Last updated Oct 17th, 2026
1

2022 সালের জুন মাসে উত্তর তানজানিয়ার লোলিওন্দো অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী মাটিতে কংক্রিটের থাম পুঁততে শুরু করে। থামগুলো একটি সীমানা আঁকছিল — 1,500 বর্গকিলোমিটার জমির সীমানা, যে জমিতে ততদিন মাসাই পশুপালকেরা গরু চরাতেন। 10 জুন সকালে ওলোলোসোকওয়ান গ্রামের মানুষ জড়ো হয়ে থামগুলো তুলে ফেলতে শুরু করেন। তারপরই গুলি চলে।
Amnesty International-এর হিসাবে ওই দিন অন্তত 40 জন আহত হন। গুরুতর আহতদের অনেককে চিকিৎসার জন্য সীমান্ত পেরিয়ে কেনিয়ায় যেতে হয়, কারণ স্থানীয় হাসপাতাল পুলিশের ফর্ম (PF3) ছাড়া তাঁদের ছুঁতে রাজি হয়নি — জীবন সংকটাপন্ন হলেও।
এই মানুষগুলোকে পৃথিবী চেনে অন্যভাবে। লাল শুকা (চাদর), লম্বা শরীর, এক পায়ে ভর দিয়ে লাফের ছবি — ট্রাভেল ম্যাগাজিন, এয়ারলাইনের বিজ্ঞাপন, কফির মোড়ক, এমনকি গাড়ির নামেও। “মাসাই মারা” শব্দটি আজ একটি পর্যটন-ব্র্যান্ড। অথচ যাঁদের নাম থেকে ব্র্যান্ডটি এসেছে, তাঁরা নিজেদের চারণভূমিতে ঢুকতে পারছেন না।
এই লেখাটি সেই ফাঁকটা নিয়ে — মাসাই কারা, কোথায় থাকেন, কতজন, কী ভাষায় কথা বলেন, কেন গরু তাঁদের কাছে টাকার মতো, আর 1904 সাল থেকে আজ পর্যন্ত কীভাবে তাঁদের জমি একের পর এক আইনি কাগজে অন্য কারও হয়ে গেল। শেষে একটি তুলনা আছে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের চেনা লাগবে।
মাসাই একটি নিলোটিক পশুপালক জাতি, যাঁদের ভূখণ্ড দক্ষিণ কেনিয়া ও উত্তর তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত। Amnesty International-এর প্রতিবেদন অনুসারে তাঁদের নামটি এসেছে ঐতিহাসিক পরিক্রমা থেকে — দক্ষিণ নীল নদের অঞ্চল ছেড়ে অষ্টাদশ শতকে তাঁরা এই এলাকায় এসে বসতি গড়েন। তাঁরা নিজেদের আদিবাসী জাতি হিসেবে পরিচয় দেন, আর তাঁদের ভাষার নাম মা (Maa)।
ভৌগোলিকভাবে মাসাই ভূখণ্ড কেনিয়ার রিফট ভ্যালির হ্রদগুলো থেকে শুরু হয়ে সেরেঙ্গেতির সমতল পেরিয়ে তানজানিয়ায় ঢুকে যায়। Minority Rights Group-এর হিসাবে তানজানিয়ার মাসাইরা মূলত থাকেন মানিয়ারা ও আরুশা অঞ্চলে। কেনিয়ার দিকে তাঁদের প্রধান এলাকা নারোক ও কাজিয়াদো।
মাসাই একটি একক সমজাতীয় দল নয়। Minority Rights Group লিখছে, তাঁদের মধ্যে 14টি উপদল আছে — কিসোঙ্গো, পুরকো, লোইতা, মাতাপুতো প্রভৃতি। এই উপদলগুলোর নিজস্ব চারণ-এলাকা ও সামাজিক পরিচয় আছে, যেমন পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক জনগোষ্ঠীর ভেতরেও গোজা বা গুত্তি-ভিত্তিক ভাগ আছে।
গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা: মাসাই এই অঞ্চলের একমাত্র আদিবাসী জনগোষ্ঠী নন। তানজানিয়ায় যাঁরা নিজেদের আদিবাসী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করেন, IWGIA-র হিসাবে তাঁরা চারটি দল — শিকারি-সংগ্রাহক আকিয়ে ও হাদজাবে, এবং পশুপালক বারাবাইগ ও মাসাই। কেনিয়ায় তালিকাটি আরও লম্বা: তুরকানা, রেনদিল্লে, বোরানা, সামবুরু, ইলচামুস, সোমালি, গাবরা, পোকোট, এনদোরোইস — আর শিকারি-সংগ্রাহক ওগিয়েক, সেংওয়ের, ইয়াকু, ওয়াটা, আওয়ের।
কেনিয়ার 2019 সালের আদমশুমারিতে মাসাইদের সংখ্যা 1,189,522। তানজানিয়ার কোনো সরকারি সংখ্যা নেই, কারণ সেখানকার আদমশুমারিতে জাতিগত পরিচয় গোনা হয় না; প্রাক্কলন প্রায় 430,000। অর্থাৎ দুই দেশ মিলিয়ে সংখ্যাটি 16 লক্ষের কাছাকাছি, যদিও তানজানিয়ার অংশটি নিশ্চিত নয়।
কেনিয়ার সংখ্যাটি মূল নথিতেই আছে। Kenya National Bureau of Statistics-এর 2019 Kenya Population and Housing Census, Volume IV-এর Table 2.31 (“Distribution of Population by Ethnicity/Nationality”)-এ মাসাই ক্রমিক নম্বর 22, সংখ্যা 1,189,522। একই টেবিলে দেশের মোট জনসংখ্যা 47,564,296। অর্থাৎ কেনিয়ার জনসংখ্যার প্রায় 2.5 শতাংশ।
তানজানিয়ার ছবিটি আলাদা। IWGIA-র The Indigenous World 2025-এর তানজানিয়া অধ্যায়ে লেখক Edward Porokwa — নিজে আইনজীবী এবং পশুপালক ও শিকারি-সংগ্রাহকদের সংগঠন PINGO’s Forum-এর নির্বাহী পরিচালক — স্পষ্ট লিখছেন: “accurate figures are hard to arrive at since ethnic groups are not included in the population census”। সেখানে প্রাক্কলন হিসেবে দেওয়া আছে মাসাই 430,000, দাতোগা (যার মধ্যে বারাবাইগ) 87,978, হাদজাবে 1,000, আকিয়ে 5,268।
এই পার্থক্যটি নিছক পরিসংখ্যানের নয়। রাষ্ট্র যখন গুনতে অস্বীকার করে, তখন “কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলো” — এই প্রশ্নের উত্তরও রাষ্ট্রের হাতেই থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের কাছে তর্কটি অপরিচিত নয়: আদমশুমারিতে কোন নামে, কোন ঘরে, কাকে গোনা হবে, সেই প্রশ্ন এখানেও পুরনো।
মাসাইদের ভাষার নাম মা (Maa); ভাষাবিজ্ঞানের তালিকায় এটি পূর্ব নিলোটিক শাখার একটি ভাষা, ISO কোড mas। Glottolog 5.2-এ ভাষাটির শ্রেণিবিন্যাস Nilo-Saharan > Nilotic > East Nilotic > Teso > Lotuho > Onga > Nuclear Onga > Masai, আর এর glottocode masa1300। দেশ হিসেবে উল্লেখ আছে কেনিয়া ও তানজানিয়া।
Glottolog ভাষাটিকে বিপন্ন নয় বলে চিহ্নিত করেছে (AES মাত্রা 5, “developing”)। বিশ্বের অনেক আদিবাসী ভাষার তুলনায় এটি সুসংবাদ — আর্কটিকের ইনুকটিটুট বা পার্বত্য চট্টগ্রামের পাংখোয়া ভাষার অবস্থা এর ধারেকাছেও নয়। মা ভাষার আত্মীয় ভাষাগুলোর মধ্যে আছে সামবুরু ও চামুস; সামবুরু, ইলচামুস ও পারাকুয়ু জনগোষ্ঠীও নিজেদের ভাষাকে ‘ওল মা’ বলেন।
Glottolog-এ ভাষাটির বিকল্প নামের তালিকায় ‘Kimaasai’, ‘Maa’-র পাশাপাশি পুরনো ঔপনিবেশিক নথির দুটি নামও আছে — ‘Oigob’ ও ‘Lumbwa’। বাইরের লোক যে নাম দিয়েছে আর জনগোষ্ঠী নিজে যে নাম ব্যবহার করে, এই দুইয়ের ফারাক মাসাইদের ক্ষেত্রেও আছে — ইনুইটদের “এস্কিমো” নামের গল্পটির মতোই।
মাসাই সমাজে গরু কেবল খাদ্য বা সম্পদ নয়, সেটিই বিনিময়ের একক। Amnesty International-এর ভাষায়, “Cattle represent the fundamental currency in traditional Maasai society” — পরিবার বড় পাল গড়ে তোলে সম্পদ ও সামাজিক মর্যাদা দেখাতে, আর গবাদিপশু কেনাবেচা ও বিনিময় হয় নানা ধরনের লেনদেনে, পণ্য ও সেবার বদলে।
খাদ্যের মূল ভাগটিও আসে পশু থেকে। এর পাশাপাশি লোলিওন্দোর অনেক মাসাই পরিবার বাড়ির লাগোয়া জমিতে চাষও করেন — Amnesty-র হিসাবে পরিবারপ্রতি গড়ে দুই থেকে তিন একর (8,000–12,000 বর্গমিটার), যার বড় অংশ নিজেদের খাওয়ার জন্য, সামান্য বাড়তি বিক্রি হয়।
এই অর্থনীতি বোঝা না গেলে উচ্ছেদের ক্ষতিটাও বোঝা যায় না। গরু বাজেয়াপ্ত হওয়া মাসাই পরিবারের কাছে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যাওয়ার সমান। Amnesty লিখছে, 1,500 বর্গকিলোমিটার এলাকার ভেতরে পশু নিয়ে ঢুকলে বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ সেগুলো আটক করে, ছাড়াতে চড়া জরিমানা লাগে, আর যাঁরা দিতে পারেন না তাঁদের পশু নিলামে বিক্রি হয়ে যায়।
