Last updated Oct 17th, 2026
0

ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় আদিবাসী ভূখণ্ডটির নাম টেরা ইন্ডিজেনা ইয়ানোমামি। এর আয়তন ৯৫ লাখ হেক্টর — ব্রাজিলের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা IBGE-র তুলনা অনুযায়ী এটি প্রায় রিও ডি জেনেইরো ও এসপিরিতো সান্তো রাজ্য দুটি একসঙ্গে যোগ করার সমান।
২০২৩ সালের শুরুতে ব্রাজিলের মানবাধিকার মন্ত্রণালয়ের একটি সরকারি প্রতিবেদনে এই ভূখণ্ড নিয়ে একটি সংখ্যা লেখা হয় — অবৈধ স্বর্ণখনিতে সেখানে “আজ ২০ হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতি”। একই প্রতিবেদনে ইয়ানোমামিদের নিজের সংগঠন হুতুকারা-র হিসাব উদ্ধৃত করা হয়: অন্তত ১১০টি ইয়ানোমামি জনপদ সরাসরি খনির প্রভাবে পড়েছে।
আর ঠিক সেই সময়ের আদমশুমারিতে দেখা যায়, ব্রাজিলের ৩৯১টি আদিবাসী জাতির প্রায় সবগুলোর সংখ্যা বাড়লেও ইয়ানোমামি/ইয়ানোমান জাতির সংখ্যা কমেছে — ২০১০-এর ২২,০২৪ থেকে ২০২২-এ ২১,৯৭৫।
এই লেখাটি সেই তিনটি জিনিস নিয়ে: কত মানুষ, কোন আইন, আর কী ঘটছে।
“আমাজনের আদিবাসী” একটি জাতির নাম নয় — ব্রাজিলের ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশে আদিবাসী জাতি, জনগোষ্ঠী ও গোত্রের সংখ্যা ৩৯১, আর তাদের মধ্যে কথিত বা ঘরে ব্যবহৃত আদিবাসী ভাষার সংখ্যা ২৯৫।
IBGE-র প্রকাশনার ভাষায়, এই দুটি সংখ্যা দিয়েই দেশে এ পর্যন্ত চালানো সবচেয়ে বিস্তৃত জরিপটির “মুকুট” পরানো হয়েছে।
তুলনার জন্য ২০১০ সালের শুমারি: সেখানে গণনা হয়েছিল ৮,৯৬,৯১৭ জন, ৩০৫টি জাতি ও ২৭৪টি ভাষা। অর্থাৎ বারো বছরে জাতির সংখ্যা ৩০৫ থেকে ৩৯১, ভাষার সংখ্যা ২৭৪ থেকে ২৯৫।
এই বৃদ্ধি কেবল জনসংখ্যার নয় — গণনার পদ্ধতিরও। IBGE নিজেই লিখেছে, ২০১০-এর সঙ্গে তুলনা করতে “কিছু পদ্ধতিগত সতর্কতা” দরকার, আর দুই শুমারির ফারাক একা জনসংখ্যা-পরিবর্তন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।
IBGE-র প্রকাশনার হুবহু বাক্য অনুযায়ী ২০২২ সালের শুমারির ফল: “a população indígena residente no Brasil é de 1 694 836 pessoas” — ব্রাজিলে বসবাসকারী আদিবাসী জনসংখ্যা ১৬,৯৪,৮৩৬ জন, যা মোট জনসংখ্যার ০.৮৩ শতাংশ।
সংখ্যাটি মনে রাখার মতো, কারণ এটি নিয়ে ভুল তথ্য প্রচলিত। প্রকাশনার ভেতরের সংখ্যা ১৬,৯৪,৮৩৬ — এটিই IBGE-র নিজের লেখা হিসাব।
পরিচয়ের খুঁটিনাটি হিসাবও আছে। ১২,৬২,৮১২ জন অন্তত একটি জাতি-পরিচয় ঘোষণা করেছেন, আর তাঁদের মধ্যে ২৪,১৬৭ জন একাধিক জাতি-পরিচয় লিখেছেন (১.৯১%)। ২০১০ সালে IBGE-কে একটিই জাতি জানানো যেত; ২০২২-এ দুটি ঘোষণার সুযোগ রাখা হয়, কারণ ভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিয়ে বাড়ছে।
এই একটি প্রশ্নপত্রের বদলেই বোঝা যায় শুমারির রাজনীতি কতটা সূক্ষ্ম। “তুমি কোন জাতি?” — এই প্রশ্নে একটির বেশি উত্তর লেখার সুযোগ থাকবে কি না, সেই সিদ্ধান্তে সংখ্যা বদলে যায়।
২০২২ সালের শুমারিতে সবচেয়ে বড় জাতি তিকুনা — ৭৪,০৬১ জন। IBGE-র প্রকাশনা থেকে প্রথম তিনটি:
| জাতি | ২০২২ | কোথায় থাকেন |
|---|---|---|
| তিকুনা | ৭৪,০৬১ | আদিবাসী ভূখণ্ডে ৫২,৬৭৮ জন |
| কোকামা | ৬৪,৩২৭ | ৬৭.৬৫% ভূখণ্ডের বাইরে, শহরে; ১২.৮৯% ভূখণ্ডে |
| মাকুশি | ৫৩,৪৪৬ | ৬৮.৩১% আদিবাসী ভূখণ্ডে |
কোকামাদের সারিটি লক্ষণীয় — এই জনগোষ্ঠীর দুই-তৃতীয়াংশই আদিবাসী ভূখণ্ডের বাইরে, শহরে থাকেন। অর্থাৎ “আদিবাসী মানে বনে থাকা মানুষ” — এই ধারণাটি শুমারির সংখ্যার সঙ্গে মেলে না।
২০১০-এর সঙ্গে মিলিয়ে পড়লে বদলটা দেখা যায়। তখন তিকুনা ছিলেন ৪৬,০৪৫, গুয়ারানি কাইওয়া ৪৩,৪০১, কাইনগাং ৩৭,৪৭০, মাকুশি ২৮,৯১২, তেরেনা ২৮,৮৪৫। আর ইয়ানোমামি ছিলেন ২১,৯৮২ জন — যাঁদের ৯৩.৭৩ শতাংশ থাকতেন আদিবাসী ভূখণ্ডের ভেতরে, যা সেই তালিকায় সবচেয়ে বেশি।
IBGE-র হিসাবে ২ বছর বা তার বেশি বয়সের ৪,৭৪,৮৫৬ জন আদিবাসী মানুষ ঘরে আদিবাসী ভাষা বলেন বা ব্যবহার করেন — মোট আদিবাসী জনসংখ্যার ২৯.১৯ শতাংশ।
কিন্তু এই গড় সংখ্যাটি আসল কথা বলে না। ভাঙলে দেখা যায়:
৬৩ শতাংশ বনাম ৮ শতাংশ। এই একটি তুলনাতেই ভূমি আর ভাষার সম্পর্কটি সংখ্যায় ধরা পড়ে — ভূখণ্ড থাকলে ভাষা থাকে, ভূখণ্ড না থাকলে ভাষা যায়।
আরেকটি সংখ্যা পাশে রাখা দরকার: ১৪,০৪,৩৪০ জন আদিবাসী মানুষ ঘরে পর্তুগিজ ব্যবহার করেন, অর্থাৎ ৮৬.৩২ শতাংশ।
তবু একটি ভালো খবরও আছে। IBGE জানাচ্ছে, আদিবাসী ভূখণ্ডগুলোতে ২০২২ সালে ২৪৯টি ভাষা ঘোষিত হয়েছে, যা ২০১০-এর ২১৪টিকে ছাড়িয়ে গেছে।
পাহাড়ের পাঠকের জন্য এই হিসাবটি পরিচিত। পার্বত্য চট্টগ্রামে মাতৃভাষায় শিক্ষার কর্মসূচি নিয়েও একই প্রশ্ন — ভাষা টিকে থাকে কোথায়, আর ছেড়ে যায় কোথায়।
IBGE-র প্রকাশনার একটি বাক্য এই গোটা জরিপটির চরিত্র বদলে দেয়: ২০২২ সালের শুমারির পদ্ধতিগত উদ্ভাবনগুলো তৈরি হয়েছে “em processo de consulta livre, prévia e esclarecida” — অর্থাৎ স্বাধীন, পূর্ব ও অবহিত পরামর্শের একটি প্রক্রিয়ায় — আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, আদিবাসী-বিষয়ক সংস্থা ও শিক্ষাজগতের সঙ্গে।
এই শব্দবন্ধটি UNDRIP-এর FPIC ধারণারই পর্তুগিজ রূপ। এখানে সেটি প্রয়োগ হয়েছে একটি আদমশুমারির নকশায় — অর্থাৎ রাষ্ট্র কীভাবে গুনবে, সেই সিদ্ধান্তেও।
প্রয়োগটি কাগজে থামেনি। IBGE জানাচ্ছে:
অর্থাৎ ম্যাপটি রাষ্ট্র একা আঁকেনি।
IBGE-র প্রকাশনায় FUNAI-র চিহ্নিত “স্বল্প-সংযোগ” (de recente contato) এবং যাঁদের জন্য আলাদা পদ্ধতি দরকার হয়েছে, সেই জনগোষ্ঠীগুলোর নাম ধরে তালিকা আছে। তালিকাটি হুবহু: Akuntsu, Arara, Araweté, Assurini, Avá-Canoeiro, Awá-Guajá, Hupda বা Hupd’äh, Juma, Jupaú (যাঁরা Uru-Eu-Wau-Wau নামেও পরিচিত), Kanoé, Korubo, Parakanã, Pirahã, ইগারাপে দো শিনানের স্বল্প-সংযোগ আদিবাসী জনগোষ্ঠী, Suruwahá, Tsohom Djapá, Yuhupdëh, Wajãpi, Waimiri-Atroari, Yanomami, Zo’é।
লক্ষ করুন ইয়ানোমামি এই তালিকায় আছেন। IBGE-র ভাষায় তাঁরা “দক্ষিণ আমেরিকার স্বল্প-সংযোগ আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়গুলোর একটি”, যাঁরা থাকেন উত্তর ব্রাজিল ও দক্ষিণ ভেনেজুয়েলার বন ও পাহাড়ে। ব্রাজিলের অংশে তাঁরা আমাজোনাস ও রোরাইমা রাজ্যের বহু গ্রামে ছড়িয়ে।
IBGE-র নিজের বিবরণে একটি বাক্য আছে, যা ভূখণ্ডগুলোর দূরত্ব বোঝায়: টেরা ইন্ডিজেনা ওয়াজাপি ও ইয়ানোমামির গণনা শেষ করার জন্য হেলিকপ্টারে আকাশপথে পৌঁছানো দরকার ছিল, আর সেই ব্যবস্থা পাওয়া গেছে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে — একাধিকবার কারিগরি সহযোগিতা ও জরুরি ভিত্তিতে এয়ার-ট্যাক্সি ভাড়ার চেষ্টার পর।
ওয়াজাপির ক্ষেত্রে সহায়তা এসেছিল বিমানবাহিনীর কাছ থেকে। আর ইয়ানোমামি ভূখণ্ডে গণনাকারীরা মাঠে ব্যবহার করেছেন উপগ্রহ-যোগাযোগ যন্ত্র — প্রকাশনায় সেই ছবিও আছে।
একটি আদমশুমারি শেষ করতে হেলিকপ্টার, বিমানবাহিনী ও স্যাটেলাইট ফোন লাগে — এই তথ্যটিই বলে দেয়, রাষ্ট্রীয় সেবা সেখানে কত কঠিনভাবে পৌঁছায়।
IBGE-র প্রকাশনার হিসাবে ইয়ানোমামি/ইয়ানোমান জাতি ২০২২ সালে ছিল ২১,৯৭৫ জন — আকারে অষ্টাদশ — আর এই সংখ্যাটি ২০১০-এর ২২,০২৪-এর চেয়ে কম। বার্ষিক বৃদ্ধির হার −০.০২%, মোট −০.২২%।
প্রকাশনা একটি পার্থক্যও স্পষ্ট করেছে: ইয়ানোমামি সমষ্টি হিসেবে — অর্থাৎ Ninám, Sanumá (৩,৮৪৩), Xiriana (৭০৬), Xirixana সহ পুরো গোষ্ঠী — বেড়েছে ২৫,০৮৪ থেকে ২৭,৫৭৪।
ইয়ানোমামি/ইয়ানোমান জাতির মানুষ আছেন ৭৩টি পৌরসভায় ও ১৮টি ফেডারেশন-একাংশে। সবচেয়ে বেশি আমাজোনাসে (১১,২০৮) ও রোরাইমায় (১০,৬৯৫)।
আর একটি সংখ্যা সবচেয়ে ভারী: ইয়ানোমামি/ইয়ানোমান জনগোষ্ঠীর মধ্যমা বয়স ২০১০-এ ছিল ১৬ বছর, ২০২২-এ হয়েছে ১৫ বছর।
মধ্যমা বয়স কমে যাওয়া মানে জনগোষ্ঠী কম বয়সেই শেষ হয়ে যাচ্ছে — অথবা শিশুর জন্মহার বেড়েছে কিন্তু বড়রা টিকছেন না। IBGE এই কারণ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি; প্রকাশনায় কেবল পিরামিডের ভিত্তি বেড়ে যাওয়ার কথা লেখা আছে — মহিলাদের ক্ষেত্রে ২৪ বছর পর্যন্ত, পুরুষদের ক্ষেত্রে ২০ পর্যন্ত। [কারণ নির্ণয়ের জন্য আলাদা গবেষণা প্রয়োজন — যাচাই প্রয়োজন]
ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি একটি পরিপত্র জারি করে জাতীয় গুরুত্বের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা (ESPIN) ঘোষণা করে। পরিপত্রটি Portaria GM/MS nº 28, de 20 de janeiro de 2023, সই করেছেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিসিয়া ত্রিনদাদে লিমা।
কারণ হিসেবে পরিপত্রে যে শব্দটি ব্যবহার হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ: “em razão da desassistência à população Yanomami” — ইয়ানোমামি জনগোষ্ঠীর প্রতি অ-সহায়তার কারণে।
অর্থাৎ ঘোষণাটি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা নতুন রোগের জন্য নয়। রাষ্ট্র নিজের সেবা না পৌঁছানোকেই জরুরি অবস্থার কারণ হিসেবে লিখেছে।
পরিপত্রের দ্বিতীয় ধারায় তৈরি হয় জরুরি পরিচালনা কেন্দ্র (COE — Yanomami), যার দায়িত্ব দেওয়া হয় আদিবাসী স্বাস্থ্য সচিবালয় SESAI-কে।
এক সপ্তাহ পরে, ২০২৩ সালের ২৭ জানুয়ারি, মানবাধিকার ও নাগরিকত্ব মন্ত্রণালয় (MDHC) Portaria nº 71 দিয়ে “ইয়ানোমামি ভূখণ্ডে মানবিক সংকট মোকাবিলার দফতর” গঠন করে।
MDHC-র প্রতিবেদনে এই দফতর গঠনের দুটি কারণ লেখা আছে, আর দুটোই আইনি বাধ্যবাধকতা: দেশের ভেতরে ADPF নং ৭০৯ মামলায় সুপ্রিম কোর্টকে জবাব দেওয়া, আর বাইরে আন্তঃআমেরিকান মানবাধিকার আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশ পালন করা।
দফতরের প্রতিনিধিদল রোরাইমা রাজ্যে মিশনে যায় দুই ধাপে — ২৯ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, এবং ৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
প্রতিবেদনে একটি বাক্য আছে, যা মিশনের সীমাও জানিয়ে দেয়: অস্ত্রের উপস্থিতির কারণে সৃষ্ট উচ্চ সহিংসতা ভূখণ্ডের কিছু অংশে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে দিচ্ছে না, আর FUNAI-র সুপারিশেই প্রতিনিধিদল কিছু এলাকা এড়িয়ে গেছে — বিশেষত সেই এলাকাগুলো, যেখানে বিবরণ অনুযায়ী যৌন সহিংসতার ঘটনাও বেশি।
MDHC-র প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত হয়েছে একটি নথি — “Yanomami sob Ataque” (ইয়ানোমামি আক্রমণের মুখে), যা তৈরি করেছে হুতুকারা ইয়ানোমামি সংগঠন (Hutukara Associação Yanomami) — অর্থাৎ ইয়ানোমামিদের নিজেদের সংগঠন।
সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী অন্তত ১১০টি ইয়ানোমামি জনপদ খনির প্রভাবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত — জীবজগৎ ও ভৌত পরিবেশের দিক থেকে।
MDHC-র ভাষায় এই কর্মকাণ্ড ঘটায় বনধ্বংস, পানি ও মাটির দূষণ, পলি জমা এবং নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন। আর তার সঙ্গে যোগ হয় সংক্রামক রোগের বিস্তার (বিশেষত ম্যালেরিয়া), পারদের বিষক্রিয়া, এবং বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা।
হুতুকারার হিসাব অনুযায়ী খনির দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত প্রধান নদী ও খালগুলো: উরারিকোয়েরা, পারিমা, ইগারাপে ইনাজা, ইগারাপে সুরুকুকুস, মুকাজাই, কোউতো মাগালিয়াইস, আপিয়াউ, নোভো, কাত্রিমানি ও লোবো দ’আলমাদা।
