Last updated Oct 17th, 2026
0

আইনু ভাষায় “আইনু” শব্দটির অর্থ মানুষ — দেবতাদের (kamui) বিপরীতে। কথাটি আইনু অ্যাসোসিয়েশন অফ হোক্কাইদোর নিজের পাতায় লেখা, হুবহু: “The word ‘Ainu’ in Ainu language means ‘human’ as compared to ‘kamui’ (Gods), and is also the name of the Ainu as an ethnic group.”
অর্থাৎ জনগোষ্ঠীর নামই একটি সাধারণ শব্দ — “মানুষ”। পৃথিবীর বহু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেই এটি সত্য, আর পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের কাছে কথাটি অপরিচিত নয়।
এই লেখাটি আইনু জনগোষ্ঠী নিয়ে — তবে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন ধরে: রাষ্ট্র কখন কোন শব্দে কাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, আর জনগোষ্ঠীর নিজের সংগঠন সে বিষয়ে কী বলে। কারণ এই দুটি উত্তর সবসময় এক নয় — আর আইনুদের ক্ষেত্রে তা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
একটি কথা শুরুতেই: জুমজার্নালের আর্কাইভে আইনু জনগোষ্ঠী নিয়ে কোনো লেখা নেই। তাই এই পোস্টের সব তথ্য বাইরের উৎস থেকে — আর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে আইনুদের নিজেদের সংগঠনের প্রকাশনাকে।
২০১৯ সালের জাপানি আইনের সংজ্ঞায় আইনুদের অবস্থান নির্দিষ্ট করে লেখা আছে — তাঁরা “of the northern part of the Japanese archipelago, in particular Hokkaido”, অর্থাৎ জাপানি দ্বীপপুঞ্জের উত্তর অংশের, বিশেষত হোক্কাইদোর।
আইনু অ্যাসোসিয়েশনের পাতায় ঐতিহাসিক বিস্তারটি সময়সহ দেওয়া আছে: মানচিত্রে দেখানো হয়েছে আনুমানিক সপ্তদশ থেকে ঊনবিংশ শতক পর্যন্ত আইনুদের ঐতিহ্যবাহী বসতি-এলাকা।
আর সংগঠনটি একটি সতর্কতাও যোগ করেছে, যা পদ্ধতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ: আইনু শব্দ থেকে আসা স্থান-নামের বিস্তার ঐতিহ্যবাহী বসতি-এলাকার চেয়ে কিছুটা বড় এলাকা জুড়ে — তবে যেসব নামের উৎপত্তি প্রমাণ করা যায় না, সেগুলো মানচিত্রে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এই পদ্ধতিটি লক্ষ করার মতো। একটি জনগোষ্ঠীর নিজের সংগঠন নিজের ভূখণ্ডের মানচিত্র আঁকছে, আর যে নামের প্রমাণ নেই সেটি বাদ দিচ্ছে — দাবি বাড়াচ্ছে না।
আইনু অ্যাসোসিয়েশনের পাতায় দুটি আইনু শব্দের অর্থ দেওয়া আছে, আর দুটোই সংগঠনের নিজের নামের ইতিহাসে ফিরে আসে।
দুটি শব্দের পার্থক্যটি সূক্ষ্ম কিন্তু রাজনৈতিক। একটি জাতির নাম, অন্যটি সম্পর্কের নাম।
আর ঠিক এই দুটি শব্দের মধ্যেই সংগঠনটি একবার যাওয়া-আসা করেছে — যা পরের অনুচ্ছেদের বিষয়।
আইনু অ্যাসোসিয়েশন অফ হোক্কাইদোর নিজের পাতায় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তারিখ ধরে ধরে আছে, আর তাতে একটি নাম-বদলের গল্প লুকানো:
| তারিখ | কী হয়েছিল |
|---|---|
| ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬ | সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রথম সাধারণ সভা |
| ১৩ মার্চ ১৯৪৬ | Hokkaido Ainu Association হিসেবে আইনি নিবন্ধন অনুমোদিত |
| ১৩ এপ্রিল ১৯৬১ | জাপানি নাম বদলে Hokkaido Utari Association |
| ১ এপ্রিল ২০০৯ | জাপানি নাম আবার বদলে Hokkaido Ainu Association |
অর্থাৎ ১৯৬১ সালে সংগঠনটি নিজের নাম থেকে “আইনু” শব্দটি সরিয়ে “উতারি” বসিয়েছিল — আর আটচল্লিশ বছর পরে, ২০০৯ সালে, শব্দটি ফিরিয়ে এনেছে।
পাতাটি এই বদলের কারণ ব্যাখ্যা করে না। তাই এখানে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে না — কেবল তারিখগুলো লেখা থাকল। [নাম-বদলের কারণ এই লেখার উৎসে নেই — যাচাই প্রয়োজন]
তবে কাঠামোটি পাহাড়ের পাঠকের কাছে চেনা। কোন নামে ডাকা হবে — এই প্রশ্নটি জনগোষ্ঠীর নিজের সংগঠনের ভেতরেও বদলায়, সময়ের সঙ্গে।
আইনু অ্যাসোসিয়েশনের নিজের বর্ণনায় এটি “an organization made up of Ainu who live in Hokkaido”, আর তার লক্ষ্য হুবহু: “work to improve the social status of Ainu people and to develop, transmit and preserve Ainu culture in order to establish the dignity of the Ainu people”।
অর্থাৎ তিনটি কাজ — সামাজিক অবস্থান উন্নত করা, সংস্কৃতি বিকশিত ও সংরক্ষণ করা, আর তার উদ্দেশ্য জনগোষ্ঠীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা।
কর্মকাণ্ডের তালিকাটিও পাতাটিতে আছে, আর সেটি অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যবহারিক:
দুটি পদ আলাদা করে লক্ষণীয়। ঋণ প্রদান — অর্থাৎ সংগঠনটি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাজও করে। আর অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তথ্য বিনিময় — অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সংযোগটি সংগঠনের ঘোষিত কাজের তালিকাতেই আছে।
সংগঠনের পরিচালক-তালিকায় প্রতিটি নামের পাশে একটি জেলার নাম আছে — আর সেই তালিকাটিই আইনু জনবসতির ভূগোল দেখায়।
পাতায় উল্লিখিত জেলাগুলো: Shiraoi, Sapporo, Chitose, Tomakomai, Toyoura, Nikappu, Shin-Hidaka, Samani, Erimo, Yakumo, Kamikawa, Obihiro, Akan, Shiranuka, Shibetsu, Mukawa, Honbetsu।
সতেরোটি জায়গা, সবই হোক্কাইদোয়। পাতাটিতে তালিকার মেয়াদ লেখা আছে মে ২০১৪ থেকে মে ২০১৬, আর অবস্থা ১৭ মে ২০১৫ অনুযায়ী।
এই তারিখটি মনে রাখা দরকার, কারণ পরের অনুচ্ছেদগুলোতে এই পাতার তথ্যের সময়সীমা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠবে।
আইনু অ্যাসোসিয়েশনের পাতায় একটি ঐতিহাসিক তথ্য আছে, যা অনেকের ধারণার উল্টো: মেইজি যুগ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়া পর্যন্ত জাপান সরকারের তৈরি পাঠ্যবইয়ে আইনুদের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল, এবং সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আইনুদের সম্পর্কে পড়ত।
তবে সংগঠনটি একই বাক্যে একটি সতর্কতাও দিয়েছে: “although the details of description are dubious from today’s perspective” — আজকের দৃষ্টিকোণ থেকে সেই বর্ণনার খুঁটিনাটি সন্দেহজনক।
অর্থাৎ পাঠ্যবইয়ে থাকা মানেই ভালোভাবে থাকা নয়। স্বীকৃতি ছিল, কিন্তু কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছিল, সেটি আলাদা প্রশ্ন।
পাতাটির পরের বাক্যটি একটি উল্টো যাত্রা দেখায়: “Since the end of World War Ⅱ, the Ainu people have been increasingly assimilated by the Japanese population and come to be regarded as a disappearing or extinct people.”
অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে আইনুরা ক্রমশ জাপানি জনসংখ্যার মধ্যে মিশে গেছেন, এবং একটি অদৃশ্য হয়ে যাওয়া বা বিলুপ্ত জনগোষ্ঠী হিসেবে গণ্য হতে শুরু করেছেন।
লক্ষ করুন সময়রেখাটি: যুদ্ধের আগে পাঠ্যবইয়ে আদিবাসী হিসেবে উল্লেখ, যুদ্ধের পরে “বিলুপ্তপ্রায়” হিসেবে গণ্য। আর ঠিক সেই যুদ্ধ-পরবর্তী সময়েই — ১৯৪৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে — আইনু অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই সংযোগটি পাতাটি সরাসরি করেনি, তবে তারিখ দুটি একই পাতায় আছে।
আইনু অ্যাসোসিয়েশনের পাতার সবচেয়ে সরাসরি বাক্যটি রাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে: “The Japanese Government for a long time continued to claim that Japan was a ‘mono-ethnic nation.’”
অর্থাৎ জাপান সরকার দীর্ঘদিন দাবি করে এসেছে যে জাপান একটি “একজাতিক রাষ্ট্র”।
এই একটি দাবির ভেতরেই একটি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব অস্বীকৃত হয়ে যায়। যদি রাষ্ট্র একজাতিক হয়, তবে অন্য জাতি নেই — আর না থাকলে অধিকারের প্রশ্নও ওঠে না।
কথাটি পাহাড়ের পাঠকের কাছে পরিচিত কাঠামোর। UNDRIP ও সাংবিধানিক পরিভাষার আলোচনায় প্রশ্নটি একই — রাষ্ট্র নিজেকে কীভাবে বর্ণনা করে।
পাতাটির পরের বাক্যটি একটি ফলাফলের ঘোষণা, আর তাতে কৃতিত্ব স্পষ্ট করে দেওয়া আছে: “However, due to activities primarily by the Ainu Association of Hokkaido, today’s government view is that the Ainu people constitute an ethnic minority, a ‘people’ with a language, culture and religion.”
অর্থাৎ মূলত আইনু অ্যাসোসিয়েশন অফ হোক্কাইদোর কর্মকাণ্ডের ফলে সরকারের বর্তমান অবস্থান হলো — আইনুরা একটি জাতিগত সংখ্যালঘু, একটি “people”, যাদের নিজের ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম আছে।
লক্ষ করুন শব্দগুলো: ethnic minority এবং a “people”। দুটি আলাদা পরিভাষা, আর দ্বিতীয়টি আন্তর্জাতিক আইনে বেশি ভার বহন করে।
আর এই বদলটি এসেছে রাষ্ট্রের উদ্যোগে নয় — জনগোষ্ঠীর নিজের সংগঠনের কাজে। সংগঠনটি নিজেই সেটি লিখে রেখেছে।
আর তারপরেই পাতাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাক্য — যা এই পোস্টের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন তৈরি করে: “Nevertheless, the Japanese Government has yet to recognize the Ainu as an ‘indigenous people’ as defined by the United Nations.”
অর্থাৎ সংগঠনটির ভাষায় — তবু জাপান সরকার জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী আইনুদের একটি “আদিবাসী জনগোষ্ঠী” হিসেবে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি।
পাতাটি আরও লিখেছে, জাপানি-আইনু সম্পর্কের “violent history” অতিক্রম করতে জাপানি জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো এবং আইনুদের সঙ্গে একটি “new partnership” প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য — এই সত্যের ভিত্তিতে যে নিজেদের আইনু হিসেবে পরিচয় দেওয়া মানুষ ও গোষ্ঠী থাকতেই থাকবে।
কিন্তু ২০১৯ সালে জাপানের সংসদ একটি আইন করেছে, যার পাঠে এই প্রশ্নটির উত্তর আছে — আর উত্তরটি সংগঠনের ওই বাক্যের সঙ্গে মেলে না।
জাপান সরকারের নিজের ইংরেজি অনুবাদ-ভাণ্ডারে আইনটির পূর্ণ নাম: Act on Promoting Measures to Achieve a Society in which the Pride of Ainu People is Respected — Act No. 16 of 2019। সবশেষ সংশোধিত Act No. 68 of 2022 দিয়ে।
আইনের শিরোনামটিই একটি বিবৃতি: এমন একটি সমাজ অর্জনের ব্যবস্থা এগিয়ে নেওয়া, যেখানে আইনু জনগোষ্ঠীর গর্ব সম্মানিত হয়।
আর ২ অনুচ্ছেদের সংজ্ঞায় আইনুদের বর্ণনা করা হয়েছে সেই আদিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে, যাঁরা “of the northern part of the Japanese archipelago, in particular Hokkaido”।
অর্থাৎ আইনের পাঠেই আইনুদের আদিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
এখানে একটি অসঙ্গতি ছিল, আর একটি তৃতীয় উৎস সেটি মিটিয়ে দেয়।
আইনু অ্যাসোসিয়েশনের পাতা বলছে সরকার “এখনো” জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী আইনুদের আদিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু আইনু সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের নিজের পুস্তিকায় (ফেব্রুয়ারি ২০২৩) লেখা আছে, ২০১৯ সালের আইনটি — “was the first to recognize the Ainu as an indigenous people of Japan” — জাপানের আইনে প্রথমবার আইনুদের আদিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
আর তার আগের ধাপটিও পুস্তিকায় আছে: ২০০৮ সালের জুনে জাপানের সংসদ সর্বসম্মতভাবে Resolution to Recognize the Ainu as an Indigenous People of Japan পাস করে।
অর্থাৎ অ্যাসোসিয়েশনের ইংরেজি পাতাটি ২০০৮ ও ২০১৯ — দুটি ঘটনার আগের, আর তারপরে হালনাগাদ হয়নি। পাতাটির পরিচালক-তালিকার তারিখ (১৭ মে ২০১৫) এই সিদ্ধান্তের সঙ্গেই মেলে।
অসঙ্গতিটি এখানে লেখা থাকল, কারণ পদ্ধতিটি কাজে লাগার মতো: একটি সংগঠনের পুরনো পাতা আর একটি সংগঠনের নতুন পুস্তিকা — দুটোই একই জনগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠানের, আর তারিখ দেখেই ঠিক করতে হয় কোনটি বর্তমান।
আইনু সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের পুস্তিকা অনুযায়ী ঐতিহাসিক উপাদানে আইনুদের প্রথম জ্ঞাত উল্লেখ আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের। সেই সময়ে তাঁরা জীবিকা নির্বাহ করতেন মূলত মাছ ধরা, শিকার ও গাছগাছালি সংগ্রহ করে, আর অন্য অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে ব্যবসা করতেন।
পুস্তিকাটিতে আইনু সংস্কৃতির পূর্বসূরি সংস্কৃতিগুলোর কথাও আছে — Satsumon ও Okhotsk। Satsumon সংস্কৃতির সঙ্গে আইনু সংস্কৃতির একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য পুস্তিকায় নির্দিষ্ট করা আছে: নদীর অববাহিকা বা মোহনার কাছে গ্রাম গড়া, যেখানে উজানে আসা স্যামন ও ট্রাউট ধরা যেত।
আর Satsumon সংস্কৃতির মানুষও আইনুদের মতোই মৌসুমি স্যামন ও ট্রাউটের ঝাঁকের উপর প্রধান খাদ্য হিসেবে নির্ভর করতেন।
এই বিবরণটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরের অনুচ্ছেদগুলোতে দেখা যাবে রাষ্ট্র ঠিক এই জিনিসটিই নিষিদ্ধ করেছিল।
পুস্তিকাটিতে একটি পরিভাষার সংজ্ঞা আছে, যা ছাড়া বাকি বিবরণ পড়া যায় না। Wajin — পুস্তিকার ভাষায়: “In and before the Meiji era, ‘Wajin’ referred to ethnic Japanese who migrated to Hokkaido from Honshu. The term is currently used to distinguish the ethnic Japanese majority from the Ainu.”
