Jumjournal Logo

বান্দরবান জেলা পরিচিতি: অবস্থান, আয়তন, উপজেলা, জনসংখ্যা ও নামের উৎস

Last updated Oct 19th, 2026

থানচির তিন্দুতে সাঙ্গু নদী, দুই পাড়ে ঘন সবুজ পাহাড় আর দূরে খাড়া পাথুরে ঢাল

বান্দরবান জেলা কোথায়, কত বড়, কবে জেলা হলো? বান্দরবান জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে, চট্টগ্রাম বিভাগের তিন পার্বত্য জেলার একটি; আয়তন 4,479.03 বর্গ কিলোমিটার, উপজেলা 7টি, আর জনশুমারি 2022 অনুযায়ী জনসংখ্যা 4,81,106। 1951 সালে মহকুমা ও 1981 সালে জেলা হয়। দেশের সর্বোচ্চ চূড়ার তিন দাবিদার এবং ম্রো, বম, খুমি ও চাক জনগোষ্ঠীর প্রায় সবাই এই এক জেলায়।

এই পাতাটি একটি রেফারেন্স পাতা, ভ্রমণ-গাইড নয়। প্রতিটি সংখ্যার পাশে তার উৎস দেওয়া আছে, আর যেখানে দুটি উৎস দুই রকম বলছে সেখানে দুটোই রাখা হয়েছে। পুরো অঞ্চলের প্রেক্ষাপটের জন্য দেখুন পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভ।

এক নজরে বান্দরবান জেলা

বিষয়তথ্যউৎস
বিভাগচট্টগ্রামবাংলাপিডিয়া
আয়তন4,479.03 বর্গ কিমি (বাংলাপিডিয়ায় 4,479.01)BBS 2022
মহকুমা1951জেলা পোর্টাল
জেলা1981 (18 এপ্রিল অথবা 1 অক্টোবর — উৎসভেদে)জেলা পোর্টাল; বাংলাপিডিয়া
উপজেলা / থানা7 / 7জেলা পোর্টাল
পৌরসভা2 (বান্দরবান ও লামা)জেলা পোর্টাল
ইউনিয়ন / মৌজা34 / 96জেলা পোর্টাল; BBS 2022
জনসংখ্যা (2022)4,81,106BBS 2022
ঘনত্বপ্রতি বর্গ কিমিতে 107 জনBBS 2022
সাক্ষরতা (7+)63.74%BBS 2022
সংসদীয় আসন1টি — 300 নং, বান্দরবান পার্বত্য জেলাজেলা পোর্টাল
সার্কেলবোমাং সার্কেলজেলা পোর্টাল
প্রধান নদীসাঙ্গু, মাতামুহুরী, বাঁকখালীজেলা পোর্টাল

সূচিপত্র

  1. বান্দরবান কোথায় অবস্থিত
  2. বান্দরবান জেলার আয়তন কত
  3. বান্দরবান কবে জেলা হলো: 1860 থেকে 1985
  4. বান্দরবান নামকরণের ইতিহাস: বানরের বাঁধ থেকে বান্দরবান
  5. বান্দরবান জেলার উপজেলা কয়টি: সাত উপজেলার ছক
  6. বান্দরবানের জনসংখ্যা কত (জনশুমারি 2022)
  7. বান্দরবানে কোন কোন জনগোষ্ঠী থাকেন, কার কত মানুষ
  8. বান্দরবানে কোন ধর্মের মানুষ কত
  9. বোমাং সার্কেল কী, বান্দরবানের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী
  10. বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া কোনটি: কেওক্রাডং, তাজিংডং, সাকা হাফং
  11. বান্দরবানের নদী ও হ্রদ: সাঙ্গু, মাতামুহুরী, বাঁকখালী, বগা লেক
  12. বান্দরবান কিসের জন্য বিখ্যাত, কোথায় কোথায় ঘোরা যায়
  13. বান্দরবানের মানুষ কী করে জীবিকা চালান, কী ফসল হয়
  14. মুক্তিযুদ্ধে বান্দরবান: কোথায় কী ঘটেছিল
  15. বান্দরবান কীভাবে যাওয়া যায়
  16. সচরাচর জিজ্ঞাসা
  17. যা এখনো জানা যায়নি
  18. তথ্যসূত্র

বান্দরবান কোথায় অবস্থিত

বান্দরবান চট্টগ্রাম বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের পার্বত্য জেলা। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এর অবস্থান 21°11′ থেকে 22°22′ উত্তর অক্ষাংশ ও 92°04′ থেকে 92°41′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। উত্তরে রাঙামাটি, দক্ষিণে মিয়ানমারের আরাকান, পশ্চিমে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। জেলা শহর সাঙ্গু নদীর তীরে (BBS জেলা রিপোর্ট)।

দ্রাঘিমাংশ তিন উৎসে তিন রকম লেখা। বাংলাপিডিয়ায় 92°04′ থেকে 92°41′; জেলা পোর্টালের ভৌগোলিক পরিচিতি পাতায় “92°40′ হতে 92°41′”; BBS-এর জেলা রিপোর্টে “92°40′ to 92°4′”। অক্ষাংশে তিন উৎসই একমত।

পূর্ব সীমানা নিয়েও উৎস দুই রকম। বাংলাপিডিয়া পূর্ব দিকে লিখেছে মিয়ানমারের চিন প্রদেশ ও রাঙামাটি জেলা; জেলা পোর্টাল ও BBS পূর্ব সীমায় লিখেছে “ভারত”। বাকি তিন দিকে অমিল নেই।

উপজেলা ধরে সীমানা: কোন উপজেলা কার গায়ে লাগানো

বাংলাপিডিয়ার উপজেলা-নিবন্ধগুলো পাশাপাশি রাখলে জেলার বাইরের দিকটা স্পষ্ট হয়। মিয়ানমারের সঙ্গে সীমানা আছে তিন উপজেলার, রাঙামাটি জেলার সঙ্গে চারটির, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সঙ্গে তিনটির।

উপজেলাজেলার বাইরে যার সঙ্গে সীমানা (বাংলাপিডিয়া)
বান্দরবান সদরউত্তরে রাজস্থলী (রাঙামাটি); পশ্চিমে রাঙ্গুনিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
রোয়াংছড়িউত্তরে রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি, পূর্বে বিলাইছড়ি (রাঙামাটি)
রুমাপূর্বে বিলাইছড়ি (রাঙামাটি)
থানচিদক্ষিণে মিয়ানমারের আরাকান; পূর্বে মিয়ানমারের চিন ও বিলাইছড়ি (রাঙামাটি)
লামাউত্তরে লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম); পশ্চিমে চকরিয়া (কক্সবাজার)
আলীকদমদক্ষিণে মিয়ানমারের আরাকান
নাইক্ষ্যংছড়িদক্ষিণে ও পূর্বে মিয়ানমারের আরাকান; পশ্চিমে উখিয়া, রামু ও চকরিয়া (কক্সবাজার)

এই ছক অনুযায়ী জেলার পূর্ব দিকে থানচি উপজেলার সীমানা মিয়ানমারের চিন রাজ্যের সঙ্গে; বাংলাপিডিয়ার কোনো উপজেলা-নিবন্ধে ভারতের সঙ্গে সীমানার উল্লেখ নেই।

বান্দরবান জেলার আয়তন কত

বান্দরবান জেলার আয়তন 4,479.03 বর্গ কিলোমিটার। BBS-এর 1991, 2001, 2011 ও 2022 — চার শুমারিতেই এই একই সংখ্যা, জেলা পোর্টালেও তাই। বাংলাপিডিয়া লিখেছে 4,479.01 বর্গ কিলোমিটার, এবং একে চট্টগ্রাম বিভাগের 11 জেলার মধ্যে আয়তনে তৃতীয় বলেছে।

সাত উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় থানচি (1,020.82 বর্গ কিমি), সবচেয়ে ছোট রোয়াংছড়ি (বাংলাপিডিয়ার জেলা-নিবন্ধের বাক্যে 442.89, একই নিবন্ধের ছকে 442.88 বর্গ কিমি)। একা থানচিই জেলার মোট আয়তনের প্রায় 23 শতাংশ। আয়তনের ক্রম: থানচি, আলীকদম (885.77), লামা (671.83), বান্দরবান সদর (501.98), রুমা (492.09), নাইক্ষ্যংছড়ি (463.60), রোয়াংছড়ি।

জনঘনত্বে উৎসের অমিল আছে। BBS-এর 2022 শুমারিতে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে 107 জন; জেলা পোর্টালে লেখা 67 জন। বাংলাপিডিয়ার জেলা-ছকে 2011 সালের শুমারির ঘনত্ব 87 জন।

বান্দরবান কবে জেলা হলো: 1860 থেকে 1985

বান্দরবান 1951 সালে মহকুমা এবং 1981 সালে জেলা হয়। এর আগে 1860 সাল থেকে এলাকাটি পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার অংশ ছিল। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবানই প্রথম আলাদা জেলা; রাঙামাটি জেলা পোর্টাল অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলা হয় 1983 সালে।

জেলা হওয়ার তারিখে চার উৎস চার রকম। বান্দরবান পোর্টাল বলছে 18 এপ্রিল 1981, লামা মহকুমাসহ সাতটি উপজেলা নিয়ে। রাঙামাটি পোর্টাল বলছে এপ্রিল 1981, বান্দরবান ও লামা মহকুমা নিয়ে। বাংলাপিডিয়া বলছে 1 অক্টোবর 1981। BBS শুধু সাল দিয়েছে: 1981।

সালপঞ্জি

সাল / তারিখঘটনাউৎস
1860পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা ঘোষিত; বান্দরবান ওই জেলার অধীন। প্রথম সুপারিনটেনডেন্ট ক্যাপ্টেন মাগ্রেথ।বান্দরবান পোর্টাল
12 জানুয়ারি 1867বোমাং অঞ্চলের একটি গ্রামে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত।রাঙামাটি পোর্টাল
1867সুপারিনটেনডেন্ট পদের নাম হয় ডেপুটি কমিশনার; প্রথম ডেপুটি কমিশনার টি এইচ লুইন।বান্দরবান পোর্টাল
জানুয়ারি 1869সাঙ্গু নদীর চিমা পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা।রাঙামাটি পোর্টাল
1923বান্দরবান, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি থানা গঠিত।বাংলাপিডিয়া (উপজেলা-নিবন্ধ)
1951বান্দরবান মহকুমা — রাঙামাটি জেলার একটি প্রশাসনিক ইউনিট।বান্দরবান পোর্টাল; BBS
1976আলীকদম, রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি থানা গঠিত।বাংলাপিডিয়া (উপজেলা-নিবন্ধ)
10 সেপ্টেম্বর 1979লামা নতুন মহকুমা।রাঙামাটি পোর্টাল
1981বান্দরবান জেলা (18 এপ্রিল — বান্দরবান পোর্টাল; 1 অক্টোবর — বাংলাপিডিয়া)।উপরে দেখুন
1983–1985থানাগুলো উপজেলায় রূপান্তর: আলীকদম 1983, বান্দরবান সদর 1984, বাকি পাঁচটি 1985।বাংলাপিডিয়া (উপজেলা-নিবন্ধ)
25 ফেব্রুয়ারি 1985তিন পার্বত্য জেলার নামকরণ ও সীমানা নির্ধারণ।রাঙামাটি পোর্টাল

1867 ও 1869-এর দুটি ঘটনা রাঙামাটি পোর্টালে এসেছে ব্রিটিশ আমলের প্রশাসনিক নথির ভাষায়; এখানে কেবল তারিখ ও ঘটনাটুকু রাখা হলো। আর বান্দরবান পোর্টাল যেখানে 1981 সালেই “সাত উপজেলা” বলেছে, বাংলাপিডিয়ার উপজেলা-নিবন্ধ অনুযায়ী থানাগুলো উপজেলা হয়েছে 1983 থেকে 1985-এর মধ্যে।

জেলার আগের ইতিহাস: উপজেলা-নিবন্ধে যা আছে

জেলা গঠনের আগের শতাব্দীগুলো নিয়ে বাংলাপিডিয়ার তিনটি উপজেলা-নিবন্ধে আলাদা আলাদা টুকরো আছে; প্রতিটি কেবল সেই উপজেলার প্রসঙ্গে।

  • আলীকদম: বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী নবম শতক থেকে আলীকদমসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বড় অংশ আরাকানি শাসনে ছিল; পনেরো ও ষোলো শতকে বাংলার সুলতান জালালুদ্দিন ও “Khoda Baksh dynasty” সাময়িক নিয়ন্ত্রণ নেয়; 1756 সালে মোগলদের বিজয়ে আরাকানি শাসন শেষ হয়, শেষ আরাকানি শাসকের নাম নিবন্ধে “Kong Hla Pru”।
  • রুমা: বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী আরাকানরাজ “Meng Beng” 1532 থেকে 1553 পর্যন্ত 21 বছর এই অঞ্চল শাসন করেন; মোগলরা আসে 1666 সালে; অঞ্চলটি 1784 পর্যন্ত “Mraku dynasty”-র অধীনে ছিল।
  • থানচি: বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী 1824 সালের ইঙ্গ-বর্মী যুদ্ধের পর আরাকান ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশ হলে আরাকান থেকে থানচি ও আশপাশে অভিবাসন সহজ হয়; পরে তাঁরা স্থায়ী বাসিন্দা হন এবং 1900 সালের 1 নং রেগুলেশনে (পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়াল) বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃত হন।

রোমান হরফে রাখা নামগুলোর বাংলা বানান কোনো বাংলা উৎসে মেলানো যায়নি, তাই বাংলাপিডিয়ার বানানেই রাখা হলো। আলীকদমের 1756 আর রুমার 1666 — মোগল আগমনের এই দুটি সাল দুটি আলাদা নিবন্ধের, দুটি আলাদা উপজেলার প্রসঙ্গে লেখা।

বান্দরবান নামকরণের ইতিহাস: বানরের বাঁধ থেকে বান্দরবান

বান্দরবান নামের যে ব্যাখ্যাটি নথিভুক্ত, সেটি একটি কিংবদন্তি: বানরের দল সারি বেঁধে ছড়া পার হতো, তাই মারমা ভাষায় জায়গাটির নাম “ম্যাঅকছি ছড়া”, যা বাংলাভাষীদের উচ্চারণে বান্দরবান। জেলা পোর্টাল নিজেই একে “কিংবদন্তি” ও “প্রচলিত রূপকথা” বলে দিয়েছে।

পোর্টালের বয়ানে কাহিনিটি এ রকম। এলাকায় অসংখ্য বানর থাকত। শহরের প্রবেশমুখে ছড়ার পাড়ে পাহাড়ে তারা লবণ খেতে আসত। একবার টানা বৃষ্টিতে ছড়ার পানি বেড়ে গেলে বানরেরা একে অপরকে ধরে সারি বেঁধে ছড়া পার হয়। মারমা ভাষায় “ম্যাঅক” অর্থ বানর, “ছি” অর্থ বাঁধ — সেই থেকে “ম্যাঅকছি ছড়া”।

একই পোর্টালের দুই পাতায় আরও একটি নাম আছে: মারমা ভাষায় বান্দরবানের নাম “রদ ক্যওচি ম্রো”; পটভূমি পাতায় একে “প্রকৃত নাম” বলা হয়েছে। আর বোমাং সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জেলার আদি নাম ছিল “বোমাং থং”। এই তিনটি নামের উৎস একটিই, জেলা পোর্টাল; মারমা ভাষার কোনো নিজস্ব উৎসে এগুলোর বানান ও অর্থ মেলানো যায়নি।

জেলার অন্য জায়গার নাম কোথা থেকে

বান্দরবানের অনেক স্থাননামের পেছনে আদিবাসী ভাষার একটি আদি রূপ আছে। ইলিরা দেওয়ান প্রথম আলোর কলামে (6 ফেব্রুয়ারি 2023) কয়েকটি জোড়া দিয়েছেন; বাকিগুলো জেলা পোর্টাল ও বাংলাপিডিয়ার।

এখনকার নামআদি রূপউৎস
থানচিটাইংছেইইলিরা দেওয়ান, প্রথম আলো
রোয়াংছড়িরাখইংওয়াইলিরা দেওয়ান, প্রথম আলো
কেওক্রাডংক্যক্রডংইলিরা দেওয়ান, প্রথম আলো
চিম্বুকচ্যংবত হুমইলিরা দেওয়ান, প্রথম আলো
নাফাখুমঙাফাখোংইলিরা দেওয়ান, প্রথম আলো
লামাহ্লামা (মারমা ভাষায়; পোর্টাল জনশ্রুতি হিসেবে অর্থ দিয়েছে “সুন্দরী নারী”)জেলা পোর্টাল
মাতামুহুরীমামুরি (নদীর মারমা নাম; বাংলাপিডিয়ার ভাষায় “Magh name”)বাংলাপিডিয়া

বান্দরবান জেলার উপজেলা কয়টি: সাত উপজেলার ছক

বান্দরবান জেলায় উপজেলা 7টি: বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, লামা, রুমা, থানচি, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি (জেলা পোর্টালের তালিকা)। সঙ্গে 7টি থানা, 2টি পৌরসভা (বান্দরবান ও লামা), 34টি ইউনিয়ন ও 96টি মৌজা। জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড় লামা, আয়তনে থানচি।

নিচের ছকে জনসংখ্যা ও আদিবাসী জনসংখ্যা BBS-এর জনশুমারি 2022 থেকে (Key Findings ও Table 3.1.29; BBS-এর শিরোনামে “Ethnic Population”)। শতাংশ ওই দুই সংখ্যা থেকে হিসাব করা। আয়তন বাংলাপিডিয়ার।

উপজেলাআয়তন (বর্গ কিমি)জনসংখ্যা 2022এর মধ্যে আদিবাসীআদিবাসীর অংশ
লামা671.831,39,68933,22123.8%
বান্দরবান সদর501.981,11,09647,80443.0%
নাইক্ষ্যংছড়ি463.6076,47712,63616.5%
আলীকদম885.7763,80025,11339.4%
রুমা492.0932,53328,29887.0%
থানচি1,020.8229,79026,10387.6%
রোয়াংছড়ি442.8827,72124,80889.5%
জেলা4,479.034,81,1061,97,98341.2%

ছকটি জেলার ভেতরের একটি স্পষ্ট ভাগ দেখায়। পূর্ব দিকের তিন উপজেলা — রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়িতে — প্রতি দশজনে প্রায় নয়জন আদিবাসী, কিন্তু তিনটি মিলিয়ে জনসংখ্যা মাত্র 90,044। পশ্চিমের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়িতে ছবিটা উল্টো, আর এই দুই উপজেলাতেই জেলার 45 শতাংশ মানুষ থাকেন।

থানা থেকে উপজেলা, আর প্রশাসনিক একক

বাংলাপিডিয়ার উপজেলা-নিবন্ধগুলো 2011 সালের শুমারির হিসাব দেয়। তখন ইউনিয়ন ছিল 30টি; জেলা পোর্টালে এখন 34টি। মৌজা তখনো 96, এখনো 96। গ্রাম বা পাড়ার সংখ্যা পোর্টালে 1,554 (2011 সালের শুমারির সংখ্যা), BBS-এর 2022 শুমারিতে 2,139।

উপজেলাথানা গঠনউপজেলাইউনিয়ন (2011)মৌজাগ্রাম (2011)প্রধান নদী
বান্দরবান সদর192319845 (+ পৌরসভা)16225সাঙ্গু
লামা192319857 (+ পৌরসভা)18343মাতামুহুরী
নাইক্ষ্যংছড়ি19231985417237নিবন্ধে “Boalkhali”
আলীকদম1976198327168মাতামুহুরী
রুমা19761985414225সাঙ্গু
থানচি19761985411178সাঙ্গু (শঙ্খ)
রোয়াংছড়ি19761985413178সাঙ্গু

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী আলীকদম থানা গঠিত হয় লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ির অংশ নিয়ে। নাইক্ষ্যংছড়ির প্রধান নদী হিসেবে নিবন্ধে “Boalkhali” লেখা; জেলা পোর্টালের তিন প্রধান নদীর তালিকায় তৃতীয়টি বাঁকখালী।

বান্দরবান সদর

জেলা শহর ও সাঙ্গু নদী এই উপজেলায়। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী আয়তন 501.98 বর্গ কিমি; পৌরসভার আয়তন 13.05 বর্গ কিমি, ওয়ার্ড 9টি। উল্লেখযোগ্য পাহাড় হিসেবে নিবন্ধে আছে “Marmiana Tang” ও “Bothil Tang”, জলধারা হিসেবে সাঙ্গু নদী ও “Swalak canal”। 2011 সালে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ক্যাং (বৌদ্ধ বিহার) 70টি, মসজিদ 101টি, গির্জা 22টি, মন্দির 10টি। নিবন্ধে বোমাং রাজার “Purnia Mela”-কে উল্লেখযোগ্য মেলা বলা হয়েছে। দর্শনীয় স্থান: স্বর্ণমন্দির, মেঘলা, নীলগিরি, শৈলপ্রপাত ও রাজবাড়ি।

রোয়াংছড়ি

জেলার সবচেয়ে ছোট ও সবচেয়ে কম জনসংখ্যার উপজেলা, এবং আদিবাসীর অংশ এখানেই সবচেয়ে বেশি (2022 সালে 27,721 জনের 24,808)। বাংলাপিডিয়া লিখেছে, উপজেলার বেশির ভাগ জুড়ে পাহাড়শ্রেণি ও বন। 2011 সালে ক্যাং 47টি, গির্জা 13টি, মসজিদ 4টি। আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, 79.79 শতাংশ। নিবন্ধ অনুযায়ী তুলা এখানে বিলুপ্ত বা প্রায়-বিলুপ্ত ফসল।

রুমা

কেওক্রাডং, তাজিংডং ও বগা লেক — তিনটিই রুমায়। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী আয়তন 492.09 বর্গ কিমি, ইউনিয়ন 4টি। 2011 সালের শুমারিতে উপজেলার 29,098 জনের মধ্যে বৌদ্ধ 11,326 ও খ্রিষ্টান 11,124 — প্রায় সমান সমান। আয়ের উৎসে কৃষির ভাগ 84.79 শতাংশ, সাত উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বাংলাপিডিয়ার পার্বত্য চট্টগ্রাম নিবন্ধ অনুযায়ী রুমা শহরের চারপাশে প্রায় 15×10 কিলোমিটার এলাকায় সাতটি ভিন্ন জনগোষ্ঠী পাশাপাশি বাস করে।

থানচি

আয়তনে জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা (1,020.82 বর্গ কিমি) এবং 2011 সালে সবচেয়ে কম ঘনবসতির: প্রতি বর্গ কিলোমিটারে 23 জন। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী দক্ষিণে মিয়ানমারের আরাকান, পূর্বে চিন রাজ্য। 2011 সালে 23,591 জনের মধ্যে বৌদ্ধ 11,300, খ্রিষ্টান 8,577; গির্জা 75টি, ক্যাং 27টি। তখন পাকা সড়ক ছিল মাত্র 4.76 কিমি, নৌপথ 40 কিমি; বিদ্যুৎ পেত 14.7 শতাংশ খানা, আর 78.3 শতাংশ খানায় শৌচাগার ছিল না। ইউনিয়ন চারটি: তিন্দু, থানচি, আর নিবন্ধের বানানে Balipara ও Remakry।

লামা

জেলার সবচেয়ে জনবহুল উপজেলা (2022 সালে 1,39,689) এবং জেলার দ্বিতীয় পৌরসভাটি এখানে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী আয়তন 671.83 বর্গ কিমি, ইউনিয়ন 7টি, মৌজা 18টি, প্রধান নদী মাতামুহুরী; পশ্চিমে কক্সবাজারের চকরিয়া। 10 সেপ্টেম্বর 1979 তারিখে লামা আলাদা মহকুমা হয়েছিল (রাঙামাটি পোর্টাল)। প্রধান ফসলের তালিকায় ধানের পরেই তামাক।

আলীকদম

আয়তনে দ্বিতীয় (885.77 বর্গ কিমি), অথচ ইউনিয়ন মাত্র 2টি (নিবন্ধের বানানে Alikdam ও Chokhyong), আর মৌজা 7টি। বাংলাপিডিয়া লিখেছে, উপজেলাটি বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলের তুলনামূলক সমতল অংশে; প্রধান নদী মাতামুহুরী; দক্ষিণে মিয়ানমারের আরাকান। 2011 সালে পাকা সড়ক ছিল 3 কিমি, কাঁচা 222 কিমি। দর্শনীয় স্থান হিসেবে নিবন্ধে আছে “Meraindong Hill”; জেলা পোর্টাল ও BBS-এর তালিকায় আছে আলীর সুড়ঙ্গ।

নাইক্ষ্যংছড়ি

জেলার সর্বদক্ষিণের উপজেলা; দক্ষিণে ও পূর্বে মিয়ানমারের আরাকান, পশ্চিমে কক্সবাজারের উখিয়া, রামু ও চকরিয়া। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী আয়তন 463.60 বর্গ কিমি, ইউনিয়ন 4টি, মৌজা 17টি। 2022 সালে এখানে আদিবাসীর অংশ সাত উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে কম (76,477 জনের 12,636)। ফসলের তালিকায় রাবার, আখ ও পান আছে; নিবন্ধে পাথর ও তেলের খনি শনাক্ত হওয়ার কথাও লেখা। চাক জনগোষ্ঠীর বসতি কেবল এই উপজেলায় — আমাদের আর্কাইভের হিসাবে 3টি ইউনিয়নের 5টি মৌজায় মোট 15টি বসতি (ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী)।

বান্দরবানের জনসংখ্যা কত (জনশুমারি 2022)

BBS-এর জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022 অনুযায়ী বান্দরবান জেলার জনসংখ্যা 4,81,106 জন: পুরুষ 2,46,947, নারী 2,34,146, হিজড়া 13। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম। খানা 1,06,065টি, এর মধ্যে সাধারণ খানা 1,02,289টি। জেলা পোর্টাল দেয় 4,81,109 (পুরুষ 2,46,590, নারী 2,34,035)।

শুমারিজনসংখ্যাআগের শুমারি থেকে বৃদ্ধি
19912,30,569—
20012,98,12067,551
20113,88,33590,215
20224,81,10692,771

31 বছরে জেলার জনসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। 2022 শুমারিতে বার্ষিক বৃদ্ধির হার 1.90 শতাংশ — তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। শহুরে অংশ 40.41 শতাংশ: শহরে 1,94,419 জন, গ্রামে 2,86,687 জন। 2011 সালে শহরে ছিলেন 1,00,423 জন (বাংলাপিডিয়ার জেলা-ছক)।

সাক্ষরতা: 11 বছরে 35.86 থেকে 63.74 শতাংশ

7 বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের সাক্ষরতার হার 2022 সালে 63.74 শতাংশ; পুরুষের 68.97 শতাংশ। 2011 সালে ছিল 35.86 শতাংশ। তবু তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন — রাঙামাটিতে 71.41, খাগড়াছড়িতে 71.80 শতাংশ (BBS)। জেলা পোর্টালে এখনো 43 শতাংশ লেখা।

2011 সালে উপজেলাভেদে ফারাকটা বড় ছিল। বাংলাপিডিয়ার ছক অনুযায়ী তখন বান্দরবান সদরে সাক্ষরতা 49.3 শতাংশ, লামায় 34.0, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িতে 31.3, রোয়াংছড়িতে 31.0, রুমায় 28.9 আর থানচিতে 26.9 শতাংশ। থানচিতে নারীর সাক্ষরতা ছিল 19.2 শতাংশ। 2022 শুমারির উপজেলাভিত্তিক সাক্ষরতার হার এই লেখার উৎসে নেই।

বান্দরবানে কোন কোন জনগোষ্ঠী থাকেন, কার কত মানুষ

BBS-এর জনশুমারি 2022 (Table P17) অনুযায়ী বান্দরবানে আদিবাসী জনসংখ্যা 1,97,983 — পুরুষ 99,197, নারী 98,786; জেলার মোট জনসংখ্যার 41.2 শতাংশ। সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী মারমা (84,170), তারপর ম্রো (51,448)। সারণিতে বারোটি জনগোষ্ঠীর নাম আলাদা করে এসেছে।

জনগোষ্ঠীবান্দরবান (2022)জুমজার্নালের লেখা
মারমা84,170মারমা জাতির আদ্যোপান্ত
ম্রো51,448ম্রো জাতি: ক্রামা, বর্ণমালা ও চিম্বুকের পাহাড়
ত্রিপুরা22,572—
তঞ্চঙ্গ্যা (BBS বানান Tonchonga)14,889—
বম (BBS বানান Bom)11,854বম জাতি: নাম, গোত্র, খ্রিষ্টধর্ম ও নিজস্ব বর্ণমালা
চাকমা3,712—
খুমি3,287ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী
চাক2,662চাক জাতির আদ্যোপান্ত
খিয়াং2,502ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী
রাখাইন355—
লুসাই58ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী
পাংখোয়া55ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী
অন্যান্য273—

চারটি জনগোষ্ঠীর প্রায় সবাই এই এক জেলায়

তিন পার্বত্য জেলার BBS রিপোর্ট পাশাপাশি রাখলে বান্দরবানের বিশেষত্ব ধরা পড়ে (বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি — তিনটিরই Table P17)।

জনগোষ্ঠীবান্দরবানরাঙামাটিখাগড়াছড়ি
ম্রো51,44825818
বম11,85444116
খুমি3,28744সারণিতে নেই
চাক2,6624122

জেলার ভেতরে কে কোথায়, তার কিছুটা আমাদের আর্কাইভের লেখায় আছে। বমরা থাকেন রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি ও সদর উপজেলায় (বম জাতি; বিস্তারিত বম জাতির আদ্যোপান্ত)। চাকদের বসতি কেবল নাইক্ষ্যংছড়িতে। চিম্বুক পাহাড় ও তার ভূমির প্রশ্ন ম্রোদের সঙ্গে জড়িত; সে প্রসঙ্গ ম্রো জাতির লেখায়। মারমা পোশাকের জন্য দেখুন মারমা থামি ও আংগি, ম্রো ও বম বস্ত্রের জন্য ওয়ানক্লাই ও কোমরতাঁত।

নাম নিয়ে একটি টীকা। বাংলাপিডিয়ার জেলা ও উপজেলা-নিবন্ধে “Murong” লেখা; জুমজার্নাল লেখে “ম্রো”, কেন — তা মুরুং, মুরং, ম্র নাকি ম্রো লেখায় আছে। বাংলাপিডিয়ার জেলা-নিবন্ধের জনগোষ্ঠী-তালিকায় তঞ্চঙ্গ্যা, চাক ও পাংখোয়ার নাম নেই, যদিও BBS-এর সারণিতে তিনটিই আছে।

বান্দরবানে কোন ধর্মের মানুষ কত

BBS-এর জনশুমারি 2022 অনুযায়ী বান্দরবানে মুসলিম 2,53,756 (52.7%), বৌদ্ধ 1,42,057 (29.5%), খ্রিষ্টান 47,054 (9.8%), “অন্যান্য” 21,738 (4.5%) ও হিন্দু 16,501 (3.4%)। খ্রিষ্টান ও “অন্যান্য” — দুই ঘরই তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে এখানে সবচেয়ে বড়।

ধর্ম2011 (বাংলাপিডিয়া)2022 (BBS)
মুসলিম1,97,0872,53,756
বৌদ্ধ1,23,0521,42,057
খ্রিষ্টান39,33347,054
অন্যান্য15,72621,738
হিন্দু13,13716,501
মোট3,88,3354,81,106

“অন্যান্য” ঘরের 21,738 জনের ভেতরে কোন ধর্মের কত, BBS-এর এই সারণিতে ভাগ করা নেই। তাই ক্রামা ধর্মের অনুসারী কতজন, এই সংখ্যা থেকে বলা যায় না। ধর্মটির পরিচয়ের জন্য দেখুন ক্রামা ধর্ম: গরু যে বইটা খেয়েছিল, আর মেনলে ম্রোর নতুন লিপি।

2011 সালের উপজেলা-হিসাবে খ্রিষ্টানদের বড় অংশ ছিল পূর্বের দুই উপজেলায়: রুমায় 11,124 ও থানচিতে 8,577 জন — জেলার 39,333 খ্রিষ্টানের অর্ধেক। বৌদ্ধ সবচেয়ে বেশি ছিলেন বান্দরবান সদরে (33,051), তারপর লামায় (20,395) ও রোয়াংছড়িতে (18,889)।

বোমাং সার্কেল কী, বান্দরবানের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী

পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রশাসনিকভাবে তিনটি সার্কেলে ভাগ — চাকমা, বোমাং ও মং; বান্দরবান জেলা বোমাং সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত (জেলা পোর্টাল)। জেলায় মৌজা 96টি। সার্কেলের প্রধানকে আইনে বলা হয় সার্কেল চিফ, দৈনন্দিন বাংলায় ও 1997 সালের চুক্তিতে “বোমাং রাজা”।

সার্কেল আর জেলার সীমানা এক নয়। রাঙামাটি জেলা পোর্টাল অনুযায়ী রাঙামাটি জেলার 159টি মৌজার 14টি বোমাং সার্কেলের; পোর্টালের আরেক পাতায় রাজস্থলী উপজেলার 9টি মৌজার কথা আছে।

আরেকটি বিষয় আমাদের আর্কাইভের লেখায় স্পষ্ট করা আছে: সার্কেলের নাম চিফের পরিচয় থেকে এলেও সার্কেল কোনো জনগোষ্ঠীভিত্তিক এলাকা নয়, ভৌগোলিক। বোমাং সার্কেলে কেবল মারমারা থাকেন না; চিফের ক্ষমতা প্রয়োগ হয় এলাকা ধরে। 1900 সালের শাসনবিধির 35 বিধিতে সার্কেল-বিভাজনের বিধান, 37 বিধিতে মৌজা। চিফের ক্ষমতা কতটুকু, সে আলোচনা সার্কেল চিফ: তিনটি সার্কেল, আর রাজার ক্ষমতা আসলে কতটুকু লেখায়।

জেলা পরিষদ আলাদা প্রতিষ্ঠান, আলাদা আইনে চলে। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে কোন জনগোষ্ঠীর কয়টি আসন, তা আছে পার্বত্য জেলা পরিষদে আসন ভাগ হয় কীভাবে লেখায়। জেলা পোর্টালের মেনুতে “হেডম্যানদের তালিকা” নামে একটি আলাদা পাতাও আছে।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া কোনটি: কেওক্রাডং, তাজিংডং, সাকা হাফং

দেশের সর্বোচ্চ চূড়ার তিন দাবিদারই বান্দরবানে, আর কোনটি সর্বোচ্চ তা উৎসভেদে আলাদা। BBS-এর জেলা রিপোর্ট ও জেলা পোর্টাল বলছে তাজিংডং; বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়ার পাঠে সাকা হাফং সবার উঁচু। জরিপ অধিদপ্তর এপ্রিল 2026-এ নতুন করে মেপেছে।

চূড়াউচ্চতার পাঠঅবস্থানউৎস
কেওক্রাডংদীর্ঘদিন বলা হতো 1,230 মিটার; GPS পাঠ 974 মিটার; চূড়ার ফলকে 3,172 ফুটরুমা; রুমা থেকে বগা লেক হয়ে হাঁটাপথবাংলাপিডিয়া
তাজিংডং (সরকারি নাম “বিজয়”)830 মিটাররুমাউইকিপিডিয়া
সাকা হাফং (মোদক টং / মোদক মুয়াল)1,052 থেকে 1,064 মিটারের নানা পাঠ; বাংলাপিডিয়ার পার্বত্য চট্টগ্রাম নিবন্ধে মোদক মুয়াল 1,003 মিটারথানচি, মিয়ানমার সীমান্তেবাংলাপিডিয়া; উইকিপিডিয়া

ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী জরিপ অধিদপ্তর 4 থেকে 12 এপ্রিল 2026 রুমা ও থানচি উপজেলায় GNSS প্রযুক্তিতে চূড়াগুলোর উচ্চতা মাপার জরিপ চালায়। সেই জরিপের ঘোষিত ফল কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

পাহাড়শ্রেণি

জেলা পোর্টাল অনুযায়ী জেলার পাহাড়শ্রেণি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 300 থেকে 1,100 মিটার উঁচু; প্রধান গিরিশ্রেণি মিরিঞ্জা, ওয়ালটং, তামবাং ও পলিতাই। বাংলাপিডিয়া কর্ণফুলীর দক্ষিণে সাতটি পাহাড়সারির নাম দিয়েছে — মুরাঞ্জা, ওয়াইলা, চিম্বুক, বাটিমাইন, পলিতাই, সাইচল-মোদক ও সাইচল (নামগুলো ইংরেজি বানান থেকে নেওয়া) — এবং লিখেছে, দেশের সর্বোচ্চ চূড়াগুলো সাইচল সারিতে।

বাংলাপিডিয়ার জেলা-নিবন্ধে উল্লেখযোগ্য পাহাড়ের তালিকা রোমান হরফে: Marmiana Tang, Bathil Tang, Kewkradang, Langfi Tang, Lakpang Tang, Thaingkiang Tang, Moudak Tang, Murangiang Tang, Rungrang Tang, Naprai Tang, Murifa Tang, Busi Tang ও Sara Tang। উপজেলা-নিবন্ধ মিলিয়ে দেখলে এর কয়েকটির অবস্থান মেলে: Marmiana ও Bothil সদরে; Langfi, Moudak, Naparai ও Murifa থানচিতে; Thaikyang, Rurang ও Sara আলীকদমে; Lakpang ও Muranga লামায়; Busi নাইক্ষ্যংছড়িতে।

চিম্বুক পাহাড় বান্দরবান শহর থেকে প্রায় 26 কিলোমিটার দূরে, থানচি সড়কে; উচ্চতা প্রায় 2,500 ফুট (আমাদের ম্রো জাতির লেখা)। পুরো অঞ্চলের ভূগোল ও চূড়ার উচ্চতা-বিতর্কের পূর্ণ বিবরণের জায়গা পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূগোল ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পাতা।

বান্দরবানের নদী ও হ্রদ: সাঙ্গু, মাতামুহুরী, বাঁকখালী, বগা লেক

জেলা পোর্টাল অনুযায়ী বান্দরবানের প্রধান নদী তিনটি: সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী। সাঙ্গু বয়ে গেছে থানচি, রুমা, রোয়াংছড়ি ও সদর উপজেলা দিয়ে; মাতামুহুরী আলীকদম ও লামা দিয়ে। রুমা উপজেলায় আছে বগা লেক।

নদীউৎসদৈর্ঘ্যগতিপথউৎস-নিবন্ধ
সাঙ্গু (শঙ্খ)উত্তর আরাকান পাহাড়, 21°13′ উ, 92°37′ পূ270 কিমি; বাংলাদেশে 173 কিমিপার্বত্য অঞ্চলে বান্দরবান পর্যন্ত উত্তরমুখী, তারপর পশ্চিমেবাংলাপিডিয়া
মাতামুহুরী21°14′ উ, 92°36′ পূ — সাঙ্গুর উৎসের কাছেইপ্রায় 287 কিমিপার্বত্য অঞ্চলে উত্তর-পশ্চিমমুখী, তারপর কক্সবাজার জেলায়বাংলাপিডিয়া
বাঁকখালীচট্টগ্রাম ও আরাকানকে ভাগ করা পাহাড়শ্রেণিনিবন্ধে নেইউত্তরমুখী, তারপর পশ্চিমে ঘুরে রামু ও কক্সবাজার শহর পেরিয়ে মহেশখালী চ্যানেলেবাংলাপিডিয়া

সাঙ্গু অগভীর নদী, কিন্তু বর্ষায় খরস্রোতা (বাংলাপিডিয়া)। শঙ্খ ও সাঙ্গু একই নদী: বাংলাপিডিয়ার থানচি-নিবন্ধ প্রধান নদীর নাম লিখেছে “sangu (Shankha)”। বাঁকখালীকে বাংলাপিডিয়া বলেছে কক্সবাজার জেলার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ নদী; বান্দরবানের ভেতরে এর কতটুকু, নিবন্ধে তা বলা নেই।

বগা লেক

বগা লেক বা বগাকাইন হ্রদ রুমা উপজেলার নাইতং মৌজায়, সাঙ্গু নদীর তীর থেকে প্রায় 29 কিলোমিটার পূর্বে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী হ্রদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 457 থেকে 610 মিটার উঁচুতে, গভীরতা 38 মিটার, আর পানি বেরোনোর কোনো পথ নেই। উৎপত্তি নিয়ে তিনটি মত: মৃত কাদা-আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ, উল্কাপাত, অথবা ভূমিধস। জেলা পোর্টাল অনুযায়ী হ্রদের আশপাশে বম জনগোষ্ঠীর বাস।

জলবায়ু

জেলা পোর্টালের ভৌগোলিক পরিচিতি পাতা অনুযায়ী বান্দরবানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা 34.6° সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন 13° সেলসিয়াস, আর বার্ষিক বৃষ্টিপাত 3,031 মিলিমিটার।

বান্দরবান কিসের জন্য বিখ্যাত, কোথায় কোথায় ঘোরা যায়

বান্দরবান পরিচিত উঁচু পাহাড়, সাঙ্গু নদী, বগা লেক আর এক জেলায় বারোটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাসের জন্য। জেলা পোর্টালের দর্শনীয় স্থানের তালিকায় 16টি নাম আছে, BBS ও বাংলাপিডিয়ার তালিকায় আরও কয়েকটি। এখানে কেবল নাম ও অবস্থান; ভ্রমণের পরামর্শ এই পাতার কাজ নয়।

জায়গাকোথায়উৎস
স্বর্ণমন্দির (বুদ্ধ ধাতু জাদি)শহর থেকে প্রায় 4 কিমি, বালাঘাটা, সদরজেলা পোর্টাল
নীলাচলশহর থেকে প্রায় 6 কিমি, টাইগারপাড়ার পাহাড়চূড়া; প্রায় 1,600 ফুটবাংলা উইকিপিডিয়া
শৈলপ্রপাতশহর থেকে 8 কিমিজেলা পোর্টাল
চিম্বুকশহর থেকে প্রায় 26 কিমি, থানচি সড়কে; প্রায় 2,500 ফুটজুমজার্নাল আর্কাইভ
নীলগিরিজেলা সদর থেকে 50 কিমি, কাফ্রুপাড়া-সংলগ্ন পাহাড়চূড়া; 2,200 ফুটবাংলা উইকিপিডিয়া
মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স, রাজবাড়িসদরবাংলাপিডিয়া (সদর)
বগা লেক, কেওক্রাডং, তাজিংডং, রিজুক জলপ্রপাতরুমাবাংলাপিডিয়া (রুমা)
তিন্দু পাথর ছড়াপোর্টালের তালিকায়; তিন্দু থানচির একটি ইউনিয়নজেলা পোর্টাল; বাংলাপিডিয়া (থানচি)
আলীর সুড়ঙ্গ, মেরাইনডং পাহাড়আলীকদমজেলা পোর্টাল; বাংলাপিডিয়া
মিরিঞ্জালামা (বাংলাপিডিয়ায় “Merenga”)জেলা পোর্টাল; বাংলাপিডিয়া (লামা)
উপবন লেক, BLRIনাইক্ষ্যংছড়িBBS; বাংলাপিডিয়া

পোর্টালের তালিকার বাকি নামগুলো: প্রান্তিক লেক, ক্যওজাদি পাহাড় ও রাইংখং পুকুর। BBS-এর তালিকায় বাড়তি আছে কানাপাড়া পাহাড়, কমলং জলপ্রপাত, জীবননগর পাহাড় ও শুভ্র নীল। বাংলাপিডিয়া রোয়াংছড়িতে “Ramajak Hill” ও থানচিতে “Dim Hill”-এর নাম দিয়েছে।

স্বর্ণমন্দির, নীলগিরি ও নীলাচল কোথায়

স্বর্ণমন্দির বান্দরবান শহর থেকে প্রায় 4 কিলোমিটার দূরে বালাঘাটায়; স্থানীয় নাম “বুদ্ধ ধাতু জাদি”। জেলা পোর্টালের ভাষায় এটি দেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মন্দির, যেখানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বুদ্ধমূর্তি আছে। শহরের ভেতরে আছে জাদিপাড়ার রাজবিহার ও উজানীপাড়ার বিহার।

নীলগিরি ও নীলাচল — দুটোই জেলা পোর্টালের তালিকায় আছে, তবে অবস্থানের বিবরণ মেলে কেবল বাংলা উইকিপিডিয়ায়। সেখানে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র জেলা সদর থেকে 50 কিলোমিটার দূরে, কাফ্রুপাড়া-সংলগ্ন পাহাড়চূড়ায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 2,200 ফুট উঁচুতে; কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। নীলাচল শহর থেকে প্রায় 6 কিলোমিটার দূরে টাইগারপাড়ার পাহাড়চূড়ায়, প্রায় 1,600 ফুট উঁচুতে; জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গড়া এই কমপ্লেক্স উদ্বোধন হয় 1 জানুয়ারি 2006। বাংলাপিডিয়া নীলগিরিকে সদর উপজেলার দর্শনীয় স্থানের তালিকায় রেখেছে।

জেলা পোর্টাল চিম্বুকের পথে বম ও ম্রো গ্রামের কথা লিখেছে। পর্যটনের অর্থনীতি ও তার প্রভাবের আলোচনা আছে আর্কাইভের পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা পাতায়।

বান্দরবানের মানুষ কী করে জীবিকা চালান, কী ফসল হয়

বান্দরবানের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী জেলার আয়ের উৎসের 61.95 শতাংশ কৃষি, 9.92 শতাংশ ব্যবসা, 8.12 শতাংশ চাকরি ও 7 শতাংশ অকৃষি শ্রম; শিল্পের ভাগ 0.48 শতাংশ। জেলা পোর্টাল অনুযায়ী মোট আবাদি জমি 1,01,193.50 একর।

পোর্টালের অর্থকরী ফসলের তালিকা: আদা, হলুদ, তিল, তুলা, আনারস, কাজুবাদাম, কমলা, কলা, কাঁঠাল, লেবু, তামাক ও আখ। সম্ভাবনার খাত হিসেবে পোর্টাল লিখেছে পর্যটন, বনভিত্তিক শিল্প, চা, রাবার, বাঁশ ও তাঁতভিত্তিক হস্তশিল্প এবং ফলভিত্তিক শিল্প।

উপজেলাআয়ে কৃষির ভাগকৃষিজমির মালিক / ভূমিহীনপ্রধান রপ্তানি পণ্য
রুমা84.79%40.74% / 59.26%কলা, পেঁপে, আনারস
রোয়াংছড়ি79.79%36.58% / 63.42%কলা, আনারস, হলুদ
থানচি72.10%15.08% / 84.92%হলুদ, আদা, বেত, বাঁশ, কাঠ
লামা62.18%50.09% / 49.91%কলা, কাঁঠাল, বাঁশ, তুলা, তিল, আদা, সুতা, হলুদ
আলীকদম59.27%29.03% / 70.97%কলা, বাঁশ, আদা, রসুন, হলুদ, সবজি
নাইক্ষ্যংছড়ি51.93%43.23% / 56.77%ধান, তামাক, রাবার, কলা, পান, আদা
বান্দরবান সদর47.01%31.07% / 68.93%কলা, বাঁশ, তুলা, আদা, হলুদ, আদিবাসী পোশাক

ছকের সব সংখ্যা বাংলাপিডিয়ার উপজেলা-নিবন্ধের, যার ভিত্তি 2001 ও 2011 সালের শুমারি এবং 2007 সালের সাংস্কৃতিক সমীক্ষা। থানচিতে প্রতি সাতটি পরিবারের ছয়টিই ভূমিহীন হিসেবে গণ্য; লামায় অনুপাতটি প্রায় আধাআধি। জুমচাষ নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে: পার্বত্য চট্টগ্রামে জুমচাষ।

মুক্তিযুদ্ধে বান্দরবান: কোথায় কী ঘটেছিল

1971 সালে বান্দরবান ছিল 1 নম্বর সেক্টরের অধীন (বাংলাপিডিয়া)। BBS-এর জেলা রিপোর্ট অনুযায়ী বীর বিক্রম উ কে চিং এই জেলার বাসিন্দা — রিপোর্টের ভাষায় একমাত্র আদিবাসী বীর বিক্রম; রিপোর্টে কালাঘাটা যুদ্ধক্ষেত্রের নামও আছে। জেলায় দুটি স্মৃতিস্তম্ভ আছে (বাংলাপিডিয়া)।

বাংলাপিডিয়ার উপজেলা-নিবন্ধে ঘটনাগুলো এভাবে এসেছে (স্থাননাম নিবন্ধের রোমান বানানে):

  • সদর: Kya Ching Ghata ও Dhopachara-য় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের সংঘর্ষ।
  • নাইক্ষ্যংছড়ি: Tumkru Para ও Sonaichhari Jhumkhola Para-য় মুক্তিযোদ্ধাদের অস্থায়ী ক্যাম্প; Kachubania-য় সরাসরি যুদ্ধ।
  • লামা: লামা থানা, Trishdeba-র মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প ও Purikkha-র পাকিস্তানি ক্যাম্পে সংঘর্ষ।
  • আলীকদম: 21 এপ্রিল 1971 আলীকদম বৌদ্ধ বিহারের কাছে রাজাকারদের ওপর আক্রমণ; 5 সেপ্টেম্বর লামার রাজাকার ক্যাম্পে অভিযান।
  • রোয়াংছড়ি: নভেম্বর 1971-এর শেষে সাঙ্গু নদীতে সরাসরি যুদ্ধ।
  • রুমা: নিবন্ধ অনুযায়ী পাকিস্তানি সেনারা যুদ্ধকালে রুমা উপজেলায় ঢোকেনি।

প্রতিটি উপজেলা-নিবন্ধ বিস্তারিত বিবরণের জন্য বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির “বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ” (ঢাকা, 2020)-এর সংশ্লিষ্ট খণ্ডের উল্লেখ করেছে।

বান্দরবান কীভাবে যাওয়া যায়

বান্দরবানে যাওয়ার পথ সড়কপথ। জেলা পোর্টাল অনুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার থেকে বান্দরবানে বাস যোগাযোগ আছে। জেলার ভেতরে পাকা সড়ক 359 কিলোমিটার, আধা-পাকা 182 কিলোমিটার ও কাঁচা 150 কিলোমিটার (এক নজরে বান্দরবান)।

ভেতরের উপজেলাগুলোতে নৌপথও যোগাযোগের অংশ: বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী থানচিতে নৌপথ 40 কিমি, আলীকদমে 35 কিমি, সদরে 30 কিমি। বিদেশি নাগরিকদের জন্য জেলা পোর্টালের মেনুতে “বিদেশি নাগরিক ভ্রমণ আবেদন” নামে আলাদা ব্যবস্থা আছে। পোর্টালের যোগাযোগ-বিবরণে রেলপথের কোনো উল্লেখ নেই।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

বান্দরবান কোথায় অবস্থিত?

বান্দরবান বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে, চট্টগ্রাম বিভাগের একটি পার্বত্য জেলা। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এর অবস্থান 21°11′ থেকে 22°22′ উত্তর অক্ষাংশ এবং 92°04′ থেকে 92°41′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। উত্তরে রাঙামাটি, দক্ষিণে মিয়ানমারের আরাকান, পশ্চিমে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা। জেলা শহরটি সাঙ্গু নদীর তীরে, আর জেলার সাতটি উপজেলার তিনটির সীমানা মিয়ানমারের সঙ্গে।

বান্দরবান জেলার আয়তন কত?

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) জনশুমারি 2022 এবং জেলা প্রশাসনের পোর্টাল অনুযায়ী বান্দরবান জেলার আয়তন 4,479.03 বর্গ কিলোমিটার। বাংলাপিডিয়া লিখেছে 4,479.01 বর্গ কিলোমিটার এবং একে চট্টগ্রাম বিভাগের 11 জেলার মধ্যে আয়তনে তৃতীয় বলেছে। সাত উপজেলার মধ্যে থানচি সবচেয়ে বড়, 1,020.82 বর্গ কিলোমিটার।

বান্দরবান কবে জেলা হয়?

বান্দরবান 1951 সালে মহকুমা এবং 1981 সালে জেলা হয়। তারিখ নিয়ে উৎসে অমিল আছে: বান্দরবান জেলা পোর্টাল বলছে 18 এপ্রিল 1981, বাংলাপিডিয়া বলছে 1 অক্টোবর 1981, আর BBS শুধু 1981 সাল উল্লেখ করেছে। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবানই প্রথম আলাদা জেলা হয়; খাগড়াছড়ি হয় 1983 সালে।

বান্দরবান নামটি কীভাবে এল?

জেলা প্রশাসনের পোর্টাল একটি কিংবদন্তি দিয়েছে: বর্ষায় ছড়ার পানি বাড়লে বানরেরা একে অপরকে ধরে সারি বেঁধে ছড়া পার হতো। সেই থেকে মারমা ভাষায় জায়গাটির নাম হয় “ম্যাঅকছি ছড়া” — “ম্যাঅক” অর্থ বানর, “ছি” অর্থ বাঁধ। বাংলাভাষীদের মুখে তা হয়ে যায় বান্দরবান। পোর্টাল নিজেই একে প্রচলিত রূপকথা বলেছে।

বান্দরবান জেলায় কয়টি উপজেলা ও কী কী?

বান্দরবান জেলায় 7টি উপজেলা: বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি। জেলা পোর্টাল অনুযায়ী এর সঙ্গে আছে 7টি থানা, 2টি পৌরসভা (বান্দরবান ও লামা), 34টি ইউনিয়ন ও 96টি মৌজা। জনশুমারি 2022 অনুযায়ী সবচেয়ে জনবহুল উপজেলা লামা (1,39,689 জন), সবচেয়ে কম রোয়াংছড়ি (27,721 জন)।

বান্দরবানের জনসংখ্যা কত?

BBS-এর জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022 অনুযায়ী বান্দরবান জেলার জনসংখ্যা 4,81,106 জন — পুরুষ 2,46,947, নারী 2,34,146 এবং হিজড়া 13 জন। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাস করেন 107 জন, আর 7 বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের সাক্ষরতার হার 63.74 শতাংশ।

বান্দরবানে কোন কোন আদিবাসী জনগোষ্ঠী থাকেন?

BBS-এর জনশুমারি 2022-এর সারণি অনুযায়ী বান্দরবানে মারমা 84,170, ম্রো 51,448, ত্রিপুরা 22,572, তঞ্চঙ্গ্যা 14,889, বম 11,854, চাকমা 3,712, খুমি 3,287, চাক 2,662 ও খিয়াং 2,502 জন। এর সঙ্গে আছেন রাখাইন 355, লুসাই 58 ও পাংখোয়া 55 জন। জেলার মোট জনসংখ্যার 1,97,983 জন এই গণনায় পড়েছেন।

বান্দরবান কত নং আসন?

বান্দরবান জেলা পোর্টাল অনুযায়ী পুরো জেলা মিলে জাতীয় সংসদের একটিই নির্বাচনী এলাকা: 300 নং আসন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা। জেলার সাতটি উপজেলাই এই এক আসনের ভেতরে। জেলা পরিষদের আসন কীভাবে ভাগ হয় সেটি আলাদা বিষয়, তার নিয়ম বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989-এ দেওয়া আছে।

বান্দরবান কিসের জন্য বিখ্যাত?

বান্দরবান পরিচিত তার উঁচু পাহাড় ও জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যের জন্য। কেওক্রাডং, তাজিংডং ও সাকা হাফং — দেশের সর্বোচ্চ চূড়ার তিন দাবিদারই এই জেলায়। আছে বগা লেক, সাঙ্গু নদী, চিম্বুক, নীলগিরি, নীলাচল ও বালাঘাটার স্বর্ণমন্দির। জনশুমারি 2022 অনুযায়ী দেশের ম্রো, বম, খুমি ও চাক জনগোষ্ঠীর প্রায় সবাই এই এক জেলায় থাকেন।

বান্দরবান স্বর্ণ মন্দির কোথায় অবস্থিত?

স্বর্ণমন্দির বান্দরবান শহর থেকে প্রায় 4 কিলোমিটার দূরে বালাঘাটায়, বান্দরবান সদর উপজেলায়। জেলা পোর্টাল অনুযায়ী এর স্থানীয় নাম “বুদ্ধ ধাতু জাদি”। পোর্টালের ভাষায় এটি দেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মন্দির, এবং এখানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বুদ্ধমূর্তি আছে। বাংলাপিডিয়াও সদর উপজেলার দর্শনীয় স্থানের তালিকায় একে রেখেছে।

নীলগিরি ও নীলাচল বান্দরবানের কোথায়?

বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র বান্দরবান জেলা সদর থেকে 50 কিলোমিটার দূরে, কাফ্রুপাড়া-সংলগ্ন পাহাড়চূড়ায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 2,200 ফুট উঁচুতে। নীলাচল শহর থেকে প্রায় 6 কিলোমিটার দূরে টাইগারপাড়ার পাহাড়চূড়ায়, প্রায় 1,600 ফুট উঁচুতে; জেলা প্রশাসনের এই কমপ্লেক্স উদ্বোধন হয় 1 জানুয়ারি 2006 তারিখে।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া কোনটি — কেওক্রাডং, তাজিংডং না সাকা হাফং?

তিনটিই বান্দরবানে, আর উৎসভেদে উত্তর আলাদা। BBS-এর জেলা রিপোর্ট ও জেলা পোর্টাল তাজিংডংকে সর্বোচ্চ বলছে; উইকিপিডিয়ায় তার উচ্চতা 830 মিটার। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী কেওক্রাডংয়ের GPS পাঠ 974 মিটার। সাকা হাফংয়ের পাঠ 1,052 থেকে 1,064 মিটারের মধ্যে। জরিপ অধিদপ্তর 4 থেকে 12 এপ্রিল 2026 রুমা ও থানচিতে GNSS জরিপ চালিয়েছে।

বান্দরবান কীভাবে যাব?

বান্দরবান যাওয়ার পথ সড়কপথ। জেলা পোর্টাল অনুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার থেকে বান্দরবানে বাস চলাচল করে। জেলার ভেতরে পাকা সড়ক 359 কিলোমিটার, আধা-পাকা 182 কিলোমিটার ও কাঁচা 150 কিলোমিটার। বিদেশি নাগরিকদের ভ্রমণের জন্য জেলা পোর্টালে আলাদা আবেদন-ব্যবস্থা আছে; পোর্টালের যোগাযোগ-বিবরণে রেলপথের উল্লেখ নেই।

বগা লেক কোথায়, কত গভীর?

বগা লেক বা বগাকাইন হ্রদ বান্দরবানের রুমা উপজেলার নাইতং মৌজায়। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 457 থেকে 610 মিটার উঁচুতে, গভীরতা 38 মিটার, এবং পানি বেরোনোর কোনো পথ নেই। উৎপত্তি নিয়ে তিনটি মত আছে: মৃত কাদা-আগ্নেয়গিরি, উল্কাপাত ও ভূমিধস। হ্রদের আশপাশে বম জনগোষ্ঠীর বাস।

যা এখনো জানা যায়নি

  • নামকরণ: “ম্যাঅকছি ছড়া”, “রদ ক্যওচি ম্রো” ও “বোমাং থং” — তিনটি নামেরই উৎস একটি, জেলা পোর্টাল, এবং পোর্টাল নিজেই কাহিনিটিকে কিংবদন্তি বলেছে। মারমা ভাষার নিজস্ব কোনো উৎসে বানান ও অর্থ মেলানো যায়নি; “বোমাং থং” নামের অর্থ পোর্টালে ব্যাখ্যা করা নেই।
  • জেলা হওয়ার তারিখ: 18 এপ্রিল 1981 (বান্দরবান পোর্টাল) আর 1 অক্টোবর 1981 (বাংলাপিডিয়া) — দুটি তারিখের কোনটি কোন প্রজ্ঞাপনের, জানা যায়নি।
  • পূর্ব সীমানা ও দ্রাঘিমাংশ: পোর্টাল ও BBS পূর্বে “ভারত” লিখেছে, বাংলাপিডিয়া লিখেছে মিয়ানমারের চিন প্রদেশ ও রাঙামাটি; দ্রাঘিমাংশ তিন উৎসে তিন রকম।
  • সর্বোচ্চ চূড়া: এপ্রিল 2026-এর GNSS জরিপের ঘোষিত ফল পাওয়া যায়নি। সরকারি পাতাগুলো তাজিংডংকে সর্বোচ্চ বলছে, অন্য উৎস সাকা হাফংকে।
  • নীলগিরি ও নীলাচল: অবস্থান ও উচ্চতার একমাত্র উৎস বাংলা উইকিপিডিয়া; সরকারি কোনো পাতায় সংখ্যাগুলো মেলানো যায়নি।
  • 2022 শুমারির উপজেলাভিত্তিক বিবরণ: উপজেলা ধরে সাক্ষরতা, ধর্ম ও জনগোষ্ঠীর 2022 সালের সংখ্যা এই লেখার উৎসে নেই; উপজেলা-স্তরের এসব তথ্য 2011 সালের।
  • কোন জনগোষ্ঠী কোন উপজেলায় কতজন: BBS-এর সারণি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দেয় জেলা ধরে, আর উপজেলা ধরে দেয় কেবল মোট আদিবাসী সংখ্যা; দুটির আড়াআড়ি হিসাব পাওয়া যায়নি।
  • “অন্যান্য” ধর্মের 21,738 জন: কোন ধর্মের কত, BBS-এর সারণিতে ভাগ নেই।
  • বাঁকখালী নদী: দৈর্ঘ্য এবং বান্দরবানের ভেতরে এর অংশ কতটুকু, জানা যায়নি। সাঙ্গু নদীর মারমা নামও কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
  • বোমাং সার্কেল: সার্কেলের মোট মৌজা-সংখ্যা, বর্তমান চিফের নাম ও রাজপুণ্যাহর বিবরণ এই লেখার কোনো উৎসে নেই।
  • দূরত্ব ও রেলপথ: ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবানের সড়ক-দূরত্ব এবং নিকটতম রেলস্টেশন কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
  • পোর্টালের পুরনো সংখ্যা: জেলা পোর্টালে সাক্ষরতা 43 শতাংশ ও ঘনত্ব 67 লেখা, যা BBS 2022-এর সঙ্গে মেলে না; জনসংখ্যাও 3 জন বেশি।
  • স্থাননামের বাংলা বানান: বাংলাপিডিয়ার পাহাড়, বাজার ও যুদ্ধক্ষেত্রের রোমান বানানগুলোর স্থানীয় বাংলা রূপ মেলানো যায়নি।

তথ্যসূত্র

  1. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS), Population and Housing Census 2022, District Report: Bandarban — লিংক
  2. BBS, Population and Housing Census 2022, District Report: Rangamati — লিংক
  3. BBS, Population and Housing Census 2022, District Report: Khagrachhari — লিংক
  4. বান্দরবান জেলা প্রশাসন, “এক নজরে বান্দরবান”, জেলা তথ্য বাতায়ন — লিংক
  5. বান্দরবান জেলা প্রশাসন, “জেলা প্রশাসনের পটভূমি”, জেলা তথ্য বাতায়ন — লিংক
  6. বান্দরবান জেলা প্রশাসন, “ভৌগোলিক পরিচিতি”, জেলা তথ্য বাতায়ন — লিংক
  7. বান্দরবান জেলা প্রশাসন, উপজেলার তালিকা, জেলা তথ্য বাতায়ন — লিংক
  8. বান্দরবান জেলা প্রশাসন, “জেলার ঐতিহ্য”, জেলা তথ্য বাতায়ন — লিংক
  9. বান্দরবান জেলা প্রশাসন, “প্রাকৃতিক সম্পদ” (লামা উপজেলার বিবরণ), জেলা তথ্য বাতায়ন — লিংক
  10. রাঙামাটি জেলা প্রশাসন, জেলার ইতিহাস, জেলা তথ্য বাতায়ন — লিংক
  11. রাঙামাটি জেলা প্রশাসন, “এক নজরে রাঙামাটি”, জেলা তথ্য বাতায়ন — লিংক
  12. রাঙামাটি জেলা প্রশাসন, রাজস্থলী উপজেলার মৌজা-তথ্য, জেলা তথ্য বাতায়ন — লিংক
  13. Atikur Rahman, “Bandarban District”, Banglapedia, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি — লিংক
  14. Atikur Rahman, “Bandarban Sadar Upazila”, Banglapedia — লিংক
  15. Atikur Rahman, “Rowangchhari Upazila”, Banglapedia — লিংক
  16. Atikur Rahman, “Ruma Upazila”, Banglapedia — লিংক
  17. Atikur Rahman, “Thanchi Upazila”, Banglapedia — লিংক
  18. Atikur Rahman, “Lama Upazila”, Banglapedia — লিংক
  19. Atikur Rahman, “Alikadam Upazila”, Banglapedia — লিংক
  20. Atikur Rahman, “Naikhongchhari Upazila”, Banglapedia — লিংক
  21. “Chittagong Hill Tracts”, Banglapedia — লিংক
  22. “Keokradong”, Banglapedia — লিংক
  23. “Sangu River”, Banglapedia — লিংক
  24. “Matamuhuri River”, Banglapedia — লিংক
  25. Siftul Quader Chowdhury, “Bakkhali River”, Banglapedia — লিংক
  26. “Bagakain Lake”, Banglapedia — লিংক
  27. “Tazing Dong”, Wikipedia (ইংরেজি) — লিংক
  28. “Saka Haphong”, Wikipedia (ইংরেজি) — লিংক
  29. “নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র”, উইকিপিডিয়া (বাংলা) — লিংক
  30. “নীলাচল”, উইকিপিডিয়া (বাংলা) — লিংক
  31. “Survey to determine highest mountain peak begins”, Dhaka Tribune, এপ্রিল 2026 — লিংক
  32. ইলিরা দেওয়ান, মতামত কলাম, প্রথম আলো, 6 ফেব্রুয়ারি 2023 — লিংক
  33. জুমজার্নাল, “সার্কেল চিফ: তিনটি সার্কেল, আর রাজার ক্ষমতা আসলে কতটুকু” — লিংক
  34. জুমজার্নাল, “ম্রো জাতি: ক্রামা, বর্ণমালা ও চিম্বুকের পাহাড়” — লিংক
  35. জুমজার্নাল, “বম জাতি: নাম, গোত্র, খ্রিষ্টধর্ম ও নিজস্ব বর্ণমালা” — লিংক
  36. জুমজার্নাল, “খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখোয়া, লুসাই: পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী” — লিংক

সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:ইতিহাস ও রাজনীতি

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা