Last updated Oct 17th, 2026
0

দিনাজপুরের কোনো সাঁওতাল কৃষক যদি তাঁর জমির একটি অংশ পাশের গ্রামের কোনো বাঙালি ক্রেতার কাছে বেচতে চান, তাহলে শুধু দলিল লিখে রেজিস্ট্রি অফিসে গেলেই চলে না। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, 1950-এর ধারা 97 বলছে, আগে রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে অনুমতির আবেদন করতে হবে, আর দলিল রেজিস্ট্রির আগেই দলিলের শর্ত ও হস্তান্তরে তাঁর লিখিত সম্মতি নিতে হবে। সমতলে আদিবাসী জমি হস্তান্তর ৯৭ ধারা দিয়েই নিয়ন্ত্রিত: আইনের তালিকাভুক্ত জনগোষ্ঠীর রায়ত অন্য আদিবাসীর কাছে জমি দিতে পারেন, অ-আদিবাসীর কাছে বিক্রি, দান বা উইল করতে পারেন কেবল সেই অনুমতি নিয়ে, আর নিয়ম ভেঙে করা হস্তান্তর আইনের চোখে বাতিল।
এই লেখায় ধারাটির পূর্ণ পাঠ আছে দুই ভাষায়: বাংলাদেশের আইন তথ্যভান্ডারে (bdlaws) থাকা ইংরেজি মূল, আর ভূমি মন্ত্রণালয়ের 2022 সালের প্রজ্ঞাপনে প্রকাশিত সরকার-অনুমোদিত বাংলা পাঠ। তারপর উপধারা ধরে ধরে ব্যাখ্যা, কোন কোন জনগোষ্ঠী তালিকায় আছে, কবে কী সংশোধন হয়েছে, আর বাস্তবে ধারাটি কতটা কাজ করে বলে গবেষণা ও প্রতিবেদনে এসেছে। অনুমতির পদ্ধতি এখানে কেবল ততটুকুই লেখা হয়েছে, যতটুকু আইনের পাঠ বা প্রকাশিত উৎস বলে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি-ব্যবস্থা আলাদা আইনে চলে; সেটি আমাদের ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন পর্যন্ত লেখাটিতে আছে, এখানে তার পুনরাবৃত্তি নেই।
এই লেখায় যা আছে
ধারা 97-এর শিরোনাম ইংরেজিতে “Restriction on alienation of land by aboriginals”, সরকারি বাংলা পাঠে “আদিবাসী বা উপজাতীয়দের দ্বারা ভূমি হস্তান্তরে বিধি-নিষেধ”। এর দশটি উপধারা চারটি কাজ করে: কারা “আদিবাসী” গণ্য হবেন তা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঠিক করে, কার কাছে জমি দেওয়া যাবে তা বেঁধে দেয়, বন্ধকের ধরন সীমিত করে, আর নিয়ম ভাঙলে প্রতিকার দেয়।
ধারাটি আইনের পঞ্চম ভাগের ত্রয়োদশ অধ্যায়ে, যার বিষয় রায়তের জোতের আপতন এবং জমির হস্তান্তর, ক্রয় ও অর্জন। আইনটির আনুষ্ঠানিক পরিচয় East Bengal Act No. XXVIII of 1951; bdlaws-এর পাতায় তারিখ দেওয়া আছে 16 মে 1951। নিচের ছকে প্রতিটি উপধারার সারকথা, যাতে পূর্ণ পাঠে যাওয়ার আগে কাঠামোটা চোখে পড়ে।
| উপধারা | বিষয় | সারকথা |
|---|---|---|
| 97(1) | কারা আদিবাসী | সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে কোনো জেলা বা স্থানীয় এলাকায় তালিকার জাতিগুলোর ক্ষেত্রে ধারাটি প্রয়োগ করবে; প্রজ্ঞাপন প্রকাশই চূড়ান্ত প্রমাণ |
| 97(2) | মূল নিষেধ | বাংলাদেশে বসবাসকারী অন্য আদিবাসী, যিনি ধারা 90 অনুযায়ী জমি নিতে পারেন, তাঁর কাছে ছাড়া হস্তান্তর বৈধ নয় |
| 97(3) | অনুমতির আবেদন | অ-আদিবাসীর কাছে বিক্রি, দান বা উইলের জন্য রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে আবেদন; তিনি ধারা 88 ও 90 বিবেচনায় যথাযথ আদেশ দেবেন |
| 97(4) | দলিল ও সম্মতি | নিবন্ধিত দলিল লাগবে; রেজিস্ট্রির আগে দলিলের শর্ত ও হস্তান্তরে রাজস্ব কর্মকর্তার লিখিত সম্মতি |
| 97(5) | বন্ধকের ধরন | কেবল সম্পূর্ণ খাই-খালাসি বন্ধক; কৃষিঋণের জন্য সরকার, কৃষি ব্যাংক, কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বা সমবায়ের কাছে বন্ধক ব্যতিক্রম |
| 97(6) | বন্ধকের মেয়াদ | অন্য আদিবাসীর সাথে খাই-খালাসি বন্ধক, কোনোভাবেই সাত বছরের বেশি নয়; নিবন্ধন বাধ্যতামূলক |
| 97(7) | ফলাফল | ধারা লঙ্ঘন করে করা হস্তান্তর বাতিল (void) |
| 97(8) | প্রতিকার | রাজস্ব কর্মকর্তা নিজে বা আবেদনে হস্তান্তর-গ্রহীতাকে উচ্ছেদ করতে পারেন; জমি আদিবাসী বা তাঁর উত্তরাধিকারীকে ফেরত, না পেলে সরকারে ন্যস্ত ও অন্য আদিবাসীকে বন্দোবস্ত |
| 97(9) | আদালতের নিলাম | আদালত আদিবাসী রায়তের জোত বিক্রির ডিক্রি দেবে না; বকেয়া খাজনা ও কৃষিঋণ আদায়ের সার্টিফিকেট ব্যতিক্রম |
| 97(10) | প্রত্যাহার | সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে কোনো এলাকায় কোনো জাতির ক্ষেত্রে ধারাটির প্রয়োগ তুলে নিতে পারে |
ধারা 97-এর আইনগত মূল পাঠ ইংরেজি। 16 অক্টোবর 2026 তারিখে bdlaws-এর পাতায় যে পাঠ আছে, সেটি 2022 ও 2025 সালে Internet Archive-এ সংরক্ষিত পাতার সাথে হুবহু মেলে, আর আইন মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ কোড সংকলনের ছাপা পাঠের সাথেও মেলে। বাংলা পাঠটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অনুমোদিত অনুবাদ, প্রকাশিত হয়েছে 31 ডিসেম্বর 2022 তারিখের অতিরিক্ত গেজেটে।
দুটি পাঠই নিচে হুবহু দেওয়া হলো, পাদটীকার সংখ্যা বাদ দিয়ে কিন্তু বন্ধনীর চিহ্ন রেখে। ইংরেজি পাঠের “[Banais]” এবং “[***]” চিহ্ন সংশোধনের দাগ; কোন সংশোধনী কী বদলেছে, তা সংশোধনের অংশে তারিখসহ আছে।
97. Restriction on alienation of land by aboriginals. (1) The Government may from time to time, by notification, declare that the provisions of this section shall, in any district or local area, apply to such of the following aboriginal castes or tribes as may be specified in the notification, and that such castes or tribes shall be deemed to be aboriginals for the purposes of this section, and the publication of such notification shall be conclusive evidence that the provisions of this section have been duly applied to such castes or tribes, namely:-
Sonthals, [Banais] Bhuiyas, Bhumijes, Dalus, Garos, Gonds, Hadis, Hajangs, Hos, Kharias, Kharwars, Kochs (Dhaka Division), Koras, Maghs (Bakerganj District), Mal and Sauria Paharias, Maches, Mundas, Mundais, Oraons and Turis.
(2) Except as provided in this section, no transfer by an aboriginal raiyat of his right in his holding or in any portion thereof shall be valid unless it is made to another aboriginal domiciled or permanently residing in Bangladesh who is a person to whom the transfer of such holding or portion thereof can be made under section 90.
(3) If in any case an aboriginal raiyat desires to transfer holding or any portion thereof by private sale, gift or will to any person who is not such an aboriginal, he may apply to the Revenue-officer for permission in that behalf, and the Revenue-officer may pass such order on the application as he thinks fit having regard to the provisions of sections 88 and 90.
(4) Every transfer referred to in sub-section (3) shall be made by registered deed; and before the deed is registered and the holding or any portion thereof is transferred, the written consent of the Revenue-officer shall be obtained to the terms of the deed and to the transfer.
(5) An aboriginal raiyat’s power to mortgage his land shall be restricted to only one form of mortgage, namely, a complete usufructuary mortgage:
Provided that nothing in this sub-section shall apply to a mortgage to Government or to the Agricultural Development Bank of Pakistan or to the [***] Agricultural Development Corporation or to a Co-operation Society for obtaining loans for Agricultural purposes.
(6) An aboriginal raiyat may enter with another aboriginal, domiciled or permanently residing in Bangladesh, who is a person with whom a complete usufructuary mortgage can be entered into under sub-section (1) of section 95, into a complete usufructuary mortgage in respect of any land comprised within his holding for any period which does not and cannot, in any possible event, by any agreement express or implied, exceed seven years:
Provided that every mortgage so entered into shall be registered under the Registration Act, 1908.
(7) Any transfer made by an aboriginal raiyat in contravention of the provisions of this section shall be void.
(8) (a) If a transfer of a holding or any portion thereof is made by an aboriginal raiyat in contravention of the provisions of this section, the Revenue-officer may, on his own initiative or on application made in that behalf, by an order in writing, eject the transferee from such holding or portion:
Provided that the transferee shall be given an opportunity of showing cause against such ejectment before the order is passed.
(b) When the Revenue-officer has passed any order under clause (a), he shall either (i) restore the transferred land to the aboriginal or his heir or legal representative or, (ii) failing the transferor or his heir or legal representative, declare that the land has vested in the Government and the Revenue-officer may settle the land with another aboriginal.
(9) Notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force, no decree or order shall be passed by any Court for the sale of the right of any aboriginal raiyat in his holding or any portion thereof, nor shall any such right be sold in execution of any decree or order:
Provided that any holding belonging to an aboriginal may be sold, according to the provisions of this Act, in execution of a certificate for the recovery of the arrears of rent of the holding or for recovery of any loan advanced for agricultural purposes by Government or the Agricultural Development Bank of Pakistan or the [* * *] Agricultural Development Corporation or a Co-operative Society to an aboriginal on the security of his holding.
(10) The Government may, by notification, declare that this section shall, in any district or local area, cease to apply to any caste or tribe to which it may have been applied under sub-section (1).
৯৭। আদিবাসী বা উপজাতীয়দের দ্বারা ভূমি হস্তান্তরে বিধি-নিষেধ।—(১) সরকার, সময় সময়, প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ঘোষণা করিতে পারিবে যে, এই ধারার বিধানাবলি কোনো জেলা অথবা স্থানীয় এলাকার প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত আদিবাসী সমাজ অথবা গোত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে এবং এইরূপ সমাজ অথবা গোত্র এই ধারার উদ্দেশ্যে আদিবাসী হিসাবে গণ্য হইবে এবং এইরূপ প্রজ্ঞাপনের প্রকাশ চূড়ান্ত প্রমাণ হইবে যে, এই ধারার বিধানাবলি এইরূপ সমাজ ও গোত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইয়াছে, যথা:
সাঁওতাল, [বানাই], ভূইয়া, ভুমিজ, ডালু, গারো, গোন্ড, হাদী, হাজং, হো, খারিয়া, খারওয়ার, কোচ (ঢাকা বিভাগ), কোরা, মগ (বাকেরগঞ্জ জেলা), মাল ও সুরিয়া পাহাড়িয়া, মাচ, মান্ডা, মন্ডিয়া, ওড়াঁও ও তোড়ি।
(২) এই ধারায় যেরূপ বিধান রাখা হইয়াছে উহা ব্যতীত কোনো আদিবাসী রায়ত কর্তৃক তাহার জোত বা উহার অংশে তাহার কোনো অধিকার হস্তান্তর বৈধ হইবে না, যদিনা ইহা বাংলাদেশের নিবাসী বা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী আদিবাসীর নিকট করা হয় যাহার নিকট ধারা ৯০ অনুযায়ী এইরূপ জোত অথবা উহার অংশ-বিশেষ হস্তান্তর করা যায়।
(৩) যদি কোনো ক্ষেত্রে আদিবাসী রায়ত আদিবাসী নহেন এইরূপ কোনো ব্যক্তির নিকট জোত অথবা উহার অংশ-বিশেষ ব্যক্তিগতভাবে বিক্রয়, দান বা উইলের মাধ্যমে হস্তান্তর করিতে ইচ্ছুক হন, এতদুদ্দেশ্যে অনুমতির জন্য তিনি রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং রাজস্ব কর্মকর্তা ধারা ৮৮ ও ৯০ এর বিধানাবলি সাপেক্ষে এই আবেদন বিষয়ে যেরূপ যথাযথ মনে করিবেন সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত প্রত্যেকটি হস্তান্তর নিবন্ধিত দলিলমূলে করিতে হইবে; এবং দলিল নিবন্ধন এবং জোত বা ইহার যেকোনো অংশ হস্তান্তরিত হইবার পূর্বে দলিল এবং হস্তান্তরের শর্তের বিষয়ে রাজস্ব কর্মকর্তার লিখিত সম্মতি গ্রহণ করিতে হইবে।
(৫) একজন আদিবাসী রায়ত তাহার জমি কেবল এক প্রকারের বন্ধক, যথা সম্পূর্ণ খাই-খালাসি বন্ধক, প্রদান করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কৃষির উদ্দেশ্যে ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সরকার বা পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক অথবা [***] কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বা কোনো সমবায় সমিতির নিকট বন্ধকের ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হইবে না।
(৬) কোনো আদিবাসী রায়ত অন্য কোনো আদিবাসী, বাংলাদেশ নিবাসী অথবা বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী অন্য কোনো ব্যক্তি যাহার সহিত ধারা ৯৫ এর উপ-ধারা (১) অনুযায়ী সম্পূর্ণ খাই-খালাসি বন্ধকে আবদ্ধ হওয়া যায়, তাহার সহিত তাহার জোতের অন্তর্ভুক্ত যেকোনো ভূমির জন্য কোনো ব্যক্ত অথবা অব্যক্ত চুক্তির মাধ্যমে যেকোনো সময়ের জন্য সম্পূর্ণ খাই-খালাসি বন্ধকে আবদ্ধ হইতে পারে, যাহা কোনোভাবেই সাত বৎসরের অধিক হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ প্রত্যেকটি বন্ধক নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী নিবন্ধিত হইতে হইবে।
(৭) কোনো আদিবাসী রায়ত কর্তৃক এই ধারার বিধানসমূহ লঙ্ঘনক্রমে সম্পাদিত প্রত্যেকটি হস্তান্তর বাতিল হইবে।
(৮) (ক) যদি কোনো আদিবাসী রায়ত এই ধারার বিধানাবলি লঙ্ঘন করিয়া কোনো জোত বা ইহার অংশ হস্তান্তর করেন, তাহা হইলে রাজস্ব কর্মকর্তা স্ব-উদ্যোগে বা ইহার বিষয়ে দাখিলকৃত আবেদনের ভিত্তিতে লিখিত আদেশবলে এইরূপ হস্তান্তর-গ্রহীতাকে উক্ত জোত বা উহার অংশ হইতে উচ্ছেদ করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ আদেশ জারির পূর্বে হস্তান্তর-গ্রহীতাকে এইরূপ উচ্ছেদের বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ প্রদান করিতে হইবে।
(খ) অনুচ্ছেদ (ক) অনুযায়ী রাজস্ব কর্মকর্তা কোনো আদেশ প্রদান করিলে, হয় তিনি (অ) হস্তান্তরিত ভূমি উক্ত আদিবাসী অথবা তাহার উত্তরাধিকারী বা আইনসঙ্গত প্রতিনিধির নিকট প্রত্যর্পণ করিবেন; বা (আ) হস্তান্তরকারী অথবা তাহার উত্তরাধিকারী বা আইনসঙ্গত প্রতিনিধি পাওয়া না গেলে ভূমি সরকারের উপর ন্যস্ত হইয়াছে বলিয়া ঘোষণা করিবেন এবং রাজস্ব কর্মকর্তা উক্ত ভূমি অন্য কোনো আদিবাসীর নিকট বন্দোবস্ত দিবেন।
(৯) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো আদালত কোনো আদিবাসী রায়তের জোত বা ইহার অংশের অধিকার বিক্রয়ের নিমিত্ত ডিক্রি অথবা আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন না:
তবে শর্ত থাকে যে, জোতের বকেয়া ভূমি রাজস্ব আদায়ের জন্য বা সরকার বা পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, [***] কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন বা সমবায় সমিতি কর্তৃক কৃষির উদ্দেশ্যে জোতের জামানত সাপেক্ষে প্রদত্ত ঋণ আদায়ের জন্য এই আইনের বিধানাবলি অনুযায়ী সার্টিফিকেট কার্যকর করিবার নিমিত্ত কোনো আদিবাসীর জোত বিক্রয় করা যাইতে পারে।
(১০) সরকার, প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ঘোষণা করিতে পারিবে যে, কোনো জেলা বা স্থানীয় এলাকার যেকোনো শ্রেণি বা গোত্র যাহাদের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) অনুযায়ী ইহা প্রয়োগ করা হইয়াছে, তাহাদের ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না।
দুই পাঠ পাশাপাশি পড়লে কয়েকটি তফাত চোখে পড়ে। ইংরেজি শিরোনামে কেবল “aboriginals”, বাংলায় “আদিবাসী বা উপজাতীয়দের”। উপধারা (6)-এ ইংরেজিতে বন্ধক-গ্রহীতা “another aboriginal”, অর্থাৎ অন্য আদিবাসী; বাংলা অনুবাদের বাক্যগঠনে “অন্য কোনো আদিবাসী, বাংলাদেশ নিবাসী অথবা বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী অন্য কোনো ব্যক্তি” পড়লে মনে হতে পারে যে-কোনো ব্যক্তি। উপধারা (8)(b)-তে ইংরেজিতে রাজস্ব কর্মকর্তা জমি অন্য আদিবাসীকে বন্দোবস্ত দিতে “may”, অর্থাৎ পারেন; বাংলায় “বন্দোবস্ত দিবেন”, যা বাধ্যবাধকতার মতো শোনায়। আইনি বিরোধে কোন পাঠ প্রাধান্য পাবে, প্রজ্ঞাপনটি তা বলেনি; সেটি কেবল “অনুমোদিত বাংলা পাঠ সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে” প্রকাশের কথা বলেছে। জাতির নামের বানানেও তফাত আছে, যা পরের অংশের ছকে দেখা যাবে।
ধারা 97(1)-এর তালিকায় এখন 21টি নাম: মূল আইনের 20টি, আর 1974 সালের সংশোধনীতে যোগ হওয়া বানাই। এর মধ্যে দুটি নামের সাথে এলাকা বেঁধে দেওয়া: কোচ কেবল ঢাকা বিভাগের, মগ কেবল বাকেরগঞ্জ জেলার। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো জাতি, এবং খাসি বা মণিপুরী তালিকায় নেই।
এই তালিকা আর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের 23 মার্চ 2019 তারিখের গেজেটে (এস.আর.ও. নং ৭৮-আইন/২০১৯) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, 2010-এর নতুন তফসিলের 50টি নাম দুটি আলাদা আইনের দুটি আলাদা কাজের তালিকা। একটি জমির সুরক্ষার জন্য, অন্যটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য। একটিতে নাম থাকলে অন্যটিতে আপনাআপনি সুরক্ষা আসে না। নিচের ছকে ধারা 97-এর প্রতিটি নামের পাশে 2019-এর তফসিলে হুবহু বা বানানভেদে একই নাম আছে কি না, দেখানো হলো।
| ধারা 97 (ইংরেজি) | 2022-এর বাংলা পাঠে | 2019-এর তফসিলে (ক্রমিক) |
|---|---|---|
| Sonthals | সাঁওতাল | সাঁওতাল (23) |
| Banais (1974-এ যুক্ত) | বানাই | বানাই (35) |
| Bhuiyas | ভূইয়া | একই নাম নেই (কাছাকাছি নাম: ভূঁইমালী, 40) |
| Bhumijes | ভুমিজ | ভুমিজ (39) |
| Dalus | ডালু | ডালু (10) |
| Garos | গারো | গারো (7) |
| Gonds | গোন্ড | একই নাম নেই |
| Hadis | হাদী | একই নাম নেই (কাছাকাছি নাম: হুদি, 47) |
| Hajangs | হাজং | হাজং (24) |
| Hos | হো | হো (48) |
| Kharias | খারিয়া | খারিয়া/খাড়িয়া (49) |
| Kharwars | খারওয়ার | খারওয়ার/খেড়োয়ার (50) |
| Kochs (Dhaka Division) | কোচ (ঢাকা বিভাগ) | কোচ (2), এলাকার শর্ত ছাড়া |
| Koras | কোরা | একই বানান নেই (কাছাকাছি নাম: কড়া, 27) |
| Maghs (Bakerganj District) | মগ (বাকেরগঞ্জ জেলা) | “মগ” নামে নেই; রাখাইন (21) আছে |
| Mal and Sauria Paharias | মাল ও সুরিয়া পাহাড়িয়া | পাহাড়ী/মালপাহাড়ী (18); “সুরিয়া” নামে নেই |
| Maches | মাচ | একই নাম নেই |
| Mundas | মান্ডা | মুন্ডা (19) |
| Mundais | মন্ডিয়া | একই নাম নেই |
| Oraons | ওড়াঁও | ওরাওঁ (1) |
| Turis | তোড়ি | তুরি (32) |
হিসাবটা দাঁড়ায় এরকম: 13টি নাম 2019-এর তফসিলে হুবহু বা বানানভেদে আছে (সাঁওতাল, বানাই, ভুমিজ, ডালু, গারো, হাজং, হো, খারিয়া, খারওয়ার, কোচ, মুন্ডা, ওরাওঁ, তুরি)। গোন্ড, মাচ ও মন্ডিয়া নামে কিছু নেই। ভূইয়া, হাদী, কোরা ও মাল-সুরিয়া পাহাড়িয়ার পাশে কাছাকাছি শোনায় এমন নাম আছে, কিন্তু দুটি নথির কোনোটিই বলে না যে এরা একই জনগোষ্ঠী; শুধু বানানের মিল দেখে তা ধরে নেওয়া যায় না।
“মগ (বাকেরগঞ্জ জেলা)” নিয়ে আমাদের আর্কাইভে একটি স্পষ্ট বক্তব্য আছে। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মেইনথিন প্রমীলা 2020 সালে লিখেছেন, 1950 সালের আইনে পটুয়াখালীর রাখাইনদের বাখেরগঞ্জের “মগ” নামে আদিবাসী হিসেবে স্বীকার করে ভূমি হস্তান্তরে তাদের স্বার্থ রক্ষায় ধারা 97 রাখা হয় (বরিশাল অঞ্চলের রাখাইন জাতিগোষ্ঠীর ভূমি অধিকার)। আইনের পাঠ নিজে “রাখাইন” শব্দটি ব্যবহার করে না।
চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় 2006 সালে আইএলও-র জন্য করা একটি পর্যালোচনায় এই তালিকার সীমার কথা লিখেছেন: সমতলের অল্প কয়েকটি আদিবাসী জাতি এই আইনে স্বীকৃত, ফলে যারা তালিকায় নেই তারা 1950-এর ভূমি আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারে (Roy 2006, ILO)।
তালিকায় নাম থাকলেই কেউ ধারা 97-এর সুরক্ষা পান না। উপধারা (1) অনুযায়ী সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে ঘোষণা করবে কোন জেলা বা স্থানীয় এলাকায় তালিকার কোন জাতির ক্ষেত্রে ধারাটি খাটবে; প্রজ্ঞাপনে নাম উঠলে সেই জাতি “এই ধারার উদ্দেশ্যে” আদিবাসী গণ্য হবে। উপধারা (10) একই পথে প্রয়োগ তুলে নেওয়ার ক্ষমতাও দেয়। ধারা 2(18) অনুযায়ী “notification” মানে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন।
এর মানে, কোনো নির্দিষ্ট গ্রামের কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের জমি ধারা 97-এর আওতায় কি না, তা জানতে তিনটি প্রশ্নের উত্তর লাগে: জাতিটি তালিকায় আছে কি না, সেই জেলা বা এলাকার জন্য প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে কি না, আর পরে উপধারা (10) অনুযায়ী কোনো প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন হয়েছে কি না। প্রজ্ঞাপনের প্রকাশকে আইন “conclusive evidence”, অর্থাৎ চূড়ান্ত প্রমাণ বলেছে; তাই প্রজ্ঞাপনটিই আসল দলিল।
কোন কোন জেলায় কবে এমন প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল, তার কোনো একত্রিত সরকারি তালিকা অনলাইনে পাওয়া যায়নি। বাংলাপিডিয়ার ইংরেজি ভুক্তিতে আবদুল কাইয়ুম লিখেছেন, 30 নভেম্বর 1955 তারিখের একটি গেজেট প্রজ্ঞাপনে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আইনের আওতার বাইরে রাখা হয় এবং সেই প্রজ্ঞাপনেই দেশের বিভিন্ন এলাকার আদিবাসীদের জমি হস্তান্তরে বিধিনিষেধের কথা ছিল (Banglapedia)। প্রজ্ঞাপনটির পাঠ বা তাতে কোন জেলা ও কোন জাতির নাম ছিল, তা জানা যায়নি।
রাজা দেবাশীষ রায় 2006 সালে লিখেছেন, আইনটির প্রয়োগ সমতলজুড়ে অসমান: বৃহত্তর ময়মনসিংহের যে অংশগুলো একসময় “partially excluded area” ছিল সেগুলো বাদে প্রায় সর্বত্র আইনটি কার্যকর না হওয়ার ব্যাপক অভিযোগ আছে। প্রয়োগের এই অসমতা প্রজ্ঞাপনের ভৌগোলিক বিস্তারের কারণে, নাকি প্রশাসনিক চর্চার কারণে, তিনি আলাদা করে বলেননি।
উপধারা (2) অনুযায়ী তালিকাভুক্ত ও প্রজ্ঞাপিত জাতির রায়ত তাঁর জোত বা জোতের অংশের অধিকার কোনো অনুমতি ছাড়াই হস্তান্তর করতে পারেন, যদি গ্রহীতা দুটি শর্ত পূরণ করেন: তিনি বাংলাদেশে বসবাসকারী বা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী আদিবাসী, এবং ধারা 90 অনুযায়ী তাঁর কাছে জমি হস্তান্তর করা যায়। এর বাইরে বৈধ পথ কেবল উপধারা (3)-এর অনুমতি।
এখানে “আদিবাসী” বলতে তালিকার যে-কোনো জাতি, নাকি একই প্রজ্ঞাপনের আওতায় থাকা জাতি, পাঠ তা আলাদা করে বলে না; উপধারা (1) শুধু বলে প্রজ্ঞাপিত জাতিগুলো “এই ধারার উদ্দেশ্যে” আদিবাসী গণ্য হবে। উপধারা (2)-এর বাক্য “another aboriginal” দিয়ে, কোনো নির্দিষ্ট জাতির নাম দিয়ে নয়।
ধারা 90-এর শর্ত দ্বিতীয় স্তরের বাধা। bdlaws-এ ছাপা ধারা 90(2) বলছে, রায়তের জোত বিক্রি, দান, উইল বা অন্য কোনো উপায়ে কেবল “bona fide cultivator”, অর্থাৎ প্রকৃত চাষির কাছে হস্তান্তর করা যায়, আর গ্রহীতার মোট জমি একটি সীমা ছাড়াতে পারবে না; একই পাতায় সেই সীমা 375 প্রমিত বিঘা লেখা। পরে ভূমি সংস্কার আইন, 2023-এর ধারা 4 কৃষিজমির মালিকানার সীমা 60 প্রমিত বিঘা বেঁধে দিয়েছে। দুই আইনের সীমা আদিবাসী রায়তের হস্তান্তরে একসাথে কীভাবে পড়তে হবে, তার সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ধারা 89 সব রায়তি হস্তান্তরের সাধারণ নিয়ম: নিবন্ধিত দলিল লাগবে, দলিলে মূল্য লিখতে হবে, আর নির্ধারিত ফরমে নোটিশ ও প্রসেস ফি দিতে হবে যাতে রাজস্ব কর্মকর্তা খবর পান। আদিবাসীর কাছে আদিবাসীর হস্তান্তরেও এই সাধারণ নিয়ম খাটে, কারণ ধারা 97 ধারা 89-কে বাদ দেয়নি।
আইনের পাঠ অনুযায়ী অ-আদিবাসীর কাছে জমি দেওয়ার একটিই পথ: আদিবাসী রায়ত রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে অনুমতির আবেদন করবেন, কর্মকর্তা ধারা 88 ও 90 বিবেচনা করে আদেশ দেবেন, আর দলিল রেজিস্ট্রির আগে দলিলের শর্ত ও হস্তান্তরে তাঁর লিখিত সম্মতি নিতে হবে। পথটি কেবল ব্যক্তিগত বিক্রি, দান ও উইলের জন্য।
উপধারা (3) ও (4) পড়ে ধাপগুলো এভাবে সাজানো যায়। প্রতিটি ধাপ আইনের শব্দ থেকে; এর বাইরের কোনো ধাপ, যেমন কোন ফরম, কত ফি, কত দিনে সিদ্ধান্ত, আইনে লেখা নেই।
আইনের পাঠে যা নেই, সেটিও জানা দরকার। অনুমতি কোন বিবেচনায় দেওয়া বা না-দেওয়া হবে, যেমন বিক্রেতার আর্থিক প্রয়োজন, ন্যায্য দাম, বা বিক্রির পর পরিবারের হাতে কতটা জমি থাকবে, তার কোনো মানদণ্ড ধারা 97 দেয় না। সম্প্রদায় বা গ্রামের মতামত নেওয়ার কোনো বিধান নেই। অনুমতি প্রত্যাখ্যাত হলে আপিলের কথা ধারা 97-এর ভেতরে নেই। আইনের অন্য অধ্যায়ে আপিল ও রিভিশনের সাধারণ বিধান এই আদেশে খাটে কি না, তা নিয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা বা আদালতের রায় পাওয়া যায়নি।
তুলনার জন্য, বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের যে অধ্যায় থেকে ধারাটি এসেছে বলে মনে হয়, তার প্রকাশিত পাঠে অনুরূপ আদেশের বিরুদ্ধে কালেক্টর ও কমিশনারের কাছে আপিলের স্পষ্ট বিধান ছিল। সেই তুলনা ইতিহাসের অংশে।
আইন নিজে কোনো পদের নাম বলে না। ধারা 2(24)-এ “Revenue-officer” মানে এমন যে-কোনো কর্মকর্তা, যাঁকে সরকার এই আইন বা এর বিধির অধীনে রাজস্ব কর্মকর্তার সব বা কোনো কাজ করতে নিয়োগ দেয়। ধারা 97-এর অনুমতির কাজটি কোন পদের কাছে ন্যস্ত, সেই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন পাওয়া যায়নি; বিভিন্ন উৎস বিভিন্ন পদের নাম বলে।
উৎসগুলো পাশাপাশি রাখলে ছবিটা এরকম:
বাংলাপিডিয়ার ইংরেজি ভুক্তি সাধারণভাবে জানায়, জমিদারি উঠে যাওয়ার পর রাজস্ব প্রশাসনের শীর্ষে ভূমি প্রশাসন বোর্ড আর নিচের স্তরের রাজস্ব কর্মকর্তাদের এখন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলা হয়; জেলায় জেলা প্রশাসককে সহায়তা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)। এটি পুরো আইনের প্রশাসনিক কাঠামোর বর্ণনা, ধারা 97-এর অনুমতির দায়িত্ব কার, সে প্রশ্নের উত্তর নয়।
রাজা দেবাশীষ রায়ের পর্যালোচনায় একটি স্থানীয় চর্চার কথা আছে, যা আইনে লেখা নয়। ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসন আর ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে একটি বোঝাপড়া আছে: মান্দি (গারো) ও অন্য আদিবাসীদের জমি হস্তান্তরের আগে জেলা কর্তৃপক্ষ সংগঠনটির সাথে পরামর্শ করে। তথ্যের উৎস হিসেবে তিনি 1993 থেকে 2006 সালের মধ্যে সংগঠনের সভাপতি, একজন মান্দি নেতা ও সংসদ সদস্যের সাথে একাধিক সাক্ষাৎকারের কথা লিখেছেন। দিনাজপুরে অতীতে অ্যাবোরিজিনাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাথে এমন পরামর্শ হতো, কিন্তু সংগঠনটি আর সক্রিয় নয় বলে তিনি লিখেছেন।
