Jumjournal Logo

সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদ আদালতে বলবৎ করা যায় না — কারণটা ৮(২) অনুচ্ছেদে

Last updated Oct 17th, 2026

0

Featured image

সরকারি আইন-ওয়েবসাইট bdlaws-এ সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদের পাতাটি খুললে মূল লেখা এক লাইনের, নিচে একটি পাদটীকা: অনুচ্ছেদটি “সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪নং আইন)-এর ১৪ ধারাবলে” সন্নিবেশিত। পাতার কোথাও লেখা নেই যে এই অনুচ্ছেদ নিয়ে কেউ আদালতে গিয়ে রাষ্ট্রকে বাধ্য করতে পারবেন কি না। সেই উত্তর আছে পনেরোটি অনুচ্ছেদ আগে, ৮ অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় দফার শেষ কয়েকটি শব্দে।

সংক্ষেপে উত্তর: সংবিধান ২৩ক অনুচ্ছেদ আদালতের মাধ্যমে বলবৎ করা যায় না, কারণ এটি সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে, অর্থাৎ “রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি” অংশে বসানো হয়েছে, আর ৮(২) অনুচ্ছেদ বলে দিয়েছে, এই ভাগের নীতিসমূহ “আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না”। তবে একই দফা রাষ্ট্রকে আইন প্রণয়নে নীতিগুলো প্রয়োগ করতে আর আদালতকে আইনের ব্যাখ্যায় সেগুলোকে নির্দেশক হিসেবে নিতে বলে। তাই “বলবৎযোগ্য নয়” মানে “অর্থহীন” নয়।

আদিবাসী স্বীকৃতি নিয়ে প্রায় প্রতিদিন যে তর্ক চলে, সেখানে ২৩ক-এর নাম আসে, ৮(২)-এর নাম প্রায় আসে না। এই লেখায় দুটি অনুচ্ছেদের পূর্ণ পাঠ, যে আইন ২৩ক যোগ করেছে, আদালত দ্বিতীয় ভাগের নীতি নিয়ে কী বলেছেন, আর ২৩ক উল্লেখ করে করা একটি রিট মামলার নথি পাশাপাশি রাখা হলো। রাষ্ট্র কোন শব্দ ব্যবহার করে, সেই প্রশ্ন এখানে আলোচনা হয়নি; তার জন্য আমাদের আলাদা লেখা “রাষ্ট্র কোন শব্দ ব্যবহার করে: সংবিধান, শুমারি ও সরকারি নির্দেশনায় ‘আদিবাসী’ প্রশ্নের নথি-কালানুক্রম” দেখতে পারেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে জুমজার্নালের সব লেখা একসঙ্গে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব পাতায়।

সূচিপত্র

  1. সংবিধান ২৩ক অনুচ্ছেদে হুবহু কী লেখা আছে
  2. কোন আইন ২৩ক যোগ করেছে, আর কবে
  3. ২৩ক সংবিধানের কোন ভাগে বসানো হয়েছে
  4. ৮(২) অনুচ্ছেদে হুবহু কী লেখা আছে
  5. “বলবৎযোগ্য হইবে না” কথাটির আইনি অর্থ কী
  6. বলবৎযোগ্য না হলেও ৮(২) রাষ্ট্রকে চারটি কাজ করতে বলে
  7. দ্বিতীয় ভাগের নীতি নিয়ে আদালত কী বলেছেন
  8. ২৩ক উল্লেখ করে করা একটি রিট: সোনাইছড়ির ত্রিপুরা পরিবারদের মামলা
  9. ২৩ক আর বলবৎযোগ্য অনুচ্ছেদের তফাত: এক ছকে
  10. ভারতের সংবিধান একই প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দিয়েছে
  11. ২৩ক কি সংশোধনের অযোগ্য? ৭খ অনুচ্ছেদ ও ২০২৪–২০২৬ সালের রায়
  12. জাতিসংঘের কমিটি বলবৎযোগ্যতা নিয়ে কী বলেছে
  13. ২৩ক নিয়ে আদিবাসী লেখক ও সংগঠনের আপত্তি কোথায়
  14. স্বীকৃতির তর্কে ৮(২) কেন হিসাবের বাইরে থেকে যায়
  15. প্রশ্নোত্তর
  16. যা এখনো জানা যায়নি
  17. তথ্যসূত্র

সংবিধান ২৩ক অনুচ্ছেদে হুবহু কী লেখা আছে

২৩ক অনুচ্ছেদ একটিমাত্র বাক্য। এতে রাষ্ট্রের একটি দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে: বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর “অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য” সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা নেওয়া। অনুচ্ছেদটি কোনো ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীকে অধিকার দেয় না। এখানে কাজটি রাষ্ট্রের, আর তার বিষয় কেবল সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।

আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের bdlaws ওয়েবসাইটে বাংলা পাঠ এরকম:

উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি
২৩ক। রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

পাদটীকা: সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪নং আইন)-এর ১৪ ধারাবলে ২৩ক অনুচ্ছেদ সন্নিবেশিত।

একই ওয়েবসাইটের ইংরেজি পাঠ:

The culture of tribes, minor races, ethnic sects and communities
23A. The State shall take steps to protect and develop the unique local culture and tradition of the tribes, minor races, ethnic sects and communities.

Footnote: Article 23A was inserted by the Constitution (Fifteenth Amendment) Act, 2011 (Act XIV of 2011), section 14.

বাক্যটির কর্তা “রাষ্ট্র”, ক্রিয়া “ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন”। কোন ব্যবস্থা, কত দিনের মধ্যে, কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, তার কিছুই অনুচ্ছেদে বলা নেই। বাংলা পাঠে তিনটি কাজের কথা আছে (সংরক্ষণ, উন্নয়ন, বিকাশ), ইংরেজি পাঠে দুটি (protect, develop)। বিষয়ের তালিকাও দুটি শব্দে সীমিত: সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য। ভূমি, ভাষায় শিক্ষা, প্রতিনিধিত্ব বা স্বশাসনের কথা এখানে নেই।

অনুচ্ছেদে জনগোষ্ঠীগুলোকে যে চারটি শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে বিতর্ক বিস্তর। সেই তুলনা এই লেখার বিষয় নয়। এখানে প্রশ্ন একটাই: শব্দ যা-ই হোক, বাক্যটির আইনি জোর কতখানি।

কোন আইন ২৩ক যোগ করেছে, আর কবে

২৩ক যোগ হয়েছে সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ দিয়ে। এটি ২০১১ সালের ১৪ নম্বর আইন, আর এর ১৪ ধারা অনুচ্ছেদটি সন্নিবেশ করেছে। bdnews24-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিলটি সংসদে পাস হয় 30 জুন 2011, বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে। রাষ্ট্রপতি সই করেন 3 জুলাই 2011।

পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের পূর্ণ পাঠ bdlaws-এ আলাদা আইন হিসেবে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে সংবিধানের প্রতিটি সংশোধিত অনুচ্ছেদের নিচে bdlaws যে পাদটীকা দিয়েছে, সেগুলো থেকে আইনটির কয়েকটি ধারার কাজ নিশ্চিতভাবে জানা যায়। এই লেখার প্রাসঙ্গিক অংশগুলো:

পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ধারা সংবিধানে যা করেছে (bdlaws-এর পাদটীকা অনুযায়ী)
৮ ধারা ৮ অনুচ্ছেদের (১) ও (১ক) দফার পরিবর্তে নতুন (১) দফা প্রতিস্থাপন
৯ ধারা ৯ অনুচ্ছেদ (জাতীয়তাবাদ) প্রতিস্থাপন
১৪ ধারা ২৩ক অনুচ্ছেদ সন্নিবেশ
১৮ ধারা ৪৪ অনুচ্ছেদ (মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ) প্রতিস্থাপন

ছকের প্রথম সারিটি গুরুত্বপূর্ণ। যে আইন ২৩ক যোগ করেছে, সেই আইনই ৮ অনুচ্ছেদে হাত দিয়েছে, কিন্তু শুধু (১) দফায়। bdlaws-এর পাদটীকা কেবল (১) ও (১ক) দফার প্রতিস্থাপনের কথা বলে। ৮(২) দফার নিচে কোনো সংশোধনের চিহ্ন নেই। অর্থাৎ ২০১১ সালে সংসদ ৮ অনুচ্ছেদ খুলে সংশোধন করেছিল, “আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না” বাক্যাংশটি যেমন ছিল তেমনই রেখেছিল, আর নতুন ২৩ক বসিয়েছিল এই দফার আওতার ভেতরেই।

২৩ক সংবিধানের কোন ভাগে বসানো হয়েছে

২৩ক বসানো হয়েছে সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে, যার নাম “রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি”। bdlaws-এর সূচি অনুযায়ী এই ভাগে আছে ৮ থেকে ২৫ অনুচ্ছেদ, মাঝে ১৮ক ও ২৩ক। ২৩ক বসেছে ২৩ অনুচ্ছেদের (জাতীয় সংস্কৃতি) ঠিক পরে, আর এর পরেই ২৪ অনুচ্ছেদ (জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন)।

bdlaws-এর সংবিধানের সূচিপাতায় দ্বিতীয় ভাগের অনুচ্ছেদগুলোর শিরোনাম এরকম:

অনুচ্ছেদ শিরোনাম
৮ মূলনীতিসমূহ
৯ জাতীয়তাবাদ
১০ সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি
১১ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার
১২ ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা
১৩ মালিকানার নীতি
১৪ কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি
১৫ মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা
১৬ গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব
১৭ অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
১৮ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা
১৮ক পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন
১৯ সুযোগের সমতা
২০ অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম
২১ নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য
২২ নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ
২৩ জাতীয় সংস্কৃতি
২৩ক উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি
২৪ জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি
২৫ আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন

ঠিক আগের অনুচ্ছেদ, ২৩, রাষ্ট্রকে বলে “জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ” করতে, আর “জাতীয় ভাষা, সাহিত্য ও শিল্পকলাসমূহের” পরিপোষণ করতে (bdlaws, অনুচ্ছেদ ২৩)। ২৩ক তার পাশে একই ধাঁচের আরেকটি দায়িত্ব জুড়েছে, অন্য জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির জন্য। দুটিই একই ভাগে, তাই দুটির আইনি মর্যাদাও এক।

এখানে তৃতীয় ভাগের সঙ্গে পার্থক্যটা মনে রাখা দরকার। তৃতীয় ভাগের নাম “মৌলিক অধিকার”, অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে শুরু। ২৩ক চাইলে সেখানেও বসানো যেত, যেমন বৈষম্য-সংক্রান্ত ২৮ অনুচ্ছেদের পাশে। সংসদ তা করেনি। কেন করেনি, সংসদের আলোচনায় সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানা যায়নি।

৮(২) অনুচ্ছেদে হুবহু কী লেখা আছে

৮ অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় দফা একটি বাক্যে দ্বিতীয় ভাগের সব নীতির আইনি মর্যাদা ঠিক করে দেয়। বাক্যটির প্রথম অংশ নীতিগুলোকে “বাংলাদেশ-পরিচালনার মূলসূত্র” বলে আর রাষ্ট্রকে চারটি কাজ দেয়। শেষ অংশে “তবে” দিয়ে একটি সীমা টানা হয়েছে: এই নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হবে না।

bdlaws-এ ৮ অনুচ্ছেদের বাংলা পাঠ:

মূলনীতিসমূহ
৮৷ [(১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে।]

(২) এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ-পরিচালনার মূলসূত্র হইবে, আইন-প্রণয়নকালে রাষ্ট্র তাহা প্রয়োগ করিবেন, এই সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তাহা নির্দেশক হইবে এবং তাহা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হইবে, তবে এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না৷

পাদটীকা: সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪নং আইন)-এর ৮ ধারাবলে (১) ও (১ক) দফার পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত।

ইংরেজি পাঠ:

8. [(1) The principles of nationalism, socialism, democracy and secularism, together with the principles derived from those as set out in this Part, shall constitute the fundamental principles of state policy.]

(2) The principles set out in this Part shall be fundamental to the governance of Bangladesh, shall be applied by the State in the making of laws, shall be a guide to the interpretation of the Constitution and of the other laws of Bangladesh, and shall form the basis of the work of the State and of its citizens, but shall not be judicially enforceable.

দুটি শব্দবন্ধ খেয়াল করার মতো। প্রথমটি “এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ” (the principles set out in this Part)। এখানে নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদের তালিকা নেই, পুরো ভাগের কথা বলা হয়েছে। তাই দ্বিতীয় ভাগে পরে যে অনুচ্ছেদ যোগ হয়, ২৩ক-সহ, সেটিও আপনাআপনি এই দফার আওতায় আসে। দ্বিতীয়টি ৮(১)-এর “এই নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি”। ২০১১ সালের নতুন পাঠ দ্বিতীয় ভাগের প্রতিটি অনুচ্ছেদকে মূলনীতির অংশ বলে গণ্য করেছে, ২৩ক-ও তার ব্যতিক্রম নয়।

“বলবৎযোগ্য হইবে না” কথাটির আইনি অর্থ কী

এর সোজা অর্থ: ২৩ক-এ বর্ণিত দায়িত্ব রাষ্ট্র পালন না করলে কেবল এই অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে হাইকোর্টে গিয়ে আদেশ চাওয়া যায় না। সংবিধান আদালতে যাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে তৃতীয় ভাগের অধিকারের জন্য (৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদ), আর অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিলের বিধান (২৬ অনুচ্ছেদ)-ও শুধু তৃতীয় ভাগের জন্য।

কথাটি পরিষ্কার হয় তৃতীয় ভাগের দুটি অনুচ্ছেদ পাশাপাশি পড়লে। ৪৪ অনুচ্ছেদ, যা ২০১১ সালের একই সংশোধনীর ১৮ ধারা প্রতিস্থাপন করেছে, bdlaws-এ এভাবে লেখা:

৪৪। (১) এই ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করিবার জন্য এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করিবার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হইল।

“এই ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ” মানে তৃতীয় ভাগ। দ্বিতীয় ভাগের নীতির জন্য এমন কোনো নিশ্চয়তা সংবিধানে নেই। উল্টো ৮(২) সরাসরি বলে দিয়েছে, ওগুলো আদালতে বলবৎযোগ্য নয়।

২৬ অনুচ্ছেদও একই সীমা টানে। bdlaws-এ পাঠ:

২৬। (১) এই ভাগের বিধানাবলীর সহিত অসমঞ্জস সকল প্রচলিত আইন যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, এই সংবিধান-প্রবর্তন হইতে সেই সকল আইনের ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।
(২) রাষ্ট্র এই ভাগের কোন বিধানের সহিত অসমঞ্জস কোন আইন প্রণয়ন করিবেন না এবং অনুরূপ কোন আইন প্রণীত হইলে তাহা এই ভাগের কোন বিধানের সহিত যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।

এখানেও “এই ভাগের”, অর্থাৎ তৃতীয় ভাগের। তাই কোনো আইন বা সরকারি সিদ্ধান্ত কোনো জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির ক্ষতি করলেও, কেবল “এটি ২৩ক-এর পরিপন্থী” যুক্তিতে ২৬ অনুচ্ছেদ দিয়ে সেটি বাতিল হয় না। বাস্তবে কী দাঁড়ায়, তা এভাবে সাজানো যায়:

  1. কেউ কেবল ২৩ক দেখিয়ে রিট করলে আদালত ৮(২)-এর কারণে রাষ্ট্রকে কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারেন না, এটাই সাধারণ নিয়ম।
  2. কোনো আইন ২৩ক-এর সঙ্গে না মিললেও শুধু সেই কারণে আইনটি বাতিল হয় না, কারণ ২৬ অনুচ্ছেদ কেবল তৃতীয় ভাগের জন্য।
  3. তবে তৃতীয় ভাগের কোনো অধিকার (যেমন জীবনের অধিকার বা সম্পত্তির অধিকার) লঙ্ঘনের মামলায় ২৩ক যুক্তি হিসেবে আনা যায়। পরের দুই অংশে দেখা যাবে, আদালত ও আইনজীবীরা ঠিক এটাই করেছেন।

বলবৎযোগ্য না হলেও ৮(২) রাষ্ট্রকে চারটি কাজ করতে বলে

৮(২) দফার প্রথম অংশে দ্বিতীয় ভাগের নীতিগুলোকে চারটি ভূমিকা দেওয়া হয়েছে: দেশ পরিচালনার মূলসূত্র, আইন প্রণয়নে রাষ্ট্রের প্রয়োগের বিষয়, সংবিধান ও অন্য আইনের ব্যাখ্যায় নির্দেশক, আর রাষ্ট্র ও নাগরিকের কাজের ভিত্তি। এর মধ্যে ব্যাখ্যার নির্দেশক ভূমিকাটি আদালতের ভেতরেও কাজ করে।

৮(২)-এর শব্দ কার প্রতি নির্দেশ ২৩ক-এর ক্ষেত্রে কী দাঁড়ায়
“বাংলাদেশ-পরিচালনার মূলসূত্র হইবে” রাষ্ট্রের সব অঙ্গ জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি রক্ষা রাষ্ট্র পরিচালনার একটি ঘোষিত লক্ষ্য
“আইন-প্রণয়নকালে রাষ্ট্র তাহা প্রয়োগ করিবেন” সংসদ ও আইন প্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষ নতুন আইন বানানোর সময় ২৩ক মাথায় রাখতে হবে; না রাখলে তা সাংবিধানিক কর্তব্যে ব্যর্থতা, তবে আদালত তা বলবৎ করবেন না
“ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তাহা নির্দেশক হইবে” আদালত ও আইন প্রয়োগকারী কোনো আইনের দুটি ব্যাখ্যা সম্ভব হলে যেটি ২৩ক-এর সঙ্গে বেশি মেলে, সেদিকে ঝোঁকার সাংবিধানিক ভিত্তি
“রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হইবে” রাষ্ট্র ও নাগরিক সরকারি নীতি, প্রকল্প ও বাজেটে এই অনুচ্ছেদকে যুক্তি হিসেবে তোলা যায়

রাষ্ট্র নিজেও ২৩ক-কে এভাবেই ব্যবহার করে, আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের অর্জনের প্রমাণ হিসেবে। আমাদের আর্কাইভে বাবলু চাকমা ও মানিক সরেনের ইউপিআর বিষয়ক লেখাটি সরকারের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছে। সেখানে সরকার বলছে, পঞ্চদশ সংশোধনীতে ২৩ক যুক্ত করে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে রাষ্ট্র এই জনগোষ্ঠীগুলোর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা ও উন্নয়নে ভূমিকা পালন করবে, আর এর অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। লক্ষ করার বিষয়, ২০১০ সালের আইনটি ২৩ক-এর এক বছর আগের। তবে এটি সংসদের পাস করা সাধারণ আইন, তাই এর বিধানগুলো ৮(২)-এর বাধার মধ্যে পড়ে না।

এটাই ৮(২)-এর নকশা। নীতি সংবিধানে থাকে, রাষ্ট্র সেটিকে আইনে রূপ দেয়, আর আইনে রূপ পেলে তবেই তা আদালতে বলবৎযোগ্য হয়। ২৩ক-এর ক্ষেত্রেও একই পথ খোলা।

দ্বিতীয় ভাগের নীতি নিয়ে আদালত কী বলেছেন

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান নজির কুদরত-ই-ইলাহী পনির বনাম বাংলাদেশ (1992), 44 DLR (AD) 319। আপিল বিভাগ এ মামলায় বলেন, দ্বিতীয় ভাগের নীতি আদালতে বলবৎযোগ্য নয়। পরে কিছু মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ এই নীতিগুলো পরোক্ষভাবে কাজে লাগিয়েছেন, মৌলিক অধিকারের ব্যাখ্যা বড় করে কিংবা “নেতিবাচক বলবৎকরণ” নামের যুক্তিতে।

কুদরত-ই-ইলাহী পনির মামলা, আপিল বিভাগ

মামলাটি ছিল নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করার একটি অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে। আপিলকারীদের যুক্তি ছিল, মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন বাতিল হওয়া উচিত। ডেইলি স্টারে এমরান আজাদের লেখা (19 জানুয়ারি 2015) বিচারপতি মোস্তফা কামালের মত তুলে ধরেছে: মূলনীতিগুলো নিজেরা “আইন” নয়, আর নীতিকে আইনের সমান ধরা সংবিধানের বিরুদ্ধে যাওয়া। লেখাটি জানায়, আদালত শেষ পর্যন্ত মূলনীতিকে আদালতে অবলবৎযোগ্য বলেছেন।

ঢাকা ল রিভিউ-তে মো. আজহার উদ্দিন ভূঁইয়ার বিশ্লেষণ (22 আগস্ট 2016) একই রায় থেকে আরেকটি যুক্তি তুলেছে। আপিল বিভাগের মতে মূলনীতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কর্মসূচি, আর সেই বাস্তবায়নের শর্ত তৈরি হয়েছে কি না, তা ঠিক করবে রাষ্ট্র। আদালতের ভাষায়: “Whether all the prerequisites for a peaceful socio-economic revolution exist is for the state to decide.”

একই মামলা, হাইকোর্ট বিভাগ: “নেতিবাচক বলবৎকরণ”

একই মামলায় হাইকোর্ট বিভাগে (44 DLR (HCD) 179) বিচারপতি নাঈমুদ্দিন আহমেদ ভিন্ন পথ নিয়েছিলেন। ঢাকা ল রিভিউ-এর লেখাটি জানায়, তিনি ৭(২) ও ৮(২) অনুচ্ছেদ একসঙ্গে পড়ে বলেছিলেন যে আদালত মূলনীতিকে “নেতিবাচকভাবে” বলবৎ করতে পারেন। অর্থাৎ রাষ্ট্রকে কিছু করতে বাধ্য করা না গেলেও, মূলনীতিকে স্পষ্টভাবে নাকচ করে এমন পদক্ষেপ আদালত বাতিল করতে পারেন। লেখক এই পদ্ধতিকে প্রশ্নসাপেক্ষ বলেছেন, আর জানিয়েছেন যে বিচারপতি নাঈমুদ্দিন পরে Md. Aftabuddin vs. Bangladesh (48 DLR (HCD) 1) মামলায় অবস্থান বদলান।

শফিউল্লাহ মামলা: ২৪ অনুচ্ছেদ, ২৩ক-এর ঠিক পরের অনুচ্ছেদ

২৩ক-এর জন্য সবচেয়ে কাছের নজির সম্ভবত মেজর জেনারেল কে. এম. শফিউল্লাহ ও অন্যান্য বনাম বাংলাদেশ (রিট পিটিশন নং 4313/2009)। ঢাকা ল রিভিউ-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী হাইকোর্ট এ মামলায় রুল চূড়ান্ত করেন এবং কার্যত ২৪ অনুচ্ছেদ (ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থান রক্ষা) বলবৎ করেন। আদালত নিজের রায়ে স্বীকার করেছিলেন যে এগুলো “not enforceable in a court of law”, তবু বলেছিলেন সরকার মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো উদ্যোগ নিতে পারে না। লেখক মনে করেন, আদালত এটিকে “নেতিবাচক বলবৎকরণ” বললেও আসলে ২৪ অনুচ্ছেদ ইতিবাচকভাবেই বলবৎ করেছেন। লেখাটি আরও জানায়, সংবিধান-বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল ইসলাম রায়টির সমালোচনা করেছিলেন, কারণ তাঁর মতে এটি কুদরত-ই-ইলাহী মামলায় আপিল বিভাগের অবস্থানের পরিপন্থী, যা ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টের জন্য বাধ্যতামূলক।

২৪ আর ২৩ক একই ধরনের অনুচ্ছেদ, দুটিই সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা বলে, দুটিই দ্বিতীয় ভাগে। তাই শফিউল্লাহ মামলার যুক্তি ২৩ক-এর ক্ষেত্রে কতদূর খাটবে, সেটি এখনো খোলা প্রশ্ন। আইনজ্ঞদের মধ্যেই এ নিয়ে মতভেদ আছে, আর আপিল বিভাগের অবস্থান এখনো কুদরত-ই-ইলাহী মামলারটিই।

মৌলিক অধিকারের ভেতর দিয়ে পরোক্ষ বলবৎকরণ

তৃতীয় পথটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত। মোহা. ওয়াহেদুজ্জামানের BILIA-তে প্রকাশিত প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ৮(২)-এর স্পষ্ট বাধা থাকা সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্ট আর্থ-সামাজিক প্রকৃতির অধিকার বলবৎ করছেন, ৩১ অনুচ্ছেদের (আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার) আর ৩২ অনুচ্ছেদের (জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার) পরিধি বড় করে। এখানে আদালত মূলনীতিকে সরাসরি বলবৎ করেন না। মূলনীতিকে ব্যবহার করেন তৃতীয় ভাগের অধিকারের অর্থ ঠিক করতে, অর্থাৎ ৮(২)-এর “ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে নির্দেশক” ভূমিকায়।

