Jumjournal Logo

পার্বত্য চট্টগ্রাম অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু টাস্কফোর্স: তালিকায় কারা থাকবেন, বিরোধটা ঠিক এখানেই

Last updated Oct 19th, 2026

0

Featured image

পার্বত্য চট্টগ্রাম অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু টাস্কফোর্স হলো 1997 সালে গঠিত একটি সরকারি কমিটি, যার দুটি কাজ: ভারতের ত্রিপুরা থেকে ফেরা শরণার্থীদের পুনর্বাসন, আর তিন পার্বত্য জেলার অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের চিহ্নিত করে পুনর্বাসন। দ্বিতীয় কাজটি প্রায় তিন দশক ধরে আটকে আছে একটি প্রশ্নে: তালিকায় অ-উপজাতীয়, অর্থাৎ বাঙালি পরিবার থাকবে কি না। টাস্কফোর্সের নিজের কার্যবিবরণী, চুক্তির ধারা, সরকারি প্রজ্ঞাপন আর দুই পক্ষের বক্তব্য পাশাপাশি রেখে এখানে দেখানো হলো বিরোধটা ঠিক কোথায়, আর কোন সংখ্যা কবে কোন নথিতে এসেছে।

15 মে 2000, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস। টাস্কফোর্সের সভার কার্যবিবরণীর ছয় নম্বর পাতায় একটি ছক: তিন পার্বত্য জেলায় উপজাতীয় উদ্বাস্তু পরিবার 90,208, অ-উপজাতীয় উদ্বাস্তু পরিবার 38,156, সর্বমোট 1,28,364। টাস্কফোর্সের নিজস্ব পোর্টালে আজ যে স্ক্যান করা কপি রাখা আছে, তার মার্জিনে কেউ হাতে লিখে রেখেছেন একটি ইংরেজি শব্দ: “Objectionable”।

চুক্তির পুরো খণ্ড ধরে ধরে আলোচনা আছে আমাদের আর্কাইভের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ধারাভিত্তিক বিশ্লেষণে এবং চুক্তির কতটা বাস্তবায়িত হলো তার হিসাবে। এই লেখা কেবল টাস্কফোর্স আর তার তালিকা নিয়ে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আমাদের সব লেখা এক জায়গায় পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু টাস্কফোর্স কী, আর এর পুরো নাম কী?

সরকারি পুরো নাম “ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স”। এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি দপ্তর, কার্যালয় খাগড়াছড়ি জেলা সদরে, কর্মপরিধি তিন পার্বত্য জেলা। পোর্টালে সংক্ষিপ্ত নাম লেখা হয় “উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স”।

টাস্কফোর্সের পোর্টালের “এক নজরে” পাতা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের 8 এপ্রিল 1997 তারিখের স্মারকে এটি গঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল ত্রিপুরার শিবির থেকে শরণার্থীদের ফেরত আনা ও পুনর্বাসন, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ, আর সরকার ঘোষিত 20 দফা প্যাকেজ সুবিধা বাস্তবায়নে সহায়তা ও পর্যবেক্ষণ। তারিখ নিয়ে একটি ভিন্ন বিবরণও আছে: বাসসের বরাতে The Daily Star 2009 সালে লিখেছিল, সরকার 20 জানুয়ারি 1998 তারিখে নয় সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে। পোর্টালের সাবেক চেয়ারম্যানদের তালিকায় প্রথম চেয়ারম্যানের মেয়াদ শুরু 8 এপ্রিল 1997, দ্বিতীয়জনের 20 জানুয়ারি 1998।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব বাজেটের জনবল-ছক (31 মার্চ 2026 হালনাগাদ) অনুযায়ী টাস্কফোর্সে অনুমোদিত পদ 22টি, পূরণ হয়েছে 14টি, শূন্য 8টি। 23 সেপ্টেম্বর 2026-এর মন্ত্রণালয়ের পত্র অনুযায়ী খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী টাস্কফোর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়েছেন।

পোর্টালের “কার্যাবলী” পাতায় দুই ভাগে কাজ লেখা আছে। প্রত্যাগত শরণার্থীদের জন্য: 20 দফা প্যাকেজ দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারকে সুপারিশ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের সমন্বয়, পুনর্বাসনের স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন, আর সরকারকে পরামর্শ। অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের জন্য: “তিন পার্বত্য জেলার অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের নির্দিষ্টকরণ এবং পুনর্বাসনের জন্য সরকারের নিকট প্রয়োজনীয় সুপারিশ পেশ”, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা ও পরিবীক্ষণ, এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধান। অর্থাৎ টাস্কফোর্স নিজে কাউকে পুনর্বাসন করে না; তালিকা বানিয়ে সুপারিশ করে।

নাগরিক সনদে (14 অক্টোবর 2026 হালনাগাদ) এখনকার প্রত্যক্ষ সেবা মূলত তিনটি: আর্থিকভাবে অসচ্ছল শরণার্থীদের শিক্ষা ও চিকিৎসায় এককালীন সহায়তা (30 কার্যদিবসে), প্রত্যাগত শরণার্থীদের ঋণ মওকুফে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়, এবং চাকরিতে পুনর্বহাল ও জ্যেষ্ঠতা। আবেদন ফরমে আবেদনকারী নিজেকে “ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী”, “স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনকারী শরণার্থী” বা “অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পরিবারের সদস্য” হিসেবে চিহ্নিত করেন।

পার্বত্য চুক্তির কোন ধারায় টাস্কফোর্সের কথা আছে?

1997 সালের চুক্তিতে টাস্কফোর্স তিন জায়গায় আসে: খণ্ড (ক)-এর 3 নম্বর ধারায় বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য হিসেবে, খণ্ড (ঘ)-এর 1 নম্বর ধারায় উদ্বাস্তু পুনর্বাসনের মাধ্যম হিসেবে, আর (ঘ)-এর 2 নম্বর ধারায় ভূমি জরিপের পূর্বশর্তে। বিরোধের সূত্র এই দুটি ধারার শব্দচয়নে।

খণ্ড (ক) ধারা 3: চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের তিন সদস্যের কমিটিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত আহ্বায়ক, “চুক্তির আওতায় গঠিত টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান” এবং জনসংহতি সমিতির সভাপতি। ফলে টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান পদটি কেবল একটি দপ্তরের প্রধান নয়, চুক্তি তদারকির তিনজনের একজন। 12 জানুয়ারি 2025-এর প্রজ্ঞাপনে পুনর্গঠিত পরিবীক্ষণ কমিটিতেও তখনকার টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান সুদত্ত চাকমা সদস্য ছিলেন।

খণ্ড (ঘ) ধারা 1 প্রথমে 9 মার্চ 1997-এর আগরতলা চুক্তির কথা বলে, যার ভিত্তিতে 28 মার্চ 1997 থেকে ত্রিপুরার শরণার্থীরা ফিরতে শুরু করেন। তারপর বলে: “তিন পার্বত্য জেলার অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের নির্দিষ্টকরণ করে একটি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” জনসংহতি সমিতির ওয়েবসাইটে রাখা ইংরেজি পাঠে বাক্যটি: “After ascertaining the identity of the Internally Displaced Persons of the three hill districts, rehabilitation measures shall be undertaken through a Task Force.” এই বাক্যে “উপজাতীয়” শব্দটি নেই।

পরের ধারা, (ঘ)-2, ভূমি জরিপের ক্রম ঠিক করে: চুক্তি স্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন এবং “উপজাতীয় শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উপজাতীয় উদ্বাস্তুদের” পুনর্বাসনের পর আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে জরিপ শুরু হবে। ইংরেজি পাঠে: “rehabilitation of the tribal refugees and internally displaced tribals”। এখানে “উপজাতীয়” শব্দটি আছে।

এক ধারায় শব্দটি নেই, পরের ধারায় আছে। জনসংহতি সমিতি ও আদিবাসী পক্ষ (ঘ)-2-এর পাঠ ধরে বলে, চুক্তি যে উদ্বাস্তুর কথা বলছে তাঁরা উপজাতীয়। সরকারি প্রতিনিধিদের একাংশ ও বাঙালি সংগঠনগুলো বলে, যিনি নিজ বাস্তু থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন তিনিই উদ্বাস্তু। এই দুই পাঠের ব্যবধানই নিচের প্রতিটি সভায় ফিরে এসেছে। ভূমি জরিপ ও ভূমি কমিশন নিয়ে বিস্তারিত আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি আইন থেকে ভূমি কমিশন পর্যন্ত লেখায়।

টাস্কফোর্সে কারা সদস্য?

সর্বশেষ পুনর্গঠন হয়েছে 20 নভেম্বর 2025-এর প্রজ্ঞাপনে (নং 29.00.0000.223.18.001.24-357)। সেখানে চেয়ারম্যানসহ 16টি পদ: চেয়ারম্যান, 14 জন সদস্য এবং সদস্য-সচিব হিসেবে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার। তিন সার্কেল চিফ, তিন জেলা প্রশাসক, তিন জেলা পরিষদ, সেনাবাহিনীর 24 পদাতিক ডিভিশন, জনসংহতি সমিতি ও প্রত্যাগত শরণার্থীদের একজন করে প্রতিনিধি এতে আছেন।

পদ 2021-এর প্রজ্ঞাপনে 2025-এর প্রজ্ঞাপনে
চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) সুদত্ত চাকমা (সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা)
মন্ত্রণালয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি
জেলা পরিষদ খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রতিনিধি (3 জন)
জেলা প্রশাসন তিন জেলার জেলা প্রশাসক (3 জন)
প্রথাগত প্রধান চাকমা, মং ও বোমাং সার্কেল চিফ (3 জন)
সেনাবাহিনী 24 পদাতিক ডিভিশনের একজন প্রতিনিধি
জনসংহতি সমিতি একজন প্রতিনিধি
প্রত্যাগত শরণার্থী একজন প্রতিনিধি
ব্যক্তি-সদস্য অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন কবীর মোহাম্মদ নুরুল কবির
সদস্য-সচিব বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম

সূত্র: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন, 22 জুন 2021 (নং 29.00.0000.223.018.05.17(অংশ-১)-140) ও 20 নভেম্বর 2025; দুটিই টাস্কফোর্সের পোর্টালের “ডাউনলোড” পাতায়।

2021-এর প্রজ্ঞাপন জানায়, সেবার তিন জেলা প্রশাসক ও তিন সার্কেল চিফকে প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, আর ব্যক্তি-সদস্য এস এম শফির জায়গায় আসেন অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন কবীর। 2009 সালের প্রথম সভার কার্যবিবরণীতেও “জনাব এস. এম. শফি” সদস্য হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন; 2019 সালের দশম সভায় তাঁর মৃত্যুতে নীরবতা পালন করা হয়।

এই ব্যক্তি-সদস্যের আসনটি নিয়েই 2025 সালে বিতর্ক ওঠে। দৈনিক ইনকিলাব 19 অক্টোবর 2025 লেখে, 16 সদস্যের টাস্কফোর্সে পাহাড়ি সদস্য 9 জন, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বাঙালি 7 জন, এবং “বাঙালিদের থেকে নিয়োগ দেওয়া একমাত্র সদস্য” পদত্যাগ করেছেন। পত্রিকাটিকে মহিউদ্দিন কবীর বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়ায় চেয়ারম্যান তাঁকে “জোর করে” পদত্যাগে বাধ্য করেছেন; চেয়ারম্যানের বক্তব্য পত্রিকাটি পায়নি। এক মাস পরের প্রজ্ঞাপনে আসনটিতে নতুন নাম আসে। কোন সদস্য কোন জনগোষ্ঠীর, তা প্রজ্ঞাপনে লেখা থাকে না; 9 ও 7-এর হিসাবটি ইনকিলাবের নিজস্ব।

টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কারা ছিলেন?

পোর্টালের “প্রাক্তন অফিস প্রধানগণ” তালিকায় ছয়জনের নাম আছে; সপ্তমজন নিয়োগ পেয়েছেন 4 অক্টোবর 2026-এ। মাঝে দুটি বড় ফাঁক আছে: 2001 থেকে 2003 এবং 2008 থেকে 2009, যখন কোনো চেয়ারম্যান ছিলেন না।

# চেয়ারম্যান মেয়াদ
1 কল্পরঞ্জন চাকমা, এমপি (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) 8.4.1997 – 20.1.1998
2 দীপংকর তালুকদার, এমপি (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) 20.1.1998 – 19.8.2001
3 সমীরণ দেওয়ান 20.10.2003 – 26.11.2008
4 যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) 27.8.2009 – 10.12.2017
5 কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) 11.12.2017 – 27.11.2023 (পদত্যাগ)
6 সুদত্ত চাকমা (সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা) 31.3.2024 – 10.2.2026 (পদত্যাগ)
7 স্বপন কুমার চাকমা, পিতা সুখময় চাকমা, কল্যাণপুর, খাগড়াছড়ি সদর প্রজ্ঞাপন 4.10.2026

সূত্র: টাস্কফোর্স পোর্টাল, “প্রাক্তন অফিস প্রধানগণ” (8 অক্টোবর 2026 হালনাগাদ) ও “এক নজরে”; সপ্তম সারি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নং 29.00.0000.000.223.18.0002.18-643, তারিখ 4 অক্টোবর 2026।

প্রথম ফাঁকটির কথা জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাতেও উঠেছিল। The Daily Star 30 সেপ্টেম্বর 2003 লিখেছিল, কমিটিকে জানানো হয় যে 1 অক্টোবর 2001-এর নির্বাচনের আগে চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হওয়ায় টাস্কফোর্স “virtually inoperative”। দ্বিতীয় ফাঁকের পর 2009 সালে টাস্কফোর্স পুনর্গঠিত হয় এবং 5 অক্টোবর 2009 খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে পুনর্গঠিত টাস্কফোর্সের প্রথম সভা হয়।

চেয়ারম্যানের পদমর্যাদাও বদলেছে। প্রথম পাঁচজনের চারজন ছিলেন সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায়। 2024 সালে নিয়োগ পাওয়া সুদত্ত চাকমা ছিলেন সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায়। 4 অক্টোবর 2026-এর প্রজ্ঞাপনে নতুন চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা উল্লেখ নেই; প্রজ্ঞাপনটি “রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে” জারি, এবং বলা আছে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

‘অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু’ কারা: 27 জুন 1998-এর সংজ্ঞা কী বলে?

টাস্কফোর্সের দাপ্তরিক সংজ্ঞা নির্ধারিত হয় 27 জুন 1998, খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে, চেয়ারম্যান দীপংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে। সিদ্ধান্তের প্রথম বাক্য উপজাতীয়দের উদ্বাস্তু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে; দ্বিতীয় বাক্য অ-উপজাতীয় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন “একই সাথে ভিন্নভাবে” বিবেচনার কথা বলে। প্রায় তিন দশক পরও দুই পক্ষ এই দুই বাক্যের একেকটিকে আঁকড়ে ধরে আছে।

সভার কার্যবিবরণী (পোর্টালে “৩য় সভা”, 27.06.1998) অনুযায়ী আলোচনা এভাবে এগিয়েছিল:

  1. আগের সভার (6 জুন 1998) কার্যবিবরণী অনুমোদনের সময় স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রতিনিধি আপত্তি তুলে বলেন, সরকারের দেওয়া “টার্মস অব রেফারেন্স” অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু কারা, সে সিদ্ধান্ত টাস্কফোর্সই নেবে। সভাপতি একমত হন।
  2. জনসংহতি সমিতির নেতা সুধাসিন্ধু খীসা সংজ্ঞার একটি প্রস্তাব পড়ে শোনান। তিনি বলেন, শান্তিচুক্তিতে “অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু” বলতে উপজাতীয়দের বোঝানো হয়েছে, তাই অ-উপজাতীয়রা উদ্বাস্তু হিসেবে বিবেচিত হবেন বলে তিনি মনে করেন না। গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারী অ-উপজাতীয়রা এই সংজ্ঞার আওতায় পড়েন কি না, সে প্রশ্নও তিনি সভায় তোলেন।
  3. স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রতিনিধি বলেন, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুর বিষয়টি উপজাতীয়দের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকলে অ-উপজাতীয়দের বিষয়টি ভিন্নভাবে সমাধান করা যায়।
  4. চেয়ারম্যান “নীতিগতভাবে” প্রস্তাবিত সংজ্ঞায় একমত হন, তবে বলেন অ-উপজাতীয় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনও একই সঙ্গে ভিন্নভাবে বিবেচনাযোগ্য।
  5. সময়সীমা নিয়ে সভাপতি প্রস্তাব দেন 15 আগস্ট 1975 থেকে 10 আগস্ট 1992 (অস্ত্রবিরতির শুরুর দিন) পর্যন্ত সময়কে অস্থিতিশীল ও অশান্ত পরিস্থিতি হিসেবে ধরা হোক। সবাই একমত হন।

সিদ্ধান্তটি কার্যবিবরণীর ভাষায়:

“১৯৭৫ সনের ১৫ই আগস্ট হতে ১০ই আগস্ট ১৯৯২ ইং পর্যন্ত (অস্ত্র বিরতির শুরুর দিন) সময়কালে পার্বত্য চট্টগ্রামে (খাগড়াছড়ি, রাংগামাটি ও বান্দরবান) বিরাজিত অস্থিতিশীল ও অশান্ত পরিস্থিতির কারণে যে সকল উপজাতি নিজ গ্রাম, মৌজা, অঞ্চল ত্যাগ করে স্বদেশের মধ্যে অন্যত্র চলে গেছেন বা চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন তারা অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে যে সকল অ-উপজাতীয় ব্যক্তিরা উপরোক্ত সময়ে বিরাজিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও একই সাথে ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হবে।”
— টাস্কফোর্সের সভার কার্যবিবরণী, 27 জুন 1998, পৃ. 3

এই সিদ্ধান্তের বর্ণনায় দুই রকম ভাষ্য আছে। জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার লার্স-আন্ডার্স বায়েরের 2011 সালের প্রতিবেদন জনসংহতি সমিতির বরাতে লিখেছে, 1998 সালের একটি সভায় টাস্কফোর্স সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেয় যে কেবল উপজাতীয়রাই অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু হিসেবে বিবেচিত হবেন। অন্যদিকে দৈনিক ইনকিলাব 2025 সালে সংজ্ঞার পুরো দুই বাক্য উদ্ধৃত করে, আর 2023 সালের একাদশ সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব বলেন, 27 জুন 1998-এর সিদ্ধান্তেও অ-উপজাতীয়দের পুনর্বাসন ভিন্নভাবে বিবেচনার কথা আছে।

পোর্টালে তোলা কপিটির মার্জিনে সংজ্ঞার পাশে কয়েকটি হাতে লেখা ইংরেজি শব্দ আছে (“Definition”, “objectionable”)। কে, কবে লিখেছেন, তা জানা যায়নি; এগুলো সভার সিদ্ধান্তের অংশ নয়।

উদ্বাস্তু তালিকা কীভাবে বানানোর কথা ছিল?

একই 27 জুন 1998-এর সভায় ঠিক হয়, তালিকা বানাবে ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ের দুই স্তরের কমিটি, 31 আগস্ট 1998-এর মধ্যে। জেলা প্রশাসকরা থানা থেকে পাওয়া তালিকা চূড়ান্ত করবেন, আপত্তি থাকলে শুনানি করে নিষ্পত্তি করবেন, তারপর টাস্কফোর্সের সভায় পেশ করবেন।

ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি থানা পর্যায়ের কমিটি
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান (আহ্বায়ক); সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সব হেডম্যান; জনসংহতি সমিতির একজন প্রতিনিধি; সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্যরা থানা নির্বাহী কর্মকর্তা বা টিএনও (আহ্বায়ক); নিরাপত্তা বাহিনীর একজন প্রতিনিধি; থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা; জনসংহতি সমিতির একজন প্রতিনিধি; ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সমিতির প্রতিনিধি; হেডম্যান সমিতির প্রতিনিধি; থানা সমাজকল্যাণ অফিসার

সূত্র: টাস্কফোর্সের সভার কার্যবিবরণী, 27 জুন 1998, পৃ. 3।

সেনাবাহিনীর জিওসির প্রতিনিধি ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ আলী উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণের একটি ফরমেট তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন, সবাই একমত হন। থানা কমিটিটি পরে “11 সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটি” নামে উল্লেখিত হয়েছে; 2023 সালের একাদশ সভা সেটি “পুনর্বহাল” করতে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা কমিটি গঠনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

ফরম পূরণ শুরু হলে আবেদন কত এসেছিল, তার একটি হিসাব পাওয়া যায় বিদেশি সংবাদ সংস্থার সূত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস অ্যাকর্ডস ম্যাট্রিক্স সিনহুয়ার 4 আগস্ট 1999-এর প্রতিবেদনের বরাতে লিখেছে, টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান জানান তিন জেলা থেকে মোট 1,52,000 পরিবার অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু হিসেবে বিবেচনার জন্য সরকারি ফরম পূরণ করেছে, যার 83,525টি উপজাতীয় ও 68,475টি অ-উপজাতীয়। একই সূত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান বলেছিলেন, আগের বসবাসের যথাযথ কাগজ দেখাতে পারলে অ-উপজাতীয়রাও উদ্বাস্তু হিসেবে গণ্য হবেন। মূল সিনহুয়া প্রতিবেদনটি অনলাইনে পাওয়া যায়নি।

তালিকা বানানোর এই পদ্ধতির দুর্বলতা পরে টাস্কফোর্সের সভাতেই স্বীকৃত হয়েছে। 5 অক্টোবর 2009-এর সভায় রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রতিনিধি বলেন, প্রচারের অভাবে ও ফরম না পাওয়ায় অনেক প্রকৃত উদ্বাস্তু তালিকায় ঢুকতে পারেননি, আবার “অনেকে উদ্বাস্তু না হয়েও পদ্ধতিগত শিথিলতার সুযোগে” তালিকাভুক্ত হয়েছেন। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একই সভায় বলেন, পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে অনেকে বাদ পড়েছেন।

বাংলাদেশের মানচিত্রের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে লাল রঙে চিহ্নিত পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা: খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান
টাস্কফোর্সের কর্মপরিধি তিন পার্বত্য জেলা। ছবি: Nafsadh · CC0 · Wikimedia Commons

15 মে 2000-এর তালিকায় কত পরিবার ছিল, কোন জেলায় কত?

15 মে 2000 চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দীপংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে সভায় যাচাই-বাছাই করা “খানাওয়ারী পরিসংখ্যান” উপস্থাপিত হয়: উপজাতীয় 90,208, অ-উপজাতীয় 38,156, মোট 1,28,364 পরিবার। সভা দুই শ্রেণির সবাইকে “অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু হিসেবে নির্দিষ্টকরণ” করে এবং একটি চার দফা প্যাকেজ ঘোষণার প্রস্তাব নেয়।

জেলা উপজাতীয় পরিবার অ-উপজাতীয় পরিবার মোট
রাঙামাটি 35,595 15,516 51,111
বান্দরবান 8,043 269 8,312
খাগড়াছড়ি 46,570 22,371 68,941
সর্বমোট 90,208 38,156 1,28,364

সূত্র: টাস্কফোর্সের সভার কার্যবিবরণী, 15 মে 2000, পৃ. 5–6। কার্যবিবরণীতে উপজেলাভিত্তিক সারিও আছে; স্ক্যানের মান খারাপ হওয়ায় সেগুলো এখানে নেওয়া হয়নি। জেলার যোগফলগুলো পরস্পর মিলিয়ে দেখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত চার দফা প্যাকেজ ছিল: (ক) প্রতি উদ্বাস্তু পরিবারকে এককালীন 15,000 টাকা অনুদান; (খ) 15 আগস্ট 1975 থেকে অস্ত্রবিরতির আগের দিন (10 আগস্ট 1992) পর্যন্ত নেওয়া 5,000 টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ, তার বেশি হলে কেবল সুদ মওকুফ; (গ) উদ্বাস্তুদের নিজ মালিকানার জমির বিরোধ ভূমি কমিশনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি; (ঘ) আয়বর্ধক কর্মসূচির জন্য থোক বরাদ্দ ও কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। সভা আরও সিদ্ধান্ত নেয়, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় উদ্বাস্তু ফরম ও তালিকা সংরক্ষণ করতে হবে এবং মন্ত্রণালয়, চেয়ারম্যান ও সব সদস্যকে তালিকার সত্যায়িত কপি পাঠাতে হবে।

সংখ্যার পাশে দুটি তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। জেলাওয়ারি ভাগে বান্দরবানে অ-উপজাতীয় উদ্বাস্তু মাত্র 269 পরিবার, আর খাগড়াছড়িতে 22,371। আর “বিবিধ” আলোচ্যসূচিতে একটি আলাদা বিষয় ছিল “অ-উপজাতীয় পরিবার স্থানান্তর”: দীঘিনালার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, “স্থানান্তরযোগ্য অ-উপজাতীয় পরিবারের” চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করতে কমপক্ষে দুই মাস লাগবে, আর সভা তাঁকে দুই মাস সময় দেয়। কোন পরিবারকে কোথা থেকে কোথায় স্থানান্তর, কার্যবিবরণীতে তার বিস্তার নেই।

এই সংখ্যাগুলো পরে মানুষে রূপান্তরিত হয়ে নানা সূত্রে ঘুরেছে, আর রূপান্তরের হার একেক জায়গায় একেক রকম। জেনেভাভিত্তিক ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার (IDMC) 30 ডিসেম্বর 2011-এর প্রতিবেদনে পরিবারপ্রতি 5.2 জন ধরে লিখেছে, টাস্কফোর্স 2000 সালে 6,67,000 উদ্বাস্তু চিহ্নিত করেছিল: প্রায় 4,70,000 আদিবাসী ও 1,98,000 বাঙালি। বিনা ডি’কস্তা The Daily Star-এর মাসিক ফোরাম পত্রিকায় সেপ্টেম্বর 2010-এ একই তালিকাকে 5,00,000 থেকে 5,55,000 মানুষ বলে উল্লেখ করেছেন, এবং লিখেছেন এনজিও, বাংলাদেশি গবেষক ও আদিবাসী নেতারা সংখ্যাটিকে ভুল মনে করেন। টাস্কফোর্সের কার্যবিবরণীতে সংখ্যা কেবল পরিবারের; ব্যক্তির হিসাব কোনো কার্যবিবরণীতে পাওয়া যায়নি।

জনসংহতি সমিতি কেন টাস্কফোর্স বর্জন করেছিল?

জনসংহতি সমিতি ও জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির ভাষ্য, সরকার বসতিস্থাপনকারী বাঙালিদের অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে চাওয়ায় তাঁরা টাস্কফোর্সের নবম সভা থেকে ওয়াকআউট করেন, আর তাঁদের অনুপস্থিতিতেই 15 মে 2000-এর সভায় তালিকাটি গৃহীত হয়। এর পর টাস্কফোর্স প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

এই ক্রমের সবচেয়ে বিস্তারিত বর্ণনা আছে আমাদের আর্কাইভে মঙ্গল কুমার চাকমার 4 মার্চ 2012-এর লেখা “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার”-এ। তাঁর বিবরণ অনুযায়ী:

  • 19 জুলাই 1998 প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ কার্যাদি বিভাগ টাস্কফোর্সকে একটি পত্র দেয়, যাতে “সেটেলার বাঙালিদেরকে আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু হিসেবে বিবেচনা করে পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসন করার” কথা বলা হয়।
  • এর প্রতিবাদে জনসংহতি সমিতি ও জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিরা টাস্কফোর্সের নবম সভা চলাকালে ওয়াকআউট করেন।
  • তাঁদের অনুপস্থিতিতে 15 মে 2000-এর “একাদশ সভায়” একতরফাভাবে 90,208 উপজাতীয় ও 38,156 অ-উপজাতীয় সেটেলার পরিবারকে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু ঘোষণা করা হয়।
  • “পার্বত্যবাসীর প্রবল প্রতিবাদের মুখে” টাস্কফোর্সের কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ে। লেখকের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী উদ্বাস্তু পুনর্বাসন শেষ করতে ওই পত্রটি প্রত্যাহার করা জরুরি।

জাতিসংঘ বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ারের 2011 সালের প্রতিবেদন এবং পিস অ্যাকর্ডস ম্যাট্রিক্স একই বর্জনের কথা লিখেছে: তালিকায় 1979–1984 সালের অভিবাসন কর্মসূচিতে আসা বাঙালি বসতিস্থাপনকারীদের অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে দুই সংগঠন পরবর্তী সভাগুলো বর্জন করে।

নিজের কার্যবিবরণীতে 15 মে 2000-এর সভার কোনো ক্রমিক নম্বর নেই; পোর্টালে এটি কেবল “15মে 2000খ্রি.” নামে তালিকাভুক্ত। কার্যবিবরণীর মূল পাঠে ওয়াকআউট বা বর্জনের উল্লেখ নেই; উপস্থিতির তালিকা “পরিশিষ্ট ক”-তে দেখানো হয়েছে বলে লেখা আছে। অনুলিপি পাঠানোর তালিকায় জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সভাপতি উপেন্দ্র লাল চাকমা এবং জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধি সুধাসিন্ধু খীসার নাম আছে।

2009 সালে টাস্কফোর্স পুনর্গঠনের পর কী সংখ্যা এল?

5 অক্টোবর 2009 পুনর্গঠিত টাস্কফোর্সের প্রথম সভায় সদস্য-সচিব “এক নজরে সর্বশেষ অবস্থা” তুলে ধরেন। সেখানে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু উপজাতীয় 89,280 এবং অ-উপজাতীয় 57,692, মোট 1,46,972 পরিবার। 2000 সালের তুলনায় অ-উপজাতীয় সংখ্যা বেড়েছে প্রায় 19,500, আর পুরো বৃদ্ধিটাই খাগড়াছড়িতে।

জেলা উপজাতীয় (2000 → 2009) অ-উপজাতীয় (2000 → 2009) মোট (2009)
খাগড়াছড়ি 46,570 → 45,642 22,371 → 41,907 87,549
রাঙামাটি 35,595 → 35,595 15,516 → 15,516 51,111
বান্দরবান 8,043 → 8,043 269 → 269 8,312
মোট 90,208 → 89,280 38,156 → 57,692 1,46,972

সূত্র: 15 মে 2000 ও 5 অক্টোবর 2009-এর কার্যবিবরণী। খাগড়াছড়ির সংখ্যা কেন বদলাল, 2009-এর কার্যবিবরণীতে তার ব্যাখ্যা নেই।

একই ছকের মন্তব্য-ঘরে লেখা: শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির 19 আগস্ট 2009-এর রাঙামাটির সভায় জানানো হয়েছে, “অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুর অধিকাংশকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।” The Daily Star 2018 সালে টাস্কফোর্সের কার্যবিবরণীর বরাতে একই কথা লিখেছে: 89,280 উপজাতীয় ও 57,692 অ-উপজাতীয় উদ্বাস্তু পরিবার “were also rehabilitated”।

আদিবাসী লেখকদের বক্তব্য এর বিপরীত। শক্তিপদ ত্রিপুরা 2013 সালে লিখেছেন, তখনকার সরকার “আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের মধ্য থেকে ১টি পরিবারকেও পুনর্বাসন করতে পারেনি”। বাবলু চাকমা ও মানিক সরেন ইউপিআর সুপারিশ নিয়ে লেখায় লিখেছেন, 2009–2016 সময়ে সরকার উদ্বাস্তু জুম্ম পরিবারের পুনর্বাসনে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এবং “সেটেলার বাঙালিদের অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু চিহ্নিত করে” পুনর্বাসনের নীতি অব্যাহত রেখেছে। জাতিসংঘের 2011 সালের প্রতিবেদনও লিখেছে, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে “no practical steps have been taken”। “অধিকাংশকে পুনর্বাসন” বলতে কোন সুবিধা বোঝানো হয়েছে, 2009-এর কার্যবিবরণীতে তার বিবরণ নেই।

2013 ও 2014 সালে টাস্কফোর্স অ-উপজাতীয়দের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল?

8 সেপ্টেম্বর 2013-এর চতুর্থ সভায়, যেখানে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) নিজে উপস্থিত ছিলেন, টাস্কফোর্স সিদ্ধান্ত নেয় যে উদ্বাস্তুর সংজ্ঞায় 27 জুন 1998-এর সিদ্ধান্তই অনুসরণ করা হবে। পরের বছরের সভায় অ-উপজাতীয়দের নিয়ে আগের সভার একটি সিদ্ধান্ত বাদ দেওয়া হয়।

চতুর্থ সভার (চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষ, সভাপতি যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা) কার্যবিবরণী অনুযায়ী:

  • আগের সভার কার্যবিবরণী অনুমোদনের সময় জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা 12(ঘ) ও 12(চ) নম্বর সিদ্ধান্তে আপত্তি তোলেন; “সকল সদস্যের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে” ওই দুটি সিদ্ধান্ত বাদ দিয়ে কার্যবিবরণী অনুমোদিত হয়। বাদ পড়া দুটি সিদ্ধান্ত তৃতীয় সভার (26 জানুয়ারি 2011) কার্যবিবরণীতে আছে: 12(ঘ)-তে বলা হয়েছিল, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুর সংজ্ঞা কী হবে সে বিষয়ে নির্দেশনার জন্য প্রশ্নটি শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিবীক্ষণ কমিটির সভায় তোলা হবে; 12(চ)-তে তিন জেলা প্রশাসককে টাস্কফোর্সের সদস্য করার অনুরোধ।
  • সভাপতি জানান, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের তালিকা পাওয়া গেছে, তবে তাতে “কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি” রয়েছে।
  • সিদ্ধান্ত (ক): সংজ্ঞা নির্ধারণে 27 জুন 1998-এর সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হবে।
  • সিদ্ধান্ত (খ) ও (গ): পার্বত্য চুক্তির আগে প্রত্যাগত উপজাতীয়রা টাস্কফোর্সের আওতাভুক্ত নন; “অ-উপজাতীয় শরনার্থীগণকে সরকার ভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।”

29 সেপ্টেম্বর 2014-এর পঞ্চম সভায় (চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস) সন্তু লারমা আবার উপস্থিত ছিলেন। কার্যবিবরণী অনুযায়ী তিনি আগের সভার 6(খ) ও 6(গ)-তে আপত্তি করে বলেন, “অ-উপজাতীয় শরণার্থী বলতে কাদের-কে বুঝায় তা স্পষ্ট নয় এবং ভিন্ন কর্মসূচি বিষয়টাও স্পষ্ট নয়।” সর্বসম্মতিতে “অ-উপজাতীয় শরণার্থীদের পুনর্বাসন” সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাদ দিয়ে কার্যবিবরণী অনুমোদিত হয়। চতুর্থ সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্তের ছকটি 6 নম্বর অনুচ্ছেদে; তার (খ) ও (গ) হলো ওপরে উদ্ধৃত দুটি সিদ্ধান্ত, যেখানে অ-উপজাতীয় শরণার্থীদের ভিন্ন কর্মসূচিতে পুনর্বাসনের কথা ছিল। অর্থাৎ 2014-এ সেগুলোই বাদ পড়ে। একই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতি খাগড়াছড়ি জেলার অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের তালিকা চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাবে।

দৈনিক ইনকিলাব 2025 সালে এই দুই সভার বর্ণনা দিয়েছে নিজস্ব ভাষায়: চতুর্থ সভায় সন্তু লারমা “পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত বাতিল” করান, আর পঞ্চম সভায় চতুর্থ সভার “মানবিক সিদ্ধান্তটিও বাতিল করতে বাধ্য করেন”, ফলে 89,280 উপজাতীয় পরিবারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বহাল থাকলেও 57,692 বাঙালি পরিবারের বিষয়টি বাতিল হয়ে যায়। কার্যবিবরণীতে সিদ্ধান্তগুলো “সকল সদস্যের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে” বাদ দেওয়া হয়েছে বলে লেখা।

2018–2023: 81,777 পরিবারের তালিকা কোথায় দাঁড়িয়ে?

