Last updated Nov 4th, 2026
0

পার্বত্য চুক্তির কোন ধারা বাস্তবায়িত হয়নি — এই প্রশ্নে সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) তালিকা মেলে না, কিন্তু তিনটি বিষয়ে দুই পক্ষের নথিই একই কথা বলে: জেলা পরিষদের হাতে ভূমির কর্তৃত্ব, স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা, আর এসআই ও তার নিচের পুলিশ নিয়োগ। তিনটিই 1998 সালে আইনে ঢুকেছে, তিনটিরই প্রয়োগ শুরু হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি-প্রতিবেদন এগুলোকে “আংশিক বাস্তবায়িত” বা “চলমান” বলে; জেএসএস বলে বাস্তবায়িত হয়নি।
2 ডিসেম্বর 2023 প্রথম আলোর প্রতিবেদনে পার্থ শঙ্কর সাহা ঠিক এই তিনটি বিষয়ের নাম ধরে লিখেছিলেন — ভূমি জেলা পরিষদে ন্যস্ত করা, স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা, আর জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে এসআই থেকে নিচের পুলিশ নিয়োগ — এবং তারপর এক বাক্যে: “কিন্তু এই তিনটি বিষয়ের একটিও সমাধান হয়নি।” এই লেখা সেই বাক্যটিকে নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে: চুক্তির কোন খণ্ডের কোন দফা, তারপর সংসদ কোন আইনে কী লিখল, তারপর সরকারের প্রতিবেদন ও জেএসএসের প্রতিবেদন কোন তারিখে কী বলেছে — তিনটি বিষয় পাশাপাশি।
প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত আমাদের আলাদা লেখায় আছে; এখানে সেগুলো আবার বলা হয়নি, লিংক দেওয়া আছে। চুক্তির পূর্ণ পাঠ আমাদের আর্কাইভে “পার্বত্য চুক্তি” শিরোনামে রাখা আছে; এই লেখার সব উদ্ধৃতি সেখান থেকে এবং মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রাখা চুক্তির পিডিএফ থেকে মিলিয়ে নেওয়া।
সূচিপত্র
তিনটি বিষয়ের প্রতিটির জন্য চুক্তির খ খণ্ডে নির্দিষ্ট দফা আছে, প্রতিটি দফা 1998 সালে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনে বসানো হয়েছে, আর প্রতিটির ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের নিজের প্রতিবেদনেই “আংশিক” বা “চলমান” লেখা। নিচের ছকে দফা, আইন ও দুই পক্ষের সর্বশেষ পাওয়া বক্তব্য পাশাপাশি রাখা হলো।
| বিষয় | চুক্তির দফা | আইনে কোথায় | মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন (পিডিএফ, অক্টোবর 2014) | জেএসএসের প্রতিবেদন (ডিসেম্বর 2023) |
|---|---|---|---|---|
| ভূমি কর্তৃত্ব | খ-26 (পূর্বানুমোদন, অধিগ্রহণে সম্মতি, ভূমি-কর্মচারীদের তত্ত্বাবধান); খ-27 (ভূমি উন্নয়ন কর); খ-34(ক) “ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা” | জেলা পরিষদ আইনের 64 ও 65 ধারা (1998 সনের 9, 10 ও 11 নং আইন); প্রথম তফসিল | খ-26 “চলমান”; খ-27 “আংশিক বাস্তবায়িত” — “বিধানের প্রয়োগ হয়নি”; খ-34 “আংশিক বাস্তবায়িত” | বিধান আইনে আছে কিন্তু কার্যকর নয়; ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা হস্তান্তর হয়নি |
| ভোটার তালিকা | খ-3 (অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দার সংজ্ঞা); খ-9 (ভোটার হওয়ার যোগ্যতা); খ-10 (নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ) | ধারা 2(কক), 17, 18, 20 | খ-9 “আংশিক বাস্তবায়িত” — স্থায়ী বাসিন্দা নির্ধারণ হয়নি; অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত মেলেনি | আইনে আছে, কার্যকর নয়; 2000 সালের খসড়া ভোটার তালিকা বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি |
| পুলিশ নিয়োগ | খ-24 (এসআই ও নিচের নিয়োগ, বদলি, শাস্তি); খ-34(খ) “পুলিশ (স্থানীয়)” | ধারা 62 ও 63; প্রথম তফসিল | খ-24 “আংশিক বাস্তবায়িত” — একমাত্র উল্লিখিত পদক্ষেপ উচ্চতার শর্ত শিথিল | কার্যকর করার কোনো পদক্ষেপ নেই; পার্বত্য জেলা পুলিশ গঠিত হয়নি |
ছকের দুটি কলামের মাঝে নয় বছরের ব্যবধান। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের “শান্তি চুক্তি ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি” পাতাটি শেষ হালনাগাদ হয়েছে 1 মে 2025, কিন্তু সেখানে রাখা অগ্রগতির পিডিএফটির তৈরির তারিখ 30 অক্টোবর 2014, আর এর ভেতরে উল্লিখিত সবচেয়ে পরের ঘটনা 27 মে 2013-এর মন্ত্রিসভা বৈঠক। দফা ধরে ধরে সরকারি অবস্থার এর চেয়ে নতুন কোনো প্রকাশিত তালিকা পাওয়া যায়নি; পরের বছরগুলোর সরকারি বক্তব্য পাওয়া যায় কেবল মোট সংখ্যায় (পরের অংশ)।
তিনটি বিষয় কেন একসঙ্গে আলোচিত হয়, তার ব্যাখ্যা প্রথম আলোর 2023 সালের ওই প্রতিবেদনেই আছে: পাহাড়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও গবেষকদের মতে এই তিনটির সমাধান হলে “স্বশাসন ও বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্য অর্জিত হতো”। পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান একই প্রতিবেদনে বলেন, ভূমি সমস্যা, ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চুক্তির শর্তগুলো “দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যাচ্ছে”। পুরো চুক্তির ধারা-ধরা বিবরণের জন্য আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997: ধারা ধরে ধরে এবং চুক্তি কী ছিল, কতটা হলো লেখা দুটি দেখা যেতে পারে; পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সব লেখা একসঙ্গে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।
চুক্তিতে মোট 72টি দফা: ক খণ্ডে 4, খ খণ্ডে 35, গ খণ্ডে 14, ঘ খণ্ডে 19 — মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন এভাবেই গোনে। সরকারের হিসাব 2014-এ ছিল 48টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত, পরে 65টি; জেএসএসের হিসাব 2023-এ 25টি সম্পূর্ণ। এই দূরত্বের বড় অংশ তৈরি হয় এই লেখার তিন বিষয়ে — আইনে ঢুকলেই “বাস্তবায়িত” কি না, সেই প্রশ্নে।
| কার দাবি | কোথায়, কবে | সম্পূর্ণ | আংশিক | বাকি / চলমান |
|---|---|---|---|---|
| পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় | অগ্রগতির পিডিএফ (তৈরি 30 অক্টোবর 2014) | 48 | 15 | 9 “চলমান” |
| সরকার (জেএসএস নেতার লেখায় উদ্ধৃত) | ডেইলি স্টার, 1 ডিসেম্বর 2020 | 48 | — | — |
| আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি / সরকার | প্রথম আলো, 2 ডিসেম্বর 2023; জাতিসংঘ স্থায়ী ফোরাম, এপ্রিল 2023 ও এপ্রিল 2024 | 65 | — | “অন্য ধারাগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায়” (প্রথম আলো, 4 ডিসেম্বর 2025-এর কলামে সরকারি বিবৃতির বিবরণ) |
| জেএসএস | ২৬তম বার্ষিকীর প্রতিবেদন, 8 ডিসেম্বর 2023 | 25 | 18 | 29 “completely untouched” |
| জেএসএস | ২৮তম বার্ষিকীর বিবৃতি (প্রথম আলো, 4 ডিসেম্বর 2025-এ উদ্ধৃত) | “দুই–তৃতীয়াংশ ধারা অবাস্তবায়িত” | ||
শুধু খ খণ্ড — যেখানে এই লেখার তিনটি বিষয়ই — নিয়ে দুই পক্ষের হিসাব আলাদা করে পাওয়া যায়। জেএসএসের 2023 সালের প্রতিবেদন লিখেছে, সরকার দাবি করে খ খণ্ডের 35টির মধ্যে 33টি বাস্তবায়িত, 1টি আংশিক, 2টি চলমান; জেএসএসের নিজের হিসাবে 16টি বাস্তবায়িত, 4টি আংশিক, 15টি অবাস্তবায়িত। জেএসএসের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা প্রথম আলোয় (2 ডিসেম্বর 2023) সরকারি দাবিটি লিখেছেন এভাবে: খ খণ্ডের 35টির মধ্যে 33টি “পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনে সংযোজনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে সরকার দাবি করছে। কিন্তু আইনে সংযোজিত হলেও সেগুলো এখনো কার্যকর করা হয়নি।”
এই বাক্যেই দুই হিসাবের মূল পার্থক্য। মন্ত্রণালয়ের 2014 সালের প্রতিবেদনে প্রায় প্রতিটি খ-দফার পাশে “1998 সালে পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন সংশোধন করা হয়েছে” লেখা, আর অবস্থার ঘরে “বাস্তবায়িত”। এই লেখার তিনটি দফায় — খ-9, খ-24, খ-26 — একই প্রতিবেদনে আইন সংশোধনের উল্লেখের পরেও অবস্থার ঘরে লেখা “আংশিক বাস্তবায়িত” বা “চলমান”।
আরেকটি হিসাব জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের পক্ষে বিশেষ প্রতিবেদক লারস-আন্ডার্স বায়েরের সমীক্ষায় (E/C.19/2011/6, 18 ফেব্রুয়ারি 2011)। সেখানে বলা হয়েছে, 1998-এর সংশোধনে জেলা পরিষদের বিষয় 21 থেকে বেড়ে 33টি কর্মক্ষেত্রে 68টি বিষয় হয়; চুক্তির আগে 10টি ক্ষেত্রে 15টি বিষয় হস্তান্তর হয়েছিল, আর 1998-এর পর মাত্র 3টি ক্ষেত্রে আরও 5টি। কোন সরকারের আমলে কোন বিভাগ গেছে, তার তারিখসহ তালিকা আমাদের জেলা পরিষদে বিভাগ হস্তান্তর নিয়ে লেখায় আছে; সেখানেও ভূমি ও পুলিশ নেই।
ভূমির কর্তৃত্ব নিয়ে চুক্তির খ খণ্ডে তিনটি দফা। খ-26 বলে, জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া পার্বত্য জেলার কোনো জমি ইজারা, বন্দোবস্ত, কেনাবেচা বা হস্তান্তর করা যাবে না, আর পরিষদের সম্মতি ছাড়া সরকার জমি অধিগ্রহণ করতে পারবে না। খ-27 ভূমি উন্নয়ন কর পরিষদের হাতে দেয়। খ-34(ক) “ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা”-কে পরিষদের কাজের তালিকায় তোলে।
খ-26 দফার চারটি উপদফা হুবহু (চুক্তির পাঠ, আমাদের আর্কাইভের কপি থেকে):
“ক) আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পার্বত্য জেলার এলাকাধীন বন্দোবস্তযোগ্য খাসজমিসহ কোন জায়গা-জমি পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে ইজারা প্রদানসহ বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় ও হস্তান্তর করা যাইবে না। তবে শর্ত থাকে যে, রক্ষিত বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় শিল্প কারখানা ও সরকারের নামে রেকর্ডকৃত ভূমির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
খ) আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন কোন প্রকারের জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল পরিষদের সাথে আলোচনা ও ইহার সম্মতি ব্যতিরেকে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর করা যাইবে না।
গ) পরিষদ হেডম্যান, চেইনম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) কার্যাদি তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।
ঘ) কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমির মূল মালিকদেরকে বন্দোবস্ত দেওয়া হইবে।”
খ-27 দফা 65 ধারা নতুন করে লেখার কথা বলে: “জেলার ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের দায়িত্ব পরিষদের হস্তে ন্যস্ত থাকিবে এবং জেলায় আদায়কৃত উক্ত কর পরিষদের তহবিলে থাকিবে।” আর খ-34 দফা পরিষদের কাজের তালিকায় 12টি বিষয় যোগ করে, যার প্রথম দুটি “ক) ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা; খ) পুলিশ (স্থানীয়)”।
ভূমির প্রশ্ন চুক্তির ঘ খণ্ডেও আছে, তবে অন্য দিক থেকে: ঘ-2 দফায় ভূমি জরিপ ও বিরোধ নিষ্পত্তি, ঘ-3-এ ভূমিহীন পরিবারকে দুই একর বন্দোবস্ত, ঘ-4 থেকে ঘ-6-এ ভূমি কমিশন। খ খণ্ড প্রশ্ন তোলে “কে সিদ্ধান্ত দেবে” — ডেপুটি কমিশনার না জেলা পরিষদ; ঘ খণ্ড প্রশ্ন তোলে “কোন জমি কার” — বিরোধ মেটাবে কমিশন। এই লেখায় “ভূমি কর্তৃত্ব” বলতে প্রথমটি, তবে দ্বিতীয়টির অবস্থাও নিচে আলাদা অংশে আছে, কারণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন ভোটার তালিকার প্রশ্নকেও ভূমি কমিশনের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে।
খ-26 দফা 1998 সালে প্রায় হুবহু জেলা পরিষদ আইনের 64 ধারায় বসেছে — রাঙামাটির ক্ষেত্রে রাংগামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ (সংশোধন) আইন, 1998 (1998 সনের 9 নং আইন)-এর 29 ধারাবলে। খ-27 বসেছে 65 ধারায়, একই আইনের 30 ধারাবলে। পূর্বানুমোদনের নিয়মটি অবশ্য 1998-এর আগেও ছিল: 1989 সালের মূল আইনের 64 ধারা আর ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে।
বর্তমান 64(1)(ক) ধারার শুরু: “আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন- (ক) রাংগামাটি পার্বত্য জেলার এলাকাধীন বন্দোবস্তযোগ্য খাস জমিসহ যে কোন জায়গা জমি, পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে, ইজারা প্রদান, বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় বা অন্যবিধভাবে হস্তান্তর করা যাইবে না”। 64(1)(খ)-তে অধিগ্রহণে পরিষদের সম্মতি, 64(2)-তে হেডম্যান থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পর্যন্ত কর্মচারীদের তত্ত্বাবধান, 64(3)-তে কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমি। 65 ধারা: ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের দায়িত্ব “পরিষদে ন্যস্ত্ম থাকিবে এবং আদায়কৃত কর পরিষদের তহবিলে জমা হইবে”। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের আইনে একই বিধান, সংশোধনী আইনের নম্বর আলাদা (1998 সনের 10 ও 11 নং)। আইনের পূর্ণ পাঠ আমাদের আর্কাইভে রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন শিরোনামে রাখা আছে।

প্রজ্ঞাপনটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের “বিধিমালা” পাতায় “Circular in 1989 on prior Approval of HDCs on transfer of Land (1989)” নামে রাখা। ভূমি মন্ত্রণালয়ের শাখা-1-এর এই প্রজ্ঞাপন (নং ভূঃমঃ/শা-১/১৬/৮৯-৫৮০, তারিখ 4 শ্রাবণ 1396/19 জুলাই 1989) প্রথমে আগের ব্যবস্থাটি লিখেছে: Chittagong Hill Tracts Regulation, 1900 অনুযায়ী “ডেপুটি কমিশনার ভূমি বন্দোবস্ত ও অস্থানীয়দের নিকট ভূমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিতেন”। তারপর আদেশ: পরিষদ আইন চালুর পর “সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন জায়গাজমি বন্দোবস্ত এবং উক্তরূপ জায়গাজমি জেলার বাসিন্দা নহেন এইরূপ কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করা যাইবে না।” আদেশটি কার্যকর হওয়ার কথা পরিষদ যেদিন প্রথম আনুষ্ঠানিক সভায় মিলিত হবে, সেদিন থেকে।
1989-এর প্রজ্ঞাপন আর 1998-এর 64 ধারার ব্যতিক্রম-তালিকা এক নয়। 1989-এ বাদ ছিল “সংরক্ষিত ও রক্ষিত বনাঞ্চল, কাপ্তাই হ্রদ এলাকা, কাপ্তাই বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, রাষ্ট্রীয় শিল্প কারখানা এলাকা”, সরকার বা জনস্বার্থে হস্তান্তরিত বা বন্দোবস্তকৃত জমি, আর “রাষ্ট্রীয় স্বার্থে প্রয়োজন হইতে পারে এইরূপ কোন জায়গাজমি”। 1998-এর ধারায় শেষ দুটির জায়গায় এসেছে বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা ও “সরকারের নামে রেকর্ডকৃত জমি”, আর যোগ হয়েছে অধিগ্রহণে পরিষদের সম্মতির শর্ত (64(1)(খ)), যা 1989-এর প্রজ্ঞাপনে নেই।
প্রথম তফসিলে পরিষদের কাজের তালিকায় “ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা” কীভাবে আছে, আর তিন জেলার আইনে 64 ধারার ব্যতিক্রমের শব্দ কোথায় সামান্য আলাদা, তা আমাদের পার্বত্য জেলা পরিষদ নিয়ে মূল লেখায় আছে। 1900 সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন পর্যন্ত ভূমি-আইনের পুরো ইতিহাস আছে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: 1900 সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন লেখায়।
মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি-প্রতিবেদন খ-26 দফাকে “সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত” বা “আংশিক” কোনোটিই বলেনি; 9টি “বাস্তবায়ন চলমান” দফার প্রথমটি খ-26। উপদফা (খ), (গ) ও (ঘ)-এর পাশে আলাদা করে “চলমান” লেখা। আর প্রতিবেদনের মূল তথ্য: 23 অক্টোবর 2001-এর একটি স্মারক অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলায় ভূমি বন্দোবস্ত স্থগিত।
খ-26-এর পাশে মন্ত্রণালয়ের পুরো বক্তব্য দুই বাক্যের: 1998 সালে আইন সংশোধন করা হয়েছে; তবে বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া, স্মারক নং পাচবিম(প-১)-পাঃ জেলা/বিবিধ/৮৫/২০০০-২৮০, তারিখ 23/10/01 মোতাবেক “ভূমি বন্দবস্ত স্থগিত রয়েছে”। ঘ-3 দফার (ভূমিহীনদের দুই একর) পাশে একই স্মারকের উল্লেখ, সঙ্গে কারণ হিসেবে লেখা তিন পার্বত্য জেলার “বিরাজমান পরিস্থিতি”। অর্থাৎ সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী 2001 থেকে বন্দোবস্তই বন্ধ, তাই পূর্বানুমোদনের প্রশ্ন সাধারণ বন্দোবস্তে ওঠে না; “বিশেষ ক্ষেত্র” কোনগুলো, প্রতিবেদনে তার ব্যাখ্যা নেই।
খ-27 (ভূমি উন্নয়ন কর) নিয়ে মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট: আইন সংশোধন হয়েছে, “তবে বিধানের প্রয়োগ হয়নি” — অবস্থা “আংশিক বাস্তবায়িত”। খ-34 (পরিষদের কাজের তালিকা) “আংশিক বাস্তবায়িত”: রাঙামাটিতে 23টি, খাগড়াছড়িতে 22টি, বান্দরবানে 21টি বিষয়/বিভাগ হস্তান্তর হয়েছে, আর 4টির প্রক্রিয়া চলছে — প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (রাঙামাটি), জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর, প্রজেক্ট অফিসারের দপ্তর (মাধ্যমিক শিক্ষা) ও ভোকেশনাল ট্রেনিং স্কুল (খাগড়াছড়ি)। এই চারটির মধ্যে ভূমি বা পুলিশ নেই।
ঘ-2 দফা (ভূমি জরিপ) নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য: “ভূমি জরিপ কাজ এখনো শুরু হয়নি।” কারণ হিসেবে লেখা, ভূমি কমিশন প্রথমে বিবাদ নিষ্পত্তি করবে, তারপর জরিপ। এই ক্রম — আগে বিরোধ নিষ্পত্তি, পরে জরিপ — চুক্তির ঘ-2 দফাতেই লেখা, জুলাই 2009-এ নিযুক্ত চেয়ারম্যান বিরোধ নিষ্পত্তির আগেই জরিপের ঘোষণা দিলে আপত্তি ওঠে; জাতিসংঘ সমীক্ষা (2011) লিখেছে, কয়েক মাসের প্রতিবাদের পর সরকার জানায় জরিপ বাতিল, মালিকানা আগে নির্ধারিত হবে। শক্তিপদ ত্রিপুরার 2013 সালের লেখাও বলে, নিয়োগ পাওয়ার পরপরই চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম “একতরফাভাবে” জরিপের ঘোষণা দেন।
জেএসএসের প্রতিবেদনের মূল অভিযোগ এক: 64 ধারা আইনে থাকলেও জমির বন্দোবস্ত, হস্তান্তর ও ইজারার ক্ষমতা ডেপুটি কমিশনারদের হাতেই থেকে গেছে, তাঁরা তা প্রয়োগ করেন 1900 সালের রেগুলেশনের দোহাই দিয়ে। “ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা” বিষয়টি পরিষদে হস্তান্তর হয়নি, হেডম্যান-আমিন-কানুনগোরাও পরিষদের তত্ত্বাবধানে আসেননি।
জেএসএসের ইংরেজি প্রতিবেদন (26তম বার্ষিকী, 8 ডিসেম্বর 2023) খ-26 সম্পর্কে লিখেছে, সরকার দাবি করে বিধানটির বাস্তবায়ন “চলছে”, কিন্তু “the provision has though been included in the Act but is not being put in place”; ডেপুটি কমিশনাররা “on plea of the CHT Regulation 1900” জমির মালিকানা হস্তান্তর, বন্দোবস্ত ও ইজারার ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন। খ-34(ক) নিয়ে: “ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা” আজও হস্তান্তর হয়নি, আর হেডম্যান, চেইনম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাজ পরিষদের তত্ত্বাবধানে আনা হয়নি। একই কথা বাংলায় মঙ্গল কুমার চাকমার প্রথম আলো কলামে (2 ডিসেম্বর 2023): বিধানটি “আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও ইহা কার্যকর করা হচ্ছে না।”
আমাদের আর্কাইভের দুটি পুরোনো লেখায় একই অভিযোগ আরও আগের তারিখে পাওয়া যায়। মঙ্গল কুমার চাকমার “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার” (লেখা 4 মার্চ 2012, কেদাকতুক সংকলন 2012) লিখেছে, বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে যুব দপ্তর ও টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট ছাড়া কিছু হস্তান্তর হয়নি, আর আইন-শৃঙ্খলা, “ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা” ও “পুলিশ (স্থানীয়)”-র মতো বিষয় তখনও বাকি; বান্দরবানে ডেপুটি কমিশনার নতুন করে ইজারা দিয়ে চলেছেন। শক্তিপদ ত্রিপুরার “নির্বাচনী ইশতেহার, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও আদিবাসী অধিকার” (তাক্রুপ্ সংকলন 2013) লিখেছে: “ডেপুটি কমিশনারগণ চুক্তি ও আইন লংঘন করে ভূমি ক্রয়-বিক্রয় অনুমোদন ও লীজ প্রদান করে চলেছে।”
ইজারার পরিমাণ নিয়ে একটি সংখ্যা প্রথম আলোর 2023 সালের প্রতিবেদনে, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির হিসাব হিসেবে: শুধু বান্দরবানে স্থানীয় প্রশাসন 42,557 একর জমি ইজারা দিয়েছে, যার 3,070 একর পাহাড়িদের, বাকিটা বাঙালিদের। একই প্রতিবেদনে রাঙামাটি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চিং কিউ রোয়াজার মত: চুক্তিতে থাকলেও ভূমি জেলা পরিষদে ন্যস্ত হয়নি, আর এটি “দিন দিন ভূমির সমস্যা বাড়াচ্ছে”। ইজারা বাতিলের একটি সরকারি পদক্ষেপের কথাও জেএসএসের প্রতিবেদনে আছে: 2009 সালের জুলাইয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে বান্দরবানের ডেপুটি কমিশনার 593টি প্লটে প্রায় 15,000 একর আর রাঙামাটির ডেপুটি কমিশনার প্রায় 350 একরের ইজারা বাতিল করেন। মঙ্গল কুমার চাকমার 2012 সালের লেখা বলছে, বাতিল হওয়া প্লটের “অধিকাংশই পুনর্বহাল করা হয়”।
ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠিত হয়েছে 1999 সালে, আইন হয়েছে 2001-এ, আইনটি সংশোধিত হয়েছে 2016-এ। কিন্তু কমিশন কোন পদ্ধতিতে শুনানি করবে, সেই বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি; প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী জমা থাকা 22,468টি আবেদনের একটিরও নিষ্পত্তি হয়নি, আর 2017 সাল থেকে নতুন আবেদন নেওয়া বন্ধ।
| তারিখ | ঘটনা | উৎস |
|---|---|---|
| 1999 | খাগড়াছড়িতে কমিশন গঠিত; প্রথম চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার আগেই মারা যান | প্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022 |
| 2001 | পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন | প্রথম আলো 2022, 2023; মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন |
| 19 জুলাই 2009 | বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী চেয়ারম্যান নিযুক্ত | মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন (ঘ-4) |
| 25 জুন 2012 | 13টি ধারা সংশোধনের চূড়ান্ত বিল ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো (আঞ্চলিক পরিষদ চেয়েছিল 23টি ধারায় সংশোধন) | মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন (ঘ-4) |
| 27 মে 2013 | মন্ত্রিসভায় সংশোধনী আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন | মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন (ঘ-4) |
| 6 অক্টোবর 2016 | সংসদে সংশোধনী আইন পাস | মঙ্গল কুমার চাকমা, প্রথম আলো 2023; জেএসএস 2023 |
| 1 জানুয়ারি 2017 | আঞ্চলিক পরিষদ বিধিমালার খসড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় | মঙ্গল কুমার চাকমা, প্রথম আলো 2023; জেএসএস 2023 |
| 2017 | শেষ আবেদন জমা; এরপর নতুন আবেদন নেওয়া বন্ধ | প্রথম আলো, 2022 |
| 3 ফেব্রুয়ারি 2020 | বান্দরবানে কমিশনের সভা; আলোচ্যসূচিতে টাস্কফোর্স থেকে শরণার্থী-তালিকা না পাওয়ার কথা | প্রথম আলো, 2022 |
| সেপ্টেম্বর 2022 | রাঙামাটিতে ডাকা সভা অবরোধের কারণে স্থগিত | প্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022 |
| নভেম্বর 2023 | ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব: “বিধিমালার খসড়া নিয়ে পর্যালোচনা চলছে”; কমিশন-সচিব: 22 হাজারের বেশি আবেদন, কোনোটির সুরাহা হয়নি | প্রথম আলো, 2 ডিসেম্বর 2023 |
| এপ্রিল 2024 | জাতিসংঘ স্থায়ী ফোরামে মন্ত্রণালয়-সচিবের প্রতিশ্রুতি: বিধিমালা শিগগির চূড়ান্ত হবে | মঙ্গল কুমার চাকমা, ডেইলি স্টার, 28 এপ্রিল 2024 |
| অক্টোবর 2025 | কমিশনের সভা হয়নি, স্থানীয় বাঙালিদের বাধায়; ডিসেম্বর 2025-এর প্রতিবেদনে চেয়ারম্যান হিসেবে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজের নিয়োগের উল্লেখ | প্রথম আলো, 2 ডিসেম্বর 2025 |
প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদনে জেলাভিত্তিক হিসাব: রাঙামাটির 9,941, খাগড়াছড়ির 7,975 ও বান্দরবানের 4,552টি আবেদন; কমিশন তখনো সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে পারেনি। কমিশনের সচিব (যুগ্ম জেলা জজ) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন বলেছিলেন, কমিশন কী প্রক্রিয়ায় কাজ করবে তার বিধিমালা দরকার, “কিন্তু এখনো বিধিমালা হয়নি”। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের “বিধিমালা” ও “আইন ও বিধি” পাতায় (শেষ হালনাগাদ যথাক্রমে 1 মে 2025 ও 3 মে 2026) আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদের কার্যপ্রণালী, বাজার ফান্ড ও বন ট্রানজিটের বিধিমালা আছে; ভূমি কমিশনের কোনো বিধিমালা তালিকায় নেই।
ভূমি কমিশন আইন ও তার 2016 সালের সংশোধনের ধারা-ধরা বিশ্লেষণ আমাদের ভূমি কমিশন সংশোধন আইন 2016 লেখায়, কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল না চলার বিধান 16 ধারা নিয়ে লেখায়, আর “প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি” কথাটির অর্থ 6 ধারা নিয়ে লেখায়।
চুক্তির খ-9 দফা জেলা পরিষদ আইনের 17 ধারা বদলে ভোটার হওয়ার চারটি শর্ত দেয়, যার চতুর্থটি: “তিনি পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হন।” কে স্থায়ী বাসিন্দা, তা ঠিক করে খ-3 দফার সংজ্ঞা। খ-10 দফা নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণের বিধান যোগ করে। তিনটি মিলে জেলা পরিষদের জন্য আলাদা ভোটার তালিকার ভিত্তি।
খ-9 দফা হুবহু: “বিদ্যমান ১৭নং ধারা নিম্নে উল্লেখিত বাক্যগুলি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হইবে। আইনের আওতায় কোন ব্যক্তি ভোটার তালিকাভূক্ত হওয়ার যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইতে পারিবেন যদি তিনি (১) বাংলাদেশের নাগরিক হন; (২) তাহার বয়স ১৮ বৎসরের কম না হয়; (৩) কোন উপযুক্ত আদালত তাহাকে মানসিকভাবে অসুস্থ ঘোষণা না করিয়া থাকেন; (৪) তিনি পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হন।”
খ-3 দফার সংজ্ঞা: “‘অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা’ বলিতে যিনি উপজাতীয় নহেন এবং যাহার পার্বত্য জেলায় বৈধ জায়গা জমি আছে এবং যিনি পার্বত্য জেলায় সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় সাধারণত বসবাস করেন তাহাকে বুঝাইবে।” অর্থাৎ চুক্তির শর্ত দুটি — বৈধ জমি এবং নির্দিষ্ট ঠিকানায় বসবাস। খ-4(ঘ) দফা আরও যোগ করে, কেউ অ-উপজাতীয় কি না, তা হেডম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার চেয়ারম্যানের সার্টিফিকেট দেখে সংশ্লিষ্ট সার্কেল চিফ স্থির করবেন। সনদ দেওয়ার এই ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের উপজাতীয় সনদপত্র ও সার্কেল চিফ লেখায় বিস্তারিত আছে।
খ-10 দফা: 20 ধারার (2) উপ-ধারায় “নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ” শব্দগুলো “স্বতন্ত্রভাবে সংযোজন” করা হবে। আর চুক্তির গ খণ্ড এই তালিকার ওপর আরেকটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করায়: গ-2 ও গ-5 দফা অনুযায়ী আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নির্বাচিত হবেন “পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যগণের দ্বারা পরোক্ষভাবে”।
খ-9 দফা আইনে বসেছে দুই ধাপে। 1998 সালে (রাঙামাটির ক্ষেত্রে 1998 সনের 9 নং আইনের 11 ধারাবলে) 17 ধারা প্রতিস্থাপিত হয়ে “স্থায়ী বাসিন্দা” শর্ত যোগ হয়। 2000 সালে (2000 সনের 33 নং আইনের 3 ধারাবলে) 17(2) উপধারা যোগ হয়: “নির্বাচন কমিশন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করিবে।”
রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের বর্তমান 17(1) ধারা বলে, পরিষদের নির্বাচনের জন্য কোনো ব্যক্তি ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্য হবেন, যদি তিনি “(ক) বাংলাদেশের নাগরিক হন; (খ) অন্যুন আঠার বত্সর বয়স্ক হন; (গ) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক মানসিকভাবে অসুস্থ ঘোষিত না হন; এবং (ঘ) রাংগামাটি পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হন”। ধারার শিরোনামেও 2000 সালে “ও ভোটার তালিকা” শব্দগুলো যোগ হয়েছে। 18 ধারা বলে, ভোট দিতে পারবেন কেবল “ধারা ১৭ এর অধীনে প্রণীত এবং আপাততঃ বলবত্ ভোটার তালিকায়” যাঁর নাম আছে। 20(1) ধারায় নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের; 20(2) ধারায় সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনে নির্বাচনের বিধি করবে, যার (ক) দফা “নির্বাচন এলাকা নির্ধারণ”।
সংজ্ঞায় একটি শব্দের তফাত আছে। আইনের 2(কক) ধারায় “অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা” অর্থ যিনি উপজাতীয় নন “এবং যাঁহার পার্বত্য জেলায় বৈধ জায়গা-জমি আছে বা যিনি পার্বত্য জেলায় সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় সাধারণতঃ বসবাস করেন”। চুক্তিতে “এবং”, আইনে “বা” — আইনের পাঠে দুটি শর্তের যেকোনো একটিই যথেষ্ট। 1989 সালের নির্বাচন, অন্তর্বর্তী পরিষদ আর মেয়াদ বাড়ার পুরো ইতিহাস আছে আমাদের 1989 সালের পর পার্বত্য জেলা পরিষদে আর ভোট হয়নি লেখায়; এখানে কেবল ভোটার তালিকার প্রশ্নটুকু।
মন্ত্রণালয়ের 2014 সালের প্রতিবেদন খ-9 দফাকে “আংশিক বাস্তবায়িত” বলে, দুটি কারণ দেখিয়ে: জমির মালিকানার বিষয়টি ভূমি কমিশনে বিচারাধীন, তাই স্থায়ী বাসিন্দা নির্ধারণ হয়নি; আর জেলা পরিষদের জন্য পৃথক ভোটার তালিকা করা যাবে কি না, সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত চেয়ে বারবার তাগাদা দিয়েও উত্তর মেলেনি।
প্রতিবেদনের ভাষায়, পৃথক ভোটার তালিকা করা যাবে কি না “সে বিষয়ে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এটর্ণী জেনারেলের মতামত চাওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকবার তাগাদা দেয়া সত্বেও মতামত পাওয়া যায়নি।” সর্বশেষ তাগিদপত্র — প্রতিবেদনে “তাগিদপত্র-12” — পাঠানো হয় 21 ডিসেম্বর 2011, আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছে। এর পর অ্যাটর্নি জেনারেল কোনো মতামত দিয়েছেন কি না, প্রকাশিত কোনো নথিতে পাওয়া যায়নি। এখানে খেয়াল করার বিষয়: মন্ত্রণালয় ভোটার তালিকার জট বেঁধেছে ভূমির সঙ্গে — জমির মালিকানা না মিটলে “স্থায়ী বাসিন্দা” ঠিক হয় না।
2016 সালে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে (21 অক্টোবর 2016) সরকারের “একটি সূত্র” জানায়, নির্বাচন না হওয়ার প্রধান সমস্যা ভোটার তালিকা, আর আইন অনুযায়ী সব নির্বাচনের জন্য দেশে “একটিই মাত্র ভোটার তালিকা” হবে, যাতে পুনর্বাসিত বাঙালিরাও আছেন; জেলা পরিষদের জন্য আলাদা তালিকা “আইনের বিধান অনুযায়ী সম্ভব নয়”। একই প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের সূত্র: সরকার না বললে তারা জেলা পরিষদ নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে পারে না, কারণ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন “তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়, আইনি দায়িত্ব”।
এই অবস্থানের একটি আইনি যুক্তি নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের Peace Accords Matrix লিপিবদ্ধ করেছে: সংবিধানের 122(2)(ঘ) অনুচ্ছেদ ও 1982 সালের ভোটার তালিকা অধ্যাদেশের 4 ধারা অনুযায়ী যিনি কোনো এলাকায় সাধারণত বসবাস করেন তিনি সেখানকার ভোটার হওয়ার অধিকারী, তাই চুক্তির শর্ত সংবিধানের সঙ্গে বিরোধে পড়ে — Matrix-এর বিবরণে, এই কারণে সিএইচটির কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের ভোটাধিকার বহাল রাখেন। সংবিধানের 122(2) অনুচ্ছেদের পাঠে শর্তটি সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী এলাকার জন্য: ভোটার হতে হলে ব্যক্তিকে “is or is deemed by law to be a resident of that constituency” হতে হবে।
রাজনৈতিক অবস্থানটি শোনা যায় তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের কথায় (প্রথম আলো, 2 ডিসেম্বর 2023): স্থায়ী বাসিন্দাদের ভোটার তালিকা ছাড়াই জেএসএসের নেতারা ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন, জয়ীও হচ্ছেন, “তাহলে সমস্যা কোথায়?” একই প্রতিবেদনে শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার প্রশ্ন: “এতগুলো বাঙালি পরিবার এখন কোথায় যাবে।” প্রতিবেদনটি জানায়, জেএসএসের অবস্থান হলো সশস্ত্র লড়াইয়ের সময় পুনর্বাসিত বাঙালিরা এই তালিকায় থাকতে পারবেন না, তার আগে থেকে যাঁরা ছিলেন তাঁরা পারবেন।
জেএসএসের 2023 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী 2000 সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জেলা পরিষদের জন্য “Electoral Roll Rules 2000” ও চেয়ারম্যান-সদস্য নির্বাচনের “Election Rules 2000”-এর খসড়া করেছিল; আঞ্চলিক পরিষদ আইনের 53 ধারা মেনে আঞ্চলিক পরিষদ সুপারিশও দেয়; কিন্তু খসড়া দুটি আজও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।
প্রতিবেদনটি খ-3 দফা নিয়েও আপত্তি তোলে: সংজ্ঞা আইনে আছে, কিন্তু 21 ডিসেম্বর 2000 তারিখে মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে সার্কেল চিফদের পাশাপাশি ডেপুটি কমিশনারদেরও স্থায়ী বাসিন্দা সনদ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়, যা বারবার দাবির পরও প্রত্যাহার হয়নি; ডেপুটি কমিশনাররা “those non-tribals who are not permanent residents of CHT”-কে সনদ দিচ্ছেন। খ-10 (নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ) নিয়ে একই মন্তব্য: আইনে আছে, কার্যকর নয়।
মঙ্গল কুমার চাকমা ডেইলি স্টারে (28 এপ্রিল 2024) লিখেছেন, চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির 2010 সালের সভায় ডেপুটি কমিশনারের সনদ দেওয়ার এখতিয়ার বাতিলের সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর হয়নি, আর অ-স্থায়ী বাসিন্দারা তিন জেলার ভোটার তালিকায় ঢুকছেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল জাতিসংঘে সরকারি প্রতিনিধিদলের প্রতি: 26 বছরেও জেলা পরিষদের নির্বাচন বিধিমালা ও ভোটার তালিকা বিধিমালা কেন হয়নি। Peace Accords Matrix জেএসএসের 2011 সালের বাস্তবায়ন-প্রতিবেদন থেকে উদ্ধৃত করেছে, আশির দশকে আনা “at least 300,000 Bengali settlers” সাম্প্রতিক ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন — এটি জেএসএসের দাবি, অন্য কোনো উৎসে এই সংখ্যার যাচাই পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘ সমীক্ষা (2011) এই অংশের সারকথা লিখেছে নিরপেক্ষ ভাষায়: 2001 সালের সংসদ নির্বাচনের আগে তৈরি ভোটার তালিকায় অ-স্থায়ী বাঙালি বসতিস্থাপনকারীরা থাকায় জেএসএস তা প্রত্যাখ্যান করে; সরকারি উদ্যোগে আসা বসতিস্থাপনকারীদের বড় অংশের কাছে জমির রেকর্ড-নথি আছে, আর সেই দলিলগুলো কতটা বৈধ সে প্রশ্নও আছে, তাই নতুন তালিকাতেও তাঁরা আবার ঢুকে যেতে পারেন — এই আশঙ্কা; “The issue of the voter list thus remains unresolved.”
আমাদের আর্কাইভের দুটি লেখা একই অবস্থা আরও আগে নথিভুক্ত করেছে। মঙ্গল কুমার চাকমা 2012 সালে লিখেছেন, সরকার তিন জেলা পরিষদের “নির্বাচন বিধিমালা ও ভোটার তালিকা বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে চরম নির্লিপ্ততা” দেখাচ্ছে। শক্তিপদ ত্রিপুরা 2013 সালে লিখেছেন, স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা “অদ্যাবধি” হয়নি, তাই জেলা পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে না, আর সেই কারণে আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচনও হচ্ছে না।
স্থায়ী বাসিন্দাদের ভোটার তালিকা না হওয়ায় তিন জেলা পরিষদে 1989 সালের পর আর নির্বাচন হয়নি; আর আঞ্চলিক পরিষদের সদস্যরা জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কথা বলে আঞ্চলিক পরিষদেও নির্বাচন হয়নি। দুটি প্রতিষ্ঠানই চলছে সরকারের মনোনীত অন্তর্বর্তী পরিষদ দিয়ে।
প্রথম আলোর 2016 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিন পরিষদের “প্রথম ও একমাত্র নির্বাচন” হয়েছিল 1989 সালে; এরপর সরকার পাঁচ সদস্যের, পরে 15 সদস্যের মনোনীত পরিষদ দিয়ে কাজ চালিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের 2014 সালের প্রতিবেদন গ-2 দফার পাশে লিখেছে, তিন পার্বত্য জেলায় “এখনও কোন চেয়ারম্যান নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হননি” — 1989-এর তিন নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে উপমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল, পরে নিযুক্ত চেয়ারম্যানদের তা দেওয়া হয়নি “কারন তারা নির্বাচিত নন”। আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998 (24 মে 1998)-এর 54 ধারা অন্তর্বর্তী পরিষদের বিধান রাখে, যার চেয়ারম্যানসহ সব সদস্য সরকার মনোনীত করবে।
জেএসএসের 2023 সালের প্রতিবেদন গ-2 দফা নিয়ে লিখেছে, সরকার এটিকে বাস্তবায়িত বলে, কিন্তু জেলা পরিষদের নির্বাচন না হওয়ায় আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচনও হয়নি। জাতিসংঘ সমীক্ষা জানায়, জুলাই 2010-এ সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, আঞ্চলিক পরিষদ আইনের সাংবিধানিকতা নিয়ে আদালতের মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর জেলা ও আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন হবে। আঞ্চলিক পরিষদের গঠন ও ক্ষমতা নিয়ে আমাদের আঞ্চলিক পরিষদ: গঠন, ক্ষমতা ও আসন-বণ্টন লেখাটি দেখা যেতে পারে।
চুক্তির খ-24 দফা জেলা পরিষদ আইনের 62 ধারা বদলে দেয়: অন্য আইনে যা-ই থাকুক, পার্বত্য জেলা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ও তার নিচের সব সদস্য পরিষদ নিয়োগ দেবে, পরিষদ তাঁদের বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে, আর নিয়োগে জেলার উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার থাকবে। খ-34(খ) “পুলিশ (স্থানীয়)”-কে পরিষদের কাজের তালিকায় তোলে।
খ-24(ক) হুবহু: “আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পার্বত্য জেলা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ও তদানুস্তরের সকল সদস্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং পরিষদ তাঁহাদের বদলী ও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তাঁহাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে। তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলার উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার বজায় রাখিতে হইবে।” খ-24(খ) 62(3) ধারার “আপাতত বলবৎ অন্য সকল আইনের বিধান সাপেক্ষে” শব্দগুলো বাদ দিয়ে “যথা আইন ও বিধি অনুযায়ী” বসাতে বলে।
আইন-শৃঙ্খলায় আঞ্চলিক পরিষদেরও ভূমিকা রাখা আছে: চুক্তির গ-9(গ) দফা অনুযায়ী “তিন পার্বত্য জেলার সাধারণ প্রশাসন, আইন শৃংখলা ও উন্নয়নের ব্যাপারে আঞ্চলিক পরিষদ সমন্বয় সাধন ও তত্ত্বাবধান করিতে পারিবে।” মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন গ-9-কে “বাস্তবায়িত” বলে; জেএসএসের প্রতিবেদন বলে, বিধানটি আইনে আছে কিন্তু কার্যকর হয়নি, ডেপুটি কমিশনাররা আগের মতো 1900 সালের রেগুলেশন অনুযায়ী সাধারণ প্রশাসনের সব ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন।
1998 সালের সংশোধনে (রাঙামাটির ক্ষেত্রে 1998 সনের 9 নং আইনের 28 ধারাবলে) 62 ধারা থেকে “সহকারী” শব্দটি বাদ যায় — আগে পরিষদের এখতিয়ার ছিল সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর ও তার নিচে, এখন সাব-ইন্সপেক্টর ও তার নিচে। শর্তাংশও বদলায়: 1989-এর আইনে নিয়োগে জাতিগোষ্ঠীগুলোর অনুপাত বজায় রাখার কথা ছিল, 1998-এ এল উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার।

বর্তমান 62(1) ধারা: “আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের [* * *] সাব-ইনস্পেক্টর ও তন্নিম্ন স্তরের সকল সদস্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন”; শর্তাংশে “রাংগামাটি পার্বত্য জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকিবে”। 62(2) বলে, পরিষদ-নিযুক্ত পুলিশের চাকরির শর্ত, প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও পরিচালনা অন্য জেলা পুলিশের মতো। 62(3)-এ চুক্তির চাওয়া “যথা আইন ও বিধি অনুযায়ী”-র জায়গায় সংসদ বসিয়েছে “এতদ্সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ” — চুক্তি আর আইনের শব্দ এখানে এক নয়। 63 ধারা পুলিশের দায়িত্ব দেয় জেলায় অপরাধের তথ্য পরিষদ চেয়ারম্যানকে জানানো।
1989-এর অনুপাত-শর্তের ইংরেজি পাঠ Peace Accords Matrix উদ্ধৃত করেছে: “the ratio amongst tribal, non-tribal and various other tribal people of the district in the matter of such appointment has to be maintained as far as practicable.” ধারাটির পূর্ণ আইনি ইতিহাস, তিন জেলার আইনের তুলনা আর পুলিশ আইন 1861-এর সঙ্গে সম্পর্ক আমাদের পার্বত্য জেলা পুলিশ নিয়োগ জেলা পরিষদের হাতে — কাগজে লেখায় আছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন খ-24 দফাকে “আংশিক বাস্তবায়িত” বলে, আর ভিত্তি হিসেবে একটিই পদক্ষেপের উল্লেখ করে: 4 সেপ্টেম্বর 2010 তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি স্মারকে পুলিশে নিয়োগে উপজাতীয় পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতার শর্ত 5 ফুট 6 ইঞ্চি থেকে 5 ফুট 4 ইঞ্চিতে শিথিল করা। পরিষদের হাতে নিয়োগ, বদলি বা শাস্তির ক্ষমতা যাওয়ার কোনো উল্লেখ প্রতিবেদনে নেই।
স্মারকের নম্বর প্রতিবেদনে দেওয়া: স্বঃমঃ/পু-২/বিবিধ-১/২০০৫/৯৮০; একই স্মারকে নারী প্রার্থীদের উচ্চতা আগের মতো 5 ফুট 2 ইঞ্চি রাখার সম্মতি। খ-34 দফার পাশে মন্ত্রণালয় যে হস্তান্তর-তালিকা দিয়েছে, সেখানে বা প্রক্রিয়াধীন চারটি বিষয়ের মধ্যে “পুলিশ (স্থানীয়)” নেই।
প্রথম আলোর 2023 সালের প্রতিবেদনে তৎকালীন মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের উত্তর ছিল এক বাক্যের: “পুলিশ নিয়োগ নিয়ে কিছু হয়েছে বলে জানি না।” একই প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগের এই ধারা স্থানীয় সরকারে “অত্যন্ত কার্যকর বিধান”, আর উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে এমন বিধান আছে।
জেএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী 62 ধারা কার্যকর করতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি; বদলি ও শাস্তির ক্ষমতা আগের মতো পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই প্রয়োগ করে। 2018–19 সালে চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভায় নির্বাহী আদেশে “পুলিশ (স্থানীয়)” ও “আইনশৃঙ্খলা সংরক্ষণ ও উন্নয়ন” হস্তান্তর আর পার্বত্য জেলা পুলিশ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।
2018–19 সালের সিদ্ধান্তের কথা প্রথম আলো (2 ডিসেম্বর 2023) জেএসএসের ওই বছরের প্রতিবেদন থেকে জানিয়েছে। জেএসএসের ইংরেজি প্রতিবেদন (8 ডিসেম্বর 2023) যোগ করে, সিদ্ধান্ত কার্যকরের বদলে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদর দপ্তর থেকে প্রত্যাহৃত সেনা ক্যাম্পে এপিবিএন মোতায়েনের আদেশ আসে; 13 এপ্রিল 2022-এর এক নির্দেশনায় লেখা ছিল, “The police force will be deployed at 240 number of withdrawn army camps in phases.” মঙ্গল কুমার চাকমা ডেইলি স্টারে (28 এপ্রিল 2024) লিখেছেন, বাস্তবায়ন কমিটির “several meetings”-এ পুলিশ হস্তান্তর ও পার্বত্য জেলা পুলিশ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কোনোটি কার্যকর হয়নি। জেএসএস এই আদেশকে চুক্তির লঙ্ঘন বলে; সরকারি পক্ষের কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশিত নথিতে পাওয়া যায়নি।
Peace Accords Matrix জেএসএসের 2011 সালের প্রতিবেদন থেকে আরেকটি তথ্য তুলে রেখেছে: সরকার বলেছিল, চুক্তি মেনে 671 জন জুম্মকে কনস্টেবল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে; জেএসএসের ভাষ্যে, 671 জন কনস্টেবল ও 11 জন ট্রাফিক সার্জেন্টকে পার্বত্য জেলার বাইরে সমতলের জেলায় পদায়ন করা হয়, আঞ্চলিক পরিষদের অনুরোধ সত্ত্বেও তাঁদের ফেরানো হয়নি, আর তাঁদের বেশির ভাগ পরে চাকরি ছাড়েন। এই সংখ্যার একমাত্র পাওয়া উৎস জেএসএসের প্রতিবেদন (Matrix-এর মাধ্যমে)।
প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2024-এর প্রতিবেদন “আঞ্চলিক পুলিশ বাহিনী গঠন”-কে ভূমি কমিশন ও ভোটার তালিকার সঙ্গে সেই “মৌলিক ধারাগুলো”-র তালিকায় রেখেছে, যেগুলো “বাস্তবায়ন হয়নি”। মঙ্গল কুমার চাকমা ডেইলি স্টারে (1 ডিসেম্বর 2020) লিখেছিলেন, 33টি কাজের মধ্যে মাত্র 17টি তিন পরিষদে হস্তান্তর হয়েছে, আর আইন-শৃঙ্খলা, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, পুলিশ (স্থানীয়) “have not been transferred till today”; একই লেখায় সরকারি দাবি হিসেবে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে 28টি, বান্দরবানে 26টি বিষয় হস্তান্তরের সংখ্যা।
তিনটি বিষয়েই আইন 1998 সালে তৈরি; যা নেই, তা আইনের পরের ধাপ — বিধিমালা, প্রবিধান বা নির্বাহী আদেশে বিষয় হস্তান্তর। নিচের ছকে প্রতিটি বিষয়ে কোন ধাপটি বাকি বলে কোন উৎস জানিয়েছে, তা পাশাপাশি রাখা হলো; ছকের প্রতিটি ঘর একটি নির্দিষ্ট উৎসের বক্তব্য।
| বিষয় | যে ধাপ বাকি বলে জানানো হয়েছে | কে বলেছে, কবে |
|---|---|---|
| ভূমি কর্তৃত্ব | “ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা” বিষয়টি পরিষদে হস্তান্তর | জেএসএস, 2023; মঙ্গল কুমার চাকমা, প্রথম আলো 2023; বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, প্রথম আলো 2025 |
| 2001 সালের বন্দোবস্ত-স্থগিতের স্মারক (23/10/01) | মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন (2014) | |
| ভূমি কমিশনের বিধিমালা | কমিশন-সচিব ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, প্রথম আলো 2022 ও 2023; জেএসএস 2023 | |
| ভোটার তালিকা | স্থায়ী বাসিন্দা নির্ধারণ (জমির মালিকানা ভূমি কমিশনে বিচারাধীন) | মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন (2014) |
| পৃথক তালিকা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত | মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন (শেষ তাগিদ 21 ডিসেম্বর 2011) | |
| ভোটার তালিকা বিধিমালা ও নির্বাচন বিধিমালা (খসড়া 2000) | জেএসএস 2023; আঞ্চলিক পরিষদ-জেএসএস সূত্র, প্রথম আলো 2016 | |
| পুলিশ নিয়োগ | নির্বাহী আদেশে “পুলিশ (স্থানীয়)” হস্তান্তর ও পার্বত্য জেলা পুলিশ গঠন (কমিটির সিদ্ধান্ত হয়েছিল) | জেএসএস, প্রথম আলো 2023-এ উদ্ধৃত; মঙ্গল কুমার চাকমা, ডেইলি স্টার 2024 |
| পুলিশ আইন 1861 ও পুলিশ প্রবিধানসহ সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন | জেএসএস 2023 (ক-2 দফা প্রসঙ্গে); মঙ্গল কুমার চাকমা, ডেইলি স্টার 2020 |
ছকের দুটি সারি তিন বিষয়কে একে অপরের সঙ্গে জুড়েছে, আর জুড়েছে সরকারি নথিই। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন ভোটার তালিকা আটকে থাকার কারণ হিসেবে ভূমি কমিশনে জমির মালিকানার বিচার ঝুলে থাকাকে দেখিয়েছে; আর ভূমি কমিশনের কাজ আটকে আছে বিধিমালায়। বুদ্ধজ্যোতি চাকমা প্রথম আলোয় (4 ডিসেম্বর 2025) লিখেছেন, “জেলা পরিষদ ও ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বিধিমালা না হওয়ায় ক্ষমতায়ন হচ্ছে না”; আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় পুলিশ, ভূমি প্রশাসনের ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক বিষয় হস্তান্তরের কথা থাকলেও “এখনো হস্তান্তর করা হয়নি”।
হস্তান্তরের আইনি পথটি জেলা পরিষদ আইনেই আছে। 22 ধারা অনুযায়ী প্রথম তফসিলের কাজগুলোই পরিষদের কাজ; 23 ধারা বলে, সরকার পরিষদের সম্মতিক্রমে সরকার-পরিচালিত কোনো “প্রতিষ্ঠান বা কর্ম” পরিষদের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়ন্ত্রণে হস্তান্তরের নির্দেশ দিতে পারে। মন্ত্রণালয়ের 2014 সালের প্রতিবেদনে হস্তান্তরিত ও প্রক্রিয়াধীন বিষয়ের যে হিসাব, তার কোথাও ভূমি বা পুলিশ নেই; কোন বিভাগ কবে কোন সরকারের আমলে গেছে, তার তারিখসহ তালিকা আমাদের বিভাগ-হস্তান্তর লেখায় আছে।
2024 সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি কিছুদিন অকার্যকর ছিল, নভেম্বর 2024-এ তিন জেলা পরিষদ আবার মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে পুনর্গঠিত হয়। 2025 সালে ভূমি কমিশন ও শরণার্থী টাস্কফোর্সের সভা বাধার মুখে স্থগিত হয়। সেপ্টেম্বর 2026-এ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে তিনটি নতুন কমিটি গঠন করেছে। তিন বিষয়ের কোনোটিতে নতুন অগ্রগতির খবর প্রকাশিত সূত্রে পাওয়া যায়নি।
প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2024-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবীক্ষণ কমিটির “আর কোনো কার্যকারিতা নেই”; তিন জেলা পরিষদ নভেম্বরে পুনর্গঠন হয়েছে “পুরোনো ধারায় সরকার মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে”। অন্তর্বর্তী সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা তখন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম “বাংলাদেশের বাইরে নয়”, আর বাস্তবায়নের পরিকল্পনা “চিন্তা হিসেবে আছে, এক্সপ্রেস (প্রকাশ) হয়নি”। চাকমা সার্কেলের প্রধান রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, “বাস্তবায়নের দিকটি গতি পাবে, এমন কোনো ইঙ্গিতও নেই।”
এক বছর পর, 2 ডিসেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন জানায়: নভেম্বর 2025-এ চাকরির কোটা নিয়ে কয়েকটি বাঙালি সংগঠনের কর্মসূচিতে রাঙামাটি জেলা পরিষদ ভবনে পাঁচ দিন তালা ঝোলে; অক্টোবরে স্থানীয় বাঙালিদের বাধায় ভূমি কমিশনের সভা হয়নি; 22 অক্টোবর শরণার্থী টাস্কফোর্সের 12তম সভাও স্থগিত হয়। বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক করা হয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে, ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজকে। কমিটির একটি সভা রাঙামাটিতে হয়েছিল; জেএসএস বার্ষিকীর বিবৃতিতে বলেছে, পাঁচ মাস পরও সেই সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে “কোনো অগ্রগতি নেই”।
প্রথম আলোর 14 সেপ্টেম্বর 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 10 সেপ্টেম্বর 2026 মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে তিনটি কমিটি হয়: প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্রসচিবের সভাপতিত্বে নির্বাহী কমিটি, আর বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে পরামর্শক কমিটি। নির্বাহী কমিটিকে “প্রচলিত আইন, চুক্তির শর্ত ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে” সংশোধন, সংস্কার ও নতুন আইনের সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। 52 জন নাগরিক যৌথ বিবৃতিতে উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, চুক্তির “২৯ বছর পরও এর মৌলিক ধারাগুলো বাস্তবায়িত হয়নি”, আর কমিটিগুলো “গোয়েন্দা নিয়ন্ত্রণমুক্তভাবে” পুনর্গঠনের দাবি তুলেছেন। কমিটিগুলো ভূমি, ভোটার তালিকা বা পুলিশ নিয়ে কোনো সুপারিশ করেছে কি না, তা এই লেখা হালনাগাদের দিন পর্যন্ত প্রকাশিত সূত্রে পাওয়া যায়নি।
সরকার ও জেএসএসের তালিকা আলাদা, তবে তিনটি বিষয়ে দুই পক্ষের নথিই অসম্পূর্ণতা স্বীকার করে: খ-26 (জমিতে জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন), খ-9 (স্থায়ী বাসিন্দাদের ভোটার তালিকা) ও খ-24 (এসআই ও নিচের পুলিশ নিয়োগ)। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন এগুলোকে “চলমান” বা “আংশিক বাস্তবায়িত” বলে; জেএসএসের 2023 সালের প্রতিবেদন বলে আইনে আছে, কার্যকর নয়।
সরকারি প্রতিবেদন অনেক দফাকে “বাস্তবায়িত” ধরে 1998 সালে আইন সংশোধনের ভিত্তিতে; জেএসএস দেখে বিধানটি কার্যকর হয়েছে কি না। জেএসএসের 2023 সালের হিসাবে 25টি সম্পূর্ণ, 18টি আংশিক, 29টি অবাস্তবায়িত; সরকারি হিসাব 2014-এর পিডিএফে 48টি সম্পূর্ণ, 15টি আংশিক, 9টি চলমান, আর 2022–2024-এর বক্তব্যে 65টি বাস্তবায়িত।
আইনে যায় না। জেলা পরিষদ আইনের 64(1)(ক) ধারা (1998) অনুযায়ী বন্দোবস্তযোগ্য খাসজমিসহ যেকোনো জমি পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া ইজারা, বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় বা হস্তান্তর করা যাবে না; রক্ষিত বন, কাপ্তাই প্রকল্প এলাকা ও সরকারের নামে রেকর্ডকৃত জমি ব্যতিক্রম। জেএসএস বলে, বাস্তবে ডেপুটি কমিশনাররা 1900 সালের রেগুলেশন ধরে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি-প্রতিবেদন অনুযায়ী 23 অক্টোবর 2001-এর একটি স্মারক (পাচবিম(প-১)-পাঃ জেলা/বিবিধ/৮৫/২০০০-২৮০) মোতাবেক বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া তিন পার্বত্য জেলায় ভূমি বন্দোবস্ত স্থগিত। ভূমিহীনদের দুই একর বন্দোবস্তের দফা (ঘ-3) নিয়েও প্রতিবেদন একই স্মারকের উল্লেখ করেছে। পিডিএফটি তৈরি অক্টোবর 2014-এ; স্থগিতাদেশটি এখনো বলবৎ কি না, পরের কোনো প্রকাশিত নথিতে পাওয়া যায়নি।
প্রথম আলোর 8 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 22,468টি আবেদন জমা — রাঙামাটির 9,941, খাগড়াছড়ির 7,975, বান্দরবানের 4,552 — আর একটিরও নিষ্পত্তি হয়নি; 2017 সাল থেকে নতুন আবেদন নেওয়া বন্ধ। প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2023-এর প্রতিবেদনে কমিশনের সচিব জানান, 22 হাজারের বেশি আবেদনের কোনোটির সুরাহা হয়নি।
আঞ্চলিক পরিষদ 1 জানুয়ারি 2017 বিধিমালার খসড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় (জেএসএস ও মঙ্গল কুমার চাকমা, 2023)। নভেম্বর 2023-এ ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব বলেন, “বিধিমালার খসড়া নিয়ে পর্যালোচনা চলছে”; এপ্রিল 2024-এ মন্ত্রণালয়-সচিব জাতিসংঘে শিগগির চূড়ান্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন। দেরির কারণ কোনো সরকারি নথিতে ব্যাখ্যা করা পাওয়া যায়নি।
জেলা পরিষদ আইনের 17(1) ধারা অনুযায়ী যিনি বাংলাদেশের নাগরিক, অন্তত 18 বছর বয়সী, আদালতে মানসিকভাবে অসুস্থ ঘোষিত নন, এবং সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। শেষ শর্তটি চুক্তির খ-9 দফা থেকে 1998 সালে যোগ হয়; 2000 সালে 17(2) ধারায় নির্বাচন কমিশনকে পরিষদের ভোটার তালিকা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের 2014 সালের প্রতিবেদন দুটি কারণ লেখে: জমির মালিকানা ভূমি কমিশনে বিচারাধীন বলে স্থায়ী বাসিন্দা নির্ধারণ হয়নি, আর পৃথক তালিকা করা যাবে কি না, সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত “তাগিদপত্র-12” (21 ডিসেম্বর 2011) পর্যন্ত পাঠিয়েও মেলেনি। জেএসএস বলে, 2000 সালের খসড়া ভোটার তালিকা বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি।
1989 সালে; প্রথম আলোর 2016 সালের প্রতিবেদন এটিকে তিন পরিষদের “প্রথম ও একমাত্র নির্বাচন” বলে। এরপর পরিষদগুলো চলেছে সরকারের মনোনীত অন্তর্বর্তী পরিষদ দিয়ে — প্রথমে পাঁচ সদস্যের, পরে 15 সদস্যের। আঞ্চলিক পরিষদের সদস্যরা জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কথা বলে সেখানেও নির্বাচন হয়নি।
জেলা পরিষদ আইনের 62(1) ধারা (1998) অনুযায়ী জেলা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ও তার নিচের সব সদস্যকে পরিষদ প্রবিধানে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিয়োগ দেবে, বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও পরিষদের হাতে, আর নিয়োগে উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার থাকবে। বিধানটি চুক্তির খ-24 দফা থেকে 1998 সালের সংশোধনী আইনে এসেছে; এর আগে পরিষদের এখতিয়ার ছিল সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর ও তার নিচে।
মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন খ-24 দফাকে “আংশিক বাস্তবায়িত” বলে একটিমাত্র পদক্ষেপ দেখিয়ে: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের 4 সেপ্টেম্বর 2010-এর স্মারকে উপজাতীয় পুরুষ প্রার্থীর উচ্চতার শর্ত 5 ফুট 6 ইঞ্চি থেকে 5 ফুট 4 ইঞ্চিতে শিথিল। 2023 সালে তৎকালীন মন্ত্রী বলেন, “পুলিশ নিয়োগ নিয়ে কিছু হয়েছে বলে জানি না।”
জেএসএসের 2023 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী 2018–19 সালে চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভায় নির্বাহী আদেশে তিন পরিষদে “পুলিশ (স্থানীয়)” ও “আইনশৃঙ্খলা সংরক্ষণ ও উন্নয়ন” হস্তান্তর এবং পার্বত্য জেলা পুলিশ বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। জেএসএস বলে, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হয়নি; সরকারি পক্ষের কোনো প্রকাশিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
10 সেপ্টেম্বর 2026 মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে তিনটি কমিটি হয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্রসচিবের সভাপতিত্বে নির্বাহী কমিটি ও একটি পরামর্শক কমিটি (প্রথম আলো, 14 সেপ্টেম্বর 2026)। নির্বাহী কমিটিকে প্রচলিত আইন ও চুক্তির শর্ত পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। ভূমি, ভোটার তালিকা বা পুলিশে নতুন পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 4 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি সমস্যা, পার্বত্য চুক্তি, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন, পার্বত্য জেলা পরিষদ, ভূমি অধিকার
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।