এটি কেবল হুমকি নয়, নথিভুক্ত ঘটনা। IWGIA-র 2025 সালের প্রতিবেদনে একটি মামলার উল্লেখ আছে: লোলিওন্দো থেকে আটক করা 806টি গরু, 420টি ভেড়া ও 100টি ছাগল “দাবিহীন সম্পত্তি” হিসেবে নিলামে বিক্রি হয়ে যায়। 13 ফেব্রুয়ারি 2024-এ মুসোমা জেলা আদালত মালিকদের 168 মিলিয়ন তানজানিয়ান শিলিং দেওয়ার আদেশ দেয় — পশুর আসল দাম যা-ই হোক।
মাসাই পুরুষের জীবন তিনটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এক ধাপ থেকে পরের ধাপে যায়, আর 2018 সালে ইউনেস্কো এই তিনটি আচারকে বিশ্ব-ঐতিহ্যের অস্পৃশ্য তালিকায় স্থান দিয়েছে। কেনিয়ার প্রস্তাবে তালিকাভুক্ত হওয়া এই তিনটি হলো এনকিপাতা, এউনোতো ও ওলংএশের।
ইউনেস্কোর নথি অনুযায়ী এনকিপাতা হলো বালকদের দীক্ষার দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রবেশ-অনুষ্ঠান; এউনোতো হলো মোরানদের (তরুণ যোদ্ধা) মাথা কামানোর অনুষ্ঠান, যা প্রাপ্তবয়স্কতার পথ খুলে দেয়; আর ওলংএশের হলো মাংসভোজনের অনুষ্ঠান, যা মোরান-পর্বের শেষ ও প্রবীণত্বের শুরু চিহ্নিত করে। মূলত 15 থেকে 30 বছর বয়সী তরুণরা এতে অংশ নেন, আর কিছু কাজে নারীরাও যুক্ত থাকেন।
এই অনুষ্ঠানগুলো নিছক উৎসব নয় — ইউনেস্কোর ভাষায় এগুলোর মধ্য দিয়েই হস্তান্তরিত হয় “indigenous knowledge, such as in relation to livestock rearing, conflict management, legends, traditions and life skills”। অর্থাৎ পশুপালনের কৌশল, বিরোধ মেটানোর পদ্ধতি, কাহিনি ও জীবনদক্ষতা — সব এক সঙ্গে, এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে।
আর ইউনেস্কো নিজেই তিনটি ঝুঁকির কথা বলেছে, যেগুলো এই চর্চা কমিয়ে দিচ্ছে: আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে কৃষির দ্রুত উত্থান, ভূমি-মালিকানা ব্যবস্থার সংস্কার, আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যা গরুর বেঁচে থাকাকেই কঠিন করে তুলছে। লক্ষ করার মতো বিষয় — তিনটি ঝুঁকির দুটিই আসলে জমির প্রশ্ন।
মাসাই বসতির চলতি নাম ‘বোমা’, কিন্তু মাসাই ভাষায় পারিবারিক বসতিকে বলা হয় এনকাং, আর মানিয়াত্তা মূলত যোদ্ধাদের শিবির। পর্যটন-লেখায় এই দুটি শব্দ প্রায়ই মিশিয়ে ফেলা হয়, যদিও মাসাই সমাজে এরা আলাদা জিনিস।
এনকাং-এর গড়নটি সরল এবং কাজের: কাঁটাঝোপের বেড়া দিয়ে ঘেরা একটি বৃত্ত, বৃত্তের গা ঘেঁষে ঘরগুলো, আর একেবারে মাঝখানে পশুর খোঁয়াড় — রাতে গরু, ভেড়া, ছাগল থাকে ঘরগুলোর বেষ্টনীর ভেতরে, যাতে শিকারি প্রাণী পৌঁছাতে না পারে। [এই গড়নের বিবরণ পর্যটন ও সাধারণ বিবরণী সূত্রে পাওয়া; মাসাই সংগঠনের নিজস্ব প্রকাশনায় যাচাই প্রয়োজন]
Amnesty-র প্রতিবেদনে উচ্ছেদের বর্ণনায় এই গড়নটিই ফিরে আসে: নিরাপত্তা বাহিনী ভারী ট্রাক চালিয়ে “homes, including huts and enclosures for livestock” ভেঙে দিয়েছিল — অর্থাৎ ঘর আর পশুর খোঁয়াড়, দুটোই। একটি এনকাং ভাঙা মানে একই সঙ্গে বাসস্থান আর পশুর নিরাপত্তা, দুটোই হারানো।
মাসাই ভূখণ্ড দুই দেশে ভাগ হওয়ার শুরু বার্লিন সম্মেলনে, 1884–85 সালে — আফ্রিকাকে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার সেই বৈঠকেই। Minority Rights Group-এর বিবরণ অনুযায়ী মাসাইল্যান্ড দুই ভাগে পড়ে যায় — একটি অংশ ব্রিটিশ-নিয়ন্ত্রিত কেনিয়ায়, আরেকটি জার্মান উপনিবেশ টাঙ্গানিকায়।
তখন মাসাই জমির বড় অংশ ছিল কেনিয়ার দিকে। কিন্তু বিশ শতকের শুরুতে সাদা বসতি স্থাপনকারীদের জায়গা করে দিতে কেনিয়ার মাসাইদের সরিয়ে দেওয়া হয়, আর তার ফলে আজ মাসাই ভূখণ্ডের বড় অংশ তানজানিয়ায়। গোটা শতাব্দী ধরে সীমান্তের দুই পাশেই জাতীয় উদ্যান ও গেম রিজার্ভ তৈরি হতে থাকে, আর মাসাইদের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ বাড়তে থাকে।
একটি জাতিকে দুই রাষ্ট্রে ভাগ করে দেওয়ার ফল কী হয়, সেটি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের কাছে ব্যাখ্যার দরকার নেই। 1947-এর সীমানা চাকমা, ত্রিপুরা, মারমা ও আরও কয়েকটি জনগোষ্ঠীকে ঠিক একইভাবে দুই রাষ্ট্রের নাগরিক বানিয়ে দিয়েছিল।
1904 সালে ব্রিটিশ প্রশাসন মাসাইদের সঙ্গে একটি চুক্তি করে দুটি সংরক্ষিত এলাকা দেয়, আর মাত্র সাত বছর পর 1911-র আরেকটি চুক্তিতে তার একটি কেড়ে নেয়। প্রথম চুক্তির ভাষা ছিল অস্বাভাবিক জোরালো — জমির অধিকার টিকবে “so long as the Maasai as a race shall exist”, আর সেখানে ইউরোপীয় বসতি নিষিদ্ধ।
কেনিয়ার Daily Nation-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী 1904-র চুক্তিতে ব্রিটিশ পক্ষে সই করেন কমিশনার স্যার ডোনাল্ড স্টুয়ার্ট। মাসাই মারা অঞ্চলের নথি-সংকলনে তারিখ আরও নির্দিষ্ট: স্টুয়ার্ট সই করেন 10 আগস্ট, মাসাই প্রতিনিধিরা দস্তখতের চিহ্ন দেন 15 আগস্ট। চুক্তিতে দুটি সংরক্ষিত এলাকা তৈরি হয় — উত্তরের সংরক্ষিত এলাকা লাইকিপিয়ায়, আর দক্ষিণের এলাকা এনগং ও কিসেরিয়ানের ওপাশে। দুটিই ছিল উগান্ডা রেলপথের দুই পাশে।
তারপর 1911। লাইকিপিয়ার মাটি উর্বর, আবহাওয়া ভালো — সাদা বসতিস্থাপনকারীদের জন্য লোভনীয়। নতুন চুক্তিতে উত্তরের সংরক্ষিত এলাকা তুলে দেওয়া হয় এবং সেখানকার মাসাইদের লাইকিপিয়া ছেড়ে দক্ষিণের একটিমাত্র বড় এলাকায় চলে আসতে বলা হয়, উগান্ডা রেলপথের দক্ষিণে। প্রতিনিধিরা সই করেন 4 ও 13 এপ্রিল, গভর্নর E. P. C. Girouard অনুমোদন দেন 26 এপ্রিল 1911। মানুষ ও পশুপাল সরবে গভর্নরের বেছে দেওয়া পথ ধরে। Daily Nation লিখছে, 1911-র সইদাতাদের মধ্যে ছিলেন প্রয়াত লেনানার ছেলে সেগি এবং “Saburi, Prime Minister of the Late Lenana”, আর দক্ষিণের এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার কাজ হয় 1912 সালের এপ্রিলে।
যে জমি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তা আজ কেনিয়ার নারোক ও কাজিয়াদো কাউন্টি এবং নাইভাশার কিছু অংশ।
মাসাই প্রবীণরা 1911-র সরিয়ে দেওয়াকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, কিন্তু 1913 সালে মামলাটি খারিজ হয় — আদালত বলে, চুক্তিগুলো দুই জাতির মধ্যে সন্ধি, আর সরিয়ে দেওয়াটি রাষ্ট্রীয় কাজ, তাই ঔপনিবেশিক দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারে পড়ে না।
মামলাটির নাম Ol Le Njogo, 1912 সালের 91 নম্বর দেওয়ানি মামলা। Daily Nation-এর বিবরণে বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন A. Morrison ও A. D. Home; বিবাদীদের মধ্যে ছিলেন অ্যাটর্নি-জেনারেল R. M. Combe এবং 1911-র চুক্তিতে সই করা 20 জন মাসাই। শুনানি হয় মোম্বাসা মিউনিসিপ্যাল কোর্টে, বিচারক R. W. Hamilton, রায় 26 মে 1913। আদালতের ভাষায় বিষয়টি ছিল “a pact between two nations”।
এই যুক্তিটি মনে রাখার মতো, কারণ একই যুক্তির ছায়া পরে বারবার ফিরে এসেছে: রাষ্ট্র আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তি করে, তারপর চুক্তি ভাঙলে বলে যে চুক্তিটি সাধারণ আদালতে বিচার্য নয়। নিউজিল্যান্ডের ওয়াইটাঙি চুক্তি নিয়ে দেড়শো বছরের বিতর্কের কেন্দ্রেও একই প্রশ্ন।
আজ যে মাসাইরা লোলিওন্দো ও এনগোরোনগোরোতে থাকেন, তাঁদের বড় অংশকে 1959 সালে সেরেঙ্গেতি এলাকা থেকে সরিয়ে আনা হয়েছিল — সেরেঙ্গেতি জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠার সময়। Amnesty International-এর নথি অনুসারে 1958 সাল পর্যন্ত সেরেঙ্গেতির মাসাই সম্প্রদায় সরতে রাজি হননি।
তারপর 21 এপ্রিল 1958-এ মাসাই প্রবীণরা লোলিওন্দো ও এনগোরোনগোরো অঞ্চলের মানুষের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছান: পশ্চিম সেরেঙ্গেতির বসতির দাবি ছেড়ে দিয়ে তাঁরা এনগোরোনগোরো জেলায় চলে আসবেন। 1959 সালে এনগোরোনগোরো কনজারভেশন এরিয়া অথরিটি (NCAA) প্রতিষ্ঠিত হয়।
1959 সালে সেরেঙ্গেতি, এনগোরোনগোরো ও লোলিওন্দো — তিন জায়গাতেই মাসাই ভূখণ্ডকে সংরক্ষণের মর্যাদা দেওয়া হয়। লোলিওন্দো হয় গেম কন্ট্রোলড এরিয়া, যেখানে মাসাইরা থাকতে ও তাঁদের সামাজিক-অর্থনৈতিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারবেন কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই। শিকারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকল, তবে তখন সেটি এমনভাবে সীমিত ছিল যাতে মাসাই ভূমি-স্বত্বে হাত না পড়ে।
লক্ষণীয়, বহু শতাব্দী ধরে বসবাস সত্ত্বেও মাসাই গ্রামগুলো সরকারিভাবে নিবন্ধিত হয় কেবল 1974 সালে। একই বছর Wildlife Conservation Act (No. 12 of 1974) হয়, আর Government Notice No. 269-এ লোলিওন্দোর 4,000 বর্গকিলোমিটারকে “Loliondo Game Controlled Area” হিসেবে পুনর্বিন্যস্ত করা হয় — শুধুমাত্র বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য। নথিতে জমি সংরক্ষিত হয়ে গেল, কিন্তু মানুষের বসবাসের স্বীকৃতি তার চেয়ে দুর্বল রয়ে গেল।
এনগোরোনগোরো কনজারভেশন এরিয়া (NCA) 8,09,440 হেক্টর, 1959 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একটি “multiple land use area” হিসেবে — অর্থাৎ যেখানে বন্যপ্রাণী আর আধা-যাযাবর মাসাই পশুপালকেরা পাশাপাশি থাকবেন। এই বাক্যটি আমাদের লেখা নয়; এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব-ঐতিহ্য তালিকার নিজের ভাষা।
NCA-র মূল আইন Ngorongoro Conservation Area Ordinance of 1959, আর পরিচালনা করে NCAA। ইউনেস্কোর নথিতে ব্যবস্থাপনার তিনটি প্রধান লক্ষ্য লেখা আছে: প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, মাসাই পশুপালকদের স্বার্থ রক্ষা, এবং পর্যটনের প্রসার। দ্বিতীয় লক্ষ্যটি কাগজে আছে — বাস্তবে কী হয়েছে, সেটি এই লেখার পরের অংশগুলোর বিষয়।
এলাকাটি কেন বিশ্ব-ঐতিহ্য, সেটিও নথিতে স্পষ্ট। এনগোরোনগোরো ক্রেটার পৃথিবীর বৃহত্তম অবিচ্ছিন্ন ক্যালডেরা; ওলদুভাই গর্জ 14 কিলোমিটার লম্বা একটি গভীর খাদ; লাইতোলিতে পাওয়া পায়ের ছাপ 36 লক্ষ বছরের পুরনো। প্রাকৃতিক মানদণ্ডে (vii), (viii), (ix), (x) এটি তালিকাভুক্ত হয় 1979 সালে, আর সাংস্কৃতিক মানদণ্ড (iv)-এ 2010 সালে। পাশেই সেরেঙ্গেতি জাতীয় উদ্যান, 14,76,300 হেক্টর।
এবার সেই সংখ্যাটি, যেটি আজকের তর্কের কেন্দ্রে। ইউনেস্কোর নথি বলছে, 1979 সালে তালিকাভুক্তির সময় NCA-র ভেতরে প্রায় 20,000 মাসাই বাস করতেন, সঙ্গে প্রায় 2,75,000 গবাদিপশু — এবং সেটি “considered within the capacity of the reserve”, অর্থাৎ এলাকার ধারণক্ষমতার ভেতরেই বিবেচিত হয়েছিল। স্থায়ী কৃষি সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ছিল, আর ক্রেটার ও বনের ভেতরে কেউ থাকতেন না।
লোলিওন্দো 4,000 বর্গকিলোমিটারের বেশি একটি এলাকা, যার পশ্চিমে সেরেঙ্গেতি জাতীয় উদ্যান, দক্ষিণে NCA আর উত্তরে কেনিয়া সীমান্ত। Amnesty International-এর বিবরণে এটি সেরেঙ্গেতি-মারা বাস্তুতন্ত্রের অংশ, যেখান থেকে প্রতি বছর বুনো মহিষ, জেব্রা ও গ্যাজেলের পাল পরিযানে বেরোয়।
1992 সালে এনগোরোনগোরো জেলা পরিষদ গোটা লোলিওন্দো বিভাগটিকে একটি শিকার-ব্লক হিসেবে একটি বেসরকারি কোম্পানিকে ইজারা দেয়। Amnesty-র ভাষায় এই ইজারা দেওয়া হয় মাসাই সম্প্রদায়ের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই। Minority Rights Group কোম্পানিটির নাম উল্লেখ করেছে — Ortello Business Corporation (OBC), যার মালিকানা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের সদস্যদের হাতে; ইজারায় শিকারের অধিকার দেওয়া হয় 4,000 বর্গকিলোমিটার জমিতে, যেখানে 60,000-এর বেশি মাসাই থাকেন।
2017 সালের নভেম্বরে তানজানিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটনমন্ত্রী Hamis Kigwangalla ঘোষণা করেন যে OBC-র ইজারা বাতিল হচ্ছে; তিনি OBC-র নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ দুর্নীতি-দমন সংস্থায় জানিয়েছিলেন। Minority Rights Group লিখছে, ঘোষণাটি কার্যকর হয়নি — OBC লোলিওন্দোতে থেকে যায় এবং কাজ চালিয়ে যায়।
লোলিওন্দোতে জমি হাতবদলের আরেকটি ধারা শুরু হয় 1980-র দশকে একটি বিয়ার কোম্পানি দিয়ে, আর 2006 সালে সেটি গিয়ে পৌঁছায় একটি মার্কিন সাফারি কোম্পানির হাতে।
Minority Rights Group-এর বিবরণ অনুযায়ী 1980-র দশকে লোলিওন্দোর 10,000 একর মাসাই চারণভূমি বিক্রি হয় Tanzania Breweries Limited (TBL)-এর কাছে, গম ও বার্লি চাষের জন্য। মাসাই গ্রামগুলোকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি, পরামর্শও করা হয়নি। তবে কোম্পানিটি চাষ করত মাত্র প্রায় 700 একরে, ফলে বাকি জমিতে মাসাইরা পশু চরাতে ও পানি দিতে পারতেন। এই ব্যবস্থা চলে 19 বছর, আর সম্প্রদায় প্রথাগত মালিকানা ধরে রাখে।
2006 সালে TBL পুরো জমি এবং সঙ্গে আরও 2,617 একর বিক্রি করে দেয় Tanzania Conservation Limited (TCL)-এর কাছে — এটি মার্কিন পর্যটন কোম্পানি Thomson Safaris-এর তানজানিয়ান অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। তারপর থেকে সম্প্রদায়কে 12,000 একরেরও বেশি জমিতে ঢুকতে দেওয়া হয় না, যেখানে তাঁরা ঐতিহাসিকভাবে গরু চরাতেন।
ধারাটি লক্ষ করার মতো: চাষের নামে জমি গেল, তারপর সংরক্ষণ ও পর্যটনের নামে সেটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেল। মাঝখানে জমির কাগজ বদলেছে, মানুষ বদলায়নি।
2022 সালের উচ্ছেদ প্রথম ছিল না — Amnesty International-এর হিসাবে সেটি ছিল লোলিওন্দোর চারণভূমি থেকে মাসাইদের সরানোর চতুর্থ চেষ্টা। এর আগে 2009, 2013 ও 2017 সালে নিরাপত্তা বাহিনী একই কাজ করেছে, আর প্রতিবারই সঙ্গে ছিল লোলিওন্দোতে পর্যটন ও শিকারের ছাড়পত্র পাওয়া একটি বেসরকারি কোম্পানির প্রতিনিধিরা।
Amnesty-র নথিতে পদ্ধতিটির বর্ণনা একই রকম: ঘর পুড়িয়ে দেওয়া, মারধর, রাবার ও তাজা গুলি ছোড়া, কাঁদানে গ্যাস। ক্ষতিগ্রস্ত চারটি গ্রামের নাম — ওলোলোসোকওয়ান, ওলোইরিয়েন, কিরতালো ও আরাশ।
2009 সালের ঘটনায় Minority Rights Group-এর বিবরণ আরও নির্দিষ্ট: 200টি বোমা (ঘেরা বসতি) পুড়িয়ে দেওয়া হয়, বহু মাসাইকে মারধর ও আটক করা হয়। আদিবাসী জনগোষ্ঠী বিষয়ে জাতিসংঘের তৎকালীন বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার James Anaya তাঁর প্রতিবেদনে জানান, অন্তত একজন মাসাই নারীকে পুলিশ বারবার ধর্ষণ করে, আর হামলার ফলে চারজন গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত হয়।
2013 সালে উচ্ছেদের আদেশ বেরিয়েছিল, কিন্তু বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়ার মুখে সরকার সে বছর সেটি স্থগিত করে। Minority Rights Group লিখছে, Avaaz.org-এর একটি অনলাইন পিটিশনে 20 লক্ষেরও বেশি সই পড়ে, আর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী Mizengo Pinda হস্তক্ষেপ করেন। তবু 2015 সালে কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি ভেঙে আবার বোমা পুড়িয়ে উচ্ছেদ চালায়, আর 2017-র আগস্টে হাজারো মাসাইকে বিভিন্ন গ্রাম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় — আশ্রয়, খাদ্য বা পানির ব্যবস্থা ছাড়াই।
2017-র উচ্ছেদের একটি কারিগরি দিক আছে, যা পরে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। Amnesty লিখছে, রাষ্ট্র চিঠি পাঠিয়ে সম্প্রদায়কে সেরেঙ্গেতি জাতীয় উদ্যান থেকে গরু ও গ্রাম সরিয়ে নিতে বলেছিল। কিন্তু মাসাইরা যেখানে থাকতেন সেটি উদ্যানের ভেতরে পড়ে না — তাই চিঠি পেয়েও তাঁরা সরেননি। তারপরও সেনা ও পুলিশ এসে ঘর পুড়িয়ে দেয়; মানুষ ফিরে এসে আবার ঘর বাঁধেন।
3 জুন 2022-এ তানজানিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায় যে লোলিওন্দোর 1,500 বর্গকিলোমিটার সংরক্ষণের জন্য সীমানা-চিহ্নিত করা হচ্ছে — এটি লোলিওন্দোর মোট জমির প্রায় 40 শতাংশ। 6 জুন আরুশার রিজিওনাল কমিশনার ঘোষণা করেন, 4,000 বর্গকিলোমিটারের গ্রাম-জমি থেকে এই 1,500 বর্গকিলোমিটার গেম রিজার্ভে পরিণত হবে।
7 জুন শত শত নিরাপত্তাকর্মী গাড়ির বহরে লোলিওন্দোয় পৌঁছে ওলোলোসোকওয়ান গ্রামের কাছে শিবির গাড়েন। 10 জুন সীমানা-চিহ্নিতকরণের বিরুদ্ধে জড়ো হওয়া মানুষকে হটাতে বলপ্রয়োগ শুরু হয়। Amnesty-র তালিকায় সেদিনের বাহিনীতে ছিল তানজানিয়া পিপলস ডিফেন্স ফোর্স, তানজানিয়া পুলিশ ফোর্স ও তার ফিল্ড ফোর্স ইউনিট, NCAA এবং TANAPA-র রেঞ্জাররা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা Amnesty-কে জানান, বাহিনী কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই ঘরে ঢুকে খাবার নষ্ট করে, গাড়ি দিয়ে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়, আর সামনে যাকে পেয়েছে মেরেছে। চিহ্নিত 1,500 বর্গকিলোমিটারের ভেতরে এবং থামগুলোর 2 কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সম্পত্তিগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়; ভারী ট্রাক চালিয়ে ঘর ও পশুর খোঁয়াড় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
একটি নাম Amnesty-র প্রতিবেদনে আলাদা করে আছে। 84 বছরের ওরিয়াইসি পাসিলান্স এনগিইয়ো-কে পরিবার ও গ্রামের মানুষ শেষ দেখেছেন দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায়। চারজন মাসাই তরুণ তাঁকে বয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করেন, কিন্তু তাঁদের দিকেও গুলি চলে; প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা বৃদ্ধকে মাটিতে ফেলে চলে যেতে বাধ্য হন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তিনি নিখোঁজ।
এরপর শুরু হয় মামলার পর্ব। 9 জুন থেকে 11 জুলাই 2022-র মধ্যে 27 জনকে গ্রেফতার করে হত্যা-সংক্রান্ত অভিযোগে আদালতে তোলা হয় — 10 জুনের বিক্ষোভে নিহত এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর সূত্রে। Amnesty দুটি আইনি অসঙ্গতি তুলে ধরেছে: যে রেসিডেন্ট ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তাঁদের তোলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী হত্যা মামলায় সেটির এখতিয়ার নেই; আর অভিযুক্ত 10 জনকে গ্রেফতার করা হয় 9 জুন — অর্থাৎ অভিযোগে উল্লিখিত হত্যাকাণ্ডের একদিন আগে।
2 থেকে 6 জুলাই 2022-র মধ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগসহ রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো কিরাতলো, সোইতসাম্বু, নজোরোই ও নগুসেরোসাম্বু গ্রামে আরও ধরপাকড় চালায় এবং 132 জনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দেশে থাকার অভিযোগ আনে। অর্থাৎ নিজের গ্রামে বসবাস করা মানুষকে বিদেশি বলে অভিযুক্ত করা হয়।
শেষ ফলাফলটি গুরুত্বপূর্ণ: 27 জন ও 132 জন — দুই দলের সবাইকেই প্রমাণের অভাবে আদালত অব্যাহতি দিয়েছে। কিন্তু ততদিনে অনেকে আইনি খরচ মেটাতে গরু বিক্রি করে ফেলেছেন।
মাসাই গ্রামগুলো 2017 সালে পূর্ব আফ্রিকান আদালতে (EACJ) মামলা করেছিল; 2022 সালে মামলাটি খারিজ হয়, কিন্তু 2023 সালের নভেম্বরে আপিল বিভাগ সেই খারিজ বাতিল করে দেয়।
ধাপগুলো সাজিয়ে দেখলে স্পষ্ট হয়। 21 সেপ্টেম্বর 2017-এ চারটি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম EACJ-তে মামলা করে — Reference No. 10 of 2017, Ololosakwan Village Council & 3 Others vs Attorney General of Tanzania। তাঁদের পক্ষে ছিল Pan African Lawyers Union (PALU)। 25 সেপ্টেম্বর 2018-এ আদালত একটি নিষেধাজ্ঞা দেয়: মূল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্র মাসাইদের উচ্ছেদ করতে পারবে না।
2022 সালের জুনের উচ্ছেদ ঘটে ঠিক এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা অবস্থায়। রায় দেওয়ার কথা ছিল 22 জুন 2022; তার একদিন আগে, 21 জুনে, আদালত রায় সেপ্টেম্বরে সরিয়ে দেয়।
30 সেপ্টেম্বর 2022-এ EACJ মামলাটি খারিজ করে। কারণ হিসেবে বলা হয়, আবেদনকারীরা পর্যাপ্ত প্রমাণ দিতে পারেননি যে তাঁদের গ্রাম-জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, সেরেঙ্গেতি জাতীয় উদ্যান থেকে নয়। তবে আদালত একটি কথা স্বীকার করে: সেরেঙ্গেতি জাতীয় উদ্যানের পূর্ব অংশ নিবন্ধিত গ্রাম-জমি — আর 2022-র উচ্ছেদ সেখানেই হয়েছিল।
PALU-র মাধ্যমে মাসাইরা আপত্তি জানান যে আদালত গ্রামবাসীদের মুখ্য ও হলফনামা-প্রমাণ, এমনকি তাঁদের ভূ-স্থানিক বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্যও বিবেচনায় নেয়নি — অজুহাত ছিল, বিশেষজ্ঞ কেনিয়ার নাগরিক এবং তানজানিয়ায় সমীক্ষার জন্য তিনি কাজের অনুমতি নেননি।
তারপর আসে মোড়টি। Minority Rights Group-এর বিবরণ অনুযায়ী গ্রামবাসীরা EACJ-র আপিল বিভাগে আপিল করেন, এবং 2023 সালের নভেম্বরে আদালত আপিল মঞ্জুর করে — রায়ে বলা হয়, মূল রায়ে প্রমাণ (হলফনামা ও বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনসহ) পরীক্ষা ও শ্রবণে ব্যর্থতা ঘটেছে। আদালত আপিল ও মূল বিচার — দুই পর্যায়েরই খরচ আপিলকারীদের অনুকূলে দেয়, অর্থাৎ উভয় পক্ষের সব খরচ সরকারের।
আইনি দিক থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ, তবে যা ফেরত আসেনি সেটিও বলা দরকার: জমিটি ততদিনে Government Notice No. 421 (17 জুন 2022) দিয়ে “পোলোলেতি গেম কন্ট্রোলড এরিয়া” হয়ে গেছে, এবং পরে গেম রিজার্ভে উন্নীত। আদালতে প্রক্রিয়াগত জয় এলেও মাঠে থামগুলো থেকে গেছে।
2022 সালের 16 জুন থেকে তানজানিয়া সরকার NCA-র মাসাইদের প্রায় 600 কিলোমিটার দূরের মসোমেরা গ্রামে সরিয়ে নেওয়ার একটি কর্মসূচি চালাচ্ছে, যার লক্ষ্য 2027 সালের মধ্যে প্রায় 82,000 মানুষ। সরকার এটিকে স্বেচ্ছামূলক বলে; Human Rights Watch-এর 2024 সালের প্রতিবেদন বলছে, বাসিন্দাদের free, prior and informed consent নেওয়া হয়নি।
Human Rights Watch-এর “It’s Like Killing Culture” প্রতিবেদনটি দাঁড়িয়ে আছে 2022-র আগস্ট থেকে 2023-র ডিসেম্বরের মধ্যে নেওয়া প্রায় 100 জনের সাক্ষাৎকারের উপর (37 জন নারী, 57 জন পুরুষ), ইংরেজি, কিসোয়াহিলি ও মা ভাষায়।
সংখ্যাগুলো এরকম। 2023 সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সরে গিয়েছিল 551টিরও বেশি পরিবার — 3,010 জন মানুষ ও 15,321টি গবাদিপশু। Minority Rights Group-এর হিসাবে 2022-র জুন থেকে 2024-র সেপ্টেম্বরের মধ্যে NCA ছেড়েছেন প্রায় 10,000 জন। গন্তব্য মসোমেরা — তাঙ্গা অঞ্চলের হানদেনি জেলায়, আরুশা থেকে প্রায় 600 কিলোমিটার।
প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ ছিল: নগদ 1 কোটি থেকে 1.9 কোটি তানজানিয়ান শিলিং (প্রায় 3,964–7,532 মার্কিন ডলার), চাষ ও বসতির জন্য 5–7 একর জমি, পরিবারপ্রতি একটি ঘর, যাতায়াতের সহায়তা, আর প্রায় 200 কিলোগ্রাম ভুট্টা। Human Rights Watch লিখছে, বাসিন্দারা জানিয়েছেন এটি যথেষ্ট হয়নি — বিশেষত সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই ঘর আর হারানো পশুর ক্ষতির তুলনায়।
ঘরের আকার নিয়ে আপত্তিটি নিছক পছন্দের প্রশ্ন নয়। Minority Rights Group Human Rights Watch-এর বরাতে লিখছে, দেওয়া ঘরগুলো অনেক ছোট এবং মাসাই পরিবারের চাহিদার সঙ্গে মেলে না — যেখানে সাধারণত কয়েক প্রজন্ম ও কয়েকটি পরিবার একসঙ্গে থাকে।
প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি, সেটি স্থানান্তরিতরা নিজেরাই বলেছেন। IWGIA-র প্রতিবেদনে আছে, 10 এপ্রিল 2024-এ মসোমেরায় সরে যাওয়া 135টি পরিবার একটি সংবাদ-বিবৃতি দিয়ে জানায় যে সরকার ঘর, চারণ-জমি, বসতি ও কৃষিজমির প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ দেয়নি।
যাঁদের জমিতে নতুনদের বসানো হচ্ছে, তাঁদের সঙ্গেও পরামর্শ করা হয়নি — ফলে একটি উচ্ছেদ থেকে আরেকটি উচ্ছেদ তৈরি হয়েছে। Human Rights Watch-এর হিসাবে মসোমেরার প্রায় 200টি পরিবার, প্রায় 7,000 মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত; সরকার তাঁদের চাষ ও চারণের জমি মেপে সেখানে ঘর তুলেছে, কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই, আর প্রশ্ন তোলায় উচ্ছেদ ও গ্রেফতারের ভয় দেখানো হয়েছে।
IWGIA-র প্রতিবেদনে এর পরের ধাপটি আছে। 29 নভেম্বর 2024-এ মসোমেরার বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেন; তাঁরা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় তাঁদের চাষের জমি, চারণভূমি, কবরস্থান ও বসতবাড়ির ওপর থাম বসানো হয়েছে, আর প্রতিবাদ করলে থানায় যেতে হয়েছে। আটজন বাসিন্দা তাঙ্গা হাইকোর্টে আটটি মামলা করেছেন — সরকারের এই দাবির বিরুদ্ধে যে মসোমেরায় খালি জমি পড়ে আছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের জন্য এই অংশটি সবচেয়ে চেনা। এক জায়গার উদ্বাস্তুকে আরেক জায়গায় বসানো হলে দ্বিতীয় জায়গার মানুষও জমি হারান, আর দুই দলের মধ্যে বিরোধ বাধে — পার্বত্য চুক্তি ও পুনর্বাসনের ইতিহাসে এই ধাঁচ বারবার দেখা গেছে।
এনগোরোনগোরোতে মানুষকে সরাতে ব্যবহার হয়েছে একটি পরোক্ষ পদ্ধতি — স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পানির সেবা কমিয়ে বা বন্ধ করে দেওয়া। Minority Rights Group সোজা ভাষায় লিখছে, 2022 সালে এই সেবাগুলো বন্ধ করা ছিল মাসাই পশুপালকদের NCA থেকে বের করার একটি কৌশল।
Human Rights Watch-এর নথিতে উদাহরণগুলো নির্দিষ্ট। 2022 সালের অক্টোবরে এনদুলেন হাসপাতালকে নামিয়ে ডিসপেনসারি করে দেওয়া হয় — এটি ছিল 110 শয্যার হাসপাতাল, যা 1965 সাল থেকে ক্যাথলিক চার্চ চালাত এবং এলাকার একমাত্র পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাকেন্দ্র ছিল। কর্মী প্রায় 60 জন থেকে নেমে দাঁড়ায় 17 জনে; অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা বন্ধ হয়; বার্ষিক প্রায় 3 কোটি শিলিং (প্রায় 11,900 ডলার) বরাদ্দ কাটা হয়।
শিক্ষার দিকেও একই ধরন। Human Rights Watch লিখছে, NCA-র প্যাস্টোরাল কাউন্সিলের বার্ষিক বাজেট 2019-র আগে ছিল 300 কোটি শিলিং (প্রায় 11,50,000 ডলার) — উন্নয়ন প্রকল্প ও বৃত্তির জন্য; 2020 সাল থেকে NCAA-র এই তহবিল বন্ধ। 2021 সাল থেকে স্কুলের ভবন সংস্কারের অনুমতি চাইলে কোনো কারণ না জানিয়ে নাকচ করা হচ্ছে। আর 2022 সালে জেলা পরিষদ NCA-র ছয়টি স্কুল থেকে কোভিড-সহায়তার প্রায় 20 কোটি শিলিং (প্রায় 76,500 ডলার) সরিয়ে নিয়ে মসোমেরার পুনর্বাসন কেন্দ্রে দিয়েছে।
IWGIA-র 2025 সালের প্রতিবেদনে আরেকটি জিনিস আছে: Flying Medical Service — যে উড়ন্ত চিকিৎসা-সেবা এলাকায় রোগী আনা-নেওয়া করত — 2022 সালে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এখনো চালু করতে দেওয়া হয়নি।
তারপর আসে ভোটের অধিকার। Minority Rights Group-এর বিবরণে 2024 সালের আগস্টে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এনগোরোনগোরোকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়, যার ফলে প্রায় 1,00,000 মাসাই 2024-র স্থানীয় সরকার ও 2025-র সাধারণ নির্বাচনে প্রতিনিধি বাছার অধিকার হারান। IWGIA-র প্রতিবেদন অনুযায়ী এটি হয় Government Notice No. 673 of 2024 দিয়ে গ্রামগুলোকে নিবন্ধন থেকে বাদ দেওয়ার মাধ্যমে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘনত্বও মাপা হয়েছে। তানজানিয়ার প্রধান মানবাধিকার সংস্থা Legal and Human Rights Centre (LHRC)-এর Tanzania Human Rights Report 2023 অনুযায়ী, 2023 সালে স্বেচ্ছাচারী গ্রেফতার, আটক ও নির্যাতনের অভিযোগের 78 শতাংশ এসেছে একটি জেলা থেকে — এনগোরোনগোরো। Human Rights Watch আলাদাভাবে 2022-র সেপ্টেম্বর থেকে 2023-র জুলাইয়ের মধ্যে NCAA রেঞ্জারদের হাতে অন্তত 13টি মারধরের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে; একটি ঘটনায় (13 জুলাই 2023) রাইফেলের বাঁট দিয়ে এক 15 বছরের কিশোরের দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়। কোনো ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয়নি।
জমি থেকে না সরিয়েও পশুপালন অসম্ভব করে তোলা যায় — চারণ, পানি ও চাষ, তিনটি পথ একসঙ্গে বন্ধ করে দিলে। Human Rights Watch-এর নথিতে NCA-র ভেতরে এই তিনটিই ঘটেছে।
প্রথমত, প্রায় 2016 সাল থেকে ক্রেটারে পশু নিয়ে ঢোকা নিষিদ্ধ — অথচ শুকনো মৌসুমে ক্রেটারের ঘাস ও পানি ছিল পশুপালের ভরসা। দ্বিতীয়ত, পানির আটটি বাঁধের মধ্যে ছয়টি অকেজো হয়ে পড়ে আছে, চালু আছে মাত্র দুটি। তৃতীয়ত, ফসল চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আর একটি অভিযোগ আছে, যা গুরুতর এবং এখনো বিতর্কিত: বাসিন্দারা Human Rights Watch-কে জানিয়েছেন, 2021 সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় 77,000 গরু মারা গেছে, এবং তাঁরা এর জন্য দায়ী করছেন সরকার-সরবরাহকৃত লবণকে, যা সরকারি গবেষণাগারের মানদণ্ডেই উতরোয়নি। [এটি বাসিন্দাদের বক্তব্য, Human Rights Watch-এর নথিভুক্ত; স্বাধীন ময়নাতদন্ত বা পশুচিকিৎসা-প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি — যাচাই প্রয়োজন]
আর ছোট কিন্তু তীক্ষ্ণ একটি তথ্য: NCA-র বাসিন্দা হয়েও পরিচয়পত্র না থাকলে এলাকায় ঢুকতে 11,800 শিলিং (প্রায় 5 ডলার) ফি দিতে হয়েছে — নিজের বাড়িতে ফিরতে টিকিট।
2024 সালে তানজানিয়ার পরিকল্পনার আকার আরও বড় হয়ে ধরা পড়ে, আর তার বিরুদ্ধে মাসাইদের সবচেয়ে বড় সংগঠিত প্রতিরোধও দেখা যায়। IWGIA-র প্রতিবেদনে দুটোই নথিভুক্ত।
জানুয়ারির 18 তারিখে সরকার NCA থেকে 1,00,000 মাসাই পশুপালককে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। ফেব্রুয়ারির শেষে ফাঁস হয় আরও বড় একটি পরিকল্পনা: সরকার পাঁচটি মাসাই জেলার (এনগোরোনগোরো, লোঙ্গিদো, মনদুলি, সিমানজিরো, কিতেতো) 70 শতাংশেরও বেশি জমি হাতে নিতে চায়, সেখানে 16টি শিকার-ব্লক গেম রিজার্ভ ও গেম কন্ট্রোলড এরিয়া হিসেবে তৈরি করতে। হিসাব অনুযায়ী এতে 90টিরও বেশি গ্রামের 3,90,000-এর বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, জমির পরিমাণ 15,856 বর্গকিলোমিটার।
এখানে একটি বিশদ লক্ষ করার মতো: IWGIA লিখছে, এই জেলাগুলোর পশুপালকদের জমির 85 শতাংশ ইতিমধ্যেই সমীক্ষা করা, ভূমি-ব্যবহার পরিকল্পনা ও নিবন্ধিত দলিলসহ। অর্থাৎ কাগজপত্রের অভাব এখানে সমস্যা নয়। আরও লক্ষ করার মতো — সিমানজিরোতে আরব ও অন্য বিনিয়োগকারীদের ইজারা নেওয়া খামার নতুন গেম রিজার্ভের বাইরে রাখা হয়েছে, কিন্তু মাসাইদের খামার ও চারণভূমি ভেতরে।
পার্লামেন্টে এর বিরোধিতা হয়। 3 জুন 2024-এ সিমানজিরোর সংসদ সদস্য Christopher Ole-Sendeka মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন; মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করতে পারেননি, আর স্পিকার তাঁকে বিশদ জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন।
তারপর আগস্ট। 18 আগস্ট 2024-এ হাজারো মাসাই NCA ও সেরেঙ্গেতি জাতীয় উদ্যানকে জোড়া দেওয়া তানজানিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ত পর্যটন-সড়ক অবরোধ করেন। ওলোইরোবি ও লেমারা এলাকায় জমায়েত হন 25,000-এরও বেশি মানুষ, বন্ধ হয়ে যায় মহাসড়ক ও ক্রেটারের বেরোনোর পথ। ছয় দিন পর সরকার প্রতিশ্রুতি দেয় — সামাজিক সেবা ফিরিয়ে দেওয়া হবে, রেঞ্জারদের হেনস্তা বন্ধ হবে, আর Government Notice No. 673 দিয়ে বাদ দেওয়া গ্রামগুলো তালিকায় ফিরবে।
একই সময়ে লোলিওন্দোতে 1,000-এরও বেশি নারী 1,502 বর্গকিলোমিটার চারণভূমি ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ করেন; মসোমেরায় 100-রও বেশি নারী তাঙ্গা রিজিওনাল কমিশনের সামনে, আর পওয়ানি অঞ্চলের মিনদুতুলিয়েনিতে প্রায় 50 জন নারী জেলা নির্বাহী পরিচালকের কাছে একই দাবি তোলেন।
আর ফলাফল এলো। 16 সেপ্টেম্বর 2024-এ সরকার এনগোরোনগোরো জেলার 11টি ওয়ার্ড, 25টি গ্রাম ও 96টি পাড়ার নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে। গ্রামই তানজানিয়ার সরকারের সবচেয়ে নিচের স্তর, তাই এই প্রত্যাহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি কাজে লাগে — আর নভেম্বর 2024-র স্থানীয় নির্বাচনে এনগোরোনগোরোর মানুষ অংশ নিতে পারেন। 1 ডিসেম্বর 2024-এ এনগোরোনগোরো, লোলিওন্দো ও সালে থেকে 150 জন মাসাই প্রতিনিধি আরুশার স্টেট হাউসে প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
IWGIA-র প্রতিবেদনে সতর্কতাও আছে: সরকার 23 আগস্টে প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও ধরপাকড় থামেনি, আর স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অবস্থা শোচনীয় রয়ে গেছে। প্রতিশ্রুতি আর মাঠের বাস্তবতার মধ্যে ফাঁকটি স্পষ্ট।
সংরক্ষণ ছাড়াও “উন্নয়ন” একই কাজ করে। IWGIA-র প্রতিবেদনে আছে, 8 মে 2024-এ পুলিশ, দাঙ্গা-দমন ফিল্ড ফোর্স ইউনিট ও মিলিশিয়া কিলিমানজারো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাগোয়া আটটি গ্রামে ঢুকে পড়ে — বিমানবন্দরের আকার বাড়ানোর জন্য।
হাই জেলার সানিয়া স্টেশন গ্রামে এক্সকাভেটর দিয়ে শত শত মাসাই ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, সশস্ত্র পুলিশের পাহারায়। ক্ষতিগ্রস্ত হন আটটি আইনত নিবন্ধিত গ্রামের 20,000-এরও বেশি মাসাই বাসিন্দা; অনেকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান। লাউডস্পিকার লাগানো সরকারি গাড়ি গ্রামে ঘুরে অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিতে থাকে। নয়টি নাগরিক সংগঠন প্রেসিডেন্টের কাছে তিনটি দাবি জানায়: ভাঙা বন্ধ করা, আশ্রয় ও খাদ্যসহ মানবিক সহায়তা পাঠানো, এবং একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন।
কেনিয়ায় মাসাইদের সমস্যা উচ্ছেদের চেয়ে বেশি জমি টুকরো হয়ে যাওয়ার — আর তার বিরুদ্ধে একটি নতুন ব্যবস্থা দাঁড়িয়েছে, নাম কনজারভেন্সি। মাসাই মারার আশপাশে ব্যক্তিমালিকানায় ভাগ হয়ে যাওয়া জমি আবার জুড়ে একসঙ্গে বন্যপ্রাণী ও পশুর জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা এটি।
Maasai Mara Wildlife Conservancies Association (MMWCA)-র নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী সংগঠনটি তৈরি হয় 2013 সালে; এর সদস্য 24টি কনজারভেন্সি, মোট আয়তন প্রায় 4,50,000 একর, আর এতে যুক্ত 15,000-এরও বেশি ভূমি-মালিক, যাঁরা বছরে ইজারা-ফি হিসেবে প্রায় 75 লক্ষ পান। [MMWCA-র পাতায় মুদ্রার একক লেখা নেই — ডলার না শিলিং, তা নিশ্চিত করা যায়নি; যাচাই প্রয়োজন]
ব্যবস্থাটির যুক্তি সরল: মালিক জমির স্বত্ব রাখেন, কিন্তু চুক্তি করে সেটি বন্যপ্রাণীর চলাচলের জন্য খোলা রাখেন, আর বিনিময়ে নিয়মিত ভাড়া পান। কেনিয়ার দিকে এটি উচ্ছেদের বিকল্প হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু IWGIA-র কেনিয়া অধ্যায়ের লেখক, নিজে লাইকিপিয়াক মাসাই Mali Ole Kaunga, একই মডেলের অন্য দিকটি দেখাচ্ছেন: সমাজভিত্তিক কনজারভেন্সির বিস্তারে পশুপালকদের জমি সরিয়ে রাখতে হয়, যার ফলে জমি খণ্ডিত হয় ও চারণভূমিতে ঢোকা সীমিত হয়, আর উদ্দেশ্যটি ক্রমশ কার্বন-বাজারের জন্য সংরক্ষণ-এলাকা বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে।
অর্থাৎ কেনিয়ার মডেলটি ভালো, কিন্তু নিষ্কলুষ নয়। তানজানিয়ায় রাষ্ট্র বন্দুক নিয়ে জমি নেয়; কেনিয়ায় চুক্তি ও ভাড়ার কাগজ দিয়ে জমির ব্যবহার বদলে যায়। দুটোরই শেষে প্রশ্নটি এক — গরু কোথায় চরবে।
তানজানিয়া আদিবাসী অধিকারের ঘোষণাপত্রে পক্ষে ভোট দিয়েছে, কিন্তু দেশে কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বই স্বীকার করে না। কেনিয়া ঘোষণাপত্রটিই গ্রহণ করেনি। দুই দেশের অবস্থান আলাদা, কিন্তু ফল একই জায়গায় গিয়ে ঠেকে।
| প্রশ্ন | তানজানিয়া | কেনিয়া |
|---|---|---|
| দেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রাষ্ট্র স্বীকার করে? | না (IWGIA) | সংবিধানে “সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক গোষ্ঠী”র সুরক্ষা আছে (IWGIA) |
| UNDRIP (2007) | পক্ষে ভোট দিয়েছে | গ্রহণ করেনি |
| ILO কনভেনশন 169 | এই লেখার উৎসে উল্লেখ নেই [যাচাই প্রয়োজন] | অনুমোদন করেনি |
| আদিবাসীদের জন্য নির্দিষ্ট নীতি বা আইন | নেই | 2010 সংবিধানে সম্প্রদায়িক জমি সরকারি ও ব্যক্তিগত জমির সমমর্যাদার (CELEP); পরে একটি Community Land Act হয়েছে [সন যাচাই প্রয়োজন] |
তানজানিয়ার অবস্থান IWGIA-র ভাষায়: দেশটি 2007 সালে UNDRIP-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে, কিন্তু “does not recognize the existence of any Indigenous Peoples in the country”, আর আদিবাসীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট জাতীয় নীতি বা আইনও নেই। বরং এমন নীতি ও কর্মসূচি একের পর এক তৈরি হচ্ছে যেগুলো জমি, প্রাকৃতিক সম্পদ, মৌলিক সেবা ও বিচারের প্রশ্নে পশুপালক ও শিকারি-সংগ্রাহকদের স্বার্থের বিপরীতে যায়।
কেনিয়ার ছবিটি মিশ্র। IWGIA-র কেনিয়া অধ্যায় অনুযায়ী দেশটি ICERD, CEDAW ও CRC অনুমোদন করেছে, কিন্তু UNDRIP বা ILO কনভেনশন 169 নেয়নি। অন্যদিকে সংবিধানের চতুর্থ অধ্যায়ে একটি অগ্রসর অধিকার-সনদ আছে, যা আন্তর্জাতিক আইনকে দেশীয় আইনের অংশ করে এবং সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক গোষ্ঠীর সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়; 33, 34, 35 ও 36 অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশ, গণমাধ্যম, তথ্য ও সংগঠনের স্বাধীনতা আছে। তবু IWGIA লিখছে, free, prior and informed consent-এর নীতিটি কেনিয়ার আদিবাসীদের জন্য এখনো একটি সমস্যা।
2024 সালে কেনিয়ায় কয়েকটি নতুন আইন এসেছে বা আলোচনায় আছে, যেগুলো সরাসরি পশুপালকদের ওপর পড়বে। কার্বন-বাজার বিধিমালায় বলা হয়েছে, ভূমি-ভিত্তিক কার্বন প্রকল্পকে আয়ের 40 শতাংশ সম্প্রদায়ের উন্নয়নে দিতে হবে (ভূমি-ভিত্তিক নয় এমন প্রকল্পে 25 শতাংশ সম্প্রদায়ে, আরও 25 শতাংশ জলবায়ু তহবিলে) — তবে ব্যক্তিগত জমিতে বেসরকারি প্রকল্প এই বার্ষিক অবদান থেকে অব্যাহতি পায়। Environment Laws (Amendment) Bill 2024-এ সরকারি বনে চরানো নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব আছে, যা শুকনো মৌসুমে বনে পশু নেওয়া পশুপালকদের জন্য সমস্যা।
এনগোরোনগোরো তানজানিয়ার সবচেয়ে বেশি দেখা সংরক্ষিত এলাকা, কিন্তু সেই টাকার কতটা মাসাইদের কাছে পৌঁছায় তার কোনো প্রকাশ্য হিসাব পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায় তা হলো দর্শনার্থীর সংখ্যা, আর কিছু টুকরো তথ্য।
Amnesty International-এর প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হিসাব অনুযায়ী 2019 সালে এনগোরোনগোরোতে 7,25,535 এবং সেরেঙ্গেতি জাতীয় উদ্যানে 4,72,700 আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ দর্শনার্থী গিয়েছিলেন — দুটি মিলিয়ে দেশের মোট পর্যটক আগমনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। তানজানিয়ার জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে পর্যটক আগমন 2021 সালের 9,22,692 থেকে 2022 সালে 14,54,920-এ পৌঁছায়, অর্থাৎ 57.7 শতাংশ বৃদ্ধি।
বিপরীতে একটি সংখ্যা IWGIA-র প্রতিবেদনে আছে, যা অনুপাতটি বুঝিয়ে দেয়। এনগোরোনগোরো অঞ্চলের ইয়াসি এলাকার একজন হাদজা মানুষ ভিডিওতে অভিযোগ করেছেন: সরকার ঠিক করে দিয়েছে, হাদজা মানুষ যখন নিজের এলাকায় পর্যটকদের গাইডের কাজ করেন, পর্যটক তাঁদের দিনে দেবেন মাত্র 10 মার্কিন ডলার — যখন সরকার ও ট্যুর অপারেটররা একই পর্যটকের কাছ থেকে নেন হাজার ডলার। তাঁর বক্তব্য ছিল সরল: “We are not going to agree. If the government cannot listen, then let them come and act as guide.”
টাকার প্রবাহে একবার ধাক্কাও লেগেছে। IWGIA-র প্রতিবেদন অনুযায়ী 2024 সালের এপ্রিলে বিশ্বব্যাংক তানজানিয়ার REGROW প্রকল্পের তহবিল স্থগিত করে — দক্ষিণ তানজানিয়ার পর্যটন ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি 15 কোটি ডলারের প্রকল্প, যেটি রুয়াহা জাতীয় উদ্যানের আশপাশের মানুষের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণিত হয়। Oakland Institute-এর ভাষায় এটি ছিল একটি স্পষ্ট সংকেত — পর্যটন বাড়াতে অধিকার লঙ্ঘনের পরিণাম আছে।
আর একটি লড়াই চলছে ভিন্ন মাঠে: ব্র্যান্ডিং। Minority Rights Group লিখছে, কোম্পানিগুলো নিজেদের পণ্যের সঙ্গে মাসাই অনুষঙ্গ জুড়ে মুনাফা করছে। এর উত্তরে মাসাই কর্মীরা প্রবীণদের একটি সাধারণ সভা গড়ে তুলে আলোচনার টেবিলে বসার চেষ্টা করছেন, আর সেটি রূপ পেয়েছে Maasai Intellectual Property Initiative (MIPI)-তে — মেধাস্বত্বের সুরক্ষার মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার একটি পদক্ষেপ।
মাসাইদের গল্প কেবল হারানোর গল্প নয়। Minority Rights Group-এর বিবরণ অনুযায়ী 2016 সালে মাসাই নেতা Edward Loure গোল্ডম্যান পুরস্কার পান — সম্প্রদায়ের নামে জমির দলিল করার একটি নতুন পদ্ধতি দাঁড় করানোর জন্য, যা সাফারি ও গেম পার্কের বিস্তারের বিরুদ্ধে কাজ করে। এই পদ্ধতিতে তিনি 2,00,000 একরেরও বেশি আদিবাসী জমি সুরক্ষিত করতে পেরেছেন।
পদ্ধতিটির মূল ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ: ব্যক্তির নামে নয়, সম্প্রদায়ের নামে দলিল। কারণ ব্যক্তিমালিকানায় ভাগ হয়ে গেলে জমি একটি একটি করে বিক্রি হয়ে যায়, আর চারণভূমি টুকরো হয়ে পশুপালন অসম্ভব হয়ে পড়ে। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত ভূমি ব্যবস্থাপনার নীতিমালায় ঠিক এই কথাটিই আছে — জুমভূমির মালিকানা সামাজিক, ব্যক্তির নয়।
সংগঠনও আছে। তানজানিয়ায় পশুপালক ও শিকারি-সংগ্রাহকদের ছাতা-সংগঠন PINGO’s Forum; কেনিয়ায় IMPACT (Indigenous Movement for Peace Advancement and Conflict Transformation); আর ভূমি-মালিকদের নিজেদের সংগঠন MMWCA। 2024 সালের আগস্টের ছয় দিনের অবরোধ এবং 1 ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক — দুটোই এসেছে এই সংগঠিত চাপ থেকে।
মাসাই আর জুম্ম জনগোষ্ঠীর অবস্থার মিলটি কাকতালীয় নয় — দুই ক্ষেত্রেই রাষ্ট্র প্রথাগত ভূমি-ব্যবস্থাকে আইনি মালিকানা হিসেবে গণ্য না করে “খালি জমি” হিসেবে দেখেছে। কিন্তু কয়েকটি জায়গায় পার্থক্যও স্পষ্ট, আর সেগুলো না দেখলে তুলনাটি ভুল পথে যায়।
মিল এক। দুই ক্ষেত্রেই উচ্ছেদের ভাষা “সংরক্ষণ” বা “উন্নয়ন”। তানজানিয়ায় গেম রিজার্ভ ও পর্যটন; পার্বত্য চট্টগ্রামে সংরক্ষিত বন, কাপ্তাই বাঁধ ও অধিগ্রহণ। বিদ্যমান আইন ও প্রথাগত আইনে ভূমি সমস্যা নিয়ে লেখাটিতে এই আইনি কাঠামোগুলো সাজানো আছে।
মিল দুই। উদ্বাস্তুকে দূরের জমিতে বসালে সেখানকার মানুষও জমি হারান। মসোমেরায় 200 পরিবার, 7,000 মানুষ; পার্বত্য চট্টগ্রামে গুচ্ছগ্রাম ও পুনর্বাসনের ইতিহাসে একই ধাঁচ।
মিল তিন। আদালত জিতলেও জমি ফেরে না। মাসাইরা 2023 সালে আপিলে জিতেছেন, কিন্তু থামগুলো মাঠে আছে। পাহাড়ে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়নের মধ্যে ফাঁকটি পাঠকের চেনা।
অমিল এক — এবং এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেনিয়ার আদমশুমারিতে মাসাইদের সংখ্যা আছে, 1,189,522। তানজানিয়ায় নেই। বাংলাদেশে পরিভাষার বিতর্কটি আরও পুরনো — রাষ্ট্র “উপজাতি” শব্দটি ব্যবহার করে, যেখানে জনগোষ্ঠীগুলো নিজেদের “আদিবাসী” বলেন। জুমজার্নালের আর্কাইভে প্রকাশিত আরণ্য জনপদের সীমানা ছাড়িয়ে লেখাটিতে একটি তথ্য আছে, যা এই আলোচনায় কাজে লাগে: 1972 সালেই বাংলাদেশ আইএলও কনভেনশন 107-এ স্বাক্ষর করেছিল। অর্থাৎ পরিভাষা যাই হোক, একটি আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পঞ্চাশ বছরের পুরনো।
অমিল দুই। মাসাইদের ভাষা Glottolog-এর হিসাবে বিপন্ন নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক ভাষার অবস্থা সেরকম নয় — পাংখোয়া, খুমি বা খিয়াং ভাষার বক্তাসংখ্যা অনেক কম।
অমিল তিন। মাসাইদের পক্ষে একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় আদালত আছে — পূর্ব আফ্রিকান আদালত, যেখানে গ্রাম পরিষদ সরাসরি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে এবং জিততেও পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় এমন আঞ্চলিক আদালত নেই।
মাসাইরা থাকেন দক্ষিণ কেনিয়া ও উত্তর তানজানিয়ায়। কেনিয়ার দিকে তাঁদের প্রধান এলাকা নারোক ও কাজিয়াদো; তানজানিয়ার দিকে Minority Rights Group-এর হিসাবে মূলত মানিয়ারা ও আরুশা অঞ্চল, বিশেষ করে এনগোরোনগোরো, লোঙ্গিদো, মনদুলি, সিমানজিরো ও কিতেতো জেলা। তাঁদের ভূখণ্ড কেনিয়ার রিফট ভ্যালির হ্রদ থেকে সেরেঙ্গেতির সমতল পেরিয়ে তানজানিয়ায় বিস্তৃত।
কেনিয়ার 2019 সালের আদমশুমারিতে (Volume IV, Table 2.31) মাসাইদের সংখ্যা 1,189,522 — দেশের মোট 47,564,296 জনসংখ্যার প্রায় 2.5 শতাংশ। তানজানিয়ার সরকারি সংখ্যা নেই, কারণ সেখানকার আদমশুমারিতে জাতিগত পরিচয় গোনা হয় না; IWGIA-র প্রাক্কলন প্রায় 430,000। অর্থাৎ দুই দেশ মিলিয়ে প্রায় 16 লক্ষ, তবে তানজানিয়ার অংশটি নিশ্চিত নয়।
মাসাইদের ভাষার নাম মা (Maa), তাঁরা নিজেরা বলেন ‘ওল মা’। Glottolog 5.2-এ এর ISO 639-3 কোড mas, glottocode masa1300, আর শ্রেণিবিন্যাস Nilo-Saharan > Nilotic > East Nilotic। ভাষাটিকে বিপন্ন নয় বলে চিহ্নিত করা হয়েছে (AES মাত্রা 5)। সামবুরু, ইলচামুস ও পারাকুয়ু জনগোষ্ঠীও নিজেদের ভাষাকে ‘ওল মা’ বলেন।
পশুপালন। Amnesty International-এর ভাষায় মাসাই সমাজে গরু হলো মূল বিনিময়ের একক — পরিবার বড় পাল গড়ে সম্পদ ও মর্যাদা দেখায়, আর পশু কেনাবেচা হয় নানা লেনদেনে। খাদ্যের প্রধান অংশও আসে পশু থেকে। এর পাশাপাশি লোলিওন্দোর পরিবারগুলো বাড়ির লাগোয়া গড়ে দুই থেকে তিন একর জমিতে চাষও করেন, যার বড় অংশ নিজেদের খাওয়ার জন্য।
সরকার কারণ হিসেবে বলছে সংরক্ষণ ও পর্যটন, আর জনসংখ্যা ও পশু বেড়ে যাওয়া। 2022 সালে মন্ত্রী Pindi Chana বলেন, জনসংখ্যা বাড়ছে, পশু বাড়ছে, এই ধারা চলতে দেওয়া যায় না। কিন্তু ইউনেস্কোর নথি বলছে, 1959 সালে এলাকাটি তৈরিই হয়েছিল “multiple land use area” হিসেবে — যেখানে বন্যপ্রাণী ও মাসাই পশুপালকেরা পাশাপাশি থাকবেন, আর ব্যবস্থাপনার একটি ঘোষিত লক্ষ্য মাসাই পশুপালকদের স্বার্থ রক্ষা।
Human Rights Watch-এর 2024 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী কর্মসূচির লক্ষ্য 2027 সালের মধ্যে প্রায় 82,000 মানুষ। 2023 সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সরেছিল 551টিরও বেশি পরিবার — 3,010 জন মানুষ ও 15,321টি গবাদিপশু। Minority Rights Group-এর হিসাবে 2022-র জুন থেকে 2024-র সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রায় 10,000 জন এলাকা ছেড়েছেন। 2024 সালের 18 জানুয়ারি সরকার 1,00,000 জনকে সরানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করে।
মসোমেরা তানজানিয়ার তাঙ্গা অঞ্চলের হানদেনি জেলার একটি গ্রাম, এনগোরোনগোরো থেকে প্রায় 600 কিলোমিটার দূরে। Human Rights Watch-এর নথি অনুযায়ী প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ ছিল নগদ 1 কোটি থেকে 1.9 কোটি তানজানিয়ান শিলিং, 5–7 একর জমি, একটি ঘর, যাতায়াতের সহায়তা ও প্রায় 200 কিলোগ্রাম ভুট্টা। 2024 সালের 10 এপ্রিল 135টি পরিবার বিবৃতি দিয়ে জানায়, প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি।
3 জুন 2022-এ সরকার লোলিওন্দোর 1,500 বর্গকিলোমিটার সীমানা-চিহ্নিত করার কথা জানায় — এলাকাটির প্রায় 40 শতাংশ। 10 জুন সীমানার থাম তুলে ফেলতে জড়ো হওয়া মানুষের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী তাজা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে; Amnesty International-এর হিসাবে অন্তত 40 জন আহত হন। 84 বছরের ওরিয়াইসি পাসিলান্স এনগিইয়ো দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিখোঁজ হন।
2017 সালের 21 সেপ্টেম্বর চারটি গ্রাম পূর্ব আফ্রিকান আদালতে মামলা করে (Reference No. 10 of 2017)। 2018 সালের 25 সেপ্টেম্বর আদালত উচ্ছেদ বন্ধ রাখার নিষেধাজ্ঞা দেয়, তবু 2022-এ উচ্ছেদ হয়। 2022 সালের 30 সেপ্টেম্বর মামলাটি প্রমাণের অভাবে খারিজ হয়, কিন্তু Minority Rights Group-এর হিসাবে 2023 সালের নভেম্বরে আপিল বিভাগ আপিল মঞ্জুর করে — মূল রায়ে প্রমাণ পরীক্ষায় ব্যর্থতার কারণে।
ইউনেস্কোর বিশ্ব-ঐতিহ্য নথি অনুযায়ী 1979 সালে তালিকাভুক্তির সময় এলাকাটিতে প্রায় 20,000 মাসাই বাস করতেন, সঙ্গে প্রায় 2,75,000 গবাদিপশু — এবং সেটি এলাকার ধারণক্ষমতার ভেতরেই বিবেচিত হয়েছিল। এনগোরোনগোরো কনজারভেশন এরিয়ার আয়তন 8,09,440 হেক্টর। IWGIA-র প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকারের নতুন পরিকল্পনা এলাকার জনসংখ্যা 20,000 জনে (5,000 পরিবার) সীমিত রাখা।
এনকিপাতা, এউনোতো ও ওলংএশের। 2018 সালে কেনিয়ার প্রস্তাবে ইউনেস্কো এই তিনটিকে অস্পৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় রাখে। এনকিপাতা হলো বালকদের দীক্ষার দিকে নিয়ে যাওয়ার অনুষ্ঠান, এউনোতো হলো মোরানদের মাথা কামানোর অনুষ্ঠান, আর ওলংএশের হলো মাংসভোজনের অনুষ্ঠান যা মোরান-পর্বের শেষ ও প্রবীণত্বের শুরু চিহ্নিত করে। মূলত 15 থেকে 30 বছর বয়সী তরুণরা অংশ নেন।
তিন জায়গায়। এক, দুই ক্ষেত্রেই প্রথাগত ভূমি-ব্যবস্থাকে আইনি মালিকানা হিসেবে না ধরে উচ্ছেদের ভাষা হয়েছে “সংরক্ষণ” বা “উন্নয়ন”। দুই, উদ্বাস্তুকে দূরের জমিতে বসানোয় সেখানকার মানুষও জমি হারিয়েছেন — মসোমেরায় প্রায় 7,000 মানুষ। তিন, আদালতে জিতলেও জমি ফেরেনি। বড় অমিল: কেনিয়ার আদমশুমারিতে মাসাইদের সংখ্যা আছে, তানজানিয়ায় নেই।
এই লেখার কয়েকটি ফাঁক আছে,
masa1300, ISO 639-3 mas) — glottolog.orgসর্বশেষ হালনাগাদ: 7 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:আদিবাসী, আদিবাসী অধিকার, আদিবাসী উৎখাত নীতি, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, আফ্রিকান আদিবাসী, আফ্রিকার মাসাই গোষ্ঠী, ভূমি অধিকার
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।