2018 সাল থেকে টাস্কফোর্সের সভায় অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুর খসড়া তালিকা হিসেবে 81,777 পরিবারের কথা আসছে। চারটি সভায় একই সিদ্ধান্ত: তালিকাটি আবার যাচাই করতে হবে। 2023 সাল পর্যন্ত কার্যবিবরণীতে তালিকাটি চূড়ান্ত হয়নি।

নবম সভা, 25 সেপ্টেম্বর 2018

সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। টাস্কফোর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা জানান, খসড়া তালিকা অনুযায়ী মোট পরিবার 81,777টি। জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সন্তোষিত চাকমা বলেন, সাজেকসহ দুর্গম এলাকার অনেক পরিবার এখনো তালিকায় নেই। রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রতিনিধি অংসুই প্রু চৌধুরী বলেন, “২১ বছর ধরে এ তালিকা চূড়ান্ত করা যায়নি, এটি এর সাথে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা।” সিদ্ধান্ত: সপ্তম সভায় গঠিত কমিটি পুনঃযাচাই করে তালিকা পাঠাবে। স্বেচ্ছায় ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের পর পাওয়া তালিকায় 21,900 পরিবার।

পরদিন The Daily Star (26 সেপ্টেম্বর 2018) শিরোনাম করে “Govt to rehabilitate one lakh displaced families”। পত্রিকাটিকে চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, টাস্কফোর্স 81,777 অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পরিবার ও ভারত থেকে ফেরা 21,900 পরিবার চিহ্নিত করেছে, আর সরকার তাদের ঘর বানিয়ে দেবে, রেশন দেবে, জমি ফেরত দেবে।

দেড় মাস পর The Daily Star-এ তৌফিক আলীর প্রতিবেদনের শিরোনাম “Unfounded lists spark concern, confusion”। সেখানে:

  • কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, “Neither of the two lists is correct. The list of 12,223 returnee refugees is the authentic one.”
  • প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা বলেন, প্রত্যাগতদের তালিকা তাঁদের সমিতি বানিয়েছে আর উদ্বাস্তুদের তালিকা স্থানীয় প্রশাসন; দুটিতেই দ্বৈততা ও নথির ঘাটতি আছে।
  • পার্বত্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, টাস্কফোর্স নিজেই যে 38,000 অ-উপজাতীয় উদ্বাস্তু পরিবার চিহ্নিত করেছিল, তারা তিন দশক ধরে 72টি গুচ্ছ আবাসনে আটকে আছে, অথচ টাস্কফোর্স তাদের ব্যাপারে নীরব।
  • নিরাপত্তা বাহিনীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেন, তালিকাগুলো ভারত ও মিয়ানমারের নাগরিকদের অনুপ্রবেশে সাহায্যের উদ্দেশ্যে। এই দাবির পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

দশম সভা, 22 অক্টোবর 2019

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, 24 জুলাই 2019-এর স্মারকে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছিল, দাখিলের শেষ তারিখ 30 আগস্ট 2019, কিন্তু 18 সেপ্টেম্বর 2019 পর্যন্ত কোনো উপজেলা থেকে তালিকা আসেনি। সিদ্ধান্ত: 81,777 জনের তালিকা যাচাই করতে হবে; কেউ মারা গেছেন কি না, স্থানান্তরিত হয়েছেন কি না, অন্য কারণ আছে কি না, তা মন্তব্য কলামে লিখতে হবে; বাদ পড়া কেউ আবেদন করলে পরে বিবেচনা হবে; এ জন্য তিন সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠিত হলো।

একাদশ সভা, 24 সেপ্টেম্বর 2023

এই সভাতেই অ-উপজাতীয়দের প্রশ্ন সবচেয়ে স্পষ্টভাবে কার্যবিবরণীতে উঠেছে। সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, স্থান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস। আলোচনার ক্রম কার্যবিবরণী অনুযায়ী:

  1. প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, 1 জানুয়ারি 2020-এর স্মারকে জেলা প্রশাসকদের কাছে সংশোধিত তালিকা চাওয়া হয়েছিল; খাগড়াছড়ির মহালছড়ি ও দীঘিনালা এবং রাঙামাটির সদর, জুরাছড়ি, রাজস্থলী ও বাঘাইছড়ি থেকে তথ্য এসেছে, বাকিদের 2 আগস্ট 2022-এ আবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
  2. 24 পদাতিক ডিভিশনের জিওসির প্রতিনিধি মেজর মো. জাহিদ হাসান বলেন, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সভায় “৫৭,৯৬২টি অ-উপজাতীয় পরিবারকে” পুনর্বাসনের সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হয়; দশম সভায় বলা হয়েছিল মানবিক কারণে তাঁদের আলাদাভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তাঁর মতে বিষয়টি “মানবিক কারণেও নয়, ভিন্নভাবেও নয়”, বরং উপজাতীয় ও অ-উপজাতীয় দুই ধরনের উদ্বাস্তুকে “একইভাবে” পুনর্বাসনের পদক্ষেপ দরকার।
  3. বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মনে করিয়ে দেন, 2013 সালের চতুর্থ সভায় 27 জুন 1998-এর সংজ্ঞা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
  4. মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. হুজুর আলী বলেন, অ-উপজাতীয়দের বিষয়টি মানবিক কারণে বিবেচনা করা যায়, 1998-এর সিদ্ধান্তেও তাঁদের পুনর্বাসন ভিন্নভাবে বিবেচনার কথা আছে, তাই উপজাতীয় ও অ-উপজাতীয় “উভয়ই বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে” এ কমিটির সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন।
  5. চাকমা সার্কেল চিফ রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, সংজ্ঞায় অ-উপজাতীয়দের অন্তর্ভুক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সব সদস্যের উপস্থিতিতে নেওয়া উচিত, কারণ সেদিনের বৈঠকে জনসংহতি সমিতি ও জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধি অনুপস্থিত। তিনি চুক্তির (ঘ)-2 উল্লেখ করে বলেন, সেখানে কেবল উপজাতীয়দেরই অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর টাস্কফোর্সের নিজের শিরোনামেই “উপজাতীয়” শব্দটি আছে।

সিদ্ধান্ত: বর্তমানে 81,777 উপজাতীয় পরিবারের যে তালিকা আছে, তা যাচাই করে পুনঃপ্রণয়ন করতে হবে; “অউপজাতীয়দের নতুন করে এ তালিকায় অর্ন্তভূক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগামী সভায় সকল সদস্যের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত করা হবে।” একই সভায় ঠিক হয়, প্রতি তিন মাস অন্তর সভা হবে, যদিও সভাপতি বলেন তালিকা ছাড়া সভা ফলপ্রসূ নাও হতে পারে।

একটি সংখ্যাগত অমিল লক্ষণীয়: 2009-এর কার্যবিবরণী, The Daily Star 2018 ও ইনকিলাব 2025-এ অ-উপজাতীয় উদ্বাস্তু পরিবারের সংখ্যা 57,692; 2023-এর কার্যবিবরণীতে জিওসি প্রতিনিধির বক্তব্যে 57,962। দুটি সংখ্যার অঙ্ক একই, ক্রম ভিন্ন।

দ্বাদশ সভা কেন হয়নি, আর 2026-এ টাস্কফোর্স কোথায়?

টাস্কফোর্সের দ্বাদশ সভা ডাকা হয়েছিল 22 অক্টোবর 2025, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে। প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী “স্থানীয় বাঙালিদের হুমকিতে” সভাটি স্থগিত হয়। এরপর 20 নভেম্বর 2025 টাস্কফোর্স পুনর্গঠিত হয়, 10 ফেব্রুয়ারি 2026 চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন, আর 4 অক্টোবর 2026 নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ পান।

সভার তিন দিন আগে, 19 অক্টোবর 2025, দৈনিক ইনকিলাব শিরোনাম করে “বাঙালি সদস্য ছাড়া ১২তম পার্বত্য চট্টগ্রাম আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্স”। প্রতিবেদনে বলা হয়, সভায় বাঙালি অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা আছে, কিন্তু বাঙালি সদস্যের পদ শূন্য থাকায় পাহাড়ের বাঙালিদের মধ্যে উদ্বেগ। কেন্দ্রীয় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদ বিবৃতিতে সভা স্থগিত, আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অধীন টাস্কফোর্স বাতিল করে নতুন গঠন, বাঙালি প্রতিনিধি না আসা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর না করা, তালিকা থেকে বাঙালিদের নাম বাদ না দেওয়া এবং সব জাতিগোষ্ঠীর সমঅধিকার নিশ্চিত করার পাঁচ দফা দাবি জানায়। চেয়ারম্যান সুদত্ত চাকমা ও সদস্য-সচিবের বক্তব্য পত্রিকাটি পায়নি।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে চাকমা সার্কেল প্রধান রাজা দেবাশীষ রায়, যিনি ভূমি কমিশন ও টাস্কফোর্স দুটিরই সদস্য, বলেন: “দুটি সভায় আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। দুটোই বাতিল হলো। আগে তো রাজনৈতিক সরকারের আমলে এমন সমস্যা হতো।” একই প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকারের অবস্থান জানতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এরপরের ঘটনাক্রম সরকারি নথি থেকে:

  • 20 নভেম্বর 2025: মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে টাস্কফোর্স পুনর্গঠন; চেয়ারম্যান সুদত্ত চাকমা বহাল, ব্যক্তি-সদস্য হিসেবে মোহাম্মদ নুরুল কবির অন্তর্ভুক্ত। প্রজ্ঞাপন জানায়, 22 জুন 2021-এর প্রজ্ঞাপনে গঠিত টাস্কফোর্স বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে।
  • 10 ফেব্রুয়ারি 2026: পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী সুদত্ত চাকমা পদত্যাগ করেন।
  • 27 সেপ্টেম্বর 2026: জনসংহতি সমিতি এক বিবৃতিতে সরকারের নতুন গঠিত তিনটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির (10 সেপ্টেম্বর 2026-এর গেজেট) সমালোচনা করে। সমিতির অভিযোগ, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি, টাস্কফোর্স ও ভূমি কমিশন পুনর্গঠন না করেই সেগুলোর চেয়ারম্যানদের কমিটির সদস্য করা হয়েছে; তাদের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করতে হবে।
  • 4 অক্টোবর 2026: স্বপন কুমার চাকমাকে চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রজ্ঞাপন। পোর্টালে এটি 8 অক্টোবর 2026 প্রকাশিত।

পোর্টালের সভার কার্যবিবরণী পাতায় মোট 14টি কার্যবিবরণী আছে, সর্বশেষটি একাদশ সভার (24 সেপ্টেম্বর 2023)। দ্বাদশ সভা পরে হয়েছে কি না, তার কোনো কার্যবিবরণী বা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

অ-উপজাতীয় পরিবারকে তালিকায় রাখা নিয়ে কোন পক্ষ কী বলে?

মূল বিরোধ একটি প্রশ্নে: 1975–1992 সময়ের অস্থিরতায় বাস্তুচ্যুত বাঙালি পরিবার, বিশেষত গুচ্ছগ্রামে থাকা বসতিস্থাপনকারীরা, চুক্তির “অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু” কি না। নিচের ছকে প্রতিটি অবস্থান তার বক্তার নামে রাখা হলো; কোনটি সঠিক, সে বিচার এই লেখার কাজ নয়।

কে কী বলেছেন কোথায়, কবে
সুধাসিন্ধু খীসা, জনসংহতি সমিতি চুক্তিতে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু বলতে উপজাতীয়দের বোঝানো হয়েছে; অ-উপজাতীয়রা উদ্বাস্তু নন টাস্কফোর্স সভা, 27.6.1998
স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রতিনিধি উদ্বাস্তুর বিষয়টি উপজাতীয়দের মধ্যে সীমিত থাকলে অ-উপজাতীয়দের বিষয় ভিন্নভাবে সমাধান করা যায় টাস্কফোর্স সভা, 27.6.1998
মঙ্গল কুমার চাকমা সেটেলারদের উদ্বাস্তু ধরা চুক্তি লঙ্ঘন; 19.7.1998-এর পত্র প্রত্যাহার জরুরি প্রবন্ধ, 4.3.2012
মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও জিওসির প্রতিনিধিরা “যিনি বাস্তু থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন তিনিই উদ্বাস্তু”; উপজাতীয়-অউপজাতীয় সবাইকে রাখা বাঞ্ছনীয় 2009-পরবর্তী সভা, ইনকিলাবের বর্ণনায় (19.10.2025)
মেজর মো. জাহিদ হাসান, 24 পদাতিক ডিভিশন দুই ধরনের উদ্বাস্তুকে একইভাবে পুনর্বাসন করা দরকার একাদশ সভা, 24.9.2023
মো. হুজুর আলী, যুগ্মসচিব উভয়ই বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সুবিধা পেতে পারেন একাদশ সভা, 24.9.2023
রাজা দেবাশীষ রায়, চাকমা সার্কেল চিফ চুক্তির (ঘ)-2 কেবল উপজাতীয়দের উদ্বাস্তু বলে; সিদ্ধান্ত সব সদস্যের উপস্থিতিতে নিতে হবে একাদশ সভা, 24.9.2023
মো. মাঈন উদ্দিন, পার্বত্য অধিকার ফোরাম 38,000 অ-উপজাতীয় উদ্বাস্তু পরিবার 72টি গুচ্ছ আবাসনে আটকে; টাস্কফোর্স নীরব The Daily Star, নভেম্বর 2018
কেন্দ্রীয় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদ বাঙালি প্রতিনিধি ছাড়া সভা পক্ষপাতদুষ্ট; তালিকা থেকে বাঙালিদের নাম বাদ দেওয়া চলবে না দৈনিক ইনকিলাব, 19.10.2025
জাতিসংঘ বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার সংজ্ঞা এখনো অমীমাংসিত, তাই ধারাটি “substantially unimplemented” E/C.19/2011/6, 18.2.2011
IDMC সাম্প্রতিক দখলকারীরা উদ্বাস্তু নন, আদিবাসী সংগঠনগুলোর এই যুক্তি “home”-এর প্রচলিত বোঝাপড়ার সঙ্গে মেলে না; বাঙালি বসতিস্থাপনকারীদেরও উদ্বাস্তু হিসেবে গণ্য করা উচিত IDMC প্রতিবেদন, 30.12.2011

দুই পক্ষের যুক্তির পেছনে ভূমির প্রশ্নও আছে। পিস অ্যাকর্ডস ম্যাট্রিক্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী জনসংহতি সমিতির অবস্থান দাঁড়িয়ে ছিল এই ধারণার ওপর যে চুক্তির স্থায়ী বাসিন্দা সনদের বিধান কার্যকর হবে; বাস্তবে বাঙালিরা জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সনদ পাওয়ায় তাঁরা উদ্বাস্তু হিসেবে 1980-এর দশকে সরকারি বন্দোবস্ত দেওয়া জমিতে পুনর্বাসনের যোগ্য হন, অথচ সরকারি দলিল না থাকা অনেক আদিবাসী পরিবার কিছুই পায়নি। চুক্তি অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দার সংজ্ঞা দিয়েছে খণ্ড (খ)-3-এ: যিনি উপজাতীয় নন, পার্বত্য জেলায় যাঁর বৈধ জায়গা-জমি আছে এবং যিনি সাধারণত নির্দিষ্ট ঠিকানায় বসবাস করেন। পাহাড়ি-বাঙালি জনসংখ্যার অনুপাত কীভাবে বদলেছে, তা আছে শুমারির সংখ্যা ধরে আলাদা লেখায়।

ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের তালিকা নিয়ে কী জানা আছে?

টাস্কফোর্সের প্রথম কাজ, ত্রিপুরা থেকে ফেরা শরণার্থীদের পুনর্বাসন, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুর তুলনায় অনেক বেশি এগিয়েছে। 2009-এর কার্যবিবরণী অনুযায়ী 12,223 পরিবারের 64,612 জন ফিরেছেন। তবে কতজন জমি ফেরত পাননি, আর চুক্তির আগে নিজে থেকে ফেরা পরিবারদের কী হবে, তা এখনো খোলা প্রশ্ন।

১৯৯০ সালে ত্রিপুরার পঞ্চরামপাড়া চাকমা শরণার্থী শিবিরে খড়ের চালের সারি সারি ঘর, পাহাড়ি ঢালের পথে দাঁড়িয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুদের ভিড়
পঞ্চরামপাড়া চাকমা শরণার্থী শিবির, ত্রিপুরা, 1990। ছবি: Hseng Noung Lintner · জুমজার্নাল আর্কাইভ
জেলা পরিবার প্রাপ্তবয়স্ক অপ্রাপ্তবয়স্ক মোট মানুষ
খাগড়াছড়ি 12,170 54,292 10,038 64,335
রাঙামাটি 53 – – 277
বান্দরবান – – – –
মোট 12,223 – – 64,612

সূত্র: পুনর্গঠিত টাস্কফোর্সের প্রথম সভার কার্যবিবরণী, 5 অক্টোবর 2009, পৃ. 2। খাগড়াছড়ির সারিতে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্কের যোগফল (64,330) মোটের (64,335) সঙ্গে 5 জনে মেলে না; কার্যবিবরণীতে যেমন আছে তেমনই রাখা হলো।

শরণার্থীদের ফেরার আগের তালিকাও আছে। The Daily Star 2018 সালে “available records”-এর বরাতে লিখেছে, ভারত সরকার 1993 সালে ত্রিপুরায় থাকা 11,806টি নিবন্ধিত পরিবারের (56,496 জন) এবং 430টি অনিবন্ধিত পরিবারের (1,457 জন) তালিকা দেয়; মার্চ 1997-এর তালিকায় শিবিরে ছিল 9,267 পরিবার (49,892 জন)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 10 ফেব্রুয়ারি 2016 সংসদে বলেন, 12,223 শরণার্থী পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে এবং প্রতিটি পরিবারকে 50,000 টাকা দেওয়া হয়েছে।

জমি ফেরতের হিসাব ভিন্ন। জাতিসংঘের 2011 সালের প্রতিবেদন লিখেছে, প্রায় 9,700 পরিবার অন্তত আংশিক জমি বা বাড়ি ফেরত পায়নি, কারণ সেগুলো বসতিস্থাপনকারী বা সামরিক বাহিনীর দখলে, এবং তারা সরকারি রেশনের ওপর নির্ভরশীল। পিস অ্যাকর্ডস ম্যাট্রিক্স জনসংহতি সমিতির 2011 সালের প্রতিবেদনের বরাতে প্রত্যাগত শরণার্থী কল্যাণ সমিতির হিসাব দিয়েছে: 12,222 পরিবারের মধ্যে 9,780 পরিবার জমি ফেরত পায়নি। দৈনিক ইনকিলাব 2025 সালে লিখেছে, 12,223 পরিবারকে বছরে 15,514.269 মেট্রিক টন চাল রেশন হিসেবে দেওয়া হয়, এবং ছয় মাসের কথা থাকলেও তা 28 বছর ধরে চলছে।

দ্বিতীয় একটি শ্রেণি টাস্কফোর্সের সভায় এসেছে 2016 থেকে: চুক্তির আগে, 1987 থেকে এক দশকে, নিজে থেকে ফেরা “স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনকারী” শরণার্থী। 2018-এর নবম সভায় যাচাই শেষে এদের সংখ্যা 21,900 পরিবার। 2013-এর চতুর্থ সভা সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, চুক্তির আগে প্রত্যাগতরা টাস্কফোর্সের আওতাভুক্ত নন; 2019 ও 2023-এর সভায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি বলেন, পূর্ণাঙ্গ তালিকা না পেলে সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়। ঋণ মওকুফ নিয়ে 2023-এর সভায় খাগড়াছড়ির চার উপজেলার 307 জন ঋণগ্রহীতার বিষয় মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন বলে জানানো হয়, আর চাকরি ফেরত না পাওয়া 58 জনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে আবার অনুরোধের সিদ্ধান্ত হয়।

কাপ্তাই বাঁধের সময় ভারতে চলে যাওয়া চাকমারা এই টাস্কফোর্সের বিষয় নন; তাঁদের কথা আছে ভারতের চাকমাদের নিয়ে আমাদের লেখায়।

এক নজরে: কোন সংখ্যা কোন নথিতে, কবে?

অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুর সংখ্যা নিয়ে প্রায় প্রতিটি সূত্র আলাদা কিছু বলে, কারণ কেউ পরিবার গোনে, কেউ মানুষ, কেউ শুধু আদিবাসী, কেউ সবাই। নিচে প্রতিটি সংখ্যা তার উৎস ও তারিখসহ।

সংখ্যা কী গোনা হয়েছে উৎস ও তারিখ
1,52,000 (83,525 + 68,475) উদ্বাস্তু ফরম পূরণকারী পরিবার, উপজাতীয় + অ-উপজাতীয় টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান, সিনহুয়ার বরাতে পিস অ্যাকর্ডস ম্যাট্রিক্স, 4.8.1999
90,208 + 38,156 = 1,28,364 উদ্বাস্তু হিসেবে নির্দিষ্ট পরিবার টাস্কফোর্স কার্যবিবরণী, 15.5.2000
6,67,000 (4,70,000 + 1,98,000) মানুষ, পরিবারপ্রতি 5.2 জন ধরে IDMC, 30.12.2011
5,00,000–5,55,000 মানুষ, 2000-এর তালিকা থেকে বিনা ডি’কস্তা, Forum (The Daily Star), সেপ্টেম্বর 2010
60,000 1975–1992 সময়ে বাস্তুচ্যুত আদিবাসী অ্যামনেস্টির হিসাব, বিনা ডি’কস্তার লেখায় উদ্ধৃত, 2010
89,280 + 57,692 = 1,46,972 উদ্বাস্তু পরিবার টাস্কফোর্স কার্যবিবরণী, 5.10.2009
1,00,000-এর বেশি অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু মানুষ জাতিসংঘ বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার, 18.2.2011
90,000-এর বেশি এখনো উদ্বাস্তু পাহাড়ি পরিবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, জুন 2013
81,777 খসড়া তালিকার উপজাতীয় উদ্বাস্তু পরিবার টাস্কফোর্স কার্যবিবরণী, 25.9.2018; 22.10.2019; 24.9.2023
প্রায় 82,000 একই তালিকা, গোল সংখ্যায় The Daily Star, নভেম্বর 2018
38,000 গুচ্ছ আবাসনে থাকা অ-উপজাতীয় উদ্বাস্তু পরিবার পার্বত্য অধিকার ফোরাম, The Daily Star, নভেম্বর 2018
57,962 সুবিধা থেকে বাদ পড়া অ-উপজাতীয় পরিবার জিওসির প্রতিনিধি, টাস্কফোর্স কার্যবিবরণী, 24.9.2023
প্রায় 26,000 গুচ্ছগ্রামে থাকা বাঙালি পরিবার দৈনিক ইনকিলাব, 19.10.2025
12,223 পরিবার, 64,612 জন ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী টাস্কফোর্স কার্যবিবরণী, 5.10.2009
21,900 পরিবার স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনকারী শরণার্থী টাস্কফোর্স কার্যবিবরণী, 25.9.2018
9,700 / 9,780 পরিবার জমি ফেরত না পাওয়া প্রত্যাগত শরণার্থী জাতিসংঘ 2011 / জনসংহতি সমিতির 2011-এর প্রতিবেদন, পিস অ্যাকর্ডস ম্যাট্রিক্সের বরাতে

গুচ্ছগ্রামের দুটি সংখ্যা পাশাপাশি পড়ার সময় সতর্কতা দরকার: ইনকিলাব বলছে 1980 ও 1990-এর দশকে প্রায় 26,000 বাঙালি পরিবারকে গুচ্ছগ্রামে রাখা হয়, আর পার্বত্য অধিকার ফোরাম বলছে 38,000 অ-উপজাতীয় উদ্বাস্তু পরিবার 72টি গুচ্ছ আবাসনে। দুটি সংখ্যা একই জনগোষ্ঠীর কথা বলছে কি না, কোনো সূত্রে তার ব্যাখ্যা নেই।

প্রশ্নোত্তর

পার্বত্য চট্টগ্রামের অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু টাস্কফোর্স কী?

এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি দপ্তর, পুরো নাম “ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স”। কার্যালয় খাগড়াছড়িতে। কাজ দুটি: ত্রিপুরা থেকে ফেরা শরণার্থীদের পুনর্বাসনে সমন্বয়, আর তিন পার্বত্য জেলার অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের চিহ্নিত করে পুনর্বাসনের সুপারিশ।

টাস্কফোর্স কবে গঠিত হয়?

টাস্কফোর্সের পোর্টাল অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের 8 এপ্রিল 1997-এর স্মারকে এটি গঠিত হয়, প্রথম চেয়ারম্যান কল্পরঞ্জন চাকমা। বাসসের বরাতে The Daily Star 2009 সালে লিখেছিল, নয় সদস্যের টাস্কফোর্স গঠিত হয় 20 জানুয়ারি 1998। দ্বিতীয় তারিখটি দীপংকর তালুকদারের চেয়ারম্যান হওয়ার তারিখের সঙ্গে মেলে।

পার্বত্য চুক্তির কোন ধারায় টাস্কফোর্সের কথা আছে?

1997 সালের চুক্তির খণ্ড (ঘ)-এর 1 নম্বর ধারায় বলা আছে, তিন পার্বত্য জেলার অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের নির্দিষ্টকরণ করে একটি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে পুনর্বাসন হবে। খণ্ড (ক)-এর 3 নম্বর ধারায় টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যানকে তিন সদস্যের বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য করা হয়েছে। (ঘ)-2 ধারা ভূমি জরিপের আগে উপজাতীয় উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের শর্ত দেয়।

অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুর সংজ্ঞা কী?

টাস্কফোর্সের 27 জুন 1998-এর সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, 15 আগস্ট 1975 থেকে 10 আগস্ট 1992 পর্যন্ত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে যেসব উপজাতি নিজ গ্রাম, মৌজা বা অঞ্চল ছেড়ে দেশের ভেতরে অন্যত্র চলে গেছেন, তাঁরা অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু। একই সিদ্ধান্তে বলা আছে, ওই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত অ-উপজাতীয়দের পুনর্বাসন একই সঙ্গে ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হবে।

বাঙালি পরিবার কি অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু তালিকায় আছে?

টাস্কফোর্সের কিছু তালিকায় আছে। 15 মে 2000-এর সভায় 38,156টি অ-উপজাতীয় পরিবারকে উদ্বাস্তু হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়; 5 অক্টোবর 2009-এর সভার ছকে সংখ্যাটি 57,692। কিন্তু 2018 থেকে আলোচিত 81,777 পরিবারের খসড়া তালিকাটি উপজাতীয় পরিবারের। 2023-এর সভা অ-উপজাতীয়দের অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত পরের সভায় সব সদস্যের উপস্থিতিতে নেওয়ার কথা বলে।

জনসংহতি সমিতি বাঙালিদের উদ্বাস্তু তালিকায় রাখার বিরোধিতা করে কেন?

সমিতির নেতারা বলেন, চুক্তিতে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু বলতে উপজাতীয়দের বোঝানো হয়েছে; (ঘ)-2 ধারায় “অভ্যন্তরীণ উপজাতীয় উদ্বাস্তু” শব্দবন্ধটি আছে। মঙ্গল কুমার চাকমা 2012 সালে লিখেছেন, বসতিস্থাপনকারী বাঙালিদের উদ্বাস্তু ধরা চুক্তি লঙ্ঘন। জাতিসংঘের 2011 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী 2000-এর তালিকায় 1979–1984-এর অভিবাসন কর্মসূচির বসতিস্থাপনকারীদের রাখার প্রতিবাদে সমিতি টাস্কফোর্স বর্জন করে।

বাঙালি সংগঠনগুলো টাস্কফোর্স নিয়ে কী দাবি করে?

পার্বত্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মো. মাঈন উদ্দিন 2018 সালে The Daily Star-কে বলেন, 38,000 অ-উপজাতীয় উদ্বাস্তু পরিবার তিন দশক ধরে 72টি গুচ্ছ আবাসনে আটকে আছে। কেন্দ্রীয় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদ অক্টোবর 2025-এ বাঙালি প্রতিনিধি ছাড়া সভা স্থগিত, টাস্কফোর্স নতুন করে গঠন এবং তালিকা থেকে বাঙালিদের নাম বাদ না দেওয়ার দাবি জানায়।

টাস্কফোর্সের বর্তমান চেয়ারম্যান কে?

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের 4 অক্টোবর 2026-এর প্রজ্ঞাপনে খাগড়াছড়ি সদরের কল্যাণপুরের স্বপন কুমার চাকমাকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর আগে সুদত্ত চাকমা 31 মার্চ 2024 থেকে 10 ফেব্রুয়ারি 2026 পর্যন্ত এবং কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা 11 ডিসেম্বর 2017 থেকে 27 নভেম্বর 2023 পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।

টাস্কফোর্সে কতজন সদস্য, আর কারা?

20 নভেম্বর 2025-এর প্রজ্ঞাপনে চেয়ারম্যানসহ 16টি পদ: চেয়ারম্যান, মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, তিন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রতিনিধি, তিন জেলা প্রশাসক, চাকমা, মং ও বোমাং সার্কেল চিফ, 24 পদাতিক ডিভিশনের প্রতিনিধি, জনসংহতি সমিতি ও প্রত্যাগত শরণার্থীদের একজন করে প্রতিনিধি, একজন ব্যক্তি-সদস্য এবং সদস্য-সচিব হিসেবে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার।

টাস্কফোর্সের দ্বাদশ সভা কেন স্থগিত হয়েছিল?

সভাটি ডাকা হয়েছিল 22 অক্টোবর 2025, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে। প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী স্থানীয় বাঙালিদের হুমকিতে সভাটি স্থগিত হয়। তিন দিন আগে দৈনিক ইনকিলাব লিখেছিল, টাস্কফোর্সের একমাত্র বাঙালি ব্যক্তি-সদস্য পদত্যাগ করায় পদটি শূন্য, আর একটি বাঙালি ছাত্র সংগঠন সভা স্থগিতের দাবি তুলেছে।

ভারত থেকে কতজন শরণার্থী ফিরেছিলেন?

টাস্কফোর্সের 5 অক্টোবর 2009-এর কার্যবিবরণী অনুযায়ী 12,223 পরিবারের 64,612 জন, যাঁদের 12,170 পরিবার খাগড়াছড়ির, 53 পরিবার রাঙামাটির। প্রধানমন্ত্রী 2016 সালে সংসদে বলেন, প্রতিটি পরিবারকে 50,000 টাকা দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের 2011 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় 9,700 পরিবার জমি বা বাড়ি ফেরত পায়নি।

81,777 পরিবারের তালিকাটি কী?

2018 সাল থেকে টাস্কফোর্সের সভায় অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুর খসড়া তালিকা হিসেবে 81,777টি উপজাতীয় পরিবারের কথা আসছে। 25 সেপ্টেম্বর 2018, 22 অক্টোবর 2019 ও 24 সেপ্টেম্বর 2023-এর সভায় তালিকাটি পুনঃযাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। তখনকার চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা নভেম্বর 2018-এ The Daily Star-কে বলেন, তালিকাটি সঠিক নয়।

যা এখনো জানা যায়নি

  • পরিবীক্ষণ কমিটির নির্দেশনা। 2011 সালে সংজ্ঞার প্রশ্নটি চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল; কমিটি কোনো নির্দেশনা দিয়েছিল কি না, তার কোনো নথি পাওয়া যায়নি। 2013-এ ওই সিদ্ধান্তটিই বাদ পড়ে।
  • 19 জুলাই 1998-এর পত্র। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ কার্যাদি বিভাগের যে পত্রের কথা মঙ্গল কুমার চাকমা লিখেছেন, তার মূল পাঠ কোনো প্রকাশ্য উৎসে পাওয়া যায়নি।
  • নবম সভা থেকে ওয়াকআউটের তারিখ। 1998–2000 পর্বের নবম সভার কার্যবিবরণী পোর্টালে নেই; সেখানে 1998-এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় সভা আর 15 মে 2000-এর সভা আছে। ফলে ওয়াকআউটের দিনটি দাপ্তরিক নথিতে মেলানো যায়নি। 15 মে 2000-এর সভার উপস্থিতি তালিকাও (পরিশিষ্ট ক) প্রকাশ্য কপিতে যাচাই করা যায়নি।
  • খাগড়াছড়ির সংখ্যার বদল। 2000 থেকে 2009-এর মধ্যে খাগড়াছড়ির অ-উপজাতীয় উদ্বাস্তু পরিবার 22,371 থেকে 41,907 হলো কোন যাচাইয়ে, তার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
  • “অধিকাংশকে পুনর্বাসন” বলতে কী। 2009-এর কার্যবিবরণীর এই মন্তব্যের পেছনে কোন পরিবার কী সুবিধা পেয়েছে, তার কোনো তালিকা প্রকাশ্য নথিতে নেই। আদিবাসী লেখকরা উল্টো দাবি করেন যে একটি পরিবারও পুনর্বাসিত হয়নি।
  • 81,777-এর চূড়ান্ত রূপ। 2023-এর পর সংশোধিত তালিকা জমা পড়েছে কি না, দ্বাদশ সভা পরে আদৌ হয়েছে কি না, তার কোনো নথি পাওয়া যায়নি।
  • নতুন চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা ও পরিচয়। 4 অক্টোবর 2026-এর প্রজ্ঞাপনে স্বপন কুমার চাকমার পদমর্যাদা উল্লেখ নেই, আর তাঁর সম্পর্কে কোনো সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
  • উপজেলাভিত্তিক সংখ্যা। 2000-এর কার্যবিবরণীতে উপজেলাওয়ারি সারি আছে, কিন্তু প্রকাশ্য স্ক্যানে কয়েকটি অঙ্ক অস্পষ্ট; জেলার মোটের সঙ্গে না মেলায় সেগুলো এখানে দেওয়া হয়নি।

তথ্যসূত্র

টাস্কফোর্স ও মন্ত্রণালয়ের নথি

  1. ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স, অফিসিয়াল পোর্টাল: “এক নজরে”, “কার্যাবলী”, “প্রাক্তন অফিস প্রধানগণ”, “সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি”। tratf.gov.bd (দেখা হয়েছে 17 অক্টোবর 2026)
  2. টাস্কফোর্স, সভার কার্যবিবরণী: 27 জুন 1998 (৩য় সভা); 15 মে 2000; 5 অক্টোবর 2009 (১ম); 26 জানুয়ারি 2011 (৩য়); 8 সেপ্টেম্বর 2013 (৪র্থ); 29 সেপ্টেম্বর 2014 (৫ম); 25 সেপ্টেম্বর 2018 (৯ম); 22 অক্টোবর 2019 (১০ম); 24 সেপ্টেম্বর 2023 (১১তম)। tratf.gov.bd/pages/meeting-minutes
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, টাস্কফোর্স পুনর্গঠনের প্রজ্ঞাপন, 22 জুন 2021 ও 20 নভেম্বর 2025। tratf.gov.bd/pages/downloads
  4. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রজ্ঞাপন, 4 অক্টোবর 2026; প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে যোগদানের পত্র, 23 সেপ্টেম্বর 2026। tratf.gov.bd/pages/notices
  5. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আওতাধীন দপ্তর ও জনবল (31 মার্চ 2026 হালনাগাদ)। mochta.gov.bd

চুক্তি ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন

  1. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, 2 ডিসেম্বর 1997, ইংরেজি পাঠ। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। pcjss.org
  2. Lars-Anders Baer, Study on the status of implementation of the Chittagong Hill Tracts Accord of 1997, UN Permanent Forum on Indigenous Issues, E/C.19/2011/6, 18 ফেব্রুয়ারি 2011। documents.un.org
  3. Internal Displacement Monitoring Centre, Bangladesh: Progress on internal displacement response needed, 30 ডিসেম্বর 2011। internal-displacement.org
  4. Peace Accords Matrix, Kroc Institute, University of Notre Dame, “Internally Displaced Persons: Chittagong Hill Tracts Peace Accord”। peaceaccords.nd.edu
  5. Amnesty International, “Bangladesh: Indigenous peoples engulfed in Chittagong Hill Tracts land conflict”, জুন 2013। amnesty.org
  6. Parbatya Chattagram Jana Samhati Samiti, “Statement by the PCJSS regarding the three high-level committees formed by the government on the CHT”, 27 সেপ্টেম্বর 2026। pcjss.org

সংবাদ ও প্রবন্ধ

  1. দৈনিক ইনকিলাব, “বাঙালি সদস্য ছাড়া ১২তম পার্বত্য চট্টগ্রাম আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্স”, 19 অক্টোবর 2025। dailyinqilab.com
  2. প্রথম আলো, “‘তালাবদ্ধ’ হয়ে পড়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, সৃষ্টি হয়েছে নতুন সংকট”, 2 ডিসেম্বর 2025। prothomalo.com
  3. প্রথম আলো, “পার্বত্য চট্টগ্রামে ১১৯টি সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে”, 10 ফেব্রুয়ারি 2016। prothomalo.com
  4. The Daily Star, “Govt to rehabilitate one lakh displaced families”, 26 সেপ্টেম্বর 2018। thedailystar.net
  5. Tawfique Ali, “Unfounded lists spark concern, confusion”, The Daily Star, নভেম্বর 2018। thedailystar.net
  6. BSS, “Taskforce on CHT refugees to meet Oct 5”, The Daily Star, অক্টোবর 2009। thedailystar.net
  7. Shakhawat Liton, “Moni Swapan threatens quit”, The Daily Star, 30 সেপ্টেম্বর 2003। archive.thedailystar.net
  8. Bina D’Costa, “Where the Streets Have no Name”, Forum (The Daily Star), সেপ্টেম্বর 2010। thedailystar.net

জুমজার্নাল আর্কাইভ

  1. মঙ্গল কুমার চাকমা, “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার: অর্জন ও সম্ভাবনা”, 4 মার্চ 2012 (মূল প্রকাশ: কেদাকতুক, বৈসুক-সাংগ্রাই-বিঝু-বিষু-বিহু সংকলন 2012)। জুমজার্নাল
  2. শক্তিপদ ত্রিপুরা, “নির্বাচনী ইশতেহার, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও আদিবাসী অধিকার” (তাক্রুপ্ সংকলন 2013)। জুমজার্নাল আর্কাইভ।
  3. বাবলু চাকমা ও মানিক সরেন, “ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ (ইউপিআর) সুপারিশসমূহের আলোকে বাংলাদেশের আদিবাসীদের মানবাধিকার”। জুমজার্নাল
  4. “পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যার চিত্র” (চুক্তির (ঘ)-2-এর বাংলা পাঠের উদ্ধৃতি)। জুমজার্নাল আর্কাইভ।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 17 অক্টোবর 2026

 

প্রসঙ্গ:খাগড়াছড়ি, পার্বত্য চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, পার্বত্য চুক্তি, শরণার্থী

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা