Last updated Oct 19th, 2026
0

অপারেশন উত্তরণ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ও ভূমিকার একটি ব্যবস্থার নাম, যা 1977 সাল থেকে চলা ‘অপারেশন দাবানল’-এর জায়গা নেয়। জনসংহতি সমিতি ও বাংলা উইকিপিডিয়া এর শুরুর তারিখ লিখেছে 1 সেপ্টেম্বর 2001। জাতিসংঘের একটি সমীক্ষা একে “নির্বাহী আদেশ” বলেছে; তবে আদেশটির পাঠ কখনো প্রকাশিত হয়নি, আর সরকারের প্রকাশিত কোনো নথিতে নামটি পাওয়া যায়নি।
শব্দটি পাহাড়ের রাজনৈতিক বিবৃতি, স্মারকলিপি আর মানবাধিকার প্রতিবেদনে বারবার আসে, প্রায় সবসময় একটি দাবির অংশ হিসেবে: “অস্থায়ী ক্যাম্প ও অপারেশন উত্তরণ প্রত্যাহার করতে হবে।” অথচ জিনিসটা আসলে কী — সামরিক অভিযান, প্রশাসনিক আদেশ, না কেবল একটি নাম — তার সংজ্ঞা কোথাও এক জায়গায় নেই। এই লেখায় আলাদা করে রাখা হয়েছে কোন কথা কোন নথিতে আছে, কে বলেছেন, কবে। সরকার ও সেনাবাহিনীর বক্তব্য যতটা উৎসে পাওয়া যায় ততটাই রাখা হয়েছে, সমালোচকদের বক্তব্যও তেমনি। কোনো বক্তব্যের সত্যাসত্য এখানে বিচার করা হয়নি।
এই লেখায়
অপারেশন উত্তরণের কোনো সরকারি সংজ্ঞা প্রকাশিত হয়নি। যেসব উৎস এর বর্ণনা দেয়, তারা একে চার রকম নামে ডাকে: “নির্বাহী আদেশ” (জাতিসংঘ সমীক্ষা, 2011), “প্রশাসনিক আদেশ” (অ্যামনেস্টি, 2013), “নির্বাহী নির্দেশনা” (আইডব্লিউজিআইএ, 2025), আর “এক ধরনের সেনাশাসন” (জনসংহতি সমিতির নেতাদের লেখা)। সংবাদমাধ্যমে একে সাধারণত একটি সামরিক “অপারেশন” হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
নিচের ছকে প্রতিটি উৎস নিজের ভাষায় কী বলেছে, তা রাখা হলো। ইংরেজি উদ্ধৃতির বাংলা এখানে অনুবাদ।
| উৎস ও সাল | অপারেশন উত্তরণকে কী বলা হয়েছে |
|---|---|
| জাতিসংঘ আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের সমীক্ষা (E/C.19/2011/6), 2011 | “একটি নির্বাহী আদেশ, যা সামরিক বাহিনীকে তাদের যথাযথ এখতিয়ারের বাইরে বেসামরিক বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার দেয়” |
| অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, Pushed to the Edge, 2013 | “অপারেশন উত্তরণ” নামের একটি প্রশাসনিক আদেশ, যার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা “এখনো অনেকটাই সেনা নিয়ন্ত্রণে” |
| আইডব্লিউজিআইএ, 6 অক্টোবর 2025 | 2001 সালে চালু হওয়া একটি নির্বাহী নির্দেশনা, যা সামরিক কর্তৃপক্ষকে আটক ও চলাচল সীমিত করার ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে |
| শক্তিপদ ত্রিপুরা, তাক্রুপ্ সংকলন, 2013 | “সরকার ২০০১ সালে ‘অপারেশন উত্তরণ’ নামে এক ধরনের সেনাশাসন জারী করে” |
| এআইপিপি, কাপেং ফাউন্ডেশন ও আইডব্লিউজিআইএ-র যৌথ ইউপিআর প্রতিবেদন, 2023 | 2001 সালে জারি হওয়া ‘অপারেশন উত্তরণ’-এর জোরে নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, বিচার ও উন্নয়ন — সব বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ চালাচ্ছে |
| দ্য ডেইলি স্টার, বান্দরবান সংবাদদাতা, 27 জুলাই 2007 | এলাকায় সেনাবাহিনীর আগের দুটি অভিযানের একটি; নামের ইংরেজি অর্থ লেখা হয়েছে “rise” |
নামটির ইংরেজি অনুবাদেও মিল নেই। জনসংহতি সমিতি ও যৌথ ইউপিআর প্রতিবেদন লেখে “Operation Upliftment”, ডেইলি স্টারের 2007 সালের খবর লেখে “rise”। ইংরেজি বানানও তিন রকম — Uttoron, Uttaran, Uttaron; একই সংগঠনের একই পাতায় দুই বানান পাওয়া যায়। এই বানানভেদের কারণে ইংরেজিতে খুঁজলে একই বিষয়ের নথি আলাদা আলাদা ফলাফলে আসে।
উৎসগুলোর মধ্যে একটি বিষয়ে মিল আছে: সবাই একে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর উপস্থিতির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখে, যা 1997 সালের চুক্তির পরেও শেষ হয়নি। কিন্তু এটি যুদ্ধাভিযান, প্রশাসনিক কাঠামো, নাকি দুটোই — সে প্রশ্নে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
নির্দিষ্ট তারিখ 1 সেপ্টেম্বর 2001 পাওয়া যায় দুটি উৎসে: জনসংহতি সমিতির চুক্তির 24তম বার্ষিকীর প্রতিবেদন (ডিসেম্বর 2021) এবং বাংলা উইকিপিডিয়ার ‘অপারেশন দাবানল’ নিবন্ধ। আরও অন্তত পাঁচটি উৎস শুধু সালটি — 2001 — উল্লেখ করে। তারিখ দেওয়া কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন, গেজেট বা আইএসপিআর বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
বাংলা উইকিপিডিয়ার বাক্যটি এরকম: “২০০১ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অপারেশন দাবানল প্রতিস্থাপনের জন্য অপারেশন উত্তরণ শুরু করে।” জনসংহতি সমিতির প্রতিবেদন লেখে, “তৎকালীন সরকার” 1 সেপ্টেম্বর 2001 তারিখে ‘অপারেশন উত্তরণ’ জারি করে, যা ‘অপারেশন দাবানল’-এর জায়গা নেয়। প্রতিবেদনটি সরকারের নাম দেয়নি।
কোন সরকারের সময়ে, সে প্রশ্নে উৎসগুলো এরকম। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার ‘Operation Uttaran’ নিবন্ধ বলছে, অভিযানটি চালু করেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সেপ্টেম্বর 2001 সালে, আর অক্টোবর 2001 সালের নির্বাচনে বিএনপি জেতার পর এর পরিসর বাড়ে। জাতিসংঘের 2011 সালের সমীক্ষা আলাদাভাবে বলছে, চুক্তির বিরোধিতাকারী বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট (2001–2006) এই অঞ্চলের সমস্যা “সামরিক উপায়ে” সমাধানের দিকে বেশি ঝুঁকেছিল। তবে কোন সরকার আদেশটি জারি করেছিল, তা কোনো সরকারি নথি দিয়ে যাচাই করা যায়নি।
অন্য একটি সূত্র ভিন্ন সময়ের ইঙ্গিত দেয়। দ্য ডেইলি স্টারের 30 জুলাই 2009 সালের খাগড়াছড়ি প্রতিবেদন লিখেছে, 1977 থেকে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি শান্তিচুক্তি সই পর্যন্ত ‘অপারেশন দাবানল’-এর অংশ ছিল, আর “শান্তিচুক্তির পর” অভিযানের নাম বদলে ‘উত্তরণ’ হয়। এখানে নির্দিষ্ট সাল নেই; “চুক্তির পর” কথাটি 1997–98 না 2001 বোঝায়, তা প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট নয়।
আমাদের আর্কাইভের পুরনো লেখাগুলোতেও সাল একই: মঙ্গল কুমার চাকমা 4 মার্চ 2012 সালের প্রবন্ধে লিখেছেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি-উত্তর কালে ২০০১ সালে ‘অপারেশন দাবানল’-এর পরিবর্তে ‘অপারেশন উত্তরণ’ জারী করা” হয় (পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার)। সন্তু লারমা 29 নভেম্বর 2018 সালের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, উত্তরণ “2001 সালে” চালু হয়।
‘অপারেশন দাবানল’ ছিল 1977 থেকে 1997 পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর বিদ্রোহ-দমন অভিযান, বাংলা উইকিপিডিয়ার হিসাবে। 1997 সালের চুক্তির পর এটি শেষ হয়, আর উৎসগুলোর বর্ণনায় 2001 সালে এর জায়গা নেয় ‘অপারেশন উত্তরণ’। নাম বদলের কারণ বা দুই ব্যবস্থার পার্থক্য নিয়ে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বাংলা উইকিপিডিয়া দাবানলের সময় এই অঞ্চলে আনুমানিক 30,000 থেকে 80,000 নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের কথা লেখে। জাতিসংঘ সমীক্ষা লেখে, 1980 সালে আনুমানিক 30,000 নিয়মিত ও আধা-সামরিক সৈন্য এখানে ছিল, আর একটি হিসাবে সেনাক্যাম্পের সংখ্যা ছিল 500-এর বেশি।
আমাদের আর্কাইভের একটি প্রবন্ধ এই ধারাবাহিকতাকে এক বাক্যে বলেছে: পাহাড়ে “সেনাশাসন ছিলো; অপারেশন দাবানল। এখনো চলে অপারেশন উত্তরণ নামে।” (উপনিবেশিকতার জ্ঞান সৃষ্টি ও জাতিগত পরিচয় দানের রাজনীতি)। এটি লেখকের মত, নথি নয়।
উত্তরণের সময়েও সেনাবাহিনী অন্য নামে আলাদা অভিযান চালিয়েছে। ডেইলি স্টারের 27 জুলাই 2007 সালের খবরে দেখা যায়, জরুরি অবস্থার সময় বান্দরবানে সেনাবাহিনী ‘অপারেশন আলোর সন্ধানে’ নামে একটি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করে। একই খবর ‘দাবানল’ ও ‘উত্তরণ’-কে এলাকায় সেনাবাহিনীর “আগের” দুটি অভিযান বলেছে। খবরটি উত্তরণকে অতীতের অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছে, আর পরের বছরগুলোর সব রাজনৈতিক ও মানবাধিকার দলিল একে চলমান বলে। এই অমিলের কোনো ব্যাখ্যা উৎসে নেই।
এই সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংখ্যার পরিবর্তনের সংখ্যাগুলো আলাদা লেখায় আছে: পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালি জনসংখ্যার অনুপাত, 1941–2022। আর পুরো অঞ্চলের ইতিহাস, জনগোষ্ঠী ও প্রশাসনের সূচি পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব পাতায়।
1997 সালের চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের 17(ক) ধারা বলে, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও ছয়টি স্থায়ী সেনানিবাস বাদে সেনা, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সব অস্থায়ী ক্যাম্প পর্যায়ক্রমে স্থায়ী নিবাসে ফেরত যাবে, আর এজন্য সময়সীমা ঠিক করা হবে। চুক্তিটি 2001 সালের আগের, তাই এতে ‘অপারেশন উত্তরণ’ নাম নেই।
আমাদের আর্কাইভে রাখা চুক্তির পূর্ণ পাঠ (পার্বত্য চুক্তি) থেকে ধারাটি হুবহু:
“১৭। ক) সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে চুক্তি সই ও সম্পাদনের পর এবং জনসংহতি সমিতির সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসার সাথে সাথে সীমন্তরক্ষী বাহিনী (বিডিআর) ও স্থায়ী সেনানিবাস (তিন জেলা সদরে তিনটি এবং আলিকদম, রুমা ও দীঘিনালা) ব্যতীত সামরিক বাহিনী, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সকল অস্থায়ী ক্যাম্প পার্বত্য চট্টগ্রাম হইতে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী নিবাসে ফেরত নেওয়া হইবে এবং এই লক্ষ্যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হইবে।
আইন-শৃংখলা অবনতির ক্ষেত্রে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে এবং এই জাতীয় অন্যান্য কাজে দেশের সকল এলাকার ন্যায় প্রয়োজনীয় যথাযথ আইন ও বিধি অনুসরণে বেসামরিক প্রশাসনের কর্তৃত্বাধীনে সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করা যাইবে। এই ক্ষেত্রে প্রয়োজন বা সময় অনুযায়ী সহায়তা লাভের উদ্দেশ্যে আঞ্চলিক পরিষদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করিতে পারিবেন।
খ) সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীর ক্যাম্প ও সেনানিবাস কর্তৃক পরিত্যক্ত জায়গা-জমি প্রকৃত মালিকের নিকট অথবা পার্বত্য জেলা পরিষদের নিকট হস্তান্তর করা হইবে।”
এই ধারার তিনটি অংশ অপারেশন উত্তরণ নিয়ে বিতর্কে বারবার উদ্ধৃত হয়।
চুক্তির অন্য ধারাগুলোর বিস্তারিত পাঠ ও বাস্তবায়নের হিসাব আলাদা দুটি লেখায় আছে: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997: ধারা ধরে ধরে এবং পার্বত্য চুক্তি 1997: কী ছিল, কতটা হলো, কোথায় আটকে আছে।
অপারেশন উত্তরণের আদেশের পাঠ, তার নম্বর, স্বাক্ষরকারী কর্তৃপক্ষ বা আইনি ভিত্তি কোনো প্রকাশিত নথিতে পাওয়া যায়নি। যাঁরা একে “নির্বাহী আদেশ” বা “প্রশাসনিক আদেশ” বলেন, তাঁরাও আদেশটির কোনো অনুলিপি বা নম্বর উদ্ধৃত করেননি। কোনো আদালতের রায় বা রিট মামলায় এর উল্লেখও পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘ সমীক্ষা যে বাক্যে একে নির্বাহী আদেশ বলেছে, সেখানে পাদটীকায় কোনো সরকারি নথির নাম নেই। অ্যামনেস্টির 2013 সালের প্রতিবেদনেও “প্রশাসনিক আদেশ” কথাটির পাশে সূত্র হিসেবে আদেশটি নয়, অন্য সংস্থার প্রতিবেদন দেওয়া। আইডব্লিউজিআইএ-র 2025 সালের বিবৃতি আরও সতর্ক ভাষা ব্যবহার করেছে: অপারেশন উত্তরণের “সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নির্দেশনায় কথিতভাবে যা আছে” (“allegedly contained in instructions”)। বিবৃতিতে নির্দেশনাগুলোর কোনো অনুলিপি বা সূত্র দেওয়া হয়নি।
তুলনার জন্য: চুক্তি নিজে সেনা মোতায়েনের একটি সাধারণ পথ দেখিয়েছে — “দেশের সকল এলাকার ন্যায় প্রয়োজনীয় যথাযথ আইন ও বিধি অনুসরণে বেসামরিক প্রশাসনের কর্তৃত্বাধীনে”। অপারেশন উত্তরণ এই পথে জারি হয়েছিল কি না, অর্থাৎ এটি বেসামরিক প্রশাসনের অনুরোধে সেনা সহায়তা কি না, সে বিষয়ে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি।
নামটি একটি পদকের নামেও পাওয়া যায়। মেডেলের একটি আন্তর্জাতিক তালিকা (World Medals Index) ও ইংরেজি উইকিপিডিয়া ‘উত্তরণ পদক’ নামে একটি পদকের কথা লেখে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামে “অপারেশন উত্তরণ” অভিযানে অংশ নেওয়া বাহিনীর সদস্যদের দেওয়া হয়। পদকটি প্রবর্তনের গেজেট বা তারিখ পাওয়া যায়নি [যাচাই প্রয়োজন]।
চুক্তির সময় অস্থায়ী ক্যাম্প কয়টি ছিল, সে সংখ্যাতেই সরকার ও জনসংহতি সমিতির হিসাব আলাদা। প্রধানমন্ত্রী 10 ফেব্রুয়ারি 2016 সালে সংসদে বলেন, চুক্তির সময় 232টি অস্থায়ী ক্যাম্প ছিল, যার 119টি প্রত্যাহার হয়েছে। জনসংহতি সমিতি ও আদিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে মোট 500 থেকে 545টি, প্রত্যাহার 66 থেকে 105টি। প্রত্যাহার হওয়া ক্যাম্পের তালিকা সরকার প্রকাশ করেনি।
প্রত্যাহারের প্রশ্নটি অপারেশন উত্তরণ থেকে আলাদা হলেও প্রায় সব দাবিতে দুটো একসাথে আসে — “অপারেশন উত্তরণসহ অস্থায়ী সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার”। তাই সংখ্যাগুলো এখানে সময়ানুক্রমে পাশাপাশি রাখা হলো, যেমন উৎসে আছে।
| তারিখ | কে বলেছে | মোট অস্থায়ী ক্যাম্প | প্রত্যাহার |
|---|---|---|---|
| 29 জুলাই 2009 | আইএসপিআর (বিডিনিউজ২৪-এ প্রকাশিত) | — | চুক্তির পর থেকে 200টি; আরও একটি পূর্ণ ব্রিগেড, তিনটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন ও 35টি ক্যাম্প সেপ্টেম্বর 2009-এর মধ্যে |
| 2011 | জাতিসংঘ সমীক্ষা, জনসংহতি সমিতির বরাতে | 500-এর বেশি | প্রায় 74টি |
| 2011 | জাতিসংঘ সমীক্ষা, সরকারের বরাতে | — | 200টি |
| 2013 | শক্তিপদ ত্রিপুরা, তাক্রুপ্ | পাঁচ শতাধিক | 66টি (সরকারের দাবি “দুই শতাধিক”) |
| জুন 2013 | অ্যামনেস্টি, জনসংহতি সমিতির 2013 সালের প্রতিবেদনের বরাতে | 500 | প্রায় 74টি (সরকারের হিসাবে 200টি) |
| 10 ফেব্রুয়ারি 2016 | প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদে | 232 | 17 বছরে 119টি; বাকিগুলো “কয়েকটি ধাপে” |
| ডিসেম্বর 2021 | জনসংহতি সমিতি, চুক্তির 24তম বার্ষিকী | 500 | 1997–99 সালে 70টি, 2009–13 সালে 35টি; 400-এর বেশি রয়ে গেছে; কোভিড-19 মহামারির সময় 20টির বেশি পুনঃস্থাপিত |
| 2023 | এআইপিপি, কাপেং ও আইডব্লিউজিআইএ, ইউপিআর প্রতিবেদন | 545 | তিন দফায় 101টি; শেষ পাঁচ বছরে একটিও নয় |
| 30 আগস্ট 2026 | হিল ভয়েস, ইউএনপিও সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব প্রসঙ্গে | “400-এর বেশি” এখনো আছে | — |
জাতিসংঘ সমীক্ষা লিখেছে, জনসংহতি সমিতি একাধিকবার অনুরোধ করলেও সরকার প্রত্যাহার হওয়া ক্যাম্পের তালিকা দেয়নি, আর সর্বশেষ প্রত্যাহার হয়েছিল 2009 সালের মাঝামাঝি, যখন 35টি ক্যাম্প বন্ধ হয়। সমীক্ষা আরও লিখেছে, “অভিযোগ আছে” এর কয়েকটি আবার স্থাপিত হয়েছে বা অন্য বাহিনী দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
কোন হিসাবে কোন বাহিনীর ক্যাম্প ধরা হয়েছে, তা-ও উৎসভেদে আলাদা লেখা। প্রধানমন্ত্রীর সংসদ-উত্তর বলেছে “অস্থায়ী সেনাক্যাম্প”। জনসংহতি সমিতির “Militarisation in CHT” পাতা সেনা, বিজিবি, আনসার, এপিবিএন ও ভিডিপির “545-এর বেশি” ক্যাম্পের কথা লেখে; সমিতির 2021 সালের প্রতিবেদন “সেনা, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর” 400-এর বেশি ক্যাম্পের কথা। দুই পক্ষ একই তালিকা থেকে গুনছে কি না, যাচাই করা যায়নি।
সরকারের প্রকাশিত কোনো বক্তব্যে ‘অপারেশন উত্তরণ’ নামটি পাওয়া যায়নি। সরকারের অবস্থান পাওয়া যায় ক্যাম্প প্রত্যাহার ও চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে বক্তব্যে: 2009 সালে আইএসপিআর, 2011 সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন, 2016 সালে প্রধানমন্ত্রী সংসদে, আর 2023 সালে জাতিসংঘের ইউপিআর-এ জমা দেওয়া জাতীয় প্রতিবেদন।
29 জুলাই 2009 আইএসপিআর-এর বিবৃতি (বিডিনিউজ২৪-এ প্রকাশিত) জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে একটি পূর্ণ ব্রিগেড — তিনটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন ও 35টি নিরাপত্তা ক্যাম্প — প্রত্যাহার শুরু হচ্ছে, যা সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। বিবৃতির ভাষায় এটি চুক্তির পর এলাকা থেকে “সবচেয়ে বড় সেনা প্রত্যাহার”। সরকার আশা করে পাহাড়ের মানুষ একে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের একটি মাইলফলক হিসেবে দেখবেন, আর বিবৃতি বলে, সরকার চুক্তি “পুরোপুরি বাস্তবায়নে অত্যন্ত আন্তরিক ও অঙ্গীকারবদ্ধ”। একই বিবৃতি জানায়, চুক্তির পর থেকে পর্যায়ক্রমে 200টি ক্যাম্প প্রত্যাহার হয়েছে। বিবৃতিতে উত্তরণের উল্লেখ নেই।
জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের দশম অধিবেশনে, 25 মে 2011, বাংলাদেশের প্রতিনিধি Iqbal Ahmed জাতিসংঘ সমীক্ষার জবাব দেন। জাতিসংঘের প্রেস বিজ্ঞপ্তি HR/5062 অনুযায়ী তিনি বলেন, সমীক্ষার বিষয়বস্তু ও তৈরির পদ্ধতি নিয়ে সরকারের “গুরুতর উদ্বেগ” আছে; বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠী নেই; আর চুক্তিটি “পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রশাসন ও শাসনের মান উন্নয়নের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা”, যার “আদিবাসী বিষয়ের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই”। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলোচনার কোনো এখতিয়ার (locus standi) ফোরামের নেই।
এরপর তিনি সরকারের বাস্তবায়িত পদক্ষেপের তালিকা দেন: 1998 সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন; বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের 32টি বিষয়ের মধ্যে গড়ে 18টি পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তর; চতুর্থ ভূমি কমিশনের কাজ; ত্রিপুরা থেকে ফেরা 12,222টি পরিবারের পুনর্বাসন; আত্মসমর্পণকারী শান্তিবাহিনীর 705 জন সদস্যকে পুলিশে নিয়োগ। প্রেস বিজ্ঞপ্তির সারাংশে তাঁর বক্তব্যে সেনা উপস্থিতি বা উত্তরণের কোনো উল্লেখ নেই। অ্যামনেস্টি 2013 সালের প্রতিবেদনে সরকারের এই প্রতিক্রিয়ার সারকথা লিখেছে: “বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই”, তাই প্রতিবেদনটি ফোরামের এখতিয়ারের বাইরে। রাষ্ট্রের এই পরিভাষা-অবস্থানের পটভূমি আছে রাষ্ট্র কোন শব্দ ব্যবহার করে লেখায়।
10 ফেব্রুয়ারি 2016, জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে রাঙামাটির স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদারের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন (প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী), চুক্তির সময় 232টি অস্থায়ী সেনাক্যাম্প ছিল, যার 119টি গত 17 বছরে প্রত্যাহার হয়েছে, বাকিগুলো কয়েক ধাপে প্রত্যাহার হবে। তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী সেনাবাহিনী ছয়টি নির্দিষ্ট গ্যারিসনে — দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, রুমা ও আলীকদম — ফিরবে; এজন্য গ্যারিসনগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন চলছে, আর রুমা গ্যারিসনের 997 একর ভূমি অধিগ্রহণ “এখনো প্রক্রিয়াধীন”। তাঁর হিসাবে চুক্তির 72টি ধারার 48টি সম্পূর্ণ, 15টি আংশিক বাস্তবায়িত, 9টি বাস্তবায়নাধীন।
একই উত্তরে তিনি বলেন: “এ সমস্যাকে আমরা রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে দেখেছি এবং বলেছি মিলিটারির মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, আলোচনা করে সমাধান করতে হবে।” প্রতিবেদনে উত্তরণের কোনো উল্লেখ নেই।
প্রায় তিন মাস পর, ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে (প্রথম আলো, 8 মে 2016) প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাক্যাম্পের “অধিকাংশই তুলে নেওয়া হয়েছে”, আর “চারটি জায়গায় কেবল চারটি ব্রিগেড থাকবে”। সংসদে বলা “ছয়টি গ্যারিসন” আর এখানে বলা “চারটি ব্রিগেড” — দুটি সংখ্যার সম্পর্ক প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়নি।
সন্তু লারমার 29 নভেম্বর 2018 সালের সংবাদ সম্মেলনের বিবরণ (জনসংহতি সমিতির ওয়েবসাইটে) অনুযায়ী, সরকারের তখনকার দাবি ছিল 72টির মধ্যে 48টি ধারা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত এবং চুক্তির “80%” বাস্তবায়িত। প্রথম আলোর 16 মে 2019 সালের প্রতিবেদনে চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক বলেন, সরকার ইতিমধ্যে অনেক সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করেছে; তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। দুজনের কেউই প্রতিবেদনে উত্তরণ প্রসঙ্গে কিছু বলেননি।
16–17 অক্টোবর 2019 রাঙামাটি ও রামগড় সফরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব জায়গা থেকে সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার হয়েছে, সেখানে পুলিশ ও বিজিবি ক্যাম্প বসানো হয়েছে, আর বিজিবি ও পুলিশের জন্য হেলিকপ্টার কেনা হবে। এই উদ্ধৃতি পাওয়া যায় জনসংহতি সমিতির 26 অক্টোবর 2019 সালের বিবৃতিতে, যা সফরের সমালোচনা করে লেখা; সফর নিয়ে সরকারের নিজস্ব কোনো বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি।
নভেম্বর 2023 সালের ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ-র জন্য সরকারের জাতীয় প্রতিবেদন (A/HRC/WG.6/44/BGD/1) বলে, চুক্তির 72টি ধারার 65টি বাস্তবায়িত, 3টি আংশিক, 4টি বাস্তবায়নাধীন। প্রতিবেদন অনুযায়ী 33টি হস্তান্তরযোগ্য বিষয়ের মধ্যে রাঙামাটি জেলা পরিষদে 30টি, খাগড়াছড়িতে 29টি, বান্দরবানে 28টি হস্তান্তর হয়েছে। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রতিবেদনের একমাত্র বাক্য: অঞ্চলে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং অবৈধ অস্ত্র পাচার, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য “উদ্বেগের বিষয়”। প্রতিবেদনে ক্যাম্প প্রত্যাহার বা উত্তরণের কোনো উল্লেখ নেই।
সেনাবাহিনী বা আইএসপিআর-এর এমন কোনো প্রকাশিত বিবৃতি পাওয়া যায়নি যেখানে ‘অপারেশন উত্তরণ’ নাম ধরে এর উদ্দেশ্য বা আওতা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে সেনাবাহিনীর যে বক্তব্যগুলো প্রকাশিত, সেগুলো নিরাপত্তা, শান্তিরক্ষা ও চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তার ভাষায়।
অক্টোবর 2019: জনসংহতি সমিতির বিবৃতি অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময় 24 পদাতিক ডিভিশনের জিওসি অপারেশন উত্তরণের প্রসঙ্গ টেনে চুক্তি বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর সহায়তা দেওয়ার কথা বলেন এবং উত্তরণ জারির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। জিওসির বক্তব্যের হুবহু পাঠ সমিতির বিবৃতিতে নেই, আর কোনো সংবাদমাধ্যমে এই বক্তব্যের স্বাধীন বিবরণ পাওয়া যায়নি [যাচাই প্রয়োজন]। প্রকাশিত উৎসগুলোর মধ্যে এটিই একমাত্র বিবরণ যেখানে একজন সেনা কর্মকর্তা উত্তরণকে চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন বলে উল্লেখ আছে।
জুলাই 2007: বান্দরবানে ‘অপারেশন আলোর সন্ধানে’ শুরুর সময় (ডেইলি স্টার, 27 জুলাই 2007) সেনা কর্মকর্তারা বলেন, এই অভিযান সামরিক কার্যক্রমের চেয়ে সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করায় বেশি মনোযোগ দেবে। বান্দরবান অঞ্চলের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বলেন, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া অপরাধ নির্মূল সম্ভব নয়।
সেপ্টেম্বর 2025: খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় 27–28 সেপ্টেম্বরের সহিংসতা নিয়ে আইএসপিআর-এর বিবৃতি (প্রথম আলো ইংরেজি, 29 সেপ্টেম্বর 2025) বলে, সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে “সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে” প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় “দৃঢ়”, আর পরিস্থিতিতে তারা “চরম ধৈর্য, সংযম ও মানবিকতা” নিয়ে বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থেকেছে। বিবৃতিটি সহিংসতার জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করে। বিবৃতিতে উত্তরণের উল্লেখ নেই।
ইংরেজি উইকিপিডিয়ার ‘Operation Uttaran’ নিবন্ধ লেখে, সরকার ও সেনাবাহিনী এই সময়ের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রশংসা করেছে, আর জাতিসংঘ সমীক্ষা উল্লেখ করেছে সড়ক নির্মাণ ও সমীক্ষার ভাষায় “তথাকথিত শান্তকরণ কর্মসূচি”-র অধীনে খাদ্য রেশন বিতরণে সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথা। অ্যামনেস্টি ও জাতিসংঘ সমীক্ষা দুটোই উদ্ধৃত করেছে যে সামরিক কর্মকর্তারা নিজেরাই সেনাবাহিনীর এক-তৃতীয়াংশ এই অঞ্চলে মোতায়েনের কথা বলেছেন; কোন কর্মকর্তা, কবে — তা কোনো উৎসে নেই।
অপারেশন উত্তরণ প্রত্যাহারের দাবি প্রথম যে প্রকাশিত খবরে পাওয়া যায় তা ডিসেম্বর 2003 সালের, আর তখন থেকে 2026 পর্যন্ত দাবিটি প্রায় অপরিবর্তিত: অস্থায়ী ক্যাম্পের সাথে উত্তরণও প্রত্যাহার করতে হবে, আর ক্যাম্প প্রত্যাহারের সময়সীমা ঘোষণা করতে হবে। দাবিটি তুলেছে জনসংহতি সমিতি, ইউপিডিএফ-ঘনিষ্ঠ সংগঠন এবং আদিবাসী অধিকারকর্মীরা।
সময়ানুক্রমে:
মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার সময় থেকে জনসংহতি সমিতির রাজনৈতিক অবস্থানের পটভূমি আছে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার জীবনী-তে।
আন্তর্জাতিক নথিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিস্তারিত বক্তব্য জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের 2011 সালের সমীক্ষায় (E/C.19/2011/6), যা উত্তরণকে বেসামরিক বিষয়ে সেনা হস্তক্ষেপের অধিকার দেওয়া নির্বাহী আদেশ বলে। এরপর অ্যামনেস্টি (2013), পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন (2009, 2024), আইডব্লিউজিআইএ (2025) একই দাবি তুলেছে: আদেশটি প্রত্যাহার।
ফোরামের নবম অধিবেশনে নিযুক্ত বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার Lars-Anders Baer সেপ্টেম্বর 2010 সালে বাংলাদেশ সফর করে সমীক্ষাটি তৈরি করেন। এর 51 নম্বর অনুচ্ছেদ বলে, চুক্তি অনুযায়ী সেনাবাহিনীর ক্ষমতা কমার বদলে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো হয়েছে, যার মধ্যে আছে “অপারেশন উত্তরণ বহাল রাখা”। 50 নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, দেশের মোট আয়তনের এক-দশমাংশ এই অঞ্চলে সেনাবাহিনীর এক-তৃতীয়াংশ মোতায়েন — সমীক্ষার ভাষায় এটি যেকোনো মানদণ্ডে “অতিরিক্ত”, বিশেষত এমন দেশে যে যুদ্ধে নেই এবং যেখানে চলমান বিদ্রোহ পরিস্থিতি নেই।
সমীক্ষার সুপারিশ 53(গ): চুক্তি অনুযায়ী অস্থায়ী ক্যাম্প পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার। সুপারিশ 53(ঘ): উন্নয়ন প্রকল্পসহ যেসব কাজ বেসামরিক সংস্থার, সেগুলো বেসামরিক প্রশাসন ও চুক্তির অধীনে গঠিত প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর; ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি, সাধারণ আইনশৃঙ্খলা, সড়ক ও নৌপথের চেকপোস্টে সেনা সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে নির্দেশনা জারি। সমীক্ষার সুপারিশ-তালিকায় উত্তরণ নাম ধরে প্রত্যাহারের কথা নেই; নামটি আছে কেবল 51 নম্বর অনুচ্ছেদের বর্ণনায়। সমীক্ষায় সরকারের পক্ষে যে প্রতিক্রিয়া এসেছিল, তা উপরের “সরকার কী বলেছে” অংশে আছে।
Pushed to the Edge প্রতিবেদন বলে, চুক্তির 15 বছর পরেও ক্যাম্প প্রত্যাহার “দূরের লক্ষ্য”, আর পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা “এখনো অনেকটাই সেনা নিয়ন্ত্রণে”, একটি প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে যার নাম “অপারেশন উত্তরণ”। প্রতিবেদনটি লিখেছে, গ্রামবাসী ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে প্রচলিত ধারণা হলো “সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রাম চালায়”। অ্যামনেস্টি এই কথাগুলো সাক্ষাৎকার থেকে নেওয়া ধারণা হিসেবেই লিখেছে।
সার্ভাইভাল ইন্টারন্যাশনালের 5 মার্চ 2009 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন “অপারেশন উত্তরণ নামে পরিচিত চলমান সামরিক অভিযান” নিয়ে উদ্বেগ জানায়, পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার ও বেসামরিক দায়িত্ব বেসামরিক সংস্থার হাতে দেওয়ার আহ্বান জানায়। 8 অক্টোবর 2024 সালে এশিয়া ইন্ডিজেনাস পিপলস প্যাক্ট, আইডব্লিউজিআইএ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের যৌথ বিবৃতি (টিবিএস, 9 অক্টোবর 2024) “নির্বাহী আদেশ ‘অপারেশন উত্তরণ’ প্রত্যাহার” এবং চুক্তিতে উল্লিখিত ছয়টি স্থায়ী ঘাঁটি ছাড়া সব অস্থায়ী ক্যাম্প সরানোর দাবি জানায়।
খাগড়াছড়ি ও গুইমারার সেপ্টেম্বর 2025 সালের ঘটনার পর আইডব্লিউজিআইএ-র জরুরি বিবৃতি “অপারেশন উত্তরণ নামে পরিচিত নির্বাহী আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার” করতে বলে। বিবৃতির পাদটীকা আদেশটিকে বর্ণনা করে 2001 সালে চালু হওয়া একটি নির্বাহী নির্দেশনা হিসেবে, যা তাদের ভাষায় বেসামরিক প্রশাসনকে দুর্বল করেছে এবং সামরিক কর্তৃপক্ষকে আটক ও চলাচল সীমিত করার ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে। একই পাদটীকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের 1 নভেম্বর 2018 তারিখের একটি স্মারকের উল্লেখ আছে। এই সহিংসতা নিয়ে আইএসপিআর-এর বিবৃতি, যা আলাদা ঘটনাক্রম বলে, উপরের “সেনাবাহিনী নিজে কী বলেছে” অংশে আছে।
2022 সালে বিতর্কটি নতুন রূপ নেয়: প্রত্যাহার হওয়া সেনাক্যাম্পের জায়গায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ক্যাম্প বসানো চুক্তিসম্মত কি না। রাঙামাটির তৎকালীন সংসদ সদস্য সংসদে বলেন চুক্তিতে এতে বাধা নেই; জনসংহতি সমিতি বলে এটি 17(খ) ধারার লঙ্ঘন।
জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমার নিবন্ধ (দ্য ডেইলি স্টার, 1 জুলাই 2022) অনুযায়ী ঘটনাক্রম এরকম: 13 এপ্রিল 2022 এপিবিএন সদর দপ্তর থেকে প্রত্যাহার হওয়া একটি সেনাক্যাম্পের জায়গায় এপিবিএন ক্যাম্প স্থাপনের নির্দেশ যায়; জায়গাগুলোতে “নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য নির্ধারিত স্থান” লেখা সাইনবোর্ড বসে; 25 মে রাঙামাটিতে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সভা হয়; 26 মে রাঙামাটিতে এপিবিএন আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন হয়। 16 জুন 2022 বাজেট আলোচনায় রাঙামাটির তৎকালীন সংসদ সদস্য সংসদে বলেন, প্রত্যাহার হওয়া ক্যাম্পের জায়গায় এপিবিএন মোতায়েনে চুক্তিতে কোনো বাধা নেই, আর চুক্তিতে “অপ্রয়োজনীয় ক্যাম্প” প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
নিবন্ধকারের জবাব: চুক্তির 17(খ) ধারা বলে পরিত্যক্ত জায়গা-জমি প্রকৃত মালিক বা পার্বত্য জেলা পরিষদকে ফেরত দিতে হবে; জমি ফেরত দেওয়া হয়নি; ক্যাম্পের জায়গায় বসবাসরত পরিবারগুলো চলে যাওয়ার হুমকি পাচ্ছে। তিনি লেখেন, 2018 সালে গঠিত চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম চারটি সভায় অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার ও পার্বত্য জেলা পুলিশ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিন্তু পরিত্যক্ত সেনাক্যাম্পে সশস্ত্র পুলিশ ক্যাম্প বসানোর সিদ্ধান্ত হয়নি। এই সভাগুলোর কার্যবিবরণী প্রকাশিত পাওয়া যায়নি। পার্বত্য জেলা পরিষদের গঠন ও ক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আছে পার্বত্য জেলা পরিষদে আসন ভাগ হয় কীভাবে লেখায়।
এই নিবন্ধে উত্তরণ এসেছে চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের যেসব বিধান বাস্তবায়িত হয়নি, তার তালিকায়, “অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার, অপারেশন উত্তরণসহ” হিসেবে। এখানেও উত্তরণের কোনো সংজ্ঞা বা আদেশের সূত্র নেই।
2024 থেকে 2026 সালের মধ্যে উত্তরণ প্রত্যাহারের দাবি এসেছে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর বিবৃতিতে — অক্টোবর 2024, অক্টোবর 2025, আগস্ট 2026 ও সেপ্টেম্বর 2026। একই সময়ে সরকারের সর্বশেষ নথি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের 10 সেপ্টেম্বর 2026 তারিখের তিনটি প্রজ্ঞাপন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নীতিতে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সমন্বয়কের ভূমিকা দিয়েছে; প্রজ্ঞাপনের প্রকাশিত বিবরণে উত্তরণের নাম নেই।
হিল ভয়েস (30 আগস্ট 2026) জানায়, নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে 29–30 আগস্ট 2026 অনুষ্ঠিত ইউএনপিও-র একবিংশ সাধারণ পরিষদে জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধির উপস্থাপিত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। প্রস্তাবটি “‘অপারেশন উত্তরণ’-এর অধীনে প্রদত্ত কার্যত সামরিক শাসনসহ অস্থায়ী ক্যাম্প” প্রত্যাহারের দাবি জানায়।
আজকের পত্রিকার 11 সেপ্টেম্বর 2026 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রজ্ঞাপনগুলো তিনটি কমিটি গঠন করেছে:
| কমিটি | সভাপতি | প্রধান সমন্বয়ক / সদস্যসচিব | কাজ (প্রতিবেদন অনুযায়ী) |
|---|---|---|---|
| পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি | প্রধানমন্ত্রী | প্রধান সমন্বয়ক: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা; সদস্যসচিব: ডিজিএফআই মহাপরিচালক | অগ্রাধিকার নির্ধারণ, আন্তসংস্থা বাস্তবায়ন তদারকি, জাতীয় কর্মকৌশল চূড়ান্ত করা |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি | স্বরাষ্ট্রসচিব | প্রধান সমন্বয়ক: ডিজিএফআই মহাপরিচালক | মন্ত্রণালয় ও সংস্থার করণীয় নির্ধারণ; তিন মাসের মধ্যে জাতীয় কর্মকৌশলের খসড়া |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি | চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভাপতি | সাচিবিক সহায়তা: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় | দুই মাসের মধ্যে নির্বাহী কমিটিকে সুপারিশ |
প্রতিবেদন অনুযায়ী কমিটিগুলোর কাজের মধ্যে আছে “সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন” এবং চুক্তির “শর্ত ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা”। জনসংহতি সমিতি 27 সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতে বলে, কমিটিগুলো একতরফাভাবে গঠিত, চুক্তিকে পাশ কাটিয়েছে এবং সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা দিয়েছে। নর্থইস্ট নাও-র (23 সেপ্টেম্বর 2026) প্রতিবেদন অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন ও আইডব্লিউজিআইএ কমিটিগুলো স্থগিত রাখা, ডিজিএফআইসহ গোয়েন্দা সংস্থাকে সমন্বয়কের ভূমিকা থেকে সরানো এবং অপারেশন উত্তরণ প্রত্যাহারের দাবি জানায়। এই বিবৃতিগুলোর বিষয়ে সরকারের কোনো জবাব প্রকাশিত হয়নি।
প্রজ্ঞাপনের মূল পাঠ এখানে উদ্ধৃত হয়নি; ওপরের বিবরণ সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে। মূল প্রজ্ঞাপনে উত্তরণ বা অস্থায়ী ক্যাম্প সম্পর্কে কিছু আছে কি না, তা মূল পাঠ মিলিয়ে দেখা দরকার [যাচাই প্রয়োজন]।
সংক্ষেপে: অপারেশন উত্তরণের নাম আছে জাতিসংঘ সমীক্ষা, অ্যামনেস্টি প্রতিবেদন, আইডব্লিউজিআইএ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের বিবৃতি এবং জনসংহতি সমিতির প্রায় সব দলিলে। নাম নেই চুক্তিতে (যা আগের), সংসদে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরে, জাতিসংঘে সরকারের বক্তব্যে, 2023 সালের জাতীয় প্রতিবেদনে ও আইএসপিআর-এর বিবৃতিতে। আদেশটি নিজে প্রকাশিত নয়।
| নথি | প্রকাশিত? | উত্তরণের নাম আছে? |
|---|---|---|
| অপারেশন উত্তরণ জারির আদেশ (2001) | না — পাঠ, নম্বর, স্বাক্ষরকারী জানা যায়নি | — |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, 2 ডিসেম্বর 1997 | হ্যাঁ | না (চুক্তিটি আগের); ক্যাম্প প্রত্যাহারের 17 নম্বর ধারা আছে |
| আইএসপিআর বিবৃতি, 29 জুলাই 2009 | সংবাদমাধ্যমে | না |
| জাতিসংঘ সমীক্ষা E/C.19/2011/6 | হ্যাঁ | হ্যাঁ — “নির্বাহী আদেশ” |
| জাতিসংঘে বাংলাদেশের বক্তব্য, 25 মে 2011 | প্রেস বিজ্ঞপ্তির সারাংশে | সারাংশে না |
| অ্যামনেস্টি, Pushed to the Edge, 2013 | হ্যাঁ | হ্যাঁ — “প্রশাসনিক আদেশ” |
| সংসদে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর, 10 ফেব্রুয়ারি 2016 | সংবাদমাধ্যমে; সংসদের কার্যবিবরণী মিলিয়ে দেখা যায়নি | প্রতিবেদনে না |
| চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির সভার কার্যবিবরণী, 2018– | না | জানা যায়নি |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্মারক, 1 নভেম্বর 2018 | পাঠ পাওয়া যায়নি; আইডব্লিউজিআইএ উল্লেখ করেছে | জানা যায়নি |
| এপিবিএন সদর দপ্তরের নির্দেশ, 13 এপ্রিল 2022 | না; ডেইলি স্টারে প্রকাশিত নিবন্ধে উল্লেখ | জানা যায়নি |
| ইউপিআর জাতীয় প্রতিবেদন A/HRC/WG.6/44/BGD/1, 2023 | হ্যাঁ | না |
| আইএসপিআর বিবৃতি, 28 সেপ্টেম্বর 2025 | সংবাদমাধ্যমে | না |
| মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তিন প্রজ্ঞাপন, 10 সেপ্টেম্বর 2026 | গেজেটে প্রকাশিত বলে খবর; মূল পাঠ যাচাই করা যায়নি | প্রকাশিত বিবরণে না |
অপারেশন উত্তরণ পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ভূমিকা-সংক্রান্ত একটি ব্যবস্থার নাম, যা 2001 সালে ‘অপারেশন দাবানল’-এর জায়গা নেয়। জাতিসংঘের 2011 সালের সমীক্ষা একে বেসামরিক বিষয়ে সেনা হস্তক্ষেপের অধিকার দেওয়া “নির্বাহী আদেশ” বলেছে, অ্যামনেস্টি 2013 সালে “প্রশাসনিক আদেশ”। সরকার এর কোনো সংজ্ঞা বা পাঠ প্রকাশ করেনি।
জনসংহতি সমিতির ডিসেম্বর 2021 সালের প্রতিবেদন ও বাংলা উইকিপিডিয়া তারিখ লেখে 1 সেপ্টেম্বর 2001। আইডব্লিউজিআইএ, যৌথ ইউপিআর প্রতিবেদন, সন্তু লারমার 2018 সালের বক্তব্য ও আমাদের আর্কাইভের 2012–2013 সালের প্রবন্ধগুলো শুধু সাল লেখে, 2001। তারিখ দেওয়া কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন বা আইএসপিআর বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
বাংলা উইকিপিডিয়ার হিসাবে অপারেশন দাবানল ছিল 1977 থেকে 1997 পর্যন্ত বিদ্রোহ-দমন অভিযান, যা 1997 সালের চুক্তিতে শেষ হয়। উত্তরণ চুক্তির পরের ব্যবস্থা, 2001 থেকে। ডেইলি স্টারের 2009 সালের একটি প্রতিবেদন একে দাবানলেরই নতুন নাম বলেছে। দুই ব্যবস্থার পার্থক্য নিয়ে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি।
না। চুক্তি সই হয় 2 ডিসেম্বর 1997, উত্তরণ চালু হয় 2001 সালে, তাই চুক্তিতে নামটি নেই। চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের 17(ক) ধারা বলে, বিডিআর ও ছয়টি স্থায়ী সেনানিবাস বাদে সেনা, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সব অস্থায়ী ক্যাম্প পর্যায়ক্রমে স্থায়ী নিবাসে ফিরবে, সময়সীমা নির্ধারণ করে। উত্তরণের সমালোচকেরা এই ধারাটিই উদ্ধৃত করেন।
চুক্তির 17(ক) ধারা অনুযায়ী তিন জেলা সদরে তিনটি — খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান — এবং আলীকদম, রুমা ও দীঘিনালায় তিনটি, মোট ছয়টি স্থায়ী সেনানিবাস থাকবে; সীমান্তরক্ষী বাহিনীও প্রত্যাহারের আওতার বাইরে। প্রধানমন্ত্রী 10 ফেব্রুয়ারি 2016 সালে সংসদে একই ছয়টি গ্যারিসনের নাম বলেন এবং জানান রুমা গ্যারিসনের 997 একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
হিসাব উৎসভেদে আলাদা। প্রধানমন্ত্রী 10 ফেব্রুয়ারি 2016 সালে সংসদে বলেন, চুক্তির সময়ের 232টি অস্থায়ী সেনাক্যাম্পের 119টি প্রত্যাহার হয়েছে। আইএসপিআর 2009 সালে 200টির কথা বলেছিল। জনসংহতি সমিতি 2021 সালে বলে 500টির মধ্যে 105টি; এআইপিপি, কাপেং ও আইডব্লিউজিআইএ 2023 সালে বলে 545টির মধ্যে 101টি।
নাম ধরে কোনো প্রকাশিত সরকারি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর 2016 সালের উত্তর, জাতিসংঘে 2011 সালের বক্তব্য, 2009 ও 2025 সালের আইএসপিআর বিবৃতি এবং 2023 সালের ইউপিআর জাতীয় প্রতিবেদন — কোনোটির প্রকাশিত পাঠ বা বিবরণে উত্তরণের উল্লেখ নেই। এগুলো ক্যাম্প প্রত্যাহার, চুক্তি বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলে।
না। আদেশের পাঠ, নম্বর, তারিখসহ জারির নথি বা স্বাক্ষরকারী কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি। জাতিসংঘ সমীক্ষা ও অ্যামনেস্টি একে আদেশ বললেও কেউই আদেশটির অনুলিপি উদ্ধৃত করেনি। আইডব্লিউজিআইএ 2025 সালে এর নির্দেশনার বিষয়বস্তুকে “কথিত” বলেছে। কোনো আদালতের রায়ে এর উল্লেখও পাওয়া যায়নি।
জনসংহতি সমিতির দাবি, সময়সীমা ঘোষণা করে সব অস্থায়ী ক্যাম্পের সাথে অপারেশন উত্তরণও প্রত্যাহার করতে হবে। সন্তু লারমা দাবিটি প্রকাশ্যে তোলেন অন্তত 3 ডিসেম্বর 2003 সালে, পরে জানুয়ারি 2018 সালে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া আট দফায়ও। সমিতির ভাষায় উত্তরণ “কার্যত সামরিক শাসন”, যার মাধ্যমে সেনাবাহিনী প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করছে।
জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের 18 ফেব্রুয়ারি 2011 তারিখের সমীক্ষা (E/C.19/2011/6) বলে, চুক্তির পর সেনা নিয়ন্ত্রণ কমার বদলে জোরালো হয়েছে, যার মধ্যে আছে “অপারেশন উত্তরণ” বহাল রাখা — একটি নির্বাহী আদেশ, যা সেনাবাহিনীকে বেসামরিক বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার দেয়। বাংলাদেশ 25 মে 2011 সালে বলে, ফোরামের এ বিষয়ে আলোচনার এখতিয়ার নেই।
ডেইলি স্টারে প্রকাশিত জনসংহতি সমিতির নেতার নিবন্ধ অনুযায়ী 13 এপ্রিল 2022 প্রত্যাহার হওয়া সেনাক্যাম্পের জায়গায় এপিবিএন ক্যাম্প বসানোর নির্দেশ যায়। 16 জুন 2022 রাঙামাটির তৎকালীন সংসদ সদস্য সংসদে বলেন চুক্তিতে এতে বাধা নেই। সমিতি বলে, চুক্তির 17(খ) অনুযায়ী পরিত্যক্ত জমি মালিক বা জেলা পরিষদকে ফেরত দিতে হবে।
প্রকাশিত সংবাদ-বিবরণে নেই। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ 10 সেপ্টেম্বর 2026 পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক কমিটি গঠন করে; জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ও নির্বাহী কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ডিজিএফআই মহাপরিচালক। পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন ও আইডব্লিউজিআইএ এর প্রতিক্রিয়ায় আবার উত্তরণ প্রত্যাহারের দাবি তোলে।
আমাদের আর্কাইভ
সরকারি ও আন্তঃসরকারি নথি
মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংগঠন
জনসংহতি সমিতির দলিল
সংবাদ ও মতামত
বিশ্বকোষ ও অন্যান্য
সর্বশেষ হালনাগাদ: 17 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, পার্বত্য চুক্তি, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন, মানবাধিকার
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।