অর্থাৎ মেইজি যুগে ও তার আগে ওয়াজিন বলতে বোঝানো হতো সেই জাতিগত জাপানিদের, যাঁরা হোনশু থেকে হোক্কাইদোয় এসেছিলেন। আর এখন শব্দটি ব্যবহার হয় জাতিগত জাপানি সংখ্যাগরিষ্ঠকে আইনুদের থেকে আলাদা করতে।
একটি জনগোষ্ঠীর নিজের প্রতিষ্ঠান সংখ্যাগরিষ্ঠের জন্য একটি আলাদা শব্দ রাখছে — এটি পরিভাষার রাজনীতির একটি নিখুঁত উদাহরণ।
পুস্তিকাটিতে বাণিজ্যের বিবরণ নির্দিষ্ট পণ্যের নামসহ আছে। এজোচি (বর্তমান হোক্কাইদো) থেকে হোনশুতে পাঠানো হতো তিনটি স্থানীয় পণ্য — কেল্প, শুঁটকি স্যামন ও হেরিং — এবং Kita Ezochi (বর্তমান সাখালিন) হয়ে চীন থেকে আসা পণ্যও।
আর হোনশু থেকে আসত লোহার যন্ত্রপাতি, ল্যাকারের কাজ, সাকে ইত্যাদি।
পুস্তিকার মূল্যায়নটি লক্ষণীয়: “The Ainu were direct and indirect producers and traders of articles shipped to Honshu.” — হোনশুতে পাঠানো পণ্যের সরাসরি ও পরোক্ষ উৎপাদক ও ব্যবসায়ী ছিলেন আইনুরা।
অর্থাৎ সম্পর্কটি শুরু থেকেই বাণিজ্যিক — বিচ্ছিন্ন নয়। পঞ্চদশ শতকের মধ্যেই ওয়াজিনদের বসতি পূর্বে Mukawa থেকে পশ্চিমে Yoichi পর্যন্ত ছড়িয়েছিল, আর বর্তমান Hakodate-র কাছে Wakasa থেকে বাণিজ্যতরী আসত, পাইকারি দোকান ও লোহার কারখানা বসেছিল।
পুস্তিকাটিতে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ আছে, যা একটি ছুরি দিয়ে শুরু। একজন তরুণ আইনু Shinori-তে (বর্তমান Hakodate) একজন ওয়াজিন কর্মকারের সঙ্গে তাঁর অর্ডার করা একটি ছুরি নিয়ে তর্কে জড়ান। তর্কের উত্তাপে কর্মকার তরুণটিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।
আর পরের বছর Koshamain নামে একজন আইনু নেতা ও তাঁর ছেলে একটি বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন।
পুস্তিকায় এই ঘটনার তারিখ তালিকায় আছে, আর ঘটনাক্রমটি দেখায় সংঘাত কীভাবে ব্যক্তিগত অন্যায় থেকে সংগঠিত প্রতিরোধে পৌঁছায়।
পুস্তিকাটি আরেকটি পর্যবেক্ষণও রেখেছে, যা আইনু সমাজের চরিত্র বোঝায়: শোগুনাতের চাপ আইনুদের বিরাগ জাগিয়েছিল, আর তা দেখায় আইনুদের গড়ে তোলা প্রথা ও আচার তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে এতটাই গভীরে ছিল যে সহজে বদলানো যায়নি — এমনকি জোর করেও নয়।
পুস্তিকা অনুযায়ী ১৭৯৯ সালে শোগুনাত আজকের হোক্কাইদোর দক্ষিণ অর্ধাংশের (Higashi Ezochi) উপর সরাসরি শাসন পায়, আর ১৮০৭ সালে সেই নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত হয় উত্তর অর্ধাংশে (Nishi Ezochi) ও আজকের সাখালিনে (Kita Ezochi)।
কারণটিও পুস্তিকায় লেখা, আর তা ভূরাজনৈতিক: শোগুনাত আইনুদের সঙ্গে সৎ বাণিজ্য করত যাতে তাঁরা রুশ প্রস্তাবে প্রলুব্ধ না হন, আর হোনশুর অন্য গোষ্ঠীগুলোকে এজোচি রক্ষার জন্য সৈন্য পাঠাতে বলত।
এই একটি বাক্যে আইনু ভূখণ্ডের ভূরাজনৈতিক অবস্থান ধরা আছে — দুটি সাম্রাজ্যের মধ্যে।
পুস্তিকার সবচেয়ে ভারী তথ্যগুলোর একটি একটি চুক্তি নিয়ে। ১৮৭৫ সালে সরকার রাশিয়ার সঙ্গে Treaty for the Exchange of Sakhalin for the Kuril Islands — যা Treaty of Saint Petersburg নামেও পরিচিত — সম্পাদন করে, আর সাখালিন ও কুরিল দ্বীপপুঞ্জের আইনুদের জোর করে হোক্কাইদো ও Shikotan দ্বীপে স্থানান্তর করে।
ফল কী হয়েছিল, পুস্তিকা তা সরাসরি লিখেছে: “Those who were forced to relocate suffered from the abrupt change in lifestyle and the prevalence of diseases, and many of them died.”