এই পরোক্ষ পথ নিয়েও মতভেদ আছে। প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির আইনের শিক্ষক আবুজর গিফারী ডেইলি স্টারের লেখায় (17 জুন 2025) জীবনের অধিকারের মাধ্যমে পরোক্ষ বলবৎকরণকে “one kind of deception on the constitution” বলেছেন। তাঁর প্রস্তাব, সংসদ ৮(২) সংশোধন করে আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারকে বলবৎযোগ্য করুক। লেখাটি জানায়, ১৯৭২ সালের প্রণেতারা দেশের তখনকার অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে এই অধিকারগুলো ইচ্ছা করেই বলবৎযোগ্যতার বাইরে রেখেছিলেন। গণপরিষদে তাজউদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, ভবিষ্যতের সংসদ বলবৎযোগ্যতার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

২৩ক উল্লেখ করে করা একটি রিট: সোনাইছড়ির ত্রিপুরা পরিবারদের মামলা

২৩ক সরাসরি উল্লেখ করে করা একটি রিটের নথি পাওয়া যায়: আইন ও সালিশ কেন্দ্র বনাম বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য, রিট পিটিশন নং 5361/2021। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ত্রিপুরা পাড়ার 75টির বেশি ত্রিপুরা পরিবারকে উচ্ছেদের অভিযোগে মামলাটি হয়। এখানে ২৩ক এসেছে একা নয়, তৃতীয় ভাগের বলবৎযোগ্য অনুচ্ছেদের পাশে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ওয়েবসাইটে মামলার বিবরণ অনুযায়ী:

  • আবেদনকারী: আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK), নির্বাহী পরিচালকের মাধ্যমে।
  • বিবাদী: বাংলাদেশ সরকারসহ অন্যরা, যার মধ্যে আবুল খায়ের গ্রুপও আছে।
  • অভিযোগ: আবুল খায়ের গ্রুপের উচ্ছেদ ঠেকাতে ও আইনি ব্যবস্থা নিতে বিবাদীরা ব্যর্থ হয়েছেন। পাতাটি জানায়, পরিবারগুলো 150 বছরের বেশি সময় ধরে বসতভিটায় আছে, আর আবেদনে বলা হয়েছে পাশের পাহাড়ি জমি তারা 100 বছরের বেশি সময় ধরে চাষ করছে।
  • যেসব অনুচ্ছেদ উল্লেখ করা হয়েছে: ১৫, ২৩ক, ৩১, ৩২ ও ৪২।
  • আদেশ: 14 জুন 2021 হাইকোর্ট বিভাগ “পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত” আর উচ্ছেদ না করার নির্দেশ দেন, আর বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, চার সপ্তাহের মধ্যে তার কারণ দর্শাতে রুল জারি করেন।
  • চূড়ান্ত নিষ্পত্তি: পাতায় উল্লেখ নেই।

অনুচ্ছেদের তালিকাটি থেকেই কৌশলটা বোঝা যায়। ১৫ (মৌলিক প্রয়োজন) আর ২৩ক দ্বিতীয় ভাগের, বলবৎযোগ্য নয়। ৩১ (আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার), ৩২ (জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা) আর ৪২ (সম্পত্তির অধিকার) তৃতীয় ভাগের, বলবৎযোগ্য। রিটের ভিত্তি তৃতীয় ভাগের অনুচ্ছেদ। ২৩ক এখানে বুঝিয়ে দেয় যে পরিবারগুলোর বসতি ও চাষের জমির সঙ্গে তাদের সংস্কৃতিও জড়িত, আর রাষ্ট্রের একটি সাংবিধানিক কর্তব্যও প্রশ্নের মুখে।

সোনাইছড়ি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার বাইরে, চট্টগ্রাম জেলায়। ২৩ক কোনো অঞ্চলের নাম নেয় না, তাই সমতল আর পাহাড় দুই জায়গার মামলাতেই এটি তোলা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভেতরের কোনো মামলায় ২৩ক উল্লেখ হয়েছে কি না, প্রকাশিত কোনো নথিতে তা পাওয়া যায়নি।

২৩ক আর বলবৎযোগ্য অনুচ্ছেদের তফাত: এক ছকে

সংবিধানের অবস্থানই ঠিক করে কোন অনুচ্ছেদ আদালতে বলবৎযোগ্য। ২৩ক দ্বিতীয় ভাগে, তাই বলবৎযোগ্য নয়। ২৮(৪) ও ২৯(৩)(ক) তৃতীয় ভাগে, তাই বলবৎযোগ্য, যদিও এগুলো কোনো কিছু করতে বাধ্য করে না, কেবল অনগ্রসর অংশের জন্য বিশেষ বিধানের অনুমতি দেয়। কোনো অনুচ্ছেদের জোর বুঝতে হলে দুটিই দেখতে হয়: সেটি কোথায় বসানো, আর তার ভাষা বাধ্য করে নাকি কেবল অনুমতি দেয়।

অনুচ্ছেদ ভাগ ভাষার ধরন আদালতে বলবৎযোগ্য?
২৩ক: সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার ব্যবস্থা দ্বিতীয় (মূলনীতি) রাষ্ট্রের কর্তব্য: “ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন” না, ৮(২)
২৩: জাতীয় সংস্কৃতি দ্বিতীয় রাষ্ট্রের কর্তব্য না, ৮(২)
২৮(১): ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ ইত্যাদির কারণে বৈষম্য নিষেধ তৃতীয় (মৌলিক অধিকার) রাষ্ট্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা হ্যাঁ, ৪৪ ও ১০২
২৮(৪): অনগ্রসর অংশের জন্য বিশেষ বিধান তৃতীয় অনুমতি: “নিবৃত্ত করিবে না” অনুচ্ছেদটি বলবৎযোগ্য ভাগে, তবে বিশেষ বিধান করতে রাষ্ট্রকে বাধ্য করে না
২৯(৩)(ক): সরকারি চাকরিতে অনগ্রসর অংশের প্রতিনিধিত্ব তৃতীয় অনুমতি: “নিবৃত্ত করিবে না” ২৮(৪)-এর মতো
ভারত ২৯(১): স্বতন্ত্র ভাষা, লিপি বা সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার ভারতের তৃতীয় ভাগ (মৌলিক অধিকার) নাগরিকের অধিকার: “shall have the right” হ্যাঁ

২৮(৪)-এর পূর্ণ পাঠ bdlaws-এ এরকম: “নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।” ২৯(৩)(ক)-এর পাঠ একই গড়নের: নাগরিকদের যে কোনো অনগ্রসর অংশ যাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব পায়, সেজন্য বিশেষ বিধান করা থেকে এই অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রকে বিরত রাখবে না। এই দুটি অনুচ্ছেদ কোটার সাংবিধানিক ভিত্তি হিসেবে আলোচিত হয়। ডেইলি স্টারে অধ্যাপক শাহজাহান মণ্ডলের একটি লেখা (26 আগস্ট 2014) ২৮(৪)-এর অনগ্রসর অংশের কোটার কথা তুলে যুক্তি দিয়েছে যে ২৩ক-এর স্বীকৃতিতেই সন্তুষ্ট থাকা উচিত। এ নিয়ে বিপরীত মত পরের অংশগুলোতে আছে।

ছক থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশের সংবিধানে কোনো জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণের এমন কোনো অধিকার নেই যা নাগরিক নিজে আদালতে দাবি করতে পারেন। আছে রাষ্ট্রের একটি অবলবৎযোগ্য কর্তব্য (২৩ক), আর বিশেষ বিধানের দুটি অনুমতি (২৮(৪), ২৯(৩)(ক)), যা সংস্কৃতি নিয়ে নয়, অনগ্রসর অংশের অগ্রগতি ও চাকরি নিয়ে।

ভারতের সংবিধান একই প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দিয়েছে

বলবৎযোগ্যতার প্রশ্নে বাংলাদেশের ৮(২) আর ভারতের ৩৭ অনুচ্ছেদের ভাষা প্রায় এক। দুটিই রাষ্ট্রীয় নীতিকে দেশ পরিচালনার মৌলিক নীতি বলে, আর দুটিই আদালতে বলবৎযোগ্যতা অস্বীকার করে। তবে ভারত সংখ্যালঘুর ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের বিষয়টি রেখেছে মৌলিক অধিকারের ভাগে (২৯(১) অনুচ্ছেদ), যা আদালতে বলবৎযোগ্য।

Constitute Project-এ ভারতের সংবিধানের পাঠ অনুযায়ী ৩৭ অনুচ্ছেদ বলে: “The provisions contained in this Part shall not be enforceable by any court, but the principles therein laid down are nevertheless fundamental in the governance of the country and it shall be the duty of the State to apply these principles in making laws.” আর ২৯(১): “Any section of the citizens residing in the territory of India or any part thereof having a distinct language, script or culture of its own shall have the right to conserve the same.”

দুটি সংবিধানের তফাতটা গঠনে। ভারতে সংস্কৃতি সংরক্ষণ নাগরিকের নিজের “right”, তাই তিনি আদালতে যেতে পারেন। বাংলাদেশে বিষয়টি রাষ্ট্রের “ব্যবস্থা গ্রহণ” করার দায়িত্ব, যা ৮(২)-এর আওতায় আদালতে বলবৎযোগ্য নয়। আবুজর গিফারীর ডেইলি স্টারের লেখাটিও বলে, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারকে অবলবৎযোগ্য রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারত আয়ারল্যান্ডের পথ অনুসরণ করেছে।

২৩ক কি সংশোধনের অযোগ্য? ৭খ অনুচ্ছেদ ও ২০২৪–২০২৬ সালের রায়

পঞ্চদশ সংশোধনী ৭খ অনুচ্ছেদ যোগ করে দ্বিতীয় ভাগের সব অনুচ্ছেদকে, ২৩ক-সহ, সংশোধনের অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। 17 ডিসেম্বর 2024 হাইকোর্ট বিভাগ ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেন। 9 জুলাই 2026 আপিল বিভাগ সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলগুলো খারিজ করেন। ফলে ২৩ক-এর ওপর ৭খ-এর সেই বাধা আর কার্যকর নেই।

bdlaws-এ ৭খ-এর পাঠ এখনো এভাবে দেখা যায়:

৭খ। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমুহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।

“দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ” কথাটির কারণে ২০১১ থেকে ধরে নেওয়া হতো যে ২৩ক-এর একটি শব্দও আর বদলানো যাবে না। আমাদের আর্কাইভের লেখা “জুম্ম জনগণের আদিবাসী পরিচয়ের দাবি কেন যৌক্তিক” ঠিক এই যুক্তিই দিয়েছিল: ২৩ক আর সংশোধনযোগ্য নয়, কারণ ৭খ বাধা দেয়, আর এমন স্বীকৃতি তখনই সম্ভব যখন সুপ্রিম কোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করবেন।

পরিস্থিতি বদলেছে আদালতের রায়ে:

  1. 17 ডিসেম্বর 2024, হাইকোর্ট বিভাগ। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা (তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপ) বাতিল করেন, আর ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদ “সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল” ঘোষণা করেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভার আদালত আগামী সংসদের ওপর ছেড়ে দেন।
  2. কারণ। ডেইলি স্টারের আইন পাতার ব্যাখ্যা (29 জুলাই 2026) জানায়, ৭খ অসাংবিধানিক ধরা হয়েছে এই যুক্তিতে যে কোনো সংসদ তার উত্তরসূরি সংসদের হাত বেঁধে দিতে পারে না।
  3. 9 জুলাই 2026, আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ তিনটি আপিলই খারিজ করেন। প্রথম আলোর ইংরেজি প্রতিবেদন অনুযায়ী এতে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।

খেয়াল রাখার বিষয়: 16 অক্টোবর 2026 পর্যন্ত bdlaws-এর সংবিধানের পাতায় ৭খ ও ৪৪(২) কোনো টীকা ছাড়াই আগের মতো দেখা যাচ্ছে। সরকারি ওয়েবসাইটের পাঠ আর আদালতের রায়ের অবস্থা এখন আলাদা। আর এই রায়ের পরেও ২৩ক-এর ভাষা বা অবস্থান বদলায়নি, কারণ ২৩ক নিজে বাতিল হয়নি। রায়টি কেবল এর সংশোধনের পথ খুলেছে, ১৪২ অনুচ্ছেদের পদ্ধতিতে। আর ২৩ক যতদিন দ্বিতীয় ভাগে থাকবে, ৮(২) ততদিন এর ওপর প্রযোজ্য।

জাতিসংঘের কমিটি বলবৎযোগ্যতা নিয়ে কী বলেছে

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার কমিটি (CESCR) 2018 সালে বাংলাদেশ সম্পর্কে তার পর্যবেক্ষণে ঠিক এই সমস্যাটি চিহ্নিত করেছে। কমিটির মতে সংবিধান এই অধিকারগুলোকে কেবল রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে স্বীকার করে, মৌলিক অধিকার হিসেবে নয়, আর সেগুলো আদালতে বিচারযোগ্য নয়। কমিটি সুপারিশ করেছে, এগুলোকে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের সমান সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া হোক।

কমিটির সমাপনী পর্যবেক্ষণ (E/C.12/BGD/CO/1, 18 এপ্রিল 2018) থেকে প্রাসঙ্গিক অনুচ্ছেদগুলো:

  • অনুচ্ছেদ 5: কমিটি উদ্বিগ্ন যে সংবিধান অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারকে কেবল “fundamental principles of State policy” হিসেবে স্বীকার করে, “not as fundamental rights”, আর এগুলো আদালতে বিচারযোগ্য নয়।
  • অনুচ্ছেদ 6: সুপারিশ: আন্তর্জাতিক চুক্তির (ICESCR) অধিকারগুলোকে দেশের আইনে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের সমান সাংবিধানিক মর্যাদায় অন্তর্ভুক্ত করা, আর সব স্তরের আদালতে সেগুলো প্রয়োগ করা।
  • অনুচ্ছেদ 15: কমিটি “tribes, ‘minor’ races and ethnic sects and communities”-কে স্বীকৃতি ও সুরক্ষা দেওয়া সাংবিধানিক বিধানের কথা স্বীকার করেছে, তবে যারা নিজেদের আদিবাসী বলে পরিচয় দেন তাদের অধিকারের স্পষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত স্বীকৃতি না থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছে।
  • অনুচ্ছেদ 70: সাংস্কৃতিক অধিকার অংশে কমিটি 2010 সালের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন আর পঞ্চদশ সংশোধনীর উল্লেখ করেছে, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা ও উন্নয়নে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নির্ধারণ করে।

অর্থাৎ একই নথিতে কমিটি ২৩ক-কে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে (অনুচ্ছেদ 70), আবার যে কাঠামোর কারণে ২৩ক আদালতে বলবৎযোগ্য নয়, তার সমালোচনাও করেছে (অনুচ্ছেদ 5–6)। কমিটি অনুচ্ছেদ 72-এ ঐচ্ছিক প্রটোকল অনুসমর্থনের কথাও বিবেচনা করতে বলেছে। এই প্রটোকলের মাধ্যমে এই অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কমিটির কাছে তোলা যায়।

২৩ক নিয়ে আদিবাসী লেখক ও সংগঠনের আপত্তি কোথায়

আমাদের আর্কাইভে ২৩ক নিয়ে যত আপত্তি আছে, তার বড় অংশ অনুচ্ছেদটির পরিধি নিয়ে, অর্থাৎ এটি কেবল সংস্কৃতির কথা বলে, ভূমি, স্বশাসন বা প্রতিনিধিত্বের কথা বলে না। সংশোধনী পাসের আড়াই মাস আগেই একটি লেখায় সতর্ক করা হয়েছিল যে কেবল সংস্কৃতি-সংক্রান্ত অনুচ্ছেদে স্বীকৃতি দিলে তা “অর্থহীন” হবে। বলবৎযোগ্যতার প্রশ্নটি এই লেখাগুলোতে সরাসরি আসেনি।

সংশোধনীর আগে: শক্তিপদ ত্রিপুরার সতর্কবার্তা (এপ্রিল 2011)

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা 20 এপ্রিল 2011 ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে কাপেং ফাউন্ডেশন ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার আয়োজিত আলোচনা সভায় একটি প্রবন্ধ পড়েন। সেটি আমাদের আর্কাইভে আছে: “আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও এর প্রাসঙ্গিকতা”। সংশোধনী পাসের দশ সপ্তাহ আগে লেখা এই প্রবন্ধে তিনি জানান, বিশ্বস্ত সূত্রমতে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ সংসদীয় কমিটি “কেবলমাত্র সংস্কৃতি সংক্রান্ত কোন অনুচ্ছেদে” শব্দটি যোগ করার কথা ভাবছে। তাঁর ভাষায়, তা সঠিক হলে উদ্যোগটি হবে “একটি অর্থহীন, লোক দেখানো ও রাজনৈতিক অবিমৃষ্মকারিতা।”

প্রবন্ধটি স্বীকৃতির সঙ্গে আরও কিছু অধিকারের তালিকা দেয়: ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার, স্থানীয় সরকার ও সংসদে প্রতিনিধিত্ব, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ শাসনব্যবস্থা, প্রথাগত ভূমি অধিকার ও সমষ্টিগত মালিকানা, আর আদিবাসীদের মতামত ছাড়া সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধান সংশোধন না করা। এর প্রায় সবই পরে ২৩ক-এর বাইরে থেকে যায়।

সংশোধনীর পরে: মঙ্গল কুমার চাকমা ও প্রশান্ত ত্রিপুরা

লেখক মঙ্গল কুমার চাকমা “আদিবাসী জাতিসমূহের সাংস্কৃতিক অধিকার ও বর্তমান অবস্থা” লেখায় দুটি দিক পাশাপাশি রেখেছেন। একদিকে তিনি লিখেছেন, বিতর্ক বা ত্রুটি সত্ত্বেও ২৩ক-ই প্রথম অনুচ্ছেদ যেখানে সংবিধানে আদিবাসীদের সম্পর্কে উল্লেখ আছে। অন্যদিকে তাঁর আপত্তি, এই সংশোধনী কেবল “অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য” সংরক্ষণের স্বীকৃতি দিয়েছে। লেখাটি সংশোধনী পাসের তারিখ 30 জুন 2011 বলে উল্লেখ করেছে।

নৃবিজ্ঞানী প্রশান্ত ত্রিপুরা “আরণ্য জনপদের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক সনদের ছায়াতলে” লেখায় (প্রথম প্রকাশ: বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সংকলন সংহতি, 2013) ভিন্ন সুরে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, শব্দটি নেই বলেই ২৩ক “একেবারে নিন্দনীয় হয়ে গেল”, এমন সরল সমীকরণ ছেড়ে দলিলগুলোর অন্তঃসার দেখা দরকার। অনুচ্ছেদের শব্দ নয়, অনুচ্ছেদটি আসলে কী করে, তা দেখার এই পরামর্শ ৮(২)-এর প্রশ্নটিকে সামনে আনে।

১৯৭২ সালে লারমা: “এক হাতে অধিকার দেওয়া হয়েছে”

দ্বিতীয় ভাগের নীতি নিয়ে সংশয় ২০১১ সালের নয়। আমাদের আর্কাইভে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার গণপরিষদ-বক্তৃতার একটি পাঠ আছে, যা “জুম্ম সংবাদ বুলেটিন”-এর 10 নভেম্বর 1995 সংখ্যা (বুলেটিন নং 23) থেকে নেওয়া। সেই পাঠ অনুযায়ী 25 অক্টোবর 1972 খসড়া সংবিধান নিয়ে আলোচনায় তিনি বলেন, সংবিধানকে অভিনন্দন জানাতে না পারার একটি কারণ হলো, “এখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।” তারপর দ্বিতীয় ভাগের ১০ ও ২০ অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে বলেন, “এক হাতে অধিকার দেওয়া হয়েছে এবং অন্য হাতে সেটা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।” লারমার বক্তৃতার এই পাঠ গণপরিষদের সরকারি কার্যবিবরণীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়নি; আমাদের লারমার জীবনী-লেখাটিতেও বলা আছে যে তাঁর নামে প্রচলিত উদ্ধৃতির একাধিক রূপ আছে।

লারমার আপত্তি ছিল মালিকানা ও শোষণমুক্তির নীতি নিয়ে, ২৩ক তখন ছিলই না। কিন্তু তাঁর বাক্যটি দ্বিতীয় ভাগের কাঠামোকেই বর্ণনা করে: প্রতিশ্রুতি থাকে একটি ভাগে, আর তা আদায়ের পথ থাকে না।

রাষ্ট্রপক্ষের ও ভিন্ন মত

উল্টো দিকের মতও নথিভুক্ত আছে। অধ্যাপক শাহজাহান মণ্ডল (ডেইলি স্টার, 26 আগস্ট 2014) মনে করেন, ২৩ক-এর স্বীকৃতি যথেষ্ট আর সংখ্যালঘুদের এতে সন্তুষ্ট থাকা উচিত। সরকারও ইউপিআর প্রক্রিয়ায় ২৩ক-কে অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরেছে (আগের অংশ দেখুন)। এই দুই অবস্থানের কোনোটিই ৮(২)-এর প্রশ্নে কিছু বলেনি।

স্বীকৃতির তর্কে ৮(২) কেন হিসাবের বাইরে থেকে যায়

প্রকাশ্য তর্ক মূলত ২৩ক-এর শব্দ নিয়ে: কোন নামে জনগোষ্ঠীগুলোকে ডাকা হবে। কিন্তু ৮(২) অনুযায়ী অনুচ্ছেদটি দ্বিতীয় ভাগে থাকলে, তাতে যে শব্দই বসুক, সেটি আদালতে বলবৎযোগ্য হবে না। কাজেই শব্দ বদলানো আর বলবৎযোগ্য অধিকার পাওয়া দুটি আলাদা প্রশ্ন, আর দ্বিতীয়টির জবাব নির্ভর করে অনুচ্ছেদটি কোন ভাগে বসানো, তার ওপর।

বিষয়টি তিনটি আলাদা প্রশ্নে ভাগ করা যায়:

  1. পরিচয়ের প্রশ্ন: সংবিধান জনগোষ্ঠীগুলোকে কোন নামে উল্লেখ করবে। এটি প্রতীকী ও রাজনৈতিক প্রশ্ন, আর এর আন্তর্জাতিক আইনি তাৎপর্যও আছে। আমাদের জাতিসংঘ আদিবাসী ঘোষণাপত্র বিষয়ক লেখা তা আলোচনা করেছে।
  2. বিষয়বস্তুর প্রশ্ন: অনুচ্ছেদটি কোন বিষয় ঢাকবে, কেবল সংস্কৃতি নাকি ভূমি, ভাষা, প্রতিনিধিত্ব ও স্বশাসনও। ২০১১ সালের আগে-পরের আদিবাসী লেখকদের আপত্তি মূলত এখানে।
  3. বলবৎযোগ্যতার প্রশ্ন: নাগরিক বা জনগোষ্ঠী নিজে আদালতে গিয়ে বিধানটি আদায় করতে পারবেন কি না। এটি ঠিক হয় বিধানটি কোন ভাগে বসানো আর তার ভাষা অধিকার দেয় নাকি কর্তব্য, তার ওপর।

প্রথম প্রশ্নে যে উত্তরই আসুক, তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর আপনাআপনি বদলায় না। ২৩ক-এ অন্য শব্দ বসালেও, যতদিন অনুচ্ছেদটি দ্বিতীয় ভাগে আছে, ৮(২) তার ওপর প্রযোজ্য থাকবে।

সংস্কারের প্রস্তাবেও এই পার্থক্য দেখা যায়। অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন 15 জানুয়ারি 2025 প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় (প্রথম আলো)। ডেইলি স্টারের বিশ্লেষণ (8 ফেব্রুয়ারি 2025) অনুযায়ী কমিশন জাতিগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্য, ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি সুরক্ষা ও বিকাশের অধিকারের ওপর জোর দিয়েছে এবং ভাষা সংরক্ষণসহ সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অধিকারের সুপারিশ করেছে। একই প্রতিবেদন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে স্পষ্টভাবে বলবৎযোগ্য অধিকার করার কথা বলে। সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অধিকারটি বলবৎযোগ্য হবে কি না, প্রতিবেদনটির ওই বিবরণে তা স্পষ্ট নয়। ডেইলি স্টারের লেখাটি ৮(২) বা ২৩ক-এর কোনো উল্লেখ করেনি।

আইনি প্রশ্নটি এভাবে দাঁড়ায়: ২৩ক-এর দায়িত্ব আদালতে বলবৎযোগ্য করার পথ সংবিধানের ভেতরেই আছে। হয় বিধানটিকে “অধিকার” হিসেবে তৃতীয় ভাগে নিতে হবে, নয়তো ৮(২)-এর শেষ অংশ বদলাতে হবে, নয়তো সংসদকে আলাদা আইন করে দায়িত্বটিকে বলবৎযোগ্য করতে হবে। এর কোনোটি এখনো হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ শাসনব্যবস্থা আইন দিয়েই দাঁড়িয়েছে, সংবিধান দিয়ে নয়; সেই আইনি কাঠামো নিয়ে আমাদের পার্বত্য চুক্তির ধারা-ভিত্তিক লেখা দেখতে পারেন।

প্রশ্নোত্তর

সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদে কী বলা আছে?

২৩ক অনুচ্ছেদ বলে, রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এটি একটিমাত্র বাক্য। এতে রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা আছে, কোনো ব্যক্তির অধিকারের কথা নেই, আর বিষয় কেবল সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ১৪ ধারা এটি যোগ করে।

২৩ক অনুচ্ছেদ কি আদালতে বলবৎ করা যায়?

না, সরাসরি যায় না। ২৩ক সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে, অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অংশে। ৮(২) অনুচ্ছেদ বলে, এই ভাগের নীতিসমূহ “আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না”। তাই কেবল ২৩ক দেখিয়ে রিট করে রাষ্ট্রকে কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপে বাধ্য করা যায় না। তবে তৃতীয় ভাগের অধিকার লঙ্ঘনের মামলায় সহায়ক যুক্তি হিসেবে এটি আনা যায়।

৮(২) অনুচ্ছেদে ঠিক কী লেখা আছে?

৮(২) বলে, দ্বিতীয় ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ-পরিচালনার মূলসূত্র হবে, আইন প্রণয়নে রাষ্ট্র তা প্রয়োগ করবে, সংবিধান ও অন্য আইনের ব্যাখ্যায় তা নির্দেশক হবে, আর তা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কাজের ভিত্তি হবে, “তবে এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না।” ২০১১ সালের সংশোধনী ৮(১) বদলালেও ৮(২) অপরিবর্তিত রাখে।

২৩ক সংবিধানের কোন ভাগে আছে?

২৩ক আছে দ্বিতীয় ভাগে, যার নাম “রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি”। এই ভাগে ৮ থেকে ২৫ অনুচ্ছেদ, মাঝে ১৮ক ও ২৩ক। ২৩ক বসেছে ২৩ অনুচ্ছেদের (জাতীয় সংস্কৃতি) ঠিক পরে আর ২৪ অনুচ্ছেদের (জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন) আগে। মৌলিক অধিকারের তৃতীয় ভাগ শুরু ২৬ অনুচ্ছেদ থেকে, যা আদালতে বলবৎযোগ্য।

পঞ্চদশ সংশোধনী কবে পাস হয়েছিল?

সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন) সংসদে পাস হয় 30 জুন 2011, বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে। bdnews24-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি 3 জুলাই 2011 বিলে সই করেন। এই আইনের ১৪ ধারা ২৩ক যোগ করে, ৮ ধারা ৮(১) প্রতিস্থাপন করে, আর ১৮ ধারা ৪৪ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন করে।

মূলনীতি বলবৎযোগ্য না হলে আদালত কি সেগুলো কখনো ব্যবহার করেন?

হ্যাঁ, পরোক্ষভাবে করেন। ৮(২) অনুযায়ী মূলনীতি আইনের ব্যাখ্যায় নির্দেশক। সুপ্রিম কোর্ট ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের অধিকারের ব্যাখ্যা বড় করে আর্থ-সামাজিক অধিকার বলবৎ করেছেন। শফিউল্লাহ মামলায় (রিট 4313/2009) হাইকোর্ট ২৪ অনুচ্ছেদ কার্যত বলবৎ করেছিলেন। তবে আপিল বিভাগের প্রধান নজির কুদরত-ই-ইলাহী পনির (44 DLR (AD) 319) মূলনীতিকে অবলবৎযোগ্যই বলেছে।

কুদরত-ই-ইলাহী পনির মামলায় কী বলা হয়েছিল?

1992 সালের এই মামলায় (44 DLR (AD) 319) উপজেলা পরিষদ বিলুপ্তির অধ্যাদেশ চ্যালেঞ্জ করা হয়, আর যুক্তি দেওয়া হয় যে মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন বাতিল হওয়া উচিত। আপিল বিভাগ মূলনীতিকে আদালতে অবলবৎযোগ্য বলেন। বিচারপতি মোস্তফা কামালের মত ছিল, মূলনীতি নিজে “আইন” নয়, আর এগুলো বাস্তবায়নের শর্ত তৈরি হয়েছে কি না তা রাষ্ট্রের বিবেচনার বিষয়।

২৩ক উল্লেখ করে কি কোনো মামলা হয়েছে?

হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র রিট পিটিশন নং 5361/2021-এ সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়িতে 75টির বেশি ত্রিপুরা পরিবারের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ১৫, ২৩ক, ৩১, ৩২ ও ৪২ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে। 14 জুন 2021 হাইকোর্ট পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আর উচ্ছেদ না করার নির্দেশ দেন এবং রুল জারি করেন। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির খবর প্রকাশিত হয়নি।

২৩ক কি এখনো সংশোধনের অযোগ্য?

না। ৭খ অনুচ্ছেদ দ্বিতীয় ভাগের সব অনুচ্ছেদকে সংশোধনের অযোগ্য করেছিল। কিন্তু 17 ডিসেম্বর 2024 হাইকোর্ট বিভাগ ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) বাতিল ঘোষণা করেন, আর 9 জুলাই 2026 আপিল বিভাগ এর বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করেন। bdlaws-এ ৭খ এখনো কোনো টীকা ছাড়া দেখা যায়। ২৩ক নিজে বাতিল হয়নি, কেবল সংশোধনের পথ খুলেছে।

২৩ক-এ ‘আদিবাসী’ শব্দ বসালে কি এটি আদালতে বলবৎযোগ্য হবে?

শুধু শব্দ বদলালে হবে না। বলবৎযোগ্যতা ঠিক হয় অনুচ্ছেদটি কোন ভাগে বসানো, তার ওপর। যতদিন ২৩ক দ্বিতীয় ভাগে থাকবে, ৮(২) অনুযায়ী এটি আদালতে বলবৎযোগ্য নয়, এতে যে শব্দই থাকুক। বলবৎযোগ্য করতে হলে বিধানটিকে অধিকার হিসেবে তৃতীয় ভাগে নিতে হবে, ৮(২) সংশোধন করতে হবে, অথবা সংসদকে আলাদা আইন করতে হবে।

ভারতের সংবিধান সংস্কৃতি রক্ষার প্রশ্নে কী করেছে?

ভারতের সংবিধানের ২৯(১) অনুচ্ছেদ বলে, স্বতন্ত্র ভাষা, লিপি বা সংস্কৃতি আছে এমন নাগরিকদের যে কোনো অংশের তা সংরক্ষণের অধিকার থাকবে। এটি ভারতের মৌলিক অধিকারের ভাগে, তাই আদালতে বলবৎযোগ্য। ভারতের ৩৭ অনুচ্ছেদ বাংলাদেশের ৮(২)-এর মতোই রাষ্ট্রীয় নীতিকে অবলবৎযোগ্য রেখেছে, কিন্তু সংস্কৃতি সংরক্ষণকে সেই ভাগে রাখেনি।

জাতিসংঘ এ বিষয়ে বাংলাদেশকে কী বলেছে?

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার কমিটি 18 এপ্রিল 2018 তারিখের পর্যবেক্ষণে (E/C.12/BGD/CO/1, অনুচ্ছেদ 5–6) উদ্বেগ জানায় যে বাংলাদেশের সংবিধান এই অধিকারগুলোকে কেবল মূলনীতি হিসেবে রেখেছে, আর সেগুলো আদালতে বিচারযোগ্য নয়। কমিটি এগুলোকে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের সমান সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়ার সুপারিশ করে। অনুচ্ছেদ 70-এ পঞ্চদশ সংশোধনীর সাংস্কৃতিক বিধানের উল্লেখও আছে।

২৩ক থাকা সত্ত্বেও সংস্কৃতি রক্ষার আইনি দাবি কীভাবে তোলা যায়?

তিনটি পথ আছে। প্রথমত, সংসদের পাস করা আইন, যেমন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০, বলবৎযোগ্য। দ্বিতীয়ত, তৃতীয় ভাগের অধিকার, যেমন ৩১, ৩২ ও ৪২ অনুচ্ছেদ, লঙ্ঘনের মামলায় ২৩ক সহায়ক যুক্তি হিসেবে আনা যায়। তৃতীয়ত, ৮(২) অনুযায়ী আদালত আইনের ব্যাখ্যায় ২৩ক-কে নির্দেশক হিসেবে নিতে পারেন।

যা এখনো জানা যায়নি

  • ২৩ক কেন দ্বিতীয় ভাগে বসানো হলো: সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন বা 2011 সালের সংসদ-বিতর্কে অনুচ্ছেদটির অবস্থান নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল কি না, জানা যায়নি।
  • পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের পূর্ণ পাঠ: bdlaws-এ আইনটি আলাদা আইন হিসেবে পাওয়া যায়নি। এই লেখায় আইনটির ধারাগুলোর কাজ নেওয়া হয়েছে সংবিধানের সংশোধিত অনুচ্ছেদের নিচের পাদটীকা থেকে। মূল গেজেট মিলিয়ে দেখা যায়নি।
  • সোনাইছড়ি রিটের চূড়ান্ত রায়: রিট 5361/2021-এ রুল নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, আর হলে আদালত ২৩ক নিয়ে কিছু বলেছেন কি না, প্রকাশিত কোনো নথিতে পাওয়া যায়নি।
  • পার্বত্য চট্টগ্রামের মামলায় ২৩ক: তিন পার্বত্য জেলার কোনো ভূমি বা উচ্ছেদ মামলায় ২৩ক উল্লেখ হয়েছে কি না, আর কোনো রায়ে আদালত ২৩ক-কে ব্যাখ্যার নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করেছেন কি না, জানা যায়নি।
  • শফিউল্লাহ মামলার পরবর্তী অবস্থা: রিট 4313/2009-এর রায় আপিল বিভাগে গিয়েছিল কি না, আর “নেতিবাচক বলবৎকরণ”-এর যুক্তি পরে কোনো রায়ে টিকেছে কি না, এই লেখার উৎসগুলো থেকে জানা যায় না।
  • আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়: 9 জুলাই 2026-এর রায়ের পূর্ণ পাঠ এই লেখার সময় প্রকাশিত হয়নি বলে ডেইলি স্টার জানিয়েছে। ৭খ বাতিলের পর দ্বিতীয় ভাগ সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায়ে কোনো পর্যবেক্ষণ থাকবে কি না, জানা যায়নি।
  • সংস্কার কমিশনের সাংস্কৃতিক অধিকার: সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত “সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অধিকার” আদালতে বলবৎযোগ্য হবে কি না, আর প্রস্তাবে ২৩ক-এর কী হবে, কমিশনের মূল প্রতিবেদন মিলিয়ে দেখা যায়নি।
  • লারমার বক্তৃতার মূল পাঠ: 25 অক্টোবর 1972-এর বক্তৃতার যে পাঠ উদ্ধৃত হয়েছে, তা গণপরিষদের সরকারি কার্যবিবরণীর সঙ্গে মেলানো যায়নি।

তথ্যসূত্র

প্রাথমিক উৎস: সংবিধানের পাঠ

  1. আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ২৩ক (বাংলা)। bdlaws, 16 অক্টোবর 2026-এ দেখা। লিংক
  2. একই, Article 23A (English)। লিংক
  3. একই, অনুচ্ছেদ ৮ (বাংলা)। লিংক
  4. একই, Article 8 (English)। লিংক
  5. একই, অনুচ্ছেদ ২৩। লিংক
  6. একই, অনুচ্ছেদ ২৬। লিংক
  7. একই, অনুচ্ছেদ ২৮। লিংক
  8. একই, অনুচ্ছেদ ২৯। লিংক
  9. একই, অনুচ্ছেদ ৪৪। লিংক
  10. একই, অনুচ্ছেদ ৭খ। লিংক
  11. একই, সংবিধানের সূচিপাতা। লিংক

প্রাথমিক উৎস: জুমজার্নাল আর্কাইভ

  1. শক্তিপদ ত্রিপুরা। “আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও এর প্রাসঙ্গিকতা”। কাপেং ফাউন্ডেশন ও আইএলও আয়োজিত আলোচনা সভা, সিরডাপ মিলনায়তন, ঢাকা, 20 এপ্রিল 2011; জুমজার্নাল। লিংক
  2. মঙ্গল কুমার চাকমা। “আদিবাসী জাতিসমূহের সাংস্কৃতিক অধিকার ও বর্তমান অবস্থা”। জুমজার্নাল। লিংক
  3. প্রশান্ত ত্রিপুরা। “আরণ্য জনপদের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক সনদের ছায়াতলে: বাংলাদেশে আদিবাসী পরিচয় পুনর্নির্মাণের দুই দশক (১৯৯৩-২০১৩)”। প্রথম প্রকাশ সংহতি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, 2013; জুমজার্নাল। লিংক
  4. বাবলু চাকমা ও মানিক সরেন। “ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ (ইউপিআর) সুপারিশসমূহের আলোকে বাংলাদেশের আদিবাসীদের মানবাধিকার”। জুমজার্নাল। লিংক
  5. “জুম্ম জনগণের আদিবাসী পরিচয়ের দাবি কেন যৌক্তিক”। জুমজার্নাল। লিংক
  6. “জুম্ম জাতির দুগর মাচ: মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা জাতীয় সংসদের বক্তব্য”। সূত্র: জুম্ম সংবাদ বুলেটিন, বুলেটিন নং 23, 10 নভেম্বর 1995; জুমজার্নাল। লিংক

আদালত, জাতিসংঘ ও অন্যান্য উৎস

  1. আইন ও সালিশ কেন্দ্র। “Ain o Salish Kendra (ASK) v The Government of Bangladesh and others (Writ Petition 5361 of 2021)”। askbd.org, 1 সেপ্টেম্বর 2021। লিংক
  2. United Nations, Committee on Economic, Social and Cultural Rights. Concluding observations on the initial report of Bangladesh, E/C.12/BGD/CO/1, 18 April 2018। লিংক
  3. Emraan Azad. “A man of judicial excellence”। The Daily Star, 19 জানুয়ারি 2015। লিংক
  4. Md. Azhar Uddin Bhuiyan. “Comments on Major General K.M. Shafiullah & another vs. Bangladesh”। Dhaka Law Review, 22 আগস্ট 2016। লিংক
  5. Moha. Waheduzzaman. “Economic, Social and Cultural Rights Under the Constitution: Critical Evaluation of Judicial Jurisprudence in Bangladesh”। BILIA। লিংক
  6. Abuzar Gifari. “The enforcement of unenforceable constitutional rights”। The Daily Star, 17 জুন 2025। লিংক
  7. Jeba Mobashwira. “Understanding the 15th Amendment case”। The Daily Star, 29 জুলাই 2026। লিংক
  8. প্রথম আলো। “তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির বিধান বাতিল, ফিরল গণভোট”। 17 ডিসেম্বর 2024। লিংক
  9. Prothom Alo English. “SC verdict upholds reinstatement of caretaker govt and referendum provisions”। 9 জুলাই 2026। লিংক
  10. bdnews24.com. “15th amendment now law”। 3 জুলাই 2011। লিংক
  11. Shahjahan Mondol. “Recognition of indigenous people”। The Daily Star, 26 আগস্ট 2014। লিংক
  12. প্রথম আলো। “সংবিধানে বড় পরিবর্তনের সুপারিশ”। 15 জানুয়ারি 2025। লিংক
  13. Md Abbas. “What rights will it ensure?”। The Daily Star, 8 ফেব্রুয়ারি 2025। লিংক
  14. Constitute Project. India’s Constitution of 1949 with Amendments through 2016, Articles 29, 37। লিংক

সর্বশেষ হালনাগাদ: 16 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:আদিবাসী, আদিবাসী অধিকার, মানবাধিকার, সংবিধান, সংবিধানে আদিবাসী

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা