Last updated Oct 19th, 2026
1

রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের 62 ধারায় লেখা আছে, জেলা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ও তার নিচের সব সদস্য “পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন”, বদলি ও শাস্তির ক্ষমতাও পরিষদের। পার্বত্য জেলা পুলিশ নিয়োগ জেলা পরিষদের হাতে দেওয়ার এই বিধান 1998 সালে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির খ-24 দফা মেনে, আজকের রূপ পায়। কিন্তু কোনো সরকারি নথিতে পাওয়া যায়নি যে কোনো পরিষদ কখনো একজন পুলিশ সদস্যও নিয়োগ দিয়েছে; পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিজেই দফাটিকে “আংশিক বাস্তবায়িত” বলে।
এই লেখা দুই ভাগে চলে। প্রথম ভাগে আইনের পাঠ: তিনটি জেলা পরিষদ আইনের 62 ও 63 ধারা, প্রথম তফসিলের “পুলিশ (স্থানীয়)”, আঞ্চলিক পরিষদ আইনের 22 ধারা, আর চুক্তির খ-24 দফা, হুবহু, ধারার নম্বরসহ। দ্বিতীয় ভাগে বাস্তবায়ন নিয়ে কে কী বলেছে: মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি-প্রতিবেদন, জনসংহতি সমিতির প্রতিবেদন ও নিবন্ধ, জাতিসংঘ স্থায়ী ফোরামের সমীক্ষা, নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের Peace Accords Matrix, আর প্রথম আলোর প্রতিবেদনে মন্ত্রী ও গবেষকদের বক্তব্য। প্রতিটি দাবি যার, তার নামেই লেখা।
পরিষদের আসন-বণ্টন, ভূমি-ক্ষমতা ও 62 ধারার সংক্ষিপ্ত বিবরণ আমাদের পার্বত্য জেলা পরিষদের গঠন ও ক্ষমতা নিয়ে লেখায় আছে; সেই লেখা জানিয়ে রেখেছিল, বাস্তবে কী ঘটেছে তা সেখানে আলোচনা করা হয়নি। এই লেখা ঠিক সেই ফাঁকটুকু নিয়ে: ধারাটির ইতিহাস কী, আর কাগজ থেকে মাঠ পর্যন্ত কতটা পৌঁছেছে।
সূচিপত্র
62 ধারার তিনটি উপধারা। (১) এসআই ও তার নিচের সব সদস্যের নিয়োগ, বদলি ও শাস্তি পরিষদের হাতে, নিয়োগে জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার। (২) এঁদের চাকরির শর্ত, প্রশিক্ষণ ও পরিচালনা অন্য জেলা পুলিশের মতো। (৩) সব স্তরের জেলা পুলিশ দায়িত্ব পালনে পরিষদের কাছে দায়ী।
রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989 (1989 সনের 19 নং আইন) সরকারি আইন-ওয়েবসাইট bdlaws-এ যেভাবে আছে, তা নিচে। বন্ধনী ও তারকাচিহ্ন আইনের পাঠেরই অংশ — সেগুলো সংশোধনীর চিহ্ন, যার ব্যাখ্যা পরের অংশে। ওয়েবসাইটের লেখায় কিছু যুক্তাক্ষর ফন্ট-রূপান্তরে ভেঙে গেছে (যেমন “তন্নিম্ন স্তরের”); এখানে সেগুলো শুদ্ধ রূপে দেওয়া হলো, শব্দ বদলানো হয়নি।
“৬২। (১) আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের [* * *] সাব-ইনস্পেক্টর ও তন্নিম্ন স্তরের সকল সদস্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং পরিষদ তাঁহাদের বদলী ও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তাহাদের বিরূদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে :
[তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে রাংগামাটি পার্বত্য জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকিবে৷]
(২) পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত জেলা পুলিশের সকল কর্মকর্তা ও সদস্যের চাকুরীর শর্তাবলী, তাঁহাদের প্রশিক্ষণ, সাজসজ্জা, দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং তাঁহাদের পরিচালনা অন্যান্য জেলা পুলিশের অনুরূপ হইবে এবং এতদ্সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা পুলিশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সকল আইন, উপ-ধারা (১) এর বিধান সাপেক্ষে, তাঁহাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে৷
(৩) রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যগণ তাঁহাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ব্যাপারে, [এতদ্সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ,] পরিষদের নিকট দায়ী থাকিবেন৷”
ধারাটি পড়লে চারটি বিষয় আলাদা করে চোখে পড়ে।

1989 সালের মূল আইনে পরিষদের নিয়োগ-ক্ষমতা ছিল “সহকারী সাব-ইনস্পেক্টর ও তন্নিম্ন” পর্যন্ত। 1998 সালের সংশোধনী “সহকারী” শব্দটি বিলুপ্ত করে, ফলে সীমা উঠে যায় এসআই পর্যন্ত। একই সংশোধনী নিয়োগের শর্তাংশটি পুরো বদলে দেয়, আর (৩) উপধারার একটি শব্দগুচ্ছ প্রতিস্থাপন করে।
bdlaws-এর পাতার নিচে তিনটি টীকা এই তিন পরিবর্তনের দলিল। রাঙামাটির ক্ষেত্রে তিনটিই রাংগামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ (সংশোধন) আইন, 1998 (1998 সনের 9 নং আইন)-এর 28 ধারাবলে:
পুরোনো শর্তাংশটি কী ছিল, bdlaws-এর পাতায় তা নেই — সেখানে কেবল প্রতিস্থাপনের কথা। নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রক ইনস্টিটিউটের Peace Accords Matrix-এর 1998 সালের পুলিশ-সংস্কার অংশে মূল শর্তাংশের ইংরেজি পাঠ উদ্ধৃত আছে। সেই পাঠ অনুযায়ী 1989 সালের আইনে লেখা ছিল, নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলার উপজাতীয়, অ-উপজাতীয় ও বিভিন্ন উপজাতির মধ্যে অনুপাত “যতদূর সম্ভব” বজায় রাখতে হবে (ইংরেজিতে: “the ratio amongst tribal, non-tribal and various other tribal people of the district in the matter of such appointment has to be maintained as far as practicable”)। মূল বাংলা পাঠটি অনলাইনে পাওয়া যায়নি, তাই এখানে এটি Matrix-এর ইংরেজি উদ্ধৃতির অনুবাদ।
Matrix এই দুই বদলের ব্যাখ্যাও দিয়েছে। তাদের ভাষ্যে, “সহকারী” বাদ পড়ায় পুলিশ বাহিনীর সাধারণ সদস্য থেকে মধ্যম স্তর পর্যন্ত প্রায় সবাই পরিষদের নিয়োগ-ক্ষমতার আওতায় আসার কথা; আর অনুপাত-রক্ষার শর্ত সরে গিয়ে উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার আসায় সময়ের সঙ্গে পাহাড়ের পুলিশে পাহাড়ি সদস্যের অনুপাত বাড়ার কথা ছিল। এটি Matrix-এর বিশ্লেষণ; আইনের পাঠে কেবল শব্দ দুটির পরিবর্তন লেখা।
| বিষয় | 1989 সালের মূল আইন | 1998 সালের সংশোধনের পর |
|---|---|---|
| পরিষদের নিয়োগ-ক্ষমতার ঊর্ধ্বসীমা | সহকারী সাব-ইনস্পেক্টর (এএসআই) | সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) |
| নিয়োগের শর্ত | জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অনুপাত “যতদূর সম্ভব” রক্ষা (Peace Accords Matrix-এর ইংরেজি উদ্ধৃতি অনুযায়ী) | “জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকিবে” |
| 62(৩)-এ পরিষদের কাছে জবাবদিহির শর্ত | “আপাততঃ বলবত্ অন্য সকল আইনের বিধান সাপেক্ষে” | “এতদ্সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ” |
| সংশোধনের উৎস | — | চুক্তির খ-24 দফা; রাঙামাটিতে 1998 সনের 9 নং আইনের 28 ধারা |
2 ডিসেম্বর 1997-এর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির খ খণ্ডের 24 নম্বর দফার দুটি অংশ: (ক) 62(১) নতুন করে লেখা, এসআই ও তার নিচের নিয়োগ পরিষদের হাতে, উপজাতীয়দের অগ্রাধিকারসহ; (খ) 62(৩)-এর একটি শব্দগুচ্ছ বদল। আইন (ক) প্রায় হুবহু নিয়েছে, কিন্তু (খ)-তে চুক্তির শব্দ নয়, ভিন্ন শব্দ বসিয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের “শান্তি চুক্তি ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি” পাতায় রাখা চুক্তির পাঠ অনুযায়ী দফাটি এরকম:
“২৪। (ক) ৬২ নম্বর ধারার উপ-ধারা (১) সংশোধন করিয়া নিম্নোক্তভাবে এই উপ-ধারাটি প্রণয়ন করা হইবে ঃ আপাতত: বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পার্বত্য জেলা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ও তদ্নিম্ন স্তরের সকল সদস্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং পরিষদ তাহাদের বদলী ও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তাহাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলার উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার বজায় রাখিতে হইবে।
(খ) ৬২ নম্বর ধারার উপ-ধারা (৩) দ্বিতীয় পংক্তিতে অবস্থিত ”আপাততঃ বলবৎ অন্য সকল আইনের বিধান সাপেক্ষে” শব্দগুলি বাতিল করিয়া তদ্পরিবর্তে ”যথা আইন ও বিধি অনুযায়ী” শব্দগুলি প্রতিস্থাপন করা হইবে।”
মন্ত্রণালয়ের পিডিএফটি পুরোনো বিজয় এনকোডিংয়ে লেখা; ইউনিকোডে রূপান্তরের পর ভাঙা যুক্তাক্ষর (যেমন “ইন্সপেক্টর”, “শাস্তিমূলক”) শুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
| অংশ | চুক্তি, খ-24 | আইন, 62 ধারা (রাঙামাটি) |
|---|---|---|
| কার নিয়োগ | “পার্বত্য জেলা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ও তদ্নিম্ন স্তরের সকল সদস্য” | “রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের … সাব-ইনস্পেক্টর ও তন্নিম্ন স্তরের সকল সদস্য” |
| অগ্রাধিকার | “জেলার উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার বজায় রাখিতে হইবে” | “রাংগামাটি পার্বত্য জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকিবে” |
| 62(৩)-এর নতুন শব্দ | “যথা আইন ও বিধি অনুযায়ী” | “এতদ্সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ” |
প্রথম দুই সারিতে পার্থক্য কেবল জেলার নাম আর “উপজাতীয়দের” বনাম “উপজাতীয় বাসিন্দাদের”। তৃতীয় সারিতে শব্দ আলাদা: চুক্তি চেয়েছিল “যথা আইন ও বিধি অনুযায়ী”, সংসদ বসিয়েছে “এতদ্সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ”। দুটির আইনি তাৎপর্যে কোনো পার্থক্য আছে কি না, সে বিষয়ে কোনো আদালতের ব্যাখ্যা বা আইনজ্ঞের লেখা পাওয়া যায়নি। চুক্তির পরের দফা, খ-25, বলেছিল 63 ধারার “সহায়তা দান করা” শব্দগুলো বলবৎ থাকবে — আইনে সেগুলো আছে।
পুরো চুক্তির ধারা-ভিত্তিক বিবরণ আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997-এর ধারা ধরে ধরে লেখায় আছে; এখানে কেবল পুলিশ-সংক্রান্ত অংশ।
তিনটি আইনেই পুলিশ-বিধান 62 ধারায়, পাঠও প্রায় অভিন্ন; বদলায় জেলার নাম আর সংশোধনী আইনের নম্বর। একটি পার্থক্য আছে প্রথম তফসিলে: রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির তফসিলে “পুলিশ (স্থানীয়)” দুই জায়গায়, বান্দরবানের তফসিলে এক জায়গায়।
| বিষয় | রাঙামাটি | খাগড়াছড়ি | বান্দরবান |
|---|---|---|---|
| মূল আইন | 1989 সনের 19 নং | 1989 সনের 20 নং | 1989 সনের 21 নং |
| পুলিশ-ধারা | 62 (জেলা পুলিশ), 63 (পুলিশের দায়িত্ব) | 62, 63 | 62, 63 |
| 1998-এর সংশোধনী আইন | 1998 সনের 9 নং | 1998 সনের 10 নং | 1998 সনের 11 নং |
| 62 ধারা বদলেছে সংশোধনী আইনের যে ধারায় | 28 | 28 | 27 |
| প্রথম তফসিলে “পুলিশ (স্থানীয়)” | দফা 1ক ও দফা 22 | দফা 1ক ও দফা 22 | দফা 22 |
| তফসিল বদলেছে সংশোধনী আইনের যে ধারায় | 36 | 36 | 35 |
সূত্র: bdlaws-এ তিন আইনের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান 62 ধারার পাতা, আর তিন আইনের তফসিলের পিডিএফ।
খাগড়াছড়ির পাতায় একটি টাইপের ভুল আছে: 62(৩)-এর শেষ শব্দ সেখানে “দাবী থাকিবেন”, অন্য দুই আইনে “দায়ী থাকিবেন”। বাক্যের গঠন দেখে বোঝা যায় এটি “দায়ী”-র মুদ্রণ-বিভ্রাট; সরকারি গেজেটের মূল পাঠে কী আছে, তা মিলিয়ে দেখা যায়নি।
63 ধারা সব পুলিশ কর্মকর্তার ওপর দুটি দায়িত্ব দেয়: জেলায় কোনো অপরাধ ঘটলে তার তথ্য পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো, আর চেয়ারম্যান ও পরিষদের কর্মকর্তাদের আইনানুগ কর্তৃত্ব প্রয়োগে সাহায্য করা। এই ধারা পদমর্যাদা দিয়ে সীমিত নয় — “সকল পুলিশ কর্মকর্তার”।
“৬৩। রাংগামাটি পার্বত্য জেলায় কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে ইহার তথ্য পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা এবং পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইহার কর্মকর্তাগণকে আইনানুগ কর্তৃত্ব প্রয়োগে সহায়তা দান করা সকল পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব হইবে৷”
খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের 63 ধারা জেলার নাম ছাড়া হুবহু এক। এই ধারায় 1998 সালে কোনো পরিবর্তন হয়নি; চুক্তির খ-25 দফা স্পষ্ট করে বলেছিল “সহায়তা দান করা” শব্দগুলো থাকবে। মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি-প্রতিবেদনে খ-25 “বাস্তবায়িত”। পুলিশ বাস্তবে চেয়ারম্যানকে অপরাধের তথ্য নিয়মিত জানায় কি না — সে বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
জেলা পরিষদের কাজের তালিকা থাকে আইনের প্রথম তফসিলে (22 ধারা দ্রষ্টব্য)। চুক্তির খ-34(খ) দফা “পুলিশ (স্থানীয়)” এই তালিকায় যোগ করতে বলেছিল, আর খ-33(ক) দফা তালিকার 1 নম্বর দফায় আইন-শৃঙ্খলার “তত্ত্বাবধান” শব্দটি জুড়তে বলেছিল। দুটিই আইনে ঢুকেছে।
রাঙামাটির তফসিলের পিডিএফ (বিজয় এনকোডিং থেকে রূপান্তরিত) অনুযায়ী 1998 সালের পর তালিকার শুরু এরকম:
“১। জেলার আইন শৃঙ্খলার তত্ত্বাবধান, সংরক্ষণ ও উহার উন্নতি সাধন;
১ক। পুলিশ (স্থানীয়);
১খ। উপজাতীয় রীতিনীতি অনুসারে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও উপজাতীয় বিষয়ক বিরোধের বিচার;”
টীকা অনুযায়ী দফা 1, 1ক ও 1খ “পূর্ববর্তী দফা 1 এর পরিবর্তে” 1998 সনের 9 নং আইনের 36 ধারাবলে প্রতিস্থাপিত। একই 36 ধারায় তালিকার শেষে ক্রমিক 22 থেকে 33 যোগ হয়, যার প্রথমটি আবার “২২। পুলিশ (স্থানীয়)।” ফলে রাঙামাটির তফসিলে “পুলিশ (স্থানীয়)” দুবার আছে — একবার 1ক-তে, একবার 22-এ। খাগড়াছড়ির তফসিলেও একই গড়ন (1998 সনের 10 নং আইনের 36 ধারা)।
বান্দরবানের তফসিলে গড়ন আলাদা। সেখানে 1 নম্বর দফায় কেবল “তত্ত্বাবধান,” শব্দটি সংযোজিত (1998 সনের 11 নং আইনের 35 ধারা), কোনো 1ক বা 1খ নেই; “পুলিশ (স্থানীয়)” আছে শুধু 22 নম্বরে। ফলাফলে তিন জেলার ক্ষমতা একই, কারণ তিনটিতেই বিষয়টি তালিকাভুক্ত; কেবল খসড়ার ধরন আলাদা।
খ-34 দফার পুরো তালিকায় 12টি বিষয় — ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, পুলিশ (স্থানীয়), উপজাতীয় আইন ও সামাজিক বিচার, যুব কল্যাণ, পরিবেশ, স্থানীয় পর্যটন, জুম চাষ ইত্যাদি। মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি-প্রতিবেদনে খ-34 “আংশিক বাস্তবায়িত”: রাঙামাটিতে 23টি, খাগড়াছড়িতে 22টি ও বান্দরবানে 21টি বিষয়/বিভাগ হস্তান্তর হয়েছে, আরও 4টির কাজ চলছে। সেই 4টি শিক্ষা-সংক্রান্ত (প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর ইত্যাদি); পুলিশ সেই তালিকায় নেই। কোন বিষয় কোন সরকারের আমলে হস্তান্তর হলো, তার বিস্তারিত হিসাব আমাদের চুক্তি বাস্তবায়নের হিসাব নিয়ে লেখায় আছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998 (1998 সনের 12 নং আইন)-এর 22(ঘ) ধারায় আঞ্চলিক পরিষদের কাজ হিসেবে লেখা “পার্বত্য জেলার সাধারণ প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন”। নিয়োগ জেলা পরিষদের; তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় আঞ্চলিক পরিষদের — আইনের কাঠামো এটুকুই বলে।

22(ক) ধারায় আঞ্চলিক পরিষদ জেলা পরিষদগুলোর “আওতাধীন এবং উহাদের উপর অর্পিত বিষয়াদির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়” করে, আর মতবিরোধ হলে আঞ্চলিক পরিষদের সিদ্ধান্ত “চূড়ান্ত”। অর্থাৎ জেলা পরিষদ যদি কোনোদিন পুলিশ নিয়োগ শুরু করত, সেই কাজও আঞ্চলিক পরিষদের তত্ত্বাবধানে পড়ত।
এই তত্ত্বাবধান-ক্ষমতা বাস্তবে কতটা চলে, তা নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদের অভিযোগ আমাদের আঞ্চলিক পরিষদের গঠন ও ক্ষমতা নিয়ে লেখায় আছে। জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা 2024 সালে দ্য ডেইলি স্টারে লিখেছেন, ডেপুটি কমিশনার ও পুলিশ সুপার আঞ্চলিক পরিষদের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ের এখতিয়ার পাশ কাটিয়ে “একতরফাভাবে” সাধারণ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলার ক্ষমতা প্রয়োগ করে চলেছেন (The twisted ‘facts’ of CHT Accord implementation)। এটি একটি দলের অবস্থান; সরকারের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের জবাব পাওয়া যায়নি।
দেশের পুলিশ বাহিনী চলে মূলত পুলিশ আইন, 1861 (1861 সনের 5 নং আইন) আর পুলিশ রেগুলেশনের অধীনে। পুলিশ আইনের 7 ধারা অধস্তন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত, সাময়িক বরখাস্ত বা পদাবনতির ক্ষমতা দেয় ইন্সপেক্টর-জেনারেল, ডেপুটি ইন্সপেক্টর-জেনারেল, সহকারী ইন্সপেক্টর-জেনারেল ও জেলা পুলিশ সুপারকে। জেলা পরিষদের নাম সেখানে নেই।
bdlaws-এ থাকা পুলিশ আইনের 7 ধারা বলছে, সরকারের বিধি সাপেক্ষে “the Inspector-General, Deputy Inspectors-General, Assistant Inspectors-General and District Superintendents of Police may at any time dismiss, suspend or reduce any police-officer of the subordinate ranks”। একই ধারায় এক মাসের বেতনের বেশি নয় এমন জরিমানা, পনেরো দিন পর্যন্ত কোয়ার্টারে আটক রাখা ইত্যাদি শাস্তির তালিকাও আছে।
কাগজে দুটি আইনের সম্পর্ক এভাবে দাঁড়ায়: 62(১)-এর শুরুর “আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন” বাক্যটি বলে, পার্বত্য তিন জেলায় এসআই পর্যন্ত নিয়োগ, বদলি ও শাস্তির বেলায় জেলা পরিষদ আইনই প্রাধান্য পাবে; আর 62(২) বলে, বাকি সব বিষয়ে অন্য জেলা পুলিশের আইন প্রযোজ্য, তবে “উপ-ধারা (১) এর বিধান সাপেক্ষে”।
তবু জনসংহতি সমিতি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, পুলিশ আইন ও পুলিশ রেগুলেশন সংশোধন না করলে ধারাটি কার্যকর হবে না। মঙ্গল কুমার চাকমা 2 ডিসেম্বর 2020 দ্য ডেইলি স্টারে লেখেন, চুক্তির ক খণ্ডের 2 নম্বর দফা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য অন্য আইনও বদলানোর কথা, এবং সেজন্য “Police Act 1861, Police Regulation and CHT Regulation 1900” সংশোধন করা প্রয়োজন (CHT Accord: How much of it has been really implemented?)। 2024 সালের নিবন্ধে তিনি একই প্রশ্ন তোলেন: ক খণ্ডের সব দফা বাস্তবায়িত হলে পুলিশ আইন, 1861 ও পুলিশ রেগুলেশন কেন সংশোধিত হয়নি। এশিয়া ইনডিজেনাস পিপলস প্যাক্টের (AIPP) ওয়েবসাইটে রাখা জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ কর্মব্যবস্থা EMRIP-এর জন্য তৈরি একটি দাখিলেও (প্রস্তুতকারী Binota Moy Dhamai) এই দুই আইনের সংশোধন সুপারিশ হিসেবে আছে।
সরকার বা আইন মন্ত্রণালয় এ প্রশ্নে — 62 ধারার অগ্রাধিকার-বাক্যই যথেষ্ট, নাকি পুলিশ আইনেও সংশোধন লাগবে — কোনো লিখিত অবস্থান দিয়েছে, এমন নথি পাওয়া যায়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি, 1900 আজও বলবৎ কি না, তা নিয়ে আদালতের রায়ের বিবরণ আমাদের রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলা ও শাসনবিধি ১৯০০ মৃত আইন রায় নিয়ে লেখায় আছে।
62(১) নিয়োগ ও শাস্তি দুটোকেই “প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে” বাঁধা রেখেছে। প্রবিধান বানানোর ক্ষমতা পরিষদের নিজের, 69 ধারায়। কিন্তু পুলিশ নিয়োগের কোনো প্রবিধান কোনো পরিষদ তৈরি বা প্রকাশ করেছে — এমন কোনো গেজেট, খসড়া বা সংবাদ পাওয়া যায়নি।
69(১) ধারা পরিষদকে “এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে” প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়। 1989 সালের পাঠে এই ক্ষমতা ছিল “সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে”; 1998 সনের 9 নং আইনের 33 ধারা সেই শব্দগুলো বিলুপ্ত করে এবং একটি শর্তাংশ যোগ করে: প্রণীত প্রবিধানের কোনো অংশে সরকার ভিন্নমত পোষণ করলে সরকার “উক্ত প্রবিধান সংশোধনের জন্য পরিষদকে পরামর্শ দিতে বা অনুশাসন করিতে পারিবে”।
69(২) ধারার (ট) দফায় প্রবিধানের বিষয় হিসেবে আছে “পরিষদ কর্তৃক নিয়োগ করা যাইবে এমন সকল পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ ও তাহাদের শৃংখলা”। পুলিশের নাম আলাদা করে নেই, তবে 62 ধারা অনুযায়ী এসআই পর্যন্ত পুলিশও “পরিষদ কর্তৃক নিয়োগ করা যাইবে এমন” পদ।
অর্থাৎ কাগজে ক্রম এরকম: পুলিশ (স্থানীয়) বিষয়টি পরিষদে হস্তান্তর → পরিষদের পুলিশ-নিয়োগ প্রবিধান → সেই প্রবিধানে নিয়োগ। প্রথম ধাপটিই হয়নি — জনসংহতি সমিতি ও জাতিসংঘ সমীক্ষা তা সরাসরি বলে, আর মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের হস্তান্তর-তালিকায় পুলিশ নেই; বিস্তারিত নিচের অংশগুলোতে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রাখা “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি” প্রতিবেদনে খ-24 “আংশিক বাস্তবায়িত”। প্রমাণ হিসেবে একটি মাত্র পদক্ষেপের উল্লেখ: 4 সেপ্টেম্বর 2010 তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি স্মারকে পুলিশে উপজাতীয় প্রার্থীদের উচ্চতার শর্ত শিথিল করা।
প্রতিবেদনের খ-24-এর “বাস্তবায়ন অবস্থা” ঘরে লেখা (বিজয় এনকোডিং থেকে রূপান্তরিত):
“আংশিক বাস্তবায়িত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ বাহিনীতে লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে ০৪/৯/২০১০ খ্রিঃ তারিখে জারীকৃত স্বঃমঃ/পু-২/বিবিধ-১/২০০৫/৯৮০ নং স্মারকে উপ-জাতীয় পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতার ক্ষেত্রে ৫’-৬” এর স্থলে ৫’-৪” শিথিলকরণ এবং মহিলা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা বিদ্যমান ৫’-২” রাখার জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছে।”
এই পদক্ষেপের বিষয় জাতীয় পুলিশে উপজাতীয় প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা; প্রতিবেদনে জেলা পরিষদের নিয়োগ-ক্ষমতা, পুলিশ (স্থানীয়) হস্তান্তর বা পরিষদের প্রবিধান নিয়ে কোনো তথ্য নেই।
প্রতিবেদনটিতে তারিখ লেখা নেই। পিডিএফের ভেতরের তৈরির তারিখ অক্টোবর 2014, আর মন্ত্রণালয়ের সার্ভারে এটি রাখা ডিসেম্বর 2024-এর একটি ফোল্ডারে। প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে চুক্তির 72টি দফার মধ্যে 48টি সম্পূর্ণ, 15টি আংশিক বাস্তবায়িত, 9টির কাজ চলমান। একই 48-15-9 হিসাব মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) Rama Rani Roy-র বরাতে ঢাকা ট্রিবিউনের 5 ডিসেম্বর 2017-এর প্রতিবেদনে আছে। পরে সরকারি হিসাব বদলেছে: প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2023-এর প্রতিবেদনে সরকারের দাবি, 72টির মধ্যে 65টির “সুরাহা” হয়েছে।
আংশিক বাস্তবায়িত 15টি দফার তালিকায় খ-24 আছে, পাশে আছে খ-9 (ভোটার তালিকা) ও খ-34 (হস্তান্তরযোগ্য বিষয়)। এই তিনটির সঙ্গে ভূমি মিলিয়েই প্রথম আলো 2023 সালে “ভূমিসহ 3 বিষয়ে অগ্রগতি নেই” শিরোনাম করেছিল।
চুক্তিতে সই করা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) অবস্থান: খ-24 বাস্তবায়িত হয়নি। তাদের বিভিন্ন প্রতিবেদন ও নিবন্ধে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি আছে — পাহাড়ি কনস্টেবলদের সমতলে বদলি, 2018–19 সালের পরিবীক্ষণ কমিটির সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়া, আর পুলিশ আইন সংশোধন না করা।
Peace Accords Matrix-এর 2007 সালের পুলিশ-সংস্কার অংশ জনসংহতি সমিতির 2011 সালের “Report on the Implementation of the CHT Accord” উদ্ধৃত করেছে। সমিতির ভাষ্যে, পুলিশের উচ্চতর কর্তৃপক্ষ আগের মতোই নিয়োগ-ক্ষমতা প্রয়োগ করছে, আর চুক্তি ও জেলা পরিষদ আইন মেনে পার্বত্য চট্টগ্রামের পুলিশে জুম্মদের অগ্রাধিকার দিতে কিছুই করা হয়নি।
একই অংশে Matrix লিখেছে, সরকার দাবি করেছিল চুক্তি মেনে 671 জন জুম্মকে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে; সমিতির উদ্ধৃতি অনুযায়ী এই 671 জন কনস্টেবল ও আরও 11 জন ট্রাফিক সার্জেন্টকে পার্বত্য জেলার বাইরে সমতলের জেলাগুলোতে পদায়ন করা হয়। Matrix আরও লিখেছে, আঞ্চলিক পরিষদ তাঁদের পাহাড়ে ফেরত আনার বহু অনুরোধ করলেও সাড়া মেলেনি, আর সমতলে নানা হয়রানির মুখে তাঁদের বেশির ভাগ চাকরি ছেড়ে দেন। 671 সংখ্যাটি কোন সালের নিয়োগ, আর সরকারের কোন নথিতে আছে — সরকারি কোনো উৎসে তা পাওয়া যায়নি; সংখ্যাটির একমাত্র উৎস সমিতির প্রতিবেদন, Matrix-এর মাধ্যমে।
মঙ্গল কুমার চাকমা দ্য ডেইলি স্টারে (ছাপা সংস্করণ, 2 জুলাই 2022) লেখেন, জানুয়ারি 2018-এ সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক হওয়ার পর প্রথম চারটি সভায় যে সিদ্ধান্তগুলো হয়, তার মধ্যে ছিল তিন জেলা পরিষদে “Police (Local)” ও “Preservation and Development of Law and Order” বিষয় হস্তান্তর, এবং তিন জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী “Hill District Police Force” গঠন (ডেইলি স্টার ই-পেপার, পাতা 9)। 2024 সালের নিবন্ধে তিনি একই সিদ্ধান্তের কথা বলে লেখেন, “they have not been implemented”।
প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2023-এর প্রতিবেদনেও জেএসএসের সেই বছরের প্রতিবেদন উদ্ধৃত: “২০১৮-১৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভায় নির্বাহী আদেশে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে ‘পুলিশ (স্থানীয়)’ ও ‘আইনশৃঙ্খলা সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ বিষয় হস্তান্তর ও পার্বত্য জেলা পুলিশ বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।”
এই সভাগুলোর কার্যবিবরণী প্রকাশিত নয়; সিদ্ধান্তগুলোর কথা পাওয়া যায় কেবল জেএসএসের প্রতিবেদন ও তাদের নেতার নিবন্ধে। সরকার বা কমিটির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত বা অস্বীকার করা কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
2020 সালের নিবন্ধে মঙ্গল কুমার চাকমা লেখেন, 33টি বিষয়ের মধ্যে কেবল 17টি তিন পরিষদে হস্তান্তর হয়েছে, যার 12টি “অসম্পূর্ণভাবে”; আর আইন-শৃঙ্খলা, ভূমি, পুলিশ (স্থানীয়), বন ও পরিবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আজও হস্তান্তর হয়নি। একই নিবন্ধে তিনি সরকারি দাবিও উল্লেখ করেন — রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে 28টি, বান্দরবানে 26টি বিষয় হস্তান্তর হয়েছে। সংখ্যায় বিরোধ থাকলেও পুলিশ যে হস্তান্তরিত হয়নি, সে বিষয়ে কোনো পক্ষের বিবরণ ভিন্ন নয়।
সেনাক্যাম্প প্রত্যাহারের জায়গায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ক্যাম্প বসানো নিয়ে 2022 সালের বিতর্ক জেলা পুলিশের প্রশ্ন থেকে আলাদা; সেটির বিবরণ আমাদের অপারেশন উত্তরণ নিয়ে লেখায় আছে।
দুটি স্বাধীন মূল্যায়ন এই দফাটি আলাদা করে দেখেছে। নটর ডেমের Peace Accords Matrix 1998 থেকে 2007 পর্যন্ত প্রতি বছর পুলিশ-সংস্কার অংশে “No Implementation” লিখেছে। জাতিসংঘ স্থায়ী ফোরামের 2011 সালের সমীক্ষা বলেছে, 1998-এর সংশোধনে পুলিশসহ নানা বিষয়ে পরিষদের ক্ষমতা বাড়লেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষদের হাতে আসেনি।
ক্রক ইনস্টিটিউটের এই ডেটাবেস প্রতিটি চুক্তির প্রতিটি বিধান বছর ধরে ধরে মূল্যায়ন করে। পার্বত্য চুক্তির পুলিশ-সংস্কার বিধানের জন্য:
জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরাম 2009 সালে তাদের সদস্য Lars-Anders Baer-কে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার নিয়োগ দেয়। তাঁর সমীক্ষা (E/C.19/2011/6, 18 ফেব্রুয়ারি 2011) জেলা পরিষদ নিয়ে দুটি তথ্য দেয়।
এক, 1989 সালের আইনে পরিষদগুলোকে 21টি এখতিয়ারে সীমিত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় পুলিশও ছিল। দুই, 1998 সালের সংশোধনে বিষয় বেড়ে 33টি এখতিয়ারে 68টি হয়, আর ভূমি প্রশাসন, স্থানীয় পুলিশ, বন, মাধ্যমিক শিক্ষা ও বাজেটে পরিষদের কর্তৃত্ব বাড়ে। কিন্তু চুক্তির আগে 10টি এখতিয়ারে 15টি বিষয় হস্তান্তর হয়েছিল, আর 1998-এর পর হয়েছে মাত্র 3টি এখতিয়ারে আরও 5টি। সমীক্ষার ভাষায়, “many crucial matters have yet to come under the authority of the Councils”।
এশিয়া ইনডিজেনাস পিপলস প্যাক্টের ওয়েবসাইটে রাখা EMRIP দাখিলেও একই কথা: 33টি বিষয়ের মধ্যে চুক্তির আগের 10টিসহ মাত্র 17টি আংশিকভাবে হস্তান্তর হয়েছে, আর জেলার আইন-শৃঙ্খলা, ভূমি, পুলিশ (স্থানীয়), বন ও পরিবেশ এখনো হস্তান্তর হয়নি।
সবচেয়ে সরাসরি সরকারি বক্তব্য 2023 সালের: তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং প্রথম আলোকে বলেন, “পুলিশ নিয়োগ নিয়ে কিছু হয়েছে বলে জানি না।” একই প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ ধারাটিকে স্থানীয় সরকার গঠনে “অত্যন্ত কার্যকর বিধান” বলেছেন।
প্রথম আলোর পার্থ শঙ্কর সাহার 2 ডিসেম্বর 2023-এর প্রতিবেদন “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৬ বছর: ভূমিসহ ৩ বিষয়ে অগ্রগতি নেই“-এ “থমকে আছে পুলিশ নিয়োগব্যবস্থা” নামে একটি আলাদা অংশ আছে। সেখানে প্রতিবেদক চুক্তির 24 দফার সারকথা লিখে বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ নিয়োগ নিয়ে কিছু বলা হচ্ছে না”, তারপর মন্ত্রীর উদ্ধৃতি।
প্রতিবেদনের শুরুতে পাহাড়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের বরাতে তিনটি বিষয়কে স্বশাসন ও বিকেন্দ্রীকরণের চাবি বলা হয়েছে: ভূমি জেলা পরিষদে ন্যস্ত করা, স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা, আর “জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) থেকে নিচের জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা”। প্রতিবেদনের ভাষায়, “এই তিনটি বিষয়ের একটিও সমাধান হয়নি।”
তোফায়েল আহমেদের মতে, প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে এমন বিধান আছে এবং তা সফলভাবে কার্যকর হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মোহসিন একই প্রতিবেদনে বলেন, চুক্তির মূল চেতনা বিকেন্দ্রীকরণ, “কিন্তু ক্ষমতা উল্টো কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।”
2024-এর পর অন্তর্বর্তী সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা পুলিশ নিয়োগ নিয়ে আলাদা কোনো বক্তব্য দিয়েছেন, এমন কিছু পাওয়া যায়নি। প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2024-এর প্রতিবেদনে তিনি চুক্তি বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা না থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব বিষয় চিন্তা হিসেবে আছে, এক্সপ্রেস (প্রকাশ) হয়নি।” একই প্রতিবেদনে চাকমা সার্কেল প্রধান রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আশার কিছু দেখছি না।”
62 ধারার শর্তাংশ নিয়োগে “উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার” দেয়। পুলিশে এই শর্ত কখনো প্রয়োগের সুযোগ আসেনি, কিন্তু জেলা পরিষদের অন্য নিয়োগে একই ধরনের অগ্রাধিকার নিয়ে 2025 সালে প্রকাশ্য বিরোধ হয়েছে। সেই বিরোধ দেখায়, ধারাটি কোনোদিন চালু হলে কোন প্রশ্ন উঠতে পারে।
প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাঙামাটির 10 উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে জেলা পরিষদের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বাঙালিদের কয়েকটি সংগঠন আপত্তি তোলে; তাদের দাবি, অন্য জেলার মতো এখানেও 93% মেধা ও 7% কোটায় নিয়োগ হোক। চাকরিতে পাহাড়িদের কোটা বাতিলসহ পাঁচ দফা দাবিতে নভেম্বর 2025-এ পাঁচ দিন রাঙামাটি জেলা পরিষদ ভবনে তালা ঝোলানো থাকে।
দুই পক্ষের বক্তব্য একই প্রতিবেদনে আছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর কামাল বলেন, “পাহাড়ে সবচেয়ে বঞ্চিত আজ বাঙালিরাই। একই সঙ্গে খুমি, ম্রো, রাখাইনসহ সব জাতিগোষ্ঠী পিছিয়ে। তাই আমরা চাই মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হোক।” মানবাধিকারকর্মী নিরূপা দেওয়ান বলেন, “জেলা পরিষদের আইন অনুযায়ীই বাঙালিরা চাকরি পাচ্ছেন। এত দিন এ নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন করেনি।”
প্রতিবেদনটি জানায়, জেলা পরিষদের আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী উপজাতীয় ও অ-উপজাতীয় জাতিগোষ্ঠী পরিষদের সদস্যসংখ্যার অনুপাতে চাকরি পান, এবং এই রীতি দীর্ঘদিন চলছে। কোটা-বিতর্কের বৃহত্তর হিসাব আমাদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কোটা নিয়ে লেখায় আছে।
এই বিরোধ শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে, পুলিশ নিয়ে নয়। পুলিশ নিয়োগে উপজাতীয় অগ্রাধিকার নিয়ে কোনো সংগঠনের আলাদা আপত্তি বা আদালতের মামলা পাওয়া যায়নি।
নিচের ছকে কেবল নথিভুক্ত ঘটনা, প্রতিটির উৎসসহ। যেখানে তথ্য একটি পক্ষের, সেখানে পক্ষের নাম লেখা আছে।
| সময় | ঘটনা | উৎস |
|---|---|---|
| 6 মার্চ 1989 | তিন স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন; 62 ধারায় এএসআই ও তার নিচের নিয়োগ পরিষদের হাতে, জাতিগোষ্ঠীর অনুপাত রক্ষার শর্তে | bdlaws; Peace Accords Matrix |
| 2 ডিসেম্বর 1997 | চুক্তির খ-24: এসআই পর্যন্ত নিয়োগ, উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার; খ-34(খ): পুলিশ (স্থানীয়) পরিষদের বিষয় | মন্ত্রণালয়ের চুক্তি-পাঠ |
| 1998 | 1998 সনের 9, 10 ও 11 নং আইনে 62 ধারা ও প্রথম তফসিল সংশোধন | bdlaws |
| 24 মে 1998 | আঞ্চলিক পরিষদ আইন; 22(ঘ) ধারায় আইন শৃঙ্খলার তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় | bdlaws |
| 1998–2007 | প্রতি বছর পুলিশ-সংস্কারে “No Implementation” | Peace Accords Matrix |
| 4 সেপ্টেম্বর 2010 | স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারকে উপজাতীয় পুরুষ প্রার্থীর উচ্চতার শর্ত 5′-6″ থেকে 5′-4″ | মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি-প্রতিবেদন |
| 18 ফেব্রুয়ারি 2011 | জাতিসংঘ স্থায়ী ফোরামের সমীক্ষা: 1998-এর পর মাত্র 5টি বিষয় হস্তান্তর | E/C.19/2011/6 |
| 2011 | জেএসএসের প্রতিবেদন: 671 কনস্টেবল ও 11 সার্জেন্ট সমতলে পদায়িত | জেএসএস, Matrix-এর উদ্ধৃতিতে |
| ডিসেম্বর 2017 | মন্ত্রণালয়: 72-এর মধ্যে 48 সম্পূর্ণ, 15 আংশিক, 9 চলমান | ঢাকা ট্রিবিউন |
| 2018–2019 | পরিবীক্ষণ কমিটির সভায় পুলিশ (স্থানীয়) হস্তান্তর ও পার্বত্য জেলা পুলিশ বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত (জেএসএসের বিবরণ) | ডেইলি স্টার 2022; প্রথম আলো 2023 |
| 2 ডিসেম্বর 2023 | মন্ত্রী: “পুলিশ নিয়োগ নিয়ে কিছু হয়েছে বলে জানি না” | প্রথম আলো |
| নভেম্বর 2024 | অন্তর্বর্তী সরকার তিন পরিষদ মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে পুনর্গঠন করে | প্রথম আলো 2024, 2025 |
| নভেম্বর 2025 | চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে রাঙামাটি জেলা পরিষদ ভবনে পাঁচ দিন তালা | প্রথম আলো 2025 |
| 10 সেপ্টেম্বর 2026 | মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক তিনটি কমিটি; নির্বাহী কমিটির প্রধান স্বরাষ্ট্রসচিব | প্রথম আলো 2026 |
শেষ সারিটির বিবরণ: প্রথম আলোর 14 সেপ্টেম্বর 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্রসচিবকে সভাপতি করে নির্বাহী কমিটি, আর চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে পরামর্শক কমিটি গঠিত হয়েছে। নির্বাহী কমিটিকে “প্রচলিত আইন, চুক্তির শর্ত ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে” সংশোধন ও নতুন আইনের সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। 52 জন নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে কমিটিগুলো “গোয়েন্দা নিয়ন্ত্রণমুক্তভাবে” পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন। এই কমিটিগুলোর আলোচ্যসূচিতে 62 ধারা আছে কি না, প্রতিবেদনে তা বলা নেই।
পার্বত্য চট্টগ্রামের আইন, প্রশাসন ও ইতিহাস নিয়ে আমাদের অন্য লেখাগুলো একসঙ্গে পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।
আইনে পারে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের 62(১) ধারা অনুযায়ী জেলা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ও তার নিচের সব সদস্য “প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন”। তবে মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি-প্রতিবেদন, জনসংহতি সমিতি ও জাতিসংঘ সমীক্ষা — কোনো উৎসেই পরিষদের দেওয়া একটি পুলিশ নিয়োগেরও উল্লেখ নেই।
সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ও তার নিচের সব পদ — এএসআই, কনস্টেবলসহ। 1989 সালের মূল আইনে সীমা ছিল সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর পর্যন্ত; 1998 সালে চুক্তির খ-24 দফা মেনে “সহকারী” শব্দটি বিলুপ্ত হয়। ইন্সপেক্টর, পুলিশ সুপার বা তার ওপরের পদ এই ধারার আওতায় নেই, যদিও 62(৩) অনুযায়ী সব স্তরের জেলা পুলিশ দায়িত্ব পালনে পরিষদের কাছে দায়ী।
চুক্তির খ খণ্ডের 24 নম্বর দফায়। (ক) অংশ 62(১) নতুন করে লিখতে বলে — এসআই ও তার নিচের নিয়োগ, বদলি ও শাস্তি পরিষদের, নিয়োগে “জেলার উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার”। (খ) অংশ 62(৩)-এর একটি শব্দগুচ্ছ বদলাতে বলে। এ ছাড়া খ-34(খ) দফা “পুলিশ (স্থানীয়)”-কে জেলা পরিষদের কাজের তালিকায় যোগ করতে বলে।
না, “আংশিক বাস্তবায়িত” বলে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি-প্রতিবেদনে প্রমাণ হিসেবে একটি পদক্ষেপ: 4 সেপ্টেম্বর 2010-এর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারকে পুলিশে উপজাতীয় পুরুষ প্রার্থীর উচ্চতার শর্ত 5′-6″ থেকে 5′-4″ করা, নারী প্রার্থীর জন্য 5′-2″ রাখা। পরিষদের নিয়োগ-ক্ষমতা নিয়ে প্রতিবেদনে কিছু নেই।
2023 সালের ডিসেম্বরে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, “পুলিশ নিয়োগ নিয়ে কিছু হয়েছে বলে জানি না।” একই প্রতিবেদন লিখেছে, সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ নিয়োগ নিয়ে কিছু বলা হচ্ছে না, আর ভূমি ও ভোটার তালিকার সঙ্গে পুলিশ নিয়োগ এমন তিন বিষয়ের একটি যার “একটিও সমাধান হয়নি”।
না। জনসংহতি সমিতির নিবন্ধ (ডেইলি স্টার, 2020 ও 2024), জাতিসংঘ স্থায়ী ফোরামের 2011 সালের সমীক্ষা এবং AIPP-তে রাখা EMRIP দাখিল বলছে, আইন-শৃঙ্খলা ও পুলিশ (স্থানীয়) হস্তান্তর হয়নি। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে হস্তান্তরিত ও প্রক্রিয়াধীন বিষয়ের তালিকাতেও পুলিশ নেই। জেএসএসের ভাষ্যে 2018–19 সালে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর হয়নি।
জনসংহতি সমিতির 2011 সালের চুক্তি-বাস্তবায়ন প্রতিবেদন থেকে, যা নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের Peace Accords Matrix উদ্ধৃত করেছে। সেখানে বলা হয়, সরকার চুক্তি মেনে 671 জন জুম্মকে কনস্টেবল নিয়োগের দাবি করলেও তাঁদের ও আরও 11 জন ট্রাফিক সার্জেন্টকে পার্বত্য জেলার বাইরে পদায়ন করা হয়। সংখ্যাটি নিশ্চিত করে এমন কোনো সরকারি নথি পাওয়া যায়নি।
এক উত্তর নথিতে নেই; উৎসগুলো ভিন্ন কারণ দেখায়। আইনের পাঠ অনুযায়ী নিয়োগ “প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে” — এমন কোনো প্রবিধান প্রকাশিত হয়নি। জনসংহতি সমিতি বলছে পুলিশ আইন 1861 ও পুলিশ রেগুলেশন সংশোধন হয়নি এবং পুলিশ (স্থানীয়) বিষয়টিই হস্তান্তর হয়নি। সরকার এ প্রশ্নে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছে, এমন নথি পাওয়া যায়নি।
62(১) ধারা শুরু হয় “আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন” দিয়ে, অর্থাৎ পার্বত্য তিন জেলায় এসআই পর্যন্ত নিয়োগ, বদলি ও শাস্তিতে এই ধারা প্রাধান্য পায়। পুলিশ আইনের 7 ধারা অধস্তনদের বরখাস্ত ও শাস্তির ক্ষমতা দেয় আইজিপি, ডিআইজি ও পুলিশ সুপারকে। 62(২) অনুযায়ী বাকি বিষয়ে অন্য জেলা পুলিশের আইনই চলে।
সরাসরি নিয়োগ-ক্ষমতা নেই। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998-এর 22(ঘ) ধারায় আঞ্চলিক পরিষদের কাজ “পার্বত্য জেলার সাধারণ প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন”, আর 22(ক) অনুযায়ী জেলা পরিষদের ওপর অর্পিত সব বিষয়ের তত্ত্বাবধান। মতবিরোধে আঞ্চলিক পরিষদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
প্রায় একই। তিনটি আইনেই 62 ধারা “জেলা পুলিশ” ও 63 ধারা “পুলিশের দায়িত্ব”, পাঠে কেবল জেলার নাম আলাদা। সংশোধনী আইন আলাদা: রাঙামাটি 1998 সনের 9 নং (ধারা 28), খাগড়াছড়ি 10 নং (ধারা 28), বান্দরবান 11 নং (ধারা 27)। প্রথম তফসিলে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে “পুলিশ (স্থানীয়)” দুবার, বান্দরবানে একবার।
জেলায় কোনো অপরাধ ঘটলে তার তথ্য পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো, এবং চেয়ারম্যান ও পরিষদের কর্মকর্তাদের আইনানুগ কর্তৃত্ব প্রয়োগে সহায়তা করা — এই দুটি “সকল পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব”। চুক্তির খ-25 দফা বলেছিল “সহায়তা দান করা” শব্দগুলো বলবৎ থাকবে; মন্ত্রণালয় খ-25-কে বাস্তবায়িত বলে।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:পার্বত্য চুক্তি, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন, পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।