অর্থাৎ যাঁদের জোর করে সরানো হয়েছিল, তাঁরা আকস্মিক জীবনধারা-পরিবর্তন ও রোগের প্রাদুর্ভাবে ভুগেছেন, আর তাঁদের অনেকেই মারা গেছেন।
আর পরের বাক্যটি জানায় এটি একবারের ঘটনা নয়: “Such forced relocation continued in many areas.” — এমন জোরপূর্বক স্থানান্তর বহু এলাকায় চলতে থাকে।
দুটি রাষ্ট্রের একটি সীমানা-বিনিময়ে একটি জনগোষ্ঠীর বসতি উঠে যায় — আর চুক্তিতে তাঁদের কোনো পক্ষ ছিল না।
পুস্তিকার সময়রেখার সবচেয়ে নির্ধারক বছরটি ১৮৬৯। সেই বছর নতুন মেইজি সরকার এজোচির নাম বদলে “হোক্কাইদো” রাখে, এবং একতরফাভাবে তা জাপানের অংশ করে নেয় (“unilaterally making it part of Japan”)।
আর নাগরিকত্বের প্রশ্নে যা হয়েছিল, পুস্তিকা তা দুই ভাগে লিখেছে:
দুটি কাজ একসঙ্গে — আইনে সমান, নথিতে আলাদা। এই দ্বৈততাটি পরিভাষার আলোচনার সবচেয়ে কার্যকর উদাহরণ।
একই বছর প্রতিষ্ঠিত Hokkaido Development Commission কী করেছিল, পুস্তিকা তার তালিকা দিয়েছে — আর তালিকাটি ছোট কিন্তু সম্পূর্ণ।
শেষ পদটি আগের অনুচ্ছেদের সঙ্গে মিলিয়ে পড়া দরকার। পুস্তিকাই জানিয়েছে, আইনু ও তাঁদের পূর্বসূরি সংস্কৃতির প্রধান খাদ্য ছিল মৌসুমি স্যামন ও ট্রাউট।
অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞাটি কেবল একটি পেশার উপর ছিল না — খাদ্যব্যবস্থার উপর।
পুস্তিকা প্রেক্ষাপটটিও লিখেছে: এশিয়া থেকে সরে ইউরোপের দিকে যাওয়া এবং সম্পদ ও সামরিক শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি জাতীয় ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবিকা ও জীবনধারা বদলে দেওয়ার সামাজিক চাপ বাড়ে। আর ওয়াজিন-অনুকূল উন্নয়ন-নীতির ফলে আইনুদের অবস্থা আরও খারাপ হয়।
পুস্তিকায় একটি বাক্য আছে, যা আইনি বৈষম্যের যুক্তিটি খোলাসা করে: আইনুদের ভুলভাবে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল যে তাঁরা সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার দক্ষতায় ঘাটতিপূর্ণ — আর তার ফলে ভূমি ও অন্য সম্পত্তির মালিকানার অধিকারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
পুস্তিকা কারণটিও দিয়েছে, আর সেটি সহানুভূতিশীল নয়, বরং বাস্তব: অনেক ক্ষেত্রে রাতারাতি জীবনধারা বদলানো কঠিন ছিল।
অর্থাৎ অক্ষমতা ছিল না — অভিযোজনের সময় ছিল না। আর সেই অভিযোজনের ব্যর্থতাকে অক্ষমতা হিসেবে পড়ে আইনি অধিকার কমানো হয়েছিল।
এই যুক্তির গঠনটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত — আর অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতায় “সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা” নয়, বরং “সভ্যতার অভ্যাস” শব্দে একই কাজ হয়েছিল।
পুস্তিকা অনুযায়ী ১৮৮৬ সালে Hokkaido Government প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ভূমি-উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ভূমি ও সম্পদ বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রসার ঘটায় — আর তাতে আইনুদের থাকার জায়গা কমে যায়।
এই নীতিতে আইনুদের কষ্ট আরও বাড়ার পর ১৮৯৯ সালে Hokkaido Former Aborigines Protection Act প্রণীত হয়।
আইনটির দুটি উদ্দেশ্য পুস্তিকায় স্পষ্ট করে লেখা — আর দুটি একসঙ্গে পড়লে আইনের চরিত্র বোঝা যায়:
ফল কী হয়েছিল, পুস্তিকা তাও লিখেছে: ভূমি পাওয়া কিছু আইনু চাষে সফল হন, কিন্তু অনেকেই নিজের ভূমি চাষের জমিতে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হন।
লক্ষ করুন আইনের নামটি — “Former Aborigines”, সাবেক আদিবাসী। ১৮৬৯ সালের নিবন্ধনে যে শব্দ বসানো হয়েছিল, ত্রিশ বছর পরে একটি আইনের শিরোনামে সেটিই।
পুস্তিকার সময়রেখায় একটি সংখ্যা আছে, যা ভূমি-বিতরণের বাস্তবতা এক লাইনে বলে দেয়: আসাহিকাওয়ার Chikabumi এলাকায় আইনুদের দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ১৫ লাখ ৎসুবো অনাবাদি ভূমি — কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দেওয়া হয় মাত্র ৪,৫৮,০০০ ৎসুবো।
অর্থাৎ পরিকল্পনার এক-তৃতীয়াংশেরও কম।
একই সময়রেখায় আরেকটি পদ আছে: আইনুদের জীবিকা-কাজ হিসেবে অনুমোদিত হরিণ শিকার নিষিদ্ধ হয়।
দুটি একসঙ্গে পড়লে ব্যবস্থাটি স্পষ্ট: পুরনো জীবিকা বন্ধ, আর নতুন জীবিকার জন্য প্রতিশ্রুত ভূমির এক-তৃতীয়াংশও মেলেনি।
পুস্তিকায় একটি নির্দিষ্ট বক্তব্যের তারিখ ও বক্তার নাম আছে, আর সেটিই আন্দোলনের মোড়। ১৯৮৬ সালে তখনকার প্রধানমন্ত্রী NAKASONE Yasuhiro বলেন যে “Japan is an ethnically homogeneous nation” এবং “there is no discrimination against ethnic minorities who hold Japanese citizenship”।
অর্থাৎ জাপান একটি জাতিগতভাবে সমসত্ত্ব রাষ্ট্র, আর জাপানি নাগরিকত্বধারী জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কোনো বৈষম্য নেই।
আর তারপর কী হলো, পুস্তিকা তা একটি বাক্যে লিখেছে: এই বক্তব্যের পর আইনু-সংক্রান্ত আলোচনা ও প্রচারাভিযান গতি পায়।
এই কাঠামোটি উল্লেখযোগ্য। একটি অস্বীকার আন্দোলনকে থামায়নি — বাড়িয়েছে।
পুস্তিকা আরও জানাচ্ছে, আইনুরা আদিবাসী অধিকার-বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রবণতার দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করেন, আর তাতে অন্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁদের বিনিময় ত্বরান্বিত হয় — পুস্তিকার ভাষায় সেই জনগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে, যাঁদের সঙ্গে তাঁরা “circumstances of subjugation, oppression, and disadvantage” ভাগ করেন।
পুস্তিকায় একটি রাজনৈতিক মাইলফলক আছে: ১৯৯৪ সালে প্রথম একজন আইনু জাপানের সংসদের উচ্চকক্ষে (Upper House) নির্বাচিত হন।
১৯৪৬ সালে সংগঠন, ১৯৮৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর অস্বীকার, ১৯৯৪ সালে প্রথম সংসদ সদস্য — আটচল্লিশ বছর।
পুস্তিকা এই নির্বাচনকে আগের অনুচ্ছেদের প্রেক্ষাপটেই রেখেছে: “Against this backdrop…” — অর্থাৎ ১৯৮৬-র বক্তব্যের পর গতি পাওয়া আলোচনা ও আন্তর্জাতিক সংযোগের পটভূমিতেই।
পুস্তিকার সময়রেখায় দুটি তারিখ পরপর, আর সম্পর্কটি কারণ-ফলের।
২০০৭ — জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে, যা পুস্তিকার ভাষায় আদিবাসী-সংক্রান্ত নীতির জন্য আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা নির্ধারণ করে।
জুন ২০০৮ — এই ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে জাপানের সংসদ সর্বসম্মতভাবে Resolution to Recognize the Ainu as an Indigenous People of Japan পাস করে।
“সর্বসম্মতভাবে” — শব্দটি পুস্তিকায় আছে (unanimously)। অর্থাৎ বিরোধিতা ছিল না।
প্রস্তাবের জবাবে মন্ত্রিপরিষদের প্রধান সচিব সরকারের অভিপ্রায় ঘোষণা করেন — আইনুরা একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী, এই স্বীকৃতির ভিত্তিতে আইনু নীতি প্রতিষ্ঠা করা হবে। আর একই বছরের জুলাইয়ে সরকার Advisory Council for Future Ainu Policy গঠন করে।
UNDRIP গ্রহণের এক বছরের মধ্যে একটি সংসদীয় প্রস্তাব, আর তার এক মাসের মধ্যে একটি পরামর্শক পরিষদ — এই গতি তুলনামূলকভাবে বিরল।
পুস্তিকায় উপোপোইয়ের পুরো ঘটনাক্রম আছে, তারিখ ও জায়গাসহ।
জুন ২০১৪ — সরকার মন্ত্রিসভার বৈঠকে Basic Policy for Development, Management and Operation of Symbolic Space for Ethnic Harmony to Promote the Revival of Ainu Culture অনুমোদন করে, আর সিদ্ধান্ত হয় যে Symbolic Space for Ethnic Harmony বসবে Shiraoi Town-এর Lake Poroto-র কাছের এলাকায়।
এপ্রিল ২০১৯ — আইনু নীতি প্রসার আইন প্রবর্তিত হয়, আর কার্যকর হয় ২৪ মে।
এই আইনের ভিত্তিতে আইনু সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনকে দুই মন্ত্রী — ভূমি, পরিকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী — আইনু সংস্কৃতির প্রসার ও Symbolic Space for Ethnic Harmony (উপোপোই) পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনি সত্তা হিসেবে মনোনীত করেন।
জুলাই ২০২০ — Upopoy National Ainu Museum and Park খোলে।
কেন খোলে, তার ভাষাটি পুস্তিকার নিজের, আর তা কঠোর: আইনু সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন ও বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে — জাপানের একটি অমূল্য সংস্কৃতি, যা “on the verge of extinction”, বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে — এবং একটি বৈষম্যমুক্ত, সজীব সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবে।
“বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে” — কথাটি কোনো সমালোচকের নয়, যে প্রতিষ্ঠানটি সংস্কৃতির দায়িত্বে, তার নিজের পুস্তিকার।
পুস্তিকায় ভাষার টিকে থাকার একটি অপ্রত্যাশিত প্রমাণ আছে — স্থান-নাম ও জাপানি ভাষার শব্দ।
পুস্তিকা জানাচ্ছে, আইনু স্থান-নাম পাওয়া যায় কেবল হোক্কাইদোয় নয় — সাখালিন ও কুরিল দ্বীপপুঞ্জেও, আর হোনশুর উত্তর-পূর্বের তোহোকু অঞ্চলেও।
উদাহরণ দুটি: আইনু ভাষায় pet ও nay মানে “নদী” — যেমন Noboribetsu (nupur-pet) ও Wakkanai (wakka-nay)।
পুস্তিকার মূল্যায়ন: এটি দেখায় মাতৃভাষী আইনু বক্তারা এই অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘকাল বসবাস করেছেন।
আর জাপানি ভাষায় ঢুকে যাওয়া আইনু শব্দের তালিকাও আছে: shishamo (আইনু susam, অর্থাৎ স্মেল্ট মাছ), rakko (rahko, সমুদ্র-ভোঁদড়), আর tonakai (tunakkay, রেইনডিয়ার)।
শেষটি পুস্তিকা একটি মন্তব্য দিয়ে চিহ্নিত করেছে — এই প্রাণীটিই সান্তার স্লেজ টানে।
পুস্তিকায় ভাষা-ক্ষতির কারণ এক বাক্যে: মেইজি যুগে আইনুদের ওয়াজিনদের ভাষা ও প্রথা ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়। আর যেহেতু স্কুলে জাপানি শেখানো হতো, আইনুদের নিজের ভাষায় কথা বলার সুযোগ কম ছিল।
ফল: পুস্তিকার ভাষায় “only a few Ainu speakers remain” — খুব অল্প আইনু বক্তা টিকে আছেন।
তবে পুস্তিকা বর্তমান কাজের তালিকাও দিয়েছে, আর সেটি নির্দিষ্ট:
বেতার অনুষ্ঠানের পদটি আলাদা করে লক্ষণীয়। লিপি না থাকা একটি ভাষার জন্য শ্রবণ-মাধ্যমই সবচেয়ে স্বাভাবিক — আর পাহাড়ের ভাষাগুলোর ক্ষেত্রেও কথাটি সত্য।
পুস্তিকায় আইনু বসতির গঠন নাম ও মাপসহ দেওয়া আছে।
আইনু ভাষায় গ্রামকে বলে kotan। পুস্তিকা অনুযায়ী আইনুরা ঘর ও গ্রাম গড়তেন নদী ও সমুদ্রতীরের কাছে, যেখানে খাবার ও পানীয় জল সহজে পাওয়া যায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
গ্রামের আকার: কয়েকটি থেকে দশটিরও বেশি ঘর। গ্রামপ্রধানদের নেতৃত্বে মানুষ বাঁচতেন কোতানের কাছের পাহাড়, নদী ও সমুদ্রে শিকার, মাছ ধরা ও গাছগাছালি সংগ্রহ করে।
আর ঘরকে বলা হয় cise। পুস্তিকার হিসাবে চিসের আকার প্রায় ২০ বর্গমিটার থেকে প্রায় ১০০ বর্গমিটার পর্যন্ত হতো।
কোতানের এই বর্ণনা পাহাড়ের গ্রাম-গঠনের সঙ্গে তুলনীয় — নদীর কাছে, ছোট আকারে, আর জীবিকা চারপাশের বন-নদী-পাহাড়ে।
পুস্তিকার ভূমিকায় আইনু সংস্কৃতির তিনটি উপাদান নাম ধরে উল্লেখ করা আছে, আর তিনটিই আইনু শব্দে।
পুস্তিকার ভূমিকার বাক্যটি হুবহু: আইনুরা, যাঁরা জাপানি দ্বীপপুঞ্জের উত্তর অংশের — বিশেষত হোক্কাইদোর — আদিবাসী, তাঁদের নিজের ভাষা আছে, আর তাঁরা একটি সমৃদ্ধ, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন।
পুস্তিকার উদ্দেশ্যও ভূমিকায় লেখা, আর তা এই পোস্টের উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে: আইনুদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনধারা সম্পর্কে আরও নির্ভুল বোঝাপড়া দেওয়া — তারিখ ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
২০১৯ সালের আইনের ১ অনুচ্ছেদে উদ্দেশ্য বলা হয়েছে — এমন একটি সমাজ অর্জন করা, যেখানে আইনু জনগোষ্ঠী একটি জাতি হিসেবে গর্বের সঙ্গে বাঁচতে পারে, এবং যেখানে সেই গর্ব সম্মানিত হয়।
আইনটি আইনু ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পাশাপাশি সমকালীন আদিবাসী জনগোষ্ঠী-সংক্রান্ত বিষয়গুলোও সম্বোধন করে।
“গর্ব” শব্দটি একটি আইনের উদ্দেশ্য-বিবৃতিতে অস্বাভাবিক। সাধারণত আইন অধিকার, সুরক্ষা বা কল্যাণের কথা বলে; এখানে বলা হচ্ছে pride-এর কথা।
আইনের ২ অনুচ্ছেদে “আইনু সংস্কৃতি”-র সংজ্ঞা দেওয়া আছে, আর তালিকাটি হুবহু: “the Ainu language, way of life, music, dance, crafts and other cultural products that have been inherited by the Ainu people”।
অর্থাৎ আইনু ভাষা, জীবনধারা, সংগীত, নৃত্য, কারুশিল্প এবং আইনু জনগোষ্ঠীর উত্তরাধিকারে পাওয়া অন্যান্য সাংস্কৃতিক উৎপাদন।
তালিকার প্রথম পদটি ভাষা — আর সেটি আইনের গঠনে তাৎপর্যপূর্ণ। সংজ্ঞায় ভাষা থাকলে ভাষা-সংক্রান্ত ব্যবস্থাও আইনের আওতায় আসে।
আইনে “আইনু ব্যবস্থা” (Ainu measures)-র সংজ্ঞাও আছে: আইনু সংস্কৃতির প্রসারের কাজ, এবং “preparing an environment that contributes to the promotion of Ainu culture in order that the Ainu people can live with pride as a people” — অর্থাৎ এমন পরিবেশ তৈরি করা, যা আইনু সংস্কৃতির প্রসারে সহায়ক, যাতে আইনুরা একটি জাতি হিসেবে গর্বের সঙ্গে বাঁচতে পারেন।
আইনের ৩ অনুচ্ছেদে মূল নীতিগুলো আছে, আর তার মধ্যে একটি শব্দবন্ধ আলাদা করে লক্ষণীয়: ব্যবস্থাগুলো নিতে হবে আইনু জনগোষ্ঠীর “spontaneous intentions” — স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছা — সম্মান করে।
অনুচ্ছেদের অন্য দুটি নীতি: আইনু ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে নাগরিকদের বোঝাপড়া গভীর করা, এবং একটি সর্বজাতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে (from a nationwide perspective) কাজ করা — সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয়ে।
“স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছা” শব্দবন্ধটি UNDRIP-এর FPIC ধারণার মতো শক্ত নয় — এটি সম্মতির কথা বলছে না, ইচ্ছার কথা বলছে। তবু এটি একটি আইনের নীতিতে জনগোষ্ঠীর নিজের অভিপ্রায়কে বসিয়ে দেয়।
আইনের ৪ অনুচ্ছেদটি সংক্ষিপ্ত এবং সরাসরি: “It is prohibited for any person to discriminate against Ainu people or commit any other act that infringes upon the rights or interests of an Ainu person for being Ainu.”
অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির পক্ষে আইনু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য করা, অথবা আইনু হওয়ার কারণে কোনো আইনু ব্যক্তির অধিকার বা স্বার্থে হস্তক্ষেপ করে এমন অন্য কোনো কাজ করা নিষিদ্ধ।
দুটি জিনিস লক্ষণীয়। প্রথমত, নিষেধটি “any person”-এর উপর — কেবল রাষ্ট্র বা কর্তৃপক্ষের উপর নয়। দ্বিতীয়ত, কারণটি নির্দিষ্ট — “for being Ainu”, আইনু হওয়ার কারণে।
এই ধরনের একটি সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আদিবাসী-বিষয়ক আইনে সাধারণ নয়। তুলনার জন্য ছয় দেশের ভূমি-ব্যবস্থার ছকে দেখা যায়, অন্য দেশগুলোর আইনগুলো মূলত ভূমি ও প্রক্রিয়া নিয়ে — বৈষম্য-নিষেধ আলাদা আইনে।
আইনের ৩২ অনুচ্ছেদ একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে — Ainu Policy Promotion Headquarters, যা বসানো হয়েছে মন্ত্রিসভায় (in the Cabinet), আর উদ্দেশ্য “আইনু ব্যবস্থাগুলো সামগ্রিকভাবে ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া”।
অবস্থানটি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয় — মন্ত্রিসভার মধ্যে। অর্থাৎ সমন্বয়ের ভার কেন্দ্রের সবচেয়ে উঁচু স্তরে।
তুলনায় বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আলাদা একটি মন্ত্রণালয় আছে; ভারতে উপজাতি-বিষয়ক মন্ত্রণালয়; ব্রাজিলে FUNAI একটি সংস্থা। প্রতিটি দেশে প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চতা আলাদা।
২০১৯ সালের আইনটি প্রথম নয়। জাপানের ভূমি, পরিকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের (MLIT) পাতায় আগের আইনটির নাম ও তারিখ আছে: ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে Ainu Culture Promotion and Dissemination of Information Concerning Ainu Traditions Act প্রণীত হয়।
অর্থাৎ ১৯৯৭ সালে একটি আইন, ২০১৯ সালে আরেকটি — বাইশ বছরের ব্যবধান।
নামের পার্থক্যটিও লক্ষণীয়। ১৯৯৭-এর আইনটি সংস্কৃতি প্রসার ও তথ্য বিতরণ নিয়ে; ২০১৯-এর আইনটির শিরোনামে আছে গর্ব ও সমাজ।
একই জনগোষ্ঠীকে নিয়ে দুটি আইন, আর শিরোনামের শব্দ বদলে গেছে — সংস্কৃতি থেকে মর্যাদায়।
MLIT-র পাতায় একটি জনসংখ্যা-সংখ্যা আছে, আর সূত্র ও সাল দুটোই দেওয়া: “According to the Hokkaido Utari Survey of Actual Living Conditions conducted in 1999, 23,767 Ainu now live within the jurisdiction of the sub-prefectural Hidaka and Iburi offices.”
অর্থাৎ ১৯৯৯ সালে পরিচালিত Hokkaido Utari Survey of Actual Living Conditions অনুযায়ী ২৩,৭৬৭ জন আইনু।
বাক্যটির দ্বিতীয় অংশটি অস্পষ্ট — “হিদাকা ও ইবুরি উপ-প্রিফেকচারাল দফতরের এলাকার মধ্যে”। সংখ্যাটি গোটা হোক্কাইদোর, নাকি কেবল এই দুই এলাকার, তা পাতাটির ভাষা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না। [সংখ্যাটির পরিধি এই লেখার উৎসে স্পষ্ট নয় — যাচাই প্রয়োজন]
আর একটি কথা স্পষ্ট করা দরকার: এটি ১৯৯৯ সালের সমীক্ষার সংখ্যা, আর সমীক্ষার নামেই “Utari” শব্দটি আছে — অর্থাৎ সেই সময়ে সংগঠনটিও “উতারি” নামে ছিল।
হালনাগাদ কোনো সংখ্যা এই রাউন্ডে কোনো সরকারি উৎস থেকে নেওয়া যায়নি।
MLIT-র পাতায় আইনু ভাষা নিয়ে দুটি বাক্য আছে, আর দুটোই নির্ধারক: “the Ainu language has no writing system, so when it is written, Japanese kana or the Roman alphabet is used. Today there are very few people who can speak the Ainu language freely.”
