Last updated Oct 19th, 2026
0

পাহাড়ে সামাজিক বিচার আপিল আইনে সাধারণত তিন ধাপে চলে: প্রথমে কার্বারি বা হেডম্যান, তারপর সার্কেল চিফ, শেষে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার। শেষ ধাপে কমিশনারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে তিন পার্বত্য জেলার আইনের পাঠ এক নয়। বান্দরবানে কার্বারি আর হেডম্যান আলাদা দুটি ধাপ। খাগড়াছড়িতে চিফের নাম আইনেই লেখা, মং চিফ, আর তাঁর পাশে সরকার-মনোনীত দুজন পরামর্শদাতা বসেন। এর ওপর আছে 1900 সালের শাসনবিধির 40 নম্বর বিধি। সেখানে চিফের রায়ের ওপর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসককে, আপিল হিসেবে নয়, রিভিশন হিসেবে।
এই লেখায় প্রতিটি ধাপ নিয়ে আলাদা করে আলোচনা আছে: কোন আইনের কোন ধারা বা বিধি কী বলে, কোন মামলা প্রথাগত আদালতে যেতেই পারে না, ফি কে ঠিক করে, দুই আইনের যেখানে বিরোধ, আর বাস্তবে এই আদালতগুলো কীভাবে চলে, সে বিষয়ে কোন গবেষণা কী পেয়েছে। হেডম্যান ও কার্বারির দৈনন্দিন দায়িত্ব নিয়ে আলাদা লেখা আছে, মৌজা হেডম্যান ও কার্বারি আসলে কী কী করেন। সার্কেল চিফের ক্ষমতা নিয়ে আছে সার্কেল চিফ: তিনটি সার্কেল, আর রাজার ক্ষমতা। সেসব কথা এখানে আবার বলা হয়নি। এখানে শুধু একটি প্রশ্ন: একজনের রায় আরেকজনের কাছে কোন পথে যায়।
এই লেখায় যা আছে
পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989-এর ধারা 66 অনুযায়ী জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা উপজাতীয় বিষয়ে বিরোধ হলে প্রথমে তা তুলতে হয় স্থানীয় কার্বারি বা হেডম্যানের কাছে। সেখান থেকে আপিল যায় সার্কেল চিফের কাছে, তারপর চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারের কাছে। কমিশনারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
এই কথাটুকু তিন জেলার আইনেই এক। বাকি খুঁটিনাটি আলাদা। তিনটি আইনই 6 মার্চ 1989 তারিখের: রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন (1989 সনের 19 নং আইন), খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন (20 নং) এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন (21 নং)। তিনটির ধারা 66-এর শিরোনামও প্রায় এক, “উপজাতীয় বিষয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিধান”। সরকারি আইন-ওয়েবসাইট bdlaws-এ তিনটির বর্তমান পাঠই পাওয়া যায়। আমাদের আর্কাইভেও তিনটি আইনের পূর্ণ পাঠ রাখা আছে।
পুরো ছবির জন্য আরও তিনটি দলিল পাশাপাশি পড়তে হয়:
এই চারটি দলিল চার সময়ের, তাই সবকটি একই কথা বলে না। কোথায় মেলে আর কোথায় মেলে না, সেটাই পরের অংশগুলোর বিষয়।
রাঙামাটিতে আপিলের ধাপ তিনটি। প্রথমে কার্বারি বা হেডম্যান, তারপর “ক্ষেত্রবিশেষে” চাকমা বা বোমাং চিফ, শেষে কমিশনার। খাগড়াছড়িতেও ধাপ তিনটি, কিন্তু চিফের ধাপে আইনে নাম আছে একজনেরই, মং চিফ। তাঁকে সাহায্য করেন সরকার-মনোনীত একজন ত্রিপুরা ও একজন চাকমা পরামর্শদাতা। বান্দরবানে ধাপ চারটি: কার্বারি, হেডম্যান, বোমাং চিফ, কমিশনার।
| বিষয় | রাঙামাটি (1989 সনের 19 নং আইন) | খাগড়াছড়ি (20 নং আইন) | বান্দরবান (21 নং আইন) |
|---|---|---|---|
| প্রথম শুনানি | স্থানীয় কারবারী বা হেডম্যান — 66(1) | স্থানীয় কারবারী বা হেডম্যান — 66(1) | স্থানীয় কারবারী বা হেডম্যান — 66(1) |
| কার্বারির রায়ের বিরুদ্ধে | সরাসরি চিফের কাছে — 66(2) | সরাসরি মং চিফের কাছে — 66(2) | হেডম্যানের কাছে — 66(2) |
| চিফের ধাপ | “ক্ষেত্রবিশেষে” চাকমা সার্কেলের চীফ বা বোমাং সার্কেলের চীফ — 66(2) | “খাগড়াছড়ি মং চীফ” — 66(2) | “বান্দরবান বোমং চীফ” — 66(2) |
| চিফের পাশে কে | কোনো বিধান নেই | একজন ত্রিপুরা ও একজন চাকমা পরামর্শদাতা, সরকার তিন বছরের জন্য মনোনীত করে — 66(3) | চিফকেও অন্তত তিনজন বিজ্ঞ ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করতে হয় — 66(3) |
| শেষ ধাপ | চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত — 66(3) | চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত — 66(4) | চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত — 66(2) |
| কমিশনারের শর্ত | সংশ্লিষ্ট উপজাতি থেকে তাঁর মনোনীত অন্তত তিনজন “উপজাতীয় বিজ্ঞ ব্যক্তি”র সঙ্গে পরামর্শ | একই শর্ত | অন্তত তিনজন “বিজ্ঞ ব্যক্তি” — “উপজাতীয়” শব্দটি নেই |
| পদ্ধতি ও ফি | পরিষদ প্রবিধান দিয়ে ঠিক করবে — 66(4) | পরিষদ প্রবিধান দিয়ে ঠিক করবে — 66(5) | পরিষদ প্রবিধান দিয়ে ঠিক করবে — 66(4) |
| মোট ধাপ | 3 | 3 | 4 |
সূত্র: bdlaws-এ রাংগামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান আইনের ধারা 66। উদ্ধৃতির বানান মূল পাঠের।
রাংগামাটি আইনের ধারা 66(2)-এ আগে লেখা ছিল “রাংগামাটি চাকমা চীফের”। রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, 1998 (1998 সনের 9 নং আইন)-এর ধারা 4 বলে তার জায়গায় বসে “ক্ষেত্রবিশেষে, চাকমা সার্কেলের চীফ এবং বোমাং সার্কেলের চীফ”। 66(3)-এর “চাকমা চীফের” শব্দও একই সংশোধনে বদলে হয় “চাকমা সার্কেলের চীফ এবং বোমাং সার্কেলের চীফের”। bdlaws-এর পাদটীকায় দুটি পরিবর্তনই নথিভুক্ত। অর্থাৎ 1989 থেকে 1998 পর্যন্ত রাঙামাটি জেলার সব বিরোধে আপিলের চিফ-ধাপ ছিলেন চাকমা চিফ একা। 1998-এর পর জেলার যে অংশ বোমাং সার্কেলে পড়ে, সেখানকার আপিল যায় বোমাং চিফের কাছে।
খাগড়াছড়ি আইনের ধারা 66-এর bdlaws পাঠে কোনো পাদটীকা নেই। চিফ-ধাপে এখনো শুধু “খাগড়াছড়ি মং চীফ” লেখা। রাঙামাটির মতো “ক্ষেত্রবিশেষে” ধরনের শব্দ সেখানে নেই। অথচ আমাদের আর্কাইভের পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার সৃষ্টি, শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ লেখায় বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চাকমা সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত। সেই অংশের কোনো বাসিন্দার আপিল আইনের অক্ষর মেনে কার কাছে যাবে, ধারা 66-এর পাঠে তার উত্তর নেই।
এই খুঁটিনাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সব জায়গায় একই ছক লেখা হয়। উদাহরণ হিসেবে আর্কাইভের ওই লেখাটি ধারা 66-কে তিন জেলার জন্য একটিই পাঠ হিসেবে উদ্ধৃত করে: কার্বারি থেকে হেডম্যান, হেডম্যান থেকে “সংশ্লিষ্ট সার্কেল চীফ”, তারপর কমিশনার। ধাপের দিক থেকে সেটি বান্দরবানের পাঠ। bdlaws-এর বর্তমান পাঠে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে কার্বারি আর হেডম্যান একই ধাপে, আর খাগড়াছড়িতে চিফের নাম নির্দিষ্ট।
ধারা 66(1) বলে, কার্বারি বা হেডম্যান বিরোধ নিষ্পত্তি করবেন “সংশ্লিষ্ট উপজাতীয়গণের মধ্যে প্রচলিত রীতি-নীতি অনুযায়ী”। অর্থাৎ কোনো লিখিত সাধারণ আইন নয়, যে জনগোষ্ঠীর বিরোধ তাদের নিজস্ব প্রথা। এখতিয়ারের তিনটি শর্ত আছে: দুই পক্ষই “উপজাতীয়”, দুজনই ওই জেলার বাসিন্দা, আর বিষয়টি “সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা উপজাতীয়”।
এর একটি সরাসরি ফল আছে। একজন বাঙালি আর একজন পাহাড়ির মধ্যে বিরোধ হলে ধারা 66 প্রযোজ্য নয়, কারণ প্রথম শর্তই পূরণ হয় না। নিচে BRAC-এর গবেষণা প্রসঙ্গে দেখা যাবে, বাস্তবেও এ ধরনের বিরোধ অন্য পথে যায়।
কার্বারি পদটি নিয়ে একটি অদ্ভুত অবস্থা আছে। 1900 সালের শাসনবিধিতে কার্বারির নিয়োগ, অপসারণ বা এখতিয়ার নিয়ে কোনো বিধান নেই। অথচ 1989 সালের আইনের ধারা 66(1) তাঁকে প্রথম বিচারকের আসনে বসায়। আমাদের আর্কাইভের ক্রমবিকাশ-লেখাটি এই অবস্থার কথা বলে। BRAC-এর 2011 সালের গবেষণাও লেখে, শাসনবিধিতে কার্বারির কোনো বিধান না থাকলেও জেলা পরিষদ আইনের 66(1) ধারায় পদটির স্বীকৃতি আছে। আর্কাইভের লেখাটি আরও বলে, কার্বারির ক্ষমতা ও কার্যাবলি নিয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ “অদ্যাবধি কোনো বিধি-বিধান প্রণয়ন করেনি”।
জেলা পরিষদের কাজের তালিকাতেও বিষয়টি আছে। রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি আইনের প্রথম তফসিলে (পরিষদের কার্যাবলি, ধারা 22) 1998 সালের সংশোধনীতে একটি দফা যোগ হয়েছে: “উপজাতীয় রীতিনীতি অনুসারে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও উপজাতীয় বিষয়ক বিরোধের বিচার”। একই সংশোধনী তিন জেলার তফসিলেই আরেকটি দফা যোগ করে: “উপজাতীয় রীতিনীতি, প্রথা ইত্যাদি এবং সামাজিক বিচার”। বান্দরবান আইনের তফসিলে প্রথম দফাটি পাওয়া যায় না, দ্বিতীয়টি আছে। bdlaws-এর তফসিল-পিডিএফ পুরনো বিজয় ফন্টে লেখা। এখানকার বাংলা পাঠ সেই ফন্ট থেকে রূপান্তর করে নেওয়া।
40 নম্বর বিধি অনুযায়ী মৌজা হেডম্যান নিজের মৌজার বাসিন্দাদের আনা “সকল বিরোধের” বিচার করবেন। তিনি উপজাতীয় মামলা পক্ষদের সামাজিক প্রথা অনুযায়ী নিষ্পত্তি করবেন। তিনি 25 টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারেন। চিফ পারেন 50 টাকা পর্যন্ত। দুজনের সব রায়ের ওপর জেলা প্রশাসকের রিভিশনের ক্ষমতা আছে, আর একই মামলা নিজে শোনার ক্ষমতাও আছে।
বিধিটি শাসনবিধির ধারা 18-এর অধীনে তৈরি “Rules for the Administration of the Chittagong Hill Tracts”-এর অংশ। এর শিরোনাম “Administrative powers of the Chiefs and Headmen”। PCJSS-এর সংকলিত পাঠের পাদটীকা অনুযায়ী বিধিটির বর্তমান রূপ এসেছে তিনটি প্রজ্ঞাপনে: 16 এপ্রিল 1937, 29 ফেব্রুয়ারি 1940 আর 20 জানুয়ারি 1942। বিধির মূল কথাগুলো অংশ ধরে ধরে:
আর্কাইভের ক্রমবিকাশ-লেখাটির তথ্যসূত্র অ্যাডভোকেট জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, অ্যাডভোকেট প্রতিম রায় ও সুগত চাকমা সম্পাদিত পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আদিবাসীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন। লেখাটি বিধি 40-এর একই অংশগুলো বাংলায় তুলে দিয়েছে। একটি তথ্য সেখানে বাড়তি আছে: চিফ ও হেডম্যানের এই বিচারক্ষমতা তৎকালীন জেলা প্রশাসক এস.জেড. খানের স্মারক নং 1243(400)/সি, রাঙ্গামাটি, তারিখ 5 মে 1964 মূলে জারি করা প্রজ্ঞাপনেও স্বীকার করা হয়েছিল।
25 আর 50 টাকার সীমা 1937–1942 সালের অঙ্ক। এগুলো পরে বাড়ানো হয়েছে কি না, শাসনবিধির কোনো সংকলিত পাঠে পাওয়া যায় না। রাজা দেবাশীষ রায় 2005 সালে Minority Rights Group-এর প্রতিবেদনে লিখেছেন, জরিমানার ক্ষমতা হালনাগাদ করা ও নমনীয় করা দরকার। “পশু-জরিমানা”র বদলে যেন টাকায় জরিমানা করা যায়, সেটাও তিনি বলেছেন।
40 নম্বর বিধি সাত শ্রেণির অপরাধ চিফ ও হেডম্যানের বিচারের বাইরে রেখেছে। এগুলোর মধ্যে আছে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, গুরুতর আঘাত, জালিয়াতি, আর 50 টাকার বেশি মূল্যের সম্পত্তি জড়িত ডাকাতি বা গৃহে অনধিকার প্রবেশ। এসব মামলা সাধারণ ফৌজদারি আদালতে যায়। কোনো পর্যায়েই এগুলো কার্বারি-হেডম্যান-চিফের সিঁড়িতে ওঠার কথা নয়।
বিধির তালিকাটি পুরোটা:
আর্কাইভের ক্রমবিকাশ-লেখাটি ষষ্ঠ দফার পাশে একটি পরের আইনের কথা বলে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, 1990-এর ধারা 10(2)(খ)-এর শর্তাংশে বলা আছে, তিন পার্বত্য জেলার আদিবাসীরা ঐতিহ্যগতভাবে যে মদ তৈরি করেন, তাঁরা নিজেরা তা পান করলে ওই উপধারা প্রযোজ্য নয়।
একই লেখায় 50টি “উল্লেখযোগ্য সামাজিক বিরোধ ও অপরাধ”-এর একটি তালিকা আছে। এগুলো সাধারণত কার্বারি-হেডম্যান-চিফের আদালতে আসে। কয়েকটি উদাহরণ: অন্যের চিহ্নিত জুমে চাষ করা, জুম থেকে জোর করে ফসল তোলা, সবার ব্যবহারের পানির উৎস নষ্ট করা, দাম্পত্য কলহ, ভরণপোষণ না দেওয়া, সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করা, উত্তরাধিকারের সম্পত্তি ভাগ নিয়ে বিরোধ, বসতভিটার সীমানা, ঋণ শোধ না করা, আর অন্যের জাঁক থেকে বিনা অনুমতিতে মাছ ধরা। BRAC-এর গবেষণাও প্রায় একই ধরনের “সামাজিক অপরাধ”-এর তালিকা দেয়: অন্যের জমিতে জুম, ফসল নিয়ে যাওয়া, গৃহপালিত পশু চুরি, সবার পানির উৎস নষ্ট করা।
বাস্তবে এই সীমা সবসময় মানা হয় না। BRAC-এর গবেষণা পুরোপুরি আদিবাসী গ্রামে দেখেছে, কিছু ক্ষেত্রে ধর্ষণের মামলাও সালিশে মীমাংসা হয়েছে। গবেষকরা লিখেছেন, সরকারি আইন অনুযায়ী কার্বারি বা হেডম্যানের সেই এখতিয়ার নেই। খুনের মামলায় অবশ্য কার্বারি-হেডম্যানরা থানাকে যুক্ত করেছেন।
আপিলের চিফ-ধাপ জেলা ধরে লেখা, কিন্তু সার্কেলের সীমা জেলার সীমা মানে না। রাঙামাটির আইন 1998 সালে “ক্ষেত্রবিশেষে” চাকমা বা বোমাং চিফ লিখে এই সমস্যা মিটিয়েছে। খাগড়াছড়ির আইনে এখনো শুধু মং চিফ। বান্দরবানের আইনে শুধু বোমাং চিফ।
আর্কাইভের ক্রমবিকাশ-লেখাটি সীমানার দুটি অমিল নির্দিষ্ট করে বলে। রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী ও কাপ্তাই উপজেলা বোমাং সার্কেলে পড়ে। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পড়ে চাকমা সার্কেলে। লেখাটির মতে, এ কারণে বিধি 40-এর অধীনে এসব এলাকার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিরোধে জেলা প্রশাসকরা “অনেক সময় আদালতের অধিক্ষেত্রের প্রশ্নে আইনী জটিলতার সম্মুখীন” হন। এর কারণ, বিধি 40-এর রিভিশন-ক্ষমতা জেলা প্রশাসকের, অথচ সংশ্লিষ্ট চিফের সার্কেল জেলার বাইরে পর্যন্ত বিস্তৃত।
শাসনবিধির নিজের পাঠেও সার্কেল আর মহকুমার সম্পর্ক লেখা আছে। 38A বিধির পুরনো পাঠে বলা হয়েছে, রামগড় মহকুমার এলাকা মং সার্কেলের সঙ্গে মিলে যায়, আর জেলার বাকিটা সদর ও বান্দরবান মহকুমায়। সেই বিন্যাস তিন জেলা গঠনের আগের। কোন চিফ কোন জেলার, আর তিন সার্কেলের আকার কত, তা সার্কেল চিফের লেখায় আছে।
খাগড়াছড়ির পরামর্শদাতা-বিধানটি আর কোথাও নেই। মং চিফের আপিল নিষ্পত্তিতে “একজন ত্রিপুরা এবং একজন চাকমা পরামর্শদাতা” থাকবেন, সরকার তাঁদের তিন বছরের জন্য মনোনীত করবে [66(3)]। আইনটি এর কারণ বলে না। কোনো সময়ে এই পদে কেউ মনোনীত হয়েছেন কি না, তার কোনো সরকারি তালিকাও পাওয়া যায়নি।
তিন জেলাতেই আপিলের শেষ ঠিকানা চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার, এবং তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। শর্ত একটি। আপিল নিষ্পত্তির আগে তাঁকে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী থেকে তাঁর নিজের মনোনীত অন্তত তিনজন বিজ্ঞ ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। বান্দরবানে এই শর্ত বোমাং চিফের বেলাতেও খাটে।
শাসনবিধির ধারা 2(b) অনুযায়ী “Commissioner” মানে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার, আর “Additional Commissioner” মানে ওই বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার। শর্তটির ভাষা লক্ষ করার মতো, দুটি কারণে।
প্রথমত, পরামর্শ বাধ্যতামূলক, কিন্তু পরামর্শ মানা বাধ্যতামূলক নয়। আইনে লেখা “পরামর্শ করিবেন”, “পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিবেন” নয়। দ্বিতীয়ত, বিজ্ঞ ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেন কমিশনার নিজেই (“তত্কর্তৃক মনোনীত”)। চিফ, আঞ্চলিক পরিষদ বা জনগোষ্ঠীর কোনো প্রতিষ্ঠানের এতে ভূমিকা নেই। পাংখোয়া নারীর প্রথাগত অধিকার নিয়ে আমাদের লেখায় এই দিকটি দেখানো হয়েছে: ছোট জনগোষ্ঠীর রীতির ব্যাখ্যা একজন সরকারি কর্মকর্তা একা দিতে পারেন না, কিন্তু কার সঙ্গে পরামর্শ হবে তা তিনিই ঠিক করেন।
রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পাঠে লেখা “উপজাতীয় বিজ্ঞ ব্যক্তি”। বান্দরবানের পাঠে শুধু “বিজ্ঞ ব্যক্তি”, “উপজাতীয়” শব্দটি নেই। তবে “সংশ্লিষ্ট উপজাতি হইতে” কথাটি তিনটিতেই আছে।
শাসনবিধির বিধি 11-এ একটি পুরনো সীমাও আছে। CHT-তে আইনজীবীর উপস্থিতি সাধারণভাবে নিষিদ্ধ। ব্যতিক্রম: কমিশনারের সম্মতিতে সেশন মামলায়, আর কমিশনারের কাছে আপিল ও রিভিশন মামলায় যেখানে বিষয়মূল্য 2,000 টাকা বা তার বেশি। বিধি 5 অনুযায়ী আপিলকারী চাকমা, “মগ” বা পার্বত্য অঞ্চলের কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্য হলে আপিলের স্মারকলিপিতে কোর্ট-ফি লাগে না। এই দুই বিধি শাসনবিধির দেওয়ানি বিচার-অংশের। ধারা 66-এর আপিলে এগুলো সরাসরি প্রযোজ্য কি না, কোনো আইনে স্পষ্ট লেখা নেই।
দুটি আইন চিফের রায়ের ওপরের ধাপ দুজনকে দিয়েছে। 1900 সালের বিধি 40 অনুযায়ী চিফের রায় চূড়ান্ত, তবে জেলা প্রশাসকের রিভিশন সাপেক্ষে। 1989 সালের ধারা 66 অনুযায়ী চিফের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল যায় বিভাগীয় কমিশনারের কাছে। আমাদের আর্কাইভ আর BRAC-এর গবেষণা, দুই জায়গাতেই এটিকে অমীমাংসিত আইনি দ্বন্দ্ব বলা হয়েছে।
আর্কাইভের ক্রমবিকাশ-লেখাটির ভাষায়, বিধি 40 অনুযায়ী সার্কেল চিফের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশনের এখতিয়ার জেলা প্রশাসকের। “পক্ষান্তরে” ধারা 66(2) ও 66(3) কমিশনারকে আপিল শোনার ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। লেখাটি বলে, এর ফলে “সামাজিক বিরোধ চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এ অধিক্ষেত্রের প্রশ্নে আইনী দ্বন্দ্বের উদ্ভব হয়েছে, যা ন্যায় বিচারের পথে অন্তরায়”। BRAC-এর 2011 সালের মনোগ্রাফ একই কথা লেখে, শব্দটুকু আলাদা: “This contradiction between two laws is still remained unresolved.”
দুই উৎস বিধি 40-এর ভাষা পড়েছে দুইভাবে। আর্কাইভের লেখাটি বলে জেলা প্রশাসকের “রিভিশন” ক্ষমতা, বিধির ইংরেজি পাঠও তাই বলে। BRAC-এর গবেষণা লেখে, বিধি 40 অনুযায়ী চিফের সিদ্ধান্ত “subject to appeal before Deputy Commissioner”।
আপিল আর রিভিশনের পার্থক্য নিছক শব্দের নয়। রাজা দেবাশীষ রায় MRG-র প্রতিবেদনে (2005) এটি ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বিবরণে CHT-র প্রথাগত আদালত দুই স্তরের, হেডম্যান ও চিফ। সরকার-নিযুক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও হাইকোর্ট এদের রায় পর্যালোচনা করতে পারেন, কিন্তু চিফের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে “fully fledged appeals” চলে না। তাঁর ভাষায়, রিভিশনে হস্তক্ষেপের পরিসর অনেক ছোট, সাধারণত পদ্ধতি ও আইনের প্রশ্নে সীমিত, মামলার তথ্য পর্যন্ত যায় না। লক্ষ করার বিষয়, এই বিবরণে ধারা 66-এর কমিশনার-আপিলের উল্লেখ নেই। তিনি পাদটীকায় বিধি 39 ও 40 এবং 2003 সালের সংশোধনীকে ভিত্তি হিসেবে দেখিয়েছেন।
উৎসগুলোর বর্ণনাও তাই এক রকম নয়। IWGIA-র 2000 সালের প্রকাশনায় (লেখক Chandra K. Roy) বলা হয়েছে, প্রথাগত ব্যবস্থায় রাজা “highest court of appeal”। ব্যক্তিগত আইনের বিষয়ে জেলা প্রশাসক রিভিশন-এখতিয়ার প্রয়োগ করেন। বম সমাজের বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে আর্কাইভের লেখায় সার্কেল চিফের সিদ্ধান্তকেই “চূড়ান্ত বলে গণ্য” বলা হয়েছে। আর তিন জেলা পরিষদ আইনের ধারা 66 বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনারের। তিনটি বিবরণ পাশাপাশি রাখলে বোঝা যায় প্রশ্নটি কেন অমীমাংসিত।
শাসনবিধির ধারা 17 এই ছবিতে আরেকটি স্তর যোগ করে। 17(1) অনুযায়ী CHT-র সব কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকের অধীন, এবং তিনি তাঁদের আদেশ রিভিশন করতে পারেন। 17(2) অনুযায়ী এই শাসনবিধির অধীনে জেলা প্রশাসক বা অন্য কোনো কর্মকর্তার দেওয়া যেকোনো আদেশ কমিশনার রিভিশন করতে পারেন। 17(3) অনুযায়ী সরকারও পারে। ধারা 19 বলে, শাসনবিধি বা বিধিমালার অধীনে দেওয়া সিদ্ধান্ত বা আদেশ কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি আদালতে প্রশ্ন তোলা যায় না, যদি না শাসনবিধি বা অন্য কোনো আইন আলাদা কিছু বলে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম (সংশোধন) আইন, 2003 (2003 সনের 38 নং আইন) শাসনবিধির ধারা 8-এ তিনটি উপধারা যোগ করে। এর ফলে তিন জেলা তিনটি আলাদা দেওয়ানি এখতিয়ার হয়, আর প্রতিটিতে জেলা জজ ও যুগ্ম জেলা জজ বসেন। কিন্তু ধারা 8(4) স্পষ্ট বলে, জনগোষ্ঠীগুলোর পারিবারিক আইন ও অন্যান্য প্রথাগত আইন থেকে উদ্ভূত মামলা যুগ্ম জেলা জজ শুনবেন না। এগুলো “triable by the Mauza Headmen and Circle Chiefs”।
ধারা 8(4)-এর পুরো কথা: যুগ্ম জেলা জজ মূল এখতিয়ারের আদালত হিসেবে সংশ্লিষ্ট জেলার “existing laws, customs and usages” অনুযায়ী সব দেওয়ানি মামলা শুনবেন। ব্যতিক্রম রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জনগোষ্ঠীগুলোর পারিবারিক আইন ও অন্যান্য প্রথাগত আইন থেকে উদ্ভূত মামলা, যা মৌজা হেডম্যান ও সার্কেল চিফ শুনবেন। ধারা 8(5) অনুযায়ী যুগ্ম জেলা জজের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল যায় জেলা জজের কাছে। একই আইন শাসনবিধির ধারা 7 থেকে “civil” শব্দ বাদ দেয় এবং ধারা 10 (মামলা প্রত্যাহারের ক্ষমতা) রহিত করে। আগে বিভাগীয় কমিশনার সেশন জজের ক্ষমতা প্রয়োগ করতেন। সেই ক্ষমতা নতুন সেশন জজের হাতে যায়।
আইনটি কাগজে 2003 সালের, কার্যকর হয় অনেক পরে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়ানি বিবিধ মামলা নং 11/2022 (রেফারেন্স)-এর রায়ে বলা হয়েছে, সংশোধনী আইনটি গেজেটের মাধ্যমে 4 জুন 2008 তারিখে বলবৎ হয়। BRAC-এর গবেষণা বলে, 1 জুলাই 2008-এর আগে CHT-তে কোনো ফৌজদারি আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যুগান্তরের 18 সেপ্টেম্বর 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বান্দরবানে জেলা ও দায়রা জজ আদালত চালু হয় 2008 সালে।
এই রায় ধারা 66-এর সামাজিক বিচার নিয়ে নয়। এর বিষয় 2008-এর আগে জেলা প্রশাসকের রায়ের বিরুদ্ধে কমিশনারের কাছে ঝুলে থাকা সাধারণ দেওয়ানি আপিল। তবু এটি কমিশনারের বিচারিক ভূমিকা নিয়ে সবচেয়ে সাম্প্রতিক উচ্চ আদালতের ব্যাখ্যা। বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত প্রশ্ন পাঠিয়েছিল, এসব আপিল কি জেলা জজের কাছে স্থানান্তর হবে? 21 নভেম্বর 2022 তারিখে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের বিশেষ বেঞ্চ উত্তর দেন “না”। কারণ 2003 সালের আইনের ধারা 6 শুধু ফৌজদারি মামলার স্থানান্তরের কথা বলে, দেওয়ানি আপিল নিয়ে নীরব। বেঞ্চ নির্দেশ দেন, তিন জেলার জেলা জজরা এসব আপিল কমিশনারের কাছে ফেরত পাঠাবেন, আর কমিশনার “as before” সেগুলো নিষ্পত্তি করবেন।
রায়ে একজন অ্যামিকাস কিউরি, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ. এফ. হাসান আরিফ, যুক্তি দিয়েছিলেন যে বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পর নির্বাহী কর্মকর্তার চালানো সমান্তরাল আপিল-ফোরাম অসাংবিধানিক। বেঞ্চ এই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তাঁরা বলেছেন, CHT-র এই আলাদা বিচারব্যবস্থাকে সংবিধান-বিরোধী বলা যায় না। এ প্রসঙ্গে বেঞ্চ Bangladesh vs. Rangamati Food Products (69 DLR (AD) 432) ও Wagachara Tea Estate vs. Md. Abu Taher (69 DLR (AD) 381)-সহ কয়েকটি রায়ের উল্লেখ করেন। এই মামলা নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা: রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলা: ১৯০০ সালের শাসনবিধি যেভাবে ‘মৃত আইন’ হলো, আর যেভাবে ফিরে এল। রায়ে বেঞ্চ আরও বলেন, 2003 সালের সংশোধনী পারিবারিক ও প্রথাগত আইনের মামলা যুগ্ম জেলা জজের এখতিয়ার থেকে বাইরে রেখে “Mouza Headmen and Chief Circles”-এর এখতিয়ার স্বীকার করেছে।
এই রেফারেন্সে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল এ. এম. আমিন উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও রাজা দেবাশীষ রায়ও শুনানি করেন। রাজা দেবাশীষ রায়ের যুক্তি রায়ে এভাবে লেখা আছে: শাসনবিধির আগেও CHT-র প্রশাসন ও বিচারের আলাদা মর্যাদা ছিল, শাসনবিধি তা বজায় রেখেছে, আর দেওয়ানি বিরোধে দেওয়ানি কার্যবিধির প্রয়োগ এখানে বাদ।
পারিবারিক আদালত আইন, 2023-এর ধারা 1(2) বলে, আইনটি “রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ব্যতীত” সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য। অর্থাৎ পাহাড়ে খোরপোষ, বিবাহবিচ্ছেদ বা অভিভাবকত্বের জন্য আলাদা পারিবারিক আদালত নেই। যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিন জেলায় পৃথক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা বলেছেন, এতে বিশেষ করে বাঙালি বাসিন্দা, এবং আধুনিক আইনি সুরক্ষা চান এমন পাহাড়িরা, প্রতিকার পাচ্ছেন না। তাঁরা প্রথাগত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয় এমনভাবে আইনটি পাহাড়ে চালুর দাবি জানিয়েছেন। পাহাড়ি পক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া ওই প্রতিবেদনে নেই।
চারটি দলিল ফি নিয়ে চার রকম কথা বলে। বিধি 40: কোর্ট-ফি নেই, তবে জেলা প্রশাসকের অনুমোদিত হারে বিচারের খরচ নেওয়া যায়। ধারা 66-এর শেষ উপধারা: বিচারপ্রার্থী ও আপিলকারীর ফি জেলা পরিষদ প্রবিধান দিয়ে ঠিক করবে। জেলা পরিষদ আইনের দ্বিতীয় তফসিল: “সামাজিক বিচারের ফিস” পরিষদের আয়ের উৎস। শান্তিচুক্তি: একই ফি পরিষদের আরোপযোগ্য উৎসের তালিকায়।
BRAC-এর গবেষণা কার্বারির সালিশে টাকার একটি প্রথা বর্ণনা করেছে। আবেদনকারী একটি থালায় নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা রেখে লিখিত আবেদন জমা দেন। মামলার গুরুত্ব অনুযায়ী অঙ্কটি 5 টাকা থেকে 500 টাকা পর্যন্ত। রায় আবেদনকারীর পক্ষে গেলে টাকা ফেরত পান। গবেষকরা আরও লিখেছেন, অভিযুক্তকে আবেদনকারীর জমা দেওয়া অঙ্কের দ্বিগুণ দিতে হয়, এমন একটি চল আছে। তাঁদের হিসাবে একটি সাধারণ বিরোধে সালিশের মোট খরচ 50 থেকে 500 টাকা।
কোনো জেলা পরিষদ ধারা 66-এর অধীনে বিচার-পদ্ধতি বা ফি নিয়ে প্রবিধান জারি করেছে কি না, জানা যায়নি। bdlaws-এ তিন আইনের পাঠের সঙ্গে এমন কোনো প্রবিধান যুক্ত নেই।
1997 সালের চুক্তি সামাজিক বিচারকে দুই জায়গায় রেখেছে। খণ্ড খ-এর দফা 34 “উপজাতীয় আইন ও সামাজিক বিচার” জেলা পরিষদের কাজের তালিকায় যোগ করে। খণ্ড গ-এর দফা 9(ঙ) বলে, এটি “আঞ্চলিক পরিষদের আওতাভুক্ত থাকিবে”। আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998-এর ধারা 22(ঙ)-এ শব্দটি নরম হয়ে দাঁড়ায় “সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান”।
এই পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত আছে আঞ্চলিক পরিষদের গঠন ও ক্ষমতা নিয়ে আমাদের লেখায়। চুক্তির দফাগুলো ধরে ধরে আলোচনা আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭: ধারা ধরে ধরে লেখায়। আপিলের প্রশ্নে যা গুরুত্বপূর্ণ: চুক্তি বা আঞ্চলিক পরিষদ আইন, কোনোটিই আপিলের সিঁড়িতে নতুন ধাপ যোগ করেনি। আঞ্চলিক পরিষদ সামাজিক বিচারের “তত্ত্বাবধান” করে, কিন্তু কোনো রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শোনার ক্ষমতা আইনে তার নেই। শেষ ধাপে এখনো কমিশনার, একজন সরকারি কর্মকর্তা।
আঞ্চলিক পরিষদ আইনের আপিলের ধারাটি (ধারা 43) পরিষদ বা তার চেয়ারম্যানের আদেশে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির জন্য। সামাজিক বিরোধের রায়ের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। আঞ্চলিক পরিষদের লেখায় এই দুইয়ের পার্থক্য আলাদা করে আলোচনা করা আছে।
প্রকাশিত উৎসে কয়েকটি নির্দিষ্ট দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় যেখানে চিফের প্রথাগত রায় ওপরের কর্তৃপক্ষের কাছে গেছে। প্রায় সবগুলোতে ওপরের কর্তৃপক্ষ চিফের রায় বহাল রেখেছে। রাজা দেবাশীষ রায় এগুলো উদ্ধৃত করেছেন B.K. Dewan-এর Chakma Jatiyo Bichar O Uttaradhikar Pratha (Rangamati, Jum Aesthetics Council, দ্বিতীয় সংস্করণ, 2003) থেকে।
| তারিখ | নথি | কী হয়েছিল | উৎস |
|---|---|---|---|
| 1 মে 1900 | শাসনবিধির ধারা 18-এর অধীনে বিধিমালা, প্রজ্ঞাপন নং 123 P | CHT প্রশাসনের বিধিমালা কলকাতা গেজেটে প্রকাশ (2 মে 1900) | PCJSS সংকলন, পাদটীকা 80 |
| 1937–1942 | তিনটি প্রজ্ঞাপন | বিধি 40-এর বর্তমান রূপ: জরিমানার সীমা, বাদ-তালিকা, জেলা প্রশাসকের রিভিশন | PCJSS সংকলন, পাদটীকা 107 |
| 24 সেপ্টেম্বর 1946 | চাকমা চিফের আদেশ | একটি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘোষণা | Roy 2005, পাদটীকা 19 |
| 31 মার্চ 1947 | Misc. Revision Case No. 13 of 1947, চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারের আদালত | রায় বর্ণিত হয়েছে চিফদের প্রথাগত রায় বহাল রাখা ও হস্তক্ষেপ না করার পরামর্শ হিসেবে | Roy 2005, পাদটীকা 19 |
| 2 মার্চ 1948 | বোর্ড অব রেভিনিউর আদেশ | 1946 সালের চিফের আদেশের বিরুদ্ধে | Roy 2005, পাদটীকা 19 |
| 2 অক্টোবর 1951 | রেজোলিউশন নং 4374-j, গভর্নরের সচিব | “উপজাতীয় জনগণের সামাজিক কাঠামো রক্ষার” কারণে বোর্ডের 1948 সালের আদেশ বাতিল, চিফের 1946 সালের আদেশ বহাল | Roy 2005, পাদটীকা 19 |
| 5 মে 1964 | জেলা প্রশাসক এস.জেড. খানের স্মারক নং 1243(400)/সি | চিফ ও হেডম্যানের সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতার স্বীকৃতি | জুমজার্নাল আর্কাইভ, ক্রমবিকাশ-লেখা |
| 6 মার্চ 1989 | তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ধারা 66 | কার্বারি থেকে কমিশনার পর্যন্ত আপিলের সিঁড়ি লিখিত রূপ পায় | bdlaws |
| 1998 | Aung Shwe Prue Chowdhury vs. Kyaw Sain Prue Chowdhury, Civil Appeal No. 8 of 1997, আপিল বিভাগ, 18 BLD (AD) 33–43 | রাজা দেবাশীষ রায় এটিকে প্রথা-সংক্রান্ত একই ধরনের বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গির সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন | Roy 2005, পাদটীকা 19 |
| 1998 | রাংগামাটি জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ধারা 4 | রাঙামাটিতে চিফ-ধাপে চাকমা চিফের পাশে বোমাং চিফ যোগ | bdlaws পাদটীকা |
| 4 জুন 2008 | 2003 সনের 38 নং আইন বলবৎ | জজ আদালত চালু, প্রথাগত মামলা হেডম্যান ও চিফের হাতে রাখা | হাইকোর্ট বিভাগ, 2022 |
| 21 নভেম্বর 2022 | দেওয়ানি বিবিধ নং 11/2022 (রেফারেন্স) | 2008-এর আগের দেওয়ানি আপিল কমিশনারের কাছেই নিষ্পত্তি হবে | সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট |
রাজা দেবাশীষ রায় আরও লিখেছেন, বিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত সরকারি নীতি ছিল প্রথাগত বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ, এমনকি সরকারি রিভিশন-কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও, “strongly” নিরুৎসাহিত করা। চাকমা চিফের আদালতের কয়েকটি মামলার নম্বরও তিনি দিয়েছেন: Misc. Cases No. 1/1998, 7/1999, 1/2000, 6/2000 ও 12/2000। এগুলো উদ্ধৃত হয়েছে এই কথার সমর্থনে যে বহু বিরোধ “আদালতের বাইরে” মেটে। তখন সম্প্রদায়কে জরিমানা দেওয়ার শর্তে অভিযোগ প্রত্যাহার হয়।
BRAC-এর গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগ 2011 সালের জানুয়ারিতে State of Justice in Chittagong Hill Tracts প্রকাশ করে (Research Monograph Series No. 44)। গবেষকরা 24টি পাড়ায় 601 জনের তথ্য নিয়েছেন। একটি সাধারণ বিরোধ মেটাতে লেগেছে এক থেকে পাঁচটি বৈঠক, খরচ 50 থেকে 500 টাকা। প্রায় 30 শতাংশ রায় কার্যকর হয়নি। গবেষণার পাড়াগুলোতে কোনো নারী কার্বারি বা হেডম্যান পাওয়া যায়নি।
গবেষণায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো ও বাঙালি উত্তরদাতা ছিলেন। পরিমাণগত তথ্যের পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে 25টি গভীর সাক্ষাৎকার ও 25টি কেস স্টাডি, আর চারটি সালিশ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সময়টি গুরুত্বপূর্ণ: মাঠের কাজ হয়েছিল 2008 সালে নতুন জজ আদালত চালুর ঠিক আগে। গবেষকরা নিজেরাই লিখেছেন, তখনো ওই আদালত কাজ শুরু করেনি।
গবেষণা অনুযায়ী ধাপগুলো এ রকম। প্রথমে কেউ কার্বারির কাছে সালিশ চান। কার্বারি শুরুতেই পরামর্শ দেন বিষয়টি পরিবারের ভেতরে মিটিয়ে নিতে। আবেদনকারী রাজি না হলে লিখিত আবেদন ও টাকা জমা দেন। কার্বারি তারিখ, সময় ও জায়গা ঘোষণা করেন, দুই পক্ষকে আর পাড়ার গণ্যমান্যদের জানান। আগে প্রতিটি কার্বারির এক-দুজন “রোয়াঞ্চি” বা বার্তাবাহক থাকতেন, যাঁরা নোটিশ পৌঁছে দিতেন। গবেষকদের মতে এই প্রথা এখন কম দেখা যায়। সালিশে দুই পক্ষ ও সাক্ষীরা বক্তব্য দেন, কার্বারি প্রশ্ন করেন, প্রমাণ চাইতে পারেন, তারপর সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করে রায় দেন।
রায় না মানা হলে বা কোনো পক্ষ সন্তুষ্ট না হলে বিষয়টি যায় হেডম্যানের কাছে। হেডম্যানের সালিশও একই ক্রমে চলে। হেডম্যান সাধারণত একটি মধ্যস্থতা-কমিটি নিয়ে বসেন, যার সদস্য তিনি নিজেই কার্বারি ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করেন। হেডম্যানের রায়ও চ্যালেঞ্জ হলে বিরোধ “usually” যায় রাজার কাছে। একটি সালিশ শেষ হতে সাত দিন থেকে সাড়ে তিন মাস লাগে। ছোট মামলায় সাধারণত একটি বৈঠকই যথেষ্ট।
গবেষণার চিত্র-3-এ একটি বাস্তব বিষয় আছে যা আইনের পাঠে নেই। কার্বারি ও হেডম্যানের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও একটি প্রবেশপথ, যেখান থেকে বিরোধ সার্কেল চিফ ও কমিশনারের দিকে যায়। মিশ্র পাড়ায় কার্বারি-হেডম্যানের সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য, এমনকি রাজাও সালিশে যুক্ত হয়েছেন।
| পাড়ার ধরন | কারা নিষ্পত্তি করেন | সময় | খরচ |
|---|---|---|---|
| শুধু আদিবাসী | কার্বারি ও হেডম্যানের সালিশ; খুনের মামলায় থানা | এক থেকে পাঁচ বৈঠক | 50–500 টাকা |
| একাধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠী মিশ্র | কার্বারি, হেডম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য, এমনকি রাজা; খুনে পুলিশ | এক থেকে সাত বৈঠক | 50–500 টাকা |
| আদিবাসী-বাঙালি | ইউপি চেয়ারম্যান, থানা, জেলা প্রশাসক, আনুষ্ঠানিক আদালত | দুই থেকে পঁচিশ বছর | 2,000–15,000 টাকা |
সূত্র: BRAC, State of Justice in Chittagong Hill Tracts (2011), সারণি 4।
গবেষণার সারণি 7-এ উত্তরদাতাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তাঁরা কোন আইনকে নিজের মনে করেন। উত্তর জনগোষ্ঠী ধরে আলাদা:
| জনগোষ্ঠী (উত্তরদাতা) | বাংলাদেশের আইন | প্রথাগত আইন | দুটোই | জানেন না |
|---|---|---|---|---|
| চাকমা (124) | 3.2% | 46.8% | 40.3% | 9.7% |
| মারমা (173) | 0% | 64.7% | 17.3% | 17.9% |
| ম্রো (127) | 2.4% | 71.7% | 8.7% | 17.3% |
| ত্রিপুরা (125) | 0% | 52% | 10.4% | 37.6% |
| বাঙালি (48) | 58.3% | 0% | 12% | 16.7% |
সূত্র: BRAC (2011), সারণি 7। মূল সারণির শতাংশ হুবহু; বাঙালি সারির যোগফল মূল সারণিতেই 100 হয় না।
সারণি 8 অনুযায়ী 90.3 শতাংশ উত্তরদাতা ন্যায়বিচারে সালিশের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন। 76.5 শতাংশ সালিশের ভূমিকাকে ইতিবাচক বলেছেন। 70.9 শতাংশ বলেছেন রায় সবসময় কার্যকর হয়, আর 50.9 শতাংশ মনে করেন প্রথাগত আইনের চর্চায় উন্নতি দরকার। গবেষণায় উদ্ধৃত দুটি মন্তব্য দুই দিকের ছবি দেয়। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার একজন হেডম্যান বলেছেন, কার্বারি-হেডম্যানের আদালত ন্যায়বিচার আনতে পারে না, কারণ এটি দুই পক্ষকে খুশি রাখে আর ভুক্তভোগীর অবস্থান ঠিকভাবে তুলে ধরে না। বান্দরবানের জিপতলির একজন উত্তরদাতা বলেছেন, সালিশে সবাই সবাইকে চেনেন আর সবার কথা বলার সুযোগ থাকে, তাই প্রথাগত আইন ন্যায়বিচার দিতে পারে।
গবেষণার তিনটি পর্যবেক্ষণ আপিলের প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। প্রথমত, পাড়াগুলোতে কোনো নারী কার্বারি বা হেডম্যান পাওয়া যায়নি। প্রথাগত আদালতের বিচারকরা সবাই পুরুষ। দ্বিতীয়ত, কিছু ক্ষেত্রে প্রথাগত আদালত ধনী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের দিকে ঝুঁকেছে। তৃতীয়ত, কিছু রায়ে এমন দণ্ড দেওয়া হয়েছে যাকে গবেষকরা মানবমর্যাদার পরিপন্থী বলেছেন, যেমন মাথা ন্যাড়া করা বা জুতার মালা পরানো।
এর বিপরীত তথ্যও আছে। IWGIA-র 2000 সালের প্রকাশনা লিখেছে, চিফদের মনোনয়নে নিযুক্ত মৌজা হেডম্যানদের মধ্যে “a few women” আছেন। রাজা দেবাশীষ রায় 2005 সালে লিখেছেন, পদধারীদের স্ত্রী বা কন্যা কখনো কখনো এই পদে উত্তরসূরি হন। আবার একই গবেষণার সারণি 8-এ 83.7 শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন সালিশে নারীরা কথা বলার সুযোগ পান। BRAC-এর গবেষকরা নিজেরাই যোগ করেছেন, সুযোগ থাকলেও নারীরা যথেষ্ট জোরে কথা তুলতে পারেন না।
আপিলের সিঁড়ি থাকলেও কতজন তা ব্যবহার করেন, সেই সংখ্যা এই গবেষণায় নেই। হেডম্যানের পর রাজার কাছে বা রাজার পর কমিশনারের কাছে কতগুলো বিরোধ গেছে, তার হিসাব এতে দেওয়া হয়নি।
আইনের সিঁড়ি সবার জন্য এক। কিন্তু আমাদের আর্কাইভের জনগোষ্ঠী-ভিত্তিক লেখাগুলোতে প্রথম ধাপের চেহারা আলাদা। নিচের বিবরণগুলো প্রতিটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য লেখা। একটির কথা অন্যটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যায় না।
তিনটি জিনিস লক্ষ করার মতো। আর্কাইভের জনগোষ্ঠী-ভিত্তিক বিবরণে সিঁড়ি সাধারণত চিফ বা রাজাতে শেষ হয়, কমিশনারের কথা আসে আইনের আলোচনায়। বম সমাজে আইনের সিঁড়ির পাশে একটি নিজস্ব প্রতিষ্ঠান, বম সোশ্যাল কাউন্সিল, কাজ করে। আর রাজা দেবাশীষ রায় 2005 সালে লিখেছেন, কয়েকটি জনগোষ্ঠী তাদের ব্যক্তিগত আইনের বড় অংশ লিখিত রূপ দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি 24 অক্টোবর 2003 তারিখে বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করেছেন।
আপিলের প্রশ্নে অন্তত আটটি দলিল প্রাসঙ্গিক। এগুলো চারটি সময়ের, আর একটি অন্যটিকে পুরোপুরি বাতিল করেনি। নিচের ছকে প্রতিটি দলিলের প্রাসঙ্গিক অংশ, আর আপিলের প্রশ্নে সেটি কী বলে।
| দলিল | ধারা বা বিধি | আপিলের প্রশ্নে যা বলে |
|---|---|---|
| শাসনবিধি, 1900 | ধারা 17 | জেলা প্রশাসক অধস্তনদের, কমিশনার জেলা প্রশাসক ও অন্যদের, সরকার যেকোনো আদেশ রিভিশন করতে পারে |
| শাসনবিধি, 1900 | ধারা 19 | শাসনবিধি বা বিধিমালার অধীনে দেওয়া সিদ্ধান্ত সাধারণ দেওয়ানি বা ফৌজদারি আদালতে প্রশ্ন তোলা যায় না, যদি না অন্য আইন বলে |
| CHT প্রশাসন বিধিমালা | বিধি 40 | হেডম্যান থেকে চিফ; চিফের রায় জেলা প্রশাসকের রিভিশন সাপেক্ষে চূড়ান্ত; সাত শ্রেণির অপরাধ বাদ |
| CHT প্রশাসন বিধিমালা | বিধি 5, 10, 11 | আদিবাসী আপিলকারীর কোর্ট-ফি নেই; দেওয়ানি মামলার সব আদেশ কমিশনারের কাছে আপিলযোগ্য; আইনজীবীর উপস্থিতি সীমিত |
| তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989 | ধারা 66 | কার্বারি/হেডম্যান থেকে চিফ, তারপর কমিশনার (চূড়ান্ত); জেলাভেদে পাঠ আলাদা |
| ওই আইনগুলোর তফসিল (1998 সংশোধন) | প্রথম তফসিল দফা 23 (রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে দফা 1খ-ও); দ্বিতীয় তফসিল দফা 12 | সামাজিক বিচার পরিষদের কাজ; “সামাজিক বিচারের ফিস” পরিষদের আয় |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, 1997 | খ-34, খ-35, গ-9(ঙ) | উপজাতীয় আইন ও সামাজিক বিচার জেলা পরিষদের কাজ ও আঞ্চলিক পরিষদের আওতায়; বিচারের ফি পরিষদের উৎস |
| আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998 | ধারা 22(ঙ) | সামাজিক বিচারের সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান; আপিল শোনার ক্ষমতা নেই |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম (সংশোধন) আইন, 2003 | শাসনবিধির ধারা 8(3)–(5) যোগ | পারিবারিক ও প্রথাগত মামলা যুগ্ম জেলা জজ শোনেন না, হেডম্যান ও চিফ শোনেন |
| পারিবারিক আদালত আইন, 2023 | ধারা 1(2) | তিন পার্বত্য জেলায় প্রযোজ্য নয় |
2003 সালের সংশোধনীর ধারা নম্বর নিয়ে উৎসে অমিল আছে। আমাদের আর্কাইভ বিধানটিকে লেখে “২০০৩ সনের ৩৮নং আইনের ৪(৪) ধারা”। রাজা দেবাশীষ রায়ের 2005 সালের প্রতিবেদন লেখে “Section 4(C)(4), Chittagong Hill Tracts (Amendment) Act, 2004″। PCJSS-এর সংকলন ও হাইকোর্ট বিভাগের 2022 সালের রায় একে “Act XXXVIII of 2003” বলে, যার মাধ্যমে শাসনবিধির ধারা 8-এ উপধারা যুক্ত হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য বিষয়ে আমাদের সব লেখা একসঙ্গে পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।
পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989-এর ধারা 66(1) অনুযায়ী স্থানীয় কার্বারি বা হেডম্যান। দুই পক্ষ জেলার উপজাতীয় বাসিন্দা হলে এবং বিষয়টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা উপজাতীয় হলে বিরোধ প্রথমে তাঁদের কাছেই তুলতে হয়। তাঁরা সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রচলিত রীতিনীতি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করেন। তিন জেলার আইনেই এই উপধারা একই রকম।
জেলাভেদে আলাদা। বান্দরবানে ধারা 66(2) অনুযায়ী আপিল যায় হেডম্যানের কাছে, তারপর বোমাং চিফের কাছে। রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে কার্বারি ও হেডম্যান একই ধাপে। সেখানে আপিল সরাসরি চিফের কাছে যায়: রাঙামাটিতে ক্ষেত্রবিশেষে চাকমা বা বোমাং চিফ, খাগড়াছড়িতে মং চিফ।
তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের ধারা 66 অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার, এবং তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে 1900 সালের শাসনবিধির বিধি 40 বলে, চিফের রায় জেলা প্রশাসকের রিভিশন সাপেক্ষে চূড়ান্ত। আমাদের আর্কাইভ ও BRAC-এর 2011 সালের গবেষণা দুটিই এই দুই বিধানকে অমীমাংসিত আইনি দ্বন্দ্ব বলেছে।
আপিল নিষ্পত্তির আগে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী থেকে তাঁর নিজের মনোনীত অন্তত তিনজন বিজ্ঞ ব্যক্তির সঙ্গে। আইনে লেখা “পরামর্শ করিবেন”। তাঁদের মত মানতে তিনি আইনত বাধ্য নন, আর কাকে মনোনীত করবেন তাও তিনিই ঠিক করেন। বান্দরবানে বোমাং চিফকেও একই পরামর্শ করতে হয়।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের ধারা 66(3) অনুযায়ী মং চিফকে আপিল নিষ্পত্তিতে সাহায্য করেন একজন ত্রিপুরা ও একজন চাকমা পরামর্শদাতা। সরকার তাঁদের তিন বছরের জন্য মনোনীত করে। রাঙামাটি ও বান্দরবানের আইনে এমন বিধান নেই। এই পদে কে কবে মনোনীত হয়েছেন, তার সরকারি তালিকা পাওয়া যায়নি।
1900 সালের শাসনবিধির বিধি 40 অনুযায়ী উপজাতীয় মামলায় হেডম্যান 25 টাকা পর্যন্ত, সার্কেল চিফ 50 টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারেন। দুজনেই ক্ষতিপূরণ বা ফেরত আদায় করাতে পারেন, আর জেলা প্রশাসকের আদেশ না আসা পর্যন্ত আটক রাখতে পারেন। অঙ্কগুলো 1937–1942 সালের প্রজ্ঞাপনের।
বিধি 40 সাত শ্রেণির অপরাধ বাদ দিয়েছে: রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ; গুরুতর আঘাত বা মারণাস্ত্রসহ দাঙ্গা; খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, গুরুতর আঘাত; 50 টাকার বেশি মূল্যের ডাকাতি, দস্যুতা বা গৃহে অনধিকার প্রবেশ; জালিয়াতি; শাসনবিধির অস্ত্র-মাদক অধ্যায়ের অপরাধ; আর কমিশনার যেগুলো নির্দিষ্ট করেন।
না। শাসনবিধির বিধি 40 অনুযায়ী চিফ বা হেডম্যানের কাছে উপজাতীয় মামলায় কোর্ট-ফি লাগে না। তবে জেলা প্রশাসকের অনুমোদিত হারে বিচারের খরচ নেওয়া যায়। ধারা 66 জেলা পরিষদকে ফি নির্ধারণের ক্ষমতা দেয়। BRAC-এর 2011 সালের গবেষণায় সালিশের খরচ পাওয়া গেছে 50 থেকে 500 টাকা।
জনগোষ্ঠীগুলোর পারিবারিক বা প্রথাগত আইনের মামলা শোনেন না। পার্বত্য চট্টগ্রাম (সংশোধন) আইন, 2003 শাসনবিধির ধারা 8(4) যোগ করে এগুলো মৌজা হেডম্যান ও সার্কেল চিফের বিচার্য করেছে। আইনটি 4 জুন 2008 বলবৎ হয়। পারিবারিক আদালত আইন, 2023-ও ধারা 1(2) অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলায় প্রযোজ্য নয়।
না। আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998-এর ধারা 22(ঙ) পরিষদকে “উপ-জাতীয় রীতিনীতি, প্রথা ইত্যাদি এবং সামাজিক বিচার”-এর সমন্বয় ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেয়। কিন্তু কোনো রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শোনার ক্ষমতা দেয় না। চুক্তির খণ্ড গ-এর দফা 9(ঙ)-এ লেখা ছিল বিষয়টি পরিষদের “আওতাভুক্ত” থাকবে।
না। ধারা 66(1) শুধু জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের “মধ্যে” বিরোধের কথা বলে। BRAC-এর 2011 সালের গবেষণা দেখেছে, আদিবাসী-বাঙালি বিরোধ যায় ইউপি চেয়ারম্যান, থানা, জেলা প্রশাসক ও আনুষ্ঠানিক আদালতে। এসব মামলায় দুই থেকে পঁচিশ বছর আর 2,000 থেকে 15,000 টাকা লেগেছে।
BRAC-এর 2011 সালের গবেষণা অনুযায়ী তাদের 24টি পাড়ায় কোনো নারী কার্বারি বা হেডম্যান ছিলেন না। IWGIA-র 2000 সালের প্রকাশনা লিখেছে, মৌজা হেডম্যানদের মধ্যে “a few women” আছেন। রাজা দেবাশীষ রায় 2005 সালে লিখেছেন, পদধারীদের স্ত্রী বা কন্যা কখনো কখনো উত্তরসূরি হন।
প্রাথমিক উৎস: আইন ও সরকারি পাঠ
প্রাথমিক উৎস: জুমজার্নাল আর্কাইভ
গবেষণা ও সংবাদ
সম্পর্কিত জুমজার্নাল লেখা
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:CHT Regulation 1900, পার্বত্য জেলা পরিষদ, প্রথাগত আইন, সার্কেল চীফ, হেডম্যান
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।