Jumjournal Logo

আদিবাসী স্বীকৃতি দিলে কী হবে: আইনত কী বদলায়, কী বদলায় না

Last updated Oct 19th, 2026

0

মাঠের ওপারে ধূসর আকাশের নিচে ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন, সামনে লাল-হলুদ ফুলের সারি আর বাঁ পাশে একটি নারকেল গাছের পাতা

11 আগস্ট 2026, গুলশানের একটি হোটেল। “আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত আন্দোলন জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি” শিরোনামের গোলটেবিলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, স্বীকৃতি দিলে “জাতিসংঘের ম্যান্ডেট অনুযায়ী ভূখণ্ডের ওপর, সম্পদের ওপর, সামরিক বাহিনী তাদের সবকিছু নিজস্ব হবে” (জাগো নিউজ, 11 আগস্ট 2026)। এক সপ্তাহ পরে দেশের 44 জন নাগরিক বিবৃতি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ যে আইএলও কনভেনশন 107 অনুসমর্থন করেছে, সেটি “আইনত বাধ্যতামূলক” (প্রথম আলো, 19 আগস্ট 2026)। দুই পক্ষই আইনের কথা বলছে। কিন্তু আইনের পাঠ কী বলে?

সংক্ষেপে উত্তর: আদিবাসী স্বীকৃতি দিলে কী হবে, তা নির্ভর করে স্বীকৃতিটি কোন পথে আসে তার ওপর। সংবিধানে শুধু শব্দ বদলালে আদালতে বলবৎযোগ্য নতুন অধিকার তৈরি হয় না; আইএলও কনভেনশন 169 অনুসমর্থন করলে পরামর্শ, ভূমি ও স্থানান্তর নিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক দায় আসে; জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র (UNDRIP) মেনে নিলে বাধ্যতামূলক কোনো দায় আসে না। কোনো দলিলই ভূখণ্ডের ওপর রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বা খনিজের মালিকানা কোনো জনগোষ্ঠীর হাতে তুলে দেয় না।

এই লেখায় দলিলগুলোর ধারা পাশাপাশি রাখা হয়েছে — বাংলাদেশের সংবিধান, 1972 সাল থেকে বাংলাদেশে বলবৎ আইএলও কনভেনশন 107, অনুসমর্থন-না-করা কনভেনশন 169, আর 2007 সালের জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র — সঙ্গে আইন-গবেষকদের লেখা, আর স্বীকৃতির পক্ষে ও বিপক্ষে যাঁরা প্রকাশ্যে যুক্তি দিয়েছেন তাঁদের বক্তব্য, তাঁদের নামসহ। কোন পক্ষ ঠিক, সেই রায় এখানে নেই। আন্তর্জাতিক আইনে ‘আদিবাসী’র সংজ্ঞা আলাদা লেখায় আছে: আদিবাসীর সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনে: আইএলও 107, 169 ও জাতিসংঘের দলিল। রাষ্ট্রের নথিতে কোন শব্দ কবে এসেছে, তার কালানুক্রম আছে রাষ্ট্র কোন শব্দ ব্যবহার করে লেখায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে জুমজার্নালের সব লেখা একসঙ্গে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব পাতায়।

সূচিপত্র

  1. আদিবাসী স্বীকৃতি দিলে কী হবে: ‘স্বীকৃতি’ বলতে আসলে চারটি আলাদা আইনি কাজ
  2. আইএলও 107: শব্দ যা-ই হোক, 1972 থেকে যে দায় ইতিমধ্যে আছে
  3. সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দ বসালে আইনত কী বদলায়
  4. আইএলও কনভেনশন 169 অনুসমর্থন করলে কী কী নতুন দায় আসে
  5. আইএলও 169 কী দেয় না: ভেটো, খনিজের মালিকানা, ‘peoples’-এর আন্তর্জাতিক অর্থ
  6. জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র মেনে নিলে আইনত কী বদলায়
  7. অনুচ্ছেদ 30: সেনা কার্যক্রম নিয়ে দলিলে আসলে কী লেখা
  8. সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড হারানোর আশঙ্কা: যুক্তিটি কী, আর দলিল কী বলে
  9. পাহাড়ের বাঙালিদের জমি ও বসবাস: আশঙ্কা আর আইনের পাঠ
  10. দেশের আদালতে কী বলবৎ হয়: চুক্তি অনুসমর্থন আর আইন প্রণয়নের পার্থক্য
  11. পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনে যা ইতিমধ্যে আছে, ‘আদিবাসী’ শব্দ ছাড়াই
  12. স্বীকৃতির বিপক্ষের যুক্তিগুলো, যাঁরা দিয়েছেন তাঁদের ভাষায়
  13. স্বীকৃতির পক্ষের যুক্তিগুলো, যাঁরা দিয়েছেন তাঁদের ভাষায়
  14. রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক পরিসরে কী বলেছে: ইউপিআর-এর রেকর্ড
  15. অন্য দেশে স্বীকৃতি আইনত কী বদলেছে: নেপাল, জাপান, ফিলিপাইন, ভারত
  16. এক ছকে: কোন পদক্ষেপে কী বদলায়, কী বদলায় না
  17. প্রশ্নোত্তর
  18. যা এখনো জানা যায়নি
  19. তথ্যসূত্র

আদিবাসী স্বীকৃতি দিলে কী হবে: ‘স্বীকৃতি’ বলতে আসলে চারটি আলাদা আইনি কাজ

‘আদিবাসী স্বীকৃতি’ একটি কাজ নয়, অন্তত চারটি: সংবিধানে শব্দ বসানো, আইএলও কনভেনশন 169 অনুসমর্থন, জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রে সমর্থন জানানো, আর আলাদা একটি জাতীয় আইন করা। প্রতিটির আইনি ফল আলাদা। বিতর্কে প্রায়ই চারটিকে এক ধরে নেওয়া হয়, তাই একটির ফলাফল অন্যটির ঘাড়ে চাপে।

তাজুল ইসলাম “জাতিসংঘের ম্যান্ডেট” বলেছেন। ইত্তেফাকে এ এইচ এম ফারুক লিখেছেন আইএলও 169-এর অনুচ্ছেদ 30-এর কথা। 44 নাগরিক বলেছেন আইএলও 107-এর কথা। শক্তিপদ ত্রিপুরা 2011 সালে বলেছিলেন সংবিধানের কথা। চারজন চারটি আলাদা দলিলের কথা বলছেন, আর প্রতিটি দলিলের আইনি ওজন আলাদা।

পথ দলিলের ধরন বাংলাদেশে এখনকার অবস্থা আদালতে সরাসরি বলবৎ?
সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দ দেশের সর্বোচ্চ আইন নেই; অনুচ্ছেদ 23ক-তে ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়’ নির্ভর করে কোন ভাগে বসানো হয় তার ওপর
আইএলও কনভেনশন 107 (1957) আন্তর্জাতিক চুক্তি, বাধ্যতামূলক 22 জুন 1972 থেকে অনুসমর্থিত, বলবৎ না — দেশের আইনে অন্তর্ভুক্ত না হলে
আইএলও কনভেনশন 169 (1989) আন্তর্জাতিক চুক্তি, অনুসমর্থনে বাধ্যতামূলক অনুসমর্থন করা হয়নি না — একই কারণে
জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র (2007) সাধারণ পরিষদের ঘোষণা, বাধ্যতামূলক নয় 2007 সালের ভোটে বিরত না

সূত্র: আইএলও NORMLEX-এর অনুসমর্থন তালিকা (C107, C169); জাতিসংঘের 13 সেপ্টেম্বর 2007-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি। আদালতে বলবৎযোগ্যতার প্রশ্ন নিচে আলাদা অংশে।

আইএলও 107: শব্দ যা-ই হোক, 1972 থেকে যে দায় ইতিমধ্যে আছে

বাংলাদেশ 22 জুন 1972 আইএলও কনভেনশন 107 অনুসমর্থন করেছে, আর এটি এখনো বলবৎ। কনভেনশনটি ‘ট্রাইবাল’ ও ‘সেমি-ট্রাইবাল’ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, তাই রাষ্ট্র কোনো জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ না বলে ‘উপজাতি’ বললেও এর দায় থেকে যায়। ঐতিহ্যগতভাবে দখলে থাকা ভূমির মালিকানা স্বীকারের ধারাটিও এর মধ্যে।

কনভেনশনের অনুচ্ছেদ 1(1)-এর দুটি উপদফা। (ক) উপদফা প্রযোজ্য “tribal or semi-tribal populations”-এর ক্ষেত্রে, যাদের মর্যাদা পুরোপুরি বা আংশিকভাবে নিজস্ব প্রথা বা “special laws or regulations” দিয়ে নিয়ন্ত্রিত। (খ) উপদফা সেই জনগোষ্ঠীর জন্য, যাদের “regarded as indigenous” বলে গণ্য করা হয় বিজয় বা উপনিবেশ স্থাপনের সময়ের অধিবাসীদের বংশধর হিসেবে (আইএলও NORMLEX, C107-এর পূর্ণ পাঠ)।

এই দুই উপদফার আইনি সম্পর্ক নিয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত বাংলাদেশ-কেন্দ্রিক বিশ্লেষণটি আইএলও-র জন্য রাজা দেবাশীষ রায়ের 2009 সালের তুলনামূলক গবেষণা। তিনি লিখেছেন, কনভেনশনটি তিন ধরনের জনগোষ্ঠী চেনার আলাদা মাপকাঠি দিলেও বিধান প্রয়োগের সময় তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না — “the provisions of the Convention apply equally to members of all three groups – indigenous, tribal and semi-tribal – without any distinction” (Roy 2009, পৃ. 3)।

এর অর্থ দাঁড়ায়: সংবিধান 23ক যে ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহার করে, কনভেনশন 107-এর ‘tribal’ শব্দটি সেই জায়গাতেই পড়ে। ইত্তেফাকে এ এইচ এম ফারুক একই তথ্য থেকে উল্টো সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন: তাঁর মতে কনভেনশন 107-এ ‘Indigenous’ ও ‘Tribal’ আলাদাভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর সংবিধানে ‘উপজাতি’ লেখা “এই কনভেনশনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ” (ইত্তেফাক, 28 এপ্রিল 2026)। দুই ব্যাখ্যাই এক জায়গায় মেলে: কনভেনশন 107-এর দায় শব্দের ওপর নির্ভর করে না।

কনভেনশন 107 কী দায় দেয়, তার কয়েকটি ধারা হুবহু পড়ার মতো:

  • অনুচ্ছেদ 11: “The right of ownership, collective or individual, of the members of the populations concerned over the lands which these populations traditionally occupy shall be recognised.” — ঐতিহ্যগতভাবে দখলে থাকা ভূমির ওপর সমষ্টিগত বা ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করতে হবে।
  • অনুচ্ছেদ 12(1): সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে তাদের অবাধ সম্মতি ছাড়া অভ্যাসগত এলাকা থেকে সরানো যাবে না — তবে ব্যতিক্রম জাতীয় নিরাপত্তা, জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা তাদের স্বাস্থ্যের কারণে, জাতীয় আইন মেনে। 12(2) অনুযায়ী সরাতে হলে অন্তত সমান মানের জমি দিতে হবে।
  • অনুচ্ছেদ 13(2): প্রথা বা আইনের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে বাইরের মানুষ যেন তাদের জমির মালিকানা বা ব্যবহার না নিতে পারে, তার ব্যবস্থা করতে হবে।
  • অনুচ্ছেদ 23(1): শিশুদের মাতৃভাষায় পড়তে-লিখতে শেখাতে হবে, তা সম্ভব না হলে গোষ্ঠীর সবচেয়ে প্রচলিত ভাষায়।

কনভেনশনটির একটি দুর্বলতাও আইএলও নিজে স্বীকার করে। আইএলও-র 2013 সালের হ্যান্ডবুক লিখেছে, কনভেনশন 107-এর “inherent assimilationist orientation” ছিল, আর 1986 সালে আইএলও-র এক বিশেষজ্ঞ কমিটি একে “obsolete” বলেছিল; এটি এখন 17টি দেশে বলবৎ (ILO 2013, পৃ. 4)। NORMLEX-এর তালিকাও একই হিসাব দেয়: 27টি অনুসমর্থন, যার 10টি বাতিল। বাকি দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান আছে।

আরেকটি তথ্য সামনের কয়েক বছরের জন্য প্রাসঙ্গিক। NORMLEX অনুযায়ী কনভেনশন 107 প্রত্যাহারের (denunciation) পরের সুযোগ 2 জুন 2029 থেকে 2 জুন 2030। অনুচ্ছেদ 32 অনুযায়ী সেই এক বছরে প্রত্যাহার না করলে রাষ্ট্র আরও দশ বছরের জন্য বাঁধা থাকে। অর্থাৎ রাষ্ট্র চাইলে স্বীকৃতি না দিয়েও কনভেনশন 107 থেকে বেরিয়ে আসতে পারে — শুধু ওই নির্দিষ্ট সময়ে। কোনো সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে, এমন তথ্য কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

সবুজ ঘাসের মাঠ আর গাছের সারির মাঝে কংক্রিটের নামফলক, তাতে ফরাসি, ইংরেজি ও স্প্যানিশে আন্তর্জাতিক শ্রম দপ্তরের নাম আর দুই পাশে আইএলও-র গোল প্রতীক
জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম দপ্তরের প্রবেশপথ। কনভেনশন 107 ও 169 — দুটিই এই সংস্থার, আর অনুসমর্থনকারী রাষ্ট্রের প্রতিবেদন এখানকার বিশেষজ্ঞ কমিটি পর্যালোচনা করে। ছবি: Guilhem Vellut · CC BY 2.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দ বসালে আইনত কী বদলায়

শুধু শব্দ বদলালে খুব কম। অনুচ্ছেদ 23ক সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে, যার নীতি অনুচ্ছেদ 8(2) অনুযায়ী আদালতে বলবৎযোগ্য নয়; সেখানে ‘উপজাতি’র জায়গায় ‘আদিবাসী’ লিখলেও সেটি বলবৎযোগ্য হবে না। কোটা ও বিশেষ সুবিধার ভিত্তি আলাদা অনুচ্ছেদে, 28(4) ও 29(3)(ক)-এ, যেগুলো কোনো জাতিগত নাম ব্যবহার করে না।

অনুচ্ছেদ 23ক 2011 সালের পঞ্চদশ সংশোধনীতে যুক্ত হয়েছে। এটি রাষ্ট্রকে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব দেয়, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অধিকার দেয় না। আর অনুচ্ছেদ 8(2) বলে দ্বিতীয় ভাগের নীতি “আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না”। এই দুই অনুচ্ছেদের পূর্ণ পাঠ ও আদালতের নজির আছে সংবিধানের 23ক অনুচ্ছেদ আদালতে বলবৎ করা যায় না লেখায়।

কোটা ও বিশেষ সুবিধার প্রশ্নটি স্বীকৃতির তর্কে বারবার আসে। সংবিধানের ইংরেজি পাঠে অনুচ্ছেদ 28(4): “Nothing in this article shall prevent the State from making special provision in favour of women or children or for the advancement of any backward section of citizens.” অনুচ্ছেদ 29(3)(a) রাষ্ট্রকে প্রজাতন্ত্রের কর্মে “any backward section of citizens”-এর জন্য বিশেষ বিধান করার সুযোগ দেয় (bdlaws, অনুচ্ছেদ 28; অনুচ্ছেদ 29)। দুটি অনুচ্ছেদেই মাপকাঠি ‘অনগ্রসর অংশ’, জাতিগত পরিচয় নয়। কোটার হিসাব নিয়ে আলাদা লেখা: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কোটা কারা পাচ্ছেন।

এখানে একটি অমিল আছে। বাংলাভিশনের ডেপুটি হেড অব নিউজ মোস্তফা কামাল ইত্তেফাকে লিখেছেন, অনুচ্ছেদ 23ক-তে তাঁদের জন্য চাকরি ও ভর্তিতে কোটা সুবিধা রয়েছে (ইত্তেফাক, 9 আগস্ট 2026)। bdlaws-এ 23ক-এর পাঠে কেবল সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথা; বিশেষ বিধানের সুযোগ 28(4) ও 29(3)-এ।

শব্দের সঙ্গে আর কী বদলাতে হতো — 2011 সালের একটি প্রস্তাব

স্বীকৃতির পক্ষের লেখকদের মধ্যেই কেউ কেউ বলেছেন, শুধু শব্দ বদলালে আইনি কিছু বদলাবে না। 20 এপ্রিল 2011 ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে কাপেং ফাউন্ডেশন ও আইএলও-র আলোচনা সভায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা লিখিত বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘আদিবাসী’ শব্দটি “সংবিধানের দু’একটি অনুচ্ছেদে সংযোজন” করে আর একটি তফসিলে জাতিগুলোর নাম তালিকাভুক্ত করে “সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়টি শেষ হয়ে যেতে পারে না” (আমাদের আর্কাইভে প্রবন্ধটি)।

তাঁর নয় দফা প্রস্তাবের কয়েকটি দেখায়, আইনি পরিবর্তন আসলে কোথায় চাওয়া হচ্ছিল: সংবিধানে রাষ্ট্রীয়, সমবায় ও ব্যক্তিগত মালিকানার পাশে “সমষ্টিগত মালিকানা” যুক্ত করা; প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি; জাতীয় সংসদে আসন সংরক্ষণ; পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ শাসিত অঞ্চল হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি; আর আদিবাসী-সংক্রান্ত আইন বদলের আগে আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ ও প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা বাধ্যতামূলক করা। এর কোনোটিই ‘আদিবাসী’ শব্দ থেকে আপনা-আপনি আসে না; প্রতিটির জন্য আলাদা সাংবিধানিক বিধান লাগত।

একই প্রবন্ধে আরেকটি পর্যবেক্ষণ আছে, যা বিপক্ষের যুক্তির উত্তর হিসেবে লেখা: সরকারের কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে নাকি এই ধারণা আছে যে স্বীকৃতি দিলে আদিবাসীরা বাঙালিদের চেয়ে বেশি অধিকার ভোগ করবেন। শক্তিপদ ত্রিপুরা এই ধারণাকে “হাস্যকর” বলেছেন। বিপক্ষের লেখকেরা এই আশঙ্কাটিকেই কেন্দ্রীয় যুক্তি হিসেবে দেখেন — সেটি নিচে আলাদা অংশে।

আইএলও কনভেনশন 169 অনুসমর্থন করলে কী কী নতুন দায় আসে

কনভেনশন 169 অনুসমর্থন করলে চারটি নতুন দায় আসে: সরাসরি প্রভাবিত করে এমন আইন ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের আগে প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ (অনুচ্ছেদ 6), উন্নয়নের অগ্রাধিকার ঠিক করার অধিকার (7), ভূমির মালিকানা ও দখলের স্বীকৃতি এবং দাবি নিষ্পত্তির পদ্ধতি (14), আর স্থানান্তরে সম্মতির শর্ত (16)। একই সঙ্গে কনভেনশন 107 আপনা-আপনি বাতিল হয়।

দায়গুলোর মূল পাঠ (আইএলও NORMLEX, C169-এর পূর্ণ পাঠ):

  • অনুচ্ছেদ 1(2): “Self-identification as indigenous or tribal shall be regarded as a fundamental criterion” — কারা কনভেনশনের আওতায়, তা ঠিক করতে আত্মপরিচয় মৌলিক মাপকাঠি। কনভেনশন 107-এ এই বাক্য নেই।
  • অনুচ্ছেদ 6(1)(ক): সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে এমন আইন বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিবেচনার সময় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরামর্শ করতে হবে। 6(2) বলে, পরামর্শের উদ্দেশ্য হবে “achieving agreement or consent”।
  • অনুচ্ছেদ 7(1): উন্নয়ন-প্রক্রিয়ায় নিজেদের অগ্রাধিকার নির্ধারণের অধিকার, আর জাতীয় ও আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ।
  • অনুচ্ছেদ 14(1)–(3): ঐতিহ্যগতভাবে দখলে থাকা ভূমির ওপর “rights of ownership and possession” স্বীকার করতে হবে; জুমচাষি (“shifting cultivators”) ও যাযাবরদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর; ভূমি চিহ্নিত করতে হবে; আর দেশের আইনি ব্যবস্থার ভেতরে ভূমি-দাবি নিষ্পত্তির পদ্ধতি রাখতে হবে।
  • অনুচ্ছেদ 16: সাধারণভাবে দখলের ভূমি থেকে সরানো যাবে না; ব্যতিক্রমী প্রয়োজনে স্থানান্তর হবে “free and informed consent”-এ; সম্মতি না মিললে জাতীয় আইনে নির্ধারিত পদ্ধতি, প্রয়োজনে গণশুনানি মেনে; কারণ দূর হলে ফেরার অধিকার।

কনভেনশন 107-এর সঙ্গে তুলনা করলে বদলটা স্পষ্ট হয়:

বিষয় কনভেনশন 107 (বাংলাদেশে বলবৎ) কনভেনশন 169 (অনুসমর্থিত নয়)
লক্ষ্য সুরক্ষা ও “progressive integration” (অনু. 2) অধিকার ও সত্তার সুরক্ষা, অংশগ্রহণসহ (অনু. 2)
কে আওতায় রাষ্ট্রের বর্ণনা: ট্রাইবাল, সেমি-ট্রাইবাল, ইন্ডিজেনাস আত্মপরিচয় মৌলিক মাপকাঠি (অনু. 1(2))
ভূমি মালিকানা স্বীকার (অনু. 11) মালিকানা ও দখল স্বীকার, চিহ্নিতকরণ, দাবি নিষ্পত্তির পদ্ধতি (অনু. 14)
স্থানান্তর সম্মতি ছাড়া নয়, তবে নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ব্যতিক্রম (অনু. 12) সম্মতি; না মিললে আইনি পদ্ধতি ও গণশুনানি; ফেরার অধিকার (অনু. 16)
পরামর্শ আলাদা সাধারণ দায় নেই আইন ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের আগে বাধ্যতামূলক (অনু. 6)
প্রথাগত আইন জাতীয় আইন ও “integration programmes”-এর সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ না হলে রাখা যাবে (অনু. 7(2)) মৌলিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ না হলে রাখার অধিকার (অনু. 8(2))

অনুসমর্থনের আইনি প্রক্রিয়াটিও কনভেনশনেই লেখা। কনভেনশন 169-এর অনুচ্ছেদ 36: “This Convention revises the Indigenous and Tribal Populations Convention, 1957.” আর কনভেনশন 107-এর অনুচ্ছেদ 36(1)(ক) অনুযায়ী সংশোধনকারী কনভেনশন অনুসমর্থন করলে পুরোনোটি “ipso jure” — আইনের জোরেই — তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহৃত হয়। NORMLEX-এর তালিকায় আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, মেক্সিকোসহ নয়টি দেশের নামের পাশে লেখা “Automatic Denunciation … by convention C169”।

আইএলও-র হ্যান্ডবুক অনুসমর্থনের সিদ্ধান্তকে বলেছে “a sovereign and voluntary decision of a State”, আর লিখেছে, অনুসমর্থনকারী রাষ্ট্রকে আইন ও নীতি পর্যালোচনা করে সমন্বয় করতে হয় (ILO 2013, পৃ. 5)। অনুসমর্থনের পর নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দিতে হয়, যা আইএলও-র বিশেষজ্ঞ কমিটি পর্যালোচনা করে। বাংলাদেশ কনভেনশন 107-এর আওতায় এই তদারকির মধ্যেই আছে; 1998 সালেই Benedict Kingsbury লিখেছিলেন, কনভেনশন 107-এর অধীনে আইএলও-র বিশেষজ্ঞ কমিটি পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্যাতনের বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছে (Kingsbury 1998)।

আইএলও 169 কী দেয় না: ভেটো, খনিজের মালিকানা, ‘peoples’-এর আন্তর্জাতিক অর্থ

কনভেনশন 169 তিনটি জিনিস দেয় না। পরামর্শের দায় ভেটোর অধিকার নয়; খনিজ ও ভূগর্ভস্থ সম্পদ রাষ্ট্রের মালিকানায় থাকতে পারে; আর ‘peoples’ শব্দ ব্যবহারের ফলে আন্তর্জাতিক আইনে কোনো অধিকারের ইঙ্গিত টানা যাবে না। তিনটি কথাই কনভেনশনের পাঠে বা আইএলও-র নিজস্ব ব্যাখ্যায় লেখা।

ভেটো নয়। আইএলও-র হ্যান্ডবুক একটি প্রশ্নের শিরোনাম দিয়েছে — “Is there a requirement to reach consent?” উত্তর: অনুচ্ছেদ 6(2) অনুযায়ী পরামর্শের উদ্দেশ্য সম্মতি অর্জন, কিন্তু “Convention No. 169 does not provide indigenous peoples with a veto right” (ILO 2013, পৃ. 16)। একই হ্যান্ডবুকে আইএলও-র বিশেষজ্ঞ কমিটির 2010 সালের সাধারণ পর্যবেক্ষণের সারাংশ: এমন পরামর্শ “do not imply a right to veto”, তবে শুধু তথ্য জানিয়ে দেওয়া বা লোক-দেখানো সভা কনভেনশনের শর্ত পূরণ করে না (পৃ. 13)।

খনিজের মালিকানা নয়। অনুচ্ছেদ 15(2) শুরুই হয় এই কথায়: “In cases in which the State retains the ownership of mineral or sub-surface resources…”। অর্থাৎ কনভেনশন ধরে নেয় রাষ্ট্র খনিজের মালিক থাকতে পারে; তখন রাষ্ট্রকে অনুসন্ধান বা উত্তোলনের আগে পরামর্শ করতে হবে, সম্ভব হলে লাভের ভাগ দিতে হবে, আর ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। হ্যান্ডবুকও একে সাধারণ নীতির “exception” বলেছে (পৃ. 22)।

‘peoples’ শব্দে আন্তর্জাতিক অধিকার নয়। অনুচ্ছেদ 1(3): “The use of the term peoples in this Convention shall not be construed as having any implications as regards the rights which may attach to the term under international law.” আন্তর্জাতিক আইনে ‘peoples’ শব্দের সঙ্গে আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন জড়িত; কনভেনশন শব্দটি ব্যবহার করেও সেই সংযোগ কেটে দিয়েছে। আইএলও-র হ্যান্ডবুক লিখেছে, জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্পষ্টভাবে বলে, কিন্তু “Convention No. 169 does not include such a provision” (পৃ. 10)।

স্থানান্তর একেবারে নিষিদ্ধ নয়। অনুচ্ছেদ 16(2) অনুযায়ী সম্মতি না মিললেও জাতীয় আইনে নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে স্থানান্তর হতে পারে। শর্ত হলো পদ্ধতিতে জনগোষ্ঠীর কার্যকর প্রতিনিধিত্বের সুযোগ থাকা।

জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র মেনে নিলে আইনত কী বদলায়

জাতিসংঘ আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র (UNDRIP) চুক্তি নয়, সাধারণ পরিষদের ঘোষণা; এতে সই বা অনুসমর্থনের ব্যবস্থা নেই, তাই এটি মেনে নিলে বাংলাদেশের ওপর নতুন বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক দায় তৈরি হয় না। এর প্রভাব রাজনৈতিক ও ব্যাখ্যামূলক — দেশের আইন বা নীতিতে ঢোকানো হলে তবেই তা আইনি রূপ পায়।

ঘোষণাপত্রের আইনি মর্যাদা, ভোটের হিসাব আর প্রধান অনুচ্ছেদগুলোর ব্যাখ্যা আছে জাতিসংঘ আদিবাসী ঘোষণাপত্র (UNDRIP): কী বলে, বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে লেখায়। এখানে শুধু দুটি কথা, যা ‘কী বদলায়’ প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

প্রথমত, বাংলাদেশ কেন বিরত ছিল, তার কারণ রাষ্ট্র নিজেই 13 সেপ্টেম্বর 2007 সাধারণ পরিষদে বলেছিল। জাতিসংঘের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিনিধি Ishrat Jahan Ahmed বলেন, বাংলাদেশ আদিবাসীদের অধিকার সমর্থন করে, কিন্তু ঘোষণাপত্রে কিছু অস্পষ্টতা আছে, বিশেষ করে “indigenous people” কোনোভাবে চিহ্নিত বা সংজ্ঞায়িত হয়নি, আর পাঠটিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ঐকমত্য ছিল না; “Under such circumstances, Bangladesh had abstained in the vote” (UN GA/10612)। কারণগুলো সংজ্ঞা ও ঐকমত্য নিয়ে; সার্বভৌমত্ব বা ভূখণ্ডের কথা সেই বক্তব্যে নেই।

দ্বিতীয়ত, ঘোষণাপত্র নিজে নতুন অধিকার তৈরি করে কি না, তা নিয়ে রাষ্ট্রগুলোর ব্যাখ্যা ছিল। একই দিনে নেপালের প্রতিনিধি বলেন, ঘোষণাপত্র আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সদিচ্ছা প্রকাশ করে এবং “did not create any new rights”। আইএলও-র হ্যান্ডবুকও লিখেছে, ঘোষণাপত্র নতুন অধিকার প্রতিষ্ঠা করে না, বিদ্যমান অধিকারকে আদিবাসীদের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করে (ILO 2013, পৃ. 10)।

বাংলাদেশের ভোট নিয়ে প্রকাশিত লেখাতেও অমিল আছে: ডেইলি স্টার বাংলায় মো. আব্বাস লিখেছেন বাংলাদেশ ঘোষণাপত্রের “পক্ষে ভোট দিয়েছিল” (9 আগস্ট 2026), আর জাতিসংঘের প্রেস বিজ্ঞপ্তির ভোট-তালিকায় বাংলাদেশ “Abstain” সারিতে।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের হলঘর, সারি সারি ডেস্কে প্রতিনিধিদের আসন আর সামনের সোনালি দেয়ালে জাতিসংঘের প্রতীক
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের হল। 13 সেপ্টেম্বর 2007 এখানেই আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। ছবি: Basil D Soufi · CC BY-SA 3.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

অনুচ্ছেদ 30: সেনা কার্যক্রম নিয়ে দলিলে আসলে কী লেখা

সেনা কার্যক্রম নিয়ে বিধানটি জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ 30-এ, যা বাধ্যতামূলক নয়। এটি আদিবাসীদের ভূমিতে সামরিক কার্যক্রম নিষেধ করে, তবে “relevant public interest” থাকলে ব্যতিক্রম রাখে, আর আগে পরামর্শ করতে বলে। আইএলও কনভেনশন 169-এর অনুচ্ছেদ 30-এর বিষয় আলাদা — অধিকার সম্পর্কে জনগোষ্ঠীকে জানানো।

এই প্রশ্নটি বিপক্ষের যুক্তিতে কেন্দ্রীয় জায়গা নেয়, তাই দুই দলিলের পাঠ হুবহু দেওয়া হলো।

জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র, অনুচ্ছেদ 30(1): “Military activities shall not take place in the lands or territories of indigenous peoples, unless justified by a relevant public interest or otherwise freely agreed with or requested by the indigenous peoples concerned.” 30(2): ভূমি বা ভূখণ্ড সামরিক কাজে ব্যবহারের আগে রাষ্ট্র প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে “effective consultations” করবে (UNDRIP, জাতিসংঘের প্রকাশিত পাঠ)।

আইএলও কনভেনশন 169, অনুচ্ছেদ 30(1): সরকার জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উপযোগী উপায়ে তাদের “rights and duties” জানানোর ব্যবস্থা করবে — বিশেষত শ্রম, অর্থনৈতিক সুযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ ও কনভেনশন থেকে প্রাপ্ত অধিকার সম্পর্কে। 30(2): প্রয়োজনে তাদের ভাষায় লিখিত অনুবাদ ও গণমাধ্যম ব্যবহার করে। আইএলও-র হ্যান্ডবুক লিখেছে, ঘোষণাপত্র এমন কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলে যা কনভেনশন 169-এ নেই, যেমন “the militarization of indigenous lands” (ILO 2013, পৃ. 10)।

এ এইচ এম ফারুক ইত্তেফাকে লিখেছেন, “আইএলও 169-এর অনুচ্ছেদ 30 এবং ইউএনডিআরআইপি-এর একই ধারায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সম্মতি বা অনুরোধ ছাড়া রাষ্ট্র ঐ অঞ্চলে কোনো সামরিক কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারবে না।” তিনি নিজেও লিখেছেন, “তাত্ত্বিকভাবে এখানে ‘জনস্বার্থের’ কথা বলা হলেও” বাস্তবে সম্মতির দোহাই দিয়ে সেনাতৎপরতা আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে তাঁর আশঙ্কা (ইত্তেফাক, 28 এপ্রিল 2026)। মোস্তফা কামালও তাঁর লেখায় “ভূমি ও ভূখণ্ডের ওপর সামরিক কার্যক্রম বন্ধের অধিকার”কে স্পর্শকাতর অধিকারের তালিকায় রেখেছেন (ইত্তেফাক, 9 আগস্ট 2026)।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে আরেকটি নথি এই প্রশ্নে আগে থেকেই আছে, যা কোনো আন্তর্জাতিক দলিল নয়। 1997 সালের চুক্তির ঘ-খণ্ডের ধারা 17(ক) অনুযায়ী সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও ছয়টি স্থায়ী সেনানিবাস ছাড়া সামরিক বাহিনী, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প পর্যায়ক্রমে ফেরত যাওয়ার কথা। ধারাটির পাঠ ও বাস্তবায়নের হিসাব আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997: ধারা ধরে ধরে লেখায়। চুক্তিটি সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে, ‘আদিবাসী’ শব্দ ছাড়াই।

সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড হারানোর আশঙ্কা: যুক্তিটি কী, আর দলিল কী বলে

বিপক্ষের প্রধান যুক্তি: স্বীকৃতি দিলে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের আন্তর্জাতিক দাবি উঠবে, যা দেশের এক-দশমাংশ ভূখণ্ড পার্বত্য চট্টগ্রামের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে পারে। দলিলের দিক থেকে, ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ 46(1) বলে এর কিছুই রাষ্ট্রের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক ঐক্য ক্ষুণ্ন করার অনুমোদন হিসেবে পড়া যাবে না।

যুক্তিটি যাঁরা দিয়েছেন, তাঁদের ভাষায়:

  • মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর): “আদিবাসী স্বীকৃতি দেওয়া মানে হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ওপর আপনি আপনার রাষ্ট্রের অধিকার হারাবেন।” তাঁর হিসাবে তখন “বাংলাদেশের এই এক-দশমাংশ ভূখণ্ড আপনাকে ছেড়ে দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক, সামরিক ও সম্পদের দিক থেকে অঞ্চলটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (জাগো নিউজ, 11 আগস্ট 2026)।
  • এ এইচ এম ফারুক (সাংবাদিক, লেখক): ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ 3-এর “অপব্যাখ্যা করে” কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ভবিষ্যতে আলাদা রাষ্ট্রের দাবি তোলার আইনি সুযোগ পেতে পারে; অনুচ্ছেদ 4 “রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে আরেকটি সমান্তরাল প্রশাসনিক কাঠামো” তৈরির সুযোগ দেয় (ইত্তেফাক, 28 এপ্রিল 2026)।
  • মোস্তফা কামাল: স্বীকৃতি দেওয়া হলে “তৈরি হবে ন্যূনতম স্বায়ত্তশাসন অর্জনের চিকন পথ”; তিনি ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ 4 (স্বায়ত্তশাসন ও অর্থায়ন) এবং 36 (সীমান্তে বিভক্ত জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ) উদ্ধৃত করে লিখেছেন, এসব নির্দেশ ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য “ভয়াবহ” (ইত্তেফাক, 9 আগস্ট 2026)।

দলিলের পাঠ। ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ 3 আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়, অনুচ্ছেদ 4 সেই অধিকারের প্রয়োগকে বর্ণনা করে “autonomy or self-government in matters relating to their internal and local affairs” হিসেবে। আর অনুচ্ছেদ 46(1): এর কিছুই এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না যাতে কোনো রাষ্ট্র, জনগোষ্ঠী, দল বা ব্যক্তি জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী কাজের অধিকার পায়, বা যা “dismember or impair, totally or in part, the territorial integrity or political unity of sovereign and independent States”-এর অনুমোদন বা উৎসাহ হিসেবে গণ্য হয়। এই তিন অনুচ্ছেদের বিস্তারিত পাঠ UNDRIP লেখায় আছে।

রাষ্ট্রগুলো ভোটের দিন এই অনুচ্ছেদ কীভাবে পড়েছিল, তার একটি নমুনা ভারতের বক্তব্য। জাতিসংঘের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ভারতের প্রতিনিধি Ajai Malhotra বলেন, তাঁদের বোঝাপড়ায় আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার কেবল বিদেশি শাসনের অধীন জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সার্বভৌম রাষ্ট্রের কোনো অংশের ক্ষেত্রে নয়; ঘোষণাপত্র আত্মনিয়ন্ত্রণকে অভ্যন্তরীণ ও স্থানীয় বিষয়ে স্বায়ত্তশাসন হিসেবে সীমিত করেছে, আর অনুচ্ছেদ 46 “stated clearly” রাষ্ট্রের অখণ্ডতার কথা। ভারত ঘোষণাপত্রের পক্ষে ভোট দেয়। জর্ডান, প্যারাগুয়ে ও মিয়ানমারও পক্ষে ভোট দিয়ে একই শর্ত উল্লেখ করেছিল (UN GA/10612)।

স্বীকৃতির পক্ষের লেখকেরা এই অনুচ্ছেদকেই তাঁদের মূল উত্তর হিসেবে ব্যবহার করেন। ডেইলি স্টার বাংলায় মো. আব্বাস লিখেছেন, অনুচ্ছেদ 46 দেখায় “আন্তর্জাতিক আইন নিজেই স্বায়ত্তশাসন ও বিচ্ছিন্নতার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য টেনে দিয়েছে” (ডেইলি স্টার বাংলা, 9 আগস্ট 2026)। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন (সিএইচটিসি) ও আইডব্লিউজিআইএ-র যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই পরিচয়ের স্বীকৃতি “জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা কিংবা আঞ্চলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি নয়” (প্রথম আলো, 13 আগস্ট 2026)।

দুই পক্ষের তর্কের কেন্দ্রটি দলিলের পাঠ নিয়ে নয়, পাঠের বাইরের আশঙ্কা নিয়ে: বিপক্ষ বলছে ‘অপব্যাখ্যা’ ও ‘ভবিষ্যতের দাবি’র কথা, পক্ষ বলছে লেখা ধারার কথা। দলিল কোনো জনগোষ্ঠীকে ভূখণ্ড হস্তান্তর করার কথা কোথাও বলে না — এ কথা দলিলের পাঠে যাচাই করা যায়। ভবিষ্যতে কে কী দাবি তুলবে, তা কোনো দলিল থেকে যাচাই করা যায় না।

পাহাড়ের বাঙালিদের জমি ও বসবাস: আশঙ্কা আর আইনের পাঠ

chtnews24-এ নুরুল আলমের বিবরণ অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক বাঙালি সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, স্বীকৃতি পেলে ঐতিহাসিক বসবাসের ভিত্তিতে নতুন ভূমি-দাবি উঠবে এবং বাঙালিরা উচ্ছেদের মুখে পড়বেন। আইনের দিক থেকে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ 36 প্রত্যেক নাগরিককে দেশের যেকোনো স্থানে বসবাসের অধিকার দেয়, আর স্বীকৃতির কোনো দলিল এই অনুচ্ছেদ বাতিল করে না; জমির বিরোধ কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, তা ঠিক করে দেশের আইন।

আশঙ্কাটির সবচেয়ে গোছানো বিবরণ রাঙামাটিভিত্তিক chtnews24-এ নুরুল আলমের লেখায়। তিনি লিখেছেন, কোনো জনগোষ্ঠী আদিবাসী স্বীকৃতি পেলে “ভূমি পুনর্বহাল, বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বসবাসরত অন্য জনগোষ্ঠীকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিও” উঠতে পারে; পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীকে “ঐতিহ্যগত ভূমি দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি” উঠতে পারে। তিনি সংবিধানের দেওয়া যেকোনো স্থানে বসবাসের অধিকারের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, তবু স্বীকৃতি পেলে বাঙালি জনগোষ্ঠী “উচ্ছেদের আশঙ্কার মুখে পড়তে পারে” (chtnews24, 16 এপ্রিল 2026)। এ এইচ এম ফারুকও ঘোষণাপত্রের ভূমি-সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ সম্পর্কে লিখেছেন, এতে “দেশের সাধারণ নাগরিকের সমান অধিকার ক্ষুণ্ণ” হবে।

আইনের পাঠে চারটি বিষয় পাশাপাশি রাখা যায়:

  1. সংবিধান, অনুচ্ছেদ 36: “every citizen shall have the right to move freely throughout Bangladesh, to reside and settle in any place therein” — আইনে আরোপিত যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে (bdlaws, অনুচ্ছেদ 36)। কোনো আন্তর্জাতিক দলিল অনুসমর্থন করলে সংবিধানের মৌলিক অধিকার বদলায় না; বদলাতে হলে সংবিধান সংশোধন লাগে।
  2. ঘোষণাপত্র, অনুচ্ছেদ 46(2): ঘোষণাপত্রের অধিকার প্রয়োগে “human rights and fundamental freedoms of all shall be respected” — সবার মানবাধিকার। অধিকার সীমিত করা যাবে কেবল আইনে নির্ধারিত, বৈষম্যহীন ও অন্যের অধিকার রক্ষায় কঠোরভাবে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ দিয়ে।
  3. কনভেনশন 169, অনুচ্ছেদ 14(3): ভূমি-দাবি নিষ্পত্তি হবে “within the national legal system”-এর ভেতরে প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতিতে। দাবি ওঠা আর দাবি মঞ্জুর হওয়া আলাদা জিনিস; কে কোন জমি পাবেন, তা ঠিক করে দেশের আইন ও প্রতিষ্ঠান।
  4. জাতীয় আইন কী লেখে, সেটাই নির্ধারক। ফিলিপাইনের 1997 সালের Indigenous Peoples’ Rights Act একটি উদাহরণ। আইনটি আদিবাসী ‘ancestral domain’ স্বীকার করে, কিন্তু তার ধারা 56 বলে: “Property rights within the ancestral domains already existing and/or vested upon effectivity of this Act, shall be recognized and respected” — আইন কার্যকর হওয়ার সময় বিদ্যমান সম্পত্তি-অধিকার সুরক্ষিত থাকবে (Republic Act No. 8371)। ফিলিপাইন আইএলও 169 অনুসমর্থন করেনি।

বাংলাদেশে ভূমির প্রশ্নটি আসলে স্বীকৃতির আগেই আইনে ঢুকে আছে। 1997 সালের চুক্তি অনুযায়ী সংশোধিত পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের ধারা 64 বলে, পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া জেলার কোনো জমি বন্দোবস্ত, ইজারা, ক্রয়, বিক্রয় বা হস্তান্তর করা যাবে না, তবে রক্ষিত বনাঞ্চল, কাপ্তাই প্রকল্প এলাকা, সরকারের নামে রেকর্ডকৃত ভূমিসহ কয়েকটি ব্যতিক্রম আছে। আর পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন 2001 জমির বিরোধ নিষ্পত্তির কাঠামো দিয়েছে। এই আইনগুলোর বিবরণ পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: 1900 সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন লেখায়। সমতলের ক্ষেত্রে প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা 97 ‘aboriginal castes and tribes’-এর জমি হস্তান্তরে বিধিনিষেধ দেয় — বিস্তারিত প্রজাস্বত্ব আইনের 97 ধারা লেখায়।

দেশের আদালতে কী বলবৎ হয়: চুক্তি অনুসমর্থন আর আইন প্রণয়নের পার্থক্য

বাংলাদেশের আইনব্যবস্থা দ্বৈতবাদী (dualist): আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসমর্থন করলেও তা দেশের আইনে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আদালতে সরাসরি বলবৎ হয় না। তাই কনভেনশন 169 অনুসমর্থন করলেও কেউ শুধু কনভেনশনের ধারা দেখিয়ে আদালতে জমি বা পরামর্শের অধিকার আদায় করতে পারবেন না; তার জন্য সংসদকে আইন করতে হবে।

রাজা দেবাশীষ রায় তাঁর 2009 সালের আইএলও গবেষণায় লিখেছেন: “In dualistic legal systems such as Bangladesh, rights based on international treaties are not directly enforceable in the domestic courts”। তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ ‘monistic’, যেখানে চুক্তি দেশের আইনের অংশ। তাঁর মতে আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার প্রভাব “persuasive leverage”, সরাসরি প্রয়োগের “sting” নয় (Roy 2009, পৃ. 76)।

আপিল বিভাগের একটি রায় এই অবস্থানের সবচেয়ে উদ্ধৃত ভিত্তি। Hussain Muhammad Ershad v. Bangladesh, 21 (2001) BLD (AD) 69 মামলায় বিচারপতি Bimalendu Bikash Roy Choudhury লিখেছেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের নিয়ম “are not directly enforceable in national courts. But if their provisions are incorporated into the domestic law, they are enforceable”। একই রায়ে তিনি বলেন, দেশের আইন অস্পষ্ট হলে আদালত আন্তর্জাতিক দলিলের নীতি থেকে সাহায্য নেবে; কিন্তু দেশের আইন স্পষ্ট ও আন্তর্জাতিক দায়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হলে আদালত দেশের আইন মানবে এবং আইনপ্রণেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে (রায়ের পাঠ, lawyersnjurists)। ডেইলি স্টারের আইন পাতায় একটি লেখা এই মামলাকে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছে, যেখানে আদালত আন্তর্জাতিক আইনের উল্লেখ করলেও সিদ্ধান্ত তার ওপর দাঁড় করায়নি (ডেইলি স্টার, 2 জুন 2008)।

এর ফল তিন স্তরে দাঁড়ায়। সংবিধানে শব্দ যোগ হলে তা দ্বিতীয় ভাগে থাকলে বলবৎযোগ্য নয়, তৃতীয় ভাগে (মৌলিক অধিকার) থাকলে বলবৎযোগ্য। কনভেনশন অনুসমর্থন করলে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক দায় তৈরি হয় এবং আইএলও-র তদারকিতে প্রতিবেদন দিতে হয়, কিন্তু আদালতে সরাসরি দাবি করার পথ খোলে না। আর সংসদ আলাদা আইন করলে সেই আইনের ধারা আদালতে বলবৎ হয় — ঠিক যতটুকু আইনে লেখা, ততটুকু।

পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনে যা ইতিমধ্যে আছে, ‘আদিবাসী’ শব্দ ছাড়াই

কনভেনশন 169-এর কয়েকটি মূল ধারণা — আইন প্রণয়নে পরামর্শ, ভূমি হস্তান্তরে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অনুমতি, স্থানীয় নিয়োগে অগ্রাধিকার — পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনে আগে থেকেই আছে। সেগুলো এসেছে 1997 সালের চুক্তি ও তার ভিত্তিতে করা আইন থেকে, যেখানে ব্যবহৃত শব্দ ‘উপজাতি’ ও ‘উপজাতীয়’।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন 1998-এর ধারা 53(1): “সরকার পরিষদ বা পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে কোন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করিলে পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের সহিত আলোচনাক্রমে এবং পরিষদের পরামর্শ বিবেচনাক্রমে আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।” 53(2) পরিষদকে ক্ষতিকর আইন বদলের সুপারিশ করার অধিকার দেয় (আমাদের আর্কাইভে আইনের পাঠ)। আইনটির প্রস্তাবনায় অঞ্চলটিকে বলা হয়েছে “অনগ্রসর উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল”।

কনভেনশন 169-এর ধারণা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যমান আইন বা চুক্তি পার্থক্য
আইন ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের আগে পরামর্শ (অনু. 6) আঞ্চলিক পরিষদ আইন 1998, ধারা 53; চুক্তির গ-খণ্ড ধারা 13 শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য; পরামর্শের ফল সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, ‘বিবেচনা’ করার কথা
ভূমির নিয়ন্ত্রণ ও হস্তান্তরে সুরক্ষা (অনু. 14, 17) পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, সংশোধিত ধারা 64; ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন 2001 রক্ষিত বন ও সরকারি রেকর্ডের জমি ব্যতিক্রম
প্রথাগত প্রতিষ্ঠান (অনু. 8) 1900 সালের শাসনবিধি: সার্কেল চিফ, হেডম্যান, কার্বারি প্রতিষ্ঠানগুলো ঔপনিবেশিক আইনে গঠিত
সামরিক কার্যক্রম (UNDRIP অনু. 30) চুক্তির ঘ-খণ্ড ধারা 17(ক): অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার সীমান্তরক্ষী ও ছয়টি সেনানিবাস ব্যতিক্রম

সূত্র: আঞ্চলিক পরিষদ আইন 1998 (আমাদের আর্কাইভ); চুক্তির ধারা-ভিত্তিক বিবরণ; ভূমি আইনের ইতিহাস; সার্কেল চিফের ক্ষমতা।

এই ছক একটি প্রশ্ন সামনে আনে, যা দুই পক্ষের যুক্তিতেই আছে। বিপক্ষের লেখকেরা চুক্তির ‘উপজাতি’ শব্দকে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করেন: মোস্তফা কামাল লিখেছেন চুক্তিতে “মোট ১৭ বার উপজাতি শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে” আর জনসংহতি সমিতি তাতে সই করেছে। পক্ষের লেখকেরা বলেন, অধিকারগুলো শব্দ ছাড়াই দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়িত হয়নি। চুক্তির কতগুলো ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে সরকার ও জনসংহতি সমিতির হিসাব আলাদা — চুক্তির লেখায় দুটিই আছে।

স্বীকৃতির বিপক্ষের যুক্তিগুলো, যাঁরা দিয়েছেন তাঁদের ভাষায়

বিপক্ষের যুক্তি পাঁচ ধরনের: সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড; সামরিক কার্যক্রমে বাধা; পাহাড়ের বাঙালিদের ভূমি ও সমান অধিকার; ঐতিহাসিক আগমনের প্রশ্ন; আর কনভেনশন 107-ই যথেষ্ট। প্রতিটি যুক্তি নিচে বক্তার নাম ও প্রকাশের তারিখসহ।

যুক্তি কে বলেছেন কোথায়, কবে
স্বীকৃতি মানে পার্বত্য চট্টগ্রামের ওপর রাষ্ট্রের অধিকার হারানো; “ভূরাজনৈতিক” কারণ মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম গোলটেবিল, জাগো নিউজ, 11 আগস্ট 2026
অনুচ্ছেদ 3, 4, 10, 14 ও 30 সার্বভৌমত্বকে “চরম ঝুঁকির মুখে” ঠেলে দেয়; “আইএলও-১০৭-এর সুরক্ষা বলয় তাদের জন্য যথেষ্ট” এ এইচ এম ফারুক ইত্তেফাক, 28 এপ্রিল 2026
স্বায়ত্তশাসনের “চিকন পথ”; চুক্তিতে ‘উপজাতি’ শব্দ; আগে-পরে আসার ভিত্তিতে ‘আদিবাসী’ বা ‘বহিরাগত’ বলা জাতীয় ঐক্যের নিরিখে “অযৌক্তিক” মোস্তফা কামাল ইত্তেফাক, 9 আগস্ট 2026
বাঙালিদের “ঐতিহ্যগত ভূমি দখলকারী” হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি, উচ্ছেদের আশঙ্কা, শিক্ষা-চাকরিতে নতুন ভারসাম্য নুরুল আলম chtnews24, 16 এপ্রিল 2026
আইএলও 169-এর সংজ্ঞার শর্তে বাঙালিরাও পড়তে পারেন; তখন শুধু সংখ্যালঘুদের স্বীকৃতি “hazard” তৈরি করবে; 23ক-এর স্বীকৃতিতে সন্তুষ্ট থাকা “safe” Dr. Shahjahan Mondol ডেইলি স্টার, 26 আগস্ট 2014
ঘোষণাপত্রে সংজ্ঞা নেই, ঐকমত্য নেই বাংলাদেশ সরকার (Ishrat Jahan Ahmed) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ, 13 সেপ্টেম্বর 2007
সব নাগরিকের পরিচয় ‘বাংলাদেশি’; ঘোষণাপত্র ও আইএলও 169 বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয় সালাহউদ্দিন আহমদ সিএইচটিআরএফ গোলটেবিল, 11 আগস্ট 2026

সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য ও তাঁর পদ নিয়ে দুই পত্রিকার অমিলের বিবরণ আছে রাষ্ট্র কোন শব্দ ব্যবহার করে লেখায়।

ঐতিহাসিক আগমনের যুক্তিটি দুটি রূপে আসে। তাজুল ইসলাম বলেছেন, বাঙালিরা এই ভূখণ্ডে “৪ হাজার বছর আগে” এসেছেন আর চাকমাদের আগমনের ইতিহাস “৩০০ থেকে ৪০০ বছর আগে”; মোস্তফা কামাল লিখেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের কোনো জনগোষ্ঠীই “সপ্তদশ শতকের পূর্বে” এসেছে বলে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। আন্তর্জাতিক আইনের তাত্ত্বিক Benedict Kingsbury 1998 সালে দেখিয়েছিলেন, এশিয়ার কয়েকটি রাষ্ট্রের আপত্তির কেন্দ্রে এই যুক্তিই ছিল: চীন, ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার জোর দিয়েছিল যে আদিবাসী মানে বাইরে থেকে বিজয় বা আক্রমণের শিকার আদি অধিবাসীদের বংশধর (Kingsbury 1998, পৃ. 417, 434)। তিনি আরও লিখেছেন, বাংলাদেশ সরকার বিকল্প হিসেবে যুক্তি দিয়েছিল যে সব বাংলাদেশিই ব্রিটিশ উপনিবেশের আগে থেকে ভূখণ্ডে থাকা আদিবাসী (পৃ. 433, পাদটীকা)। আইনি সংজ্ঞায় ‘কে আগে এসেছে’ কতটা শর্ত, সেই আলোচনা আন্তর্জাতিক সংজ্ঞার লেখায় আছে; ঐতিহাসিক আগমনের প্রমাণ এই লেখার বিষয় নয়।

স্বীকৃতির পক্ষের যুক্তিগুলো, যাঁরা দিয়েছেন তাঁদের ভাষায়

পক্ষের যুক্তি চার ধরনের: আইএলও 107-এর বাধ্যতামূলক দায় শব্দের ওপর নির্ভর করে না; ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ 46 অখণ্ডতা রক্ষা করে; পরিচয় নির্ধারণের অধিকার জনগোষ্ঠীর নিজের; আর রাষ্ট্রের নিজের আইনেই ‘indigenous’ ও ‘aboriginal’ শব্দ আছে। পক্ষের ভেতরেও একটি সতর্কতা আছে: শুধু শব্দের তর্ক অধিকারের প্রশ্ন আড়াল করতে পারে।

যুক্তি কে বলেছেন কোথায়, কবে
কনভেনশন 107 “আইনত বাধ্যতামূলক”; প্রজাস্বত্ব আইনের 97 ধারা, অর্থ আইন 1995, আয়কর আইন 2023 ও শিক্ষানীতি 2010-এ বিশেষ বিধান; আদিবাসী পরিচয় ও নাগরিকত্ব “পরস্পরবিরোধী নয়” 44 নাগরিক (সুলতানা কামাল, ইফতেখারুজ্জামান, সারা হোসেন প্রমুখ) প্রথম আলো, 19 আগস্ট 2026
স্বীকৃতি জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব বা অখণ্ডতার জন্য হুমকি নয়; কনভেনশন 107-এর অধীনে ভূমির অধিকার রক্ষার আইনি দায় সিএইচটিসি ও আইডব্লিউজিআইএ প্রথম আলো, 13 আগস্ট 2026
অনুচ্ছেদ 46 স্বায়ত্তশাসন ও বিচ্ছিন্নতার পার্থক্য টেনে দিয়েছে; কানাডা, নিউজিল্যান্ড, নর্ডিক দেশ, বলিভিয়া ও ইকুয়েডর স্বীকৃতি দিয়ে দুর্বল হয়নি মো. আব্বাস ডেইলি স্টার বাংলা, 9 আগস্ট 2026
শুধু শব্দ যোগ অর্থহীন; ভূমি, প্রতিনিধিত্ব, স্বশাসন ও পরামর্শের অধিকার সংবিধানে লাগবে শক্তিপদ ত্রিপুরা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কাপেং-আইএলও সভা, 20 এপ্রিল 2011
কনভেনশন 107 তিন ধরনের জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না; দ্বৈতবাদী ব্যবস্থায় চুক্তির জোর মূলত “persuasive” রাজা দেবাশীষ রায় আইএলও-র গবেষণা, 2009
সর্বজনীন কঠোর সংজ্ঞা অসম্ভব; ধারণাটি প্রতিটি দেশের নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে প্রয়োগের সময় নির্দিষ্ট হয় Benedict Kingsbury American Journal of International Law, 1998

Kingsbury-র যুক্তিটি আইনি বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি দুই পক্ষের মাঝখানের একটি অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘indigenous peoples’-কে বৈশ্বিক ধারণা হিসেবে অচল ও বিপজ্জনকভাবে অসংলগ্ন মনে করেন এমন মানুষ আছেন, কিন্তু ধারণাটি বহু দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য “great normative power” রাখে; তিনি প্রস্তাব করেছিলেন একে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের সংজ্ঞা হিসেবে নয়, বরং একটি “continuous process” হিসেবে দেখতে, যা প্রতিটি সমাজের রাজনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োগের সময় নির্দিষ্ট রূপ পায় (Kingsbury 1998, পৃ. 415)।

পক্ষের ভেতরের সতর্কতাটি এসেছে হানা শামস আহমেদের লেখায়, যিনি আন্তর্জাতিক সিএইচটি কমিশনের সাবেক সমন্বয়ক এবং 2026 সালের 44 নাগরিকের বিবৃতির স্বাক্ষরকারীদেরও একজন। আমাদের আর্কাইভে প্রকাশিত অনুবাদে তাঁর বক্তব্য: পরিচয়ের স্বীকৃতির যুক্তির “অবশ্যই আইনি ভিত্তি রয়েছে”, তবে “আদিবাসী পদটিকে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব প্রদানের ফলে” বিতর্কটি আদিবাসীদের জীবনের মূল বিষয়গুলো থেকে দূরে সরে গেছে (আদিবাসীত্বের রাজনীতি এবং ভূমি ও পরিচয়ের স্বীকৃতির জন্য জুম্মদের সংগ্রাম)। একই লেখায় তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকারপক্ষের যুক্তি অনুযায়ী আইএলও-র ‘আদিবাসী’ মর্যাদার সঙ্গে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার যুক্ত, যা বিচ্ছিন্নতাবাদকে উৎসাহিত করতে পারে — আর তাঁর মতে এই আশঙ্কা ভিত্তিহীন, কারণ জনগোষ্ঠীগুলো সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই স্বশাসন চেয়েছে।

রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক পরিসরে কী বলেছে: ইউপিআর-এর রেকর্ড

জাতিসংঘের সর্বজনীন পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনায় (ইউপিআর) আইএলও 169 অনুসমর্থনের সুপারিশ বাংলাদেশ পেয়েছে, আর সরকারের উত্তর ছিল অনুসমর্থন সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে; একই সঙ্গে সরকার বলেছে কনভেনশন 107-এর দায় বাস্তবায়ন চলছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের নিজের অবস্থানেও কনভেনশন 107 বলবৎ বলে স্বীকৃত।

আমাদের আর্কাইভে বাবলু চাকমা ও মানিক সরেনের লেখা অনুযায়ী, 2009 সালের প্রথম ইউপিআর-এ মেক্সিকোর সুপারিশ ছিল আইএলও 169 অনুস্বাক্ষর বা সম্মতি জ্ঞাপন। তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানের বিধান বিবেচনা করে অনুস্বাক্ষরের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। 2013 সালের দ্বিতীয় ইউপিআর-এ মেক্সিকো (সুপারিশ 130.5) ও ডেনমার্ক (130.6) আবার একই সুপারিশ করে; লেখকদের বিবরণে সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল, অনুসমর্থন সংবিধানের ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে, আর সরকার সহযোগীদের সঙ্গে কনভেনশন 107-এর বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে (ইউপিআর সুপারিশসমূহের আলোকে বাংলাদেশের আদিবাসীদের মানবাধিকার)।

সংবিধানের কোন ধারার সঙ্গে কনভেনশন 169-এর অসামঞ্জস্য রাষ্ট্র দেখেছে, তার নির্দিষ্ট বিবরণ সরকারি কোনো নথিতে পাওয়া যায়নি। এ এইচ এম ফারুক লিখেছেন, 1989 সালের কনভেনশন “আদিবাসী ও উপজাতি বিষয়কে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে” বলে বাংলাদেশ এটি অনুমোদন করেনি — এটি লেখকের ব্যাখ্যা, সরকারি নথির উদ্ধৃতি নয়।

অন্য দেশে স্বীকৃতি আইনত কী বদলেছে: নেপাল, জাপান, ফিলিপাইন, ভারত

এশিয়ায় চারটি দেশ চারটি আলাদা পথ নিয়েছে। নেপাল 2007 সালে আইএলও 169 অনুসমর্থন করেছে; জাপান 2008 সালে সংসদীয় প্রস্তাব ও 2019 সালের আইনে আইনুদের আদিবাসী বলেছে, কনভেনশন অনুসমর্থন ছাড়াই; ফিলিপাইন 1997 সালে আলাদা আইন করেছে; আর ভারত কনভেনশন 107-এ আছে, 169-এ নেই।

দেশ স্বীকৃতির পথ আইএলও অবস্থা আইনি ফল (উৎস অনুযায়ী)
নেপাল কনভেনশন 169 অনুসমর্থন, 14 সেপ্টেম্বর 2007 169-এ, এশিয়ার একমাত্র দেশ আইএলও-র হিসাবে গুয়াতেমালা (1996) ও নেপালে (2007) অনুসমর্থন হয়েছিল শান্তিচুক্তির “integral element” হিসেবে (ILO 2013, পৃ. 17)
জাপান সংসদীয় প্রস্তাব 2008; Act No. 16 of 2019 107 বা 169 কোনোটিতে নেই আইনে আইনুদের আদিবাসী বলা হয়েছে, বৈষম্য নিষিদ্ধ; বিস্তারিত আইনু জনগোষ্ঠীর লেখায়
ফিলিপাইন Indigenous Peoples’ Rights Act, 1997 169-এ নেই ancestral domain-এর স্বীকৃতি, তবে ধারা 56-এ বিদ্যমান সম্পত্তি-অধিকার সুরক্ষিত
ভারত জাতিসংঘে ঘোষণাপত্রের পক্ষে ভোট, 2007 107-এ (29 সেপ্টেম্বর 1958), 169-এ নেই ভোটের দিনের ব্যাখ্যায় আত্মনিয়ন্ত্রণকে কেবল বিদেশি শাসনের অধীন জনগোষ্ঠীর অধিকার হিসেবে পড়েছে (UN GA/10612)

সূত্র: NORMLEX-এর অনুসমর্থন তালিকা; ILO 2013; UN GA/10612; Republic Act No. 8371। ভূমি অধিকার নিয়ে ছয় দেশের ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলনা আছে আদিবাসী ভূমি অধিকার: ছয় দেশের ব্যবস্থা এক ছকে লেখায়।

তুলনাটি একটি বিষয় স্পষ্ট করে: ‘স্বীকৃতি’র আইনি ফল কোনো দেশেই শব্দ থেকে আসেনি, এসেছে যে আইন বা চুক্তি গৃহীত হয়েছে তার ধারা থেকে। জাপানের স্বীকৃতিতে ভূমি ফেরতের বিধান আছে কি না, আর ফিলিপাইনের আইন কীভাবে বিদ্যমান মালিকদের সুরক্ষা দেয় — দুটোই নির্ভর করেছে সংশ্লিষ্ট আইনের ভাষার ওপর।

এক ছকে: কোন পদক্ষেপে কী বদলায়, কী বদলায় না

নিচের ছকে চারটি সম্ভাব্য পদক্ষেপের আইনি ফল পাশাপাশি রাখা হলো, প্রতিটির ভিত্তি দলিলের ধারায়। ‘বদলায় না’ কলামের তথ্যগুলো দলিলের পাঠ থেকে; রাজনৈতিক প্রভাব — যা দুই পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে — এই ছকের বাইরে।

পদক্ষেপ আইনত যা বদলায় আইনত যা বদলায় না
অনুচ্ছেদ 23ক-তে ‘আদিবাসী’ শব্দ সংবিধানের পরিভাষা; সরকারি নথিতে শব্দ ব্যবহারের ভিত্তি বলবৎযোগ্যতা (অনু. 8(2)); কোটার ভিত্তি (অনু. 28(4), 29(3)); ভূমি আইন
সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে বিধান (তৃতীয় ভাগে) আদালতে বলবৎযোগ্য অধিকার — যতটুকু লেখা থাকবে অন্যান্য নাগরিকের মৌলিক অধিকার, যেমন অনুচ্ছেদ 36
আইএলও 169 অনুসমর্থন পরামর্শ, ভূমি স্বীকৃতি, স্থানান্তরের শর্ত, আত্মপরিচয়ের মাপকাঠি — আন্তর্জাতিক দায় ও আইএলও তদারকি; কনভেনশন 107 স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল খনিজের মালিকানা (অনু. 15(2)); ভেটো নেই; ‘peoples’-এর আন্তর্জাতিক অর্থ নেই (অনু. 1(3)); আদালতে সরাসরি বলবৎ নয় (দ্বৈতবাদ)
জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র মেনে নেওয়া নীতিগত অঙ্গীকার; আইন প্রণয়নে মানদণ্ড কোনো বাধ্যতামূলক দায় নয়; ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা (অনু. 46(1)); সবার মানবাধিকার (অনু. 46(2))
কিছুই না করা — কনভেনশন 107-এর দায় বলবৎ থাকে, অন্তত 2029–30 সালের প্রত্যাহারের সুযোগ পর্যন্ত

প্রশ্নোত্তর

আদিবাসী স্বীকৃতি দিলে কী হবে?

ফল নির্ভর করে স্বীকৃতির পথের ওপর। সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে শুধু ‘আদিবাসী’ শব্দ বসালে অনুচ্ছেদ 8(2) অনুযায়ী তা আদালতে বলবৎযোগ্য হবে না। আইএলও কনভেনশন 169 অনুসমর্থন করলে পরামর্শ, ভূমি স্বীকৃতি ও স্থানান্তরের শর্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক দায় আসবে। জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র মেনে নিলে বাধ্যতামূলক দায় আসে না। কোনো দলিলই ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তর করে না।

সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দ লিখলে কি আদালতে নতুন অধিকার দাবি করা যাবে?

অনুচ্ছেদ 23ক-তে শব্দ বদলালে যাবে না, কারণ 23ক সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে, আর অনুচ্ছেদ 8(2) বলে এই ভাগের নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য নয়। আদালতে দাবি করার মতো অধিকার পেতে হলে বিধানটি তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার হিসেবে বা আলাদা আইনে লিখতে হবে, আর অধিকার হবে ঠিক ততটুকু, যতটুকু লেখা থাকবে।

বাংলাদেশ কি আইএলও কনভেনশন 107 মানতে বাধ্য?

হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক আইনে। বাংলাদেশ 22 জুন 1972 কনভেনশনটি অনুসমর্থন করেছে এবং আইএলও-র NORMLEX অনুযায়ী এটি বলবৎ। কনভেনশনটি ‘ট্রাইবাল’ ও ‘সেমি-ট্রাইবাল’ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, তাই রাষ্ট্র ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহার করলেও দায় থাকে। তবে দেশের আইনে অন্তর্ভুক্ত না হলে এটি আদালতে সরাসরি বলবৎ হয় না। প্রত্যাহারের পরের সুযোগ 2 জুন 2029 থেকে 2 জুন 2030।

আইএলও 169 অনুসমর্থন করলে কি আদিবাসীরা উন্নয়ন প্রকল্পে ভেটো দিতে পারবেন?

না। কনভেনশনের অনুচ্ছেদ 6(2) বলে পরামর্শের উদ্দেশ্য হবে সম্মতি বা ঐকমত্য অর্জন, কিন্তু আইএলও-র 2013 সালের হ্যান্ডবুক স্পষ্ট লিখেছে, কনভেনশন 169 আদিবাসীদের ভেটোর অধিকার দেয় না। একই সঙ্গে আইএলও-র বিশেষজ্ঞ কমিটি বলেছে, শুধু তথ্য জানিয়ে দেওয়া বা লোক-দেখানো সভা পরামর্শের শর্ত পূরণ করে না।

আইএলও 169 অনুসমর্থন করলে খনিজ সম্পদের মালিক কে হবে?

কনভেনশন খনিজের মালিকানা বদলায় না। অনুচ্ছেদ 15(2) ধরে নেয় রাষ্ট্র খনিজ ও ভূগর্ভস্থ সম্পদের মালিক থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে অনুসন্ধান বা উত্তোলনের আগে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে, সম্ভব হলে লাভের ভাগ দিতে হবে এবং ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

জাতিসংঘ আদিবাসী ঘোষণাপত্র কি বাংলাদেশের জন্য বাধ্যতামূলক?

না। 2007 সালের ঘোষণাপত্রটি সাধারণ পরিষদের ঘোষণা, চুক্তি নয়; এতে সই বা অনুসমর্থনের ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশ 13 সেপ্টেম্বর 2007-এর ভোটে বিরত ছিল। ঘোষণাপত্র মেনে নিলেও নতুন বাধ্যতামূলক দায় তৈরি হয় না; এর বিধান আইনি রূপ পায় কেবল দেশের আইন বা নীতিতে অন্তর্ভুক্ত হলে।

আদিবাসী স্বীকৃতি দিলে কি পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী সরাতে হবে?

সেনা কার্যক্রম নিয়ে বিধানটি কেবল জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ 30-এ, যা বাধ্যতামূলক নয়। সেখানেও “relevant public interest” থাকলে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে এবং আগে পরামর্শের কথা বলা হয়েছে। আইএলও 169-এর অনুচ্ছেদ 30 সেনা নিয়ে নয়, অধিকার সম্পর্কে জানানো নিয়ে। পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহারের কথা আলাদাভাবে আছে 1997 সালের চুক্তির ঘ-খণ্ড ধারা 17(ক)-এ।

আদিবাসী স্বীকৃতি কি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি?

এ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান বিপরীত। মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম (2026) বলেছেন স্বীকৃতি মানে পার্বত্য চট্টগ্রামের ওপর রাষ্ট্রের অধিকার হারানো। সিএইচটিসি ও আইডব্লিউজিআইএ (2026) বলেছে এটি অখণ্ডতার জন্য হুমকি নয়। দলিলের পাঠে, জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ 46(1) বলে এর কিছুই রাষ্ট্রের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করার অনুমোদন হিসেবে পড়া যাবে না।

স্বীকৃতি দিলে পাহাড়ের বাঙালিদের কি জমি ছাড়তে হবে?

কোনো আন্তর্জাতিক দলিল এমন নির্দেশ দেয় না। সংবিধানের অনুচ্ছেদ 36 প্রত্যেক নাগরিককে দেশের যেকোনো স্থানে বসবাসের অধিকার দেয়; ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ 46(2) সবার মানবাধিকার রক্ষার শর্ত রাখে; আইএলও 169-এর অনুচ্ছেদ 14(3) ভূমি-দাবি নিষ্পত্তি দেশের আইনি ব্যবস্থার ভেতরে রাখে। chtnews24-এ নুরুল আলম (2026) উচ্ছেদের আশঙ্কার কথা লিখেছেন; জমির প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত ঠিক করে দেশের আইন।

কোটা কি ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির ওপর নির্ভর করে?

না। সংবিধানের অনুচ্ছেদ 28(4) রাষ্ট্রকে “any backward section of citizens”-এর অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান করার সুযোগ দেয়, আর 29(3)(ক) সরকারি চাকরিতে তাদের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্বের জন্য। দুই অনুচ্ছেদেই মাপকাঠি ‘অনগ্রসর অংশ’, কোনো জাতিগত নাম নয়। তাই ‘আদিবাসী’ শব্দ যোগ বা বাদ দিলে কোটার সাংবিধানিক ভিত্তি বদলায় না।

বাংলাদেশ কেন জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের ভোটে বিরত ছিল?

জাতিসংঘের প্রেস বিজ্ঞপ্তি GA/10612 অনুযায়ী 13 সেপ্টেম্বর 2007 বাংলাদেশের প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশ আদিবাসীদের অধিকার সমর্থন করে, কিন্তু ঘোষণাপত্রে “indigenous people” চিহ্নিত বা সংজ্ঞায়িত হয়নি এবং পাঠটিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ঐকমত্য ছিল না; এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বিরত থাকে। সেদিন বিরত ছিল মোট 11টি দেশ, বিপক্ষে 4টি।

এশিয়ার কোন দেশ আইএলও 169 অনুসমর্থন করেছে?

আইএলও-র NORMLEX তালিকা অনুযায়ী কনভেনশন 169-এর 24টি অনুসমর্থনের মধ্যে এশিয়ার একমাত্র দেশ নেপাল, 14 সেপ্টেম্বর 2007। আইএলও-র 2013 সালের হ্যান্ডবুক লিখেছে, নেপালে অনুসমর্থন হয়েছিল শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ পুরোনো কনভেনশন 107-এ আছে; জাপান ও ফিলিপাইন কোনোটিতেই নেই।

আইএলও 169 অনুসমর্থন করলে আইএলও 107-এর কী হবে?

কনভেনশন 107 আপনা-আপনি প্রত্যাহৃত হবে। কনভেনশন 169-এর অনুচ্ছেদ 36 বলে এটি 1957 সালের কনভেনশন সংশোধন করে, আর কনভেনশন 107-এর অনুচ্ছেদ 36(1)(ক) অনুযায়ী সংশোধনকারী কনভেনশন অনুসমর্থন “ipso jure” পুরোনোটির তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার ঘটায়। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকোসহ নয়টি দেশের ক্ষেত্রে এভাবেই হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

যা এখনো জানা যায়নি

  • সংবিধানের কোন নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদের সঙ্গে আইএলও 169-এর অসামঞ্জস্য রাষ্ট্র দেখেছে, তার লিখিত বিশ্লেষণ কোনো সরকারি নথিতে পাওয়া যায়নি। ইউপিআর-এর উত্তরে কেবল সাধারণভাবে ‘সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য’-এর কথা আছে।
  • কনভেনশন 107 নিয়ে আইএলও-র বিশেষজ্ঞ কমিটির বাংলাদেশ-বিষয়ক সাম্প্রতিক মন্তব্যে পরিভাষা বা স্বীকৃতির প্রশ্নে কী বলা হয়েছে, তার পূর্ণ পাঠ প্রকাশ্য উৎসে পাওয়া যায়নি; 1993 সালের মন্তব্যের অংশ আমাদের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞার লেখায় আছে।
  • 2029–30 সালের প্রত্যাহারের সুযোগে কনভেনশন 107 নিয়ে কোনো সরকার কোনো সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে কি না, তার তথ্য পাওয়া যায়নি।
  • বাংলাদেশের কোনো আদালত কনভেনশন 107-এর কোনো ধারা উল্লেখ করে রায় দিয়েছেন কি না, তা যাচাই করা যায়নি।
  • Kingsbury-র লেখায় বাংলাদেশ সরকারের যে বিকল্প যুক্তির কথা আছে (সব বাংলাদেশিই আদিবাসী), সেটি জাতিসংঘের কোন অধিবেশনে কোন নথিতে দেওয়া হয়েছিল, মূল নথিটি মেলানো যায়নি।

তথ্যসূত্র

প্রাথমিক উৎস: জুমজার্নালের আর্কাইভ

  1. শক্তিপদ ত্রিপুরা, “আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও এর প্রাসঙ্গিকতা”, কাপেং ফাউন্ডেশন ও আইএলও-র আলোচনা সভা, ঢাকা, 20 এপ্রিল 2011; জুমজার্নাল আর্কাইভ। লিংক
  2. বাবলু চাকমা ও মানিক সরেন, “ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ (ইউপিআর) সুপারিশসমূহের আলোকে বাংলাদেশের আদিবাসীদের মানবাধিকার”, জুমজার্নাল আর্কাইভ। লিংক
  3. হানা শামস আহমেদ (ভাষান্তর: রেশমী চাকমা), “আদিবাসীত্বের রাজনীতি এবং ভূমি ও পরিচয়ের স্বীকৃতির জন্য জুম্মদের সংগ্রাম”, জুমজার্নাল আর্কাইভ; মূল লেখা দ্য ডেইলি স্টার। লিংক
  4. “পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন” (1998 সনের 12 নং আইন), জুমজার্নাল আর্কাইভ। লিংক

আইন ও আন্তর্জাতিক দলিল

  1. International Labour Organization, Indigenous and Tribal Populations Convention, 1957 (No. 107), পূর্ণ পাঠ, NORMLEX। লিংক
  2. ILO NORMLEX, Ratifications of C107 — বাংলাদেশ 22 জুন 1972; 27 অনুসমর্থন, 10 বাতিল। লিংক
  3. International Labour Organization, Indigenous and Tribal Peoples Convention, 1989 (No. 169), পূর্ণ পাঠ, NORMLEX। লিংক
  4. ILO NORMLEX, Ratifications of C169 — 24টি অনুসমর্থন। লিংক
  5. United Nations, United Nations Declaration on the Rights of Indigenous Peoples (2007), জাতিসংঘ DESA-র প্রকাশিত পাঠ। লিংক
  6. United Nations, “General Assembly Adopts Declaration on Rights of Indigenous Peoples”, GA/10612, 13 সেপ্টেম্বর 2007। লিংক
  7. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ 28, bdlaws। লিংক
  8. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ 29, bdlaws। লিংক
  9. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ 36, bdlaws। লিংক
  10. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ 23ক, bdlaws। লিংক
  11. Hussain Muhammad Ershad v. Bangladesh and others, 21 (2001) BLD (AD) 69, রায়ের পাঠ, lawyersnjurists। লিংক
  12. Republic of the Philippines, Republic Act No. 8371 (The Indigenous Peoples’ Rights Act of 1997), Lawphil। লিংক

আইন-গবেষণা

  1. Raja Devasish Roy, The ILO Convention on Indigenous and Tribal Populations, 1957 (No. 107) and the laws of Bangladesh: a comparative study, ILO, 2009 — পৃ. 3, 76। লিংক
  2. International Labour Office, Understanding the Indigenous and Tribal Peoples Convention, 1989 (No. 169): Handbook for ILO Tripartite Constituents, Geneva, 2013 — পৃ. 4, 5, 10, 13, 16, 17, 22। লিংক
  3. Benedict Kingsbury, “‘Indigenous Peoples’ in International Law: A Constructivist Approach to the Asian Controversy”, American Journal of International Law 92(3), 1998, পৃ. 414–457। লিংক
  4. Samaha M Karim, আন্তর্জাতিক আইনের দেশীয় প্রয়োগ নিয়ে লেখা, দ্য ডেইলি স্টার (আইন পাতা), 2 জুন 2008। লিংক

স্বীকৃতির পক্ষে ও বিপক্ষে প্রকাশিত বক্তব্য

  1. জাগো নিউজ, “‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি দিলে পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকার হারাবে বাংলাদেশ” (মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম), 11 আগস্ট 2026। লিংক
  2. এ এইচ এম ফারুক, “পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী দাবি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট”, ইত্তেফাক, 28 এপ্রিল 2026। লিংক
  3. মোস্তফা কামাল, “‘আদিবাসী-ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ বিতর্ক জিইয়ে রাখছে কারা?”, ইত্তেফাক, 9 আগস্ট 2026। লিংক
  4. নুরুল আলম, “‘আদিবাসী’ শব্দের স্বীকৃতি এবং বিরোধিতার মূল কারণ”, chtnews24, 16 এপ্রিল 2026। লিংক
  5. Dr. Shahjahan Mondol, “Recognition of indigenous people”, The Daily Star, 26 আগস্ট 2014। লিংক
  6. মো. আব্বাস, “‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি কি রাষ্ট্রকে দুর্বল করে, নাকি শক্তিশালী?”, ডেইলি স্টার বাংলা, 9 আগস্ট 2026। লিংক
  7. প্রথম আলো, “আদিবাসীদের অস্তিত্ব অস্বীকারের প্রতিবাদ ৪৪ বিশিষ্ট নাগরিকের, দুই মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি”, 19 আগস্ট 2026। লিংক
  8. প্রথম আলো, “‘আদিবাসী’ পরিচয় নিয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান ২ আন্তর্জাতিক সংগঠনের”, 13 আগস্ট 2026। লিংক

সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:আইএলও কনভেনশন, আদিবাসী, আদিবাসী অধিকার, জাতিসংঘ, সংবিধানে আদিবাসী

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা