Jumjournal Logo

রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলা: শাসনবিধি ১৯০০ মৃত আইন রায়, আর আপিল বিভাগে যেভাবে ফিরে এল

Last updated Oct 19th, 2026

0

সূর্যাস্তের আলোয় ঢাকার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ভবন, সামনে ফোয়ারা ও বাগান

2000 সালের অক্টোবরে রাঙ্গামাটির একটি জ্যাম-জেলি কারখানা কাস্টমসের কাছে 1,77,296 টাকা 26 পয়সা ফেরত চেয়েছিল। সেই কর-ফেরতের মামলাতেই 13 মে 2003 হাইকোর্ট বিভাগ রায় দেয় যে পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০ একটি “মৃত আইন” (dead law)। হাইকোর্টের সেই শাসনবিধি ১৯০০ মৃত আইন রায় আপিল বিভাগ 22 নভেম্বর 2016 বাতিল করে জানায়, রেগুলেশনটি “force of law” নিয়ে বহাল আছে; সেই রায়ের বিরুদ্ধে 2018 সালে দুটি রিভিউ আবেদন হয়, যার নিষ্পত্তির খবর এখনো পাওয়া যায়নি।

এই লেখা মামলাটির নথিগুলো ধরে এগোয়: আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণ পাঠ (সিভিল আপিল নং 08/2008), রায়টি যেসব আইন ও নজির টেনেছে, পরে হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ রায়টিকে কীভাবে ব্যবহার করেছে, আর রিভিউ শুনানির খবর যেভাবে ছাপা হয়েছে। রেগুলেশনের জমি-ব্যবস্থার পুরো ইতিহাস আমাদের ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন পর্যন্ত পাহাড়ের ভূমি-ব্যবস্থার লেখায় আছে; সেখানে এই মামলার একটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদও আছে। এখানে সেটির বিস্তার: আদালত ঠিক কী বলেছিল, কোন বাক্যে, কোন পাতায়।

সূচিপত্র

  1. মামলাটি শুরু হয়েছিল কর-ফেরতের দাবি থেকে
  2. হাইকোর্ট কেন শাসনবিধিকে “মৃত আইন” বলেছিল
  3. 2003 থেকে 2016: আপিল, সংশোধনী আর স্থগিতাদেশ
  4. শাসনবিধি ১৯০০ মৃত আইন রায় আপিল বিভাগে কীভাবে বাতিল হলো
  5. আপিল বিভাগের যুক্তি, ধাপে ধাপে
  6. রায় আসলে কী বাতিল করল, কী করল না
  7. ওয়াগ্গাছড়া টি এস্টেট মামলা: দ্বিতীয় রায়টি কী
  8. রিভিউ আবেদন: কারা করলেন, কবে কী শুনানি হলো
  9. অ্যাটর্নি জেনারেল কী বাদ দিতে বলেছিলেন
  10. 2016-র পর আদালত শাসনবিধি কীভাবে প্রয়োগ করছে
  11. কোন পক্ষ কী বলছে
  12. যে বিবরণগুলো ঘোরে, আর নথিতে কী আছে
  13. “শাসনবিধি” নামটি নিয়ে একটি টীকা
  14. প্রশ্নোত্তর
  15. যা এখনো জানা যায়নি
  16. তথ্যসূত্র

মামলাটি শুরু হয়েছিল কর-ফেরতের দাবি থেকে: রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস কী চেয়েছিল

রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড স্থানীয় ফল থেকে জ্যাম, জেলি, স্কোয়াশ ও জুস বানানো একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। কাস্টমস কমিশনারের 12 অক্টোবর 2000 তারিখের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে তারা হাইকোর্টে রিট (রিট পিটিশন নং 1774/2001) করে, অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট বাবদ দেওয়া Tk. 1,77,296.26 ফেরতের নির্দেশ চেয়ে।

কোম্পানির পক্ষে কী কী দাবি ছিল, আপিল বিভাগের রায়ের তৃতীয় পাতায় তা গুছিয়ে লেখা আছে। কোম্পানি বলেছিল:

  • সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের (বিশেষ সেল) পরিচালক (প্রশাসন) 29 অক্টোবর 1990-এর চিঠিতে রাঙ্গামাটির স্থানীয় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসককে জানিয়েছিলেন যে রেগুলেশন 1900 এখনো বলবৎ;
  • আয়কর অধ্যাদেশ, 1983-এর অধীনে কোম্পানি 1 আগস্ট 1983 থেকে 9 বছরের কর-অবকাশ পেয়েছিল, আর 1985 সালে রাষ্ট্রপতি পার্বত্য চট্টগ্রামকে “Special Economic Zone” ঘোষণা করেছিলেন;
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের 18 এপ্রিল 1984-এর সার্কুলার নং 12 এবং চট্টগ্রামের শিল্প পরিদপ্তরের 13 আগস্ট 1985-এর স্মারক অনুযায়ী সিনেমা হলসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের শিল্প কাস্টমস ও আবগারি শুল্ক, আয়কর ও ভ্যাট থেকে অব্যাহতি পেয়েছিল;
  • অর্থ মন্ত্রণালয় 6 ডিসেম্বর 1998-এর স্মারকে প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছিল যে রেগুলেশন 1900-এর বিধানগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো বলবৎ।

রিটের আগে কোম্পানি রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়ানি মামলা নং 39/1997 করেছিল, আয়কর ও ভ্যাট আরোপকে অবৈধ ঘোষণার দাবিতে। পার্বত্য চট্টগ্রামে তখন দেওয়ানি মামলা জেলা প্রশাসকের আদালতেই চলত, এ কথা রায়েও আছে। 16 নভেম্বর 1998 কোম্পানি পণ্য আমদানির ঋণপত্র খোলে; 11 ফেব্রুয়ারি 1999 বিল অব এন্ট্রি জমা দিলে কাস্টমস রেগুলেশন 1900-এর প্রযোজ্যতা মানতে অস্বীকার করে।

লক্ষ করার মতো একটি বিষয় রায়ের চতুর্থ পাতায়। রিটের বিরোধিতা করে রেসপন্ডেন্ট নং 2 যে জবাব দিয়েছিল, আপিল বিভাগ তা এভাবে লিখেছে: রেগুলেশন 1900 “is still in force”, তবে সেটি বিশেষ আইন নয়, অর্থ আইনের অধীন, আর ভ্যাট আইন বিশেষ আইন বলে সেটিই প্রাধান্য পাবে। অর্থাৎ রাষ্ট্রপক্ষের জবাবেও রেগুলেশনটি বলবৎ বলে স্বীকার করা হয়েছিল; বিরোধ ছিল কর-অব্যাহতি নিয়ে। একই জবাবে বলা হয়, 1935 সালের ভারত শাসন আইনে “excluded area” ধারণা এসেছিল, পাকিস্তানের 1956 ও 1962 সালের সংবিধানে তা ছিল, কিন্তু 1964 সালের প্রথম সংশোধনীতে “Tribal Area”-র সংজ্ঞা বাদ যায়, আর বাংলাদেশের সংবিধানে শব্দটি নেই।

হাইকোর্ট কেন পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধিকে “মৃত আইন” বলেছিল

13 মে 2003 হাইকোর্ট বিভাগ রুল খারিজ (discharge) করে, অর্থাৎ কোম্পানি কর ফেরত পায়নি। একই রায়ে হাইকোর্ট বলে, রেগুলেশন 1 of 1900 একটি মৃত আইন এবং বাংলাদেশে প্রযোজ্য সব আইন পার্বত্য জেলাগুলোতেও সমানভাবে প্রযোজ্য। হাইকোর্টের মূল ভিত্তি ছিল পাকিস্তানের সংবিধান (প্রথম সংশোধনী) আইন, যা 10 জানুয়ারি 1964 থেকে “Tribal Area” শব্দটি মুছে দিয়েছিল।

হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণ পাঠ অনলাইনে পাওয়া যায়নি। তাই এখানে হাইকোর্টের যুক্তি যেমন লেখা হলো, তা আপিল বিভাগের রায়ে যেভাবে উদ্ধৃত ও সারসংক্ষেপ করা হয়েছে সেই অনুযায়ী। আপিল বিভাগের ভাষ্যে হাইকোর্টের অবস্থান ছিল এরকম:

  • 10 জানুয়ারি 1964 থেকে রেগুলেশনটি পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য নয়, কারণ সেদিন “Tribal Area” শব্দটি সংবিধান থেকে বাদ যায় এবং বাংলাদেশের সংবিধানে শব্দটি আর ফেরানো হয়নি (রায়, পৃষ্ঠা 6);
  • হাইকোর্ট পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের Collector v. Azizuddin, 23 DLR (SC) 73 মামলার ওপর নির্ভর করেছিল;
  • আরও দুটি নজির উল্লেখ করেছিল: Bikram Kishore Chakma v. Land Appeal Board, 6 BLC 436 এবং Bangladesh Forest Industries Development Corporation v. Sheikh Abdul Jabbar, 53 DLR (2001) 488;
  • হাইকোর্টের দুটি পর্যবেক্ষণ আপিল বিভাগ হুবহু তুলে দিয়েছে: পার্বত্য জেলাগুলো “do form part of Bangladesh like any other territory of our country”, এবং “It does not enjoy any extra-constitutional privilege under the present constitution” (রায়, পৃষ্ঠা 18)।

হাইকোর্টের রায়টি কোন প্রতিবেদনে ছাপা হয়েছে, তা নিয়ে একটি উৎস পাওয়া গেছে: ঢাকা ল রিভিউ ব্লগের 14 ডিসেম্বর 2020-এর একটি লেখার পাদটীকায় মামলাটির উল্লেখ Rangamati Food Products v Commissioner of the Customs (2005) 10 BLC 525। একই লেখা অবশ্য মূল পাঠে বলেছে, হাইকোর্ট বিভাগ “2016 সালে” রেগুলেশনকে কার্যকর আইন ঘোষণা করে; আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী হাইকোর্টের রায়ের তারিখ 13 মে 2003 এবং তাতে রেগুলেশনকে মৃত আইনই বলা হয়েছিল।

হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান নিয়ে একটি দাবি আছে। হিল ভয়েসে 17 মে 2024 প্রকাশিত আট নাগরিকের বিবৃতি অনুযায়ী, 2003 সালে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফের বক্তব্যের ভিত্তিতে হাইকোর্ট রেগুলেশনকে মৃত আইন ঘোষণা করে। হাসান আরিফ অক্টোবর 2001 থেকে এপ্রিল 2005 পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন (উইকিপিডিয়া); তবে হাইকোর্টে তাঁর বক্তব্য কী ছিল, তা হাইকোর্টের রায়ের পাঠে বা স্বতন্ত্র কোনো সংবাদ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি, তাই দাবিটি এখানে কেবল বিবৃতিদাতাদের ভাষ্য হিসেবেই রইল।

2003 থেকে 2016: আপিল, সংশোধনী আর স্থগিতাদেশ

হাইকোর্টের রায়ের পর তেরো বছর আপিলটি নিষ্পত্তি হয়নি। এই সময়ে তিনটি ঘটনা মামলাটির প্রেক্ষাপট বদলে দেয়: সরকার রায়ের “মৃত আইন” অংশের বিরুদ্ধে আপিল করে (সিভিল আপিল নং 08/2008), সংসদ 2003 সালে রেগুলেশনটিই সংশোধন করে, আর একটি বিবরণ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট রেগুলেশন-সংক্রান্ত আরও কয়েকটি মামলা স্থগিত রাখে।

সংশোধনী আইন, 2003: “মৃত” আইনটিকেই সংশোধন

হাইকোর্টের রায়ের বছরেই সংসদ পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, 2003 (2003 সালের 38 নং আইন) পাস করে। পরে হাইকোর্টের এক বিশেষ বেঞ্চের 2022 সালের রায় অনুযায়ী আইনটি গেজেটের মাধ্যমে 4 জুন 2008 থেকে কার্যকর হয় (Civil Miscellaneous No. 11 of 2022, অনুচ্ছেদ 2.1)। এই সংশোধনীতে:

  • ধারা 7-এ “a district”-এর জায়গায় “three districts” বসে, আর দেওয়ানি বিচার জেলা প্রশাসকের হাত থেকে সরে যায় (“and civil” ও “civil” শব্দ বাদ);
  • ধারা 8(1): রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান তিনটি আলাদা দায়রা বিভাগ, জেলা জজ সেখানে দায়রা জজ;
  • ধারা 8(3)–(5): তিন জেলা তিনটি আলাদা দেওয়ানি এখতিয়ার; যুগ্ম জেলা জজ “existing laws, customs and usages” অনুযায়ী দেওয়ানি মামলা বিচার করবেন, তবে আদিবাসীদের পারিবারিক ও প্রথাগত আইনের মামলা বিচার করবেন মৌজা হেডম্যান ও সার্কেল চিফ।

এই 8(4) ধারার কথা জুমজার্নালের আর্কাইভে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ লেখাতেও আছে: পারিবারিক ও প্রথাগত বিষয়ে যুগ্ম জেলা জজের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যান ও সার্কেল চিফের বিচারালয়ে নিষ্পত্তি হয়। হেডম্যানের বিচারিক কাজ নিয়ে বিস্তারিত আছে মৌজা হেডম্যান ও কার্বারির দায়িত্বের লেখায়।

পরে আপিল বিভাগ এই সংশোধনীকেই তার সবচেয়ে বড় যুক্তি বানায়: যে আইনকে “মৃত” বলা হয়েছে, সংসদ সেটিকে সংশোধন করছে।

মামলা চলাকালে কী হয়েছিল: একটি বিবরণ

ডেইলি স্টারে 30 নভেম্বর 2020 প্রকাশিত পর্বন চাকমার একটি আইনি নিবন্ধে এই সময়ের একটি ধারাবাহিক বিবরণ আছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী: হাইকোর্টের কয়েকটি মামলায় রেগুলেশনকে কার্যকর ও বৈধ আইন বলা হয়েছিল, ফলে বিপরীত সিদ্ধান্তের কারণে বিশেষ বেঞ্চ গঠিত হয়; তিন সার্কেল চিফ, আঞ্চলিক পরিষদ ও হেডম্যানরা তৎকালীন পার্বত্য উপমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন; উপমন্ত্রী অ্যাটর্নি জেনারেলকে চিঠি লেখেন; আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন সার্কেল চিফ রেগুলেশনের পক্ষে মামলা করেন; আর সরকার উপমন্ত্রীর পরামর্শে রায়ের “মৃত আইন” অংশের বিরুদ্ধে আপিল করে; সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ রেগুলেশন-সংক্রান্ত তিনটি মামলা স্থগিত রাখে। এই ধাপগুলোর তারিখ ও মামলা নম্বর নিবন্ধে দেওয়া নেই, আর অন্য কোনো উৎসে এগুলোর নথি পাওয়া যায়নি।

আপিলে সরকার কী যুক্তি দিয়েছিল, তা আপিল বিভাগের রায়ের পঞ্চম পাতায় আছে। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল Murad Reza বলেছিলেন: রেগুলেশনটি সরকার কখনো রহিত করেনি; 26 মার্চ 1971-এ বাংলাদেশের যেকোনো অংশে বলবৎ সব আইন রাষ্ট্রপতির আদেশ নং 48/1972 অনুযায়ী প্রযোজ্য; আর রেগুলেশন স্বীকার করে সরকার একের পর এক প্রজ্ঞাপন ও সার্কুলার জারি করেছে, যা হাইকোর্ট উপেক্ষা করেছে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল Protikur Chakma, Sk. Saifuzzaman ও A.B.A. Mahbub। কোম্পানির পক্ষে কেউ উপস্থিত ছিলেন না; রায়ে রেসপন্ডেন্টদের ঘরে লেখা “Exparte”।

শাসনবিধি ১৯০০ মৃত আইন রায় আপিল বিভাগে কীভাবে বাতিল হলো: 22 নভেম্বর 2016

প্রধান বিচারপতি Surendra Kumar Sinha, বিচারপতি Syed Mahmud Hossain ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে নিয়ে গঠিত আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ 22 নভেম্বর 2016 সরকারের আপিল মঞ্জুর করে। রায়ের লেখক প্রধান বিচারপতি নিজে। শুনানি ও রায় দুটোই সেই একই দিনে, রায়ের শিরোনাম-পাতায় এ কথা লেখা। হাইকোর্টের রায় বাতিল হয় কেবল যতটুকু রেগুলেশনকে মৃত আইন বলেছিল।

রায়ের প্রথম বাক্যেই আপিল বিভাগ বিচার্য দুটি প্রশ্ন ঠিক করে দেয়:

“Two vital law points of public interest are involved in this appeal. Whether the Chittagong Hill Tracts Regulation 1900 (Regulation 1 of 1900) is a dead law or still in force in Chittagong Hill Districts and secondly, whether all laws which are in force in Bangladesh are equally applicable to Chittagong Hill Districts in the similar manner as are applicable in other parts of the country.”

— Government of Bangladesh v. Rangamati Food Products Ltd. and others, সিভিল আপিল নং 08/2008, আপিল বিভাগ, 22 নভেম্বর 2016, পৃষ্ঠা 1–2

রায়ের তারিখ নিয়ে একটি পার্থক্য আছে। রায়ের নথিতে “Date of Judgment: 22nd November, 2016” এবং শেষ পাতায়ও একই তারিখ। নিউ এজের 17 এপ্রিল 2017-এর প্রতিবেদন বলছে, 22 নভেম্বর 2016 দেওয়া হয়েছিল সংক্ষিপ্ত রায়, আর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায় “রোববার”, অর্থাৎ 16 এপ্রিল 2017। দুটো একসঙ্গে মেলে: রায়ের তারিখ 22 নভেম্বর 2016, পূর্ণ পাঠ প্রকাশ 16 এপ্রিল 2017। রায়টি পরে Government of Bangladesh v. Rangamati Food Products and others, 69 DLR (AD) 432 নামে ছাপা হয়; এই উল্লেখটি হাইকোর্টের 2022 সালের একটি রায়ে (অনুচ্ছেদ 4.7) পাওয়া যায়।

রায়ের ভেতরে একটি অসঙ্গতিও আছে। পাকিস্তানের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীকে রায় দুই জায়গায় (পৃষ্ঠা 4 ও 6) বলেছে “Constitution (First Amendment) Act, 1964”, আরেক জায়গায় (পৃষ্ঠা 12) “Constitution (First Amendment) Act, 1963, which came into effect on 10th January, 1964″। কার্যকর হওয়ার তারিখ, 10 জানুয়ারি 1964, সব জায়গাতেই এক।

আপিল বিভাগের যুক্তি, ধাপে ধাপে: শাসনবিধি কেন “মৃত” নয়

আপিল বিভাগের মূল প্রশ্ন ছিল, 26 মার্চ 1971-এ রেগুলেশনটি বলবৎ ছিল কি না। ছিল প্রমাণ হলে রাষ্ট্রপতির আদেশ নং 48/1972 ও সংবিধানের 149 অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি “existing law”, যা সংসদ রহিত না করা পর্যন্ত চলবে। রায় দেখিয়েছে, 1964 সালের পরও অঞ্চলটি রেগুলেশন অনুযায়ীই শাসিত হয়েছে, আর স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র বারবার আইনটি স্বীকার করেছে।

ধাপ 1: “existing law” কাকে বলে

রাষ্ট্রপতির আদেশ নং 48/1972 (বাংলাদেশ [অ্যাডাপ্টেশন অব এক্সিস্টিং লজ] আদেশ) কার্যকর হয় 26 মার্চ 1971 থেকে। এর অনুচ্ছেদ 2 অনুযায়ী “existing law” মানে এমন যেকোনো আইন, অধ্যাদেশ, রেগুলেশন, বিধি, আদেশ বা উপ-আইন, যা 26 মার্চ 1971-এর ঠিক আগে বাংলাদেশের পুরো বা কোনো অংশে বলবৎ ছিল। আপিল বিভাগ লিখেছে:

“There is nothing in this Order or any other law that can be inferred that Regulation 1 of 1900 has been kept out side the ‘existing law’.”

— আপিল বিভাগ, সিভিল আপিল নং 08/2008, পৃষ্ঠা 7

ধাপ 2: 1964-এর পরও অঞ্চলটি রেগুলেশনেই চলেছে

রায়ের বর্ণনায় (পৃষ্ঠা 12–13), 1909 সালের ভারত শাসন আইনে অঞ্চলটি “backward tracts”, 1935 সালের আইনে “excluded area”, পাকিস্তানের 1956 সালের সংবিধানেও “excluded area”, আর 1962 সালের সংবিধানে “tribal area”। শব্দটি বাদ গেলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম 26 মার্চ 1971 পর্যন্ত রেগুলেশন অনুযায়ীই শাসিত হয়েছে। দেওয়ানি আদালত আইন, 1887 অনুযায়ী কোনো দেওয়ানি আদালত বা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কোনো ফৌজদারি আদালত সেখানে ছিল না; জেলা প্রশাসক জেলা জজের কাজ করতেন, বিভাগীয় কমিশনার দায়রা জজের। আদালত এগুলোকে বলেছে “admitted position”।

ধাপ 3: 1973 সালের আইন রেগুলেশনটি রেখে দিয়েছিল

বাংলাদেশ ল’জ (রিভিশন অ্যান্ড ডিক্লারেশন) অ্যাক্ট, 1973-এর প্রথম তফসিলে রহিত আইনের তালিকা, দ্বিতীয় তফসিলে সংশোধিত আইনের তালিকা। রায় অনুযায়ী রেগুলেশন 1 of 1900 কোনোটিতেই নেই: “kept intact without modification” (পৃষ্ঠা 14)। এরপর সংবিধানের 149 অনুচ্ছেদ: সংবিধান সাপেক্ষে সব “existing laws” বহাল থাকবে, যতক্ষণ না সংসদের আইনে সংশোধিত বা রহিত হয়।

ধাপ 4: সরকারের প্রজ্ঞাপন আর 48 নম্বর বিধি

সরকারপক্ষ দুটি প্রজ্ঞাপন দেখিয়েছিল: 21 মে 1974-এর প্রজ্ঞাপন নং 415-SEC(1), যাতে সার্কেল চিফদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়; আর 4 ডিসেম্বর 2008-এর প্রজ্ঞাপন, যাতে রেগুলেশনের ধারা 18-এর অধীনে প্রণীত বিধিমালার 48 নম্বর বিধি অনুসরণ করে মং চিফ নিয়োগ হয়। রায় 48 নম্বর বিধি পুরোটা উদ্ধৃত করেছে, যেখানে বলা আছে চিফের অভিষেক সরকার নিয়ন্ত্রণ করে আর হেডম্যান নিয়োগ করেন জেলা প্রশাসক, চিফের সঙ্গে পরামর্শ করে। আদালতের সিদ্ধান্ত (পৃষ্ঠা 15): “till 4th December, 2008, the government recognized the Rules framed in exercise of powers under Regulation 1 of 1900″। সার্কেল চিফের পদ ও ক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আছে তিন সার্কেল ও রাজার ক্ষমতার লেখায়।

ধাপ 5: আজিজউদ্দিন মামলা হাইকোর্ট ভুল পড়েছিল

হাইকোর্ট যে Collector v. Azizuddin মামলার ওপর ভর করেছিল, আপিল বিভাগ তার ঘটনা খুলে দেখিয়েছে (পৃষ্ঠা 16–18)। সেটি ছিল একটি সিগারেট কারখানার আবগারি শুল্ক-অব্যাহতির মামলা। 1961 সালের প্রজ্ঞাপনে চার বছরের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল; 1964-এর সংশোধনীর পর 28 ফেব্রুয়ারি 1964-এর প্রজ্ঞাপনে তা কাটা হয়। পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, কোম্পানির “vested right” নির্বাহী আদেশে কেড়ে নেওয়া যায় না। অর্থাৎ নজিরটি রেগুলেশনের অস্তিত্ব নিয়ে নয়। আপিল বিভাগের ভাষায়:

“I fail to understand why the High Court Division has relied upon this case and without considering the ratio of the case, it has observed that the Regulation 1900 was kept not in force on misconception of law.”

— আপিল বিভাগ, সিভিল আপিল নং 08/2008, পৃষ্ঠা 18

হাইকোর্টের আরেকটি নজির, Bikram Kishore Chakma v. Land Appeal Board, আপিল বিভাগের আরেকটি রায়ে (সিভিল আপিল নং 147/2004) আগেই বাতিল হয়েছিল, আর Sk. Abdul Jabbar মামলার “no relevance”, রায় এ কথাও লিখেছে।

ধাপ 6: “নাম বদলালেই আইন বদলায় না”

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের একটি অংশে আপিল বিভাগ একমত, আরেকটি অংশে নয়। পার্বত্য জেলাগুলো দেশের অন্য যেকোনো অঞ্চলের মতোই বাংলাদেশের অংশ, এ নিয়ে বিরোধ নেই। কিন্তু অঞ্চলটি কোনো “extra-constitutional privilege” ভোগ করে না, হাইকোর্টের এই কথাকে আপিল বিভাগ বলেছে “devoid of substance”। কারণ হিসেবে রায় সংবিধানের 28(4) অনুচ্ছেদ দেখিয়েছে, যাতে রাষ্ট্র নাগরিকদের অনগ্রসর অংশের জন্য বিশেষ বিধান করতে পারে। তারপর রায়ের সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত বাক্যটি:

“Mere changing of the nomenclature does not ipso facto change the laws, customs and privileges which are being enjoyed by a section of a people of the country.”

— আপিল বিভাগ, সিভিল আপিল নং 08/2008, পৃষ্ঠা 19

ধাপ 7: স্বাধীনতার পরের আইনগুলো রেগুলেশন ধরে নিয়েই লেখা

রায় (পৃষ্ঠা 19–25) একের পর এক আইন দেখিয়েছে, যেগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য আলাদা কাঠামো ধরে নিয়ে প্রণীত:

আইন বা বিধি আপিল বিভাগ যা বলেছে
পার্বত্য চট্টগ্রাম বন পরিবহন বিধিমালা, 1973 (গেজেট 17 জানুয়ারি 1974) গাছ কাটা ও পরিবহনের জন্য অঞ্চলটির আলাদা বিধি; নামই “self explanatory”
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড অধ্যাদেশ, 1976 দেশের স্থানীয় সরকার আইন থেকে আলাদা; পরামর্শক কমিটিতে তিন রাজা বা তাঁদের মনোনীত ব্যক্তি ও প্রতিটি মহকুমা থেকে একজন হেডম্যান-প্রতিনিধি
জেলা (পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্প্রসারণ) অধ্যাদেশ, 1984 জেলা আইন, 1836 প্রযোজ্য করা হয়; বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা সৃষ্টি
ভূমি খতিয়ান-সংক্রান্ত 1984 সালের আইন ধারা 7-এ আপত্তি ও আপিলের কর্তৃপক্ষ পার্বত্য জেলার দেওয়ানি বিচারকের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন
তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989 “the government virtually recognized the Regulation 1 of 1900”; পরিষদগুলোর কাঠামো দেশের অন্য পরিষদ থেকে “totally different”
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998 পরিষদের সাতটি কাজ উদ্ধৃত, যার একটি “tribal traditions, practices etc. and social justice”-এর তত্ত্বাবধান
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, 2001 কমিশন পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচলিত “laws, customs and systems” অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেয়; সার্কেল চিফরা সদস্য; এর মাধ্যমে সরকার রেগুলেশনকে “an enforceable law” হিসেবে স্বীকার করেছে
পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, 2003 ধারা 7 ও 8 সংশোধন; দেওয়ানি মামলায় হাইকোর্টকে কোনো আপিল-ক্ষমতা দেওয়া হয়নি; সরকার এখনো দেওয়ানি বিরোধে প্রথা ও রীতি স্বীকার করে

1984 সালের আইনটির নাম রায়ের PDF-এ বিজয় ফন্টের ভাঙা অক্ষরে ছাপা; পড়লে দাঁড়ায় “ভূমি খতিয়ান (পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1984)”, যা ছাপার ভুল। রায়ে আইনটির ধারা 7-এর যে বিবরণ আছে (আপত্তি ও আপিলের কর্তৃপক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রামে দেওয়ানি বিচারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার ক্ষমতা পাবেন), তা মেলে “ভূমি-খতিয়ান (পার্বত্য চট্টগ্রাম) অধ্যাদেশ, ১৯৮৪”-এর ধারা 7-এর সঙ্গে; অধ্যাদেশটির নম্বর 1985 সালের 2 নং, তারিখ 16 জানুয়ারি 1985 (অধ্যাদেশের পাঠ)। জেলা পরিষদ আইনের বিস্তারিত আছে আঞ্চলিক পরিষদের গঠন ও ক্ষমতার লেখায়, আর কমিশনে আবেদনের নিয়ম আছে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে আবেদনের লেখায়।

ধাপ 8: আগের রায়ের উদ্ধৃতি, আর অনুচ্ছেদ 152

ভূমি কমিশন আইনের প্রসঙ্গে আপিল বিভাগ তার নিজের আগের রায় (সিভিল আপিল নং 147/2004) থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছে (পৃষ্ঠা 25):

“Therefore, the government recognizes the Regulation of 1900 by promulgating three Zilla Parishad Ains, one Regional Parishad Ain and by amending the Regulation of 1900. How then can it be accepted the contention that this Regulation of 1900 has no force of law?”

— সিভিল আপিল নং 147/2004-এর রায় থেকে, সিভিল আপিল নং 08/2008-এ উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা 25

একই পাতায় সিদ্ধান্তটি: “These provisions clearly suggest no inference other than that the Regulation 1 of 1900 has force of law and subsisting.” সঙ্গে প্রথা নিয়ে একটি বাক্য: কোনো অঞ্চলে অনুসৃত ও সরকার-স্বীকৃত প্রথার আইনের জোর আছে, সংবিধানের 152 অনুচ্ছেদ অনুযায়ী। আগের রায়ের উপসংহার হিসেবে আপিল বিভাগ এটাও লিখেছে যে রেগুলেশনের উদ্দেশ্য ছিল তিন পার্বত্য জেলার মানুষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং তাঁদের সংস্কৃতি, প্রথাগত চর্চা ও রীতি রক্ষা করা।

রায় আসলে কী বাতিল করল, কী করল না

আপিল বিভাগ হাইকোর্টের পুরো রায় বাতিল করেনি। শেষ পাতার আদেশে বলা আছে, হাইকোর্টের রায় বাতিল “so far as it relates to the observation that Regulation 1 of 1900 is a dead law”। কোম্পানির কর-ফেরতের দাবি, যেটির জন্য মামলা শুরু, তা নিয়ে আপিল বিভাগ কোনো আদেশ দেয়নি; সরকারের আপিলটি ছিল কেবল “মৃত আইন” ঘোষণার বিরুদ্ধে।

আপিল বিভাগের রায়ের শেষ পাতা: হাইকোর্টের রায় যতটুকু রেগুলেশন ১৯০০-কে মৃত আইন বলেছে ততটুকু বাতিল, তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৬
সিভিল আপিল নং 08/2008-এর রায়ের শেষ পাতা (পৃষ্ঠা 30): “The appeal is therefore, allowed.” নথি: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগ · BLAST-এর ওয়েবসাইটে রাখা রায়ের কপি

রায়ের শেষ যুক্তিটি দেওয়ানি বিচার নিয়ে (পৃষ্ঠা 29–30): সংশোধিত রেগুলেশনের ধারা 9 অনুযায়ী ফৌজদারি কার্যবিধির সব আপিল-ক্ষমতা হাইকোর্টের আছে, কিন্তু দেওয়ানি বিরোধে এমন কোনো ক্ষমতা হাইকোর্টকে দেওয়া হয়নি। আদালতের ভাষায়, “These provisions are sufficient to come to the conclusion that the government still recognize the customs and usages of the tribal people of the region while adjudicating civil disputes.” তারপর: “The High Court Division has totally ignored these aspects of the matter.”

দ্বিতীয় প্রশ্নটি, অর্থাৎ দেশের সব আইন পার্বত্য জেলায় একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তার উত্তর রায় আলাদা অনুচ্ছেদে দেয়নি। উত্তরটি এসেছে যুক্তির ভেতর দিয়ে: রেগুলেশন বলবৎ, এবং রেগুলেশনের ধারা 4 নিজেই বলে তফসিলভুক্ত আইনগুলো কেবল ততটুকু প্রযোজ্য যতটুকু রেগুলেশনের সঙ্গে অসঙ্গত নয়। ধারা 4(2) আরও বলে, তফসিলের বাইরে অন্য কোনো আইন পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য গণ্য হবে না, যদি না সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনে তা ঘোষণা করে; তবে 1937 সালে যোগ হওয়া আরেকটি শর্ত অনুযায়ী ভারত শাসন আইন, 1935-এর তৃতীয় অংশ চালু হওয়ার পর এমন ঘোষণা আর করা যাবে না (রেগুলেশনের সংকলিত পাঠ, PCJSS ওয়েবসাইট)।

রায়টি ভূমি নিয়ে নয়, কর নিয়েও নয়, একটি আইনের অস্তিত্ব নিয়ে। তবে হেডম্যানের বিচার, সার্কেল চিফের পদ, জুম কর আর জমি বন্দোবস্তের নিয়ম সবই রেগুলেশনের ধারা 18-এর অধীনে প্রণীত বিধিমালার অংশ, আর আপিল বিভাগ নিজেই রায়ে (পৃষ্ঠা 9–10) এই বিধিগুলোর তালিকা দিয়েছে। জুম কর কীভাবে হেডম্যান থেকে সার্কেল চিফ হয়ে সরকারের কাছে যায়, তা আছে জুম কর ও খাজনার হিসাবের লেখায়।

ওয়াগ্গাছড়া টি এস্টেট মামলা: দ্বিতীয় রায়টি কী, আর কেন এটিও রিভিউতে

রেগুলেশন নিয়ে আপিল বিভাগের দ্বিতীয় যে রায়টির বিরুদ্ধে রিভিউ হয়েছে, সেটি Wagachara Tea Estate Ltd. v. Muhammad Abu Taher and others। আইনি ডেটাবেস the-laws.com এটিকে LAWS(BANG)-2014-12-1 নম্বরে তালিকাভুক্ত করেছে, সিদ্ধান্তের তারিখ 2 ডিসেম্বর 2014। নিউ এজের 22 জুন 2024-এর প্রতিবেদনও বলছে, সুপ্রিম কোর্ট “another case” এ 2 ডিসেম্বর 2014 একই ধরনের রায় দিয়েছিল।

the-laws.com-এ রায়ের প্রথম অনুচ্ছেদটুকু উন্মুক্ত। তাতে আছে: এটি ছিল লিভ নিয়ে করা আপিল, আপিলকারী রিটের রেসপন্ডেন্ট নং 2 ওয়াগ্গাছড়া টি এস্টেট লিমিটেড, আর আপিল হয়েছিল রিট পিটিশন নং 358/1997-এ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে, যেখানে হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে ভূমি আপিল বোর্ডের (রিটের রেসপন্ডেন্ট নং 1) একটি আদেশকে অবৈধ বলেছিল। রায়ের বাকি অংশ ডেটাবেসটির সদস্যদের জন্য, ফলে এই রায়ের যুক্তি এখানে উদ্ধৃত করা যায়নি।

রায়টি কোন প্রতিবেদনে ছাপা, তা নিয়ে উৎসগুলো আলাদা কথা বলে। হাইকোর্টের 21 নভেম্বর 2022-এর রায় (Civil Miscellaneous No. 11 of 2022, অনুচ্ছেদ 4.7) উল্লেখ করেছে Wagachara Tea Estate vs. Md. Abu Taher, 69 DLR (AD) 381; হিল ভয়েসে প্রকাশিত নাগরিকদের বিবৃতি ও স্মারকলিপি উল্লেখ করেছে 16 BLD (AD) 36।

আরেকটি প্রশ্ন খোলা থেকে যায়। রাঙ্গামাটি ফুড রায়ে আপিল বিভাগ সিভিল আপিল নং 147/2004-এর যে রায় উদ্ধৃত করেছে, সেটিতে Bikram Kishore Chakma v. Land Appeal Board বাতিল হয়েছিল এবং ভূমি কমিশন আইন আলোচিত হয়েছিল। ওয়াগ্গাছড়া মামলাও ভূমি আপিল বোর্ডের আদেশ নিয়ে। সিভিল আপিল নং 147/2004 আর ওয়াগ্গাছড়া মামলা একই কি না, কোনো উৎসে সরাসরি লেখা পাওয়া যায়নি; তাই দুটিকে এখানে আলাদা মামলা হিসেবেই ধরা হয়েছে।

ওয়াগ্গাছড়া মামলায় হাইকোর্ট কী বলেছিল, তা নিয়েও দুই রকম বিবরণ আছে। ডেইলি স্টারের 3 ফেব্রুয়ারি 2022-এর প্রতিবেদন (বাংলা ও ইংরেজি দুই সংস্করণেই) বলছে, রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড ও ওয়াগ্গাছড়া এস্টেট লিমিটেডের পৃথক দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রেগুলেশনকে মৃত আইন বলেছিল; the-laws.com-এর সারাংশ অনুযায়ী ওয়াগ্গাছড়া মামলার হাইকোর্ট রায় ছিল ভূমি আপিল বোর্ডের একটি আদেশ অবৈধ ঘোষণা।

রিভিউ আবেদন: কারা করলেন, কবে কী শুনানি হলো

2018 সালে দুটি রিভিউ আবেদন হয়: রাঙ্গামাটি ফুড রায়ের বিরুদ্ধে সিভিল রিভিউ পিটিশন নং 54/2018, আবেদনকারী আব্দুল আজিজ আখন্দ; আর ওয়াগ্গাছড়া রায়ের বিরুদ্ধে নং 192/2018, আবেদনকারী আব্দুল মালেক। হিল ভয়েসের 17 মে 2024-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁরা মূল মামলাগুলোর পক্ষ ছিলেন না। আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ ও মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

দুই আবেদনকারীর ঠিকানা নিয়ে উৎসে ভিন্নতা আছে: হিল ভয়েসের 13 মে 2024-এর প্রতিবেদন, হিল ভয়েসে প্রকাশিত আগস্ট 2023-এর স্মারকলিপির বিবরণ এবং chtnews24-এর 22 মে 2025-এর প্রতিবেদন দুজনকেই খাগড়াছড়ির বাসিন্দা বলেছে; হিল ভয়েসের 17 মে 2024-এর প্রতিবেদন আব্দুল আজিজ আখন্দকে রাঙ্গামাটির ও আব্দুল মালেককে খাগড়াছড়ির বাসিন্দা বলেছে।

রিভিউ আবেদন নিয়ে যতগুলো শুনানি বা নির্ধারিত তারিখ সংবাদমাধ্যমে এসেছে, সেগুলো এক ছকে:

তারিখ কী ঘটেছিল উৎস
2018 রিভিউ পিটিশন নং 54/2018 ও 192/2018 দায়ের হিল ভয়েস, 13 ও 17 মে 2024
2021 দুটি রিভিউ আপিল বিভাগের নিয়মিত কার্যতালিকায় ওঠে স্মারকলিপির বিবরণ, হিল ভয়েস, 29 আগস্ট 2023
1 ডিসেম্বর 2021 রিভিউ শুনানির দিন ধার্য; কোম্পানি দুটির আইনজীবী ব্যারিস্টার Imran A Siddik জানান, তাঁরা সময় চাইবেন ডেইলি স্টার, 1 ডিসেম্বর 2021
3 ফেব্রুয়ারি 2022 প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে ভার্চুয়াল শুনানি; আদালত বলে, রেগুলেশন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না তা আরও পরীক্ষা করবে; অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সময় চান; পরবর্তী তারিখ 3 মার্চ ডেইলি স্টার (বাংলা ও ইংরেজি), 3 ফেব্রুয়ারি 2022
9 মে 2024 প্রধান বিচারপতিসহ আট বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি; পরবর্তী তারিখ 16 মে 2024 হিল ভয়েস, 13 ও 17 মে 2024
26 জুলাই (2024) রিভিউ আবেদন গ্রহণযোগ্য কি না, সে বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারিত নিউ এজ, 22 জুন 2024
22 মে 2025 একাধিক সূত্রের বরাতে, রিভিউ পিটিশনটি সেদিন শুনানির তালিকায় আনার চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদন chtnews24, 22 মে 2025

3 মার্চ 2022, 16 মে 2024, 26 জুলাই 2024 এবং 22 মে 2025-এ আসলে শুনানি হয়েছিল কি না, আর হলে কী আদেশ হয়েছিল, তার কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। রিভিউ আবেদনগুলোর নিষ্পত্তির কোনো আদেশ বা রায়ও পাওয়া যায়নি।

একটি তথ্য পাশাপাশি রাখার মতো। 2003 সালে যাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে হাইকোর্ট রেগুলেশনকে মৃত আইন বলেছিল বলে হিল ভয়েসের বিবৃতি দাবি করে, সেই এ এফ হাসান আরিফ 2022 সালে রিভিউ আবেদনকারীদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী (ডেইলি স্টার)। আর 2016 সালের রায়ে যে তিন বিচারপতি ছিলেন, তাঁদের একজন, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, 2022 সালে প্রধান বিচারপতি হিসেবে রিভিউ বেঞ্চের সভাপতি।

অ্যাটর্নি জেনারেল কী বাদ দিতে বলেছিলেন, আর সেটি কোন রায়ের কোন অংশ

হিল ভয়েসে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী রিভিউ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ রায় থেকে কিছু শব্দ ও অনুচ্ছেদ বাদ দিতে বলেছিল। নাগরিকদের বিবৃতি অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন লিখিতভাবে “Raja” ও “Indigenous Peoples” শব্দ এবং প্রথাগত আইনের বিস্তারিত ব্যাখ্যাসংবলিত অন্তত দশটি অনুচ্ছেদ বাদ দেওয়ার আবেদন করেছিলেন।

হিল ভয়েসের 13 মে 2024-এর প্রতিবেদনে 9 মে-র শুনানির একটি বিবরণ আছে। সেই বিবরণ অনুযায়ী, আঞ্চলিক পরিষদের পক্ষভুক্তির আবেদনকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী Probir Neogi আদালতকে বলেছিলেন, রাষ্ট্রপক্ষ রায়ের 65টি অনুচ্ছেদের মধ্যে 37টি বাদ দিতে বলেছে; প্রধান বিচারপতি তার আগে প্রশ্ন করেছিলেন, কয়েকটি শব্দ বাদ দিলে কী ক্ষতি। হিল ভয়েস একটি পক্ষের সংবাদমাধ্যম, আর শুনানিকক্ষের এই কথোপকথনের অন্য কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি; বিবরণটি তাই কেবল হিল ভয়েসের ভাষ্য।

এখানে একটি নথিগত বিষয় স্পষ্ট করা দরকার। রাঙ্গামাটি ফুড রায়ের যে পাঠ BLAST-এর ওয়েবসাইটে আছে, তাতে অনুচ্ছেদ নম্বর নেই, আর “indigenous” শব্দটি একবারও নেই; “Raja” আছে একবার (উন্নয়ন বোর্ড অধ্যাদেশের পরামর্শক কমিটির বর্ণনায়), “Rajas” একবার, “tribal” শব্দটি আছে বহুবার। the-laws.com-এ ওয়াগ্গাছড়া রায়ের যে অংশ দেখা যায়, তাতে অনুচ্ছেদ নম্বর “(1.)” দিয়ে শুরু। ফলে “65টি অনুচ্ছেদ” বা “Indigenous Peoples” শব্দটি কোন রায়ের, তা উপলব্ধ পাঠ থেকে মেলানো যায় না; ওয়াগ্গাছড়া রায়ের পূর্ণ পাঠ পাওয়া গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের অবস্থান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে একাধিক উদ্যোগ নথিভুক্ত। হিল ভয়েসে প্রকাশিত স্মারকলিপির বিবরণ অনুযায়ী, 28 নভেম্বর 2021 পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী এবং তিন পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্যরা তৎকালীন আইনমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দিতে অনুরোধ করেন। 26 জুলাই 2023 চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ানসহ 32 জন প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন। 12 মে 2024 আরও আটজন নাগরিক একই দাবিতে বিবৃতি দেন।

2016-র পর আদালত শাসনবিধি কীভাবে প্রয়োগ করছে: 2022 সালের হাইকোর্ট রেফারেন্স

রিভিউ ঝুলে থাকলেও আপিল বিভাগের রায় বহাল, আর হাইকোর্ট সেটিকে নজির হিসেবে ব্যবহার করছে। সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হাইকোর্ট বিভাগের একটি বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চের 21 নভেম্বর 2022-এর রায় (Civil Miscellaneous No. 11 of 2022, Reference)। বিচারপতি Sheikh Hassan Arif ও বিচারপতি S M Kuddus Zaman এতে রেগুলেশনকে বলবৎ আইন ধরে প্রশ্নের উত্তর দেন এবং রাঙ্গামাটি ফুড ও ওয়াগ্গাছড়া দুটি রায়ই নজির হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রশ্নটি এসেছিল বান্দরবান থেকে। 2003 সালে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক একটি উচ্ছেদ মামলা (নং 56(D)/2003) নিষ্পত্তি করেন; আপিল যায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে (উচ্ছেদ আপিল নং 68/2008), বিধিমালার 10 নম্বর বিধি অনুযায়ী। আপিল চলাকালে 2003 সালের সংশোধনী কার্যকর হয় এবং বিভাগীয় কমিশনার আপিলটি জেলা জজের কাছে পাঠিয়ে দেন। বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা জজ জানতে চান, সংশোধনীর আগে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে ঝুলে থাকা দেওয়ানি আপিল জেলা জজের আদালতে আসতে পারে কি না।

এই রেফারেন্সে অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, এ এফ হাসান আরিফ, Probir Neogi এবং দেবাশীষ রায়। হাসান আরিফের যুক্তি ছিল (অনুচ্ছেদ 3.6), বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পর নির্বাহী কর্মকর্তাদের চালানো সমান্তরাল দেওয়ানি আপিল-ফোরাম অসাংবিধানিক। দেবাশীষ রায় যুক্তি দেন (অনুচ্ছেদ 3.5), দেওয়ানি বিচারে দেওয়ানি কার্যবিধির প্রয়োগ রেগুলেশন ও বিধিমালা দিয়ে বাদ পড়েছে।

আদালত বলেছে (অনুচ্ছেদ 4.7), এই আলাদা বিচারব্যবস্থাকে সংবিধানবিরোধী বলা যায় না, কারণ সংবিধান নিজেই অনগ্রসর অংশের জন্য বিশেষ আইন স্বীকার করে; আর পার্বত্য চট্টগ্রামের “distinctive status” উচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ে স্বীকৃত, যার উদাহরণ হিসেবে প্রথমেই রাঙ্গামাটি ফুড (69 DLR (AD) 432) ও ওয়াগ্গাছড়া (69 DLR (AD) 381)। অনুচ্ছেদ 4.8-এ আদালত লিখেছে:

“the Government of Bangladesh has repeatedly recognized such distinctive administrative and judicial system in Chittagong Hill Tracts Area and that the laws of the main land may only be applicable if they are not inconsistent with the provisions of the Regulation No.1 of 1900.”

— হাইকোর্ট বিভাগ, Civil Miscellaneous No. 11 of 2022 (Reference), 21 নভেম্বর 2022, অনুচ্ছেদ 4.8

উত্তর ছিল নেতিবাচক (অনুচ্ছেদ 4.20): সংশোধনীর আগে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে ঝুলে থাকা দেওয়ানি আপিল জেলা জজের কাছে যাবে না; যেগুলো ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে ও নিষ্পত্তি হয়নি, সেগুলো ফেরত যাবে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে। যেগুলো জেলা জজরা নিষ্পত্তি করে ফেলেছেন, সেগুলো “past and closed matters” হিসেবে থাকবে।

কোন পক্ষ কী বলছে: শাসনবিধি বহাল রাখা নিয়ে দুই অবস্থান

রিভিউ শুরুর পর দুটি স্পষ্ট অবস্থান তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি নাগরিক সমাজ, আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ও আন্তর্জাতিক পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন রেগুলেশনকে প্রথাগত অধিকারের রক্ষাকবচ বলছে; অন্যদিকে রিভিউ আবেদনকারীরা রায়টিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, আর কয়েকটি বাঙালি সংগঠনের নেতারা রেগুলেশন কার্যকর থাকলে ভূমি অধিকার খর্ব হওয়ার আশঙ্কার কথা বলছেন। নিচে প্রতিটি অবস্থান তার নিজের উৎসের ভাষায়।

রেগুলেশনের পক্ষে

  • 27 বিশিষ্ট নাগরিক (24 নভেম্বর 2021, প্রথম আলো): শাসনবিধির কার্যকারিতা আপিল বিভাগ কয়েক বছর আগেই নিষ্পত্তি করেছে; এর বিরোধিতার অর্থ প্রকারান্তরে পার্বত্য চুক্তিরই বিরোধিতা।
  • আন্তর্জাতিক পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন (27 সেপ্টেম্বর 2023, ডেইলি স্টার): কো-চেয়ার সুলতানা কামাল, Elsa Stamatopoulou ও Myrna Cunningham Kain স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, রেগুলেশন অবৈধ বা দুর্বল হলে চুক্তি বাস্তবায়ন ও ভূমি কমিশনের কাজ বিপন্ন হবে।
  • ইউপিডিএফ (12 মে 2024, সমকাল): প্রচার বিভাগের প্রধান নিরন চাকমার বিবৃতিতে শাসনবিধি বাতিলের চেষ্টাকে “গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ” বলা হয়।
  • হেডম্যান সম্মেলন, রাঙ্গামাটি (21 জুন 2024, নিউ এজ): আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা রেগুলেশন বাতিলের “গভীর ষড়যন্ত্র”-এর অভিযোগ করেন; চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায় রেগুলেশনকে ভবনের স্তম্ভের সঙ্গে তুলনা করেন; মং সার্কেল চিফ Sachingpru Chowdhury বৃহত্তর আন্দোলনের কথা বলেন।

রেগুলেশনের বিপক্ষে

  • রিভিউ আবেদনকারীরা: তাঁদের আবেদনের পাঠ প্রকাশিত হয়নি। ডেইলি স্টারের 3 ফেব্রুয়ারি 2022-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁরা সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছেন, যা রেগুলেশনকে সাংবিধানিকভাবে বৈধ ও কার্যকর ঘোষণা করেছিল।
  • chtnews24-এর 22 মে 2025-এর প্রতিবেদন: একাধিক বাঙালি সংগঠনের নেতাদের উদ্বেগ তুলে ধরে লেখা হয়, রেগুলেশন আবার কার্যকারিতা পেলে পাহাড়ে সরকার ও বাঙালিদের ভূমি অধিকার খর্ব হবে এবং হেডম্যান, কার্বারি ও সার্কেল চিফরা “অসীম ক্ষমতার অধিকারী” হবেন। প্রতিবেদনটি রেগুলেশনকে ব্রিটিশদের “কালাকানুন”-এর ধারাবাহিকতা বলেছে।

1997 সালের চুক্তি রেগুলেশন সম্পর্কে কী বলে, তা আছে পার্বত্য চুক্তির ধারা ধরে ধরে লেখায়।

মামলাটি নিয়ে যে বিবরণগুলো ঘোরে, আর নথিতে কী আছে

মামলাটির তারিখ, আদালত আর ফলাফল নিয়ে প্রকাশিত লেখায় একাধিক অমিল আছে। কিছু অমিল দুই সংবাদমাধ্যমের মধ্যে; কিছু ক্ষেত্রে প্রকাশিত দাবি আর আদালতের নিজের নথি আলাদা কথা বলে। পাঠকের সুবিধার জন্য দুটো পাশাপাশি রাখা হলো, উৎসসহ।

প্রকাশিত দাবি কোথায় আদালতের নথি বা অন্য উৎস যা বলে
হাইকোর্ট 2018 সালে রেগুলেশনকে মৃত আইন ঘোষণা করে, তারপর রিভিউ হয় chtnews24, 22 মে 2025 (একই প্রতিবেদনের আরেক অনুচ্ছেদে তারিখ 2003) আপিল বিভাগের রায়: হাইকোর্টের রায় 13 মে 2003; রিভিউ 2018 সালে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে
2003 সালের রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ “রিভিউ পিটিশন” দায়ের করে chtnews24, 22 মে 2025 আপিল বিভাগের রায়: রাষ্ট্রপক্ষ করেছিল আপিল, সিভিল আপিল নং 08/2008
22 নভেম্বর 2016-এর রায় দিয়েছিল আপিল বিভাগের “full bench” নিউ এজ, 22 জুন 2024 রায়ের শিরোনাম-পাতায় তিনজন বিচারপতির নাম; নিউ এজের নিজেরই 17 এপ্রিল 2017-এর প্রতিবেদন “three-judge bench” বলেছে
একাধিক শুনানির পর উচ্চ আদালত আগের রায় বাতিল করে রেগুলেশনকে “ডেড ল” হিসেবে রায় দেয় chtnews24, 22 মে 2025 একই প্রতিবেদন জানায়, রিভিউ পিটিশন সেদিনই শুনানির তালিকায় আনার চেষ্টা চলছে। রিভিউতে আগের রায় বাতিলের কোনো আদেশ বা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি; হাইকোর্টের 2022-এর রায় আপিল বিভাগের রায়কে বহাল নজির হিসেবে ব্যবহার করেছে
হাইকোর্ট “2016 সালে” রেগুলেশনকে কার্যকর আইন ঘোষণা করে ঢাকা ল রিভিউ ব্লগ, 14 ডিসেম্বর 2020 2016-তে রায় দেয় আপিল বিভাগ; হাইকোর্ট 2003-এ বলেছিল মৃত আইন

“শাসনবিধি” নামটি নিয়ে একটি টীকা: রেগুলেশন আর বিধিমালা আলাদা দলিল

বাংলায় “পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০” বলতে সাধারণত Chittagong Hill Tracts Regulation, 1900 (Regulation I of 1900) বোঝানো হয়; ডেইলি স্টার বাংলা ও প্রথম আলো এই নামই ব্যবহার করেছে। কিন্তু রেগুলেশন আর তার অধীনে প্রণীত Rules for the Administration of the Chittagong Hill Tracts দুটি আলাদা দলিল, আর অনেক লেখায় “শাসনবিধি” দিয়ে দ্বিতীয়টিকেও বোঝানো হয়।

রেগুলেশনটি ছোট: পাঁচ অধ্যায়ে 20টি ধারা। ধারা 3 বলে, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসন চলবে ধারা 18-এর অধীনে প্রণীত বিধি অনুযায়ী; ধারা 18 সরকারকে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়, যার মধ্যে দেওয়ানি বিচার, জমি হস্তান্তর, সার্কেল ও মৌজায় বিভাজন, চিফ ও হেডম্যানের ক্ষমতা আর কর আদায়ের বিধি আছে। হেডম্যান নিয়োগের 48 নম্বর বিধি, জুম করের 42 নম্বর বিধি, জমি বন্দোবস্তের 34 নম্বর বিধি, সবই এই বিধিমালার অংশ, রেগুলেশনের ধারা নয়। জুমজার্নালের আর্কাইভের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ লেখায় দুটো নামই আছে: রেগুলেশনকে “পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন”, আর বিধিমালাকে “পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধি”।

আপিল বিভাগের রায়ের বিচার্য বিষয় ছিল রেগুলেশন, তবে রায় দেখিয়েছে বিধিমালাও সরকার 2008 পর্যন্ত প্রয়োগ করেছে (48 নম্বর বিধিতে মং চিফ নিয়োগ)। সার্কেল, মৌজা ও হেডম্যানের কাঠামো কীভাবে তৈরি হলো, তার ইতিহাস আছে চাকমা সার্কেল, হেডম্যান ও কার্বারির লেখায়, আর পুরো অঞ্চলের পরিচিতি আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব পাতায়।

প্রশ্নোত্তর: শাসনবিধি ১৯০০ ও রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলা

পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০ কি এখন বলবৎ?

হ্যাঁ। আপিল বিভাগ 22 নভেম্বর 2016 সিভিল আপিল নং 08/2008-এ বলেছে, রেগুলেশন 1 of 1900 “has force of law and subsisting”, এবং হাইকোর্টের মৃত-আইন পর্যবেক্ষণ বাতিল করেছে। 2018 সালে এর বিরুদ্ধে দুটি রিভিউ আবেদন হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর নিষ্পত্তির কোনো আদেশ পাওয়া যায়নি; হাইকোর্ট 2022 সালের একটি রায়েও রায়টিকে নজির হিসেবে ব্যবহার করেছে।

হাইকোর্ট কবে শাসনবিধিকে মৃত আইন বলেছিল?

13 মে 2003, রিট পিটিশন নং 1774/2001-এর রায়ে। রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট বাবদ দেওয়া Tk. 1,77,296.26 ফেরত চেয়ে রিটটি করেছিল। হাইকোর্ট রুল খারিজ করে এবং বলে, রেগুলেশন মৃত আইন ও দেশের সব আইন পার্বত্য জেলায় সমানভাবে প্রযোজ্য। ঢাকা ল রিভিউ ব্লগ রায়টির উল্লেখ দিয়েছে (2005) 10 BLC 525।

হাইকোর্ট শাসনবিধিকে মৃত আইন বলেছিল কেন?

আপিল বিভাগের রায়ে উদ্ধৃত বিবরণ অনুযায়ী, হাইকোর্টের ভিত্তি ছিল পাকিস্তানের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী, যা 10 জানুয়ারি 1964 থেকে “Tribal Area” শব্দটি বাদ দেয়; বাংলাদেশের সংবিধানেও শব্দটি নেই। হাইকোর্ট Collector v. Azizuddin, 23 DLR (SC) 73 মামলার ওপর নির্ভর করেছিল, যেটিকে আপিল বিভাগ পরে অপ্রাসঙ্গিক বলেছে।

আপিল বিভাগের রায় কে দিয়েছিলেন, বেঞ্চে কারা ছিলেন?

প্রধান বিচারপতি Surendra Kumar Sinha রায়টি লেখেন। বেঞ্চে আরও ছিলেন বিচারপতি Syed Mahmud Hossain ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, মোট তিনজন। শুনানি ও রায় দুটোই 22 নভেম্বর 2016। সরকারপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল Murad Reza; কোম্পানির পক্ষে কেউ উপস্থিত ছিলেন না, তাই আপিলটি একতরফা (ex parte) শুনানিতে নিষ্পত্তি হয়।

আপিল বিভাগ কোন যুক্তিতে শাসনবিধিকে বলবৎ বলেছে?

পাঁচটি প্রধান যুক্তি: রাষ্ট্রপতির আদেশ নং 48/1972 অনুযায়ী 26 মার্চ 1971-এ বলবৎ আইন “existing law”; 1973 সালের রিভিশন আইনে রেগুলেশন রহিত হয়নি; সংবিধানের 149 অনুচ্ছেদ existing law বহাল রাখে; সরকার 1974 ও 2008 সালের প্রজ্ঞাপনে রেগুলেশনের বিধি প্রয়োগ করেছে; আর জেলা পরিষদ আইন, আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ভূমি কমিশন আইন ও 2003 সালের সংশোধনী রেগুলেশন ধরে নিয়েই লেখা।

রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস কি শেষ পর্যন্ত কর ফেরত পেয়েছিল?

আদালতের নথি অনুযায়ী না। হাইকোর্ট 2003 সালে রুল খারিজ করে দিয়েছিল। আপিলটি করেছিল সরকার, কেবল “মৃত আইন” পর্যবেক্ষণের বিরুদ্ধে, আর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছে শুধু “so far as it relates to the observation that Regulation 1 of 1900 is a dead law”। কর-ফেরত নিয়ে আপিল বিভাগ কোনো আদেশ দেয়নি।

ওয়াগ্গাছড়া টি এস্টেট মামলা কী?

Wagachara Tea Estate Ltd. v. Muhammad Abu Taher আপিল বিভাগের আরেকটি রায়, the-laws.com অনুযায়ী 2 ডিসেম্বর 2014 সিদ্ধান্ত। এটি রিট পিটিশন নং 358/1997-এ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল, যেখানে ভূমি আপিল বোর্ডের একটি আদেশ অবৈধ ঘোষিত হয়েছিল। রায়টির উল্লেখ 69 DLR (AD) 381 (হাইকোর্ট, 2022) অথবা 16 BLD (AD) 36 (হিল ভয়েস)।

রিভিউ আবেদন কারা করেছিলেন?

2018 সালে আব্দুল আজিজ আখন্দ রাঙ্গামাটি ফুড রায়ের বিরুদ্ধে (সিভিল রিভিউ পিটিশন নং 54/2018) এবং আব্দুল মালেক ওয়াগ্গাছড়া রায়ের বিরুদ্ধে (নং 192/2018) রিভিউ আবেদন করেন। হিল ভয়েসের প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁরা মূল মামলার পক্ষ ছিলেন না। তাঁদের আইনজীবী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ ও মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

রিভিউ আবেদনের শুনানি কোন পর্যায়ে আছে?

প্রকাশিত সর্বশেষ নিশ্চিত শুনানি 9 মে 2024, প্রধান বিচারপতিসহ আট বিচারপতির বেঞ্চে (হিল ভয়েস)। এর আগে 3 ফেব্রুয়ারি 2022 ছয় সদস্যের বেঞ্চে শুনানি হয়েছিল (ডেইলি স্টার)। নিউ এজ 26 জুলাই 2024 এবং chtnews24 22 মে 2025-কে সম্ভাব্য শুনানির দিন বলেছে। রিভিউ নিষ্পত্তির কোনো আদেশ পাওয়া যায়নি।

অ্যাটর্নি জেনারেল রিভিউতে কী চেয়েছিলেন?

হিল ভয়েসে প্রকাশিত নাগরিকদের বিবৃতি অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন লিখিতভাবে রায় থেকে “Raja” ও “Indigenous Peoples” শব্দ এবং প্রথাগত আইনের ব্যাখ্যাসংবলিত অন্তত দশটি অনুচ্ছেদ বাদ দিতে বলেছিলেন। রাঙ্গামাটি ফুড রায়ের উপলব্ধ পাঠে “indigenous” শব্দ ও অনুচ্ছেদ নম্বর নেই, তাই অনুরোধটি কোন রায়ের অংশ নিয়ে, তা মেলানো যায় না।

2016 সালের রায়ের পর আদালত শাসনবিধি কীভাবে প্রয়োগ করছে?

হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ 21 নভেম্বর 2022 (Civil Miscellaneous No. 11 of 2022) রায় দেয়, 2003 সালের সংশোধনীর আগে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে ঝুলে থাকা দেওয়ানি আপিল জেলা জজের কাছে যাবে না। আদালত রাঙ্গামাটি ফুড ও ওয়াগ্গাছড়া রায় উল্লেখ করে বলেছে, মূল ভূখণ্ডের আইন কেবল রেগুলেশনের সঙ্গে অসঙ্গত না হলে প্রযোজ্য।

শাসনবিধি ১৯০০ আর হিল ট্র্যাক্টস ম্যানুয়াল কি একই?

পুরোপুরি নয়। Chittagong Hill Tracts Regulation, 1900 মাত্র 20 ধারার একটি আইন। এর ধারা 18-এর অধীনে প্রণীত Rules for the Administration of the Chittagong Hill Tracts-এ হেডম্যান নিয়োগ (বিধি 48), জুম কর (বিধি 42) ও জমি বন্দোবস্তের (বিধি 34) নিয়ম আছে। chtnews24 ও হিল ভয়েসের কিছু প্রতিবেদনে রেগুলেশনকেই “হিল ট্র্যাক্টস ম্যানুয়েল” বলা হয়েছে।

যা এখনো জানা যায়নি

  • রিভিউ আবেদনের পরিণতি। 54/2018 ও 192/2018 নম্বর রিভিউ পিটিশনের নিষ্পত্তির কোনো আদেশ বা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। 3 মার্চ 2022, 16 মে 2024, 26 জুলাই 2024 ও 22 মে 2025-এ আদৌ শুনানি হয়েছিল কি না, তাও জানা যায়নি।
  • হাইকোর্টের 2003 সালের রায়ের পূর্ণ পাঠ। হাইকোর্টের যুক্তি এখানে কেবল আপিল বিভাগের রায়ের উদ্ধৃতি থেকে নেওয়া। (2005) 10 BLC 525 উল্লেখটি একটিমাত্র উৎসে পাওয়া।
  • ওয়াগ্গাছড়া রায়ের পূর্ণ পাঠ। রায়ের বেঞ্চ, যুক্তি, প্রতিবেদন-উল্লেখ (69 DLR (AD) 381 না 16 BLD (AD) 36), আর এটিই সিভিল আপিল নং 147/2004 কি না, জানা যায়নি।
  • রিভিউ আবেদনের যুক্তি। আবেদনকারীরা ঠিক কোন কোন বিষয়ে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়েছেন, তাঁদের আবেদনের পাঠ প্রকাশিত হয়নি।
  • “65টি অনুচ্ছেদের 37টি”। রাষ্ট্রপক্ষের লিখিত আবেদনটি প্রকাশিত হয়নি; অনুচ্ছেদ-সংখ্যার দাবি একটিমাত্র পক্ষের প্রতিবেদনে।
  • মামলা চলাকালের স্থগিতাদেশ। ডেইলি স্টারের নিবন্ধে যে বিশেষ বেঞ্চ ও তিনটি স্থগিত মামলার কথা আছে, সেগুলোর নম্বর ও তারিখ পাওয়া যায়নি।
  • হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান, 2003। তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল হাইকোর্টে কী যুক্তি দিয়েছিলেন, তার নথি পাওয়া যায়নি; দাবিটি একটি বিবৃতিতে।

তথ্যসূত্র

  1. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগ। Government of Bangladesh v. Rangamati Food Products Ltd. and others, Civil Appeal No. 08 of 2008, রায় 22 নভেম্বর 2016 (30 পৃষ্ঠা)। BLAST-এর ওয়েবসাইটে রাখা কপি: blast.org.bd
  2. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ)। Civil Miscellaneous No. 11 of 2022 (Reference), রায় 21 নভেম্বর 2022: supremecourt.gov.bd
  3. The Chittagong Hill Tracts Regulation, 1900 (Regulation I of 1900), 2003 পর্যন্ত সংশোধিত সংকলিত পাঠ ও বিধিমালা, PCJSS ওয়েবসাইট: pcjss.org
  4. the-laws.com। Wagachara Tea Estate Ltd Vs. Muhammad Abu Taher, LAWS(BANG)-2014-12-1, সিদ্ধান্ত 2 ডিসেম্বর 2014 (প্রথম অনুচ্ছেদ): the-laws.com
  5. New Age, Staff Correspondent। “SC reinstates the Chittagong Hill Tracts Regulation 1900”, 17 এপ্রিল 2017: newagebd.net
  6. New Age। “Conspiracy on to abolish CHT regulation: Santu Larma”, 22 জুন 2024: newagebd.net
  7. The Daily Star। “CHT Accord Anniversary: 24 years on, legal tangles still remain”, 1 ডিসেম্বর 2021: thedailystar.net
  8. The Daily Star। “Does CHT Regulation 1900 contradict constitution?”, 3 ফেব্রুয়ারি 2022: thedailystar.net
  9. দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। “‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক?”, 3 ফেব্রুয়ারি 2022: bangla.thedailystar.net
  10. পর্বন চাকমা। “The Chittagong Hill Tracts Regulation and its constitutional status”, The Daily Star (Law & Our Rights), 30 নভেম্বর 2020: thedailystar.net
  11. The Daily Star, Star Digital Report। “Lawsuits against 1900 Regulation: CHT Commission expresses deep concern”, 27 সেপ্টেম্বর 2023: thedailystar.net
  12. Hill Voice। “CHT Regulation-1900: Civil society submits memo to PM on unethical attitudes of Attorney General”, 29 আগস্ট 2023: hillvoice.net
  13. Hill Voice। “Conspiracy to declare the CHT Regulation 1900 as ‘Dead law’ or ‘Defunct law'”, 13 মে 2024: hillvoice.net
  14. Hill Voice। “Civil society statement protesting undue conduct of Attorney General in CHT Regulation cases”, 17 মে 2024: hillvoice.net
  15. chtnews24, ডেস্ক রিপোর্ট। “আজ ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি- ১৯০০’ সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিলেট ডিভিশনের রিভিউ পিটিশন শুনানি…”, 22 মে 2025: chtnews24.com
  16. প্রথম আলো। “‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০ কার্যকর রাখতে হবে'”, 24 নভেম্বর 2021: prothomalo.com
  17. সমকাল। “‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০ বাতিলের চেষ্টা ষড়যন্ত্রের অংশ'”, 12 মে 2024: samakal.com
  18. Dhaka Law Review (DHLR Editor)। “The Role of Traditional Laws of Indigenous People of the Chittagong Hill Tracts in the Context of Bangladesh”, 14 ডিসেম্বর 2020: dhakalawreview.org
  19. জুমজার্নাল আর্কাইভ। “পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার সৃষ্টি, শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ” (তথ্যসূত্র: জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, প্রতিম রায়, সুগত চাকমা সম্পাদিত পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আদিবাসীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন): jumjournal.com
  20. ছবি: Rezowan, “Supreme Court by Rezowan.JPG”, CC BY-SA 4.0, উইকিমিডিয়া কমন্স: commons.wikimedia.org

সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:আইন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধি ১৯০০, প্রথাগত আইন

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা