Last updated Oct 19th, 2026
1

গোবিন্দগঞ্জ সাঁওতাল জমি বিরোধের কেন্দ্রে আছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মের 1,842.30 একর, যা পাকিস্তান আমলে রংপুর চিনিকলের আখ খামারের জন্য নেওয়া হয়েছিল। 7 জুলাই 1962 সালের চুক্তিতে শর্ত ছিল, জমিতে আখ ছাড়া অন্য কিছু হলে তা সরকারের কাছে ফেরত যাবে এবং আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সাঁওতাল ও বাঙালি সাবেক মালিকদের উত্তরসূরিরা সেই শর্ত ধরে জমি ফেরত চান; চিনিকল ও সরকারি কর্মকর্তারা বলে আসছেন জমি সরকারের।
চুক্তির ৫ নম্বর ধারার ইংরেজি পাঠ দ্য ডেইলি স্টার 2016 সালে ছেপেছিল: “… if it is decided that the land shall not be acquired for the aforesaid purpose, the said corporation shall surrender the land to the provincial government for its release and restoration … And the corporation shall bear all costs and compensation in connection with the release and restoration of the land.” (দ্য ডেইলি স্টার, নভেম্বর 2016)। এই এক অনুচ্ছেদ নিয়েই ছয় দশকের তর্ক: “release and restoration” মানে জমি কার কাছে ফেরা, আর কখন সেই শর্ত কার্যকর হয়।
এই লেখায় 1962 সালের নথি, জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন, হাইকোর্টের আদেশ, বিচার বিভাগীয় তদন্ত, পুলিশের অভিযোগপত্র এবং চিনিকল ও সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য পাশাপাশি রাখা হয়েছে। প্রতিটি দাবির সঙ্গে উৎসের নাম আছে। উৎসে উৎসে সংখ্যা বা তারিখ না মিললে দুটোই লেখা হয়েছে।
সূচিপত্র
বিরোধটি তিন স্তরের। প্রথমত, 1950-এর দশকে নেওয়া 1,842.30 একরের মালিকানা ও 1962 সালের চুক্তির শর্ত। দ্বিতীয়ত, 6 নভেম্বর 2016 সালের উচ্ছেদ অভিযানে তিন সাঁওতালের মৃত্যু ও ঘরে আগুনের বিচার। তৃতীয়ত, 2019 সাল থেকে একই জমিতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) করার সরকারি সিদ্ধান্ত।
তিনটি প্রশ্নই একই জমিকে ঘিরে, কিন্তু প্রতিটির নথি আলাদা। জমির প্রশ্নে মূল নথি 1962 সালের চুক্তি, পুরোনো খতিয়ান আর 2015 সালের জেলা প্রশাসনের তদন্ত। উচ্ছেদের প্রশ্নে হাইকোর্টের রিট, মুখ্য বিচারিক হাকিমের প্রতিবেদন আর পুলিশের অভিযোগপত্র। ইপিজেডের প্রশ্নে বেপজার গভর্নর বোর্ডের সিদ্ধান্ত আর জেলা প্রশাসনের বক্তব্য। নিচের ছকে মূল দাবিগুলো কে করেছে আর তার বিপরীতে কী বলা হয়েছে, তা সাজানো।
| দাবি | কে বলেছে | বিপরীত বা ভিন্ন বক্তব্য |
|---|---|---|
| অধিগ্রহণের আগে জমির বেশির ভাগের মালিক ছিলেন সাঁওতালরা | জাতীয় আদিবাসী পরিষদ; ডেইলি স্টারের নথি যাচাই (2016); অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাত (2016) | তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ: “জমি কখনো সাঁওতালদের ছিল না, ছিল বাঙালিদের” (14 নভেম্বর 2016); শিল্পসচিবও একই দাবি করেন বলে ডেইলি স্টার জানায় |
| আখ ছাড়া অন্য ফসল হলে জমি ফেরতের শর্ত ভাঙা হয়েছে | গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন, 21 জুন 2015: “আবেদনকারীদের অভিযোগ সত্য” | চিনিকলের তৎকালীন এমডি: চাষযোগ্য 1,502 একরের অর্ধেকে আখ, বাকিতে পালাক্রমে অন্য ফসল; ইজারা বিএসএফআইসির বোর্ড সিদ্ধান্তে |
| শর্ত ভাঙলে জমি ফিরবে আদি মালিকদের কাছে | সাঁওতাল সংগঠন, এএলআরডি, কাপেং ফাউন্ডেশন | চিনিকলের এমডি (নভেম্বর 2016): শর্ত ভাঙলে জমি সরকার নেবে, স্থানীয়রা নয় |
| 6 নভেম্বর 2016 পুলিশ সাঁওতালদের ঘরে আগুন দিয়েছে | গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমের তদন্ত প্রতিবেদন (2017); পুলিশের দুই তদন্ত কমিটি (মার্চ 2017) | রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি (ডিসেম্বর 2016): পুলিশ আগুন দেয়নি, দিয়েছে দুর্বৃত্তরা |
| উচ্ছেদ আইনি প্রক্রিয়ায় হয়নি | জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান (ডিসেম্বর 2016) | সরকারি ভাষ্য: একটি “স্বার্থান্বেষী মহল” সাঁওতালদের দিয়ে চিনিকলের জমিতে স্থাপনা তুলিয়েছিল; অবৈধ দখলমুক্ত করতে অভিযান |
| ইপিজেডে প্রায় দুই লাখ মানুষের কাজ হবে, সাঁওতালরা অগ্রাধিকার পাবেন | বেপজা চেয়ারম্যান (2021); চিনিকলের এমডি (2021, 2022); গাইবান্ধা চেম্বারসহ এলাকাবাসীর স্মারকলিপি (2025) | সাঁওতাল সংগঠন ও 13টি নাগরিক সংগঠন (2025): তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড নয়; আগে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা |
সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার 5 নম্বর সাপমারা ইউনিয়নে। গবেষক পাভেল পার্থ ও কাপেং ফাউন্ডেশনের হিসাবে খামারটি পাঁচ মৌজা জুড়ে: রামপুর, সাপমারা, মাদারপুর, নরেঙ্গাবাদ (নারাংগাবাদ) ও চকরহিমাপুর। চিনিকল নিজে মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীপ্রতিপুর মৌজায়, খামার থেকে প্রায় 20 কিলোমিটার দূরে।
পাভেল পার্থর 2016 সালের প্রবন্ধে কারখানা ও খামারের এই দূরত্বের কথা আলাদা করে লেখা আছে (আইপি নিউজ বিডি, 20 জুলাই 2016)। একই প্রবন্ধ বলছে, চিনিকলটি প্রায় 326 একর জায়গায়, যার 70 একর কেনা। মৌজাগুলোর নাম ডেইলি স্টারের 2016 সালের প্রতিবেদনেও একই: Rampur, Shapmara, Chak Rahimapur, Madarpur ও Narangabad।

তিনটি উৎস নামটিকে এক সাঁওতাল ভূস্বামীর সঙ্গে যুক্ত করে। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের তৎকালীন সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন ডেইলি স্টারকে বলেন, খামারটির নাম বাগদা সরেন নামে এক সাঁওতাল নেতার নামে। ডেইলি স্টার চকরহিমাপুর মৌজার 5 ফেব্রুয়ারি 1937 তারিখের নথি (জেএল-114 ও 187) দেখে জানায়, সেখানে বাগদা সরেন জমির মালিক, আর তিনি জমিটি আরেক সাঁওতালকে (ডেইলি স্টারের ইংরেজি প্রতিবেদনে নাম Bujun Hasda) চাষের জন্য দিয়েছিলেন। আবুল বারাকাতও প্রথম আলোকে একই কথা বলেন (প্রথম আলো, 15 নভেম্বর 2016)।
পাভেল পার্থর প্রবন্ধে আরেকটু পুরোনো স্তর আছে: ঘোড়াঘাট পরগনার বগদহ মৌজার জমিদার ছিলেন বাগদা সরেন; ঘোড়াঘাটের জমিদার অখিল চন্দ্র চক্রবর্তী তাঁর জমিতে একটি চিনিকল তৈরি করেন, আর সেটির নাম হয় “বাগদা ফার্ম”। প্রবন্ধের ভাষ্যে, 1940-এর পর সেই কারখানা বন্ধ হতে থাকে এবং রায়তরা জমির স্বত্ব পান। এই বিবরণ কেবল পাভেল পার্থর প্রবন্ধেই পাওয়া যায় (আইপিনিউজ বিডি, 20 জুলাই 2016); অন্য কোনো উৎসে এর সমর্থন পাওয়া যায়নি।
উৎসভেদে গ্রামের সংখ্যা আলাদা। ডেইলি স্টার (2016), পাভেল পার্থ ও কাপেং ফাউন্ডেশন বলছে 20টি গ্রাম, যার 15টি সাঁওতাল ও পাহাড়িয়া, 5টি বাঙালি। bdnews24-এর একাধিক প্রতিবেদন বলছে 18টি গ্রাম। ঢাকা ট্রিবিউন (2019) ও দ্য বর্ডারলেন্স (2025) লিখেছে 21টি গ্রামের প্রায় 22,500 পরিবার উচ্ছেদ হয়েছিল। পাভেল পার্থর ভাষ্যে উচ্ছেদ হওয়া অনেকে নাটোর, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারীতে চলে যান; আবুল বারাকাতের ভাষ্যে রাজশাহী ও জয়পুরহাটে।
2016 সালে ডেইলি স্টার পুরোনো খতিয়ান, 1940 সালে শেষ হওয়া ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে (সিএস) আর 1962 সালের চুক্তি মিলিয়ে দেখে লেখে, নথিগুলো সাঁওতালদের দাবি সমর্থন করে। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের দাবি, প্রায় 1,842 একরের মধ্যে প্রায় 1,200 একর ছিল সাঁওতালদের, বাকিটা বাঙালি ও অন্য আদিবাসীদের। তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য এই দাবি অস্বীকার করেন।
রবীন্দ্রনাথ সরেন ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, “Almost 1,200 of about 1,842 acres of land were taken from Santals. We have land documents and also khatian [survey] maps.” একই প্রতিবেদনে গাইবান্ধা-4 আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের উদ্ধৃতি: “That land never belonged to Santals; it was owned by Bangalees.” প্রতিবেদন অনুযায়ী শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াও দাবি করেন সাঁওতালরা কখনো এই জমির মালিক ছিলেন না (দ্য ডেইলি স্টার, নভেম্বর 2016)।
