Last updated Oct 6th, 2026
10

১৯৮১ সালের আদমশুমারিতে খিয়াংদের সংখ্যা ছিল ৫,৪৫৩। দশ বছর পর, ১৯৯১ সালে, সেটি দাঁড়াল ১,৯৫০।
কোনো মহামারি হয়নি, কোনো গণহারে দেশত্যাগও নয়। জুমজার্নালের আর্কাইভে সংরক্ষিত লেখাটি সিদ্ধান্তটা সরাসরি লিখে দিয়েছে: “যেখানে সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ার কথা, সেখানে ১৯৯১ সালের আদমশুমারিতে খিয়াং জনগােষ্ঠীর জনসংখ্যা আরাে কমে গেছে। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আদমশুমারিতে খিয়াং জনগােষ্ঠীর লােকসংখ্যা যথাযথভাবে গণনা করা হয় না।”
এই একটি বাক্য দিয়েই বোঝা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী নিয়ে লিখতে বসলে প্রথম সমস্যাটা কী। খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখোয়া ও লুসাই — এই পাঁচটি জনগোষ্ঠী এত ছোট যে তাদের নিয়ে একটা নির্ভুল বাক্য লেখাও কঠিন, কারণ মৌলিক সংখ্যাটাই নির্ভরযোগ্য নয়। এই লেখাটি সেই অনিশ্চয়তাকে লুকিয়ে না রেখে পাঁচটি জনগোষ্ঠীর একটি কেন্দ্রীয় পরিচিতি দাঁড় করানোর চেষ্টা।
এই পাঁচটি জনগোষ্ঠীকে এক লেখায় রাখার কারণ এই নয় যে তারা একই রকম — তারা নয়। চাকরা থেরবাদ বৌদ্ধ, পাংখোয়াদের বড় অংশ খ্রিষ্টান; চাকদের ভাষা বার্মিজ-ঘনিষ্ঠ সাক শাখার, পাংখোয়া-লুসাই-খুমিরা কুকি-চিন দলের; চাকরা থাকেন সমুদ্রের কাছাকাছি নাইক্ষ্যংছড়িতে, পাংখোয়ারা কর্ণফুলীর পূর্বপাড়ের উঁচু চূড়ায়।
কারণটা অন্য। এদের প্রত্যেকের সংখ্যা এত কম যে নথিভুক্তি নিজেই একটি সংরক্ষণ-কাজ। বাংলা ইন্টারনেটে এদের নিয়ে যা আছে তা হয় আদমশুমারির একটি লাইন, নয়তো “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তালিকা”-জাতীয় পাতায় নামের উল্লেখ। জুমজার্নালের আর্কাইভে অবশ্য প্রত্যেকটির জন্য বড় বড় লেখা আছে — এই হাব-লেখাটি সেগুলোর দিকেই পাঠককে নিয়ে যাবে।

তিন ধরনের সংখ্যা পাশাপাশি রাখলে সমস্যাটা পরিষ্কার হয়: সরকারি আদমশুমারি, সম্প্রদায়ের নিজস্ব জরিপ, আর সাম্প্রতিক BBS 2022।
| জনগোষ্ঠী | পুরনো আদমশুমারি | নিজস্ব জরিপ | BBS 2022 |
|---|---|---|---|
| খিয়াং | 1981: 5,453 1991: 1,950 |
আনুমানিক 3,600 (700+ পরিবার) |
4,826 |
| খুমি | 1931: 1,549 · 1951: 1,951 1981: 1,094 · 1991: 1,241 |
2006: 2,094 | 3,780 |
| চাক | 1991: 2,000 (372 পরিবার) | — | যাচাই করা যায়নি |
| পাংখোয়া | — | — | 1,857 |
| লুসাই | — | আনুমানিক 1,000 | যাচাই করা যায়নি |
BBS 2022-এর সংখ্যাগুলো এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর “Table 1.4 Ethnic Population by Group and Sex” সারণি থেকে (পৃ. ৩৩), যা ইংরেজি উইকিপিডিয়ার সংশ্লিষ্ট পাতাগুলোতে উদ্ধৃত। চাক ও লুসাইয়ের ক্ষেত্রে ঐ সারণির সংখ্যা কোনো পড়া-যায় এমন পাতায় নিশ্চিত করা যায়নি, তাই অনুমান বসানো হয়নি।
দুটি জিনিস এখানে লক্ষ করার মতো।
প্রথমত, খিয়াংয়ের ক্ষেত্রে BBS-এর নিজের সংখ্যাতেই অসঙ্গতি আছে। মোট দেখানো হয়েছে 4,826, অথচ জেলাভিত্তিক ভাগে বান্দরবানে 2,502 ও রাঙামাটিতে 1,670 — যোগ করলে দাঁড়ায় 4,172। ৬৫৪ জনের এই ব্যবধান কোথা থেকে এল, তা স্পষ্ট নয়। [যাচাই প্রয়োজন]
দ্বিতীয়ত, খুমিদের সরকারি সংখ্যা ১৯৫১ থেকে ১৯৯১-এর মধ্যে কমেছে ৭১০ জন। আর্কাইভের লেখাটি জানাচ্ছে, ২০০৬ সালে খুমি সাংস্কৃতিক কর্মী সিঅং খুমির নেতৃত্বে চালানো এক জরিপে সংখ্যা পাওয়া যায় ২,০৯৪ — যা তখনকার সরকারি হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ।
অর্থাৎ প্রশ্নটা “সঠিক সংখ্যা কোনটি” নয়। প্রশ্নটা হলো — দুর্গম উপজেলার ছড়ানো পাড়াগুলোতে গণনাকারী আদৌ পৌঁছান কি না। উপরের ছকটি সেই সন্দেহটাকেই দৃশ্যমান করে রাখল।
কোথায়: রাঙামাটির রাজস্থলী ও কাপ্তাই; বান্দরবানের সদর, রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলা।
ভাষা ও পরিচয়: ইংরেজি উইকিপিডিয়া অনুযায়ী তাঁদের ভাষা আশো খিয়াং (শ ভাষা নামেও পরিচিত), আর নিজেদের ডাকেন “হিয়াও” — যার অর্থ “চিন”। ধর্মে থেরবাদ বৌদ্ধ ৬১.৭১% ও খ্রিষ্টান ৩৮.২৯%।
উৎপত্তির কাহিনি: আর্কাইভের লেখাটি সৎভাবে বলে দিয়েছে যে খিয়াংদের উৎপত্তি নিয়ে “সুনির্দিষ্ট কোনাে লেখ্য দালিলিক প্রমাণ কিংবা তথ্য-উপাত্ত আজও অনাবিষ্কৃত”। যা আছে তা দুটি জনশ্রুতি। প্রথমটিতে এক রাজা যুদ্ধ ছেড়ে পালানোর সময় সঙ্গী বেশি হয়ে যাওয়ায় সেতুর মাঝখানটা কেটে দেন — সেতুর ওপারে পড়ে থাকা মানুষরাই আজকের খিয়াংদের পূর্বপুরুষ। দ্বিতীয়টিতে এক রানি দূরে শুকনো পাতাকে হরিণ ভেবে ভুল করেন, যা নিয়ে রাজার সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়।
এই কাহিনিগুলো ইতিহাস নয় — জনশ্রুতি, এবং আর্কাইভের লেখাটিও সেভাবেই উপস্থাপন করেছে। বিস্তারিত আছে খিয়াং জাতির আদ্যোপান্ত লেখাটিতে; প্রথাগত আইনে নারীর অবস্থান নিয়ে আলাদা লেখা আছে এখানে।

কোথায়: কেবল বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি — এর বাইরে বাংলাদেশের আর কোনো জেলা বা উপজেলায় খুমিরা থাকেন না। আর্কাইভের লেখাটিতে হিসাবটি একদম নির্দিষ্ট: ১১টি মৌজায় মোট ৩৬টি গ্রাম — থানচিতে ২১, রুমায় ১১, রোয়াংছড়িতে ৪। মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক থাকেন থানচিতে।
দেশের বাইরে: এখানেই সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি। মিয়ানমারের চিন রাজ্যের পালেটওয়া অঞ্চলে খুমিদের সংখ্যা এক লক্ষেরও বেশি বলে আর্কাইভের লেখাটি জানাচ্ছে; ভারতের মিজোরামে আরও প্রায় ৩,০০০। অর্থাৎ বাংলাদেশের খুমিরা একটি অনেক বড় জনগোষ্ঠীর ক্ষুদ্র একটি প্রান্ত।
মিয়ানমারের সংখ্যাটি নিয়ে অবশ্য উৎসে বড় ফারাক আছে: ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় মিয়ানমারের খুমি জনসংখ্যা দেখানো হয়েছে ১৪,০০০ (২০২৪)। এক লক্ষ বনাম চোদ্দ হাজার — ব্যবধানটা বিশাল, এবং কোনটি সঠিক তা এই দুই উৎস থেকে বলা যাচ্ছে না। [যাচাই প্রয়োজন]
ভাষা ও ধর্ম: আর্কাইভ অনুযায়ী খুমিরা তিব্বতি-বার্মিজ-কুকি-চিন ভাষায় কথা বলেন, আর ভাষাগত ও সাংস্কৃতিকভাবে বম, লুসাই, খিয়াং, পাংখোয়া ও ম্রোদের সঙ্গে একই দলভুক্ত। ইংরেজি উইকিপিডিয়া অনুযায়ী আজ খুমিরা প্রধানত খ্রিষ্টান, সংখ্যালঘু অংশ বৌদ্ধ ও সর্বপ্রাণবাদী — ১৯৩০-এর দশকে ব্রিটিশ মিশনারি কাজের আগ পর্যন্ত তাঁরা মূলত সর্বপ্রাণবাদী ছিলেন।
নামের অর্থ নিয়ে দুটি ব্যাখ্যা প্রচলিত: নিজেদের ভাষায় “খা” (মানুষ) + “মা” (শ্রেষ্ঠ জাতি), অথবা আরাকানি ভাষা থেকে “খা” (কুকুর) + “মা” (জাতি)। দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি স্পষ্টতই বাইরের দেওয়া অবমাননাকর নাম — দুটোই এখানে উল্লেখ করা হলো, কোনোটিকে গ্রহণ না করে।
বিস্তারিত: খুমী জাতির আদ্যোপান্ত · প্রথাগত আইনে খুমী নারীর অবস্থান
কোথায়: পাঁচটির মধ্যে চাকদের ভৌগোলিক পরিসর সবচেয়ে সংকীর্ণ — কেবল বান্দরবানের সর্বদক্ষিণে, মিয়ানমারের আরাকান সীমানা ঘেঁষা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। আর্কাইভের হিসাব অনুযায়ী উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও ১৭টি মৌজার মধ্যে ৩টি ইউনিয়নের ৫টি মৌজায় ছোট-বড় মোট ১৫টি চাক বসতি।
ভাষা: বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী চাকদের ভাষা চীন-তিব্বতি পরিবারের তিব্বতি-বর্মী শাখার “সাক” বা “লাই” গোত্রভুক্ত। এটি তাঁদের কুকি-চিন দলের বাকিদের থেকে আলাদা করে দেয়।
ধর্ম: বাংলাপিডিয়ার পর্যবেক্ষণটি সূক্ষ্ম — চাকরা বৌদ্ধ হলেও “লক্ষ্মী বা ওয়াইগ্যা”-র মতো অন্য দেবদেবীরও পূজা করেন।
ছড়িয়ে থাকা আত্মীয়েরা: আর্কাইভের লেখাটি অনুযায়ী চাক-বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী ভারতের মণিপুর ও অরুণাচল, মিয়ানমারের আরাকান, মধ্য-উত্তর-দক্ষিণ বার্মা এবং লাওসেও ছড়িয়ে আছে — বিভিন্ন জায়গায় তাঁরা পরিচিত চাক, কদু-কানাং, মালিন, আন্দ্রো, চেক নামে। সব মিলিয়ে চাক-ভাষাভাষীর সংখ্যা আনুমানিক ৬০ হাজার।
ঐ লেখাতেই একটি উদ্বেগ স্পষ্টভাবে লেখা আছে: জীবিকার তাগিদে প্রায় শখানেক চাক নারী-পুরুষ দেশের নানা জেলায় চাকরিরত, আর “এই প্রবণতা ক্ষুদ্র জাতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বটে”। এত ছোট জনগোষ্ঠীতে একশো মানুষের শহরমুখী হওয়া মানে ভাষা ও আচারের সঞ্চালন-শৃঙ্খলে সরাসরি টান।
বিস্তারিত: চাক জাতির আদ্যোপান্ত · প্রথাগত আইনে চাক নারীর অবস্থান
কোথায়: মূলত রাঙামাটি — বিলাইছড়ি, বাঘাইছড়ির সাজেক, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু, কাপ্তাই ও সদর উপজেলা; বান্দরবানের রুমাতেও কিছু পাড়া। আর্কাইভের লেখাটির একটি বৈশিষ্ট্য হলো, সেখানে মৌজা নম্বর, পাড়ার নাম ও হেডম্যানের নামসহ একটি পূর্ণ ছক দেওয়া আছে — এই আকারের নথিভুক্তি অন্য কোথাও প্রায় নেই।
সবচেয়ে পুরনো পাড়া: রাঙামাটি সদরে কর্ণফুলী নদীর পূর্ব পাড়ে ১,৬১০ ফুট উঁচু বসন্ত মোন-এ অবস্থিত পাংখোয়া পাড়াটি; আর্কাইভ অনুযায়ী সেখানে বসতি স্থাপন হয়েছে প্রায় ২০০ বছরেরও আগে।
একটি বৈশিষ্ট্য বারবার ফিরে আসে: পাংখোয়ারা “উঁচু পাহাড়ের উপরে বসবাস করতে পছন্দ এবং স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে”। ১,৬১০ ফুট উচ্চতার পাড়াটি সেই কথারই প্রমাণ।
ভাষা ও ধর্ম: ইংরেজি উইকিপিডিয়া অনুযায়ী পাংখোয়ারা কুকি-চিন-মিজো দলভুক্ত, ভাষার নাম পাংখু, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিষ্টান — ব্রিটিশ আমলে ধর্মান্তর ঘটে। ভাষা নিয়ে একটি কৌতূহলজনক অসামঞ্জস্যের কথাও সেখানে আছে: লুসাইরা পাংখো ভাষা বোঝেন না, কিন্তু পাংখোয়ারা লুসাই ভাষা বোঝেন।
বিস্তারিত: পাংখোয়া জাতির আদ্যোপান্ত
লুসাইরা পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে ছোট। থাকেন রাঙামাটি সদর ও বাঘাইছড়ির সাজেক উপত্যকায়, আর বান্দরবান সদর ও রুমায় অল্প কিছু।
কেন এত কম — এর একটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক কারণ আছে। আর্কাইভের লেখাটি অনুযায়ী ঊনবিংশ শতকে লুসাই বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী একাধিক অভিযান চালায় — ১৮৭১ সালের অক্টোবরে, এবং সবচেয়ে বড়টি ১৮৯২ সালে। এরপর পার্বত্য চট্টগ্রামে যাযাবর জীবনযাপনকারী লুসাইদের বড় অংশ পাশের লুসাই হিলস ডিস্ট্রিক্টে — আজকের মিজোরামে — গিয়ে স্থায়ী বসতি গড়েন। যাঁরা রয়ে গেলেন, তাঁদের সংখ্যা আনুমানিক এক হাজার।
বিচার ও আইন: লুসাই সমাজের প্রধান বা সর্দারকে বলা হয় “লাল”। সবচেয়ে অস্বাভাবিক তথ্যটি হলো — লুসাইদের সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধ মেটাতে ভারতের মিজোরামে প্রচলিত “মিজো হ্লাম দান” ১৯৫৬ (১৯৬০ সালে সংস্কারকৃত) অনুসরণ করা হয়, পাশাপাশি ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশনের তিন স্তরের সামাজিক আদালতও কাজ করে।
অর্থাৎ একটি বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর প্রথাগত আইনের উৎস আংশিকভাবে অন্য একটি দেশের রাজ্যে প্রণীত বিধি। এটি বিভাজনের পর ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটি জনগোষ্ঠীর বাস্তবতা — এবং পাঁচটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য কেবল লুসাইদেরই।
বিস্তারিত: লুসাই জনগোষ্ঠী: প্রচলিত রীতিনীতি ও প্রথা · প্রথাগত আইনে লুসাই নারীর অবস্থান
| জনগোষ্ঠী | ভাষার দল | প্রধান ধর্ম | মূল জেলা |
|---|---|---|---|
| খিয়াং | কুকি-চিন (আশো খিয়াং) | বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান | বান্দরবান ও রাঙামাটি |
| খুমি | কুকি-চিন | প্রধানত খ্রিষ্টান | বান্দরবান |
| চাক | সাক / লাই (আলাদা) | থেরবাদ বৌদ্ধ | বান্দরবান (নাইক্ষ্যংছড়ি) |
| পাংখোয়া | কুকি-চিন-মিজো | প্রধানত খ্রিষ্টান | রাঙামাটি |
| লুসাই | কুকি-চিন | — | রাঙামাটি (সাজেক) |
ছকটি থেকে একটি জিনিস স্পষ্ট: চাকরা বাকি চারটির থেকে আলাদা। ভাষায় তাঁরা কুকি-চিন দলভুক্ত নন, ধর্মে বৌদ্ধ, আর ভৌগোলিকভাবে সবচেয়ে দক্ষিণে। বাকি চারটি — খিয়াং, খুমি, পাংখোয়া, লুসাই — কুকি-চিন পরিবারের, এবং আর্কাইভের খুমি-বিষয়ক লেখাটি এদের বম ও ম্রোসহ একই বংশোদ্ভূত দল হিসেবেই দেখেছে।
আরেকটি মিল আরও গুরুত্বপূর্ণ: পাঁচটির প্রত্যেকটির একটি বড় অংশ সীমান্তের ওপারে — খুমিরা মিয়ানমারের চিন রাজ্যে, লুসাইরা মিজোরামে, চাকরা আরাকান থেকে লাওস পর্যন্ত, পাংখোয়ারা পশ্চিম মিজোরামে। বাংলাদেশে এঁরা “ক্ষুদ্রতম”, কিন্তু নিজেদের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর হিসাবে নন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে ছোট জনগোষ্ঠী কোনটি?
লুসাই। জুমজার্নালের আর্কাইভ অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে তাঁদের সংখ্যা আনুমানিক এক হাজার। ঊনবিংশ শতকের ব্রিটিশ অভিযানগুলোর পর লুসাইদের বড় অংশ আজকের মিজোরামে চলে যান।
খুমি আর খিয়াং কি একই জনগোষ্ঠী?
না, আলাদা — তবে ঘনিষ্ঠ। দুটিই কুকি-চিন ভাষাদলভুক্ত, এবং আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী খুমি, খিয়াং, বম, লুসাই, পাংখোয়া ও ম্রোদের আদি পুরুষদের একই বংশোদ্ভূত বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু ভাষা, আচার ও বসবাসের এলাকা আলাদা।
চাকরা কোথায় থাকেন?
কেবল বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় — মিয়ানমারের আরাকান সীমান্ত ঘেঁষে। উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ৫টি মৌজায় মোট ১৫টি চাক বসতি আছে। বাংলাদেশে আর কোথাও চাক জনপদ নেই।
আদমশুমারির সংখ্যা নিয়ে সমস্যাটা কী?
সংখ্যা কখনো কখনো বাড়ার বদলে কমে গেছে। খিয়াংদের সংখ্যা ১৯৮১-তে ৫,৪৫৩ থেকে ১৯৯১-তে ১,৯৫০-এ নামে; খুমিদের সংখ্যা ১৯৫১ থেকে ১৯৯১-এর মধ্যে ৭১০ জন কমে। সম্প্রদায়ের নিজস্ব জরিপে পাওয়া সংখ্যা প্রায়ই সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি — যা ইঙ্গিত দেয় দুর্গম এলাকায় গণনা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
এই পাঁচটি জনগোষ্ঠীর ভাষা কি বিপন্ন?
জনসংখ্যার আকার দেখে ঝুঁকি অনুমান করা যায়, কিন্তু বিপন্নতার আনুষ্ঠানিক মাত্রা এই লেখার জন্য যাচাই করা হয়নি। তাই এখানে কোনো শ্রেণিবিন্যাস দাবি করা হয়নি।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 8 আগস্ট 2026
প্রসঙ্গ:খিয়াং, খুমি, পাংখোয়া, লুসাই
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।