Last updated Oct 23rd, 2026
1

পার্বত্য জেলা পরিষদে বিভাগ হস্তান্তর কোন সরকারের আমলে কতটা হয়েছে, তার একটি হিসাব প্রথম আলোর বান্দরবান প্রতিনিধি বুদ্ধজ্যোতি চাকমা 4 ডিসেম্বর 2025-এ প্রকাশ করেন: চুক্তির আগে জাতীয় পার্টি 5টি, বিএনপি 1993 সালে 10টি, বিএনপি 2006 সালে আরও 4টি বিভাগ হস্তান্তর করে, আর চুক্তি-স্বাক্ষরকারী আওয়ামী লীগ 2009 সালে ফিরে 2012 সালের আগে একটিও করেনি। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের ওয়েবসাইটে রাখা হস্তান্তর-চুক্তিনামাগুলোর তারিখ ধরে মেলালে প্রথম দুটি সংখ্যা মেলে, শেষ দুটির সঙ্গে কয়েকটি তারিখ মেলে না।
এই লেখা সেই তারিখগুলো এক জায়গায় আনে। প্রতিটি বিভাগ কোন দিন থেকে পরিষদের হাতে গেছে, সেদিন দেশে কোন সরকার ছিল, আর বিভিন্ন পক্ষ “কতগুলো হস্তান্তর হয়েছে” প্রশ্নে কেন 12 থেকে 29 পর্যন্ত আলাদা সংখ্যা বলে। চুক্তির পুরো ধারা ধরে বাস্তবায়নের হিসাব আছে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997: ধারা ধরে ধরে লেখায়; এখানে কেবল বিভাগ হস্তান্তরের প্রশ্ন।
এই লেখায়
প্রথম আলোর ওই কলাম অনুযায়ী শান্তিচুক্তির আগে ও পরে মোট 29টি বিভাগ, দপ্তর ও দপ্তরবিহীন বিষয় তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে গেছে। সবচেয়ে বেশি গেছে বিএনপি সরকারের সময়ে, যে দল 1997 সালে চুক্তির বিরোধিতায় লংমার্চ করেছিল। জাতীয় পার্টির সময়ে 5টি, আর আওয়ামী লীগ 2009 থেকে 2012-এর আগে কোনো বিভাগ দেয়নি বলে লেখাটি জানায়।
| সরকার ও সময় | প্রথম আলোর কলামে বিভাগের সংখ্যা |
|---|---|
| জাতীয় পার্টি (চুক্তির আগে) | 5 |
| বিএনপি, 1993 (চুক্তির আগে) | 10 |
| বিএনপি, 2001-এ ক্ষমতায় এসে 2006 সালে | 4 |
| আওয়ামী লীগ, 2009 থেকে 2012-এর আগে | 0 |
একটি অসংগতি পাঠকের চোখে পড়বে। কলামে বিএনপির দুই দফা 10 ও 4, যোগফল 14; অথচ একই লেখায় বলা হয়েছে বিএনপির সময়ে “সবচেয়ে বেশি 13টি” বিভাগ গেছে। কোন সংখ্যাটি লেখকের উদ্দেশ্য, লেখায় তা স্পষ্ট নয়। 2012 থেকে 2024 পর্যন্ত আওয়ামী লীগ আমলের সংখ্যাও কলামে আলাদা করে দেওয়া নেই।
কলামটি একটি মতামত-লেখা, আর এই হিসাবের কোনো সরকারি সারণি প্রকাশিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। তাই নিচের অংশগুলোতে হিসাবটি মেলানো হয়েছে প্রাথমিক নথি দিয়ে: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের ওয়েবসাইটে “চুক্তিসমূহ” পাতায় রাখা হস্তান্তর-চুক্তিনামা, আর রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ওয়েবসাইটে প্রতিটি হস্তান্তরিত বিভাগের পাতা।

হস্তান্তর মানে একটি চুক্তিনামা: সরকার জেলা পরিষদ আইনের 23(খ) ধারার ক্ষমতায়, পরিষদের সম্মতি নিয়ে, একটি জেলা-কার্যালয়ের কাজ, জনবল ও সম্পদ পরিষদের “ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে” দেয়। কর্মকর্তারা পরিষদে প্রেষণে থাকেন, বেতনের টাকা মন্ত্রণালয় থেকে পরিষদে আসে, আর চুক্তিনামা কোন তারিখ থেকে “কার্যকর হইবে” তা শেষ অনুচ্ছেদে লেখা থাকে।
তিন পরিষদের মূল আইন আলাদা: রাঙামাটির 1989 সনের 19 নং, খাগড়াছড়ির 20 নং, বান্দরবানের 21 নং আইন (মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন-অগ্রগতি নথিতে তিনটির নম্বর একসঙ্গে লেখা)। 1989 সালে এগুলোর নাম ছিল “স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন”; 1998 সালের সংশোধনে নাম হয় “পার্বত্য জেলা পরিষদ”। প্রথম আলোর কলামও লিখেছে, 1989 সালে গঠিত স্থানীয় সরকার পরিষদ চুক্তির পরে 1998 সালে জেলা পরিষদে রূপান্তরিত হয়। আসন ও গঠনের বিস্তারিত আছে পার্বত্য জেলা পরিষদে আসন ভাগ লেখায়।
খাগড়াছড়ির স্বাস্থ্য বিভাগের চুক্তিনামা (কার্যকর 1 জুলাই 1990) হস্তান্তরের ধরনটা পরিষ্কার দেখায়। হস্তান্তরিত হয় তিনটি পদ ও তাদের অধীন সবাই: সিভিল সার্জন, জেলা হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট, আর পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালক। শর্তগুলো সংক্ষেপে:
2011 সালের যুব উন্নয়ন চুক্তিনামাতেও একই কাঠামো, সঙ্গে একটি বাড়তি বাক্য: হস্তান্তরিত প্রতিষ্ঠান চালাতে অসুবিধা হলে সরকার আদেশ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে, আর সে ক্ষেত্রে “সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত”। কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরই। অর্থাৎ কাগজেও হস্তান্তর সম্পূর্ণ মালিকানা নয়; জেলা-কার্যালয়ের তত্ত্বাবধান, প্রশাসন ও কিছু উন্নয়নকাজ পরিষদের হাতে যায়।
খাগড়াছড়ি পরিষদের ওয়েবসাইটে 24টি হস্তান্তরিত বিভাগ বা প্রতিষ্ঠানের নাম আছে, যার 21টির চুক্তিনামা বা হস্তান্তরপত্র ডাউনলোড করা যায়। কার্যকর হওয়ার তারিখ অনুযায়ী সাজালে: জাতীয় পার্টির আমলে 5টি নাম, বিএনপির 1991–96 আমলে 8টি, 2007 সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে 1টি, আর আওয়ামী লীগের 2009–24 আমলে 7টি।
নিচের ছকে “সেদিন যে সরকার” কলামটি নথির তারিখের পাশে সরকারের মেয়াদ বসিয়ে করা (মেয়াদের তারিখ উইকিপিডিয়ার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা থেকে: জাতীয় পার্টির সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী 6 ডিসেম্বর 1990 পর্যন্ত; বিএনপি 20 মার্চ 1991 থেকে 30 মার্চ 1996; আওয়ামী লীগ 23 জুন 1996 থেকে 15 জুলাই 2001; বিএনপি 10 অক্টোবর 2001 থেকে 29 অক্টোবর 2006; তত্ত্বাবধায়ক সরকার, ফখরুদ্দীন আহমদ প্রধান উপদেষ্টা, 12 জানুয়ারি 2007 থেকে 6 জানুয়ারি 2009; আওয়ামী লীগ 6 জানুয়ারি 2009 থেকে 5 আগস্ট 2024)।
| বিভাগ / প্রতিষ্ঠান | নথিতে কার্যকর হওয়ার তারিখ | সেদিন যে সরকার |
|---|---|---|
| বাজার ফান্ড প্রশাসন | দায়িত্ব অর্পণ 26 আগস্ট 1989 (জেলা প্রশাসক থেকে স্থানীয় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যানে) | জাতীয় পার্টি |
| স্বাস্থ্য বিভাগ | 1 জুলাই 1990 (চুক্তি সম্পাদন 27 জুন 1990) | জাতীয় পার্টি |
| পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ | 1 জুলাই 1990 (স্বাস্থ্যের একই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত) | জাতীয় পার্টি |
| প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ | 1 জুলাই 1990 | জাতীয় পার্টি |
| কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ | 1 জুলাই 1990 | জাতীয় পার্টি |
| প্রাণিসম্পদ বিভাগ | 1 ডিসেম্বর 1991 | বিএনপি |
| মৎস্য বিভাগ | 1 ডিসেম্বর 1991 | বিএনপি |
| বিসিক (ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প) | 15 ডিসেম্বর 1991 | বিএনপি |
| সমবায় বিভাগ | 1 জানুয়ারি 1992 | বিএনপি |
| সমাজসেবা বিভাগ | 1 জানুয়ারি 1992 | বিএনপি |
| জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ | 6 জানুয়ারি 1992 | বিএনপি |
| জেলা ক্রীড়া বিভাগ | 1 মার্চ 1992 | বিএনপি |
| জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার | 1 মে 1993 | বিএনপি |
| হর্টিকালচার বিভাগ | 22 আগস্ট 2007 | তত্ত্বাবধায়ক সরকার |
| যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর | 29 ডিসেম্বর 2011 | আওয়ামী লীগ |
| সরকারি শিশু সদন | 8 নভেম্বর 2012 | আওয়ামী লীগ |
| রামগড় মৎস্য হ্যাচারি | 8 নভেম্বর 2012 | আওয়ামী লীগ |
| তুলা উন্নয়ন বোর্ড | 8 নভেম্বর 2012 | আওয়ামী লীগ |
| বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) | 8 নভেম্বর 2012 | আওয়ামী লীগ |
| স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর | 8 নভেম্বর 2012 | আওয়ামী লীগ |
| স্থানীয় পর্যটন ও পর্যটন করপোরেশনের স্থাপনা | 28 আগস্ট 2014 | আওয়ামী লীগ |
| শিল্পকলা একাডেমি | খাগড়াছড়ির পাতায় চুক্তির ফাইল নেই | — |
| ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট | খাগড়াছড়ির পাতায় চুক্তির ফাইল নেই | — |
| মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ | তালিকায় নাম আছে, কিন্তু লিংকটি পর্যটনের চুক্তিনামাই খোলে | — |

ছকটি প্রথম আলোর কলামের প্রথম দুটি সংখ্যার সঙ্গে মেলে। জাতীয় পার্টির আমলে খাগড়াছড়ির তালিকায় ঠিক 5টি নাম (স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা একই চুক্তিতে হলেও পাতায় আলাদা নাম)। বিএনপির 1991–96 আমলে 8টি চুক্তি তারিখসহ পাওয়া যায়; শিল্পকলা একাডেমি ও সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের তারিখ রাঙামাটির পাতায় 1 মে 1993, সেটি ধরলে সংখ্যা দাঁড়ায় কলামের 10-এ। তবে খাগড়াছড়িতে এ দুটির তারিখ নথিতে পাওয়া যায়নি।
রাঙামাটি পরিষদের ওয়েবসাইটে প্রতিটি হস্তান্তরিত বিভাগের আলাদা পাতা আছে, আর বেশিরভাগ পাতায় হস্তান্তরের তারিখ লেখা। এই তারিখগুলো খাগড়াছড়ির চুক্তির সঙ্গে প্রায় একই ছন্দে চলে: 1 জুলাই 1990-এ চারটি মূল বিভাগ, 1993 সালে সংস্কৃতি ও প্রকৌশল, 2007-এ হর্টিকালচার, 2012-তে স্বাস্থ্য প্রকৌশল। তবে দুটি জায়গায় রাঙামাটির তারিখ আলাদা।
| বিভাগ / প্রতিষ্ঠান (রাঙামাটি) | পাতায় লেখা তারিখ | সেদিন যে সরকার |
|---|---|---|
| কৃষি সম্প্রসারণ | 1 জুলাই 1990 | জাতীয় পার্টি |
| স্বাস্থ্য বিভাগ | 1 জুলাই 1990 | জাতীয় পার্টি |
| পরিবার পরিকল্পনা | 1 জুলাই 1990 | জাতীয় পার্টি |
| প্রাথমিক শিক্ষা | 1 জুলাই 1990 | জাতীয় পার্টি |
| ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট | 1 মে 1993 | বিএনপি |
| জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার | 1 মে 1993 | বিএনপি |
| জেলা শিল্পকলা একাডেমি | 1 মে 1993 | বিএনপি |
| জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল | 21 নভেম্বর 1993 | বিএনপি |
| জেলা পিগ ফার্ম (প্রাণিসম্পদের অধীন) | 21 নভেম্বর 1993 | বিএনপি |
| হর্টিকালচার সেন্টার (6টি) | 22 আগস্ট 2007 | তত্ত্বাবধায়ক সরকার |
| তুলা উন্নয়ন বোর্ড, রাঙামাটি জোন | 22 আগস্ট 2007 | তত্ত্বাবধায়ক সরকার |
| নার্সিং ইনস্টিটিউট | 12 মে 2009 | আওয়ামী লীগ |
| স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর | 8 নভেম্বর 2012 | আওয়ামী লীগ |
দুটি পার্থক্য চোখে পড়ে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল খাগড়াছড়িতে 6 জানুয়ারি 1992, রাঙামাটিতে 21 নভেম্বর 1993; দুটোই বিএনপির প্রথম মেয়াদে। তুলা উন্নয়ন বোর্ড রাঙামাটিতে 22 আগস্ট 2007, খাগড়াছড়িতে 8 নভেম্বর 2012; একই বিভাগ দুই জেলায় দুই আলাদা সরকারের সময়ে গেছে। অর্থাৎ “কোন সরকার কয়টি” প্রশ্নের উত্তর জেলাভেদে আলাদা হতে পারে। বান্দরবান পরিষদের ওয়েবসাইটে হস্তান্তরিত বিভাগের নামের তালিকা আছে, কিন্তু তারিখসহ চুক্তিনামা প্রকাশিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
পরিষদগুলো জন্মই নেয় জাতীয় পার্টির সময়ে, 1989 সালের তিনটি আইনে, আর প্রথম হস্তান্তরও সেই সময়ের। খাগড়াছড়িতে বাজার ফান্ডের দায়িত্ব 26 আগস্ট 1989-এ জেলা প্রশাসক থেকে স্থানীয় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যানের হাতে যায়; স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, প্রাথমিক শিক্ষা ও কৃষি সম্প্রসারণ যায় 1 জুলাই 1990-এ।
এই প্রথম দফাটিই আজও সবচেয়ে বড় জনসেবা-বিভাগগুলোর দফা: হাসপাতাল, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কৃষি কর্মকর্তা। প্রাথমিক শিক্ষার চুক্তিনামা অবশ্য একটি সীমাও টেনে দেয়: পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত প্রাথমিক শিক্ষার মহাপরিচালক ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালককে জানাতে হবে, আর শিক্ষক বাছাই, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি বা শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধ হলে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
জাতীয় পার্টির আমলের অবদানকে জুমজার্নালের আর্কাইভের একটি লেখাও বড় করে দেখায়। শক্তিপদ ত্রিপুরার নির্বাচনী ইশতেহার, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও আদিবাসী অধিকার (তাক্রুপ্ সংকলন, 2013) লিখেছে, তখন পর্যন্ত হস্তান্তরিত 12টি বিভাগের “অধিকাংশই এরশাদ আমলে”। খাগড়াছড়ির চুক্তিনামার তারিখ এই দাবির সঙ্গে পুরো মেলে না: তারিখসহ চুক্তির হিসাবে জাতীয় পার্টির আমলে 5টি নাম, বিএনপির প্রথম মেয়াদে 8টি।
পরিষদের একমাত্র সরাসরি নির্বাচনও এই আমলের। জাতিসংঘ আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের 2011 সালের সমীক্ষা লিখেছে, 1989 সালের প্রথম নির্বাচনটি (সমীক্ষার ভাষায় বিতর্কিত) ছাড়া সমীক্ষার সময় পর্যন্ত পরিষদগুলো চালিয়েছেন সরকার-মনোনীত ব্যক্তিরা, আর চুক্তির পর কোনো নির্বাচন হয়নি। মনোনীত পরিষদে জাতিগত পরিচয়ের সনদ নিয়ে আমাদের উপজাতীয় সনদপত্র লেখাটি দেখা যেতে পারে।
খাগড়াছড়ির চুক্তিনামায় বিএনপির প্রথম মেয়াদে 8টি বিভাগ তারিখসহ পাওয়া যায়, ডিসেম্বর 1991 থেকে মে 1993-এর মধ্যে: প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, বিসিক, সমবায়, সমাজসেবা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, ক্রীড়া ও গণগ্রন্থাগার। রাঙামাটিতে এর সঙ্গে 1 মে 1993-এ শিল্পকলা একাডেমি ও সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট।
এই চুক্তিনামাগুলো চুক্তির (1997) আগের, তাই এগুলো শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের অংশ নয়; এগুলো 1989 সালের আইনের অধীনে স্থানীয় সরকার পরিষদে হস্তান্তর। সমবায়ের চুক্তিনামা “রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে” সই হয়েছে। প্রতিটির কাঠামো 1990-এর স্বাস্থ্য-চুক্তির মতোই: প্রেষণে নিয়োগ, পরিষদের চেয়ারম্যানের হাতে গোপনীয় প্রতিবেদন, আর কোনো জটিলতায় সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
প্রথম আলোর কলামের “বিএনপি 1993 সালে 10টি” বাক্যটি এই দফাকেই বোঝায় বলে ধরে নেওয়া যায়, যদিও নথিতে দফাটি 1991 থেকে 1993 পর্যন্ত ছড়ানো। কলামের মূল বক্তব্য, যে দল চুক্তির বিরোধিতা করেছিল সেই দলের আমলেই সবচেয়ে বেশি বিভাগ গেছে, খাগড়াছড়ির নথিতেও টেকে: সেখানে কোনো একক সরকারের মেয়াদে এর চেয়ে বেশি বিভাগ যায়নি (পরের সর্বোচ্চ আওয়ামী লীগের 2009–24 মেয়াদে 7টি)।
1996–2001 সালে চুক্তি সই হয় (2 ডিসেম্বর 1997) আর 1998 সালে তিন পরিষদের আইন সংশোধন হয়। কিন্তু খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি পরিষদের প্রকাশিত তালিকায় এই পাঁচ বছরের তারিখে কোনো বিভাগ হস্তান্তরের নথি পাওয়া যায়নি।
এই সময়ের কাজ ছিল কাঠামো বদলানো। প্রথম আলোর কলাম অনুযায়ী চুক্তির পর আওয়ামী লীগ সরকার 1998 সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আঞ্চলিক পরিষদ, তিন জেলা পরিষদ, পরিবীক্ষণ কমিটি ও ভূমি কমিশন গঠন করে; লেখক একে বলেছেন “প্রস্তুতিমূলক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো”। মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী মন্ত্রণালয় গঠিত হয় 15 জুলাই 1998।
জাতিসংঘ স্থায়ী ফোরামের সমীক্ষা (E/C.19/2011/6) 1998 সালের সংশোধনের পরিমাণ দেয়: পরিষদের বিষয় 21টি থেকে বেড়ে 33টি এখতিয়ারে 68টি হয়, আর ভূমি প্রশাসন, স্থানীয় পুলিশ, বন, মাধ্যমিক শিক্ষা ও বাজেটে পরিষদের কর্তৃত্ব বাড়ে। চুক্তির খ-34 দফায় যে 12টি নতুন বিষয় যোগ হয়, সেগুলো হলো ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, পুলিশ (স্থানীয়), উপজাতীয় আইন ও সামাজিক বিচার, যুব কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যটন, ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্টসহ অন্যান্য স্থানীয় শাসন প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় শিল্প-বাণিজ্যের লাইসেন্স, কাপ্তাই হ্রদ ছাড়া অন্য নদী-খাল-বিলের ব্যবহার ও সেচ, জন্ম-মৃত্যু ও অন্যান্য পরিসংখ্যান, মহাজনি কারবার, আর জুম চাষ (মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন-অগ্রগতি নথি)।
এই সময় নিয়ে উৎসগুলো তিন রকম কথা বলে। প্রথম আলোর কলাম বলছে বিএনপি 2006 সালে 4টি বিভাগ হস্তান্তর করেছে। জনসংহতি সমিতির মঙ্গল কুমার চাকমা 2012 সালের লেখায় বলেছেন চারদলীয় জোট সরকার কেবল “যুব দপ্তর ও টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট” দিয়েছে। আর খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির নথিতে এই পর্বের তারিখ 22 আগস্ট 2007, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়।
খাগড়াছড়ির হর্টিকালচার চুক্তিনামা 22 আগস্ট 2007 (7 ভাদ্র 1414) থেকে কার্যকর; রাঙামাটির পাতাও বলে 6টি হর্টিকালচার সেন্টার ও তুলা উন্নয়ন বোর্ডের রাঙামাটি জোন সেদিনই পরিষদে গেছে। বিএনপির দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হয় 29 অক্টোবর 2006, আর 12 জানুয়ারি 2007 থেকে প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ। কলামের “2006 সালে 4টি” আর নথির “2007 সালের তারিখ”-এর মাঝখানে সিদ্ধান্ত কবে হয়েছিল, প্রকাশিত নথিতে তা জানা যায়নি।
মঙ্গল কুমার চাকমার লেখাটি আমাদের আর্কাইভে আছে: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার: অর্জন ও সম্ভাবনা (কেদাকতুক সংকলন, 2012)। সেখানে চুক্তির আগে হস্তান্তরিত 12টি বিভাগের তালিকায় “যুব ও ক্রীড়া দপ্তর” আছে, আবার চারদলীয় জোটের আমলে “যুব দপ্তর” দেওয়ার কথাও আছে। খাগড়াছড়িতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের চুক্তিনামা কার্যকর 29 ডিসেম্বর 2011 থেকে। টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট রাঙামাটির তালিকায় আছে, তবে তার তারিখ প্রকাশিত পাতায় পাওয়া যায়নি।
আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় দফায় খাগড়াছড়ির তালিকায় 7টি হস্তান্তর তারিখসহ পাওয়া যায়: যুব উন্নয়ন (29 ডিসেম্বর 2011), একদিনে পাঁচটি (8 নভেম্বর 2012: শিশু সদন, রামগড় মৎস্য হ্যাচারি, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, বিএডিসি, স্বাস্থ্য প্রকৌশল), আর পর্যটন (28 আগস্ট 2014)। রাঙামাটির নার্সিং ইনস্টিটিউট গেছে 12 মে 2009-এ।
তাই “2012-এর আগে একটিও নয়” কথাটি খাগড়াছড়ির যুব উন্নয়ন ও রাঙামাটির নার্সিং ইনস্টিটিউটের তারিখের সঙ্গে মেলে না; দুটি নথিই 2012-এর আগের। তবে কলামের মূল সমালোচনা ছিল অন্যখানে: জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্টদের মতে আওয়ামী লীগ আমলে আগেই হস্তান্তরিত বিভাগের অধীন দপ্তরকে নতুন বিভাগ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যেমন বিএডিসি (কৃষি), স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (স্বাস্থ্য) ও সরকারি শিশু পরিবার (সমাজসেবা)। খাগড়াছড়ির 8 নভেম্বর 2012-এর দফায় ঠিক এই তিনটিই আছে।
একই অভিযোগ শক্তিপদ ত্রিপুরার 2013 সালের লেখাতেও: মহাজোট সরকার এরশাদ আমলে হস্তান্তরিত বিভাগের অধীন প্রতিষ্ঠান বা কর্ম হস্তান্তর দেখিয়ে বিভাগ হস্তান্তরের দাবি করছে, আর এই সরকারের আমলে “গুরুত্বপূর্ণ কোন বিভাগ” যায়নি।
2012 সালের শিশু সদন চুক্তিনামায় একটি শর্ত আছে যা আগের চুক্তিগুলোয় নেই: শিশু আইন 1974 ও জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের ব্যত্যয় করা যাবে না, আর শিশুদের নিজস্ব ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস অক্ষুণ্ন রেখে কার্যক্রম চালাতে হবে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ-বদলি হবে পরিষদের চাকরি প্রবিধানমালা অনুযায়ী।
পর্যটনের চুক্তিনামা (কার্যকর 28 আগস্ট 2014) স্থানীয় পর্যটন ও পর্যটন করপোরেশনের স্থাপনা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে দেয়, আর জনবলের বেতন পর্যটনের আয় থেকে মেটানোর কথা বলে। বাংলা ট্রিবিউনের 27 সেপ্টেম্বর 2020-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 2014 সালে স্থানীয় পর্যটনের 33 ভাগ পরিষদে দেওয়া হয় এবং করপোরেশনের লাভের 10 শতাংশ পরিষদকে দেওয়ার কথা; একই প্রতিবেদনে রাঙামাটি পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান বলেছেন, 2014 সালের পর পরিষদ সেই লভ্যাংশের এক টাকাও পায়নি এবং স্থানীয় পর্যটন “নামেমাত্র” হস্তান্তর হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের “শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন অগ্রগতি” নথিতে (ভেতরের সর্বশেষ তারিখ মে 2013) খ-34 দফাকে “আংশিক বাস্তবায়িত” বলা হয়েছে, পাশে হিসাব: রাঙামাটিতে 23টি, খাগড়াছড়িতে 22টি, বান্দরবানে 21টি বিষয়/বিভাগ হস্তান্তর হয়েছে, আর আরও 4টির কাজ চলছে। চারটি হলো রাঙামাটির প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (26 অক্টোবর 2011-এ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার), জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর, প্রজেক্ট অফিসারের দপ্তর (মাধ্যমিক শিক্ষা), আর খাগড়াছড়ির ভোকেশনাল ট্রেনিং স্কুল।
প্রথম আলোর কলাম জানায়, 2013 ও 2024 সালে কিছু দপ্তরবিহীন বিষয় হস্তান্তর হয়েছে: জুম চাষ, মহাজনি কারবার, জন্ম-মৃত্যু ও অন্যান্য পরিসংখ্যান, স্থানীয় শিল্প-বাণিজ্যের লাইসেন্স। কিন্তু এসব বিষয় এখন যে প্রশাসনের হাতে, তাদের প্রতি নির্বাহী আদেশ জারি না হওয়ায় হস্তান্তর কার্যকর হয়নি। পর্যটন করপোরেশন ও মাধ্যমিক শিক্ষার হস্তান্তর চুক্তি হয়েছে, কিন্তু কার্যকর হয়নি।
এই দপ্তরবিহীন বিষয়গুলোর চুক্তিনামা বা প্রজ্ঞাপন কোনো পরিষদ বা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি, তাই 2024 সালের হস্তান্তরটি আগস্টের আগে না পরে, জানা যায়নি। বান্দরবান পরিষদের ওয়েবসাইটের “হস্তান্তরিত বিভাগ” তালিকায় অবশ্য জন্মমৃত্যু ও অন্যান্য পরিসংখ্যান, স্থানীয় শিল্প-বাণিজ্যের লাইসেন্স, স্থানীয় পর্যটন ও মহাজনি কারবার নাম হিসেবে আছে।
অন্তর্বর্তী সরকার নভেম্বর 2024-এ তিন পরিষদ মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে পুনর্গঠন করে (প্রথম আলো)। 17 ফেব্রুয়ারি 2026 থেকে বিএনপি আবার সরকারে। এর পরে কোনো নতুন বিভাগ হস্তান্তরের খবর বা নথি পাওয়া যায়নি।
একই প্রশ্নে উৎসভেদে উত্তর 12 থেকে 29। পার্থক্যের মূল কারণ গোনার একক: কেউ গোনেন “বিভাগ”, কেউ “বিষয়” (আইনের তফসিলের দফা), কেউ প্রতিটি দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান আলাদা করে। একটি স্বাস্থ্য-চুক্তিতেই তিনটি পদ যায়; আবার বিএডিসি বা স্বাস্থ্য প্রকৌশলকে কেউ আলাদা গোনেন, কেউ গোনেন না।
| উৎস ও সাল | কী গোনা হয়েছে | সংখ্যা |
|---|---|---|
| জাতিসংঘ স্থায়ী ফোরাম, 2011 (জেএসএসের 2009 সালের অপ্রকাশিত প্রতিবেদন উদ্ধৃত) | বিষয় ও এখতিয়ার | চুক্তির আগে 10টি এখতিয়ারে 15টি বিষয়; 1998-এর পরে আরও 3টি এখতিয়ারে 5টি |
| মঙ্গল কুমার চাকমা, 2012 (আর্কাইভ) | চুক্তির আগে হস্তান্তরিত বিভাগ ও কর্ম | 12 |
| শক্তিপদ ত্রিপুরা, 2013 (আর্কাইভ) | সব সরকারের আমলে বিভাগ | 12 |
| মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি নথি, 2013 নাগাদ | বিষয়/বিভাগ, জেলাভিত্তিক | রাঙামাটি 23, খাগড়াছড়ি 22, বান্দরবান 21 |
| সরকারি দাবি, মঙ্গল কুমার চাকমার উদ্ধৃতিতে (ডেইলি স্টার, 2020) | বিষয় | রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি 28 করে, বান্দরবান 26 |
| মঙ্গল কুমার চাকমা, ডেইলি স্টার, 2020 | 33টি কার্যের মধ্যে | 17টি, যার 12টি অসম্পূর্ণভাবে |
| খাগড়াছড়ি পরিষদের ওয়েবসাইট, 2026 | চুক্তিসমূহ পাতার নাম | 24টি নাম, 21টির নথি |
| বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, প্রথম আলো, 2025 | বিভাগ, দপ্তর ও দপ্তরবিহীন বিষয় | 29 |
সংখ্যাগুলো একে অপরকে ভুল প্রমাণ করে না; তারা আলাদা জিনিস গোনে। জেএসএসের হিসাব দেখে চুক্তির 33টি বিষয়ের মধ্যে কোনগুলো আইনের অর্থে পরিষদে গেছে, আর সরকারি হিসাব গোনে চুক্তিনামা সই হওয়া প্রতিটি দপ্তর। এই পার্থক্য নিয়ে বিস্তারিত তুলনা আছে আমাদের পার্বত্য জেলা পুলিশ নিয়োগ লেখার “হস্তান্তরের হিসাবে বিরোধ” অংশে।
সব উৎস একটি জায়গায় একমত: আইন-শৃঙ্খলা, স্থানীয় পুলিশ, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, আর বন ও পরিবেশ কোনো সরকারের আমলেই পরিষদে যায়নি। প্রথম আলোর 2025 সালের কলাম আর জনসংহতি সমিতির মঙ্গল কুমার চাকমার 2020 ও 2024 সালের লেখা একই তালিকা দেয়; জাতিসংঘের 2011 সালের সমীক্ষা আলাদা তালিকা না দিয়ে লিখেছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো পরিষদের কর্তৃত্বে আসেনি।
মঙ্গল কুমার চাকমা 2020 সালে লিখেছেন, ভূমি ও আইন-শৃঙ্খলা আইনের অর্থে জেলা পরিষদের এখতিয়ারে, কিন্তু জেলা প্রশাসকেরা 1900 সালের শাসনবিধির জোরে সাধারণ প্রশাসন চালাচ্ছেন (শাসনবিধি নিয়ে আদালতের রায়ের বিবরণ আছে রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলা লেখায়)। 2024 সালের লেখায় তিনি জানান, চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির কয়েকটি সভায় “পুলিশ (স্থানীয়)” ও আইন-শৃঙ্খলা তিন পরিষদে দেওয়া এবং পার্বত্য জেলা পুলিশ বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি; একই লেখার প্রশ্নে পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নও এই তালিকায় আছে।
প্রথম আলোর কলাম আরেকটি কারণ যোগ করে: জেলা পরিষদ ও ভূমি কমিশনের বিধিমালা না হওয়ায় ক্ষমতায়ন হচ্ছে না। আর জনসংহতি সমিতির নেতারা প্রায়ই বলেন, এসব বাকি বিষয় হস্তান্তরের দায় চুক্তি-স্বাক্ষরকারী আওয়ামী লীগ সরকারেরই বেশি। পাহাড়ের অন্যান্য আইন ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমাদের লেখাগুলো একসঙ্গে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।

বিএনপির আমলে। প্রথম আলোর 4 ডিসেম্বর 2025-এর কলাম অনুযায়ী বিএনপি 1993 সালে 10টি ও 2006 সালে 4টি বিভাগ দিয়েছে। খাগড়াছড়ি পরিষদের চুক্তিনামাতেও বিএনপির প্রথম মেয়াদে (ডিসেম্বর 1991 থেকে মে 1993) 8টি বিভাগ তারিখসহ পাওয়া যায়, যা কোনো একক মেয়াদে সবচেয়ে বেশি।
প্রথম আলোর কলাম বলছে 5টি। খাগড়াছড়ি পরিষদের তালিকাতেও জাতীয় পার্টির আমলে 5টি নাম: বাজার ফান্ড প্রশাসন (26 আগস্ট 1989), আর 1 জুলাই 1990 থেকে স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, প্রাথমিক শিক্ষা ও কৃষি সম্প্রসারণ। শক্তিপদ ত্রিপুরার 2013 সালের লেখা অবশ্য বলেছে, তখনকার 12টির অধিকাংশই এরশাদ আমলের।
প্রথম আলোর কলাম বলছে করেনি। কিন্তু খাগড়াছড়ি পরিষদের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের চুক্তিনামা 29 ডিসেম্বর 2011 থেকে কার্যকর, আর রাঙামাটি পরিষদের পাতা অনুযায়ী নার্সিং ইনস্টিটিউট গেছে 12 মে 2009-এ। বড় দফাটি হয় 8 নভেম্বর 2012-এ, খাগড়াছড়িতে একদিনে পাঁচটি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠান।
প্রথম আলোর কলাম বলছে 2006 সালে 4টি। মঙ্গল কুমার চাকমার 2012 সালের লেখা বলছে চারদলীয় জোট সরকার কেবল যুব দপ্তর ও টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট দিয়েছে। খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির নথিতে হর্টিকালচার ও তুলা উন্নয়ন বোর্ডের তারিখ 22 আগস্ট 2007, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়।
উৎসভেদে 12 থেকে 29। প্রথম আলো (2025) বলছে 29টি বিভাগ, দপ্তর ও দপ্তরবিহীন বিষয়। মন্ত্রণালয়ের 2013 নাগাদের নথিতে রাঙামাটি 23, খাগড়াছড়ি 22, বান্দরবান 21। জনসংহতি সমিতির মঙ্গল কুমার চাকমা (ডেইলি স্টার, 2020) বলছেন 33টি কার্যের মধ্যে 17টি, যার 12টি অসম্পূর্ণভাবে।
33টি। মঙ্গল কুমার চাকমা 2012 সালে লিখেছেন, চুক্তিতে 12টি বিষয় যোগ হওয়ায় তিন পরিষদে মোট 33টি বিষয় হস্তান্তরের বিধান হয়েছে। জাতিসংঘ স্থায়ী ফোরামের 2011 সালের সমীক্ষার হিসাবে 1998 সালের সংশোধনে বিষয় 21টি থেকে বেড়ে 33টি এখতিয়ারে 68টি হয়।
না, চুক্তিনামা অনুযায়ী তাঁরা পরিষদে প্রেষণে থাকেন এবং পরিষদ নিজের প্রবিধান না বানানো পর্যন্ত সরকারি বিধিতে চলেন। খাগড়াছড়ির 1990 সালের স্বাস্থ্য-চুক্তিতে বেতনের টাকা মন্ত্রণালয় থেকে চার কিস্তিতে পরিষদে আসে, পরিষদ জেলার ভেতরে বদলি করতে পারে, আর জেলা-প্রধানের গোপনীয় প্রতিবেদন লেখেন পরিষদের চেয়ারম্যান।
আইন-শৃঙ্খলা, পুলিশ (স্থানীয়), ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, এবং বন ও পরিবেশ। প্রথম আলোর 2025 সালের কলাম এবং জনসংহতি সমিতির মঙ্গল কুমার চাকমার 2020 ও 2024 সালের লেখা এই তালিকায় একমত। পুলিশ (স্থানীয়) এবং ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা চুক্তির খ-34 দফায় পরিষদের বিষয় হিসেবে যুক্ত হয়েছিল; আইন-শৃঙ্খলার তত্ত্বাবধান আছে প্রথম তফসিলের 1 নম্বর দফায়।
কাগজে হয়েছে। খাগড়াছড়ির পর্যটন চুক্তিনামা 28 আগস্ট 2014 থেকে কার্যকর। বাংলা ট্রিবিউনের 2020 সালের প্রতিবেদন বলছে 2014 সালে স্থানীয় পর্যটনের 33 ভাগ পরিষদে দেওয়া হয়, লাভের 10 শতাংশ দেওয়ার কথা; রাঙামাটি পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান বলেছেন সেই লভ্যাংশ আসেনি। প্রথম আলোর 2025 সালের কলাম পর্যটন করপোরেশনের হস্তান্তরকে অকার্যকর বলেছে।
প্রথম আলোর 2025 সালের কলাম অনুযায়ী এই দপ্তরবিহীন বিষয়গুলো স্থানীয় শিল্প-বাণিজ্যের লাইসেন্সসহ 2013 ও 2024 সালে হস্তান্তর হয়েছে, কিন্তু নির্বাহী আদেশ না হওয়ায় কার্যকর হয়নি; পরিষদের চিঠির পরও প্রশাসন দায়িত্ব ছাড়েনি। চারটিই চুক্তির খ-34 দফায় যোগ হওয়া বিষয়।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ওয়েবসাইটে হস্তান্তরিত বিভাগের নামের তালিকা আছে, যেমন মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা, বিসিক, স্বাস্থ্য, কৃষি সম্প্রসারণ, সমাজসেবা ও যুব উন্নয়ন। কিন্তু তারিখসহ চুক্তিনামা সেখানে প্রকাশিত নেই। মন্ত্রণালয়ের 2013 নাগাদের নথি অনুযায়ী তখন বান্দরবানে 21টি বিষয়/বিভাগ হস্তান্তরিত ছিল।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 23 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:পার্বত্য চুক্তি, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন, পার্বত্য জেলা পরিষদ
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।