অর্থাৎ আইনু ভাষার নিজের কোনো লিপি নেই — লিখতে হলে জাপানি কানা অথবা রোমান বর্ণমালা ব্যবহার করা হয়। আর আজ খুব কম মানুষ আছেন, যাঁরা আইনু ভাষায় সহজে কথা বলতে পারেন।
এই দুটি বাক্য পাহাড়ের পাঠকের কাছে সবচেয়ে চেনা অংশ। বম, পাংখোয়া ও লুসাই ভাষার ক্ষেত্রেও মিশনারিদের আগে কোনো বর্ণমালা ছিল না, আর রোমান লিপি এসেছে ১৮৯৪ সালে।
পার্থক্যটি হলো, সেখানে একটি লিপি গ্রহণ করা হয়েছে ও চালু আছে; আইনু ভাষার ক্ষেত্রে MLIT-র পাতা বলছে ভাষাটির নিজের লিপি নেই এবং সহজে বলতে পারা মানুষ খুব কম।
[আইনু ভাষার বক্তার সংখ্যা কোনো সরকারি উৎসে এই রাউন্ডে পাওয়া যায়নি — যাচাই প্রয়োজন]
আইনু-বিষয়ক কাজের জন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠান আছে — 公益財団法人 アイヌ民族文化財団, ইংরেজিতে The Foundation for Ainu Culture।
ফাউন্ডেশনের নিজের পাতায় কর্মকাণ্ডের তিনটি শিরোনাম জাপানিতে দেওয়া আছে, আর তিনটিই নির্দিষ্ট:
দ্বিতীয় পদটি আলাদা করে উল্লেখযোগ্য। আগের অনুচ্ছেদে দেখা গেছে MLIT-র পাতা বলছে আইনু ভাষায় সহজে কথা বলতে পারা মানুষ খুব কম — আর এখানে দেখা যাচ্ছে ভাষার প্রসার একটি প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত কাজ।
অর্থাৎ ক্ষতি স্বীকৃত, আর ক্ষতি পূরণের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক যন্ত্রও আছে। দুটি একসঙ্গে থাকা সাধারণ নয়।
ফাউন্ডেশনের পাতায় একটি প্রতিষ্ঠানের নাম আছে, যার জাপানি নামটিই তার উদ্দেশ্য বলে দেয় — ウポポイ 民族共生象徴空間, অর্থাৎ উপোপোই, জাতিগত সহাবস্থানের প্রতীকী স্থান।
নামটির দুটি অংশ। উপোপোই — আইনু শব্দ; আর 民族共生象徴空間 — জাপানি, যার অর্থ জাতিগত সহাবস্থানের প্রতীকী পরিসর।
একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নামে একটি আইনু শব্দ থাকা নিজেই একটি তথ্য — বিশেষত সেই রাষ্ট্রে, যেটি দীর্ঘদিন নিজেকে “একজাতিক” বলে বর্ণনা করেছে।
[উপোপোই কোথায়, কখন খুলেছে, আর “উপোপোই” শব্দটির অর্থ কী — এই তিনটি তথ্য এই লেখার উৎসে নেই। ফাউন্ডেশনের পাতাটি উপোপোইয়ের আলাদা ওয়েবসাইটে লিংক দেয়, যা এই রাউন্ডে পড়া যায়নি — যাচাই প্রয়োজন]
এই লেখার উৎসগুলো থেকে পাওয়া তারিখগুলো একসঙ্গে সাজালে একটি সময়রেখা দাঁড়ায় — আর সেটিই এই পোস্টের সারকথা।
| সময় | কী | উৎস |
|---|---|---|
| ১৭–১৯ শতক | ঐতিহ্যবাহী বসতি-এলাকা, মানচিত্রে চিহ্নিত | আইনু অ্যাসোসিয়েশন |
| মেইজি–২য় বিশ্বযুদ্ধ | সরকারি পাঠ্যবইয়ে আইনুরা “আদিবাসী জনগোষ্ঠী” | আইনু অ্যাসোসিয়েশন |
| যুদ্ধের পর | “বিলুপ্তপ্রায়” হিসেবে গণ্য হতে শুরু | আইনু অ্যাসোসিয়েশন |
| ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬ | আইনু অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার সভা | আইনু অ্যাসোসিয়েশন |
| ১৩ এপ্রিল ১৯৬১ | নাম বদলে “উতারি” | আইনু অ্যাসোসিয়েশন |
| জুলাই ১৯৯৭ | Ainu Culture Promotion Act | MLIT |
| ১৯৯৯ | Hokkaido Utari Survey — ২৩,৭৬৭ | MLIT |
| ১ এপ্রিল ২০০৯ | নাম আবার “আইনু” | আইনু অ্যাসোসিয়েশন |
| ২০১৯ | Act No. 16 — আইনে “আদিবাসী জনগোষ্ঠী”, বৈষম্য নিষিদ্ধ | জাপান সরকারের অনুবাদ |
| ২০২২ | Act No. 68 দিয়ে সংশোধনী | জাপান সরকারের অনুবাদ |
সময়রেখাটি পড়লে একটি প্যাটার্ন দেখা যায়: জনগোষ্ঠীর নিজের সংগঠন ১৯৪৬ সালে, আইন ১৯৯৭ ও ২০১৯ সালে। অর্থাৎ সংগঠন আগে, আইন পরে — পঞ্চাশ ও তিয়াত্তর বছর পরে।
আর সংগঠনের পাতার বাক্যটি এর সঙ্গে মেলে: সরকারের অবস্থান বদলেছে “due to activities primarily by the Ainu Association of Hokkaido”।
আইনু-অভিজ্ঞতা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের জন্য চারটি জিনিস থাকে, আর একটিও কোনো দেশের নকশা নকল করার প্রস্তাব নয়।
এক — “একজাতিক রাষ্ট্র” দাবিটি ভাঙা যায়, আর ভেঙেছে জনগোষ্ঠীর নিজের সংগঠন। জাপান সরকার দীর্ঘদিন বলেছে দেশটি একজাতিক; আর আইনু অ্যাসোসিয়েশনের নিজের ভাষায়, সরকারের বর্তমান অবস্থান বদলেছে মূলত সেই সংগঠনের কর্মকাণ্ডে। পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় লেগেছে, কিন্তু বদলেছে।
দুই — সংগঠনের কাজের তালিকায় ঋণ ও কর্মসংস্থান আছে। আইনু অ্যাসোসিয়েশন কেবল সাংস্কৃতিক সংগঠন নয় — তার ঘোষিত কাজের মধ্যে আছে ঋণ প্রদান, কর্মসংস্থান তৈরি ও শিক্ষার প্রসার, এবং হোক্কাইদো সরকারের কমিশনে একটি কেন্দ্র পরিচালনা। অর্থাৎ অধিকারের আন্দোলন ও দৈনন্দিন সেবা একই প্রতিষ্ঠানে।
তিন — নিজের নাম বদলানো ও ফিরিয়ে আনার অধিকার জনগোষ্ঠীর। ১৯৬১ সালে সংগঠনটি নিজের নাম থেকে “আইনু” সরিয়েছিল, ২০০৯ সালে ফিরিয়ে এনেছে। কারণ উৎসে নেই, কিন্তু সিদ্ধান্তটি সংগঠনেরই ছিল — বাইরের কারও নয়।
চার — আইনে শব্দ থাকা আর জনগোষ্ঠীর সন্তুষ্ট হওয়া এক জিনিস নয়। ২০১৯ সালের আইনের পাঠে আইনুরা “আদিবাসী জনগোষ্ঠী”; আর সংগঠনের পাতায় লেখা আছে সরকার জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী স্বীকৃতি “এখনো” দেয়নি। পাতাটি সম্ভবত আইনের আগের, কিন্তু প্রশ্নটি তাতে মিটে যায় না: স্বীকৃতির মাপকাঠি কে ঠিক করে?
শেষ প্রশ্নটিই বাংলাদেশের পরিভাষা-তর্কের কেন্দ্রে — আর সেখানেও উত্তরটি একই রকম জটিল।
আইনু অ্যাসোসিয়েশন অফ হোক্কাইদোর নিজের পাতা অনুযায়ী আইনু ভাষায় “Ainu” শব্দের অর্থ “মানুষ” — দেবতাদের (kamui) বিপরীতে — এবং এটিই জনগোষ্ঠীর নাম। একই পাতায় “utari” শব্দের অর্থ দেওয়া আছে “brethren” বা “compatriot”।
২০১৯ সালের জাপানি আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী তাঁরা জাপানি দ্বীপপুঞ্জের উত্তর অংশের, বিশেষত হোক্কাইদোর আদিবাসী জনগোষ্ঠী। আইনু অ্যাসোসিয়েশনের পাতায় আনুমানিক সপ্তদশ থেকে ঊনবিংশ শতক পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী বসতি-এলাকা মানচিত্রে চিহ্নিত আছে, আর বলা আছে আইনু শব্দ থেকে আসা স্থান-নামের বিস্তার সেই এলাকার চেয়ে কিছুটা বড়।
MLIT-র পাতা অনুযায়ী ১৯৯৯ সালে পরিচালিত Hokkaido Utari Survey of Actual Living Conditions-এ সংখ্যাটি ২৩,৭৬৭। বাক্যটিতে “হিদাকা ও ইবুরি উপ-প্রিফেকচারাল দফতরের এলাকার মধ্যে” কথাটিও আছে, তাই সংখ্যাটি গোটা হোক্কাইদোর কি না নিশ্চিত নয়। হালনাগাদ কোনো সরকারি সংখ্যা এই লেখার উৎসে নেই।
২০১৯ সালের Act No. 16-এর পাঠে আইনুদের সেই আদিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যাঁরা জাপানি দ্বীপপুঞ্জের উত্তর অংশের, বিশেষত হোক্কাইদোর। তবে আইনু অ্যাসোসিয়েশনের ইংরেজি পাতায় লেখা আছে সরকার জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী আইনুদের “আদিবাসী জনগোষ্ঠী” হিসেবে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি। পাতাটির পরিচালক-তালিকা ১৭ মে ২০১৫ অনুযায়ী, অর্থাৎ এটি সম্ভবত ২০১৯ সালের আইনের আগের।
Act on Promoting Measures to Achieve a Society in which the Pride of Ainu People is Respected, Act No. 16 of 2019; সবশেষ সংশোধিত Act No. 68 of 2022 দিয়ে। জাপান সরকারের নিজের ইংরেজি অনুবাদ-ভাণ্ডারে আইনটির পূর্ণ পাঠ আছে।
৪ অনুচ্ছেদে লেখা আছে: “It is prohibited for any person to discriminate against Ainu people or commit any other act that infringes upon the rights or interests of an Ainu person for being Ainu.” অর্থাৎ নিষেধটি কেবল রাষ্ট্রের উপর নয়, “any person”-এর উপর; আর কারণটি নির্দিষ্ট — আইনু হওয়ার কারণে।
২ অনুচ্ছেদের সংজ্ঞা অনুযায়ী আইনু ভাষা, জীবনধারা, সংগীত, নৃত্য, কারুশিল্প এবং আইনু জনগোষ্ঠীর উত্তরাধিকারে পাওয়া অন্যান্য সাংস্কৃতিক উৎপাদন। তালিকার প্রথম পদটি ভাষা।
৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনু ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে নাগরিকদের বোঝাপড়া গভীর করা, আইনু জনগোষ্ঠীর “spontaneous intentions” সম্মান করা, এবং একটি সর্বজাতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয়ে কাজ করা।
আইনের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভায় (in the Cabinet) একটি Ainu Policy Promotion Headquarters প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার উদ্দেশ্য আইনু ব্যবস্থাগুলো সামগ্রিকভাবে ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া।
MLIT-র পাতা অনুযায়ী আইনু ভাষার নিজের কোনো লিপি নেই; লিখতে হলে জাপানি কানা অথবা রোমান বর্ণমালা ব্যবহার করা হয়। একই পাতায় লেখা আছে আজ খুব কম মানুষ আছেন যাঁরা আইনু ভাষায় সহজে কথা বলতে পারেন। আইনু সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের ঘোষিত কাজের তালিকায় “আইনু ভাষার প্রসার” আছে।
সংগঠনের নিজের পাতা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠার প্রথম সাধারণ সভা ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬, আর Hokkaido Ainu Association হিসেবে আইনি নিবন্ধন অনুমোদিত হয় ১৩ মার্চ ১৯৪৬। ১৩ এপ্রিল ১৯৬১-তে জাপানি নাম বদলে Hokkaido Utari Association হয়, আর ১ এপ্রিল ২০০৯-এ আবার Hokkaido Ainu Association।
নিজের পাতা অনুযায়ী — সামাজিক অবস্থান উন্নয়ন, ঋণ প্রদান, কর্মসংস্থান তৈরি ও শিক্ষার প্রসার, জাতিগত সংস্কৃতির সংরক্ষণ-সঞ্চালন-বিকাশ, অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, হোক্কাইদো সরকারের কমিশনে হোক্কাইদো আইনু সেন্টার পরিচালনা, এবং সমীক্ষা-গবেষণা।
জাপানি ও ইংরেজি আইনি শব্দবন্ধ, জাপানি লিপির নাম এবং সব ব্যক্তি, স্থান, জনগোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানের নাম মূল রূপে রাখা হয়েছে। আইনু শব্দগুলো (Ainu, kamui, utari, Upopoy) পরিবর্তন করা হয়নি। সর্বশেষ হালনাগাদ: ৮ অক্টোবর ২০২৬।
প্রসঙ্গ:অধিকার, আদিবাসী অধিকার, আদিবাসী ভাষা, আদিবাসী সংস্কৃতি, আদিবাসীদের ভাষা বিলুপ্তি, আন্তর্জাতিক
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।