গবেষক পাভেল পার্থ পত্রিকাটিকে বলেন, তিনি ওই মৌজাগুলোর 1937 সালের রেকর্ড দেখেছেন এবং সেখানে সাঁওতালরাই আদি মালিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক আবুল বারাকাত ঘটনাস্থল ঘুরে প্রথম আলোকে বলেন, “১৯৪০ সালের আরএস রেকর্ড অনুযায়ী, এই জমির মালিক মূলত সাঁওতালরা; এর সঙ্গে কিছু কোল ও ওঁরাও জনগোষ্ঠীর জমিও আছে।” তাঁর ভাষ্যে, 1962 সালের সীমানা নির্ধারণে মালিকদের অধিকাংশের নামের পদবি সরেন, টুডু, মুন্ডা। ডেইলি স্টার 1940 সালের জরিপকে সিএস বলেছে, বারাকাত বলেছেন আরএস।
পাভেল পার্থর প্রবন্ধ জমির ধরনও লিখেছে: বিশটি গ্রামে দলা ও ডাঙ্গাসহ তিন ধরনের জমি, পুকুর, সাঁওতালদের জাহেরথান ও মাঝিথান, পাহাড়িয়াদের ধর্মস্থল, বাঙালিদের মন্দির, মসজিদ ও কবরস্থান, আর “লায়েক জংগল” নামে গ্রামীণ বন। সাঁওতাল গ্রামের মাঝিথান যে প্রতিষ্ঠানের জায়গা, সেই মাঝি হাড়াম ও গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে: মাঝি হাড়াম কে, আর সাঁওতাল গ্রামে বিচার-শাসন কীভাবে চলে।
অধিগ্রহণের বছর নিয়ে উৎসগুলো একমত নয়। পাভেল পার্থ ও ডেইলি স্টারের নথি-যাচাই অনুযায়ী জমি নেওয়া হয় 1955–56 সালে, আর চুক্তি সই হয় প্রায় ছয় বছর পরে, 7 জুলাই 1962। ডেইলি স্টারের 2019 সালের এক প্রতিবেদন অধিগ্রহণের বছর লিখেছে 1952; সিপিবির 2021 সালের বিবৃতি 1954–55; অনেক সংবাদ প্রতিবেদন সরাসরি 1962।
পাভেল পার্থ লিখেছেন, সরকারি ভাষ্যমতে জমিটি নেওয়া হয় 1948 সালের “রিক্যুইজিশন অব প্রপার্টি অ্যাক্ট” অনুযায়ী। ডিসেম্বর 2024-এ জাতীয় নাগরিক সমন্বয় কমিটির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জমিটি “রিকুইজিশন অর্থাৎ অফিস আদেশের মাধ্যমে সাময়িক সময়ের জন্য” ব্যবহার করতে নেওয়া হয়েছিল (প্রথম আলো, 29 ডিসেম্বর 2024)। জুন 2025-এর আরেক সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে শব্দটি “হুকুম দখল” (প্রথম আলো, 19 জুন 2025)। অন্যদিকে 2021 সালে ইপিজেড প্রকল্প পরিচালক ডেইলি স্টারকে বলেন, “the 1,842 acres of land were fully acquired during the Pakistan period।”
ডেইলি স্টার চুক্তির পাঠ থেকে জানায়, 20 গ্রামের 1,842 একরের জন্য পাকিস্তান সরকার “Rs 8,07,318-10-6” দিয়েছিল। পাভেল পার্থর প্রবন্ধে একই অঙ্ক, সঙ্গে তিনটি তারিখ: পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন টাকাটা রংপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে অগ্রিম জমা দেয় 19/5/1955, 29/2/1956 ও 5/10/1956 তারিখে।
জমিমালিকদের ভাষ্য প্রবন্ধে এভাবে লেখা: সরকার জমির কোনো দাম দেয়নি; জমিতে থাকা ফসল, গাছপালা, কুয়া ও ঘরবাড়ির একটা মূল্য ধরা হয়েছিল। অধিগ্রহণপত্রে জমির ধরন বা জমিতে কী ছিল তার উল্লেখ নেই, আর অনেক মালিকের নামের পাশে কেবল টিপসই। আবুল বারাকাত প্রথম আলোকে বলেন, আদিবাসীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল এমন তথ্য তিনি কোনো কাগজে পাননি। কত মালিক আসলে টাকা পেয়েছিলেন, তার কোনো তালিকা প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
দুটি ধারা নিয়ে বিরোধ। ৩ ধারা বলছে, প্রাদেশিক সরকার সাহেবগঞ্জে আখ খামার গড়ার জন্য জমির দখল করপোরেশনকে দেবে, কিন্তু করপোরেশন অধিকৃত সম্পত্তির চরিত্র বদলাতে পারবে না। ৫ ধারা বলছে, উদ্দেশ্য বদলালে করপোরেশন জমি প্রাদেশিক সরকারের কাছে “release and restoration”-এর জন্য ফেরত দেবে এবং তার সব খরচ ও ক্ষতিপূরণ বহন করবে।
৩ ধারার যে অংশ ডেইলি স্টার ছেপেছে: “… the provincial government shall make over possession of the said land to the aforesaid corporation for the purpose of establishment of a sugarcane farm at Sahebganj. But the aforesaid corporation shall not change the character of the requisitioned property.” এখানে জমিকে “requisitioned property” বলা হয়েছে।
পাভেল পার্থ চুক্তির বাংলা পাঠ থেকে উদ্ধৃত করেছেন: “…১৮৪২.৩০ একর সম্পত্তি ইক্ষু ফার্ম করার জন্য লওয়া হইল। উক্ত সম্পত্তিতে ইক্ষু চাষের পরিবর্তে যদি কখনো কি কোন সময় অন্য কোন ফসল উৎপাদিত হয় অর্থাৎ যে উদ্দেশ্যে সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা হইয়াছে সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না করিয়া অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় … পাকিস্তান ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন অধিগ্রহণকৃত ১৮৪২.৩০ একর সম্পত্তি সরকার বরাবর ফেরত (সারেন্ডার) প্রদান করিবেন। দেশের সরকার বাহাদুর উক্ত সম্পত্তি গ্রহণ করিয়া পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়া (রেসটোরেশন) যাইতে পারিবেন।”
চুক্তির পক্ষ নিয়েও তিন রকম বর্ণনা আছে। ডেইলি স্টার (2016) বলছে, চুক্তিটি রংপুর জেলা প্রশাসন ও পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের মধ্যে; ডেইলি স্টারের 2019 সালের প্রতিবেদন লিখেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় “on behalf of land owners” চুক্তিতে সই করে। পাভেল পার্থ ও ডেইলি স্টার বাংলার 2024 সালের লেখা বলছে, চুক্তি করপোরেশন ও পূর্ব পাকিস্তান সরকারের মধ্যে। ঢাকা ট্রিবিউন (2019) লিখেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে।
অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) কর্মসূচি কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট একেএম বুলবুল ডেইলি স্টারকে বলেন, জমি এখন সরকারের, কিন্তু ৫ ধারার “unique clause”-এর কারণে সাঁওতালদের দাবি টিকে আছে, আর জমি আদি মালিককে ফেরত দেওয়া সরকারের নৈতিক দায়। একই প্রতিবেদন 1982 সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল অধ্যাদেশের ১৭ ধারাও উদ্ধৃত করেছে: সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া অধিগৃহীত সম্পত্তি অধিগ্রহণের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
চিনিকলের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আউয়াল নভেম্বর 2016-এ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “If the mill breaches any terms of the contract, the land should be reclaimed by the government, not by the locals.” (ঢাকা ট্রিবিউন, 7 নভেম্বর 2016)। ৫ ধারার “restoration” শব্দের আদালত-স্বীকৃত কোনো ব্যাখ্যা, অর্থাৎ এর মানে আদি মালিকের কাছে ফেরা কি না, প্রকাশিত কোনো রায়ে পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন স্বাধীনতার পর বিলুপ্ত হয়; চিনিকল যায় বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) অধীনে। পাভেল পার্থর ভাষ্যে 1972 সালে চিনিকলটি রাষ্ট্রায়ত্ত ঘোষণা করা হয়।
একটি পার্থক্য মনে রাখা দরকার। সমতলের আদিবাসী রায়তের জমি বিক্রি, দান বা উইল নিয়ন্ত্রণ করে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭ ধারা, যার পূর্ণ পাঠ আছে প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭ ধারা নিয়ে আমাদের লেখায়। সাহেবগঞ্জের জমি গিয়েছিল ব্যক্তির হাতবদলে নয়, রাষ্ট্রের হুকুম দখল বা অধিগ্রহণে; তাই বিরোধের দলিল এখানে 1962 সালের চুক্তি।
চিনিকলের সূত্র অনুযায়ী মহিমাগঞ্জে কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয় 1955 সালে, আখমাড়াই শুরু 1957 থেকে। 31 মার্চ 2004 লে-অফ ঘোষণা হয়, পরে আবার চালু হয়, আর সর্বশেষ ডিসেম্বর 2020-এ আখমাড়াই স্থগিত করা হয়। 15 ডিসেম্বর 2024 সেই স্থগিতাদেশ তোলা হলেও রংপুর চিনিকল আবার চালুর কোনো তারিখ প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
| সময় | ঘটনা | উৎস |
|---|---|---|
| 1954–1957 | নির্মাণ শুরু 1954, শেষ 1957; উৎপাদন 1957–58 মৌসুম থেকে | পাভেল পার্থ, 2016 |
| 1955 / 1957 | প্রতিষ্ঠা 1955, আখমাড়াই শুরু 1957 | চিনিকল সূত্র, প্রথম আলো 2023 |
| 1971–1972 | মুক্তিযুদ্ধে বন্ধ, 1972 সালে আবার চালু ও রাষ্ট্রায়ত্ত | পাভেল পার্থ, 2016 |
| 2002 / 2004 | 2002 সালে একবার এবং 2004 সালে সাময়িক বন্ধ (লে-অফ) | আবুল বারাকাত, প্রথম আলো 2016 |
| 31 মার্চ 2004 | লে-অফ ও পে-অফ ঘোষণা | পাভেল পার্থ; চিনিকল সূত্র, প্রথম আলো 2023 |
| 2006 / 2007 / 2008 | শিল্প মন্ত্রণালয়ের পুনরায় চালুর নির্দেশ 16 জুলাই 2006 (পাভেল পার্থ); আবার মাড়াই 2007 (চিনিকল সূত্র); 2003–2008 বন্ধ, 2008-এর শেষে আংশিক চালু (স্থানীয় সূত্র, ঢাকা ট্রিবিউন 2016); 2006-এ আবার চালু (ডেইলি স্টার 2016) | একাধিক |
| 2007–08 থেকে 2014–15 | 2007–08 মৌসুমে 33 দিন চলে 5,325 টন চিনি; 2013–14-এ 5,268 টন; 2014–15-এ 2,440 টন; বছরে 15 থেকে 45 দিন চালু | পাভেল পার্থ, 2016 |
| 1 বা 2 ডিসেম্বর 2020 | আখমাড়াই স্থগিত; একই সঙ্গে শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনা ও পঞ্চগড় চিনিকলও | বিএসএফআইসি, প্রথম আলো 2026 (1 ডিসেম্বর); চিনিকল সূত্র, প্রথম আলো 2023 (2 ডিসেম্বর) |
| 15 ডিসেম্বর 2024 | বিএসএফআইসি ছয় চিনিকলের মাড়াই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে; তিন ধাপে চালুর কথা | প্রথম আলো, 2024 ও 2026 |
| জানুয়ারি 2026 | টাস্কফোর্সের সুপারিশে প্রথম ধাপে কেবল শ্যামপুর ও সেতাবগঞ্জ, 2027–28 মৌসুম থেকে; অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ ছাড়ে আপত্তি জানিয়েছে | প্রথম আলো, 18 জানুয়ারি 2026 |
চিনিকল সূত্র 2023 সালে প্রথম আলোকে জানায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে চিনিকলটির লোকসান 540 কোটি টাকা, ব্যাংক ঋণ 288 কোটি টাকা। 2020 সালের আগে স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মী ছিলেন 1,100 জন, তখন 89 জন। ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাছুমা আক্তার জাহান বলেন, “চিনিকল বন্ধ হয়নি, মাড়াই স্থগিত করা হয়েছে।” (প্রথম আলো, 15 আগস্ট 2023)।
নভেম্বর 2024-এ অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, সরকার ছয়টি বন্ধ চিনিকলে উৎপাদন আবার চালুর জন্য কাজ করছে এবং এ জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, নভেম্বর 2024)। পরের মাসে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা অভিযোগ করেন, কোনো মূল্যায়ন ছাড়াই বন্ধ চিনিকল চালুর উদ্যোগ নিয়ে সাঁওতালদের উচ্ছেদের চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর দেওয়া হিসাবে দেশে বছরে চিনির চাহিদা 22 লাখ টন, সরকারি চিনিকলগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন এক লাখ টনের কম (প্রথম আলো, 29 ডিসেম্বর 2024)।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী 1,842.30 একরের মধ্যে আনুমানিক 1,502 একর ইজারা দেওয়া হয়েছিল, বাকি প্রায় 340 একরে স্টাফ কোয়ার্টার, রাস্তা ও পুকুর। 2014–15 অর্থবছরে আখ হয়েছিল 92 থেকে 98 একরে। গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক 21 জুন 2015 সালের প্রতিবেদনে আবেদনকারীদের অভিযোগ সত্য বলে মত দেন।
পাভেল পার্থর প্রবন্ধ অনুযায়ী ইজারা দেওয়া 1,502 একরে 2013–14 অর্থবছরে 29 মাসের জন্য ধান, তামাক, গম, পাট ও শাকসবজি হচ্ছিল। উপজেলা ভূমি অফিসের 28 জুন 2015 সালের চিঠিতে পাঁচ মৌজার 92 থেকে 97 একরে 2014–15 সালে আখ চাষের কথা আছে। ডেইলি স্টার আরেকটি নথির কথা জানায়, যেখানে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলেয়া খাতুন লেখেন, 2014–15 অর্থবছরে চিনিকল আখ করেছে মাত্র 98 একরে; আর মে 2015-এ ভূমি অফিসের পরিদর্শনে দেখা যায় আলু, তামাক, কুমড়া ও ধানের চাষ।
সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি 15 মার্চ 2015 জেলা প্রশাসকের কাছে জমি ফেরতের আবেদন করে। 30 মার্চ 2015 অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সার্ভেয়ারসহ সরেজমিন তদন্ত করে ধান, তামাক ও মিষ্টিকুমড়ার আবাদ দেখেন; চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য শোনা হয়। 21 জুন 2015 সালের প্রতিবেদনের শেষে মত: “আবেদনকারীদের অভিযোগ সত্য”। কাপেং ফাউন্ডেশন প্রতিবেদনটির স্মারক নম্বরও দিয়েছে: 05.55.3200.030.00.001.15-41 (কাপেং ফাউন্ডেশন, 2016)।
ঢাকা ট্রিবিউন জেলা প্রশাসনের গোপন প্রতিবেদন থেকে জানায়, প্রশাসন চিনিকলের কাছে জানতে চেয়েছিল কেন অন্য ফসল হচ্ছে আর কেন ইজারা দেওয়া হয়েছে। জবাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, অধিগৃহীত জমির মধ্যে চাষযোগ্য কেবল প্রায় 1,502 একর; তার অর্ধেকে আখ, বাকিতে পালাক্রমে অন্য ফসল হয়। তিনি আরও জানান, সেপ্টেম্বরে 500 থেকে 700 একরে আখ চাষের পরিকল্পনা আছে (ঢাকা ট্রিবিউন, 16 ডিসেম্বর 2016)।
ইজারার সিদ্ধান্ত কবে, তা নিয়ে উৎসে অমিল আছে। পাভেল পার্থ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন থেকে লিখেছেন, বিএসএফআইসির 25/8/2009 তারিখের 1874 নম্বর বোর্ড সভার সিদ্ধান্তে ইজারা; ডেইলি স্টারও সিদ্ধান্তের বছর 2009 লিখেছে; ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছে 25 আগস্ট 2015।
ইজারার শর্ত নিয়েও দুই বিবরণ। ঢাকা ট্রিবিউনের ডিসেম্বর 2016 সালের প্রতিবেদন বলছে, প্রায় 800 একর রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের ইজারা দেওয়া হয়েছিল এই শর্তে যে 80 শতাংশ জমিতে আখ হবে, আর ইজারাদাররা শর্ত ভেঙেছেন; প্রতিবাদের মুখে চিনিকল 2015 সালে ইজারা ব্যবস্থা বাতিল করে। একই পত্রিকার নভেম্বর 2016 সালের প্রতিবেদনে এক স্থানীয় সূত্র বলেছেন, শর্ত ছিল অন্তত 10 শতাংশে আখ, বাকি 90 শতাংশে অন্য ফসল।
আবুল বারাকাত প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালীদের নামে-বেনামে বিঘাপ্রতি 10 থেকে 20 হাজার টাকা দরে জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে, এবং তাঁর হিসাবে এই ইজারা থেকে শত কোটি টাকার বেশি আদায় হয়েছে। এই হিসাবের পদ্ধতি প্রতিবেদনে নেই। পাভেল পার্থ আরও লিখেছেন, চিনিকল কর্তৃপক্ষ খামারের ভেতর ছয়টি পুকুর কেটে মাটি বিক্রি করেছে; এটি কেবল তাঁর প্রবন্ধের ভাষ্য (আইপিনিউজ বিডি, 2016); এ দাবির পক্ষে অন্য কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।
ডিসেম্বর 2016-এ সফরে গিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, “চিনিকল বন্ধ কিংবা অন্য কোনো কারণে মিলের জমি যদি লিজ দিতে হয়, তবে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাঁওতালদের দিতে পারত। কিন্তু কোনোভাবেই প্রভাবশালীদের দেওয়া ঠিক হয় নাই।” (bdnews24, 12 ডিসেম্বর 2016)।
কাপেং ফাউন্ডেশনের হিসাবে সাঁওতাল ও বাঙালি কৃষকেরা 2014 সাল থেকে 1,842.30 একর ফেরত চাইছিলেন। 2015 সালে জেলা প্রশাসনের তদন্তের পর 2016 সালের মে মাসে একই জমিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাব যায়। 1 জুলাই 2016 থেকে সাঁওতাল ও বাঙালি পরিবারগুলো খামারের প্রায় 100 একরে ঘর তুলতে শুরু করে।
আবুল বারাকাতের ভাষ্যে মিল বন্ধের পর 2002 সালের দিকে আন্দোলন শুরু, আর 2014 সালে জমি উদ্ধার কমিটি গঠিত হয়। ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছে, সাঁওতালরা প্রথম জমি ফেরত চান 2004 সালে, যখন বেসরকারীকরণ নীতিতে চিনিকলের লে-অফ ঘোষণা হয়। ডেইলি স্টার বাংলার এক মতামত লেখায় কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কের বর্ণনা আছে: 2013 সালে সাপমারা ইউনিয়নের শাকিল আকন্দ বুলবুলের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু, বুলবুল ছিলেন কমিটির সভাপতি, আর ফিলিমন বাস্কে সাধারণ সম্পাদক; 2016 সালের ইউপি নির্বাচনের পর বুলবুলের অবস্থান বদলায় (মোস্তফা সবুজ, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, নভেম্বর 2024)। এটি ফিলিমন বাস্কের ভাষ্য; বুলবুলের কোনো জবাব প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
কাপেং ফাউন্ডেশন ও পাভেল পার্থর তথ্যে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক 10 মে 2016 বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের কাছে জমিটিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাব পাঠান (স্মারক 05.55.3200.023.16.027.15-233(3))। ডেইলি স্টার একই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের 15 মে 2016 তারিখের একটি নথির কথা লিখেছে, যেখানে 1,842 একরকে “abandoned and not in use” বলা হয়েছে। তখনকার জেলা প্রশাসক আবদুস সামাদ পত্রিকাটিকে বলেন, “Yes. We submitted a proposal for a special economic zone. Now the government will decide on it.” আবুল বারাকাত একই প্রতিবেদনে বলেন, জমিটি তিন ফসলি, মহাসড়ক বা নৌপথের সঙ্গে যুক্ত নয়, তাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উপযোগী নয়।
ঢাকা ট্রিবিউন পুলিশের 2 জুলাই 2016 সালের প্রতিবেদন থেকে জানায়, 24 জুন শিল্পসচিবকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাঁওতালদের দাবির কথা জানানো হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের 5 মে 2016 তারিখের চিঠিতে সতর্ক করা হয়, শান্তিপূর্ণ সমাধান না হলে প্রাণহানি ও সম্পদ নষ্টের বড় আশঙ্কা আছে। ঘটনার পর গঠিত একটি কমিটির গোপন প্রতিবেদনে চিনিকলের ব্যবস্থাপক ও শিল্পসচিবের “indifference”-এর কথা আছে বলেও পত্রিকাটি জানায়।
কাপেং ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী 1 জুলাই 2016 থেকে প্রায় 1,200 সাঁওতাল পরিবার ও 300 বাঙালি পরিবার প্রায় 100 একরে অস্থায়ী ঘর ও একটি স্কুল তোলে; কাপেংয়ের ইংরেজি প্রতিবেদনে স্কুলটির নাম লেখা Fulmoni Murmu Sishu Shikkha O Sankritik Kendro। 12 জুলাই চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করে; কাপেংয়ের ভাষ্যে পুলিশের গুলিতে এক নারীসহ চারজন আদিবাসী গুরুতর আহত হন এবং পরে কারাগারে যান। পরে চারটি মামলা হয়। আসামির সংখ্যা কাপেং বলছে 31 জন নামসহ ও 400–500 অজ্ঞাত, পাভেল পার্থ বলছেন 51 জন।
6 নভেম্বর 2016 সকালে চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা পুলিশ নিয়ে খামারে আখ কাটতে গেলে সাঁওতালদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে তিন সাঁওতাল শ্যামল হেমব্রম, মঙ্গল মার্ডি ও রমেশ টুডু মারা যান; নয় পুলিশ সদস্য তীরবিদ্ধ হন। এরপর বসতি উচ্ছেদ হয়, ঘরে আগুন দেওয়া হয়। কে কখন কী করেছে, তার বিবরণ পক্ষভেদে আলাদা।
চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আউয়াল ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, সাঁওতালদের অভিযোগ “baseless and unfounded”। তাঁর বক্তব্য: “The mill will reopen from December this year and we were harvesting sugarcane as a preparation. When our contractor went to the land for cutting crops, the local people protested and attacked our staff.” ইজারা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “Following government rule, the authorities lease the land to well-off people of the area. We can do that.” আর: “the Santals have illegally occupied the land of the sugar mill.”
রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক ডিসেম্বর 2016-এ ডেইলি স্টারকে বলেন, পুলিশ কোনো ঘরে আগুন দেয়নি; সাঁওতাল ও বাঙালি বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে চিনিকলের কর্মীদের সংঘর্ষের পর পুলিশ গ্রামে যায়, আর ঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা (দ্য ডেইলি স্টার, ডিসেম্বর 2016)। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সফরের খবরে bdnews24 সরকারি ভাষ্য লিখেছে: একটি “স্বার্থান্বেষী মহল” জমি উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে সাঁওতালদের সংগঠিত করে চিনিকলের জমিতে অস্থায়ী স্থাপনা তৈরি করিয়েছিল, আর অবৈধ দখলমুক্ত করতেই অভিযান।
ঢাকা ট্রিবিউন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রবীন্দ্রনাথ সরেন ও ভূমি উদ্ধার কমিটির ফিলিমন বাস্কের বরাতে লেখে, আখ কাটতে আসা কর্মীদের সাঁওতালরা তাড়া করেন, এরপর তীর-ধনুক দিয়ে পুলিশকে আক্রমণ করেন, আর পুলিশ গুলি ছোড়ে। কাপেং ফাউন্ডেশনের বিবরণে প্রায় 500 পুলিশ ও র্যাব সদস্য এবং চিনিকলের লোকজন সকাল 10টার দিকে আসে, আদিবাসী ও বাঙালিরা তীর-ধনুক নিয়ে বাধা দেন, পুলিশ ও র্যাব গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
পাভেল পার্থর 2021 সালের লেখায় আরেক বিবরণ: সকালে চিনিকল কর্তৃপক্ষ পুলিশ, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও শ্রমিক নিয়ে কাটাবাড়ি মোড়ে আসে; আদিবাসী-বাঙালিরা গণমাধ্যম ও জনপ্রতিনিধিদের সামনে আখ কাটতে বলেন, যাতে পরে “চুরির” অভিযোগ না ওঠে; কথা কাটাকাটির মধ্যে ইউনিয়নের এক মেম্বার পুলিশের দিকে তীর ছোড়েন বলে লেখক জানান, এরপর পুলিশ ঘোষণা ছাড়া গুলি চালায়; বিকেলে আবার অভিযান হয় (পাভেল পার্থ, সমকাল, নভেম্বর 2021)। তীর ছোড়ার এই অংশটি কেবল এই লেখকের বিবরণে আছে; অন্য কোনো উৎসে এর সমর্থন পাওয়া যায়নি।
নিহত তিনজনের নাম প্রায় সব উৎসে একই: শ্যামল হেমব্রম, মঙ্গল মার্ডি ও রমেশ টুডু। আমাদের আর্কাইভে সঞ্জীব দ্রংয়ের 2019 সালের প্রবন্ধেও এই তিন নাম আছে (ভূমিই জীবন, ভূমিই পরিচয়, ভূমিই অস্তিত্বের প্রতীক)। কাপেংয়ের বিবরণে শ্যামল হেমব্রম সে রাতে মারা যান, আর মঙ্গল মার্ডির মরদেহ 7 নভেম্বর রাতে চিনিকলের এক ধানক্ষেত থেকে পুলিশ উদ্ধার করে; পাভেল পার্থ লিখেছেন রমেশ টুডু আহত অবস্থায় বাড়িতে মারা যান।
আহতের সংখ্যা উৎসভেদে 20 থেকে 30। ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো লিখেছে নয় পুলিশসহ 20 জন; bdnews24 ও ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছে নয় পুলিশসহ অন্তত 30 জন, যাঁদের মধ্যে চার সাঁওতাল গুলিবিদ্ধ; কাপেং লিখেছে 17 আদিবাসী ও 8 আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ 30 জন।
উচ্ছেদ হওয়া মানুষের হিসাব আরও ছড়ানো: প্রায় 600 সাঁওতাল (ঢাকা ট্রিবিউন, ডিসেম্বর 2016); 1,000 থেকে 1,200 পরিবার (ঢাকা ট্রিবিউন, নভেম্বর 2016); 1,200-র বেশি পরিবার (কাপেং); 1,200 সাঁওতালসহ 1,500 পরিবার (ডেইলি স্টার, 2016); প্রায় 2,500 সাঁওতাল ও বাঙালি পরিবার (ডেইলি স্টার, 2021); 2,000-এর বেশি মানুষ (দ্য বর্ডারলেন্স, 2025)। উচ্ছেদের পর মানুষজন পাশের মাদারপুর ও জয়পুর গ্রামে, মাদারপুর গির্জার সামনের মাঠে আশ্রয় নেন।
11 ডিসেম্বর 2016 আল জাজিরা 2 মিনিট 21 সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রচার করে। ডেইলি স্টারের বর্ণনায় ভিডিওতে একজন ইউনিফর্ম পরা পুলিশ সদস্যকে আরেকজনের সঙ্গে একটি কুঁড়েঘরে আগুন দিতে দেখা যায়; পত্রিকাটি জানায়, ভিডিওটি গাইবান্ধার কি না, তা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। গাইবান্ধার তৎকালীন পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম বলেন, “We have no such report … It will be verified.” বাংলা ট্রিবিউন 12 ডিসেম্বর প্রায় সাড়ে তিন মিনিটের আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে।
পাভেল পার্থ ও সঞ্জীব দ্রং দুজনেই লিখেছেন, পোড়া বসতির জায়গায় ট্রাক্টর চালিয়ে মাটি সমান করা হয়। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ জানুয়ারি 2017-এ অভিযোগ করে, চিনিকল কর্তৃপক্ষ পোড়া ও ভাঙা ঘর মাটির সঙ্গে মিশিয়ে প্রমাণ নষ্ট করেছে, আর মাদারপুর ও জয়পুরের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে (দ্য ডেইলি স্টার, জানুয়ারি 2017)। কাঁটাতারের বেড়ার সমালোচনা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানও করেন।
6 নভেম্বর রাতেই গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই কল্যাণ চক্রবর্তী মামলা করেন; bdnews24 বলছে 38 জনের নাম উল্লেখ করে সাড়ে 300 জনের বিরুদ্ধে, কাপেং বলছে 42 জনের নামসহ 400 জনের বিরুদ্ধে। bdnews24-এর মার্চ 2017 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী পুলিশ ও চিনিকল কর্তৃপক্ষ সেদিনের ঘটনায় 122 জন বাঙালি ও সাঁওতালের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করে; 6 মার্চ 2017 তাঁদের 71 জন স্থায়ী জামিন পান (bdnews24, 6 মার্চ 2017)।
নভেম্বর 2016 থেকে 2017 পর্যন্ত হাইকোর্ট কয়েকটি রিটে আদেশ দেয়: সাঁওতালদের নিরাপত্তা ও চলাফেরা নিশ্চিত করা, আমন ধান তাঁদের হাতে দেওয়া, উচ্ছেদ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তার রুল, মুখ্য বিচারিক হাকিমকে দিয়ে আগুনের তদন্ত, পুলিশ সুপার প্রত্যাহার, আর পুনর্বাসন নিয়ে রুল। এর কোনো রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
| তারিখ | আদেশ | উৎস |
|---|---|---|
| 17 নভেম্বর 2016 | আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ তিন সংগঠনের রিটে: সাঁওতালদের নিরাপত্তা ও অবাধ চলাফেরা নিশ্চিত করা, সাঁওতাল পরিবারগুলোকে ধান কাটতে দেওয়া, হামলা নিয়ে আইনি পদক্ষেপের প্রতিবেদন | দ্য ডেইলি স্টার, ডিসেম্বর 2016 |
| নভেম্বর 2016 | চিনিকল কর্তৃপক্ষকে 30 নভেম্বরের মধ্যে আমন ধান সাঁওতালদের হাতে দিতে নির্দেশ; চিনিকল পরে জানায় 49 একরের ধান কেটে সাঁওতালদের দেওয়া হয়েছে | দ্য ডেইলি স্টার, নভেম্বর ও ডিসেম্বর 2016 |
| 22 নভেম্বর 2016 | অলিভিয়া হেমব্রমসহ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই সাঁওতাল নারীর রিটে রুল: উচ্ছেদের নামে লুট, অগ্নিসংযোগ, গুলি ও হত্যা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধিতে ব্যবস্থার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না; 12 জন বিবাদী, যাঁদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র, শিল্প, ভূমি ও আইন সচিব এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য | ঢাকা ট্রিবিউন, 22 নভেম্বর 2016 |
| ডিসেম্বর 2016 | জেলা প্রশাসকের 30 নভেম্বরের প্রতিবেদনে “বাঙালি দুষ্কৃতকারী” শব্দ ব্যবহারের ব্যাখ্যা দিতে তাঁকে 12 ডিসেম্বর তলব | দ্য ডেইলি স্টার, ডিসেম্বর 2016 |
| 14 ডিসেম্বর 2016 | আগুনে পুলিশের জড়িত থাকার অভিযোগ 15 দিনের মধ্যে তদন্ত করতে গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ; দুই এজাহারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে পিবিআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দিয়ে তদন্তের নির্দেশ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকে | বাংলা ট্রিবিউন, 30 জানুয়ারি 2017 |
| 8 জানুয়ারি 2017 | সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুপ্রকাশ দত্তের রিটে রুল: আগুনের প্রমাণ নষ্টের জন্য চিনিকলের এমডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া কেন অবৈধ হবে না; এমডিকে কারণ জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ | দ্য ডেইলি স্টার, 2017 |
| 7 ফেব্রুয়ারি 2017 | বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের শুনানি শেষে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার ও ঘটনাস্থলে নিয়োজিত সব পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের নির্দেশ | অগ্রসর, 7 ফেব্রুয়ারি 2017; ঢাকা ট্রিবিউন, 9 মার্চ 2017 |
| 2017 | স্বতঃপ্রণোদিত রুল: উচ্ছেদে ভূমিহীন হওয়া সাঁওতালদের পুনর্বাসনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না; জেলা প্রশাসক ও ইউএনওকে দুই সপ্তাহে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ | দ্য ডেইলি স্টার, 2017 |
22 নভেম্বরের রিটের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী উচ্ছেদের অন্তত 30 দিন আগে দখলদারকে নোটিশ দিতে হয়, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক সাঁওতালদের তেমন নোটিশ দেননি, আর গোবিন্দগঞ্জের ইউএনও দাপ্তরিক কর্তৃত্ব ছাড়া অভিযানের নেতৃত্ব দেন (ঢাকা ট্রিবিউন, 22 নভেম্বর 2016)। এটি আবেদনকারীদের যুক্তি; রুলের জবাবে সরকার কী বলেছে, তা প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
চিনিকলের পক্ষে আইনজীবী এ এম মাসুম 2017 সালে হাইকোর্টে একটি প্রতিপালন প্রতিবেদন দেন, যেখানে বলা হয়, আখ উৎপাদনের সরকারি জমি অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে চিনিকল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে (দ্য ডেইলি স্টার, 2017)।
গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহ ফেব্রুয়ারি 2017-এ হাইকোর্টে 65 পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দেন। তাতে বলা হয়, স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে ডিবির একজনসহ তিন পুলিশ সদস্য অগ্নিসংযোগে জড়িত, তবে হেলমেট পরা থাকায় তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি। মার্চ 2017-এ পুলিশের দুই তদন্ত কমিটি দুজন পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করে।
অগ্রসরের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিচারিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দূর থেকে ভিডিও করা হওয়ায় ভিডিওতেও তাঁদের স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়নি (অগ্রসর, 7 ফেব্রুয়ারি 2017)। এর আগে 30 জানুয়ারি বাংলা ট্রিবিউন প্রতিবেদন জমার খবর দেয়; তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পত্রিকাটিকে বলেন, পুলিশের কেউ জড়িত প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা ও বিচার হবে (বাংলা ট্রিবিউন, 30 জানুয়ারি 2017)।
9 মার্চ 2017 রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক ও অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরের নেতৃত্বাধীন দুই কমিটি হাইকোর্টে প্রতিবেদন দেয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু জানান, প্রতিবেদনে গাইবান্ধা ডিবির একজন এসআই ও পুলিশ লাইনসের একজন কনস্টেবলকে আগুন দিতে দেখা পুলিশ সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে; দুজনই সাময়িক বরখাস্ত। ডিআইজির প্রতিবেদন অনুযায়ী সেদিন ঘটনাস্থল এলাকায় (ঢাকা ট্রিবিউনের ইংরেজি প্রতিবেদনে Chamgari Bil) 85 জন পুলিশ দায়িত্বে ছিলেন, যাঁদের 72 জনকে আদালতের আদেশে বদলি করা হয়; পুলিশ সুপারকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্য পুলিশ সদস্য ও বেসামরিক ব্যক্তিরাও আগুনে জড়িত ছিলেন বলে স্পষ্ট, কিন্তু কমিটি তাঁদের শনাক্ত করতে পারেনি (ঢাকা ট্রিবিউন, 9 মার্চ 2017)।
এর পরে পিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে আমাদের আর্কাইভের প্রবন্ধে সঞ্জীব দ্রং 2019 সালে লিখেছেন, পিবিআই প্রতিবেদনে বলেছে এ ঘটনায় পুলিশের কোনো সংশ্লিষ্টতা তারা পায়নি। পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে কোনো পুলিশ সদস্য আসামি কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। দুই বরখাস্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে পরে কী বিভাগীয় ব্যবস্থা হয়েছে, তাও প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
সাঁওতালদের পক্ষে থোমাস হেমব্রমের করা হত্যা মামলায় পিবিআই 2019 সালে 90 জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়, তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদসহ 11 জনকে বাদ দিয়ে। নারাজির পর সিআইডিও একই রকম অভিযোগপত্র দেয়। 12 সেপ্টেম্বর 2024 আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন; নভেম্বর 2025 পর্যন্ত নতুন অভিযোগপত্র জমা পড়েনি।
16 নভেম্বর 2016 স্বপন মুরমু নামে একজন অজ্ঞাতনামা 600 জনকে আসামি করে মামলা করেন। ফিলিমন বাস্কে তখন ডেইলি স্টারকে এই মামলাকে “eyewash” বলেন এবং “আসল” ঘটনা নিয়ে আলাদা মামলার কথা বলেন। 26 নভেম্বর থোমাস হেমব্রম 33 জনের নাম উল্লেখ করে এবং 500–600 জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে এজাহার দেন। bdnews24-এর 2024 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী নামধারী আসামিদের মধ্যে আছেন তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, চিনিকলের তৎকালীন এমডি আবদুল আউয়াল, সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুল এবং কাটাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান (bdnews24, 12 সেপ্টেম্বর 2024)।
পুলিশ থোমাস হেমব্রমের অভিযোগ সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নেয়। তিনি হাইকোর্টে রিট করেন (bdnews24-এর তথ্যে রিট পিটিশন 14402/2016); হাইকোর্ট সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী দুটি মামলা একত্র করে পিবিআইকে তদন্তের ভার দেওয়া হয় (প্রথম আলো, 6 নভেম্বর 2022)।
| তারিখ | ঘটনা | উৎস |
|---|---|---|
| 23 বা 28 জুলাই 2019 | পিবিআই গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল হাই 90 জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন; 11 নামধারী আসামি বাদ, যাঁদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ। অভিযুক্তদের মধ্যে সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান, দুই ইউপি সদস্য ও চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) | প্রথম আলো ও bdnews24 (23 জুলাই); প্রথম আলো 28 জুলাই 2019 (জমার দিন রোববার); ডেইলি স্টার ও ঢাকা ট্রিবিউন (28 জুলাই) |
| 4 সেপ্টেম্বর 2019 | বাদী থোমাস হেমব্রমের নারাজি আবেদন | bdnews24; ঢাকা ট্রিবিউন |
| 23 ডিসেম্বর 2019 | আদালত অধিকতর তদন্তের ভার দেন সিআইডিকে | bdnews24; প্রথম আলো |
| 2 নভেম্বর 2020 | সিআইডির অভিযোগপত্র; বাদীপক্ষের অভিযোগ, এটি পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রেরই অনুরূপ | bdnews24, 2021 ও 2025 |
| 4 জানুয়ারি 2021 বা 2 নভেম্বর 2021 | দ্বিতীয় নারাজি, 16টি পয়েন্টে; বাদীপক্ষের আইনজীবী সরাসরি বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান | bdnews24, 4 জানুয়ারি 2021 (জানুয়ারি); সাঁওতাল নেতা বার্নাবাস টুডু, bdnews24 2024 (2 নভেম্বর 2021); ডেইলি স্টার বাংলা 2024 (নভেম্বর 2021) |
| 12 সেপ্টেম্বর 2024 | আদালত নারাজি গ্রহণ করে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে দিয়ে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপারকে | bdnews24, 12 সেপ্টেম্বর 2024 |
| 6 নভেম্বর 2025 | নবম বার্ষিকীতে বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, অধিকতর তদন্তের পর এখনো অভিযোগপত্র জমা হয়নি | bdnews24, 6 নভেম্বর 2025 |
দ্বিতীয় নারাজির শুনানিতে আইনজীবী রফিক আহম্মেদ সিরাজী বলেন, “পুলিশ বা অন্য প্রশাসনের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। আমরা সরাসরি জুডিসিয়াল তদন্ত চেয়েছি।” (bdnews24, 4 জানুয়ারি 2021)। প্রথম আলোর মার্চ 2025 সালের সম্পাদকীয় অনুযায়ী মূল আসামিদের কেউ গ্রেপ্তার হননি, আর 5 আগস্ট 2024 থেকে আবুল কালাম আজাদসহ অনেকে পলাতক বলে সমাবেশে বক্তারা জানান (প্রথম আলো, 26 মার্চ 2025)। নবম বার্ষিকীর প্রতিবেদনে শাকিল আকন্দ বুলবুলকে “সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান” বলা হয়েছে (bdnews24, 6 নভেম্বর 2025)।
এই মামলায় কোনো আসামির আদালতে দেওয়া বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি প্রকাশিত কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
চিনিকল ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্যের মূল কথা তিনটি: জমি সরকারের এবং পাকিস্তান আমলে পুরোপুরি অধিগৃহীত; 2016 সালে সাঁওতালরা অবৈধভাবে দখল করেছিলেন; আর ইপিজেড হলে কর্মসংস্থান হবে, সাঁওতালরা অগ্রাধিকার পাবেন। নিচের ছকে প্রকাশিত বক্তব্যগুলো সময় ধরে সাজানো।
| সময় | বক্তা | বক্তব্য | উৎস |
|---|---|---|---|
| জুন 2015 | চিনিকলের এমডি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছে | চাষযোগ্য প্রায় 1,502 একর; অর্ধেকে আখ, বাকিতে পালাক্রমে অন্য ফসল; ইজারা বিএসএফআইসির সিদ্ধান্তে | ঢাকা ট্রিবিউন, ডিসেম্বর 2016 |
| মে 2016 | জেলা প্রশাসক আবদুস সামাদ | জমিটিকে “abandoned and not in use” বলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাব; “Now the government will decide on it.” | দ্য ডেইলি স্টার, নভেম্বর 2016 |
| নভেম্বর 2016 | চিনিকলের এমডি আবদুল আউয়াল | অভিযোগ “baseless and unfounded”; সরকারি নিয়মে ইজারা; শর্ত ভাঙলে জমি নেবে সরকার, স্থানীয়রা নয়; সাঁওতালরা অবৈধভাবে দখল করেছেন | ঢাকা ট্রিবিউন, 7 নভেম্বর 2016 |
| 14 নভেম্বর 2016 | সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ | “That land never belonged to Santals; it was owned by Bangalees.” | দ্য ডেইলি স্টার, নভেম্বর 2016 |
| নভেম্বর 2016 | শিল্পসচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া | সাঁওতালরা কখনো জমির মালিক ছিলেন না (পত্রিকার বর্ণনা) | দ্য ডেইলি স্টার, নভেম্বর 2016 |
| 28 নভেম্বর 2016 | জেলা প্রশাসক, মন্ত্রিপরিষদে প্রতিবেদন | অধিগৃহীত জমিতে সাঁওতালদের অধিকারের বিস্তারিত বিবরণ (পত্রিকার বর্ণনা) | ঢাকা ট্রিবিউন, 16 ডিসেম্বর 2016 |
| ডিসেম্বর 2016 | সরকারি ভাষ্য | “স্বার্থান্বেষী মহল” সাঁওতালদের সংগঠিত করে স্থাপনা তুলিয়েছিল; অবৈধ দখলমুক্ত করতে অভিযান | bdnews24, 12 ডিসেম্বর 2016 |
| ডিসেম্বর 2016 | ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক | পুলিশ আগুন দেয়নি, দিয়েছে দুর্বৃত্তরা; দুই মামলার তদন্ত চলছে | দ্য ডেইলি স্টার, ডিসেম্বর 2016 |
| 2017 | চিনিকলের আইনজীবী, হাইকোর্টে | সরকারি জমির অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে | দ্য ডেইলি স্টার, 2017 |
| 2021 | ইপিজেড প্রকল্প পরিচালক | “the 1,842 acres of land were fully acquired during the Pakistan period and the government has decided to hand it over to” বেপজা | দ্য ডেইলি স্টার, নভেম্বর 2021 |
| 23–24 আগস্ট 2021 | চিনিকলের এমডি মো. নুরুল কবির; বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম | ইপিজেডে অসংখ্য কারখানা ও কর্মসংস্থান, সাঁওতালদের অগ্রাধিকার; 1,832 একরে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বেকার যুবকদের চাকরির ব্যবস্থা | প্রথম আলো, 23 আগস্ট 2021; bdnews24, 24 আগস্ট 2021 |
| নভেম্বর 2022 | জেলা প্রশাসক মো. অলিউর রহমান | “সাঁওতালদের নিয়েই ইপিজেড করা হবে”; পুরো জমিতে নয়, প্রায় 550 একরে; চিনিকল 450 একর হস্তান্তর করেছে | প্রথম আলো, 6 নভেম্বর 2022 |
| আগস্ট 2023 | ভারপ্রাপ্ত এমডি মাছুমা আক্তার জাহান; চিনিকল সূত্র | চিনিকল বন্ধ নয়, মাড়াই স্থগিত; চিনিকলের 1,935.54 একরের মধ্যে 1,854 একর (নিজস্ব খামার) সাঁওতালদের দখলে, 700 একরের কিছু বেশিতে ইপিজেডের প্রক্রিয়া | প্রথম আলো, 15 আগস্ট 2023 |
| নভেম্বর 2024 | শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান | ছয়টি বন্ধ চিনিকল আবার চালুর জন্য সরকার কাজ করছে | দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, নভেম্বর 2024 |
| জুলাই 2025 | জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ | ইপিজেড বাস্তবায়নের দাবির স্মারকলিপি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে | দেশ রূপান্তর, 16 জুলাই 2025 |
| এপ্রিল 2026 | বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন | রংপুর ইপিজেড পরিকল্পনা পর্যায়ে; চিনিকলের প্রায় 450 একর বরাদ্দ | বাংলাদেশ টেক্সটাইল জার্নাল, 18 এপ্রিল 2026 |
বিএসএফআইসি বা শিল্প মন্ত্রণালয় সাহেবগঞ্জের জমির মালিকানা বা 1962 সালের চুক্তির ৫ ধারা নিয়ে কোনো লিখিত আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রকাশ করেছে কি না, তা প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
12 বা 13 নভেম্বর 2019 বেপজার গভর্নর বোর্ড সাহেবগঞ্জ খামারের জমিতে রংপুর ইপিজেডের সিদ্ধান্ত নেয়; শিল্প মন্ত্রণালয় জমি বেপজাকে দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। পরে জেলা প্রশাসন জানায় পুরো জমিতে নয়, প্রায় 450 থেকে 550 একরে ইপিজেড হবে। এপ্রিল 2026-এ বেপজা প্রকল্পটিকে পরিকল্পনা পর্যায়ে বলেছে।
ডেইলি স্টারের 2021 সালের প্রতিবেদন বলছে বোর্ড সভা 12 নভেম্বর 2019 এবং জমি 1,832.27 একর; বাংলা উইকিপিডিয়া বলছে 13 নভেম্বর 2019 সালের 34তম সভা, জমি 1,842 একর। স্থানীয় প্রশাসন জমির দাম ধরে 213.39 কোটি টাকা (দ্য ডেইলি স্টার, 6 নভেম্বর 2021)।
ইপিজেডের আয়তন নিয়ে সময়ভেদে চার রকম সংখ্যা এসেছে: 1,832 একর (বেপজা চেয়ারম্যান, আগস্ট 2021); প্রায় 550 একর, যার 450 একর হস্তান্তরিত (জেলা প্রশাসক, নভেম্বর 2022); 700 একরের কিছু বেশি (চিনিকল সূত্র, আগস্ট 2023); প্রায় 450 একর বরাদ্দ (বেপজা, এপ্রিল 2026)। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী 10 ডিসেম্বর 2022 গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ইপিজেড নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা করে, যেখানে রংপুর চিনিকলের ইনচার্জ বলেন, সাড়ে 400 একর জমি বেপজার কাছে হস্তান্তর করা হবে, আর বাকি জমি আইন মেনে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সাঁওতাল-বাঙালিদের মধ্যে লিজ দেওয়া হবে; একই দিন সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির একাংশ সভা বয়কট করে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়ক অবরোধ করে (আজকের পত্রিকা, 10 ডিসেম্বর 2022; বাংলা উইকিপিডিয়াও এই সভার কথা লিখেছে)।
24 আগস্ট 2021 বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান এলাকা পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভা করেন। ডেইলি স্টার লিখেছে, সভায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। তার আগের দিন সাঁওতালরা গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়কের কাটামোড়ে দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন; একই দিন উপজেলা শহরে ইপিজেডের পক্ষে মানববন্ধন হয়, যেখানে বক্তারা বলেন ইপিজেড হলে শিক্ষিত ও বেকার যুবকেরা কাজ পাবেন (প্রথম আলো, 23 আগস্ট 2021)।
14 জুন 2025 কাটামোড়ে শতাধিক সাঁওতাল ও বাঙালি গণ-অনশন করেন; বক্তারা বলেন আন্দোলন ইপিজেডের বিরুদ্ধে নয়, বাপ-দাদার জমি উদ্ধারের জন্য (প্রথম আলো, 14 জুন 2025)। 19 জুন 2025 এএলআরডি, নিজেরা করি, টিআইবি, ব্লাস্ট, বেলা, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, কাপেং ফাউন্ডেশনসহ 13টি সংগঠন ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে, ইপিজেডের আগে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরিবেশগত প্রভাব (ইআইএ) ও সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব (এসআইএ) নিরূপণ করতে হবে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আন্দোলনের মুখে আগের সরকারের প্রকল্প বন্ধ হলেও 5 আগস্ট 2024-এর পর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে চেষ্টা করছে।
15 জুলাই 2025 এলাকাবাসী ও গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টাকে দ্রুত ইপিজেড বাস্তবায়নের স্মারকলিপি দেয়। তাতে লেখা, চিনিকল 450 একর বেপজাকে বুঝিয়ে দিয়েছে, ইপিজেড হলে দুই লক্ষাধিক মানুষের কাজ হবে, সাঁওতালরা অগ্রাধিকার পাবেন, এবং “একটি মহল সাঁওতালদের ব্যবহার করে ইপিজেড নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা করার চেষ্টা করছে”। স্মারকলিপিতে প্রস্তাবিত এলাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর 70 কিলোমিটার, হিলি স্থলবন্দর 32 কিলোমিটার, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক 7 কিলোমিটার দূরে বলা হয়েছে (দেশ রূপান্তর, 16 জুলাই 2025)। 2016 সালে আবুল বারাকাত বলেছিলেন জমিটি মহাসড়ক বা নৌপথের সঙ্গে যুক্ত নয়।
এপ্রিল 2026-এ বেপজা দিবসে সংস্থার প্রধান জানান, রংপুর ও সিরাজগঞ্জের দুটি ইপিজেড পরিকল্পনা পর্যায়ে, আর সাহেবগঞ্জে রংপুর চিনিকলের প্রায় 450 একর বরাদ্দ হয়েছে (বাংলাদেশ টেক্সটাইল জার্নাল, 18 এপ্রিল 2026)। জমির আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর দলিল বা নির্মাণ শুরুর খবর প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী 2016 সালের ঘটনার পর থেকে সাঁওতালরা খামারের জমিতে চাষ করছেন। চিনিকল সূত্র 2023 সালে জানায় 1,854 একর সাঁওতালদের দখলে। ডেইলি স্টার বাংলার নভেম্বর 2024 সালের এক লেখা বলছে, প্রায় 1,600 একরে আমন ধান হয়েছে, আর জমির বড় অংশ চাষ করছেন স্থানীয় বাঙালিরা।
মোস্তফা সবুজের ওই লেখায় কৃষকদের বরাতে বলা হয়, 2024 সালে প্রায় 1,600 একরে উফশী ধান লাগানো হয়েছিল, আর সরকারি হিসাবে প্রায় এক লাখ মণ ধান হওয়ার কথা। একই লেখার ভাষ্যে প্রতি পরিবারের পাঁচ বিঘা করে চাষ করার কথা থাকলেও দলাদলির কারণে কেউ এক বিঘা, কেউ 50 বিঘা চাষ করছেন; আর নিহত তিনজনের পরিবারের কেউ পল্লিতে থাকেন না বলে তাঁরা জমির ভাগ পাননি (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, নভেম্বর 2024)। এ তথ্যগুলো একটি মতামত লেখার; জমি বণ্টনের কোনো তালিকা প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
চিনিকল জোনে আখ চাষ একেবারে থেমে যায়নি। চিনিকল সূত্র 2023 সালে জানায়, কৃষকদের উদ্যোগে 334 একরে আখ হয়েছে, যা পাশের জয়পুরহাট চিনিকলে যাচ্ছে। 2016 সালেও আবুল বারাকাত বলেছিলেন, মোট জমির 10 ভাগের মতো অংশে আখ হচ্ছে, তবে রংপুর চিনিকলের জন্য নয়, জয়পুরহাটের জন্য।
প্রেক্ষাপট হিসেবে একটি সরকারি সংখ্যা: জনশুমারি 2022 অনুযায়ী গাইবান্ধা জেলায় সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মিলিয়ে 4,150 জন গোনা হয়েছে, জেলার জনসংখ্যার 0.16%; সারা দেশে সাঁওতাল 129,056 জন, যার 55,820 জন রংপুর বিভাগে। জেলাভিত্তিক ছক আছে আমাদের জনশুমারি 2022: 50 জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা, জেলা ধরে ধরে লেখায়। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সাঁওতাল কত, সে সংখ্যা ওই লেখার উৎস-ছকে নেই।
2017 থেকে 2025 পর্যন্ত সাঁওতাল সংগঠনগুলোর দাবির মূল পাঁচটি: তিন হত্যার বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তার; সাঁওতাল-বাঙালিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার; ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ; 1962 সালের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী 1,842 একর ফেরত; আর ওই জমিতে ইপিজেড না করা। সঙ্গে সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশনের দাবি।
রংপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ 10 দফা দেয়। ডেইলি স্টারের তালিকায় আছে: উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, হয়রানি বন্ধ, নিহত-আহত ও ফসল-মাছের ক্ষতিপূরণ, পোড়া ঘর, স্কুল ও ধর্মীয় স্থাপনা পুনর্নির্মাণ, মাদারপুর ও জয়পুরের চারপাশের কাঁটাতার সরানো, পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার, গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি ও ইউএনওর অপসারণ, আগুন দেওয়া পুলিশ সদস্যদের বিচার, শর্ত ভেঙে ইজারা দেওয়া চিনিকল কর্মকর্তাদের বিচার, আর শর্ত অনুযায়ী অধিগৃহীত জমি সাঁওতালদের মধ্যে পুনর্বণ্টন।
2022 সালের সমাবেশগুলোতে সাত দফার কথা আছে, যার মধ্যে সেচের জন্য বিদ্যুৎ-সংযোগ আর সমতলের ভূমি সংকট নিরসনে পৃথক ও স্বাধীন ভূমি কমিশন (প্রথম আলো, 6 নভেম্বর 2022)। ডিসেম্বর 2024-এ ফিলিমন বাস্কে বলেন, “১ হাজার ৮৪২ একর অব্যবহৃত তিন ফসলি কৃষিজমি সাঁওতাল পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।” মার্চ 2025-এ তিনি bdnews24-কে বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি ফেরতের বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি (bdnews24, 15 মার্চ 2025)। জুন 2025-এ দাবির তালিকায় যুক্ত হয় 2016 সালের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও নিহতদের পরিবারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ।
প্রথম আলো 2022 সালে জানায়, ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি দুই ভাগ হয়েছে: একটির নেতৃত্বে ফিলিমন বাস্কে ও রেজাউল করিম, অন্যটির সভাপতি বার্নাবাস টুডু ও সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম; দুটিই ইপিজেডের বিরোধিতা করে। নভেম্বর 2025-এর বার্ষিকীতেও গোবিন্দগঞ্জে গনেশ মুরমুর সভাপতিত্বে একটি এবং গাইবান্ধা শহরে ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে আরেকটি কর্মসূচি হয়।
সমতলের আদিবাসী জাতিগুলোর ভূমি-সংকটের বড় ছবি আছে আমাদের সমতলের আদিবাসী জাতিগুলো: কে কোথায় থাকেন, কী নিয়ে বেঁচে আছেন লেখায়; পাহাড়ের ভূমি বিরোধের প্রসঙ্গ পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাবে। রাষ্ট্র কোন শব্দে এই জনগোষ্ঠীগুলোকে ডাকে, তার নথি আছে রাষ্ট্রীয় পরিভাষা নিয়ে আমাদের লেখায়।
সাহেবগঞ্জের বিরোধে সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত সংখ্যাগুলোর প্রায় প্রতিটির একাধিক রূপ আছে। জমির আয়তন চার রকম, অধিগ্রহণের বছর চার রকম, গ্রামের সংখ্যা তিন রকম, উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা অন্তত পাঁচ রকম। নিচের ছকে প্রতিটি রূপ উৎসসহ।
| বিষয় | সংখ্যা বা তারিখ, উৎসসহ |
|---|---|
| জমির আয়তন | 1,842.30 একর (চুক্তির পাঠ, পাভেল পার্থ, কাপেং); 1,840.30 একর (bdnews24); 1,832.27 একর (বেপজার 2019 সালের সিদ্ধান্ত, ডেইলি স্টার); 745 হেক্টর (ঢাকা ট্রিবিউন); চিনিকলের মোট 1,935.54 একর, তার 1,854 একর খামার (চিনিকল সূত্র, 2023) |
| অধিগ্রহণের বছর | 1952 (ডেইলি স্টার, 2019); 1954–55 (সিপিবি, 2021); 1954–56 ও 1955–56 (ডেইলি স্টার, 2016); 1955–56 (পাভেল পার্থ); 1956 (সমকাল, 2021); 1962 (প্রথম আলো, bdnews24, কাপেং) |
| চুক্তির পক্ষ | রংপুর জেলা প্রশাসন ও পিআইডিসি (ডেইলি স্টার, 2016); পিআইডিসি ও পূর্ব পাকিস্তান সরকার (পাভেল পার্থ); কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার (ঢাকা ট্রিবিউন, 2019) |
| উচ্ছেদ হওয়া গ্রাম, 1950-এর দশক | 20টি (ডেইলি স্টার, পাভেল পার্থ, কাপেং); 18টি (bdnews24); 21টি গ্রামের 22,500 পরিবার (ঢাকা ট্রিবিউন 2019, বর্ডারলেন্স 2025) |
| ইজারার সিদ্ধান্ত | 25 আগস্ট 2009, বিএসএফআইসি বোর্ড সভা 1874 (পাভেল পার্থ); 2009 (ডেইলি স্টার); 25 আগস্ট 2015 (ঢাকা ট্রিবিউন) |
| চিনিকল আবার চালু | 2006 (ডেইলি স্টার, পাভেল পার্থ); 2007 (চিনিকল সূত্র); 2008-এর শেষে আংশিক (ঢাকা ট্রিবিউন) |
| 6 নভেম্বর 2016-এর আহত | নয় পুলিশসহ 20 (ডেইলি স্টার, প্রথম আলো); নয় পুলিশসহ 30 (bdnews24, ঢাকা ট্রিবিউন); 17 আদিবাসী ও 8 আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ 30 (কাপেং) |
| উচ্ছেদ, নভেম্বর 2016 | প্রায় 600 সাঁওতাল; 1,000–1,200 পরিবার; 1,200-র বেশি পরিবার; 1,500 পরিবার; 2,500 পরিবার; 2,000-এর বেশি মানুষ (উৎস ওপরে) |
| পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র | 23 জুলাই 2019 (প্রথম আলো, bdnews24); 28 জুলাই 2019 (ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, প্রথম আলোর 28 জুলাইয়ের প্রতিবেদন) |
| দ্বিতীয় নারাজি | 4 জানুয়ারি 2021 (bdnews24); 2 নভেম্বর 2021 (বার্নাবাস টুডু, bdnews24 2024); নভেম্বর 2021 (ডেইলি স্টার বাংলা) |
| বেপজার বোর্ড সিদ্ধান্ত | 12 নভেম্বর 2019 (ডেইলি স্টার); 13 নভেম্বর 2019 (বাংলা উইকিপিডিয়া) |
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মের 1,842.30 একর নিয়ে। পাকিস্তান আমলে রংপুর চিনিকলের আখ খামারের জন্য জমিটি নেওয়া হয়। 7 জুলাই 1962 সালের চুক্তিতে শর্ত ছিল আখ ছাড়া অন্য কিছু হলে জমি ফেরত যাবে। সাঁওতাল ও বাঙালি সাবেক মালিকদের উত্তরসূরিরা জমি ফেরত চান; চিনিকল ও সরকারি কর্মকর্তারা বলে আসছেন জমি সরকারের।
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার 5 নম্বর সাপমারা ইউনিয়নে। পাভেল পার্থ ও কাপেং ফাউন্ডেশনের তথ্যে খামারটি রামপুর, সাপমারা, মাদারপুর, নরেঙ্গাবাদ ও চকরহিমাপুর এই পাঁচ মৌজা জুড়ে। চিনিকল নিজে মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীপ্রতিপুর মৌজায়, খামার থেকে প্রায় 20 কিলোমিটার দূরে। উচ্ছেদের পর মানুষজন মাদারপুর ও জয়পুর গ্রামে থাকেন।
ডেইলি স্টারের ছাপা পাঠ অনুযায়ী, উদ্দেশ্য বদলালে করপোরেশন জমি প্রাদেশিক সরকারের কাছে “release and restoration”-এর জন্য ফেরত দেবে এবং সব খরচ ও ক্ষতিপূরণ বহন করবে। পাভেল পার্থর উদ্ধৃত বাংলা পাঠে আছে, আখের বদলে অন্য ফসল হলে জমি সরকারের কাছে “সারেন্ডার” হবে এবং সরকার তা “পূর্বের অবস্থায়” ফিরিয়ে দিতে পারবে। ৩ ধারায় জমির চরিত্র বদলানো নিষেধ।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের দাবি, প্রায় 1,842 একরের মধ্যে প্রায় 1,200 একর ছিল সাঁওতালদের। ডেইলি স্টার 2016 সালে 1937 সালের নথি, 1940 সালের জরিপ ও চুক্তি মিলিয়ে লেখে নথিগুলো এই দাবি সমর্থন করে; আবুল বারাকাতও একই কথা বলেন। তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেছিলেন জমি কখনো সাঁওতালদের ছিল না, ছিল বাঙালিদের।
চুক্তির পাঠ অনুযায়ী 1,842 একরের জন্য Rs 8,07,318-10-6 ধরা হয়, যা পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন 1955 ও 1956 সালের তিন তারিখে রংপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেয়। জমিমালিকদের ভাষ্য, জমির দাম নয়, কেবল ফসল, গাছ ও ঘরের দাম ধরা হয়েছিল। আবুল বারাকাত আদিবাসীদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো কাগজ পাননি বলে জানান।
রংপুর চিনিকলে আখমাড়াই স্থগিত হয় ডিসেম্বর 2020-এ; বিএসএফআইসি বলছে 1 ডিসেম্বর, চিনিকল সূত্র 2 ডিসেম্বর। 2023 সালে ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন কারখানা বন্ধ নয়, মাড়াই স্থগিত। 15 ডিসেম্বর 2024 স্থগিতাদেশ তোলা হয়, কিন্তু জানুয়ারি 2026-এর পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে কেবল শ্যামপুর ও সেতাবগঞ্জ চিনিকল চালুর কথা।
তিনজন সাঁওতাল: শ্যামল হেমব্রম, মঙ্গল মার্ডি ও রমেশ টুডু। চিনিকলের কর্মীরা পুলিশ নিয়ে খামারে আখ কাটতে গেলে সংঘর্ষ হয়। ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর হিসাবে নয় পুলিশসহ 20 জন আহত হন; bdnews24 ও ঢাকা ট্রিবিউনের হিসাবে অন্তত 30 জন, যাঁদের চার সাঁওতাল গুলিবিদ্ধ। এরপর বসতি উচ্ছেদ ও ঘরে আগুন দেওয়া হয়।
গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহর 65 পৃষ্ঠার প্রতিবেদন (ফেব্রুয়ারি 2017) বলেছে, ডিবির একজনসহ তিন পুলিশ সদস্য স্থানীয়দের সঙ্গে জড়িত, হেলমেটের কারণে পরিচয় জানা যায়নি। মার্চ 2017-এ পুলিশের দুই কমিটি একজন এসআই ও একজন কনস্টেবলকে শনাক্ত করে। ডিসেম্বর 2016-এ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বলেছিলেন পুলিশ আগুন দেয়নি।
থোমাস হেমব্রমের মামলায় পিবিআই জুলাই 2019-এ 90 জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়, সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদসহ 11 জনকে বাদ দিয়ে। নারাজির পর সিআইডিও 2 নভেম্বর 2020 অনুরূপ অভিযোগপত্র দেয়। 12 সেপ্টেম্বর 2024 আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন; 6 নভেম্বর 2025 পর্যন্ত নতুন অভিযোগপত্র জমা পড়েনি।
17 নভেম্বর 2016 সাঁওতালদের নিরাপত্তা ও ধান কাটার সুযোগ নিশ্চিতের নির্দেশ; 22 নভেম্বর উচ্ছেদের নামে লুট, আগুন ও হত্যা কেন অবৈধ হবে না তার রুল; 14 ডিসেম্বর মুখ্য বিচারিক হাকিমকে দিয়ে তদন্ত; 7 ফেব্রুয়ারি 2017 পুলিশ সুপার ও ঘটনাস্থলের সব পুলিশ প্রত্যাহারের নির্দেশ; 2017 সালে পুনর্বাসন নিয়ে রুল। রুলগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির খবর পাওয়া যায়নি।
সংখ্যা সময়ভেদে বদলেছে। 2019 সালের বেপজা সিদ্ধান্তে 1,832.27 একর; আগস্ট 2021-এ বেপজা চেয়ারম্যান 1,832 একর বলেন; নভেম্বর 2022-এ জেলা প্রশাসক প্রায় 550 একর, যার 450 একর হস্তান্তরিত; 2023-এ চিনিকল সূত্র 700 একরের কিছু বেশি; এপ্রিল 2026-এ বেপজা প্রায় 450 একর বরাদ্দের কথা বলেছে এবং প্রকল্পটিকে পরিকল্পনা পর্যায়ে বলেছে।
তিন হত্যার বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তার, সাঁওতাল-বাঙালিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, লুট ও আগুনের ক্ষতিপূরণ, 1962 সালের চুক্তি অনুযায়ী 1,842 একর ফেরত, আর তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড না করা। জুন 2025-এ এর সঙ্গে 2016 সালের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি ওঠে; 2022 সালের সাত দফায় ছিল সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন।
জুমজার্নালের আর্কাইভ ও লেখা
গবেষণা, মানবাধিকার সংগঠন ও বিশ্বকোষ
সংবাদপত্র: জমি, চুক্তি ও ইজারা
সংবাদপত্র: 6 নভেম্বর 2016 ও পরবর্তী ঘটনা
সংবাদপত্র: আদালত ও তদন্ত
সংবাদপত্র: চিনিকল ও ইপিজেড
ছবি: প্রচ্ছদের মানচিত্র C1MM-এর তৈরি, CC BY-SA 4.0, উইকিমিডিয়া কমন্স। মৌজা মানচিত্র বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর Small Area Atlas থেকে, উইকিমিডিয়া কমন্স।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:আদিবাসীদের ভূমি, ভূমি অধিকার, ভূমি বিরোধ, মানবাধিকার, সাঁওতাল
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।