Last updated Oct 19th, 2026

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কবে গঠিত হয়, কোথায় অবস্থিত, আর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী? সোজা উত্তর: বোর্ডটি গঠিত হয় 1976 সালে, প্রধান কার্যালয় রাঙ্গামাটিতে, এখন চলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, 2014 (2014 সনের 8 নং আইন) অনুযায়ী। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয় 15 জুলাই 1998, ঠিকানা ঢাকার বাংলাদেশ সচিবালয়; বোর্ডটি এই মন্ত্রণালয়েরই অধীন একটি সংস্থা।
দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রায়ই একসঙ্গে আসে, অথচ এদের জন্ম দুই আলাদা সময়ে, দুই আলাদা কারণে। বোর্ড এসেছে 1976 সালের একটি অধ্যাদেশ থেকে; মন্ত্রণালয় এসেছে 1997 সালের পার্বত্য চুক্তির একটি দফা থেকে। এই পাতায় দুটিরই গঠনের তারিখ, ঠিকানা, কাজ, আইনি ভিত্তি (আইন ও ধারার নম্বরসহ), 1976 ও 1998 থেকে প্রধানদের পূর্ণ তালিকা এবং বোর্ডের শিক্ষাবৃত্তির নিয়ম সরকারি উৎস ধরে সাজানো হয়েছে।
পদধারীদের নাম দ্রুত বদলায়; 2026 সালেই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে তিনজনের নাম এসেছে। তাই “বর্তমান” বলা প্রতিটি নামের পাশে লেখা আছে তথ্যটি কোন সরকারি পাতার এবং পাতাটি কবে হালনাগাদ হয়েছে। আঞ্চলিক পরিষদের গঠন ও ক্ষমতা এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের আসন-বণ্টন নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে; এখানে সেগুলোর পুনরাবৃত্তি নেই, কেবল সম্পর্কটুকু ধারা ধরে দেখানো হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বাকি বিষয়গুলোর সূচি পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব পাতায়।
সূচিপত্র
উন্নয়ন বোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, যার কাজ তিন পার্বত্য জেলায় প্রকল্প ও স্কিম তৈরি ও বাস্তবায়ন; মন্ত্রণালয় সরকারের একটি মন্ত্রণালয়, যার কাজ নীতি, সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান। বোর্ড 22 বছরের বড়। নিচের ছকে দুটির মূল তথ্য পাশাপাশি, প্রতিটির বিস্তারিত ও উৎস পরের অংশগুলোতে।
| বিষয় | পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড | পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
|---|---|---|
| গঠন | 1976: প্রথমে 14 জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে, পরে 21 অক্টোবরের অধ্যাদেশে | 15 জুলাই 1998 |
| আইনি ভিত্তি | পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, 2014 (2014 সনের 8 নং আইন); আগে Ordinance No. LXXVII of 1976 | পার্বত্য চুক্তির (ঘ) খণ্ডের 19 দফা; কাজ নির্ধারিত Rules of Business, 1996-এর Schedule I-এ |
| প্রধান কার্যালয় | রাঙ্গামাটি (আইনের ধারা 4) | ভবন নম্বর 4, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা-1000 |
| প্রধানের পদ | চেয়ারম্যান (প্রধান নির্বাহী) | মন্ত্রী; প্রশাসনিক প্রধান সচিব |
| কার অধীনে | মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে; দায়িত্ব পালন আঞ্চলিক পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে (ধারা 9(2)) | গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার |
| মূল কাজ | প্রকল্প ও স্কিম প্রণয়ন, অনধিক 2 কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন, বাস্তবায়ন ও তদারকি | পরিকল্পনা প্রণয়ন, সমন্বয়, আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ-সংক্রান্ত বিষয়, বোর্ডের প্রশাসন |
| রাজস্ব বাজেটের জনবল (অনুমোদিত / পূরণকৃত) | 151 / 125 | 81 / 61 |
জনবলের সংখ্যা মন্ত্রণালয়ের “পটভূমি” পাতা থেকে নেওয়া, যে পাতা সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে 31 মার্চ 2026।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড গঠিত হয় 1976 সালে। দলিলে তারিখ তিনটি: 14 জানুয়ারি 1976 (মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে প্রথম বোর্ড), 21 অক্টোবর 1976 (অধ্যাদেশ জারি), আর 8 জুলাই 2014 (অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন আইন)। “কবে গঠিত” প্রশ্নের উত্তরে প্রথম দুটির যেকোনোটি আসতে পারে; তৃতীয়টি পুনঃপ্রণয়নের তারিখ।
Chittagong Hill Tracts Development Board Ordinance, 1976-এর 23 ধারার শিরোনাম “Dissolution of the existing Chittagong Hill Tracts Development Board”। ধারাটি বলছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন নং 21/2/76-Rules, তারিখ 14 জানুয়ারি 1976, দিয়ে একটি বোর্ড আগেই গঠিত ছিল। অধ্যাদেশের অধীনে নতুন বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হলে সেই “existing Board” বিলুপ্ত হবে, প্রজ্ঞাপনটি বাতিল হবে, আর পুরোনো বোর্ডের সম্পদ, দায়, বাজেট-প্রাক্কলন, স্কিম, প্রকল্প, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মামলা নতুন বোর্ডে চলে যাবে।
অধ্যাদেশটির পুরো নাম The Chittagong Hill Tracts Development Board Ordinance, 1976 (Ordinance No. LXXVII of 1976), তারিখ 21 অক্টোবর 1976। প্রস্তাবনায় লেখা, 20 আগস্ট 1975 ও 8 নভেম্বর 1975-এর ফরমান (Proclamations) অনুসারে রাষ্ট্রপতি এটি জারি করেন। 3 ধারা অনুযায়ী অধ্যাদেশ চালু হওয়ার পর “as soon as may be” সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে বোর্ড প্রতিষ্ঠা করবে। সেই গেজেট প্রজ্ঞাপনের তারিখ কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের আইনের সরকারি সংকলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, 2014-এর তারিখ 8 জুলাই 2014। আইনের দীর্ঘ শিরোনাম বলছে এটি 1976 সালের অধ্যাদেশ “রহিতপূর্বক সংশোধনসহ উহা পুনঃপ্রণয়নকল্পে প্রণীত”। 25 ধারায় অধ্যাদেশ রহিত হয়েছে, তবে পুরোনো বোর্ডের সম্পদ, দায়, চুক্তি, মামলা ও কর্মচারী নতুন বোর্ডে বহাল রাখা হয়েছে; অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি ভাঙেনি, আইনি ভিত্তি বদলেছে।
The Financial Express-এর খবর অনুযায়ী জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হয় বুধবার, 2 জুলাই 2014, কণ্ঠভোটে; বিলটি সংসদে তোলা হয়েছিল 8 এপ্রিল 2014। The Daily Star লিখেছে, বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর। আইনের পূর্ণ পাঠ আমাদের আর্কাইভে আছে: পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন।
বোর্ডের নিজের চেয়ারম্যান-তালিকায় প্রথম চেয়ারম্যানের কার্যকাল শুরু 01/01/1976, যা 14 জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনেরও আগের তারিখ। বাংলা উইকিপিডিয়ার তথ্যছকে প্রতিষ্ঠাসাল 1978, ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় 1976; অধ্যাদেশের মূল পাঠ 1976 বলে।
অধ্যাদেশ নিজে কারণ হিসেবে এক লাইনই বলে: পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য একটি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা “expedient”। এর বাইরে প্রেক্ষাপটের বিবরণ আসে মাধ্যমিক উৎস থেকে। বাংলাপিডিয়া বোর্ড গঠনকে সেই সময়ের সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি নেওয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অংশ বলেছে।
বাংলাপিডিয়ার পার্বত্য চুক্তি-ভুক্তি অনুযায়ী 1975 থেকে 1977 সালের মধ্যে শান্তিবাহিনী তার সামরিক সংগঠন গড়ে তোলে; পার্বত্য চট্টগ্রামকে 24 ডিভিশনের জিওসির অধীনে রাখা হয়। ভুক্তিটি লিখেছে, সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে সরকার পাহাড়ের মানুষকে শান্ত করতে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেয়, আর উন্নয়ন বোর্ড গঠিত হয়। একই ভুক্তির ভাষ্য: পাহাড়ের মানুষের বোর্ডের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় আস্থা কম ছিল, এর চেয়ারম্যান ছিলেন 24 ডিভিশনের জিওসি, এবং বোর্ড মূলত বাঙালিদের দ্বারা পরিচালিত হতো। এটি বাংলাপিডিয়ার মূল্যায়ন, সরকারি ভাষ্য নয়।
বোর্ডের নিজের তালিকা এই বিবরণের একটি অংশের সঙ্গে মেলে, একটি অংশের সঙ্গে মেলে না: জিওসি চেয়ারম্যান হন 3 ডিসেম্বর 1983 থেকে; তার আগে, 1976 থেকে 1983 পর্যন্ত, চেয়ারম্যান ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার (নিচে পূর্ণ তালিকা)।
ইংরেজি উইকিপিডিয়ার ভাষ্য, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শান্তিবাহিনীর বিদ্রোহের জবাবে বোর্ডটি গঠন করেন; এটি উইকিপিডিয়ারই দাবি। অধ্যাদেশের পাঠে কেবল “the President” আছে, কোনো নাম নেই।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয় রাঙ্গামাটিতে। 2014 সালের আইনের 4 ধারা অনুযায়ী বোর্ড সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় শাখা স্থাপন করতে পারে। 1976 সালের অধ্যাদেশের 5 ধারাতেও প্রধান কার্যালয় ছিল রাঙ্গামাটি।
বোর্ডের সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতিতে (সিটিজেন চার্টার; প্রকাশ 12-10-2025, পাতা হালনাগাদ 29 সেপ্টেম্বর 2026) তিন জেলার জন্য আলাদা নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর দেখানো আছে। কর্মকর্তাদের পাতায় চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানের দপ্তরের নম্বর আছে।
| দপ্তর | ফোন | ই-মেইল |
|---|---|---|
| চেয়ারম্যানের দপ্তর, রাঙ্গামাটি | +8802333373224 | chairman@chtdb.gov.bd |
| ভাইস-চেয়ারম্যানের দপ্তর, রাঙ্গামাটি | 02333373226 | vc@chtdb.gov.bd |
| নির্বাহী প্রকৌশলী, রাঙ্গামাটি | 02333373234 | xen-rmt@chtdb.gov.bd |
| নির্বাহী প্রকৌশলী, খাগড়াছড়ি | 0233334361 | xen-khag@chtdb.gov.bd |
| নির্বাহী প্রকৌশলী, বান্দরবান | 02333302481 | xen-ban@chtdb.gov.bd |
নম্বরগুলো সরকারি পাতায় যেমন ছাপা আছে তেমনই দেওয়া হলো; সেবা প্রতিশ্রুতির আরেকটি সারিতে রাঙ্গামাটির নির্বাহী প্রকৌশলীর নম্বর 02333372470 লেখা।
সেবা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাঙ্গামাটিতে বোর্ডের দুটি স্থাপনা খালি থাকা সাপেক্ষে ভাড়া দেওয়া হয়: কর্ণফুলী সম্মেলন কক্ষ 10,000 টাকা ও মাইনী মিলনায়তন 15,000 টাকা, দুই ক্ষেত্রেই 15% ভ্যাট প্রযোজ্য। আবেদন করতে হয় বোর্ডের প্রশাসন অধিশাখায়, সিদ্ধান্ত 3 কার্যদিবসের মধ্যে। বোর্ডের রেস্ট হাউজের ভাড়া বা বুকিংয়ের কোনো তথ্য সেবা প্রতিশ্রুতিতে নেই।
আইনের 6 ধারা অনুযায়ী বোর্ডে একজন চেয়ারম্যান, একজন ভাইস-চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য থাকেন; ছয়জনই সরকার-নিযুক্ত ও সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা। চেয়ারম্যান প্রধান নির্বাহী। তবে বোর্ডের সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন ন্যস্ত 14 সদস্যের “পরিচালনা বোর্ড”-এর ওপর (ধারা 5 ও 8)।
6(2) ধারার প্রথম শর্ত: “চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার উপজাতীয়দেরকে অগ্রাধিকার প্রদান করিবে”। দ্বিতীয় শর্ত: ভাইস-চেয়ারম্যান হবেন সরকারের অন্যূন যুগ্ম-সচিব, সদস্যরা অন্যূন উপ-সচিব। মেয়াদ ও শর্ত সরকার ঠিক করে; আইনে নির্দিষ্ট মেয়াদ লেখা নেই। চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে ভাইস-চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেন (ধারা 6(5))। 7 ধারায় অযোগ্যতা, অপসারণ ও পদত্যাগের বিধান।
অগ্রাধিকারের এই শর্তটি এসেছে পার্বত্য চুক্তি থেকে। চুক্তির (গ) খণ্ডের 10 দফার দ্বিতীয় বাক্য: “উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার যোগ্য উপজাতীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার প্রদান করিবেন” (চুক্তির মূল পাঠ)। 1976 সালের অধ্যাদেশে এমন কোনো শর্ত ছিল না।
| দফা | সদস্য | সংখ্যা |
|---|---|---|
| (ক) | চেয়ারম্যান, যিনি সভাপতি | 1 |
| (খ) | ভাইস-চেয়ারম্যান, যিনি সহ-সভাপতি | 1 |
| (গ) | পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের মনোনীত একজন প্রতিনিধি | 1 |
| (ঘ) | রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক, পদাধিকারবলে | 3 |
| (ঙ) | পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মনোনীত অন্যূন উপ-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা | 1 |
| (চ) | তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের মনোনীত একজন করে প্রতিনিধি | 3 |
| (ছ) | বোর্ডের চারজন সদস্য; তাঁদের একজন সদস্য-সচিব | 4 |
| মোট | 14 |
আইনে মোট সংখ্যাটি লেখা নেই; দফা ধরে গুনলে 14 দাঁড়ায়। 10 ধারা অনুযায়ী প্রতি 3 মাসে অন্তত একটি সভা হবে, কোরাম অন্যূন 8 জন, সিদ্ধান্ত উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে, আর সমান ভোটে সভাপতির একটি নির্ণায়ক ভোট আছে।
11 ধারার পরামর্শক কমিটির কাজ প্রকল্প ও স্কিম তৈরি এবং বাস্তবায়নে বোর্ডকে পরামর্শ দেওয়া। সদস্য: চেয়ারম্যান (সভাপতি); তিনজন সার্কেল চিফ বা তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধি; সরকার-মনোনীত, প্রতি পার্বত্য জেলা থেকে একজন করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, একজন করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও একজন করে হেডম্যান; এবং চেয়ারম্যানের মনোনীত সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তিনজন সদস্য। হেডম্যান মনোনয়নে আইন বলছে “সার্কেল চীফের সহিত পরামর্শক্রমে”।
আইনের 2(11) ধারায় “সার্কেল চীফ” বলতে চাকমা, বোমাং ও মং সার্কেল চিফকে বোঝানো হয়েছে। এই পদগুলোর পরিচয় আমাদের আলাদা লেখায় আছে: সার্কেল চিফ ও তিনটি সার্কেল এবং মৌজা হেডম্যান ও কার্বারির দায়িত্ব।
বোর্ডের সাইটে পরামর্শক কমিটির পাতার শিরোনাম “পরামর্শক কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চলমান”; পাতাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে 27 ফেব্রুয়ারি 2025, সদস্যদের কোনো তালিকা সেখানে নেই।
2014 সালের আইন অধ্যাদেশের কাঠামো রেখে পাঁচটি বড় জায়গায় বদল এনেছে: প্রকল্প অনুমোদনের সীমা 25 লক্ষ থেকে 2 কোটি টাকা, পরিচালনায় আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদের প্রতিনিধি, আঞ্চলিক পরিষদের তত্ত্বাবধান, চেয়ারম্যান নিয়োগে অগ্রাধিকারের শর্ত, আর ভূমি অধিগ্রহণে জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন। নিচের ছকটি দুই পাঠ পাশাপাশি রেখে বানানো।
| বিষয় | অধ্যাদেশ, 1976 (1984 পর্যন্ত সংশোধিত) | আইন, 2014 |
|---|---|---|
| বোর্ডের গঠন | চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান, তিন জেলার ডেপুটি কমিশনার (পদাধিকারবলে) ও চারজন সার্বক্ষণিক সদস্য (ধারা 4) | চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও চার সদস্য (ধারা 6); আলাদা 14 সদস্যের পরিচালনা বোর্ড (ধারা 8) |
| চেয়ারম্যান নিয়োগ | সরকার নিয়োগ দেয়; কোনো অগ্রাধিকারের শর্ত নেই (ধারা 4(1)(a)) | সরকার নিয়োগ দেয়; “উপজাতীয়দেরকে অগ্রাধিকার” (ধারা 6(2)) |
| আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদের প্রতিনিধি | নেই | আঞ্চলিক পরিষদের 1 জন, তিন জেলা পরিষদের 1 জন করে (ধারা 8) |
| সভা ও কোরাম | প্রতি দুই মাসে অন্তত একটি সভা; কোরাম 3 (ধারা 6) | প্রতি 3 মাসে অন্তত একটি সভা; কোরাম 8 (ধারা 10) |
| প্রকল্প অনুমোদনের সীমা | প্রতিটি অনধিক 25 লক্ষ টাকা, থানা সদর, ইউনিয়ন ও গ্রামের জন্য (ধারা 8(b)) | অনধিক 2 কোটি টাকা, উপজেলা সদর, ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলের জন্য (ধারা 9(1)(খ)) |
| ঘূর্ণায়মান তহবিল | অনধিক 2 কোটি টাকা (ধারা 11(2)(a)) | অনধিক 3 কোটি টাকা (ধারা 13(1)(ক)) |
| পরামর্শক কমিটি | “the three Rajas or their nominees”; প্রতি মহকুমা থেকে হেডম্যানদের একজন প্রতিনিধি ও একজন ইউপি চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যানের মনোনয়নে (ধারা 7) | “তিন জন সার্কেল চীফ” বা প্রতিনিধি; প্রতি জেলা থেকে একজন করে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও হেডম্যান, সরকারের মনোনয়নে (ধারা 11) |
| আঞ্চলিক পরিষদের তত্ত্বাবধান | নেই (পরিষদ তখন ছিল না) | “আঞ্চলিক পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বোর্ড উহার দায়িত্ব পালন করিবে” (ধারা 9(2)) |
| ভূমি অধিগ্রহণ | সরকার বা ডেপুটি কমিশনার বোর্ডের জন্য হুকুমদখল বা অধিগ্রহণ করতে পারেন (ধারা 16) | আগে সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন, তারপর সরকার অধিগ্রহণ করতে পারে (ধারা 15) |
| ভূমিতে প্রবেশ | অন্তত 24 ঘণ্টার নোটিশ (ধারা 15) | অন্যূন 24 ঘণ্টার নোটিশ; ক্ষতি হলে বোর্ড ক্ষতিপূরণ দেবে (ধারা 14) |
| বার্ষিক প্রতিবেদন | অর্থবছর শেষে “as soon as possible” (ধারা 14) | অর্থবছর শেষের পরবর্তী 90 দিনের মধ্যে (ধারা 20) |
| সরকারের নির্দেশনা | সরকার নির্দেশ দিতে পারে, বোর্ড মানতে বাধ্য (ধারা 18) | সরকার পরিচালনা বোর্ডকে নির্দেশনা দিতে পারে, পরিচালনা বোর্ড মানতে বাধ্য (ধারা 21) |
অধ্যাদেশটি নিজেও তিনবার সংশোধিত হয়েছিল, যা তার পাদটীকা থেকে জানা যায়। Development Boards Laws Amendment Ordinance, 1982 (Ordinance No. XLV of 1982) বোর্ডের গঠনের উপধারা ও প্রকল্প অনুমোদনের দফা প্রতিস্থাপন করে এবং বান্দরবান জেলার নাম যোগ করে। 1983 সালের সংশোধনী (Ordinance No. XLIV of 1983) সার্বক্ষণিক সদস্য তিন থেকে চার করে। 1984 সালের সংশোধনী (Ordinance No. IX of 1984) খাগড়াছড়ি জেলার নাম যোগ করে।
আইনের 9(1) ধারায় বোর্ডের কাজ পাঁচটি: পার্বত্য জেলাগুলোর জন্য প্রকল্প ও স্কিম প্রণয়ন; অনধিক 2 কোটি টাকার প্রকল্প ও স্কিম অনুমোদন; অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকি; উন্নয়ন সংস্থার আর্থিক বা কারিগরি সহায়তার প্রকল্প বাস্তবায়ন; এবং এসবের আনুষঙ্গিক কাজ।
12 ধারা বোর্ডকে আরেকটি পথ দেয়: অনুমোদিত প্রকল্পের এলাকা কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সরকারি সংস্থার এখতিয়ারে পড়লে বোর্ড তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিতে পারে; খরচ ভাগ নিয়ে মতানৈক্য হলে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
বোর্ডের ভিশন “উন্নত সমৃদ্ধ পার্বত্য চট্টগ্রাম”। সেবা প্রতিশ্রুতির মিশনে খাতগুলো এভাবে বলা: দুর্গম এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি ও সেচ, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশে অবকাঠামো নির্মাণ এবং জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন।
সেবা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রকল্প বা স্কিমের আবেদন নেওয়া হয় বছরব্যাপী, বিনামূল্যে; আবেদন ফরম বোর্ডের ওয়েবসাইটে। ধাপগুলো এই: পরামর্শক কমিটির যাচাই-বাছাই, পরিচালনা বোর্ডের সভায় অনুমোদন, তারপর প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে চূড়ান্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন।
| প্রকল্প / স্কিম | মেয়াদ | প্রাক্কলিত ব্যয় | উৎস |
|---|---|---|---|
| পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় সুগারক্রপ চাষাবাদ জোরদারকরণ প্রকল্প | জুলাই 2021 – জুন 2025 | 2580.83 লক্ষ টাকা | প্রকল্প-পাতা |
| পার্বত্য চট্টগ্রামে তুলা চাষ বৃদ্ধি ও কৃষকদের দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প (তিন জেলার 26 উপজেলা) | জানুয়ারি 2020 – ডিসেম্বর 2024 | 4849.20 লক্ষ টাকা | প্রকল্প-পাতা |
| কফি ও কাজুবাদাম চাষের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্প | সাইটের মেনুতে লেখা নেই | — | বোর্ডের মেনু |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্প, 2য় পর্যায় | 1 অক্টোবর 2024 – 30 সেপ্টেম্বর 2029 | — | বোর্ডের মেনু |
| তিন পার্বত্য জেলার বেকার যুবক-যুবতীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক দক্ষতা উন্নয়ন স্কিম | সাইটের মেনুতে লেখা নেই | — | বোর্ডের মেনু |
তুলা প্রকল্পের পাতায় জুন 2023 পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত অগ্রগতি লেখা 12.19%। সুগারক্রপ প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী হিসেবে বোর্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটের নাম আছে।
পুরোনো কাজের দুটি তথ্য মাধ্যমিক উৎসে পাওয়া যায়। বাংলাপিডিয়ার রাবার শিল্প-ভুক্তি অনুযায়ী উন্নয়ন বোর্ড 13,000 একর জমিতে রাবার বাগান গড়েছে। The Daily Star-এর 21 মে 2009-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী পাড়াকেন্দ্রগুলো উন্নয়ন বোর্ড ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে গড়া, আর এ নিয়ে সরকার ও ইউনিসেফের সমঝোতা স্মারক সই হয় 11 জুলাই 1980; প্রতিবেদনটিতে তখনকার 2,520টি পাড়াকেন্দ্রের হিসাব আছে: রাঙ্গামাটিতে 962, বান্দরবানে 668, খাগড়াছড়িতে 890।
বোর্ডের বাজেট-পাতায় (হালনাগাদ 28 অক্টোবর 2024) একটিই সারি: 2024-2025 অর্থসালে পরিচালন বাজেট 1411.92 ও উন্নয়ন বাজেট 26500.00। পাতায় ও পাতার সংযুক্ত ফাইলে সংখ্যার একক (লক্ষ না কোটি টাকা) লেখা নেই, তাই এখানে কোনো একক ধরে নেওয়া হয়নি। আইনের 18 ধারা অনুযায়ী বোর্ড প্রতি বছর পরবর্তী অর্থবছরের বাজেট-বিবরণী সরকারের কাছে পেশ করে; 19 ধারা অনুযায়ী হিসাব নিরীক্ষা করেন মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
বোর্ডের সাইটের তথ্য অনুযায়ী বর্তমান চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) অনুপ কুমার চাকমা, এনডিসি, পিএসসি; তালিকায় তাঁর কার্যকাল শুরু 22/01/2025। ভাইস-চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ (যুগ্মসচিব)। চেয়ারম্যান-তালিকার পাতাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে 18 ফেব্রুয়ারি 2026; বোর্ডের নীড়পাতায় (সাইটের হালনাগাদ-চিহ্ন 15 অক্টোবর 2026) 19 অক্টোবর 2026 তারিখেও এই দুই নাম দেখা গেছে।
1976 থেকে তালিকায় 26টি ভুক্তি। নিচের ছকে নাম, পদবি ও তারিখ বোর্ডের পাতায় যেমন আছে তেমনই রাখা হয়েছে (কেবল অঙ্কগুলো ইংরেজি রূপে); “ভারপ্রাপ্ত” চিহ্নও পাতার।
| ক্রম | নাম | তালিকায় লেখা পদবি | কার্যকাল |
|---|---|---|---|
| 1 | জনাব আবদুল আওয়াল | বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম বিভাগ, চট্টগ্রাম | 01/01/1976 হতে 16/01/1978 |
| 2 | জনাব সাইফউদ্দিন আহমেদ | বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম বিভাগ, চট্টগ্রাম | 17/01/1978 হতে 22/01/1982 |
| 3 | জনাব হাসনাত আবদুল হাই | বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম বিভাগ, চট্টগ্রাম | 23/01/1982 হতে 02/12/1983 |
| 4 | মে.জে. আবদুল মন্নাফ, পিএসসি | জিওসি, 24 পদাতিক ডিভিশন, চট্টগ্রাম | 03/12/1983 হতে 14/05/1984 |
| 5 | মে.জে. মো: নুরুদ্দিন খান, পিএসসি | জিওসি, 24 পদাতিক ডিভিশন, চট্টগ্রাম | 15/05/1984 হতে 29/06/1986 |
| 6 | মে.জে. আবদুস সামাদ, পিএসসি | জিওসি, 24 পদাতিক ডিভিশন, চট্টগ্রাম | 30/06/1986 হতে 28/07/1987 |
| 7 | মে.জে. আবদুস সালাম, পিএসসি | জিওসি, 24 পদাতিক ডিভিশন, চট্টগ্রাম | 01/03/1987 হতে 17/09/1990 |
| 8 | মে.জে. মাহমুদুল হাসান, পিএসসি | জিওসি, 24 পদাতিক ডিভিশন, চট্টগ্রাম | 18/09/1990 হতে 05/06/1992 |
| 9 | মে.জে. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বি-ইউ, এনডিসি, পিএসসি | জিওসি, 24 পদাতিক ডিভিশন, চট্টগ্রাম | 06/06/1992 হতে 25/08/1996 |
| 10 | মে.জে. মোহাম্মদ আবদুল মতিন বীর প্রতীক, পিএসসি | জিওসি, 24 পদাতিক ডিভিশন, চট্টগ্রাম | 26/08/1996 হতে 05/02/1998 |
| 11 | মে.জে. আবু কায়সার ফজলুল কবির | জিওসি, 24 পদাতিক ডিভিশন, চট্টগ্রাম | 06/02/1998 হতে 20/09/1998 |
| 12 | জনাব বীর বাহাদুর উশৈসিং, এমপি | — | 07/10/1998 হতে 22/08/2001 |
| 13 | জনাব তারাচরন চাকমা (ভারপ্রাপ্ত) | ভাইস চেয়ারম্যান (যুগ্মসচিব/অতিরিক্তি সচিব) | 23/08/2001 হতে 12/02/2002 |
| 14 | জনাব ওয়াদুদ ভূঁইয়া, এমপি | — | 13/02/2002 হতে 22/11/2006 |
| 15 | জনাব মোঃ ফিরোজ কিবরিয়া (ভারপ্রাপ্ত) | — | 23/11/2006 হতে 12/04/2007 |
| 16 | মে.জে. মোহাম্মদ আব্দুল মুবীন, এনডিসি, পিএসপি | — | 22/10/2007 হতে 04/06/2008 |
| 17 | মে.জে. মোহাম্মদ শামিম চৌধুরী, এনডব্লিউসি, পিএসপি | — | 10/06/2008 হতে 29/03/2009 |
| 18 | জনাব বীর বাহাদুর উশৈসিং, এমপি (প্রতিমন্ত্রী) | — | 29/03/2009 হতে 01/12/2013 |
| 19 | জনাব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, এনডিসি | সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় | 19/12/2013 হতে 28/02/2018 |
| 20 | জনাব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, এনডিসি | — | 19/03/2018 হতে 18/03/2021 |
| 21 | জনাব মোঃ নুরুল আলম নিজামী (ভারপ্রাপ্ত) | ভাইস চেয়ারম্যান (অতিরিক্তি সচিব) | 18/03/2021 হতে 14/04/2021 |
| 22 | জনাব আশীষ কুমার বড়ুয়া (ভারপ্রাপ্ত) | ভাইস চেয়ারম্যান (যুগ্মসচিব) | 14/04/2021 হতে 07/07/2021 |
| 23 | জনাব নিখিল কুমার চাকমা | — | 07/07/2021 হতে 06/07/2023 |
| 24 | জনাব মোহাম্মদ নুরুল আলম চৌধুরী (ভারপ্রাপ্ত) | ভাইস চেয়ারম্যান (অতিরিক্তি সচিব) | 06/07/2023 হতে 27/07/2023 |
| 25 | রাষ্ট্রদূত (অবঃ) সুপ্রদীপ চাকমা | — | 27/07/2023 হতে 07/08/2024 |
| 26 | মেজর জেনারেল (অব:) অনুপ কুমার চাকমা, এনডিসি, পিএসসি | — | 22/01/2025 হতে (শেষের তারিখ নেই) |
তালিকার শিরোনামে লেখা “(১৯৮৩ সনের অর্ডিন্যান্স মোতাবেক)”, অথচ তালিকা শুরু 1976 থেকে; অধ্যাদেশের পাদটীকা অনুযায়ী 1983 সালের সংশোধনী কেবল সদস্যসংখ্যা তিন থেকে চার করেছিল। 1983 সালে জিওসি কোন আদেশে চেয়ারম্যান হলেন, তা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
ইংরেজি উইকিপিডিয়ার ভুক্তি লিখেছে বোর্ডটি “Headed by an army general” এবং বেসামরিক প্রশাসন থেকে প্রথম চেয়ারম্যান বীর বাহাদুর; বোর্ডের নিজের তালিকায় প্রথম তিন চেয়ারম্যান বিভাগীয় কমিশনার। একই ভুক্তির তথ্যছকে ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে বোর্ডের সাইটের চেয়ে ভিন্ন একটি নাম আছে, সূত্র ছাড়া।
উন্নয়ন বোর্ডের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয় রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মেধাবী, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ও অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের। সেবা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আবেদন নেওয়া হয় অনলাইনে, প্রতিবছর মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে, বিনামূল্যে। 2025-2026 অর্থবছরের ফল প্রকাশিত হয়েছে 1 সেপ্টেম্বর 2026।
বোর্ডের 2025-2026 অর্থবছরের ফলাফল-বিজ্ঞপ্তি (নোটিশ বোর্ড, 1 সেপ্টেম্বর 2026) অনুযায়ী বৃত্তিটি দেশের বিভিন্ন কলেজ, ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান, স্নাতক (সম্মান)/স্নাতক/সমমান ও স্নাতকোত্তর/সমমান পর্যায়ে অধ্যয়নরত তিন পার্বত্য জেলার “বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের” জন্য। কর্মসূচির নাম বিজ্ঞপ্তিতে “পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান”; অর্থ আসে বোর্ডের উন্নয়ন সহায়তা থেকে (কোড নং 221001100)। ফলাফলের তালিকায় স্তর দুটি: “কলেজ পর্যায়” ও “বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়”।
সেবা প্রতিশ্রুতিতে ধাপগুলো এই ক্রমে লেখা: নোটিশ দিয়ে আবেদন আহ্বান, অনলাইনে আবেদন গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ, বোর্ড কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন, তারপর তিন পার্বত্য জেলায় অনুষ্ঠান করে বৃত্তি প্রদান। কাগজপত্র:
স্থায়ী বাসিন্দা সনদ কে দেন, কোন আইনে, তা নিয়ে আর্কাইভে একটি আলাদা লেখা আছে: স্থায়ী বাসিন্দার সনদপত্র প্রসঙ্গে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা বোর্ডের পরিকল্পনা অধিশাখা: সদস্য-পরিকল্পনার দপ্তরের ফোন 02333373229, ই-মেইল mp@chtdb.gov.bd; পরিকল্পনা কর্মকর্তার দপ্তরের ফোন 02333372463, ই-মেইল po@chtdb.gov.bd। আবেদনের পোর্টাল infochtdb.com/scholarship; 19 অক্টোবর 2026 তারিখে সেখানে লেখা “আবেদনের সময়সীমা শেষ”।
বাছাইয়ের নিয়ম সবচেয়ে খোলাখুলি লেখা আছে 2022-2023 অর্থবছরের চূড়ান্ত তালিকার বিজ্ঞপ্তিতে (প্রকাশ 17-10-2023)। সেখানে বলা, আবেদনগুলো বোর্ডের নীতিমালা অনুসরণ করে যাচাই-বাছাই হয়েছে এবং “শিক্ষাবৃত্তি প্রদান কমিটি”-র সুপারিশে যথাযথ কর্তৃপক্ষ তালিকা অনুমোদন করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা নিয়মগুলোর মধ্যে:
এগুলো 2022-2023 অর্থবছরের বিজ্ঞপ্তির কথা; পরের বছরগুলোতে একই নিয়ম হুবহু বহাল আছে কি না, তা 2025-2026-এর বিজ্ঞপ্তিতে লেখা নেই। সেখানে কেবল “বোর্ডের বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণপূর্বক” বলা হয়েছে।
2025-2026-এর ফলাফলে নাম নয়, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আইডি নম্বর ছাপা হয়েছে, জেলা ও উপজেলা ধরে; প্রতিটি সারির শেষে সংখ্যা লেখা। তালিকায় মোট সংখ্যা আলাদা করে দেওয়া নেই। সারির সংখ্যাগুলো যোগ করলে যা দাঁড়ায়:
| জেলা | উপজেলা | নির্বাচিত (কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় মিলিয়ে) |
|---|---|---|
| রাঙ্গামাটি | 10 | 989 |
| খাগড়াছড়ি | 9 | 778 |
| বান্দরবান | 7 | 713 |
| মোট | 26 | 2,480 |
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বৃত্তির টাকা বিতরণ হয় নিজ নিজ জেলার প্রকৌশল শাখার মাধ্যমে; সময় ও স্থান পরে জানানো হয়, আর টাকা নেওয়ার সময় আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা সব সনদের মূল কপি সঙ্গে আনতে হয়।
বোর্ডের সাইটের মেনুতে 2017-2018, 2018-2019, 2019-20, 2020-21 ও 2022-23 অর্থবছরের ফল আলাদা করে রাখা আছে; 2025-2026-এর ফল নোটিশ বোর্ডে। বৃত্তির টাকার অঙ্ক এবং স্তরভেদে হার কোনো বিজ্ঞপ্তি বা সেবা প্রতিশ্রুতিতে লেখা নেই।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয় 15 জুলাই 1998। মন্ত্রণালয়ের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী এটি গঠিত হয় 2 ডিসেম্বর 1997 তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির শর্তানুযায়ী। তালিকায় প্রথম মন্ত্রীর দায়িত্ব শুরু 21-07-1998।
তারিখটি মন্ত্রণালয়ের “পটভূমি” পাতার: “চুক্তির শর্তানুযায়ী ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়।” শর্তটি চুক্তির (ঘ) খণ্ডের 19 দফা, যার প্রথম বাক্য: “উপজাতীয়দের মধ্য হইতে একজন মন্ত্রী নিয়োগ করিয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হইবে।”
একই দফা মন্ত্রণালয়কে সহায়তার জন্য 12 ধরনের সদস্য নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটির কথা বলে:
দফাটির পূর্ণ পাঠ আছে পার্বত্য চুক্তির মূল পাঠে। চুক্তির বাকি দফা ও সেগুলোর বাস্তবায়নের হিসাব এই পাতার বিষয় নয়; সেজন্য দেখুন চুক্তির ধারা ধরে ব্যাখ্যা এবং চুক্তি কতটা বাস্তবায়িত হলো। বাংলাপিডিয়ার চুক্তি-ভুক্তি এই বিধানকে বলেছে “Ministry of Tribal Affairs to be headed by a tribal”; চুক্তির পাঠে ও সরকারি নামে শব্দটি “পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক”।
মন্ত্রণালয়ের জন্য সংসদে পাস করা আলাদা কোনো আইন পাওয়া যায়নি। অন্য মন্ত্রণালয়ের মতোই এর কাজ নির্ধারিত Rules of Business, 1996-এর Schedule I (Allocation of Business Among the Different Ministries and Divisions)-এ। ঠিকানা: ভবন নম্বর 4, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা-1000।
মন্ত্রণালয়ের “এলোকেশন অব বিজনেস” পাতায় সংযুক্ত দলিলটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশনা, প্রচ্ছদে লেখা “Revised up to April 2017″। তার 7 নম্বর পৃষ্ঠায় “6. MINISTRY OF CHITTAGONG HILL TRACTS AFFAIRS” শিরোনামে 19টি দফা। পাদটীকা অনুযায়ী ভুক্তিটি সংশোধিত হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন নং CD-4/2/97-Rules/69, তারিখ 29 জুন 2000 দিয়ে।
মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ-পাতায় (হালনাগাদ 7 অক্টোবর 2026) সচিবের দপ্তর ভবন নম্বর 4-এর কক্ষ নম্বর 601, ই-মেইল secretary@mochta.gov.bd; অতিরিক্ত সচিবের (প্রশাসন) দপ্তর কক্ষ নম্বর 608। মন্ত্রণালয়ের নীড়পাতায় (সাইটের হালনাগাদ-চিহ্ন 13 অক্টোবর 2026) 19 অক্টোবর 2026 তারিখে সচিব হিসেবে জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নাম দেখা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের ভিশন “শান্তিপূর্ন ও সমৃদ্ধ পার্বত্য চট্টগ্রাম”; মিশন: কল্যাণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসকারী জনগণের রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা।
Allocation of Business-এ মন্ত্রণালয়ের কাজ 19 দফায় ভাগ করা। মূল কথা: পার্বত্য এলাকার জন্য পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন, আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ-সংক্রান্ত বিষয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উন্নয়ন কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়, এবং উন্নয়ন বোর্ডের প্রশাসন (দফা 14)।
| দফা | মূল পাঠ (বানান দলিলের মতোই) | বাংলায় সারকথা |
|---|---|---|
| 1 | Matters relating to the administration of the Ministry of Chittagong Hill Tracts Affairs. | মন্ত্রণালয়ের নিজের প্রশাসন-সংক্রান্ত বিষয়। |
| 2 | Advise local authorities in Chittagong Hill Tracts areas on regulatory matters. | পার্বত্য এলাকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নিয়ন্ত্রণমূলক বিষয়ে পরামর্শ। |
| 3 | Co-ordination of all related matters with concerned Ministries/ Divisions. | সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে সব বিষয়ের সমন্বয়। |
| 4 | Provisions of secretarial services to the Council Committee, Special Committee and working Committee on Chitagong Hill Tracts areas. | পার্বত্য এলাকা-সংক্রান্ত Council Committee, Special Committee ও working Committee-কে সাচিবিক সেবা। |
| 5 | Counseling, monitoring and where required, implementing all relevant decisions of the Government and the Committees. | সরকার ও কমিটিগুলোর প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্তে পরামর্শ, পরিবীক্ষণ ও প্রয়োজনে বাস্তবায়ন। |
| 6 | Formulating plans and programmes, including development action plan in respect of Chittagong Hill Tracts areas. | উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনাসহ পার্বত্য এলাকার পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন। |
| 7 | Dealing with matters relating to Chittagong Hill Tracts Regional Council (পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ) and Hill District Councils of Chittagong Hill Tracts areas. | আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য জেলা পরিষদ-সংক্রান্ত বিষয়। |
| 8 | Matters relating to Upazilla Parishad, Pourashava, Union Parishad, Gram Parishad and all other local authorities of Chittagong Hill Tracts areas as per existing laws pertaining thereto. | বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পার্বত্য এলাকার উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, গ্রাম পরিষদ ও অন্য সব স্থানীয় কর্তৃপক্ষ-সংক্রান্ত বিষয়। |
| 9 | Co-ordination with all concerned government agencies to protect unique characteristics of environment and topography of Chittagong Hill Tracts areas. | পার্বত্য এলাকার পরিবেশ ও ভূপ্রকৃতির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়। |
| 10 | Undertake programmes for socio-economic development, education, culture, social custom, manner, language, religion, rites, practices and maintain originality of tribal and non tribal people of Chittagong Hill Tracts areas. | পার্বত্য এলাকার “tribal and non tribal” মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক প্রথা, ভাষা, ধর্ম ও আচার নিয়ে কর্মসূচি এবং স্বকীয়তা রক্ষা। |
| 11 | Matters relating to conduct and co-ordination of relief and rehabilitation and disaster management activities in Chittagong Hill Tracts areas. | পার্বত্য এলাকায় ত্রাণ, পুনর্বাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা ও সমন্বয়। |
| 12 | Observation and monitoring of NGO activities in Chittatong Hill Tracts areas. | পার্বত্য এলাকায় এনজিও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পরিবীক্ষণ। |
| 13 | Supervision and co-ordination of all development activities of Chittagong Hill Tracts Regional Council (পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ) and all other local authorities of Chittagong Hill Tracts areas and co-ordination of Inter-Ministerial/Divisional development activities. | আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য এলাকার অন্য সব স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সব উন্নয়ন কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়; আন্তঃমন্ত্রণালয় উন্নয়ন কার্যক্রমের সমন্বয়। |
| 14 | Administration of Chittagong Hill Tracts Development Board. | পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রশাসন। |
| 15 | Matters relating to International Centre for Integrated Mountain Development (ICIMOD) relating to Chittagong Hill Tracts. | পার্বত্য চট্টগ্রাম-সংশ্লিষ্ট ICIMOD-বিষয়ক কাজ। |
| 16 | Matters relating to Civil Affairs Office, Chittagong. | চট্টগ্রামের Civil Affairs Office-সংক্রান্ত বিষয়। |
| 17 | Liaison with all International Organizations relating to subjects allotted to this Ministry and all foreign dealings. | মন্ত্রণালয়ের বিষয়গুলোতে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈদেশিক কার্যক্রম। |
| 18 | Matters relating to enactment of all laws on subjects allotted to this Ministry. | মন্ত্রণালয়ের বিষয়গুলোতে আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত কাজ। |
| 19 | Inquiries and statistics on Subjects allotted to this Ministry. | মন্ত্রণালয়ের বিষয়গুলোতে অনুসন্ধান ও পরিসংখ্যান। |
মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি বোঝার আরেকটি উপায় তার “আইন ও বিধি” পাতা (হালনাগাদ 3 মে 2026)। সেখানে তালিকাভুক্ত: তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন 2001, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন 2014, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন 1998, পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন 1900, ভূমি অধিগ্রহণ রেগুলেশন 1958, বাজার ফান্ড বিধিমালা (1937), বন ট্রানজিট বিধিমালা (1973) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের নিয়োগ বিধিমালা, 2026।
খবর সংযোগ-এর 11 জুন 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 2026-27 অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ 1,457 কোটি টাকার বেশি, আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় 95 কোটি বেশি; এর প্রায় 965 কোটি উন্নয়ন ব্যয় ও প্রায় 492 কোটি পরিচালন ব্যয়। অঙ্কগুলো ওই প্রতিবেদনের; অর্থ বিভাগের বাজেট দলিলের সঙ্গে মেলানো যায়নি।
মন্ত্রণালয়ের সাইট অনুযায়ী বর্তমান মন্ত্রী জনাব সাচিং প্রু, তালিকায় দায়িত্ব শুরু 21-08-2026; প্রতিমন্ত্রী জনাব মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, দায়িত্ব শুরু 17-02-2026। মন্ত্রী-তালিকার পাতাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে 30 সেপ্টেম্বর 2026; নীড়পাতায় (সাইটের হালনাগাদ-চিহ্ন 13 অক্টোবর 2026) 19 অক্টোবর 2026 তারিখেও এই দুই নাম দেখা গেছে।
প্রথম আলোর 21 আগস্ট 2026-এর খবর অনুযায়ী বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী সেদিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন; আগের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান দায়িত্ব পাওয়ার তিন মাসের মাথায় পদত্যাগ করেন। নামের বানানে সামান্য তফাত আছে: মন্ত্রণালয়ের তালিকায় “সাচিং প্রু”, প্রথম আলোয় “সাচিং প্রু জেরী”; প্রতিমন্ত্রীর নাম তালিকা-পাতায় “হেলাল উদ্দিন”, নীড়পাতায় “হেলাল উদ্দীন”।
1998 থেকে তালিকায় 18টি ক্রমিক, 19টি সারি (17 নম্বর ক্রমিকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর আলাদা সারি)। নাম, পদবি ও তারিখ মন্ত্রণালয়ের পাতায় যেমন আছে তেমনই; কেবল অঙ্ক ইংরেজি রূপে।
| ক্রমিক | নাম | পদবী | হইতে | পর্যন্ত |
|---|---|---|---|---|
| 01 | জনাব কল্প রঞ্জন চাকমা, এমপি | মন্ত্রী | 21-07-1998 | 15-07-2001 |
| 02 | বিচারপতি লতিফুর রহমান | প্রধান উপদেষ্টা | 16-07-2001 | 10-10-2001 |
| 03 | বেগম খালেদা জিয়া | প্রধানমন্ত্রী | 11-10-2001 | 29-10-2006 |
| 04 | জনাব মনি স্বপন দেওয়ান, এমপি | উপমন্ত্রী | 11-10-2001 | 29-10-2006 |
| 05 | লেঃ জেঃ (অবঃ) হাসান মশহুদ চৌধুরী | উপদেষ্টা | 01-11-2006 | 12-12-2006 |
| 06 | লেঃ জেঃ (অবঃ) রুহুল আলম চৌধুরী | উপদেষ্টা | 12-12-2006 | 11-01-2007 |
| 07 | ড. ফখরুদ্দীন আহমদ | প্রধান উপদেষ্টা | 14-01-2007 | 18-01-2007 |
| 08 | ড. ইফতেখার আহমদ চৌধুরী | উপদেষ্টা | 18-01-2007 | 10-01-2008 |
| 09 | ড. ফখরুদ্দীন আহমদ | প্রধান উপদেষ্টা | 10-01-2008 | 12-01-2008 |
| 10 | রাজা দেবাশীষ রায় | প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী | 12-01-2008 | 06-01-2009 |
| 11 | জনাব দীপংকর তালুকদার, এমপি | প্রতিমন্ত্রী | 06-01-2009 | 12-01-2014 |
| 12 | জনাব বীর বাহাদুর উশৈসিং, এমপি | প্রতিমন্ত্রী | 12-01-2014 | 07-01-2019 |
| 13 | জনাব বীর বাহাদুর উশৈসিং, এমপি | মন্ত্রী | 07-01-2019 | 11-01-2024 |
| 14 | জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি | প্রতিমন্ত্রী | 11-01-2024 | 05-08-2024 |
| 15 | ড. মুহাম্মদ ইউনূস | প্রধান উপদেষ্টা | 09-08-2024 | 11-08-2024 |
| 16 | জনাব সুপ্রদীপ চাক্মা | উপদেষ্টা | 11-08-2024 | 17-02-2026 |
| 17 | জনাব দীপেন দেওয়ান | মন্ত্রী | 17-02-2026 | 01-06-2026 |
| 17 | জনাব মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন | প্রতিমন্ত্রী | 17-02-2026 | (ফাঁকা) |
| 18 | জনাব সাচিং প্রু | মন্ত্রী | 21-08-2026 | (ফাঁকা) |
চুক্তির 19 দফার শর্ত (“উপজাতীয়দের মধ্য হইতে একজন মন্ত্রী”) কোন মেয়াদে কতটা মানা হয়েছে, সে বিচার এই পাতার কাজ নয়; তালিকাটি পাশে রাখা হলো যাতে পাঠক নিজে মিলিয়ে নিতে পারেন।
মন্ত্রণালয়ের “পটভূমি” পাতায় আওতাধীন দপ্তর ছয়টি: আঞ্চলিক পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড, শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্কফোর্স এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ। “অধীনস্থ দপ্তর/অফিস/সংস্থা” পাতায় (হালনাগাদ 25 জুন 2026) সপ্তম একটি নাম আছে: পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র।
টাস্কফোর্সটির পুরো নাম মন্ত্রণালয়ের পাতায়: ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্স। রাজস্ব বাজেটের জনবলের ছকটি এই (পাতা হালনাগাদ 31 মার্চ 2026):
| প্রতিষ্ঠান | অনুমোদিত পদ | পূরণকৃত পদ | শূন্য পদ | ওয়েবসাইট |
|---|---|---|---|---|
| পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় | 81 | 61 | 20 | mochta.gov.bd |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ | 73 | 49 | 24 | chtrc.gov.bd |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড | 151 | 125 | 26 | chtdb.gov.bd |
| শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্কফোর্স | 22 | 14 | 8 | tratf.gov.bd |
| রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ | 72 | 65 | 7 | rhdc.gov.bd |
| বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ | 70 | 62 | 8 | bhdc.gov.bd |
| খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ | 71 | 64 | 7 | khdc.gov.bd |
| মোট | 527 | 431 | 96 |
ছক অনুযায়ী সাত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনুমোদিত পদ সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন বোর্ডে (151), আর শূন্য পদও সেখানেই সবচেয়ে বেশি (26)। সংখ্যাগুলো পাতার শিরোনাম অনুযায়ী রাজস্ব বাজেটের পদ। ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের জনবল এই ছকে নেই।
চার প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক তিনটি দলিলে লেখা: মন্ত্রণালয় বোর্ডের প্রশাসন দেখে (Allocation of Business, দফা 14); বোর্ড দায়িত্ব পালন করে আঞ্চলিক পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে (2014 আইন, ধারা 9(2)); আর আঞ্চলিক পরিষদ জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় করে (আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ধারা 22(ক))।
| কে | কার ওপর | কী ক্ষমতা | কোথায় লেখা |
|---|---|---|---|
| মন্ত্রণালয় | উন্নয়ন বোর্ড | “Administration of Chittagong Hill Tracts Development Board” | Allocation of Business, দফা 14 |
| সরকার | বোর্ডের পরিচালনা বোর্ড | নির্দেশনা দিতে পারে; পরিচালনা বোর্ড মানতে বাধ্য | উন্নয়ন বোর্ড আইন 2014, ধারা 21 |
| সরকার | বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও সদস্য | নিয়োগ, মেয়াদ ও শর্ত নির্ধারণ, অপসারণ | ধারা 6 ও 7 |
| আঞ্চলিক পরিষদ | উন্নয়ন বোর্ড | কার্যাবলির “সার্বিক তত্ত্বাবধান” | চুক্তি (গ) 10; আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ধারা 22(গ); উন্নয়ন বোর্ড আইন 2014, ধারা 9(2) |
| মন্ত্রণালয় | আঞ্চলিক পরিষদ ও অন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ | সব উন্নয়ন কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় | Allocation of Business, দফা 13 |
| আঞ্চলিক পরিষদ | তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ | উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ অর্পিত বিষয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় | আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ধারা 22(ক) |
| জেলা পরিষদ | বোর্ডের ভূমি অধিগ্রহণ | পূর্বানুমোদন দেওয়া | উন্নয়ন বোর্ড আইন 2014, ধারা 15 |
ছকে একটি বিষয় চোখে পড়ে: বোর্ডের ওপর দুটি আলাদা কর্তৃত্বের কথা দুটি আলাদা দলিলে লেখা, মন্ত্রণালয়ের “administration” আর আঞ্চলিক পরিষদের “সার্বিক তত্ত্বাবধান”। চুক্তির (গ) 10 দফার ভাষা আরেকটু বিস্তৃত: বোর্ড “পরিষদের সাধারণ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে অর্পিত দায়িত্ব পালন করিবে”। আঞ্চলিক পরিষদ আইনের 22(গ) ধারায় এখনো 1976 সালের অধ্যাদেশে স্থাপিত বোর্ডের নাম লেখা (আঞ্চলিক পরিষদ আইনের পূর্ণ পাঠ)।
আঞ্চলিক পরিষদের গঠন, ক্ষমতা ও তত্ত্বাবধানের এখতিয়ার নিয়ে বিস্তারিত আছে আঞ্চলিক পরিষদ নিয়ে আমাদের লেখায়; জেলা পরিষদের গঠন নিয়ে দেখুন পার্বত্য জেলা পরিষদে আসন ভাগ হয় কীভাবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড গঠিত হয় 1976 সালে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের 14 জানুয়ারি 1976-এর প্রজ্ঞাপনে (নং 21/2/76-Rules) প্রথম বোর্ডটি গড়া হয়। এরপর 21 অক্টোবর 1976 তারিখে Chittagong Hill Tracts Development Board Ordinance, 1976 (Ordinance No. LXXVII of 1976) জারি হয়, যার 23 ধারা পুরোনো বোর্ড বিলুপ্ত করে তার সম্পদ ও কর্মচারী নতুন বোর্ডে ন্যস্ত করে।
বোর্ডের প্রধান কার্যালয় রাঙ্গামাটিতে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, 2014-এর 4 ধারা অনুযায়ী বোর্ড সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় শাখা স্থাপন করতে পারে। বোর্ডের সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতিতে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে আলাদা নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর দেখানো আছে। 1976 সালের অধ্যাদেশের 5 ধারাতেও প্রধান কার্যালয় ছিল রাঙ্গামাটি।
বোর্ড এখন চলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, 2014 অনুযায়ী, যা 2014 সনের 8 নং আইন, তারিখ 8 জুলাই 2014। আইনটির 25 ধারা 1976 সালের অধ্যাদেশ (Ordinance No. LXXVII of 1976) রহিত করে, তবে পুরোনো বোর্ডের সম্পদ, দায়, চুক্তি ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন বোর্ডে বহাল রাখে। আইনটি তিন পার্বত্য জেলায় প্রযোজ্য।
বোর্ডের সাইটের চেয়ারম্যান-তালিকা (হালনাগাদ 18 ফেব্রুয়ারি 2026) অনুযায়ী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) অনুপ কুমার চাকমা, এনডিসি, পিএসসি; কার্যকাল শুরু 22/01/2025। তিনি তালিকার 26তম ভুক্তি। 19 অক্টোবর 2026 তারিখে বোর্ডের নীড়পাতাতেও এই নাম দেখা গেছে, সঙ্গে ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ (যুগ্মসচিব)। পদধারী বদলাতে পারে, তাই সাইটে মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
বোর্ডের নিজের তালিকা অনুযায়ী প্রথম চেয়ারম্যান জনাব আবদুল আওয়াল, তখন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার; কার্যকাল 01/01/1976 থেকে 16/01/1978। তাঁর পরের দুজনও বিভাগীয় কমিশনার। 03/12/1983 থেকে 20/09/1998 পর্যন্ত পরপর আটজন চেয়ারম্যান ছিলেন 24 পদাতিক ডিভিশনের জিওসি। 07/10/1998 থেকে চেয়ারম্যান হন জনাব বীর বাহাদুর উশৈসিং, এমপি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, 2014-এর 9(1)(খ) ধারা অনুযায়ী বোর্ড পার্বত্য জেলাগুলোর উপজেলা সদর, ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলের জন্য অনধিক 2 কোটি টাকার প্রকল্প ও স্কিম অনুমোদন করতে পারে। 1976 সালের অধ্যাদেশের 8(b) ধারায় এই সীমা ছিল প্রতিটি প্রকল্পে 25 লক্ষ টাকা। বোর্ডের ঘূর্ণায়মান তহবিলের সীমা এখন 3 কোটি টাকা (ধারা 13)।
বোর্ডের সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষাবৃত্তির আবেদন নেওয়া হয় প্রতিবছর মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে, অনলাইনে, বিনামূল্যে। আগে নোটিশ দিয়ে আবেদন আহ্বান করা হয়। বৃত্তিটি রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মেধাবী, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ও অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য; উচ্চ মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত। দায়িত্বে বোর্ডের পরিকল্পনা অধিশাখা, ই-মেইল mp@chtdb.gov.bd।
সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতিতে পাঁচ ধরনের কাগজের কথা আছে: পাসপোর্ট সাইজের 1 কপি ছবি, সর্বশেষ ফলাফলের মার্কশিট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্যাডে বর্তমানে অধ্যয়নরত থাকার প্রত্যয়নপত্র বা পরিচয়পত্র, সার্কেল চিফ বা জেলা প্রশাসনের দেওয়া স্থায়ী বাসিন্দা সনদ, এবং পোষ্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে বোর্ডের প্রত্যয়নপত্র। 2025-2026-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী টাকা নেওয়ার সময় সব সনদের মূল কপি দেখাতে হয়।
বোর্ড 1 সেপ্টেম্বর 2026 তারিখে 2025-2026 অর্থবছরের ফল প্রকাশ করে, নির্বাচিতদের আইডি নম্বর দিয়ে। তালিকায় মোট সংখ্যা লেখা নেই; উপজেলাওয়ারি সংখ্যা যোগ করলে দাঁড়ায় 2,480 জন: রাঙ্গামাটি জেলায় 989, খাগড়াছড়িতে 778 ও বান্দরবানে 713। তালিকায় দুটি স্তর, কলেজ পর্যায় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়। বৃত্তির টাকার অঙ্ক বিজ্ঞপ্তিতে লেখা নেই।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয় 15 জুলাই 1998। মন্ত্রণালয়ের নিজের পাতা অনুযায়ী এটি 2 ডিসেম্বর 1997-এর পার্বত্য চুক্তির শর্তানুযায়ী গঠিত। শর্তটি চুক্তির (ঘ) খণ্ডের 19 দফা, যেখানে উপজাতীয়দের মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগ করে মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং 12 ধরনের সদস্য নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠনের কথা আছে।
মন্ত্রণালয়ের সাইটের তালিকা অনুযায়ী প্রথম মন্ত্রী জনাব কল্প রঞ্জন চাকমা, এমপি; দায়িত্বকাল 21-07-1998 থেকে 15-07-2001। তালিকায় 1998 থেকে 18টি ক্রমিক আছে, যার মধ্যে পদবি হিসেবে মন্ত্রী লেখা চারজনের; বাকিরা প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী। ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় তাঁর শুরুর তারিখ 1 জানুয়ারি 1998 লেখা।
মন্ত্রণালয়ের সাইটের মন্ত্রী-তালিকা (হালনাগাদ 30 সেপ্টেম্বর 2026) অনুযায়ী মন্ত্রী জনাব সাচিং প্রু, দায়িত্ব শুরু 21-08-2026; প্রতিমন্ত্রী জনাব মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, দায়িত্ব শুরু 17-02-2026। 19 অক্টোবর 2026 তারিখে নীড়পাতাতেও এই দুই নাম দেখা গেছে। এর আগে জনাব দীপেন দেওয়ান মন্ত্রী ছিলেন 17-02-2026 থেকে 01-06-2026 পর্যন্ত।
মন্ত্রণালয়ের পটভূমি-পাতায় ছয়টি: পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্কফোর্স, এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ। অধীনস্থ দপ্তরের আলাদা পাতায় (হালনাগাদ 25 জুন 2026) সপ্তম নাম পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র। মন্ত্রণালয়সহ সাত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বাজেটের অনুমোদিত পদ 527, পূরণকৃত 431।
দুটি দলিলে দুটি কথা লেখা। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, 2014-এর 9(2) ধারা বলে বোর্ড আঞ্চলিক পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করবে; আঞ্চলিক পরিষদ আইনের 22(গ) ধারা ও চুক্তির (গ) 10 দফাও তা-ই বলে। আবার Rules of Business-এর Allocation of Business-এর 14 দফায় বোর্ডের প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাজ, আর আইনের 21 ধারায় সরকারের নির্দেশনা মানতে পরিচালনা বোর্ড বাধ্য।
সরকারি পাতা ও আইনের পাঠ ধরে যতটা মেলানো গেছে, ততটাই ওপরে আছে। যেসব প্রশ্নের উত্তর সেসব উৎসে নেই, বা যেখানে উৎস দুর্বল:
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026। পদধারীদের নাম ওই তারিখে সরকারি সাইটে যা দেখা গেছে, তা-ই।
প্রসঙ্গ:ইতিহাস ও রাজনীতি
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।