Jumjournal Logo

জাবারাং কল্যাণ সমিতি: খাগড়াছড়িতে মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা যেভাবে দাঁড়াল

Last updated Nov 3rd, 2026

1

আলুটিলা থেকে দেখা খাগড়াছড়ি জেলার সবুজ পাহাড়সারি, দূরে সমতল আর মেঘলা আকাশ

জাবারাং কল্যাণ সমিতি খাগড়াছড়ির একটি স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা। এর মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা কর্মসূচি শুরু হয় 2006 সালে, সেভ দ্য চিলড্রেনের সহায়তায় “শিশুর ক্ষমতায়ন” (Shishur Khamatayan) প্রকল্প দিয়ে। 2007 সালের ফেব্রুয়ারিতে খাগড়াছড়ির তিন উপজেলায় 60টি “অঙ্কুর” প্রাক-প্রাথমিক কেন্দ্র চালু হয়, যেখানে চাকমা, মারমা ও ককবরকভাষী শিশুরা প্রথম বছর পুরোপুরি নিজের ভাষায় পড়ত। হাতে লেখা ছড়ার বই দিয়ে যে কাজ শুরু, 2017 সালে সরকারি মাতৃভাষার পাঠ্যবই আসার পর তা গিয়ে দাঁড়ায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ISBN-যুক্ত প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল, অনলাইন স্কুল আর নীতি-পরামর্শে।

এই লেখা সংস্থাটির নিজের বার্ষিক প্রতিবেদন, প্রকল্প-পাতা ও প্রকাশনা, দাতা সংস্থার প্রকাশনা, একটি একাডেমিক জার্নাল-প্রবন্ধ, আর 2008 থেকে 2025 সালের সংবাদ প্রতিবেদন মিলিয়ে সাজানো। কোন সংখ্যা কোন উৎসের, প্রতিটির পাশে লেখা আছে; যেখানে উৎসগুলো মেলে না, সেখানে দুটোই রাখা হয়েছে। সরকারি মাতৃভাষা-পাঠ্যবইয়ের পুরো সময়রেখা আলাদা লেখায় আছে: মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম কবে শুরু: 2012-র সভা থেকে পাঠ্যবই পর্যন্ত। এখানে প্রশ্ন একটাই: একটি জেলা-পর্যায়ের সংস্থা কীভাবে এই কাজ দাঁড় করাল, আর তার ফল কী জানা যায়।

এক নজরে সময়রেখা: জাবারাং কল্যাণ সমিতির মাতৃভাষা-শিক্ষা, 1995 থেকে 2026

সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয় 1995 সালে; মাতৃভাষায় শিক্ষার কাজ শুরু 2006-এ, প্রথম শ্রেণিকক্ষ বসে 2007-এর ফেব্রুয়ারিতে। 2017 সালে সরকারি বই আসার পর কাজের ধরন বদলায় — নিজস্ব স্কুল চালানো থেকে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণে। নিচের ছকে প্রতিটি ধাপ তারিখ ও উৎসসহ।

সময় ঘটনা উৎস
28 জানুয়ারি 1995খাগড়াছড়ি সদরের খাগড়াপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠাজাবারাংয়ের “Background” পাতা
29 জুলাই 1997সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধন, নং খাগড়া-122/97ঐ
2006সেভ দ্য চিলড্রেনের সহায়তায় “শিশুর ক্ষমতায়ন” প্রকল্প শুরুবার্ষিক প্রতিবেদন 2015, 2016; এনেবলিং এডুকেশন 12 (2008)
ফেব্রুয়ারি 200760টি “অঙ্কুর প্রি-স্কুল” কেন্দ্র চালুবার্ষিক প্রতিবেদন 2016, পৃ. 18
21 ফেব্রুয়ারি 2007“Mother Language First” কর্মশালায় তিন ভাষার বর্ণমালা-চার্ট উন্মোচনতানিয়া রহমান (2010), পৃ. 354
2007খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ, জাবারাং ও সেভ দ্য চিলড্রেনের যৌথ প্রকাশনা “Mother Language First”প্রকাশনার নামপত্র
2008প্রকল্পে শিশু-অংশগ্রহণ অংশ যোগ; 60টি শিশু সংগঠন, 10টি কমিউনিটি লার্নিং সার্কেলএনেবলিং এডুকেশন 12, পৃ. 18
6 ডিসেম্বর 2010খাগড়াপুরের জাবারাং রিসোর্স সেন্টারে ককবরক লেখার পদ্ধতি সর্বসম্মতভাবে গৃহীতমথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, জুমজার্নাল আর্কাইভ
2011এমএলই ফোরামের অন্যতম উদ্যোক্তা-সদস্য; গণসাক্ষরতা অভিযানের সদস্যজাবারাং প্রোফাইল (মে 2026), পৃ. 18
আগস্ট 2013খসড়া শিক্ষা আইন 2013-এর ওপর পার্বত্য চট্টগ্রামের সুপারিশমালা সংকলন“শিক্ষা আইন 2013 (খসড়া): আমাদের প্রস্তাবনা”
সেপ্টেম্বর 2014 – মার্চ 2015চাঙমা একাডেমির সঙ্গে চাকমা অভিধান, প্রবাদ ও প্রাইমার প্রকাশ (ইউএনডিপি সিএইচটিডিএফ)জাবারাংয়ের প্রকল্প-পাতা
সেপ্টেম্বর 2016 – ডিসেম্বর 2017বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের অর্থায়নে চাকমা, মারমা ও ককবরক শিক্ষক-প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালবার্ষিক প্রতিবেদন 2016, পৃ. 32; ম্যানুয়ালের নামপত্র
জানুয়ারি 201734টি এমএলই কেন্দ্র কমিউনিটি ও ইউনিয়ন পরিষদের হাতে যাওয়ার কথাবার্ষিক প্রতিবেদন 2016, পৃ. 17
জানুয়ারি 2019 – জুলাই 2022SETU-MLE: 35টি বিদ্যালয়ে মাতৃভাষার ক্লাস ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ (মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন)বার্ষিক প্রতিবেদন 2021–22, পৃ. 18–19
9 আগস্ট 2020“এমএলই অনলাইন স্কুল” ফেসবুক পাতা চালুবার্ষিক প্রতিবেদন 2020, পৃ. 11–12
21 ফেব্রুয়ারি 2021নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক (জাতীয় শ্রেণি) পানবিডিনিউজ২৪, দ্য ডেইলি স্টার
13 মে 2022শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের জন্য রাঙামাটিতে পিবিএলের সম্মাননাসিএইচটি টিভি
জুলাই 2023 – জুন 2024“সঞ্জীবন”: দ্বিতীয় দফার ছয় ভাষার প্রস্তুতি, তিন বিপন্ন ভাষার শব্দবইবার্ষিক প্রতিবেদন 2023–24, পৃ. 33–34

জাবারাং কল্যাণ সমিতি কী, কোথায়, কবে থেকে

জাবারাং কল্যাণ সমিতি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার খাগড়াপুরে 28 জানুয়ারি 1995 সালে প্রতিষ্ঠিত একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, জীবিকা, নারী-শিশু অধিকার ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করে। সংস্থার নিজের বিবরণে নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা; মে 2026-এ কর্মী 27 জন।

সংস্থার পটভূমি-পাতা অনুযায়ী এটি “progressive-minded citizens”-দের উদ্যোগে গড়ে ওঠে। সেখানে দুটি নিবন্ধনের তথ্য আছে: সমাজসেবা অধিদপ্তরে নং খাগড়া-122/97 (29 জুলাই 1997) এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর বিদেশি অনুদান নিবন্ধন নং 1461 (27 ডিসেম্বর 1999; সর্বশেষ নবায়ন 13 অক্টোবর 2019)। একই পাতায় অংশীদার হিসেবে ইউএনডিপি, ডানিডা, সেভ দ্য চিলড্রেন, ভিএসও, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও অ্যাকশনএইডের নাম আছে।

মে 2026-এর সংস্থা-প্রোফাইল (পৃ. 11) অনুযায়ী তখন কর্মী ছিলেন 27 জন — পুরুষ 16, নারী 11। সংস্থার নিজস্ব দোতলা রিসোর্স ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে খাগড়াপুরের ক্যাম্পাসে, আর খাগড়াছড়ির পাঁচটি উপজেলায় উপজেলা-দপ্তর। প্রোফাইলে বলা হয়েছে, রিসোর্স কেন্দ্রটি সিএইচটিডিএফ-ইউএনডিপি, সেভ দ্য চিলড্রেন, এশিয়া ফাউন্ডেশন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও গণসাক্ষরতা অভিযানও ব্যবহার করে। এই কেন্দ্রেই 2010 সালে ককবরক লেখার নিয়ম গৃহীত হয়েছিল — সে কথা পরে।

“জাবারাং” নামের অর্থ সংস্থার ওয়েবসাইট বা প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা নেই। ইংরেজি বানানও উৎসভেদে আলাদা: সংস্থা নিজে লেখে “Zabarang Kalyan Samity”, দ্য ডেইলি স্টার 2021-এ লিখেছে “Jabarang Kalyan Samiti”, আর বিডিনিউজ২৪ একই দিনে লিখেছে “Jabrang Welfare Association”। খোঁজার সময় তিন বানানই কাজে লাগে।

শিক্ষা নিয়ে সংস্থার দাবি, “Since 2003” তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষার মান নিয়ে কাজ করছে (প্রোফাইল 2026, পৃ. 21)। মাতৃভাষার কাজ এসেছে তার তিন বছর পরে। জাতীয় পর্যায়ে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা বাস্তবায়ন কমিটির জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ককবরক লেখক-প্যানেলের দলনেতা এবং বোর্ডের এমএলই শিক্ষক-প্রশিক্ষণ কারিগরি কমিটির সদস্য — প্রোফাইলের পৃ. 7-এ এই তালিকা আছে।

জাবারাং কেন 2006 সালে মাতৃভাষায় শিক্ষা শুরু করল

সংস্থার 2016 সালের বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল খাগড়াছড়িতে মানসম্মত শিক্ষার চাহিদা নিয়ে করা একটি সমীক্ষার ফলে, যেখানে মাতৃভাষায় শিক্ষার অভাবকে বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পটভূমিতে ছিল পার্বত্য চুক্তির মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার ধারা আর আদিবাসী শিশুদের উচ্চ ঝরে পড়ার হার।

প্রতিবেদনটির (বার্ষিক প্রতিবেদন 2016, পৃ. 18) ভাষায়, সমীক্ষা “identified absence of education in mother tongue as one of the hindering factors for quality education”, আর তারপর সেভ দ্য চিলড্রেন যৌথভাবে বহুভাষিক শিক্ষা প্রকল্পে সহায়তা শুরু করে। সমীক্ষাটির শিরোনাম, সাল বা লেখক প্রতিবেদনে নেই।

প্রকল্পের প্রথম দিকের যুক্তি পাওয়া যায় 2007 সালের প্রকাশনা “Mother Language First: Towards achieving EFA for Adivasi children in Bangladesh”-এ। এটি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ, জাবারাং কল্যাণ সমিতি ও সেভ দ্য চিলড্রেনের যৌথ প্রকাশনা; লেখক টেরি ডার্নিয়ান, যিনি তখন সেভ দ্য চিলড্রেনের “শিশুর ক্ষমতায়ন” প্রকল্পের দলনেতা। কৃতজ্ঞতা-অংশে জাবারাংয়ের নির্বাহী পরিচালক ও প্রকল্প-দলের নাম আছে। প্রকাশনাটি যে তথ্যগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে:

  • এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের 2001 সালের হিসাব উদ্ধৃত করে: পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী শিশুদের ঝরে পড়ার হার 60 শতাংশের বেশি, বিশেষ করে প্রথম বছরগুলোতে; সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আওতা 60 শতাংশের কম।
  • তিতুমীর ও হোসেন (2004) উদ্ধৃত করে: দেশে 6–10 বছর বয়সী আদিবাসী শিশুর আনুমানিক 44.5 শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি।
  • খাগড়াছড়ির এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য (ইসলাম, 2006 থেকে): প্রথম শ্রেণিতে ঢোকার সময় শিশুরা বাংলা বলতে বা বুঝতে পারে না, আর এটি উপস্থিতি কমা ও ঝরে পড়ার একটি কারণ।
  • আইনি ভিত্তি হিসেবে 1997 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ধারা 33(খ), 1998 সালের রাঙামাটি ঘোষণা, দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (2005, পৃ. 152–153) এবং দ্বিতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-২) আদিবাসী শিশু-বিষয়ক কর্মপরিকল্পনা (2006)।

প্রকাশনাটির শেষে সরকারের কাছে আটটি প্রস্তাব রাখা হয়। শেষটি ছিল রাঙামাটির প্রাইমারি টিচার্স ইনস্টিটিউটে বহুভাষিক শিক্ষা ও দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে বাংলা শেখানোর প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা। প্রায় দুই দশক পরে, 2025 সালে খাগড়াছড়ির শিক্ষকেরা প্রশিক্ষণের অভাবকেই প্রধান সমস্যা বলছেন (নিচে “মূল্যায়ন” অংশ দেখুন)।

জাবারাংয়ের নিজের বিবরণে আরেকটি সূত্র আছে। 2022 সালে সম্মাননা গ্রহণের সময় সংস্থার প্রতিনিধি বিনোদন ত্রিপুরা পার্বত্য চুক্তি ও জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের কথা বলে জানান, “সে দিক বিবেচনা করেই ২০০৬সালে সেভ দ্য চিলড্রেন-এর সাথে আমাদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের পদযাত্রা” (সিএইচটি টিভি)।

শিশুর ক্ষমতায়ন প্রকল্পে শিশুরা কীভাবে পড়ত

“শিশুর ক্ষমতায়ন” প্রকল্পে চার বছর বয়সী শিশুরা দুই বছরের প্রাক-প্রাথমিক কোর্সে ভর্তি হতো। প্রথম বছর সব পাঠ মাতৃভাষায়, মুখে মুখে; দ্বিতীয় বছর মাতৃভাষায় পড়া-লেখা শুরু, আর বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মুখে মুখে বাংলা। তারপর শিশুরা সরকারি বিদ্যালয়ে যেত। প্রতিটি কেন্দ্র চালাত গ্রামের একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি।

এই বর্ণনা আছে দুটি জায়গায়: আগস্ট 2008-এ যুক্তরাজ্যের Enabling Education Network-এর পত্রিকা Enabling Education, সংখ্যা 12 (পৃ. 18)-এ মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার লেখা, আর 2019 সালে জাবারাংয়ের প্রকাশিত পুস্তিকা “Multilingual Education: experiences from Chittagong Hill Tracts, Bangladesh” (দ্বিতীয় সংস্করণ ডিসেম্বর 2022, পৃ. 9)। দুটি লেখাই সংস্থার নিজের, তাই এগুলো কর্মসূচির নকশার বিবরণ, বাইরের মূল্যায়ন নয়। ধাপগুলো:

  1. প্রথম বছর: শিক্ষা পুরোপুরি মাতৃভাষায়, আত্মবিশ্বাস গড়ার জন্য। মুখের চর্চা দিয়ে লেখাপড়ার প্রস্তুতি, তারপর পড়ার-আগের, লেখার-আগের ও গণিতের-আগের কাজ।
  2. দ্বিতীয় বছর: মাতৃভাষায় পড়া ও লেখা শুরু; মৌখিক মাতৃভাষা চলতে থাকে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মৌখিক বাংলা।
  3. তারপর: মূলধারার বিদ্যালয়ে স্থানান্তর, যেখানে জাতীয় ভাষা ধীরে ধীরে শেখা।

2008-এর লেখায় প্রকল্পের লক্ষ্য লেখা আছে: 2011 সালের মধ্যে আদিবাসী শিশুরা মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা পাবে এবং নিজেদের নিয়ে সিদ্ধান্তে অংশ নেবে। প্রকল্প তখন চলছিল খাগড়াছড়ি সদর, পানছড়ি ও দীঘিনালা — তিন উপজেলায়।

গ্রামের দায়িত্বের কথাও লেখায় স্পষ্ট। প্রতিটি কেন্দ্রের “Centre Management Committee” শিক্ষক নিয়োগ করত, শিক্ষকের উপস্থিতি দেখত, ঘর তৈরি তদারক করত, মাসিক অভিভাবক-সভার খবর দিত আর সপ্তাহে অন্তত তিনবার কেন্দ্রে যেত। লেখক জানিয়েছেন, শুরুতে গ্রামের মানুষের মত ছিল নানা রকম; এক কমিউনিটি নেতা বলেছিলেন, ধারণাটি ভালো, কিন্তু বাস্তবায়নে “fifty years” লেগে যেতে পারে। একই উক্তি 2019 সালের পুস্তিকাতেও আছে। পুস্তিকাটি পাশে রাখে 2017-এ সরকারি বই আসার পর খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের মন্তব্য: “we made it possible” (পৃ. 10)।

2008 সালে প্রকল্পে আরেকটি অংশ যোগ হয় — শিশু-অংশগ্রহণ। এনেবলিং এডুকেশনের লেখা অনুযায়ী তখন পর্যন্ত 60টি শিশু সংগঠন আর 10টি “community learning circle” গঠন করা হয়েছিল, শিশুদের নেতৃত্ব-প্রশিক্ষণ চলছিল।

পরে প্রকল্পের নাম ও পরিধি বদলায়। 2015 সালের প্রতিবেদনে এর পুরো নাম “Sustainability and Uptake of Mother Tongue Based Multilingual Education Pre-primary and Primary Education for Ethnic Minority Children in the CHT”, যা 2006 সালে “Shishur Khamatayan” নামে শুরু হয়ে “has became a brand name” — প্রতিবেদনের নিজের কথা (বার্ষিক প্রতিবেদন 2015, পৃ. 15)। প্রকল্প-এলাকা তখন খাগড়াছড়ি সদর, মহালছড়ি ও দীঘিনালা।

অঙ্কুর কেন্দ্র: জাবারাং কল্যাণ সমিতি কতগুলো স্কুল চালিয়েছে, কত শিশু পড়েছে

শুরু 60টি প্রাক-প্রাথমিক কেন্দ্র দিয়ে — এ সংখ্যায় 2008 থেকে 2016 পর্যন্ত সব উৎস একমত। শিশুর সংখ্যা উৎস ও বছরভেদে আলাদা: 2008 সালে 1,259 (সংস্থার লেখা) বা 1,546 (দ্য ডেইলি স্টার); 2015 সালে 49টি বিদ্যালয়ে প্রায় 900; 2017 সালে চার উপজেলার 36টি বিদ্যালয়ে প্রত্যক্ষভাবে 688 শিশু।

কেন্দ্রগুলোর নাম ছিল “অঙ্কুর”। 2016-এর বার্ষিক প্রতিবেদনের একটি কেস-স্টাডি (পৃ. 18) বলছে, 60টি “Angkur Pre-School” কেন্দ্র ফেব্রুয়ারি 2007-এ শুরু হয়; উদাহরণ হিসেবে খাগড়াছড়ি–দীঘিনালা সড়কের নয়মাইল ত্রিপুরাপাড়ার কেন্দ্রের কথা আছে, যা 21 জন ককবরকভাষী শিশু নিয়ে শুরু হয়েছিল। প্রথম আলোর প্রতিবেদক 2015 সালে খাগড়াছড়ি সদরের ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের বিরাশিমুড়া পাড়ায় এমন একটি অঙ্কুর বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখেছেন, সেখানে 20টি শিশু বাংলার পাশাপাশি ককবরকে লিখতে পারে, আর বিদ্যালয়টির অন্তত দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই (প্রথম আলো, 1 মার্চ 2015)।

নিচের ছকে বছর ধরে প্রতিটি সংখ্যা তার উৎসসহ। কিছু সংখ্যা লক্ষ্যমাত্রা, কিছু অর্জন — সেটি আলাদা করে লেখা আছে।

বছর স্কুল/কেন্দ্র শিশু শিক্ষক ও অন্যান্য উৎস
2007 (ফেব্রুয়ারি)60 অঙ্কুর প্রি-স্কুল——বার্ষিক প্রতিবেদন 2016, পৃ. 18
2008 (আগস্ট)60 প্রাক-প্রাথমিক কেন্দ্র, 3 উপজেলা1,259 (মেয়ে 631)60 শিশু সংগঠন, 10 লার্নিং সার্কেলএনেবলিং এডুকেশন 12, পৃ. 18
2008 (মার্চ)60 প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়1,54673 শিক্ষক, এর 56 জন নারীদ্য ডেইলি স্টার, 4 মার্চ 2008
2010-এর আগে60 প্রাক-প্রাথমিক কেন্দ্র——তানিয়া রহমান (2010), পৃ. 354
201549 এমএলই বিদ্যালয়, 3 উপজেলাপ্রায় 900—প্রথম আলো, 1 মার্চ 2015 (মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার বক্তব্য)
2015 (লক্ষ্য)50 মডেল এমএলই প্রাক-প্রাথমিক + 40 সরকারি বিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা; আরও 20 কেন্দ্র টেকসই করালক্ষ্য 6,850 শিশু ও 3,100 অভিভাবক; 20 কেন্দ্রে 600 শিশু—বার্ষিক প্রতিবেদন 2015, পৃ. 15
2016 (অর্জন)50 নতুন প্রি-স্কুল নির্মাণ; 10 সরকারি বিদ্যালয়ে মাতৃভাষার শ্রেণিকক্ষ1,075 শিশু প্রাক-প্রাথমিক শেষ করে; 10 সরকারি বিদ্যালয়ে 1,505 শিশু93 শিক্ষক (নারী 69) প্রশিক্ষিত; প্রকল্পে এমএলই শিক্ষক 46বার্ষিক প্রতিবেদন 2016, পৃ. 15–16
2016 (অর্জন)20 এমএলই কেন্দ্র552 শিশু শেষ করে; 521 জন 2017-এ প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য উত্তীর্ণ20 শিক্ষক প্রশিক্ষিতবার্ষিক প্রতিবেদন 2016, পৃ. 17
জানুয়ারি 201734 কেন্দ্র কমিউনিটি ও ইউনিয়ন পরিষদের হাতে; বাকিগুলো সরকারি বিদ্যালয় ও এনজিওর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা——বার্ষিক প্রতিবেদন 2016, পৃ. 17
এপ্রিল–ডিসেম্বর 201736 বিদ্যালয়, 36 গ্রাম, 10 ইউনিয়ন, 4 উপজেলাপ্রত্যক্ষ 688; পরোক্ষ 3,08128 শিক্ষক (নারী 24)জাবারাংয়ের প্রকল্প-পাতা (ELCMEC)

2017 সালের শেষ ধাপটির নাম ছিল “Education for Language and Culturally Marginalized Ethnic Children” (ELCMEC)। সংস্থার প্রকল্প-পাতা অনুযায়ী এটি সেভ দ্য চিলড্রেনের সহায়তায় এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর 2017 পর্যন্ত চলে খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা, মহালছড়ি ও গুইমারা উপজেলায়। এই প্রথম গুইমারা প্রকল্প-এলাকায় আসে। তিনটি জনগোষ্ঠী — চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকদের পাঁচ দিনের, কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারের শিক্ষকদের তিন দিনের মৌলিক প্রশিক্ষণ হয়; 20টি বিদ্যালয়ে মায়েদের সমাবেশে শ্রেণিকক্ষে মাতৃভাষা ব্যবহার আর শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের জেলাভিত্তিক মানচিত্র, দক্ষিণ-পূর্বে খাগড়াছড়ি জেলা লাল রঙে চিহ্নিত
খাগড়াছড়ি জেলা (লাল)। জাবারাংয়ের মাতৃভাষা-কর্মসূচি চলেছে এই জেলার সদর, পানছড়ি, দীঘিনালা, মহালছড়ি ও গুইমারা উপজেলায়। মানচিত্র: NordNordWest-এর মানচিত্রের ভিত্তিতে · CC BY-SA 3.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

কোন তিন ভাষায় পড়ানো হতো, আর কাদের সঙ্গে মিলে বই তৈরি হলো

জাবারাংয়ের কেন্দ্রগুলোতে পড়ানো হতো চাকমা, মারমা ও ককবরক (ত্রিপুরা) — যে গ্রামে যে জনগোষ্ঠী, সেখানে সেই ভাষা। প্রতিটি ভাষার উপকরণ তৈরি হয় সেই ভাষার সংগঠনের সঙ্গে মিলে: চাকমার জন্য চাঙমা একাডেমি, ককবরকের জন্য বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ, মারমার জন্য মারমা উন্নয়ন সংসদ ও কয়েকজন ভিক্ষু।

দ্য ডেইলি স্টারের 4 মার্চ 2008-এর প্রতিবেদনে সংস্থার প্রধান নির্বাহী বলেন, চাকমা গ্রামে চাকমা, ত্রিপুরা গ্রামে ককবরক আর মারমা গ্রামে মারমা ভাষা ব্যবহার হচ্ছে। এনেবলিং এডুকেশনের লেখায় ভাষা-সংগঠনগুলোর নাম আছে, সঙ্গে একটি বিবরণ: মারমা ভাষার কাজে যুক্ত করা হয়েছিল এমন কয়েকজন ভিক্ষুকে, যাঁরা নিয়মিত মারমা পড়েন ও লেখেন।

উপকরণ চূড়ান্ত হওয়ার পদ্ধতিও লেখাটিতে আছে: খসড়া তৈরি, তারপর কমিউনিটিতে পর্যালোচনা, কর্মশালা ও প্রদর্শনী। সেখানে বানান, লিপির মানরূপ আর পাঠের বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হতো।

তানিয়া রহমানের 2010 সালের জার্নাল-প্রবন্ধে (Current Issues in Language Planning, 11:4, পৃ. 354–355) আরেকটি তারিখ পাওয়া যায়: জাবারাং, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সেভ দ্য চিলড্রেন 21 ফেব্রুয়ারি 2007-এ “Mother Language First” কর্মশালায় তিনটি প্রধান ভাষা-জনগোষ্ঠীর বর্ণমালা-চার্ট উন্মোচন করে।

লিপির প্রশ্নে চাকমা ও মারমার নিজস্ব বর্ণমালা আছে; ককবরকের হরফ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘ, যা আলাদা লেখায় বিস্তারিত: ককবরক রোমান না বাংলা লিপিতে লেখা হবে। এখানে প্রাসঙ্গিক একটি তথ্য: মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার লেখা অনুযায়ী 6 ডিসেম্বর 2010 খাগড়াপুরের জাবারাং রিসোর্স সেন্টারের কর্মশালায় রোমান হরফে ককবরক লেখার নির্দিষ্ট পদ্ধতি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয় (জুমজার্নাল আর্কাইভ: ত্রিপুরাদের মাতৃভাষা ককবরক)। একই লেখকের আরেক আর্কাইভ-লেখার তথ্যসূত্রে আছে “বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ, জাবারাং কল্যাণ সমিতি ও ককবরক রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর বিভিন্ন আয়োজিত সভা ও কর্মশালার প্রতিবেদন” (কালের দর্পনে ককবরকের লিখিত চর্চা)। পরে, 3 ডিসেম্বর 2012-এর সরকারি কমিটির সভায় ত্রিপুরা ও গারো বই রোমান বর্ণমালায় করার সিদ্ধান্ত হয় — জুমজার্নালের আর্কাইভে মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার 2015 সালের লেখায় এই বিবরণ আছে।

হাতে লেখা বই থেকে ISBN-যুক্ত ম্যানুয়াল: জাবারাংয়ের শিক্ষা-উপকরণ কীভাবে তৈরি হলো

প্রথম বইগুলো ছিল হাতে লেখা: লিগ্যাল সাইজের আর্ট পেপারে বর্ণ, ছড়া ও গল্প লিখে স্থানীয় শিল্পীর আঁকা ছবি দিয়ে 8–10 পাতার বই। তারপর ছাপা ছড়ার বই ও শব্দবই (2016), চাকমা অভিধান ও প্রাইমার (2015), তিন ভাষার শিক্ষক-প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল (2017), ব্লুম সফটওয়্যারে লেখা গল্পের বই (2018) আর ছয় ভাষার সচিত্র প্রাইমার (2023–24)।

শুরুর দিনের বই

2022 সালের সম্মাননা অনুষ্ঠানে বিনোদন ত্রিপুরার বক্তব্য (সিএইচটি টিভি; সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদন 2021–22-এর পৃ. 16–17-এ ইংরেজিতেও আছে) শুরুর অবস্থার একটি বিবরণ দেয়। তাঁর কথায়, কাজ শুরুর সময় মাতৃভাষায় পারদর্শী লেখক প্রায় ছিলেন না, মাতৃভাষায় লিখতে জানা মানুষের সংখ্যাও ছিল “অতি নগন্য”। লেখক কর্মশালা হয়, গ্রাম থেকে ছড়া-গল্প সংগ্রহ হয়, আর সেগুলো “লিগ্যাল সাইজের আর্টপেপারের উপর হাতে লিখে স্থানীয় আঁকিয়েদের ছবি দিয়ে মাস্কিন টেপ লাগিয়ে” সুতা সেলাই করে প্রাক-প্রাথমিকের বই বাঁধা হয়। তিনি জানান, সেসব বইয়ের কিছু এখনো সংরক্ষিত আছে, আর শুরুতে অনেক জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক প্রতিনিধি কাজটির সমালোচনা করেছিলেন।

ছাপা উপকরণের তালিকা

সাল উপকরণ ভাষা সহযোগী/অর্থায়ন উৎস
2004“আদিবাসী জনগোষ্ঠী: জীবন ও জীবিকা”বাংলা—জুমজার্নাল আর্কাইভের একটি লেখার তথ্যসূত্র
2007তিন ভাষার বর্ণমালা-চার্টচাকমা, মারমা, ককবরকখাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ, সেভ দ্য চিলড্রেনতানিয়া রহমান (2010)
মার্চ 2015চাকমা-বাংলা অভিধান “চাঙমা ভাচ আলাম” (10,500-এর বেশি শব্দ), প্রবাদ-সংকলন “চাঙমা দাগ কধা”, চাকমা প্রাইমারচাকমাচাঙমা একাডেমি; সিএইচটিডিএফ-ইউএনডিপিজাবারাংয়ের প্রকল্প-পাতা; বইয়ের নামপত্র
2015–2016ছড়ার বই; বাংলা/ইংরেজি থেকে তিন ভাষার শব্দবই; চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা আইইসি উপকরণচাকমা, মারমা, ককবরকমানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (GIQE প্রকল্প)বার্ষিক প্রতিবেদন 2016, পৃ. 11; GIQE প্রকল্প-পাতা
ডিসেম্বর 2017“ভাষা প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল (শিক্ষকদের জন্য)” — তিন খণ্ডচাকমা, মারমা, ককবরকইউনেস্কো পার্টিসিপেশন প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন; বনফুল এডুকেশন ট্রাস্ট; এনসিটিবির কারিগরি সহায়তাম্যানুয়ালের নামপত্র
2018ব্লুম সফটওয়্যারে স্থানীয় লেখকদের গল্পের বইচাকমা, ককবরকসেভ দ্য চিলড্রেন (অনুপ্রেরণা বুক চ্যালেঞ্জ)বার্ষিক প্রতিবেদন 2018, পৃ. 19–20
2019–2022প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির সহায়ক গল্প-ছড়ার বই; প্রাক-প্রাথমিকের পাঠ-পরিকল্পনা ও ক্লাস-রুটিনচাকমা, মারমা, ককবরকমানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, যুক্তরাজ্য সরকার (SETU-MLE)বাংলা ট্রিবিউন 2021; বার্ষিক প্রতিবেদন 2021–22, পৃ. 19
2023–2024ছয় ভাষার সচিত্র প্রাইমার ও শিশুতোষ ছড়া-গল্প; তিন বিপন্ন ভাষার শব্দবই; মারমা ও ককবরক অভিধানের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপখাসি, মণিপুরী, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, ম্রো; লাহরা, সাদরি, রেংমিটচ্য; মারমা, ককবরকপাওয়ানকা ফান্ড (সঞ্জীবন)বার্ষিক প্রতিবেদন 2023–24, পৃ. 34

2015 সালের চাকমা অভিধান ও প্রবাদ-সংকলনের প্রকাশনা-তথ্য — নামপত্র, ISBN, দাম, সহযোগিতা — আমাদের আরেক লেখায় বইয়ের পিডিএফ থেকে তুলে দেওয়া আছে: আদিবাসী ভাষার বই প্রকাশনা: কে ছাপে, কার টাকায়। সংস্থার প্রকল্প-পাতা যোগ করে: প্রকল্পটি চলেছিল সেপ্টেম্বর 2014 থেকে মার্চ 2015, আর এর উদ্দেশ্যের মধ্যে ছিল মাতৃভাষায় শিক্ষায় অবদান রাখা।

শিক্ষক-প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল, 2017: কী আছে নামপত্রে

সংস্থার ওয়েবসাইটে ককবরক ও চাকমা ম্যানুয়ালের পূর্ণ স্ক্যান আছে (“Language Training Manual” পাতা)। ককবরক খণ্ডের নামপত্র অনুযায়ী প্রথম প্রকাশ ডিসেম্বর 2017; অর্থায়ন “ইউনেস্কো পার্টিসিপেশন প্রোগ্রাম” ও বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন (শিক্ষা মন্ত্রণালয়); বাস্তবায়ন জাবারাং কল্যাণ সমিতি ও বনফুল এডুকেশন ট্রাস্ট; কারিগরি সহায়তা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড; ISBN 984-70270-0042-2। চাকমা খণ্ডও ডিসেম্বর 2017-এর, ISBN 984-70270-0041-7, 83 পৃষ্ঠা; সেখানে অর্থায়নের বছর লেখা “২০১৬-২০১৭”।

