Last updated Oct 19th, 2026

খাগড়াছড়ি জেলা দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে, চট্টগ্রাম বিভাগের একটি পার্বত্য জেলা; এর উত্তর ও পশ্চিমে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বে রাঙামাটি, দক্ষিণে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি। 7 নভেম্বর 1983 সালে মহকুমা থেকে জেলা হয়, এখন উপজেলা 9টি, আর জনশুমারি 2022 অনুযায়ী জনসংখ্যা 7,14,119। আলুটিলার সুড়ঙ্গ, রিছাং ঝরনা, মানিকছড়ির মং রাজবাড়ি, রামগড় আর সাজেক যাওয়ার পথ হিসেবে জেলাটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে খাগড়াছড়ি আয়তনে সবচেয়ে ছোট, অথচ মানুষ এখানেই সবচেয়ে বেশি। চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা, এই তিন জনগোষ্ঠীর বড় বসতি এক জেলায় পাশাপাশি আছে; আর জেলার 121টি মৌজার 88টিই মং সার্কেলে। এই পাতায় জেলার অবস্থান, আয়তন, প্রশাসনিক ভাগ, জনসংখ্যা, নদী আর নামের উৎস এক জায়গায় রাখা হলো, প্রতিটি সংখ্যার পাশে তার উৎসসহ। পুরো অঞ্চলের ছবিটা পেতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মূল পাতা থেকে শুরু করা যায়।
এই লেখায় যা আছে
খাগড়াছড়ি চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা, দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে। বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) জনশুমারি 2022-এর জেলা রিপোর্ট দুটোই অবস্থান দিয়েছে 22°38′ থেকে 23°44′ উত্তর অক্ষাংশ এবং 91°44′ থেকে 92°11′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। জেলা সদর খাগড়াছড়ি শহরে।
জেলা প্রশাসনের “এক নজরে” পাতা সীমানা লিখেছে এভাবে: উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য; পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা; দক্ষিণ-পশ্চিমে চট্টগ্রাম জেলা; পশ্চিমে ফেনী নদী ও ত্রিপুরা রাজ্য। অর্থাৎ জেলার উত্তর ও পশ্চিম দিক জুড়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত, আর পশ্চিমে সেই সীমান্তে ফেনী নদী।
একই পাতায় অবস্থান দশমিক আকারে লেখা: অক্ষাংশ 22.38 থেকে 23.44 ডিগ্রি, দ্রাঘিমাংশ 91.42 থেকে 92.11 ডিগ্রি। বাংলাপিডিয়া ও BBS পশ্চিম সীমা দিয়েছে 91°44′, পোর্টাল দিয়েছে 91.42।
জেলা প্রশাসনের পটভূমি পাতা অনুযায়ী পাহাড়, ছোট ছোট নদী, ছড়া ও সমতল মিলে এটি ঢেউ খেলানো এলাকা; উঁচু ভূমি প্রায় 85%, সমতল প্রায় 15%। জেলায় 3,368টি পুকুর, জলাশয় ও দিঘি আছে, যার 67% খাস।
বাংলাপিডিয়া জেলার উল্লেখযোগ্য পাহাড় হিসেবে সাতটি নাম দিয়েছে: গলামুন, ছোট পানছড়ি, কারমি মুড়া, লুটিবান, কুরাদিয়া, ভাঙ্গামুরা ও জপিসিল। এর মধ্যে গলামুন, কারমি মুড়া, লুটিবান ও কুরাদিয়া পড়েছে দীঘিনালা উপজেলায়। এসব পাহাড়ের উচ্চতা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
বনের গাছ হিসেবে জেলা পোর্টাল সেগুন, গামারি, কড়ই, গর্জন, চাপালিশ ও জারুলের নাম দিয়েছে। পুরো পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়সারি, উপত্যকা ও জলবায়ুর বিবরণ এই পাতার বিষয় নয়; এখানে শুধু খাগড়াছড়ির নিজের তথ্য।
খাগড়াছড়ি জেলার আয়তন নিয়ে তিনটি সংখ্যা চালু আছে। BBS জনশুমারি 2022 বলছে 2,749.16 বর্গ কিলোমিটার, জেলা প্রশাসন বলছে 2,699.56 বর্গ কিলোমিটার (প্রায় 1,042.30 বর্গমাইল), আর বাংলাপিডিয়া বলছে 2,505.73 বর্গ কিলোমিটার। সরকারি শুমারির হিসাবে সবচেয়ে নতুন সংখ্যা 2,749.16।
| উৎস | আয়তন (বর্গ কিমি) | টীকা |
|---|---|---|
| BBS, জনশুমারি 2022 ও 2011 | 2,749.16 | দুই শুমারিতেই একই |
| BBS, শুমারি 2001 ও 1991 | 2,699.55 | একই রিপোর্টের পুরনো কলাম |
| জেলা পোর্টাল, “এক নজরে” | 2,699.56 | পটভূমি পাতায় 2,699.55 |
| বাংলাপিডিয়া | 2,505.73 | 8 উপজেলার আয়তনের যোগফল |
বাংলাপিডিয়ার সংখ্যাটি তার নিজের উপজেলা-ছকের যোগফলের সঙ্গে মেলে: দীঘিনালা 694.11, মাটিরাঙ্গা 404.76, পানছড়ি 334.10, খাগড়াছড়ি সদর 297.91, লক্ষ্মীছড়ি 220.14, রামগড় 199.89, মহালছড়ি 186.48 ও মানিকছড়ি 168.34 বর্গ কিলোমিটার। ছকটি 2011 সালের শুমারি ধরে বানানো, তখন গুইমারা আলাদা উপজেলা ছিল না।
BBS-এর তিনটি জেলা রিপোর্ট পাশাপাশি রাখলে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি আয়তনে তিন জেলার মধ্যে সবচেয়ে ছোট, কিন্তু জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড়।
| জেলা | আয়তন (বর্গ কিমি) | জনসংখ্যা 2022 | জনসংখ্যা 1991 |
|---|---|---|---|
| খাগড়াছড়ি | 2,749.16 | 7,14,119 | 3,42,488 |
| রাঙামাটি | 6,116.11 | 6,47,586 | 4,01,388 |
| বান্দরবান | 4,479.03 | 4,81,106 | 2,30,569 |
1991 সালে রাঙামাটির জনসংখ্যা খাগড়াছড়ির চেয়ে বেশি ছিল; 2001 সালের শুমারিতে খাগড়াছড়ি (5,25,664) রাঙামাটিকে (5,08,182) ছাড়িয়ে যায়। খাগড়াছড়িতে এখন প্রতি বর্গ কিলোমিটারে 260 জন মানুষ, 1991 সালে ছিল 127 জন।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা গঠিত হয় 7 নভেম্বর 1983 সালে; তারিখটি জেলা প্রশাসনের পটভূমি পাতার। বাংলাপিডিয়া ও BBS দুটোই বলছে 1983 সালে খাগড়াছড়ি মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা হয়। তার আগে এলাকাটি ছিল অবিভক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার অংশ।
রাঙামাটি জেলা পোর্টাল বলছে জেলাটি তৈরি হয় খাগড়াছড়ি ও রামগড়, এই দুই মহকুমা নিয়ে। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পটভূমি পাতাও তা-ই বলে: 1983 সাল পর্যন্ত রামগড় ও খাগড়াছড়ি দুই মহকুমা পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বাংলাপিডিয়া বলছে 1900 সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাকে তিন মহকুমায় ভাগ করা হয়, খাগড়াছড়ি তার একটি; রাঙামাটি জেলা পোর্টাল বলছে খাগড়াছড়ি নতুন মহকুমা হয় 10 সেপ্টেম্বর 1979 সালে। রামগড় উপজেলার পোর্টাল আবার বলছে রামগড় 1905 সালে থানা এবং 1920 সালে মহকুমা হয়। অর্থাৎ খাগড়াছড়ি মহকুমার বয়স নিয়ে দুই উৎসে প্রায় আশি বছরের ফারাক।
| সময় | ঘটনা | উৎস |
|---|---|---|
| 590–953 খ্রিষ্টাব্দ | ত্রিপুরা রাজাদের শাসন (363 বছর) | জেলা পোর্টাল |
| 953–1240 | আরাকান রাজাদের শাসন (297 বছর); এরপর 1342 পর্যন্ত আবার ত্রিপুরা রাজারা | জেলা পোর্টাল |
| 1342 | সুলতান ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ চট্টগ্রামসহ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেন | জেলা পোর্টাল |
| 1760 | নবাব মীর কাশিমের কাছ থেকে চট্টগ্রাম কোম্পানির হাতে | জেলা পোর্টাল |
| 14 ফেব্রুয়ারি 1761 | ত্রিপুরা মহারাজার সঙ্গে যুদ্ধ ও চুক্তি; চুক্তির 3 নম্বর ধারায় পার্বত্য অঞ্চলের রাজস্ব ও নির্বাহী ক্ষমতা ইংরেজদের হাতে | জেলা পোর্টাল |
| 1795 | রামগড়ে 448 জন সৈন্য নিয়ে “রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন” গঠন; বাংলাপিডিয়া তারিখ দিয়েছে 21 জুন 1795 | রামগড় পোর্টাল, বাংলাপিডিয়া |
| 1860 | পার্বত্য চট্টগ্রাম আলাদা জেলা। খাগড়াছড়ি পোর্টাল বলছে 26 জুন (নোটিফিকেশন নং 3302), রাঙামাটি পোর্টাল বলছে 20 জুন | দুই জেলা পোর্টাল |
| 1 সেপ্টেম্বর 1881 | মং, চাকমা ও বোমাং, তিন সার্কেলে ভাগ | জেলা পোর্টাল |
| 1 মে 1900 | Chittagong Hill Tracts Regulation 1900 জারি | জেলা পোর্টাল |
| 1905, 1906, 1916 | রামগড়, মহালছড়ি ও দীঘিনালা থানা গঠন | বাংলাপিডিয়া |
| 1968 | খাগড়াছড়ি থানা গঠন | সদর উপজেলা পোর্টাল |
| 10 সেপ্টেম্বর 1979 | খাগড়াছড়ি নতুন মহকুমা | রাঙামাটি পোর্টাল |
| 7 নভেম্বর 1983 | খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা গঠন | জেলা পোর্টাল |
| 1989 | খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠন | বাংলাপিডিয়া |
| 2 ডিসেম্বর 1997 | পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি | জেলা পোর্টাল, বাংলাপিডিয়া |
| 10 ফেব্রুয়ারি 1998 | খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে শান্তিবাহিনীর একটি দলের আনুষ্ঠানিক অস্ত্র জমা | বাংলাপিডিয়া |
| 5 মার্চ 1998 | পানছড়ির লোগাং ইউনিয়নের দুদুকছড়ায় অস্ত্রসমর্পণ; এখানেই শান্তিবাহিনী বিলুপ্ত ঘোষণা | বাংলাপিডিয়া |
পার্বত্য জেলা পরিষদ কবে হলো, তাতেও দুই উৎসে দুই কথা: জেলা পোর্টাল বলছে 1998 সালের সংশোধনী আইনের আওতায়, বাংলাপিডিয়া বলছে 2 ডিসেম্বর 1997 সালের চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিষদ পার্বত্য জেলা পরিষদে রূপান্তরিত হয়।
জেলা পোর্টাল আরও লিখেছে, 1920 সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিল Excluded Area এবং 1962 সাল থেকে Tribal Area। 1860 থেকে 1997 পর্যন্ত পুরো অঞ্চলের ইতিহাস ধাপে ধাপে আছে আমাদের লেখা পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস-এ; এখানে তা আবার বলা হলো না।
খাগড়াছড়ি নামটি এসেছে নলখাগড়া থেকে, এ কথায় তিনটি উৎস একমত। হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিরা দেওয়ান লিখেছেন, জায়গাটির আদি নাম “হাগারাছড়ি”; চাকমা ভাষায় “হাগারা” অর্থ নলখাগড়া। জেলা প্রশাসনের একটি পাতা বলছে, শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছড়ার দুই পাড়ের নলখাগড়ার বন থেকে এই নাম।
প্রথম আলোতে 6 ফেব্রুয়ারি 2023 সালে প্রকাশিত কলামে ইলিরা দেওয়ান লিখেছেন: “চাকমা ভাষার ‘হাগারা’ এর অর্থ হলো ‘নলখাগড়া’। এ অঞ্চল একসময় নলখাগড়ায় ভরপুর ছিল বলে এর নামকরণ হয় হাগারাছড়ি।” তিনি নিজেকে “হাগারাছড়ির ভূমিজ সন্তান” বলেছেন এবং জানিয়েছেন, আদি নামটি সরে গিয়ে এখন “খাগড়াছড়ি” নামটিই চালু।
জেলা পোর্টালের “পুরাকীর্তি” পাতায় একটি বাড়তি তথ্য আছে: খাগড়াছড়ির প্রাচীন নাম ছিল “তারক”। এই নামের উৎস বা অর্থ পাতাটি দেয়নি, অন্য কোনো উৎসেও নামটি পাওয়া যায়নি। ইংরেজি Wikipedia বলছে জেলা সদর চেঙ্গী নদীর তীরে, জায়গাটি খাগড়া গাছে ভরা ছিল, আর “খাগড়া” ও “ছড়া” থেকে নামটি এসে থাকতে পারে; বাক্যটির কোনো উৎস সেখানে দেওয়া নেই।
একই কলামে ইলিরা দেওয়ান আশপাশের আরও কয়েকটি আদি স্থাননাম লিখে রেখেছেন, যেগুলো বদলে গেছে: মাজনপাড়া থেকে মহাজন পাড়া, পাগুজ্জেছড়ি থেকে পাকিজাছড়ি, নান্যাচর থেকে নানিয়াচর, হুদুকছড়ি থেকে কুতুকছড়ি। পানছড়ি উপজেলার কয়েকটি পাড়ার নাম পুরোপুরি বদলে যাওয়ার উদাহরণও তিনি দিয়েছেন, যেমন চাইতঙ চৌধুরী আদাম থেকে পোড়াবাড়ি, জয়সেনপাড়া থেকে জসিম পাড়া।
উপজেলা প্রশাসনের পোর্টালগুলো তিনটি নামের ব্যাখ্যা দিয়েছে, প্রতিটিই জনশ্রুতি হিসেবে।
ত্রিপুরাদের ভাষা ককবরক বা মারমা ভাষায় খাগড়াছড়ি জায়গাটির নিজস্ব নাম কী, তা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
খাগড়াছড়ি জেলায় উপজেলা 9টি: খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মানিকছড়ি, মহালছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি ও রামগড়। থানাও 9টি। পৌরসভা 3টি (খাগড়াছড়ি, রামগড় ও মাটিরাঙ্গা), ইউনিয়ন 38টি। জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড় খাগড়াছড়ি সদর (1,36,141), সবচেয়ে ছোট লক্ষ্মীছড়ি (27,148)।
নিচের ছকে জনসংখ্যা ও আদিবাসী জনসংখ্যা BBS জনশুমারি 2022-এর জেলা রিপোর্ট থেকে (সারণি 3.1.29); ইউনিয়নের সংখ্যা একই রিপোর্টের জিও-কোড তালিকা থেকে গোনা; সার্কেল জেলা প্রশাসনের পটভূমি পাতা থেকে। শতাংশের কলামটি BBS-এর দুই সংখ্যা ভাগ করে বের করা।
| উপজেলা | জনসংখ্যা 2022 | এর মধ্যে আদিবাসী | আদিবাসীর অংশ | ইউনিয়ন | সার্কেল |
|---|---|---|---|---|---|
| খাগড়াছড়ি সদর | 1,36,141 | 80,636 | 59.2% | 5 (ও 1 পৌরসভা) | মং |
| মাটিরাঙ্গা | 1,26,609 | 30,257 | 23.9% | 7 (ও 1 পৌরসভা) | মং |
| দীঘিনালা | 1,15,440 | 70,420 | 61.0% | 5 | চাকমা |
| মানিকছড়ি | 77,027 | 20,357 | 26.4% | 4 | মং |
| পানছড়ি | 68,678 | 46,000 | 67.0% | 5 | মং |
| রামগড় | 60,741 | 16,317 | 26.9% | 2 (ও 1 পৌরসভা) | মং |
| গুইমারা | 53,258 | 34,303 | 64.4% | 3 | পটভূমি পাতার তালিকায় নেই |
| মহালছড়ি | 49,077 | 30,944 | 63.1% | 4 | মং |
| লক্ষ্মীছড়ি | 27,148 | 20,156 | 74.2% | 3 | আংশিক মং, আংশিক চাকমা |
| জেলা | 7,14,119 | 3,49,390 | 48.9% | 38 (ও 3 পৌরসভা) |
ছক থেকে দুটি জিনিস চোখে পড়ে। আদিবাসী জনসংখ্যার অংশ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্মীছড়ি, পানছড়ি ও গুইমারায়; সবচেয়ে কম মাটিরাঙ্গা, মানিকছড়ি ও রামগড়ে, অর্থাৎ জেলার পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমের তিন উপজেলায়। আর সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি আদিবাসী মানুষ থাকেন খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালায়।
BBS রিপোর্টে “Ethnic Population” বা “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে; এই লেখায় একই সংখ্যাকে আদিবাসী জনসংখ্যা বলা হচ্ছে।
জেলার ছোট প্রশাসনিক এককের সংখ্যা তিন জায়গায় তিন রকম। জেলা পোর্টালের “এক নজরে” বলছে ইউনিয়ন 38, মৌজা 121, গ্রাম 1,723; একই পোর্টালের পটভূমি পাতা বলছে ইউনিয়ন 35, গ্রাম 353; BBS 2022 বলছে ইউনিয়ন 38, মৌজা 124, গ্রাম 1,874, মহল্লা 188।
BBS নিজেই একটি টীকায় জানিয়েছে, মৌজার সংখ্যা শুমারি থেকে শুমারিতে আলাদা পদ্ধতিতে গোনা: 2011 সালে শুধু জনবসতি আছে এমন মৌজা ধরা হয়েছিল (122টি), 2022 সালে জনবসতিহীন মৌজাও ধরা হয়েছে (124টি)। 1991 সালে জেলায় পৌরসভা ছিল 1টি, 2011 থেকে 3টি।
মাটিরাঙ্গার সাতটি ইউনিয়নের নাম উপজেলা পোর্টালে আছে: গোমতি, তবলছড়ি, তাইন্দং, বড়নাল, বেলছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও আমতলী। গুইমারার তিনটি: গুইমারা, হাফছড়ি ও সিন্দুকছড়ি।
জেলার সবচেয়ে পুরনো থানা রামগড় (1905), তারপর মহালছড়ি (1906) ও দীঘিনালা (1916)। খাগড়াছড়ি সদর থানা হয়েছে অনেক পরে, 1968 সালে। বেশির ভাগ থানা উপজেলায় রূপান্তরিত হয় 1983 থেকে 1985 সালের মধ্যে; সবচেয়ে নতুন উপজেলা গুইমারা।
| উপজেলা | থানা গঠন | উপজেলা | উৎস |
|---|---|---|---|
| রামগড় | 1905; মহকুমা 1920 | বাংলাপিডিয়া বলছে 1983, উপজেলা পোর্টাল বলছে 1984 | বাংলাপিডিয়া, পোর্টাল |
| মহালছড়ি | 1906 | সাল পাওয়া যায়নি | বাংলাপিডিয়া, পোর্টাল |
| দীঘিনালা | 1916 | 1984 | বাংলাপিডিয়া |
| খাগড়াছড়ি সদর | 1968 | 1984 | বাংলাপিডিয়া, পোর্টাল |
| পানছড়ি | 1 অক্টোবর 1976 | 1984 | বাংলাপিডিয়া |
| মানিকছড়ি | 10 ডিসেম্বর 1980 | পোর্টালের একই পাতায় 14 এপ্রিল 1984 এবং 1985, দুটোই লেখা; বাংলাপিডিয়া বলছে 1985 | পোর্টাল, বাংলাপিডিয়া |
| মাটিরাঙ্গা | সাল পাওয়া যায়নি | উপজেলা পোর্টাল বলছে 1983, বাংলাপিডিয়া বলছে 1980 | পোর্টাল, বাংলাপিডিয়া |
| লক্ষ্মীছড়ি | সাল পাওয়া যায়নি | 7 নভেম্বর 1983; আগে মানিকছড়ির অংশ ছিল | পোর্টাল, বাংলাপিডিয়া |
| গুইমারা | সাল পাওয়া যায়নি | BBS বলছে 2020; The Business Standard বলছে প্রশাসনের কাজ শুরু 30 নভেম্বর 2015 | BBS, TBS |
BBS জনশুমারি 2022-এর জেলা রিপোর্টের সারণি 3.1.6-এর পাদটীকা বলছে, মহালছড়ি ও রামগড় উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে 2020 সালে গুইমারা উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে The Business Standard-এর 10 নভেম্বর 2019 তারিখের প্রতিবেদন বলছে গুইমারা উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম শুরু হয় 30 নভেম্বর 2015 সালে, এবং ঘোষণার চার বছর পরেও উপজেলার নিজস্ব ভবন হয়নি, ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে দপ্তর চলছে।
শুমারির সারণিতে 2011 সালের কলামে গুইমারার ঘরে ড্যাশ; অর্থাৎ 2011 সালে জেলায় উপজেলা ছিল 8টি, 2022 সালে 9টি। গুইমারা উপজেলার পোর্টাল আয়তন দিয়েছে 234.56 বর্গ কিলোমিটার।
নয়টি উপজেলার আয়তন এক ছকে, একই বছরের হিসাবে, কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। বাংলাপিডিয়া 2011 সালের আট উপজেলার আয়তন দিয়েছে (উপরে আয়তনের অংশে আছে)। উপজেলা পোর্টালগুলোর সংখ্যা তার থেকে আলাদা: রামগড় 287.89 বর্গ কিলোমিটার (বাংলাপিডিয়ায় 199.89), মানিকছড়ি 168.35 (বাংলাপিডিয়ায় 168.34), আর মাটিরাঙ্গার পোর্টাল একই পাতায় দুই সংখ্যা লিখেছে, 495.40 ও 441.40 (বাংলাপিডিয়ায় 404.76)।
জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022 অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলার জনসংখ্যা 7,14,119 জন: পুরুষ 3,57,521, নারী 3,56,564 এবং হিজড়া 34 জন। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাস করেন 260 জন। 2011 থেকে 2022 পর্যন্ত গড় বার্ষিক বৃদ্ধির হার 1.34%, যা জাতীয় হারের (1.22%) চেয়ে সামান্য বেশি।
সংখ্যাগুলো BBS-এর জেলা রিপোর্টের; জেলা পোর্টালও একই সংখ্যা ছেপেছে। লিঙ্গানুপাত 100.27, অর্থাৎ প্রতি 100 নারীর বিপরীতে 100.27 জন পুরুষ; জাতীয় অনুপাত 98.07। উপজেলাগুলোর মধ্যে এই অনুপাত সবচেয়ে বেশি লক্ষ্মীছড়িতে (103.97), সবচেয়ে কম মানিকছড়িতে (95.64)।
| শুমারি | জনসংখ্যা | শহরে (%) | ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) | বার্ষিক বৃদ্ধি (%) | খানা |
|---|---|---|---|---|---|
| 1981 | 2,78,461 | 25.34 | |||
| 1991 | 3,42,488 | 32.03 | 127 | 2.09 | 70,891 |
| 2001 | 5,25,664 | 32.54 | 195 | 4.38 | 1,09,190 |
| 2011 | 6,13,917 | 35.15 | 223 | 1.54 | 1,33,792 |
| 2022 | 7,14,119 | 41.74 | 260 | 1.34 | 1,69,443 |
সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি 1991 থেকে 2001 দশকে: দশ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে 1,83,176 জন, বার্ষিক হার 4.38%। এই দশকের প্রেক্ষাপট এই পাতার বিষয় নয়; তা আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস লেখায়।
2022 সালে জেলার 41.74% মানুষ শহর এলাকায় গণনা হয়েছেন, দেশের গড় 31.66%। তবে BBS জানিয়েছে শহরের সংজ্ঞা শুমারিভেদে আলাদা: 2011 সালে শুধু সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা ধরা হয়েছিল, 2022 সালে উপজেলা সদর ও গ্রোথ সেন্টারও ধরা হয়েছে। 2011 থেকে 2022 পর্যন্ত গ্রামে বৃদ্ধির হার 0.39%, শহরে 2.87%।
খানার সংখ্যায় রিপোর্টের ভেতরেই সামান্য অমিল আছে: ধরন অনুযায়ী খানার সারিতে মোট 1,69,443 (সাধারণ খানা 1,66,710), আর “Number of Household” সারিতে 1,69,526; দ্বিতীয়টিতে ভাসমান জনগোষ্ঠীর খানা ধরা হয়েছে বলে পাদটীকায় লেখা। সাধারণ খানায় গড়ে সদস্য 4.14 জন; 1991 সালে ছিল 4.80।
বাংলাপিডিয়া 2011 সালের জনসংখ্যা দিয়েছে 5,69,715, BBS-এর 2022 রিপোর্টের 2011 কলামে আছে 6,13,917।
2011 থেকে 2022 সালের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে মানিকছড়ি (বার্ষিক 1.99%) ও খাগড়াছড়ি সদর (1.75%)। মাটিরাঙ্গার জনসংখ্যা এগারো বছরে প্রায় একই জায়গায় আছে (বৃদ্ধি 0.01%)। মহালছড়ি ও রামগড়ের সংখ্যা 2011 সালের চেয়ে কম; BBS-এর পাদটীকা অনুযায়ী এই দুই উপজেলার অংশবিশেষ নিয়েই গুইমারা উপজেলা হয়েছে।
| উপজেলা | 1991 | 2001 | 2011 | 2022 | বার্ষিক বৃদ্ধি 2011–22 (%) |
|---|---|---|---|---|---|
| খাগড়াছড়ি সদর | 61,306 | 92,380 | 1,11,833 | 1,36,141 | 1.75 |
| মাটিরাঙ্গা | 71,949 | 1,06,322 | 1,26,477 | 1,26,609 | 0.01 |
| দীঘিনালা | 50,933 | 92,743 | 1,03,392 | 1,15,440 | 0.98 |
| মানিকছড়ি | 38,479 | 50,061 | 61,589 | 77,027 | 1.99 |
| পানছড়ি | 26,319 | 64,510 | 62,198 | 68,678 | 0.88 |
| রামগড় | 44,217 | 53,817 | 71,677 | 60,741 | হিসাব দেওয়া হয়নি |
| গুইমারা | 53,258 | হিসাব দেওয়া হয়নি | |||
| মহালছড়ি | 32,609 | 44,086 | 50,757 | 49,077 | হিসাব দেওয়া হয়নি |
| লক্ষ্মীছড়ি | 16,676 | 21,745 | 25,994 | 27,148 | 0.39 |
ছকের সব সংখ্যা BBS 2022 জেলা রিপোর্টের “Key Findings” ও সারণি 3.1.6 থেকে। মাটিরাঙ্গায় পুরুষের সংখ্যা এই সময়ে কমেছে (বার্ষিক −0.20%), নারীর সংখ্যা বেড়েছে (0.21%)। পানছড়ির ক্ষেত্রে 1991 থেকে 2001 সালে জনসংখ্যা 26,319 থেকে 64,510 হয়েছে, আবার 2011 সালে কমে 62,198।
বাংলাপিডিয়ার ছকে 2011 সালের জন্য মহালছড়ি 42,427, মাটিরাঙ্গা 1,11,538 ও রামগড় 50,744; BBS-এর 2022 রিপোর্টের 2011 কলামে এই তিন উপজেলার সংখ্যা আলাদা (50,757, 1,26,477 ও 71,677)।
জনশুমারি 2022 অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলায় আদিবাসী জনসংখ্যা 3,49,390 জন, জেলার মোট জনসংখ্যার 48.93%। এর মধ্যে চাকমা 1,75,165, ত্রিপুরা 98,500 এবং মারমা 74,210 জন। বাঙালি 3,64,729 জন বা 51.07%। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় বসতি এই জেলায়।
জনগোষ্ঠীভিত্তিক সংখ্যা BBS রিপোর্টের সারণি P17 থেকে; শতাংশ জেলা পোর্টালের। আদিবাসী জনসংখ্যার ভেতরে চাকমা 50.13%, ত্রিপুরা 28.19%, মারমা 21.24% এবং অন্যান্য 0.44% (1,515 জন)। আদিবাসী জনসংখ্যায় পুরুষ 1,72,669 ও নারী 1,76,721 জন।
| জনগোষ্ঠী | জনসংখ্যা 2022 | জনগোষ্ঠী | জনসংখ্যা 2022 |
|---|---|---|---|
| চাকমা | 1,75,165 | তঞ্চঙ্গ্যা | 79 |
| ত্রিপুরা | 98,500 | চাক | 22 |
| মারমা | 74,210 | ম্রো | 18 |
| সাঁওতাল | 541 | বম | 16 |
| রাখাইন | 475 | লুসাই | 11 |
| গারো | 97 | পাংখোয়া | 5 |
| অন্যান্য (BBS-এর “Others”) | 136 | খিয়াং | 4 |
সারণি P17-এ আরও ছোট সংখ্যায় মণিপুরি (11), ওরাওঁ (10), হাজং (7), খাসি (4) সহ মোট আটত্রিশটি নাম আছে। রাঙামাটিতে ত্রিপুরা জনসংখ্যা 12,300 এবং বান্দরবানে 22,572; অর্থাৎ তিন পার্বত্য জেলার ত্রিপুরা জনসংখ্যার প্রায় 74% থাকেন খাগড়াছড়িতে।
সারণি P17 উপজেলা ধরে ভাগ করলে তিন জনগোষ্ঠীর বসতির ধরন আলাদা করে চেনা যায়: চাকমা জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি সদর ও পানছড়িতে; ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী খাগড়াছড়ি সদর ও মাটিরাঙ্গায়; মারমা জনগোষ্ঠী গুইমারা, খাগড়াছড়ি সদর ও মানিকছড়িতে।
| উপজেলা | চাকমা | ত্রিপুরা | মারমা |
|---|---|---|---|
| দীঘিনালা | 61,618 | 8,523 | 73 |
| খাগড়াছড়ি সদর | 36,937 | 28,576 | 14,792 |
| পানছড়ি | 30,270 | 13,295 | 2,143 |
| মহালছড়ি | 21,357 | 1,948 | 7,487 |
| লক্ষ্মীছড়ি | 13,936 | 126 | 5,924 |
| মাটিরাঙ্গা | 3,950 | 23,647 | 2,621 |
| গুইমারা | 3,927 | 10,007 | 20,293 |
| রামগড় | 1,681 | 8,065 | 6,446 |
| মানিকছড়ি | 1,489 | 4,313 | 14,431 |
| জেলা | 1,75,165 | 98,500 | 74,210 |
সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর 541 জনের মধ্যে 258 জন পানছড়িতে ও 158 জন লক্ষ্মীছড়িতে। রাখাইন হিসেবে গণনা হওয়া 475 জনের মধ্যে 157 জন দীঘিনালায়, 102 জন মহালছড়িতে।
শুমারি ধরে আদিবাসী জনসংখ্যা BBS-এর “Key Findings” ছকে এভাবে আছে: 1991 সালে 1,67,519; 2001 সালে 1,21,206; 2011 সালে 3,16,987; 2022 সালে 3,49,390। 2001 সালের সংখ্যাটি আগের ও পরের শুমারির চেয়ে অনেক কম; এর কোনো ব্যাখ্যা রিপোর্টে নেই।
প্রতিটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ভাষা ও সমাজ এই পাতায় নেই; সেগুলো আলাদা লেখায় বিস্তারিত আছে: চাকমা জাতি, ত্রিপুরা জাতির আদ্যোপান্ত ও মারমা জাতির আদ্যোপান্ত। ত্রিপুরাদের ভাষা ও গান নিয়ে পড়তে পারেন ককবরক সঙ্গীত: অতীত ও ভবিষ্যৎ। এপ্রিলের উৎসব তিন জনগোষ্ঠীতে তিন নামে, তিন রকম আচারে হয়; সেই পার্থক্য আছে বিজু, সাংগ্রাই ও বৈসুর আলাদা আচার-ক্রম লেখায়।
জনশুমারি 2022 অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলায় মুসলিম 3,32,687 জন (46.59%), বৌদ্ধ 2,56,600 জন (35.93%), হিন্দু 1,19,706 জন (16.76%), খ্রিষ্টান 4,407 জন (0.62%) এবং অন্যান্য 719 জন। গ্রাম এলাকায় সবচেয়ে বড় অংশ বৌদ্ধ (42.53%), শহর এলাকায় মুসলিম (57.95%)।
| উপজেলা | মুসলিম (%) | বৌদ্ধ (%) | হিন্দু (%) | খ্রিষ্টান (%) |
|---|---|---|---|---|
| লক্ষ্মীছড়ি | 20.07 | 77.73 | 2.07 | 0.13 |
| মহালছড়ি | 30.94 | 61.67 | 6.93 | 0.41 |
| দীঘিনালা | 35.70 | 54.54 | 9.41 | 0.33 |
| পানছড়ি | 30.78 | 47.25 | 21.46 | 0.50 |
| গুইমারা | 30.60 | 46.74 | 22.51 | 0.12 |
| খাগড়াছড়ি সদর | 34.98 | 38.50 | 24.76 | 1.75 |
| মানিকছড়ি | 68.01 | 21.50 | 10.15 | 0.29 |
| রামগড় | 65.48 | 14.63 | 19.16 | 0.41 |
| মাটিরাঙ্গা | 73.94 | 5.58 | 19.73 | 0.42 |
ছকটি BBS রিপোর্টের সারণি 3.1.13 থেকে। জেলার খ্রিষ্টান জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি (2,380 জন) খাগড়াছড়ি সদরে। শুমারি ধরে মুসলিম জনসংখ্যা 1991 সালে ছিল 1,62,504, বৌদ্ধ 1,21,631, হিন্দু 57,158 ও খ্রিষ্টান 939।
জেলা পোর্টালের হিসাবে জেলায় বৌদ্ধ মন্দির বা ক্যাং 836টি, মসজিদ 634টি, গির্জা 266টি এবং হিন্দু মন্দির 212টি।
জনশুমারি 2022 অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলায় 7 বছর ও তার বেশি বয়সীদের সাক্ষরতার হার 71.80%: পুরুষ 77.20%, নারী 66.41%। জাতীয় হার 74.80%। উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খাগড়াছড়ি সদরে (77.36%) ও রামগড়ে (76.08%), সবচেয়ে কম লক্ষ্মীছড়িতে (62.59%)।
| উপজেলা | মোট (%) | পুরুষ (%) | নারী (%) |
|---|---|---|---|
| খাগড়াছড়ি সদর | 77.36 | 82.39 | 72.17 |
| রামগড় | 76.08 | 80.14 | 72.09 |
| মানিকছড়ি | 72.44 | 76.41 | 68.70 |
| মাটিরাঙ্গা | 71.59 | 76.01 | 67.35 |
| মহালছড়ি | 71.20 | 76.63 | 65.73 |
| দীঘিনালা | 69.94 | 76.69 | 62.93 |
| পানছড়ি | 68.01 | 74.79 | 61.28 |
| গুইমারা | 66.41 | 72.09 | 60.69 |
| লক্ষ্মীছড়ি | 62.59 | 70.89 | 54.03 |
ত্রিশ বছরে হারটি প্রায় তিন গুণ হয়েছে: 1991 সালে 26.32%, 2001 সালে 41.81%, 2011 সালে 46.11%, 2022 সালে 71.80%। নারীর সাক্ষরতা 1991 সালে ছিল 16.86%, এখন 66.41%। গ্রামে হার 67.43%, শহরে 77.85%। 5 বছর ও তার বেশি বয়সীদের 23.47% কখনো স্কুল বা মাদ্রাসায় যাননি; 1991 সালে এই অংশ ছিল 62.89%।
জেলা পোর্টালের হিসাবে জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মোট 1,080টি: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় 594টি, বেসরকারি প্রাথমিক 202টি, সরকারি মাধ্যমিক 10টি, বেসরকারি মাধ্যমিক 81টি, সরকারি কলেজ 11টি, বেসরকারি কলেজ 10টি এবং কওমি মাদ্রাসা 76টি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনের হার 83%।
পুরনো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাপিডিয়া নাম দিয়েছে খাগড়াছড়ি উত্তর খবংপডিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (1905), তবলছড়ি টি কে উচ্চ বিদ্যালয় (1952), রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (1952), খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (1957), খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ (1974), রানী নিহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (1976) ও রামগড় সরকারি ডিগ্রি কলেজ (1980)।
খাগড়াছড়িতে কর্মরত মানুষের অর্ধেকের সামান্য বেশি (50.82%) কৃষিতে, 44.73% সেবা খাতে এবং 4.45% শিল্পে কাজ করেন। 2011 সালে কৃষির অংশ ছিল 64.74%। জেলার 50.88% খানায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ, 39.68% খানায় সৌরবিদ্যুৎ; 8.03% খানায় কোনো বিদ্যুৎ নেই।
সংখ্যাগুলো BBS 2022 জেলা রিপোর্টের। 5 বছর ও তার বেশি বয়সী কর্মরত মানুষ 2,26,831 জন, এর মধ্যে কৃষিতে 1,15,287 জন। পানছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি ও গুইমারায় কর্মরতদের বেশির ভাগই কৃষিতে (যথাক্রমে 14,971, 5,915 ও 10,846 জন); খাগড়াছড়ি সদরে সেবা খাতে কাজ করেন কৃষির চেয়ে বেশি মানুষ (26,289 বনাম 17,041)।
| উপজেলা | জাতীয় গ্রিড (%) | সৌর (%) | বিদ্যুৎ নেই (%) |
|---|---|---|---|
| খাগড়াছড়ি সদর | 73.64 | 19.06 | 5.77 |
| মহালছড়ি | 61.92 | 30.19 | 7.07 |
| রামগড় | 60.56 | 31.24 | 6.58 |
| দীঘিনালা | 54.67 | 36.63 | 8.40 |
| পানছড়ি | 48.60 | 42.30 | 8.98 |
| মানিকছড়ি | 42.68 | 46.89 | 10.36 |
| মাটিরাঙ্গা | 35.61 | 56.03 | 6.18 |
| গুইমারা | 31.31 | 49.17 | 14.42 |
| লক্ষ্মীছড়ি | 19.66 | 67.86 | 9.93 |
লক্ষ্মীছড়িতে প্রতি তিন খানার দুটিই সৌরবিদ্যুতে চলে; গুইমারায় প্রতি সাত খানার একটিতে কোনো বিদ্যুৎ নেই। 1991 সালে জেলার 90.93% খানায় বিদ্যুৎ ছিল না। জেলা পোর্টালের “এক নজরে” ছকে জেলার “প্রধান সমস্যা” ঘরে একটি শব্দই লেখা: বিদ্যুৎ।
খাবার পানির প্রধান উৎস নলকূপ (80.06% খানা); কুয়া 15.47% এবং ঝরনা 2.90% খানার। দীঘিনালায় 1,552টি ও মাটিরাঙ্গায় 1,112টি খানা ঝরনার পানি খায়; লক্ষ্মীছড়িতে কুয়ার ওপর নির্ভরশীল খানা (3,179) নলকূপের খানার (2,510) চেয়ে বেশি।
রান্নার জ্বালানি হিসেবে 88.11% খানা কাঠ ব্যবহার করে, এলপি গ্যাস 9.89%। ঘরের ধরনে 76.89% কাঁচা, 15.30% সেমিপাকা, 4.30% পাকা ও 3.51% ঝুপড়ি; 90.60% ঘরের চাল টিনের। নিজের ব্যবহারের মোবাইল ফোন আছে 15 বছর ও তার বেশি বয়সীদের 71.53% জনের (পুরুষ 84.3%, নারী 58.91%); ইন্টারনেট ব্যবহার করেন 29.7%।
খাগড়াছড়ি জেলার 121টি মৌজার মধ্যে 88টি মং সার্কেলে এবং 33টি চাকমা সার্কেলে। মং সার্কেলে পড়েছে খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গা, রামগড়, মানিকছড়ি, মহালছড়ি, পানছড়ি এবং লক্ষ্মীছড়ির একাংশ; চাকমা সার্কেলে লক্ষ্মীছড়ির বাকি অংশ ও দীঘিনালা। অর্থাৎ এক জেলার ভেতরে দুই সার্কেল চিফের এলাকা।
হিসাবটি জেলা প্রশাসনের পটভূমি পাতার। সার্কেল তিনটি তৈরি হয় 1 সেপ্টেম্বর 1881 সালে। মং সার্কেলের রাজবাড়ি মানিকছড়িতে; মানিকছড়ি উপজেলার পোর্টাল সেখানকার নিদর্শনের তালিকায় মং রাজবাড়ি, মহামুনি জাদি, রাজ জেতবন বৌদ্ধ বিহার ও নানুমা দেবী হলের নাম দিয়েছে। বাংলাপিডিয়া রামগড়ের মহামুনি বৌদ্ধ বিহারকে মান রাজবংশের নির্মিত বলে উল্লেখ করেছে।
সার্কেল চিফ বা রাজার ক্ষমতা আসলে কতটুকু, তিন সার্কেলের সীমানা কোথায়, তা নিয়ে আলাদা লেখা আছে: সার্কেল চিফ: তিনটি সার্কেল, আর রাজার ক্ষমতা আসলে কতটুকু। মৌজা ও পাড়ার স্তরে কাজটা কে করেন, তা আছে মৌজা হেডম্যান ও কার্বারি আসলে কী কী করেন লেখায়।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে সংরক্ষিত আসন বাঙালিদের 9টি, চাকমাদের 9টি, ত্রিপুরাদের 6টি ও মারমাদের 6টি; সংখ্যাগুলো জেলা প্রশাসনের পটভূমি পাতার। পরিষদটি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। তিন জেলা পরিষদে আসন ভাগের নিয়ম ও তার আইনি ভিত্তি আছে পার্বত্য জেলা পরিষদে আসন ভাগ হয় কীভাবে লেখায়।
জাতীয় সংসদে পুরো জেলা মিলে একটি আসন: নির্বাচনী এলাকা “298 পার্বত্য খাগড়াছড়ি”।
জেলা পোর্টাল অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলায় নদী আটটি: চেঙ্গী, মাইনী, বড় বিলাই, ছোট বিলাই, ধুরং, ফেনী, হালদা ও সরতা। এর মধ্যে চেঙ্গী ও মাইনীর পানি দক্ষিণে গিয়ে কাপ্তাই হ্রদে পড়ে, আর ফেনী নদী জেলার পশ্চিম সীমানায়, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাশে।
| নদী | কোন দিকে যায় | উৎস |
|---|---|---|
| চেঙ্গী | কর্ণফুলীর প্রধান উপনদীগুলোর একটি; কাপ্তাই হ্রদের রাঙামাটি-কাপ্তাই বাহু উত্তর দিক থেকে চেঙ্গীর পানি পায় | বাংলাপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া (কাপ্তাই হ্রদ) |
| মাইনী | কাসালংয়ের উপনদী; কাপ্তাই হ্রদের কাসালং বাহুতে পড়ে | রাঙামাটি পোর্টাল, বাংলাপিডিয়া |
| ফেনী | উৎস ত্রিপুরার পাহাড়ে; পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমানা ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমে; মোট দৈর্ঘ্য 116 কিমি | বাংলাপিডিয়া |
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী ফেনী নদী রামগড় পর্যন্ত 80.5 কিলোমিটার ছোট নৌকায় সারা বছর নাব্য। মাটিরাঙ্গা উপজেলার পোর্টাল সেখানকার জলাশয় হিসেবে গোমতি, পিলাক ও ফেনী নদী এবং ধলিয়া খালের নাম দিয়েছে। BBS-এর রাঙামাটি রিপোর্ট অনুযায়ী কাপ্তাই হ্রদ খাগড়াছড়ির দুই উপজেলাকে ছুঁয়েছে: মহালছড়ি ও দীঘিনালা।
চেঙ্গীর নাম নিয়ে একটি ভুল পাঠ্যবইয়েও ঢুকেছে। ইলিরা দেওয়ান লিখেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে “চিংড়ি খাল” নামে কোনো খাল নেই; নামটি হবে “চেংগী” বা চেঙ্গী নদী, যার পাড়ে রাঙামাটির বুড়িঘাটে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধি।
চেঙ্গী ও মাইনীর উৎস কোথায় এবং দৈর্ঘ্য কত, তা কোনো নির্ভরযোগ্য উৎসে পাওয়া যায়নি। বড় বিলাই, ছোট বিলাই, ধুরং ও সরতা নদী সম্পর্কে নামের বাইরে আর কিছু জেলা পোর্টালে নেই।
খাগড়াছড়ি সবচেয়ে বেশি পরিচিত আলুটিলার সুড়ঙ্গ, রিছাং ঝরনা, নুনছড়ির দেবতা পুকুর, মানিকছড়ির মং রাজবাড়ি এবং সীমান্ত-শহর রামগড়ের জন্য। পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র গ্যাসক্ষেত্র সেমুতাংও এই জেলার মানিকছড়িতে। আর রাঙামাটির সাজেকে যেতে হয় খাগড়াছড়ি হয়ে, তাই পর্যটকের কাছে জেলাটি সাজেকের দরজা।
জেলা পোর্টাল ও BBS রিপোর্টের তালিকা মিলিয়ে উপজেলা ধরে সাজালে:
দুই তালিকায় আরও আছে হাতিমূড়া (পোর্টালের ভাষায় “স্বর্গের সিঁড়ি”), জেলা পরিষদ পার্ক, লাচাড়ী পাড়া কলসীর মুখ ও ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু; এগুলো কোন উপজেলায়, তালিকায় লেখা নেই। আলুটিলা, রিছাং ঝরনা, ভগবান টিলা ও শতবর্ষী বটগাছকে মাটিরাঙ্গা উপজেলার পোর্টাল নিজের উপজেলার নিদর্শন হিসেবে দেখিয়েছে; বাংলাপিডিয়া আলুটিলাকে খাগড়াছড়ি সদর ও মাটিরাঙ্গা, দুই উপজেলার সঙ্গেই জুড়েছে।
The Daily Star বাংলার একটি ভ্রমণ-লেখা কয়েকটি মাপ দিয়েছে: আলুটিলার গুহা খাগড়াছড়ি সদর থেকে 7 কিলোমিটার দূরে, মাটিরাঙ্গা উপজেলায়; গুহার দৈর্ঘ্য 350 ফুট, এপাশ থেকে ওপাশে যেতে প্রায় 15 মিনিট লাগে। রিছাং ঝরনা সদর থেকে 11 কিলোমিটার, আলুটিলা থেকে 3 কিলোমিটার; পানি পড়ে প্রায় 30 মিটার উঁচু পাহাড় থেকে। নিউজিল্যান্ড পাড়া সদর থেকে দেড় কিলোমিটার।
জেলা পোর্টাল রামগড়কে “ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলসের প্রথম হেডকোয়ার্টার” বলেছে। রামগড় উপজেলার পোর্টাল অনুযায়ী 1795 সালে এখানে 448 জন সৈন্য নিয়ে “রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন” গঠিত হয়, যা থেকে পরে বাংলাদেশ রাইফেলস; বাংলাপিডিয়া তারিখ দিয়েছে 21 জুন 1795 এবং বাহিনীটিকে বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সূচনা বলেছে।
এটিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার প্রথম সদর দপ্তরের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। রাঙামাটি জেলা পোর্টাল অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার প্রথম সদর দপ্তর ছিল চন্দ্রঘোনা; রামগড় ছিল বাহিনীর সদর দপ্তর, জেলার নয়।
জেলার একমাত্র খনিজ সম্পদ হিসেবে জেলা পোর্টাল মানিকছড়ির সেমুতাং গ্যাসফিল্ডের নাম দিয়েছে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র গ্যাসক্ষেত্র, আবিষ্কার 1969 সালে। জেলায় চা-বাগান 1টি (রামগড়ে), রাবার বাগান 3,400 একর।
প্রধান ফসল ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, তুলা, আখ ও শাকসবজি; ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, আনারস, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু ও তরমুজ। মানিকছড়ি উপজেলার পোর্টাল সেখানকার প্রধান রপ্তানিদ্রব্য হিসেবে কলা, কাঁঠাল, আদা, হলুদ, ফুলের ঝাড়ু, বাঁশ, বেত ও কাঠের নাম দিয়েছে। জেলায় পাকা রাস্তা 296.36 কিলোমিটার, আধা-পাকা 261 কিলোমিটার; ব্যাংক 20টি।
জেলা পোর্টালের ব্যবসা-বাণিজ্য পাতা নিজেই বলছে, জেলায় বড় পরিসরের শিল্পকারখানার উল্লেখযোগ্য বিকাশ এখনো ঘটেনি। সম্ভাবনার খাত হিসেবে পোর্টাল পর্যটন, বনজ সম্পদ, খনিজ সম্পদ, হস্তশিল্প, রাবার ও ফলভিত্তিক শিল্পের নাম দিয়েছে।
খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেকের দূরত্ব ইংরেজি Wikipedia-র সাজেক ভ্যালি পাতা বলছে প্রায় 70 কিলোমিটার, রাঙামাটি জেলার পাতা বলছে 62 কিলোমিটার। সাজেক প্রশাসনিকভাবে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায়, কিন্তু সড়কপথ খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালা হয়ে। কোনো সরকারি উৎসে দূরত্বটি পাওয়া যায়নি।
Wikipedia-র সাজেক ভ্যালি পাতা তার সংখ্যার জন্য bdnews24 ও The Daily Star-এর লেখা উদ্ধৃত করেছে; রাঙামাটি জেলার পাতা পথ দিয়েছে খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা, বাঘাইহাট, মাচালং হয়ে সাজেক, আর দীঘিনালা থেকে সাজেক 40 কিলোমিটার, তবে উৎস ছাড়া। সাজেক যে বাঘাইছড়ি উপজেলায়, তা রাঙামাটি জেলা পোর্টালের।
পথের প্রথম অংশ নিয়ে একটি নির্ভরযোগ্য মাপ আছে। প্রথম আলোর 24 অক্টোবর 2025 তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা 18 কিলোমিটার; সড়কটি মাত্র 12 ফুট চওড়া ও আঁকাবাঁকা বলে এটুকু যেতে 40 মিনিট থেকে 1 ঘণ্টা লাগে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ 34 কোটি 63 লাখ টাকায় সড়কটির দুই পাশে তিন ফুট করে চওড়া করার কাজ শুরু করেছে।
জেলা পোর্টালের যোগাযোগ ব্যবস্থা পাতায় (হালনাগাদ 7 জানুয়ারি 2025) ভাড়ার যে ছক আছে, তার মূল সংখ্যাগুলো:
| পথ | বাহন | ভাড়া (টাকা) |
|---|---|---|
| ঢাকা–খাগড়াছড়ি | নন-এসি বাস | 750–850 |
| ঢাকা–খাগড়াছড়ি | এসি বাস | 1,000–1,600 |
| চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি | বাস | 270 (এসি 300) |
| খাগড়াছড়ি–সাজেক, সকালে গিয়ে বিকেলে ফেরা | পিকআপ (সর্বোচ্চ 12 জন) / চাঁদের গাড়ি / সাফারি জিপ (সর্বোচ্চ 7 জন) | 7,500 / 7,000 / 7,000 |
| খাগড়াছড়ি–সাজেক, এক রাত থাকা | পিকআপ / চাঁদের গাড়ি / সাফারি জিপ | 9,000 / 8,300 / 8,000 |
| খাগড়াছড়ি–রাঙামাটি, যাওয়া-আসা | পিকআপ / চাঁদের গাড়ি / সাফারি জিপ | 7,000 / 6,500 / 7,500 |
| খাগড়াছড়ি–বান্দরবান, যাওয়া-আসা | পিকআপ / চাঁদের গাড়ি / সাফারি জিপ | 12,000 / 10,500 / 11,000 |
সাজেকের গাড়ির ভাড়া পুরো গাড়ির, জনপ্রতি নয়। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির পথে পোর্টাল তেইশটি পরিবহনের নাম দিয়েছে; অনেক বাসই ছাড়ে রাত 9টা থেকে 11টার মধ্যে। ভাড়া বদলায়, তাই যাত্রার আগে পোর্টালের ছকটি আবার দেখে নেওয়া ভালো। জেলায় রেলপথ বা বিমানবন্দরের কোনো উল্লেখ পোর্টালের যোগাযোগ পাতায় নেই।
ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি কত কিলোমিটার, সেই সংখ্যা জেলা পোর্টালের যোগাযোগ পাতায় দেওয়া নেই।
জেলা প্রশাসনের “এক নজরে” পাতা অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলায় গুচ্ছগ্রাম 81টি; সেখানে 53,855টি পরিবারে 2,12,165 জন মানুষ থাকেন। ভারত থেকে ফিরে আসা শরণার্থী পরিবার 12,170টি, মানুষ 64,334 জন। জেলার মোট খাস জমি 4,64,272.65 একর, যার 3,86,918.7 একর বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে।
| বিষয় | সংখ্যা (জেলা পোর্টাল) |
|---|---|
| গুচ্ছগ্রাম | 81টি |
| গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত পরিবার | 53,855টি |
| এর মধ্যে রেশন কার্ডধারী পরিবার | 26,220টি |
| রেশন কার্ডবিহীন পরিবার | 27,635টি |
| গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারী জনসংখ্যা | 2,12,165 জন |
| ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী পরিবার (সবাই রেশন কার্ডধারী) | 12,170টি |
| ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী | 64,334 জন |
| মোট খাস জমি | 4,64,272.65 একর |
| বন্দোবস্তকৃত জমি | 3,86,918.7 একর |
| বর্তমানে খাস জমি | 77,353.95 একর |
| সেনাবাহিনীর ব্রিগেড | 2টি (খাগড়াছড়ি ও গুইমারা) |
| বিজিবি সেক্টর | 2টি |
শরণার্থীদের ক্ষেত্রে পোর্টালের নিজের শব্দ “ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী”। গুচ্ছগ্রামের জনসংখ্যা (2,12,165) জেলার 2022 সালের মোট জনসংখ্যার প্রায় 30%; তবে গুচ্ছগ্রামের সংখ্যাটি কোন বছরের হিসাব, পোর্টালে লেখা নেই।
একই পোর্টালের পটভূমি পাতায় রাষ্ট্রের নিজের ভাষায় লেখা আছে: “স্বাধীনতাত্তোরকালে বিভিন্ন সময়ে সরকার উপজাতি ও অউপজাতীয়দের মধ্যে জনসংখ্যা সংক্রান্ত ভারসাম্য আনয়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে।” পাতাটি তার আগের আমল প্রসঙ্গে আরও জানায়, জমির মালিকানার বিধি সংশোধনসহ এ ধরনের কার্যক্রম নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
এই পাতায় সংখ্যাগুলো শুধু সরকারি উৎস যেভাবে ছেপেছে সেভাবে রাখা হলো। বসতি স্থাপন, গুচ্ছগ্রাম ও 1979 থেকে 1986 সালের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নথিভুক্ত তথ্য ও বিতর্কিত দাবি আলাদা করে পড়তে চাইলে দেখুন পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস; জমির আইন ও ভূমি কমিশনের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: 1900 সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন।
1971 সালে আজকের খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় ছিল মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকের একটি প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধ-পরিচালনা কেন্দ্র। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী 8 এপ্রিল রামগড়ে মুক্তিফৌজের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে ওঠে; সেখান থেকে চট্টগ্রাম, শুভপুর ও মহালছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনা করা হতো।
BBS-এর জেলা রিপোর্ট বলছে মুক্তিযুদ্ধে খাগড়াছড়ি জেলা 2 নম্বর সেক্টরের অন্তর্গত ছিল। অন্যদিকে ইংরেজি Wikipedia-র সেক্টর তালিকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম 1 নম্বর সেক্টরের এলাকা, আর 2 নম্বর সেক্টরে ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর ও নোয়াখালীর একাংশ; খাগড়াছড়ির নাম সেখানে আলাদা করে নেই। রিপোর্টটি মহালছড়ি, রামগড় ও বুড়িঘাটের যুদ্ধ এবং ভাইবোনছড়া ও খাগড়াছড়ি অপারেশনের কথা উল্লেখ করেছে, আর নাম দিয়েছে শহীদ ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদেরসহ তিনজনের; তাঁদের একজন মং রাজা।
খাগড়াছড়ি জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে, 22°38′ থেকে 23°44′ উত্তর অক্ষাংশ ও 91°44′ থেকে 92°11′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা, দক্ষিণ-পশ্চিমে চট্টগ্রাম জেলা, আর পশ্চিমে ফেনী নদী ও ত্রিপুরা রাজ্য। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার একটি।
খাগড়াছড়ি চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা। রাঙামাটি ও বান্দরবানের সঙ্গে মিলে এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল গঠন করে। 1983 সালের আগে খাগড়াছড়ি ছিল অবিভক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার অংশ। জেলা সদর খাগড়াছড়ি শহরে, আর জেলার পার্বত্য জেলা পরিষদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে।
উৎসভেদে খাগড়াছড়ি জেলার আয়তন তিন রকম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি 2022 বলছে 2,749.16 বর্গ কিলোমিটার, জেলা প্রশাসনের পোর্টাল বলছে 2,699.56 বর্গ কিলোমিটার (প্রায় 1,042.30 বর্গমাইল), আর বাংলাপিডিয়া বলছে 2,505.73 বর্গ কিলোমিটার। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে খাগড়াছড়ি আয়তনে সবচেয়ে ছোট। 2001 ও 1991 সালের শুমারিতে সংখ্যাটি ছিল 2,699.55।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা গঠিত হয় 7 নভেম্বর 1983 সালে; তারিখটি জেলা প্রশাসনের পোর্টালের। তার আগে এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার মহকুমা ছিল। রাঙামাটি জেলা পোর্টাল অনুযায়ী খাগড়াছড়ি ও রামগড়, এই দুই মহকুমা নিয়ে জেলাটি তৈরি হয়। খাগড়াছড়ি থানা গঠিত হয়েছিল 1968 সালে।
খাগড়াছড়ি জেলায় উপজেলা 9টি: খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মানিকছড়ি, মহালছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি ও রামগড়। জনশুমারি 2022 অনুযায়ী জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড় খাগড়াছড়ি সদর (1,36,141 জন) এবং সবচেয়ে ছোট লক্ষ্মীছড়ি (27,148 জন)। জেলায় পৌরসভা 3টি ও ইউনিয়ন 38টি। থানাও 9টি; সবচেয়ে নতুন উপজেলা গুইমারা।
জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022 অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলার জনসংখ্যা 7,14,119 জন; পুরুষ 3,57,521, নারী 3,56,564 এবং হিজড়া 34 জন। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে 260 জন মানুষ বাস করেন। 2011 সালে জনসংখ্যা ছিল 6,13,917 এবং 1991 সালে 3,42,488। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে খাগড়াছড়ির জনসংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
জনশুমারি 2022 অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলায় আদিবাসী জনসংখ্যা 3,49,390 জন, যা জেলার মোট জনসংখ্যার 48.93%। এর মধ্যে চাকমা 1,75,165 জন, ত্রিপুরা 98,500 জন এবং মারমা 74,210 জন। এ ছাড়া সাঁওতাল 541, রাখাইন 475, গারো 97 ও তঞ্চঙ্গ্যা 79 জন গণনা হয়েছেন। বাঙালি জনসংখ্যা 3,64,729 জন।
খাগড়াছড়ি নামটি এসেছে নলখাগড়া থেকে। ইলিরা দেওয়ান প্রথম আলোতে লিখেছেন, জায়গাটির আদি নাম হাগারাছড়ি; চাকমা ভাষায় হাগারা অর্থ নলখাগড়া, আর এলাকাটি একসময় নলখাগড়ায় ভরপুর ছিল। জেলা প্রশাসনের পোর্টাল বলছে শহরের ভেতরের ছড়ার দুই পাড়ের নলখাগড়ার বন থেকে নামটি এসেছে, এবং জায়গাটির প্রাচীন নাম ছিল তারক।
খাগড়াছড়ি পরিচিত আলুটিলার সুড়ঙ্গ, রিছাং ঝরনা, নুনছড়ির দেবতা পুকুর, মানিকছড়ির মং রাজবাড়ি, পানছড়ির শান্তিপুর অরণ্য কুটির এবং রামগড়ের জন্য, যেখানে 1795 সালে রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন গঠিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র গ্যাসক্ষেত্র সেমুতাং মানিকছড়িতে। রাঙামাটির সাজেকে যাওয়ার সড়কপথও খাগড়াছড়ি হয়ে। জেলার একমাত্র চা-বাগানটি রামগড়ে।
জাতীয় সংসদে খাগড়াছড়ি জেলার নির্বাচনী এলাকা 298 পার্বত্য খাগড়াছড়ি। পুরো জেলা মিলে সংসদীয় আসন একটিই; তথ্যটি জেলা প্রশাসনের পোর্টালের। এর বাইরে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে সংরক্ষিত আসন আছে বাঙালিদের 9টি, চাকমাদের 9টি, ত্রিপুরাদের 6টি ও মারমাদের 6টি। জেলা পরিষদটি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে।
খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের দূরত্ব ইংরেজি Wikipedia-র এক পাতায় প্রায় 70 কিলোমিটার, আরেক পাতায় 62 কিলোমিটার; সরকারি কোনো মাপ পাওয়া যায়নি। পথটি দীঘিনালা হয়ে যায়। প্রথম আলোর 2025 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা 18 কিলোমিটার। সাজেক প্রশাসনিকভাবে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায়।
জেলা প্রশাসনের পোর্টাল অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলায় নদী আটটি: চেঙ্গী, মাইনী, বড় বিলাই, ছোট বিলাই, ধুরং, ফেনী, হালদা ও সরতা। চেঙ্গী কর্ণফুলীর একটি প্রধান উপনদী এবং মাইনী কাসালংয়ের উপনদী; দুটির পানিই কাপ্তাই হ্রদে পড়ে। ফেনী নদীর দৈর্ঘ্য 116 কিলোমিটার, উৎস ত্রিপুরার পাহাড়ে।
খাগড়াছড়ি জেলা দুই সার্কেলে ভাগ হয়ে আছে। জেলার 121টি মৌজার 88টি মং সার্কেলে ও 33টি চাকমা সার্কেলে। খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গা, রামগড়, মানিকছড়ি, মহালছড়ি, পানছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ির একাংশ মং সার্কেলে; দীঘিনালা ও লক্ষ্মীছড়ির বাকি অংশ চাকমা সার্কেলে। মং রাজবাড়ি মানিকছড়িতে। তিন সার্কেল তৈরি হয় 1 সেপ্টেম্বর 1881 সালে।
জনশুমারি 2022 অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলায় 7 বছর ও তার বেশি বয়সীদের সাক্ষরতার হার 71.80%; পুরুষ 77.20% ও নারী 66.41%। জাতীয় হার 74.80%। 2011 সালে জেলার হার ছিল 46.11% এবং 1991 সালে 26.32%। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি খাগড়াছড়ি সদরে (77.36%), সবচেয়ে কম লক্ষ্মীছড়িতে (62.59%)।
গুইমারা খাগড়াছড়ি জেলার নবম ও সবচেয়ে নতুন উপজেলা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি 2022 রিপোর্ট বলছে মহালছড়ি ও রামগড় উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে এটি 2020 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়; The Business Standard-এর 2019 সালের প্রতিবেদন বলছে উপজেলা প্রশাসনের কাজ শুরু হয় 30 নভেম্বর 2015 সালে। 2022 সালে জনসংখ্যা 53,258।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:ইতিহাস ও রাজনীতি
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।