সোনা তোলার কাজে পারদ ব্যবহার হয়, আর সেই পারদের কতটা নদীতে যায় — তার একটি হিসাব MDHC-র প্রতিবেদনে উদ্ধৃত আছে। ব্রাজিলের সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফিওক্রুজ-এর ২০২২ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি সমীক্ষার অনুমান: অবৈধ খনিতে ব্যবহৃত পারদের ৪৫ শতাংশ কোনো শোধন বা সতর্কতা ছাড়াই আমাজনের নদী ও খালে ফেলা হয়।
ফল কী, তার একটি মাপও প্রতিবেদনে আছে। ২০২১ সালের শুরুতে ইয়ানোমামি ভূখণ্ড দিয়ে বয়ে যাওয়া উরারিকোয়েরা নদী থেকে মাছের নমুনা নেওয়া হয় — আর প্রতি দশটি মাছের ছয়টিতে পারদের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার উপরে পাওয়া যায়।
দশে ছয়। আর মানুষ সেই মাছই খায়।
MDHC-র প্রতিবেদনে রোরাইমার আদিবাসী স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো ঘুরে যা দেখা গেছে, তার তালিকা আছে — আর সেটি কেবল বিষক্রিয়ার তালিকা নয়।
প্রতিবেদন পুষ্টিহীনতার অন্য কারণগুলোও লিখেছে, আর তালিকাটি একটি চক্র দেখায়: নদী ও বন থেকে খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে গেছে; জনগোষ্ঠী অসুস্থ হওয়ায় ক্ষেতের কাজ কমে গেছে; আর আদিবাসীদের একটি অংশ খনির কাজে জড়িয়ে পড়ায় চাষও কমেছে।
অর্থাৎ খনি কেবল পানি নষ্ট করেনি — খাদ্য উৎপাদনের ব্যবস্থাটাই ভেঙেছে।
খনির গর্তে জমে থাকা পানিতে মশা বাড়ে — MDHC-র প্রতিবেদনে এই কারণটি স্পষ্ট লেখা আছে, আর তারপর সংখ্যা। Projeto Sumaúma-র হিসাব অনুযায়ী ইয়ানোমামি ভূখণ্ডে ম্যালেরিয়ার ঘটনা ২০১৪ সালের ২,৯২৮ থেকে ২০২১ সালে ২০,৩৯৪-তে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদন বলছে, ২০১৯ সাল থেকে ম্যালেরিয়ার এই খাড়া বৃদ্ধি অবৈধ খনির অগ্রগতির সঙ্গে মিলে যায়।
রোরাইমার সাধারণ হাসপাতালের দলটির একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে, যা পরিস্থিতিটি একটি বাক্যে ধরে: আদিবাসী রোগীরা প্রায়ই হাড় ভাঙা বা সাপের কাটা নিয়ে হাসপাতালে আসেন, আর ভর্তি হন ম্যালেরিয়ার চিকিৎসার জন্য।
হুতুকারার প্রতিবেদন থেকে MDHC একটি স্থানীয় হিসাব উদ্ধৃত করেছে, যা গড়ের চেয়ে অনেক বেশি কথা বলে। ২০২০ সালে পালিমিউ অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার ঘটনা ছিল ১,৮০০-র বেশি — অথচ সেই বছর ওই অঞ্চলের মোট জনসংখ্যা ছিল ৯০০-র কিছু বেশি।
প্রতিবেদনের হিসাবে এর মানে মাথাপিছু প্রায় দুইবার ম্যালেরিয়া।
আর মৃত্যুর হিসাব: ২০২১ সালে ম্যালেরিয়ায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ১০ জন ছিল ১ থেকে ৯ বছর বয়সের শিশু।
MDHC-র প্রতিবেদনে মুকাজাই পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য আছে, আর সেটি একটি অপ্রত্যাশিত ছবি দেয়। ২০২২ সালে ওই পৌরসভায় ম্যালেরিয়ার ৩,০৫৪টি পজিটিভ রোগনির্ণয়ের মধ্যে ৩৮৯টি ছিল ইয়ানোমামিদের, আর ২,১৪৭টি খনিশ্রমিকদের — অর্থাৎ মোট চাহিদার ৮৩ শতাংশ।
প্রতিবেদন এর ব্যাখ্যাও দিয়েছে: খনিশ্রমিকদের মধ্যে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার হার আদিবাসীদের চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু মৃত্যু বেশি আদিবাসীদের মধ্যেই — যা এই জনগোষ্ঠীর ভঙ্গুরতাই দেখায়।
আর একটি তথ্য আছে, যা আলাদা করে লেখা দরকার। প্রতিবেদনে সাক্ষাৎকার দেওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু জনপদে অ-আদিবাসীরা আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাতিয়ে নিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর চাপ দেয়, এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে।
হুতুকারার প্রতিবেদনেও আদিবাসীদের জন্য রাখা ওষুধ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ নথিবদ্ধ আছে।
MDHC-র প্রতিবেদনে রোরাইমা রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া একটি টেবিল আছে — রাজ্যে আদিবাসী মৃত্যুর বছর-ভিত্তিক সংখ্যা। প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ: সংখ্যাটি ২০১৬ সাল থেকে বাড়ার প্রবণতায়, আর ২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত বিশেষভাবে বেশি।
| বছর | মৃত্যু | বছর | মৃত্যু |
|---|---|---|---|
| ২০১২ | ৩৩৮ | ২০১৮ | ৪১০ |
| ২০১৩ | ৩৮৫ | ২০১৯ | ৪৬৯ |
| ২০১৪ | ৩৭১ | ২০২০ | ৫৭৩ |
| ২০১৫ | ৩১৭ | ২০২১ | ৫৯৫ |
| ২০১৬ | ৩৬৭ | ২০২২ | ৪২৬ |
| ২০১৭ | ৩৯৮ | মোট | ৪,৬৪৯ |
একটি কথা স্পষ্ট করা দরকার: এটি রোরাইমা রাজ্যের সব আদিবাসী মৃত্যুর হিসাব, কেবল ইয়ানোমামিদের নয়, এবং কেবল খনি-সংক্রান্ত কারণেরও নয়। তবু ২০১৫-র ৩১৭ থেকে ২০২১-এর ৫৯৫ — ছয় বছরে প্রায় দ্বিগুণ।
MDHC-র প্রতিবেদনে ভূখণ্ডের ভেতরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর অবস্থা নিয়ে দুটি নির্দিষ্ট হিসাব আছে।
Projeto Sumaúma-র হিসাবে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ইয়ানোমামি ভূখণ্ডের ভেতরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো ১৩ বার বন্ধ হয়েছে — কর্মীদের প্রতি হুমকি বা খনিশ্রমিকদের ঘটানো সশস্ত্র সংঘাতের কারণে।
আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী প্রতিবেদন লেখার সময়ে সুরুকুকু অঞ্চলে ৪টি ঘাঁটি-কেন্দ্র বন্ধ ও খনিশ্রমিকদের দখলে, এবং ভূখণ্ডের অন্য অঞ্চলে আরও ৩টি — যার একটি সংস্কার করা হয়েছিল, কিন্তু নিরাপত্তার কারণে খোলা যায়নি।
প্রতিবেদন আরও জানাচ্ছে, খনির হাতে স্বাস্থ্য-ঘাঁটি চলে যাওয়া এবং রাষ্ট্রের উদ্ধার-অভিযানে ঝুঁকি বা দেরি — দুটোই চিকিৎসা পাওয়াকে কঠিন করেছে। এই কথা জানিয়েছেন FUNAI, IBAMA ও আদিবাসী-বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীরা।
প্রতিবেদনের একটি বাক্য আলাদা করে লেখার মতো। Projeto Sumaúma চিহ্নিত করেছে যে হোমোশিতে খনিশ্রমিকরা স্বাস্থ্যকর্মীদের তাড়িয়ে দিয়ে জায়গাটিকে তাদের নিজেদের বিমানের জ্বালানির গুদামে পরিণত করেছে।
একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, যা এখন একটি জ্বালানি-গুদাম। আর সেই জ্বালানি যায় সেই বিমানে, যা খনির মাল নিয়ে যায়।
MDHC-র প্রতিবেদনে একটি আলাদা অনুচ্ছেদ আছে যৌন সহিংসতা নিয়ে, আর সেটি শুরু হয় একটি নির্দিষ্ট ঘটনা দিয়ে: ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল ওয়াইকাস অঞ্চলের আরাকাসা জনপদে ১২ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা — যে ঘটনা সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বড় প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল।
প্রতিবেদনে MDHC-র প্রতিনিধিদলের সংগ্রহ করা বিবরণ অনুযায়ী খনির দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত অঞ্চলগুলোতে অবস্থা বিশেষভাবে সংকটজনক। সহিংসতার রূপ দুই ধরনের বলে প্রতিবেদনে লেখা আছে: খাবার ও কাপড়ের মতো জিনিসের বিনিময়ে মেয়ে ও নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক — যেখানে যৌন শোষণের জোরালো আলামত আছে — এবং হুমকি দিয়ে, এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ধর্ষণ।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল হিসেবে নাম ধরে উল্লেখ আছে: হোমোশি, পারিমা, সুরুকুকু ও শিতেই।
আদিবাসী নেতা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আরেকটি সমস্যার কথা বলেছেন — খনিশ্রমিকদের সন্তানের মা বা গর্ভবতী আদিবাসী নারীর সংখ্যা অনেক। প্রতিবেদনের ভাষায়, অ-আদিবাসীর সঙ্গে সন্তান হওয়ায় পারিবারিক ও সামাজিক সংঘাত তৈরি হয়, যার লক্ষ্য হন নারী ও শিশুরাই।
প্রতিবেদনে রোরাইমার মাতৃ-শিশু হাসপাতালের অবস্থা নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ আছে, যা প্রশাসনিক ব্যর্থতার খুঁটিনাটি দেখায়।
আর একটি তথ্য আছে, যা ভুল বোঝা সহজ, তাই প্রতিবেদনের ব্যাখ্যাটি সঙ্গেই রাখা দরকার: মাতৃসদনে সাধারণত ইয়ানোমামি নবজাতকদের নাম নথিবদ্ধ হয় না — কারণ প্রথা অনুযায়ী শিশুর নাম দেয় জনগোষ্ঠী।
অর্থাৎ এটি অবহেলা নয়, একটি প্রথা। কিন্তু রাষ্ট্রীয় নথির সঙ্গে সেই প্রথার কোনো সমন্বয় নেই — আর তাতেই জন্মনিবন্ধনের ফাঁক তৈরি হয়।
MDHC-র প্রতিবেদনে Conselho Indigenista Missionário-র সংগ্রহ করা একটি হিসাব আছে, যা অবৈধ খনির পাশে বৈধ আবেদনের ছবিটিও দেখায়। ইয়ানোমামি ভূখণ্ডে খনির আবেদন ৫০০-র বেশি — অধিকাংশই সোনার জন্য, আর সেই আবেদনগুলো একসঙ্গে ভূখণ্ডের ৫৯ লাখ ২০ হাজার হেক্টর পর্যন্ত ঢেকে ফেলে।
সময়ভিত্তিক একটি সংখ্যাও আছে: ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত আবেদনগুলোর যোগফল ছিল ৩২ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর — প্রতিবেদনের তুলনা অনুযায়ী বেলজিয়ামের চেয়ে বড় একটি এলাকা।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত নথির ভাষায়, জাতীয় খনি সংস্থার কাছে করা এই আবেদনগুলোর একের উপর আরেক চাপা পড়া “ভূখণ্ডে আদিবাসীদের বেঁচে থাকা এক ডিস্টোপিয়ান পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি, যেখানে প্রতিদিনের সহিংসতা ও আক্রমণ আছে”।
মনে রাখা দরকার, ইয়ানোমামি ভূখণ্ডের মোট আয়তন ৯৫ লাখ হেক্টর। আর আবেদনগুলো ঢেকেছে ৫৯ লাখ ২০ হাজার হেক্টর পর্যন্ত — অর্থাৎ ভূখণ্ডের অর্ধেকেরও বেশি।
অবৈধভাবে তোলা সোনা কোথায় যায়, তার একটি হিসাবও প্রতিবেদনে আছে। Instituto Escolhas-এর সমীক্ষা অনুযায়ী ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ব্রাজিলে প্রায় ২২৯ টন অবৈধ সোনা কেনাবেচা হয়েছে — যা ওই সময়ে দেশের মোট উৎপাদনের অর্ধেকের সমান।
প্রতিবেদনের ভাষায় এই সোনার গন্তব্য নির্দিষ্ট: সাও পাওলোর অভিজাত এলাকায় সদর দফতর থাকা কোটি টাকার টার্নওভারের কোম্পানিগুলোই পরোক্ষ গ্রাহক। আর প্রক্রিয়াটি সহজ করা হয়েছে এমন একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে, যেখানে এই কোম্পানিগুলোর কাছে কেবল ঘোষণা করলেই চলে।
অর্থাৎ শিকলটি কেবল বনের ভেতরে নয়। প্রতিবেদনের সতর্কবাণী অনুযায়ী উদ্বেগের কারণ হলো খনিজের গোপন বাণিজ্যের বিস্তৃত সহায়ক শিকল, যেখানে উত্তোলন কেবল একটি ধাপ।
MDHC-র প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপগুলোর তারিখ ধরে ধরে বিবরণ আছে, আর সেই সময়রেখাটি ২০২৩ সালের জরুরি অবস্থার অনেক আগে শুরু।
আদালতের চারটি নির্দেশ প্রতিবেদনে তালিকা করা আছে: (১) ইয়ানোমামি, ইয়েকওয়ানা ও মুন্দুরুকু জনগোষ্ঠীর সদস্যদের জীবন, দৈহিক অখণ্ডতা, স্বাস্থ্য এবং খাদ্য ও পানীয় জলের প্রাপ্তি কার্যকরভাবে রক্ষা করা — সাংস্কৃতিকভাবে যথাযথ দৃষ্টিকোণ থেকে, লিঙ্গ ও বয়সের বিবেচনা রেখে; (২) এই জনগোষ্ঠীগুলোর নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন শোষণ ও সহিংসতা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা; (৩) রোগ, বিশেষত কোভিড-১৯, ছড়ানো রোধে সাংস্কৃতিকভাবে উপযুক্ত ব্যবস্থা ও যথাযথ চিকিৎসা; এবং (৪) আদিবাসী নেতৃত্বের জীবন ও দৈহিক অখণ্ডতা রক্ষা।
আদেশ-পরবর্তী ব্যবস্থাটিও প্রতিবেদনে লেখা: আদেশের পর রাষ্ট্র ও আবেদনকারীরা সুপারিশ পালনের বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দিতে শুরু করে।
প্রতিবেদনে একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক পদক্ষেপের তারিখ আছে। ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি MDHC মানবাধিকার রক্ষক, সংবাদকর্মী ও পরিবেশকর্মীদের সুরক্ষা কার্যক্রমে (PPDDH) ইয়ানোমামি নেতা জুনিওর হেকুরারি-কে যুক্ত করে — পরিষদের অনুমোদন পরে নেওয়ার শর্তে, Decreto nº 9937/2021-এর ৮ অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে।
তারপর তাঁর নিরাপত্তার জন্য ফেডারেল বাহিনীর টহল বাড়াতে বিচার ও জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ পাঠানো হয়।
প্রতিবেদন আরও জানাচ্ছে, হুতুকারা, CONDISI/YY, URIHI, CIR, Instituto Socioambiental ও অন্য স্থানীয় সংগঠনের দফতরে গিয়ে শোনার পর মনে হয়েছে আরও নেতাকে এই সুরক্ষা কার্যক্রমে নেওয়া দরকার হবে।
ব্রাজিলে আদিবাসী ভূমির সীমানা নির্ধারণকে বলে demarcação। FUNAI-র সরকারি পাতায় এর সংজ্ঞা: “o meio administrativo para identificar e sinalizar os limites do território tradicionalmente ocupado pelos povos indígenas” — আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রথাগতভাবে অধিকৃত ভূখণ্ডের সীমা চিহ্নিত ও নির্দেশ করার প্রশাসনিক উপায়। আইনি ভিত্তি Decreto nº 1.775/96।
FUNAI-র পাতা অনুযায়ী প্রক্রিয়াটির ধাপ সাতটি, আর প্রতিটি ধাপে সিদ্ধান্ত নেয় আলাদা সংস্থা:
| # | ধাপ | কে করে |
|---|---|---|
| ১ | চিহ্নিতকরণ ও সীমা-নির্ণয়ের সমীক্ষা | FUNAI |
| ২ | প্রশাসনিক আপত্তি-শুনানি | নির্বাহী বিভাগ |
| ৩ | সীমার ঘোষণা | বিচারমন্ত্রী |
| ৪ | মাঠে শারীরিক সীমানা বসানো | FUNAI |
| ৫ | অনুমোদন (homologação) | রাষ্ট্রপতির দফতর |
| ৬ | ভূমি-নিবন্ধন | রেজিস্ট্রি অফিস (FUNAI-র আবেদনে) |
| ৭ | কেন্দ্রীয় সম্পত্তিতে অন্তর্ভুক্তি | FUNAI |
সাতটি ধাপ, পাঁচটি আলাদা কর্তৃপক্ষ — আর যেকোনো ধাপে প্রক্রিয়া আটকে থাকতে পারে বছরের পর বছর। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি কমিশনের সঙ্গে তুলনাটি এখানেই — কাঠামো আছে, গতি নেই।
IBGE-র প্রকাশনা অনুযায়ী FUNAI আদিবাসী ভূমিকে চার ধরনে ভাগ করে — Estatuto do Índio (Lei 6.001/1973) ও Decreto 1.775/1996 অনুসারে।
আর প্রথাগত-অধিকৃত ভূমিকে আবার পাঁচটি ক্রমিক স্তরে ভাগ করা হয়, demarcação কতদূর এগিয়েছে তার ভিত্তিতে: Em estudo (নৃতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক, ভূমি, মানচিত্র ও পরিবেশ-সমীক্ষা চলছে) → Delimitadas (FUNAI সভাপতি সমীক্ষা অনুমোদন করেছেন, সরকারি গেজেটে প্রকাশ হয়েছে, এখন আপত্তি-শুনানি বা বিচার মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায়) → Declaradas (বিচারমন্ত্রীর ঘোষণাপত্র হয়েছে, শারীরিক সীমানা বসানোর অনুমতি আছে) → Homologadas (রাষ্ট্রপতির ডিক্রিতে অনুমোদিত) → Regularizadas (ডিক্রির পর কেন্দ্রের নামে রেজিস্ট্রি ও কেন্দ্রীয় সম্পত্তি সচিবালয়ে নিবন্ধিত)।
পাঁচটি স্তরের এই তালিকাটি জরুরি, কারণ “ভূমি স্বীকৃত হয়েছে” কথাটির অর্থ কোন স্তরে আছে তার উপর নির্ভর করে।
IBGE-র প্রকাশনায় সংখ্যা দুটি, আর কেন দুটি — তাও লেখা আছে। ২০২২ সালের শুমারির জন্য “সরকারিভাবে সীমা-নির্ধারিত” আদিবাসী ভূমি বলে ধরা হয়েছে সেগুলোকে, যেগুলো ২০২২ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত declarada, homologada, regularizada অথবা আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে পাঠানো অবস্থায় ছিল — সংখ্যায় ৫৭৩টি।
আর প্রকাশনার পরের বাক্য: em estudo ও delimitadas ভূমিগুলো যোগ করলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৫১টি আদিবাসী ভূমি।
অর্থাৎ ১৭৮টি ভূমি এখনো প্রক্রিয়ার ভেতরে — সমীক্ষা চলছে, বা সীমা নির্ধারিত হয়েছে কিন্তু ঘোষণা হয়নি।
শুমারির ভৌগোলিক কাজের আরেকটি সংখ্যাও আছে: IBGE দেশে ৬,২৪৫টি আদিবাসী জনপদ-সমষ্টি চিহ্নিত করেছে, যার ১,০২৩টি সরকারিভাবে সীমা-নির্ধারিত আদিবাসী ভূমির বাইরে।
marco temporal মানে “সময়ের সীমারেখা”। তত্ত্বটি বলে, আদিবাসী জনগোষ্ঠী কেবল সেই ভূখণ্ডের অধিকার দাবি করতে পারবে, যা তারা ১৯৮৮ সালের ৫ অক্টোবর — ব্রাজিলের সংবিধান প্রবর্তনের দিন — দখলে রেখেছিল বা আইনি বিরোধে ছিল।
তারিখটি কেন এই, তার যুক্তিও আছে। সংবিধানের ২৩১ অনুচ্ছেদ আদিবাসী ভূমিকে স্বীকৃতি দেয়, আর তত্ত্বটির সমর্থকেরা বলেন সংবিধান যেদিন থেকে কার্যকর, সেই দিনের অবস্থাই ধরা হবে।
ব্রাজিলের সেনেটের সরকারি সংবাদ সংস্থার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩-এর প্রতিবেদনে তত্ত্বটির পক্ষের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত আছে। সেনেটর প্লিনিও ভালেরিওর কথায়: “আমাদের সংবিধান মনে করে এটি ছিল ১৯৮৮ সালের ৫ অক্টোবর, আর সংবিধান স্পষ্ট যখন সে সেই ভূমিকেই আদিবাসী ভূমি বলে বিবেচনা করে, যা প্রবর্তনের ওই মুহূর্ত পর্যন্ত অধিকৃত ছিল।”
বিপরীত পক্ষের বক্তব্যও একই প্রতিবেদনে আছে। সেনেটর উমবের্তো কোস্তা বিলটিকে “সাংবিধানিকতার দোষে ভরা” বলেন এবং জানান যে বাস্তবে এটি নতুন আদিবাসী ভূখণ্ড স্বীকৃতির পথ বন্ধ করে দেবে।
একই প্রতিবেদনে একটি সংখ্যাও আছে, যা বিতর্কের অর্থনীতি বোঝায়। সেনেটর জেকিনিয়া মারিনিয়োর বক্তব্য অনুযায়ী ব্রাজিলের ভূখণ্ডের ১৪.১ শতাংশ ইতিমধ্যে আদিবাসী ভূমি হিসেবে সীমা-নির্ধারিত, যার পরিমাণ ১১ কোটি ৯৮ লাখ হেক্টর। [এটি একজন সেনেটরের বক্তব্যে দেওয়া হিসাব; FUNAI-র সরকারি প্রকাশনার সঙ্গে মেলানো দরকার — যাচাই প্রয়োজন]
ব্রাজিলের সেনেটের সরকারি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, সুপ্রিম ফেডারেল ট্রাইব্যুনাল (STF) এই মত নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছায় যে marco temporal অসাংবিধানিক।
মামলাটি ছিল RE 1017365, সাধারণ প্রভাবসম্পন্ন বিষয় (Tema 1031) হিসেবে।
প্রতিবেদনটি লেখা হয়েছিল ওই দিন বিকেল ৪টা ৫১ মিনিটে, আর তখন পর্যন্ত হিসাব ছিল ৬টি ভোট তত্ত্বের বিপক্ষে। সেদিনই প্রক্রিয়া শেষ হয়।
প্রতিবেদনটির শিরোনামই পরিস্থিতিটি বলে দেয়: “টেরাস ইন্ডিজেনাস: মার্কো তেম্পোরাল কংগ্রেস ও STF-এর মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি করেছে।” কারণ একই সময়ে সেনেট সেই বিলটিই বিবেচনা করছিল, যা ওই তারিখটিকে আইনে বসায়।
সরকারের সেনেট-নেতা রান্দোলফে রদ্রিগেসের মন্তব্য প্রতিবেদনে উদ্ধৃত আছে: “সুপ্রিম ফেডারেল ট্রাইব্যুনালের একটি অসাংবিধানিকতার ঘোষণাকে এমন একটি আইনের খসড়া দিয়ে মোকাবিলা করা আমাদের জন্য শোভন মনে হয় না, যা স্পষ্টতই অসাংবিধানিক হবে।”
আদালতের রায়ের এক মাসের মধ্যেই আইনটি হয়ে যায় — Lei nº 14.701, de 20 de outubro de 2023। আইনের উদ্দেশ্য-বিবৃতি অনুযায়ী এটি সংবিধানের ২৩১ অনুচ্ছেদকে বিধিবদ্ধ করে, আদিবাসী ভূমির স্বীকৃতি, সীমা-নির্ধারণ, ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিধান রাখে।
আইনের ৪ অনুচ্ছেদে marco temporal আছে — তিনটি উপধারায়, হুবহু:
§৪-এর “independentemente da causa” — কারণ নির্বিশেষে — শব্দগুলো গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ জনগোষ্ঠীকে জোর করে উচ্ছেদ করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নটি এই ধারায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়।
আইনটির পাঠ পড়লে একটি অস্বাভাবিক জিনিস চোখে পড়ে: ৪ অনুচ্ছেদ দুবার আছে — একবার (VETADO) লেখা, আর একবার “Promulgação partes vetadas” চিহ্নিত পূর্ণ পাঠে।
কেন, তা আইনের পরিশিষ্টেই লেখা। পাঠটি হুবহু জানাচ্ছে: জাতীয় কংগ্রেস আইনে দেওয়া আংশিক ভেটোর একটি অংশ বাতিল করেছে, আর সেনেট সভাপতি রদ্রিগো পাচেকো সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ৭ উপধারার ভিত্তিতে ওই অংশগুলো নিজে প্রোমালগেট করেছেন।
অর্থাৎ ঘটনাক্রমটি এই: আদালত তত্ত্বটি অসাংবিধানিক বলল → কংগ্রেস আইন করল → রাষ্ট্রপতি সেই ধারাগুলোতে ভেটো দিলেন → কংগ্রেস ভেটো ভাঙল → সেনেট সভাপতি ধারাগুলো প্রোমালগেট করলেন।
এবং এখন? আইনের পাঠের পাশে পাশে লেখা আছে (Vide ADC 87) (Vide ADI 7582) (Vide ADI 7583) (Vide ADI 7586) — অর্থাৎ এই ধারাগুলোর সাংবিধানিকতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চারটি মামলা বিচারাধীন।
পাহাড়ের পাঠকের জন্য এই অচলাবস্থাটি চেনা প্রশ্নের একটি ভিন্ন রূপ। ১৯৯৭ সালের চুক্তির বাস্তবায়ন আটকে থাকে প্রশাসনিক অনিচ্ছায়; ব্রাজিলে আটকে আছে তিনটি রাষ্ট্রীয় শাখার পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্তে।
Lei 14.701-এর marco temporal-এর বাইরেও কয়েকটি ধারা আছে, যেগুলো ভূমি-ব্যবস্থাটিকে সরাসরি বদলায়। পাঠ থেকে হুবহু:
Lei 14.701-এর ২০ অনুচ্ছেদের একমাত্র উপধারাটি সবচেয়ে সরাসরি। পাঠ অনুযায়ী সামরিক ঘাঁটি, ইউনিট ও চৌকি স্থাপন এবং অন্য সামরিক হস্তক্ষেপ, সড়ক-জালের কৌশলগত বিস্তার, কৌশলগত চরিত্রের বিকল্প বিদ্যুৎ-সম্ভাবনার অনুসন্ধান এবং কৌশলগত চরিত্রের সম্পদ সুরক্ষা — এসব বাস্তবায়িত হবে “independentemente de consulta às comunidades indígenas envolvidas ou ao órgão indigenista federal competente”।
অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট আদিবাসী সম্প্রদায় অথবা ফেডারেল আদিবাসী সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ নির্বিশেষে।
২১ অনুচ্ছেদেও একই ভাষা — সশস্ত্র বাহিনী ও ফেডারেল পুলিশ আদিবাসী এলাকায় নিজেদের দায়িত্বের আওতায় কাজ করতে পারবে, পরামর্শ নির্বিশেষে।
এই দুটি ধারা পড়লে UNDRIP-এর FPIC ধারণার সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ দেখা যায় — আর মনে রাখা দরকার, একই দেশের আদমশুমারিটি ঠিক সেই FPIC প্রক্রিয়া মেনেই নকশা করা হয়েছিল।
আইনের কিছু ধারায় আদিবাসীদের পক্ষের বিধানও আছে। যেমন Art. 26 §১ অনুযায়ী আদিবাসী ভূমি ইজারা (arrendamento) দেওয়া যাবে না, বা এমন কোনো আইনি লেনদেন করা যাবে না যা সম্প্রদায়ের সরাসরি দখল শেষ করে দেয়। Art. 29 অনুযায়ী আদিবাসী ভূমি, প্রাকৃতিক সম্পদের একচেটিয়া ভোগদখল এবং renda indígena-র উপর পূর্ণ করছাড়। আর Art. 4 §৮ অনুযায়ী সম্প্রদায় পর্তুগিজ না জানলে FUNAI-নিয়োজিত অনুবাদকের মাধ্যমে ভাষান্তরের নিশ্চয়তা আছে।
আমাজন কেবল ব্রাজিলে নয়। জুমজার্নালের আর্কাইভে ইকুয়েডরের আমাজন অংশের একটি আইনি লড়াইয়ের বিবরণ আছে, যা ব্রাজিলের ছবিটির পাশে রাখার মতো।
সেই লেখা অনুযায়ী ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ওয়াওরানি (Waorani) ও কোফান (Kofan) জনগোষ্ঠী সরকারের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব আইনি লড়াই জেতে, আর তাতে আমাজনে আদিবাসী অধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি হয়।
তারপর ২০১৯ সালের নভেম্বরে ইকুয়েডরের উচ্চ আদালত সিনানগোর কোফান সম্প্রদায়ের মামলাটি পর্যালোচনার জন্য বেছে নেয় — উদ্দেশ্য ছিল আদিবাসী সম্প্রদায়ের আইনি বিজয়কে জাতীয় আইনের আওতায় আনা।
লেখাটিতে এই আদেশের তাৎপর্য স্পষ্ট করা আছে: এটিই ছিল দেশটির উচ্চ আদালতের প্রথম আদেশ, যার মাধ্যমে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পূর্ববর্তী আলোচনা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃতি পায়।
আর্কাইভের ওই লেখা অনুযায়ী ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইকুয়েডরের রাজধানীতে শত শত আদিবাসী মানুষ ওয়াওরানি ও কোফান সম্প্রদায়কে সমর্থন দিতে জমায়েত হন — কেউ এসেছেন সুদূর আমাজন থেকে পায়ে হেঁটে, কেউ ক্যানু নৌকায়, কেউ সড়কপথে।
যাঁরা যোগ দেন, তাঁদের নামও লেখা আছে: কিচোয়া (Kichwa), সাপারা (Sapara), স্যিইয়ার (Shiwiar), স্যুয়ার (Shuar), সিয়েকোপাই (Siekopai) ও সিয়োনা (Siona) — যাঁরা একইভাবে নিজ এলাকায় অস্তিত্বের হুমকির মুখে।
লেখাটিতে বিক্ষোভের কারণও স্পষ্ট: সরকারের আমাজন-ধ্বংস, এবং আদালতের নির্দেশ মানতে না পারার ব্যর্থতা।
এই দ্বিতীয় কারণটিই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক। আদালতের রায় থাকা আর রায় কার্যকর হওয়া — দুটি আলাদা জিনিস। লেখাটি জানাচ্ছে, উচ্চ আদালত ও জাতিসংঘের স্বীকৃতি পাওয়ার পরেও সরকার উত্তোলনের নীতিতেই চলছিল, আর চীনের বিপুল ঋণ শোধ করতে আমাজন থেকে তেল ও খনিজ উত্তোলন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
আর্কাইভের ওই লেখায় আদালতের সামনে দেওয়া বক্তব্যগুলো নাম ধরে উদ্ধৃত আছে। এগুলো তাঁদের নিজের কথা, তাই হুবহু রাখা হলো।
কোফান তরুণ নেতা অ্যালেক্স লুসিতানতে: “আমরাই অরণ্যের কণ্ঠস্বর। আমরা দাবি জানাই সরকার যেন আমাদের কথা শোনে এবং সম্মান করে। আমরা প্রতিরোধ চালিয়ে যাব। আদিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে অস্তিত্ব রক্ষায় আমাদের এই আইনি বিজয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।”
ওয়াওরানি নেত্রী নেমোনতে নেনকুইমো: “আমাদের অঞ্চলই আমাদের আবাসস্থল এবং আমরা আমাদের সীমানা ও অস্তিত্বকে রাষ্ট্র দ্বারা ধ্বংস হতে দেবো না। ওয়ায়োরানির সম্প্রদায় হিসেবে লড়াই শুধু আমাদের না।” লেখাটি জানাচ্ছে, তিনি নিজের সম্প্রদায়ের পক্ষে প্রধান বাদী হয়ে ৫ লাখ একর জমিকে তেল উত্তোলনের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।
ওয়াওরানির বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা ওমানকা ইনকুইরি — যিনি ওয়াওরানি ভাষায় ‘পেকিনানি’ (Pekinani) নামেও পরিচিত: “ওয়ায়োরানির অগ্রজ হিসেবে আমরা আমাদের জীবনধারণের অধিকারের দাবি নিয়ে এসেছি। আমাদের আবাসস্থল বিক্রয়ের জন্য নয়।”
সিনানগো সম্প্রদায়ের সভাপতি ও কোফান নেতা এডিসন লুসিতানতে, পরিবেশবিষয়ক উপমন্ত্রীর কাছে: “আমরা এখানে এই প্রথমবার আসিনি। আদালতের আদেশ মেনে চলা হচ্ছে না। আমাদের জনজীবন বিপদগ্রস্ত।”
পূর্ণ বিবরণটি আছে মূল লেখাতেই — ইকুয়েডরের আদিবাসীদের ঐতিহাসিক জয়।
জুমজার্নালের আর্কাইভে একজন ইয়ানোমামি মানুষের নিজের লেখা থেকে একটি দীর্ঘ উদ্ধৃতি আছে। তিনি দাভি কোপেনাওয়া ইয়ানোমামি, আর বইটির নাম The Falling Sky।
উদ্ধৃতিটি হুবহু, আর্কাইভের অনুবাদ অনুযায়ী:
“ইতোমধ্যে শ্বেতাঙ্গদের প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য এবং মেশিন তৈরির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ধাতব পদার্থের চাইতেও বেশি মজুত রয়েছে; আরো মজুত রয়েছে প্রয়োজনের চাইতেও বেশি খাদ্য উৎপাদনের জন্য জমি; আরো রয়েছে প্রয়োজনের চাইতেও অধিক পরিমাণ কাপড়; এবং আরো রয়েছে চলাচলের জন্য অঢেল সংখ্যক গাড়ি ও বিমান।
তবুও তারা আমাদের বনাঞ্চলের ধাতব পদার্থগুলোকে প্রবলভাবে আহরণ করতে চায় যাতে করে তারা আরো বেশি পরিমাণে এসব জিনিসপত্র তৈরি করতে পারে।
অথচ তাদের কলকারখানার দুর্গন্ধ ইতোমধ্যে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে … যেকোন সময় এসব কলকারখানার নির্গত কালো ধোঁয়ার তৈরি অন্ধকার আমাদের ঘরে নেমে আসতে পারে, যাতে করে আমাদের বাচ্চারা আর সূর্যের চেহারা দেখতে না পায়।”
এই কথাগুলোর সঙ্গে আগের অনুচ্ছেদগুলোর সংখ্যা মিলিয়ে পড়া যায়: ৫৯ লাখ হেক্টরে খনির আবেদন, ২২৯ টন অবৈধ সোনা, নদীতে ৪৫ শতাংশ পারদ।
লক্ষ করুন তিনি কোনো সংখ্যা ব্যবহার করেননি। তাঁর যুক্তিটি সংখ্যার নয় — পরিমাণের। যা দরকার তার চেয়ে বেশি আছে, তবু আরও চাই।
জুমজার্নালের আর্কাইভে আরেকটি হিসাব আছে, যা আমাজনের আগুনের আলোচনায় কম আসে। সেই লেখার তথ্য অনুযায়ী — সূত্র Survival International — ব্রাজিলের সাভানা অঞ্চলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যখন স্থানীয় জনজাতিদের সঙ্গে একযোগে কাজ করা শুরু করেন, তখন গ্রীষ্ম মৌসুমে দাবানলের পরিমাণ প্রায় ৫৭ শতাংশ কমে যায়।
লেখাটিতে এই কৌশলের নামও আছে — Cultural Burning, বা সাংস্কৃতিক দহন। ভূপৃষ্ঠ স্তরে ছোট আকারের নিয়ন্ত্রিত আগুন জ্বালিয়ে দাহ্য উদ্ভিজ্জ পদার্থ পুড়িয়ে সাফ করা হয়, যা পরে নিয়ন্ত্রণহীন আগুনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
আর লেখাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ: ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো এই ব্যবহার বুঝতে না পেরে যেখানেই এর চর্চা পেয়েছে, সেখানেই নিষিদ্ধ করেছে — এবং অগ্নিসংযোগের সমতুল্য বিবেচনা করেছে।
জুমচাষ নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে তর্ক, তার গঠন হুবহু একই — জুম চাষের মাসে মাসে কাজের ছক থেকে দেখা যায় যে আগুনটি একটি নিয়মে বাঁধা, এলোমেলো নয়।
আমাজনের এই হিসাব থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের জন্য সবচেয়ে কাজের জিনিসটি একটি সংখ্যা নয় — একটি কাঠামো: আইন, আদালত ও আন্তর্জাতিক সংস্থা তিনটিই পক্ষে থাকলেও, মাঠে উপস্থিতি না থাকলে কিছু বদলায় না।
ব্রাজিলে আদিবাসীদের পক্ষে আছে সংবিধানের ২৩১ অনুচ্ছেদ, demarcação-র সাত ধাপের প্রশাসনিক ব্যবস্থা, সুপ্রিম কোর্টের ২০২৩ সালের রায়, আন্তঃআমেরিকান আদালতের আদেশ, আর একটি আদমশুমারি যা FPIC মেনে করা হয়েছে।
আর তবু — ৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলে, হোমোশির কেন্দ্রটি জ্বালানির গুদাম, ২০ হাজার মানুষ ভূখণ্ডের ভেতরে, আর একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যমা বয়স ১৬ থেকে ১৫-তে নেমে এসেছে।
দ্বিতীয় যে জিনিসটি কাজের, সেটি নথির ধরন। হুতুকারা — অর্থাৎ ইয়ানোমামিদের নিজেদের সংগঠন — একটি প্রতিবেদন বানিয়েছে, আর সরকারি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন সেটিকেই সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত করেছে: ১১০টি জনপদ, নদীর নাম, পালিমিউর ম্যালেরিয়া-হিসাব, ঋণের দাসত্বের বিবরণ।
অর্থাৎ জনগোষ্ঠীর নিজের হিসাব রাখাই সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। ইনুইটদের ক্ষেত্রেও একই কথা দেখা গেছে — আর পাহাড়ে যে হিসাবগুলো এখনো কারও হাতে নেই, সেগুলোই সবচেয়ে বেশি দরকার।
IBGE-র ২০২২ সালের আদমশুমারির প্রকাশনা অনুযায়ী ব্রাজিলে বসবাসকারী আদিবাসী জনসংখ্যা ১৬,৯৪,৮৩৬ জন, যা মোট জনসংখ্যার ০.৮৩ শতাংশ। ২০১০ সালের শুমারিতে গণনা হয়েছিল ৮,৯৬,৯১৭ জন, তবে IBGE নিজেই বলছে দুই শুমারির তুলনায় পদ্ধতিগত সতর্কতা দরকার।
ব্রাজিলজুড়ে ২০২২ সালের শুমারিতে ৩৯১টি আদিবাসী জাতি, জনগোষ্ঠী ও গোত্র এবং ২৯৫টি আদিবাসী ভাষা নথিবদ্ধ হয়েছে। ২০১০ সালে সংখ্যাগুলো ছিল ৩০৫ ও ২৭৪। আদিবাসী ভূখণ্ডগুলোর ভেতরে ২০২২ সালে ২৪৯টি ভাষা ঘোষিত হয়েছে, ২০১০-এর ২১৪টির তুলনায় বেশি।
FUNAI-র সংজ্ঞায় এটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রথাগতভাবে অধিকৃত ভূখণ্ডের সীমা চিহ্নিত ও নির্দেশ করার প্রশাসনিক উপায়, আইনি ভিত্তি Decreto nº 1.775/96। প্রক্রিয়াটির সাতটি ধাপ — FUNAI-র সমীক্ষা, আপত্তি-শুনানি, বিচারমন্ত্রীর ঘোষণা, মাঠে সীমানা বসানো, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন, ভূমি-নিবন্ধন এবং কেন্দ্রীয় সম্পত্তিতে অন্তর্ভুক্তি।
IBGE-র হিসাবে ২০২২ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সরকারিভাবে সীমা-নির্ধারিত আদিবাসী ভূমির সংখ্যা ৫৭৩টি। সমীক্ষাধীন (em estudo) ও সীমা-নির্ধারিত (delimitadas) ভূমিগুলো যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ৭৫১টি।
তত্ত্বটি বলে, আদিবাসী জনগোষ্ঠী কেবল সেই ভূখণ্ডের অধিকার দাবি করতে পারবে, যা তারা ১৯৮৮ সালের ৫ অক্টোবর — ব্রাজিলের সংবিধান প্রবর্তনের দিন — দখলে রেখেছিল বা আইনি বিরোধে ছিল। ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম ফেডারেল ট্রাইব্যুনাল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এই তত্ত্বকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে, মামলাটি RE 1017365।
রায়ের এক মাস পরে Lei nº 14.701, de 20 de outubro de 2023 হয়, যার ৪ অনুচ্ছেদের ২ ও ৪ উপধারায় ৫ অক্টোবর ১৯৮৮-র শর্তটি বসানো আছে। আইনের পাঠ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ওই ধারাগুলোতে ভেটো দিয়েছিলেন, কংগ্রেস ভেটো বাতিল করে, আর সেনেট সভাপতি রদ্রিগো পাচেকো সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ৭ উপধারার ভিত্তিতে সেগুলো প্রোমালগেট করেন।
Lei 14.701-এর ৪ অনুচ্ছেদের ৩ উপধারার সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি অতীতে শুরু হওয়া এবং সংবিধান প্রবর্তনের তারিখ পর্যন্ত টিকে থাকা প্রকৃত দখল-বিরোধ, যা বাস্তব পরিস্থিতিতে বা আদালতে যাওয়া দখল-বিরোধের রূপ নিয়েছে। এটিই marco temporal শর্তের একমাত্র ব্যতিক্রম।
IBGE-র প্রকাশনা অনুযায়ী টেরা ইন্ডিজেনা ইয়ানোমামি আয়তনে দেশের বৃহত্তম, পরিমাণে ৯৫ লাখ হেক্টর — যা প্রায় রিও ডি জেনেইরো ও এসপিরিতো সান্তো রাজ্য দুটি একসঙ্গে যোগ করার সমান। ভূখণ্ডটি উত্তর ব্রাজিল ও দক্ষিণ ভেনেজুয়েলার বন ও পাহাড় জুড়ে বিস্তৃত।
২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি, Portaria GM/MS nº 28 দিয়ে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিসিয়া ত্রিনদাদে লিমার সইয়ে। পরিপত্রে কারণ হিসেবে লেখা হয় ইয়ানোমামি জনগোষ্ঠীর প্রতি “desassistência”, অর্থাৎ অ-সহায়তা। একই পরিপত্রে SESAI-র অধীনে জরুরি পরিচালনা কেন্দ্র (COE — Yanomami) গঠিত হয়।
MDHC-র প্রতিবেদন অনুযায়ী ফিওক্রুজের অনুমানে অবৈধ খনিতে ব্যবহৃত পারদের ৪৫ শতাংশ শোধন ছাড়াই নদীতে যায়; ২০২১-এ উরারিকোয়েরা নদীর প্রতি দশটি মাছের ছয়টিতে পারদ WHO-র সীমার উপরে পাওয়া যায়; আর ম্যালেরিয়ার ঘটনা ২০১৪-র ২,৯২৮ থেকে ২০২১-এ ২০,৩৯৪-এ পৌঁছায়।
MDHC-র প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালের ১৭ জুন আন্তঃআমেরিকান মানবাধিকার কমিশন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নির্ধারণ করে — আবেদনটি করেছিলেন দারিও ভিতোরিও কোপেনাওয়া ইয়ানোমামি। পরে ২০২২ সালের ১ জুলাই আন্তঃআমেরিকান আদালত চারটি নির্দেশ দেয়: জীবন-স্বাস্থ্য-খাদ্য-পানীয় জলের সুরক্ষা, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন শোষণ প্রতিরোধ, রোগ বিস্তার রোধে সাংস্কৃতিকভাবে উপযুক্ত ব্যবস্থা, এবং আদিবাসী নেতৃত্বের সুরক্ষা।
জুমজার্নালের আর্কাইভের বিবরণ অনুযায়ী ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ওয়াওরানি ও কোফান জনগোষ্ঠী সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই জেতে, আর ২০১৯ সালের নভেম্বরে উচ্চ আদালত সিনানগোর কোফান মামলাটি পর্যালোচনার জন্য বেছে নেয় — এটিই ছিল দেশটির উচ্চ আদালতের প্রথম আদেশ যেখানে পূর্ববর্তী আলোচনা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃতি পায়।
এই লেখার সব সংখ্যা, তারিখ ও উদ্ধৃতি উপরের উৎসগুলো থেকে নেওয়া। পর্তুগিজ আইনি শব্দ ও ব্যক্তি-স্থান-জাতির নাম মূল রূপে রাখা হয়েছে। সর্বশেষ হালনাগাদ: ৮ অক্টোবর ২০২৬।
প্রসঙ্গ:আদিবাসী অধিকার, আদিবাসী ভাষা, আন্তর্জাতিক, ব্রাজিলীয় আদিবাসী, ভূমি অধিকার, লাতিন আমেরিকা
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।