উপধারা (5) আদিবাসী রায়তের বন্ধক দেওয়ার ক্ষমতা এক ধরনেই সীমিত করেছে: সম্পূর্ণ খাই-খালাসি বন্ধক (complete usufructuary mortgage)। আইনের ধারা 2(6) এর সংজ্ঞা দিয়েছে: টাকা বা ধান ধার নেওয়ার জামানত হিসেবে জমির দখলের অধিকার হস্তান্তর, এই শর্তে যে বন্ধকের মেয়াদে জমি থেকে আসা মুনাফায় সুদসহ পুরো ঋণ শোধ হয়ে গেছে বলে গণ্য হবে। উপধারা (6) সেই বন্ধকের মেয়াদ সাত বছরে বেঁধে দিয়েছে এবং নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে।
সাত বছরের সীমাটি কঠোরভাবে লেখা: মেয়াদ “does not and cannot, in any possible event, by any agreement express or implied, exceed seven years”, অর্থাৎ কোনো ব্যক্ত বা অব্যক্ত চুক্তিতেই কোনো অবস্থায় সাত বছর পেরোবে না। বন্ধক-গ্রহীতা হবেন বাংলাদেশে বসবাসকারী অন্য আদিবাসী, যাঁর সাথে ধারা 95(1) অনুযায়ী খাই-খালাসি বন্ধক করা যায় (এখানে বাংলা অনুবাদের অস্পষ্টতা পূর্ণ পাঠের অংশে দেখানো হয়েছে)। নিবন্ধন হবে নিবন্ধন আইন, 1908 অনুযায়ী।
উপধারা (5)-এর শর্তাংশ একটি ব্যতিক্রম রেখেছে: কৃষির উদ্দেশ্যে ঋণ নিতে সরকার, কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বা সমবায় সমিতির কাছে বন্ধক দিলে এই সীমা খাটে না। আইনের পাঠে এখনো “Agricultural Development Bank of Pakistan” নামটি রয়ে গেছে; 1972 সালের অভিযোজন আদেশে কেবল কর্পোরেশনের আগের “East Pakistan” শব্দ দুটি বাদ গেছে।
বন্ধকি জমি কীভাবে বেহাত হয়, তার একটি বর্ণনা দিনাজপুরের সমীক্ষায় আছে: চতুর অ-আদিবাসী মহাজন জমির বিপরীতে উচ্চ সুদে ঋণ দেন, কয়েক বছর পর আদিবাসী মালিককে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করেন। সমকালের 12 ডিসেম্বর 2018-এর প্রতিবেদনেও লেখা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে আদিবাসীরা বন্ধকি জমি বিক্রি করতে বাধ্য হন। এসব ঘটনায় ধারা 97(5) ও (6) কতটা মানা হয়েছিল, প্রতিবেদন দুটি তা আলাদা করে বলেনি।
উপধারা (7) অনুযায়ী ধারা 97 লঙ্ঘন করে আদিবাসী রায়তের করা যে-কোনো হস্তান্তর বাতিল। উপধারা (8) রাজস্ব কর্মকর্তাকে প্রতিকারের ক্ষমতা দিয়েছে: তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে বা কারও আবেদনে, লিখিত আদেশে হস্তান্তর-গ্রহীতাকে জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারেন, তবে তার আগে গ্রহীতাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে।
উচ্ছেদের পর জমি কোথায় যাবে, উপধারা (8)(b) তা দুই ভাগে বলেছে। প্রথমত, জমি ফেরত যাবে হস্তান্তরকারী আদিবাসী, তাঁর উত্তরাধিকারী বা আইনসঙ্গত প্রতিনিধির কাছে। দ্বিতীয়ত, তাঁদের কাউকে পাওয়া না গেলে জমি সরকারে ন্যস্ত বলে ঘোষণা হবে, আর রাজস্ব কর্মকর্তা সেটি অন্য কোনো আদিবাসীকে বন্দোবস্ত দিতে পারবেন। জমি অ-আদিবাসীর হাতে থেকে যাওয়ার কোনো পথ পাঠে রাখা হয়নি।
দুটি বিষয় লক্ষ করার মতো। এক, উচ্ছেদের জন্য কোনো সময়সীমা ধারা 97-এ নেই; কত বছর আগের হস্তান্তর আর চ্যালেঞ্জ করা যাবে না, পাঠ তা বলে না। বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের প্রকাশিত পাঠে অনুরূপ বিধানে বারো বছরের টানা দখলের একটি সীমা ছিল (ইতিহাসের অংশ)। দুই, ক্রেতা যে দাম দিয়েছিলেন তা ফেরত পাবেন কি না, পাঠে তার কিছু নেই।
বাস্তবে এই প্রতিকার কতবার ব্যবহার হয়েছে, কোন জেলায় কতগুলো উচ্ছেদ-আদেশ হয়েছে, তার কোনো প্রকাশিত পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ধারা 97-এর অধীন উচ্চ আদালতের কোনো প্রকাশিত রায়ও পাওয়া যায়নি।
সাধারণভাবে না। উপধারা (9) বলছে, অন্য যে-কোনো আইনে যা-ই থাকুক, কোনো আদালত আদিবাসী রায়তের জোত বা তার অংশ বিক্রির ডিক্রি বা আদেশ দেবে না, এবং কোনো ডিক্রি বা আদেশ জারির জন্যও তা বিক্রি হবে না। অর্থাৎ সাধারণ দেনার মামলায় পাওনাদার আদিবাসীর জমি নিলামে তুলতে পারেন না।
ব্যতিক্রম দুটি, দুটিই সার্টিফিকেটের মাধ্যমে এবং এই আইনের বিধান অনুযায়ী: জোতের বকেয়া খাজনা আদায়, আর জোত জামানত রেখে সরকার, কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বা সমবায় সমিতির দেওয়া কৃষিঋণ আদায়। তালিকাটি নাম ধরে দেওয়া, তাই এনজিও বা বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ এই ব্যতিক্রমে পড়ে না বলেই পাঠ থেকে পড়া যায়; এ নিয়ে আদালতের কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
“Notwithstanding anything contained in any other law” কথাটির কারণে এই নিষেধ অন্য আইনের চেয়ে অগ্রাধিকার পায় বলে পাঠ থেকে বোঝা যায়। আদালত এই উপধারা কীভাবে প্রয়োগ করেছে, তার কোনো প্রকাশিত রায় পাওয়া যায়নি।
ধারা 97-এর কাঠামো ও জাতির তালিকা বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, 1885-এর “Restrictions on Alienation of Land by Aboriginals” শিরোনামের অধ্যায় 7-ক (ধারা 49A থেকে 49-O)-এর সাথে প্রায় মিলে যায়। দুই তালিকায় একই ক্রমে একই নামগুলো, বাকেরগঞ্জের মগ আর ঢাকা বিভাগের কোচসহ। 1950-এর আইন অধ্যায়টির মূল কাঠামো রেখে কয়েকটি অংশ বাদ দিয়েছে।
অধ্যায় 7-ক-এর যে পাঠ অনলাইনে পাওয়া যায়, সেটি The Lawyers & Jurists-এর প্রকাশিত অনুলিপি। তাতে “State Government” শব্দ আছে, যা ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী অভিযোজিত রূপের লক্ষণ। 1951-এর আগে পূর্ববঙ্গে অধ্যায়টির ঠিক কোন পাঠ বলবৎ ছিল, আর কোন আইনে কবে অধ্যায়টি যোগ হয়েছিল, তা মেলানো যায়নি। অনুলিপির পাঠে অধ্যায়টি প্রথমে কেবল বীরভূম, বাঁকুড়া ও মেদিনীপুরের সাঁওতালদের জন্য, আর সেই সাঁওতালদের আগের হস্তান্তর রক্ষার তারিখ হিসেবে 1 নভেম্বর 1916 লেখা।
রাজা দেবাশীষ রায় তাঁর 2006 সালের পর্যালোচনার একটি পাদটীকায় Timm (1991)-এর বরাতে লিখেছেন, 1950-এর আইনের ভিত্তি বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, যার শিকড় ছোটনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন, 1908 ও আরও পুরনো আইনে। বাংলাপিডিয়া জানায়, 1938 সালে স্যার ফ্রান্সিস ফ্লাউডের সভাপতিত্বে কমিশন গঠিত হয়, 10 এপ্রিল 1947 অবিভক্ত বাংলায় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব বিল উঠেছিল কিন্তু দেশভাগে আটকে যায়, পূর্ববঙ্গের বিল প্রকাশিত হয় 31 মার্চ 1948, আর আইনটি সম্মতি পায় 16 মে 1951।
| বিষয় | বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, অধ্যায় 7-ক (প্রকাশিত অনুলিপি) | রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ধারা 97 |
|---|---|---|
| কারা আদিবাসী | প্রথমে বীরভূম, বাঁকুড়া, মেদিনীপুরের সাঁওতাল; প্রজ্ঞাপনে অন্য জেলার সাঁওতালসহ 20টি নাম (49A) | প্রজ্ঞাপনে তালিকার নাম; সাঁওতাল সাধারণভাবে; 1974-এ বানাই যুক্ত |
| কার হস্তান্তর আটকায় | টেনিউর-হোল্ডার, রায়ত ও আন্ডার-রায়ত; বিক্রি, দান, উইল, বন্ধক, ইজারা, চুক্তি (49B) | কেবল রায়ত; জোত বা জোতের অংশের অধিকার |
| আদিবাসীর মধ্যে লেনদেন | অন্য আদিবাসীকে ইজারা ও বর্গা-উপভাড়া দেওয়ার আলাদা বিধান (49C, 49D) | বাংলাদেশে বসবাসকারী আদিবাসীর কাছে হস্তান্তর বৈধ, ধারা 90-এর শর্তে |
| খাই-খালাসি বন্ধক | অন্য আদিবাসীর সাথে, সাত বছর বা নিজের অধিকারের মেয়াদ, যেটি কম (49E) | অন্য আদিবাসীর সাথে, সাত বছর; কৃষিঋণে সরকার-ব্যাংক-সমবায় ব্যতিক্রম |
| অনুমতি দেন | কালেক্টর (49F) | রাজস্ব কর্মকর্তা |
| অনুমতির ক্ষেত্র | আদিবাসীর কাছে ইজারা-বন্ধক না পেলে অ-আদিবাসীকে; আর যে-কোনো ব্যক্তিকে বিক্রি, দান বা উইল (49F) | অ-আদিবাসীকে বিক্রি, দান বা উইল |
| আদালতের স্বীকৃতি | লঙ্ঘনকারী হস্তান্তর কোনো আদালত নিবন্ধন বা স্বীকার করবে না (49G) | লঙ্ঘনকারী হস্তান্তর বাতিল (97(7)) |
| উচ্ছেদের সময়সীমা | গ্রহীতা বারো বছর টানা দখলে থাকলে উচ্ছেদ নয় (49H) | কোনো সময়সীমা লেখা নেই |
| ফেরত না গেলে জমি কোথায় | বন্দোবস্তের অধিকার জমিদারের, শর্তসাপেক্ষে (49H, 49J) | সরকারে ন্যস্ত; অন্য আদিবাসীকে বন্দোবস্ত |
| আপিল | জেলার কালেক্টর ও কমিশনারের কাছে আপিল-রিভিশন (49M); দেওয়ানি মামলা কেবল প্রতারণা বা এখতিয়ারের প্রশ্নে (49N) | ধারার ভেতরে কিছু নেই |
ছক থেকে দুটি পরিবর্তন সবচেয়ে চোখে পড়ে। জমিদারি উঠে যাওয়ায় বেহাত জমির শেষ গন্তব্য জমিদারের বদলে সরকার। আর পুরনো অধ্যায়ের বারো বছরের সীমা ও আপিলের বিধান নতুন ধারায় আসেনি। কেন বাদ গেল, 1948–1951 সালের আইনসভার বিতর্কে তার ব্যাখ্যা থাকতে পারে, কিন্তু সেই কার্যবিবরণী অনলাইনে পাওয়া যায়নি।
bdlaws-এর বর্তমান পাতা অনুযায়ী ধারা 97-এর ভেতরে কেবল দুটি সংশোধনের দাগ: 1972 সালের অভিযোজন আদেশে উপধারা (5) ও (9)-এর শর্তাংশ থেকে “East Pakistan” শব্দ দুটি বাদ, আর 1974 সালে তালিকায় “Banais” যুক্ত। 2023 সালের সংশোধনী আইন ধারা 97-এ কোনো দাগ রাখেনি। 2022 সালে সরকার ধারাটিসহ পুরো আইনের বাংলা পাঠ অনুমোদন করেছে।
| তারিখ | ঘটনা | ধারা 97-এ প্রভাব | উৎস |
|---|---|---|---|
| 16 মে 1951 | East Bengal Act No. XXVIII of 1951 সম্মতি পায় | 20টি নামসহ ধারা 97 আইনে আসে | bdlaws; বাংলাপিডিয়া |
| 30 নভেম্বর 1955 | গেজেট প্রজ্ঞাপন; পার্বত্য চট্টগ্রাম আইনের আওতার বাইরে | বাংলাপিডিয়ার ইংরেজি ভুক্তি অনুযায়ী এই প্রজ্ঞাপনে আদিবাসীদের জমি হস্তান্তরের বিধিনিষেধও ছিল; প্রজ্ঞাপনের পাঠ পাওয়া যায়নি | বাংলাপিডিয়া (আবদুল কাইয়ুম) |
| 1972 | বাংলাদেশ (বিদ্যমান আইনের অভিযোজন) আদেশ, রাষ্ট্রপতির আদেশ নং 48 | পুরো আইনে “East Pakistan”-এর জায়গায় “Bangladesh” (অনুচ্ছেদ 5), “Provincial Government”-এর জায়গায় “Government” (অনুচ্ছেদ 8); ধারা 97(5) ও (9)-এর শর্তাংশে কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের আগে “East Pakistan” বাদ (অনুচ্ছেদ 6) | বাংলাদেশ কোড; bdlaws পাদটীকা |
| 1974 | রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব (সংশোধন) আইন, 1974-এর ধারা 3 | তালিকায় “Banais,” যুক্ত। bdlaws-এর ইংরেজি পাদটীকায় আইনটি “Act No. LXI of 1974”, 2022-এর বাংলা গেজেটের পাদটীকায় “১৯৭৪ সনের ৫৬ নং আইন” | bdlaws; বাংলা গেজেট 2022 |
| 22 ডিসেম্বর 2022 (প্রকাশ 31 ডিসেম্বর 2022) | ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন, এস.আর.ও. নং ৩৭৮-আইন/২০২২ | আইনের “অনুমোদিত বাংলা পাঠ” প্রকাশ; ধারা 97-এর বাংলা শিরোনাম “আদিবাসী বা উপজাতীয়দের দ্বারা ভূমি হস্তান্তরে বিধি-নিষেধ” | বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা |
| 11 জুলাই 2023 | State Acquisition and Tenancy (Amendment) Act, 2023 (2023 সালের 24 নং আইন) গেজেটে প্রকাশ | ধারা 97-এর পাতায় এর কোনো পাদটীকা নেই | লেজিসলেটিভ বিভাগের 2023 সালের আইনের তালিকা; bdlaws |
| 18 সেপ্টেম্বর 2023 | ভূমি সংস্কার আইন, 2023 (2023 সালের 37 নং আইন) গেজেটে প্রকাশ | ধারা 97 সংশোধন করেনি; তবে ধারা 4-এ কৃষিজমির সীমা 60 প্রমিত বিঘা, যা ধারা 90-এর শর্তের পাশে পড়ে | bdlaws; লেজিসলেটিভ বিভাগ |
| 16 অক্টোবর 2026 | bdlaws-এ ধারা 97-এর পাতা | পাঠ 2022 ও 2025 সালের সংরক্ষিত পাতার সাথে হুবহু এক | bdlaws; Internet Archive |
1974 সালের সংশোধনী আইনের নম্বর নিয়ে দুই সরকারি পাঠে অমিল: bdlaws-এর ইংরেজি পাতা বলছে 61 নং (LXI), 2022-এর বাংলা গেজেট বলছে 56 নং। সংশোধনী আইনটির নিজস্ব পাঠ বা তারিখ অনলাইনে পাওয়া যায়নি।
রাজা দেবাশীষ রায় একটি সাংবিধানিক দিকও উল্লেখ করেছেন: 1950-এর আইনটি সংবিধানের প্রথম তফসিলের প্রথম নামেই সুরক্ষিত। সংবিধানের অনুচ্ছেদ 47(2) বলে, প্রথম তফসিলের আইনগুলো সংশোধনীসহ পূর্ণভাবে বলবৎ থাকবে, এবং সংবিধানের কোনো বিধানের সাথে অসমঞ্জস বলে বাতিল বা বেআইনি গণ্য হবে না। দেবাশীষ রায়ের ভাষায়, ফলে আইনটির সাংবিধানিকতা মৌলিক অধিকারের ধারার ভিত্তিতে আদালতে প্রশ্ন করা যায় না, যেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামের তুলনীয় বিশেষ আইনগুলো উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জমিতে ধারা 97 প্রযোজ্য নয়, কারণ পুরো রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনই সেখানে চলে না। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী 30 নভেম্বর 1955 তারিখের গেজেট প্রজ্ঞাপনে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়; সেখানে ভূমি চলে 1900 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ও পরবর্তী আইনে।
আইনের ধারা 1(2) আবার বলছে, এটি “extends to the whole of Bangladesh”। বাংলাপিডিয়ার ইংরেজি ও বাংলা ভুক্তি এখানে একটু ভিন্নভাবে বলে: ইংরেজি ভুক্তি লেখে আইনটি প্রজ্ঞাপন দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে রাখা হয়েছে, বাংলা ভুক্তি লেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি-ব্যবস্থা 1900 সালের প্রবিধান, পরবর্তী আইন ও 30 নভেম্বর 1955-এর প্রজ্ঞাপন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
পাহাড়ে জমি হস্তান্তরের নিজস্ব নিয়ম, পার্বত্য জেলা পরিষদের অনুমোদন, হেডম্যানের ভূমিকা আর ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন, এসব আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি-আইন নিয়ে বিস্তারিত লেখায় আছে। পাহাড়ের আর সমতলের ব্যবস্থা পাশাপাশি দেখতে চাইলে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব থেকে শুরু করা যায়।
যতগুলো গবেষণা ও প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, সবই বলে ধারা 97 সমতলের আদিবাসীদের জমি হারানো ঠেকাতে পারেনি; তবে কারণ হিসেবে কেউ বলেন আইনের প্রয়োগ না হওয়া, কেউ বলেন অনুমতি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার, কেউ বলেন জাল দলিল ও জবরদখল, যা ধারাটির আওতাতেই পড়ে না। নিচে প্রতিটি দাবি তার উৎসের নামে আলাদা করে রাখা হলো।
জমি হারানোর পরিমাণ। ডেইলি স্টারের 4 আগস্ট 2013-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী এএলআরডি ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের একটি গবেষণা, যা অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত উপস্থাপন করেন, বলেছিল সমতলের আদিবাসীরা প্রায় তিন দশকে প্রায় 6 লাখ 7 হাজার বিঘা জমি হারিয়েছেন, যার তখনকার মূল্য 9,043 কোটি টাকা। সমকালের 2018 সালের প্রতিবেদন বারকাতের আরেক গবেষণার বরাতে লিখেছে, সমতলের 10টি জনগোষ্ঠী কয়েক দশকে 6 থেকে সাড়ে 6 লাখ বিঘা হারিয়েছে, 2014 সালের হিসাবে যার মূল্য 10 হাজার কোটি টাকার বেশি; এর মধ্যে সাঁওতালদের তিন প্রজন্মে তিন লাখ বিঘা।
ভূমিহীনতা। একই সমকাল প্রতিবেদন বারকাতের একটি গবেষণাপত্রের বরাতে লিখেছে, সমতলের সাঁওতালদের 72 শতাংশ, পাত্র ও পাহান খানার 90 শতাংশ, আর গারো, হাজং, ডালু ও রাখাইনদের 66 শতাংশের বেশি ভূমিহীন। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের দাবি হিসেবে প্রতিবেদনটি লিখেছে, একসময় যথেষ্ট জমি থাকলেও এখন এই আদিবাসীদের 85 শতাংশ ভূমিহীন।
প্রয়োগের ভূগোল। রাজা দেবাশীষ রায়ের 2006 সালের আইএলও পর্যালোচনা বলছে, বৃহত্তর ময়মনসিংহের সাবেক partially excluded এলাকা বাদে আইনটি কার্যকর না হওয়ার ব্যাপক অভিযোগ আছে। ব্রিটিশ আমলে এবং সম্ভবত পাকিস্তান আমলের শুরুতেও ময়মনসিংহ এবং পটুয়াখালী-বরগুনায় আদিবাসীদের কল্যাণ দেখার জন্য “Welfare Officer” পদ ছিল, এখন নেই; দিনাজপুরে পদটি আছে, কিন্তু স্থানীয় আদিবাসীদের কল্যাণের সাথে এর প্রায় কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি লিখেছেন।
অনুমতির অপব্যবহার। দিনাজপুরের চারটি উপজেলায় মাঠ-গবেষণার ভিত্তিতে নাগরিক উদ্যোগের সমীক্ষা লিখেছে, আদিবাসীদের জমি বিক্রিতে স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার নির্দেশনা আছে, কিন্তু প্রায় 40 শতাংশ জমি ন্যায্য কারণ ছাড়াই বিক্রি হয়েছে এবং অনুমতিগুলোর সম্ভবত মাত্র 60 শতাংশ খাঁটি। সংখ্যাগুলো কীভাবে গোনা হয়েছে, সমীক্ষা তা ব্যাখ্যা করেনি; এগুলো অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বলে পাঠ থেকে মনে হয়।
জাল দলিল ও দখল। সমকালের 2018 সালের প্রতিবেদন লিখেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা জাল দলিল করে, মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে এবং ভূমি অফিসের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় জমি দখল করছে। টাঙ্গাইলের সখিপুরের এক সংগঠক প্রতিবেদককে উদাহরণ দেন: পাঁচ শতাংশ জমি বিক্রির দলিলে ক্রেতা পাঁচের পাশে আরেকটি পাঁচ বসিয়ে 55 শতাংশ লিখিয়ে নেন। দিনাজপুরের সমীক্ষাও জাল দলিলকে জমি হারানোর অন্যতম প্রধান কারণ বলেছে।
আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ। আমাদের আর্কাইভে মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা 2017 সালে লিখেছেন, ধারা 97 লঙ্ঘন করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদিবাসীদের জমি অ-আদিবাসীদের কাছে হস্তান্তরিত হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। লেখাটি নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার নাম দেয়নি।
রাজা দেবাশীষ রায় এর পরও ধারাটিকে একেবারে অকেজো বলেননি। তাঁর মূল্যায়নে আইনটি “somewhat paternalistic”, আর জাল দলিল বা সহিংস দখল, যেখানে আইনি হস্তান্তরই হয়নি, সেগুলো মোকাবিলায় সীমিত; কিন্তু সক্রিয়ভাবে প্রয়োগ করা হলে এটি সমতলের আদিবাসীদের জমি হারানো অনেকটা কমাতে পারে। বেদখল জমি পুনরুদ্ধারের বিধান, কিংবা দ্রুত প্রতিকারের জন্য আলাদা একটি সংস্থা, এমন সংস্কারে পরিস্থিতি অনেকটা বদলাতে পারে বলে তিনি লিখেছেন।
ধারা 97 একটি হস্তান্তর-নিয়ন্ত্রণের বিধান, ভূমি-অধিকারের স্বীকৃতি নয়। এটি কেবল তালিকাভুক্ত ও প্রজ্ঞাপিত জাতির রায়তের নথিভুক্ত জোতের হস্তান্তর ঠেকায়। প্রথাগত বা সমষ্টিগত মালিকানা, দলিলহীন দীর্ঘ দখল, জাল দলিলে বা জোর করে দখল, আর সরকারি অধিগ্রহণ বা বনভূমি ঘোষণা, এসব ধারাটির আওতার বাইরে।
এই সীমা নিয়ে উৎসগুলোর বক্তব্য প্রায় একই। ইন্টারন্যাশনাল আইডিইএ-র 2026 সালের নীতিপত্রে Toni Chiran লিখেছেন, ধারা 97 নির্দিষ্ট কিছু হস্তান্তরের বিরুদ্ধে একটি সীমিত সুরক্ষা দেয়, কিন্তু প্রথাগত, সমষ্টিগত বা পরস্পর-জড়ানো ভূমিস্বত্বের স্বীকৃতি দেয় না, এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি কমিশনের মতো কোনো প্রতিষ্ঠানও তৈরি করে না। ফলে যাঁরা দীর্ঘ দখল বা সমষ্টিগত ব্যবহারের ওপর নির্ভর করেন, তাঁরা নিবন্ধন, অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়ায় নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে না-ও পারেন।
সমকালে 2021 সালের একটি মতামত-লেখায় জান্নাত এ ফেরদৌসী লিখেছেন, 1950 সালের আইনে অ-আদিবাসীর কাছে হস্তান্তরে রেভিনিউ অফিসারের পূর্বানুমোদনের বিধান আছে, কিন্তু আদিবাসীদের “সমষ্টিগত মালিকানা” সংবিধানের অনুচ্ছেদ 13-এর মালিকানার নীতিতে আনা জরুরি। সমকালের 2018-এর প্রতিবেদনে মধুপুরের উদাহরণও আছে: 2016 সালে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় 9,145 একর জমি সংরক্ষিত বন ঘোষণার গেজেট প্রকাশ করায় 13টি গ্রামের গারো ও কোচ পরিবার উচ্ছেদের আশঙ্কায় পড়ে। এ ধরনের রাষ্ট্রীয় ঘোষণা কোনো “হস্তান্তর” নয়, তাই ধারা 97-এর বিষয়ও নয়।
তালিকার বাইরের জাতিগুলোর কথা আগেই বলা হয়েছে। এর সাথে যোগ হয় এলাকার শর্ত: কোচ কেবল ঢাকা বিভাগে, মগ কেবল বাকেরগঞ্জে। পাঠ অনুযায়ী অন্য এলাকার কোচ পরিবার এই তালিকার ভিত্তিতে সুরক্ষা পান না। ভিন্ন দেশগুলো আদিবাসী ভূমি কীভাবে স্বীকার করে, তার তুলনা আমাদের ছয় দেশের ভূমি-অধিকার ব্যবস্থার ছকে আছে; আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আছে জাতিসংঘ আদিবাসী ঘোষণাপত্রের লেখা।
রাজা দেবাশীষ রায় ধারা 97-কে আইএলও কনভেনশন 107-এর অনুচ্ছেদ 13(2)-এর সাথে মিলিয়ে দেখেছেন, যেখানে বলা আছে প্রথা না জানা বা আইন না বোঝার সুযোগ নিয়ে বাইরের লোক যেন আদিবাসীর জমির মালিকানা বা ব্যবহার না নিতে পারে, তার ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁর হিসাবে বাংলাদেশ কনভেনশন 107 অনুসমর্থন করে 22 জুন 1972, আর ধারা 97 সেই কনভেনশনের চেয়েও পুরনো।
2026 সালেও সমতলের আদিবাসী সংগঠনগুলোর প্রধান দাবির একটি ধারা 97-এর কার্যকর প্রয়োগ। 6 আগস্ট 2026 ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে 17টি সংগঠনের যৌথ জাতীয় সেমিনারে বক্তারা ধারাটি বাস্তবায়ন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর স্বপ্রণোদিত পদক্ষেপ, এবং ভূমি কমিশনকে সক্রিয় করার দাবি জানান।
বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী সেমিনারের শিরোনাম ছিল “আদিবাসী জনগণ: জীবন, ভূমি অধিকার ও সংস্কৃতির সম্মান”; আয়োজকদের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম। মূল প্রবন্ধে মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সক্রিয় করা এবং আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় পর্যটন উন্নয়নে নীতিমালার সুপারিশ করেন। সংসদ সদস্য আন্না মিনজ ও অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা বিশেষ অতিথি ছিলেন।
দাবিটি নতুন নয়। আমাদের আর্কাইভে মেইনথিন প্রমীলার 2020 সালের লেখায় রাখাইনদের জন্য সুপারিশের তালিকার এগারো নম্বরে আছে 1950 সালের আইনের ধারা 97 “পরিপূর্ণ ভাবে প্রয়োগ” করা, আর বারো নম্বরে সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশনের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন। সমকালের 2018 সালের প্রতিবেদনেও বিশেষজ্ঞদের বরাতে পৃথক ভূমি কমিশনের দাবি আছে।
এই দাবির জবাবে সরকার ধারা 97 নিয়ে কোনো নতুন নির্দেশনা, পরিপত্র বা সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে কি না, 2026 সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, 1950-এর ধারা 97 সমতলের তালিকাভুক্ত আদিবাসী জাতির রায়তের জমি হস্তান্তর নিয়ন্ত্রণ করে। এর মূল কথা: বাংলাদেশে বসবাসকারী অন্য আদিবাসীর কাছে জমি দেওয়া যায়, অ-আদিবাসীর কাছে বিক্রি, দান বা উইল করতে রাজস্ব কর্মকর্তার অনুমতি লাগে, আর নিয়ম ভেঙে করা হস্তান্তর বাতিল (ধারা 97(2), (3), (7))।
ধারা 97(1)-এ 21টি নাম: সাঁওতাল, বানাই, ভূইয়া, ভুমিজ, ডালু, গারো, গোন্ড, হাদী, হাজং, হো, খারিয়া, খারওয়ার, কোচ (ঢাকা বিভাগ), কোরা, মগ (বাকেরগঞ্জ জেলা), মাল ও সুরিয়া পাহাড়িয়া, মাচ, মান্ডা, মন্ডিয়া, ওড়াঁও ও তোড়ি (2022-এর সরকারি বাংলা পাঠের বানান)। বানাই যুক্ত হয় 1974 সালের সংশোধনীতে।
পাঠ অনুযায়ী না। ধারা 97(1) বলছে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে ঘোষণা করবে কোন জেলা বা এলাকায় তালিকার কোন জাতির ক্ষেত্রে ধারাটি খাটবে, আর সেই প্রজ্ঞাপনই চূড়ান্ত প্রমাণ। ধারা 97(10) অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন দিয়ে প্রয়োগ তুলেও নেওয়া যায়। কোন জেলায় কবে প্রজ্ঞাপন হয়েছে, তার একত্রিত তালিকা প্রকাশিত নেই।
পারেন, তবে কেবল আইনের পথে। ধারা 97(3) অনুযায়ী আদিবাসী রায়ত ব্যক্তিগত বিক্রি, দান বা উইলের জন্য রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে অনুমতির আবেদন করবেন; কর্মকর্তা ধারা 88 ও 90 বিবেচনায় আদেশ দেবেন। ধারা 97(4) অনুযায়ী দলিল নিবন্ধিত হবে, আর রেজিস্ট্রির আগে দলিলের শর্ত ও হস্তান্তরে কর্মকর্তার লিখিত সম্মতি লাগবে।
আইন বলে “রাজস্ব কর্মকর্তা”; ধারা 2(24) অনুযায়ী তিনি সরকারের নিয়োগ দেওয়া যে-কোনো কর্মকর্তা হতে পারেন। কোন পদ, তা আইনে লেখা নেই। দিনাজপুরের একটি সমীক্ষা ইউএনও ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর কথা বলে, 2026-এর সেমিনারের বক্তারা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর, আর বিশ্বব্যাংকের একটি খসড়া নথি “District Officer”-এর।
ধারা 97(7) অনুযায়ী এমন হস্তান্তর বাতিল। ধারা 97(8) অনুযায়ী রাজস্ব কর্মকর্তা নিজে বা আবেদনের ভিত্তিতে, ক্রেতাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে, লিখিত আদেশে উচ্ছেদ করতে পারেন। জমি ফেরত যাবে বিক্রেতা আদিবাসী বা তাঁর উত্তরাধিকারীর কাছে; তাঁদের না পাওয়া গেলে জমি সরকারে ন্যস্ত হবে এবং অন্য আদিবাসীকে বন্দোবস্ত দেওয়া যাবে।
ধারা 97(5) অনুযায়ী কেবল সম্পূর্ণ খাই-খালাসি বন্ধক, যেখানে মেয়াদকালে জমির মুনাফায় সুদসহ ঋণ শোধ গণ্য হয় (ধারা 2(6))। ধারা 97(6) অনুযায়ী বন্ধক অন্য আদিবাসীর সাথে, সর্বোচ্চ সাত বছরের জন্য, এবং নিবন্ধন আইন, 1908 অনুযায়ী নিবন্ধিত। কৃষিঋণের জন্য সরকার, কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা সমবায়ের কাছে বন্ধক এই সীমার বাইরে।
সাধারণত না। ধারা 97(9) বলছে, অন্য আইনে যা-ই থাকুক, কোনো আদালত আদিবাসী রায়তের জোত বিক্রির ডিক্রি বা আদেশ দেবে না। ব্যতিক্রম কেবল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে জোতের বকেয়া খাজনা আদায়, আর জোত জামানত রেখে সরকার, কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বা সমবায় সমিতির দেওয়া কৃষিঋণ আদায়।
না। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী 30 নভেম্বর 1955 তারিখের গেজেট প্রজ্ঞাপনে পার্বত্য চট্টগ্রামকে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়; সেখানকার ভূমি চলে 1900 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ও পরবর্তী আইনে। তালিকার 21টি নামের মধ্যেও চাকমা, মারমা বা ত্রিপুরাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো জাতির নাম নেই।
ধারা 97-এর ভেতরে শেষ পরিবর্তন 1974 সালের সংশোধনী আইনে তালিকায় বানাই যুক্ত হওয়া। এর আগে 1972 সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং 48 “East Pakistan” শব্দ বাদ দেয়। 2023 সালের সংশোধনী আইন (24 নং) ধারা 97-এ কোনো দাগ রাখেনি। 1974-এর আইনের নম্বর bdlaws-এ 61, 2022-এর বাংলা গেজেটে 56।
ভূমি মন্ত্রণালয় 22 ডিসেম্বর 2022 তারিখের প্রজ্ঞাপনে (এস.আর.ও. নং ৩৭৮-আইন/২০২২) পুরো আইনের অনুমোদিত বাংলা পাঠ প্রকাশ করে, যা 31 ডিসেম্বর 2022-এর অতিরিক্ত গেজেটে ছাপা হয়। ধারা 97 আছে গেজেটের পৃষ্ঠা ১৯৯৩১ থেকে ১৯৯৩৩-এ। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ফাইলটি ডাউনলোড করা যায়।
উৎসগুলো কয়েকটি কারণ বলে। রাজা দেবাশীষ রায় (2006) বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিছু অংশ বাদে আইনটি কার্যকর না হওয়ার ব্যাপক অভিযোগের কথা লিখেছেন। দিনাজপুরের একটি সমীক্ষা অনুমতির অপব্যবহার আর জাল দলিলের কথা বলে। সমকাল (2018) জাল দলিল, মামলা-হামলা ও ভূমি অফিসের অসাধু কর্মীদের সহযোগিতার কথা লিখেছে। জবরদখল আইনি হস্তান্তর নয়, তাই ধারা 97 সেটি ঠেকায় না।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 16 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:আইন, আদিবাসীদের ভূমি, ভূমি অধিকার, ভূমি দখল, সাঁওতাল
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।