Last updated Oct 17th, 2026
1

উপজাতি কোটার সুফল কারা পাচ্ছে — এই প্রশ্নের জনগোষ্ঠী ধরে কোনো সরকারি হিসাব প্রকাশ্যে পাওয়া যায় না। কোটার হার অবশ্য স্পষ্ট: 23 জুলাই 2024-এর গেজেট প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সব গ্রেডে সরাসরি নিয়োগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কোটা 1%, আর অক্টোবর 2018-এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে তা ছিল 5%। কে কতটা পেয়েছেন তার যে একমাত্র জনগোষ্ঠীভিত্তিক সংখ্যা ঘুরে বেড়ায় — 2011 থেকে 2021 সালে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে কোটায় ভর্তি 3,108 জনের মধ্যে চাকমা 1,752 — সেটি এসেছে ডিসেম্বর 2022-এর সংবাদপত্র প্রতিবেদন থেকে, এমন এক “গবেষণা” উদ্ধৃত করে যার নাম প্রতিবেদনে নেই।
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, মঙ্গলবার, জুলাই 23, 2024 — পৃষ্ঠা 22399। একটিমাত্র পাতা, চারটি অনুচ্ছেদ। প্রথম অনুচ্ছেদের (গ) দফায় দুটি শব্দ আর একটি সংখ্যা: “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ১%”। এই পাতাটি এখন দেশের প্রতিটি সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু পাতাটি বলে না ওই 1% কোন জনগোষ্ঠীর কাছে যাচ্ছে, পাহাড়ে না সমতলে, কতগুলো পদ পূরণ হলো আর কতগুলো ফিরে গেল সাধারণ মেধাতালিকায়।
এই লেখায় পাশাপাশি রাখা হয়েছে চারটি জিনিস: কোটার হার কোন সালে কত ছিল তার সরকারি দলিল, 2024 সালের আদালতের রায়, জনগোষ্ঠীভিত্তিক যে হিসাবগুলো সংবাদমাধ্যমে ছাপা হয়েছে সেগুলোর উৎস কতটা দেখা যায়, আর কোন তথ্য প্রকাশ্যে একেবারেই নেই। কোটা থাকা উচিত কি না বা কত হওয়া উচিত — সে বিতর্কে এই লেখা কোনো পক্ষ নেয় না; প্রতিটি মত তার বক্তার নামে রাখা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আমাদের অন্য লেখাগুলো একসঙ্গে পাবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম হাবে।
এই লেখায় যা আছে
এখন 1%। 23 জুলাই 2024 থেকে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে সরাসরি নিয়োগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য 1% কোটা কার্যকর। 1985 থেকে অক্টোবর 2018 পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে এই হার ছিল 5%। 2018 থেকে 2024 পর্যন্ত নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেডে কোনো কোটাই ছিল না। 16 এপ্রিল 2026 সংসদেও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী 1%-এর কথাই বলেছেন।
“উপজাতি কোটা কত শতাংশ” আর “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা কত” — দুটো প্রশ্ন একই কোটার কথা জিজ্ঞেস করে, কেবল নাম আলাদা। 2024-এর গেজেট লেখে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিতে নাম “উপজাতি বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী কোটা” (দেশ রূপান্তর, 5 নভেম্বর 2024); পার্বত্য চুক্তি লেখে “উপজাতীয়”; জুমজার্নাল নিজের লেখায় বলে “আদিবাসী”। নিচের ছকে প্রতিটি হার তার সময়কাল আর উৎসসহ:
| সময়কাল | কোন নিয়োগ বা ভর্তি | ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী / উপজাতি কোটা | উৎস |
|---|---|---|---|
| 1985 – অক্টোবর 2018 | প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদ (এখনকার 9ম–13তম গ্রেড) | 5% (মোট 56% কোটার অংশ) | প্রথম আলো, 7 জুলাই 2024; আজকের পত্রিকা, 11 জুলাই 2024; দ্য ডেইলি স্টার, 4 অক্টোবর 2018 |
| 4 অক্টোবর 2018 – 22 জুলাই 2024 | 9ম–13তম গ্রেড | কোনো কোটা নেই — কেবল মেধা | পরিপত্র নং ০৫.০০.০০০০.১৭০.১১.০৭.১৮-২৭৬ (2024-এর গেজেটে উদ্ধৃত) |
| 2018 – 22 জুলাই 2024 | তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদ (14তম–20তম গ্রেড) | কোটা বহাল ছিল, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ; ডেইলি অবজারভারের মতে সব শ্রেণিতে আগে 5% ছিল [যাচাই প্রয়োজন] | দ্য ডেইলি স্টার, 4 অক্টোবর 2018; প্রথম আলো, 7 জুলাই 2024; ডেইলি অবজারভার, 7 ডিসেম্বর 2022 |
| 5 জুন – 21 জুলাই 2024 | 9ম–13তম গ্রেড | হাইকোর্ট 2018-এর পরিপত্র বাতিল করে; আপিল বিভাগে বিচারাধীন | ডেইলি স্টার বাংলা, 14 জুলাই 2024 |
| 23 জুলাই 2024 – এখন (এপ্রিল 2026-এ সংসদে নিশ্চিত) | সব গ্রেডে সরাসরি নিয়োগ | 1% (মোট 7% কোটার অংশ) | গেজেট প্রজ্ঞাপন নং ০৫.০০.০০০০.১৭০.১১.০১৪.২৪-১৪১; এখন টিভি, 16 এপ্রিল 2026 |
| 2024–25 শিক্ষাবর্ষ | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক ভর্তি | 1%, কেবল পাস নম্বর পেলেই | দেশ রূপান্তর, 5 নভেম্বর 2024 |
| 2020–21 শিক্ষাবর্ষ | সরকারি মেডিকেল কলেজ (এমবিবিএস) | 30টি সংরক্ষিত আসন (শতাংশ নয়) | দ্য ডেইলি স্টার, 21 এপ্রিল 2021 (সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের বিবৃতি) |
ছকের তৃতীয় সারির “5%” কেবল ডেইলি অবজারভারের একটি বাক্যের উপর দাঁড়িয়ে: “Earlier, 5 per cent quota were reserved for all ethnic minorities in all category of government jobs”। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর হার সরকারি কোনো দলিলে পড়ে মেলানো যায়নি — নিচে “যা এখনো জানা যায়নি” অংশে বিষয়টি আছে।
প্রজ্ঞাপনটি জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা, তারিখ ০৮ শ্রাবণ ১৪৩১ / 23 জুলাই 2024, স্বাক্ষর সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরীর। নম্বর ০৫.০০.০০০০.১৭০.১১.০১৪.২৪-১৪১। চার অনুচ্ছেদে এটি কোটার হার ঠিক করে, শূন্য পদের নিয়ম বলে, আগের সব পরিপত্র বাতিল করে এবং অবিলম্বে কার্যকর হয়।
বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রাখা গেজেটের পাতা থেকে মূল অংশ হুবহু:
“সরকার এই মর্মে আদেশ জারি করিতেছে যে, সমতার নীতি ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর প্রজাতন্ত্রের কর্মে প্রতিনিধিত্ব লাভ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থাৎ সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত/আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্ব-শাসিত ও সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের এবং বিভিন্ন কর্পোরেশনের চাকুরিতে/কর্মে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল গ্রেডে নিম্নরূপভাবে কোটা নির্ধারণ করা হইল-
(ক) মেধাভিত্তিক ৯৩%;
(খ) মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫%;
(গ) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ১%; এবং
(ঘ) শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১%।
২। নির্ধারিত কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট কোটার শূন্য পদসমূহ সাধারণ মেধা তালিকা হইতে পূরণ করা হইবে।
৩। … বিগত ০৪ অক্টোবর ২০১৮ তারিখের পরিপত্র নং ০৫.০০.০০০০.১৭০.১১.০৭.১৮-২৭৬ সহ পূর্বে জারিকৃত এ সংক্রান্ত সকল পরিপত্র/প্রজ্ঞাপন/আদেশ/নির্দেশ/অনুশাসন রহিত করা হইল।
৪। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হইবে।”
পাতাটি মন দিয়ে পড়লে পাঁচটি জিনিস চোখে পড়ে।
এক, “সকল গ্রেডে”। 2018-এর পরিপত্র কেবল 9ম–13তম গ্রেডের কথা বলেছিল। 2024-এর প্রজ্ঞাপন কোনো গ্রেড আলাদা করেনি। প্রথম আলো 23 জুলাই 2024 লিখেছে, সরাসরি নিয়োগ মূলত হয় 9ম থেকে 20তম গ্রেডে; দেশ রূপান্তর 2 নভেম্বর 2024 লিখেছে, এই 7% কোটা 9ম–20তম গ্রেডের সরাসরি নিয়োগে প্রযোজ্য। প্রজ্ঞাপনের তৃতীয় অনুচ্ছেদ “এ সংক্রান্ত সকল পরিপত্র” রহিত করেছে; তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির আগের কোটা-পরিপত্রগুলোর নাম সেখানে আলাদা করে নেই।
দুই, শূন্য পদ জমা থাকে না। যোগ্য প্রার্থী না পেলে পদটি “সাধারণ মেধা তালিকা হইতে” পূরণ হয়। পদটি পরের নিয়োগের জন্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নামে সংরক্ষিত থাকার কোনো কথা প্রজ্ঞাপনে নেই। 2025 সালে পাঁচটি সংগঠনের স্মারকলিপি ঠিক এই বিষয়টিই বদলাতে চেয়েছে (নিচে 2024-এর পর অংশে)।
তিন, “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” কারা, প্রজ্ঞাপন তা বলে না। কোনো তালিকা বা সংজ্ঞার উল্লেখ পাতায় নেই। সংস্কৃতিমন্ত্রী 25 জুন 2026 সংসদে বলেছেন, গেজেটভুক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী 50টি (ইউএনবি)। কোটার জন্য সেই তালিকাই ভিত্তি কি না, প্রজ্ঞাপনে লেখা নেই।
চার, জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভাগের কোনো নিয়ম নেই। 1% কোটা একটি অভিন্ন ঝুড়ি — চাকমা, সাঁওতাল, গারো, ম্রো, পাংখোয়া সবাই একই ঝুড়ির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী। জেলা, বিভাগ বা জনগোষ্ঠীভিত্তিক কোনো উপ-ভাগ প্রজ্ঞাপনে নেই।
পাঁচ, প্রজ্ঞাপনের ভূমিকায় লক্ষ্যটি লেখা — “সমতার নীতি ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর প্রজাতন্ত্রের কর্মে প্রতিনিধিত্ব লাভ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে”। এই ভাষা সংবিধানের 29(3)(ক) অনুচ্ছেদের কাছাকাছি, যা নিচের আইনি ভিত্তি অংশে আছে।
হাইকোর্ট 5 জুন 2024 সালে 2018-এর পরিপত্র বাতিল করে এবং পূর্ণাঙ্গ রায়ে জেলা, নারী, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য কোটা রাখতে বলে। আপিল বিভাগ 21 জুলাই 2024 সেই রায় বাতিল করে 93% মেধা, 5% মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, 1% ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং 1% প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ — এই বিন্যাস দেয়, সরকার চাইলে হার বদলাতে পারবে বলে।
মামলাটি রিট পিটিশন নং 6063/2021 (ইংরেজি উইকিপিডিয়ার মামলার পাতা অনুযায়ী আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের একটি সংগঠনের সভাপতিসহ আটজন)। বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ 5 জুন 2024 সালে 2018-এর পরিপত্র বাতিল করেন। 14 জুলাই প্রকাশিত 27 পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের কথা ডেইলি স্টার বাংলা জানিয়েছে: রায়ে সরকারকে “জেলা, নারী, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ সমাজের অন্যান্য অনগ্রসর অংশের জন্য কোটা ব্যবস্থা রেখে” তিন মাসের মধ্যে গেজেট জারি করতে বলা হয়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটার কোনো হার রায়ের এই অংশে নেই। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী রায় বলেছে, সরকার প্রয়োজনে কোটার হার বাড়াতে-কমাতে পারবে, আর কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পেলে মেধাতালিকা থেকে পূরণ করতে পারবে।
প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বিভাগ 21 জুলাই 2024 সালে শুনানি শেষে রায় দেন (বিডিনিউজ২৪)। প্রতিবেদন অনুযায়ী রায়ে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানের জন্য 5%, “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ”, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য 1%, বাকি 93% মেধায় — “তবে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী এই হার পরিবর্তন করতে পারবে”। ইংরেজি উইকিপিডিয়া লিখেছে, আদালত বিষয়টিকে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বলে মেনেও সংবিধানের 104 অনুচ্ছেদের “পূর্ণ ন্যায়বিচার”-এর ক্ষমতায় এই আদেশ দেন।
দুদিন পর, 23 জুলাই, সরকার হুবহু এই চার ভাগ গেজেটে তোলে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে প্রজ্ঞাপনের কথা জানান (প্রথম আলো)। অর্থাৎ 1% সংখ্যাটির উৎস আদালতের আদেশ; সরকার নিজে আলাদা কোনো হিসাব করে এটি ঠিক করেছে, এমন কোনো দলিল পাওয়া যায়নি।
উঠে গিয়েছিল — প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে। 2018 সালের অক্টোবরের পরিপত্র 9ম থেকে 13তম গ্রেডের সরাসরি নিয়োগে সব কোটা বাতিল করে, তার মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর 5%-ও ছিল। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে কোটা থেকে যায়। এর পরের ছয় বছর বিসিএসে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য কোনো সংরক্ষিত পদ ছিল না।
পরিপত্রের নম্বর ০৫.০০.০০০০.১৭০.১১.০৭.১৮-২৭৬; 2024-এর গেজেট এর তারিখ লিখেছে “০৪ অক্টোবর ২০১৮”। দ্য ডেইলি স্টার 4 অক্টোবর 2018-এর প্রতিবেদনে লিখেছিল পরিপত্রটি জারি হয়েছে “yesterday”। ডেইলি স্টারের ভাষায় কোটা বাতিলের আগে 56% পদ সংরক্ষিত ছিল — মুক্তিযোদ্ধার সন্তান-নাতি-নাতনি 30%, নারী 10%, অনগ্রসর জেলা 10%, “indigenous communities” 5%, প্রতিবন্ধী 1%।
পরিপত্রের আগে তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের নেতৃত্বে একটি কমিটি তিনটি সুপারিশ করেছিল। প্রথম আলো (13 জুলাই 2024) অনুযায়ী তৃতীয় সুপারিশ ছিল কোটা বাতিলের প্রভাব নির্দিষ্ট সময় পরে পর্যালোচনা করে তথ্য-পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া, আর তার ব্যাখ্যায় একটি বাক্য: “বিষয়টি অনগ্রসর সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।” সেই পর্যালোচনা কবে, কারা করেছে, তার কোনো প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
পরের পাঁচ বছরে প্রশ্নটি বারবার উঠেছে সরকারের ভেতর থেকেই। প্রথম আলো 9 আগস্ট 2023 সালে তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের কথা ছেপেছে: “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য সরকারি চাকরিতে কোটা রাখার কথা আমি একাধিকবার বলেছি। মন্ত্রিসভার বৈঠকেও বলেছি। এটা দরকার। কিন্তু কোথায় বিষয়টি আটকে আছে, তা বুঝতে পারছি না।” একই প্রতিবেদনে আদিবাসী-বিষয়ক সংসদীয় ককাসের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক রাশেদ খান মেনন বলেছেন, কোটা বাতিলের সময় প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা রাখার কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।
প্রকাশিত সূত্রগুলো 1985 সাল দেখায়। সে বছর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে 45% মেধা আর 55% অগ্রাধিকার কোটার নিয়ম চালু হয় — মুক্তিযোদ্ধা 30%, নারী 10%, জেলা 10%, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী 5%। পরে প্রতিবন্ধীদের জন্য 1% যোগ হয়ে মোট কোটা দাঁড়ায় 56%।
প্রথম আলো (7 জুলাই 2024) ও আজকের পত্রিকা (11 জুলাই 2024) দুটিই এই 1985-এর বিন্যাস দিয়েছে। প্রথম আলোর হিসাবে তার আগের ধাপগুলো এমন: 1972 থেকে 1976 পর্যন্ত মাত্র 20% পদ মেধায়, 80% কোটায়; 1976-এ মেধার অংশ বেড়ে 40%। আজকের পত্রিকা 5 সেপ্টেম্বর 1972-এর একটি আদেশের কথা লিখেছে — তৎকালীন সংস্থাপন সচিব এম এম জামানের স্বাক্ষরে, যাতে জনসংখ্যার অনুপাতে জেলাভিত্তিক কোটা ঠিক হয়। 1972 থেকে 1985-এর মধ্যে উপজাতি বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য আলাদা কোনো কোটা ছিল কি না, এই সূত্রগুলোতে তা নেই।
মানবকণ্ঠে 20 ফেব্রুয়ারি 2024 প্রকাশিত মারুফ হাসান ভূঞার কলামও একই সাল দেয়: “১৯৮৫ সালে দেশের কোটাব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য নামমাত্র ৫ শতাংশ কোটা চালু করা হয়।” তিনটি সূত্র একই সালে মেলে, কিন্তু 1985-এর মূল আদেশের নম্বর বা তারিখ কোনোটিতেই নেই।
শূন্য কোটা-পদ নিয়ে পরে একটি নিয়ম যোগ হয়। প্রথম আলোর একই প্রতিবেদন বলছে, বহু কোটা-পদ খালি থাকায় সিদ্ধান্ত হয় — “কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে তা মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হবে।” 2024-এর প্রজ্ঞাপনের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ এই নিয়মই ধরে রেখেছে।
সংবিধানের 29(3)(ক) অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রকে নাগরিকদের “অনগ্রসর অংশের” জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ বিধান করার অনুমতি দেয়, আর 28(4) অনুচ্ছেদ তাদের অগ্রগতির জন্য। পার্বত্য চুক্তির (ঘ)১০ দফায় সরকার উপজাতীয়দের জন্য চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় কোটা “বহাল” রাখার অঙ্গীকার করেছে — কোনো হার ছাড়া, একটি শর্তে বাঁধা।
আইন মন্ত্রণালয়ের bdlaws ওয়েবসাইটের ইংরেজি পাঠে 29 অনুচ্ছেদ প্রথমে সরকারি চাকরিতে সবার সুযোগের সমতা ঘোষণা করে, তারপর ব্যতিক্রম রাখে: “Nothing in this article shall prevent the State from – (a) making special provision in favour of any backward section of citizens for the purpose of securing their adequate representation in the service of the Republic”। 28(4) অনুচ্ছেদ একইভাবে বলে, রাষ্ট্র নারী, শিশু বা “any backward section of citizens”-এর অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান করতে পারে।
লক্ষ করার বিষয়: সংবিধান কোটার কোনো হার বলে না, কোনো জনগোষ্ঠীর নামও করে না। “অনগ্রসর অংশ” কারা, সে সিদ্ধান্ত সরকারের। ডেইলি অবজারভার 7 ডিসেম্বর 2022 লিখেছে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর 5% কোটা 29(3) অনুচ্ছেদ মেনেই রাখা হয়েছিল।
“অনগ্রসর” শব্দটি নিয়েই পাহাড়ে আপত্তির ইতিহাস আছে। আমাদের আর্কাইভে প্রশান্ত ত্রিপুরার লেখা কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলেন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা জানায়, গণপরিষদে একজন সদস্য যখন বলেন সংবিধানের 14 অনুচ্ছেদে “জনগণের অনগ্রসর অংশসমূহের” অধিকার মেনে নেওয়া হয়েছে, লারমা উত্তর দেন: “আমরা করুণার পাত্র হিসাবে আসিনি। আমরা এসেছি মানুষ হিসাবে।” লেখক নিজেই সতর্ক করেছেন, লারমার আপত্তির একটি কারণ “অনগ্রসর” শব্দ হতে পারে, “যদিও এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায় না”।
2 ডিসেম্বর 1997-এর চুক্তি সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে। আমাদের আর্কাইভের পার্বত্য চুক্তি 1997: কী ছিল, কতটা হলো লেখায় দফাটির পাঠ আছে: “চাকুরী ও উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সমপর্যায়ে না পৌঁছা পর্যন্ত” সরকার উপজাতীয়দের জন্য সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখবেন, সঙ্গে বেশি বৃত্তি ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার বৃত্তি। ওই লেখা যেমন বলেছে, কোটার মেয়াদ কোনো তারিখে বাঁধা নয়, বাঁধা একটি ফলাফলে। চুক্তির ধারা ধরে বিশ্লেষণ আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997: ধারা ধরে ধরে লেখায়।
দুটি দিক এখানে জরুরি। প্রথমত, চুক্তিটি পার্বত্য চট্টগ্রামের, আর এর ভাষা “উপজাতীয়দের জন্য”; অথচ সরকারি চাকরির 1% কোটা জাতীয়, সব 50টি গেজেটভুক্ত জনগোষ্ঠীর জন্য। দ্বিতীয়ত, চুক্তিতে কোনো শতাংশ নেই — 5% বা 1%, কোনো হারই চুক্তির পাঠে লেখা নেই; “সমপর্যায়ে” পৌঁছানো মাপার কোনো সূচকও চুক্তিতে দেওয়া হয়নি।
চুক্তির আগের দাবিতে আরও স্পষ্ট কথা ছিল। আর্কাইভের ঐতিহাসিক তিনটি দলিল এবং জুম্ম জনগণের লড়াই সংগ্রাম লেখায় 17 ডিসেম্বর 1987-এর পাঁচ দফা দাবিনামার একটি দফা: “বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীতে জুম্ম জনগণের জন্য নির্দিষ্ট কোটা সংরক্ষণ করা”, সঙ্গে “সরকারী চাকুরীতে জুম্ম জনগণের জন্য বয়ঃসীমা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা”। 4 ডিসেম্বর 1992-এর সংশোধিত পাঁচ দফায় একই দাবি আবার আছে, এবার ক্যাডেট কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসন সংরক্ষণের কথাও। দুই দাবিনামাতেই “নির্দিষ্ট কোটা” — কিন্তু কত শতাংশ, তা লেখা নেই।
তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের 32(2) ধারা পরিষদকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগের ক্ষমতা দেয়, শর্তে: “উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকিবে”। এটি শতাংশভিত্তিক কোটা নয়, জাতীয় 1% কোটার অংশও নয়; কেবল জেলা পরিষদের নিজস্ব নিয়োগে প্রযোজ্য।
আমাদের আর্কাইভে তিনটি আইনই আছে — রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন এবং একই কাঠামোর খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান আইন। তিনটিতেই 31 ধারা বলে, পরিষদের সচিব হবেন উপসচিব সমতুল্য একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, “এই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজাতীয় কর্মকর্তাদিগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে”। আর 32(2) ধারার শর্তাংশ উপরে উদ্ধৃত। পরিষদের আসন কোন জনগোষ্ঠীর জন্য কয়টি, সেই হিসাব আছে পার্বত্য জেলা পরিষদে আসন ভাগ হয় কীভাবে লেখায়।
“অগ্রাধিকার” কার্যকর করতে প্রার্থীকে জেলার বাসিন্দা প্রমাণ করতে হয়, আর সেই সনদ কে দেবেন তা নিয়ে বিরোধ পুরনো। আর্কাইভের স্থায়ী বাসিন্দার সনদপত্র প্রসঙ্গে লেখায় তাতিন্দ্র লাল চাকমা লিখেছেন, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল স্থায়ী বাসিন্দার সনদ জেলা প্রশাসক ও সার্কেল চীফ দুজনেই দিতে পারবেন। জনসংহতি সমিতি তখন স্মারকলিপিতে দাবি করে, জেলা পরিষদ (সংশোধিত) আইন 1998-এর 2(কক) ও 4(6) ধারা অনুযায়ী হেডম্যান বা ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা চেয়ারম্যানের সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে এই সনদ দেবেন কেবল সার্কেল চীফ। লেখক সমিতির দাবিকে আইনসঙ্গত বলেছেন; সরকারের পক্ষের ব্যাখ্যা লেখাটিতে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. মানিকলাল দেওয়ানের মুখে আছে — চুক্তির ওই বিধান কেবল নির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য।
জনগোষ্ঠী ধরে প্রকাশিত একমাত্র সংখ্যা ডেইলি অবজারভারের ডিসেম্বর 2022-এর ধারাবাহিক প্রতিবেদনে: 2011–2021 সালে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে কোটায় ভর্তি 3,108 জনের মধ্যে চাকমা 1,752, মারমা 444, ত্রিপুরা 232, সাঁওতাল 108, মণিপুরী 83, অন্যরা 489। উৎস হিসেবে লেখা “a study” — কার, কোন প্রতিষ্ঠানের, তার নাম নেই।
ডেইলি অবজারভারের প্রতিবেদক Mamunur Rashid “Tribal Quota Series” নামে দুটি প্রতিবেদন লেখেন। প্রথমটি (7 ডিসেম্বর 2022) সমতলের জাতিগুলো নিয়ে, দ্বিতীয়টি (8 ডিসেম্বর 2022) পার্বত্য চট্টগ্রামের ভেতরের ভাগ নিয়ে। দ্বিতীয় প্রতিবেদনের মূল বাক্য: “A study on the students admitted under ethnic minority quota in various government universities and medical colleges of the country in the last 10 years (2011-2021) shows that Chakma, Marma and Tripura communities are predominant”। দুই সপ্তাহ পর, 22 ডিসেম্বর 2022, দৈনিক ইত্তেফাকে আবুল খায়েরের “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সবাই কি সমান কোটাসুবিধা পায়” প্রতিবেদনে একই শতাংশ আর একই চারজনের উদ্ধৃতি প্রায় হুবহু আসে; জনগোষ্ঠী ধরে আসন-সংখ্যা ইত্তেফাকে নেই, আছে কেবল অবজারভারে।
| জনগোষ্ঠী | আসন (2011–2021) | প্রতিবেদনে ছাপা শতাংশ | 3,108 দিয়ে ভাগ করলে |
|---|---|---|---|
| চাকমা | 1,752 | 56% | 56.4% |
| মারমা | 444 | 14% | 14.3% |
| ত্রিপুরা | 232 | 7% | 7.5% |
| সাঁওতাল | 108 | 3% | 3.5% |
| মণিপুরী | 83 | 2% | 2.7% |
| অন্যান্য | 489 | 18% | 15.7% |
| মোট | 3,108 | 100% | 100% |
সূত্র: ডেইলি অবজারভার, 8 ডিসেম্বর 2022। শেষ কলাম জুমজার্নালের যোগ-ভাগ। ছয়টি সংখ্যার যোগফল 3,108 মেলে; “অন্যান্য”-র ছাপা শতাংশ (18%) আর আসন-সংখ্যা থেকে পাওয়া শতাংশ (15.7%) মেলে না।
এই সংখ্যাগুলো কতটা ভার বইতে পারে, তা বোঝার জন্য প্রতিবেদন নিজে কী বলে না, সেটি জানা দরকার।
অবজারভারের প্রথম প্রতিবেদন আরও একটি সংখ্যা দেয়: সমতলের জাতিগুলো ভর্তিতে পাচ্ছে 20%, পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগুলো 80% — সূত্র “a recent study”। একই প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজের দাবি, সাঁওতালরা কোটা পাচ্ছেন মাত্র 3% অথচ তাঁরা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যার 9%। দ্বিতীয় প্রতিবেদন বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগুলোর মধ্যে চাকমারা কোটার 65% পান, বাকি 12টি জনগোষ্ঠী 35% — এখানেও সূত্রের নাম নেই।
13 জানুয়ারি 2023 ইত্তেফাক শিরোনাম করে “পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটাবঞ্চিত”। প্রতিবেদনের ভেতরে ছয়টি নাম — বম, খুমি, লুসাই, পাংখোয়া, ম্রো ও খিয়াং — এসেছে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ফেসবুক পেজের পোস্ট বিশ্লেষণ থেকে, যেখানে সংগঠনটি এই ছয় জাতিগোষ্ঠীর অধিকারের জন্য লড়ছে বলে দাবি করে। এই ছয় জনগোষ্ঠী কোটায় কত আসন বা চাকরি পেয়েছে বা পায়নি, তার কোনো সংখ্যা প্রতিবেদনে নেই। “কোটাবঞ্চিত” শব্দটি শিরোনামের, তথ্যের নয়। এই ছয়টির মধ্যে পাংখোয়া, খিয়াং, খুমি ও লুসাই নিয়ে আমাদের লেখা খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখোয়া, লুসাই।
প্রথম ইত্তেফাক প্রতিবেদনে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য রেমলিয়ান পাংখোয়ার কথা আছে: “গত ৫০ বছরে পাংখোয়া সম্প্রদায়ের বিসিএস ক্যাডারে কোনো প্রতিনিধি নেই।” তিনি বিদ্যমান কোটায় পাংখোয়াদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চেয়েছেন। দাবিটি তাঁর; বিসিএসের কোনো তালিকা দিয়ে এটি যাচাই করা যায়নি। BBS 2022-এর হিসাবে সারা দেশে পাংখোয়া 1,857 জন।
BBS-এর 2022 সালের চূড়ান্ত জনশুমারি অনুযায়ী দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যার 29.3% চাকমা, 13.6% মারমা, 9.5% ত্রিপুরা, 7.8% সাঁওতাল। অবজারভারের ভর্তি-হিসাবে এই চার জনগোষ্ঠীর অংশ যথাক্রমে 56.4%, 14.3%, 7.5% ও 3.5%। অর্থাৎ ওই অনামা হিসাব মানলে চাকমাদের আসনের অংশ জনসংখ্যার অংশের প্রায় দ্বিগুণ, সাঁওতালদের অর্ধেকের কম।
| জনগোষ্ঠী | জনসংখ্যা, BBS 2022 | ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যার অংশ | ভর্তির অংশ, 2011–2021 (অবজারভার) |
|---|---|---|---|
| চাকমা | 483,365 | 29.3% | 56.4% |
| মারমা | 224,299 | 13.6% | 14.3% |
| ত্রিপুরা | 156,620 | 9.5% | 7.5% |
| সাঁওতাল | 129,056 | 7.8% | 3.5% |
| ম্রো | 52,463 | 3.2% | আলাদা করে নেই |
| তঞ্চঙ্গ্যা | 45,974 | 2.8% | আলাদা করে নেই |
| বম | 13,193 | 0.8% | আলাদা করে নেই |
| পাংখোয়া | 1,857 | 0.1% | আলাদা করে নেই |
| সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী | 1,650,478 | 100% | 100% (3,108 জন) |
জনসংখ্যা: BBS, জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022, জাতীয় প্রতিবেদন খণ্ড 1, ছক P29। শতাংশ জুমজার্নালের হিসাব। মণিপুরীর জাতীয় সংখ্যা এই ছকে রাখা হয়নি।
ছকটি পড়ার আগে তিনটি সীমা মনে রাখা দরকার। জনসংখ্যা 2022-এর, ভর্তির সংখ্যা 2011–2021 সালের। ভর্তির সংখ্যার উৎস অনামা। আর জনসংখ্যার অংশ সুযোগের একটি মাপ মাত্র — কোন জনগোষ্ঠীতে কতজন উচ্চমাধ্যমিক পাস করে আবেদনের যোগ্য হন, সেই সংখ্যা এখানে নেই।
অবজারভার ও ইত্তেফাক শিক্ষার হার নিয়েও সংখ্যা দিয়েছে — চাকমা “প্রায় 73%”, পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্য জাতিগোষ্ঠী 45%, পার্বত্য বাঙালি 23% — সূত্র ছাড়া; ইত্তেফাকে 23% সংখ্যাটি পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতার মুখেও আছে। অন্যদিকে প্রথম আলো 9 আগস্ট 2023 জেলাভিত্তিক হার দিয়েছে: দেশে 76%, রাঙ্গামাটিতে 68%, খাগড়াছড়িতে 44%, বান্দরবানে 39.8%। প্রথমটি জনগোষ্ঠী ধরে, দ্বিতীয়টি জেলা ধরে; দুটি মেলানো যায় না।
চাকমা জনগোষ্ঠীর শিক্ষা-ইতিহাস নিয়ে আর্কাইভের চাকমা জাতি লেখায় একটি পর্যবেক্ষণ আছে, যা এখানে প্রাসঙ্গিক: বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকমা শিক্ষার্থীর সংখ্যা “ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেলেও বর্তমান চাহিদা ও বাস্তবতার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়”। একই জনগোষ্ঠী নিয়ে দুই দিক থেকে দুই রকম কথা — একদিকে “আধিপত্য”, অন্যদিকে “পর্যাপ্ত নয়” — আর কোনোটির পেছনেই প্রকাশিত সরকারি সংখ্যা নেই।
উল্টো দিক থেকেও একটি দাবি আছে: পাহাড়ের কোটার সুফলের বড় অংশ পাচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বাঙালিরা। মানবকণ্ঠের একটি কলাম এই দাবি করেছে কোনো পরিসংখ্যান ছাড়া। 2021 সালে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের বিবৃতি মেডিকেল ভর্তির নির্দিষ্ট আসন ধরে অভিযোগ তুলেছিল, তদন্ত চেয়েছিল।
প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট মারুফ হাসান ভূঞার “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোটা ব্যবহার করছে কারা” কলামের মূল দাবি: “এর এক-তৃতীয়াংশ সুফল ভোগ করছে পাহাড়ে বসবাস করা সেটেলার বাঙালি”। পরের অনুচ্ছেদে একই কলাম লিখেছে কোটাটি “সম্পূর্ণ ভোগ করছে সেটেলার বাঙালি জনগোষ্ঠী”, তারপর আবার 5% কোটার “প্রায় ১ থেকে ৩ অংশ বাদে বাকি ২ অংশ” বাঙালিদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা। এক-তৃতীয়াংশ, দুই-তৃতীয়াংশ, সম্পূর্ণ — তিনটি পরিমাপ একই লেখায়, কোনোটির পেছনে সংখ্যা, বছর বা সূত্র নেই। কলামটি 2023–24 শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ফল প্রকাশের প্রেক্ষাপটে লেখা।
এখানে একই মাপকাঠি প্রযোজ্য, যা উপরের অবজারভার-ইত্তেফাকের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হয়েছে: অবজারভারের হিসাবের অন্তত জনগোষ্ঠীভিত্তিক সংখ্যা আছে, যদিও উৎস অনামা; মানবকণ্ঠের কলামে কোনো সংখ্যাই নেই।
দ্য ডেইলি স্টার 21 এপ্রিল 2021 জানিয়েছে, নাগরিক প্ল্যাটফর্মটি 22 জন বিশিষ্ট নাগরিকের সই করা বিবৃতিতে দাবি করেছে — ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত মেডিকেল আসনে অ-আদিবাসী ছাত্র ভর্তি বন্ধ হোক, তদন্ত হোক, তালিকা বাতিল হোক। বিবৃতির হিসাবে 2020–21 শিক্ষাবর্ষে 37টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত আসন 30টি: পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য 9, অন্যান্য জেলার জন্য 8, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজে 13। এর বাইরে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ ছাত্রদের জন্য আলাদা 3টি আসন। বিবৃতি অনুযায়ী অন্যান্য জেলার 8টি আসনের 5টিতে এমন ছাত্র নির্বাচিত হয়েছেন যাঁরা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নন। পার্বত্য চট্টগ্রামের 9টি আসন নিয়ে বিবৃতির বাক্যটি ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে অসম্পূর্ণ ছাপা হয়েছে, সংখ্যাটি পড়া যায় না। সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে নেই।
সরকারি চাকরিতে নেই — 2024-এর প্রজ্ঞাপনে পার্বত্য বাঙালিদের জন্য কোনো ভাগ নেই। মেডিকেল ভর্তিতে অবশ্য পার্বত্য জেলার “অ-উপজাতীয় প্রার্থী” নামে আলাদা একটি শ্রেণি আছে: 2020–21-এ পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ ছাত্রদের জন্য 3টি আসন, আর 2025–26-এর ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে এই শ্রেণির সনদের নিয়ম।
দাবিটি উল্টো দিক থেকে এসেছে ইত্তেফাক ও অবজারভারে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি সাব্বির আহম্মদ ইত্তেফাককে বলেছেন: “পার্বত্য বাঙালিদের কোনো কোটা-সুবিধা নেই।” অধ্যাপক মাহফুজ পারভেজের মত, “পার্বত্যাঞ্চলের প্রেক্ষাপটে বাঙালিদের জন্য কোটা-সুবিধা অর্ধেক হওয়া উচিত।”
দলিলের দিকে তাকালে চিত্রটি মিশ্র। সরকারি চাকরির কোটায় পার্বত্য বাঙালিদের আলাদা কোনো শ্রেণি নেই — 23 জুলাই 2024-এর প্রজ্ঞাপনের চার ভাগে তা নেই। কিন্তু মেডিকেল ভর্তিতে আছে। 2020–21-এ পার্বত্য চট্টগ্রামের “general students”-এর জন্য 3টি আসনের কথা ডেইলি স্টারে ছাপা সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের বিবৃতিতে। আর প্রথম আলো 26 জানুয়ারি 2026-এ এমবিবিএস-বিডিএস 2025–26 শিক্ষাবর্ষের মাইগ্রেশন বিজ্ঞপ্তির যে শর্ত ছেপেছে, তাতে তিনটি শ্রেণি আলাদা: “পার্বত্য জেলার উপজাতীয় প্রার্থীর ক্ষেত্রে চিফ এবং জেলা প্রশাসকের সনদ ও অ-উপজাতীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সার্কেল চিফ বা জেলা প্রশাসক প্রদত্ত মূল সনদ”, আর “অন্যান্য জেলার উপজাতীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে গোত্রপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক প্রদত্ত মূল সনদ”। 2025–26-এ কোন শ্রেণিতে কয়টি আসন, প্রতিবেদনে নেই।
প্রথম আলোর হিসাবে 31তম থেকে 38তম বিসিএসে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর 179 জন সুপারিশ পেয়েছিলেন, শুধু 38তম-এ 21 জন। কোটা উঠে যাওয়ার পর চিকিৎসকদের বিশেষ 39তম বিসিএসে 24 জন, কিন্তু 40তম ও 41তম সাধারণ বিসিএসে একজন করে। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের হিসাবে 40–42তম সাধারণ ক্যাডারে এই অংশ 0.05%।
| বিসিএস | কোটা কাঠামো | ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুপারিশপ্রাপ্ত | উৎস |
|---|---|---|---|
| 31তম–38তম (মোট) | 5% কোটা | 179 জন | প্রথম আলো, 9 আগস্ট 2023 |
| 38তম | 5% কোটা | 21 জন (প্রশাসনে 10, বাকিরা পররাষ্ট্র, পুলিশসহ সাত ক্যাডারে) | প্রথম আলো, 9 আগস্ট 2023 |
| 39তম (চিকিৎসকদের বিশেষ) | কোটা নেই | 24 জন | প্রথম আলো, 9 আগস্ট 2023 |
| 40তম | কোটা নেই | 1 জন (নিরীক্ষা) | প্রথম আলো, 9 আগস্ট 2023 |
| 41তম | কোটা নেই | 1 জন (প্রশাসন); প্রার্থীদের দাবি, সব ধাপে পাস করেছিলেন 24 জন | প্রথম আলো, 9 আগস্ট ও 24 ডিসেম্বর 2023 |
| 40তম–42তম (সাধারণ ক্যাডার) | কোটা নেই | সুপারিশপ্রাপ্তদের 0.05% | দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 17 মে 2025 |
24 ডিসেম্বর 2023 রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে “৪১-তম বিসিএস পাসকৃত ক্যাডার বঞ্চিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীগণ” ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন হয় (প্রথম আলো)। বক্তা ছিলেন সুশান্ত ত্রিপুরা, জিকো মারমা, শোভন চাকমা ও অর্পণ ত্রিপুরা। তাঁদের ভাষ্যে 41তম বিসিএসে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর 24 জন প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক — তিন ধাপেই উত্তীর্ণ হন, ক্যাডারে সুপারিশ পান একজন। তাঁদের দাবি ছিল কোটা পুনর্বহাল, আর 41তম-এর ওই প্রার্থীদের ক্যাডারে সুপারিশ।
এই সংখ্যাগুলো “ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী” মিলিয়ে — কোন জনগোষ্ঠীর কতজন, পাহাড়ের না সমতলের, সে ভাগ কোনো প্রতিবেদনে নেই। ফলে “কারা পাচ্ছেন” প্রশ্নের জবাব বিসিএসের দিক থেকেও প্রকাশিত নয়। প্রথম আলোর 2023-এর প্রতিবেদনেই বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেছেন: “সরকারি চাকরিতে কোটা পাওয়া তাঁদের অধিকার। তা না হলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণেরা আরও পিছিয়ে পড়বেন।” সেদিন, 9 আগস্ট 2023, ফোরামের 12 দফা দাবিতে প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরিতে আগের মতো কোটা ফেরানোর কথা ছিল।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় 25 মার্চ 2025 কোটা প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে সুপারিশ দিতে একটি কমিটি করে। পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সংগঠন সেই কমিটিকে যৌথ স্মারকলিপি দেয় (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 17 মে 2025) — আলাদা পাস নম্বর, জাতীয় পর্যায়ে কোটা হিসাব, শূন্য পদ সংরক্ষণ। কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশিত হয়েছে কি না, জানা যায়নি; এপ্রিল 2026-এ সংসদে হার অপরিবর্তিত।
বাসস জানিয়েছে, কমিটির আহ্বায়ক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি অনুবিভাগ), সদস্যসচিব একজন উপসচিব (বিধি-১ শাখা); সদস্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের যুগ্মসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা। প্রতিবেদন জমার সময় “আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে”।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড 17 মে 2025 লিখেছে, পার্বত্য এলাকার প্রার্থী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ নেন সার্কেল চিফের কাছ থেকে; সমতলের প্রার্থী নেন জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে, যিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিবেদন চান — প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী কমিটি সদস্যদের একজন বলেছেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ পাহাড় ও সমতল দুই জায়গাতেই থাকেন, তাই সরকার দুই দিকেই সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাইছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগে পদের স্বল্পতার কারণে কোটার সুবিধা কার্যত মিলছে না — এটিও প্রতিবেদনের ভাষ্য।
বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পাঁচটি সংগঠনের নাম দেয়নি, তবে স্মারকলিপির প্রস্তাবগুলো দিয়েছে:
একই প্রতিবেদনে Plains Ethnic Minority Rights Movement-এর সাধারণ সম্পাদক Ripon Chandra Banai বলেছেন, কোটা 5% থাকার সময়ও ঠিকমতো কার্যকর হয়নি; 1%-এ এসে প্রয়োগই আসল বিষয়।
দেশ রূপান্তর 2 নভেম্বর 2024 জানায়, 47তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে 7% কোটা থাকবে, তার মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর 1%। একই প্রতিবেদনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব আরিফ সোহেলের কথা: “আমাদের দাবি ছিল পাঁচ পারসেন্ট।” — অর্থাৎ আন্দোলনের দাবি ছিল সব কোটা মিলিয়ে 5%।
দেড় বছর পরও কাঠামো একই। 16 এপ্রিল 2026 সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী 93-5-1-1 বিন্যাসের কথা বলেন, ভিত্তি 23 জুলাই 2024-এর প্রজ্ঞাপন (এখন টিভি)। কোন কোটায় কতজন নিয়োগ পেয়েছেন, সেই সংখ্যা জবাবে নেই।
23 জুলাই 2024-এর প্রজ্ঞাপন কেবল “চাকুরিতে/কর্মে সরাসরি নিয়োগের” জন্য; ভর্তির কোটা আলাদা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 2024–25 শিক্ষাবর্ষে “উপজাতি বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী কোটা” 1%, যা “শুধুমাত্র পাশ করলেই” পাওয়া যায়। সরকারি মেডিকেল কলেজে 2020–21-এ সংরক্ষিত আসন ছিল 30টি। সব প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে কোনো সরকারি তালিকা পাওয়া যায়নি।
দেশ রূপান্তর 5 নভেম্বর 2024 লিখেছে, ঢাবিতে ভর্তির কোটা ছয় রকম: ওয়ার্ড বা পোষ্য, উপজাতি বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, হরিজন ও দলিত, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধা এবং খেলোয়াড়। মুক্তিযোদ্ধা কোটা 5%, পোষ্য ও খেলোয়াড় কোটায় নির্দিষ্ট হার নেই, “বাকিগুলোতে ১ শতাংশ কোটা রয়েছে। যারা শুধুমাত্র পাশ করলেই ভর্তির সুযোগ পান।” আইন অনুষদের ডিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের রিভিউ কমিটি সব কোটা রাখার সিদ্ধান্ত দেয়, কেবল মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নাতি-নাতনি বাদ। একই দিনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার আইনি নোটিশে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান 5%, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী 1% এবং প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ 1% রেখে বাকি সব কোটা বাতিল চান।
2020–21-এর 30টি আসনের ভাগ উপরে বিপরীত দাবি অংশে। 2025–26 শিক্ষাবর্ষে কয়টি আসন, তা প্রথম আলোর মাইগ্রেশন-প্রতিবেদনে নেই; সনদের নিয়মটুকু আছে, যা পার্বত্য বাঙালি অংশে উদ্ধৃত।
ভর্তির কোটা কীভাবে চলে, তা নিয়ে আমাদের আর্কাইভে দুটি মত আছে। চাকমা জাতি লেখাটি বলে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোটা “চলছে এডহক ভিত্তিতে। লিখিত বা আইনানুগ কোনো নীতিমালা নেই। ফলে সেটাও যথাযথভাবে সবসময় কার্যকর হতে পারছে না।” আর জনসংহতি সমিতির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা জানুয়ারি 2018-এ রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রসঙ্গে লিখেছিলেন: “বিশেষত: বিজ্ঞান বিষয়গুলিতে প্রতি বছর ‘পাহাড়ী কোটা’ খালি থেকে যায়।” তাঁর ব্যাখ্যা — পার্বত্য চট্টগ্রামের কলেজে মানসম্মত শিক্ষার অভাব। প্রথমটি বলছে কোটার লিখিত নীতিমালা নেই, দ্বিতীয়টি বলছে বিজ্ঞানের আসন খালি থাকে।
2022-এর জনশুমারির হিসাবে প্রায় তা-ই — ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার 0.97%। কিন্তু সংখ্যাটি নিজেই বিতর্কিত: 2011-এ অংশটি 1%-এর উপরে ছিল, তালিকায় জনগোষ্ঠী 24 থেকে বেড়ে 50 হয়েছে, আর জনগোষ্ঠীর নেতা ও গবেষকদের মতে প্রকৃত সংখ্যা শুমারির চেয়ে অনেক বেশি।
এই হিসাব দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, প্রজ্ঞাপনের চার দিন পর, প্রথম আলোর মতামত পাতায় (27 জুলাই 2024)। তাঁর সংখ্যা: 2022-এ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী 16,50,478 জন, মোট জনসংখ্যার “শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ”; 2011-এ 15,86,141 জন, যখন অংশটি “১ শতাংশের ওপরে”। এগারো বছরে বৃদ্ধি মাত্র প্রায় 64 হাজার, অথচ শুমারিতে ধরা জনগোষ্ঠী 2011-এর 24টি থেকে 2022-এ 50টি। তাঁর প্রস্তাব, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সঠিক পরিসংখ্যান তৈরি করে কোটা ঠিক করা, আর একটি “কোটা কর্ম কমিশন”।
শুমারির মোট সংখ্যা নিয়েও দুটি রূপ ঘোরে। BBS-এর চূড়ান্ত জাতীয় প্রতিবেদন বলছে 1,650,478; ডেইলি অবজারভার 2022-এ প্রাথমিক প্রতিবেদন ধরে লিখেছে 1,650,159। পার্থক্য 319 জন — প্রাথমিক আর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের।
1% যদি জনসংখ্যার অনুপাতে ধরা হয়, তবু এটি একটি জাতীয় ঝুড়ি। অবজারভারের হিসাবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর 56% (9,20,217 জন) থাকেন তিন পার্বত্য জেলায়, 44% (7,29,942 জন) অন্য জেলায় — মূলত রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে। কোটা পাহাড় বা সমতল আলাদা করে না, তাই 1%-এর ভেতরে কে কতটা পাবেন, তা নির্ভর করে পরীক্ষার ফলের উপর।
কোটা নিয়ে মত মোটামুটি চার রকম: কোটা ফেরানো বা বাড়ানো, কোটার ভেতরে ছোট ও সমতলের জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা ভাগ, পার্বত্য বাঙালিদের অন্তর্ভুক্তি, আর কোটা কমানো। নিচের ছকে প্রতিটি মত বক্তার নাম, তারিখ ও সূত্রসহ; কোনো মতের পক্ষে-বিপক্ষে জুমজার্নালের বিচার নেই।
| কে | অবস্থান | কবে, কোথায় |
|---|---|---|
| পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি | সিভিল সার্ভিস ও প্রতিরক্ষা বাহিনীতে জুম্মদের জন্য “নির্দিষ্ট কোটা” | পাঁচ দফা, 17 ডিসেম্বর 1987; সংশোধিত, 4 ডিসেম্বর 1992 (জুমজার্নাল আর্কাইভ) |
| সঞ্জীব দ্রং, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম | কোটা পাওয়া “তাঁদের অধিকার”; প্রথম শ্রেণিতে কোটা পুনর্বহাল | প্রথম আলো, 9 আগস্ট 2023 |
| রাশেদ খান মেনন, সংসদ সদস্য | কোটা বাতিলের পর বিসিএসে উপস্থিতি এত কম যে হতাশা তৈরি হবে | প্রথম আলো, 9 আগস্ট 2023 |
| বীর বাহাদুর উশৈসিং, তৎকালীন পার্বত্য মন্ত্রী | কোটা “দরকার”; মন্ত্রিসভায় বলেছেন | প্রথম আলো, 9 আগস্ট 2023 |
| 41তম বিসিএসের প্রার্থীরা | কোটা পুনর্বহাল; উত্তীর্ণ 24 জনকে ক্যাডারে সুপারিশ | প্রথম আলো, 24 ডিসেম্বর 2023 |
| রবীন্দ্রনাথ সরেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ | চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরারা সব সুযোগ নিচ্ছেন; সমতলের জনগোষ্ঠীর সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে | ইত্তেফাক, 22 ডিসেম্বর 2022 |
| রেমলিয়ান পাংখোয়া, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য | বিদ্যমান কোটায় পাংখোয়াদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ | ইত্তেফাক, 22 ডিসেম্বর 2022 |
| সাব্বির আহম্মদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ | পার্বত্য বাঙালিদের কোটা নেই, তাদের পিছিয়ে পড়ার কারণ এটাই | ইত্তেফাক, 22 ডিসেম্বর 2022 |
| ড. মাহফুজ পারভেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় | কোটার সমান ও যৌক্তিক বণ্টন; পাহাড়ে বাঙালিদের জন্য কোটার অর্ধেক | অবজারভার, 7–8 ডিসেম্বর 2022; ইত্তেফাক, 22 ডিসেম্বর 2022 |
| মারুফ হাসান ভূঞা, কলামিস্ট | কোটার সুফল পার্বত্য বাঙালিরা নিচ্ছেন | মানবকণ্ঠ, 20 ফেব্রুয়ারি 2024 |
| সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন (22 নাগরিক) | মেডিকেলের সংরক্ষিত আসনে অ-আদিবাসী ভর্তি বন্ধ ও তদন্ত | দ্য ডেইলি স্টার, 21 এপ্রিল 2021 |
| আরিফ সোহেল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন | সব কোটা মিলিয়ে 5% ছিল দাবি; 7% পুরো দাবি পূরণ করে না | দেশ রূপান্তর, 2 নভেম্বর 2024 |
| পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সংগঠন | 80% পাস নম্বর, জাতীয় পর্যায়ে হিসাব, শূন্য পদ সংরক্ষণ | দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 17 মে 2025 |
| ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | সঠিক পরিসংখ্যান ও “কোটা কর্ম কমিশন” | প্রথম আলো, 27 জুলাই 2024 |
ছকের মতগুলোর একটি মিল চোখে পড়ার মতো: যাঁরা কোটার ভেতরে বৈষম্যের কথা বলছেন আর যাঁরা কোটা ফেরানোর কথা বলছেন, দুই পক্ষের কারও দাবির পেছনে সরকারি জনগোষ্ঠীভিত্তিক সংখ্যা নেই — সেই সংখ্যা প্রকাশ্যে পাওয়া যায় না।
কোটার হার, আদালতের আদেশ আর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ্যে আছে। কিন্তু কোটা কে পেলেন, তার কোনো সরকারি হিসাব — জনগোষ্ঠী, জেলা, পাহাড়-সমতল বা বছর ধরে — সংবাদমাধ্যম, সংসদের প্রশ্নোত্তর বা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে পাওয়া যায় না। “উপজাতি কোটার সুফল কারা পাচ্ছে” প্রশ্নের সরকারি উত্তর তাই এখনো নেই।
নির্দিষ্ট করে বললে, এই তথ্যগুলোর কোনো প্রকাশিত সরকারি সংস্করণ পাওয়া যায়নি:
এই ফাঁকের ফল উপরের ছকে দেখা যায়: প্রতিটি পক্ষ নিজের সংখ্যা হাজির করে, কিন্তু কোনো সংখ্যাই সরকারি নথি দিয়ে মেলানো যায় না। কেউ যদি এর কোনো একটি তথ্য তথ্য অধিকার আইনে চাইতে চান, তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতে পারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা (প্রজ্ঞাপনের জারিকারী), সরকারি কর্ম কমিশন (বিসিএস) আর প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের ভর্তি কর্তৃপক্ষ।
1%। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের 23 জুলাই 2024-এর প্রজ্ঞাপন (নং ০৫.০০.০০০০.১৭০.১১.০১৪.২৪-১৪১) সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সব গ্রেডে সরাসরি নিয়োগে 93% মেধা, 5% মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, 1% ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং 1% প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের কোটা ঠিক করেছে। 16 এপ্রিল 2026 সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীও একই হার জানিয়েছেন।
5%। 1985 সাল থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মোট 56% কোটা ছিল — মুক্তিযোদ্ধা 30%, নারী 10%, জেলা 10%, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী 5% এবং প্রতিবন্ধী 1% (প্রথম আলো, 7 জুলাই 2024; আজকের পত্রিকা, 11 জুলাই 2024)। অক্টোবর 2018-এর পরিপত্রে 9ম থেকে 13তম গ্রেডে এই কোটা বাতিল হয়।
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ছিল না। 4 অক্টোবর 2018-এর পরিপত্র (নং ০৫.০০.০০০০.১৭০.১১.০৭.১৮-২৭৬) 9ম থেকে 13তম গ্রেডে সব কোটা তুলে দেয়, আর 23 জুলাই 2024-এর প্রজ্ঞাপন পর্যন্ত সেটিই চলেছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ কোটা বহাল ছিল (দ্য ডেইলি স্টার, 4 অক্টোবর 2018)।
পদটি সাধারণ মেধাতালিকা থেকে পূরণ হয়। 23 জুলাই 2024-এর প্রজ্ঞাপনের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ বলে: “নির্ধারিত কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট কোটার শূন্য পদসমূহ সাধারণ মেধা তালিকা হইতে পূরণ করা হইবে।” পদটি পরের নিয়োগের জন্য সংরক্ষিত থাকে না। 2025 সালে পাঁচটি সংগঠন এই পদ সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছিল (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড)।
21 জুলাই 2024 প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বিভাগ হাইকোর্টের 5 জুনের রায় বাতিল করে 93% মেধা, 5% মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, 1% ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং 1% প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের বিন্যাস দেয়। রায় অনুযায়ী সরকার প্রয়োজনে এই হার বদলাতে পারবে (বিডিনিউজ২৪)। দুদিন পর সরকার এটি গেজেটে তোলে।
জনগোষ্ঠী ধরে কোনো সরকারি হিসাব প্রকাশ্যে পাওয়া যায় না। প্রকাশিত একমাত্র জনগোষ্ঠীভিত্তিক সংখ্যা ডেইলি অবজারভারের 8 ডিসেম্বর 2022-এর প্রতিবেদনে: 2011–2021 সালে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে কোটায় ভর্তি 3,108 জনের মধ্যে চাকমা 1,752, মারমা 444, ত্রিপুরা 232। প্রতিবেদন এর উৎস হিসেবে কেবল “a study” লিখেছে, নাম দেয়নি।
এই সংখ্যা ভর্তির, চাকরির নয়, আর এর উৎস অনামা। ডেইলি অবজারভার (8 ডিসেম্বর 2022) ও ইত্তেফাক (22 ডিসেম্বর 2022) লিখেছে, 2011–2021 সালে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে কোটার আসনের 56% চাকমা ছাত্রদের। BBS 2022 অনুযায়ী চাকমারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যার 29.3%। সরকারি চাকরিতে চাকমাদের অংশের কোনো সংখ্যা প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
প্রথম আলোর (9 আগস্ট 2023) হিসাবে 31তম থেকে 38তম বিসিএসে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর 179 জন সুপারিশ পান, 38তম-এ 21 জন। কোটা বাতিলের পর চিকিৎসকদের বিশেষ 39তম বিসিএসে 24 জন, কিন্তু 40তম ও 41তম সাধারণ বিসিএসে একজন করে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের হিসাবে 40–42তম সাধারণ ক্যাডারে অংশটি 0.05%।
1%। দেশ রূপান্তর (5 নভেম্বর 2024) লিখেছে, ঢাবিতে “উপজাতি বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী কোটা”সহ ছয় রকম ভর্তি কোটা আছে; মুক্তিযোদ্ধা কোটা 5%, পোষ্য ও খেলোয়াড় কোটায় নির্দিষ্ট হার নেই, বাকিগুলো 1%, যা পাস নম্বর পেলেই পাওয়া যায়। 2024–25 শিক্ষাবর্ষে রিভিউ কমিটি এই কোটা বহাল রাখে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (17 মে 2025) অনুযায়ী পার্বত্য এলাকার প্রার্থীর সনদ দেন সার্কেল চিফ, সমতলের প্রার্থীর জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিবেদন নিয়ে। মেডিকেল ভর্তি 2025–26-এর শর্তে অন্যান্য জেলার উপজাতীয় প্রার্থীর জন্য গোত্রপ্রধান ও জেলা প্রশাসকের সনদ চাওয়া হয়েছে (প্রথম আলো, 26 জানুয়ারি 2026)।
চুক্তির খণ্ড (ঘ)-এর 10 দফায় সরকার অঙ্গীকার করেছে, চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় “দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সমপর্যায়ে না পৌঁছা পর্যন্ত” উপজাতীয়দের জন্য সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখবে, সঙ্গে বেশি বৃত্তি। চুক্তিতে কোনো শতাংশ নেই, মেয়াদও কোনো তারিখে নয়, একটি ফলাফলে বাঁধা।
সরকারি চাকরিতে নেই — 23 জুলাই 2024-এর প্রজ্ঞাপনে এমন কোনো ভাগ নেই। মেডিকেল ভর্তিতে পার্বত্য জেলার “অ-উপজাতীয় প্রার্থী” শ্রেণি আছে: 2020–21-এ পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ ছাত্রদের জন্য 3টি আসন (দ্য ডেইলি স্টার, 2021), আর 2025–26-এ এই শ্রেণির জন্য সার্কেল চিফ বা জেলা প্রশাসকের সনদের নিয়ম (প্রথম আলো, 2026)।
আদালতের রায় অনুযায়ী পারে। হাইকোর্টের 14 জুলাই 2024-এর পূর্ণাঙ্গ রায় এবং আপিল বিভাগের 21 জুলাই 2024-এর আদেশ — দুটিতেই বলা হয়েছে, সরকার প্রয়োজনে কোটার হার পরিবর্তন করতে পারবে (ডেইলি স্টার বাংলা; বিডিনিউজ২৪)। কোটা প্রয়োগ নিয়ে সুপারিশ দিতে 25 মার্চ 2025 জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে; এপ্রিল 2026 পর্যন্ত হার বদলায়নি।
জনশুমারি 2022 অনুযায়ী প্রায় সমান: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী 1,650,478 জন, মোট জনসংখ্যার 0.97% (ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, প্রথম আলো, 27 জুলাই 2024)। তবে 2011-এ অংশটি 1%-এর উপরে ছিল, শুমারিতে ধরা জনগোষ্ঠী 24 থেকে 50 হয়েছে, আর জনগোষ্ঠীর নেতাদের মতে প্রকৃত সংখ্যা শুমারির চেয়ে অনেক বেশি।
সরকারি দলিল
জুমজার্নাল আর্কাইভ
সংবাদ ও মতামত
সর্বশেষ হালনাগাদ: 16 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:আদিবাসী অধিকার, আদিবাসী শিক্ষার্থী, উচ্চশিক্ষা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, পার্বত্য চুক্তি
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।