Jumjournal Logo

ভূমি কমিশন আইন ও প্রথাগত আইন: ৬ ধারার ‘প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি’ কী বোঝায়

Last updated Oct 19th, 2026

0

নৌকা থেকে দেখা কাপ্তাই হ্রদ: নীল পানির ওপারে ঝোপঝাড়ে ঢাকা টিলা, পানি নেমে যাওয়ায় টিলার নিচে উন্মুক্ত মাটির একটি ফালি

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, 2001-এর 6 ধারা কমিশনকে একটি মাপকাঠি বেঁধে দিয়েছে: প্রতিটি বিরোধ নিষ্পত্তি হবে “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী”। এভাবে ভূমি কমিশন আইন প্রথাগত আইনকে সিদ্ধান্তের ভিত্তি করেছে। কিন্তু এই তিন শব্দের শেষটি, “পদ্ধতি”, 2001 সালের আইনে ছিল না; এসেছে 2016 সালের সংশোধনে। আর “রীতি” ও “পদ্ধতি” কী, আইনের কোথাও তার সংজ্ঞা নেই।

এই লেখা কেবল 6 ধারা নিয়ে। ধারাটি আজ কী বলে, 2001 সালে কী বলত, “প্রচলিত আইন” শব্দের আইনি সংজ্ঞা কতটা সরু, আর আপিল বিভাগ, চাকমা সার্কেল চিফ, পাহাড়ি দলগুলো ও বাঙালি সংগঠনগুলো এই শব্দবন্ধটি কে কীভাবে পড়েছেন। কমিশনে আবেদনের নিয়ম, শুনানি আর কাপ্তাই-বেতবুনিয়া শর্তাংশের বিস্তারিত ব্যাখ্যা আমাদের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে আবেদনের নিয়ম নিয়ে লেখায় আছে; 1900 সালের শাসনবিধি থেকে কমিশন পর্যন্ত জমি-ব্যবস্থার ইতিহাস আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি-ব্যবস্থার ধারাবাহিক লেখায়। সেগুলো এখানে আর বলা হচ্ছে না।

সূচিপত্র

  1. ভূমি কমিশন আইন প্রথাগত আইন কতটা মানে: 6 ধারায় আজ যা লেখা আছে
  2. 2001 সালে 6 ধারা কেমন ছিল, আর কোন শব্দ বদলেছে
  3. “পদ্ধতি” শব্দটি কেন পনেরো বছর বাদ ছিল
  4. ‘প্রচলিত আইন’ বলতে আইন নিজে কী বোঝায়
  5. ‘রীতি’ আর ‘পদ্ধতি’-র সংজ্ঞা নেই: কে কী অর্থ করেছেন
  6. একই শব্দবন্ধের চার রকম ইংরেজি অনুবাদ
  7. আপিল বিভাগ 2016 সালের রায়ে 6 ধারাকে কীভাবে পড়েছে
  8. চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায়ের ব্যাখ্যা
  9. বাঙালি সংগঠনগুলো কেন এই শব্দবন্ধের বিরোধিতা করেছে
  10. 6(1)(ক): কোন কোন বিরোধ কমিশনের এখতিয়ারে
  11. 6(1)(খ): স্বত্ব নির্ধারণে প্রথাগত আইন কতটা খাটে
  12. 6(1)(গ): প্রথার বাইরে দেওয়া বন্দোবস্ত বাতিল, জলেভাসা জমিসহ
  13. উপধারা (2), (3) ও (4): এলাকা, তথ্য তলব, সরেজমিন পরিদর্শন
  14. 6 ধারা বাস্তবে কতটা কাজে লেগেছে
  15. প্রশ্নোত্তর
  16. যা এখনো জানা যায়নি
  17. তথ্যসূত্র

ভূমি কমিশন আইন প্রথাগত আইন কতটা মানে: 6 ধারায় আজ যা লেখা আছে

বর্তমান 6 ধারার চারটি উপধারা। প্রথম উপধারার তিনটি দফা কমিশনের কাজ ঠিক করে: (ক) বিরোধ নিষ্পত্তি, (খ) স্বত্ব নির্ধারণ ও দখল পুনর্বহাল, (গ) প্রথার বাইরে দেওয়া বন্দোবস্ত বা বেদখল বাতিল। তিনটি দফাতেই মাপকাঠি এক: “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি”।

আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগের bdlaws ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হালনাগাদ পাঠ হুবহু এরকম:

“৬৷ (১) কমিশনের কার্যাবলী নিম্নরূপ হইবে, যথা:-

(ক) পুনর্বাসিত শরণার্থীদের ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং অবৈধ বন্দোবস্ত ও বেদখল হওয়া ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা;

(খ) আবেদনে উল্লিখিত ভূমিতে আবেদনকারী, বা ক্ষেত্রমত সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষের, স্বত্ব বা অন্যবিধ অধিকার পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী নির্ধারণ এবং প্রয়োজনবোধে দখল পুনবর্হাল;

(গ) পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি বহির্ভূতভাবে জলেভাসা ভূমিসহ (Fringe Land) কোন ভূমি বন্দোবস্ত প্রদান বা বেদখল করা হইয়া থাকিলে উহা বাতিলকরণ এবং বন্দোবস্তজনিত বা বেদখলজনিত কারণে কোনো বৈধ মালিক ভূমি হইতে বেদখল হইয়া থাকিলে তাহার দখল পুনর্বহাল:

তবে শর্ত থাকে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী অধিগ্রহণকৃত ভূমি এবং বসতবাড়ীসহ জলেভাসা ভূমি, টিলা ও পাহাড় ব্যতীত কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা ও বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকার ক্ষেত্রে এই উপ-ধারা প্রযোজ্য হইবে না।

(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কার্যাবলী পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমিত থাকিবে।

(৩) উক্ত কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত কমিশন যে কোন সরকারী বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় তথ্য, উপাত্ত বা কাগজপত্র সরবরাহের এবং প্রয়োজনে উক্ত কর্তৃপক্ষের যে কোন কর্মকর্তাকে স্থানীয় তদন্ত, পরিদর্শন বা জরীপের ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উক্ত কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা উহা পালনে বাধ্য থাকিবেন।

(৪) কমিশন বা চেয়ারম্যান বা কমিশন কর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত কোন সদস্য কোন বিরোধীয় ভূমি সরেজমিনে পরিদর্শন করিতে পারিবেন।”

bdlaws-এর পাঠে দফা (ক), দফা (খ)-এর একটি শব্দাংশ এবং দফা (গ) বন্ধনীতে চিহ্নিত, পাদটীকায় লেখা যে এগুলো “পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০১৬ (২০১৬ সনের ৪৫ নং আইন)” দিয়ে বসানো। উপধারা (2), (3) ও (4)-এ কোনো পাদটীকা নেই, অর্থাৎ ওই অংশ 2001 সাল থেকে অপরিবর্তিত।

6 ধারার গুরুত্ব আইনের আরও তিনটি ধারা থেকে বোঝা যায়। 7(5) ধারা বলে, চেয়ারম্যান “ধারা ৬(১) এ বর্ণিত বিষয়াদিসহ” এখতিয়ারভুক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন; 12 ধারা অনুযায়ী কমিশন অন্য ক্ষমতা অর্পণ করতে পারলেও 6(1)-এর কাজ কাউকে অর্পণ করা যায় না; আর 16 ধারা অনুযায়ী 6(1)-এর কোনো বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত দেওয়ানি আদালতের ডিক্রির মর্যাদা পায়। অর্থাৎ কমিশনের আসল বিচারিক কাজ পুরোটাই 6(1)-এর ভেতরে, আর সেই কাজের মাপকাঠি ওই তিন শব্দ। সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল চলে কি না, সেই প্রশ্ন 16 ধারার, এবং সেটি আলাদা লেখার বিষয় — দেখুন ভূমি কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কেন চলে না, 16 ধারা নিয়ে আমাদের লেখা।

2001 সালে 6 ধারা কেমন ছিল, আর কোন শব্দ বদলেছে

2001 সালের মূল আইনে “পদ্ধতি” শব্দটি কোথাও ছিল না। দফা (ক) ও (খ)-তে মাপকাঠি ছিল “প্রচলিত আইন ও রীতি”, আর দফা (গ)-তে কেবল “প্রচলিত আইন”। দফা (ক)-র এখতিয়ার ছিল শুধু পুনর্বাসিত শরণার্থীদের বিরোধ। দফা (গ)-র শর্তাংশে বাদ ছিল রক্ষিত বন, কাপ্তাই, বেতবুনিয়া, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ও সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত জমি।

এই তুলনার একটি সমস্যা আছে। bdlaws এখন কেবল হালনাগাদ পাঠ দেখায়; দফা (ক) ও (গ)-র ক্ষেত্রে পাদটীকায় শুধু লেখা “প্রতিস্থাপিত”, আগের বাংলা পাঠ দেওয়া নেই। দফা (খ)-র বেলায় পাদটীকা নিজেই পুরনো শব্দ জানায়: “‘‘আইন, রীতি ও পদ্ধতি’’ শব্দগুলি ও কমা ‘‘আইন ও রীতি’’ শব্দগুলির পরিবর্তে … প্রতিস্থাপিত।” তাই (খ)-র মূল পাঠ নিশ্চিতভাবে জানা যায়। (ক) ও (গ)-র মূল রূপ পাওয়া যায় তিনটি পরোক্ষ উৎসে, যেগুলো একে অপরের সঙ্গে মেলে:

  • FAOLEX-এ রাখা ২০০১ সালের আইনের “Simple English Version”, যার শিরোনামে লেখা এটি 17 জুলাই 2001-এর বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত বাংলা আইনের অনুবাদ;
  • একই নথিতে যুক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের তুলনামূলক ছক, যেখানে মূল ধারা, 13 দফা সংশোধন প্রস্তাব এবং 16 জুন 2013-এ সংসদে তোলা বিল পাশাপাশি রাখা;
  • 2013 সালের 22 জুন সামহোয়্যারইন ব্লগে “সত্যপ্রীতি” নামে প্রকাশিত একটি লেখা, যা মূল আইনের দফা (ক) ও (গ) বাংলায় উদ্ধৃত করেছে।
দফা 2001 সালের পাঠ (যে উৎসে পাওয়া) 2016-এর পরের পাঠ (bdlaws)
6(1)(ক) ‘পুনর্বাসিত শরণার্থীদের ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন ও রীতি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা’ (2013 সালের ব্লগ-লেখায় উদ্ধৃত); ইংরেজিতে “in accordance with the existing laws and customs in the Chittagong Hill Tracts” (FAOLEX) শরণার্থীর বিরোধের সঙ্গে “অবৈধ বন্দোবস্ত ও বেদখল হওয়া ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ” যুক্ত; মাপকাঠি “প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি”
6(1)(খ) “…পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন ও রীতি অনুযায়ী নির্ধারণ…” (bdlaws-এর পাদটীকা 5 থেকে নিশ্চিত) “আইন ও রীতি”-র জায়গায় “আইন, রীতি ও পদ্ধতি”; বাকি পাঠ অপরিবর্তিত
6(1)(গ) ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচলিত আইন বহির্ভূতভাবে কোন ভূমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হইয়া থাকিলে উহা বাতিলকরণ এবং উক্ত বন্দোবস্তজনিত কারণে কোন বৈধ মালিক ভূমি হইতে বেদখল হইয়া থাকিলে তাহার দখল পুনর্বহাল’ (2013 সালের ব্লগ-লেখায় উদ্ধৃত) “আইন, রীতি ও পদ্ধতি বহির্ভূতভাবে”; “জলেভাসা ভূমিসহ (Fringe Land)” যুক্ত; “বন্দোবস্ত প্রদান বা বেদখল” — বেদখলও বাতিলযোগ্য
6(1)(গ)-র শর্তাংশ “shall not be applicable in case of Reserved Forests, Kaptai Hydroelectricity Project area, Betbunia Earth Satellite Station, state-owned industries and land recorded with the Government or local authorities” (FAOLEX ও আঞ্চলিক পরিষদের ছক) ব্যতিক্রম কেবল কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা ও বেতবুনিয়া; তার ভেতরেও প্রথা অনুযায়ী অধিগৃহীত জমি এবং বসতবাড়িসহ জলেভাসা জমি, টিলা ও পাহাড় ব্যতিক্রমের বাইরে
6(2)–(4) একই পাদটীকা নেই — অপরিবর্তিত

লক্ষ করার মতো একটি জিনিস: 2001 সালের পাঠে দফা (গ)-তে “রীতি” শব্দটিও ছিল না। ফলে বন্দোবস্ত বাতিলের প্রশ্নে কেবল লিখিত “প্রচলিত আইন” মানদণ্ড ছিল, অথচ একই ধারার দফা (ক) ও (খ)-তে “আইন ও রীতি”। আঞ্চলিক পরিষদের ছক অনুযায়ী 2013 সালের বিলেও দফা (গ)-তে “laws”-এর জায়গায় কেবল “laws and customs” বসানোর প্রস্তাব ছিল, “practices” নয়।

শর্তাংশের পরিবর্তনও বড়। আগে রক্ষিত বন, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প আর সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নামে রেকর্ড হওয়া সব জমি দফা (গ)-র বাইরে ছিল। এখন বাইরে কেবল দুটি এলাকা। এই শর্তাংশ কাপ্তাইয়ের জলেভাসা জমির মালিকদের জন্য কী অর্থ বহন করে, তা আবেদনের নিয়ম নিয়ে লেখায় ধরে ধরে ব্যাখ্যা করা আছে।

“পদ্ধতি” শব্দটি কেন পনেরো বছর বাদ ছিল

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997-এর (ঘ) খণ্ডের 6(খ) দফায় তিনটি শব্দই ছিল: কমিশন “প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী” বিরোধ নিষ্পত্তি করবে। 2001 সালের আইনে “পদ্ধতি” বাদ পড়ে, 2013 সালের বিলেও বাদ থাকে, আর যুক্ত হয় 2016 সালের অধ্যাদেশ ও পরে সংসদে পাস হওয়া সংশোধনী আইনে।

চুক্তির বাংলা পাঠে (ঘ)6(খ) দফাটি এরকম: “কমিশন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি করিবেন।” (রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রকাশিত বাংলা পাঠ থেকে, আমাদের আবেদন-বিষয়ক লেখায় উদ্ধৃত। পুরো চুক্তির দফাওয়ারি পাঠ আছে পার্বত্য চুক্তি 1997 ধারা ধরে ধরে লেখায়।)

সময়ের ক্রমটি উৎস ধরে সাজালে এরকম দাঁড়ায়:

  1. 12 জুলাই 2001: সংসদে আইন পাস (জাগো নিউজ, 16 আগস্ট 2016; জনসংহতি সমিতির মঙ্গল কুমার চাকমা, ডেইলি স্টার, 25 জুন 2013)। রাষ্ট্রপতির সম্মতি ও গেজেট প্রকাশ 17 জুলাই 2001 (bdlaws; FAOLEX)। মঙ্গল কুমার চাকমার ভাষ্যে, তৎকালীন সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগের দিন আঞ্চলিক পরিষদের পরামর্শ বিবেচনা না করেই আইনটি পাস করে।
  2. 20 জুন 2011: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে 13 দফা সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি 22 জানুয়ারি ও 28 মে 2012 তা অনুমোদন করে, আর 30 জুলাই 2012 আইনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাও অনুমোদন দেয় (আঞ্চলিক পরিষদের ছক, FAOLEX)। 13 দফার তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম প্রস্তাবে 6(1)-এর তিন দফাতেই “existing laws, customs and practices” লেখার কথা ছিল।
  3. 16 জুন 2013: সংশোধনী বিল সংসদে তোলা হয়। 13 দফার 10টি এতে ঢোকে, কিন্তু 6(1)-এর দফাগুলোয় “practices” বাদ থাকে (মঙ্গল কুমার চাকমা, ডেইলি স্টার, 25 জুন 2013)। বিলটি পাস হয়নি।
  4. 1 আগস্ট 2016: মন্ত্রিসভা খসড়া অনুমোদন করে (ডেইলি স্টার, 10 আগস্ট 2016; কাপেং ফাউন্ডেশন)।
  5. আগস্ট 2016: সংসদ অধিবেশন না থাকায় অধ্যাদেশ জারি হয়। কাপেং ফাউন্ডেশন, ইউপিডিএফ সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসার বিবৃতি ও জাগো নিউজের 16 আগস্টের প্রতিবেদন তারিখ দিয়েছে 9 আগস্ট; জাগো নিউজের 4 সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন লিখেছে 8 আগস্ট। জাগো নিউজের 16 আগস্টের প্রতিবেদনে আছে, রাষ্ট্রপতির সম্মতি 8 আগস্ট, অধ্যাদেশ (নং-01, 2016) জারি 9 আগস্ট।
  6. 6 অক্টোবর 2016: ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ “পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন বিল (সংশোধন)-২০১৬” সংসদে তোলেন এবং তা পাস হয় (জাগো নিউজ, 6 অক্টোবর 2016)। bdlaws-এর পাদটীকায় এটি 2016 সনের 45 নং আইন।

2016 সালের সংশোধনীর অন্য পরিবর্তনগুলো (কোরাম, সার্কেল চিফের প্রতিনিধি, 7(5) ধারার সিদ্ধান্ত-পদ্ধতি, কর্মচারী নিয়োগ) আলাদা লেখার বিষয় — সেগুলো আছে ভূমি কমিশন সংশোধন আইন 2016 নিয়ে আলাদা লেখায়। এখানে কেবল 6 ধারার শব্দ।

“পদ্ধতি” কেন বাদ পড়েছিল, তার কোনো সরকারি ব্যাখ্যা প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি। 2016 সালে বিলের উদ্দেশ্য বোঝাতে গিয়ে ভূমিমন্ত্রী সংসদে বলেন, আইন প্রণয়নের পর থেকে “কমিশনের উপ-জাতীয় সদস্যগণ এ আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করে কমিশনের বৈঠকে অব্যাহতভাবে অনুপস্থিত থাকেন”, আর সেই অচলাবস্থা দূর করতেই সংশোধন (জাগো নিউজ, 6 অক্টোবর 2016)। কোন শব্দ কেন যোগ হলো, সে কথা ওই বক্তব্যে নেই।

‘প্রচলিত আইন’ বলতে আইন নিজে কী বোঝায়

ভূমি কমিশন আইনের 2(ছ) ধারা “প্রচলিত আইন”-এর সংজ্ঞা দিয়েছে, এবং সংজ্ঞাটির দুটি বৈশিষ্ট্য আছে। এক, এতে লিখিত আইনের পাশাপাশি “ঐতিহ্য” আছে। দুই, এটি সময়ে বাঁধা: কেবল আইনটি বলবৎ হওয়ার আগে যা প্রচলিত ছিল, “কেবলমাত্র সেইগুলি”। bdlaws-এ এই সংজ্ঞায় কোনো সংশোধনের পাদটীকা নেই।

“(ছ) “প্রচলিত আইন” বলিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে এই আইন বলবত্ হইবার পূর্বে যে সমস্ত আইন, ঐতিহ্য, বিধি, প্রজ্ঞাপন প্রচলিত ছিল কেবলমাত্র সেইগুলিকে বুঝাইবে;”

“প্রচলিত আইন” শব্দবন্ধটি বাংলাদেশের সংবিধানেও আছে, কিন্তু সেখানে অর্থ আলাদা। সংবিধানের 152 অনুচ্ছেদে “প্রচলিত আইন” (existing law) মানে সংবিধান প্রবর্তনের অব্যবহিত আগে বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো আইন। আমাদের আর্কাইভে শক্তিপদ ত্রিপুরার লেখা পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি বিরোধ ও ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি এই অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে যুক্তি দিয়েছে যে সংবিধান এভাবেই পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি 1900-কে প্রচলিত আইন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একই অনুচ্ছেদে “law”-এর সংজ্ঞায় আছে “any custom or usage, having the force of law in Bangladesh”।

দলিল শব্দ কী অন্তর্ভুক্ত সময়সীমা
সংবিধান, অনুচ্ছেদ 152 “law” আইন, অধ্যাদেশ, বিধি, প্রবিধান, প্রজ্ঞাপন এবং আইনের জোরসম্পন্ন প্রথা ও ব্যবহার (custom or usage) নেই
সংবিধান, অনুচ্ছেদ 152 “প্রচলিত আইন” (existing law) আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো আইন সংবিধান প্রবর্তনের অব্যবহিত আগে
ভূমি কমিশন আইন, 2(ছ) “প্রচলিত আইন” আইন, ঐতিহ্য, বিধি, প্রজ্ঞাপন এই আইন বলবৎ হওয়ার আগে, “কেবলমাত্র”
শাসনবিধি 1900, ধারা 8(4) (2008 সালের সংশোধিত রূপ, দেবাশীষ রায়ের উদ্ধৃতি) “existing laws, customs and usages” দেওয়ানি মামলার বিচারের ভিত্তি উল্লেখ নেই

2(ছ)-র সময়সীমা একটি প্রশ্ন খোলা রাখে। আইনের ভাষা অনুযায়ী, ভূমি কমিশন আইন বলবৎ হওয়ার পরে প্রণীত কোনো আইন বা প্রজ্ঞাপন এই সংজ্ঞায় পড়ে না। উদাহরণ হিসেবে, রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলার রায়ে আপিল বিভাগ উল্লেখ করেছে যে 2003 সালের একটি আইনে শাসনবিধির 7 ধারা সংশোধিত হয়েছিল; দেবাশীষ রায় শাসনবিধির 8(4) ধারা উদ্ধৃত করেছেন “as amended in 2008” রূপে। 2001-এর পরের এই সংশোধনগুলো কমিশনের মাপকাঠিতে গণ্য হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো আদালতের ব্যাখ্যা বা কমিশনের বিধিমালা প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।

“ঐতিহ্য” শব্দটি সংজ্ঞায় থাকলেও “রীতি” নেই। অর্থাৎ 2(ছ) “প্রচলিত আইন”-এর ভেতরেই কিছু অলিখিত উপাদান ঢুকিয়েছে, আবার 6 ধারা আলাদা করে “রীতি ও পদ্ধতি” যোগ করেছে। দুটির সম্পর্ক কী, আইনে লেখা নেই।

‘রীতি’ আর ‘পদ্ধতি’-র সংজ্ঞা নেই: কে কী অর্থ করেছেন

ভূমি কমিশন আইনের সংজ্ঞা-ধারায় “রীতি” বা “পদ্ধতি” নেই, 2016 সালের সংশোধনেও যোগ হয়নি। ফলে অর্থ এসেছে রাজনৈতিক বক্তব্য ও লেখা থেকে। জনসংহতি সমিতি ও আদিবাসী নেতারা “পদ্ধতি” বলতে হেডম্যান-কার্বারির ভূমি ব্যবস্থাপনার ভূমিকা বুঝিয়েছেন; ইউপিডিএফ সংজ্ঞার অভাবকে সমস্যা বলেছে।

জনসংহতি সমিতি: “practices” মানে হেডম্যানের প্রতিবেদন

জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা 25 জুন 2013 ডেইলি স্টারে লেখেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় “practices” (তিনি বন্ধনীতে লিখেছেন “usages”) শব্দটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দেওয়া সবচেয়ে বড় উদাহরণ: পার্বত্য জেলার যেকোনো জমি হস্তান্তর, বন্দোবস্ত ও অধিগ্রহণের আগে এবং জমিটি বিরোধমুক্ত কি না নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যানের প্রতিবেদন বা সুপারিশ নেওয়ার বাধ্যতামূলক চর্চা।

16 জুলাই 2013 সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আদিবাসী প্রতিনিধিরা লিখিত আপত্তি দেন। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে তাঁদের বক্তব্য: “practices” শব্দটি পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবস্থাপনায় হেডম্যানের (মৌজা প্রধান) ভূমিকা বোঝায়। এর আগে 30 জুন 2013 দশটি রাজনৈতিক দলের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেছিলেন, কার্বারি ও হেডম্যানের মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রথাগত পদ্ধতি বোঝায় যে শব্দ, সেটিকে বিলে “cleverly” বাদ দেওয়া হয়েছে (ডেইলি স্টার, 30 জুন 2013)।

হেডম্যান ও কার্বারির দায়িত্ব কী, তা মৌজা, হেডম্যান ও কার্বারির দায়িত্ব নিয়ে লেখায় এবং জুম কর ও হেডম্যানের খাজনা আদায় নিয়ে লেখায় আছে।

ইউপিডিএফ: সংজ্ঞাহীন শব্দে জটিলতা

অধ্যাদেশ জারির পর ইউপিডিএফ সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রচলিত আইনের” ব্যাখ্যা 2(ছ) ধারায় দেওয়া হলেও “রীতি ও পদ্ধতির” ব্যাখ্যা কমিশন আইনের কোথাও নেই, অধ্যাদেশেও নেই, “ফলে আইনটির বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা ও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে” (জাগো নিউজ, 14 আগস্ট 2016)। তাঁর দাবির তালিকায় ছিল সংবিধানে প্রথাগত ভূমি আইনের স্বীকৃতি, কমিশন আইনে “পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতির যথাযথ ব্যাখ্যা”, এবং শুনানিতে হেডম্যান ও কার্বারিদের লিখিত মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করা।

দুই অবস্থানের মধ্যে একটি মিল আছে: দুপক্ষই “পদ্ধতি”-কে হেডম্যান-কার্বারির ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত করেছে। পার্থক্য হলো, মঙ্গল কুমার চাকমা শব্দটিকে ভূমি ব্যবস্থাপনায় “the most important” বলেছিলেন, আর কাপেং ফাউন্ডেশন 2017 সালে শব্দটির অন্তর্ভুক্তিকে সংশোধনের ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেছে; অন্যদিকে ইউপিডিএফ বলেছে, সংজ্ঞা ছাড়া শব্দটি যথেষ্ট নয়।

আর্কাইভের লেখা: প্রথা-পদ্ধতি ও হিলট্র্যাক্টস ম্যানুয়াল

শক্তিপদ ত্রিপুরার লেখাটি “প্রথা-পদ্ধতি” শব্দটি অন্য দিক থেকে ব্যবহার করেছে। তাঁর ভাষায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতির “নিজস্ব প্রথা-পদ্ধতি ও রীতিনীতি বিদ্যমান”, ব্রিটিশ সরকার 1900 সালের আইনে সেগুলোর স্বীকৃতি দেয়, “তবে, আদিবাসীদের সকল প্রকার প্রথা পদ্ধতি হিলট্রাক্টস ম্যানুয়েলে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।” অর্থাৎ লিখিত শাসনবিধি এবং মানুষের চর্চিত প্রথার মধ্যে ফাঁক আছে, আর সেই ফাঁকটিই 6 ধারার “রীতি ও পদ্ধতি” ঢাকতে পারে কি না, প্রশ্নটা সেখানে।

লেখাটি আরও উল্লেখ করেছে, ডেপুটি কমিশনারের আদালতে বিচারাধীন মামলায় প্রথাগত আইন ও সামাজিক রীতিনীতির ব্যাখ্যা দরকার হলে সংশ্লিষ্ট সার্কেল চিফের মতামত চাওয়া হয়। সার্কেল চিফ এখন ভূমি কমিশনেরও সদস্য (3(2)(ঘ) ধারা), যা নিয়ে আলাদা আলোচনা আছে সার্কেল চিফের ক্ষমতা নিয়ে লেখায়।

একই শব্দবন্ধের চার রকম ইংরেজি অনুবাদ

“প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি”-র কোনো সরকারি ইংরেজি অনুবাদ পাওয়া যায়নি, আর যে অনুবাদগুলো চালু, সেগুলো এক নয়। “পদ্ধতি” কোথাও practice, কোথাও usage, কোথাও system। এই পার্থক্য তুচ্ছ নয়, কারণ আন্তর্জাতিক আলোচনা ও আদালতের রায় ইংরেজিতে চলে।

উৎস কোন পাঠের অনুবাদ ইংরেজি
নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের Peace Accords Matrix-এ রাখা চুক্তির ইংরেজি পাঠ চুক্তি (ঘ)6(খ) “existing rules, customs and usages”
কাপেং ফাউন্ডেশন (Kapaeeng Watch, ফেব্রুয়ারি 2017) চুক্তি (ঘ)6(খ) “law, custom and practice in force”
আঞ্চলিক পরিষদের 13 দফা প্রস্তাব (FAOLEX-এ রাখা ছক) প্রস্তাবিত 6(1) “existing laws, customs and practices”
আপিল বিভাগ, সিভিল আপিল নং 08/2008-এর রায় (22 নভেম্বর 2016) কমিশন আইন “laws, customs and systems prevailing in CHT”
FAOLEX “Simple English Version” 2001 সালের মূল 6(1)(ক) “existing laws and customs”

হেডম্যানের ভূমিকা বোঝাতে আদিবাসী নেতারা “practices” শব্দটি বেছেছেন; আপিল বিভাগ লিখেছে “systems”। কোন ইংরেজি শব্দ বাংলা “পদ্ধতি”-র আইনি অর্থ ধরে, সে বিষয়ে আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

আপিল বিভাগ 2016 সালের রায়ে 6 ধারাকে কীভাবে পড়েছে

22 নভেম্বর 2016 সালের রায়ে (সরকার বনাম রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস, সিভিল আপিল নং 08/2008) আপিল বিভাগ ভূমি কমিশন আইনকে শাসনবিধি 1900 বহাল থাকার একটি প্রমাণ হিসেবে পড়েছে। রায়ের ভাষায়, কমিশন বিরোধ নিষ্পত্তি করে “in accordance with the laws, customs and systems prevailing in CHT”, এবং এই আইন দিয়ে সরকার শাসনবিধিকে কার্যকর আইন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

রায়ের পূর্ণ পাঠের 24 নম্বর পাতায় আদালত লিখেছে:

“This Commission is empowered to give decision on land related disputes brought before it in accordance with the laws, customs and systems prevailing in CHT. It has power to declare land grants illegal and to restore possession. It is evident from the preamble of the Ain that it has been constituted following the spirit of the Accord 1997 and by this Ain, the government has recognized Regulation 1 of 1900 as an enforceable law in CHT and the powers and authority of Circle Chiefs as per customs of the tribal people have been recognized.”

পরের পাতায় আদালত প্রথা নিয়ে একটি সাধারণ নীতি লিখেছে: “A custom which is followed in a particular region and recognized by the government has a force of law (article 152 of the constitution).” এই রায় হাইকোর্টের 2003 সালের সেই পর্যবেক্ষণ বাতিল করে, যেখানে শাসনবিধি 1900-কে “মৃত আইন” বলা হয়েছিল। মামলাটির পুরো বিবরণ আছে রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলা নিয়ে আমাদের লেখায়।

6 ধারার জন্য রায়টির তাৎপর্য দুটি। প্রথমত, সর্বোচ্চ আদালত 6 ধারার মাপকাঠিকে প্রথা ও প্রচলিত ব্যবস্থার স্বীকৃতি হিসেবে পড়েছে, কেবল লিখিত আইনের উল্লেখ হিসেবে নয়। দ্বিতীয়ত, শাসনবিধি 1900 যদি “প্রচলিত আইন” হয়, তাহলে 2(ছ)-র সংজ্ঞায় এটি নিঃসন্দেহে পড়ে, কারণ এটি 2001-এর আগে থেকেই প্রচলিত। রায়ের তারিখ খেয়াল করার মতো: সংশোধনী অধ্যাদেশের তিন মাস পরে। কিন্তু রায় সংশোধিত 6 ধারা উদ্ধৃত করেনি, বর্ণনা দিয়েছে।

চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায়ের ব্যাখ্যা

চাকমা সার্কেল চিফ রাজা দেবাশীষ রায় জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের জন্য 2014 সালে লেখা গবেষণায় ভূমি কমিশন আইনকে বর্ণনা করেছেন প্রথাগত আইনের বৈধতার “প্রকাশ্য স্বীকৃতি” হিসেবে, আর পুরো ব্যবস্থার একটি শক্তি হিসেবে দেখেছেন প্রথাগত ভূমি অধিকারের “generic and undefined recognition”-কে।

জাতিসংঘের দলিল E/C.19/2014/4 (27 ফেব্রুয়ারি 2014) সংশোধনের আগের আইন নিয়ে লেখা। সেখানে চারটি কথা 6 ধারার পাঠের জন্য প্রাসঙ্গিক:

  1. কমিশনে সার্কেল চিফদের রাখা হয়েছে কারণ তাঁরা “repositories of in-depth knowledge about land use and land rights based upon local laws, customs, conventions and practices” — অর্থাৎ প্রথা জানেন এমন সদস্য কমিশনের গঠনেই আছেন।
  2. তখনকার আইনে জমির বন্দোবস্ত অবৈধ ঘোষণা ও দখল পুনর্বহালের ক্ষমতা ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের “laws and customs” অনুযায়ী (দেবাশীষ রায় এই বক্তব্যে ধারাটিকে 6(1)(খ) বলেছেন)।
  3. শাসনবিধি 1900-এর 8(4) ধারা, 2008 সালের সংশোধিত রূপে, সব দেওয়ানি মামলা “existing laws, customs and usages” অনুযায়ী বিচারের কথা বলে; প্রথা ও ব্যবহার সংবিধানের 152(1) অনুচ্ছেদে আইনের সংজ্ঞায় আছে।
  4. “The law of 2001 on the Land Commission reinforces the role of the traditional institutions by expressly recognizing the validity of customary law, and by including the circle chiefs as members of the Land Commission.”

একই গবেষণায় তিনি কমিশনের অচলাবস্থার প্রধান কারণ বলেছেন 2001 সালের আইনের সঙ্গে চুক্তির অসঙ্গতি, চেয়ারম্যানের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা, আর এখতিয়ার ও সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা।

প্রথা মানার প্রশ্নটি 2011 সালে কমিশনের ভেতরেও উঠেছিল। তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী শুনানির পাশাপাশি ভূমি জরিপ চালানোর পরামর্শ দিলে কমিশন-সদস্য দেবাশীষ রায় এক বিবৃতিতে তা প্রত্যাখ্যান করেন। ডেইলি স্টারের 6 জুলাই 2011-এর প্রতিবেদনে তাঁর উদ্ধৃতি: চুক্তি অনুযায়ী ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের পরেই জরিপ, “In this regard, traditional laws, customs in CHT must be followed.”

বাঙালি সংগঠনগুলো কেন এই শব্দবন্ধের বিরোধিতা করেছে

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বাঙালিদের কয়েকটি সংগঠনের আপত্তি ছিল, এই মাপকাঠিতে কমিশন বাংলাদেশের সাধারণ আইনে নয়, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রথায় বিচার করবে এবং বাঙালি বসতকারীরা জমি হারাবেন। 2016 সালে সংশোধনী বাতিলের দাবিতে পাঁচটি সংগঠন তিন জেলায় হরতাল ডাকে।

এই অবস্থানের সবচেয়ে বিস্তারিত লিখিত রূপ পাওয়া যায় 2013 সালের বিল সংসদে ওঠার পর সামহোয়্যারইন ব্লগে প্রকাশিত “পার্বত্য চট্টগ্রাম কি দেশের অংশ নয়?” শিরোনামের লেখায় (22 জুন 2013)। লেখক 2(ছ)-র সংজ্ঞা উদ্ধৃত করে যুক্তি দেন, “এই ভূমি কমিশন কাজ করবে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন অনুযায়ী। বাংলাদেশর আইন অনুযায়ী নয়।” তাঁর আরেকটি বাক্য: “‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন’ উপজাতীয়দের ‘ঐতিহ্য’, ‘রীতি’ ও ‘পদ্ধতি’ অনুযায়ী বিচার পরিচালিত হলে কমিশনের সদস্য বাঙালি হলেও তাদের কিছুই করার থাকবে না।” একই লেখা 2001-এর দফা (ক)-র ভিত্তিতে বলেছে, আইন অনুযায়ী কমিশনের দায়িত্ব কেবল পুনর্বাসিত শরণার্থীদের বিরোধ।

2016 সালে আপত্তি রাস্তায় আসে। ডেইলি স্টারের 10 আগস্ট 2016-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, সম অধিকার আন্দোলন, পার্বত্য গণপরিষদ, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র ঐক্য পরিষদ সংশোধিত আইন বাতিলের দাবিতে হরতাল পালন করে; নেতাদের বক্তব্য ছিল, এভাবে কমিশন গঠিত হলে বাঙালি বসতকারীরা জমির অধিকার হারিয়ে “আবার শরণার্থী” হবেন। জাগো নিউজের 16 আগস্টের প্রতিবেদনে একই পাঁচ সংগঠনের 10 ও 11 আগস্টের হরতাল এবং 17–30 আগস্টের কর্মসূচির উল্লেখ আছে।

এর জবাবে দুটি বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছিল। জাগো নিউজ একই প্রতিবেদনে নামহীন “বিশ্লেষকদের” উদ্ধৃত করে, যাঁরা চুক্তির ভূমিকায় সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি আনুগত্যের কথা দেখিয়ে বলেন, এই আইনের কারণে কারো ভূমিহারা হওয়ার আশঙ্কা নেই। আর 4 সেপ্টেম্বর 2016 রাঙামাটিতে কমিশনের বৈঠকের পর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হক বলেন, “এ অঞ্চলে বসবাসকারী কাউকে উচ্ছেদ করতে বা কারও জায়গা-জমি কেড়ে নিতে কমিশন কিছু করবে না” (জাগো নিউজ, 4 সেপ্টেম্বর 2016)। সেদিনও পাঁচ সংগঠনের হরতালের কারণে বৈঠকের স্থান বদলাতে হয়।

প্রথম আলোর 8 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদনে দুই পক্ষের দাবির সারাংশ আছে: পাহাড়িরা বলছেন জমি তাঁদের, বন্দোবস্তের কাগজ আছে এবং “একাধিক আইনে তাঁদের ভোগদখলি ও প্রথাগত অধিকারের স্বীকৃতি আছে”; বাঙালিরা বলছেন তাঁরা সরকারের কাছ থেকে খাস জমি পেয়েছেন এবং তাঁদের কাছেও কাগজ আছে। 6 ধারার মাপকাঠি ঠিক এই দুই দাবির মাঝখানে বসে: প্রথার বাইরে দেওয়া সরকারি বন্দোবস্ত দফা (গ)-তে বাতিলযোগ্য।

6(1)(ক): কোন কোন বিরোধ কমিশনের এখতিয়ারে

বর্তমান দফা (ক) তিন ধরনের বিরোধ কমিশনের হাতে দেয়: পুনর্বাসিত শরণার্থীদের ভূমি বিরোধ, অবৈধ বন্দোবস্ত সংক্রান্ত বিরোধ, এবং বেদখল হওয়া ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ। 2001 সালে ছিল কেবল প্রথমটি। “পুনর্বাসিত শরণার্থী” শব্দের সংজ্ঞা আছে 2(চ) ধারায়, যা 9 মার্চ 1997-এর আগরতলা চুক্তির তালিকায় বাঁধা।

এখতিয়ারের প্রশ্নটি 6 ধারার মাপকাঠির চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, কারণ মাপকাঠি তখনই কাজে লাগে যখন বিরোধটি কমিশনের সামনে আসতে পারে। চুক্তির (ঘ)4 দফা কমিশনকে শরণার্থীদের বিরোধের “অতিরিক্ত” হিসেবে অবৈধভাবে বন্দোবস্ত ও বেদখল হওয়া পাহাড় ও জমির মালিকানা বাতিলের পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছিল। কাপেং ফাউন্ডেশনের হিসাবে 2001 সালের আইনে কেবল শরণার্থীদের বিরোধের কথা ছিল, আর “there are many land disputes in regard to disputes of illegal ‘settlement’ and ‘occupation’ in CHT other than land disputes of the repatriated tribal refugees”। মঙ্গল কুমার চাকমা 2013 সালে লেখেন, “or occupied” শব্দগুলো না ঢুকলে প্রায় 70% বিরোধ কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে থেকে যাবে।

সংশোধনের পরও প্রসিত খীসা প্রশ্ন তুলেছেন: “পুনর্বাসিত শরণার্থীরা” ছাড়া আরও যেসব পাহাড়ি জমি হারিয়েছেন, যেমন অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু, তাঁরা দফা (ক)-র অন্তর্ভুক্ত কি না “তা সুস্পষ্ট ভাষায় বলা হয়নি” (জাগো নিউজ, 14 আগস্ট 2016)। অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুর তালিকা নিয়ে বিরোধের বিবরণ আছে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু টাস্কফোর্স নিয়ে আমাদের লেখায়। আইনের পাঠে “অবৈধ বন্দোবস্ত ও বেদখল হওয়া ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ” কারো পরিচয়ে বাঁধা নয়; কিন্তু এই পাঠের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা, বিধিমালা বা সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।

6(1)(খ): স্বত্ব নির্ধারণে প্রথাগত আইন কতটা খাটে

দফা (খ) কমিশনকে আবেদনকারী ও প্রতিপক্ষ, দুজনেরই “স্বত্ব বা অন্যবিধ অধিকার” নির্ধারণের ক্ষমতা দেয়, প্রয়োজনে দখল পুনর্বহালসহ। “অন্যবিধ অধিকার” শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাহাড়ের অনেক জমির অধিকার রেকর্ডভুক্ত স্বত্ব নয়, ভোগদখল বা প্রথাগত ব্যবহার।

দফা (খ) একমাত্র দফা যার 2001 সালের পাঠ bdlaws-এর পাদটীকা থেকে নিশ্চিতভাবে জানা যায়: মাপকাঠি ছিল “প্রচলিত আইন ও রীতি”, এখন “প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি”। 13 দফা প্রস্তাবের চতুর্থটি ছিল ঠিক এই পরিবর্তন; আঞ্চলিক পরিষদের ছক অনুযায়ী 2013 সালের বিলে এটি একেবারেই অনুপস্থিত (“Missing”) ছিল।

দফা (খ)-র সঙ্গে আইনের 11(1) ধারা একসঙ্গে পড়লে মাপকাঠির প্রয়োগ বোঝা যায়। 6(1)-এর কাজে কমিশন Evidence Act, 1872 মানতে বাধ্য নয়, “সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি অনুসারে” যেভাবে যথাযথ মনে করে সেভাবে সাক্ষ্য নিতে পারে। অর্থাৎ কাগজ না থাকলেও প্রথাগত অধিকারের প্রমাণ নেওয়ার পথ আইনে খোলা। 11(2) ধারা বাংলা ছাড়া অন্য ভাষায় সাক্ষ্য দিলে অনুবাদকের সাহায্য নেওয়ার কথা বলে। হেডম্যান ও কার্বারির লিখিত মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়; সেটিই প্রসিত খীসার দাবি ছিল।

পাহাড়ে জমির অধিকার কয় রকম, শক্তিপদ ত্রিপুরার লেখা সেই ভাগটি দিয়েছে “প্রথাগত মালিকানা” ও “অপ্রথাগত মালিকানা” হিসেবে, এবং উল্লেখ করেছে যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে বন্দোবস্ত হওয়া জমির খাজনাও স্থানীয় হেডম্যানকে দিতে হয়। এই বাস্তবতায় “স্বত্ব বা অন্যবিধ অধিকার” নির্ধারণে প্রথা বাদ দিলে অনেক দাবির কোনো ভিত্তিই থাকে না।

6(1)(গ): প্রথার বাইরে দেওয়া বন্দোবস্ত বাতিল, জলেভাসা জমিসহ

দফা (গ) 6 ধারার সবচেয়ে শক্ত ক্ষমতা: “প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি বহির্ভূতভাবে” দেওয়া যেকোনো বন্দোবস্ত, বা যেকোনো বেদখল, বাতিল করা এবং বৈধ মালিকের দখল ফিরিয়ে দেওয়া। এখানে মাপকাঠি কেবল সিদ্ধান্তের ভিত্তি নয়, বৈধতার পরীক্ষা: প্রথা না মেনে দেওয়া সরকারি বন্দোবস্তও বাতিলযোগ্য।

2001 সালে এই পরীক্ষা ছিল কেবল “প্রচলিত আইন” দিয়ে, আর বাতিলযোগ্য ছিল কেবল বন্দোবস্ত, বেদখল নয়। 2016-এ তিনটি জিনিস যুক্ত হয়: “রীতি ও পদ্ধতি”, “জলেভাসা ভূমিসহ (Fringe Land)”, আর “বেদখল”। চুক্তির (ঘ)4 দফা বলেছিল, কমিশনের ক্ষমতা “ফ্রীঞ্জ ল্যান্ড (জলেভাসা জমি)”-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। আইনের 2(ঝ) ধারায় “ভূমি”-র সংজ্ঞাতেই আছে “পাহাড় এবং জলে ভাসাসহ সমুদয় জমি”, এই সংজ্ঞা 2001 থেকে একই।

উঁচু টিলা থেকে দেখা কাপ্তাই হ্রদের একটি সরু শাখা, দুই পাশে সবুজ পাহাড়, নিচে ঘাটে কয়েকটি নৌকা বাঁধা
কাপ্তাই হ্রদ, রাঙামাটি, জুন 2019। দফা (গ)-র শর্তাংশে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা আলাদা করে রাখা আছে। ছবি: Nasif jamil · CC BY-SA 4.0 · Wikimedia Commons

শর্তাংশে মাপকাঠিটি আরেকবার আসে, এবার উল্টো দিক থেকে: কাপ্তাই ও বেতবুনিয়ার ব্যতিক্রমের ভেতরেও “প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী অধিগ্রহণকৃত ভূমি” আর বসতবাড়িসহ জলেভাসা জমি, টিলা ও পাহাড়ে দফা (গ) খাটে। 13 দফা প্রস্তাব চেয়েছিল পুরো শর্তাংশটি বাদ দিতে (আঞ্চলিক পরিষদের ছক; মঙ্গল কুমার চাকমা লিখেছিলেন, শর্তাংশ থাকলে “most of the land disputes will remain unresolved”)। চূড়ান্ত আইনে শর্তাংশ থেকে গেছে, তবে সংকুচিত রূপে। শর্তাংশের ভেতরের এই ব্যতিক্রম কোন জমিতে খাটে, তার বিস্তারিত পাঠ আছে আবেদনের নিয়ম নিয়ে লেখায়।

এখানে আবার 2(ছ)-র সময়সীমা প্রাসঙ্গিক। কোনো বন্দোবস্ত “প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি বহির্ভূত” কি না, তা যাচাই হবে 2001-এর আগে প্রচলিত আইন, ঐতিহ্য, বিধি ও প্রজ্ঞাপন দিয়ে। আইনটি বলে না যে বন্দোবস্তটি কবে দেওয়া হয়েছে, তা দেখা হবে কি না; দফা (গ)-র ভাষা “করা হইয়া থাকিলে”, অর্থাৎ অতীতের বন্দোবস্তের দিকে তাকায়।

উপধারা (2), (3) ও (4): এলাকা, তথ্য তলব, সরেজমিন পরিদর্শন

6 ধারার বাকি তিন উপধারা 2001 থেকে অপরিবর্তিত। (2) কমিশনের কাজ পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমিত রাখে; (3) যেকোনো সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কাছ থেকে তথ্য ও কাগজপত্র তলব এবং স্থানীয় তদন্ত বা জরিপের প্রতিবেদন চাওয়ার ক্ষমতা দেয়, যা মানতে সংস্থা “বাধ্য”; (4) বিরোধীয় জমি সরেজমিনে দেখার ক্ষমতা দেয়।

উপধারা (3)-এ “জরীপের ভিত্তিতে প্রতিবেদন” শব্দগুলো আছে। এর মানে কমিশন কোনো নির্দিষ্ট বিরোধের জন্য জরিপ-প্রতিবেদন চাইতে পারে; এটি পুরো অঞ্চলে ক্যাডাস্ট্রাল জরিপের ক্ষমতা নয়। 2011 সালে চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী জরিপের পরামর্শ দিলে দেবাশীষ রায় বিবৃতিতে বলেন, “Carrying out land survey is not under the jurisdiction of CHT Land Dispute Resolution Commission Act 2001” (ডেইলি স্টার, 6 জুলাই 2011)।

উপধারা (2) একটি সীমাও বোঝায়: সমতলের আদিবাসীদের ভূমি বিরোধ এই আইনের আওতায় নেই। “পার্বত্য চট্টগ্রাম”-এর সংজ্ঞা 2(ঘ) ধারায় খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান।

6 ধারা বাস্তবে কতটা কাজে লেগেছে

প্রকাশিত হিসাবে 6 ধারার অধীনে একটি বিরোধেরও নিষ্পত্তি হয়নি। প্রথম আলোর 8 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী কমিশনে 22,468টি আবেদন জমা, তার কোনোটির নিষ্পত্তি হয়নি, আইন প্রয়োগের বিধিমালা হয়নি, আর 2017 সাল থেকে নতুন আবেদন নেওয়া বন্ধ।

একই প্রতিবেদনে জেলাভিত্তিক হিসাব: রাঙামাটির 9,941টি, খাগড়াছড়ির 7,975টি, বান্দরবানের 4,552টি আবেদন। কমিশনের সচিব (যুগ্ম জেলা জজ) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, কমিশন কী প্রক্রিয়ায় কাজ করবে তার একটি বিধিমালা দরকার, “কিন্তু এখনো বিধিমালা হয়নি।” আইনের 18 ধারা সরকারকে বিধি প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়; 2016 সালে “এই আইন বলবৎ হইবার ছয় মাসের মধ্যে” শব্দগুলোর জায়গায় বসানো হয়েছে “যথাশীঘ্র” (bdlaws, পাদটীকা 14)।

হানা শামস আহমেদ ডেইলি স্টারে (10 আগস্ট 2022) লিখেছেন, 2016-এর পর কমিশন 11টি সভা করেছে এবং প্রায় 22,000 অভিযোগ জমা পড়ে; তাঁর বর্ণনায় 2016 সালে হেডম্যান ও কার্বারিরা নিজ নিজ এলাকা থেকে মানুষকে আবেদন জমা দিতে সংগঠিত করায় “very crucial role” পালন করেছিলেন। প্রথম আলো 22,468, হানা শামস আহমেদ প্রায় 22,000 — দুটি হিসাব কাছাকাছি, তবে এক নয়।

বিধিমালার অভাব 6 ধারার জন্য বিশেষ সমস্যা। “রীতি” ও “পদ্ধতি”-র সংজ্ঞা আইনে নেই; বিধিমালা হলে সেখানে সেই ফাঁক পূরণের সুযোগ ছিল, যেমন হেডম্যানের প্রতিবেদন কখন লাগবে, প্রথাগত অধিকার কীভাবে প্রমাণ হবে। এখন পর্যন্ত সেই কাজ হয়নি, ফলে মাপকাঠিটি কাগজে আছে, প্রয়োগের নজির নেই। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে আমাদের অন্যান্য লেখা পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।

প্রশ্নোত্তর

ভূমি কমিশন আইনের 6 ধারায় কী আছে?

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, 2001-এর 6 ধারা কমিশনের কাজ ও ক্ষমতা ঠিক করে। 6(1)-এর তিন দফায় আছে বিরোধ নিষ্পত্তি, স্বত্ব নির্ধারণ ও দখল পুনর্বহাল, আর প্রথার বাইরে দেওয়া বন্দোবস্ত বা বেদখল বাতিল। তিন দফাতেই মাপকাঠি “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি”। 6(2)–(4) এলাকা, তথ্য তলব ও সরেজমিন পরিদর্শনের কথা বলে।

ভূমি কমিশন কোন আইন অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি করে?

6(1) ধারা অনুযায়ী “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী”। “প্রচলিত আইন”-এর সংজ্ঞা 2(ছ) ধারায়: আইনটি বলবৎ হওয়ার আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচলিত আইন, ঐতিহ্য, বিধি ও প্রজ্ঞাপন, “কেবলমাত্র সেইগুলি”। আপিল বিভাগ 22 নভেম্বর 2016 সালের রায়ে এটিকে বর্ণনা করেছে “laws, customs and systems prevailing in CHT” হিসেবে।

2001 সালের আইনে কি “পদ্ধতি” শব্দটি ছিল?

না। 2001 সালের আইনে দফা (ক) ও (খ)-তে ছিল “প্রচলিত আইন ও রীতি”, আর দফা (গ)-তে কেবল “প্রচলিত আইন”। bdlaws-এর পাদটীকা দফা (খ)-র পুরনো শব্দ “আইন ও রীতি” নিশ্চিত করে। 1997 সালের চুক্তির (ঘ)6(খ) দফায় তিনটি শব্দই ছিল। “পদ্ধতি” যুক্ত হয় আগস্ট 2016-এর অধ্যাদেশ এবং পরে পাস হওয়া 2016 সনের 45 নং আইনে।

“রীতি ও পদ্ধতি” বলতে আইনে কী বোঝানো হয়েছে?

আইনে এর কোনো সংজ্ঞা নেই। ইউপিডিএফ সভাপতি প্রসিত খীসা 14 আগস্ট 2016 বলেছেন, সংজ্ঞা না থাকায় প্রয়োগে জটিলতা হতে পারে। জনসংহতি সমিতির মঙ্গল কুমার চাকমা (2013) ও সংসদীয় কমিটিতে আদিবাসী প্রতিনিধিরা “practices” বলতে বুঝিয়েছেন জমি হস্তান্তর, বন্দোবস্ত ও অধিগ্রহণে মৌজা হেডম্যানের প্রতিবেদন বা সুপারিশ নেওয়ার চর্চা।

“প্রচলিত আইন”-এর সংজ্ঞায় কি 2001-এর পরের আইন পড়ে?

2(ছ) ধারার ভাষা অনুযায়ী পড়ে না। সংজ্ঞায় আছে, “এই আইন বলবত্ হইবার পূর্বে” পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচলিত আইন, ঐতিহ্য, বিধি, প্রজ্ঞাপন, “কেবলমাত্র সেইগুলি”। শাসনবিধি 1900-এর 2003 ও 2008 সালের সংশোধনের মতো পরের পরিবর্তন কমিশনের মাপকাঠিতে গণ্য হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো আদালতের ব্যাখ্যা বা বিধিমালা প্রকাশিত হয়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি 1900 কি ভূমি কমিশনের “প্রচলিত আইন”?

আপিল বিভাগ সিভিল আপিল নং 08/2008-এর রায়ে (22 নভেম্বর 2016) লিখেছে, ভূমি কমিশন আইন দিয়ে সরকার “Regulation 1 of 1900”-কে পার্বত্য চট্টগ্রামে কার্যকর আইন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। শাসনবিধিটি 2001-এর আগে থেকে প্রচলিত, তাই 2(ছ)-র সংজ্ঞায় পড়ে। রায়টি হাইকোর্টের 2003 সালের “মৃত আইন” পর্যবেক্ষণ বাতিল করেছে।

ভূমি কমিশন কি সরকারের দেওয়া বন্দোবস্ত বাতিল করতে পারে?

পারে, 6(1)(গ) দফা অনুযায়ী, যদি বন্দোবস্তটি “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি বহির্ভূতভাবে” দেওয়া হয়ে থাকে, জলেভাসা জমিসহ। বেদখলও বাতিলযোগ্য, আর বৈধ মালিকের দখল পুনর্বহাল করা যায়। ব্যতিক্রম কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা ও বেতবুনিয়া, তবে সেখানেও প্রথা অনুযায়ী অধিগৃহীত জমি এবং বসতবাড়িসহ জলেভাসা জমি, টিলা ও পাহাড়ে দফাটি খাটে।

2001 সালে কোন কোন জমি 6(1)(গ)-র বাইরে ছিল?

FAOLEX-এ রাখা 2001 সালের আইনের ইংরেজি পাঠ ও আঞ্চলিক পরিষদের ছক অনুযায়ী শর্তাংশে বাদ ছিল রক্ষিত বন, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প এবং সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নামে রেকর্ডভুক্ত জমি। 2016-এর পর শর্তাংশে কেবল কাপ্তাই ও বেতবুনিয়া আছে।

বাঙালি সংগঠনগুলো 6 ধারার শব্দবন্ধের বিরোধিতা করে কেন?

তাদের যুক্তি, এই মাপকাঠিতে কমিশন বাংলাদেশের সাধারণ আইনে নয়, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রথায় বিচার করবে এবং বাঙালি বসতকারীরা জমি হারাবেন। 2016 সালের আগস্টে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, সম অধিকার আন্দোলনসহ পাঁচ সংগঠন সংশোধিত আইন বাতিলের দাবিতে তিন জেলায় হরতাল করে। কমিশন চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক বলেন, কমিশন কাউকে উচ্ছেদ করবে না।

“পদ্ধতি” শব্দের ইংরেজি practice না usage?

কোনো সরকারি ইংরেজি অনুবাদ পাওয়া যায়নি। চুক্তির একটি চালু ইংরেজি পাঠে আছে “existing rules, customs and usages”, কাপেং ফাউন্ডেশন লিখেছে “law, custom and practice”, আঞ্চলিক পরিষদের 13 দফা প্রস্তাবে “customs and practices”, আর আপিল বিভাগের 2016 সালের রায়ে “laws, customs and systems”।

ভূমি কমিশনে কতগুলো আবেদন জমা আছে, কতগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে?

প্রথম আলোর 8 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 22,468টি আবেদন জমা — রাঙামাটির 9,941, খাগড়াছড়ির 7,975, বান্দরবানের 4,552 — আর কোনোটিরই নিষ্পত্তি হয়নি। 2017 সাল থেকে নতুন আবেদন নেওয়া বন্ধ। কমিশনের সচিব বলেছেন, বিধিমালা না হওয়ায় কাজ স্থবির। হানা শামস আহমেদের হিসাবে আবেদন প্রায় 22,000।

সার্কেল চিফ কেন ভূমি কমিশনের সদস্য?

3(2)(ঘ) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সার্কেল চিফ বা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধি কমিশনের সদস্য। দেবাশীষ রায় জাতিসংঘের 2014 সালের গবেষণায় লিখেছেন, প্রথাগত প্রধানরা স্থানীয় আইন, প্রথা ও চর্চার ভিত্তিতে ভূমি ব্যবহার ও অধিকার সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের ধারক; আপিল বিভাগ বলেছে, এই আইনে প্রথা অনুযায়ী সার্কেল চিফদের ক্ষমতা স্বীকৃত হয়েছে।

যা এখনো জানা যায়নি

  • 2001 সালের দফা (ক) ও (গ)-র সরকারি বাংলা পাঠ। bdlaws পুরনো পাঠ দেখায় না; 17 জুলাই 2001-এর গেজেটের কপি অনলাইনে পাওয়া যায়নি। এখানে ব্যবহৃত বাংলা পাঠ একটি 2013 সালের ব্লগ-লেখার উদ্ধৃতি, আর ইংরেজি পাঠ একটি বেসরকারি অনুবাদ। দুটি অর্থে মেলে, কিন্তু অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে দেখার মতো মূল গেজেট পাওয়া যায়নি।
  • 2016 সালের সংশোধনী আইনের পূর্ণ পাঠ। 2016 সনের 45 নং আইন bdlaws-এ আলাদা করে প্রকাশিত নেই, কেবল মূল আইনের পাদটীকায় তার প্রভাব দেখা যায়। অধ্যাদেশ জারির তারিখ নিয়ে 8 ও 9 আগস্ট — দুটি তারিখ প্রকাশিত হয়েছে।
  • “পদ্ধতি” 2001 ও 2013 সালে কেন বাদ পড়েছিল। কোনো সরকারি ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি।
  • “রীতি” ও “পদ্ধতি”-র আইনি অর্থ। আইন, অধ্যাদেশ বা কোনো প্রকাশিত বিধিমালায় সংজ্ঞা নেই; আদালতের ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়নি।
  • 2(ছ)-র সময়সীমার প্রয়োগ। 2001-এর পরের আইন বা প্রজ্ঞাপন — যেমন শাসনবিধির পরের সংশোধন — কমিশনের মাপকাঠিতে গণ্য হবে কি না, সে প্রশ্নে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
  • প্রতিটি জনগোষ্ঠীর ভূমি-প্রথা। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বমসহ প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর জমি-সংক্রান্ত প্রথা আলাদা হতে পারে; কমিশন কোন জনগোষ্ঠীর রীতি কীভাবে যাচাই করবে, তার কোনো প্রকাশিত নির্দেশনা নেই।
  • কমিশনের বিধিমালা। 18 ধারার বিধিমালা 2022 পর্যন্ত হয়নি (প্রথম আলো); তার পরের অবস্থা কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র

  1. লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১ (২০০১ সনের ৫৩ নং আইন), হালনাগাদ পাঠ ও 2016 সালের সংশোধনের পাদটীকা। bdlaws.minlaw.gov.bd।
  2. FAOLEX। Simple English Version of Chittagong Hill Tracts Land Dispute Settlement Commission Act 2001, সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের “13-Point Amendment Proposals and Amendment Bill introduced in the Parliament on 16 June 2013” ছক।
  3. লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। The Constitution of the People’s Republic of Bangladesh, article 152 (Interpretation)। bdlaws.minlaw.gov.bd।
  4. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগ। Government of Bangladesh v. Rangamati Food Products Ltd. and others, Civil Appeal No. 08 of 2008, রায় 22 নভেম্বর 2016 (BLAST-এর ওয়েবসাইটে রাখা কপি), পৃষ্ঠা 24–25।
  5. Roy, Raja Devasish। Study on best practices and examples in respect of resolving land disputes and land claims… (E/C.19/2014/4)। UN Permanent Forum on Indigenous Issues, 27 ফেব্রুয়ারি 2014।
  6. Kapaeeng Foundation। Amendment of CHT Land Commission Act: A Bold Effort of the Government to the Implementation Process of CHT Accord। Kapaeeng Watch, Issue 2, 1–15 February 2017।
  7. Chakma, Mangal Kumar। Amendment of CHT Land Commission Act 2001 needed। The Daily Star, 25 জুন 2013।
  8. The Daily Star (Staff Correspondent)। Amendment bill will fail to ensure adivasis’ land rights। 30 জুন 2013।
  9. The Daily Star (Staff Correspondent)। Indigenous leaders place objections to JS body। 16 জুলাই 2013।
  10. The Daily Star (Rangamati correspondent)। Raja Debasish for removal of justice Khadem। 6 জুলাই 2011।
  11. The Daily Star (Rangamati correspondent)। Settlers observe hartal in CHT। 10 আগস্ট 2016।
  12. Ahmed, Hana Shams। CHT Land Commission work, and the power struggles, contradictions, and tensions around it। The Daily Star। 10 আগস্ট 2022।
  13. জাগো নিউজ২৪। সংশোধনীর পরও ভূমি কমিশন আইন অগণতান্ত্রিক : প্রসিত খীসা। 14 আগস্ট 2016।
  14. জাগো নিউজ২৪। পাহাড়ে শুরু হচ্ছে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যক্রম। 16 আগস্ট 2016।
  15. জাগো নিউজ২৪। শিগগিরই কাজ শুরু করবে ভূমি কমিশন। 4 সেপ্টেম্বর 2016।
  16. জাগো নিউজ২৪। পার্বত্য ভূমি কমিশন চেয়ারম্যানের ক্ষমতা কমিয়ে বিল পাস। 6 অক্টোবর 2016।
  17. বল, প্রণব। ২৩ বছরে কিছুই করতে পারেনি পার্বত্য ভূমি কমিশন। প্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022।
  18. সত্যপ্রীতি (ব্লগ-নাম)। পার্বত্য চট্টগ্রাম কি দেশের অংশ নয়? সামহোয়্যারইন ব্লগ, 22 জুন 2013।
  19. Peace Accords Matrix, University of Notre Dame। Chittagong Hill Tracts Peace Accord (ইংরেজি পাঠ, খণ্ড D, দফা 4 ও 6)।
  20. ত্রিপুরা, শক্তিপদ। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি বিরোধ ও ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি: প্রাসঙ্গিক ভাবনা। জুমজার্নাল আর্কাইভ, 2021।
  21. জুমজার্নাল। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন (পূর্ণ পাঠ)। আর্কাইভ, 2021।
  22. জুমজার্নাল। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে আবেদন করবেন কীভাবে — চুক্তির (ঘ) খণ্ডের বাংলা পাঠের উদ্ধৃতিসহ।
  23. জুমজার্নাল। ভূমি কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলও চলে না, রিভিশনও নয়: ১৬ ধারা যা বলে।
  24. জুমজার্নাল। ভূমি কমিশন সংশোধন আইন ২০১৬: ২০০১ সালের আইনের কোন ধারা কীভাবে বদলেছিল।

এই লেখা আইনি পরামর্শ নয়। নির্দিষ্ট কোনো জমির বিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আইনজীবী, সংশ্লিষ্ট হেডম্যান বা সার্কেল কার্যালয়ের সঙ্গে কথা বলুন।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:প্রথাগত আইন, ভূমি অধিকার, ভূমি কমিশন আইন, ভূমি বিরোধ

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা