Last updated Nov 4th, 2026
0

রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের প্রতিটি জেলায় একটি করে সংবিধিবদ্ধ পরিষদ আছে, যার চেয়ারম্যান আইন অনুযায়ী অবশ্যই আদিবাসী (আইনের ভাষায় “উপজাতীয়”) হবেন, আর যার সম্মতি ছাড়া জেলার খাসজমিও বন্দোবস্ত দেওয়া যায় না। এর নাম পার্বত্য জেলা পরিষদ। তিনটি পরিষদ গঠিত হয় 1989 সালের তিনটি আলাদা আইনে (1989 সনের 19, 20 ও 21 নং আইন), তখন নাম ছিল “পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ”; 1997 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পর 1998 সালের সংশোধনীতে নাম থেকে “স্থানীয় সরকার” শব্দ বাদ যায়।
এই লেখা পরিষদ তিনটির একটি পূর্ণ পরিচিতি: কোন আইনে, কবে গঠিত; চেয়ারম্যান ও সদস্য কারা, কোন জনগোষ্ঠীর কয়টি আসন; প্রথম তফসিলে কোন 33টি বিষয় পরিষদের কাজ; জমি হস্তান্তরে সম্মতির ক্ষমতা; আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক ও সার্কেল চিফের সঙ্গে সম্পর্ক; আর তিন পরিষদের অফিস ও সরকারি ওয়েবসাইট। প্রতিটি দাবির সঙ্গে আইনের ধারা বা উৎসের নাম দেওয়া হয়েছে। আইনের পাঠে “উপজাতীয়” ও “অ-উপজাতীয়” শব্দ দুটি দলিলের নিজের শব্দ হিসেবে উদ্ধৃত; জুমজার্নালের নিজস্ব ব্যবহার “আদিবাসী”।
এক নজরে
সূচিপত্র
পার্বত্য জেলা পরিষদ হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার প্রতিটিতে আইন দিয়ে গঠিত একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। মোট পরিষদ তিনটি: রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ। প্রতিটি পার্বত্য জেলার জন্য আলাদা আইন আছে, আর পরিষদগুলো পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।
খাগড়াছড়ি আইনের 3(2) ধারা পরিষদের আইনি চরিত্র এভাবে বলে: পরিষদ “একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে”; সম্পত্তি অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তর করতে পারবে, নিজের নামে মামলা করতে পারবে। রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান আইনের 3 ধারাও একই রকম।
আইন তিনটির প্রস্তাবনায় পরিষদ গঠনের কারণ লেখা আছে: জেলাটি “বিভিন্ন অনগ্রসর উপজাতি অধ্যুষিত একটি বিশেষ এলাকা বিধায় উহার সর্বাংগীন উন্নয়নকল্পে” একটি পরিষদ স্থাপন “সমীচীন ও প্রয়োজনীয়”। পরিষদ গঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলায় স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইন, 1988 (1988 সনের 29 নং আইন) রহিত হয়, আগের জেলা পরিষদ বিলুপ্ত হয় এবং তার সম্পদ, তহবিল, কর্মচারী ও মামলা নতুন পরিষদে চলে আসে (খাগড়াছড়ি আইনের 76 ধারা)।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের “পটভূমি” পাতায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ছয়টি দপ্তরের তালিকায় তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নাম আছে, পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও শরণার্থী-উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্কফোর্স। পুরো অঞ্চলের প্রেক্ষাপট পাওয়া যাবে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব পাতায়।
তিনটি পরিষদ তিনটি আলাদা আইনে গঠিত, তিনটিরই তারিখ 6 মার্চ 1989: রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন (1989 সনের 19 নং আইন), খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন (20 নং) ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন (21 নং)। সরকারি প্রজ্ঞাপনে তিনটিই 17 এপ্রিল 1989 থেকে কার্যকর হয়।
আইনগুলোর বর্তমান হালনাগাদ পাঠ আছে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের bdlaws ওয়েবসাইটে। সেখানে 1 ধারার পাদটীকায় কার্যকর হওয়ার প্রজ্ঞাপনের নম্বর দেওয়া: রাঙ্গামাটির জন্য এস, আর, ও নং 119-আইন/৮৯, খাগড়াছড়ির জন্য 120, বান্দরবানের জন্য 121, তিনটিরই তারিখ “৪ঠা বৈশাখ, ১৩৯৬ মোতাবেক ১৭ই এপ্রিল, ১৯৮৯”। আমাদের আর্কাইভেও দুটি আইনের পূর্ণ পাঠ রাখা আছে: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের পূর্ণ পাঠ ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের পূর্ণ পাঠ।
আইনগুলোর কাঠামো প্রায় এক: সংজ্ঞা, পরিষদ স্থাপন, গঠন, নির্বাচন, কার্যাবলি, তহবিল, কর, সরকারের নিয়ন্ত্রণ, পুলিশ, ভূমি, প্রথাগত বিচার, বিধি-প্রবিধান; শেষে তিনটি তফসিল (কার্যাবলি, কর-রেইট-টোল-ফিস, এবং অপরাধ)। পার্থক্য মূলত তিন জায়গায়: কোন জনগোষ্ঠী “উপজাতীয়” সংজ্ঞায় আছে, কোন সার্কেল চিফ জেলার “সার্কেল চীফ”, আর আসন কীভাবে ভাগ।
| বিষয় | রাঙ্গামাটি | খাগড়াছড়ি | বান্দরবান |
|---|---|---|---|
| আইনের নম্বর | 1989 সনের 19 নং | 1989 সনের 20 নং | 1989 সনের 21 নং |
| কার্যকরের প্রজ্ঞাপন | এস, আর, ও 119-আইন/৮৯ | এস, আর, ও 120-আইন/৮৯ | এস, আর, ও 121-আইন/৮৯ |
| “উপজাতীয়” সংজ্ঞায় জনগোষ্ঠী, 2(খ) | চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখোয়া, খেয়াং (7টি) | চাকমা, ত্রিপুরা, মারমা (3টি) | মারমা, ম্রো (মুরং), ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, চাকমা, খুমী, উচাই, চাক, খিয়াং, পাংখোয়া, লুসাই (12টি) |
| “সার্কেল চীফ” অর্থ, 2(ঞ) | চাকমা চীফ | মং চীফ | বোমাং চীফ |
| 1998 সালের সংশোধনী আইন | 1998 সনের 9 নং | 1998 সনের 10 নং | 1998 সনের 11 নং |
| 2014 সালের সংশোধনী আইন | 2014 সনের 16 নং | 2014 সনের 17 নং | 2014 সনের 18 নং |
সূত্র: bdlaws-এ তিনটি আইনের পাঠ ও পাদটীকা (act-724, 725, 726)। জনগোষ্ঠীর নাম 2014 সালের সংশোধনের পরের বানানে; যেমন “তনচৈংগা” থেকে “তঞ্চঙ্গ্যাঁ”, “পাংখু” থেকে “পাংখোয়া”, “বোম” থেকে “বম”। তালিকার ইতিহাস ও বানান-বদলের বিস্তারিত আছে আমাদের রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ আইনে ‘উপজাতীয়’ সংজ্ঞা লেখায়।
একই বছর পার্বত্য জেলাসমূহ (আইন রহিত ও প্রয়োগ এবং বিশেষ বিধান) আইন, 1989 (1989 সনের 16 নং আইন) নামে আরেকটি আইন হয়; bdlaws-এর কালানুক্রমিক সূচিতে এটি পরিষদ আইন তিনটির ঠিক আগে তালিকাভুক্ত। এই লেখা কেবল পরিষদ আইন তিনটি নিয়ে।
2 ডিসেম্বর 1997 সালে সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির “খ” খণ্ডের পুরোটাই জেলা পরিষদ নিয়ে। এর 2 নম্বর দফা অনুযায়ী “পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ” নাম বদলে “পার্বত্য জেলা পরিষদ” হয়। দফাগুলো আইনে আনা হয় 1998 সালের তিনটি সংশোধনী আইনে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রাখা চুক্তির বাংলা পাঠ অনুযায়ী “খ” খণ্ডের শিরোনাম “পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ/পার্বত্য জেলা পরিষদ”, আর এর ভূমিকায় দুই পক্ষ 1989 সালের তিনটি আইনের “বিভিন্ন ধারাসমূহের নিম্নে বর্ণিত পরিবর্তন, সংশোধন, সংযোজন ও অবলোপন করার বিষয়ে ও লক্ষ্যে একমত” হয়। খণ্ডটিতে 35টি দফা। চুক্তির পুরো পাঠ ধরে বাস্তবায়নের হিসাব আছে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997: ধারা ধরে ধরে লেখায়; এখানে কেবল জেলা পরিষদের অংশ।
সংশোধনগুলো এসেছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ (সংশোধন) আইন, 1998 (1998 সনের 9 নং আইন), খাগড়াছড়ির জন্য 10 নং ও বান্দরবানের জন্য 11 নং আইনে। bdlaws-এর পাদটীকায় খাগড়াছড়ি আইনের 1, 3 ও 35 ধারার পাঠ থেকে “স্থানীয় সরকার” শব্দগুলো 1998 সনের 10 নং আইনের 2, 3, 4, 5 ও 17 ধারাবলে “বিলুপ্ত” লেখা। একই বছর 24 মে 1998 তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন (1998 সনের 12 নং আইন) হয়, আর মন্ত্রণালয়ের “পটভূমি” পাতা অনুযায়ী “চুক্তির শর্তানুযায়ী ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়”।
চুক্তির কোন দফা আইনের কোন ধারায় কী বদলাল, তার প্রধানগুলো নিচের ছকে। প্রতিটি সারিতে চুক্তির দফা মন্ত্রণালয়ের পাঠ থেকে, আর বর্তমান ধারা bdlaws-এর খাগড়াছড়ি আইনের পাঠ থেকে নেওয়া।
| চুক্তির দফা (খ খণ্ড) | 1989-এর মূল আইনে যা ছিল | 1998-এর পর আইনে যা আছে |
|---|---|---|
| খ-2 | নাম “পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ” | “পার্বত্য জেলা পরিষদ”; “স্থানীয় সরকার” শব্দ বিলুপ্ত |
| খ-3 | “অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা”র সংজ্ঞা ছিল না | 2(কক) ধারায় সংজ্ঞা যোগ |
| খ-4(ক) | মহিলা আসন ছিল না | 4(1)(ঘ): তিনজন মহিলা সদস্য, দুজন উপজাতীয়, একজন অ-উপজাতীয় |
| খ-4(গ), (ঘ) | কে উপজাতীয়, তা ঠিক করতেন ডেপুটি কমিশনার | 4(5): সার্কেল চীফ; 4(6): অ-উপজাতীয় পরিচয়ও সার্কেল চীফের সার্টিফিকেটে |
| খ-5 | শপথ “সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কোন ব্যক্তির” সম্মুখে | 7 ধারা: রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সম্মুখে |
| খ-7 | মেয়াদ তিন বছর | 10 ধারা: পাঁচ বছর |
| খ-8 | অস্থায়ী চেয়ারম্যান সরকারের মনোনীত | 14 ধারা: সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত একজন উপজাতীয় সদস্য |
| খ-9 | ভোটারের শর্তে “স্থায়ী বাসিন্দা” ছিল না | 17 ধারা: নাগরিক, 18 বছর, মানসিকভাবে অসুস্থ ঘোষিত নন, জেলার স্থায়ী বাসিন্দা |
| খ-13 | সচিব পদের বিধান ভিন্ন | 31 ধারা: উপ-সচিব সমতুল্য মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার |
| খ-21 | 50, 51, 52 ধারায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও তদন্ত | 50 ধারা নতুন করে লেখা (পরামর্শ, অনুশাসন, তথ্য চাওয়া); 51 ও 52 বিলুপ্ত |
| খ-24 | “সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর” ও নিচের পুলিশ | 62 ধারা: সাব-ইন্সপেক্টর ও নিচের স্তর, উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার |
| খ-26, খ-27 | ভূমি-সংক্রান্ত বিধান ভিন্ন | 64 ধারা: পূর্বানুমোদন ও সম্মতির বিধান; 65 ধারা: ভূমি উন্নয়ন কর পরিষদের |
| খ-30 | প্রবিধান “সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে” | 69 ধারা: পূর্বানুমোদন বিলুপ্ত; সরকার মতভিন্নতায় পরামর্শ দিতে পারে |
| খ-33, খ-34 | প্রথম তফসিলে 21টি বিষয় | 22–33 নম্বর বিষয় যোগ; শিক্ষায় মাতৃভাষায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা |
| খ-35 | দ্বিতীয় তফসিলে 8টি উৎস | 8–20 নম্বর উৎস (পূর্বের 8 নম্বরের স্থলে) |
সূত্র: মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে চুক্তির বাংলা পাঠ, খ খণ্ড; bdlaws-এ খাগড়াছড়ি আইনের পাঠ ও পাদটীকা এবং তফসিলের পিডিএফ। “পূর্বে যা ছিল” কলাম বানানো হয়েছে bdlaws-এর পাদটীকা থেকে, যেখানে প্রতিটি প্রতিস্থাপিত শব্দের আগের রূপ লেখা।
দুটি দফায় চুক্তি আইন বদলায়নি, আগেরটাই রেখেছে। খ-1 অনুযায়ী আইনে ব্যবহৃত “উপজাতি” শব্দটি বলবৎ থাকে, আর খ-4(খ) অনুযায়ী 4 ধারার 1, 2, 3 ও 4 উপ-ধারা (আসনের সংখ্যা ও জনগোষ্ঠীভিত্তিক বণ্টন) “মূল আইন মোতাবেক বলবৎ থাকিবে”।
নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রক ইনস্টিটিউটের Peace Accords Matrix চুক্তিটির বাস্তবায়ন-বিবরণীতে 1998 সালের আইন সম্পর্কে লিখেছে, সংশোধিত আইনগুলো পরিষদের হাতে “12 additional areas of responsibility and 12 additional sources of tax revenue” দেয়। bdlaws-এর পাদটীকা অনুযায়ী 1998 সালে প্রথম তফসিলে যোগ হয় 22 থেকে 33 নম্বর বিষয়।
bdlaws-এর পাদটীকা অনুযায়ী পরিষদের আইন 1992, 1997, 1998, 2000 ও 2014 সালে সংশোধিত হয়েছে, 2000 সালে দুটি আলাদা আইনে; আর পরিষদের নেতৃত্ব বদলেছে মূলত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে। নিচের ছকের প্রতিটি সারির উৎস ডান কলামে।
| তারিখ | ঘটনা | উৎস |
|---|---|---|
| 6 মার্চ 1989 | তিনটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন (19, 20, 21 নং) | bdlaws |
| 17 এপ্রিল 1989 | আইন তিনটি কার্যকর | bdlaws পাদটীকা (এস, আর, ও 119–121) |
| 25 জুন 1989 | প্রথম ও একমাত্র প্রত্যক্ষ নির্বাচন | বান্দরবান পরিষদের “এক নজরে” পাতা |
| 10–12 জুলাই 1989 | খাগড়াছড়ি পরিষদের “প্রতিষ্ঠা কাল” 10 জুলাই; বান্দরবানে 11 জুলাই ক্ষমতা হস্তান্তর, 12 জুলাই কার্যক্রম শুরু | খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পরিষদের ওয়েবসাইট |
| 1992 | 16 ধারায় শর্তাংশ: বিশেষ কারণে মেয়াদ শেষের পর নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে নির্বাচন | bdlaws পাদটীকা (1992 সনের 31 ও 33 নং আইন) |
| 1997 | সেই সময়সীমা 1640 দিন থেকে 1820 দিন; 16ক ধারায় অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের বিধান | bdlaws পাদটীকা (1997 সনের 2, 3, 4 নং আইন) |
| 2 ডিসেম্বর 1997 | পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি; খ খণ্ডে 35 দফা | মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে চুক্তির পাঠ |
| 1998 | নাম “পার্বত্য জেলা পরিষদ”; মহিলা আসন, মেয়াদ পাঁচ বছর, ভূমি, পুলিশ, 12টি নতুন বিষয় | bdlaws পাদটীকা (1998 সনের 9, 10, 11 নং আইন) |
| 24 মে 1998 | পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন | bdlaws (act-822) |
| 15 জুলাই 1998 | পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন | মন্ত্রণালয়ের “পটভূমি” পাতা |
| 2000 | নির্বাচন কমিশনের সংজ্ঞা ও আলাদা ভোটার তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব (দ্বিতীয় সংশোধন); 42(2ক) উপ-ধারা প্রতিস্থাপন | bdlaws পাদটীকা (2000 সনের 29, 30, 31, 33, 34 ও 35 নং আইন) |
| এপ্রিল 2010 | হাইকোর্ট আঞ্চলিক পরিষদ আইন এবং তিন জেলা পরিষদ আইনের কয়েকটি ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে; আপিল বিভাগ রায় স্থগিত রাখে | জাতিসংঘ স্থায়ী ফোরামের সমীক্ষা (2011); দ্য ডেইলি স্টার (2014) |
| 2014 | অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পাঁচ সদস্য থেকে চেয়ারম্যানসহ 15 সদস্যের; জনগোষ্ঠীর নামের বানান সংশোধন | bdlaws পাদটীকা (2014 সনের 16, 17, 18 নং আইন); বান্দরবান পরিষদের ওয়েবসাইট |
| 20–24 আগস্ট 2026 | তিন পরিষদে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ: রাঙ্গামাটির প্রজ্ঞাপন 20 আগস্ট, খাগড়াছড়িতে যোগদান 23 আগস্ট, বান্দরবানের 11তম অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের যোগদান 24 আগস্ট | বাংলা ট্রিবিউন; খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পরিষদের ওয়েবসাইট |
প্রতিটি পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠিত হয় চেয়ারম্যান, নির্দিষ্টসংখ্যক উপজাতীয় সদস্য, অ-উপজাতীয় সদস্য ও তিনজন মহিলা সদস্য নিয়ে (4(1) ধারা)। তিন জেলাতেই চেয়ারম্যানসহ 34টি পদ, কিন্তু উপজাতীয় ও অ-উপজাতীয় আসনের ভাগ আলাদা: রাঙ্গামাটি 20 ও 10, খাগড়াছড়ি 21 ও 9, বান্দরবান 19 ও 11। চেয়ারম্যান অবশ্যই উপজাতীয় (4(4) ধারা)।
4(2) ধারা অনুযায়ী “চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ জনসাধারণ কর্তৃক প্রত্যক্ষ ভোটে এই আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্বাচিত হইবেন”। উপজাতীয় আসনগুলো 4(3) ধারায় জনগোষ্ঠী ধরে ভাগ করা। মহিলা আসনের ব্যাখ্যায় বলা আছে, উপজাতীয় মহিলা সদস্যদের ক্ষেত্রে “জেলার বিভিন্ন উপজাতির জন্য কোটা থাকিবে না”। আর 4(4ক) ধারা অনুযায়ী যেকোনো উপজাতীয় নারী চেয়ারম্যান পদে বা নিজ জনগোষ্ঠীর আসনে, এবং যেকোনো অ-উপজাতীয় নারী অ-উপজাতীয় আসনে প্রার্থী হতে পারেন।

| আসন (4 ধারা) | রাঙ্গামাটি | খাগড়াছড়ি | বান্দরবান |
|---|---|---|---|
| চেয়ারম্যান (উপজাতীয়) | 1 | 1 | 1 |
| উপজাতীয় সদস্য | 20: চাকমা 10, মারমা 4, তঞ্চঙ্গ্যা 2, ত্রিপুরা 1, লুসাই 1, পাংখোয়া 1, খেয়াং 1 | 21: চাকমা 9, ত্রিপুরা 6, মারমা 6 | 19: মারমা ও খিয়াং 10, ম্রো (মুরং) 3, ত্রিপুরা ও উচাই 1, তঞ্চঙ্গ্যা 1, বম, লুসাই ও পাংখোয়া 1, চাকমা 1, খুমী 1, চাক 1 |
| অ-উপজাতীয় সদস্য | 10 | 9 | 11 |
| মহিলা সদস্য (1998 থেকে) | 3: উপজাতীয় 2, অ-উপজাতীয় 1 | 3: উপজাতীয় 2, অ-উপজাতীয় 1 | 3: উপজাতীয় 2, অ-উপজাতীয় 1 |
| মোট পদ | 34 | 34 | 34 |
সূত্র: bdlaws-এ তিন আইনের 4 ধারা। বান্দরবান পরিষদের “এক নজরে” পাতা মহিলা আসন ছাড়া মোট 31 জন দেখায় এবং পরে লেখে, 1998 সনের 11 নং আইনে “পরিষদে আরো ০৩ জন মহিলা সদস্য বৃদ্ধি করা হয়”। পাতাটি ত্রিপুরা ও উচাই আসনকে “ত্রিপুরা ও উসাই” লেখে।
এই বণ্টনের প্রতিটি সংখ্যা, একই জনগোষ্ঠী তিন জেলায় কেন তিন রকম আসন পায়, আর বান্দরবানের যৌথ আসনগুলো কীভাবে কাজ করে, তার বিস্তারিত বিশ্লেষণ আছে আমাদের পার্বত্য জেলা পরিষদে আসন-বণ্টন লেখায়।
পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হতে হলে বাংলাদেশের নাগরিক, সংশ্লিষ্ট জেলার স্থায়ী বাসিন্দা এবং কমপক্ষে 25 বছর বয়সী হতে হয় (6 ধারা); চেয়ারম্যান হতে হলে উপজাতীয় সদস্য হওয়ার যোগ্যতা লাগে (5 ধারা)। পরিষদের মেয়াদ প্রথম অধিবেশন থেকে পাঁচ বছর (10 ধারা)। শপথ হয় হাইকোর্ট বিভাগের মনোনীত বিচারকের সামনে (7 ধারা)।
6(1) ধারায় উপজাতীয় সদস্যের জন্য আরেকটি শর্ত: প্রার্থীকে “কোন উপজাতির অন্তর্ভূক্ত” হতে হবে এবং তিনি কেবল নিজের জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত আসনে দাঁড়াতে পারবেন। 6(3) ধারায় অযোগ্যতার নয়টি কারণ: নাগরিকত্ব ত্যাগ বা হারানো, আদালতে অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হওয়া, দায়মুক্ত না হওয়া দেউলিয়া, স্থায়ীভাবে জেলা ত্যাগ, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে অন্তত দুই বছরের দণ্ডের পর পাঁচ বছর না পেরোনো, প্রজাতন্ত্র বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে থাকা, সংসদ সদস্য বা অন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান-সদস্য হওয়া, পরিষদের ঠিকাদার বা আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট হওয়া, এবং কয়েকটি সরকারি ব্যাংকের মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণখেলাপি হওয়া।
7 ধারা অনুযায়ী নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যরা কার্যভার নেওয়ার আগে “রাষ্ট্রপতি কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের কোন বিচারকের” সামনে শপথ নেন। 1998-এর আগে এই জায়গায় ছিল “সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কোন ব্যক্তির” (bdlaws পাদটীকা)। 8 ধারায় কার্যভার নেওয়ার আগে নিজের ও পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির লিখিত বিবরণ জমা দেওয়ার বিধান।
10 ধারায় মেয়াদ “পাঁচ বত্সর”; মূল আইনে ছিল “তিন বত্সর”। নতুন পরিষদ প্রথম অধিবেশনে না বসা পর্যন্ত পুরোনো পরিষদ কাজ চালায়। চেয়ারম্যান পদত্যাগপত্র দেন সরকারকে, সদস্যরা দেন চেয়ারম্যানকে (11 ধারা)। 12 ধারায় অপসারণের কারণ তিনটি: যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া পরপর তিন সভায় অনুপস্থিতি, দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি বা অক্ষমতা, এবং অসদাচরণ বা অর্থ-সম্পত্তির ক্ষতি। অপসারণের প্রস্তাব পাস হতে মোট সদস্যের অন্তত তিন-চতুর্থাংশের ভোট এবং সরকারের অনুমোদন লাগে।
চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে “পরিষদের অন্যান্য সদস্য কর্তৃক নির্বাচিত কোন উপজাতীয় সদস্য” চেয়ারম্যানের কাজ করেন (14 ধারা)। 1998-এর আগে এটি ছিল সরকারের মনোনীত একজন উপজাতীয় সদস্য। নির্বাচনের পর অযোগ্যতা নিয়ে বিরোধ উঠলে সচিব প্রশ্নটি জেলা জজের কাছে পাঠান, আর জেলা জজের মতামতের দিন থেকে পদ শূন্য হয় (13(2) ধারা)।
তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে প্রত্যক্ষ নির্বাচন হয়েছে একবারই, 25 জুন 1989। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সরকারি “এক নজরে” পাতায় লেখা, সেই নির্বাচনের পর “অদ্যাবধি আর কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি”। তখন থেকে পরিষদ চলছে আইনের 16ক ধারায় সরকারের গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ দিয়ে, যাতে একজন উপজাতীয় চেয়ারম্যান ও 14 জন মনোনীত সদস্য।
জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার লার্স-আন্ডার্স বায়েরের সমীক্ষা (E/C.19/2011/6, 18 ফেব্রুয়ারি 2011) 1989-এর নির্বাচনকে “first and rather controversial election” বলে উল্লেখ করে লেখে, তারপর থেকে পরিষদগুলো “administered by Government appointees”। ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধকে সমীক্ষাটি নির্বাচন না হওয়ার একটি প্রধান বিষয় হিসেবে দেখায়।
নির্বাচন কেন হয়নি, তিন বছরের প্রথম মেয়াদ কীভাবে আট বছর গড়াল, জেলা পরিষদের আলাদা ভোটার তালিকা নিয়ে কোন পক্ষের কী অবস্থান, আর 1989 থেকে খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের চেয়ারম্যানদের তালিকা আমাদের 1989 সালের পর পার্বত্য জেলা পরিষদে আর ভোট হয়নি লেখায় নথি ধরে দেওয়া আছে। সংক্ষেপে: চুক্তির খ-9 দফা ভোটারের শর্তে “পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা” যোগ করে, আইনের 17 ধারায় তা ঢোকে, আর 2000 সালের সংশোধনীতে 17(2) উপ-ধারা নির্বাচন কমিশনকে পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়; সেই তালিকা কাদের নিয়ে হবে, এই প্রশ্নেই নির্বাচন আটকে।
16(1) ধারা অনুযায়ী মেয়াদ শেষের আগের 60 দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। 1992 সালের সংশোধনী এতে একটি শর্তাংশ যোগ করে: প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে বিশেষ কারণে সম্ভব না হলে মেয়াদের শেষ দিনের পরের নির্দিষ্টসংখ্যক দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। bdlaws-এর পাদটীকা অনুযায়ী সংখ্যাটি 1997 সালের সংশোধনীতে “১৬৪০” থেকে “১৮২০” দিন করা হয়।
1997 সালের সংশোধনীতে যোগ হওয়া 16ক(1) ধারা বলে, নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন না হলে মেয়াদ শেষের দিন পরিষদ “বাতিল হইয়া যাইবে” এবং পরিষদের সব ক্ষমতা অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের হাতে যাবে। 16ক(4) অনুযায়ী সরকার “প্রয়োজনবোধে” অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করতে পারে, আর 16ক(6) বলে আইনের অন্য ধারায় যা-ই থাকুক, এই ধারার বিধান কার্যকর হবে। বান্দরবান পরিষদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী 2014 সালের সংশোধনীতে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ “০৫ সদস্যের পরিবর্তে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট” হয়। 16ক(2)-এ বর্তমান গঠন এরকম:
| 16ক(2): মনোনীত সদস্য | রাঙ্গামাটি | খাগড়াছড়ি | বান্দরবান |
|---|---|---|---|
| চেয়ারম্যান | 1 (উপজাতীয়) | 1 (উপজাতীয়) | 1 (উপজাতীয়) |
| জনগোষ্ঠীভিত্তিক সদস্য | চাকমা 4; মারমা 1; খিয়াং, লুসাই ও পাংখোয়া 1; তঞ্চঙ্গ্যা 1; ত্রিপুরা 1 | চাকমা 3; মারমা 3; ত্রিপুরা 3 | মারমা 3; তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকমা 1; ম্রো 1; ত্রিপুরা 1; চাক 1; বম, লুসাই ও পাংখোয়া 1; খিয়াং ও খুমী 1 |
| অ-উপজাতীয় সদস্য | 3 | 3 | 3 |
| উপজাতীয় মহিলা | 1 | 1 | 1 |
| অ-উপজাতীয় মহিলা | 1 | 1 | 1 |
| আইনের পাঠে মোট সদস্য | “চৌদ্দ জন” (দফাগুলোর তালিকা উপরে; নিচে “উৎসভেদে অমিল” দেখুন) | “চৌদ্দ জন” | “চৌদ্দজন” |
সূত্র: bdlaws-এ তিন আইনের 16ক(2) ধারা, 2014 সনের 16, 17 ও 18 নং আইনে প্রতিস্থাপিত।
বাংলা ট্রিবিউনের 20 আগস্ট 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সেদিন প্রজ্ঞাপন জারি করে দীপন তালুকদারকে চেয়ারম্যান করে 15 সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করে; রাঙ্গামাটি পরিষদের ওয়েবসাইটে তাঁকে চেয়ারম্যান ও আরও 14 জনকে সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। খাগড়াছড়ি পরিষদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা ও 14 জন সদস্য যোগ দেন 23 আগস্ট 2026। বান্দরবান পরিষদের ওয়েবসাইটের খবর অনুযায়ী “১১ তম অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের” চেয়ারম্যান ও সদস্যরা যোগ দেন 24 আগস্ট 2026; প্রথম পাতায় চেয়ারম্যান হিসেবে নাম মাম্যাচিং।
পার্বত্য জেলা পরিষদের কাজ আইনের প্রথম তফসিলে তালিকাভুক্ত; 22 ধারা বলে তফসিলে উল্লিখিত কার্যাবলিই পরিষদের কার্যাবলি, যা পরিষদ “উহার তহবিলের সংগতি অনুযায়ী” করবে। তালিকায় 33টি ক্রমিক বিষয়: আইন-শৃঙ্খলার তত্ত্বাবধান, প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বন, মৎস্য, সমাজকল্যাণ, সংস্কৃতি, পুলিশ (স্থানীয়), ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, পর্যটন, জুম চাষ ইত্যাদি।
1989 সালের মূল তফসিলে 21টি বিষয় ছিল; 1998 সনের সংশোধনী আইনের 36 ধারাবলে 22 থেকে 33 নম্বর বিষয় যোগ হয় (bdlaws-এ খাগড়াছড়ি আইনের তফসিলের পাদটীকা)। জাতিসংঘের 2011 সালের সমীক্ষাও লেখে, 1989-এর আইনে পরিষদের এখতিয়ার ছিল “21 areas of jurisdiction”-এ, আর 1998-এর সংশোধনে তা দাঁড়ায় “68 subjects in 33 areas of jurisdiction”। খাগড়াছড়ি আইনের তফসিল ধরে পূর্ণ তালিকা:
| ক্রম | বিষয় (খাগড়াছড়ি আইনের প্রথম তফসিল) |
|---|---|
| 1 | জেলার আইন-শৃঙ্খলার তত্ত্বাবধান, সংরক্ষণ ও উন্নতি সাধন |
| 1ক | পুলিশ (স্থানীয়) |
| 1খ | উপজাতীয় রীতিনীতি অনুসারে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও উপজাতীয় বিষয়ক বিরোধের বিচার |
| 2 | জেলার স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যালোচনা ও হিসাব নিরীক্ষণ |
| 3 | শিক্ষা: প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঠাগার, ছাত্রবৃত্তি, ছাত্রাবাস, প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বয়স্ক শিক্ষা, বিনামূল্যে পাঠ্যবই; 1998 থেকে বৃত্তিমূলক শিক্ষা, মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ও মাধ্যমিক শিক্ষা |
| 4 | স্বাস্থ্য: হাসপাতাল, ডিসপেনসারি, ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসক দল, ধাত্রী প্রশিক্ষণ, ম্যালেরিয়া ও সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ, পরিবার পরিকল্পনা |
| 5 | জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য শিক্ষা |
| 6 | কৃষি ও বন: কৃষি খামার, সরকার কর্তৃক রক্ষিত নয় এমন বনসম্পদ, পতিত জমি, বাঁধ ও সেচের পানি, বৃক্ষরোপণ |
| 7 | পশুপালন: পশুপাখির হাসপাতাল, চারণভূমি, দুগ্ধ ও হাঁস-মুরগির খামার |
| 8 | মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন ও মৎস্য খামার |
| 9 | সমবায় উন্নয়ন |
| 10 | শিল্প ও বাণিজ্য: কুটির শিল্প, হাটবাজার, গ্রামভিত্তিক শিল্প |
| 11 | সমাজকল্যাণ: অনাথ আশ্রম, বিধবা সদন, লিগ্যাল এইড, সালিশ, পুনর্বাসন |
| 12 | সংস্কৃতি: সাধারণ ও উপজাতীয় সংস্কৃতি, ক্রীড়া, জাদুঘর, জাতীয় দিবস ও উপজাতীয় উৎসব, ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ |
| 13–16 | সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নয় এমন জনপথ, কালভার্ট, ব্রিজ ও খেয়াঘাট; উদ্যান ও খেলার মাঠ; সরাইখানা, ডাকবাংলো, বিশ্রামাগার |
| 17–21 | সরকারের অর্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন; যোগাযোগ; পানি নিষ্কাশন ও সরবরাহ, রাস্তা পাকাকরণ; স্থানীয় উন্নয়নের নকশা; অধিবাসীদের ধর্মীয়, নৈতিক ও আর্থিক উন্নতি |
| 22 | পুলিশ (স্থানীয়) |
| 23 | উপজাতীয় রীতিনীতি, প্রথা ইত্যাদি এবং সামাজিক বিচার |
| 24 | ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা |
| 25 | কাপ্তাই হ্রদ ব্যতীত অন্যান্য নদী-নালা ও খাল-বিলের সুষ্ঠু ব্যবহার ও সেচ ব্যবস্থা |
| 26 | পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন |
| 27 | যুব কল্যাণ |
| 28 | স্থানীয় পর্যটন |
| 29 | পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ ব্যতীত ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট ও অন্যান্য স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান |
| 30 | স্থানীয় শিল্প-বাণিজ্যের লাইসেন্স প্রদান |
| 31 | জন্ম-মৃত্যু ও অন্যান্য পরিসংখ্যান সংরক্ষণ |
| 32 | মহাজনী কারবার |
| 33 | জুম চাষ |
সূত্র: bdlaws-এ খাগড়াছড়ি আইনের তফসিল (725___Schedule.pdf, পৃষ্ঠা ৩৩৭–৩৪২)। 25 নম্বরের শেষ শব্দ নিয়ে উৎসে অমিল আছে, নিচে দেখুন। রাঙ্গামাটির তফসিলেও 1, 1ক ও 1খ আছে; বান্দরবানের তফসিলে 1 নম্বরে কেবল আইন-শৃঙ্খলা, আর “পুলিশ (স্থানীয়)” আছে কেবল 22 নম্বরে।
রাঙ্গামাটি পরিষদের ওয়েবসাইটের “প্রধান কার্যাবলী” পাতা একই তালিকা দেয়, তবে কৃষি অংশে বাঁধ নির্মাণের আগে একটি শর্ত যোগ করা: “কাপ্তাই জল-বিদ্যুৎ প্রকল্পের কোন ব্যাঘাত না ঘটাইয়া”। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পরিষদের ওয়েবসাইট দৈনন্দিন কাজের একটি ছোট তালিকা দেয়: যোগাযোগ ও অবকাঠামো প্রকল্প, বাজেট, পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সহায়তায় কর্মসূচি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-সংস্কৃতি-পর্যটন-কুটির শিল্প, আর “হস্তান্তরিত বিভিন্ন সরকারী বিভাগের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান, তদারকি ও সমন্বয় সাধন”।
24 ধারা অনুযায়ী পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা চেয়ারম্যানের হাতে, যিনি নিজে বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কারও মাধ্যমে তা প্রয়োগ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান, তাঁর অনুপস্থিতিতে সদস্যদের নির্বাচিত একজন উপজাতীয় সদস্য (25(2) ধারা)। প্রতিটি সভার কার্যবিবরণী 14 দিনের মধ্যে সরকারের কাছে পাঠাতে হয় (25(4) ধারা)। পরিষদ কমিটি গঠন করতে পারে (27 ধারা), আর অন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্ত কমিটিও (54 ধারা)।
31 ধারা অনুযায়ী পরিষদের সচিব হিসেবে থাকেন “সরকারের উপ-সচিব সমতুল্য একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা”, আর এই পদে উপজাতীয় কর্মকর্তারা অগ্রাধিকার পান। 32 ধারায় পরিষদ সরকারের অনুমোদন নিয়ে পদ সৃষ্টি করতে পারে, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিজে নিয়োগ দেয় (“জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার” বজায় রেখে), আর অন্যান্য পদে সরকার পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। মন্ত্রণালয়ের “পটভূমি” পাতায় রাজস্ব বাজেটে তিন পরিষদের পদের হিসাব:
| পরিষদ | অনুমোদিত পদ | পূরণকৃত পদ | শূন্য পদ |
|---|---|---|---|
| পার্বত্য জেলা পরিষদ, রাঙ্গামাটি | 72 | 65 | 7 |
| পার্বত্য জেলা পরিষদ, খাগড়াছড়ি | 71 | 64 | 7 |
| পার্বত্য জেলা পরিষদ, বান্দরবান | 70 | 62 | 8 |
সূত্র: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, “পটভূমি” পাতা (শেষ হালনাগাদ 31 মার্চ 2026)। হিসাবটি কোন তারিখের, পাতায় লেখা নেই। হস্তান্তরিত বিভাগের কর্মীরা এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত কি না, তাও পাতায় বলা নেই।
তফসিলে বিষয় থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর পরিষদের হাতে নয়। 23 ধারা অনুযায়ী সরকার “পরিষদের সম্মতিক্রমে” সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা কর্ম পরিষদের ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তরের নির্দেশ দিতে পারে; প্রতিটি দপ্তর আলাদা চুক্তিনামায় হস্তান্তর হয়, আর আমাদের বিভাগ-হস্তান্তর লেখায় সংকলিত উৎসগুলো (প্রথম আলো, মঙ্গল কুমার চাকমার লেখা) অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা, স্থানীয় পুলিশ, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, এবং বন ও পরিবেশ কোনো সরকারের আমলেই পরিষদে যায়নি।
প্রথম আলোর বান্দরবান প্রতিনিধি বুদ্ধজ্যোতি চাকমার 4 ডিসেম্বর 2025-এর হিসাব অনুযায়ী চুক্তির আগে জাতীয় পার্টি সরকার 5টি, বিএনপি 1993 সালে 10টি ও 2006 সালে আরও 4টি বিভাগ হস্তান্তর করে, আর আওয়ামী লীগ 2009 সালে ক্ষমতায় ফিরে 2012 সালের আগে একটিও করেনি। কতগুলো হস্তান্তর হয়েছে, এই প্রশ্নে বিভিন্ন পক্ষ 12 থেকে 29 পর্যন্ত আলাদা সংখ্যা বলে। খাগড়াছড়ি পরিষদের চুক্তিনামার তারিখ ধরে পূর্ণ তালিকা ও সরকারভিত্তিক হিসাব আছে আমাদের পার্বত্য জেলা পরিষদে বিভাগ হস্তান্তর: কোন সরকারের আমলে কয়টি লেখায়।
জাতিসংঘের 2011 সালের সমীক্ষা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির 2009 সালের একটি অপ্রকাশিত প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে লেখে, চুক্তির আগে 10টি এখতিয়ার-ক্ষেত্রে 15টি বিষয় পরিষদে হস্তান্তর হয়েছিল, আর 1998-এর পর আরও 3টি ক্ষেত্রে মাত্র 5টি বিষয়। সমীক্ষাটি এর পরে মন্তব্য করে, “many crucial matters have yet to come under the authority of the Councils”।
হস্তান্তরের পর পরিষদের উন্নয়ন-ক্ষমতা নিয়ে দুটি উপ-ধারা গুরুত্বপূর্ণ। 42(2ক) ধারা অনুযায়ী পরিষদ “সরকার হইতে প্রাপ্য অর্থে স্থানান্তরিত বিষয়সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, গ্রহণ ও বাস্তবায়ন” করতে পারে। আর 42(4) ধারা বলে, হস্তান্তরিত কোনো বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে সরকারের গৃহীত সব উন্নয়ন কার্যক্রম “পরিষদের মাধ্যমে” সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করবে। দুটিই চুক্তির খ-19 দফা থেকে এসেছে।
রাঙ্গামাটি পরিষদের ওয়েবসাইটের মেনুতে হস্তান্তরিত দপ্তরের আলাদা পাতা আছে, যেমন স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, জেলা পরিবার পরিকল্পনা ও জেলা মৎস্য বিভাগ। খাগড়াছড়ি পরিষদের মেনুতে পরিষদের নিজস্ব প্রশাসন, প্রকৌশল ও ভূমি বিভাগের কার্যপরিধির পাতা আছে।
প্রতিটি পরিষদের নিজের নামে একটি তহবিল আছে (35 ধারা), যাতে জমা হয় সরকারি অনুদান, পরিষদের আরোপিত কর-রেইট-টোল-ফিস, সম্পত্তির আয় ও বিনিয়োগের মুনাফা। দ্বিতীয় তফসিলে 20টি আয়ের উৎস তালিকাভুক্ত, যা পরিষদ “সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে” আরোপ করতে পারে (44 ধারা); এর বাইরে জেলার ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের দায়িত্ব পরিষদের (65 ধারা)।
35(2) ধারায় তহবিলের আটটি উৎস: পুরোনো জেলা পরিষদের তহবিলের উদ্বৃত্ত, পরিষদের ধার্য কর-রেইট-টোল-ফিস, পরিষদে ন্যস্ত সম্পত্তির আয়, সরকার বা অন্য কর্তৃপক্ষের অনুদান, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির অনুদান, বিনিয়োগের মুনাফা, অন্য যেকোনো প্রাপ্ত অর্থ, এবং সরকারের নির্দেশে ন্যস্ত অন্য আয়ের উৎস। টাকা রাখতে হয় সরকারি ট্রেজারিতে বা ট্রেজারির কাজ করে এমন ব্যাংকে (36 ধারা)।
দ্বিতীয় তফসিলের প্রথম সাতটি উৎস মূল আইনের: স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের উপর ধার্য করের অংশ, বিজ্ঞাপন কর, পরিষদের রাস্তা-পুল-ফেরির টোল, জনকল্যাণমূলক কাজের রেইট, পরিষদের স্কুলের ফিস, জনকল্যাণমূলক কাজের উপকারভোগীর ফিস এবং বিশেষ সেবার ফিস। 1998-এ যোগ হয় 8 থেকে 20 নম্বর: অযান্ত্রিক যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ফি, পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের উপর কর, ভূমি ও দালানের হোল্ডিং কর, গৃহপালিত পশু বিক্রয়ের উপর কর, সামাজিক বিচারের ফিস, শিল্প প্রতিষ্ঠানের হোল্ডিং কর, বনজ সম্পদের রয়্যালটির অংশ, সিনেমা-যাত্রা-সার্কাসের সম্পূরক কর, খনিজ সম্পদের রয়্যালটির অংশ, ব্যবসা কর, লটারি কর, মৎস্য ধরার উপর কর, এবং সরকারের দেওয়া ক্ষমতাবলে আরোপিত অন্য কোনো কর।
বাজেট নিয়ে 38 ধারার বিধান: প্রতি অর্থবছর শুরুর আগে পরিষদ বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদন করে একটি অনুলিপি সরকারকে পাঠায়; সময়মতো না পারলে সরকার একটি আয়-ব্যয় বিবরণী প্রত্যয়ন করে, যা পরিষদের অনুমোদিত বাজেট বলে গণ্য। বার্ষিক হিসাব পরের অর্থবছরের 31 ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে পাঠাতে হয়, আর তার অনুলিপি পরিষদ কার্যালয়ে জনসাধারণের দেখার জন্য রাখতে হয় (39 ধারা)। নিরীক্ষা হয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে, আর নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আত্মসাৎ, লোকসান ও দায়ী ব্যক্তিদের নাম থাকতে হয় (40 ধারা)।
পার্বত্য জেলার যেকোনো জায়গা-জমি, বন্দোবস্তযোগ্য খাসজমিসহ, পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া ইজারা, বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় বা অন্যভাবে হস্তান্তর করা যায় না (64(1)(ক) ধারা)। পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন জমি, পাহাড় ও বন সরকারও পরিষদের সঙ্গে আলোচনা ও তার সম্মতি ছাড়া অধিগ্রহণ বা হস্তান্তর করতে পারে না (64(1)(খ))। ধারাটি চুক্তির খ-26 দফা থেকে 1998-এ প্রতিস্থাপিত।
খাগড়াছড়ি আইনের 64(1)(ক) ধারার পাঠ: “খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার এলাকাধীন বন্দোবস্তযোগ্য খাস জমিসহ যে কোন জায়গা জমি, পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে, ইজারা প্রদান, বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় বা অন্যবিধভাবে হস্তান্তর করা যাইবে না”। ধারার শুরুতেই আছে “আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন”।
শর্তাংশে পাঁচ ধরনের জমি এই বিধানের বাইরে: রক্ষিত (Reserved) বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পকারখানা, এবং সরকারি নামে রেকর্ডকৃত জমি। শেষ শ্রেণির বর্ণনা তিন আইনে এক নয়:
| উৎস | ব্যতিক্রমের শেষ শ্রেণি |
|---|---|
| চুক্তি, খ-26(ক) | “সরকারের নামে রেকর্ডকৃত ভূমি” |
| রাঙ্গামাটি আইন, 64(1)(ক) | “সরকারের নামে রেকর্ডকৃত জমি”; পাদটীকা অনুযায়ী আগে ছিল “সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের” |
| খাগড়াছড়ি আইন, 64(1)(ক) | “সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নামে রেকর্ডকৃত জমি” |
| বান্দরবান আইন, 64(1)(ক) | “সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নামে রেকর্ডকৃত জমি” |
64(2) ধারা অনুযায়ী পরিষদ “হেডম্যান, চেইনম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যাদি” তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 64(3) ধারায় কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসা জমি (fringe land) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমির মূল মালিকদের বন্দোবস্ত দেওয়ার কথা। প্রথম তফসিলের 24 নম্বরে “ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা” পরিষদের বিষয় হলেও বিষয়টি পরিষদে হস্তান্তর হয়নি, যা আমাদের বিভাগ-হস্তান্তর লেখায় নথিসহ আছে।
আইনের 62 ধারা অনুযায়ী পার্বত্য জেলা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ও তার নিচের সব স্তরের সদস্য পরিষদ নিয়োগ দেবে, বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেবে, উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার রেখে। 66 ধারায় উপজাতীয়দের সামাজিক বিরোধের প্রথাগত বিচারের আপিল-সিঁড়ি: কার্বারি বা হেডম্যান, তারপর সার্কেল চিফ, তারপর চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার।
63 ধারা বলে, জেলায় কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তার তথ্য পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো এবং চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের আইনানুগ কর্তৃত্ব প্রয়োগে সহায়তা করা সব পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব। 62(3) অনুযায়ী জেলা পুলিশের সব স্তরের কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে পরিষদের কাছে দায়ী থাকবেন, “এতদ্সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ”। এই ধারার পাঠ, চুক্তির খ-24 দফার সঙ্গে শব্দের পার্থক্য এবং বাস্তবায়নের অবস্থা আছে আমাদের পার্বত্য জেলা পুলিশ নিয়োগ জেলা পরিষদের হাতে লেখায়।
প্রথাগত বিচারে তিন আইনের সিঁড়ি এক নয়। খাগড়াছড়িতে আপিল যায় মং চিফের কাছে, যাঁকে একজন ত্রিপুরা ও একজন চাকমা পরামর্শদাতা সহায়তা করেন, সরকার তাঁদের তিন বছরের জন্য মনোনীত করে (66(3) ধারা)। রাঙ্গামাটিতে আপিল যায় “ক্ষেত্রবিশেষে” চাকমা সার্কেলের চিফ বা বোমাং সার্কেলের চিফের কাছে। বান্দরবানে সিঁড়ি চার ধাপের: কার্বারি, হেডম্যান, বোমাং চিফ, বিভাগীয় কমিশনার। প্রতিটি ধাপের বিস্তারিত আছে আমাদের পাহাড়ে সামাজিক বিচার আপিল লেখায়।
পার্বত্য জেলা পরিষদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর। সরকার পরিষদকে পরামর্শ ও অনুশাসন দিতে পারে (50 ধারা), তথ্য ও ব্যাখ্যা চাইতে পারে, তদন্তের পর পরিষদ বাতিল করতে পারে (53 ধারা), আর নির্বাচন না হলে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন ও পুনর্গঠন করে (16ক ধারা)। পরিষদের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল যায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগে (61 ধারা)।
50(2) ধারা বলে, সরকার যদি “এইরূপ প্রমাণ পায় যে” পরিষদের কোনো কাজ আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বা জনস্বার্থের পরিপন্থী, তাহলে লিখিতভাবে তথ্য ও ব্যাখ্যা চাইতে এবং পরামর্শ বা নির্দেশ দিতে পারে, আর পরিষদ তা বাস্তবায়ন করবে। 1998-এ 51 ধারা (কার্যাবলির উপর নিয়ন্ত্রণ) ও 52 ধারা (তদন্ত) বিলুপ্ত হয়। 53 ধারায় সরকার তদন্তের পর চার কারণে, যেমন দায়িত্ব পালনে ক্রমাগত ব্যর্থতা বা ক্ষমতার অপব্যবহার, গেজেট আদেশে পরিষদ বাতিল করতে পারে; আগে পরিষদকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হয়, আর বাতিলাদেশ প্রকাশের 90 দিনের মধ্যে পরিষদ পুনর্গঠিত হওয়ার কথা।
সমন্বয়ের প্রয়োজনে সরকার বা পরিষদ একে অপরের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলতে পারে (67 ধারা)। বিধি প্রণয়ন করে সরকার, তবে “পরিষদের সহিত পরামর্শক্রমে” (68(1)); কোনো বিধি জেলার জন্য “কষ্টকর বা আপত্তিকর” মনে হলে পরিষদ পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারে (68(3))। 79 ধারা আরও এক ধাপ এগোয়: জেলায় প্রযোজ্য সংসদের কোনো আইন জেলার জন্য কষ্টকর বা উপজাতীয়দের জন্য আপত্তিকর হলে পরিষদ সংশোধন বা প্রয়োগ শিথিলের লিখিত আবেদন করতে পারে, আর সরকার “এই আবেদন অনুযায়ী প্রতিকারমূলক” পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রবিধান প্রণয়নে 1998 থেকে সরকারের পূর্বানুমোদন লাগে না (69 ধারা)।
পরিষদ আইনে জেলা প্রশাসকের ভূমিকা 1998-এ সবচেয়ে বেশি বদলায়। মূল আইনের 4(5) ধারায় কে উপজাতীয় এবং কোন জনগোষ্ঠীর, তা স্থির করতেন “ডেপুটি কমিশনার”; চুক্তির খ-4(গ) দফা অনুযায়ী শব্দটি বদলে “সার্কেল চীফ” হয় (bdlaws পাদটীকা)। 64(2) ধারায় সহকারী কমিশনার (ভূমি), কানুনগো ও সার্ভেয়ারের কাজের তত্ত্বাবধান পরিষদকে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পরিষদের দৈনন্দিন সম্পর্ক কোনো একক প্রকাশিত নথিতে পাওয়া যায়নি।
একই জেলায় উন্নয়ন প্রকল্প চালায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডও, যার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব আঞ্চলিক পরিষদ আইনের 22(গ) ধারায় আঞ্চলিক পরিষদকে দেওয়া। বোর্ড ও মন্ত্রণালয় কবে গঠিত, কী করে, আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় লেখায় আছে।
পরিষদ আইনে সার্কেল চিফের ভূমিকা চার জায়গায়: প্রার্থীর উপজাতীয় পরিচয়ের সার্টিফিকেট (4(5) ধারা), অ-উপজাতীয় প্রার্থীর পরিচয়ের সার্টিফিকেট (4(6)), পরিষদের সভায় যোগ দিয়ে মত দেওয়ার অধিকার (26 ধারা), এবং প্রথাগত বিচারের আপিল (66 ধারা)। হেডম্যানের ভূমিকা অ-উপজাতীয় পরিচয়ের প্রাথমিক সার্টিফিকেট, প্রথাগত বিচার ও 64(2) ধারায় পরিষদের তত্ত্বাবধান।
4(5) ধারার পাঠ: কোনো ব্যক্তি উপজাতীয় কি না এবং হলে কোন উপজাতির, তা “জেলার সার্কেল চীফ স্থির করিবেন”, আর সার্কেল চিফের সার্টিফিকেট ছাড়া কেউ উপজাতীয় হিসেবে চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রার্থী হতে পারেন না। 4(6) ধারায় অ-উপজাতীয় প্রার্থীর ক্ষেত্রে আগে সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা পৌরসভা চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট দেন, তার ভিত্তিতে সার্কেল চিফ স্থির করেন। জাতিসংঘের 2011 সালের সমীক্ষা অনুযায়ী 2010 সালের হাইকোর্টের রায় যে ধারাগুলো অসাংবিধানিক বলে, তার মধ্যে ছিল বাঙালি বসতিস্থাপনকারীদের স্থায়ী বাসিন্দার সনদ ঐতিহ্যবাহী প্রধানের কাছ থেকে নেওয়ার বিধান; রায়টি আপিল বিভাগে স্থগিত। সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ও জেলা প্রশাসকের সনদের সঙ্গে এর পার্থক্য আমাদের উপজাতীয় সনদপত্র সার্কেল চিফ দেন লেখায় আছে।
26 ধারায় তিন আইনের পাঠ আলাদা। খাগড়াছড়িতে “মং চীফ এবং চাকমা চীফ” ইচ্ছা করলে বা আমন্ত্রিত হলে যেকোনো সভায় যোগ দিয়ে মত দিতে পারেন। রাঙ্গামাটিতে “চাকমা সার্কেলের চীফ এবং বোমাং সার্কেলের চীফ”। বান্দরবানে কেবল “বান্দরবান বোমং চীফ”। চুক্তির খ-12 দফা খাগড়াছড়ির জন্য কারণও লিখে দেয়: “যেহেতু খাগড়াছড়ি জেলার সমস্ত অঞ্চল মং সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত নহে”, তাই চাকমা সার্কেলের চিফকেও যুক্ত করা হয়। তিন সার্কেল ও চিফদের ক্ষমতা নিয়ে আমাদের সার্কেল চিফের ক্ষমতা ও তিনটি সার্কেল লেখা দেখুন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য সংখ্যা 25: চেয়ারম্যানসহ 22 জন তিন জেলা পরিষদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কথা, আর তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে ভোটাধিকারসহ সদস্য (পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998-এর 5 ধারা)। আঞ্চলিক পরিষদ জেলা পরিষদের কাজের “সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়” করে (22(ক) ধারা)।
আইনের 5(1) ধারায় 25টি পদ: চেয়ারম্যান, বারো জন উপজাতীয় সদস্য, ছয় জন অ-উপজাতীয় সদস্য, দুইজন উপজাতীয় মহিলা, একজন অ-উপজাতীয় মহিলা এবং “তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পদাধিকারবলে”। 6 ধারা অনুযায়ী এই তিনজন বাদে চেয়ারম্যানসহ অন্য সবাই “পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহের চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সদস্যগণ কর্তৃক” নির্বাচিত হবেন। অর্থাৎ আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের ওপর নির্ভরশীল, আর জেলা পরিষদে 1989-এর পর নির্বাচন হয়নি। জাতিসংঘের 2011 সালের সমীক্ষাও লেখে, জেলা পরিষদে নির্বাচন না হওয়ায় আঞ্চলিক পরিষদের বর্তমান সদস্যরা “all Government appointees”।
22(ক) ধারায় আঞ্চলিক পরিষদের প্রথম কাজ “পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ উহাদের আওতাধীন এবং উহাদের উপর অর্পিত বিষয়াদির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন”। একই ধারায় পৌরসভাসহ স্থানীয় পরিষদের তত্ত্বাবধান, উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধান, সাধারণ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলার তত্ত্বাবধান, এবং প্রথা ও সামাজিক বিচারের সমন্বয়ও আঞ্চলিক পরিষদের কাজ। জেলা পরিষদের আইনে আঞ্চলিক পরিষদের নাম আলাদা করে আসেনি; সম্পর্কটি তৈরি হয়েছে আঞ্চলিক পরিষদ আইন দিয়ে।
আঞ্চলিক পরিষদের গঠন, ক্ষমতা ও আসন-বণ্টনের পূর্ণ বিশ্লেষণ আছে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ: গঠন, ক্ষমতা ও আসন-বণ্টন লেখায়, আর আইনের পূর্ণ পাঠ পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন পাতায়।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠিত হয় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন, 1989 (1989 সনের 20 নং আইন) দিয়ে। পরিষদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী প্রতিষ্ঠার তারিখ 10 জুলাই 1989। তিন পরিষদের মধ্যে কেবল খাগড়াছড়িতেই “উপজাতীয়” সংজ্ঞায় তিনটি জনগোষ্ঠী: চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা; 21টি উপজাতীয় আসনের 9টি চাকমা, 6টি ত্রিপুরা ও 6টি মারমাদের।
পরিষদের ওয়েবসাইটের “ইতিহাস ও কার্যাবলী” পাতা পরিষদটির উদ্দেশ্য লেখে এভাবে: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বসবাসরত “উপজাতীয় অধিবাসী সহ সকল নাগরিকের রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অধিকার সমুন্নত” করা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। একই পাতায় লেখা, উপজাতীয় সদস্য নির্বাচনে “চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব অবশ্যই থাকতে হবে”, আর নির্বাচিত চেয়ারম্যান-সদস্যদের অনুপস্থিতিতে সরকার-গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
আইনের পাঠে খাগড়াছড়ি পরিষদ পাঁচটি জায়গায় অন্য দুই পরিষদ থেকে আলাদা:
খাগড়াছড়ির 1989 সালের আইনের পূর্ণ পাঠ আমাদের আর্কাইভে আছে (উপরে লিংক)। জেলার অবস্থান, আয়তন, উপজেলা ও জনসংখ্যা নিয়ে দেখুন আমাদের খাগড়াছড়ি জেলা পরিচিতি।
খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের (পূর্ণ নাম খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ) সরকারি ওয়েবসাইট khdc.gov.bd, ই-মেইল khdcbd@gmail.com। অফিসের অবস্থান ওয়েবসাইটের যোগাযোগ পাতায় গুগল ম্যাপে “KHDC Building” নামে চিহ্নিত। 23 আগস্ট 2026 থেকে চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা, সঙ্গে 14 জন সদস্য।

ওয়েবসাইটের মেনুতে আছে: ইতিহাস ও কার্যাবলী, মিশন ও ভিশন, সাংগঠনিক কাঠামো, চেয়ারম্যান, প্রাক্তন চেয়ারম্যানগণের তালিকা, সদস্যগণের তালিকা, প্রাক্তন সদস্যগণের তালিকা, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রশাসন-প্রকৌশল-ভূমি বিভাগের কার্যপরিধি, আইন, বিধিমালা, পরিপত্র, দরপত্র, পাসপোর্ট অনাপত্তি ও সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট খাগড়াছড়ি পরিষদের জন্য এখনো পুরোনো ঠিকানা khdc.portal.gov.bd-তে লিংক দেয়; ঠিকানাটিও খোলে।
ওয়েবসাইটের “অফিস প্রধান” পাতা অনুযায়ী চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমার যোগদানের তারিখ 23/08/2026, নিজ জেলা খাগড়াছড়ি। “সদস্যবৃন্দ” পাতায় 14 জন সদস্যের নাম, প্রত্যেকের যোগদানের তারিখ একই দিন। যোগাযোগ পাতায় মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মো. ইলিয়াস মেহেদীর নাম। পরিষদের দাপ্তরিক ফোন নম্বর ও কর্মকর্তাদের ই-মেইল ওয়েবসাইটের যোগাযোগ পাতায় দেওয়া; নম্বর বদলায় বলে এখানে তা দেওয়া হলো না।
খাগড়াছড়ি পরিষদ সাধারণ মানুষকে কোন কোন সেবা দেয়, তার তালিকা ওয়েবসাইটের “সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি” পাতায়। মেনুতে “পাসপোর্ট অনাপত্তি” নামে একটি পাতাও আছে। খাগড়াছড়ি পরিষদের চুক্তিনামা ধরে কোন বিভাগ কবে পরিষদে এসেছে, তার তালিকা আমাদের বিভাগ-হস্তান্তর লেখায়, আর 1989 থেকে চেয়ারম্যানদের তালিকা আমাদের নির্বাচন-বিষয়ক লেখায় আছে।
তিনটি পরিষদেরই সরকারি ওয়েবসাইট .gov.bd ঠিকানায়: রাঙ্গামাটি rhdc.gov.bd, খাগড়াছড়ি khdc.gov.bd, বান্দরবান bhdc.gov.bd। বান্দরবান পরিষদের সাইটে ঠিকানা “মেঘলা, বান্দরবান”; রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির সাইটে জেলার নাম ও মানচিত্রের চিহ্ন আছে। চেয়ারম্যান, সদস্য ও যোগাযোগের তথ্য প্রতিটি সাইটের “চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ” ও “যোগাযোগ” পাতায়।
| পরিষদ | সরকারি ওয়েবসাইট | অফিস | ই-মেইল (সাইটে দেওয়া) | চেয়ারম্যান (নভেম্বর 2026) |
|---|---|---|---|---|
| রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ | rhdc.gov.bd | রাংগামাটি; সাইটের মানচিত্রে “Rangamati Hill District Council” | chairman@rhdc.gov.bd | দীপন তালুকদার |
| খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ | khdc.gov.bd | খাগড়াছড়ি; সাইটের মানচিত্রে “KHDC Building” | khdcbd@gmail.com | ম্রাসা থোয়াই মারমা |
| বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ | bhdc.gov.bd | মেঘলা, বান্দরবান | bhdcbd@gmail.com | মাম্যাচিং |
সূত্র: তিন পরিষদের ওয়েবসাইটের প্রথম পাতা, যোগাযোগ ও সদস্য পাতা (দেখা হয়েছে 4 নভেম্বর 2026)। রাঙ্গামাটির নাম bdlaws-এ আইনের শিরোনামে “রাংগামাটি” বানানে।
পরিষদের নিজস্ব সাইটের বাইরে সম্পর্কিত তিনটি সরকারি সাইট: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (mochta.gov.bd), পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ (chtrc.gov.bd, মন্ত্রণালয়ের সাইটে দেওয়া লিংক), এবং আইনের পাঠের জন্য bdlaws। রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলার সাধারণ পরিচিতি পাবেন আমাদের রাঙামাটি জেলা পরিচিতি ও বান্দরবান জেলা পরিচিতি লেখায়।
পার্বত্য জেলা পরিষদ নিয়ে সরকারি উৎসগুলোর মধ্যে অন্তত সাতটি জায়গায় তথ্য মেলে না। প্রতিটি এক বাক্যে, উৎসের নামসহ:
পার্বত্য জেলা পরিষদ হলো রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের প্রতিটি জেলায় 1989 সালের আলাদা আইনে গঠিত সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। পরিষদের চেয়ারম্যান উপজাতীয় হতে হয়, প্রথম তফসিলের 33টি বিষয় তার কাজ, আর জেলার জমি হস্তান্তরে তার পূর্বানুমোদন লাগে। পরিষদগুলো পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।
পার্বত্য জেলা পরিষদ তিনটি: রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ (1989 সনের 19 নং আইন), খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ (20 নং আইন) ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ (21 নং আইন)। তিনটি আইনের তারিখ 6 মার্চ 1989, কার্যকর 17 এপ্রিল 1989। তিনটির ওপরে সমন্বয়ের দায়িত্বে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ।
আইন হয় 6 মার্চ 1989, কার্যকর হয় 17 এপ্রিল 1989, আর প্রথম নির্বাচন 25 জুন 1989। খাগড়াছড়ি পরিষদের ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠার তারিখ 10 জুলাই 1989; বান্দরবান পরিষদের সাইট অনুযায়ী সেখানে 11 জুলাই ক্ষমতা হস্তান্তর ও 12 জুলাই 1989 কার্যক্রম শুরু হয়। তখন নাম ছিল পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির (2 ডিসেম্বর 1997) খ খণ্ডের 2 নম্বর দফা অনুযায়ী 1998 সালের সংশোধনী আইনে নাম বদলায়: রাঙ্গামাটির জন্য 1998 সনের 9 নং, খাগড়াছড়ির জন্য 10 নং ও বান্দরবানের জন্য 11 নং আইন। bdlaws-এর পাদটীকায় আইনের বিভিন্ন ধারা থেকে “স্থানীয় সরকার” শব্দগুলো এই আইনগুলোর বলে বিলুপ্ত বলে লেখা।
আইনের 4 ধারা অনুযায়ী প্রতিটি পরিষদে চেয়ারম্যানসহ 34টি পদ: রাঙ্গামাটিতে 20 উপজাতীয় ও 10 অ-উপজাতীয়, খাগড়াছড়িতে 21 ও 9, বান্দরবানে 19 ও 11, প্রতিটিতে তিনজন মহিলা সদস্য। নির্বাচন না হওয়ায় এখন 16ক ধারার অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ চলছে: একজন উপজাতীয় চেয়ারম্যান ও 14 জন মনোনীত সদস্য।
খাগড়াছড়ি আইনের 4(3) ধারা অনুযায়ী 21টি উপজাতীয় আসনের 9টি চাকমা, 6টি ত্রিপুরা ও 6টি মারমা জনগোষ্ঠীর। এর সঙ্গে 9টি অ-উপজাতীয় আসন ও তিনটি মহিলা আসন (দুটি উপজাতীয়, একটি অ-উপজাতীয়)। অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও অ-উপজাতীয় প্রতিটি থেকে তিনজন করে মনোনীত হন।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সরকারি ওয়েবসাইট khdc.gov.bd। সেখানে ইতিহাস ও কার্যাবলি, চেয়ারম্যান, সদস্য, সাবেক চেয়ারম্যানদের তালিকা, আইন, দরপত্র, সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি ও যোগাযোগের পাতা আছে। পরিষদের ই-মেইল khdcbd@gmail.com। মন্ত্রণালয়ের সাইটে দেওয়া পুরোনো ঠিকানা khdc.portal.gov.bd-ও খোলে। সাইটের প্রথম পাতায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার নাম দেওয়া থাকে।
একবারই, 25 জুন 1989, তিন জেলায় একসঙ্গে। বান্দরবান পরিষদের সরকারি পাতায় লেখা, এরপর “অদ্যাবধি আর কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি”। 1997 সালের সংশোধনীতে যোগ হওয়া 16ক ধারা অনুযায়ী নির্বাচন না হলে সরকার অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করে। ভোটার তালিকায় “স্থায়ী বাসিন্দা” কারা, এই প্রশ্নে নির্বাচন আটকে আছে।
না। আইনের 64(1)(ক) ধারা অনুযায়ী বন্দোবস্তযোগ্য খাসজমিসহ জেলার যেকোনো জমি পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া ইজারা, বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় বা হস্তান্তর করা যায় না। ব্যতিক্রম রক্ষিত বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় শিল্পকারখানা ও সরকারি নামে রেকর্ডকৃত জমি। সরকারি অধিগ্রহণেও পরিষদের সম্মতি লাগে (64(1)(খ))।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998-এর 5 ধারা অনুযায়ী 25 জন: চেয়ারম্যান, 12 জন উপজাতীয় সদস্য, 6 জন অ-উপজাতীয় সদস্য, 2 জন উপজাতীয় মহিলা, 1 জন অ-উপজাতীয় মহিলা, এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে। চুক্তির গ-3 দফায় চেয়ারম্যানসহ 22 জনের কথা বলা, জেলা চেয়ারম্যানরা তার বাইরে।
আইনে চেয়ারম্যান জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কথা (4(2) ধারা)। নির্বাচন না হওয়ায় 16ক(2) ধারায় সরকার একজন উপজাতীয় চেয়ারম্যান ও 14 সদস্য নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করে। বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী রাঙ্গামাটির সর্বশেষ পুনর্গঠনের প্রজ্ঞাপন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জারি করে 20 আগস্ট 2026, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে।
দ্বিতীয় তফসিলে 20টি উৎস, যা পরিষদ সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে আরোপ করতে পারে (44 ধারা): বিজ্ঞাপন কর, টোল, হোল্ডিং কর, পণ্য ক্রয়-বিক্রয় ও পশু বিক্রয়ের কর, সামাজিক বিচারের ফিস, বনজ ও খনিজ সম্পদের রয়্যালটির অংশ, ব্যবসা, লটারি ও মাছ ধরার কর ইত্যাদি। জেলার ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের দায়িত্বও পরিষদের (65 ধারা)।
আছে। প্রথম তফসিলের 3 নম্বর বিষয় শিক্ষায় 1998 সালের সংশোধনীতে তিনটি দফা যোগ হয়: বৃত্তিমূলক শিক্ষা, “মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা” ও মাধ্যমিক শিক্ষা। এটি চুক্তির খ-33(খ) দফা থেকে এসেছে। বিষয়টি তফসিলে থাকা মানে পরিষদের এখতিয়ার; বাস্তবায়ন নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর হস্তান্তর ও বাজেটের ওপর।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 4 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:পার্বত্য চুক্তি, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন, পার্বত্য জেলা পরিষদ
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।