই মাপকাঠির পরিমাপ নয়।

শুমারি-পরবর্তী যাচাইয়ে (PEC) কতজন বাদ পড়েছেন বলে দেখা গেছে?

BIDS 10–16 অক্টোবর 2022-এ 378টি নমুনা এলাকায় আবার গুনে নিট বাদ পড়ার হার পেয়েছে 2.75% (2011-এ 3.97%)। এর ভিত্তিতে BBS মোট জনসংখ্যা 16,98,28,911-এ সমন্বয় করেছে, লিঙ্গ, ধর্ম, বয়স, বিভাগ ও গ্রাম-শহর ধরে। জাতিগোষ্ঠী ধরে বাদ পড়ার হার বা সমন্বিত সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি, আর জাতিগোষ্ঠীর উত্তরের নির্ভুলতাও যাচাই করা হয়নি।

চট্টগ্রাম বিভাগে শুমারিতে কতজন বাদ পড়েছেন?

বিডিনিউজ২৪-এর 6 ফেব্রুয়ারি 2023-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী BIDS-এর যাচাইয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে নিট বাদ পড়ার হার 2.86%; সবচেয়ে বেশি সিলেটে 3.33%, সবচেয়ে কম রাজশাহীতে 2.12%। তিন পার্বত্য জেলার আলাদা হার কোনো প্রকাশিত উৎসে নেই। যাচাইয়ের নমুনায় প্রতিটি শুমারি-জেলা থেকে মাত্র 2টি এলাকা ছিল, তাই জেলাভিত্তিক হার এ থেকে পাওয়ার কথা নয়।

40 লাখ বা 50 লাখ সংখ্যা কোথা থেকে এসেছে?

40 লাখ: আমাদের আর্কাইভের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস 2026-এর লেখায় “আদিবাসী সংগঠনগুলোর মতে” — সংগঠনের নাম বা হিসাব নেই। 50 লাখ: IWGIA-র The Indigenous World 2023 (“some five million”), উৎস অধ্যাপক আবুল বারকাতের 2015 সালের সম্মেলন-প্রবন্ধ; আর Kapaeeng-এর 2015 সালের প্রতিবেদনে পুনর্মুদ্রিত একটি খবরে নেতাদের দাবি। কোনোটির গণনা-পদ্ধতি প্রকাশিত নয়।

জনশুমারির সংখ্যা নিয়ে BBS কী বলেছে?

শুমারি প্রকল্পের কারিগরি প্রধান দীপংকর রায় দ্য ডেইলি স্টারকে (আগস্ট 2022) বলেন, মানবাধিকারকর্মীরা ইচ্ছেমতো সংখ্যা অনুমান করতে পারেন, কিন্তু প্রতিবেদন তথ্য-উপাত্তভিত্তিক — “এটাই বাস্তবতা”। AFP-কে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কম গোনার সম্ভাবনা নাকচ করেন এবং জানান, তৃতীয় পক্ষের যাচাইয়ে কম বা বেশি গোনা ধরা পড়লে তা সমন্বয় করা হবে।

জাতিসংঘ জাতিগোষ্ঠী গোনার বিষয়ে কী সুপারিশ করে?

জাতিসংঘের শুমারি নির্দেশিকা (Revision 3, 2017, অনুচ্ছেদ 4.185–4.192) বলে, জাতিগত পরিচয় নিতে হবে উত্তরদাতার নিজের ঘোষণায়; একাধিক পরিচয় দেওয়ার সুযোগ থাকবে; আগে থেকে বানানো তালিকার পাশে নিজে লিখে দেওয়ার ঘর রাখা উচিত; আর আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে তথ্য সংগ্রহে যুক্ত করা, স্থানীয় ভাষা ব্যবহার ও স্থানীয় আদিবাসীদের নিয়োগ নির্ভুলতা বাড়ায়।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ 2026 কী?

BBS-এর “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ সামাজিক অবস্থা ও দারিদ্র পরিস্থিতি নিরূপণ জরিপ”, যার মাঠের কাজ BBS জেলা কার্যালয়ের নোটিশ অনুযায়ী 1–25 অক্টোবর 2026। লক্ষ্য আর্থসামাজিক অবস্থা, দারিদ্র্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনমিতির আলাদা তথ্যভান্ডার। দৈনিক সংবাদের একটি লেখা অনুযায়ী তথ্য সংগ্রাহক হিসেবে আদিবাসীদের যুক্ত করা হয়েছে। জনসংখ্যার নতুন হিসাব প্রকাশিত হবে কি না, ঘোষিত হয়নি।

শুমারিতে বাদ পড়লে কি নিজে থেকে যোগ দেওয়া যেত?

BBS-এর জাতীয় প্রতিবেদন (অংশ 1.13) অনুযায়ী 30 মে থেকে 30 জুন 2022 পর্যন্ত BBS সদর দপ্তরে 24 ঘণ্টার কল সেন্টার চালু ছিল (হটলাইন 09602998877), যা সাধারণ মানুষের জন্যও খোলা ছিল যাতে কেউ ফোন করে গণনায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। পত্র সম্প্রদায় কল্যাণ পরিষদের সভাপতি গৌরাঙ্গ পত্র জানিয়েছেন, শেষ দিনে তিনি নিজে ফোন করে তথ্য দিয়েছিলেন।

যা এখনো জানা যায়নি

  • 2022 শুমারির গণনাকারী-ম্যানুয়াল প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি; তাই প্রশ্ন 11 ও 33 কীভাবে জিজ্ঞেস করার নির্দেশ ছিল — নাম জিজ্ঞেস করা, তালিকা পড়ে শোনানো, মিশ্র পরিবারের সদস্যের পরিচয় — জানা যায়নি।
  • প্রশ্ন 33-এর CAPI তালিকায় ঠিক কোন নামগুলো ছিল এবং “অন্যান্য” বাছলে নাম লিখে দেওয়ার সুযোগ ছিল কি না, জানা যায়নি। প্রশ্ন 11-এর ছাপা পাতায় “No”-এর নিচে “[Q33 will be filled]” কেন লেখা, তারও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
  • “Others” সারির 68,588 জন কোন কোন জনগোষ্ঠীর, প্রকাশিত কোনো ছকে নেই।
  • শুমারি-পরবর্তী যাচাইয়ের নমুনায় কতগুলো এলাকা পার্বত্য চট্টগ্রামে বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী-প্রধান এলাকায় পড়েছে, আর সেখানে বাদ পড়ার হার কত, প্রকাশিত হয়নি। BIDS-এর পূর্ণ প্রতিবেদনও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
  • “Restricted areas”-এর তালিকায় কোন এলাকা ছিল এবং সেখানে গণনা কীভাবে হয়েছে, জানা যায়নি।
  • 30, 40 ও 50 লাখ — কোনো সংখ্যার পেছনের গণনা বা প্রাক্কলন-পদ্ধতি প্রকাশিত পাওয়া যায়নি। অধ্যাপক আবুল বারকাতের 2015 সালের মূল প্রবন্ধটিও পাওয়া যায়নি।
  • দ্য ডেইলি স্টারের ফেব্রুয়ারি 2025-এর ক্রোড়পত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য দেওয়া 852,540 সংখ্যাটি কোন শুমারির কোন ছকের, যাচাই করা যায়নি।
  • 2011 সালে কয়টি জনগোষ্ঠী “বিবেচনায়” ছিল — সঞ্জীব দ্রংয়ের হিসাবে 24, প্রশ্নপত্রের কোড-তালিকায় 27 — এই পার্থক্যের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
  • ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ 2026-এর নমুনা-নকশা, গণনাকারীর প্রকৃত সংখ্যা (60 না প্রায় 3,500) এবং এটি জাতিগোষ্ঠী ধরে জনসংখ্যা প্রকাশ করবে কি না, জানা যায়নি।

তথ্যসূত্র

সরকারি নথি

  1. Bangladesh Bureau of Statistics (BBS), Population and Housing Census 2022: National Report (Volume I), নভেম্বর 2023 — মূল সূচক 08 ও 09; অংশ 1.1–1.18; 2.31; অধ্যায় 3.1 (Table 3.1.2–3.1.6); 3.2.11; Table P29। Internet Archive কপি
  2. BBS, Population and Housing Census 2022: Preliminary Report, আগস্ট 2022 — Table 2.8, Table A-1.4, Annex 3 (প্রশ্নপত্র, পৃ. 55)। Internet Archive কপি
  3. BBS, Population and Housing Census 2011 — প্রশ্নপত্র, গণনাকারীর নির্দেশনা ও কোড-তালিকা (প্রশ্ন 11a/11b)। IPUMS International
  4. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, 2010 (2010 সনের 23 নং আইন), ধারা 2 ও 19। bdlaws.minlaw.gov.bd
  5. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, 23 মার্চ 2019 — সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, এস.আর.ও. নং 78-আইন/2019, নতুন তফসিল (50টি নাম)। বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়
  6. BBS ঢাকা জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপের নোটিশ (অক্টোবর 2026)। bbs.dhaka.gov.bd
  7. BBS বগুড়া জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, “দেশে চলমান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ-২০২৬” নোটিশ। bbs.bogra.gov.bd

আন্তর্জাতিক নথি

  1. United Nations, Principles and Recommendations for Population and Housing Censuses, Revision 3 (ST/ESA/STAT/SER.M/67/Rev.3), 2017 — অনুচ্ছেদ 2.23–2.26, 4.183–4.192। unstats.un.org
  2. IWGIA, “The Indigenous World 2023: Bangladesh”, 29 মার্চ 2023। iwgia.org
  3. Coalition of Indigenous Peoples Organisations on UPR, Kapaeeng Foundation, AIPP ও IWGIA, “Joint Submission on the Human Rights Situation of Indigenous Peoples in Bangladesh”, UPR 44তম অধিবেশন, 2023। aippnet.org

মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদন

  1. Kapaeeng Foundation, Human Rights Report 2011 on Indigenous Peoples in Bangladesh, জানুয়ারি 2012 — ভূমিকা; “Most indigenous ethnic groups remain excluded from the 2011 census”। kapaeeng.org
  2. Kapaeeng Foundation, Human Rights Report 2014 on Indigenous Peoples in Bangladesh। kapaeeng.org
  3. Kapaeeng Foundation, Human Rights Report 2015 on Indigenous Peoples in Bangladesh (পুনর্মুদ্রিত সংবাদ-প্রতিবেদন)। kapaeeng.org

সংবাদ ও মতামত

  1. পিনাকী রায় ও মিন্টু দেশোয়ারা, “‘জনশুমারিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আসেনি’”, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 9 আগস্ট 2022। bangla.thedailystar.net
  2. AFP, “Ethnic minorities missing from census, say indigenous activists”, ঢাকা ট্রিবিউন, 11 আগস্ট 2022। dhakatribune.com
  3. দ্য ডেইলি স্টার, সম্পাদকীয়: “Indigenous groups miscounted in census?”, 11 আগস্ট 2022 (ই-পেপার)। epfs.thedailystar.net
  4. প্রথম আলো (ইংরেজি), সম্পাদকীয়: “The final report must have accurate information”, 30 জুলাই 2022। en.prothomalo.com
  5. বিডিনিউজ২৪, “জনশুমারি: চূড়ান্ত হিসাবে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ”, 6 ফেব্রুয়ারি 2023। bangla.bdnews24.com
  6. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, “46.7 lakh people undercounted in latest census: BIDS”, 2023। tbsnews.net
  7. দ্য ডেইলি স্টার, বার্ষিকী-ক্রোড়পত্র, “How are Indigenous people faring in the new Bangladesh?”, 26 ফেব্রুয়ারি 2025, পৃ. 27 (ই-পেপার)। epfs.thedailystar.net
  8. UNB, “Bangladesh has 50 gazetted ethnic communities, population stands at 1.65 mln: Minister”, 25 জুন 2026। unb.com.bd
  9. বাংলা ট্রিবিউন, “বাংলাদেশে কারা আদিবাসী?”, 14 অক্টোবর 2026। banglatribune.com
  10. Abdul Mannan Manna, বই-পর্যালোচনা: “Political Economy of Unpeopling of Indigenous Peoples: the Case of Bangladesh”, দ্য ডেইলি স্টার, 13 অক্টোবর 2017। thedailystar.net
  11. Subhash Kumar Sengupta ও Abdullah-Al-Mamun, “Marginalisation of indigenous peoples”, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, 23 ফেব্রুয়ারি 2017। thefinancialexpress.com.bd
  12. দেশ রূপান্তর, “নেত্রকোনায় ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ ২০২৬’ বিষয়ক আঞ্চলিক কর্মশালা”, 18 জুন 2026। deshrupantor.com
  13. দেশ রূপান্তর, “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থা জরিপ করবে বিবিএস”, 14 আগস্ট 2026। deshrupantor.com
  14. ষ্টেফান সরেন, “আদিবাসী জরিপ: অধিকার নিশ্চিত করতে চাই সঠিক তথ্য”, দৈনিক সংবাদ, 3 অক্টোবর 2026। sangbad.net
  15. মিথুশিলাক মুরমু, “আদিবাসী জরিপ: যে প্রশ্নগুলো জরুরি”, দৈনিক সংবাদ, 8 অক্টোবর 2026। sangbad.net

জুমজার্নাল আর্কাইভ

  1. জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, “পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের বসতি স্থাপন” — 1872 ও 1941-এর গণনা। jumjournal.com
  2. বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, “তঞ্চঙ্গ্যা জাতির আদ্যোপান্ত” — তঞ্চঙ্গ্যাদের চাকমা হিসেবে গণনা; বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার 2008-এর জরিপ। jumjournal.com
  3. “খিয়াং” — 1981 ও 1991-এর শুমারি। jumjournal.com
  4. “ত্রিপুরা জাতির আদ্যোপান্ত” — 1991 ও 2001-এর শুমারি, সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরার অনুমান। jumjournal.com
  5. “খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখোয়া, লুসাই: পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী” — খুমি জরিপ 2006, খিয়াং অনুমান। jumjournal.com
  6. “বম জাতি: নাম, গোত্র, খ্রিষ্টধর্ম ও নিজস্ব বর্ণমালা” ও “বম জাতির আদ্যোপান্ত” — বম সোশাল কাউন্সিলের 2003-এর জরিপ। jumjournal.com
  7. “আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬: ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই” — 40 লাখের দাবি। jumjournal.com
  8. “জাতিসংঘ আদিবাসী ঘোষণাপত্র (UNDRIP): কী বলে, বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে”। jumjournal.com

সর্বশেষ হালনাগাদ: 17 অক্টোবর 2026

 

প্রসঙ্গ:আদিবাসী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, পার্বত্য চট্টগ্রাম

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা