Last updated Oct 6th, 2026
0

রাঙামাটি জেলা পরিষদে পাংখোয়াদের জন্য একটি আসন আলাদা করে রাখা আছে, খেয়াংদের জন্যও একটি। কিন্তু আঞ্চলিক পরিষদে গিয়ে সেই দুই জনগোষ্ঠীকে আরও চারটি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে একটিমাত্র আসন ভাগ করে নিতে হয়।
এই পার্থক্যটা আকস্মিক নয় — দুটি আলাদা আইনে দুই রকম হিসাব। এই লেখাটি ১৯৯৮ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইনের মূল পাঠ ধরে পরিষদের গঠন, আসন-বণ্টন ও ক্ষমতা দেখাচ্ছে।
সংক্ষেপে উত্তরগুলো। পরিষদে ২৫টি পদ, তার ১২টি আদিবাসী আসন — আর ছয়টি জনগোষ্ঠী মিলে পায় একটি। চেয়ারম্যান অবশ্যই উপজাতীয়, পদমর্যাদা প্রতিমন্ত্রীর সমকক্ষ। পরিষদের নিজস্ব কর আরোপের ক্ষমতা নেই; টাকা আসে জেলা পরিষদ থেকে, আর সেই অঙ্ক ঠিক করে সরকার। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আইন করার আগে পরিষদের সঙ্গে আলোচনা বাধ্যতামূলক — কিন্তু সরকার পুরো পরিষদ বাতিলও করতে পারে।
নিচে এই প্রতিটি বিষয় ধারাসহ বিস্তারিত, সঙ্গে ১৯৯৭ সালের চুক্তির সঙ্গে ১৯৯৮ সালের আইনের শব্দে-শব্দে তুলনা — যেখানে দুটি শব্দের পরিবর্তন ক্ষমতার অর্থ বদলে দিয়েছে।
পরিভাষা নিয়ে: আইনের পাঠে “উপজাতীয়” শব্দটি ব্যবহৃত। এখানে সেটি দলিলের নিজের শব্দ হিসেবে উদ্ধৃত — জুমজার্নালের নিজস্ব ব্যবহার আদিবাসী।
আইনের ৫(১) ধারা অনুযায়ী আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হয় ছয় ধরনের সদস্য নিয়ে — চেয়ারম্যান, ১২ জন উপজাতীয় সদস্য, ৬ জন অ-উপজাতীয় সদস্য, ২ জন উপজাতীয় মহিলা সদস্য, ১ জন অ-উপজাতীয় মহিলা সদস্য, এবং তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে।
সব মিলিয়ে ২৫টি পদ। শেষ শ্রেণিটি লক্ষণীয় — রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা নির্বাচিত হয়ে নয়, পদাধিকারবলে আঞ্চলিক পরিষদে বসেন। ফলে দুই স্তরের মধ্যে একটি স্থায়ী সংযোগ তৈরি হয়।
৫(২) ধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যান উপজাতীয়দের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হবেন — জেলা পরিষদ আইনের মতোই।
৫(৩) ধারায় ১২টি উপজাতীয় আসনের বণ্টন দেওয়া আছে, আর এখানেই আসল কথা:
| যাঁদের জন্য | আসন | মন্তব্য |
|---|---|---|
| চাকমা | ৫ | একক |
| মারমা | ৩ | একক |
| ত্রিপুরা | ২ | একক |
| ম্রো ও তঞ্চঙ্গ্যা | ১ | দুই জনগোষ্ঠী মিলে একটি |
| লুসাই, বম, পাংখো, খুমী, চাক ও খিয়াং | ১ | ছয় জনগোষ্ঠী মিলে একটি |
শেষ দুটি সারি এই আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছয়টি জনগোষ্ঠী — লুসাই, বম, পাংখো, খুমী, চাক ও খিয়াং — একটিমাত্র আসনের জন্য পরস্পরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কোনো এক নির্বাচনে যদি বম প্রতিনিধি জেতেন, তবে ওই মেয়াদে বাকি পাঁচটি জনগোষ্ঠীর কেউ আঞ্চলিক পরিষদে থাকেন না।
রাঙামাটি জেলা পরিষদে হিসাবটি আলাদা — সেখানে পাংখোয়া ও খেয়াং দুজনেরই নিজস্ব একটি করে আসন, তঞ্চঙ্গ্যাদের দুটি। আঞ্চলিক পরিষদে এসে তঞ্চঙ্গ্যাদের ম্রোদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হয়, আর পাংখোয়া-খেয়াংকে আরও চারজনের সঙ্গে।
দুটি আইন পাশাপাশি রাখলে যা দাঁড়ায়: স্তর যত উপরে ওঠে, ছোট জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব তত পাতলা হয়। এটি কোনো ব্যাখ্যা নয়, দুটি দলিলের সরাসরি তুলনা।
পরিষদের কাজ ২২ ধারায় সাত দফায় দেওয়া। প্রথমটি আগে বলা হয়েছে; বাকিগুলোর পরিধি অনেকের ধারণার চেয়ে বিস্তৃত।
| দফা | কাজ |
|---|---|
| (ক) | জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও অর্পিত বিষয়াদির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়; মতবিরোধে পরিষদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত |
| (খ) | পৌরসভাসহ স্থানীয় পরিষদসমূহ তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় |
| (গ) | পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যাবলীর সার্বিক তত্ত্বাবধান |
| (ঘ) | জেলার সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় |
| (ঙ) | উপজাতীয় রীতিনীতি, প্রথা ইত্যাদি এবং সামাজিক বিচার সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান |
| (চ) | জাতীয় শিল্প নীতির সঙ্গে সংগতি রেখে ভারী শিল্প স্থাপনের লাইসেন্স প্রদান |
| (ছ) | দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ কার্যক্রম ও এনজিও কার্যাবলীর সমন্বয় |
তিনটি দফা আলাদা করে দেখার মতো।
(ঙ) — প্রথাগত আইন। উপজাতীয় রীতিনীতি, প্রথা ও সামাজিক বিচার এই পরিষদের তত্ত্বাবধানে। অর্থাৎ মৌজা ও পাড়া স্তরে হেডম্যান ও কার্বারি যে সামাজিক বিচার করেন, কাগজে-কলমে তার উপরের সমন্বয়কারী স্তরটি এখানেই। ১৯০০ সালের শাসনবিধিতে কার্বারি পদের কোনো উল্লেখ নেই, অথচ ১৯৯৮ সালের আইনে সেই বিচারব্যবস্থার তত্ত্বাবধান একটি আধুনিক পরিষদের হাতে দেওয়া হয়েছে।
(চ) — ভারী শিল্পের লাইসেন্স। লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষমতা তত্ত্বাবধানের চেয়ে ভিন্ন জিনিস — এটি সরাসরি নির্বাহী ক্ষমতা। তবে শর্ত জুড়ে দেওয়া: জাতীয় শিল্প নীতির সঙ্গে সংগতি রেখে।
(ঘ) — আইন-শৃঙ্খলা। সাধারণ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলার তত্ত্বাবধান আইনে লেখা আছে। ব্যবহারিকভাবে এর সীমা কোথায় — পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক কী — আইনের এই ধারা থেকে জানা যায় না। [যাচাই প্রয়োজন]
আঞ্চলিক পরিষদ ১৯৯৮ সালের আইনের সৃষ্টি নয় — এর নকশা আঁকা হয়েছিল ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির (গ) খণ্ডে। দুটি দলিল পাশাপাশি রাখলে বেশিরভাগ জায়গায় মিল, কিন্তু কয়েকটি জায়গায় ভাষা বদলে গেছে — আর সেই বদলগুলোই সবচেয়ে বেশি অর্থবহ।
গঠন প্রায় হুবহু এক। চুক্তির (গ)৩ দফায় লেখা চেয়ারম্যানসহ ২২ জন সদস্য — চেয়ারম্যান ১, উপজাতীয় ১২, উপজাতীয় মহিলা ২, অ-উপজাতীয় ৬, অ-উপজাতীয় মহিলা ১। এর সঙ্গে (গ)৫ দফা অনুযায়ী তিন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে সদস্য ও ভোটাধিকারসহ — মোট ২৫। আইনের ৫ ধারার হিসাব একই।
উপজাতীয় আসনের ভাগও অভিন্ন: চাকমা ৫, মারমা ৩, ত্রিপুরা ২, এবং দুটি যৌথ আসন। চেয়ারম্যান পরোক্ষভাবে নির্বাচিত ও অবশ্যই উপজাতীয়, পদমর্যাদা প্রতিমন্ত্রীর সমকক্ষ — চুক্তি ও আইন দুটোতেই। মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা যুগ্ম-সচিব সমতুল্য এবং উপজাতীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার — দুটোতেই। মেয়াদ পাঁচ বছর — দুটোতেই। তহবিলের সাতটি উৎসও প্রায় হুবহু একই ক্রমে।
একটি বানানগত পার্থক্য পাঠকের জানা থাকা দরকার: চুক্তিতে লেখা “মুরং ও তনচৈঙ্গ্যা”, আইনে “ম্রো ও তনৈচংগা”। দুটি দলিলে দুই বানান — এখানে দুটোই যেমন আছে তেমনই উদ্ধৃত করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যটি দুটি শব্দের। আইন প্রণয়নের আগে পরামর্শের বিধানে —
চুক্তি, (গ)১৩: “সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে আইন প্রণয়ন করিতে গেলে আঞ্চলিক পরিষদের সাথে আলোচনাক্রমে ও ইহার পরামর্শক্রমে আইন প্রণয়ন করিবেন।”
আইন, ৫৩(১): “…পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের সহিত আলোচনাক্রমে এবং পরিষদের পরামর্শ বিবেচনাক্রমে আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।”
‘পরামর্শক্রমে’ মানে পরামর্শ অনুসারে। ‘পরামর্শ বিবেচনাক্রমে’ মানে পরামর্শ বিবেচনা করে — বিবেচনার পর ভিন্ন সিদ্ধান্তও নেওয়া যায়। বাধ্যবাধকতা থেকে বিবেচনায় নেমে আসা।
ধারার দ্বিতীয় অংশ — পরিষদ নিজে সুপারিশ পেশ করতে পারে — চুক্তি ও আইনে প্রায় হুবহু এক।
চুক্তি, (গ)৯(ঙ): “উপজাতীয় আইন ও সামাজিক বিচার আঞ্চলিক পরিষদের আওতাভুক্ত থাকিবে।”
আইন, ২২(ঙ): “উপ-জাতীয় রীতিনীতি, প্রথা ইত্যাদি এবং সামাজিক বিচার সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান।”
‘আওতাভুক্ত’ মানে এখতিয়ারের ভেতরে। ‘সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান’ একটি তুলনায় সীমিত ভূমিকা। একই বিষয়, দুই মাত্রার ক্ষমতা।
চুক্তির (গ)১১ দফায় একটি নির্দিষ্ট অঙ্গীকার ছিল:
“১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও অধ্যাদেশের সাথে ১৯৮৯ সনের স্থানীয় সরকার পরিষদ আইনের যদি কোন অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয় তবে আঞ্চলিক পরিষদের পরামর্শ ও সুপারিশক্রমে সেই অসঙ্গতি আইনের মাধ্যমে দূর করা হইবে।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭, খণ্ড (গ), দফা ১১
অর্থাৎ ১৯০০ সালের শাসনবিধি ও ১৯৮৯ সালের আইনগুলোর মধ্যে যেসব জায়গায় সংঘর্ষ, তা আইনের মাধ্যমে দূর করার কথা ছিল — এবং তা করার কথা ছিল আঞ্চলিক পরিষদের পরামর্শ ও সুপারিশ অনুযায়ী।
১৯৯৮ সালের আইনে এই দফার কোনো সমতুল্য বিধান নেই। ৫৩ ধারা ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়ন নিয়ে; বিদ্যমান অসঙ্গতি দূর করার কোনো নির্দেশ আইনে দেওয়া হয়নি।
এই অসঙ্গতিগুলো পরে কোনো আইনের মাধ্যমে দূর করা হয়েছে কি না, তা এই কাজের আওতার বাইরে। [যাচাই প্রয়োজন]
একটি পার্থক্য চোখে না পড়ে যায় না। চুক্তির (গ)৩ দফায় সদস্যশ্রেণি লেখা হয়েছে লিঙ্গ উল্লেখ করে — “সদস্য উপজাতীয় (পুরুষ) ১২ জন” এবং “সদস্য অ-উপজাতীয় (পুরুষ) ৬ জন”। আর (গ)৪ দফায় আলাদা করে বলা, “পরিষদের মহিলাদের জন্য ৩ (তিন) টি আসন সংরক্ষিত রাখা হইবে। এক তৃতীয়াংশ (১/৩) অ-উপজাতীয় হইবে।”
১৯৮৯ সালের আইনের ৫ ধারায় সেই বন্ধনীগুলো নেই — সেখানে কেবল “বার জন উপ-জাতীয় সদস্য” ও “ছয় জন অ-উপজাতীয় সদস্য”, আর আলাদাভাবে দুই ও এক মহিলা সদস্য।
শব্দগত পার্থক্যটি ছোট, কিন্তু হিসাবটি একই থেকে যায়: ২২টি নির্বাচিত পদের মধ্যে নারীর জন্য নির্দিষ্ট তিনটি — অর্থাৎ প্রায় সাত ভাগের এক ভাগ। বাকি ১৯টি আসনে নারী প্রার্থী হতে আইনি বাধা আছে কি না, ৫ ধারার পাঠ থেকে স্পষ্ট নয়। [যাচাই প্রয়োজন]
আসন বণ্টনের পরের প্রশ্ন — ওই আসনে বসার যোগ্য কারা। ৮ ধারায় শর্তগুলো নির্দিষ্ট।
উপজাতীয় আসনে প্রার্থী হতে চারটি শর্ত একসঙ্গে পূরণ করতে হয়: বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, কোনো পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, কোনো উপজাতিতে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে, এবং বয়স পঁচিশ বছর পূর্ণ হতে হবে। শেষ শর্তটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ — প্রার্থী কেবল ‘উপজাতীয়’ হলেই হবে না, তাঁর উপজাতির জন্য নির্ধারিত আসনেই তিনি প্রার্থী।
অ-উপজাতীয় আসনের শর্ত একই, কেবল তৃতীয়টির জায়গায় ‘অ-উপজাতীয়’।
চেয়ারম্যান পদের যোগ্যতা আলাদা করে লেখা হয়নি। ৭ ধারা বলছে, যিনি উপজাতীয় সদস্য হওয়ার যোগ্য তিনিই চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্য — এবং যিনি উপজাতীয় সদস্য হওয়ার বা থাকার যোগ্য নন, তিনি চেয়ারম্যানও হতে পারবেন না। অর্থাৎ চেয়ারম্যান পদটি কাঠামোগতভাবেই উপজাতীয়দের জন্য সংরক্ষিত।
৮(৩) ধারায় অযোগ্যতার তালিকা। কেউ সদস্য হতে বা থাকতে পারবেন না, যদি তিনি —
চতুর্থটি লক্ষণীয়। জেলা ত্যাগ করলে কেবল প্রার্থিতা নয়, পদও চলে যায় — কারণ ধারার ভাষা ‘নির্বাচিত হইবার এবং থাকিবার’। প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে বসবাসের বাধ্যতামূলক যোগসূত্র এখানেই।
আরেকটি সীমা ১৯ ধারায়: কেউ একই সঙ্গে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থী হতে পারবেন না।
দায়িত্ব নেওয়ার আগে দুটি কাজ বাধ্যতামূলক, আর দুটোই এই পরিষদের মর্যাদা সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়।
প্রথমত, শপথ। ৯ ধারা অনুযায়ী শপথ নিতে হয় রাষ্ট্রপতি কর্তৃক এই উদ্দেশ্যে মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির সম্মুখে। কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সামনে নয়। শপথের ভাষায় দুটি অঙ্গীকার — আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে পদের কর্তব্য পালন, এবং বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য।
দ্বিতীয়ত, সম্পত্তির বিবরণ। ১০ ধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও প্রত্যেক সদস্যকে কার্যভার গ্রহণের আগে নির্বাচন বিধি অনুসারে সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির লিখিত বিবরণ দাখিল করতে হয় — নিজের এবং পরিবারের সদস্যদেরও।
‘পরিবারের সদস্য’ কে, সেটিও আইনেই সংজ্ঞায়িত: স্বামী বা স্ত্রী, এবং তাঁর সঙ্গে বসবাসকারী ও তাঁর উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল ছেলে-মেয়ে, পিতা-মাতা ও ভাই-বোন।
১১ ধারায় একটি বাক্য পরিষদের অবস্থান বুঝিয়ে দেয়: চেয়ারম্যান সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর অনুরূপ পদমর্যাদা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। অন্য সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত।
প্রতিমন্ত্রীর সমমর্যাদা মানে পদটি স্থানীয় সরকারের চেয়ারম্যানের সারিতে নয়, জাতীয় নির্বাহী কাঠামোর সারিতে বসানো হয়েছে।
মেয়াদ পাঁচ বছর, গণনা শুরু প্রথম অধিবেশনের তারিখ থেকে (১২ ধারা)। তবে একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া আছে যা বাস্তবে গুরুত্বপূর্ণ: মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নির্বাচিত নতুন পরিষদ প্রথম অধিবেশনে না বসা পর্যন্ত পুরনো পরিষদ কাজ চালিয়ে যাবে।
সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ষাট দিনের মধ্যে (১৮ ধারা)। নির্বাচন পরিচালনা করে সংবিধান অনুযায়ী গঠিত নির্বাচন কমিশন (২০ ধারা), আলাদা কোনো কর্তৃপক্ষ নয়।
১৪(১) ধারায় অপসারণযোগ্যতার কারণ তিনটি: যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিতি; দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি বা শারীরিক-মানসিক অসামর্থ্য; এবং অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারে দোষী সাব্যস্ত হওয়া, কিংবা পরিষদের অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতিসাধন বা আত্মসাতের দায়।
‘অসদাচরণ’ শব্দটির সংজ্ঞা আইনেই দেওয়া, এবং তা যথেষ্ট বিস্তৃত — ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ইচ্ছাকৃত কুশাসন।
কিন্তু কারণ থাকাই যথেষ্ট নয়। ১৪(২) অনুযায়ী অপসারণ করতে হলে দুটি শর্ত একসঙ্গে পূরণ হতে হবে — বিশেষ সভায় পদাধিকারবলে সদস্যদের বাদ দিয়ে বাকি মোট সদস্য-সংখ্যার অন্তত তিন-চতুর্থাংশ ভোটে প্রস্তাব গৃহীত হতে হবে, এবং প্রস্তাবটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।
অর্থাৎ পরিষদ একা কাউকে সরাতে পারে না, সরকারও একা পারে না। দুটোই লাগে।
২২ ধারায় পরিষদের কার্যাবলী দেওয়া আছে। প্রথম ও প্রধান কাজটি তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় — তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং তাদের উপর অর্পিত বিষয়াদির সার্বিক তত্ত্বাবধান।
এর সঙ্গে একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া আছে, যেটি ক্ষমতার প্রশ্নে নির্ণায়ক: আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে কোনো জেলা পরিষদের, বা একাধিক জেলা পরিষদের নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে আঞ্চলিক পরিষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
অন্য কাজগুলোর মধ্যে আছে পৌরসভাসহ স্থানীয় পরিষদগুলোর তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়, এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যাবলীর সার্বিক তত্ত্বাবধান — যে বোর্ডটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৬ সালের একটি অধ্যাদেশে, আঞ্চলিক পরিষদের জন্মের বাইশ বছর আগে।
ক্ষমতার প্রশ্নের সবচেয়ে সরাসরি উত্তর থাকে তহবিলে। ৩২ ধারায় আঞ্চলিক পরিষদ তহবিলের সাতটি উৎস তালিকাভুক্ত, আর তালিকাটি যা বলে না সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
| উৎস | ধরন |
|---|---|
| পার্বত্য জেলা পরিষদের তহবিল থেকে প্রদেয় অর্থ | পরিমাণ সরকার সময় সময় নির্ধারণ করে |
| পরিষদের উপর ন্যস্ত সম্পত্তি থেকে আয় বা মুনাফা | সম্পত্তি থাকলে |
| সরকার বা অন্য কর্তৃপক্ষের ঋণ ও অনুদান | বাইরের |
| প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির অনুদান | বাইরের |
| বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা | নিজস্ব |
| পরিষদ কর্তৃক প্রাপ্ত যেকোনো অর্থ | অবশিষ্ট খাত |
| সরকারের নির্দেশে ন্যস্ত অন্যান্য আয়ের উৎস | সরকারের সিদ্ধান্তে |
তালিকায় কর আরোপের কোনো ক্ষমতা নেই। মৌজা স্তরে হেডম্যান জুম কর ও খাজনা আদায় করেন, জেলা পরিষদের নিজস্ব কর-খাত আছে — কিন্তু আঞ্চলিক পরিষদের নিজের কোনো রাজস্ব উৎস আইনে দেওয়া হয়নি।
প্রধান উৎসটি জেলা পরিষদের তহবিল, আর তার পরিমাণ ঠিক করে সরকার — পরিষদ নয়, জেলা পরিষদও নয়। তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠানটি যাদের তত্ত্বাবধান করে, আর্থিকভাবে তাদের উপরই নির্ভরশীল, এবং সেই নির্ভরতার অঙ্ক তৃতীয় পক্ষের হাতে।
৩৪ ধারায় ব্যয়ের ক্রম নির্দিষ্ট করে দেওয়া, এবং ক্রমটিও অর্থবহ:
পরিষদের নিজের কাজের ব্যয় তালিকায় তৃতীয়। বেতন ও দায়যুক্ত ব্যয় মেটানোর পর যা থাকে, তা দিয়ে দায়িত্ব পালন।
‘দায়যুক্ত ব্যয়’ কী, সেটিও ৩৪(২)-এ সংজ্ঞায়িত — পরিষদের চাকরিতে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রাপ্য, সরকারের নির্দেশে রক্ষণাবেক্ষণ ও হিসাব-নিরীক্ষার খরচ, এবং আদালত বা ট্রাইব্যুনালের রায়, ডিক্রি বা রোয়েদাদ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় অর্থ।
আর যদি দায়যুক্ত কোনো ব্যয় অপরিশোধিত থাকে, ৩৪(৩) অনুযায়ী সরকার আদেশ দিয়ে তহবিলের হেফাজতকারীকে সরাসরি সেই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারে — পরিষদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে।
এই আইনের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা আর সবচেয়ে বড় সীমা — দুটোই আছে, এবং পাশাপাশি পড়লে ভারসাম্যটা স্পষ্ট হয়।
৫৩(১) ধারার বিধান এই আইনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ:
“সরকার পরিষদ বা পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে কোন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করিলে পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের সহিত আলোচনাক্রমে এবং পরিষদের পরামর্শ বিবেচনাক্রমে আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।”
আঞ্চলিক পরিষদ আইন ১৯৯৮, ধারা ৫৩(১)
অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত যেকোনো আইন প্রণয়নের আগে সরকারকে আঞ্চলিক পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে এবং পরিষদের পরামর্শ বিবেচনা করতে হবে।
উল্টো দিকটিও আছে। ৫৩(২) অনুযায়ী তিন জেলার উন্নয়ন বা উপজাতীয় জনগণের কল্যাণের পথে বিরূপ ফল হতে পারে এমন আইনের পরিবর্তন বা নতুন আইনের প্রয়োজন দেখা দিলে পরিষদ নিজে সরকারের কাছে আবেদন বা সুপারিশমালা পেশ করতে পারে।
ভাষাটি খেয়াল করার মতো — ‘আলোচনাক্রমে’ ও ‘পরামর্শ বিবেচনাক্রমে’। সম্মতি নয়, ভেটো নয়। পরিষদের আপত্তি সত্ত্বেও আইন হতে পারে কি না, ধারাটি সরাসরি বলে না। [যাচাই প্রয়োজন]
অন্য দিকে, ৪১ ধারা সরকারকে পুরো পরিষদ বাতিল করার ক্ষমতা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় তদন্তের পর সরকার যদি মনে করে পরিষদ —
তবে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দিয়ে সরকার পরিষদ বাতিল করতে পারে। একটিই সুরক্ষা: আদেশের আগে পরিষদকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে।
বাতিল হলে চেয়ারম্যান ও সব সদস্য পদে বহাল থাকেন না, আর বাতিল থাকাকালে পরিষদের সব দায়িত্ব পালন করে সরকার কর্তৃক নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ। তবে একটি সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া — বাতিলাদেশ গেজেটে প্রকাশের নব্বই দিনের মধ্যে পরিষদ পুনর্গঠিত হবে।
বাতিলের আগে একটি মধ্যবর্তী ব্যবস্থা আছে। ৪০(১) অনুযায়ী সরকার প্রয়োজনে পরিষদকে পরামর্শ বা অনুশাসন করতে পারে।
৪০(২) আরও নির্দিষ্ট: পরিষদের কোনো কাজ সংবিধান বা এই আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বা জনস্বার্থের পরিপন্থী — এমন নিশ্চিত প্রমাণ পেলে সরকার লিখিতভাবে তথ্য ও ব্যাখ্যা চাইতে পারে এবং পরামর্শ দিতে পারে। ধারার শেষ বাক্যটি বাধ্যতামূলক ভাষায় লেখা — “পরিষদ উক্ত তথ্য ও ব্যাখ্যা সরবরাহ করিবে বা পরামর্শ বাস্তবায়ন করিবে।”
‘পরামর্শ’ শব্দ, কিন্তু ক্রিয়াপদ ‘বাস্তবায়ন করিবে’।
নির্দেশ ও বাতিলের পাশাপাশি ৪৪ ধারায় একটি সমান্তরাল ব্যবস্থাও আছে, আর সেটির ভাষা দুই পক্ষের জন্য অভিন্ন: পরিষদ ও সরকারের কার্যাবলীর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে সরকার বা পরিষদ পরস্পরের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারে।
এই একটি ধারায় পরিষদ ও সরকার সমান অবস্থানে — এখানে কেউ কাউকে নির্দেশ দিচ্ছে না, প্রস্তাব দিচ্ছে। আইনের বাকি অংশের তুলনায় ব্যতিক্রম।
৩৯ ধারায় একটি কড়া বিধান আছে, যা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ করে।
চেয়ারম্যান, কোনো সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারী, কিংবা পরিষদ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বা পরিষদের পক্ষে কর্মরত কারও প্রত্যক্ষ গাফিলতি বা অসদাচরণের কারণে পরিষদের কোনো অর্থ বা সম্পদের লোকসান, অপচয় বা অপপ্রয়োগ হলে তার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে। আর যে টাকার জন্য তাঁকে দায়ী করা হবে, সেই টাকা তাঁর কাছ থেকে সরকারি দাবি (public demand) হিসেবে আদায় করা হবে।
‘সরকারি দাবি হিসেবে আদায়’ পদ্ধতিটি লক্ষণীয় — এটি সাধারণ দেওয়ানি মামলার পথ নয়, রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায়ের পথ। একই পদ্ধতি ১৯০০ সালের শাসনবিধিতে খেলাপি হেডম্যানের বকেয়া জুম কর আদায়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। প্রায় একশ বছরের ব্যবধানে লেখা দুটি আইনে একই আদায়যন্ত্র।
এই ধারা কতবার প্রয়োগ হয়েছে, তার কোনো নথি এই কাজে পাওয়া যায়নি। [যাচাই প্রয়োজন]
আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ ছাড়া অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সরকারের কাছে পেশ করতে হয় (৪২ ধারা) — অর্থাৎ সেখানে পরিষদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়, যেমনটি জেলা পরিষদের সঙ্গে মতবিরোধে।
আর পরিষদ বা তার চেয়ারম্যানের কোনো আদেশে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ আছে (৪৩ ধারা)। পরিষদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে আগে নোটিশ দিতে হয় (৪৭ ধারা)।
আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন নিয়ে যে প্রশ্নটি বারবার ওঠে, তার একটি অংশের উত্তর আইনের একেবারে শেষ ধারায়।
৫৪ ধারা অনুযায়ী পরিষদ স্থাপনের পর যত শীঘ্র সম্ভব সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করবে। এর বৈশিষ্ট্য:
দুটি বিষয় এখানে স্পষ্ট। প্রথমত, মনোনীত পরিষদ কোনো বিচ্যুতি নয় — আইনই এই ব্যবস্থা রেখেছে। দ্বিতীয়ত, ধারাটিতে অন্তর্বর্তী পরিষদের কোনো মেয়াদ বেঁধে দেওয়া হয়নি; এটি চলে ‘৫ ধারা অনুসারে পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত’।
বাস্তবে এ পর্যন্ত ৫ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কতবার হয়েছে, বা অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা কত দিন চলেছে — তার নির্ভরযোগ্য নথি এই কাজে ব্যবহার করা হয়নি। [যাচাই প্রয়োজন]
২৮ ধারা অনুযায়ী পরিষদের একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা থাকবেন, নিযুক্ত হবেন সরকারের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে। ধারায় একটি শর্তও যোগ করা — এই পদে নিয়োগে উপজাতীয় কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অন্যান্য পদ সৃষ্টি করতে পারে পরিষদ নিজেই, তবে সরকারের অনুমোদনক্রমে (২৯ ধারা)। কর্মচারীদের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠনের ক্ষমতাও আছে (৩০ ধারা), আর চাকরির শর্তাদি নির্ধারিত হয় প্রবিধান দ্বারা (৩১ ধারা)।
প্রধান কার্যালয় থাকবে পার্বত্য জেলাসমূহের মধ্যে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে, আর সরকারের অনুমোদনক্রমে শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাবে (৪ ধারা)।
হিসাব রক্ষা, বাজেট ও নিরীক্ষার ব্যবস্থাও নির্দিষ্ট — প্রতি অর্থবছর শুরুর আগে বাজেট (৩৫ ধারা), বছর শেষে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের বিবরণী (৩৬ ধারা), এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিরীক্ষা (৩৭ ধারা)।
| স্তর | আইন | মূল ভূমিকা |
|---|---|---|
| আঞ্চলিক পরিষদ | ১৯৯৮ | তিন জেলা পরিষদ, স্থানীয় পরিষদ ও উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধান; মতবিরোধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত |
| জেলা পরিষদ (৩টি) | ১৯৮৯ | জেলার উন্নয়ন ও অর্পিত বিষয়াদি; চেয়ারম্যানরা পদাধিকারবলে আঞ্চলিক পরিষদে |
| মৌজা ও পাড়া | ১৯০০ শাসনবিধি | হেডম্যান ও কার্বারি — জুম কর, খাজনা, সামাজিক বিচার |
অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রশাসন একটি নয়, অন্তত তিনটি সমান্তরাল ব্যবস্থার উপর দাঁড়িয়ে — একটি ঔপনিবেশিক আমলের বিধি, একটি ১৯৮৯ সালের, আরেকটি চুক্তি-পরবর্তী।
২৫টি — চেয়ারম্যান, ১২ জন উপজাতীয় সদস্য, ৬ জন অ-উপজাতীয় সদস্য, ২ জন উপজাতীয় মহিলা, ১ জন অ-উপজাতীয় মহিলা, এবং তিন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে।
চাকমা ৫, মারমা ৩, ত্রিপুরা ২, ম্রো ও তঞ্চঙ্গ্যা মিলে ১, এবং লুসাই-বম-পাংখো-খুমী-চাক-খিয়াং — এই ছয় জনগোষ্ঠী মিলে ১।
আইনের ২২ ধারার শর্ত অনুযায়ী আঞ্চলিক পরিষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
২২ ধারা অনুযায়ী পরিষদ ১৯৭৬ সালের অধ্যাদেশে প্রতিষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যাবলীর সার্বিক তত্ত্বাবধান করে।
১১ ধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যান সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর অনুরূপ পদমর্যাদা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। অন্য সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হয়। চেয়ারম্যান পদটি উপজাতীয়দের জন্য সংরক্ষিত, কারণ ৭ ধারা অনুযায়ী যিনি উপজাতীয় সদস্য হওয়ার যোগ্য নন তিনি চেয়ারম্যানও হতে পারেন না।
৮ ধারা অনুযায়ী চারটি শর্ত — বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, কোনো পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, সংশ্লিষ্ট উপজাতিতে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে, এবং বয়স পঁচিশ বছর পূর্ণ হতে হবে। প্রার্থী কেবল উপজাতীয় হলেই হবে না, তাঁর নিজের উপজাতির জন্য নির্ধারিত আসনেই তিনি প্রার্থী হতে পারবেন।
না। ৮(৩)(ঘ) ধারা অনুযায়ী কেউ অন্যত্র স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য পার্বত্য জেলা ত্যাগ করলে তিনি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ও থাকার যোগ্যতা হারান। অর্থাৎ প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে বসবাসের যোগসূত্রটি আইনে বাধ্যতামূলক।
হ্যাঁ। ১০ ধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও প্রত্যেক সদস্যকে কার্যভার গ্রহণের আগে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির লিখিত বিবরণ দাখিল করতে হয়। ‘পরিবারের সদস্য’ বলতে স্বামী বা স্ত্রী এবং তাঁর সঙ্গে বসবাসকারী ও সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছেলে-মেয়ে, পিতা-মাতা ও ভাই-বোন বোঝায়।
না। ৩২ ধারায় তহবিলের সাতটি উৎস তালিকাভুক্ত, কিন্তু কর আরোপের কোনো ক্ষমতা নেই। প্রধান উৎস জেলা পরিষদের তহবিল থেকে প্রদেয় অর্থ, আর সেই পরিমাণ নির্ধারণ করে সরকার — পরিষদ নয়, জেলা পরিষদও নয়।
পারে। ৪১ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তদন্তের পর সরকার মনে করলে যে পরিষদ দায়িত্ব পালনে অসমর্থ, জনস্বার্থবিরোধী কাজ করছে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, তবে গেজেট আদেশে পরিষদ বাতিল করতে পারে। আদেশের আগে পরিষদকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে, এবং বাতিলের নব্বই দিনের মধ্যে পরিষদ পুনর্গঠিত হবে।
৫৩(১) ধারা অনুযায়ী সরকার পরিষদ বা পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে কোনো আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিলে আঞ্চলিক পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে এবং পরিষদের পরামর্শ বিবেচনাক্রমে পদক্ষেপ নেবে। ভাষাটি ‘আলোচনা’ ও ‘পরামর্শ বিবেচনা’ — সম্মতি বা ভেটো নয়।
৫৪ ধারা অনুযায়ী সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করে, যার চেয়ারম্যানসহ সব সদস্য সরকার কর্তৃক মনোনীত হন। ৫ ধারা অনুসারে পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এটি ২২ ধারার কার্যাবলী পালন করে। ধারাটিতে অন্তর্বর্তী পরিষদের কোনো মেয়াদ বেঁধে দেওয়া হয়নি।
আসন-বণ্টনের বিতর্ক বোঝার জন্য ২ ধারার সংজ্ঞাগুলো পড়া দরকার, কারণ কে কোন আসনের যোগ্য তা এখানেই ঠিক হয়।
২(গ) ধারায় “উপ-জাতীয়” শব্দের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে আইন একটি নির্দিষ্ট তালিকা দিয়েছে — পার্বত্য জেলাসমূহে স্থায়ীভাবে বসবাসরত চাকমা, মারমা, তনৈচংগা, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখো, খিয়াং, ম্রো, বোম, খুমী ও চাক — এই এগারোটি।
তালিকাটি বদ্ধ। ৫(৩) ধারার আসন-বণ্টনে যে নামগুলো আসে, সেগুলো এই তালিকা থেকেই। ফলে কেউ যদি এই এগারোটির বাইরের কোনো জনগোষ্ঠীর সদস্য হন, তাঁর জন্য আইনে কোনো নির্ধারিত আসন নেই — এবং ‘অ-উপজাতীয়’ শব্দের সংজ্ঞা (২(ক)) অনুযায়ী “যিনি উপ-জাতীয় নহেন”, তাই তিনি কারিগরিভাবে অ-উপজাতীয় আসনের আওতায় পড়ে যান।
এটি আইনের পাঠ থেকে সরাসরি অনুসরণ করা যায়। বাস্তবে এমন পরিস্থিতি কীভাবে সামলানো হয়, তার নজির এই কাজে পাওয়া যায়নি। [যাচাই প্রয়োজন]
একটি অসাম্য সংজ্ঞাতেই আছে, আর সেটি খেয়াল করার মতো।
অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা — ২(খ) ধারার সংজ্ঞায় দুটি শর্ত: যাঁর পার্বত্য জেলায় বৈধ জায়গা-জমি আছে, এবং যিনি উক্ত জেলার কোনো সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় সাধারণত বসবাস করেন।
উপ-জাতীয় — ২(গ) ধারায় শর্ত একটিই: পার্বত্য জেলাসমূহে স্থায়ীভাবে বসবাসরত হওয়া এবং তালিকাভুক্ত এগারোটির কোনো একটিতে অন্তর্ভুক্ত থাকা।
অর্থাৎ অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা হতে জমির মালিকানা লাগে, উপজাতীয় হতে লাগে না। ভূমিহীন হওয়া উপজাতীয় প্রার্থীর যোগ্যতায় বাধা নয়, অ-উপজাতীয়ের ক্ষেত্রে বাধা।
শর্তটি নিছক কারিগরি নয়। ১৯০০ সালের শাসনবিধিতে জুম চাষে মালিকানা স্বত্ব লাগে না, ফলে বহু পাহাড়ি পরিবারের কাগুজে ভূমি-স্বত্ব থাকে না। জমির শর্ত উপজাতীয়দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে বহু বৈধ ভোটার ও প্রার্থী বাদ পড়তেন।
২৩ ধারায় দুটি কথা বলা আছে। প্রথমত, এই আইনের অধীন যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদনের ক্ষমতা পরিষদের থাকবে। দ্বিতীয়ত — এবং এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ — ভিন্নরূপ বিধান না থাকলে পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা চেয়ারম্যানের উপর ন্যস্ত, এবং তা প্রযুক্ত হয় চেয়ারম্যান কর্তৃক সরাসরি অথবা তাঁর কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কারও মাধ্যমে।
অর্থাৎ সিদ্ধান্ত সমষ্টিগত হলেও নির্বাহী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত।
সভা পরিচালনার নিয়মেও সংরক্ষণের ধারাবাহিকতা আছে। ২৪(২) অনুযায়ী সব সভায় সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান, আর তাঁর অনুপস্থিতিতে উপস্থিত সদস্যরা উপ-জাতীয় সদস্যদের মধ্য থেকেই একজনকে সভাপতি নির্বাচিত করেন।
২৪(৩) একটি ব্যবহারিক সুরক্ষা: কোনো সদস্যপদ শূন্য থাকলে, গঠনে ত্রুটি থাকলে, এমনকি অধিকার না থাকা সত্ত্বেও কেউ কার্যধারায় অংশ নিলেও — কেবল সেই কারণে পরিষদের কাজ অবৈধ হবে না।
আর ২৪(৪) একটি নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা: প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণীর একটি অনুলিপি সভার চৌদ্দ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে পাঠাতে হবে। প্রতিটি সভার নথি প্রতি মাসের মধ্যেই সরকারের হাতে পৌঁছে যায়।
২৬ ধারা অনুযায়ী পরিষদের সব চুক্তি লিখিত হতে হবে, পরিষদের নামে সম্পাদিত বলে প্রকাশিত হতে হবে, এবং প্রবিধান অনুসারে সম্পাদিত হতে হবে। চুক্তি সম্পাদনের পরপরই চেয়ারম্যান পরবর্তী সভায় পরিষদকে তা অবহিত করবেন। আর এই ধারার খেলাপ করে সম্পাদিত কোনো চুক্তির দায় পরিষদের উপর বর্তাবে না — অর্থাৎ নিয়ম না মেনে করা চুক্তি পরিষদকে বাঁধে না।
নথির মর্যাদা নিয়ে ৪৯ ধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান: এই আইনের অধীন প্রস্তুতকৃত ও সংরক্ষিত সব রেকর্ড ও রেজিস্টার Evidence Act, 1872 অনুযায়ী ‘প্রকাশ্য রেকর্ড’ (public document) বলে গণ্য হবে, এবং বিপরীত প্রমাণিত না হলে সেগুলোকে সঠিক বলে ধরে নিতে হবে।
গবেষণার দিক থেকে এটি তাৎপর্যপূর্ণ — পরিষদের নথি আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য, এবং প্রমাণের দায় উল্টো দিকে।
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের, তবে পরিষদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে (৪৫(১))। এখানে ‘পরামর্শক্রমে’ শব্দটিই ব্যবহৃত — ৫৩ ধারার ‘পরামর্শ বিবেচনাক্রমে’ নয়।
বিধি হয়ে যাওয়ার পরও একটি পথ খোলা আছে। ৪৫(৩) অনুযায়ী কোনো বিধি পরিষদের বিবেচনায় পার্বত্য অঞ্চলের জন্য কষ্টকর বা আপত্তিকর মনে হলে পরিষদ কারণ উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবসহ সেই বিধি পুনর্বিবেচনা, সংশোধন, বাতিল বা প্রয়োগ শিথিল করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারে। সরকার তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা অবশ্য পরিষদের নিজের (৪৬ ধারা), শর্ত হলো তা আইন বা বিধির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারবে না।
আর্থিক জবাবদিহির ধাপগুলোও আইনে নির্দিষ্ট, এবং প্রতিটি ধাপেই সরকারের উপস্থিতি আছে।
বাজেট। প্রতি অর্থবছর শুরু হওয়ার আগে পরিষদকে ওই বছরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় সম্বলিত বিবরণী — অর্থাৎ বাজেট — বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রণয়ন করতে হয় (৩৫ ধারা)।
হিসাব। আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখতে হয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে, আর প্রতিটি অর্থবছর শেষে একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের বিবরণী তৈরি করতে হয় (৩৬ ধারা)।
নিরীক্ষা। হিসাব নিরীক্ষিত হয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের দ্বারা (৩৭ ধারা) — অর্থাৎ নিরীক্ষক কে হবেন, সেটিও পরিষদ ঠিক করে না।
সম্পত্তি। ৩৮ ধারা অনুযায়ী পরিষদ প্রবিধান দ্বারা তার উপর ন্যস্ত বা মালিকানাধীন সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য বিধান করতে পারে।
এই ধাপগুলো পাশাপাশি রাখলে একটি ধরন স্পষ্ট হয়। বাজেট প্রণয়নের পদ্ধতি বিধিতে, হিসাবের ফরম বিধিতে, নিরীক্ষার কর্তৃপক্ষ বিধিতে — আর বিধি প্রণয়ন করে সরকার, পরিষদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে (৪৫ ধারা)। পরিষদের নিজস্ব ক্ষমতা প্রবিধান পর্যন্ত, যা বিধির অধীন।
তহবিলের অর্থ রাখতে হয় কোনো সরকারি ট্রেজারি বা তার কার্য পরিচালনাকারী ব্যাংকে (৩৩ ধারা) — বেসরকারি ব্যাংকে নয়, এবং তোলার পদ্ধতিও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত। কর্মচারীদের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠনের ক্ষমতা পরিষদের আছে, চাঁদার হার প্রবিধানে নির্ধারিত (৩০ ধারা)।
৫১ ধারায় একটি দায়মুক্তি আছে। এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের অধীনে সরল বিশ্বাসে করা কোনো কাজের ফলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, তার জন্য সরকার, পরিষদ, তাদের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।
এ ধরনের ধারা বাংলাদেশের বহু আইনে আছে। এখানে উল্লেখ করার কারণ, ৪৩ ধারার আপিলের অধিকার আর ৫১ ধারার দায়মুক্তি একসঙ্গে পড়লে প্রতিকারের প্রকৃত পরিসরটি বোঝা যায় — আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে, কিন্তু সরল বিশ্বাসে কৃত কাজের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা চলে না।
এটি আইন ও চুক্তি কী বলে তার বিবরণ — বাস্তবে কী ঘটেছে তার নয়। কোন বছর কে চেয়ারম্যান ছিলেন, কতবার সভা হয়েছে, ৫৩ ধারার অধীনে কতবার আলোচনা হয়েছে, ২২(ক) ধারার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা কতবার প্রয়োগ হয়েছে — এসবের কোনো নথি এই কাজে ব্যবহার করা হয়নি।
দ্বিতীয় সীমাটি সময়ের। ১৯৯৮ সালের পর আইনটি সংশোধিত হয়েছে কি না, এবং ২০১৪ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন ২২(গ) ধারার তত্ত্বাবধান-সম্পর্ককে বদলেছে কি না — সেটি আলাদা যাচাইয়ের বিষয়। এখানে যা দেওয়া হয়েছে তা ১৯৯৮ সালের মূল আইনের পাঠ।
তৃতীয়ত, এই কাঠামোর পাশে দাঁড়িয়ে আছে ১৯০০ সালের শাসনবিধির মৌজা প্রশাসন এবং ১৯৮৯ সালের তিনটি জেলা পরিষদ আইন। কোথায় কোনটি প্রাধান্য পায়, সেই প্রশ্নের উত্তর এই একটি আইনে নেই — আর চুক্তির (গ)১১ দফা অনুযায়ী সেই অসঙ্গতি দূর করার কথা ছিল।
পদ্ধতি সম্পর্কে। আইনের উদ্ধৃতিগুলো bdlaws.minlaw.gov.bd-এ প্রকাশিত সরকারি বাংলা পাঠ থেকে ধারা ধরে ধরে নেওয়া, এবং প্রতিটি দাবির পাশে ধারার নম্বর দেওয়া আছে যাতে পাঠক নিজে মিলিয়ে নিতে পারেন। চুক্তির উদ্ধৃতিগুলো রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ থেকে। ওই দলিলটি পুরনো ফন্ট-এনকোডিংয়ে প্রকাশিত; ইউনিকোডে রূপান্তরের পর প্রতিটি উদ্ধৃত অনুচ্ছেদ মূল পাঠের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। বর্তমানে আইনের কোন ধারা সংশোধিত বা রহিত, তা যাচাই করা হয়নি।
সর্বশেষ হালনাগাদ: ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রসঙ্গ:
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।