Jumjournal Logo

শাসনবিধি ৩৪ ধারা খাস জমি বন্দোবস্ত: পাহাড়ে সরকারি জমি পাওয়ার নিয়ম, ৩৪ নম্বর বিধি ধরে ধরে

Last updated Oct 19th, 2026

0

পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধিমালার একটি ছাপা পাতা, যেখানে ৩৪ নম্বর বিধির শিরোনাম 'ভূমিঃ সরকারী ভূমি বন্দোবস্ত, হস্তান্তর, বিভক্তি এবং সাব-লেটঃ' ও খাস জমি বন্দোবস্তের প্রথম উপবিধিগুলো দেখা যাচ্ছে

পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারি খাস জমি কে, কতটা আর কীভাবে পাবেন — তার নিয়ম লেখা আছে 1900 সালের শাসনবিধির সঙ্গে জারি করা প্রশাসনিক বিধিমালার 34 নম্বর বিধিতে। অনলাইনে যাকে “শাসনবিধি ৩৪ ধারা খাস জমি বন্দোবস্ত”-এর নিয়ম বলে খোঁজা হয়, তার মূল কথা তিনটি: বিধিতে বলা পথ ছাড়া কোনো খাস জমি বন্দোবস্ত হবে না; হালচাষের সমতল জমি এক পরিবার মোট 5 একরের বেশি পাবে না; আর লীজ দেন জেলা প্রশাসক, পাহাড়ি চাষির হালের জমি হলে মহকুমা প্রশাসকও, যেখানে আবেদন হেডম্যানের সুপারিশ হয়ে যেতে পারে।

এই লেখা বিধিটির পাঠ ধরে ধরে চলে — প্রতিটি উপবিধি কোন তারিখের কোন প্রজ্ঞাপনে এসেছে, দুটি ছাপা সংকলনে পাঠ কোথায় আলাদা, আর 1989 সাল থেকে জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন কীভাবে এই বিধির ওপর আরেকটি স্তর বসিয়েছে। পাহাড়ের ভূমি-ইতিহাসের বড় ছবি — কাপ্তাই বাঁধ, বসতি স্থাপন কর্মসূচি, ভূমি কমিশন — আছে আমাদের আগের লেখা পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন-এ; সেখানে যা বলা হয়েছে, এখানে আবার বলা হয়নি।

এই লেখায় যা আছে

  1. “৩৪ ধারা” আসলে ধারা নয় কেন
  2. ৩৪ নম্বর বিধি কবে কবে বদলেছে: তারিখ ও প্রজ্ঞাপনের ছক
  3. ১৯০০ সালের মূল বিধি আর ১৯২০–১৯৭১ সময়ের পাঠ
  4. শাসনবিধি ৩৪ ধারা অনুযায়ী খাস জমি বন্দোবস্ত: এক পরিবার কত একর পায়
  5. আবেদন কার কাছে যায়, আর হেডম্যানের সুপারিশ ঠিক কোথায় লাগে
  6. খাজনা আর সালামি: কোন জমিতে কত
  7. রাবার বাগান, শিল্প, বসতবাড়ি, বাণিজ্য: কে কত একর দিতে পারেন
  8. বহিরাগতকে জমি: দুই সংকলনের দুই রকম পাঠ
  9. বন্দোবস্তের পর: বিক্রি, বন্ধক, ভাগ আর উত্তরাধিকার
  10. ৩৪ক, ৩৪খ, ৩৪গ: জলধারা, নদীতীরের জুম আর রাজস্ব বোর্ড
  11. ১৯৮৯ থেকে জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন
  12. অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিলের পথ: ভূমি কমিশন আইনের ৬(১)(গ)
  13. সর্বোচ্চ আদালত এই বিধিমালাকে কীভাবে দেখেছে
  14. বিধি ও সরকারি আদেশ অনুযায়ী ধাপগুলো এক নজরে
  15. প্রশ্নোত্তর
  16. যা এখনো জানা যায়নি
  17. তথ্যসূত্র

“৩৪ ধারা” আসলে ধারা নয় কেন: শাসনবিধির কোথায় এই নিয়ম

Chittagong Hill Tracts Regulation, 1900-এ ধারা মাত্র 20টি; জমি বন্দোবস্তের নিয়ম তার কোনোটিতে নেই। নিয়মটি আছে Rules for the Administration of the Chittagong Hill Tracts-এর 34 নম্বর বিধিতে, যা রেগুলেশনের 18 ধারার ক্ষমতাবলে বাংলা সরকার জারি করেছিল। তাই সঠিক নাম “৩৪ নম্বর বিধি” বা Rule 34।

রেগুলেশনের সূচিতে ধারাগুলো 1 থেকে 20 পর্যন্ত; শেষ ধারাটি পুরোনো আইন বাতিলের (PCJSS-এর সংকলিত পাঠ)। 18 ধারার শিরোনাম “Power to make rules”। তার (1) উপধারা সরকারকে রেগুলেশনের উদ্দেশ্য কার্যকর করতে বিধি তৈরির ক্ষমতা দেয়, আর (2)(d) উপধারায় আলাদা করে লেখা আছে, বিধি দিয়ে “Regulate or restrict the transfer of land in the said tracts” করা যাবে। (3) উপধারা বলছে, সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর এসব বিধি “shall have effect as if enacted by this Regulation” — অর্থাৎ রেগুলেশনের মতোই কার্যকর।

বিধিমালাটি কবে জারি হয়েছিল, তা PCJSS সংকলনের পাদটীকায় আছে: 18 ধারার অধীনে বাংলা সরকার প্রণীত, প্রজ্ঞাপন নং 123 P, তারিখ 1 মে 1900, কলিকাতা গেজেটের প্রথম খণ্ডে 2 মে 1900 প্রকাশিত। আমাদের ই-বুক সংগ্রহে রাখা পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধিমালা, ১৯০০-এর বাংলা পাঠ (1979 পর্যন্ত সংশোধিত) একই তারিখ দেয়।

“ধারা” আর “বিধি” গুলিয়ে ফেলাটা কেবল অনলাইনের সমস্যা নয়। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার Chittagong Hill Tracts manual নিবন্ধে দলিল নিবন্ধনের নিয়মকে “Rules no. 12-33 of the Regulation” বলা হয়েছে — অথচ ওগুলোও বিধিমালার বিধি, রেগুলেশনের ধারা নয়। আমাদের আর্কাইভের একটি পুরোনো লেখাতেও মৌজা প্রধানের সুপারিশের কথা বলতে গিয়ে বন্ধনীতে “[৩৪ ধারা]” লেখা আছে (পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি বিরোধ ও ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি: প্রাসঙ্গিক ভাবনা)।

পার্থক্যটা শুধু শব্দের নয়। ধারা বদলাতে আইন লাগে; বিধি বদলেছে প্রজ্ঞাপনে — কখনো রাজস্ব বিভাগের, কখনো ভূমি মন্ত্রণালয়ের। 34 নম্বর বিধি ঠিক এভাবেই, এক এক প্রজ্ঞাপনে, অন্তত আটবার বদলেছে (নিচের ছক)।

মন্ত্রণালয়ের সূচিতে একই বিধি 33 নম্বরে

নম্বর নিয়েও একটি গোলমাল আছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রাখা রেগুলেশনের সংস্করণে বিধিমালার সূচিতে লেখা “33. The lands: Settlement of Government land, Transfer Partition and Sub-letting”, তার নিচে (1) থেকে (16) উপবিধি — অথচ ঠিক পরের তিনটি লাইন “34A”, “34B”, “34C”, আর তারপর “34. Cicle divisions”। অর্থাৎ ওই সূচির নিজের ভেতরেই নম্বর মেলে না। PCJSS সংকলন, বাংলা বিধিমালা আর সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলন — তিনটিতেই বিধিটি 34। মন্ত্রণালয়ের ওই পিডিএফে কেবল সূচি আছে, বিধিগুলোর মূল পাঠ নেই।

৩৪ নম্বর বিধি কবে কবে বদলেছে: প্রতিটি সংশোধনী, তারিখসহ

1900 সালের মূল বিধিতে খাস জমির কোনো একর-সীমা ছিল না। 1920-এর দশকে আসে 25 একরের সীমা আর “কেবল পাহাড়িদের লীজ” শর্ত; 1928, 1939 ও 1961-তে যোগ হয় 34ক, 34খ, 34গ; 1971-এ পরিবারপ্রতি 5 একর; আর 31 মার্চ 1979-এর প্রজ্ঞাপনে আজকের (1) উপবিধি। নিচের ছকে প্রতিটির উৎস দেওয়া হলো।

তারিখ প্রজ্ঞাপন কী বদলাল কোন উৎসে
1 মে 1900নং 123 P; কলিকাতা গেজেট, 2 মে 1900, পৃ. 429পুরো বিধিমালা জারি; মূল 34 বিধি: লীজের হালের জমি উত্তরাধিকার বা কমিশনারের সম্মতি ছাড়া সাব-লেট বা হস্তান্তর নয়PCJSS পাদটীকা 80; IWGIA 2000
1920নম্বর পাওয়া যায়নিলীজ কেবল পাহাড়িদের; গ্রামে প্রকৃত বাসিন্দা অ-পাহাড়ি চাষিকে সেই গ্রামে সর্বোচ্চ 25 একরIWGIA 2000
27 ফেব্রুয়ারি 1928নং 2977 E.A.; কলিকাতা গেজেট, 1 মার্চ 192834ক (প্রাকৃতিক জলধারা) সংশোধিত রূপেPCJSS পাদটীকা 96; বাংলা বিধিমালা
25 এপ্রিল 1939নং 4852 E.A.; কলিকাতা গেজেট, 4 মে 193934খ যোগ (নদীতীরে জুম নিষেধের ক্ষমতা)PCJSS পাদটীকা 97; বাংলা বিধিমালা
6 অক্টোবর 1942নং 1958; কলিকাতা গেজেট, 15 অক্টোবর 194234(14) যোগ: কয়েকটি উপবিধি কেবল বিদ্যমান প্রজার ওপর প্রযোজ্যবাংলা বিধিমালার পাদটীকা
16 জুন 1961No. 1R-17/60/276-R.L.34গ যোগ (রাজস্ব বোর্ড জেলা প্রশাসককে যেকোনো শ্রেণির জমি বন্দোবস্তের ক্ষমতা দিতে পারে)PCJSS পাদটীকা 98; বাংলা বিধিমালা
25 সেপ্টেম্বর 1961নং 488 R.L.; ঢাকা গেজেট, 5 অক্টোবর 1961মহকুমা প্রশাসকের ক্ষমতা (5ক), বেদখল জমি পুনর্গ্রহণ (6), হোল্ডিং ভাগ (7) ও (11)-এর ব্যাখ্যায় “পরিবার”-এর সংজ্ঞাবাংলা বিধিমালার পাদটীকা
16 সেপ্টেম্বর 1971No. 1L-15/69/216-R.L.; ঢাকা গেজেট, প্রথম খণ্ড, 21 অক্টোবর 1971পরিবারপ্রতি 5 একর সীমা; বহিরাগতকে বন্দোবস্তে রাজস্ব বোর্ডের পূর্বানুমোদন; “অ-পাহাড়ি বাসিন্দা”র সংজ্ঞা; (2) উপবিধিIWGIA 2000; হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলন; PCJSS পাদটীকা 95
31 মার্চ 1979S.R.O. 72-L/79, ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয়, সেকশন IX; বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত, 31 মার্চ 1979, পৃ. 1178–1180আজকের (1) উপবিধি; বসতবাড়ির জমি “deserving persons”-কে দীর্ঘমেয়াদি লীজPCJSS পাদটীকা 94; বাংলা বিধিমালা; হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলন; IWGIA 2000

একটি জায়গায় উৎসগুলো আলাদা কথা বলে। IWGIA-র 2000 সালের প্রতিবেদন আর সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের 2016 সালের সংকলন বলছে, পরিবারপ্রতি 5 একরের সীমা এসেছে 16 সেপ্টেম্বর 1971-এর প্রজ্ঞাপনে; PCJSS-এর সংকলিত পাঠের পাদটীকা বলছে, (1) উপবিধি যোগ হয়েছে 31 মার্চ 1979-এর S.R.O. 72-L/79-এ, আর 1971-এর প্রজ্ঞাপনে এসেছে কেবল (2) উপবিধি। হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলন দুটি পাঠই পাশাপাশি ছেপে মন্তব্য করেছে: “১৯৭১ ও ১৯৭৯ সালে ৩৪ বিধিতে আনীত সংশোধনীতে মৌলিক কোন পার্থক্য নাই। তবে ১৯৭১-এর সংশোধনীতে অ-পাহাড়ী বাসিন্দার ব্যাখ্যা থাকলেও ১৯৭৯-এ তার কোন ব্যাখ্যা দেওয়া নাই।”

১৯০০ সালের মূল ৩৪ নম্বর বিধি আর ১৯২০–১৯৭১ সময়ের পাঠ

মূল বিধিটি ছিল এক অনুচ্ছেদের, আর তার বিষয় ছিল হস্তান্তর — বন্দোবস্তের সীমা নয়। IWGIA-র প্রতিবেদন মূল পাঠ উদ্ধৃত করেছে: সরকারের কাছ থেকে লীজে নেওয়া সব হালের জমি “cannot be sub-let or transferred, except on hereditary succession or with the consent of the Commissioner”। ভাগ করাও কমিশনারের সম্মতি ছাড়া নিষেধ।

প্রতিবেদনটির (Rajkumari Chandra Kalindi Roy, Land Rights of the Indigenous Peoples of the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh, IWGIA Document No. 99, কোপেনহেগেন, 2000) বিশ্লেষণ, 1900 সালে বাইরের লোকের বসতির ওপর সুস্পষ্ট নিষেধ ছিল না, কারণ ধরে নেওয়া হয়েছিল এলাকার সব বাসিন্দাই এখানকার। রাষ্ট্র নিজেকে জমির মালিক আর পাহাড়ি কৃষককে ইজারাদার বানিয়েছিল — প্রতিবেদনের ভাষায় “the indigenous farmers became leaseholders in their own territory”।

1920-এর সংশোধনী সম্পর্কে IWGIA লিখেছে, তখন থেকে “Leases may be granted only to hillmen”, তবে গ্রামে প্রকৃত বসবাসকারী চাষি শ্রেণির অ-পাহাড়িকে সেই গ্রামে সর্বোচ্চ 25 একর লীজ দেওয়া যেত; বহিরাগতের কাছে হস্তান্তর ও সাব-লেট “strictly forbidden”। সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলন এই সময়ের পাঠটি বাংলায় ছেপেছে, শিরোনামে লেখা “[৬ই অক্টোবর ১৯৪২ ইংরেজীর সংশোধনীর পরে ও ১৬ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১ ইংরেজীর সংশোধনীর আগে]”:

“৩৪। জমিঃ হস্তান্তর, বিভাজন, সাব-লেটিং বা দর-পত্তনি দেওয়া – (১) ভবিষ্যতে এক বা একাধিক কোন লীজধারীকেই সর্বমোট ২৫ একরের বেশী জমি বন্দোবস্তীর অনুমতি দেওয়া যাইবেনা। কেবলমাত্র পাহাড়ীদেরকেই লীজ প্রদান করা হইবে, তবে শর্ত থাকে যে, চাষী শ্রেণীর অ-পাহাড়ীগণ, যাহারা প্রকৃতপক্ষে কোন গ্রামের বাসিন্দা, তাহাদেরকে কেবলমাত্র সেই গ্রামেই সর্বোচ্চ ২৫ একর পর্যন্ত লীজ দেওয়া যাইতে পারে, অন্য কাহাকেও নয়।”

অর্থাৎ 1971-এর আগে সীমা ছিল লীজধারীপ্রতি মোট 25 একর, আর অ-পাহাড়ি লীজ পেতেন কেবল নিজের গ্রামে। IWGIA-র হিসাবে 1971-এর সংশোধনী এই সীমা 25 থেকে 5 একরে নামিয়ে আনে।

একটি ছাপা পাতা: ওপরে ৩৪ নম্বর বিধির ১৯৪২ থেকে ১৯৭১ সময়ের পাঠ, যাতে ২৫ একরের সীমা ও কেবল পাহাড়িদের লীজ দেওয়ার কথা আছে; নিচে ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭১-এর সংশোধিত পাঠের শিরোনাম ও প্রথম উপবিধি
৩৪ নম্বর বিধির 1971-পূর্ব পাঠ আর 16 সেপ্টেম্বর 1971-এর সংশোধনীর শুরু। ছবি: সংকলন, সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক, 2016, পৃ. 8 · জুমজার্নাল ই-বুক সংগ্রহ

শাসনবিধি ৩৪ ধারা অনুযায়ী খাস জমি বন্দোবস্ত: এক পরিবার কত একর পায়

হালচাষের সমতল জমি এক পরিবার পায় এমন পরিমাণ, যা আগে থেকে দখলে থাকা জমির সঙ্গে যোগ করলে 5 একর ছাড়ায় না। এর বাইরে বাগানের (grove) জমি আরও 5 একর; লীজগ্রহীতার কাজ জেলা প্রশাসকের কাছে “অত্যন্ত সন্তোষজনক” মনে হলে বাগানের জমি মোট 10 একর পর্যন্ত। এই দুই ধরনের বন্দোবস্তে কোনো সালামি লাগে না।

বিধিটি শুরুই হয় একটি নিষেধ দিয়ে। PCJSS-এর ইংরেজি পাঠে 34(1): “No settlement of Government Khas land shall be made in the district of Chittagong Hill Tracts except to the extent and in the manner specified below”। বাংলা বিধিমালায় একই কথা: “নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্র ব্যতিরেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থিত কোন সরকারী খাস ভূমি বন্দোবস্ত প্রদান করা যাইবে না।” অর্থাৎ বিধিতে যে পথগুলো লেখা আছে, তার বাইরে খাস জমি বন্দোবস্তের কোনো পথ নেই।

প্রথম পথটি 34(1)(a)(i)। ইংরেজি পাঠে: “The quantity of cultivable or cultivated flat land to be settled for plough cultivation with a single family of hill-men or non-hillmen residents shall be such as added to the quantity of such land already in it possession does not exceed 5 acres.” বাংলা বিধিমালায় লেখা “নিবাসী পাহাড়ী বা অ-পাহাড়ী পরিবারকে চাষাবাদের জন্য কর্ষন-যোগ্য বা কর্ষিত সমতল ভূমি বন্দোবস্ত প্রদান করা যাইবে”, সঙ্গে একই 5 একরের শর্ত।

দুটি শব্দ খেয়াল করার মতো। এক, “hill-men or non-hillmen residents” — পাহাড়ি ও অ-পাহাড়ি দুজনেই পাত্র, তবে “resident” বা নিবাসী হতে হবে। দুই, সীমাটা পরিবারের, ব্যক্তির নয়: আগের দখলের জমি যোগ করে মোট 5 একর।

“পরিবার” বলতে বিধি কাকে বোঝায়

বিধির শেষে একটি ব্যাখ্যা আছে। PCJSS পাঠে: “For the purpose of this rule ‘family’ shall include the lessee, his wife, sons, daughters and any other relations dependent on the lessee and living in the same mess”। বাংলা বিধিমালায়: “লিজী, লিজীর স্ত্রী, পুত্র, কন্যা এবং লিজীর উপর নির্ভরশীল ও একত্রে বসবাসরত আত্মীয়দের”। বাংলা বিধিমালায় (11) উপবিধির নিচে আরেকটি, পুরোনো ব্যাখ্যাও ছাপা আছে — “পরিবার বলতে পিতা, মাতা, পুত্র এবং কন্যাকেও অন্তর্ভুক্ত করিবে” — যার পাদটীকায় 25 সেপ্টেম্বর 1961-এর প্রজ্ঞাপন নং 488 R.L.।

বাগানের জমি বা “grove land” কী

34(1)(a)(iv)-এর ব্যাখ্যায় grove land হলো সমতল ও ঢেউখেলানো জমি, আর পাহাড়ের পাদদেশের এমন জমি যাতে ধাপ কাটার (terracing) দরকার পড়ে না, এবং যা কেবল ফল ও অন্যান্য গাছ লাগানোর কাজে ব্যবহার হবে। হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলনে 1971-এর বাংলা পাঠে শব্দটির অনুবাদ “বাগান-ভূমি”, আর বাক্যটি: “সমতল ভূমি ও স্বল্প উচ্চতার উঁচু-নিচু ভূমি এবং পাহাড়ের পাদদেশে টিলা জমি যাহাতে সম্পূর্ণ বা আংশিক সংস্কারের (terracing) প্রয়োজন হইবে না”।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধিমালার একটি ছাপা পাতা, যেখানে ৩৪ নম্বর বিধির শিরোনাম 'ভূমিঃ সরকারী ভূমি বন্দোবস্ত, হস্তান্তর, বিভক্তি এবং সাব-লেটঃ' ও খাস জমি বন্দোবস্তের প্রথম উপবিধিগুলো দেখা যাচ্ছে
৩৪ নম্বর বিধির (1)(এ) উপবিধি, বাংলা পাঠ; Ω চিহ্নিত অংশগুলো 31 মার্চ 1979-এর S.R.O. 72-L/79-এ সংশোধিত। ছবি: পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধিমালা, ১৯০০ (বাংলা পাঠ, 1979 পর্যন্ত সংশোধিত), পৃ. 28 · জুমজার্নাল ই-বুক সংগ্রহ

আবেদন কার কাছে যায়, আর হেডম্যানের সুপারিশ ঠিক কোথায় লাগে

34(1)(a)(ii) বলছে, হালের জমি ও বাগানের জমির লীজ দেবেন জেলা প্রশাসক। ব্যতিক্রম একটি: কেবল হালচাষের জমি, কেবল চাষি পাহাড়িকে, মহকুমা প্রশাসকও দিতে পারেন — আর সেই আবেদন হেডম্যানের কাছে জমা দেওয়া যায়, হেডম্যান সুপারিশসহ মহকুমা প্রশাসকের কাছে পাঠান। বিধির ভাষায় হেডম্যানের পথটি “may”, অর্থাৎ বাধ্যতামূলক বলে লেখা নেই।

ইংরেজি পাঠ হুবহু:

“(ii) A lease for plough cultivation and for grove plantation under sub-clause (1) shall be granted by the Deputy Commissioner: Provided that lease if land only for plough cultivation may be granted to a cultivating hillmen by the Sub-divisional Officer. An application of a hillmen for lease of plough land may be made to the headman who will forward it to the Sub-divisional Officer with his recommendation.”

বাংলা বিধিমালার পাঠ: “তবে মহকুমা প্রশাসক কেবলমাত্র চাষাবাদে নিয়োজিত কোন পাহাড়ীকে চাষাবাদযোগ্য ভূমি বন্দোবস্ত দিতে পারিবেন। অনুরূপ ক্ষেত্রে লীজের আবেদন পত্র হেডম্যানের নিকট প্রদান করা যাইবে। উক্ত আবেদন পত্র হেডম্যান সুপারিশসহ মহকুমা প্রশাসকের নিকট অগ্রবর্তী করিবেন।” হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলনে 1971-এর পাঠেও একই বাক্য আছে — হেডম্যানের মাধ্যমে আবেদনের পথটি অন্তত 1971 থেকে বিধিতে।

প্রচলিত দাবি আর বিধির পাঠ

প্রচলিত একটি দাবি এর চেয়ে বড়। আমাদের আর্কাইভের ভূমি-ব্যবস্থাপনা বিষয়ক লেখাটিতে আছে: “মৌজা প্রধানের সুপারিশ ও মতামত ব্যতিত মৌজাধীন কোন জায়গা জমি বন্দোবস্ত হতে পারেনা। [৩৪ ধারা]”। ইংরেজি উইকিপিডিয়াও লিখেছে, “without a Headman’s recommendation no settlement or transfer cases of land could be processed”।

34 বিধির পাঠে হেডম্যানের সুপারিশ আছে একটিমাত্র জায়গায় — পাহাড়ি চাষির হালের জমির লীজ, যা মহকুমা প্রশাসক দেন। বাগান, রাবার, শিল্প, বসতবাড়ি বা বাণিজ্যিক জমির বন্দোবস্তের অংশে হেডম্যানের নাম নেই। হেডম্যানের সুপারিশ বা প্রতিবেদন অন্য কোনো সরকারি আদেশ বা প্রথার কারণে সব বন্দোবস্তে লাগে কি না, তা 34 বিধির পাঠ থেকে বলা যায় না; নিচে কয়েকটি আদেশ দেওয়া হলো, যেখানে হেডম্যানের ভূমিকা আলাদাভাবে লেখা।

জেলা প্রশাসকের তিনটি স্থায়ী আদেশ

সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলনে জমি সংক্রান্ত কয়েকটি পুরোনো সরকারি আদেশের মূল ইংরেজি পাঠ ও বঙ্গানুবাদ ছাপা আছে। তিনটি সরাসরি বন্দোবস্ত বা হস্তান্তরের পদ্ধতি নিয়ে:

  1. জমি বিক্রির অনুমতিতে হেডম্যানের সনদ (1 জুন 1965)। পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের স্থায়ী আদেশ, মেমো নং 1487(380)-G: জমি বিক্রির অনুমতি চাইলে বিক্রেতাকে সংশ্লিষ্ট হেডম্যানের সনদ আনতে হবে যে তিনি সরকারি রাজস্ব ও ঋণের সব বকেয়া শোধ করেছেন এবং জমিটি সমবায় ব্যাংক বা কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের ঋণে বন্ধক নেই। আদেশের শেষ লাইন: “No case should recommended be unless the required certificate has been furnished by petitioner.”
  2. কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমির অস্থায়ী বন্দোবস্ত (1966)। জেলা প্রশাসক এম. এস. রহমানের স্থায়ী আদেশ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 120 ফুটের নিচের যেসব হালের জমির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, মৌসুমি চাষের জন্য সেগুলো স্থানীয়দের অস্থায়ী লীজ দেওয়া হবে “fringe land” হিসেবে, ক্ষতিপূরণের দাবি ছাড়াই; অগ্রাধিকার আদি রায়তদের, যদি তাঁরা পুনর্বাসন বিভাগ থেকে অন্যত্র জমি না পেয়ে থাকেন। এই বন্দোবস্ত দেবেন মহকুমা প্রশাসক, আর “The Sub-Divisional Officers may receive petitions for such settlement through the Headmen concerned.”
  3. আগের বন্দোবস্তধারীকে না জানিয়ে নতুন বন্দোবস্ত নয় (20 সেপ্টেম্বর 1973)। জেলা প্রশাসক এম. শরাফত উল্লাহর আদেশ: চোখের আন্দাজে সীমানা ধরে দেওয়া বন্দোবস্তের ভেতরের “বাড়তি” জমি পরে অন্যকে গোপনে বন্দোবস্ত দেওয়ায় মামলা ও আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। তাই এমন আবেদনে miscellaneous case খুলে আগের বন্দোবস্তধারীকে নোটিশ দিতে হবে, আর জেলা প্রশাসকের কাছে নথি তোলার সময় নোটিশ জারির প্রমাণ ও আপত্তি সঙ্গে দিতে হবে। আদেশের অনুলিপি গিয়েছিল সব মহকুমা প্রশাসক, কানুনগো ও মৌজা হেডম্যানের কাছে।

এই আদেশগুলো আজও কার্যকর কি না, তা সংকলনে বলা নেই; সংকলনটি কেবল এগুলোকে “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সময়ের আদেশ” শিরোনামে ছেপেছে। হেডম্যানের দায়িত্বের পুরো তালিকা — খাজনা আদায় থেকে বিরোধ নিষ্পত্তি — আছে মৌজা হেডম্যান ও কার্বারি আসলে কী কী করেন লেখায়।

খাস জমি বন্দোবস্তে খাজনা আর সালামি: কোন জমিতে কত

হালের জমিতে স্বাভাবিক রায়তি হারে খাজনা; আগে কখনো চাষ না হওয়া জমি হলে প্রথম 3 বছর খাজনা নেই। বাগানের জমি প্রথম 3 বছর খাজনামুক্ত, পরের 3 বছর তৃতীয় শ্রেণির জমির হারে, তারপর উৎপাদন দেখে জেলা প্রশাসক খাজনা ঠিক করেন। সালামি — বন্দোবস্তের এককালীন মূল্য — লাগে রাবার, শিল্প, শহরের বসতবাড়ি ও বাণিজ্যিক জমিতে।

34(1)(a)(iii) ও (iv)-এর এই বিধানগুলো PCJSS পাঠ ও বাংলা বিধিমালায় একই। বাংলা পাঠে: “যদি বন্দোবস্ত প্রাপ্ত ভূমিতে ইতিপূর্বে চাষাবাদ না করা হইয়া থাকে, তাহা হইলে অনুরূপ ভূমির জন্য লীজ অনুমোদনের তারিখ হইতে প্রথম তিন বৎসর পর্যন্ত কোন খাজনা প্রদান করিতে হইবে না।” বাজারমূল্য কীভাবে ঠিক হবে, তা 34(1)(f) সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে: “in such manner as may be specified by the Government from time to time”।

জমির ধরন (উপবিধি) সালামি: নিবাসী পাহাড়ি ও অ-পাহাড়ি সালামি: অন্যরা খাজনা
হালের জমি, বাগানের জমি — (a)নেই—রায়তি হার; ওপরের ছাড়সহ
রাবার ও বাণিজ্যিক বাগান — (b)25 একর পর্যন্ত বাজারমূল্যের 50%বাজারমূল্যের 100%লীজ দলিলের তারিখ থেকে রায়তি হার
শিল্প-কারখানা — (c)বাজারমূল্যের 50%, বন্দোবস্তের সময়বাজারমূল্যের 100%, বন্দোবস্তের সময়একরপ্রতি বাজারমূল্যের ½%
বসতবাড়ি, শহরে — (d)বাজারমূল্যের 50%বাজারমূল্যের 100%PCJSS: 4%; বাংলা পাঠ: 0.25% (নিচে দেখুন)
বসতবাড়ি, শহরের বাইরে — (d)নেইবাজারমূল্যের 100%ওপরের মতো
শহরে বাণিজ্যিক — (e)বাজারমূল্যের 50%বাজারমূল্যের 100%একরপ্রতি বাজারমূল্যের 2%

দুই পাঠে দুটি সংখ্যা আলাদা

রাবার বাগানের সালামি কিস্তিতে শোধ হয়। সাধারণ হারে (100%): প্রথম বছরে 10%, 8ম থেকে 17তম বছরে প্রতিবছর 5%, 18তম থেকে 21তম বছরে প্রতিবছর 10%। নিবাসীদের হারে (50%) প্রথম বছরে 5%, শেষ চার বছরে প্রতিবছর 5% — আর মাঝের দশ বছরের কিস্তি PCJSS-এর ইংরেজি পাঠে “22 per cent”, বাংলা বিধিমালা ও হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলনে “২.৫ ভাগ”। বাংলা পাঠের অঙ্কে মোট দাঁড়ায় 5 + 25 + 20 = 50।

শহরের বসতবাড়ির খাজনাও দুই পাঠে আলাদা: PCJSS-এর ইংরেজিতে “4 percent of market value”, বাংলা বিধিমালা ও হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলনে “বাজার মূল্যের ০.২৫% হারে”। গেজেটের মূল ইংরেজি পাঠে কোনটি ছাপা, তা মিলিয়ে দেখা যায়নি।

রাবার বাগান, শিল্প, বসতবাড়ি, বাণিজ্য: কে কত একর পর্যন্ত বন্দোবস্ত দিতে পারেন

বাণিজ্যিক রাবার ও অন্যান্য বাগানে জেলা প্রশাসক দিতে পারেন 25 একর পর্যন্ত, বিভাগীয় কমিশনার 100 একর পর্যন্ত; 100 একরের বেশি হলে সরকারের পূর্বানুমোদন লাগে। শিল্প-কারখানায় শহরের বাইরে 10 একর, শহরে 5 একর। শহরে বসতবাড়ির জন্য 0.30 একরের বেশি দিতে সরকারের অনুমোদন লাগে।

উদ্দেশ্য কে দেন সর্বোচ্চ কত উপবিধি
হালচাষ (পাহাড়ি চাষি)জেলা প্রশাসক; মহকুমা প্রশাসকওপরিবারপ্রতি মোট 5 একর34(1)(a)(i)–(ii)
হালচাষ (অন্য নিবাসী)জেলা প্রশাসকপরিবারপ্রতি মোট 5 একর34(1)(a)(i)–(ii)
বাগান (grove)জেলা প্রশাসক5 একর; সন্তোষজনক হলে মোট 1034(1)(a)(i)
রাবার ও বাণিজ্যিক বাগানজেলা প্রশাসক / কমিশনার / সরকার25 / 100 / তার বেশি34(1)(b)(i)
শিল্প-কারখানাজেলা প্রশাসকশহরের বাইরে 10, শহরে 5 একর34(1)(c)(i)
বসতবাড়িজেলা প্রশাসক; শহরে 0.30 একরের বেশি হলে সরকারসীমা কেবল শহরে34(1)(d)
শহরে বাণিজ্যিকজেলা প্রশাসক, সরকার-অনুমোদিত পরিকল্পনা মেনেবিধিতে একর-সীমা নেই34(1)(e)

রাবার ও শিল্পের জমির উপবিধিতে লীজগ্রহীতা “a person” বা “a deserving industrialist” — নিবাসী হওয়ার শর্ত নেই; নিবাসী হলে কেবল সালামি অর্ধেক। বসতবাড়ির উপবিধিও একই রকম: “Land for residential purposes may be settled by the Deputy Commissioner with deserving persons on long term lease basis.” IWGIA-র প্রতিবেদন এই বাক্যটিকেই 1979-এর সংশোধনী হিসেবে উদ্ধৃত করে লিখেছে, এরপর “There were no longer any restrictions on ownership by and residency of non-indigenous people”। প্রতিবেদনের পাদটীকা আরও বলছে, সংশোধনীতে “deserving person” কে, তার কোনো সংজ্ঞা নেই।

রাবারের 25 একরের সীমার সঙ্গে একটি বাস্তব হিসাব মেলে। বান্দরবানের লামায় যে রাবার ইজারা নিয়ে ম্রো ও ত্রিপুরা পাড়ার সঙ্গে বিরোধ, সেখানে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী 64 জনকে মোট প্রায় 1,600 একর দেওয়া হয়েছিল — গড়ে জনপ্রতি 25 একর (লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ ম্রো ভূমি বিরোধ)। ইজারাগুলো কোন বিধির অধীনে দেওয়া হয়েছিল, তা প্রকাশিত কোনো উৎসে বলা নেই।

বহিরাগতকে খাস জমি বন্দোবস্ত: দুই সংকলনের দুই রকম পাঠ

PCJSS-এর ইংরেজি পাঠে 34(1)-এ উপদফা মাত্র সাতটি, (a) থেকে (g); তাতে “outsider” বা “non-resident”-কে জমি দেওয়ার আলাদা কোনো শর্ত নেই। বাংলা বিধিমালা আর হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলনে একই উপবিধির পাঠ অনেক লম্বা, আর সেখানে একাধিক জায়গায় লেখা: রাজস্ব বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া অনিবাসীকে জমি বন্দোবস্ত দেওয়া যাবে না।

বাংলা পাঠের (বি) উপদফা: “রাজস্ব বোর্ডের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে কোন অনিবাসীকে (বহিরাগত) কৃষি কিংবা গ্রোভ আবাদের জন্য কোন ভূমি বন্দোবস্ত প্রদান করা যাইবে না। এই ক্ষেত্রে কি পরিমাণ ভূমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হইবে উহার পরিমাণ রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।” আর (এল) উপদফা: “রাজস্ব বোর্ডের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে অ-নবাসীদের অনুকূলে অত্র জেলায় কোন ভূমি বন্দোবস্ত মঞ্জুর করা যাইবে না।”

IWGIA-র প্রতিবেদন 1971-এর সংশোধনী থেকে ঠিক এই কথাটিই ইংরেজিতে উদ্ধৃত করেছে, Rule 34(l) হিসেবে: “No settlement of land in this district shall be made with outsiders without the prior approval of the Board of Revenue.” বাংলা পাঠের অন্য উপদফাগুলোতে আছে পাহাড়ের ঢালু জমির বন্দোবস্ত (সি, ডি, ই — পাথরের দেয়াল বা ধাপ কাটার খরচ অনুযায়ী সালামি), কুটির শিল্পভিত্তিক রাবার বাগান (এফ, পরিবারপ্রতি 5 একর) আর অনিবাসীর রাবার বাগান (জি)।

বাংলা বিধিমালায় 1979-এর প্রজ্ঞাপনের চিহ্ন (Ω) বসানো আছে কেবল কয়েকটি উপদফায় — (এ)(i)–(iv), রাবারের বি(i)–(ii), শিল্পের সি(i)–(ii), বসতবাড়ির ডি(i)–(iii), আর (জি)-র শেষে লীজ দলিলের অনুচ্ছেদ। বহিরাগতের (বি), ঢালু জমির (সি), (ডি), (ই), কুটির শিল্পের রাবার (এফ), (এল) — এগুলোতে কোনো তারিখ-চিহ্ন নেই। অর্থাৎ 34(1)-এর দুটি পাঠ মেলে না: PCJSS-এর 1979-পরবর্তী ইংরেজি সংকলনে সাতটি উপদফা, আর বাংলা বিধিমালা ও হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলনে তার সঙ্গে 1971-এর উপদফাগুলোও (বহিরাগতকে বন্দোবস্তে রাজস্ব বোর্ডের পূর্বানুমোদন, ঢালু জমি, কুটির শিল্পের রাবার বাগান)। 1979-এর প্রজ্ঞাপন 1971-এর উপদফাগুলো বাতিল করেছিল, নাকি পাশাপাশি রেখেছিল, তা কোনো সংকলনে স্পষ্ট লেখা নেই। কোন পাঠটি ঠিক, তা নিষ্পত্তি করতে পারে কেবল 31 মার্চ 1979-এর বাংলাদেশ গেজেটে (S.R.O. 72-L/79) ছাপা মূল পাঠ।

“অ-পাহাড়ি বাসিন্দা” কে

1971-এর পাঠে একটি সংজ্ঞা ছিল। হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলনে: “অ-পাহাড়ী বাসিন্দা বলিতে যাহার পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্তত: পনের বছর ধরিয়া একটি বসতবাটি রহিয়াছে এবং এই জেলার বাহিরে কোন বসতবাটি নাই, অথবা পার্বত্য চট্টগ্রামে ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক বন্দোবস্তকৃত চাষাবাদের জমিসহ একটি বসতবাটি রহিয়াছে কিন্তু এই জেলার বাহিরে চাষাবাদের জমিসহ কোন বসতবাটি নাই তাহাকে বুঝাইবে।” IWGIA-র প্রতিবেদনেও একই সংজ্ঞা, “Explanation to Rule 34 (n)” হিসেবে। সংকলনের মন্তব্য অনুযায়ী 1979-এর সংশোধনীতে এই ব্যাখ্যা নেই; PCJSS-এর ইংরেজি পাঠেও নেই।

বন্দোবস্তের পর: বিক্রি, বন্ধক, ভাগ আর উত্তরাধিকারে কী শর্ত

বন্দোবস্ত পাওয়া জমি জেলা প্রশাসকের পূর্বানুমোদন ছাড়া বিক্রি, দান বা বন্ধক দেওয়া যায় না (34(5)); সাব-লেট নিষিদ্ধ (34(4)); অননুমোদিত হস্তান্তরে জমি সরকার ফিরিয়ে নেয় (34(6)); ভাগ করতে জেলা প্রশাসকের সম্মতি লাগে (34(7)); আর জেলার বাইরের বাসিন্দার উত্তরাধিকারেও জেলা প্রশাসকের স্পষ্ট সম্মতি লাগে (34(13))।

এই উপবিধিগুলোর বিস্তারিত — সাত বছরের খাইখালাসি বন্ধক, 3 ডিসেম্বর 1920-এর আগের স্বীকৃত উপ-প্রজার সুরক্ষা, খাজনা বৃদ্ধির 50% সীমা, স্থায়ী ও উত্তরাধিকারযোগ্য স্বত্ব — আমাদের হেডম্যান ও কার্বারির দায়িত্ব লেখায় আলাদা অংশে আছে। এখানে কেবল তারিখ আর দুটি বিষয় যোগ করা হলো, যা ওই লেখায় নেই।

প্রথমত, 34(14) — “The provisions of sub-rules (5), (6), (7), (11) and (13) will apply to existing tenancies only” — বাংলা বিধিমালার পাদটীকা অনুযায়ী যোগ হয়েছিল 6 অক্টোবর 1942-এর প্রজ্ঞাপন নং 1958-এ। দ্বিতীয়ত, বাংলা বিধিমালায় (5ক) নামে একটি উপবিধি আছে, যা PCJSS-এর ইংরেজি পাঠে নেই: জেলা প্রশাসকের (1) উপবিধির ক্ষমতা মহকুমা প্রশাসক প্রয়োগ করতে পারবেন, যদি লীজগ্রহীতা পাহাড়ি চাষি হন এবং তাঁর পরিবারের মোট জমি নতুন বন্দোবস্তসহ 10 একরের বেশি না হয়। এর পাদটীকা 25 সেপ্টেম্বর 1961-এর প্রজ্ঞাপন নং 488 R.L.।

ক্ষমতা অর্পণের কথাও বিধিতেই আছে। 34(15): জেলা প্রশাসকের ক্ষমতা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকও প্রয়োগ করতে পারবেন। 34(16): জেলা প্রশাসক লিখিত আদেশে ক্ষমতা দিলে মহকুমা প্রশাসকেরা নিজ এলাকায় তা প্রয়োগ করতে পারবেন।

৩৪ক, ৩৪খ, ৩৪গ: জলধারা, নদীতীরের জুম আর রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ ক্ষমতা

34 বিধির পরে তিনটি ছোট বিধি আছে। 34ক: জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া প্রাকৃতিক জলধারা বন্ধ বা ঘোরানো যাবে না। 34খ: নদীতে পলি পড়া বা ভাটিতে বন্যার আশঙ্কা থাকলে জেলা প্রশাসক নদীতীরে জুম বা চাষ নিষিদ্ধ করতে পারেন। 34গ: রাজস্ব বোর্ড জেলা প্রশাসককে বিধির সীমা ছাড়িয়ে যেকোনো শ্রেণির জমি বন্দোবস্তের ক্ষমতা দিতে পারে।

PCJSS পাঠে তিনটির ভাষা:

  • 34A (27 ফেব্রুয়ারি 1928-এর প্রজ্ঞাপন নং 2977 E.A. অনুযায়ী সংশোধিত): “The flow of any natural water-course can not be stopped or diverted without the permission of the Deputy Commissioner.”
  • 34B (25 এপ্রিল 1939-এর প্রজ্ঞাপন নং 4852 E.A.-তে যোগ): “The Deputy Commissioner may prohibit jhuming or cultivation on or near the banks of any river, if in his opinion such jhuming or cultivation is likely to cause silting in the river of flooding in land down stream. Breach of this rule will be punishable by confiscation of the crops grown and by fine, which may extend to Rs. 50.00.”
  • 34C (16 জুন 1961-এর No. 1R-17/60/276-R.L.-এ যোগ): “Notwithstanding contained elsewhere in these rules in regard to the settlement of lands, the Board of Revenue may by general or special orders, authorities the Deputy Commissioner to settle any class of land up to any quantity for such purpose and subject to such terms and conditions, as may be specified in such orders either with hillmen or with non-hillmen.”

34গ-র প্রথম শব্দগুলো — “Notwithstanding contained elsewhere in these rules” — মানে, ওপরের সব একর-সীমা থাকা সত্ত্বেও রাজস্ব বোর্ডের সাধারণ বা বিশেষ আদেশে জেলা প্রশাসক “any class of land up to any quantity” বন্দোবস্ত দিতে পারেন, পাহাড়ি বা অ-পাহাড়ি যে কাউকে। বাংলা বিধিমালায় এর অনুবাদ: “রাজস্ব বোর্ড সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা জেলা প্রশাসককে যেই কোন শ্রেণীর যেই কোন পরিমাণ জমি, আদেশে বর্ণিত শর্তসাপেক্ষে পাহাড়ী বা অ-পাহাড়ীদের বন্দোবস্ত প্রদান করিবার কর্তৃত্ব প্রদান করিতে পারিবেন।” এই ক্ষমতায় কোনো আদেশ জারি হয়েছিল কি না, তার তালিকা কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।

34খ জুমের ওপর জেলা প্রশাসকের একমাত্র ক্ষমতা নয়; 41 বিধিতে জুম নিয়ন্ত্রণের সাধারণ ক্ষমতাও তাঁর, আর জুম কর কীভাবে ওঠে তা আছে জুম কর কে তোলেন, কত, আর টাকাটা শেষে কোথায় যায় লেখায়।

১৯৮৯ থেকে জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন: ৩৪ বিধির ওপর নতুন স্তর

1989 সালের তিনটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইনের পর থেকে 34 বিধির অধীনে জেলা প্রশাসক একা আর খাস জমি বন্দোবস্ত দিতে পারেন না। ভূমি মন্ত্রণালয়ের 19 জুলাই 1989-এর প্রজ্ঞাপন বলছে, সংশ্লিষ্ট পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া জমি বন্দোবস্ত বা অস্থানীয়ের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না। 1998-এর সংশোধনে এই শর্ত আইনের 64 ধারায় আরও বিস্তৃত হয়।

প্রজ্ঞাপনটি (নং ভূ:ম:/শা-১/১৬/৮৯-৫৮০, ঢাকা, ৪ঠা শ্রাবণ ১৩৯৬ / ১৯শে জুলাই ১৯৮৯; বাংলাদেশ গেজেট, ১ম খণ্ড, ৩রা আগস্ট ১৯৮৯) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে স্ক্যান করা অবস্থায় রাখা আছে। তার মূল দুটি বাক্য:

“Chittagong Hill Tracts Regulation (Regulation II of 1900) এবং ইহার সংশোধনীসমূহ অনুযায়ী পার্বত্য জেলাসমূহে ডেপুটি কমিশনার ভূমি বন্দোবস্ত ও অস্থানীয়দের নিকট ভূমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিতেন। উল্লিখিত পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইনসমূহ প্রবর্তনের পর এক্ষণে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন জায়গাজমি বন্দোবস্ত এবং উক্তরূপ জায়গাজমি জেলার বাসিন্দা নহেন এইরূপ কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করা যাইবে না।”

প্রজ্ঞাপনে রেগুলেশনের নম্বর ছাপা হয়েছে “Regulation II of 1900”; রেগুলেশনটির প্রচলিত নম্বর Regulation I of 1900। ব্যতিক্রম হিসেবে প্রজ্ঞাপন বাদ দিয়েছে সংরক্ষিত ও রক্ষিত বনাঞ্চল, কাপ্তাই হ্রদ ও কাপ্তাই বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, রাষ্ট্রীয় শিল্প-কারখানার এলাকা, সরকারি বা জনস্বার্থে হস্তান্তরিত বা বন্দোবস্তকৃত জমি, আর রাষ্ট্রীয় স্বার্থে প্রয়োজন হতে পারে এমন জমি বা বন। আদেশটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল সংশ্লিষ্ট পরিষদের প্রথম আনুষ্ঠানিক সভার দিন থেকে।

বাংলাদেশ গেজেটে ৩ আগস্ট ১৯৮৯ প্রকাশিত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের স্ক্যান, যাতে বলা হয়েছে স্থানীয় সরকার পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া পার্বত্য জেলায় জমি বন্দোবস্ত ও অস্থানীয়ের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না
ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন, 19 জুলাই 1989 (বাংলাদেশ গেজেট, 3 আগস্ট 1989)। ছবি: সরকারি নথি · পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট

রাঙ্গামাটির 64 ধারা, আজ যেভাবে আছে

প্রজ্ঞাপনটি যে “ধারা ৬৪”-এর কথা বলেছে, তা 1998 সালে পুরোপুরি নতুন করে লেখা হয়। রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এর বর্তমান 64(1)(ক) ধারা: “রাংগামাটি পার্বত্য জেলার এলাকাধীন বন্দোবস্তযোগ্য খাস জমিসহ যে কোন জায়গা জমি, পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে, ইজারা প্রদান, বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় বা অন্যবিধভাবে হস্তান্তর করা যাইবে না”। আইনের পাদটীকা অনুযায়ী ধারাটি রাংগামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ (সংশোধন) আইন, 1998 (1998 সনের 9 নং আইন)-এর 29 ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।

ধারাটির শর্তাংশে বাদ গেছে রক্ষিত (Reserved) বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প-কারখানা ও সরকারের নামে রেকর্ডকৃত জমি। 64(3): “কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসা জমি … অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমির মূল মালিকদেরকে বন্দোবস্ত দেওয়া হইবে।” ধারাটির চারটি অংশের বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে পার্বত্য জেলা পরিষদে আসন ভাগ হয় কীভাবে লেখায়, আর চুক্তির যে দফা থেকে এটি এসেছে তা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭: ধারা ধরে ধরে লেখায়।

ফলে আজ খাস জমি বন্দোবস্তের একটি আবেদন দুই আইনের মধ্য দিয়ে যায়: কতটা ও কাকে দেওয়া যাবে তা 34 বিধি বলে, আর পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া দেওয়া যাবে না তা 64 ধারা বলে। শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের সরকারি হিসাবে জমি বন্দোবস্তে পরিষদের অনুমোদনের দফাটি (খ-26) এখনো “বাস্তবায়নাধীন” তালিকায় — সে হিসাব আছে চুক্তির লেখাটিতে।

অবৈধ খাস জমি বন্দোবস্ত হলে কী হয়: ভূমি কমিশন আইনের ৬(১)(গ)

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতির বাইরে দেওয়া কোনো বন্দোবস্ত বাতিল করার ক্ষমতা ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের। 34 বিধি এই “প্রচলিত আইন”-এর অংশ, কারণ কমিশন আইনের সংজ্ঞায় প্রচলিত আইন মানে আইনটি বলবৎ হওয়ার আগের সব আইন, ঐতিহ্য, বিধি ও প্রজ্ঞাপন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১-এর 6(1)(গ) ধারা, 2016 সালের 45 নং আইনে প্রতিস্থাপিত রূপে: “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি বহির্ভূতভাবে জলেভাসা ভূমিসহ (Fringe Land) কোন ভূমি বন্দোবস্ত প্রদান বা বেদখল করা হইয়া থাকিলে উহা বাতিলকরণ এবং বন্দোবস্তজনিত বা বেদখলজনিত কারণে কোনো বৈধ মালিক ভূমি হইতে বেদখল হইয়া থাকিলে তাহার দখল পুনর্বহাল”।

একই আইনের 2(ছ) ধারায় “প্রচলিত আইন” বলতে বোঝানো হয়েছে “পার্বত্য চট্টগ্রামে এই আইন বলবত্ হইবার পূর্বে যে সমস্ত আইন, ঐতিহ্য, বিধি, প্রজ্ঞাপন প্রচলিত ছিল কেবলমাত্র সেইগুলিকে”। 34 বিধি ও তার সংশোধনী, আর 1989-এর ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন — দুটিই এই সংজ্ঞার ভেতরে পড়ে। কমিশনে কীভাবে আবেদন করতে হয়, তার ধাপ আছে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে আবেদন করবেন কীভাবে লেখায়।

সর্বোচ্চ আদালত এই বিধিমালাকে কীভাবে দেখেছে

আপিল বিভাগ 22 নভেম্বর 2016-এর রায়ে (রায়ের পিডিএফে শুনানি ও রায়ের তারিখ একই দিন) বলেছে, 1900 সালের রেগুলেশন মৃত আইন নয়, পার্বত্য জেলাগুলোতে বলবৎ। রায়ে বিধিমালাটির কথাও আলাদা করে আছে: সরকার 18 ধারার ক্ষমতায় “Elaborate Rules” প্রণয়ন করেছে, যার বিষয়ের তালিকায় চতুর্থটি “(d) settlement of government land”।

সিভিল আপিল নং 08/2008 (বাংলাদেশ সরকার বনাম রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড ও অন্যান্য; প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী) রায়ের ভাষায়, রেগুলেশনটি “recognizes a wide body of customary laws on land, forest and other natural resources that are crucial safeguards for the tribal people”। রায় 48 বিধি উদ্ধৃত করে বলেছে, বিধিগুলো “framed in exercise of powers under section 18 of the Regulation of 1900 by the Government of Bengal”।

রায়টি 34 বিধির কোনো উপবিধি ব্যাখ্যা করেনি; বিধিমালাকে কেবল প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। মামলাটির পুরো ইতিহাস — হাইকোর্টের 2003 সালের “মৃত আইন” রায় থেকে রিভিউ পর্যন্ত — নিয়ে আলাদা লেখা: রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলা: শাসনবিধি ১৯০০ মৃত আইন রায়, আর আপিল বিভাগে যেভাবে ফিরে এল।

বিধি ও সরকারি আদেশ অনুযায়ী খাস জমি বন্দোবস্তের ধাপগুলো এক নজরে

34 বিধি ও ওপরে উদ্ধৃত সরকারি নথিগুলো যে ক্রম দেখায়, তা নিচে সাজানো হলো। প্রতিটি ধাপের পাশে উৎস দেওয়া আছে; উৎসে যা নেই — যেমন আবেদনপত্রের ফরম, ফি বা সময়সীমা — তা এখানে যোগ করা হয়নি।

  1. জমিটি খাস ও বন্দোবস্তযোগ্য কি না। রক্ষিত (Reserved) বনাঞ্চল, কাপ্তাই প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় শিল্প-কারখানা আর সরকারের নামে রেকর্ডকৃত জমিতে পরিষদের পূর্বানুমোদনের বিধান খাটে না (রাঙ্গামাটি আইনের 64(1)(ক) শর্তাংশ)।
  2. কোন উদ্দেশ্যে আর কত একর। হালচাষ, বাগান, রাবার, শিল্প, বসতবাড়ি বা বাণিজ্য — প্রতিটির আলাদা সীমা ও কর্তৃপক্ষ (34(1)(a)–(e))। পরিবারের আগে থেকে দখলে থাকা জমি হিসাবে ধরা হয় (34(1)(a)(i))।
  3. আবেদন কোথায়। পাহাড়ি চাষির হালের জমি হলে আবেদন হেডম্যানের কাছে দেওয়া যায়, হেডম্যান সুপারিশসহ মহকুমা প্রশাসকের কাছে পাঠান; অন্য সব ক্ষেত্রে লীজ দেন জেলা প্রশাসক (34(1)(a)(ii))।
  4. আগের বন্দোবস্তধারীকে নোটিশ। কোনো পুরোনো বন্দোবস্তের সীমানার ভেতরের জমি চাইলে আগের বন্দোবস্তধারীকে নোটিশ দিয়ে আপত্তি শুনতে হয় (জেলা প্রশাসকের আদেশ, 20 সেপ্টেম্বর 1973)।
  5. জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন। পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া বন্দোবস্ত হবে না (ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন, 19 জুলাই 1989; 64(1)(ক))।
  6. সালামি ও খাজনা নির্ধারণ। উদ্দেশ্য ও লীজগ্রহীতা নিবাসী কি না দেখে (34(1)(a)(iii)–(iv), (b)–(f))।
  7. লীজ দলিল ও রেজিস্ট্রি। “All settlement of khas lands shall be concluded in the form of a lease deed prescribed or to be prescribed by the Government and shall be registered under rule 12.” লীজগ্রহীতার অধিকার ও দায় চলবে দলিলের শর্তে (34(1)(g))।
  8. পরে বিক্রি, বন্ধক বা ভাগ। জেলা প্রশাসকের পূর্বানুমোদন (34(5), (7)); বিক্রির অনুমতিতে হেডম্যানের বকেয়া-মুক্তির সনদ (জেলা প্রশাসকের স্থায়ী আদেশ, 1 জুন 1965); জেলার বাসিন্দা নন এমন কারও কাছে হস্তান্তরে পরিষদের পূর্বানুমোদন (64(1)(ক))।

একটি কথা মনে রাখা দরকার: এই নথিগুলোতে “মহকুমা প্রশাসক” ও “রাজস্ব বোর্ড” যে পদ ও প্রতিষ্ঠানের নাম, আজকের প্রশাসনে তাদের দায়িত্ব কোন দপ্তরের হাতে, তা উদ্ধৃত কোনো উৎসে বলা নেই।

প্রশ্নোত্তর: শাসনবিধির ৩৪ নম্বর বিধি নিয়ে যা সবচেয়ে বেশি জানতে চাওয়া হয়

শাসনবিধির ৩৪ ধারা আর ৩৪ নম্বর বিধি কি একই জিনিস?

লোকে যাকে “৩৪ ধারা” বলেন, তা আসলে 34 নম্বর বিধি। 1900 সালের রেগুলেশনে ধারা মাত্র 20টি; জমি বন্দোবস্তের নিয়ম আছে Rules for the Administration of the Chittagong Hill Tracts-এ, যা রেগুলেশনের 18 ধারার ক্ষমতাবলে 1 মে 1900-এর প্রজ্ঞাপন নং 123 P-তে জারি হয়। 18(3) ধারা অনুযায়ী গেজেটে প্রকাশিত বিধি রেগুলেশনের মতোই কার্যকর।

পার্বত্য চট্টগ্রামে এক পরিবার সর্বোচ্চ কত একর খাস জমি বন্দোবস্ত পায়?

34(1)(a)(i) অনুযায়ী হালচাষের সমতল জমি আগের দখলসহ মোট 5 একর। এর বাইরে বাগানের জমি 5 একর; জেলা প্রশাসক লীজগ্রহীতার কাজে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলে বাগানের জমি মোট 10 একর পর্যন্ত। রাবার বাগান, শিল্প, বসতবাড়ি ও বাণিজ্যিক জমির সীমা আলাদা উপবিধিতে দেওয়া।

খাস জমির বন্দোবস্ত কে দেন — জেলা প্রশাসক না হেডম্যান?

34(1)(a)(ii) অনুযায়ী হালের ও বাগানের জমির লীজ দেন জেলা প্রশাসক। কেবল পাহাড়ি চাষির হালের জমি মহকুমা প্রশাসকও দিতে পারেন। হেডম্যান বন্দোবস্ত দেন না; পাহাড়ি চাষির আবেদন তাঁর কাছে জমা দেওয়া যায়, আর তিনি সুপারিশসহ মহকুমা প্রশাসকের কাছে পাঠান। 1989 থেকে জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদনও লাগে।

হেডম্যানের সুপারিশ ছাড়া কি খাস জমি বন্দোবস্ত হয়?

34 বিধির পাঠে হেডম্যানের সুপারিশের কথা আছে কেবল পাহাড়ি চাষির হালের জমির লীজে, আর সেখানেও আবেদন হেডম্যানের কাছে “may be made” — বাধ্যতামূলক বলে লেখা নেই। রাবার, শিল্প, বসতবাড়ি বা বাণিজ্যিক বন্দোবস্তের উপবিধিতে হেডম্যানের নাম নেই। জমি বিক্রির অনুমতিতে হেডম্যানের সনদ লাগে জেলা প্রশাসকের 1 জুন 1965-এর স্থায়ী আদেশে।

রাবার বাগানের জন্য কত একর খাস জমি লীজ দেওয়া যায়?

34(1)(b)(i) অনুযায়ী জেলা প্রশাসক 25 একর পর্যন্ত, বিভাগীয় কমিশনার 100 একর পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি লীজ দিতে পারেন; 100 একরের বেশি হলে সরকারের পূর্বানুমোদন লাগে। সালামি বাজারমূল্যের 100%, নিবাসী পাহাড়ি ও অ-পাহাড়ির 25 একর পর্যন্ত 50%, কিস্তিতে 21 বছরে শোধযোগ্য। খাজনা লীজ দলিলের তারিখ থেকে রায়তি হারে।

বাইরের জেলার কেউ কি পার্বত্য চট্টগ্রামে খাস জমি বন্দোবস্ত পেতে পারেন?

PCJSS-এর ইংরেজি পাঠে রাবার, শিল্প ও বসতবাড়ির উপবিধিতে নিবাসী হওয়ার শর্ত নেই; অনিবাসী কেবল বেশি সালামি দেন। বাংলা বিধিমালা ও হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলনে লেখা, রাজস্ব বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া অনিবাসীকে বন্দোবস্ত দেওয়া যাবে না। 1989-এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জেলার বাসিন্দা নন এমন কারও কাছে হস্তান্তরে পরিষদের পূর্বানুমোদন লাগে।

৩৪ নম্বর বিধিতে সর্বশেষ বড় সংশোধনী কবে হয়েছে?

31 মার্চ 1979, ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয়ের S.R.O. 72-L/79, বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত সংখ্যার 1178–1180 পৃষ্ঠায় প্রকাশিত। PCJSS-এর পাঠ অনুযায়ী আজকের (1) উপবিধি এই প্রজ্ঞাপনের। এর আগে 16 সেপ্টেম্বর 1971-এর প্রজ্ঞাপনে (2) উপবিধি আসে; IWGIA-র প্রতিবেদনে 5 একরের সীমাও 1971-এর।

৩৪ক, ৩৪খ আর ৩৪গ বিধিতে কী আছে?

34ক: জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া প্রাকৃতিক জলধারা বন্ধ বা ঘোরানো যাবে না (1928)। 34খ: নদীতে পলি বা ভাটিতে বন্যার আশঙ্কায় জেলা প্রশাসক নদীতীরে জুম বা চাষ নিষিদ্ধ করতে পারেন; ভঙ্গ করলে ফসল বাজেয়াপ্ত ও 50 টাকা পর্যন্ত জরিমানা (1939)। 34গ: রাজস্ব বোর্ড জেলা প্রশাসককে যেকোনো শ্রেণির যেকোনো পরিমাণ জমি বন্দোবস্তের ক্ষমতা দিতে পারে (1961)।

বন্দোবস্ত পাওয়া জমি কি বিক্রি বা বন্ধক দেওয়া যায়?

34(5) অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের পূর্বানুমোদন ছাড়া বিক্রি, দান বা বন্ধক নয়; বন্ধক কেবল খাইখালাসি, সর্বোচ্চ 7 বছর, তবে সরকার, কৃষি বা শিল্প উন্নয়ন ব্যাংক ও নিবন্ধিত সমবায়ের পক্ষে সাধারণ বন্ধক অনুমোদন করা যায়। সাব-লেট নিষিদ্ধ (34(4)), অননুমোদিত হস্তান্তরে জমি পুনর্গ্রহণ (34(6))।

৩৪ বিধিতে “পরিবার” বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?

বিধির শেষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী পরিবার মানে লীজগ্রহীতা, তাঁর স্ত্রী, পুত্র, কন্যা এবং লীজগ্রহীতার ওপর নির্ভরশীল ও একসঙ্গে (একই হেঁশেলে, “same mess”) থাকা আত্মীয়। বাংলা বিধিমালায় 25 সেপ্টেম্বর 1961-এর প্রজ্ঞাপনের আরেকটি ব্যাখ্যাও আছে, যেখানে পরিবারে পিতা, মাতা, পুত্র ও কন্যা অন্তর্ভুক্ত।

জেলা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া খাস জমি বন্দোবস্ত দিলে কী হয়?

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের 64(1)(ক) অনুযায়ী পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া বন্দোবস্তযোগ্য খাস জমিসহ কোনো জমি বন্দোবস্ত করা যাবে না। প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতির বাইরে দেওয়া বন্দোবস্ত বাতিল ও বৈধ মালিকের দখল পুনর্বহালের ক্ষমতা ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের, কমিশন আইনের 6(1)(গ) অনুযায়ী।

মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বিধিটি ৩৩ নম্বরে কেন?

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রাখা রেগুলেশনের পিডিএফের সূচিতে জমি বন্দোবস্তের বিধিটি 33 নম্বরে, অথচ পরের লাইনেই 34A, 34B, 34C। PCJSS সংকলন, বাংলা বিধিমালা ও হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলন — তিনটিতেই বিধিটি 34। পিডিএফে কেবল সূচি আছে, মূল পাঠ নেই; নম্বরের এই পার্থক্যের কারণ কোথাও ব্যাখ্যা করা নেই।

যা এখনো জানা যায়নি

  • 1979-এর পর 34(1)-এর কোন পাঠ বলবৎ। PCJSS-এর ইংরেজি পাঠে সাতটি উপদফা, বাংলা বিধিমালা ও হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলনে অনেক বেশি — বহিরাগতকে বন্দোবস্তে রাজস্ব বোর্ডের পূর্বানুমোদনসহ। 31 মার্চ 1979-এর S.R.O. 72-L/79 পুরো (1) উপবিধি প্রতিস্থাপন করেছিল, নাকি কয়েকটি উপদফা, তা গেজেটের মূল পাঠ ছাড়া মেলানো যায়নি।
  • দুটি সংখ্যা। রাবার বাগানের নিবাসী-হারের মাঝের কিস্তি (“22 per cent” না “২.৫ ভাগ”) আর শহরের বসতবাড়ির খাজনা (“4 percent” না “০.২৫%”) — গেজেটের মূল ইংরেজিতে কোনটি, যাচাই করা যায়নি।
  • 1920-এর সংশোধনীর প্রজ্ঞাপন নম্বর। IWGIA 1920 সালের সংশোধনীর কথা বলে, আর 34(3)-এ 3 ডিসেম্বর 1920 একটি কাট-অফ তারিখ। PCJSS সংকলনে ওই তারিখের একটি প্রজ্ঞাপন (নং 13066 P) আছে, কিন্তু সেটি 6 নম্বর বিধির পাদটীকায়; সেটি 34 বিধিও বদলেছিল কি না, জানা যায়নি।
  • 34গ-র অধীনে জারি হওয়া আদেশ। রাজস্ব বোর্ড কখনো জেলা প্রশাসককে সীমার বাইরে বন্দোবস্তের সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দিয়েছিল কি না, তার কোনো তালিকা প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
  • আজকের দপ্তর। বিধিতে যে “Sub-divisional Officer” ও “Board of Revenue”, তাদের দায়িত্ব এখন কোন দপ্তরের, আর 34 বিধির আবেদন বাস্তবে কোন অফিসে জমা হয় — কোনো সরকারি নির্দেশিকায় পাওয়া যায়নি।
  • জেলা প্রশাসকের পুরোনো আদেশগুলো এখনো কার্যকর কি না। 1965, 1966 ও 1973-এর আদেশগুলো হেডম্যান নেটওয়ার্কের সংকলনে ছাপা, কিন্তু সেগুলো প্রত্যাহার বা হালনাগাদ হয়েছে কি না, জানা যায়নি।
  • কত জমি এই বিধিতে বন্দোবস্ত হয়েছে। 1979-এর পর 34 বিধির কোন উপদফায় কত একর, কাকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে — জেলাভিত্তিক কোনো সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের আইন, প্রশাসন ও জনগোষ্ঠী নিয়ে আমাদের সব লেখা একসঙ্গে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়; সার্কেল চিফের ভূমিকা জানতে দেখতে পারেন সার্কেল চিফ: তিনটি সার্কেল, আর রাজার ক্ষমতা আসলে কতটুকু।

তথ্যসূত্র

  1. পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (সংকলিত), The Chittagong Hill Tracts Regulation, 1900 (Regulation I of 1900) ও Rules for the Administration of the CHT, পিডিএফ (ফাইল তৈরি 2014), 90 পৃষ্ঠা — 34, 34A–34C বিধি ও পাদটীকা 80, 94–98; 18 ধারা।
  2. পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধিমালা, ১৯০০ (বাংলা পাঠ, 1979 পর্যন্ত সংশোধিত), পৃ. 20–35 — জুমজার্নাল ই-বুক সংগ্রহ।
  3. শক্তিপদ ত্রিপুরা (সম্পাদক), পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, কতিপয় আইনের ধারা, আদেশ ও প্রথা-রীতি সম্বলিত সংকলন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক, 30 ডিসেম্বর 2016 — পৃ. 2–10 (34 বিধির তিন পাঠ), 11–18 (জেলা প্রশাসকের আদেশ) — জুমজার্নাল ই-বুক সংগ্রহ।
  4. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিধিমালা পাতা; Chittagong Hill Tracts Regulation-1900 (1 of 1900), পিডিএফ, 26 পৃষ্ঠা (সূচি)।
  5. ভূমি মন্ত্রণালয়, শাখা-১, প্রজ্ঞাপন নং ভূ:ম:/শা-১/১৬/৮৯-৫৮০, 19 জুলাই 1989; বাংলাদেশ গেজেট, 3 আগস্ট 1989 — পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রাখা স্ক্যান।
  6. রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯, ধারা 64 ও পাদটীকা 59 — বাংলাদেশ আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়, bdlaws।
  7. পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১, ধারা 2(ছ) ও 6(1)(গ) — bdlaws।
  8. Rajkumari Chandra Kalindi Roy, Land Rights of the Indigenous Peoples of the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh, IWGIA Document No. 99, কোপেনহেগেন, 2000 — মূল 34 বিধি, 1920, 1971 ও 1979-এর সংশোধনী।
  9. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগ, Civil Appeal No. 08 of 2008, Government of Bangladesh v. Rangamati Food Products Ltd. and others, রায় 22 নভেম্বর 2016।
  10. South Asia Terrorism Portal, The Chittagong Hill Tracts Regulation, 1900 — রেগুলেশনের ধারাগুলোর পাঠ।
  11. Wikipedia, Chittagong Hill Tracts manual — প্রচলিত বর্ণনার উদাহরণ হিসেবে।
  12. জুমজার্নাল, পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন; মৌজা হেডম্যান ও কার্বারি আসলে কী কী করেন; পার্বত্য জেলা পরিষদে আসন ভাগ হয় কীভাবে; লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ ম্রো ভূমি বিরোধ।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:CHT Regulation 1900, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি সমস্যা, পার্বত্য জেলা পরিষদ, ভূমি অধিকার, হেডম্যান

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা