Last updated Nov 8th, 2026
0

রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাছাই করে সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নয়। পাহাড়ের এই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা জেলা পরিষদের হাতে এসেছে 1990 সালের হস্তান্তর-চুক্তিনামায়, জেলা পরিষদ আইনের 23 ধারার জোরে। তবে নিয়োগের যোগ্যতা, পরীক্ষার কাঠামো আর শূন্য পদ পূরণের ছাড়পত্র এখনো আসে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে।
অর্থাৎ উত্তরটি দুই ভাগে। বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষা, মেধাতালিকা আর নিয়োগ কমিটির সভাপতিত্ব জেলা পরিষদের। বিধিমালা, যোগ্যতা, বেতন গ্রেড, আর বিরোধ হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের। এই লেখায় দুই ভাগই নথি ধরে দেখানো হয়েছে: তিনটি জেলা পরিষদ আইনের ধারা, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দফা, খাগড়াছড়ি পরিষদের প্রকাশিত 1990 সালের চুক্তিনামা, রাঙামাটি পরিষদের দপ্তর-পাতা, বান্দরবান পরিষদের 2025 সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, খাগড়াছড়ি পরিষদের চাকুরী প্রবিধানমালা, আর 2025 সালের জাতীয় বিধিমালার গেজেট।
জেলা পরিষদের গঠন, সদস্য ও কাজের সাধারণ পরিচয় আছে আমাদের পার্বত্য জেলা পরিষদ নিয়ে মূল লেখায়। কোন দপ্তর কবে কোন সরকারের আমলে পরিষদে গেছে, তার পূর্ণ তালিকা আছে বিভাগ হস্তান্তরের চুক্তিনামা ধরে লেখা হিসাবে; এখানে তা আর বলা হয়নি। এই লেখা কেবল একটি প্রশ্নের: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কে নেয়, কোন আইনে, আর কতটুকু।
সূচিপত্র
তিন পার্বত্য জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে বিজ্ঞপ্তি দেয় জেলা পরিষদ, আবেদন নেয় জেলা পরিষদ, আর নিয়োগ কমিটির সভাপতি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বাকি 61 জেলার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ চালায়; তিন পার্বত্য জেলা সেই জাতীয় প্রক্রিয়ার বাইরে থাকে।
তবে “জেলা পরিষদ নিয়োগ দেয়” বললে পুরো ছবি আসে না। নিচের ছকে প্রতিটি ধাপ আলাদা করে দেখানো হলো, প্রতিটির পাশে যে নথিতে কথাটি আছে সেটির নাম।
| ধাপ | কার হাতে | কোন নথিতে |
|---|---|---|
| শূন্য পদ পূরণের ছাড়পত্র | প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় | বান্দরবান পরিষদের 10 সেপ্টেম্বর 2025-এর বিজ্ঞপ্তি |
| নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও আবেদন গ্রহণ | জেলা পরিষদ | একই বিজ্ঞপ্তি; রাঙামাটি পরিষদের দপ্তর-পাতা |
| বাছাই কমিটির সভাপতি | জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান | খাগড়াছড়ির 1990 সালের চুক্তিনামা, শর্ত (ঘ); বান্দরবানের 2025 বিজ্ঞপ্তি |
| কমিটির সদস্য-সচিব | জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার | একই দুই নথি |
| যোগ্যতা ও পরীক্ষার নিয়ম | সরকার (বিধিমালা ও আদেশ) | 1990 চুক্তিনামা, শর্ত (ঙ); খাগড়াছড়ি প্রবিধানমালার সংজ্ঞা (ত) |
| উপজেলার ভেতরে ও আন্তঃউপজেলা বদলি | আন্তঃউপজেলা বদলি জেলা পরিষদ; উপজেলার ভেতরের বদলি আগের নিয়মে | 1990 চুক্তিনামা, শর্ত (খ) |
| তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বদলি | উপপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম বিভাগ | 1990 চুক্তিনামা, শর্ত (গ) |
| বিরোধ হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত | সরকার | 1990 চুক্তিনামা, শর্ত (ট) |
ছকের প্রথম সারি আর শেষ তিন সারি কেন্দ্রের, মাঝের সারিগুলো পরিষদের। এই ভাগাভাগি কোনো একটি আইনের এক বাক্যে লেখা নেই। এটি জোড়া লেগেছে চারটি স্তরে: 1989 সালের আইন, 1990 সালের হস্তান্তর-চুক্তিনামা, 1997 সালের চুক্তির পর 1998 সালের সংশোধন, আর পরিষদের নিজস্ব প্রবিধান। নিচের অংশগুলো সেই স্তরগুলো একে একে খোলে।
তিনটি জেলা পরিষদ আইনের 22 ধারা বলে, প্রথম তফসিলে লেখা কাজগুলোই পরিষদের কাজ, যা পরিষদ “উহার তহবিলের সংগতি অনুযায়ী” করবে। তফসিলের 3 নম্বর বিষয় “শিক্ষা”। কিন্তু সেই তালিকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ আছে, শিক্ষক নিয়োগ নামে আলাদা কোনো দফা নেই।
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান আইনের তফসিলের পিডিএফ মিলিয়ে দেখলে 3 নম্বর বিষয়ের দফাগুলো তিন আইনেই এক। দফাগুলো, তফসিলের ভাষায়:
শেষ তিনটি দফা 1989 সালের মূল আইনে ছিল না। তফসিলের পাদটীকা অনুযায়ী (ট), (ঠ) ও (ড) যোগ হয় 1998 সালের সংশোধনী আইনে: রাঙামাটিতে 1998 সনের 9 নং আইনের 36 ধারায়, খাগড়াছড়িতে 1998 সনের 10 নং আইনের 36 ধারায়, বান্দরবানে 1998 সনের 11 নং আইনের 35 ধারায়। মাতৃভাষায় পাঠদানের প্রশ্নটি নিয়ে আলাদা লেখা আছে: মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের কালানুক্রম।
এখান থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়: তফসিল শিক্ষাকে পরিষদের কাজের তালিকায় তুলেছে, কিন্তু শিক্ষক কে নিয়োগ দেবেন তা বলেনি। সেই ক্ষমতার উৎস খুঁজতে হয় অন্য দুটি ধারায়, 23 আর 32-এ, এবং তার চেয়েও বেশি করে 1990 সালের চুক্তিনামায়।
একই আইনের 69 ধারা প্রবিধানের বিষয়ের তালিকায় একটি শিক্ষা-সংক্রান্ত দফা রেখেছে: 69(2)(য) “বাধ্যতামূলক শিক্ষাদান কর্মসূচী বাস্তবায়ন”। আর 69(2)(ট)-তে আছে “পরিষদ কর্তৃক নিয়োগ করা যাইবে এমন সকল পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ ও তাহাদের শৃংখলা”। অর্থাৎ নিয়োগের নিয়ম পরিষদ প্রবিধান দিয়ে ঠিক করতে পারে, তবে কেবল সেই পদে, যেগুলোতে পরিষদের নিয়োগ-ক্ষমতা আগে থেকে আছে।
জেলা পরিষদ আইনের 23 ধারা সরকারকে ক্ষমতা দেয়, পরিষদের সম্মতিক্রমে সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা কাজ পরিষদের ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তর করার। প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর, আর তার সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, এই ধারার (খ) দফা ধরেই পরিষদে গেছে। খাগড়াছড়ির চুক্তিনামা প্রথম বাক্যেই এই ধারার নাম নেয়।
ধারাটির পাঠ, রাঙামাটি আইন থেকে (খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান আইনেও একই ভাষা):
“২৩৷ এই আইন অথবা আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার পরিষদের সম্মতিক্রমে- (ক) পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্ম সরকারের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়ন্ত্রণে; এবং (খ) সরকার কর্তৃক পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্ম পরিষদের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়ন্ত্রণে; হস্তান্তর করার নির্দেশ দিতে পারিবে৷”
দুটি শব্দ খেয়াল করার মতো। “সম্মতিক্রমে” মানে হস্তান্তরে পরিষদের সম্মতি লাগে; চুক্তিনামার শেষে তাই পরিষদ-চেয়ারম্যানের সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকে। আর “নির্দেশ” মানে হস্তান্তরের দলিলটি সরকারের নির্দেশনামা, দুই সমান পক্ষের চুক্তি নয়। খাগড়াছড়ির দলিলের শিরোনামেও তাই লেখা “হস্তান্তর নির্দেশনামা”, যদিও পরিষদের ওয়েবসাইটে এগুলোর তালিকার নাম “চুক্তিসমূহ”।
ধারাটির দুই দিকই খোলা: (ক) দফায় পরিষদের কাজ সরকারের হাতে ফেরানোরও পথ আছে। প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে এমন কোনো ফেরত-নির্দেশ প্রকাশিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
32 ধারা পরিষদকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে প্রবিধান অনুযায়ী কর্মচারী নিয়োগ, বদলি ও শাস্তির ক্ষমতা দেয়, শর্ত একটিই: জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকবে। অন্য পদে কর্মকর্তা নিয়োগ করে সরকার, পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে। প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন রাঙামাটির শিক্ষক-নিয়োগ বিরোধের খবরের সঙ্গে লিখেছে, জেলা পরিষদ আইন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগের ক্ষমতা পরিষদের হাতে দিয়েছে।
বান্দরবান আইনের 32 ধারার পাঠ (রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি আইনেও বিষয়বস্তু এক):
“(১) পরিষদের কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত পরিষদ, সরকারের [অনুমোদনক্রমে], বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করিতে পারিবে৷ (২) পরিষদ প্রবিধান অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাঁহাদিগকে বদলী ও সাময়িক বরখাস্ত, বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্য কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে : [তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থকিবে৷]”
বন্ধনীর অংশগুলো 1998 সালের সংশোধনে এসেছে। রাঙামাটি আইনের পাদটীকা বলছে, “অনুমোদনক্রমে” শব্দটি বসেছে আগের “পূর্বানুমোদনক্রমে” শব্দের জায়গায়। উপজাতীয় অগ্রাধিকারের শর্তাংশ, এবং পুরোনো উপ-ধারা (3)-এর জায়গায় নতুন উপ-ধারা (3) ও (4), সেই একই সংশোধনী আইনের দান।
নতুন উপ-ধারা (3) ও (4) বলে, পরিষদের “অন্যান্য পদে” বিধি অনুযায়ী সরকার, পরিষদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে, কর্মকর্তা নিয়োগ করতে পারবে, আর সেই কর্মকর্তাদের অন্যত্র বদলি বা শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতাও সরকারের। 31 ধারা পরিষদের সচিব পদে উপ-সচিব সমতুল্য একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার কথা বলে, যেখানে “উপজাতীয় কর্মকর্তাদিগকে অগ্রাধিকার” দেওয়ার বিধান আছে।
34 ধারা পরিষদকে প্রবিধান দিয়ে নিজ কর্মচারীদের চাকরির শর্ত, “নিয়োগের জন্য যোগ্যতা এবং নীতিমালা”, তদন্ত ও শাস্তির পদ্ধতি ঠিক করার ক্ষমতা দেয়। খাগড়াছড়ি পরিষদ এই ক্ষমতায় 1996 সালে একটি চাকুরী প্রবিধানমালা করেছে; সেটির কথা পরে আলাদা অংশে।
প্রশ্ন থেকে যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক 32(2) ধারার “তৃতীয় শ্রেণীর পদ” কি না। কোনো আইন বা প্রকাশিত আদেশে এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর পাওয়া যায়নি। হস্তান্তর-চুক্তিনামা নিজের ক্ষমতার উৎস হিসেবে 32 ধারা নয়, 23(খ) ধারার নাম নেয়। বান্দরবানের 2025 সালের বিজ্ঞপ্তি পদটিকে লিখেছে জাতীয় বেতন স্কেল 2015-এর “১৩ তম” গ্রেডে।
1997 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি জেলা পরিষদের নিয়োগ-ক্ষমতা নিয়ে তিনটি জায়গায় কথা বলে। খ খণ্ডের 14 দফা 32 ধারার নতুন পাঠ ঠিক করে দেয়, খ-33 দফা শিক্ষার তালিকায় মাতৃভাষা ও মাধ্যমিক শিক্ষা যোগ করে, আর ঘ খণ্ডের 18 দফা পাহাড়ের সব প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে স্থায়ী অধিবাসীদের অগ্রাধিকারের কথা বলে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রাখা চুক্তির বাংলা পাঠে খ-14(খ) দফা 32(2) ধারাকে সংশোধন করে লেখে, পরিষদ “প্রবিধান অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে”, আর “উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় রাখিতে হইবে”। খ-14(গ) দফা বাকি পদে “সরকার পরিষদের পরামর্শক্রমে বিধি অনুযায়ী” নিয়োগের কথা বলে। 1998 সালের আইনে এই ভাষাই প্রায় হুবহু বসেছে।
খ-33(খ) দফার পাঠ: “পরিষদের কার্যাবলীর ৩ নম্বরে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ সংযোজন করা হইবে: (১) বৃত্তিমূলক শিক্ষা, (২) মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা, (৩) মাধ্যমিক শিক্ষা।” আগের অংশে দেখা তফসিলের (ট), (ঠ), (ড) দফা এখান থেকেই এসেছে।
ঘ-18 দফা আরও বিস্তৃত। এতে লেখা, পার্বত্য চট্টগ্রামের “সকল সরকারী, আধা-সরকারী, পরিষদীয় ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মচারী পদে উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী অধিবাসীদের নিয়োগ করা হইবে।” যোগ্য স্থায়ী অধিবাসী না পেলে সরকার থেকে প্রেষণে বা নির্দিষ্ট মেয়াদে নিয়োগের সুযোগও দফাটিতে রাখা আছে।
ঘ খণ্ডের 10 দফা আলাদা একটি প্রসঙ্গ: চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সমপর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত সরকার উপজাতীয়দের জন্য সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা বহাল রাখবে। চুক্তির সার্বিক প্রেক্ষাপট আছে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি নিয়ে লেখায়। প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির মোট 72টি ধারার মধ্যে 35টিই জেলা পরিষদ-সংক্রান্ত।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ তাদের ওয়েবসাইটের “চুক্তিসমূহ” পাতায় “প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সহিত চুক্তিনামা” প্রকাশ করেছে। দলিলটি 1 জুলাই 1990 থেকে কার্যকর, আর এতেই লেখা আছে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কোন কমিটি করবে, কোন বিধিমালায়, আর কোন ক্ষমতা সরকারের কাছে থেকে যাবে। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে কেবল এই একটি চুক্তিনামার পূর্ণ পাঠ প্রকাশিত অবস্থায় পাওয়া যায়।

দলিলের ভূমিকা জানায়, সরকার খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন, 1989-এর “ধারা ২৩(খ) এ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে” পরিষদের সম্মতিক্রমে বিষয়গুলো হস্তান্তর করল। হস্তান্তরিত বিষয় দুটি:
এরপর দশটি শর্ত, (ক) থেকে (ট)। প্রতিটি শর্ত সংক্ষেপে, দলিলের ক্রম ধরে:
শর্ত (ঘ)-এর নির্বাচনী কমিটি, দলিলের ক্রম অনুযায়ী:
| ক্রম | পদ | কমিটিতে ভূমিকা |
|---|---|---|
| 1 | চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার পরিষদ | সভাপতি |
| 2 | জেলা প্রশাসক | সদস্য |
| 3 | অধ্যক্ষ, সরকারী মহাবিদ্যালয় | সদস্য |
| 4 | সংশ্লিষ্ট উপজেলা চেয়ারম্যান | সদস্য |
| 5 | স্থানীয় সরকার পরিষদের একজন সদস্য (সভাপতি কর্তৃক মনোনীত) | সদস্য |
| 6 | সিভিল সার্জন | সদস্য |
| 7 | প্রধান শিক্ষক/শিক্ষয়িত্রী, সরকারী বালক/বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (জ্যেষ্ঠ) | সদস্য |
| 8 | জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা | সদস্য সচিব |
দলিলে দুটি স্বাক্ষর। সরকারের পক্ষে “রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে” স্বাক্ষর করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা বিভাগের সচিব আ, ন, ম, ইউসুফ, তারিখ 27/6/90। পরিষদের পক্ষে সম্মতি জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যান সমীরণ দেওয়ান, একই তারিখে। দলিলটি 1 জুলাই 1990, বাংলা 16 আষাঢ় 1397 থেকে কার্যকর।
দলিলটি এখন যে আকারে আছে, তা মূল নথির টাইপ-করা পাঠ; পিডিএফ ফাইলের ভেতরের তথ্যে তৈরির তারিখ জুলাই 2011। “স্বাক্ষর-অস্পষ্ট” কথাটি সেই পাঠেরই অংশ, অর্থাৎ যিনি টাইপ করেছেন তিনি মূল স্বাক্ষর পড়তে পারেননি বলে লিখে রেখেছেন। মূল স্বাক্ষরিত দলিলের ছবি প্রকাশিত নেই।
রাঙামাটি পরিষদের দপ্তর-পাতাও একই তারিখ দেয়: “১৯৯০ সালের ১ জুলাই রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের নিকট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ হস্তান্তর করা হয়।” বান্দরবানের হস্তান্তর-তারিখ পরিষদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নেই; সেই অনুপস্থিতির বিস্তারিত আছে বিভাগ হস্তান্তরের লেখায়।
হস্তান্তরের পরও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও সরকার চারটি জিনিস নিজের হাতে রেখেছে: শিক্ষক নিয়োগের বিধিমালা ও যোগ্যতা, তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বদলি, পরিষদের সিদ্ধান্ত জানার অধিকার, আর বিরোধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে আছে রাজস্ব খাতের শূন্য পদ পূরণে মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র।
প্রথমটি নিয়ম। পাহাড়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কোন বিধিতে চলবে, তা পরিষদ ঠিক করে না। 1990 সালের চুক্তিনামা কমিটিকে নিজে নিয়ম বানাতে বলেনি; বলেছে “প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৩” আর সরকারের আদেশ মানতে। খাগড়াছড়ি পরিষদের চাকুরী প্রবিধানমালার সংজ্ঞাতেও “প্রয়োজনীয় যোগ্যতা” বলতে বোঝানো হয়েছে, হস্তান্তরিত বিভাগের কর্মচারী নিয়োগের জন্য “সরকার কর্তৃক নির্ধারিত যোগ্যতা”।
দ্বিতীয়টি বদলি। শর্ত (গ) অনুযায়ী রাঙামাটির একজন শিক্ষককে বান্দরবানে পাঠানোর ক্ষমতা কোনো জেলা পরিষদের নয়, প্রাথমিক শিক্ষার চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালকের।
তৃতীয়টি তথ্য। শর্ত (ঞ) অনুযায়ী পরিষদের প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত মহাপরিচালককে জানাতে হয়। বান্দরবান পরিষদের 2025 সালের বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি-তালিকায় চার নম্বরে আছে “মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ, ঢাকা”।
চতুর্থটি বিরোধ। শর্ত (ট) অনুযায়ী নির্বাচন, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি বা শৃঙ্খলা নিয়ে বিরোধ হলে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এই শর্তে “সরকার” বলতে কোন মন্ত্রণালয়, তা দলিলে লেখা নেই।
এর বাইরে প্রশিক্ষণের প্রশ্ন আছে। তফসিলে “প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ” পরিষদের কাজ, কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের 2013 নাগাদের অগ্রগতি-নথিতে রাঙামাটির প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ছিল সেই চারটি বিষয়ের একটি, যেগুলোর হস্তান্তরের কাজ তখনো চলছিল। সেই তালিকার বিবরণ আছে হস্তান্তর-হিসাবের লেখায়।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ওয়েবসাইটে “জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ” নামে হস্তান্তরিত দপ্তরের একটি পাতা আছে, যার শেষ হালনাগাদ 28 নভেম্বর 2021। পাতাটি লেখে, শিক্ষক নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা “এ পরিষদের অধীনে ন্যস্ত”, আর নিয়োগপত্র দেয় পরিষদ নিজেই। জেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কোন ধাপে হয়, তার বিবরণও পরিষদের নিজের ভাষায় সেখানে আছে।
পাতার মূল বাক্যগুলো:
“এ জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, বদলী, পদোন্নতি, শৃংখলা ব্যবস্থা গ্রহণসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও তাঁর অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে এ পরিষদের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে।”
“রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয়ের সভাপতিত্বে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, লিখিত পরীক্ষা এবং সাক্ষাৎকার গ্রহণক্রমে শিক্ষক নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত প্রার্থীদেরকে পরিষদ কর্তৃক নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়।”
এখানে দুই নথির মধ্যে একটি পার্থক্য আছে। খাগড়াছড়ির 1990 সালের চুক্তিনামার শর্ত (চ) নিয়োগাদেশ দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিল “সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসার”-কে। রাঙামাটির 2021 সালের পাতা বলছে নিয়োগপত্র দেয় “পরিষদ”। দুটি দুই জেলার নথি, দুই সময়ের।
পাতাটি আরও কয়েকটি তথ্য দেয়, প্রতিটি পরিষদের নিজের বক্তব্য:
পদের সংখ্যাগুলো পাতার শেষ হালনাগাদের সময়ের, অর্থাৎ 2021 বা তার আগের। পরে জাতীয়করণ বা নতুন পদ সৃষ্টির হিসাব পাতায় যোগ হয়নি।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের 10 সেপ্টেম্বর 2025 তারিখের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রথম বাক্যেই দুই মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের কথা বলে, তারপর লেখে দপ্তরটি “বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে ন্যস্ত”। স্বাক্ষর করেছেন পরিষদ-চেয়ারম্যান, “জেলা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কমিটি”-র সভাপতি হিসেবে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কার হাতে, তা দেখার একটি সাম্প্রতিক নথি এই এক পাতা।

বিজ্ঞপ্তির প্রথম বাক্য, হুবহু:
“প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং- ৩৮.০০.০০০০.০০৮.১১.০১৫.১৯.৩৬২,তাং- ০৩/০৮/২০২৫ খ্রি. এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং- ২৯.০০.০০০০.২১৪.০১৭.৬১.৯৯. (অংশ-১) ৬০, তাং- ১০/০৮/২০২৫ খ্রি: মূলে ছাড়পত্র প্রদানের প্রেক্ষিতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে ন্যস্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষকের শুন্য পদে…”
এই বাক্যে ক্ষমতার ক্রম পরিষ্কার: আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র (3 আগস্ট 2025), তারপর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র (10 আগস্ট 2025), তারপর পরিষদের বিজ্ঞপ্তি (10 সেপ্টেম্বর 2025)। খাগড়াছড়ি পরিষদের চাকুরী প্রবিধানমালার প্রবিধি 3(4) রাজস্ব খাতের শূন্য পদে নিয়োগের আগে “প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় হইতে ছাড়পত্র” নেওয়ার কথা বলে; বান্দরবানের বিজ্ঞপ্তি সেই ধরনের ছাড়পত্রের উল্লেখ করেছে, তবে তাতে সংস্থাপন বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নাম নেই।
বিজ্ঞপ্তির বাকি শর্তগুলো, ছক আকারে:
| বিষয় | বিজ্ঞপ্তিতে যা লেখা |
|---|---|
| পদ | সহকারী শিক্ষক; রাজস্ব খাতভুক্ত 40টি, পিইডিপি-4-এর আওতায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য সৃষ্ট 2টি |
| গ্রেড | 11000–26590 টাকা, 13তম (জাতীয় বেতন স্কেল 2015) |
| যোগ্যতা | স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) |
| বয়স | 09/10/2025 তারিখে অনূর্ধ্ব 32 বছর; 18 নভেম্বর 2024-এর অধ্যাদেশ নং 11 মোতাবেক |
| কারা আবেদন করতে পারবেন | “শুধুমাত্র বান্দরবান পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দাগণ” |
| স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণ | বোমাং সার্কেল চীফ বা জেলা প্রশাসকের দেওয়া সনদ |
| কোটা | “সকল কোটার প্রার্থীর ক্ষেত্রে সরকারের সর্বশেষ নীতিমালা অনুসরণ করা হবে” |
| আবেদনের মাধ্যম | পরিষদের ওয়েবসাইট বা recruiting.esheba-bhdc.org; ফি 350 টাকা |
| স্বাক্ষর | অধ্যাপক থানজামা লুসাই, চেয়ারম্যান ও সভাপতি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কমিটি |
| অনুলিপিতে সদস্য-সচিব | জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সদস্য সচিব, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কমিটি |
যোগ্যতা আর বয়সের সারিগুলো জাতীয় বিধিমালার সঙ্গে মেলে, যা নিচের অংশে দেখা যাবে। আবেদনকারী কারা হতে পারবেন, সেই সারিতে পার্থক্য: অধিদপ্তরের জাতীয় নিয়োগ উপজেলাভিত্তিক, আর বান্দরবানের বিজ্ঞপ্তি আবেদন সীমিত রেখেছে জেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে। বিজ্ঞপ্তির শর্ত 10 অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ, বাতিল ও নিয়োগের বিষয়ে “নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত”।
কোথায় কীভাবে আবেদন করতে হয়, কোন সনদ লাগে আর ফল কোথায় দেখা যায়, তা ধাপে ধাপে আছে আমাদের পার্বত্য জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা, কোটা ও আবেদনের নিয়ম নিয়ে লেখায়।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের “কর্মচারী চাকুরী প্রবিধানমালা, 1996” (2004 পর্যন্ত সংশোধনসহ) পরিষদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত। এর প্রবিধি 1(2) বলে, প্রবিধানমালা প্রযোজ্য হবে “পরিষদ কর্তৃক নিয়োগযোগ্য পরিষদে হস্তান্তরিত বিভাগের সকল সার্বক্ষণিক কর্মচারীর ক্ষেত্রে”ও। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ সেই হস্তান্তরিত বিভাগগুলোর একটি।
প্রবিধানমালাটি জারি হয় স্মারক নং-৬-৩/৯৫-৮৯৬/স্থাঃসঃপঃ, তারিখ 12/9/1996-এ, আইনের 69 ধারা (33 ও 34 ধারাসহ পঠিতব্য) প্রদত্ত ক্ষমতায়, “সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে”। হস্তান্তরিত বিভাগের কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করার ভাষা পাদটীকা অনুযায়ী 2000 সালের প্রথম সংশোধনে যোগ হয়। ছাপা বইয়ের পৃষ্ঠা 227 থেকে প্রবিধানমালার শুরু।
শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্নে প্রাসঙ্গিক প্রবিধিগুলো:
প্রবিধি 7-এর কমিটি আর 1990 সালের চুক্তিনামার কমিটির গঠন আলাদা। চুক্তিনামার কমিটিতে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপজেলা চেয়ারম্যান আছেন; প্রবিধানমালার কমিটিতে পরিষদের তিন সদস্য ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এখন খাগড়াছড়িতে প্রাথমিক শিক্ষক বাছাইয়ে কোন গঠন চলে, তা প্রকাশিত কোনো নথিতে পাওয়া যায়নি। দুই নথিতে একটি জায়গা মেলে: সভাপতি চেয়ারম্যান, আর সদস্য-সচিব দপ্তরের কর্মকর্তা।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে অগ্রাধিকারের প্রবিধি 4(2) নিয়ে আলোচনা পরের অংশে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় 28 আগস্ট 2025-এ “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, 2025” জারি করে, এস.আর.ও. নং 353-আইন/2025। আট পৃষ্ঠার গেজেটে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান বা পার্বত্য জেলা পরিষদের কোনো উল্লেখ নেই; কোনো ব্যতিক্রম-ধারাও নেই। বিধিমালাটি 2019 সালের বিধিমালা রহিত করেছে।

বিধিমালা জারি হয়েছে সরকারি চাকরি আইন, 2018-এর 59(1) ধারায়, সংবিধানের 140(2) অনুচ্ছেদ মোতাবেক সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে। “নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ” এর সংজ্ঞা, বিধি 2(ঘ): “সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোনো কর্মকর্তা”। এই সংজ্ঞায় জেলা পরিষদের নাম নেই, আবার সরকারের ক্ষমতা দেওয়া কর্মকর্তাকে বাদও দেয়নি।
বিধিমালার যে বিধানগুলো প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের কাঠামো ঠিক করে:
বিধি 8-এর কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মহাপরিচালক, আর বান্দরবানের বিজ্ঞপ্তিতে “জেলা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কমিটি”-র সভাপতি পরিষদ-চেয়ারম্যান। বিধিমালা এই দুই কমিটির সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলেনি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের 29 আগস্ট 2025-এর প্রতিবেদনে বিধিমালার কোটা ও বয়সের বিধান উদ্ধৃত হয়েছে; প্রথম আলোর 11 এপ্রিল 2025-এর প্রতিবেদন খসড়া পর্যায়েই জানিয়েছিল, নারী ও পোষ্য কোটা থাকছে না।
বিধিমালায় পার্বত্য জেলার উল্লেখ না থাকলেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জাতীয় নিয়োগ-প্রক্রিয়া তিন পার্বত্য জেলা বাদ দিয়ে চলেছে। 2023 সালের বিজ্ঞপ্তির খবর, 2024 সালের আদালতের আদেশ, আর ফেব্রুয়ারি 2026-এর চূড়ান্ত ফল, তিনটিতেই তিন পার্বত্য জেলা বাদ রাখার কথা আছে।
তিনটি নথিভুক্ত উদাহরণ, তারিখ ধরে:
2025 সালের সেই জাতীয় নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি হয়েছিল দুই ধাপে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের 12 নভেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, 5 নভেম্বর রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের 10,219টি পদে আর 12 নভেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের 4,166টি পদে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আবেদন হয়েছে dpe.teletalk.com.bd-তে।
একই সময়ে, সেপ্টেম্বর 2025-এ, বান্দরবান পরিষদ নিজের বিজ্ঞপ্তি দেয় নিজের পোর্টালে। ফলে একই বিধিমালার যুগে দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের দুটি আলাদা পথ চলেছে: 61 জেলায় অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় পথ, আর তিন পার্বত্য জেলায় পরিষদের পথ।
জাতীয় বিধিমালায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য 1% কোটা। জেলা পরিষদ আইনের 32(2) ধারায় “উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার”, যার শতাংশ আইনে লেখা নেই। এই ফাঁক কীভাবে পূরণ হয়, তা নিয়ে প্রকাশিত নথিগুলো একমত নয়, আর রাঙামাটিতে 2025 সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ এই প্রশ্নেই আটকে গেছে।
খাগড়াছড়ি পরিষদের চাকুরী প্রবিধানমালার প্রবিধি 4(2) এখন বলছে, 32(2) ধারা অনুযায়ী “নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকিবে”, আর বন্ধনীতে: “অগ্রাধিকার সর্বশেষ আদম শুমারী অনুযায়ী জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে নির্ণিত হইবে”। পাদটীকা দেখায় এই বিধানের দুটি পরিবর্তন:
অন্যদিকে প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন লেখে, “পার্বত্য তিন জেলা পরিষদের আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী, উপজাতীয় এবং অ-উপজাতীয় (বাঙালি) বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যার অনুপাতে চাকরিতে নিয়োগ পায়।” খাগড়াছড়ির প্রবিধানমালা সদস্য-সংখ্যাভিত্তিক বাক্যটি 2002 সালে বাদ দিয়েছে; রাঙামাটি ও বান্দরবান পরিষদের কোনো চাকুরী প্রবিধানমালা প্রকাশিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
ঢাকা ট্রিবিউনের 10 নভেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাঙামাটিতে আটটি সংগঠন পরিষদ-চেয়ারম্যানকে স্মারকলিপি দিয়ে 14 নভেম্বর 2025-এর নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের দাবি তোলে। তাদের অভিযোগ, সরকারের 7% কোটার নির্দেশনা না মেনে পরিষদ 70% উপজাতীয় ও 30% বাঙালি অনুপাতে নিয়োগ দিচ্ছে। প্রথম আলো জানায়, এরপর দুই দফা পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেও পরীক্ষা নেওয়া যায়নি, আর পাঁচ দিন পরিষদ ভবনে তালা ঝোলানো হয়।
একই প্রতিবেদনে দুই পক্ষের বক্তব্য আছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর কামাল চান মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ। মানবাধিকারকর্মী নিরূপা দেওয়ান বলেন, “জেলা পরিষদের আইন অনুযায়ীই বাঙালিরা চাকরি পাচ্ছেন।” রাঙামাটির প্রথম নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গৌতম দেওয়ান বলেন, শিক্ষক নিয়োগে বাধা দিয়ে “প্রকারান্তরে” পার্বত্য চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।
পরীক্ষা কবে, কতবার, কোন কারণে স্থগিত হয়েছে, তার তারিখভিত্তিক বিবরণ আছে রাঙামাটির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের কালানুক্রমে। জাতীয় কোটা-কাঠামোর বৃহত্তর হিসাব আছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কোটা নিয়ে লেখায়।
জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন উঠেছে শূন্য পদ পূরণের দিক থেকে, ক্ষমতার বৈধতা নিয়ে নয়। আদালতে পরিষদের এই ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করে কোনো রায় প্রকাশিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি; যে জাতীয় মামলাগুলো প্রকাশিত, সেগুলো তিন পার্বত্য জেলাকে বাইরে রেখেছে।
ইউএনবির 7 সেপ্টেম্বর 2021-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তার নবম সভায় তিন পার্বত্য জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 1,585টি শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে। সভায় জানানো হয়, তিন জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তখন 1,048 জন প্রধান শিক্ষক ও 6,789 জন সহকারী শিক্ষক কর্মরত।
একই সভায় কমিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি নিয়োগের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে জেলা পরিষদে সরিয়ে নিতে বলে, “as per the rules and policy formulated in line with the CHT Peace Accord”। প্রতিবেদন অনুযায়ী দপ্তরি পদের নিয়োগ তখন জেলা প্রশাসকের হাতে ছিল।
আদালতের দিক থেকে: মে 2024-এর হাইকোর্টের আদেশটি ছিল “তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া” ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের নিয়োগ নিয়ে। জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কোনো রিট মামলার নম্বর বা রায় প্রকাশিত সংবাদ বা রায়ে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ নিয়োগেও জেলা পরিষদের একটি আইনি ক্ষমতা আছে, তবে কোনো পরিষদ কখনো পুলিশ সদস্য নিয়োগ দিয়েছে, এমন সরকারি নথি পাওয়া যায়নি। তুলনার জন্য দেখতে পারেন পার্বত্য জেলা পুলিশ নিয়োগ নিয়ে লেখাটি। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ছবিটি আলাদা: ক্ষমতা 1990 থেকে পরিষদের হাতে, আর 2025 সালেও পরিষদ নিজে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ম আর কর্তৃপক্ষের পরিবর্তনগুলো তারিখ ধরে, প্রতিটির পাশে উৎস। এখানে কেবল নথিভুক্ত ঘটনা; যে তারিখ কোনো প্রকাশিত নথিতে নেই, তা ছকে রাখা হয়নি।
| তারিখ | ঘটনা | উৎস |
|---|---|---|
| 1983 | প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, 1983 | 1990 চুক্তিনামা, শর্ত (ঙ)-তে উল্লিখিত |
| 6 মার্চ 1989 | তিন পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন (1989 সনের 19, 20, 21 নং) | bdlaws |
| 20 নভেম্বর 1989 | অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নং আর-১৩(নিয়োগ)/৮৮-প্রাই/২৯৮৬ | 1990 চুক্তিনামা, শর্ত (চ) |
| 27 জুন 1990 | খাগড়াছড়ির প্রাথমিক শিক্ষা হস্তান্তর-চুক্তিনামায় স্বাক্ষর | খাগড়াছড়ি পরিষদ, চুক্তিসমূহ |
| 1 জুলাই 1990 | খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ পরিষদে হস্তান্তর কার্যকর | খাগড়াছড়ি চুক্তিনামা; রাঙামাটি পরিষদের দপ্তর-পাতা |
| 12 সেপ্টেম্বর 1996 | খাগড়াছড়ি পরিষদের কর্মচারী চাকুরী প্রবিধানমালা জারি | প্রবিধানমালা, পৃ. 228 |
| 2 ডিসেম্বর 1997 | পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি: খ-14, খ-33, ঘ-10, ঘ-18 | মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে চুক্তির পাঠ |
| 1998 | সংশোধনী আইন (1998 সনের 9, 10, 11 নং): 32 ধারায় অগ্রাধিকার, তফসিলে মাতৃভাষা ও মাধ্যমিক শিক্ষা | bdlaws পাদটীকা ও তফসিল |
| 2000, 2002, 2004 | খাগড়াছড়ি প্রবিধানমালার সংশোধন: হস্তান্তরিত বিভাগ অন্তর্ভুক্ত; সদস্য-সংখ্যাভিত্তিক কোটা বিলুপ্ত; জনসংখ্যা-অনুপাতে অগ্রাধিকার | প্রবিধানমালার পাদটীকা |
| 7 সেপ্টেম্বর 2021 | সংসদীয় কমিটির 1,585 শূন্য পদ পূরণের সুপারিশ | ইউএনবি |
| 18 জুন 2023 | অধিদপ্তরের ঢাকা-চট্টগ্রাম বিজ্ঞপ্তি, তিন পার্বত্য জেলা বাদে | প্রথম আলো |
| 28 আগস্ট 2025 | সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, 2025 (এস.আর.ও. 353) | বাংলাদেশ গেজেট |
| 3 ও 10 আগস্ট 2025 | বান্দরবানের শূন্য পদে দুই মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র | বান্দরবান পরিষদের বিজ্ঞপ্তি |
| 10 সেপ্টেম্বর 2025 | বান্দরবান পরিষদের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি | বান্দরবান পরিষদ |
| নভেম্বর 2025 | রাঙামাটি পরিষদের নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আপত্তি ও স্থগিত | ঢাকা ট্রিবিউন; প্রথম আলো |
| 8 ফেব্রুয়ারি 2026 | অধিদপ্তরের জাতীয় নিয়োগের চূড়ান্ত ফল, তিন পার্বত্য জেলা বাদে 61 জেলায় | ইত্তেফাক |
সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদ। 1 জুলাই 1990 থেকে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ পরিষদের হাতে। বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষা ও বাছাই কমিটির সভাপতিত্ব পরিষদ-চেয়ারম্যানের, সদস্য-সচিব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জাতীয় নিয়োগ এই তিন জেলা বাদ দিয়ে বাকি 61 জেলায় হয়।
জেলা পরিষদ আইন, 1989-এর 23(খ) ধারায়, যা সরকারকে পরিষদের সম্মতিক্রমে সরকারি কাজ পরিষদে হস্তান্তরের ক্ষমতা দেয়। খাগড়াছড়ির 1990 সালের চুক্তিনামা এই ধারার নাম নিয়ে “প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষিকা নিয়োগ, বদলী ইত্যাদি” পরিষদে হস্তান্তর করে। প্রথম তফসিলের শিক্ষা-তালিকায় শিক্ষক নিয়োগের আলাদা দফা নেই।
সাম্প্রতিক জাতীয় নিয়োগে তিন পার্বত্য জেলার পদ ছিল না। প্রথম আলো জানায়, জুন 2023-এর ঢাকা-চট্টগ্রাম বিজ্ঞপ্তি তিন পার্বত্য জেলা বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। ইত্তেফাক জানায়, ফেব্রুয়ারি 2026-এ “সহকারী শিক্ষক নিয়োগ 2025”-এর চূড়ান্ত ফল হয়েছে তিন জেলা বাদে 61 জেলায়, 14,384 জন নির্বাচিত।
বিধিমালার গেজেটে (এস.আর.ও. 353-আইন/2025, 28 আগস্ট 2025) পার্বত্য জেলা বা জেলা পরিষদের কোনো উল্লেখ বা ব্যতিক্রম-ধারা নেই। বান্দরবান পরিষদের সেপ্টেম্বর 2025-এর বিজ্ঞপ্তির যোগ্যতা (দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক) ও বয়সসীমা (32 বছর) বিধিমালার সঙ্গে মেলে; কোটার ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি “সরকারের সর্বশেষ নীতিমালা” অনুসরণের কথা বলে।
খাগড়াছড়ির 1990 সালের চুক্তিনামা অনুযায়ী আটজন: পরিষদ-চেয়ারম্যান (সভাপতি), জেলা প্রশাসক, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, সংশ্লিষ্ট উপজেলা চেয়ারম্যান, পরিষদের একজন সদস্য, সিভিল সার্জন, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক, আর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (সদস্য সচিব)। পরিষদের 1996 সালের প্রবিধানমালায় কমিটির গঠন আলাদা।
নথিভেদে উত্তর আলাদা। খাগড়াছড়ির 1990 সালের চুক্তিনামার শর্ত (চ) অনুযায়ী মেধাতালিকা উপজেলায় পাঠানো হয়, যাতে “সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসার” নিয়োগাদেশ দেন। রাঙামাটি পরিষদের 2021 সালে হালনাগাদ করা দপ্তর-পাতা বলে, নির্বাচিত প্রার্থীদের “পরিষদ কর্তৃক নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়”।
জেলা পরিষদ নয়। খাগড়াছড়ির 1990 সালের চুক্তিনামার শর্ত (গ) অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি করেন প্রাথমিক শিক্ষার উপপরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগ। জেলার ভেতরে আন্তঃউপজেলা বদলির ক্ষমতা পরিষদের; রাঙামাটিতে এ জন্য পরিষদের 3 সদস্যের একটি কমিটি আছে।
চুক্তির খ-14 দফা পরিষদকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা দেয়, উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকারসহ। খ-33 দফা শিক্ষার তালিকায় মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা যোগ করে। ঘ-18 দফা বলে, পাহাড়ের সব সরকারি ও পরিষদীয় প্রতিষ্ঠানের পদে উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার দিয়ে স্থায়ী অধিবাসীদের নিয়োগ হবে। শিক্ষক পদের নাম চুক্তিতে আলাদা করে নেই।
সরকারের। খাগড়াছড়ির 1990 সালের চুক্তিনামার শর্ত (ট) বলে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নির্বাচন, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি বা শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নিয়ে কোনো বিরোধ হলে “সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে”। কোন মন্ত্রণালয় সেই সিদ্ধান্ত দেবে, দলিলে তা লেখা নেই।
বান্দরবান পরিষদের 10 সেপ্টেম্বর 2025-এর বিজ্ঞপ্তিতে লেখা, “শুধুমাত্র বান্দরবান পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দাগণ”। মৌখিক পরীক্ষায় স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণ হিসেবে বোমাং সার্কেল চীফ বা জেলা প্রশাসকের সনদ লাগে। অন্য দুই পরিষদের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তির শর্ত আলাদা লেখায় আলোচিত।
ইউএনবির 7 সেপ্টেম্বর 2021-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংসদীয় কমিটির সভায় জানানো হয় তিন জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 1,048 জন প্রধান শিক্ষক ও 6,789 জন সহকারী শিক্ষক কর্মরত, আর 1,585টি পদ শূন্য। রাঙামাটি পরিষদের পাতায় জেলার 393টি সরকারি বিদ্যালয়ে 393টি প্রধান ও 1,135টি সহকারী শিক্ষকের পদের কথা আছে।
প্রথম আলো ও ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকটি বাঙালি সংগঠন জেলা পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে আপত্তি তোলে; তাদের দাবি, দেশের অন্য জেলার মতো 93% মেধা ও 7% কোটায় নিয়োগ হোক। পরিষদ 70% উপজাতীয় ও 30% বাঙালি অনুপাতে নিয়োগ দিচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করে। দুই দফা তারিখ ঘোষণার পরও পরীক্ষা হয়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্নের লেখাগুলো একসঙ্গে পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পাতায়।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 8 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:পার্বত্য চুক্তি, পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, প্রাথমিক শিক্ষা
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।