Last updated Oct 17th, 2026
0

২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় একটি গণভোট হয়। প্রশ্নটি ছিল — অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী হুবহু — “A Proposed Law: to alter the Constitution to recognise the First Peoples of Australia by establishing an Aboriginal and Torres Strait Islander Voice. Do you approve this proposed alteration?”
ফল, নির্বাচন কমিশনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী: হ্যাঁ ৬২,৮৬,৮৯৪ ভোট (৩৯.৯৪%), না ৯৪,৫২,৭৯২ ভোট (৬০.০৬%)। ছয়টি রাজ্যের একটিতেও হ্যাঁ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
তার ঠিক ত্রিশ বছর আগে, ১৯৯৩ সালের ২২ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে, একই দেশের সেনেট Native Title Bill পাস করেছিল — প্রায় ৫২ ঘণ্টা বিতর্কের পর।
এই লেখাটি সেই দুটি তারিখের মধ্যেকার দূরত্ব নিয়ে, আর তার আগের ইতিহাস নিয়ে — সরকারি নথি ধরে ধরে।
সাংস্কৃতিক সতর্কবার্তা: অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের নিজের পাতায় এই বিষয়ে একটি সতর্কবার্তা দেওয়া আছে — “Aboriginal and Torres Strait Islander viewers are advised that the following contains the names, voices, and images of deceased persons.” অর্থাৎ এই লেখায় প্রয়াত ব্যক্তিদের নাম ও ছবি আছে; Aboriginal ও Torres Strait Islander পাঠকদের জন্য এই সতর্কবার্তাটি এখানেও রাখা হলো।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি নথিতে শব্দটি একটি নয়, দুটি — Aboriginal এবং Torres Strait Islander। পরিসংখ্যান, আইন ও গণভোটের প্রশ্ন — সবখানেই দুটি নাম একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
অর্থাৎ এটি একটি জনগোষ্ঠী নয়, দুটি আলাদা জনগোষ্ঠী-সমষ্টি: মূল ভূখণ্ডের অ্যাবোরিজিনাল জনগোষ্ঠীগুলো, আর টরেস প্রণালীর দ্বীপবাসীরা।
পার্থক্যটি এই লেখার একটি অংশে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে — কারণ ১৯৯২ সালের যে মামলাটি অস্ট্রেলিয়ার ভূমি-আইন বদলে দিয়েছিল, সেটি করেছিলেন টরেস প্রণালীর মারে দ্বীপপুঞ্জের মেরিয়াম জনগোষ্ঠী।
২০২৩ সালের গণভোটের প্রস্তাবিত সাংবিধানিক পাঠে আরেকটি শব্দ ছিল — First Peoples। আর অস্ট্রেলিয়ার সরকারি দফতরের লেখায় আজ ব্যবহৃত হয় First Nations peoples।
জুমজার্নালের আর্কাইভে প্রকাশিত একটি পরিভাষা-বিষয়ক প্রবন্ধে অস্ট্রেলিয়ার প্রসঙ্গটি নির্দিষ্ট করে আলোচিত হয়েছে।
সেই লেখার ভাষায়: “ইংরেজি aboriginal শব্দটির ব্যবহার বর্তমানে মূলত অস্ট্রেলিয়াতেই সীমিত, যেখানেও indigenous people পদটিকেই অনেকে অধিকতর সম্মানজনক মনে করেন।”
লেখাটি কারণও ব্যাখ্যা করেছে। aboriginal ও সমগোত্রীয় শব্দগুলোর সঙ্গে “সভ্যতার বিচারে নীচু বা আদিম” অর্থটি গেঁথে গিয়েছিল — আর লেখকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বাংলা “আদিবাসী” শব্দের ক্ষেত্রেও সেটিই প্রধান আভিধানিক অর্থ হয়ে উঠেছিল।
একই লেখায় indigenous-এর অর্থ দেওয়া আছে: “আভিধানিক ভাবে indigenous কথাটির অর্থ হচ্ছে স্থানীয়ভাবে উদ্ভূত। কোন নির্দিষ্ট একটি জনগোষ্ঠীকে indigenous বলার অর্থ হচ্ছে এই যে, তারাই নির্দিষ্ট একটি ভূখন্ডের প্রাচীনতম অধিবাসীদের বংশধর।”
আর লেখকের সতর্কবার্তা: “স্পষ্টতঃই এটি একটি আপেক্ষিক ব্যাপার” — স্থান ও কালের সীমানা কীভাবে বাঁধা হচ্ছে, তার উপরই নির্ভর করে কোন প্রেক্ষিতে কাদের indigenous বলা যায়।
এই পোস্টে তাই সরকারি নথির কথা বলার সময় নথির শব্দই রাখা হয়েছে — Aboriginal, Torres Strait Islander, First Peoples — আর বাংলায় যা প্রচলিত, সেটিই।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিকসের হিসাবে ২০২১ সালের ৩০ জুন অস্ট্রেলিয়ায় Aboriginal ও Torres Strait Islander মানুষের সংখ্যা ছিল ৯,৮৩,৭০০ — মোট অস্ট্রেলীয় জনসংখ্যার ৩.৮ শতাংশ।
অর্থাৎ প্রতি ছাব্বিশজন অস্ট্রেলীয়র একজনের কম। সংখ্যাটি দশ লাখেরও নিচে।
এই অনুপাতটি মনে রাখলে পরের অংশগুলোর অর্থ বদলে যায়। ২০২৩ সালের গণভোটে যাঁদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হচ্ছিল, তাঁরা ভোটারদের ৩.৮ শতাংশ।
তুলনার জন্য একটি সংখ্যা পাশে রাখা যায়। ভারতের উপজাতি-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নাগাল্যান্ডে তফসিলি উপজাতি রাজ্যের জনসংখ্যার ৮৬.৫ শতাংশ, মিজোরামে ৯৪.৪ শতাংশ। কোনো জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে গণভোটের গণিত সম্পূর্ণ আলাদা হয়।
ABS-এর একই হিসাবে রাজ্য ও অঞ্চলভিত্তিক বিভাজন:
| রাজ্য/অঞ্চল | সংখ্যা |
|---|---|
| নিউ সাউথ ওয়েলস | ৩,৩৯,৭১০ |
| কুইন্সল্যান্ড | ২,৭৩,১১৯ |
| ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া | ১,২০,০০৬ |
| ভিক্টোরিয়া | ৭৮,৬৯৬ |
| নর্দার্ন টেরিটরি | ৭৬,৪৮৭ |
| সাউথ অস্ট্রেলিয়া | ৫২,০৬৯ |
| তাসমানিয়া | ৩৩,৮৫৭ |
| অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি | ৯,৫২৫ |
ABS-এর নিজের পর্যবেক্ষণ: তিন-চতুর্থাংশ (৭৪.৫%) থাকেন নিউ সাউথ ওয়েলস, কুইন্সল্যান্ড ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া — এই তিনটিতে মিলে।
তাসমানিয়ার সারিটি পরে একটি অনুচ্ছেদে ফিরে আসবে, কারণ সেখানকার ইতিহাস অন্য রাজ্যগুলোর চেয়ে আলাদা।
ABS-এর হিসাবে Aboriginal ও Torres Strait Islander জনগোষ্ঠীর মধ্যমা বয়স ২৪.০ বছর।
অর্থাৎ অর্ধেক মানুষের বয়স চব্বিশের নিচে। এটি একটি তরুণ জনগোষ্ঠীর চিত্র।
মধ্যমা বয়স কম হওয়ার দুটি সম্ভাব্য কারণ থাকে — বেশি জন্মহার, অথবা কম আয়ু। ABS-এর এই পাতায় আয়ুর হিসাব নেই, তাই কোনটি কতটা, তা এখানে লেখা হয়নি। [কারণ-বিশ্লেষণ এই লেখার উৎসে নেই — যাচাই প্রয়োজন]
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের নিজের পাতায় terra nullius-এর অর্থ ও তারিখ দুটোই লেখা আছে: এটি ছিল এই ধারণা যে অস্ট্রেলিয়া ছিল “land belonging to no-one” — কারও নয় এমন ভূমি — ১৭৭০ সালে যখন জেমস কুক ব্রিটিশ ক্রাউনের নামে দখল ঘোষণা করেন।
লক্ষ করুন ধারণাটির গঠন। এটি বলছে না যে এখানে মানুষ ছিল না; এটি বলছে যে এই ভূমি কারও ছিল না — অর্থাৎ যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মালিকানা আইনের চোখে অস্তিত্বহীন।
পার্লামেন্টের পাতাটি অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের সংযোগের মেয়াদও উল্লেখ করেছে — ৬৫ হাজার বছরের বেশি।
৬৫ হাজার বছর বনাম ১৭৭০ সালের একটি ঘোষণা। এই দুটি সংখ্যা পাশে রাখলে terra nullius কথাটির চরিত্র স্পষ্ট হয়।
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের পাতা অনুযায়ী ১৯৯২ সালের ৩ জুন অস্ট্রেলিয়ার হাই কোর্ট Mabo v Queensland No. 2 মামলায় যুগান্তকারী রায় দেয় — যা অস্ট্রেলিয়ার কমন ল-তে native title-এর নীতি প্রতিষ্ঠা করে।
আর পাতাটির পরের বাক্যটিই রায়ের ঐতিহাসিক অর্থ: “The judgment overturned the concept of terra nullius” — রায়টি terra nullius ধারণাটিকে উল্টে দেয়।
অর্থাৎ ১৭৭০ থেকে ১৯৯২ — ২২২ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার আইনে ভূমিটি “কারও নয়” ছিল। একটি আদালতি রায়ে সেটি শেষ হয়।
পার্লামেন্টের পাতায় মামলার বাদীদের নাম আছে, আর নামগুলো হুবহু রাখা দরকার। মামলাটির নেতৃত্বে ছিলেন Edward Koiki ‘Eddie’ Mabo, সঙ্গে Celuia Mapo Salee, James Rice, Sam Passi এবং Father Dave Passi।
তাঁরা মামলা করেছিলেন টরেস প্রণালীর মারে দ্বীপপুঞ্জের Dauer, Waier ও Mer-এর মেরিয়াম (Meriam) জনগোষ্ঠীর পক্ষে — নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ভূমির মালিকানা দাবি করে।
পাতাটি জানাচ্ছে, এই রায় ছিল দশ বছর আগে শুরু হওয়া একটি আইনি প্রক্রিয়ার পরিণতি — যখন বাদীরা প্রথম কুইন্সল্যান্ড রাজ্য ও কমনওয়েলথের বিরুদ্ধে মারে দ্বীপপুঞ্জে native title দাবি করে মামলা করেছিলেন।
Eddie Mabo-র পরিচয়ও পাতাটিতে আছে: তিনি Mer Island-এর মানুষ, আর প্রতি বছর ৩ জুন অস্ট্রেলিয়াজুড়ে Mabo Day পালিত হয়, National Reconciliation Week-এর অংশ হিসেবে।
পার্লামেন্টের পাতার একটি বাক্য আলাদা করে লেখার মতো: “Sadly, three of the plaintiffs Sam Passi, Celuia Mapo Salee and Edward Koiki Mabo had died before the High Court handed down its landmark judgement.”
অর্থাৎ পাঁচজন বাদীর মধ্যে তিনজন — Sam Passi, Celuia Mapo Salee ও Edward Koiki Mabo — রায়ের আগেই মারা যান।
দশ বছরের মামলা, আর যাঁর নামে মামলাটি পরিচিত, তিনি রায়টি শোনেননি।
পার্লামেন্টের পাতায় আরেকটি তথ্য আছে, যা এই প্রসঙ্গের শেষ: ২০১৫ সালে Tagai তারামণ্ডলের একটি তারার নাম রাখা হয় Eddie Koiki Mabo-র নামে — Dreamtime Astronomy কর্মসূচির অংশ হিসেবে, এবং আদিবাসী জ্ঞানে জ্যোতির্বিদ্যার গুরুত্বের স্বীকৃতি হিসেবে।
রায়ের দুটি অংশ পার্লামেন্টের পাতায় হুবহু উদ্ধৃত আছে।
প্রথমত, মেরিয়াম জনগোষ্ঠী সম্পর্কে: আদালত দেখেছে তাঁরা প্রথম ইউরোপীয় সংযোগের আগের প্রজন্মগুলো থেকেই দ্বীপগুলো দখলে রেখেছেন, এবং তাঁরা “entitled as against the whole world to possession, occupation, use and enjoyment of the lands of the Murray Islands” — অর্থাৎ সমগ্র বিশ্বের বিরুদ্ধে মারে দ্বীপপুঞ্জের ভূমির দখল, ভোগ ও ব্যবহারের অধিকারী।
দ্বিতীয়ত, বাকি অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে: মেরিয়ামদের অধিকার স্বীকার করার সঙ্গে সঙ্গে আদালত আরও দেখেছে যে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলো তাঁদের প্রথাগত আইন ও প্রথা থেকে উদ্ভূত ভূমি ও জলের অধিকার ধরে রেখেছেন — যদি না সেই অধিকার আইনত বিলুপ্ত করা হয়ে থাকে।
এই দ্বিতীয় অংশটিই রায়টিকে একটি দ্বীপের মামলা থেকে একটি মহাদেশের আইনে পরিণত করেছে।
পার্লামেন্টের পাতায় হাই কোর্টের বিচারপতি Sir Gerard Brennan-এর একটি বাক্য উদ্ধৃত আছে (১৯৯২), আর সেটি রায়ের নৈতিক ভিত্তি:
“The fiction by which the rights and interests of Indigenous inhabitants in land were treated as non-existent was justified by a policy which has no place in the contemporary law of this country.”
যে কল্পকাহিনির মাধ্যমে আদিবাসী অধিবাসীদের ভূমি-সংক্রান্ত অধিকার ও স্বার্থকে অস্তিত্বহীন হিসেবে গণ্য করা হতো, তা যে নীতির দ্বারা ন্যায্য প্রমাণিত হচ্ছিল — এই দেশের সমকালীন আইনে সেই নীতির কোনো স্থান নেই।
শব্দটি লক্ষ করুন — “fiction”, কল্পকাহিনি। আদালত বলছে না যে নীতিটি ভুল ছিল; বলছে যে এটি একটি কল্পকাহিনি ছিল।
রায়ের একটি শর্ত পার্লামেন্টের পাতায় স্পষ্ট করে লেখা আছে, আর এটিই native title-এর ব্যবহারিক সীমা: native title স্বীকৃত হতে হলে সেই আইন ও প্রথাগুলো বসতি স্থাপনের সময় থেকে প্রতিটি প্রজন্মে “substantially uninterrupted” — মোটামুটি অবিচ্ছিন্নভাবে — মানা ও পালিত হয়ে আসতে হবে।
এই শর্তের ভার কার উপর পড়ে, তা ভাবা দরকার। যে জনগোষ্ঠীকে জোর করে উচ্ছেদ করা হয়েছে, ভাষা হারিয়েছে, শিশুদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে — তাঁদের পক্ষেই “অবিচ্ছিন্নতা” প্রমাণ করা সবচেয়ে কঠিন।
আর পরের অনুচ্ছেদগুলো ঠিক সেই উচ্ছেদ ও শিশু-সরানোর ইতিহাস নিয়ে।
পার্লামেন্টের পাতা অনুযায়ী মাবো রায়ের পর, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে আইন প্রবর্তনের আগে, সরকার বিস্তৃত পরামর্শ চালায় — যা Native Title Bill-এর খসড়া তৈরিতে কাজে লাগে।
বিলটিতে native title-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়: Aboriginal ও Torres Strait Islander জনগোষ্ঠীর প্রথাগত আইন ও প্রথার অধীনে অধিকৃত সেই অধিকার ও স্বার্থ, যার মাধ্যমে তাঁদের ভূমি বা জলের সঙ্গে সংযোগ আছে, এবং যা কমন ল স্বীকৃতি দেয়।
পাতাটি বিলের রাজনৈতিক ভাগ্যও লিখেছে, আর সংখ্যাগুলো নির্দিষ্ট: বিলটি “proved to be socially divisive” — সামাজিকভাবে বিভাজনকারী প্রমাণিত হয় — এবং সংসদে প্রায় ৫২ ঘণ্টা বিতর্কের পর সেনেটে পাস হয় ১৯৯৩ সালের ২২ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে।
রাত ১১টা ৫৮ — বড়দিনের তিন দিন আগে, মধ্যরাতের দুই মিনিট আগে।
বিলের বিতর্কে প্রতিনিধি পরিষদে প্রধানমন্ত্রী Paul Keating-এর বক্তব্য পার্লামেন্টের পাতায় হুবহু উদ্ধৃত:
“Today is a milestone. A response to another milestone: the High Court’s decision in the Mabo case. The High Court has determined that Australian law should not, as Justice Brennan said, be ‘frozen in an era of racial discrimination’.
Its decision in the Mabo case ended the pernicious legal deceit of terra nullius for all of Australia—and for all time.”
দুটি শব্দবন্ধ মনে রাখার মতো। ব্রেনানের “frozen in an era of racial discrimination” — বর্ণবৈষম্যের একটি যুগে জমে যাওয়া। আর কিটিং-এর “the pernicious legal deceit of terra nullius” — terra nullius-এর সর্বনাশা আইনি প্রতারণা।
লক্ষ করুন, এগুলো আদালতের ও প্রধানমন্ত্রীর নিজের শব্দ, কোনো সমালোচকের নয়।
পার্লামেন্টের পাতা অনুযায়ী Native Title Act জাতীয় ভূমি-দাবির জন্য একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে — National Native Title Tribunal — যা Aboriginal ও Torres Strait Islander জনগোষ্ঠীকে ভূমি ও জলের উপর প্রথাগত অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করার আইনি পথ দেয়।
আইনটি কার্যকর হয় ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি। পাতাটি জানাচ্ছে, আইনটি এখনো বিকশিত হচ্ছে — সবশেষ সংশোধনী পাস হয়েছে ২০২১ সালে।
Federal Register of Legislation-এ আইনটির পরিচয় Native Title Act 1993, No. 110, 1993, আর এটি পরিচালনা করে Attorney-General’s Department এবং Department of the Prime Minister and Cabinet।
আইনটির ১৫টি অংশ আছে — native title স্বীকৃতি, আবেদন, ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতি, এবং বিভিন্ন নিবন্ধন-তালিকা নিয়ে। [ধারা-৩ (objects) ও ধারা-২২৩ (native title-এর সংজ্ঞা)-র পূর্ণ পাঠ এই রাউন্ডে পড়া যায়নি — যাচাই প্রয়োজন]
অস্ট্রেলিয়ার মানবাধিকার কমিশনের পাতায় প্রতিবেদনটির পূর্ণ নাম ও তারিখ আছে: Bringing them Home: Report of the National Inquiry into the Separation of Aboriginal and Torres Strait Islander Children from Their Families, এপ্রিল ১৯৯৭ — প্রকাশক Human Rights and Equal Opportunity Commission।
প্রতিবেদনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের নাম National Overview, আর তার প্রথম বাক্যটিই পরিধি বলে দেয়: “Indigenous children have been forcibly separated from their families and communities since the very first days of the European occupation of Australia.”
অর্থাৎ ইউরোপীয় দখলের একেবারে প্রথম দিনগুলো থেকেই আদিবাসী শিশুদের জোর করে পরিবার ও সম্প্রদায় থেকে আলাদা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনের অধ্যায়-বিভাগগুলোও নীতির পর্যায়গুলো দেখায়: Colonisation → Protection and segregation → Merging and absorption → Merging becomes assimilation → Removal of Indigenous children under child welfare legislation → Self-management and self-determination।
প্রতিবেদনের কেন্দ্রীয় উপসংহারটি হুবহু এই: “Nationally we can conclude with confidence that between one in three and one in ten Indigenous children were forcibly removed from their families and communities in the period from approximately 1910 until 1970.”
অর্থাৎ আনুমানিক ১৯১০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রতি তিনজনে একজন থেকে প্রতি দশজনে একজন আদিবাসী শিশুকে জোর করে পরিবার ও সম্প্রদায় থেকে সরানো হয়েছে — এই উপসংহারে প্রতিবেদন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পৌঁছেছে।
আর পরের বাক্যটি সীমাটি আরও বাড়ায়: “In certain regions and in certain periods the figure was undoubtedly much greater than one in ten.” — নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে ও নির্দিষ্ট কিছু সময়ে সংখ্যাটি নিঃসন্দেহে দশে একের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
প্রতিবেদন নিজের সীমাটি শুরুতেই স্বীকার করেছে: “It is not possible to state with any precision how many children were forcibly removed, even if that enquiry is confined to those removed officially.”
কারণ দুটি, আর দুটোই প্রতিবেদনে লেখা: বহু নথি টেকেনি (“Many records have not survived”), আর অন্য নথিগুলোতে শিশুদের আদিবাসী পরিচয় লেখাই নেই।
দ্বিতীয় কারণটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। যে ব্যবস্থাটি শিশুদের আদিবাসী পরিচয় মুছতে চেয়েছিল, সেই ব্যবস্থার নথিতেই সেই পরিচয়ের হিসাব নেই — ফলে ক্ষতির মাপও পাওয়া যায় না।
প্রতিবেদন আরও একটি সীমা লিখেছে: সাম্প্রতিক জরিপগুলো সম্ভবত প্রকৃত মাত্রার চেয়ে কম দেখায়, কারণ প্রথম দিকের সময়ে যাঁদের সরানো হয়েছিল, তাঁদের অনেকেই এখন মৃত। আর এসব জরিপ তাঁদের অভিজ্ঞতা ধরতে পারে না, যাঁদের আদিবাসী পরিচয় এখন তাঁদের নিজের কাছেও অজানা।
প্রতিবেদন কীভাবে সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছেছে, তার পদ্ধতিগুলো নামসহ লেখা আছে — দুই ধরনের: নথি গণনা, আর প্রাপ্তবয়স্কদের জরিপ।
নথি গণনা:
প্রাপ্তবয়স্কদের জরিপ:
প্রতিবেদন ৪৭ শতাংশের সংখ্যাটি নিয়ে নিজেই সতর্ক করেছে: এখানে “আলাদা হওয়া”-র মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি ও শিশু-সংশোধনাগারও আছে, এবং অভিভাবক ছাড়া অন্য আত্মীয়ের সঙ্গে কিছুকাল থাকাও থাকতে পারে।
এই সতর্কতাগুলো প্রতিবেদনের নিজের। একটি সরকারি অনুসন্ধান তার প্রতিটি সংখ্যার দুর্বলতা পাশে লিখে দিয়েছে — আর তাতেই উপসংহারটি বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে পুরনো তারিখটি একটি স্কুলের: ১৮১৪ সালে গভর্নর Macquarie অ্যাবোরিজিনাল শিশুদের জন্য প্রথম স্কুলে অর্থ দেন।
প্রতিবেদনের বিবরণ অনুযায়ী এর নতুনত্ব প্রথমে আদিবাসী পরিবারগুলোকে আকৃষ্ট করেছিল — কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই এটি বৈরী প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে এর উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের পরিবার ও সম্প্রদায় থেকে দূরে সরানো।
প্রতিবেদনে শিশু-সরানোর উদ্দেশ্যও উদ্ধৃত আছে: শিশুদের মধ্যে “European values and work habits” ঢোকানো, যাতে তারা পরে ঔপনিবেশিক বসতিস্থাপকদের সেবায় নিয়োজিত হয়।
আর শ্রমের শর্ত নিয়ে প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একটি পর্যবেক্ষণ (Reynolds 1990): তরুণ অ্যাবোরিজিনাল ভৃত্যদের সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল যে তাঁরা “came cheap and were never paid beyond the provision of variable quantities of food and clothing” — সস্তায় পাওয়া যেত, আর পরিবর্তনশীল পরিমাণ খাবার ও কাপড় ছাড়া কোনো মজুরি কখনো দেওয়া হতো না।
প্রতিবেদনের একটি বাক্যে আইনি কাঠামোটি ধরা আছে: “By 1911 the Northern Territory and every State except Tasmania had ‘protectionist legislation’ giving the Chief Protector or Protection Board extensive power to control Indigenous people.”
অর্থাৎ ১৯১১ সালের মধ্যে তাসমানিয়া ছাড়া প্রতিটি রাজ্যে এবং নর্দার্ন টেরিটরিতে “সুরক্ষাবাদী আইন” ছিল, যা চিফ প্রোটেক্টর বা প্রোটেকশন বোর্ডকে আদিবাসী মানুষ নিয়ন্ত্রণের বিস্তৃত ক্ষমতা দিত।
প্রতিবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী “সুরক্ষার নামে” আদিবাসী মানুষ প্রায়-সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের অধীনে ছিলেন: সংরক্ষিত এলাকায় ঢোকা ও বেরোনো নিয়ন্ত্রিত, এলাকার ভেতরের দৈনন্দিন জীবন নিয়ন্ত্রিত, বিয়ে করার অধিকার নিয়ন্ত্রিত, আর কর্মসংস্থানও নিয়ন্ত্রিত।
আর স্থানীয় স্তরে এই আইন প্রয়োগের দায়িত্ব ছিল “protectors”-দের উপর, যাঁরা সাধারণত পুলিশ অফিসার ছিলেন।
প্রতিবেদনের সবচেয়ে ভারী আইনি তথ্যটি এই: কয়েকটি রাজ্যে এবং নর্দার্ন টেরিটরিতে চিফ প্রোটেক্টরকে সব অ্যাবোরিজিনাল শিশুর আইনি অভিভাবক করা হয় — বাবা-মায়ের অধিকার সরিয়ে দিয়ে।
অর্থাৎ শিশু-সরানো কোনো বেআইনি কাজ ছিল না। আইনেই বাবা-মা আর শিশুর অভিভাবক ছিলেন না।
প্রতিবেদন আরও জানাচ্ছে, শিশুদের ধর্মান্তরে উৎসাহ দিতে ও আদিবাসী জীবনধারা থেকে দূরে রাখতে শিশুদের ডরমিটরিতে রাখা হতো এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কঠোরভাবে সীমিত করা হতো।
সংরক্ষিত এলাকাগুলোর ব্যবস্থাপনা দেওয়া হতো সরকার-নিযুক্ত ম্যানেজার অথবা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত মিশনারিদের হাতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী তাসমানিয়া এই সুরক্ষাবাদী ধারার ব্যতিক্রম ছিল — কিন্তু ব্যতিক্রমটি সুখের নয়।
প্রতিবেদনের বিবরণ: শতাব্দীর শুরুর দিকেই অধিকাংশ আদিবাসী পরিবারকে তাসমানিয়ার মূল ভূখণ্ডের উত্তর উপকূলের বাইরে Cape Barren Island-এ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যেখানে তাঁরা অ-আদিবাসীদের থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিলেন।
আর তারপরের বাক্যটি হুবহু: “Until the late 1960s Tasmanian governments resolutely insisted that Tasmania did not have an Aboriginal population, just some ‘half-caste’ people.”
অর্থাৎ ১৯৬০-এর দশকের শেষ পর্যন্ত তাসমানিয়ার সরকারগুলো দৃঢ়ভাবে দাবি করে এসেছিল যে তাসমানিয়ায় কোনো অ্যাবোরিজিনাল জনসংখ্যা নেই — কেবল কিছু ‘half-caste’ মানুষ আছে।
এই একটি বাক্য আর ABS-এর ২০২১ সালের হিসাবের তাসমানিয়ার সারিটি — ৩৩,৮৫৭ জন — পাশে রাখা দরকার।
প্রতিবেদনটি নিজের ভাষা-ব্যবহার নিয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে, যা পরিভাষার আলোচনায় কাজে লাগে।
প্রতিবেদনের ভাষায়: নির্ভুলতার স্বার্থে তখনকার ভাষা উদ্ধৃত করা প্রয়োজন, আর সেই ভাষার অনেকটাই আদিবাসী মানুষের কাছে আপত্তিকর ছিল ও আছে।
প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ‘full descent’ ও ‘mixed descent’ শব্দগুলো তখন ব্যবহার হতো না; বরং ‘full blood’, ‘half caste’, ‘quadroon’ ও ‘octoroon’ — এই শ্রেণিগুলো প্রয়োগ করা হতো।
আর একটি স্বীকারোক্তি: “The term ‘Indigenous’ was not used at the time either.” — ‘Indigenous’ শব্দটিও তখন ব্যবহৃত হতো না; প্রতিবেদন সেটি সাধারণ পরিভাষা হিসেবে ব্যবহার করেছে সব অ্যাবোরিজিনাল গোষ্ঠী ও টরেস প্রণালীর দ্বীপবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করতে।
পদ্ধতিটি লক্ষ করার মতো: নথির শব্দ নথির শব্দ হিসেবেই উদ্ধৃত, আর নিজের পরিভাষা আলাদা করে ঘোষিত।
প্রতিবেদনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয় একটি সাক্ষ্য দিয়ে — সূত্রে লেখা “Confidential evidence 681, Western Australia: woman ultimately surrendered at 5 years to Mt Margaret Mission for schooling in the 1930s”।
সাক্ষ্যটির একটি অংশ, প্রতিবেদনের ইংরেজি থেকে:
“প্রতিদিন সকালে আমাদের লোকেরা কাঠকয়লা গুঁড়ো করে পশুর চর্বির সঙ্গে মিশিয়ে আমাদের সারা গায়ে মাখিয়ে দিত, যাতে পুলিশ এলে দূর থেকে তারা কেবল কালো শিশুদেরই দেখতে পায়। আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে বলা হতো — সাদা মানুষ এলে যেন ঝোপে দৌড়ে যাই, অথবা গাছের পিছনে খুঁটির মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি, নয়তো গুঁড়ির পিছনে লুকাই বা নালায় ঢুকে পড়ি… আর আদিবাসী দলটি অপ্রস্তুত অবস্থায় ধরা পড়লে তারা আমাদের আটার বস্তায় ভরে রাখত আর ভান করত যে আমরা সেখানে নেই।
আমাদের বলা হতো হাঁচি না দিতে। আমরা জানতাম, হাঁচি দিলে আর তারা বুঝে ফেললে যে আমরা ওর ভেতরে গুটিয়ে আছি, আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হবে, এলাকা থেকে দূরে।”
সাক্ষ্যটির শেষ অংশে একটি পর্যবেক্ষণ আছে: “There was a disruption of our cycle of life because we were continually scared to be ourselves.” — আমাদের জীবনচক্রে একটি ছিন্নতা তৈরি হয়েছিল, কারণ আমরা নিজেরা হতে অবিরাম ভয় পেতাম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী ক্যাম্পে হানা দেওয়ার সময় মানুষকে গুলি করা অস্বাভাবিক ছিল না — হাতে বা পায়ে।
অস্ট্রেলিয়ার National Indigenous Australians Agency (NIAA)-র পাতায় গণভোটের তারিখ ও প্রশ্ন দুটোই হুবহু আছে। ১৪ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে গণভোট হয় — সংবিধান বদলে অস্ট্রেলিয়ার First Nations-দের স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না, একটি Aboriginal and Torres Strait Islander Voice প্রতিষ্ঠা করে।
ভোটারদের সামনে রাখা প্রশ্নটি: “A Proposed Law: to alter the Constitution to recognise the First Peoples of Australia by establishing an Aboriginal and Torres Strait Islander Voice. Do you approve this proposed alteration?”
প্রশ্নের গঠনটি লক্ষ করুন। এটি একটি প্রস্তাবিত আইন — সংবিধান বদলানোর — আর ভোটারদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তাঁরা এই পরিবর্তন অনুমোদন করেন কি না।
প্রস্তাবিত সাংবিধানিক পাঠে সংবিধানে একটি নতুন অধ্যায় যোগ হতো — Chapter IX, আর তাতে একটি নতুন ধারা, ১২৯। NIAA-র পাতা অনুযায়ী তিনটি বিধান ছিল, হুবহু:
দুটি কথা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, সংস্থাটির ক্ষমতা ছিল “may make representations” — বক্তব্য দিতে পারবে; ভেটো বা সিদ্ধান্তের ক্ষমতা নয়। দ্বিতীয়ত, তার গঠন ও ক্ষমতা ঠিক করার দায়িত্ব থাকত সংসদের।
অর্থাৎ প্রস্তাবটি সংবিধানে একটি সংস্থার অস্তিত্ব বসাত, কিন্তু তার বিস্তারিত রূপ রাখত সাধারণ আইনের হাতে।
অস্ট্রেলিয়ান ইলেক্টোরাল কমিশনের সরকারি ফলাফলের পাতায় সংখ্যাগুলো এই:
| কী | সংখ্যা |
|---|---|
| হ্যাঁ | ৬২,৮৬,৮৯৪ (৩৯.৯৪%) |
| না | ৯৪,৫২,৭৯২ (৬০.০৬%) |
| বাতিল ভোট | ১,৫৫,৫৪৫ |
| নিবন্ধিত ভোটার | ১,৭৬,৭১,৭৮৪ |
| ভোট পড়েছে | ১,৫৮,৯৫,২৩১ (৮৯.৯৫%) |
NIAA-র পাতার বাক্যটি সংক্ষিপ্ত: “The referendum did not pass.”
লক্ষ করুন ভোটদানের হার — ৮৯.৯৫ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ায় ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক, তাই এই হারটি স্বাভাবিক; কিন্তু এর অর্থ হলো ফলটি একটি ছোট অংশের মত নয়।
AEC-র ফলাফলের পাতায় পাসের শর্তটি লেখা আছে, আর সেটি দুটি: জাতীয়ভাবে ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, এবং রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশে ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা — অর্থাৎ ছয়টি রাজ্যের অন্তত চারটিতে।
AEC-র পাতা অনুযায়ী প্রস্তাবটি দুটি শর্তেই ব্যর্থ হয়।
জাতীয়ভাবে ৩৯.৯৪ শতাংশ — সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়। আর ছয়টি রাজ্যের মধ্যে শূন্যটিতে হ্যাঁ সংখ্যাগরিষ্ঠতা — চারটির প্রয়োজনের বিপরীতে।
এই দ্বৈত-সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ, জনবহুল রাজ্যগুলোর সমর্থনই যথেষ্ট নয় — ছোট রাজ্যগুলোর সম্মতিও লাগে।
AEC-র ফলাফলে একটি এলাকায় হ্যাঁ জিতেছিল — অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে ৬১.২৯ শতাংশ হ্যাঁ। কিন্তু AEC-র হিসাবে অঞ্চলগুলো (territories) রাজ্য-সংখ্যাগরিষ্ঠতার শর্তে গণ্য হয় না।
অর্থাৎ ACT-র হ্যাঁ জাতীয় মোট গণনায় ঢুকেছে, কিন্তু “চারটি রাজ্য” শর্তে নয়।
মনে রাখা দরকার, ABS-এর হিসাবে ACT-তে Aboriginal ও Torres Strait Islander মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে কম — ৯,৫২৫। আর নর্দার্ন টেরিটরিতে, যেখানে সংখ্যা ৭৬,৪৮৭, সেটিও একটি territory, রাজ্য নয়।
এই কাঠামোগত তথ্যটি উল্লেখ করা দরকার, তবে এর থেকে ফলাফলের কোনো ব্যাখ্যা এই পোস্টে দেওয়া হচ্ছে না — গণভোট কেন এই ফল দিল, তার বিশ্লেষণ এই লেখার উৎসে নেই।
NIAA-র পাতায় সরকারের একটি প্রতিশ্রুতি লেখা আছে: “The Australian Government has committed to implement the Uluru Statement from the Heart in full.” — অস্ট্রেলিয়া সরকার উলুরু স্টেটমেন্ট ফ্রম দ্য হার্ট সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সেই বিবৃতিতে কী চাওয়া হয়েছিল, তাও পাতাটি জানাচ্ছে: সংবিধানে একটি স্থায়ী First Nations Voice, এবং চুক্তি-প্রণয়ন ও সত্য-উচ্চারণের জন্য একটি Makarrata Commission প্রতিষ্ঠা।
অর্থাৎ উলুরু স্টেটমেন্টের তিনটি অংশের একটি — সংবিধানে Voice — গণভোটে হেরেছে। Makarrata কমিশন ও চুক্তি-প্রণয়নের অংশগুলোর কী হলো, তা এই পাতায় নেই।
[উলুরু স্টেটমেন্টের পূর্ণ পাঠ ও তার তারিখ এই লেখার উৎসে নেই — যাচাই প্রয়োজন]
আদালত ও গণভোটের বাইরে অস্ট্রেলিয়ায় একটি ভিন্ন ধরনের ব্যবস্থাও আছে, আর তার সংখ্যাগুলো সরকারি পাতায় বড় হরফে লেখা। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের (DCCEEW) পাতা অনুযায়ী:
IPA-র সংজ্ঞাও পাতাটিতে আছে: এগুলো ভূমি ও সমুদ্রের সেই এলাকা, যা Traditional Owners জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবস্থাপনা করতে সম্মত হয়েছেন। আর কর্মসূচিটি চলে স্বেচ্ছাভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে।
কর্মসূচিটি চালু হয়েছে ১৯৯৭ সালে।
পাতায় Nari Nari Tribal Council-এর একটি বাক্যও উদ্ধৃত আছে: “Our vision is to protect and enhance our culture and history, while encouraging and protecting the natural environment and conserving biodiversity.”
এখানে একটি অসঙ্গতি স্পষ্ট করে লেখা দরকার। জুমজার্নালের আর্কাইভে প্রকাশিত একটি লেখায় বলা হয়েছে — “অস্ট্রেলিয়া সরকার ১৯৯০ সালে ৭৫টি ‘আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকা’ প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় আদিবাসীদের জ্ঞানের শক্তিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।”
কিন্তু অস্ট্রেলিয়া সরকারের নিজের পাতায় লেখা আছে কর্মসূচিটি ১৯৯৭ সালে চালু, আর বর্তমান সংখ্যা ৯৬।
দুটি হিসাবই এখানে লেখা থাকল, উৎসের নামসহ। সরকারি পাতাটি সাম্প্রতিক ও প্রাথমিক, তাই সংখ্যার প্রশ্নে সেটিই এই পোস্টে ব্যবহার করা হয়েছে। [১৯৯০ সালের সংখ্যাটি কোথা থেকে এসেছে, তা আর্কাইভের লেখায় উল্লেখ নেই — যাচাই প্রয়োজন]
আর্কাইভের লেখাটির মূল পর্যবেক্ষণটি অবশ্য সরকারি পাতার সঙ্গে মেলে: অস্ট্রেলিয়ায় আদিবাসীদের প্রান্তিকীকরণের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিবেশ-ব্যবস্থাপনায় আদিবাসী জ্ঞানের শক্তিকে স্বীকৃতি দিয়েছে — আর এই এলাকাগুলোতে আদিবাসীদের নিজের ভূমির উপর ব্যবস্থাপনার ভার আছে।
আর্কাইভের আরেকটি লেখায় অস্ট্রেলিয়ার দাবানল-প্রসঙ্গে একটি আদিবাসী কৌশলের বিবরণ আছে, আর সরকারি পাতায় সেই কৌশলই আজ IPA-র কাজের তালিকায় আছে।
আর্কাইভের বিবরণ অনুযায়ী অস্ট্রেলীয়রা এটিকে বলেন সাংস্কৃতিক দহন (Cultural Burning) — আদিবাসীদের একটি ভূমি-ব্যবস্থাপনার কৌশল, যা কেবল অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আদিবাসীরাই নয়, বিশ্বের আরও অনেক জনগোষ্ঠী ব্যবহার করে।
পদ্ধতিটিও লেখাটিতে ব্যাখ্যা করা আছে: ভূপৃষ্ঠ স্তরে ছোট আকারের নিয়ন্ত্রিত আগুন জ্বালালে তা দাহ্য উদ্ভিজ্জ পদার্থ পুড়িয়ে সাফ করে ফেলে, আর তাতে সেটি নিয়ন্ত্রণহীন অগ্নিশিখার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে — আগুন আর সহজে ছড়াতে পারে না।
আর লেখাটির ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ: ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো এই ব্যবহার বুঝতে না পেরে যেখানেই এর চর্চা পেয়েছে সেখানেই নিষিদ্ধ করেছে, আর এটিকে অগ্নিসংযোগের সমতুল্য বিবেচনা করেছে — লেখাটির ভাষায় “যা ছিল একটি ভয়ানক ভুল”।
আজকের সরকারি পাতায় IPA-র কাজের তালিকায় একটি পদ আছে, যা এই ইতিহাসের উল্টো দিক: “‘right way’ fire management”।
অর্থাৎ যে চর্চা একবার নিষিদ্ধ হয়েছিল, তা এখন সরকারি কর্মসূচির একটি অনুমোদিত কাজ। এই বৃত্তটি সম্পূর্ণ হতে প্রায় দুই শতক লেগেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের জুমচাষের ক্ষেত্রে তর্কটি এখনো একই বিন্দুতে আছে — আগুনকে ক্ষতি হিসেবে দেখা হবে, নাকি ব্যবস্থাপনা হিসেবে।
DCCEEW-র পাতায় কর্মসূচির আর্থিক ও নীতিগত দিকটিও সংখ্যাসহ আছে।
শেষ বাক্যটির অর্থ ভাবা দরকার। একটি রাষ্ট্রের জাতীয় সংরক্ষণ-লক্ষ্যের সবচেয়ে বড় অবদানকারী হলো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিচালিত এলাকাগুলো।
পাতাটিতে IPA-র কাজের পূর্ণ তালিকাও আছে: সাংস্কৃতিক স্থানের ব্যবস্থাপনা, বিপন্ন প্রজাতির পর্যবেক্ষণ ও সুরক্ষা, আবাস পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সমীক্ষা, সমুদ্রের আবর্জনা সরানো, আগাছা ও ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণ, ‘right way’ fire management, পর্যটন ও দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা, এবং প্রজন্মান্তরে জ্ঞান-বিনিময়সহ শিক্ষা।
DCCEEW-র পাতায় সবশেষ ঘোষিত IPA-গুলোর তারিখ ও আয়তন আছে, আর সেগুলো দেখায় কর্মসূচিটি এখনো বাড়ছে।
| IPA | তারিখ | আয়তন |
|---|---|---|
| Simpson Desert IPA (নর্দার্ন টেরিটরি) | ৫ জুন ২০২৬ | ৪৭,৩১,১২৮ হেক্টর |
| Wangga (Marri-Jabin) IPA — পর্যায় ২ক ও ২খ | ৪ জুন ২০২৬ | নতুন ৩৪,৩৯৭ হেক্টর (মোট ১,০১,৬২৪) |
| Uunguu ও Uunguu Wundaagu (Saltwater) IPA | ৩ জুন ২০২৬ | নতুন ৭৪,১৮০ হেক্টর (মোট ৮,৩৫,৩৯৯); সমুদ্র ১৬,৪৯,৩৭৫ |
Simpson Desert IPA সম্পর্কে পাতাটি জানাচ্ছে, এটি Eastern Arrernte, Lower Southern Arrernte ও Akityarre জনগোষ্ঠীর Country-তে, আর এটি অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম সুরক্ষিত মরু-এলাকাগুলোর একটি। এলাকাটি ৯০০-র বেশি উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতিকে ধারণ করে — যার মধ্যে জাতীয়ভাবে বিপন্ন greater bilby, central rock-rat, night parrot ও princess parrot আছে।
পাতাটি Traditional Owners-দের লক্ষ্যও উদ্ধৃত করেছে: তাঁদের দৃষ্টি শক্তিশালী Country, সংস্কৃতি ও পরিবারের দিকে; তাঁরা চান তরুণেরা প্রবীণদের কাছ থেকে শিখতে থাকুক, সাংস্কৃতিক চর্চা ধরে রাখুক, আর Country-র দেখাশোনায় নেতৃত্ব দিক।
Wangga (Marri-Jabin) IPA-র ক্ষেত্রে একটি নাম-বদলের ইতিহাসও আছে: এটি প্রথম ঘোষিত হয়েছিল ২০১০ সালে Marri-Jabin IPA নামে, আর পর্যায়-২ বিস্তারের সময় নাম বদলানো হয় Traditional Owner গোষ্ঠীগুলো ও যৌথ Wangga সাংস্কৃতিক সংযোগ আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত করতে।
অস্ট্রেলিয়ার এই নথিগুলো একসঙ্গে পড়লে চারটি জিনিস দাঁড়ায়, আর চারটিই পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের কাজে লাগার মতো।
এক — আইনি কল্পকাহিনি আদালতে ভাঙা যায়। terra nullius ছিল ১৭৭০ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার আইনের একটি ভিত্তি, আর হাই কোর্ট সেটিকে বিচারপতি ব্রেনানের ভাষায় একটি “fiction” বলে বাতিল করেছে। মামলাটি করেছিলেন পাঁচজন মানুষ, আর তাঁদের তিনজন রায় দেখে যেতে পারেননি।
দুই — কিন্তু আদালতের শর্ত জনগোষ্ঠীর উপরেই পড়ে। native title স্বীকৃতির শর্ত হলো প্রথাগত আইন ও প্রথা প্রতিটি প্রজন্মে “substantially uninterrupted” থাকা। যাঁদের ভাষা, প্রথা ও শিশু — তিনটিই রাষ্ট্রীয় নীতিতে ছিন্ন হয়েছে, তাঁদের পক্ষে অবিচ্ছিন্নতা প্রমাণ করা সবচেয়ে কঠিন।
তিন — ক্ষতির হিসাব অসম্পূর্ণ রেখেও প্রকাশ করা যায়। Bringing them Home স্বীকার করেছে যে নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা সম্ভব নয় — নথি টেকেনি, আর যেগুলো টিকেছে সেগুলোতে শিশুদের আদিবাসী পরিচয় লেখা নেই। তারপরেও প্রতিবেদনটি একটি সীমা দিয়েছে: ১৯১০ থেকে ১৯৭০-এর মধ্যে তিনজনে একজন থেকে দশজনে একজন।
চার — গণভোট সংখ্যালঘু অধিকারের নিরাপদ পথ নয়। ২০২৩ সালের প্রস্তাবে যা চাওয়া হয়েছিল তা ছিল একটি সংস্থার সাংবিধানিক অস্তিত্ব, যার ক্ষমতা কেবল “may make representations”। ভোটারদের ৩.৮ শতাংশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ ভোট, আর ফল ৬০.০৬ শতাংশ “না”।
আর পাঁচ নম্বর কথাটি সবচেয়ে ব্যবহারিক। আদালতে জয় আর গণভোটে হার — দুটোর মাঝখানে অস্ট্রেলিয়ায় একটি তৃতীয় পথ কাজ করছে: স্বেচ্ছাভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে ৯৬টি Indigenous Protected Area, ১১.৩ কোটি হেক্টর ভূমি, আর জাতীয় সংরক্ষণ-লক্ষ্যে সবচেয়ে বড় অবদান। সাংবিধানিক স্বীকৃতি ছাড়াও ব্যবস্থাপনার ভার হস্তান্তর করা যায়।
পাহাড়ের ভূমি-ব্যবস্থার আলোচনায় এই তৃতীয় পথটি প্রায়ই আসে না — অথচ অস্ট্রেলিয়ার সংখ্যাগুলো বলছে, এটিই সবচেয়ে বেশি এলাকা ঢেকেছে।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিকসের হিসাবে ২০২১ সালের ৩০ জুন অস্ট্রেলিয়ায় Aboriginal ও Torres Strait Islander মানুষের সংখ্যা ছিল ৯,৮৩,৭০০ — মোট জনসংখ্যার ৩.৮ শতাংশ। মধ্যমা বয়স ২৪.০ বছর। তিন-চতুর্থাংশ (৭৪.৫%) থাকেন নিউ সাউথ ওয়েলস, কুইন্সল্যান্ড ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় মিলে।
জুমজার্নালের আর্কাইভে প্রকাশিত একটি পরিভাষা-প্রবন্ধ অনুযায়ী ইংরেজি aboriginal শব্দের ব্যবহার বর্তমানে মূলত অস্ট্রেলিয়াতেই সীমিত, যেখানেও indigenous people পদটিকে অনেকে অধিকতর সম্মানজনক মনে করেন — কারণ aboriginal ও সমগোত্রীয় শব্দগুলোর সঙ্গে “সভ্যতার বিচারে নীচু বা আদিম” অর্থটি গেঁথে গিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি নথিতে Aboriginal ও Torres Strait Islander — দুটি নাম একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়, আর সাম্প্রতিক নথিতে First Nations peoples।
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের পাতা অনুযায়ী এটি ছিল এই ধারণা যে ১৭৭০ সালে জেমস কুক যখন ব্রিটিশ ক্রাউনের নামে দখল ঘোষণা করেন, তখন অস্ট্রেলিয়া ছিল “land belonging to no-one” — কারও নয় এমন ভূমি। একই পাতায় আদিবাসীদের সংযোগের মেয়াদ উল্লেখ আছে ৬৫ হাজার বছরের বেশি।
১৯৯২ সালের ৩ জুন অস্ট্রেলিয়ার হাই কোর্ট Mabo v Queensland No. 2 মামলায় রায় দেয়, যা অস্ট্রেলিয়ার কমন ল-তে native title-এর নীতি প্রতিষ্ঠা করে এবং terra nullius ধারণাটি উল্টে দেয়। আদালত আরও দেখেছে, অস্ট্রেলিয়াজুড়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলো প্রথাগত আইন ও প্রথা থেকে উদ্ভূত ভূমি ও জলের অধিকার ধরে রেখেছেন — যদি না সেই অধিকার আইনত বিলুপ্ত করা হয়ে থাকে।
পার্লামেন্টের পাতা অনুযায়ী মামলার নেতৃত্বে ছিলেন Edward Koiki ‘Eddie’ Mabo, সঙ্গে Celuia Mapo Salee, James Rice, Sam Passi ও Father Dave Passi — টরেস প্রণালীর মারে দ্বীপপুঞ্জের Dauer, Waier ও Mer-এর মেরিয়াম জনগোষ্ঠীর পক্ষে। প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল দশ বছর আগে, আর বাদীদের তিনজন — Sam Passi, Celuia Mapo Salee ও Edward Koiki Mabo — রায়ের আগেই মারা যান।
পার্লামেন্টের পাতা অনুযায়ী native title স্বীকৃত হতে হলে সেই প্রথাগত আইন ও প্রথাগুলো বসতি স্থাপনের সময় থেকে প্রতিটি প্রজন্মে “substantially uninterrupted” — মোটামুটি অবিচ্ছিন্নভাবে — মানা ও পালিত হয়ে আসতে হবে।
বিলটি প্রায় ৫২ ঘণ্টা বিতর্কের পর সেনেটে পাস হয় ১৯৯৩ সালের ২২ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে, আর আইনটি কার্যকর হয় ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি। আইনটি National Native Title Tribunal প্রতিষ্ঠা করে, যা ভূমি ও জলের প্রথাগত অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ দাবির আইনি পথ দেয়। সবশেষ সংশোধনী পাস হয়েছে ২০২১ সালে।
১৯৯৭ সালের এপ্রিলের Bringing them Home প্রতিবেদন অনুযায়ী আনুমানিক ১৯১০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রতি তিনজনে একজন থেকে প্রতি দশজনে একজন আদিবাসী শিশুকে জোর করে পরিবার ও সম্প্রদায় থেকে সরানো হয়েছে; নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে ও সময়ে সংখ্যাটি দশে একের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। প্রতিবেদন জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা সম্ভব নয় — বহু নথি টেকেনি, আর অন্যগুলোতে শিশুদের আদিবাসী পরিচয় লেখা নেই।
না। প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৯১১ সালের মধ্যে তাসমানিয়া ছাড়া প্রতিটি রাজ্যে ও নর্দার্ন টেরিটরিতে “protectionist legislation” ছিল, আর কয়েকটি রাজ্যে ও নর্দার্ন টেরিটরিতে চিফ প্রোটেক্টরকে সব অ্যাবোরিজিনাল শিশুর আইনি অভিভাবক করা হয় — বাবা-মায়ের অধিকার সরিয়ে দিয়ে।
NIAA-র পাতা অনুযায়ী প্রস্তাবটি ছিল সংবিধানে একটি নতুন Chapter IX ও ধারা ১২৯ যোগ করা, যাতে Aboriginal and Torres Strait Islander Voice নামে একটি সংস্থা থাকবে; সেটি Aboriginal ও Torres Strait Islander জনগোষ্ঠী সংক্রান্ত বিষয়ে সংসদ ও নির্বাহী সরকারের কাছে প্রতিনিধিত্বমূলক বক্তব্য দিতে পারবে; আর সংসদের ক্ষমতা থাকবে তার গঠন, কার্যাবলি, ক্ষমতা ও পদ্ধতি নিয়ে আইন করার।
অস্ট্রেলিয়ান ইলেক্টোরাল কমিশনের হিসাবে হ্যাঁ ৬২,৮৬,৮৯৪ (৩৯.৯৪%), না ৯৪,৫২,৭৯২ (৬০.০৬%); বাতিল ভোট ১,৫৫,৫৪৫; ভোট পড়েছে ১,৫৮,৯৫,২৩১ (৮৯.৯৫%)। ছয়টি রাজ্যের একটিতেও হ্যাঁ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি; কেবল ACT-তে ৬১.২৯ শতাংশ হ্যাঁ, কিন্তু অঞ্চলগুলো রাজ্য-সংখ্যাগরিষ্ঠতার শর্তে গণ্য হয় না।
অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পাতা অনুযায়ী IPA হলো ভূমি ও সমুদ্রের সেই এলাকা, যা Traditional Owners জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবস্থাপনা করতে সম্মত হয়েছেন। কর্মসূচিটি চালু হয় ১৯৯৭ সালে, স্বেচ্ছাভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে। এখন ৯৬টি dedicated IPA আছে, ১১.৩ কোটি হেক্টর ভূমি ও ৯৩ লাখ হেক্টর সমুদ্র জুড়ে — যা অস্ট্রেলিয়ার National Reserve System-এর ৫৫ শতাংশেরও বেশি।
ইংরেজি আইনি শব্দবন্ধ এবং সব ব্যক্তি, স্থান, জনগোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানের নাম মূল রূপে রাখা হয়েছে। পরিভাষার ক্ষেত্রে যে নথির কথা বলা হচ্ছে, সেই নথির শব্দই ব্যবহার করা হয়েছে। সর্বশেষ হালনাগাদ: ৮ অক্টোবর ২০২৬।
প্রসঙ্গ:আদিবাসী অধিকার, আদিবাসী শিশু, আদিবাসী সংস্কৃতি, আন্তর্জাতিক, আন্তর্জাতিক আইন, ভূমি অধিকার
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।