Last updated Nov 4th, 2026
0

কার্বারি নিয়োগ কোন আইনে লেখা আছে, এই প্রশ্নের সোজা উত্তর: কোনো আইনে নেই। বাংলাদেশের কোনো আইন বা বিধিতে কার্বারিকে কে নিয়োগ দেবেন, কে সরাবেন, তিনি কত ভাতা পাবেন, তার বিধান নেই। তবে শব্দটি আইনে একেবারে অনুপস্থিতও নয়। ১৯০০ সালের শাসনবিধির বিধিমালায় ‘karbari’ শব্দটি তিনবার আছে, ১৯৪৬ সালের একটি রেগুলেশনে পাড়ার কার্বারিকে জন্ম-মৃত্যুর খবর দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, আর ১৯৮৯ সালের তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের 66 ধারায় “কারবারী” সামাজিক বিরোধের প্রথম বিচারক।
এই লেখা প্রতিটি জায়গা ধরে ধরে দেখায় শব্দটি কোথায় আছে, ঠিক কোন বাক্যে, আর কোন আইনে থাকার কথা মনে হলেও নেই। পাশাপাশি দেখায়, আইনে নিয়োগের বিধান না থাকলেও বাস্তবে কার্বারি নিয়োগ কে দেন, আর সেই চর্চার কথা কোন কোন উৎসে লেখা আছে।
এই লেখায় যা আছে
পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য প্রধান আইনগুলোর কোনোটিতে কার্বারি নিয়োগ, অপসারণ, মেয়াদ বা পারিশ্রমিকের বিধান নেই। শব্দটি পাওয়া যায় তিনটি জায়গায়: শাসনবিধির বিধি 52(l) ও 54(6), ১৯৪৬ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম আইন রেগুলেশন, আর ১৯৮৯ সালের তিন জেলা পরিষদ আইনের ধারা 66। তিন জায়গাতেই কার্বারিকে একটি কাজ দেওয়া হয়েছে, পদটি গড়া হয়নি।
নিচের ছকটি বানানো হয়েছে প্রতিটি আইনের পূর্ণ পাঠে “karbari”, “Karbari”, “কারবারী”, “কার্বারী”, “কারবারি” ও “কার্বারি” বানানগুলো খুঁজে। আইনের পাঠ নেওয়া হয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের bdlaws ওয়েবসাইট থেকে, আর শাসনবিধির বিধিমালা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (PCJSS) প্রকাশিত সংকলন থেকে, কারণ বিধিমালা bdlaws-এ নেই।
| আইন বা বিধি | শব্দটি আছে? | কোথায়, কী কাজে | নিয়োগের বিধান? |
|---|---|---|---|
| Chittagong Hill-tracts Regulation, 1900 (মূল 20টি ধারা) | না | ধারা 18(2)-তে চিফ, হেডম্যান ও “village-officers”; কার্বারি নেই | শুধু হেডম্যানের, 18(2)(h) |
| Rules for the Administration of the CHT (শাসনবিধির বিধিমালা) | হ্যাঁ, তিনবার | বিধি 52(l)-এ দুবার: অনুমতিপত্র দেখতে চাওয়া ও গ্রেপ্তার; বিধি 54(6)-এ একবার: আফিম জব্দ ও গ্রেপ্তার | না; বিধি 48 শুধু হেডম্যানের |
| Chittagong Hill-tracts Laws Regulation, 1946 | হ্যাঁ, চারবার | “Karbari of the Para” জন্ম ও মৃত্যুর খবর আট দিনের মধ্যে হেডম্যানকে দেবেন | না |
| তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989 (19, 20 ও 21 নং আইন) | হ্যাঁ, শুধু ধারা 66-এ | সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা উপজাতীয় বিরোধের প্রথম নিষ্পত্তি; আপিলের সিঁড়ি | না |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998 | না | ধারা 22(ঙ)-তে “সামাজিক বিচার সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান”, কার্বারির নাম নেই | না |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, 2001 | না | সার্কেল চিফের সংজ্ঞা আছে, হেডম্যান বা কার্বারি নেই | না |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, 1997 (ইংরেজি অনুবাদ, দুটি পাঠ) | না | হেডম্যান, চেইনম্যান, আমিন আছেন; কার্বারি নেই | না |
| জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, 2004 | না | তথ্যদাতার তালিকায় ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ইত্যাদি; কার্বারি নেই | প্রযোজ্য নয় |
| CHT (Land Acquisition) Regulation, 1958; Districts (Extension to the CHT) Ordinance, 1984 | না | — | না |
ছকের শেষ কলামটিই এই লেখার মূল কথা। হেডম্যানের নিয়োগ বিধি 48-এ লেখা আছে, সে নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা হেডম্যান নিয়োগ কে করেন, আর পদটি কি বংশানুক্রমিক। কার্বারির জন্য এমন কোনো বিধি নেই। রাজা দেবাশীষ রায় 2006 সালে আইএলও-র জন্য লেখা সমীক্ষার পাদটীকায় লিখেছেন, কার্বারিদের ভূমিকা “is not explained in detail in the CHT Regulation, or any other law” (পাদটীকা 97)।
PCJSS-এর সংকলনে ১৯০০ সালের শাসনবিধির পুরো বিধিমালায় ‘karbari’ শব্দটি তিনবার পাওয়া যায়: বিধি 52-এর উপ-বিধি (l)-এ দুবার, আর বিধি 54-এর উপ-বিধি (6)-এ একবার। দুটি বিধিই আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগের। একটি বাইরের লোকের পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশের অনুমতিপত্র নিয়ে, অন্যটি আফিম সেবনকারীদের নিবন্ধন নিয়ে।
শাসনবিধি বলতে সাধারণত দুটি আলাদা জিনিস বোঝানো হয়, আর এই লেখার জন্য পার্থক্যটি জরুরি। মূল Chittagong Hill-tracts Regulation, 1900-এ মাত্র 20টি ধারা। তার 18 ধারার ক্ষমতাবলে সরকার যে বিধিমালা করেছিল, তার নাম Rules for the Administration of the Chittagong Hill Tracts। হেডম্যান, জুম কর, খাস জমি, বিচার, সবই এই বিধিমালায়। bdlaws-এ শুধু 20 ধারার রেগুলেশনটি আছে, বিধিমালা নেই। তাই বিধিমালার পাঠ এখানে নেওয়া হয়েছে PCJSS-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংকলন থেকে, যেটির শিরোনাম The Chittagong Hill Tracts Regulation, 1900 (Regulation I of 1900), আর যেটিতে প্রতিটি সংশোধনের গেজেট-বিজ্ঞপ্তি পাদটীকায় দেওয়া আছে।
বিধি 52-এর শিরোনাম “Immigration into the Hill Tracts”। এর (a) উপ-বিধি অনুযায়ী চাকমা, মগ বা পার্বত্য চট্টগ্রাম, লুসাই পাহাড়, আরাকান পার্বত্য অঞ্চল কিংবা ত্রিপুরা রাজ্যের আদিবাসী পাহাড়ি জাতির সদস্য ছাড়া অন্য কেউ জেলা প্রশাসকের দেওয়া অনুমতিপত্র ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ বা বসবাস করতে পারবেন না। (k) উপ-বিধিতে অনুমতিপত্র ছাড়া পাওয়া গেলে তিন বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান। তারপর (l):
“Every person required by this rule to be in possession of a permit shall be bound to produce it on the demand of any Government officer, headman, karbari or Bazar Chaudhuri … In making an arrest under this clause the Government officer, headman, karbari or Bazar Chaudhuri may require the assistance of any person, and such person shall be bound to render assistance in effecting the arrest”
অর্থাৎ সরকারি কর্মকর্তা, হেডম্যান, কার্বারি বা বাজার চৌধুরী অনুমতিপত্র দেখতে চাইতে পারতেন, আর অনুমতিপত্রহীন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে নিকটতম পুলিশ কর্মকর্তা বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে পারতেন। গ্রেপ্তারের সময় তাঁরা যে কারও সাহায্য চাইতে পারতেন, আর সেই ব্যক্তি সাহায্য করতে বাধ্য। সংকলনে বাক্যটি যেভাবে ছাপা, তাতে “shall arrest him”-এর আগে কে কাকে গ্রেপ্তার করবেন সেই অংশটুকু নেই; পাঠক মূল গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে চাইলে পাদটীকার বিজ্ঞপ্তি নম্বর ব্যবহার করতে পারেন। পাঠটি সংকলনের 167–168 পৃষ্ঠায়।
বিধি 52-এর পাদটীকা 128 দুটি তথ্য দেয়, যা পাশাপাশি রাখা দরকার। প্রথমত, বিধিটি সংশোধিত হয়েছিল 21 আগস্ট 1934-এর বিজ্ঞপ্তি নং 9340 F.A. ও 19 ডিসেম্বর 1934-এর বিজ্ঞপ্তি নং 13628 F.A. দিয়ে। দ্বিতীয়ত, একই পাদটীকা বলে, “Rule 52 of the CHT Regulation is reported to have been repealed in 1930”, এবং এর সূত্র হিসেবে মুহাম্মদ ইসহাক সম্পাদিত Chittagong Hill Tracts District Gazetteer-এর 256 পৃষ্ঠার কথা বলে। 1930 সালে বাতিল হওয়ার খবর আর 1934 সালের সংশোধন, দুটিই একই পাদটীকায় আছে।
বিধি 54-এর শিরোনাম “Registration of Opium Consumers”। পাদটীকা 131 অনুযায়ী বিধিটি যুক্ত হয় 22 ডিসেম্বর 1937-এর বিজ্ঞপ্তি নং 2329 E.A. দিয়ে (কলকাতা গেজেট, 6 জানুয়ারি 1938), আর সংশোধিত হয় 29 জুন 1940-এর বিজ্ঞপ্তি নং 99 T. দিয়ে। জেলা প্রশাসক প্রতিটি আফিমের দোকানের জন্য নিয়মিত আফিম সেবনকারীদের একটি রেজিস্টার রাখবেন, সেবনকারী মাসে কত আফিম কিনতে পারবেন তা লেখা থাকবে। উপ-বিধি (6):
“When specially authorised in this behalf by the Deputy Commissioner, any officer of Government, headman, karbari or bazar chaudhuri may – (i) arrest without warrant any person found in possession of opium or any preparation thereof in contravention of the provisions of section 13 of the Chittagong Hill Tracts Regulation, 1900 … (ii) seize and detain any opium or any preparation thereof so found; and (iii) detain and search any person …”
উপ-বিধি (7) বলে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি ও জব্দ করা জিনিস দেরি না করে নিকটতম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে নিতে হবে, যিনি তাকে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করবেন। পাঠটি সংকলনের 170–171 পৃষ্ঠায়।
দুটি বিধিতেই কার্বারি আছেন একটি তালিকার অংশ হিসেবে, যে তালিকায় সরকারি কর্মকর্তা, হেডম্যান ও বাজার চৌধুরীও আছেন। কার্বারি কে, কীভাবে হন, কার অধীনে কাজ করেন, এর কিছুই বিধি দুটি বলে না। তারা ধরে নেয় যে পাড়ায় কার্বারি নামের একজন আছেন, আর তাঁকে আইন প্রয়োগের একটি ক্ষমতা দেয়।
দুটি বিধির মধ্যে একটি পার্থক্য আছে। বিধি 52(l)-এ কার্বারি অনুমতিপত্র দেখতে চাওয়া ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা সরাসরি পান, আলাদা অনুমোদনের কথা নেই। বিধি 54(6)-এ ক্ষমতাটি শর্তযুক্ত: “When specially authorised in this behalf by the Deputy Commissioner”। অর্থাৎ আফিমের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের বিশেষ অনুমোদন পাওয়া কার্বারিই কেবল গ্রেপ্তার, জব্দ ও তল্লাশি করতে পারতেন।
বাজার চৌধুরী পদটির সঙ্গে তুলনা করলে কার্বারির অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়। বাজার চৌধুরীর নাম বিধিমালার বাজার ও গোচারণ সংক্রান্ত বিধিতেও আছে; যেমন গোচারণ কর নিয়ে বিধি 45B-তে বাজারের বাসিন্দাদের কাছ থেকে কর তোলেন বাজার চৌধুরী, আর শেষ উপ-বিধিতে জেলা প্রশাসক “headmen and Bazar Chaudhuries”-কে নির্দেশ দিতে পারেন। কার্বারির নাম বিধি 52 ও 54-এর বাইরে আর কোথাও নেই। বিধিমালায় কার্বারি তাই একজন আইন-প্রয়োগকারী সহায়ক, প্রশাসনিক পদ নন।
দুটি বিধির আজকের অবস্থা নিয়েও তথ্য দরকার। বিধি 52 নিয়ে উপরের পাদটীকায় 1930 সালে বাতিল হওয়ার খবর আছে। বিধি 54 যে 1900 রেগুলেশনের 13 ধারার উল্লেখ করে, সেটি লাইসেন্স ছাড়া আফিম, গাঁজা বা চরস আমদানি, রপ্তানি, তৈরি, দখলে রাখা বা বিক্রির ধারা; ১৯০০ সালের শাসনবিধি নিয়ে আদালতের দীর্ঘ মামলার ইতিহাস আছে আমাদের রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলা নিয়ে লেখায়। বিধি 54 আজ কার্যকর কি না, তা নিয়ে কোনো সরকারি ঘোষণা বা আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
শাসনবিধির ছয়টি জায়গায় গ্রাম পর্যায়ের কর্মকর্তার কথা আসে, কিন্তু কার্বারির নাম আসে না: রেগুলেশনের ধারা 18(2), আর বিধিমালার বিধি 40, 42(2), 46, 47 ও 48। এসব জায়গায় বিচার, জুম করের ছাড়, পারিশ্রমিক ও নিয়োগের কথা আছে, যেগুলো আজ কার্বারির কাজ বলে পরিচিত।
রেগুলেশনের 18 ধারা সরকারকে বিধি করার ক্ষমতা দেয়। bdlaws-এর বর্তমান পাঠে 18(2)-এর দফাগুলো এরকম: (f) সার্কেল ও মৌজায় রাজস্ব আদায় “through the chiefs, and headmen”; (g) “define the powers and jurisdiction of the Chiefs, and headmen”; (h) “regulate the appointment and dismissal of headmen”; (i) “provide for the remuneration of chiefs, headmen and village-officers generally by the assignment of lands for the purpose or otherwise”।
PCJSS সংকলনের পাদটীকা 60–64 দেখায়, এই দফাগুলোতে আগে আরও শব্দ ছিল। (f) দফা থেকে “taluks” শব্দটি, আর (f), (g), (h) ও (i) দফা থেকে “Diwans” শব্দটি বাদ দেওয়া হয় Chittagong Hill Tracts (Amendment) Regulation, 1925 (Reg IV of 1925)-এর ধারা 2(b) দিয়ে। অর্থাৎ 1925 পর্যন্ত আইন চিফ ও হেডম্যানের মাঝে দেওয়ানদের নিয়োগ ও পারিশ্রমিকের কথাও বলত। কার্বারির কথা কোনো পর্যায়ে ছিল না। গ্রাম পর্যায়ের জন্য আইনে আছে কেবল একটি সাধারণ শব্দ: “village-officers”।
বিধি 40-এর শিরোনাম “Administrative powers of the Chiefs and Headmen”। এর প্রথম বাক্য: “Save as otherwise provided in this rule the mauza headmen shall adjudicate on all disputes”। চিফ খাস মৌজার হেডম্যান হিসেবে বিচার করবেন এবং হেডম্যানের রায় থেকে আসা মামলা শুনবেন। জরিমানা, ফি, কোর্ট-ফির ছাড়, জেলা প্রশাসকের রিভিশন, যেসব অপরাধ বিচারের বাইরে, সবই হেডম্যান ও চিফকে ঘিরে। বিধি 40-এর পুরো পাঠ ও তার সঙ্গে জেলা পরিষদ আইনের দ্বন্দ্ব নিয়ে বিস্তারিত আছে পাহাড়ে সামাজিক বিচারের আপিল নিয়ে আমাদের লেখায়। এখানে শুধু এটুকু: বিধি 40-এ কার্বারির নাম নেই, যদিও জেলা পরিষদ আইন পরে কার্বারিকে প্রথম বিচারক করেছে।
বিধি 42(2)-এর পাঠ: “The Chiefs shall declare what classes of persons are by custom exempt from jhum tax within their circles, and submit for the approval of the Deputy Commissioner before 15th October every year a list of jhuming families temporarily or permanently exempted from payment of jhum tax.” (সংকলনের 158 পৃষ্ঠা)। কোন শ্রেণির মানুষ প্রথা অনুযায়ী জুম কর থেকে ছাড় পাবেন, বিধি নিজে তা বলে না; সিদ্ধান্তটি চিফের।
আইডব্লিউজিআইএ-র 2000 সালের প্রকাশনা The Land Rights of the Indigenous Peoples of the Chittagong Hill Tracts এই উপ-বিধির কথা বলতে গিয়ে লিখেছে, রাজা জেলা প্রশাসকের কাছে যাঁদের ছাড়প্রাপ্ত বলে প্রত্যয়ন করতেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন “e.g. Karbaris, bachelors, widows/widowers etc. (Rule 42 (2) of the Regulations)” (PDF পৃষ্ঠা 61)। বিধির পাঠে শ্রেণিগুলোর নাম নেই; আইডব্লিউজিআইএ-র বাক্যে কার্বারিরা ছাড়প্রাপ্তদের উদাহরণ। জুম কর কে তোলেন আর টাকা কোথায় যায়, সেই হিসাব আছে জুম কর নিয়ে আমাদের লেখায়।
বিধি 46 অনুযায়ী প্রতিটি মৌজায় হেডম্যান তাঁর মৌজার লাঙল-খাজনার দাবির অনুপাতে বার্ষিক পারিশ্রমিক পাবেন, খাজনা আদায়ের কমিশনের অতিরিক্ত হিসেবে (সংকলনের 164 পৃষ্ঠা)। পারিশ্রমিকের হারের ছকটি শুধু হেডম্যানের জন্য। বিধি 47 চিফের খাস মৌজা নিয়ে; সেখানে চিফ হেডম্যানের পারিশ্রমিক পাবেন “so long as he arranges properly for the performance of the duties of the headman and the mauza officers”। “mauza officers” কারা, বিধিমালার কোথাও বলা নেই।
বিধি 48-এর শিরোনাম “Investiture of the Chiefs and Appointment and Dismissal of Headmen”। হেডম্যানকে নিয়োগ দেন জেলা প্রশাসক, চিফের সঙ্গে পরামর্শ করে, আর অযোগ্যতা বা অসদাচরণের জন্য সরাতেও পারেন। বিধিমালায় নিয়োগ ও অপসারণের এটিই একমাত্র বিধান। কার্বারির জন্য সমতুল্য কোনো বিধি নেই, আর বিধি 48-এর বাক্যগুলো কার্বারির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, এমন কথাও বিধিতে নেই।
শাসনবিধির বাইরে কার্বারিকে সবচেয়ে স্পষ্ট দায়িত্ব দেওয়া আইনটি হলো The Chittagong Hill-tracts Laws Regulation, 1946 (Bengal Regulation I of 1946), তারিখ 21 মার্চ 1946। এটি Bengal Births and Deaths Registration Act, 1873-কে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রয়োগ করে, আর সেই আইনের “chaukidar or other village watchman”-এর জায়গায় বসায় “Karbari of the Para”। পাঠটি এখনো bdlaws-এ আছে।
রেগুলেশনটির ধারা 2 বঙ্গীয় আইনের 6, 7 ও 8 ধারা পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য বদলে দেয়। ধারা 6-এ জন্ম-মৃত্যুর খবর রেজিস্ট্রারকে দেওয়ার দায়িত্ব পান মৌজার হেডম্যান, আর হেডম্যান না থাকলে ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়োগ করা কেউ। ধারা 7 (জন্ম) ও 8 (মৃত্যু)-এ দুটি বদল: পরিবার খবর দিতে পারবে “the headman of the mauza”-কে, আর “chaukidar or other village watchman”-এর জায়গায় “Karbari of the Para”। তারপর ধারা 7-এ যুক্ত হয়:
“The Karbari of a para shall report any birth in his para to the headman of the mauza within which the para is situated within eight days next after the day of such birth. When the headman receives a report under this section, he shall, within thirty days of the receipt of such report, give information of such birth to the registrar of the district.”
ধারা 8-এ মৃত্যুর জন্য একই বাক্য। পুরো রেগুলেশনে “Karbari” বা “karbari” শব্দটি চারবার আছে। এই আইনেই প্রথমবার স্পষ্ট লেখা, কার্বারি একটি পাড়ার (“para”) সঙ্গে যুক্ত, আর তাঁর উপরের ধাপ মৌজার হেডম্যান। পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য আইনের যে তালিকা PCJSS সংকলনে আছে, তাতেও Bengal Births and Deaths Registration Act, 1873 আছে, প্রয়োগের সূত্র হিসেবে এই 1946 রেগুলেশনের উল্লেখসহ (সংকলনের 101 পৃষ্ঠা)।
এর পরের তথ্যটি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, 2004 (2004 সনের 29 নং আইন)-এর। এর ধারা 24(1): “The Births and Deaths Registration Act, 1873 (Bengal Act IV of 1873) এতদ্বারা রহিত করা হইল”। 2004 সালের আইনের ধারা 4(1)(গ) অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় নিবন্ধক ইউপি চেয়ারম্যান বা সরকার-নির্ধারিত কেউ। ধারা 9(1)-এ যাঁরা নিবন্ধকের কাছে তথ্য পাঠাতে পারেন তাঁদের তালিকা: ইউপি সদস্য ও সচিব, গ্রাম পুলিশ, কাউন্সিলর, স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবার কল্যাণ কর্মী, এনজিও মাঠকর্মী, হাসপাতাল-ক্লিনিক, গোরস্থান বা শ্মশানের তত্ত্বাবধায়ক, জেল কর্তৃপক্ষ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এই তালিকায় কার্বারি বা হেডম্যান নেই। 1946 সালের রেগুলেশনটি bdlaws-এ এখনো আলাদা আইন হিসেবে তালিকাভুক্ত।
রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989 (1989 সনের 19, 20 ও 21 নং আইন, তারিখ 6 মার্চ 1989)-এর ধারা 66(1) একই বাক্যে বলে, জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা উপজাতীয় বিষয়ে বিরোধ হলে তা “স্থানীয় কারবারী বা হেডম্যানের নিকট উত্থাপন করিতে হইবে”। বাংলাদেশের আইনে কার্বারিকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া একমাত্র বিধান এটি।
রাঙ্গামাটি আইনের ধারা 66(1)-এর পুরো বাক্য:
“রাংগামাটি পার্বত্য জেলার বাসিন্দা এমন উপজাতীয়গণের মধ্যে কোন সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা উপজাতীয় বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় কারবারী বা হেডম্যানের নিকট উত্থাপন করিতে হইবে এবং তিনি সংশ্লিষ্ট উপজাতীয়গণের মধ্যে প্রচলিত রীতি-নীতি অনুযায়ী বিরোধের নিষ্পত্তি করিবেন৷”
খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান আইনের 66(1)-এ জেলার নাম ছাড়া বাক্যটি একই। পার্থক্য শুরু হয় 66(2)-এ, আর সেখানে কার্বারির অবস্থানও জেলাভেদে বদলায়। রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে “কারবারী বা হেডম্যানের” সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল যায় সরাসরি চিফের কাছে, অর্থাৎ কার্বারি আর হেডম্যান একই ধাপে। বান্দরবানে 66(2)-এর পাঠ: “কারবারীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হেডম্যান, হেডম্যানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বান্দরবান বোমং চীফ এবং বোমং চীফের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারের নিকট আপীল করা যাইবে”। অর্থাৎ শুধু বান্দরবানেই কার্বারি হেডম্যানের নিচের আলাদা একটি ধাপ।
| জেলা আইন | 66 ধারায় “কারবারী” শব্দ কয়বার | কার্বারির ধাপ | কার্বারির রায়ের বিরুদ্ধে আপিল |
|---|---|---|---|
| রাঙ্গামাটি (19 নং আইন) | 2 — 66(1) ও 66(2) | হেডম্যানের সমান | “ক্ষেত্রবিশেষে” চাকমা বা বোমাং সার্কেলের চিফ |
| খাগড়াছড়ি (20 নং আইন) | 2 — 66(1) ও 66(2) | হেডম্যানের সমান | খাগড়াছড়ি মং চিফ |
| বান্দরবান (21 নং আইন) | 2 — 66(1) ও 66(2) | হেডম্যানের নিচে | হেডম্যান |
চিফের পরে কমিশনার পর্যন্ত পুরো সিঁড়ি, খাগড়াছড়ির দুই পরামর্শদাতা আর তিন বিজ্ঞ ব্যক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা আছে কার্বারি থেকে বিভাগীয় কমিশনার পর্যন্ত আপিলের ধাপ নিয়ে লেখায়; এখানে তা আর পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে না।
66(1) কার্বারিকে দুটি জিনিস দেয়: বিরোধ শোনার এখতিয়ার, আর “প্রচলিত রীতি-নীতি অনুযায়ী” নিষ্পত্তির দায়িত্ব। ধারাটি কার্বারি কে, কে তাঁকে নিয়োগ দেবেন, কোন এলাকা তাঁর, কতদিন তিনি থাকবেন, এর কিছুই বলে না। “স্থানীয় কারবারী” শব্দবন্ধটি ধরে নেয় যে প্রতিটি এলাকায় একজন কার্বারি আগে থেকেই আছেন।
ধারাটির শেষ উপ-ধারা (রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে 66(4), খাগড়াছড়িতে 66(5)) পরিষদকে প্রবিধান করার ক্ষমতা দেয়: “পরিষদ প্রবিধান দ্বারা এই ধারায় উল্লিখিত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য- (ক) বিচার পদ্ধতি; (খ) বিচার প্রার্থী ও আপীলকারী কর্তৃক প্রদেয় ফিস, নির্ধারণ করিতে পারিবে৷” এই ক্ষমতা বিচার পদ্ধতি ও ফি পর্যন্ত; কার্বারির নিয়োগ এর আওতায় পড়ে কি না, ধারাটি বলে না।
প্রবিধানটি তৈরি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের আর্কাইভের পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার সৃষ্টি, শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ লেখাটি বলে: “কার্বারীর ক্ষমতা ও কার্যাবলী সম্পর্কে পার্বত্য জেলা পরিষদ অদ্যাবধি কোনো বিধি-বিধান প্রণয়ন করেনি।” লেখাটির তথ্যসূত্র এডভোকেট জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, এডভোকেট প্রতিম রায় ও সুগত চাকমা সম্পাদিত গ্রন্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আদিবাসীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন। তিন জেলা পরিষদের কোনোটির এমন প্রবিধান প্রকাশিত হওয়ার খবর অন্য কোনো উৎসেও পাওয়া যায়নি।
জেলা পরিষদ কী, কবে গঠিত, কী কী করে, তার পূর্ণ পরিচয় আছে পার্বত্য জেলা পরিষদ নিয়ে আমাদের মূল লেখায়।
তিন জেলা পরিষদ আইনের পূর্ণ পাঠে “কারবারী” শব্দটি 66 ধারার বাইরে কোথাও নেই। দুটি জায়গায় এর অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতো: ধারা 4(6), যেখানে অ-উপজাতীয় পরিচয়ের সনদের জন্য মৌজার হেডম্যানের সার্টিফিকেট লাগে, আর ধারা 64(2), যেখানে পরিষদ হেডম্যানসহ ভূমি-সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাজ তত্ত্বাবধান করতে পারে।
রাঙ্গামাটি আইনের ধারা 4(6) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি অ-উপজাতীয় কি না, আর হলে কোন সম্প্রদায়ের, তা সার্কেল চিফ ঠিক করেন “সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যান বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা, ক্ষেত্রমত, পৌরসভার চেয়ারম্যান কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে প্রদত্ত সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে”। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998-এর ধারা 5(8)-এ একই ভাষা। দুটি আইনেই সার্টিফিকেট দিতে পারেন এমন ব্যক্তিদের তালিকায় হেডম্যান আছেন, কার্বারি নেই। সনদের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে লেখা আছে উপজাতীয় সনদপত্র ও সার্কেল চিফ নিয়ে লেখায়।
রাঙ্গামাটি আইনের ধারা 64(2): “হেডম্যান, চেইনম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যাদি পরিষদ তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে৷” খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান আইনের 64(2)-এও এই তালিকা। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ইংরেজি অনুবাদের সংশ্লিষ্ট দফায়ও তালিকাটি একই: “Headmen, Chainmen, Amins, Surveyors, Kanungos and Assistant Commissioner (land)”। জেলা পরিষদ কার্বারির কাজ তত্ত্বাবধান করবে, এমন কোনো বিধান কোনো আইনে নেই।
ফলে আইনের হিসাবে একটি বিন্যাস দাঁড়ায়। যে ধারায় কার্বারির নাম আছে (66), সেখানে কার্বারি সিদ্ধান্ত দেন, কিন্তু তাঁর ওপর পরিষদের তত্ত্বাবধানের বিধান নেই। যে ধারায় পরিষদের তত্ত্বাবধানের কথা আছে (64), সেখানে কার্বারির নাম নেই।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998 (12 নং আইন), পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, 2001 (53 নং আইন) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, 1997-এর ইংরেজি অনুবাদের দুটি পাঠ, কোনোটিতেই “কারবারী”, “কার্বারী” বা “karbari” শব্দটি নেই। প্রথাগত বিচার ও প্রথাগত আইনের কথা এসব দলিলে আছে, কিন্তু সেটি কার্বারির নামে নয়।
আঞ্চলিক পরিষদ আইনের ধারা 22-এ পরিষদের কাজের তালিকায় দফা (ঙ): “উপ-জাতীয় রীতিনীতি, প্রথা ইত্যাদি এবং সামাজিক বিচার সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান”। জেলা পরিষদ আইনের 66 ধারায় যে সামাজিক বিচারের প্রথম ধাপ কার্বারি, তার সমন্বয় ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব এই দফায় আঞ্চলিক পরিষদের। কিন্তু দফাটি কার্বারি, হেডম্যান বা চিফের নাম নেয় না। পরিষদের গঠন ও ক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আছে আঞ্চলিক পরিষদ নিয়ে লেখায়।
ভূমি কমিশন আইনের ধারা 2(ঠ)-তে “সার্কেল চীফ” অর্থ চাকমা, বোমাং বা মং চিফ, আর ধারা 3(2)(ঘ)-তে কমিশনের সদস্য হিসেবে “সংশ্লিষ্ট সার্কেল চীফ বা তৎকর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি”। ধারা 6(1)(গ)-তে “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি”র কথা। এই আইনে হেডম্যানেরও উল্লেখ নেই, কার্বারিরও না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুটি ইংরেজি পাঠ, একটি PCJSS-এর ওয়েবসাইটে আর একটি নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের Peace Accords Matrix-এ, দুটিতেই হেডম্যান আছেন দুই জায়গায়: অ-উপজাতীয় পরিচয়ের সনদ, আর জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে থাকা ভূমি-কর্মীদের তালিকা। দুটি পাঠের কোনোটিতে কার্বারি নেই। চুক্তির ধারা ধরে ধরে আলোচনা আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি নিয়ে আমাদের লেখায়।
The Chittagong Hill-tracts (Land Acquisition) Regulation, 1958 (East Pakistan Regulation No. I of 1958) এবং The Districts (Extension to the Chittagong Hill-tracts) Ordinance, 1984 (Ordinance No. LXXI of 1984)-এর bdlaws পাঠেও শব্দটি নেই।
উৎসগুলো একমত যে কার্বারিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেন সার্কেল চিফ বা রাজা, আর গ্রামবাসীর মতামত এতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু এই চর্চা কোনো আইন বা বিধি থেকে আসেনি; এটি প্রথা। উৎসভেদে খুঁটিনাটি আলাদা: কেউ গ্রামবাসীর মনোনয়নের কথা বলেন, কেউ হেডম্যানের সুপারিশের কথা, আর একটি উৎস হেডম্যানের নিজের নিয়োগ দেওয়া কার্বারিদের কথাও বলে।
| উৎস | সাল | কার্বারি নিয়োগ নিয়ে যা লেখা |
|---|---|---|
| আইডব্লিউজিআইএ (রাজকুমারী চন্দ্রা কালিন্দী রায়), The Land Rights of the Indigenous Peoples of the CHT, PDF পৃ. 28 | 2000 | “appointed from among the villagers, by the Raja directly or on the recommendation of the mauza headman” |
| একই প্রকাশনা, PDF পৃ. 54 | 2000 | গ্রামপ্রধান, পরে যিনি কার্বারি নামে পরিচিত, “is nominated by the villagers themselves and formally appointed by the Raja based on the wishes of the concerned villagers” |
| রাজা দেবাশীষ রায়, আইএলও-র জন্য তুলনামূলক সমীক্ষা, শব্দকোষ | 2006 | “Village chief or elder, an office that is largely hereditary. Traditionally nominated by the villagers and formally appointed by the chiefs.” |
| ব্র্যাক, State of Justice in Chittagong Hill Tracts, PDF পৃ. 23 | 2011 | “Usually, it is the Circle Chief who appoints Karbari in every village of a mouza.” |
| জুমজার্নাল আর্কাইভ, শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ | — | রাজা বা চিফ প্রতিটি মৌজায় প্রতিটি পাড়ার জন্য একজন করে কার্বারি নিয়োগ করেন; হেডম্যানও কোনো কোনো পাড়ায় কার্বারি নিয়োগ করেন, “যারা রাজা বা সরকার থেকে ভাতা পান না” |
রাঙামাটির সংবাদমাধ্যম পাহাড়ের খবর 15 অক্টোবর 2022 তারিখে চাকমা সার্কেলের একটি কার্বারি নিয়োগের বিবরণ ছাপে। প্রতিবেদন অনুযায়ী চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় 12 অক্টোবর 2022 তারিখের এক “রাজ আদেশে” বরকল উপজেলার 4 নং বরুনাছড়ি মৌজার হাজাছড়া গ্রামের একজন বাসিন্দাকে গ্রামপ্রধান বা কার্বারি নিযুক্ত করেন। আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয় আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও বরকলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। আদেশে বলা হয়, নিযুক্ত ব্যক্তি “নিয়ম অনুযায়ী সকল সুযোগ সুবিধাদি” পাবেন। প্রতিবেদন আরও জানায়, একই বছরের 29 এপ্রিল রাজা ওই মৌজা সফরের সময় গ্রামবাসী, কার্বারি ও জনপ্রতিনিধিদের সামনে নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এই বিবরণে নিয়োগকর্তা রাজা, আর রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো, অর্থাৎ জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ, আদেশের অনুলিপি পায় অবহিত হওয়ার জন্য। কোনো আইনের ধারা উল্লেখ করে আদেশটি দেওয়া হয়েছে, এমন কথা প্রতিবেদনে নেই। অন্য দুই সার্কেলের, অর্থাৎ বোমাং ও মং সার্কেলের নিয়োগ আদেশ কেমন হয়, তার বিবরণ পাওয়া যায়নি।
রাজা দেবাশীষ রায়ের 2006 সালের সমীক্ষা আরেকটি দিক দেখায়। ঢাকা ও চট্টগ্রামের কারখানায় কাজ করা আনুমানিক পঁচিশ থেকে ত্রিশ হাজার আদিবাসী শ্রমিকের, যাঁদের অন্তত অর্ধেক নারী, বিয়ে বা পারিবারিক বিরোধের মতো প্রথাগত বিষয়ে চিফ, হেডম্যান বা কার্বারির কাছে যাওয়ার সুযোগ নেই। সমীক্ষা অনুযায়ী অভিবাসীদের সংগঠনগুলোর বৈঠকে প্রস্তাব আসে, শহরেও “the city equivalent of village elders or ‘karbaries'” শ্রমিকরা মনোনীত করবেন আর রাজারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেবেন। চাকমা চিফ তিন চিফের পক্ষে আলোচনা করেন, আর এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হয় (PDF পৃ. 26)। এই প্রস্তাবেও নিয়োগের ভিত্তি প্রথা, কোনো আইন নয়।
রাষ্ট্রের উন্নয়ন প্রকল্পও আইনি বিধান ছাড়াই কার্বারিকে কাজে লাগায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের জন্য তৈরি Second Chittagong Hill Tracts Rural Development Project-এর মার্চ 2011-এর আদিবাসী পরিকল্পনা (Indigenous Peoples Plan) রাস্তার পাশের গ্রামের সীমানা নিয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থায় “the customary CHT administrative institutions (Circle Chief, Headmen, Karbaris)” ব্যবহারের কথা বলে (PDF পৃ. 31)।
কার্বারির ভাতা বা সম্মানীর কোনো বিধান কোনো আইন বা শাসনবিধিতে নেই; বিধি 46-এর পারিশ্রমিকের হার শুধু হেডম্যানের। তবে একাধিক উৎস বলে কার্বারিরা সরকার থেকে সম্মানী ভাতা পান, আর একই সঙ্গে বলে যে সব কার্বারি পান না। ভাতার হার, কোন দপ্তর দেয়, কোন প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত, তা পাওয়া যায়নি।
জুমজার্নাল আর্কাইভের “শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ” লেখায় একই অংশে দুটি বাক্য আছে। একটি: “বর্তমানে কার্বারীগণ সরকার হতে সম্মানী ভাতা পেয়ে থাকেন।” আরেকটি, হেডম্যানের নিয়োগ দেওয়া কার্বারিদের সম্পর্কে: তাঁরা “রাজা বা সরকার থেকে ভাতা পান না।” রাঙ্গামাটির বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি ওয়েবপাতায় “হেডম্যান এর দায়িত্ব ও কর্তব্য” শিরোনামে প্রায় একই লেখা আছে, একই দুটি বাক্যসহ।
রাঙামাটির কাপ্তাই নিয়ে news52bangla-র নভেম্বর 2025-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন কাপ্তাইয়ের 100 নং ওয়াগ্গা মৌজার হেডম্যান কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় বলেন, সরকারের রাজস্ব আদায়ে হেডম্যান ও কারবারিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, “সেই তুলনায় তাদের সম্মানি ভাতা খুবি কম”, আর কীভাবে তা বাড়ানো যায় সরকার সে বিষয়ে বিবেচনা করছে।
দৈনিক মানবিক বাংলাদেশের 8 এপ্রিল 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের এনেক্স ভবনে “পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী হেডম্যান কার্বারী সম্মেলন-২০২৬”-এ যে দাবিগুলো তোলা হয়, তার একটি: “সার্কেল চিফ কর্তৃক নিয়োগকৃত যে সব (কার্বারী) বিশেষত: নারী কার্বারী ও পুরুষ কার্বারী সরকারীভাবে ভাতা পাচ্ছেনা তাদের জন্য ভাতা বরাদ্ধ প্রদান করা”। অর্থাৎ 2026 সালেও চিফের নিয়োগ পাওয়া কার্বারিদের একটি অংশ সরকারি ভাতার বাইরে, এমন দাবি প্রকাশ্যে উঠেছে।
ইংরেজি উইকিপিডিয়ার “Tribal monarchy in the Chittagong Hill Tracts” নিবন্ধে রাজা, হেডম্যান ও “traders”-এর সরকারি সম্মানীর অঙ্ক দেওয়া আছে, সূত্র হিসেবে জাগো নিউজের 28 অক্টোবর 2015-এর একটি প্রতিবেদন। মূল প্রতিবেদনটি যাচাই করা যায়নি, তাই অঙ্কগুলো এখানে দেওয়া হলো না। নিবন্ধটি পাড়ার প্রতিনিধিকে “trader” বলেছে; সে প্রসঙ্গ নিচে শব্দটির ইতিহাসের অংশে।
কোনো আইন কার্বারির লিঙ্গ নির্দিষ্ট করে না, কারণ কোনো আইন পদটির যোগ্যতাই নির্দিষ্ট করে না। উৎস অনুযায়ী নারী কার্বারি নিয়োগ শুরু হয় 2013–14 সালে, চাকমা সার্কেলের উদ্যোগে। 2022 সালের একটি লেখায় তিন সার্কেলের আলাদা আলাদা সংখ্যা আছে, আর 2026 সালের একটি প্রতিবেদনে মোট সংখ্যা 696।
দ্য ডেইলি স্টারে 10 আগস্ট 2022 তারিখে হানা শামস আহমেদের লেখার পাদটীকা অনুযায়ী, 2013–14 সালের আগে নারীরা হেডম্যান ও কার্বারির পদে আসেননি; এসেছেন চাকমা সার্কেল চিফের কার্যালয়ের উপদেষ্টা রানি ইয়ান ইয়ানের উদ্যোগে। একই পাদটীকা তখনকার সংখ্যা দেয়; পাদটীকার ভাষায় চাকমা সার্কেলে “seven head(wo)men and 340 karbaris”, অর্থাৎ নারী নিয়োগের প্রসঙ্গেই সংখ্যাগুলো। মানবিক বাংলাদেশের 2026 সালের প্রতিবেদন দেয় পরের সংখ্যা:
| সার্কেল | নারী কার্বারি, 2022 (দ্য ডেইলি স্টার) | নারী কার্বারি, 2026 (মানবিক বাংলাদেশ) |
|---|---|---|
| চাকমা সার্কেল | 340 | 500 |
| মং সার্কেল | 165 | 177 |
| বোমাং সার্কেল | 12 | 19 |
| মোট (প্রতিবেদনে যেভাবে) | আলাদা মোট দেওয়া নেই | 696 |
ব্র্যাকের জানুয়ারি 2011-এর গবেষণা, যার মাঠকাজ নারী নিয়োগ শুরুর আগের, লেখে: “No female Karbari or Headman was found within the indigenous groups” (PDF পৃ. 9 ও 50)। রাজা দেবাশীষ রায় 2006 সালে লেখেন, নারীরা চিফ, হেডম্যান ও কার্বারির “traditional and largely hereditary institutions”-এ “severely under-represented” (PDF পৃ. 37)।
মানবিক বাংলাদেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী সম্মেলনের আয়োজক ছিল নারী হেডম্যান কার্বারী নেটওয়ার্ক, প্রধান অতিথি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, আর বক্তাদের মধ্যে ছিলেন চাকমা সার্কেলের উপদেষ্টা রানি ইয়েন ইয়েন ও আঞ্চলিক পরিষদের একজন সদস্য। এখানেও কার্বারি নিয়োগের ভিত্তি হিসেবে বলা হয়েছে “সার্কেল চিফ কর্তৃক নিয়োগকৃত”।
কার্বারিদের কোনো সরকারি তালিকা প্রকাশিত হয়নি। ব্র্যাকের 2011 সালের গবেষণা, রফি (2001)-এর সূত্রে, তিন পার্বত্য জেলায় প্রায় 4,098টি পাড়ার জন্য 4,098 জন কার্বারির কথা বলে। মং সার্কেলের জন্য দ্য ডেইলি স্টার 2009 সালে 950 জন কার্বারির সংখ্যা দেয়।
| উৎস | সাল | এলাকা | যা বলা হয়েছে |
|---|---|---|---|
| ব্র্যাক, State of Justice in CHT (রফি 2001-এর সূত্রে), PDF পৃ. 21 | 2011 | তিন জেলা | প্রায় 377টি মৌজায় 377 জন হেডম্যান; প্রায় 4,098টি পাড়ায় 4,098 জন কার্বারি “are selected” |
| দ্য ডেইলি স্টার, 17 জানুয়ারি 2009 | 2009 | মং সার্কেল | “some 88 mouzas with the help of 88 headmen (mouza heads) and 950 Karbaris (village chiefs)” |
| রাজা দেবাশীষ রায়, আইএলও সমীক্ষা, শব্দকোষ | 2006 | তিন সার্কেল | প্রতি মৌজায় গড়ে “five to fifteen” কার্বারি, যাঁদের কাজ হেডম্যান তত্ত্বাবধান করেন |
| আইডব্লিউজিআইএ, PDF পৃ. 212, পাদটীকা 86 | 2000 | — | কিছু গ্রামে কার্বারি ছিলেন না; ব্রিটিশ আমলের এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কোনো গ্রামে 40টি ঘর না থাকলে কার্বারি থাকবে না |
আইডব্লিউজিআইএ-র পাদটীকায় উল্লিখিত 40 ঘরের সিদ্ধান্তটি কোন আদেশে, কোন সালে নেওয়া হয়েছিল, তা প্রকাশনাটি বলে না, আর শাসনবিধির বিধিমালায় এমন কোনো বিধি নেই।
আইনের বাইরে কার্বারি শব্দটি ব্রিটিশ প্রশাসনিক নথিতে বিশ শতকের শুরুতেই পাওয়া যায়। আর. এইচ. স্নেইড হাচিনসনের 1906 সালের An Account of the Chittagong Hill Tracts আর 1909 সালের জেলা গেজেটিয়ারে শব্দটি এসেছে পাড়া বা গ্রামের ব্যবস্থাপক অর্থে, কখনো “Roaja” বা “Raoja” শব্দের পাশে, আর গেজেটিয়ার শব্দটির উৎস হিসেবে বাংলা “Karbar” শব্দের কথা বলে।

হাচিনসনের দুই বইয়ে শব্দটি যে চার প্রসঙ্গে এসেছে, প্রতিটিতে তিনি নির্দিষ্ট একটি জনগোষ্ঠী বা এলাকার কথা বলছেন; নিচের বাক্যগুলো সেই জনগোষ্ঠীর বাইরে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। জনগোষ্ঠীর নামগুলো হাচিনসনের বানানে রাখা হলো।
শেষ উদ্ধৃতিটির “by us” কথাটি লক্ষ করার মতো: হাচিনসনের বর্ণনায় “Kawnbul” জনগোষ্ঠীর নিজের শব্দ, আর “Kárbári” ব্রিটিশ প্রশাসনের দেওয়া নাম। শব্দটির উৎস নিয়ে আরেকটি মত আছে আমাদের চাকমা সার্কেল, হেডম্যান ও কার্বারি লেখায়, যেখানে ড. সুনীতিভূষণ কানুনগোর A History of Chittagong-এর সূত্রে বলা হয়েছে, “রোয়াজা” পদবিটি আরাকানি আর “কার্বারী” একটি ফারসি শব্দ।
ইংরেজি উইকিপিডিয়ার “Tribal monarchy in the Chittagong Hill Tracts” নিবন্ধে লেখা: “In each neighborhood there is a trader as a representative of the king. The king appoints headmen and traders.” নিবন্ধটি পাড়ার প্রতিনিধিকে “trader” লিখেছে, আর হাচিনসনের গেজেটিয়ার একই পদকে লিখেছে “men who manage affairs”।
আইনের পাঠে এই ইতিহাসের ছাপ আছে কেবল এক জায়গায়: 1946 সালের রেগুলেশনের “Karbari of the Para”। বাকি সব বিধিতে, যেমন 52 ও 54, কার্বারি নাম ধরে এসেছেন, কিন্তু পাড়া বা গ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক লেখা নেই।
কার্বারি নিয়ে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি যে বাক্যটি পাওয়া যায়, তা হলো শাসনবিধিতে কার্বারির উল্লেখ নেই। বিধিমালার পাঠে নিয়োগ, অপসারণ, এখতিয়ার বা পারিশ্রমিকের কোনো বিধান সত্যিই নেই; কিন্তু শব্দটি বিধি 52(l)-এ দুবার আর বিধি 54(6)-এ একবার আছে। উৎসগুলোর বাক্য আর বিধির পাঠ পাশাপাশি রাখলে পার্থক্যটি দেখা যায়।
| উৎস | যা লেখা | বিধি ও আইনের পাঠে যা আছে |
|---|---|---|
| বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবপাতা, “হেডম্যান এর দায়িত্ব ও কর্তব্য” | এক জায়গায়: শাসনবিধিতে কার্বারী পদের উল্লেখ নেই, তবে জেলা পরিষদ আইনে আছে। আরেক জায়গায়: শাসনবিধিতে কার্বারী নিয়োগ সম্পর্কে সুস্পষ্ট কিছু উল্লেখ না থাকলেও 66(1) ধারায় পদের স্বীকৃতি আছে | বিধি 52(l) ও 54(6)-এ শব্দটি আছে; নিয়োগের বিধান নেই |
| জুমজার্নাল আর্কাইভ, শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ | “যদিও পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধিতে কার্বারী নিয়োগের উল্লেখ নেই, তবে পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনে কার্বারী পদের উল্লেখ রয়েছে” | নিয়োগের উল্লেখ নেই, পাঠের সঙ্গে মেলে |
| ব্র্যাক 2011, PDF পৃ. 23 | “Though the regulation of 1900 of CHT has no provision for ‘Karbari’, the post ‘Karbari’ has been recognized in Hill District Council Act (section 66.1)” | পদ-সংক্রান্ত বিধান নেই; শব্দটি দুটি প্রয়োগ-বিধিতে আছে |
| ব্র্যাক 2011, PDF পৃ. 15, পাদটীকা 3 | চিফ, হেডম্যান ও কার্বারির প্রথাগত বিচারব্যবস্থা “also recognized by CHT regulation act of 1900 and further amendments and also by the CHT peace accord of 1997” | চুক্তির দুটি ইংরেজি পাঠে কার্বারি শব্দটি নেই; শাসনবিধির বিচারের বিধি 40-এ শুধু হেডম্যান ও চিফ |
| রাজা দেবাশীষ রায়, আইএলও সমীক্ষা 2006, পাদটীকা 97 | কার্বারিদের ভূমিকা “is not explained in detail in the CHT Regulation, or any other law” | বিস্তারিত ব্যাখ্যা কোনো আইনে নেই, পাঠের সঙ্গে মেলে |
ছকের উৎসগুলোর মধ্যে “নিয়োগের উল্লেখ নেই” আর “পদের উল্লেখ নেই” দুই রকম বাক্য আছে, কখনো একই লেখার ভেতরেই। বিধির পাঠে প্রথম বাক্যটির সমর্থন আছে। দ্বিতীয় বাক্যের পাশে বিধি 52(l) ও 54(6)-এর পাঠ রাখা হলো; পাঠক নিজে মিলিয়ে নিতে পারেন।
হেডম্যানের দৈনন্দিন কাজ, খাজনা আদায় আর ভূমি-সুপারিশের হিসাব নিয়ে জুমজার্নালের আলাদা লেখা মৌজা হেডম্যান ও কার্বারি আসলে কী কী করেন; এই লেখা সেই বিষয়ে যায়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসন ও আইন নিয়ে আমাদের সব লেখা একসঙ্গে পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়, আর তিন চিফের ক্ষমতা নিয়ে আছে সার্কেল চিফ: তিনটি সার্কেল, আর রাজার ক্ষমতা।
কার্বারি নিয়ে উৎসগুলোর মধ্যে ছয়টি জায়গায় অমিল আছে। এগুলো নিচে উৎসের নামসহ পাশাপাশি রাখা হলো; কোনটি ঠিক, সে বিচার এখানে করা হয়নি।
কোনো আইনে নেই। ১৯০০ সালের শাসনবিধি, তার বিধিমালা, ১৯৮৯ সালের তিন জেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ সালের আঞ্চলিক পরিষদ আইন বা ২০০১ সালের ভূমি কমিশন আইন, কোনোটিতে কার্বারি নিয়োগ, অপসারণ, মেয়াদ বা পারিশ্রমিকের বিধান নেই। নিয়োগের বিধান আছে শুধু হেডম্যানের, শাসনবিধির বিধি 48-এ। কার্বারি নিয়োগ চলে প্রথা অনুযায়ী, সাধারণত সার্কেল চিফের আদেশে।
আছে, তিনবার, তবে পদ হিসেবে নয়। শাসনবিধির বিধিমালার বিধি 52(l)-এ দুবার, যেখানে সরকারি কর্মকর্তা, হেডম্যান, কার্বারি বা বাজার চৌধুরী অনুমতিপত্র দেখতে চাইতে ও গ্রেপ্তার করতে পারেন; আর বিধি 54(6)-এ একবার, যেখানে জেলা প্রশাসকের বিশেষ অনুমোদনে তাঁরা আফিম জব্দ ও গ্রেপ্তার করতে পারেন। মূল 20 ধারার রেগুলেশনে শব্দটি নেই।
বিধি 52(l) অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশের অনুমতিপত্র যাঁর থাকা দরকার, তিনি কার্বারি চাইলে তা দেখাতে বাধ্য, আর গ্রেপ্তারের সময় কার্বারি যে কারও সাহায্য চাইতে পারেন। বিধি 54(6) অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের বিশেষ অনুমোদন পেলে কার্বারি অবৈধ আফিমসহ কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার, আফিম জব্দ ও তল্লাশি করতে পারেন। বিধি 52 সংশোধিত হয় 1934 সালে, আর বিধি 54 যুক্ত হয় 1937 সালের বিজ্ঞপ্তিতে।
শুধু ধারা 66-এ। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989-এর 66(1) অনুযায়ী উপজাতীয় বাসিন্দাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা উপজাতীয় বিরোধ প্রথমে “স্থানীয় কারবারী বা হেডম্যানের” কাছে যায়, আর তিনি প্রচলিত রীতি-নীতি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করেন। ধারা 4(6)-এর পরিচয়-সনদ বা ধারা 64(2)-এর তত্ত্বাবধানের তালিকায় কার্বারি নেই।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989-এর ধারা 66(2) অনুযায়ী কার্বারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল হেডম্যানের কাছে, হেডম্যানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বোমাং চিফের কাছে, আর চিফের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারের কাছে, যাঁর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে কার্বারি ও হেডম্যান একই ধাপে, তাই সেখানে আপিল সরাসরি চিফের কাছে যায়।
আইনে এর উত্তর নেই; উৎসগুলো প্রথার কথা বলে। রাজা দেবাশীষ রায়ের 2006 সালের সমীক্ষা অনুযায়ী গ্রামবাসী মনোনয়ন দেন, চিফ আনুষ্ঠানিক নিয়োগ দেন। ব্র্যাকের 2011 সালের গবেষণা বলে সাধারণত সার্কেল চিফ নিয়োগ দেন। পাহাড়ের খবরের 2022 সালের প্রতিবেদনে চাকমা রাজার একটি “রাজ আদেশে” নিয়োগের বিবরণ আছে, যার অনুলিপি জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদে যায়।
The Chittagong Hill-tracts Laws Regulation, 1946 অনুযায়ী পাড়ার কার্বারি জন্ম বা মৃত্যুর আট দিনের মধ্যে মৌজার হেডম্যানকে জানাবেন, আর হেডম্যান ত্রিশ দিনের মধ্যে জেলার রেজিস্ট্রারকে। রেগুলেশনটি Bengal Births and Deaths Registration Act, 1873-কে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রয়োগ করেছিল। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, 2004-এর ধারা 24(1) সেই 1873 সালের আইন রহিত করে, আর 2004 সালের আইনের তথ্যদাতার তালিকায় কার্বারি নেই।
কোনো আইনে কার্বারির ভাতার বিধান নেই; শাসনবিধির বিধি 46-এর পারিশ্রমিক শুধু হেডম্যানের। জুমজার্নাল আর্কাইভের একটি লেখা বলে কার্বারিরা সরকার থেকে সম্মানী পান, তবে হেডম্যানের নিয়োগ দেওয়া কার্বারিরা পান না। 2026 সালের নারী হেডম্যান কার্বারী সম্মেলন চিফের নিয়োগ পাওয়া যেসব কার্বারি সরকারি ভাতা পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্য ভাতা দাবি করেছে।
দ্য ডেইলি স্টারে 2022 সালে প্রকাশিত হানা শামস আহমেদের লেখা অনুযায়ী 2013–14 সালের আগে নারীরা কার্বারি হননি; নিয়োগ শুরু হয় চাকমা সার্কেলের উপদেষ্টা রানি ইয়ান ইয়ানের উদ্যোগে। সেই লেখায় চাকমা সার্কেলে 340, মং সার্কেলে 165 ও বোমাং সার্কেলে 12 জনের কথা আছে। মানবিক বাংলাদেশের এপ্রিল 2026-এর প্রতিবেদনে মোট 696 জন: চাকমা 500, মং 177, বোমাং 19।
কোনো সরকারি তালিকা প্রকাশিত হয়নি। ব্র্যাকের জানুয়ারি 2011-এর গবেষণা, রফি (2001)-এর সূত্রে, তিন পার্বত্য জেলায় প্রায় 4,098টি পাড়ার জন্য 4,098 জন কার্বারির কথা বলে। দ্য ডেইলি স্টার 17 জানুয়ারি 2009 তারিখে শুধু মং সার্কেলের জন্য 88টি মৌজা, 88 জন হেডম্যান ও 950 জন কার্বারির সংখ্যা দেয়। রাজা দেবাশীষ রায় 2006 সালে প্রতি মৌজায় গড়ে পাঁচ থেকে পনেরো জনের কথা লেখেন।
চুক্তির দুটি ইংরেজি পাঠে, একটি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ওয়েবসাইটে আর একটি নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের Peace Accords Matrix-এ, কার্বারি শব্দটি নেই। হেডম্যান আছেন দুই জায়গায়: অ-উপজাতীয় পরিচয়ের সনদে, আর জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে থাকা হেডম্যান, চেইনম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) তালিকায়।
দুটি মত পাওয়া যায়। আর. এইচ. স্নেইড হাচিনসনের 1909 সালের Chittagong Hill Tracts জেলা গেজেটিয়ার (পৃ. 48) কার্বারিদের বলেছে “men who manage affairs, from the Bengali word Karbar”। জুমজার্নালের চাকমা সার্কেল, হেডম্যান ও কার্বারি লেখায় ড. সুনীতিভূষণ কানুনগোর A History of Chittagong-এর সূত্রে বলা হয়েছে, “কার্বারী” একটি ফারসি শব্দ, আর “রোয়াজা” আরাকানি।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 4 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:CHT Regulation 1900, পার্বত্য জেলা পরিষদ, প্রথাগত আইন, সার্কেল চীফ, হেডম্যান
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।