চাকমা খণ্ডের ভূমিকা জানায়, ম্যানুয়ালটি তাঁদের জন্য, যাঁরা আগে থেকেই নিজের ভাষা বলতে ও বুঝতে পারেন কিন্তু নিজস্ব লিপিতে পড়তে-লিখতে পারেন না। প্রশিক্ষণ সাজানো “মোট ১৫ দিনে ৬০টি অধিবেশনে” — স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, কার, ফলা, ধ্বনিচিহ্ন ও যতিচিহ্ন শেখানোর জন্য। কৃতজ্ঞতা-অংশে নির্বাহী পরিচালক লিখেছেন, ভাষা-বিশেষজ্ঞরা নিজ নিজ ভাষার প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেন, আর এনসিটিবির কর্মকর্তাদের কারিগরি নির্দেশনায় ম্যানুয়াল পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।

2016 সালের বার্ষিক প্রতিবেদন (পৃ. 32) প্রকল্পটির লক্ষ্য দিয়েছে: ম্যানুয়ালের 2,000 কপি ছাপা, আর তিন ভাষার 50 জন শিক্ষক/প্রশিক্ষককে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে প্রশিক্ষণ। প্রকল্পকাল সেপ্টেম্বর 2016 থেকে ডিসেম্বর 2017, বাজেট 1,870,771 টাকা। 2016 সালের শেষে তিনটি ম্যানুয়ালের খসড়া তৈরি হয়েছিল। ছাপা কপি ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের চূড়ান্ত সংখ্যা পরের কোনো প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

অনুপ্রেরণা: স্থানীয় লেখকদের ডিজিটাল বই

2018 সালের বার্ষিক প্রতিবেদন (পৃ. 19–20) অনুযায়ী মে 2018 থেকে আগস্ট 2019 পর্যন্ত “Onuprerona Book Challenge Project”-এ জাবারাং সেভ দ্য চিলড্রেনকে সহায়তা করে ব্লুম সফটওয়্যার দিয়ে মাতৃভাষার গল্পের বই তৈরিতে। মোট বাজেট 5,491,037 টাকা; এলাকা খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালা; 100টি বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়। 2018 সালে চাকমা ও ককবরকে দুটি বই-তৈরির কর্মশালা হয় 50 জন স্থানীয় লেখককে নিয়ে (প্রতি ভাষায় 25), আর একটি পর্যালোচনা কর্মশালায় অংশ নেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ, সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, এটুআই, চাকমা ভাষা পরিষদ ও ককবরক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিরা। একই প্রতিবেদনে খাগড়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য আছে: 2018-এ প্রথম শ্রেণির ককবরক বই পেলেও অফিসের নির্দেশনার অভাবে ক্লাস শুরু করতে পারেননি, পরে কর্মশালায় শিখে নিজেই ককবরক বই বানিয়ে ছাপিয়েছেন।

জাবারাংয়ের মাতৃভাষা-কর্মসূচি কার টাকায়, কোন প্রকল্পে, কত দিন চলেছে

প্রথম এক দশকের প্রধান দাতা সেভ দ্য চিলড্রেন (2006–2017)। পরে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন — প্রথমে GIQE (2013–2016), তারপর যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থে SETU-MLE (2019–2022)। শিক্ষক-ম্যানুয়ালে ইউনেস্কো/বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন, চাকমা অভিধানে ইউএনডিপি, বিপন্ন ভাষার কাজে পাওয়ানকা ফান্ড।

নিচের ছকটি সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদন ও প্রকল্প-পাতা থেকে। বাজেটের ঘরে যে বছরের হিসাব প্রতিবেদনে আছে, সেটিই লেখা — কোনো যোগফল এখানে করা হয়নি। সব প্রকল্প কেবল মাতৃভাষার নয়; READ ও GIQE মূলত বাংলা পড়া ও সাধারণ প্রাথমিক শিক্ষার প্রকল্প, যার ভেতরে মাতৃভাষার একটি অংশ ছিল।

প্রকল্প সময় অর্থায়ন এলাকা ও পরিধি বাজেট (টাকা, উৎসে যেমন) উৎস
শিশুর ক্ষমতায়ন / Sustainability and Uptake of MLE2006–2016সেভ দ্য চিলড্রেন (2015-এ “Breakthrough fund” ও আইকিয়া সফট-টয় উদ্যোগ)সদর, মহালছড়ি, দীঘিনালা (2015–16)6,985,477 (2015); 3,366,577 (2016)বার্ষিক প্রতিবেদন 2015, পৃ. 15; 2016, পৃ. 15
ELCMECএপ্রিল–ডিসেম্বর 2017সেভ দ্য চিলড্রেন4 উপজেলা, 36 বিদ্যালয়22,68,946 (এপ্রিল–জুন); 19,06,500 (জুলাই–ডিসেম্বর)প্রকল্প-পাতা
GIQE (Grassroots Initiative for Quality Education)আগস্ট 2013 থেকে (শেষ: ডিসেম্বর 2015 বা 2016 — নিচে অমিল দেখুন)মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনসদর, পানছড়ি, দীঘিনালা; 70 বিদ্যালয়34,197,697 (মোট, প্রকল্প-পাতা); 97,10,051 (2015)প্রকল্প-পাতা; বার্ষিক প্রতিবেদন 2015, পৃ. 11
READআগস্ট 2014 – ডিসেম্বর 2017ইউএসএআইডি, সেভ দ্য চিলড্রেনের মাধ্যমেসদর, পানছড়ি, দীঘিনালার 45 সরকারি বিদ্যালয়9,776,924 (2016); 4,915,688 (2017)বার্ষিক প্রতিবেদন 2016, পৃ. 23; প্রকল্প-পাতা
শিক্ষক-প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালসেপ্টেম্বর 2016 – ডিসেম্বর 2017বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন / ইউনেস্কো পার্টিসিপেশন প্রোগ্রামতিন পার্বত্য জেলা ও ঢাকা1,870,771বার্ষিক প্রতিবেদন 2016, পৃ. 32
বাংলাদেশ চিলড্রেনস বুক ইনিশিয়েটিভ (READ-এর অংশ)জানুয়ারি–ডিসেম্বর 2018সেভ দ্য চিলড্রেনমহালছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি, রামগড়, মানিকছড়ি; বহুভাষিক ও দ্বিভাষিক বই27,31,214 (2018)বার্ষিক প্রতিবেদন 2018
অনুপ্রেরণা বুক চ্যালেঞ্জমে 2018 – আগস্ট 2019সেভ দ্য চিলড্রেনসদর ও দীঘিনালা; 100 বিদ্যালয়5,491,037 (মোট)বার্ষিক প্রতিবেদন 2018, পৃ. 19
SETU-MLEজানুয়ারি 2019 – জুলাই 2022মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন; যুক্তরাজ্য সরকারের FCDOপানছড়ি, সদর, মহালছড়ি; 35 বিদ্যালয়51,09,338 (2020)বার্ষিক প্রতিবেদন 2020, পৃ. 10
সঞ্জীবনজুলাই 2023 – জুন 2024পাওয়ানকা ফান্ড (RSF Social Finance)খাগড়াছড়ি সদর, বান্দরবান সদর, শ্রীমঙ্গল32,54,655 (মোট; 30,000 মার্কিন ডলার)বার্ষিক প্রতিবেদন 2023–24, পৃ. 34

ইউনিসেফ ও এসআইএলের ভূমিকা নিয়ে একটি স্পষ্টীকরণ দরকার। জাবারাংয়ের 2015 সালের প্রতিবেদনে ইউনিসেফের নাম আছে, কিন্তু কনসার্ন ইউনিভার্সালের মাধ্যমে “School-Led Total Sanitation” প্রকল্পের অর্থদাতা হিসেবে — মাতৃভাষা কর্মসূচির নয়। এসআইএল বাংলাদেশের নাম আছে 2019 সালের পুস্তিকায় দেশের এমএলই-সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার তালিকায় (পৃ. 8), কিন্তু জাবারাংয়ের সঙ্গে এসআইএলের কোনো যৌথ প্রকল্পের নথি পাওয়া যায়নি।

সরকারি মাতৃভাষার বই আসার আগে ও পরে জাবারাংয়ের ভূমিকা কী ছিল

সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয় 31 অক্টোবর 2012-এর মন্ত্রণালয়ের সভা দিয়ে; বই আসে 2017-এ। এই প্রক্রিয়ায় জাবারাংয়ের নির্বাহী পরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এমএলই পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন কমিটির সদস্য এবং এনসিটিবির ত্রিপুরা ভাষার বইয়ের লেখক। বই আসার পর সংস্থাটি সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণে যায়।

সরকারি সভা ও সিদ্ধান্তের বিস্তারিত সময়রেখা আলাদা লেখায় আছে (মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম কবে শুরু); সেই সময়রেখার একটি প্রধান উৎস মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার নিজের লেখা, যা গণসাক্ষরতা অভিযানের “সাক্ষরতা বুলেটিন”-এ আগস্ট 2015-এ প্রকাশিত হয় এবং আমাদের আর্কাইভে আছে: আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা: অপেক্ষার শেষ কোথায়?। লেখাটিতে মাতৃভাষায় শিক্ষা বাস্তবায়নকারী সংস্থার তালিকায় আশ্রয়ের পরেই জাবারাং কল্যাণ সমিতির নাম আছে, সঙ্গে সেভ দ্য চিলড্রেন, এসআইএল, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, ব্র্যাকসহ আরও অনেকের।

প্রথম আলো 1 মার্চ 2015-এ মথুরা বিকাশ ত্রিপুরাকে “প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এমএলই পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন কমিটির সদস্য” হিসেবে উদ্ধৃত করে; তখন তিনি জানান, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বই প্রণয়নের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে, “এখন শুধু ছাপা বাকি”। বিডিনিউজ২৪ (21 ফেব্রুয়ারি 2025) তাঁকে পরিচয় দিয়েছে এনসিটিবির ত্রিপুরা ভাষায় প্রকাশিত বইয়ের লেখক হিসেবে। সংস্থার 2026 সালের প্রোফাইলে তিনি এনসিটিবির ককবরক লেখক-প্যানেলের দলনেতা।

জাবারাং বই আসার পরের অবস্থাকে কীভাবে দেখেছে, তা 2021 সালে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার বক্তব্যে আছে: মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক দিলেও তা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছিল না, কারণ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ছিল না, নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল না, আর ক্লাস রুটিন ও মূল্যায়ন নিয়ে সিদ্ধান্ত ছিল না; “সেটা দেখেই আমরা আমাদের প্রকল্পের কার্যক্রম ডিজাইন করেছি” (বাংলা ট্রিবিউন, 25 ডিসেম্বর 2021)। তিনি আরও বলেন, লক্ষ্য হলো সরকার যেন কার্যক্রমটি “সুচারুরূপে” চালাতে পারে তার উদাহরণ তৈরি করা, আর বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোকে যুক্ত করা হয়েছে কারণ সেখানে “ইনোভেশনের সুযোগ” বেশি।

সরকারি বই আসার আগেই, 2016 সালে, জাবারাং READ প্রকল্পের ভেতরে প্রথম শ্রেণির পরীক্ষামূলক এমএলই চালায়: 10টি বিদ্যালয়ের 26 জন শিক্ষককে (17 জন নারী) দুই দফায় 10 দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় — চাকমা 12 জন (4 বিদ্যালয়), মারমা 5 জন (2 বিদ্যালয়), ত্রিপুরা 9 জন (4 বিদ্যালয়) (বার্ষিক প্রতিবেদন 2016, পৃ. 24)।

SETU-MLE: খাগড়াছড়ির 35টি স্কুলে মাতৃভাষার ক্লাস কীভাবে চালু হলো

SETU-MLE জানুয়ারি 2019 থেকে জুলাই 2022 পর্যন্ত খাগড়াছড়ি সদর, পানছড়ি ও মহালছড়ির 30টি সরকারি ও 5টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলে — ককবরকের 14, চাকমার 14 ও মারমার 7টি বিদ্যালয়। সংস্থার হিসাবে 100 জন শিক্ষক প্রশিক্ষণ পান এবং 4,300 শিশু মাতৃভাষার বই পড়তে-লিখতে শেখে।

সংস্থার প্রকল্প-পাতা অনুযায়ী লক্ষ্য ছিল “hard-to-reach” এলাকার আদিবাসী শিশুদের, যার অর্ধেক মেয়ে, মাতৃভাষাসহ মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া। সংখ্যাগুলো দুই বছরের প্রতিবেদনে এভাবে এসেছে:

বিষয় বার্ষিক প্রতিবেদন 2020 (পৃ. 9–10) বার্ষিক প্রতিবেদন 2021–22 (পৃ. 18–19)
শিক্ষক প্রশিক্ষণ35 প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক রিফ্রেশার; 34 জন প্রথম শ্রেণির শিক্ষক 5 দিনের “Teaching in Mother Tongue”; প্রতিবেদনের আরেক পাতায় (পৃ. 11) 35 বিদ্যালয়ের 70 শিক্ষকের তিন ভাষায় প্রশিক্ষণ100 প্রাথমিক শিক্ষক (পুরুষ 28, নারী 72)
ভর্তি/শিশু35 প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে 372; 35 প্রথম শ্রেণিতে 707 (2020)4,300 শিশু ভর্তি, মাতৃভাষার বই পড়তে-লিখতে পারে; জনসংখ্যা-ছকে বিদ্যালয়ে 3,647 শিক্ষার্থী (মেয়ে 1,795)
সংস্থার সারসংক্ষেপ-চিত্র35 বিদ্যালয়ের চতুর্থ-পঞ্চম শ্রেণির 4,726 শিক্ষার্থী শিক্ষা-সহায়তা পায়; প্রাথমিক শ্রেণির 1,576 শিশুর (অর্ধেক মেয়ে) শেখার সুযোগ বাড়েবিশেষ ক্লাস-সহায়তায় 564 জন প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে
শিক্ষক নিয়োগ5টি সরকারি বিদ্যালয়ে 5 জন এমএলই কমিউনিটি শিক্ষক; সেখানে 141 শিশু; 5টি বেসরকারি বিদ্যালয়ে 10 শিক্ষককে সম্মানী, 370 শিশু5 বেসরকারি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও পাঠদান-সক্ষমতা বাড়ে
অন্যান্য35টি মা-দল; এমএলইর চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে কর্তৃপক্ষের কাছে জমাপ্রাক-প্রাথমিকের এমএলই পাঠ-পরিকল্পনা ও ক্লাস-রুটিন; সহায়ক পাঠ্য বই; অন্য বিদ্যালয়ের তুলনায় কম ঝরে পড়া ও বেশি উপস্থিতি (সংস্থার দাবি)

2021–22 সালের প্রতিবেদনের একটি কাহিনি (পৃ. 20–21) পানছড়ির লোগাং ইউনিয়নের ভারত-সীমান্তবর্তী ধুদুকছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। প্রধান শিক্ষক বলেছেন, প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখন চাকমা বর্ণমালা “অঝাপাত” চিনতে ও লিখতে পারে, নিজের ভাষার ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি করতে পারে। পানছড়ির উপজেলা শিক্ষা অফিসার একই কাহিনিতে বলেন, মাতৃভাষায় পাঠ পাওয়ায় উপস্থিতি বেড়েছে; সঙ্গে যোগ করেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নিজে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও রুটিনে মাতৃভাষা যুক্ত করলে বাস্তবায়ন সহজ হতো। প্রতিবেদনটি বলছে, প্রকল্প শেষের পরও ধুদুকছড়াসহ বাকি 34টি বিদ্যালয় মাতৃভাষায় পড়ানো চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। প্রকল্প শেষের পর বিদ্যালয়গুলো সত্যিই চালিয়ে গেছে কি না, তার কোনো পরের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

এই প্রতিবেদনেও একটি বাক্যে সরকারি দিকের ঘাটতির কথা লেখা: পাঁচ ভাষায় বই 2017-এ চালু হলেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এমএলই ক্লাস চালানোর কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ছিল না।

করোনাকালে “এমএলই অনলাইন স্কুল” কী ছিল

করোনায় স্কুল বন্ধ থাকার সময় 9 আগস্ট 2020-এ জাবারাং ও খাগড়াছড়ির শিক্ষা কর্মকর্তারা মিলে “এমএলই অনলাইন স্কুল” নামের একটি ফেসবুক পাতা চালু করেন, যেখানে চাকমা, মারমা ও ককবরকে প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস সম্প্রচার হতো। সংস্থার হিসাবে 2020 সালের মধ্যে 100-র বেশি ক্লাস হয়, অংশ নেয় অন্তত 4,000 শিশু।

বার্ষিক প্রতিবেদন 2020 (পৃ. 11–12) অনুযায়ী 17 মার্চ 2020 থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সরকারি “ঘরে বসে শিখি” অনলাইন ক্লাস 5 এপ্রিল 2020 শুরু হলেও মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষার জন্য কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ছিল না। জাবারাং প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর, প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও ভাষা-কমিটির সদস্যদের নিয়ে ভার্চুয়াল সভা করে, যেখানে পাতাটি খোলার সিদ্ধান্ত হয়। পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান, সহসভাপতি জাবারাংয়ের নির্বাহী পরিচালক, সাধারণ সম্পাদক খাগড়াছড়ি সদরের উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর।

প্রতিবেদনের এক অনুচ্ছেদে সংস্থা নিজের অনুমান লিখেছে: অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থাকলে 10 হাজারের বেশি আদিবাসী শিশু উপকৃত হতে পারত। “অন্তত 4,000” সংখ্যাটি কীভাবে গোনা হয়েছিল — দর্শকসংখ্যা, না নিবন্ধিত শিশু — প্রতিবেদনে বলা নেই। 2021–22-এর প্রতিবেদন জানায়, ফেব্রুয়ারি 2022-এ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অনলাইন স্কুল ও SETU-MLE মিলে মাতৃভাষায় ছড়া, কবিতা, গান ও নাচের অনলাইন প্রতিযোগিতা করে, আর অনলাইন ক্লাসের পাঠ-কনটেন্ট প্রাক-প্রাথমিকের জন্য সম্পূর্ণ হয়।

“মাতৃভাষা শিক্ষা” না “মাতৃভাষায় শিক্ষা”: জাবারাং নীতিতে কী প্রস্তাব দিয়েছে

জাবারাংয়ের নীতি-কাজের সবচেয়ে স্পষ্ট নথি আগস্ট 2013-এর একটি পুস্তিকা: খসড়া শিক্ষা আইন 2013-এর ধারা ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজের সংশোধনী প্রস্তাব। প্রধান প্রস্তাব — আইনের ভাষায় “মাতৃভাষা শিক্ষা”-র বদলে “মাতৃভাষায় শিক্ষা”। এর আগে 2009, 2011 ও 2012 সালে পাঠ্যবইয়ে আদিবাসীদের উপস্থাপন নিয়ে তিনটি গোলটেবিল-পুস্তিকা বের হয়।

শিক্ষা আইন 2013-এর খসড়া: ধারা ধরে প্রস্তাব

পুস্তিকার নাম “শিক্ষা আইন ২০১৩ (খসড়া): আমাদের প্রস্তাবনা — পার্বত্য চট্টগ্রামের সুশীল সমাজ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সুপারিশমালা”, প্রকাশকাল আগস্ট 2013। প্রতিবেদন সংকলন করেছেন মথুরা বিকাশ ত্রিপুরাসহ তিনজন; প্রকাশক মালেইয়া ফাউন্ডেশন, আর সহযোগী সংস্থার তালিকায় জাবারাং কল্যাণ সমিতিসহ দশটি সংগঠনের লোগো। এটি জাবারাংয়ের ওয়েবসাইটে পূর্ণ স্ক্যান হিসেবে আছে।

পুস্তিকাটি চার কলামের ছকে সাজানো: ধারা, খসড়া আইন, প্রস্তাবিত সংশোধনী, যৌক্তিকতা। কয়েকটি প্রস্তাব:

  • ধারা ৫(২), পৃ. ৬: খসড়ায় ছিল “স্ব স্ব মাতৃভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা”; প্রস্তাব “মাতৃভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা”। যৌক্তিকতার কলামে লেখা: “‘মাতৃভাষা শিক্ষা’র পরিবর্তে ‘মাতৃভাষায় শিক্ষা’ প্রতিস্থাপিত হবে। কারণ সব আদিবাসী শিশু তার নিজ নিজ মাতৃভাষা জন্মের পরেই শেখে।”
  • ধারা ২(ভ): “বিশেষ চাহিদামূলক শিক্ষা”-র সংজ্ঞায় ক্ষুদ্র জাতিসত্তার শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা যুক্ত করার প্রস্তাব।
  • ধারা ২(র): “সরকার”-এর সংজ্ঞায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোকে যুক্ত করার প্রস্তাব, কারণ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত বিষয়।
  • ধারা ৭(১): প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের পাঠ্যসূচিতে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার শিক্ষার্থীদের সমাজ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার প্রস্তাব।

বানানের প্রশ্নটি তখন জাতীয় আলোচনায়ও ছিল। প্রথম আলোর আয়োজনে ও সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় 21 ডিসেম্বর 2013-এর গোলটেবিলের সুপারিশে লেখা হয়: “‘মাতৃভাষা শিক্ষা’ নয়, এটি হবে ‘মাতৃভাষায় শিক্ষা’” (প্রথম আলো, 24 জানুয়ারি 2014)। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার 2015 সালের আর্কাইভ-লেখা জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা ও শিক্ষা আন্দোলনের সংগঠনগুলো একযোগে মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর শিক্ষা আইনের সর্বশেষ পরিমার্জিত খসড়ায় “মাতৃভাষায় শিক্ষা” বানানটি বসানো হয়। শিক্ষা আইনটি পরে পাস হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন এই লেখার বাইরে।

পাঠ্যবইয়ে আদিবাসী: তিনটি গোলটেবিল-পুস্তিকা

জাবারাংয়ের ওয়েবসাইটের “Publications of Zabarang on NCTB books” পাতায় তিনটি পুস্তিকার স্ক্যান আছে। প্রচ্ছদ অনুযায়ী: “বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা আদিবাসী জীবন সংস্কৃতি: আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি — গোলটেবিল বৈঠক ২০০৯” ও “প্রকাশনায় আদিবাসী নৃ-গোষ্ঠী জীবন সংস্কৃতি: আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি — গোলটেবিল বৈঠক ২০১১”, দুটিই জাবারাং ও “ডেভেলপমেন্ট ইনিসিয়েটিভ ফর ইনক্লুসিভ পিপল”-এর; আর “পাঠ্যপুস্তকে জাতিসত্তা পরিচয়: আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি — গোলটেবিল বৈঠক ২০১২”, জাবারাং ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের। প্রথম দুটির প্রচ্ছদে চতুর্থ-পঞ্চম শ্রেণির “পরিবেশ পরিচিতি সমাজ” বইয়ের পাতার ছবি। পুস্তিকাগুলোর ভেতরের লেখা পুরোনো বিজয় এনকোডিংয়ে স্ক্যান করা, তাই এখানে প্রচ্ছদের তথ্যই দেওয়া হলো। GIQE প্রকল্পের কাজের তালিকায়ও “CHT based study circle on NCTB textbooks” আছে, যা প্রতি বছর হওয়ার কথা ছিল।

জোট ও কমিটিতে উপস্থিতি

সংস্থার 2026 সালের প্রোফাইলের ছক (পৃ. 18) অনুযায়ী জাবারাং 2011 থেকে এমএলই ফোরামের সদস্য ও “one of the initiators”, 2011 থেকে গণসাক্ষরতা অভিযানের সাধারণ সদস্য, আর জুলাই 2013 থেকে জুন 2017 পর্যন্ত দুই মেয়াদে অভিযানের নির্বাহী সদস্য। 2019 সালের পুস্তিকার শেষে সরকারের জন্য দশটি প্রস্তাব আছে (পৃ. 12), যার মধ্যে: জাতীয় আদিবাসী ভাষা একাডেমি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আদিবাসী ভাষার আলাদা সেল, এমএলই শিক্ষক প্রশিক্ষণে বার্ষিক বাজেট, জনগোষ্ঠী থেকে ভাষাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ, আর পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট শক্তিশালী করা।

জাবারাংয়ের মাতৃভাষা-শিক্ষার ফল নিয়ে মূল্যায়ন কী বলে, আর কী বলে না

জাবারাংয়ের কর্মসূচির কোনো স্বাধীন মূল্যায়ন-প্রতিবেদন প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। যা আছে: সেভ দ্য চিলড্রেনের 2010 সালের একটি তুলনামূলক গবেষণার ফল, যা একটি গোলটেবিলে বলা হয়েছিল; সংস্থার নিজের দাবি; আর সংবাদপত্রে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের বক্তব্য। এগুলোর ধরন আলাদা, তাই নিচে আলাদা রাখা হলো।

দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা তথ্য

21 ডিসেম্বর 2013-এর গোলটেবিলে মেহেরুন্নাহার স্বপ্না দুটি তথ্য দেন (প্রথম আলো, 24 জানুয়ারি 2014)। প্রতিবেদনে তাঁর পদ লেখা নেই; ইউনেস্কো ব্যাংককের একটি পাতার ছবির কৃতজ্ঞতায় “Meherun Nahar Shapna”-কে সেভ দ্য চিলড্রেনের শিশুর ক্ষমতায়ন-এমএলই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বলা হয়েছে।

  1. সেভ দ্য চিলড্রেন জাবারাং কল্যাণ সমিতি, বলীপাড়া নারী কল্যাণ সমিতি ও রাখাইন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজারে ত্রিপুরা, চাকমা, মারমা, ম্রো ও রাখাইন — পাঁচ ভাষাগোষ্ঠীর শিশুদের নিয়ে কাজ করছে; এ পর্যন্ত 6,777 শিশু এসব প্রাক-প্রাথমিক থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। সংখ্যাটি তিন সংস্থার মিলিত, শুধু জাবারাংয়ের নয়।
  2. 2010 সালে সেভ দ্য চিলড্রেনের তুলনামূলক গবেষণায় দেখা যায়, মাতৃভাষায় পরিচালিত প্রাক-প্রাথমিকের শিশুরা শ্রেণিকক্ষের 80 শতাংশ সময় শিক্ষকের সঙ্গে পড়াশোনায় যুক্ত থেকেছে, বাংলায় পরিচালিত প্রাক-প্রাথমিকে 40 শতাংশ সময়। গবেষণাটির পূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি; নমুনার আকার ও এলাকাও জানা যায়নি।

সংস্থার নিজের দাবি

  • একই গোলটেবিলে মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শেষ করে যারা সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে, তারা অন্যদের চেয়ে “সব বিষয়ে অনেক বেশি এগিয়ে আছে। তাদের ফলাফল এক থেকে দশের মধ্যে থাকে।”
  • বার্ষিক প্রতিবেদন 2016 (পৃ. 16) বলছে, প্রকল্পের 10টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় “may be presented as role model for Bangladesh government”।
  • বার্ষিক প্রতিবেদন 2021–22 (পৃ. 19) SETU-MLE-এর বিদ্যালয়ে অন্য বিদ্যালয়ের তুলনায় কম ঝরে পড়া ও বেশি উপস্থিতির কথা বলে; তুলনার পরিসংখ্যান দেওয়া নেই।
  • এনেবলিং এডুকেশনের 2008 সালের লেখায় খাগড়াছড়ির এক নারী নেতার উক্তি: “There is no alternative to mother tongue education.”

সংবাদপত্রে মাঠের চিত্র

2021, বাংলা ট্রিবিউন: খাগড়াছড়ির কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বলেছেন, তাঁদের আরও প্রশিক্ষণ দরকার, “স্থানীয়ভাবে জাবারাং যে প্রশিক্ষণ দেয় তাতে হয় না।” একই প্রতিবেদনে শিক্ষকেরা জানান, তাঁদের প্রশিক্ষণ ছিল 2 বা 5–6 দিনের, যাতে বর্ণমালা পুরো আয়ত্ত হয় না; প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির জন্য শিক্ষক-নির্দেশিকা নেই; আর মহালছড়ির একটি সরকারি বিদ্যালয়ে মারমা শিক্ষার্থী 132 জন, কিন্তু মারমায় পড়াতে পারেন এমন শিক্ষক 2 জন। একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, তাঁদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা চাকমা জনগোষ্ঠীর, মারমা ভাষা জানেন না, শুনে শুনে আয়ত্ত করেন। প্রধান শিক্ষক বলেছেন, ভাষাগত কারণে আগে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ত, “এখন কিন্তু কমে গেছে।” একই প্রতিবেদনে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, মাতৃভাষায় পড়ানো অন্তত পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত হওয়া উচিত, আর টেকসই করতে “সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।”

2025, বিডিনিউজ২৪: খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাবে জেলায় 595টি প্রাথমিক বিদ্যালয়; 2022–23 অর্থবছরে সরকারিভাবে মাত্র 90 জন শিক্ষক (চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা 30 জন করে) মাতৃভাষায় পাঠদানের প্রশিক্ষণ পান, তারপর আর হয়নি (বিডিনিউজ২৪, 21 ফেব্রুয়ারি 2025)। শিক্ষকেরা বলেছেন, রুটিনে মাতৃভাষার ক্লাসের সময় নেই, মূল্যায়ন নেই; সে বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বইও পৌঁছায়নি। এই প্রতিবেদনে জাবারাংয়ের নির্বাহী পরিচালকের প্রস্তাব: যে বিদ্যালয়ে যে জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী, সেখানে সেই জনগোষ্ঠী থেকে শিক্ষক নিয়োগ, প্রয়োজনে শুরুতে শুধু ভাষা শেখানোর জন্য আলাদা শিক্ষক।

এই দুই প্রতিবেদনের বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কোনগুলো জাবারাংয়ের প্রকল্প-বিদ্যালয় ছিল, প্রতিবেদনে তা আলাদা করা নেই। তাই এগুলো খাগড়াছড়িতে সরকারি মাতৃভাষা-কার্যক্রমের সাধারণ অবস্থা বোঝায়, জাবারাংয়ের প্রকল্পের মূল্যায়ন নয়।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক ও জাবারাংয়ের অন্যান্য স্বীকৃতি

জাবারাংয়ের নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা 21 ফেব্রুয়ারি 2021-এ প্রথমবারের মতো দেওয়া আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকের জাতীয় শ্রেণিতে দুই বিজয়ীর একজন; অন্যজন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। সংস্থাটি নিজে 2022 সালে রাঙামাটিতে শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের জন্য সম্মাননা পায়।

বিডিনিউজ২৪-এর 21 ফেব্রুয়ারি 2021-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী পদক তুলে দেন; মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা পান “for his work to protect the mother tongues of the small ethnic groups”। দ্য ডেইলি স্টার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের চিঠি উদ্ধৃত করে লিখেছে, তিনি নিজের মাতৃভাষার সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন ও বিকাশে কাজ করেছেন এবং নিজের ভাষায় শিক্ষা-কার্যক্রম প্রণয়ন করেছেন। পত্রিকাকে তিনি বলেন, দেশে এখনো প্রায় 50টি আদিবাসী ভাষা আছে, যেগুলোতে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে লেখা কম, আর “if a language is lost, then all the knowledge based on that language is also lost” (দ্য ডেইলি স্টার, ফেব্রুয়ারি 2021)। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে তাঁর কাজের বিবরণ: মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা নিয়ে গবেষণা এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষার সুরক্ষা ও পুনরুজ্জীবন।

পিবিএল (প্রো বেটার লাইফ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড) 13 মে 2022 রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে “গুণীজন সম্মাননা ২০২২” দেয়; সিএইচটি টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী জাবারাংকে দেওয়া হয় আদিবাসীদের ভাষা সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশে অবদানের জন্য। সংস্থার স্বীকৃতি-পাতায় নির্বাহী পরিচালকের আরও চারটি সম্মাননার তালিকা: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের ভাষা পুরস্কার 2020, পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘের ভাষা পুরস্কার 2018, অলট্রুইস্টিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষা পুরস্কার 2017, আর 2009 সালে ইউএনডিপির ব্যাংকক আঞ্চলিক কেন্দ্রের “Successful Young Leaders in Asia” স্বীকৃতি।

আলুটিলা থেকে দেখা খাগড়াছড়ি জেলার সবুজ পাহাড়সারি, দূরে সমতল আর মেঘলা আকাশ
আলুটিলা থেকে খাগড়াছড়ির পাহাড়, আগস্ট 2014। প্রথম আলোর 2015 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী জাবারাংয়ের অন্তত একটি অঙ্কুর বিদ্যালয়ের দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল না। ছবি: KA SHUVO · CC BY-SA 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

পাহাড় ও সমতলের অন্য মাতৃভাষা-উদ্যোগের পাশে জাবারাং কোথায়

জাবারাং দেশের প্রথম মাতৃভাষাভিত্তিক বেসরকারি উদ্যোগ নয়: তানিয়া রহমানের 2010 সালের প্রবন্ধ অনুযায়ী ব্র্যাকের আদিবাসী শিশু শিক্ষা কর্মসূচি অক্টোবর 2001 থেকে, আর আশ্রয়ের ওঁরাও কর্মসূচি অক্টোবর 2002 থেকে চলছিল। একই প্রবন্ধে জাবারাংকে বলা হয়েছে “another local NGO” যা “recently” কাজ শুরু করেছে।

উদ্যোগ এলাকা ভাষা শুরু উৎস
ব্র্যাক, Education for Indigenous Childrenদেশজুড়েএকাধিকঅক্টোবর 2001রহমান (2010), পৃ. 354–355
আশ্রয়, ওঁরাও অ্যাকশন রিসার্চ প্রকল্প (ইউনেস্কো ব্যাংকক)উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলওঁরাওঅক্টোবর 2002ঐ
জাবারাং কল্যাণ সমিতি (সেভ দ্য চিলড্রেন)খাগড়াছড়িচাকমা, মারমা, ককবরক2006 (কেন্দ্র 2007)এই লেখার উৎসগুলো
বলীপাড়া নারী কল্যাণ সমিতি; রাখাইন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (সেভ দ্য চিলড্রেন)বান্দরবান; কক্সবাজারম্রো, মারমা, রাখাইন প্রমুখ (পাঁচ ভাষার তালিকায়)2013-এর আগেপ্রথম আলো, 24 জানুয়ারি 2014
চাঙমা সাহিত্য বা (স্বেচ্ছাসেবী)দীঘিনালাচাকমা বর্ণমালাসেপ্টেম্বর 2015জুমজার্নালের লেখা

খাগড়াছড়িতেই আরেকটি উদ্যোগ পুরোপুরি স্বেচ্ছাসেবী — দীঘিনালার স্কুলে চাকমা বর্ণমালা শেখানো; সেটির বিবরণ আলাদা লেখায়: চাঙমা সাহিত্য বা: দীঘিনালার স্কুলে স্বেচ্ছাসেবীরা যেভাবে চাকমা বর্ণমালা পড়ান। জাবারাংয়ের মডেলটি ভিন্ন — দাতা-অর্থায়িত, প্রকল্পভিত্তিক, আর 2017-এর পর সরকারি বিদ্যালয়কেন্দ্রিক। বান্দরবানের লামার ম্রো শিশুদের স্কুল ও ছাত্রাবাস নিয়ে আছে পাওমুম থারক্লা লেখা; ম্রো ভাষা সরকারি পাঁচ ভাষার বাইরে, দ্বিতীয় দফার তালিকায়।

দ্বিতীয় দফার সেই ছয় ভাষা — ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খাসি, মণিপুরী ও বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী — নিয়েই জাবারাংয়ের 2023–24 সালের “সঞ্জীবন” প্রকল্প। বার্ষিক প্রতিবেদন 2023–24 (পৃ. 34) অনুযায়ী এই ছয় ভাষাগোষ্ঠীর সঙ্গে খাগড়াছড়িতে দুটি, বান্দরবানে একটি ও শ্রীমঙ্গলে একটি পরামর্শ সভা হয়; লেখকদের শিশুতোষ ছড়া-গল্প লেখার কর্মশালা হয়; ছয় ভাষায় সচিত্র প্রাইমার প্রকাশ হয়; লাহরা, সাদরি ও রেংমিটচ্য — তিন বিপন্ন ভাষার শব্দবই বের হয়। রেংমিটচ্যর আরেকটি শব্দের বই নিয়ে আমাদের লেখা: রেংমিটচ্য ভাষা অভিধান “মিটচ্য তখক”।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য বিষয়ের লেখা পাবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।

উৎসভেদে অমিল

নিচের অমিলগুলো উৎসেই আছে; কোনটি ঠিক, সে বিচার এখানে করা হয়নি।

  • শুরুর বছরের শিশুসংখ্যা: এনেবলিং এডুকেশন (আগস্ট 2008) বলছে 60 কেন্দ্রে 1,259 শিশু; দ্য ডেইলি স্টার (4 মার্চ 2008) বলছে 60 বিদ্যালয়ে 1,546 শিশু।
  • কমিউনিটি লার্নিং সার্কেলের সংখ্যা: এনেবলিং এডুকেশন বলছে 10টি; দ্য ডেইলি স্টার “four” লিখে উপজেলাভিত্তিক তালিকায় পানছড়ি, সদরে 3 ও দীঘিনালায় 3 দিয়েছে।
  • কাজ শুরুর সাল: সংস্থার সব প্রতিবেদন বলছে 2006; প্রথম আলোর ডিসেম্বর 2013-এর গোলটেবিলে আব্দুল কাইয়ুমের সূচনা-বক্তব্যে বলা হয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন ও জাবারাং “ছয় বছর ধরে” কাজ করছে; বার্ষিক প্রতিবেদন 2016 অনুযায়ী কেন্দ্রগুলো চালু হয় ফেব্রুয়ারি 2007-এ।
  • নির্বাহী পরিচালকের নাম: দ্য ডেইলি স্টার 2008 লিখেছে “Mothura Lal Tripura”; সংস্থার নিজের নথি ও পরের সব প্রতিবেদনে মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা।
  • সংস্থার ইংরেজি নাম: সংস্থার নিজের “Zabarang Kalyan Samity”; দ্য ডেইলি স্টার 2021 “Jabarang Kalyan Samiti”; বিডিনিউজ২৪ 2021 “Jabrang Welfare Association”।
  • GIQE প্রকল্পের মেয়াদ: প্রকল্প-পাতা বলছে 1 আগস্ট 2013 থেকে 31 ডিসেম্বর 2015; বার্ষিক প্রতিবেদন 2015 বলছে আগস্ট 2013 থেকে ডিসেম্বর 2016 (দ্বিতীয় পর্যায়)।
  • SETU-MLE-এর শেষ: বার্ষিক প্রতিবেদন 2020 বলছে ডিসেম্বর 2021; বার্ষিক প্রতিবেদন 2021–22 ও প্রকল্প-পাতা বলছে জুলাই 2022।
  • SETU-MLE-এর প্রশিক্ষিত শিক্ষক: বার্ষিক প্রতিবেদন 2020-এর এক পাতায় 70 জন, 2021–22-এর প্রতিবেদনে 100 জন — দুটি ভিন্ন সময়ের হিসাব হতে পারে, প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
  • SETU-MLE-এর শিশুসংখ্যা: একই প্রতিবেদনে (2021–22) “4300 ethnic children successfully enrolled” আর জনসংখ্যা-ছকে বিদ্যালয়ে 3,647 শিক্ষার্থী।
  • সরকারি বই কবে থেকে: অধিকাংশ উৎস (বিডিনিউজ২৪, বাংলা ট্রিবিউন, জাবারাংয়ের 2019 সালের পুস্তিকা) বলছে 2017; জাবারাংয়ের চাকমা শিক্ষক-ম্যানুয়ালের ভূমিকা ও কৃতজ্ঞতা-অংশ বলছে 2016 সাল থেকে প্রচলন বা প্রকাশ।
  • অনলাইন স্কুলে অংশগ্রহণ: বার্ষিক প্রতিবেদন 2020-এ “at least 4000 students”; একই প্রতিবেদনে সংস্থার অনুমান, প্ল্যাটফর্ম থাকলে “more than 10 thousand” শিশু উপকৃত হতে পারত।

প্রশ্নোত্তর

জাবারাং কল্যাণ সমিতি কী?

জাবারাং কল্যাণ সমিতি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার খাগড়াপুরে 28 জানুয়ারি 1995 সালে প্রতিষ্ঠিত একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। এটি সমাজসেবা অধিদপ্তরে 1997 সালে এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে 1999 সালে নিবন্ধিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা, নারী-শিশু অধিকার ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করে; 2006 সাল থেকে চাকমা, মারমা ও ককবরকে মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষার জন্য পরিচিত।

জাবারাং কবে থেকে মাতৃভাষায় শিক্ষা দিচ্ছে?

সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কাজ শুরু 2006 সালে, সেভ দ্য চিলড্রেনের সহায়তায় “শিশুর ক্ষমতায়ন” (Shishur Khamatayan) প্রকল্প দিয়ে। প্রথম 60টি “অঙ্কুর” প্রাক-প্রাথমিক কেন্দ্র চালু হয় ফেব্রুয়ারি 2007-এ, খাগড়াছড়ি সদর, পানছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলায়। সরকারি মাতৃভাষার বই আসে এর প্রায় দশ বছর পরে, 2017 সালে।

শিশুর ক্ষমতায়ন প্রকল্পে শিশুরা কীভাবে পড়ত?

চার বছর বয়সে শিশুরা দুই বছরের প্রাক-প্রাথমিক কোর্সে ভর্তি হতো। প্রথম বছর সব পাঠ মাতৃভাষায়, মুখে মুখে; তারপর পড়ার-আগের, লেখার-আগের ও গণিতের-আগের কাজ। দ্বিতীয় বছর মাতৃভাষায় পড়া-লেখা, আর বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মৌখিক বাংলা। তারপর সরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি। প্রতিটি কেন্দ্র চালাত গ্রামের কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটি।

জাবারাং কোন কোন ভাষায় পড়ায়?

খাগড়াছড়ির তিন প্রধান ভাষায় — চাকমা, মারমা ও ককবরক (ত্রিপুরা)। চাকমা গ্রামে চাকমা, মারমা গ্রামে মারমা, ত্রিপুরা গ্রামে ককবরক। SETU-MLE প্রকল্পের 35টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ককবরকের 14, চাকমার 14 ও মারমার 7টি ছিল। 2023–24 সালে সঞ্জীবন প্রকল্পে আরও ছয় ভাষায় প্রাইমার তৈরি হয়।

জাবারাং কতগুলো মাতৃভাষার স্কুল চালিয়েছে?

শুরুতে 60টি প্রাক-প্রাথমিক কেন্দ্র (2007–2008)। প্রথম আলোর 2015 সালের প্রতিবেদনে নির্বাহী পরিচালক বলেন, তিন উপজেলার 49টি এমএলই বিদ্যালয়ে প্রায় 900 শিক্ষার্থী। 2016 সালে 50টি নতুন প্রি-স্কুল নির্মাণের কথা প্রতিবেদনে আছে। 2017 সালে চার উপজেলার 36টি বিদ্যালয়ে, আর 2019–2022 সালে 35টি সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে কাজ চলে।

জাবারাংয়ের মাতৃভাষা কর্মসূচিতে কারা অর্থ দিয়েছে?

2006 থেকে 2017 পর্যন্ত প্রধান দাতা সেভ দ্য চিলড্রেন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন GIQE (2013 থেকে) ও যুক্তরাজ্য সরকারের FCDO-র অর্থে SETU-MLE (2019–2022) প্রকল্পে অর্থ দেয়। শিক্ষক-প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালে বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন ও ইউনেস্কো পার্টিসিপেশন প্রোগ্রাম, চাকমা অভিধানে ইউএনডিপি সিএইচটিডিএফ, আর বিপন্ন ভাষার কাজে পাওয়ানকা ফান্ড।

জাবারাংয়ের শিক্ষক-প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালে কী আছে?

ডিসেম্বর 2017-এ চাকমা, মারমা ও ককবরক — তিন খণ্ডে “ভাষা প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল (শিক্ষকদের জন্য)” প্রকাশিত হয়, এনসিটিবির কারিগরি সহায়তায়। এটি সেই শিক্ষকদের জন্য, যাঁরা ভাষা বলতে পারেন কিন্তু নিজস্ব লিপিতে পড়তে-লিখতে পারেন না। চাকমা খণ্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ 15 দিনে 60টি অধিবেশনে সাজানো। চাকমা খণ্ডের ISBN 984-70270-0041-7, ককবরকের 984-70270-0042-2।

এমএলই অনলাইন স্কুল কী?

করোনায় স্কুল বন্ধ থাকার সময় 9 আগস্ট 2020-এ জাবারাং ও খাগড়াছড়ির শিক্ষা কর্মকর্তারা মিলে “এমএলই অনলাইন স্কুল” ফেসবুক পাতা চালু করেন। প্রশিক্ষিত শিক্ষকেরা সেখানে চাকমা, মারমা ও ককবরকে প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস নিতেন। সংস্থার 2020 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী 100-র বেশি ক্লাস হয়, আর অন্তত 4,000 শিশু অংশ নেয়।

মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা কে?

মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক। তিনি এনসিটিবির ককবরক লেখক-প্যানেলের দলনেতা ও ত্রিপুরা ভাষার সরকারি বইয়ের লেখক, এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এমএলই পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন। 21 ফেব্রুয়ারি 2021-এ প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকের জাতীয় শ্রেণিতে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তিনি পদক পান।

জাবারাংয়ের কাজের কোনো স্বাধীন মূল্যায়ন আছে?

প্রকাশ্যে কোনো স্বাধীন মূল্যায়ন-প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। 2013 সালের একটি গোলটেবিলে সেভ দ্য চিলড্রেনের 2010 সালের একটি তুলনামূলক গবেষণার কথা বলা হয়: মাতৃভাষার প্রাক-প্রাথমিকে শিশুরা ক্লাসের 80 শতাংশ সময় পড়ায় যুক্ত থাকে, বাংলা-মাধ্যমে 40 শতাংশ। সংস্থার নিজের প্রতিবেদন কম ঝরে পড়ার দাবি করে, তবে তুলনার পরিসংখ্যান দেয় না।

সরকারি মাতৃভাষার বইয়ের সঙ্গে জাবারাংয়ের সম্পর্ক কী?

সরকারি বই তৈরির কমিটিতে জাবারাংয়ের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। বই আসার পর জাবারাং সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়, শিক্ষক-ম্যানুয়াল তৈরি করে এবং প্রাক-প্রাথমিকের পাঠ-পরিকল্পনা ও ক্লাস-রুটিন চালু করে। নির্বাহী পরিচালকের ভাষায় লক্ষ্য ছিল সরকার যাতে কার্যক্রমটি সুচারুভাবে চালাতে পারে, তার উদাহরণ তৈরি করা।

খাগড়াছড়িতে মাতৃভাষার ক্লাস এখন কেমন চলছে?

বিডিনিউজ২৪-এর ফেব্রুয়ারি 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলার 595টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 2017 থেকে চাকমা, মারমা ও ককবরক বই দেওয়া হলেও 2022–23 অর্থবছরে সরকারিভাবে মাত্র 90 জন শিক্ষক প্রশিক্ষণ পান। শিক্ষকেরা বলেছেন, রুটিনে মাতৃভাষার সময় নেই, মূল্যায়ন নেই, আর সে বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বই পৌঁছায়নি।

যা এখনো জানা যায়নি

  • 2006 সালে প্রকল্প শুরুর আগের যে সমীক্ষার কথা 2016 সালের প্রতিবেদনে আছে, তার শিরোনাম, লেখক ও ফল।
  • সেভ দ্য চিলড্রেনের 2010 সালের তুলনামূলক গবেষণার পূর্ণ প্রতিবেদন — নমুনা, এলাকা ও পদ্ধতি।
  • 2006 থেকে 2017 পর্যন্ত মোট কতজন শিশু জাবারাংয়ের মাতৃভাষার কেন্দ্রে পড়েছে, তার একক কোনো হিসাব। প্রতিবেদনগুলো বছরভিত্তিক সংখ্যা দেয়, একত্রিত সংখ্যা দেয় না।
  • কেন্দ্র থেকে সরকারি বিদ্যালয়ে যাওয়া শিশুরা পরে প্রাথমিক সমাপনী পর্যন্ত টিকেছে কি না — কোনো ট্র্যাকিং-তথ্য প্রকাশ্যে নেই।
  • জানুয়ারি 2017-এ কমিউনিটি ও ইউনিয়ন পরিষদের হাতে যাওয়ার কথা যে 34টি কেন্দ্র, তার কতগুলো পরে চালু ছিল।
  • 2017 সালের শিক্ষক-ম্যানুয়ালের কত কপি ছাপা হয়েছিল, কতজন মাস্টার ট্রেইনার তৈরি হয়েছিলেন, আর ম্যানুয়ালটি সরকারি প্রশিক্ষণে ব্যবহার হয়েছে কি না।
  • SETU-MLE শেষ হওয়ার পর 35টি বিদ্যালয় মাতৃভাষায় পড়ানো চালিয়ে গেছে কি না।
  • 2009, 2011 ও 2012 সালের পাঠ্যবই-বিষয়ক গোলটেবিল-পুস্তিকার ভেতরের সুপারিশগুলো, যা পুরোনো এনকোডিংয়ে স্ক্যান করা।
  • “জাবারাং” নামের অর্থ ও উৎস।

তথ্যসূত্র

জাবারাং কল্যাণ সমিতির নিজস্ব নথি

  1. জাবারাং কল্যাণ সমিতি, Background ও Recognitions, zabarangbd.org, পড়া হয়েছে 3 নভেম্বর 2026।
  2. জাবারাং কল্যাণ সমিতি, Zabarang Profile, মে 2026, পৃ. 7, 11, 18, 21–22।
  3. মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, Multilingual Education: experiences from Chittagong Hill Tracts, Bangladesh, জাবারাং কল্যাণ সমিতি, আগস্ট 2019; দ্বিতীয় সংস্করণ ডিসেম্বর 2022, পৃ. 7–13।
  4. জাবারাং কল্যাণ সমিতি, Annual Report 2015, পৃ. 6, 11–15।
  5. জাবারাং কল্যাণ সমিতি, Annual Report 2016, পৃ. 11, 15–18, 23–24, 32।
  6. জাবারাং কল্যাণ সমিতি, Annual Report 2018, পৃ. 18–20।
  7. জাবারাং কল্যাণ সমিতি, Annual Report 2020, পৃ. 9–13।
  8. জাবারাং কল্যাণ সমিতি, Annual Report July 2021–June 2022, পৃ. 16–21।
  9. জাবারাং কল্যাণ সমিতি, Annual Report 2023–2024, পৃ. 33–34।
  10. জাবারাং কল্যাণ সমিতি, প্রকল্প-পাতা: Sishur Khamatayan (SK), SETU-MLE, Sonjibon, READ, Revitalizing Chakma Language and Culture, GIQE, old.zabarangbd.org, পড়া হয়েছে 3 নভেম্বর 2026।
  11. জাবারাং কল্যাণ সমিতি ও বনফুল এডুকেশন ট্রাস্ট, ভাষা প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল (শিক্ষকদের জন্য): ককবরক ভাষা ও চাকমা ভাষা, প্রথম প্রকাশ ডিসেম্বর 2017; অর্থায়ন ইউনেস্কো পার্টিসিপেশন প্রোগ্রাম/বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন; ISBN 984-70270-0042-2 ও 984-70270-0041-7 — নামপত্র, কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও ভূমিকা।
  12. মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা ও অন্যান্য (সংকলন), শিক্ষা আইন ২০১৩ (খসড়া): আমাদের প্রস্তাবনা — পার্বত্য চট্টগ্রামের সুশীল সমাজ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সুপারিশমালা, মালেইয়া ফাউন্ডেশন, আগস্ট 2013, পৃ. ৫–১০।
  13. জাবারাং কল্যাণ সমিতি, Publications of Zabarang on NCTB Books — গোলটেবিল বৈঠক 2009, 2011 ও 2012-এর পুস্তিকার প্রচ্ছদ।

জুমজার্নাল আর্কাইভ

  1. মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা: অপেক্ষার শেষ কোথায়? (মূল প্রকাশ: গণসাক্ষরতা অভিযান, সাক্ষরতা বুলেটিন, আগস্ট 2015), জুমজার্নাল।
  2. মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, ত্রিপুরাদের মাতৃভাষা ককবরক: একটি সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল, জুমজার্নাল।
  3. মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, কালের দর্পনে ককবরকের লিখিত চর্চা: এপার-ওপারের কিছু তথ্য-উপাত্ত, জুমজার্নাল।
  4. ত্রিপুরা জাতির আদ্যোপান্ত, জুমজার্নাল — তথ্যসূত্রে জাবারাংয়ের 2004 সালের প্রকাশনা।

দাতা সংস্থা, একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক উৎস

  1. Terry Durnnian, Mother Language First: Towards achieving EFA for Adivasi children in Bangladesh, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ, জাবারাং কল্যাণ সমিতি ও Save the Children-এর যৌথ প্রকাশনা, Save the Children UK, 2007 — নামপত্র, কৃতজ্ঞতা, পৃ. iii–vii, 1–7।
  2. Mathura Bikash Tripura, Community participation in mother tongue based multilingual education in Bangladesh, Enabling Education, সংখ্যা 12, EENET, আগস্ট 2008, পৃ. 18।
  3. Tania Rahman, “A multilingual language-in-education policy for indigenous minorities in Bangladesh: challenges and possibilities”, Current Issues in Language Planning, 11:4 (2010), পৃ. 341–359 (উদ্ধৃত অংশ পৃ. 354–355), doi:10.1080/14664208.2010.537816।
  4. UNESCO Bangkok, Hard lessons for ‘student and teacher’ (জুলাই 2018-এর আর্কাইভ কপি) — প্রকল্প পরিচালকের পরিচয়ের জন্য।

সংবাদ প্রতিবেদন

  1. Indigenous children learn in mother tongue, দ্য ডেইলি স্টার, 4 মার্চ 2008।
  2. আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা: মূলধারায়নের কৌশল (গোলটেবিল, 21 ডিসেম্বর 2013), প্রথম আলো, 24 জানুয়ারি 2014।
  3. মাতৃভাষায় শিক্ষা কত দূর, প্রথম আলো, 1 মার্চ 2015।
  4. Three people, an organisation receive first International Mother Language Award, বিডিনিউজ২৪, 21 ফেব্রুয়ারি 2021।
  5. Int’l Mother Language Award: PM to honour three individuals, one org, দ্য ডেইলি স্টার, ফেব্রুয়ারি 2021।
  6. Three persons, one institution to receive IMLI accolades, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ফেব্রুয়ারি 2021।
  7. থমকে আছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় শিক্ষা, বাংলা ট্রিবিউন, 25 ডিসেম্বর 2021।
  8. শিক্ষা ও গবেষণায় অবদান রাখার স্বীকৃতি মিলল জাবারাং কল্যাণ সমিতির, সিএইচটি টিভি, মে 2022।
  9. মাতৃভাষায় শিক্ষা: পাহাড়ের শিশুদের সামনে সমস্যার পাহাড়, বিডিনিউজ২৪, 21 ফেব্রুয়ারি 2025।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026

প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, ককবরক ভাষা, খাগড়াছড়ি, মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা, মাতৃভাষায় শিক্ষা

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা