Jumjournal Logo

সামি জনগোষ্ঠী: এক জাতি, তিনটি সংসদ, আর ফোসেনের রায়

Last updated Oct 17th, 2026

0

নরওয়ের সামি সংসদের ভবন, কারাসিয়ক (Kárášjohka)

২০২১ সালের ১১ অক্টোবর নরওয়ের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায় দেয়, যার শিরোনামই রায়টি বলে দেয়: “Licences for wind power development on Fosen ruled invalid as the construction violates Sami reindeer herders’ right to enjoy their own culture.” — ফোসেনে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের লাইসেন্স অবৈধ ঘোষিত, কারণ নির্মাণকাজ সামি রেইনডিয়ার-পালকদের নিজের সংস্কৃতি উপভোগের অধিকার লঙ্ঘন করে।

আদালতের গ্র্যান্ড চেম্বার সর্বসম্মতভাবে লঙ্ঘন খুঁজে পায় এবং লাইসেন্স ও অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তগুলো অবৈধ ঘোষণা করে।

এরপর দুই বছর পাঁচ মাস কেটে যায়। ২০২৪ সালের ৬ মার্চ নরওয়ের সামি সংসদ সামেদিগি একটি বিবৃতিতে জানায়, দুটি সিইদার জন্য চুক্তি হওয়ার পর “der er grunn til å mene at menneskerettsbruddet er bragt til opphør” — মানবাধিকার লঙ্ঘনটি শেষ করা হয়েছে বলে মনে করার কারণ আছে।

অর্থাৎ ২০২১ সালের অক্টোবরে সর্বোচ্চ আদালতের সর্বসম্মত রায়ের পরেও লঙ্ঘনটি চলছিল — ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত। এই লেখাটি সেই দুই বছর পাঁচ মাসের গল্প, আর তার চারপাশের আইনি কাঠামোর।

সামি কারা, সাপমি কোথায়

সামি জনগোষ্ঠী থাকেন চারটি দেশের ভেতরে — নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও রাশিয়া। তাঁদের নিজেদের ভাষায় এই ভূখণ্ডের নাম সাপমি (Sápmi)।

জুমজার্নালের আর্কাইভে প্রকাশিত একটি লেখায় এই বিস্তারটি স্পষ্ট করে বলা আছে: “সুইডেন এবং নরওয়ে থেকে ফিনল্যান্ড এবং রাশিয়া পর্যন্ত বর্তমানে সামি সম্প্রদায়ের পৈতৃক ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশগুলোর প্রভাবশালী জীবনধারা ও রাজনীতি দীর্ঘকাল ধরে সামি সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি, খাদ্য সুরক্ষা, ঐতিহ্যবাহী জীবন-জীবিকা এবং ভূমির সুব্যবস্থাপনার প্রতি হুমকি স্বরূপ।”

লক্ষ করুন কাঠামোটি: একটি জনগোষ্ঠীর ভূখণ্ড, আর তার উপর চারটি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ। এই অবস্থাটিই সামি-প্রসঙ্গের সবচেয়ে মৌলিক তথ্য।

‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র আদিবাসী জাতি’

ফিনল্যান্ডের সামি সংসদ নিজের পরিচিতি-পাতায় একটি বাক্য লিখেছে, যা পরিভাষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ: “The Sámi are the only Indigenous people in the European Union.” — সামিরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র আদিবাসী জাতি।

একই পাতায় আইনি অবস্থানটিও লেখা: “The status of the Sámi as an Indigenous people is enshrined in the Constitution of Finland.” — আদিবাসী জাতি হিসেবে সামিদের মর্যাদা ফিনল্যান্ডের সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত।

এই দুটি বাক্যে দুটি আলাদা জিনিস আছে। প্রথমটি একটি তুলনামূলক দাবি — গোটা ইউরোপীয় ইউনিয়নে আর কোনো আদিবাসী জাতি নেই। দ্বিতীয়টি একটি সাংবিধানিক তথ্য।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের কাছে দ্বিতীয়টি বেশি প্রাসঙ্গিক। UNDRIP ও সাংবিধানিক স্বীকৃতির আলোচনায় প্রশ্নটি একই — সংবিধানে শব্দটি আছে কি না।

এক জাতি, তিনটি সংসদ

সামি জনগোষ্ঠীর নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান একটি নয়, তিনটি — নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডে আলাদা আলাদা সামি সংসদ। একই জাতি, কিন্তু তিনটি রাষ্ট্রের তিনটি আইনে তিনটি প্রতিষ্ঠান।

এই লেখায় নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান দুটির সরকারি তথ্য ধরে ধরে আছে। সুইডেনের সামেতিংগেতের সদস্যসংখ্যা ও আইনি ভিত্তি এই রাউন্ডে সরকারি উৎস থেকে নেওয়া যায়নি, তাই সেটি লেখা হয়নি।

তিনটি সংসদ থাকার অর্থ কী, সেটি ফোসেন মামলার শেষ অংশে স্পষ্ট হবে — যেখানে নরওয়ের সামেদিগি রাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির মূল্যায়ন করছে।

নরওয়ের সামেদিগি: ৩৯ জন, ৭টি নির্বাচনী এলাকা

সামেদিগির নিজের পাতায় গঠনটি এক বাক্যে: “Sametinget er et folkevalgt organ for samene i Norge. 39 representanter velges fra 7 valgkretser hvert fjerde år.” — সামেদিগি নরওয়ের সামিদের জন্য একটি জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সংস্থা; ৩৯ জন প্রতিনিধি ৭টি নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রতি চার বছরে নির্বাচিত হন।

নরওয়ের সামি আইনেও একই সংখ্যা: ৩৯ জন প্রতিনিধি, সাতটি নির্বাচনী এলাকা, চার বছরের মেয়াদ — যা শুরু হয় নির্বাচনের বছরের ১ অক্টোবর থেকে।

সংখ্যাটি তুলনার জন্য মনে রাখা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের আসনসংখ্যা ও গঠনপদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে ঠিক হয়েছে — সেটি একটি আইনে নির্ধারিত সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা, সরাসরি ভোটের নির্বাচনী এলাকা নয়।

৯ অক্টোবর ১৯৮৯, কারাসিয়ক

সামেদিগির পাতায় তারিখ দুটি নির্দিষ্ট করে লেখা: প্রথম সামি সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৮৯ সালের শরৎকালে, আর প্রথম আনুষ্ঠানিক সামেদিগি উদ্বোধন হয় ১৯৮৯ সালের ৯ অক্টোবর, কারাসিয়কে, রাজা পঞ্চম ওলাভের হাতে।

প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানাও একই পাতায় — Ávjovárgeaidnu 50, Karasjok। কারাসিয়ক শহরটির সামি নাম Kárášjohka।

নরওয়ের সামি সংসদের ভবন, কারাসিয়ক (Kárášjohka)
সামেদিগির ভবন, Kárášjohka/কারাসিয়ক, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২। ছবি: Leonhard Lenz, উইকিমিডিয়া কমন্স, CC0 (মূল ফাইল)

অর্থাৎ ১৯৮৭ সালে আইন, ১৯৮৯ সালে নির্বাচন ও উদ্বোধন। দুই বছরের মধ্যে আইন থেকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান।

সামি আইন ১৯৮৭: উদ্দেশ্য কী

নরওয়ের আইনটির পুরো নাম “Act on the Sami Parliament and other Sami legal matters (Sami Act)”, নম্বর LOV-1987-06-12-56, অর্থাৎ ১২ জুন ১৯৮৭।

আইনের ১-১ ধারায় উদ্দেশ্য লেখা আছে, হুবহু: “to facilitate conditions for the Sami people in Norway to secure and develop their language, culture, and social life” — নরওয়ের সামি জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবন সুরক্ষিত ও বিকশিত করার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করা।

তিনটি শব্দ লক্ষ করুন — ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক জীবন। ভূমির কথা এই উদ্দেশ্য-বিবৃতিতে নেই।

এই অনুপস্থিতিটিই পরে ফোসেন মামলায় তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে — যেখানে ভূমি নয়, সংস্কৃতি উপভোগের অধিকারের ভিত্তিতেই মামলাটি জিতেছিল।

ভোটার তালিকায় নাম লেখার শর্ত

সামি আইনের ২-৬ ধারায় সামি ভোটার তালিকায় নাম তোলার শর্ত আছে, আর কাঠামোটি দুই স্তরের: নিজেকে সামি হিসেবে ঘোষণা করা, এবং তার সঙ্গে তিনটি শর্তের অন্তত একটি পূরণ।

তিনটি শর্ত:

  1. সামি ভাষা ঘরের ভাষা হওয়া; অথবা
  2. বাবা-মা, দাদা-দাদি/নানা-নানি, অথবা তাঁদের বাবা-মা — এঁদের কারও ঘরের ভাষা সামি হওয়া; অথবা
  3. তালিকায় ইতিমধ্যে নিবন্ধিত কোনো ব্যক্তির সন্তান হওয়া

অর্থাৎ পরিচয়ের ভিত্তি ভাষা — তিন প্রজন্ম পর্যন্ত পেছনে গিয়ে। রক্ত বা শতকরা হিসাব নয়।

এই পদ্ধতিটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আদিবাসী পরিচয় নির্ধারণের অন্য ব্যবস্থাগুলো প্রায়ই বংশ-অনুপাতের হিসাব করে। এখানে মাপকাঠি ঘরে কোন ভাষা বলা হতো — আর সঙ্গে নিজের ঘোষণা।

সামেদিগি কী নিয়ে কাজ করতে পারে

সামি আইনের ২-১ ধারায় সামেদিগির কর্মপরিধি একটি খোলা শব্দবন্ধে বাঁধা: “any matter that in the view of the Parliament particularly affects the Sami people” — সংসদের বিচারে যে বিষয় সামি জনগোষ্ঠীকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে, যেকোনো সেই বিষয়।

লক্ষ করুন কে ঠিক করে — “in the view of the Parliament”, অর্থাৎ সামেদিগির নিজের বিচারে। বিষয়-তালিকা বাইরে থেকে ঠিক করে দেওয়া হয়নি।

আইন অনুযায়ী সামেদিগি বিবৃতি দিতে পারে, বিষয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে পারে, এবং সামি উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় বাজেটের বরাদ্দ পরিচালনা করতে পারে।

শেষ ক্ষমতাটি সবচেয়ে ব্যবহারিক। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের হাতে বরাদ্দ থাকলে প্রতিষ্ঠানটি কেবল পরামর্শদাতা থাকে না।

ভাষার প্রশাসনিক এলাকা

সামি আইনের ৩ অধ্যায় ভাষা নিয়ে, আর সেখানে একটি প্রশাসনিক এলাকা-র ধারণা আছে। ৩-১ ধারা অনুযায়ী এই এলাকার মধ্যে পড়ে সেই পৌরসভাগুলো, যেগুলো ভাষা-উন্নয়ন, ভাষা-পুনরুজ্জীবন বা ভাষা-উদ্দীপনা পৌরসভা হিসেবে চিহ্নিত — সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু কাউন্টি।

আইনে দেওয়া ভাষা-অধিকারগুলোর মধ্যে আছে:

  • চিহ্নিত পৌরসভাগুলোর কাছ থেকে সামি ভাষায় লিখিত ও মৌখিক উত্তর পাওয়ার অধিকার
  • আদালতের কার্যক্রম সামি ভাষায় চালানোর অধিকার
  • স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে সামি ভাষায় সেবা
  • সামি ভাষার দক্ষতা অর্জনের জন্য সরকারি কর্মচারীদের বেতনসহ শিক্ষাছুটি

শেষ দুটি লক্ষণীয়। স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মচারীর প্রশিক্ষণ — এগুলো ভাষা-অধিকারের তালিকায় সাধারণত থাকে না, কিন্তু ভাষা টেকানোর জন্য এগুলোই দরকার।

পার্বত্য চট্টগ্রামের মাতৃভাষায় শিক্ষার কর্মসূচির সঙ্গে তুলনাটি এখানেই — ওখানে প্রশ্নটি কেবল স্কুলের নয়, পুরো প্রশাসনের।

নরওয়ের সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদ

নরওয়ের সংবিধানে সামিদের নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ আছে, আর তার পাঠ সংক্ষিপ্ত: “The authorities of the state shall create conditions enabling the Sami people, as an indigenous people, to preserve and develop its language, culture and way of life.”

অর্থাৎ রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ এমন পরিস্থিতি তৈরি করবে, যাতে সামি জনগোষ্ঠী — একটি আদিবাসী জাতি হিসেবে — নিজের ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারা রক্ষা ও বিকশিত করতে পারে।

এই একটি শব্দবন্ধ — “as an indigenous people” — সংবিধানের পাঠে থাকায় সামিদের মর্যাদা নিয়ে আইনি তর্কের জায়গা কমে যায়।

পাশের অনুচ্ছেদটিও ফোসেন মামলার জন্য প্রাসঙ্গিক। সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষের অধিকার আছে স্বাস্থ্যের অনুকূল পরিবেশে এবং এমন প্রাকৃতিক পরিবেশে, যার উৎপাদনক্ষমতা ও বৈচিত্র্য রক্ষিত হয়; প্রাকৃতিক সম্পদ পরিচালিত হবে সুদূরপ্রসারী সামগ্রিক বিবেচনার ভিত্তিতে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও এই অধিকার সুরক্ষিত রাখবে।

দুটি অনুচ্ছেদ, দুটি অধিকার — আর ফোসেন মামলায় আদালতকে এই দুটির সম্পর্ক নিয়েই ভাবতে হয়েছিল।

ফিনল্যান্ডের সামেদিগি: ২১ + ৪

ফিনল্যান্ডের সামি সংসদের গঠন তাদের নিজের ভাষায়: “The 21 members, and 4 deputies, are elected from among the Sámi every four years.” — ২১ জন সদস্য ও ৪ জন উপসদস্য, প্রতি চার বছরে সামিদের মধ্য থেকে নির্বাচিত।

নরওয়ের ৩৯-এর সঙ্গে তুলনা করলে সংখ্যাটি ছোট, আর নির্বাচনী এলাকার কোনো বিভাজনের কথা এই পাতায় নেই।

[ফিনল্যান্ডের সামি সংসদ কোন সালে ও কোন আইনে প্রতিষ্ঠিত, এবং ভোটার তালিকার শর্ত কী — তা এই পাতায় নেই, অন্য সরকারি উৎসও এই রাউন্ডে পড়া হয়নি — যাচাই প্রয়োজন]

সুইডেন: গির্জাস মামলা

জুমজার্নালের আর্কাইভে প্রকাশিত একটি লেখায় সুইডেনের সামিদের একটি আদালতি জয়ের বিবরণ আছে। লেখাটির ভাষায়, জানুয়ারির শেষের দিকে আদিবাসী সামি রেইনডিয়ার-পালক সম্প্রদায় গির্জাস (Girjas) সুইডিশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়।

আদালত কী দিয়েছিল, তাও লেখাটিতে নির্দিষ্ট: সুইডিশ সুপ্রিম কোর্ট আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোকে তাঁদের বংশানুক্রমিক ভূমিতে বসবাসের দাবিকে আইনত স্বীকৃতি দেয়, এবং সুইডেন রাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়াই গ্যালিভারের (Gällivare) গির্জাস সামি গ্রামকে তাঁদের অঞ্চলে শিকার ও মাছ ধরার অধিকার দেয়।

“রাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়াই” — এই শব্দগুলোই রায়টির কেন্দ্র। প্রশ্নটি অধিকার আছে কি না তা নয়; প্রশ্নটি ছিল সেই অধিকার প্রয়োগ করতে রাষ্ট্রের অনুমতি লাগে কি না।

সুইডেনের অর্ধেক

আর্কাইভের ওই লেখায় একটি বাক্য আছে, যা ভূখণ্ডের মাপ বোঝায়: “সুইডেনের প্রায় অর্ধেক অঞ্চল সামিদের পৈতৃক ভূমি।”

লেখাটি এর সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক দাবিও যোগ করেছে: ঔপনিবেশিক শাসকরা এই ভূমি না নিলে সুইডেন কখনো আজকের সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল দেশ হতে পারত না — যা নিয়ে সে এখন গর্ব করে।

লেখাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এই মানসিকতা আজও বেঁচে আছে রাষ্ট্র-সমর্থিত নিষ্কাশন-শিল্পে, যা আদিবাসী ভূমি গ্রাস করে; সেই নীতিতে, যা আদিবাসী সম্প্রদায়কে দেশান্তরি হতে বাধ্য করে; আর সামি ভাষাগুলো নির্মূলের ক্রমাগত সাংস্কৃতিক চাপে।

ILO ১৬৯ অনুসমর্থন করেনি

আর্কাইভের লেখায় সুইডিশ রাষ্ট্রপক্ষের একটি আইনি যুক্তি উদ্ধৃত আছে, আর তার ভিত্তিটি একটি অনুপস্থিতি: আদিবাসী ও জনজাতিদের অধিকার বিষয়ে সুইডেন এখনো আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কনভেনশন ১৬৯ অনুসমর্থন করেনি।

এই অনুপস্থিতির উপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি দিয়েছিল — লেখাটিতে উদ্ধৃতি-চিহ্নসহ — “সামিদের বিশেষ অধিকারের স্বীকৃতি জানাতে সুইডেনের কোনো বিশেষ বাধ্যবাধকতা নেই।”

লেখাটি আরও জানাচ্ছে, রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে আহ্বান জানিয়েছিল মামলাটি কেবল রাষ্ট্রীয় আইনের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে — গির্জাসদের পরিচয় এবং ভূমির সঙ্গে তাঁদের সংযোগকে বিশেষ বিবেচনায় না নিয়ে।

এই অংশটি ILO ১৬৯-এর ব্যবহারিক তাৎপর্য বোঝায়। কনভেনশন অনুসমর্থিত না থাকলে রাষ্ট্র আদালতেই বলতে পারে যে বিশেষ বাধ্যবাধকতা নেই।

ঊনবিংশ শতকের নথি

আর্কাইভের লেখার সবচেয়ে কঠিন তথ্যটি এই: গির্জাসদের বিরোধিতা করা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হান্স ফোর্সেল (Hans Forsell) সামিদের ভূমি-অধিকার অস্বীকারকে বৈধতা দিতে ঊনবিংশ শতকের সেকেলে ও বর্ণবাদী নথি উল্লেখ করেন।

প্রতিক্রিয়াটি এসেছিল সুইডিশ সামি পিপলস ন্যাশনাল ইউনিয়নের (National Union of the Swedish Saami People) চেয়ারম্যান আসা লারসন ব্লাইন্ড (Åsa Larsson Blind)-এর কাছ থেকে, আর লেখাটিতে তা হুবহু উদ্ধৃত:

“এটি বেশ মন খারাপ করার বিষয়। প্রত্যেকেই জানেন যে এই নথিগুলির অস্তিত্ব রয়েছে, রাষ্ট্র বলেছিল যে তারা আর এই ধরনের বক্তব্য সমর্থন করবে না। কেন তারা নথিগুলোর উপর ভর করে আইনী প্রক্রিয়া চালাতে চেয়েছিল আমি তা বুঝতে পারছি না।”

লেখাটির নিজের মন্তব্য: যাঁরা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাষ্ট্রের আদিবাসী অধিকারের প্রতি প্রতিষ্ঠিত মনোভাবের সঙ্গে পরিচিত, তাঁদের কাছে এটি অবাক করার বিষয় নয়।

‘এই আইন কে প্রতিষ্ঠিত করেছিল’

আর্কাইভের লেখায় সামি যুব সমিতি সামিনুওরা (Saami Youth Association Saminuorra)-র জুলিয়া রেন্সবার্গ (Julia Rensberg)-এর একটি পর্যবেক্ষণ আছে, যা আইনি তর্কের ভিত্তিতেই প্রশ্ন তোলে।

লেখাটি অনুযায়ী তিনি মামলার চূড়ান্ত কার্যক্রমের সময় তুলে ধরেছিলেন, কীভাবে রাষ্ট্র একতরফাভাবে সামিদের উপর চাপানো আইন ও বিধিবিধানের মাধ্যমে বিরোধটি সমাধান করতে চেয়েছিল — যা কেবল রাষ্ট্রীয় এজেন্ডার সঙ্গে খাপ খায়।

আর তাঁর কথাটি লেখাটিতে উদ্ধৃত: মনে রাখা দরকার “এই আইন কে প্রতিষ্ঠিত করেছিল এবং কখন আইনগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল”।

এই প্রশ্নটি সার্বজনীন। ভূমি-বিরোধে প্রায়ই রাষ্ট্র বলে “আইন অনুযায়ী” — কিন্তু আইনটি কখন, কার দ্বারা, কাকে বাদ দিয়ে তৈরি হয়েছিল, সেই প্রশ্নটি আলাদা।

‘সবুজ উপনিবেশবাদ’

আর্কাইভের লেখায় একটি পরিভাষা আছে, যা ফোসেন মামলার আগেই সামি কর্মীরা ব্যবহার করছিলেন — “সবুজ উপনিবেশবাদ”।

লেখাটি জানাচ্ছে, মাদ্রিদে COP25-এ সামি ও ইনুইট কর্মীদের একটি প্রতিনিধি দল জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে “ভূমি ফেরত” আন্দোলনের গুরুত্বের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিল।

জুলিয়া রেন্সবার্গ, যিনি সেখানে ছিলেন, বলেছিলেন — লেখাটিতে হুবহু:

“ভূমি আমাদের এবং আমরাই ভূমি। আমরা আমাদের আদিবাসী আত্মীয়দের সাথে সংহতি জানাতে এখানে এসেছি এবং আমরা আপনাদের সাথে আছি, পরিবেশ আন্দোলনের জোরে ধরে থাকা সবুজ উপনিবেশবাদের বিষাক্ত সংস্কৃতিটি ভেঙে ফেলার জন্য আমাদের অবশ্যই একত্রিত হতে হবে।”

ইনুইটদের সঙ্গে সামিদের এই যৌথ উপস্থিতি দৈবাৎ নয় — দুটি জনগোষ্ঠীর ভূখণ্ডই আর্কটিক ও সাব-আর্কটিক, আর দুই জায়গাতেই জলবায়ু-প্রকল্প ও খনি একই সঙ্গে আসে।

‘উত্তরে জায়গা বেশি’

আর্কাইভের লেখায় স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেবেকা লরেন্স (Rebecca Lawrence)-এর ২০১৪ সালের একটি গবেষণাপত্রের বরাত আছে, আর সেখানে একটি যুক্তির গঠন ধরা পড়ে।

লেখাটির বিবরণ অনুযায়ী সামিরা যে ভূমি ব্যবহার করেন তা উপেক্ষা করে এই যুক্তিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হয় যে — উদ্ধৃতি হুবহু — “প্রচণ্ডভাবে দূষিত এবং শিল্পায়িত সুইডেনের দক্ষিণাঞ্চলের পরিবর্তে উত্তরের দিকে বায়ুশক্তির জন্য অধিকতর জায়গা রয়েছে।”

অর্থাৎ “খালি জায়গা” কথাটির ভেতরেই সিদ্ধান্তটি লুকানো থাকে। জায়গাটি খালি নয় — সেখানে রেইনডিয়ার চরে, আর চারণভূমি মানচিত্রে সবসময় দেখা যায় না।

এই যুক্তিটিই পরের অনুচ্ছেদগুলোর ফোসেন মামলার পূর্বকথা। নরওয়েতেও বায়ুবিদ্যুৎ গিয়েছিল উত্তরে, আর সেখানেও চারণভূমি ছিল।

ফোসেন: ২০১০ সালের লাইসেন্স

নরওয়ের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সারসংক্ষেপে ঘটনাক্রমটি তারিখসহ আছে। ২০১০ সালে Norwegian Water Resources and Energy Directorate রোয়ান ও স্টরহেইয়া বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য লাইসেন্স দেয় — অন্যগুলোর সঙ্গে।

এই কেন্দ্রগুলো অবস্থিত ফোসেন চারণ-জেলার ভেতরে, যেখানে Sør-Fosen sijte ও Nord-Fosen siida রেইনডিয়ার-পালন করে।

পালকেরা দাবি করেছিলেন যে নির্মাণকাজ তাঁদের নিজের সংস্কৃতি উপভোগের অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে। রায়ের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী ২০১৩ সালে Ministry of Petroleum and Energy এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

বিষয়টি আদালতে যায়। তবু — রায়ের ভাষায় — “Fosen Vind DA was nonetheless permitted to start the construction”, আর কেন্দ্রগুলো যথাক্রমে ২০১৯ ও ২০২০ সালে প্রস্তুত হয়ে যায়।

রায়ের সারসংক্ষেপে আরেকটি তথ্যও আছে: এগুলো ইউরোপের বৃহত্তম স্থলভাগের বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের অংশ।

এই ঘটনাক্রমটি মনোযোগ দিয়ে পড়া দরকার: মামলা চলছিল, আর নির্মাণ শেষ হয়ে উৎপাদনও শুরু হয়ে গিয়েছিল।

ICCPR-র ২৭ অনুচ্ছেদ

মামলার মূল প্রশ্নটি ছিল একটি আন্তর্জাতিক সনদের একটি অনুচ্ছেদ নিয়ে — International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR)-এর ২৭ অনুচ্ছেদ।

রায়ের সারসংক্ষেপে অনুচ্ছেদটির বিষয়বস্তু লেখা আছে: জাতিগত, ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত মানুষদের নিজ গোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে নিজের সংস্কৃতি উপভোগের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

আর একটি বিষয় আদালতে বিতর্কিত ছিল না — রায়ের ভাষায়: “It is undisputed that reindeer husbandry is a protected cultural practice.” অর্থাৎ রেইনডিয়ার-পালন একটি সুরক্ষিত সাংস্কৃতিক চর্চা, এই বিষয়ে কোনো বিরোধ ছিল না।

এই একটি স্বীকৃতিই মামলার ভিত্তি। জীবিকা নয়, সংস্কৃতি — আর সংস্কৃতি উপভোগের অধিকার একটি আন্তর্জাতিক সনদে সুরক্ষিত।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের জন্য এই কাঠামোটি গুরুত্বপূর্ণ। জুমচাষ যদি একটি সাংস্কৃতিক চর্চা হিসেবে স্বীকৃত হয়, তবে তার উপর হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একই ধরনের যুক্তি দাঁড় করানো যায়।

‘চারণভূমি কার্যত হারিয়ে গেছে’

সুপ্রিম কোর্ট ঘটনাগত বিষয়ে আপিল আদালতের অনুসন্ধানের উপর নির্ভর করেছিল — কারণ রায়ের ভাষায় আপিল আদালতের মূল্যায়নের ভিত্তি সুপ্রিম কোর্টের চেয়ে ভালো ছিল।

আপিল আদালতের উপসংহার দুটি, আর সুপ্রিম কোর্ট সেগুলোকেই শুরুর বিন্দু ধরেছে:

  1. স্টরহেইয়া ও রোয়ানের কাছের শীতকালীন চারণভূমি কার্যত হারিয়ে গেছে (“in practice lost”)
  2. প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা না নিলে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পটি ফোসেনে রেইনডিয়ার-পালনের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলবে

“অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে” — আদালতের নথিতে এই ভাষা থাকলে পরের আইনি সিদ্ধান্তের পথ অনেকটা নির্ধারিত হয়ে যায়।

ফিনমার্কসভিদ্দায় শীতকালীন চারণভূমিতে সামি পালক ও রেইনডিয়ারের দল
শীতকালীন চারণভূমিতে রেইনডিয়ারের দলের সঙ্গে সামি পালক। ফাইলের বিবরণ অনুযায়ী জায়গাটি ফিনমার্কসভিদ্দা — ফিনমার্কের উচ্চভূমি, নরওয়ের বৃহত্তম মালভূমি। ছবি: Elisabeth Meyer, Preus museum-এর সংগ্রহ, উইকিমিডিয়া কমন্স, CC BY 2.0; ফাইলে তারিখ দেওয়া নেই, আর এটি ফোসেনের ছবি নয় (মূল ফাইল)

মাপকাঠি: ‘significant adverse effects’

২৭ অনুচ্ছেদ কখন লঙ্ঘিত হয়, তার মাপকাঠিটি সুপ্রিম কোর্ট নির্দিষ্ট করেছে — আর ভিত্তি হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটির বক্তব্য।

রায়ের ভাষায়: লঙ্ঘন হবে যদি হস্তক্ষেপটির “significant adverse effects on the possibility of cultural enjoyment” থাকে — অর্থাৎ সাংস্কৃতিক উপভোগের সম্ভাবনার উপর উল্লেখযোগ্য প্রতিকূল প্রভাব।

এটি একটি প্রভাব-ভিত্তিক মাপকাঠি, উদ্দেশ্য-ভিত্তিক নয়। রাষ্ট্রের অভিপ্রায় ভালো ছিল কি না, সেই প্রশ্ন এখানে নেই।

মোট প্রভাবের হিসাব

রায়ের দ্বিতীয় নীতিগত সিদ্ধান্তটি আরও দূর পর্যন্ত যায়। আদালত বলছে, হস্তক্ষেপটি নিজেই এতটা গুরুতর হতে পারে যে তা লঙ্ঘনের সমান হয় — তবে তাকে অন্য প্রকল্পগুলোর প্রেক্ষিতেও বিবেচনা করতে হবে, আগের ও পরিকল্পিত, দুই-ই।

আর উপসংহার: “The total effect of the development determines whether a violation has taken place.” — মোট প্রভাবই নির্ধারণ করে লঙ্ঘন হয়েছে কি না।

এই নীতিটি ব্যবহারিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী। একটি একটি প্রকল্পকে আলাদা করে দেখলে প্রত্যেকটিই ছোট মনে হয়; সব মিলিয়ে দেখলে ছবিটা বদলে যায়।

পাহাড়ের ভূমি-হারানোর হিসাবেও একই কথা। একটি সড়ক, একটি রিসোর্ট, একটি ক্যাম্প — আলাদা করে প্রত্যেকটি ছোট; মোট হিসাব আলাদা।

‘সমানুপাতিকতার কোনো জায়গা নেই’

রায়ের তৃতীয় নীতিগত বক্তব্যটি সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত: “As a starting point, there is no room for a proportionality assessment balancing the minority’s interests against other interests of society.”

অর্থাৎ শুরুর বিন্দু হিসেবে সংখ্যালঘুর স্বার্থকে সমাজের অন্য স্বার্থের সঙ্গে ওজন করে দেখার কোনো জায়গা নেই।

তবে একটি ব্যতিক্রম আছে: ২৭ অনুচ্ছেদের অধিকার যদি অন্য কোনো মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সংঘর্ষে যায়, তবে ভারসাম্য খুঁজতে হবে। আর আদালত প্রতিষ্ঠিত করেছে যে “ভালো ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অধিকার” এমন একটি সংঘর্ষশীল অধিকার হতে পারে।

এখানেই সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ মামলায় ঢোকে। পরিবেশের অধিকার বনাম সংস্কৃতির অধিকার — দুটোই মৌলিক।

সবুজ রূপান্তর বনাম সংস্কৃতি

আদালত Fosen Vind DA-র একটি যুক্তি মেনে নিয়েছে: রায়ের ভাষায় “a ‘green shift’ and increased renewable energy production are important factors” — সবুজ রূপান্তর ও নবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কিন্তু তারপরেই রায়ের সিদ্ধান্তটি আসে, আর সেটি নির্দিষ্ট একটি কারণে: যেহেতু অন্য — এবং রেইনডিয়ার-পালকদের জন্য কম ক্ষতিকর — বিকল্প ছিল, যা এই বিষয়গুলোকেও হিসাবে নিতে পারত, তাই এই মামলায় পরিবেশগত স্বার্থ ও সাংস্কৃতিক উপভোগের অধিকারের মধ্যে কোনো সংঘর্ষ ছিল না।

অর্থাৎ আদালত সবুজ রূপান্তরকে অস্বীকার করেনি। বলেছে, এই নির্দিষ্ট জায়গায় এই নির্দিষ্ট প্রকল্পটি করার দরকার ছিল না — বিকল্প ছিল।

এই যুক্তিটি মনে রাখার মতো। “উন্নয়ন বনাম আদিবাসী অধিকার” — এই দ্বৈততাটিকে আদালত ভেঙে দিয়েছে বিকল্পের প্রশ্ন তুলে।

বেড়ার ভেতরে খাওয়ানোর প্রস্তাব

আপিল আদালত একটি সমাধান দিয়েছিল: বেড়া দিয়ে ঘেরা রেইনডিয়ারদের শীতকালীন খাওয়ানোর জন্য বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ — আর সেই ভিত্তিতে তারা সাংস্কৃতিক উপভোগের অধিকারের কোনো লঙ্ঘন পায়নি।

সুপ্রিম কোর্ট এই সমাধান মানেনি। রায়ের ভাষায় এমন সমাধান “burdened with so much uncertainty” — এত বেশি অনিশ্চয়তায় ভরা — যে আপাতত ২৭ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘিত হয়েছে কি না তা নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না।

আদালত আরও একটি কথা বলেছে, যা আলাদা করে লেখার মতো: আদালতগুলো যেকোনো অবস্থাতেই এই ধরনের ব্যবস্থাকে রেইনডিয়ার-পালকদের অভিযোজনের দায়-এর অংশ হিসেবে ধরতে পারে না।

“অভিযোজনের দায়” — অর্থাৎ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর দায়িত্ব। আদালত বলছে, সেই দায় জনগোষ্ঠীর উপর এভাবে চাপানো যায় না।

২০২১ থেকে ২০২৪: দুই বছর পাঁচ মাস

রায়ের তারিখ ১১ অক্টোবর ২০২১। আর নরওয়ের সামেদিগির বিবৃতির তারিখ ৬ মার্চ ২০২৪ — যেখানে বলা হচ্ছে, এখন মনে করার কারণ আছে যে মানবাধিকার লঙ্ঘনটি শেষ করা হয়েছে।

সামেদিগির ভাষাটি হুবহু: “Med avtale både for Sør-Fosen sijte og Nord-Fosen siida er det grunn til å mene at menneskerettsbruddet er bragt til opphør, og at avtalen legger et grunnlag for at menneskerettsbruddet kan repareres.”

অর্থাৎ Sør-Fosen sijte ও Nord-Fosen siida — দুটির জন্যই চুক্তি হওয়ার পর মনে করার কারণ আছে যে লঙ্ঘনটি শেষ হয়েছে, এবং চুক্তিটি লঙ্ঘন মেরামতের একটি ভিত্তি তৈরি করে।

দুটি শব্দ আলাদা। লঙ্ঘন শেষ হওয়া আর লঙ্ঘন মেরামত হওয়া — সামেদিগি দুটিকে আলাদা করেই লিখেছে। প্রথমটি হয়েছে, দ্বিতীয়টির “ভিত্তি” তৈরি হয়েছে।

আর বিবৃতিটি একটি শর্তও দিয়েছে: “তাই এটি অত্যন্ত জরুরি যে রাষ্ট্র দ্রুত দুটি সিইদার জন্যই প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ভূমি নিশ্চিত করে।”

চুক্তিতে কী আছে

সামেদিগির বিবৃতি অনুযায়ী Nord-Fosen siida, Roan Vind DA ও রাষ্ট্র — তিন পক্ষ — একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যা সিইদার জন্য রেইনডিয়ার-পালন চালিয়ে যাওয়ার ভিত্তি নিশ্চিত করবে।

বিবৃতিতে সামেদিগি স্বীকার করেছে যে তারা পুরো চুক্তিটি তখনো পড়তে পারেনি, তবে বুঝতে পেরেছে যে এতে Sør-Fosen-এর চুক্তির মতোই দুটি উপাদান আছে — আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং শীতকালীন চারণের জন্য নতুন ভূমি।

এই সততাটুকু লক্ষ করার মতো। একটি প্রতিষ্ঠান বিবৃতি দিচ্ছে, আর সেখানেই লিখে দিচ্ছে যে তারা এখনো সম্পূর্ণ নথিটি পড়েনি।

রাষ্ট্রের তিনটি অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি

সামেদিগির বিবৃতি অনুযায়ী Nord-Fosen-এর চুক্তিতে রাষ্ট্র তিনটি অতিরিক্ত ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আর তিনটিই নির্দিষ্ট।

  1. দক্ষিণ-সামি সংস্কৃতি শক্তিশালী করার জন্য রাষ্ট্র আলাদা তহবিল বরাদ্দ করবে।
  2. দেশের যেসব রেইনডিয়ার-পালক সিইদা বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র দ্বারা প্রভাবিত হয়, তাদের প্রত্যেকের জন্য বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের ০.১ ওরে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা সরাসরি তাদের নিজেদের সিইদা-তহবিলে বরাদ্দ হবে।
  3. রাষ্ট্র ফোসেনের ভূমি-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে, যাতে রেইনডিয়ার-পালন আর ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং যাতে তাঁরা পরবর্তীতে ফোসেনে পূর্ণভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হতে পারেন।

দ্বিতীয়টি সবচেয়ে অভিনব। এটি কেবল ফোসেনের দুটি সিইদার জন্য নয় — দেশের সব প্রভাবিত সিইদার জন্য, আর হিসাবটি উৎপাদনের পরিমাণের সঙ্গে বাঁধা।

সামেদিগি সভাপতি সিল্‌য়ে কারিনে মুওৎকা-র মন্তব্য বিবৃতিতে আছে: তিনি Nord-Fosen siida-কে প্রশংসা জানান, কারণ তারা নিজেদের একেবারে মৌলিক স্বার্থ ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এমন ব্যবস্থাও আদায় করেছে, যা দক্ষিণ-সামি সংস্কৃতি ও গোটা রেইনডিয়ার-পালন ব্যবস্থাকে প্রতিদান দেয়।

নরওয়ের সামি সংসদের সভাপতি সিল্‌য়ে কারিনে মুওৎকা, ২০২১
সামেদিগি সভাপতি (Sámediggepresideanta) সিল্‌য়ে কারিনে মুওৎকা, ২১ অক্টোবর ২০২১। ছবি: Árvu/Sámediggi — Sametinget, উইকিমিডিয়া কমন্স, CC BY 2.0 (মূল ফাইল)

পাহাড়ের পাঠকের জন্য যা থাকে

সামি-অভিজ্ঞতা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের জন্য সবচেয়ে কাজের চারটি জিনিস — আর একটিও সংখ্যা নয়।

এক — পরিচয়ের মাপকাঠি ভাষা হতে পারে। নরওয়ের সামি ভোটার তালিকায় নাম তোলার শর্ত নিজের ঘোষণা, আর তার সঙ্গে ঘরের ভাষা — নিজের, বাবা-মায়ের, দাদা-দাদির, এমনকি তাঁদের বাবা-মায়ের। বংশ-অনুপাতের কোনো হিসাব নেই।

দুই — “সংস্কৃতি উপভোগের অধিকার” একটি কার্যকর আইনি হাতিয়ার। ফোসেন মামলা জিতেছে ভূমি-মালিকানার যুক্তিতে নয়; জিতেছে ICCPR-র ২৭ অনুচ্ছেদে, রেইনডিয়ার-পালনকে একটি সুরক্ষিত সাংস্কৃতিক চর্চা হিসেবে ধরে নিয়ে। আর সেই স্বীকৃতিটি আদালতে বিতর্কিতই ছিল না।

তিন — মোট প্রভাবের হিসাব চাওয়া যায়। আদালত বলেছে, একটি প্রকল্পকে আগের ও পরিকল্পিত সব প্রকল্পের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে, আর মোট প্রভাবই নির্ধারক। পাশাপাশি বলেছে, শুরুর বিন্দু হিসেবে সংখ্যালঘুর স্বার্থকে সমাজের অন্য স্বার্থের সঙ্গে ওজন করার জায়গা নেই।

চার — রায় আর রায়ের বাস্তবায়ন আলাদা। সর্বোচ্চ আদালতের গ্র্যান্ড চেম্বার সর্বসম্মতভাবে লাইসেন্স অবৈধ ঘোষণা করেছিল ২০২১ সালের অক্টোবরে। আর সামি সংসদ লঙ্ঘনটি “শেষ করা হয়েছে” বলতে পেরেছে ২০২৪ সালের মার্চে — দুই বছর পাঁচ মাস পরে, এবং চুক্তির মাধ্যমে, রায়ের সরাসরি কার্যকরণে নয়।

এই শেষ কথাটিই ১৯৯৭ সালের চুক্তির পাঠকের কাছে সবচেয়ে চেনা। নথিতে লেখা থাকা আর মাঠে ঘটা — দুটি আলাদা জিনিস, এমনকি সেখানেও, যেখানে আদালত পক্ষে রায় দেয়।

মামলাটি কাদের মধ্যে ছিল

নরওয়ের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পক্ষগুলোর তালিকা দেওয়া আছে, আর সেটি পড়লে ক্ষমতার বিন্যাস দেখা যায়। মামলাটি ছিল তিনটি আলাদা মামলার সমষ্টি — কেস নম্বর 20-143891SIV-HRET, 20-143892-SIV-HRET ও 20-143893SIV-HRET।

একদিকে ছিল Statnett SF ও Fosen Vind DA; অন্যদিকে Sør-Fosen sijte ও Nord-Fosen siida। আর রাষ্ট্র — the State represented by the Ministry of Petroleum and Energy — অংশ নিয়েছিল হস্তক্ষেপকারী (intervener) হিসেবে।

রায়ে বিচারকদের নামও আছে, এগারো জন: প্রধান বিচারপতি Øie এবং বিচারপতি Skoghøy, Falkanger, Noer, Bull, Kallerud, Bergsjø, Falch, Østensen Berglund, Thyness ও Steinsvik।

এগারো জন বিচারপতির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত — রায়ের সারসংক্ষেপে এই শব্দটি (unanimously) স্পষ্ট লেখা আছে। কোনো ভিন্নমত ছিল না।

রাষ্ট্র কীভাবে মামলাটি সাজাতে চেয়েছিল

আর্কাইভের লেখায় সুইডেনের গির্জাস মামলা নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ আছে, যা আইনি কৌশলের দিকটি দেখায়: বিচার চলাকালীন রাষ্ট্র বিষয়টিকে একটি প্রশাসনিক বিবাদ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিল।

লেখাটির মূল্যায়ন ভিন্ন: প্রকৃতপক্ষে যা ঘটেছিল তা ছিল “জনগণের চুরি হওয়া জিনিসগুলো ফিরিয়ে আনার একটি ন্যায়ের লড়াই”।

আর তৃতীয় একটি তথ্য লেখাটিতে আছে, যা সবচেয়ে সরাসরি: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এমনকি দাবি করার চেষ্টা করেছিলেন যে গির্জাসদের আদিবাসী পরিচয় এই মামলার সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক।

অর্থাৎ কৌশলটি ছিল মামলার শ্রেণি বদলে দেওয়া — আদিবাসী অধিকারের মামলা থেকে প্রশাসনিক বিবাদে, যেখানে পরিচয়ের প্রশ্নটি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়।

লেখাটির উপসংহার: রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিজয় সত্ত্বেও গির্জাসের মামলাটি আবার স্পষ্ট করেছে যে সুইডেন তার ঔপনিবেশিক ইতিহাসকে স্বীকৃতি দিতে ও সম্বোধন করতে রাজি নয়।

আন্তর্জাতিক সমালোচনা

আর্কাইভের লেখায় একটি তথ্য আছে, যা দেখায় বিষয়টি কেবল অভ্যন্তরীণ নয়: সামি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুইডিশ রাষ্ট্রের আচরণ বারবার সমালোচিত হয়েছে জাতিসংঘ হাইকমিশনারের দফতর এবং ইউরোপ কাউন্সিলের দফতরের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার দ্বারা।

“বারবার” — শব্দটি লক্ষণীয়। অর্থাৎ একবারের কোনো পর্যবেক্ষণ নয়, ধারাবাহিক।

এই প্রসঙ্গটি ফোসেন মামলার মাপকাঠির সঙ্গেও মেলে। নরওয়ের সুপ্রিম কোর্ট ২৭ অনুচ্ছেদের মাপকাঠি ঠিক করতে বিশেষভাবে ভিত্তি করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটির বক্তব্যকে।

অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পর্যবেক্ষণ জাতীয় আদালতের রায়ে ঢুকতে পারে — যদি রাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট সনদের পক্ষ হয়।

জলবায়ু-যুক্তির অন্য দিক

আর্কাইভের লেখায় একটি যুক্তি আছে, যা আদিবাসী ভূমিকে জলবায়ু-সংকটের সমাধানের অংশ হিসেবে দেখে — ঠিক উল্টো দিক থেকে।

লেখাটির ভাষায় আদিবাসীদের ভূমি ও জীববৈচিত্র্য আঞ্চলিক প্রশাসনের মূল ব্যবস্থা, যা জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে। সেই হিসাবে গির্জাসদের নিজের ভূমির উপর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়ার লড়াইকেও জরুরি জলবায়ু পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত।

লেখাটি আরও বলছে, পৃথিবীর ভবিষ্যৎ বিঘ্নিত না করে বেঁচে থাকার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আদিবাসীদের আছে — তবু জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট তাঁদেরই সহ্য করতে হচ্ছে।

আর লেখাটির সতর্কবার্তা: জলবায়ু-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড, প্রযুক্তি ও নতুন চুক্তিগুলো দীর্ঘস্থায়ী টেকসই পরিবর্তন অর্জনে ব্যর্থ হবে, যদি তারা আদিবাসীদের দুর্দশা উপেক্ষা করে ঔপনিবেশিক স্বার্থ ও ক্ষতিকর পদ্ধতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।

ফোসেন মামলার রায় এই যুক্তির একটি আইনি প্রতিধ্বনি। আদালত সবুজ রূপান্তরকে গুরুত্বপূর্ণ বলেছে, কিন্তু বলেছে যে কম-ক্ষতিকর বিকল্প থাকলে সংঘর্ষের প্রশ্নই আসে না।

সাপমি থেকে আমাজন

আর্কাইভের লেখাটি শেষ হয় একটি ভৌগোলিক তালিকায়, যা আদিবাসী আন্দোলনের বিস্তার দেখায়: ইউরোপের সাপমি থেকে শুরু করে আমাজন, আর কানাডার দাবিকৃত ভূমিতে ওয়েটসুয়েটেন (Wet’suwet’en) অঞ্চল পর্যন্ত আদিবাসী কর্মীরা পরিবেশগত ও সামাজিক ভাঙন প্রতিরোধে সম্মুখভাগে আছেন।

লেখাটির মূল্যায়ন: সব বাধা সত্ত্বেও আদিবাসী সম্প্রদায়গুলো টেকসই জলবায়ু-পরিবর্তনের পথে দাঁড়ানো বৃহৎ ও ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে লড়তে সক্ষম এবং সংকল্পবদ্ধ।

তবে লেখাটি একটি সীমাও স্বীকার করেছে, আর সেই সততাটুকু উল্লেখ করা দরকার: “গির্জাসকে ছাড়িয়ে সামির পক্ষে এই বিজয়ের অর্থ কী হবে তা এখনও পরিষ্কার নয়।”

লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল ফোসেন রায়ের আগে। আমাজনের ছবিটি যেমন ২০২৩-২৪-এ আরও স্পষ্ট হয়েছে, সামিদের ক্ষেত্রেও ২০২১-এর রায় ও ২০২৪-এর চুক্তি সেই প্রশ্নের একটি উত্তর দিয়েছে।

তিন দেশের ছক পাশাপাশি

এই লেখার উৎসগুলো থেকে যা যা নিশ্চিতভাবে পাওয়া গেছে, তা এক ছকে রাখলে পার্থক্যগুলো দেখা যায় — আর যেখানে উৎস নেই, সেই ঘরগুলোও খালিই রাখা হলো।

কী নরওয়ে ফিনল্যান্ড সুইডেন
সামি সংসদের সদস্য ৩৯ (৭ নির্বাচনী এলাকা) ২১ + ৪ উপসদস্য উৎসে পাওয়া যায়নি
মেয়াদ ৪ বছর, ১ অক্টোবর থেকে ৪ বছর উৎসে পাওয়া যায়নি
সাংবিধানিক স্বীকৃতি ১০৮ অনুচ্ছেদ, “as an indigenous people” সংসদের ভাষায় সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত উৎসে পাওয়া যায়নি
ILO ১৬৯ উৎসে পাওয়া যায়নি উৎসে পাওয়া যায়নি অনুসমর্থন করেনি (আর্কাইভ)
বড় আদালতি রায় HR-2021-1975-S, ১১.১০.২০২১ — লাইসেন্স অবৈধ উৎসে পাওয়া যায়নি গির্জাস মামলা — শিকার ও মাছ ধরার অধিকার

ছকটির সবচেয়ে বক্তব্যপূর্ণ ঘরগুলো হলো “উৎসে পাওয়া যায়নি” লেখা ঘরগুলো। এগুলো অনুপস্থিত তথ্য, অনুপস্থিত ব্যবস্থা নয় — আর এই দুটি আলাদা জিনিস।

ভাষা নির্মূল, উচ্ছেদ ও নিষ্কাশন

আর্কাইভের লেখায় সামিদের প্রতি রাষ্ট্রীয় আচরণের তিনটি ধরন আলাদা করে চিহ্নিত আছে, আর তিনটিই আজও চলছে বলে লেখাটির দাবি।

  • রাষ্ট্র-সমর্থিত নিষ্কাশন-শিল্প (Extraction), যা আদিবাসী ভূমি গ্রাস করে
  • সেই নীতিসমূহ, যা আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোকে দেশান্তরি হতে বাধ্য করে
  • সামি ভাষাগুলো নির্মূলের ক্রমাগত সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, যা লেখাটির ভাষায় “অপূরণীয় লোকসান” ঘটায় এবং বহু প্রজন্মকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে

তৃতীয় বিন্দুটি এই লেখার আগের অংশগুলোর পাশে রাখা দরকার। নরওয়ের সামি আইনে ভাষার জন্য একটি আলাদা প্রশাসনিক এলাকা আছে, আদালতে সামি ভাষা ব্যবহারের অধিকার আছে, স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে সামি ভাষায় সেবার কথা আছে, আর সরকারি কর্মচারীদের সামি শেখার জন্য বেতনসহ ছুটির ব্যবস্থা আছে।

অর্থাৎ একই ভূখণ্ডের একদিকে ভাষা-নির্মূলের ইতিহাস, আর অন্যদিকে ভাষা-পুনরুদ্ধারের আইনি যন্ত্র। দুটোই একসঙ্গে সত্য।

এই দ্বৈততাটি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের জন্য সবচেয়ে ব্যবহারিক পাঠ। ক্ষতি স্বীকার করা আর যন্ত্র বানানো — একটি ছাড়া অন্যটি কাজ করে না।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

সামি জনগোষ্ঠী কোথায় থাকেন?

সামিরা থাকেন নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও রাশিয়ার ভেতরে, আর তাঁদের নিজের ভাষায় এই ভূখণ্ডের নাম সাপমি (Sápmi)। জুমজার্নালের আর্কাইভে প্রকাশিত লেখা অনুযায়ী সুইডেনের প্রায় অর্ধেক অঞ্চল সামিদের পৈতৃক ভূমি।

সামিরা কি ইউরোপের একমাত্র স্বীকৃত আদিবাসী জাতি?

ফিনল্যান্ডের সামি সংসদ তাদের নিজের পাতায় লিখেছে “The Sámi are the only Indigenous people in the European Union” — অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র আদিবাসী জাতি। একই পাতায় বলা আছে, আদিবাসী জাতি হিসেবে সামিদের মর্যাদা ফিনল্যান্ডের সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত।

সামি সংসদ কতটি, আর কত সদস্যের?

নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডে আলাদা সামি সংসদ আছে। নরওয়ের সামেদিগিতে ৩৯ জন প্রতিনিধি, ৭টি নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রতি চার বছরে নির্বাচিত। ফিনল্যান্ডের সামি সংসদে ২১ জন সদস্য ও ৪ জন উপসদস্য, প্রতি চার বছরে নির্বাচিত। সুইডেনের সামেতিংগেতের সংখ্যা এই লেখার উৎসে পাওয়া যায়নি।

নরওয়ের সামেদিগি কখন প্রতিষ্ঠিত হয়?

সামেদিগির নিজের পাতা অনুযায়ী প্রথম সামি সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৮৯ সালের শরৎকালে, আর প্রথম আনুষ্ঠানিক সামেদিগি উদ্বোধন হয় ১৯৮৯ সালের ৯ অক্টোবর কারাসিয়কে, রাজা পঞ্চম ওলাভের হাতে। আইনি ভিত্তি ১২ জুন ১৯৮৭-র সামি আইন (LOV-1987-06-12-56)।

সামি ভোটার তালিকায় নাম তোলার শর্ত কী?

সামি আইনের ২-৬ ধারা অনুযায়ী নিজেকে সামি হিসেবে ঘোষণা করতে হবে, এবং তার সঙ্গে তিনটির একটি — সামি ভাষা ঘরের ভাষা হওয়া; অথবা বাবা-মা, দাদা-দাদি বা তাঁদের বাবা-মায়ের কারও ঘরের ভাষা সামি হওয়া; অথবা তালিকায় ইতিমধ্যে নিবন্ধিত কোনো ব্যক্তির সন্তান হওয়া।

নরওয়ের সংবিধানে সামিদের নিয়ে কী আছে?

১০৮ অনুচ্ছেদে লেখা আছে: “The authorities of the state shall create conditions enabling the Sami people, as an indigenous people, to preserve and develop its language, culture and way of life.” অর্থাৎ রাষ্ট্র এমন পরিস্থিতি তৈরি করবে যাতে সামি জনগোষ্ঠী একটি আদিবাসী জাতি হিসেবে নিজের ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারা রক্ষা ও বিকশিত করতে পারে।

গির্জাস মামলায় কী হয়েছিল?

জুমজার্নালের আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী সামি রেইনডিয়ার-পালক সম্প্রদায় গির্জাস সুইডিশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জয়ী হয়; সুইডিশ সুপ্রিম কোর্ট বংশানুক্রমিক ভূমিতে বসবাসের দাবিকে আইনত স্বীকৃতি দেয় এবং রাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়াই গ্যালিভারের গির্জাস সামি গ্রামকে তাঁদের অঞ্চলে শিকার ও মাছ ধরার অধিকার দেয়।

ফোসেন মামলা কী নিয়ে ছিল?

নরওয়ের সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী প্রশ্ন ছিল, ফোসেন উপদ্বীপে স্টরহেইয়া ও রোয়ান বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ ICCPR-র ২৭ অনুচ্ছেদে রেইনডিয়ার-পালকদের নিজের সংস্কৃতি উপভোগের অধিকারের লঙ্ঘন কি না। গ্র্যান্ড চেম্বার সর্বসম্মতভাবে লঙ্ঘন খুঁজে পায় এবং লাইসেন্স ও অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে।

রায়ের তারিখ ও মামলার নম্বর কী?

রায়ের তারিখ ১১ অক্টোবর ২০২১, নম্বর HR-2021-1975-S; তিনটি কেস নম্বর 20-143891SIV-HRET, 20-143892-SIV-HRET ও 20-143893SIV-HRET। এগারো জন বিচারপতি সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মতভাবে দেন।

লঙ্ঘনের মাপকাঠি কী ঠিক হয়েছিল?

রায় অনুযায়ী ২৭ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন হবে যদি হস্তক্ষেপটির “significant adverse effects on the possibility of cultural enjoyment” থাকে। আদালত আরও বলেছে, হস্তক্ষেপটিকে আগের ও পরিকল্পিত অন্য প্রকল্পের প্রেক্ষিতে দেখতে হবে, আর মোট প্রভাবই নির্ধারণ করে লঙ্ঘন হয়েছে কি না।

সবুজ রূপান্তরের যুক্তি আদালত মানেনি কেন?

আদালত সবুজ রূপান্তর ও নবায়নযোগ্য শক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মেনে নিয়েছে। তবে রায় অনুযায়ী যেহেতু অন্য — এবং পালকদের জন্য কম ক্ষতিকর — বিকল্প ছিল, তাই এই মামলায় পরিবেশগত স্বার্থ ও সাংস্কৃতিক উপভোগের অধিকারের মধ্যে কোনো সংঘর্ষ ছিল না।

রায়ের পরে কী হলো?

নরওয়ের সামেদিগির ৬ মার্চ ২০২৪-এর বিবৃতি অনুযায়ী Sør-Fosen sijte ও Nord-Fosen siida — দুটির জন্যই চুক্তি হওয়ার পর মনে করার কারণ আছে যে মানবাধিকার লঙ্ঘনটি শেষ করা হয়েছে এবং চুক্তিটি তা মেরামতের ভিত্তি তৈরি করে। চুক্তিতে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও শীতকালীন চারণের নতুন ভূমি আছে, আর রাষ্ট্র তিনটি অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে — দক্ষিণ-সামি সংস্কৃতির জন্য আলাদা তহবিল, প্রভাবিত সব সিইদার জন্য বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের ০.১ ওরে/kWh, এবং ফোসেনের ভূমি-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ।

যা এখনো জানা যায়নি

  • সুইডেনের সামেতিংগেত — সদস্যসংখ্যা, প্রতিষ্ঠার সন ও আইনি ভিত্তি এই রাউন্ডে সরকারি উৎস থেকে নেওয়া যায়নি, তাই লেখা হয়নি।
  • ফিনল্যান্ডের সামি সংসদের প্রতিষ্ঠাকাল ও ভোটার তালিকার শর্ত — তাদের পরিচিতি-পাতায় নেই।
  • সামি জনসংখ্যার সংখ্যা — চার দেশের কোনো সরকারি উৎস থেকে এই রাউন্ডে সংখ্যা নেওয়া যায়নি, তাই কোনো সংখ্যা লেখা হয়নি।
  • গির্জাস রায়ের সঠিক তারিখ ও মামলার নম্বর — আর্কাইভের লেখায় “জানুয়ারির শেষের দিকে” লেখা আছে; সুইডিশ সুপ্রিম কোর্টের নিজের নথি এই রাউন্ডে পড়া হয়নি।
  • ফোসেন চুক্তির পূর্ণ শর্ত — সামেদিগি নিজেই বলেছে তারা তখনো পুরো চুক্তিটি পড়তে পারেনি; রাষ্ট্রের নিজের পাতাগুলো এই রাউন্ডে পড়া যায়নি।
  • ২০২১ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে টারবাইনগুলোর অবস্থা — রায়ের পরে কেন্দ্রগুলো চালু ছিল কি না, তা এই লেখার উৎসে নেই। তাই কেবল এটুকু লেখা আছে যে সামেদিগি ২০২৪ সালের মার্চে লঙ্ঘনটি “শেষ করা হয়েছে” বলেছে।
  • ০.১ ওরে/kWh-এর টাকার পরিমাণ — এটি বছরে কত টাকায় দাঁড়ায়, সামেদিগির বিবৃতিতে নেই।
  • রাশিয়ার সামিদের অবস্থা — আর্কাইভের লেখায় রাশিয়ার উল্লেখ আছে, কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান বা আইনের তথ্য কোনো উৎসেই পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র

  1. জুমজার্নাল আর্কাইভ — “সুইডেনের উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে একটি বিজয়”। গির্জাস মামলা ও গ্যালিভারে শিকার-মাছ ধরার অধিকার; সুইডেনের অর্ধেক পৈতৃক ভূমি; ILO ১৬৯ অনুসমর্থনের অনুপস্থিতি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি; হান্স ফোর্সেল ও ঊনবিংশ শতকের নথি; আসা লারসন ব্লাইন্ড ও জুলিয়া রেন্সবার্গের উদ্ধৃতি; রেবেকা লরেন্সের ২০১৪-র গবেষণা; COP25, “সবুজ উপনিবেশবাদ”, সাপমি-আমাজন-ওয়েটসুয়েটেন; জাতিসংঘ হাইকমিশনার ও ইউরোপ কাউন্সিলের সমালোচনা। অনুবাদক Rahin Chakma। মূল লেখা
  2. Høyesterett (Supreme Court of Norway) — HR-2021-1975-S, ১১ অক্টোবর ২০২১। পক্ষ ও কেস নম্বর; এগারো বিচারপতির নাম; গ্র্যান্ড চেম্বারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত; ২০১০-এর লাইসেন্স, ২০১৩-র প্রত্যাখ্যান, ২০১৯ ও ২০২০-তে চালু, ইউরোপের বৃহত্তম স্থল-প্রকল্প; ২৭ অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু ও রেইনডিয়ার-পালনের সুরক্ষিত মর্যাদা; “in practice lost” ও অস্তিত্বের হুমকি; “significant adverse effects” মাপকাঠি; মোট প্রভাবের নীতি; সমানুপাতিকতার প্রশ্ন ও পরিবেশের অধিকার; সবুজ রূপান্তর ও বিকল্পের যুক্তি; বেড়ার ভেতরে খাওয়ানোর প্রস্তাব ও “অভিযোজনের দায়”। রায়ের সারসংক্ষেপ
  3. Sámediggi / Sametinget (নরওয়ে) — “Avtale for Nord-Fosen siida”, ৬ মার্চ ২০২৪। তিন পক্ষের চুক্তি; আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও নতুন শীত-চারণভূমি; রাষ্ট্রের তিনটি অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি (দক্ষিণ-সামি সংস্কৃতির তহবিল, ০.১ ওরে/kWh সিইদা-তহবিলে, ফোসেনের ভূমি-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ); সভাপতি সিল্‌য়ে কারিনে মুওৎকার মন্তব্য ও “menneskerettsbruddet er bragt til opphør”। বিবৃতি
  4. Sámediggi / Sametinget (নরওয়ে) — “Om Sametinget”। ৩৯ প্রতিনিধি, ৭ নির্বাচনী এলাকা, চার বছর; প্রথম নির্বাচন ১৯৮৯-এর শরৎ; প্রথম সামেদিগি উদ্বোধন ৯ অক্টোবর ১৯৮৯, কারাসিয়ক, রাজা পঞ্চম ওলাভ। sametinget.no
  5. Lovdata — Act on the Sami Parliament and other Sami legal matters (Sami Act), LOV-1987-06-12-56। ১-১ ধারার উদ্দেশ্য; ৩৯ প্রতিনিধি ও সাত নির্বাচনী এলাকা, ১ অক্টোবর থেকে মেয়াদ; ২-৬ ধারার ভোটার-তালিকার শর্ত; ২-১ ধারার কর্মপরিধি ও বাজেট-বরাদ্দ; ৩-১ ধারার ভাষা-প্রশাসনিক এলাকা ও ভাষা-অধিকার। আইনের পাঠ
  6. Lovdata — The Constitution of the Kingdom of Norway। ১০৮ অনুচ্ছেদ (সামি জনগোষ্ঠী) ও ১১২ অনুচ্ছেদ (পরিবেশ)-এর পূর্ণ পাঠ। সংবিধানের পাঠ
  7. Sámediggi (ফিনল্যান্ড) — “Sámi Parliament”। ২১ সদস্য ও ৪ উপসদস্য, প্রতি চার বছর; “The Sámi are the only Indigenous people in the European Union”; ফিনল্যান্ডের সংবিধানে আদিবাসী মর্যাদা। samediggi.fi

নরওয়েজীয় ও ইংরেজি আইনি শব্দবন্ধ এবং সব ব্যক্তি-স্থান-জাতির নাম মূল রূপে রাখা হয়েছে। সর্বশেষ হালনাগাদ: ৮ অক্টোবর ২০২৬।

 

প্রসঙ্গ:অধিকার, আদিবাসী অধিকার, আদিবাসী ভাষা, আন্তর্জাতিক, আন্তর্জাতিক আইন, ভূমি অধিকার

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা