Last updated Nov 3rd, 2026
2

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষাবৃত্তি আবেদন করার আগে প্রথম প্রশ্ন একটাই: শিক্ষার্থীর স্থায়ী ঠিকানা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি বা বান্দরবানে, নাকি দেশের অন্য কোনো জেলায়। সমতলের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মসূচিটির নামের ভেতরেই বন্ধনী আছে — “বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)”। তিন পার্বত্য জেলার শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বৃত্তি দেয় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, প্রত্যেকে নিজের পোর্টাল, নিজের সময়সূচি আর নিজের ন্যূনতম জিপিএ নিয়ে।
এই লেখা প্রতিটি কর্মসূচির শর্ত, আবেদনের সময়সীমা, প্রয়োজনীয় কাগজ আর টাকার অঙ্ক সাজিয়েছে — যতটা সম্ভব বিজ্ঞপ্তির নিজের ভাষায়, প্রতিটির সঙ্গে সাল লিখে। নিয়ম প্রতিবছর বদলায়: উন্নয়ন বোর্ডের 2022-23 সালের বিজ্ঞপ্তিতে ন্যূনতম জিপিএর কোনো শর্ত ছিল না, 2025-26 সালের বিজ্ঞপ্তিতে আছে। তাই এখানে কোনো শর্তই সাল ছাড়া লেখা হয়নি। সরকারি বিজ্ঞপ্তিগুলো “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” ও “উপজাতীয়” শব্দ ব্যবহার করে; উদ্ধৃতিতে সেগুলো হুবহু রাখা হয়েছে। রাষ্ট্র কোন দলিলে কোন শব্দ ব্যবহার করে, তা আছে আমাদের আলাদা লেখায়: রাষ্ট্র কোন শব্দ ব্যবহার করে: সংবিধান, শুমারি ও সরকারি নির্দেশনায় ‘আদিবাসী’। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আমাদের সব লেখার সূচি পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।
উন্নয়ন বোর্ডের বৃত্তির বাছাই-পদ্ধতি আর 2025-2026 অর্থবছরের ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় লেখায়; এখানে তা আবার বলা হয়নি। পাহাড়ে সনদ কে দেন, তা নিয়ে আছে উপজাতীয় সনদপত্র সার্কেল চিফ দেন লেখাটি।
এই লেখায় যা আছে
স্থায়ী ঠিকানা তিন পার্বত্য জেলার বাইরে হলে আবেদন যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সমতলের কর্মসূচিতে; ভেতরে হলে উন্নয়ন বোর্ড ও নিজ জেলার পার্বত্য জেলা পরিষদে। এর বাইরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) “বিশেষ ক্যাটাগরি” উপবৃত্তি দুই অঞ্চলের শিক্ষার্থীর জন্যই, আবেদন যায় নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়ে।
বিজ্ঞপ্তিগুলো পড়ে যে ক্রমটি দাঁড়ায়:
পাহাড়ের বৃত্তিগুলোর একটি বৈশিষ্ট্য বিজ্ঞপ্তির ভাষাতেই আছে: এগুলো জাতিগত পরিচয়ভিত্তিক নয়, স্থায়ী বাসিন্দাভিত্তিক। উন্নয়ন বোর্ডের 2025-2026 বিজ্ঞপ্তি আবেদন চায় তিন পার্বত্য জেলায় “স্থায়ীভাবে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের” কাছ থেকে। রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের নতুন অনলাইন ফরমের “সম্প্রদায়” তালিকায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, লুসাই, পাংখোয়া, বম, খিয়াং, খুমি, ম্রো ও চাকের পাশে “বাঙালি” এবং “অন্যান্য”-ও আছে। সমতলের কর্মসূচিটি অন্যদিকে কেবল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীর জন্য, আর পরিচয়ের কাগজ হিসেবে চায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রত্যয়নপত্র।
সাতটি পথ, প্রতিটির সর্বশেষ যে সালের বিজ্ঞপ্তি বা প্রতিবেদন পাওয়া গেছে সেই সালের তথ্য দিয়ে। বিস্তারিত ও উৎস নিচের অংশগুলোতে।
| কর্মসূচি | কারা | কোন স্তর | সর্বশেষ জানা সময়সীমা | কোথায় আবেদন | পরিচয়ের কাগজ |
|---|---|---|---|---|---|
| প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় — উচ্চ শিক্ষাবৃত্তি (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত) | সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত, তিন পার্বত্য জেলার বাইরের স্থায়ী বাসিন্দা | স্নাতক/স্নাতকোত্তর; 2012 বা পরে এসএসসি | 2023: 16 মার্চ–30 এপ্রিল (বিজ্ঞপ্তি); 2024: 4 এপ্রিল–15 মে | অনলাইন, empl.pmo.gov.bd | ইউএনওর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রত্যয়নপত্র |
| একই কর্মসূচি — উপজেলায় বিতরণ | সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থী | প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক | 2025-26: জুলাই 2026-এ বিতরণ | উপজেলা প্রশাসন | উৎসে লেখা নেই |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড | তিন পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা, “বিভিন্ন সম্প্রদায়ের” | উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর | 2025-26: 20 এপ্রিল–19 মে 2026 | অনলাইন, chtdb.gov.bd | জেলা প্রশাসক বা সার্কেল চিফের স্থায়ী বাসিন্দা সনদ |
| রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ — শিক্ষা উপবৃত্তি | রাঙ্গামাটির স্থায়ী বাসিন্দা | উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর (পোর্টালে মেডিকেল, প্রকৌশল, ডিপ্লোমাও) | 2025-26: 26 এপ্রিল–25 মে 2026 | অনলাইন, stipend.rhdcbd.org | স্থায়ী বাসিন্দা সনদ, অভিভাবকের আয়ের সনদ |
| খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ — শিক্ষাবৃত্তি | খাগড়াছড়ি জেলার শিক্ষার্থী | উচ্চ মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর, মেডিকেল, প্রকৌশল, ডিপ্লোমা | 2025-26: আবেদন শেষ; তালিকা 30 আগস্ট 2026 | অনলাইন, khdc.org.bd | পোর্টালের নিয়মাবলীতে সত্যায়িত কাগজ |
| বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ — শিক্ষাবৃত্তি | বান্দরবানের শিক্ষার্থী | একাদশ-দ্বাদশ, ডিগ্রি/বিএ পাস, এমবিবিএস ও প্রকৌশল | 2026: বিতরণ 4 মে ও 5 জুলাই | আবেদন-বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি | জানা যায়নি |
| মাউশি — রাজস্ব খাতভুক্ত বিশেষ ক্যাটাগরি উপবৃত্তি | “উপজাতীয় (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী)”সহ আট ক্যাটাগরি, সারা দেশ | ষষ্ঠ থেকে স্নাতকোত্তর | 2024-25: 17 মার্চ 2025; 2025-26: 25 মার্চ 2026 | নিজ প্রতিষ্ঠানে কাগজের ফরম | ইউপি চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কমিশনার/প্রতিষ্ঠান প্রধানের সনদ |
তিনটি কলামে “পাওয়া যায়নি” বা “জানা যায়নি” লেখা আছে ইচ্ছা করেই: যে তথ্য কোনো বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়া যায়নি, তা অনুমানে ভরা হয়নি।
সমতলের কর্মসূচির পুরো নাম “বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)”। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তি পোর্টাল অনুযায়ী এটি 1996-1997 অর্থবছর থেকে চলছে, অর্থায়ন জিওবি (সরকারি রাজস্ব), বাস্তবায়নকারী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। দপ্তরের ঠিকানা: নির্বাহী সেল, পুরাতন সংসদ ভবন, তেজগাঁও।
পোর্টালের “কর্মসূচি সম্পর্কে” পাতা কর্মসূচির জন্মকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গে পাশাপাশি রেখে ব্যাখ্যা করে:
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় রয়েছে। পাশাপাশি, সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য … ১৯৯৬ সাল হতে একটি নীতিমালার আলোকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে “বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)” শীর্ষক একটি কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু করা হয়।
— প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কর্মসূচি সম্পর্কে – পরিচিতি (ইন্টারনেট আর্কাইভে 30 নভেম্বর 2023-এর কপি)
একই পাতায় কর্মসূচির উদ্দেশ্য লেখা: “বাসস্থান, শিক্ষা বৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ, ছাত্রীদের জন্য সাইকেল বিতরণসহ বিভিন্ন ধরণের আয়বর্ধক কর্মসূচির মাধ্যমে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন।” আর ভিত্তি হিসেবে উদ্ধৃত সংবিধানের 23ক অনুচ্ছেদ — যা সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, 2011-এর 14 ধারায় যুক্ত হয়। ওই অনুচ্ছেদ আদালতে বলবৎযোগ্য কি না, তা নিয়ে আমাদের লেখা সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদ আদালতে বলবৎ করা যায় না।
শিক্ষাবৃত্তি পোর্টাল নিজে আলাদা ঠিকানায় — empl.pmo.gov.bd। পোর্টালের পাদটীকায় লেখা, এটি তৈরি আগস্ট 2021-এ; যোগাযোগের ই-মেইল dasr.stipend@pmo.gov.bd, ফোন +88-02-55029530। পোর্টালের মেনুতে “আবেদনকারী লগইন”-এর পাশে আলাদা “উপজেলা লগইন” আছে — কাগজ যাচাইয়ের দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের, তা নিচের অংশে।
নভেম্বর 2026-এ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূল ওয়েবসাইট (pmo.gov.bd) চালু; জুলাই 2026-এর একাধিক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে কর্মসূচিটিকে “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে বাস্তবায়নাধীন” বলা হয়েছে। 2025 ও 2026 সালের উচ্চ শিক্ষাবৃত্তির বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি; এই লেখায় সমতলের উচ্চ শিক্ষাবৃত্তির সর্বশেষ সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি তাই 2023-এর, আর সর্বশেষ যাচাই-প্রক্রিয়ার নথি 2024-এর।
2023 সালের বিজ্ঞপ্তিটি জারি হয় 15 মার্চ 2023 (01 চৈত্র 1429) তারিখে, পত্র সংখ্যা 03.451.2690.046.007.03.2020-35। এতে আবেদন চাওয়া হয় 2022-2023 অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয় বা সমতুল্য পর্যায়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে, কেবল অনলাইনে। শর্ত নয়টি।

| শর্ত | 2023 সালের বিজ্ঞপ্তিতে যা লেখা (সংক্ষেপে, উদ্ধৃতি হুবহু) |
|---|---|
| 1 | আবেদনকারীকে “বাংলাদেশের সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত নাগরিক” হতে হবে; তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া যেকোনো জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। |
| 2 | সরকার-অনুমোদিত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী। |
| 3 | “কেবল ২০১২ খ্রি. ও তার পরবর্তীতে এসএসসি/সমমানের পাসকৃতরাই” আবেদন করতে পারবেন। |
| 4 | কোনো ধরনের সরকারি চাকরিতে কর্মরত কেউ আবেদন করতে পারবেন না। |
| 5 | কোনো তফসিলি ব্যাংকে নিজের নামে সঞ্চয়ী হিসাব (কমপক্ষে 13 ডিজিটের); হিসাব নম্বর ও শাখার রাউটিং নম্বর অনলাইনে দিতে হবে। |
| 6 | এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের ফল সংশ্লিষ্ট বোর্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হবে। |
| 7 | আবেদনের সময় 16/03/2023 সকাল 10টা থেকে 30/04/2023 বিকাল 5টা; অনলাইন ছাড়া কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। আবেদনের পর 12 ডিজিটের ইউজার আইডি ও 6 ডিজিটের পাসওয়ার্ড; মেধাক্রমে নির্বাচিতদের টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে। |
| 8 | বিস্তারিত নিয়মাবলী empl.pmo.gov.bd পোর্টালে। |
| 9 | স্ক্যান করে সংযুক্ত করতে হবে: (ক) ইউএনওর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রত্যয়নপত্র, “নির্ধারিত ফরমেটে”; (খ) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র বা প্রত্যয়নপত্র; (গ) নিজের নামের ব্যাংকের চেক বইয়ের প্রথম পাতা। |
তৃতীয় শর্তটি বয়সের সীমার কাজ করে: 2012-র আগে এসএসসি পাস করা কেউ স্নাতকোত্তরে পড়লেও 2023-এ আবেদনের যোগ্য ছিলেন না। চতুর্থ শর্ত চাকরিরত শিক্ষার্থীদের বাদ দেয়। পারিবারিক আয়ের কোনো ঊর্ধ্বসীমা বিজ্ঞপ্তিতে নেই, যদিও অনলাইন ফরমে পরিবারের বার্ষিক আয় জানতে চাওয়া হয় (পরের অংশ দেখুন)। বৃত্তির টাকার অঙ্ক বিজ্ঞপ্তিতে লেখা নেই।
সময়সীমা নিয়ে দুই সরকারি পাতায় দুই রকম তারিখ আছে। ছাপানো বিজ্ঞপ্তি বলছে 16 মার্চ থেকে 30 এপ্রিল 2023; পোর্টালের মূল পাতা বলছে “১৪ মার্চ ২০২৩ হতে ১৫ মে ২০২৩* পর্যন্ত”, আর তারকা-চিহ্নের নিচে “আবেদনের সময়সীমা ১৫ মে ২০২৩ তারিখে শেষ হয়েছে।” পোর্টালের তারিখটি পরে বাড়ানো কি না, কোনো পাতায় লেখা নেই।
পোর্টালের “আবেদনের নিয়মাবলী” পাতায় আবেদনটি দশ ধাপে ভাগ করা। প্রথম ধাপেই এসএসসি ও এইচএসসির রোল, বোর্ড, সাল আর ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে হয়; পোর্টাল বোর্ডের তথ্যের সঙ্গে ফল মিলিয়ে নেয়, তারপর এসএমএসে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড পাঠায়।
| ধাপ | নাম | কী দিতে হয় |
|---|---|---|
| 1 | প্রাক-যোগ্যতা যাচাই | ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী/আবেদনকারীর ধরন, মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ (এসএসসি সনদ অনুযায়ী), ই-মেইল, এসএসসি ও এইচএসসির রোল-সাল-বিভাগ-বোর্ড-ফল, নিজের নামের সঞ্চয়ী হিসাবের তথ্য ও রাউটিং নম্বর |
| 2 | লগইন | এসএমএসে পাওয়া ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড দিয়ে |
| 3 | মূলপাতা | “আবেদনের অবস্থা” অসম্পূর্ণ দেখাবে; ধাপগুলো ক্রমানুসারে পূরণ |
| 4 | শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য | বর্তমান পরীক্ষা, শিক্ষাবর্ষ, বিষয়, প্রতিষ্ঠানের নাম, অধ্যক্ষ বা বিভাগীয় প্রধানের নাম ও মোবাইল; প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র বা প্রত্যয়নপত্র PDF-এ, অনধিক 5MB |
| 5 | ব্যক্তিগত তথ্য | ধর্ম, বৈবাহিক অবস্থা, এনআইডি ও জন্মনিবন্ধন নম্বর (না থাকলে কারণ), ব্যাংকের তথ্য; চেক বইয়ের প্রথম পাতা PDF-এ, অনধিক 5MB |
| 6 | যোগাযোগ | বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, থানা/উপজেলা, পোস্ট কোডসহ |
| 7 | পরিবার/খানা | ইউএনওর প্রত্যয়নপত্র PDF-এ; পরিবারপ্রধানের নাম; “নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা আছে কি না”; সদস্যসংখ্যা; বাসগৃহ নিজের কি না; দেয়াল ও ছাদ কী দিয়ে তৈরি; বিদ্যুৎ; পায়খানার ধরন; খাবার পানির উৎস; মোট জমি; গত এক বছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সহায়তা; ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে আগে পাওয়া সহায়তা; পরিবারের বার্ষিক আয় |
| 8 | ছবি | 300 × 300 পিক্সেল, অনধিক 2MB, JPG বা PNG |
| 9 | পরিবারের সদস্য | প্রত্যেকের নাম, এনআইডি বা জন্মসনদ নম্বর, বয়স, সম্পর্ক, লিঙ্গ, পেশা, “চিঠি লিখতে পারে কি না”, পড়াশোনার স্তর, কোনো বৃত্তি পান কি না |
| 10 | সারসংক্ষেপ | সব তথ্য এক পাতায়; ডান পাশের সুইচ সবুজ না করা পর্যন্ত আবেদন জমা হয় না, তার আগ পর্যন্ত সংশোধন করা যায় |
শেষে “আবেদন সারসংক্ষেপ” ডাউনলোড করে প্রিন্ট রাখতে বলা হয়েছে — পরে উপজেলায় কাগজ জমার সময় এই সারসংক্ষেপের মূল কপিই লাগে। পোর্টালের মূল পাতায় একটি সতর্কবার্তা ছিল: হিসাবধারীর নাম, ব্যাংক, হিসাব নম্বর ও রাউটিং নম্বর “কোন অবস্থাতেই পরিবর্তন/পরিমার্জন/সংশোধন করা যাবে না।”
“সাধারণ জিজ্ঞাসা” পাতায় একই ধাপগুলো সামান্য ভিন্ন ক্রমে আছে: সেখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সনদ আপলোডের কথা পঞ্চম ধাপে (ব্যক্তিগত তথ্য), আর নিয়মাবলী পাতায় সপ্তম ধাপে (পরিবার/খানা)। দুটি পাতাই 30 নভেম্বর 2023-এর আর্কাইভ কপি।
অনলাইনে আবেদনই শেষ ধাপ নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মেধাক্রমে একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে; তালিকায় থাকা আবেদনকারীকে কাগজপত্র নিয়ে নিজের স্থায়ী ঠিকানার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যেতে হয়। 2024 সালের নথিতে লেখা, আবেদনকারীকে “অবশ্যই স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে” জমা দিতে হবে।
পোর্টালের নোটিশ অনুযায়ী 28/05/2023 তারিখে “মেধাক্রমের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত আবেদনকারীর তালিকা” প্রকাশিত হয়। জমার শেষ দিন ছিল 05 জুন 2023; 05/06/2023-এর নোটিশে তা বাড়িয়ে 10 জুন 2023 করা হয়। যে কাগজ লাগত:
জুন 2024-এর “অপেক্ষমান তালিকা”-র নথি অনুযায়ী উচ্চ শিক্ষাবৃত্তি 2024-এর আবেদন নেওয়া হয় 04 এপ্রিল 2024 থেকে 15 মে 2024। অপেক্ষমাণ তালিকার আবেদনকারীদের 25 জুন 2024-এর মধ্যে উপজেলায় কাগজ জমা দিতে বলা হয়। 2023-এর তালিকার সঙ্গে তুলনায় কয়েকটি জিনিস যোগ হয়েছে: সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সারসংক্ষেপের মূলকপির সঙ্গে ফটোকপি, মার্কশিটের সঙ্গে সনদপত্র, আর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদের মূলকপিও। সনদ দেওয়ার কর্তৃপক্ষ লেখা “উপজেলা নির্বাহী অফিসার/জেলা প্রশাসক”।
উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট উল্লেখিত কাগজপত্র/দলিলাদি জমাদান ব্যতীত আবেদন বাতিল বলে গণ্য করা হবে। উল্লেখ্য যে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত বা অপেক্ষমানভাবে নির্বাচিত হওয়া বৃত্তি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান করে না।
— প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, উচ্চ শিক্ষাবৃত্তি – 2024-এর অপেক্ষমাণ তালিকা (ইন্টারনেট আর্কাইভের কপি)
নথিটির তালিকায় আবেদনকারীর নাম, উপজেলা, আইডি আর আংশিক ঢাকা মোবাইল নম্বর দেওয়া। উপজেলার নামগুলোর মধ্যে আছে কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, মধুপুর, সখিপুর, ধোবাউড়া, ফুলবাড়িয়া, হালুয়াঘাট ও সিলেট সদর — সব কটিই তিন পার্বত্য জেলার বাইরে। মোট কতজন চূড়ান্ত বৃত্তি পেয়েছেন, সেই সংখ্যা কোনো প্রকাশিত নথিতে পাওয়া যায়নি।
সমতলের উচ্চ শিক্ষাবৃত্তিতে পরিচয়ের কাগজ একটিই: সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দেওয়া “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র”, নির্ধারিত ফরমেটে। পোর্টালে এর একটি নমুনা দেওয়া ছিল (ফাইলের নাম UNO_Certificate_032022)। নমুনায় কী কী ঘর আছে, তা নিচের ছবিতে।

নমুনার মূল বাক্যে আবেদনকারীর নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর, মা-বাবার নাম, গ্রাম-ইউনিয়ন-উপজেলা-জেলা, তারপর “…নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত একজন সদস্য”। এরপর কোন সালে এসএসসি পাস করেছেন, আর বর্তমানে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন শ্রেণি ও বর্ষে পড়ছেন। অর্থাৎ একই কাগজ পরিচয় আর শিক্ষাগত অবস্থা দুটোরই প্রত্যয়ন। নিচে ইউএনওর স্বাক্ষর, পরিচিতি নম্বর, ফোন ও ই-মেইলের ঘর।
তিন পার্বত্য জেলার বৃত্তিগুলোতে এই প্রত্যয়নপত্র চাওয়া হয় না। সেখানে লাগে “স্থায়ী বাসিন্দার সনদ” — উন্নয়ন বোর্ডের 2025-2026 বিজ্ঞপ্তিতে “স্ব-স্ব জেলার জেলা প্রশাসক/সার্কেল চিফ কর্তৃক প্রদত্ত”, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের 2025-2026 বিজ্ঞপ্তিতে “জেলা প্রশাসক/সার্কেল চীফ কর্তৃক প্রদত্ত”। পাহাড়ে সার্কেল চিফ কোন আইনে কোন সনদ দেন, তা নিয়ে উপজাতীয় সনদপত্র নিয়ে আমাদের লেখা দেখুন; রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ আইনে “উপজাতীয়” কারা, তা আছে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ আইনের উপজাতীয় সংজ্ঞা লেখায়।
উচ্চ শিক্ষাবৃত্তির বাইরে একই কর্মসূচির টাকায় উপজেলা প্রশাসন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়, সঙ্গে বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন। 2025-26 অর্থবছরে দুটি উপজেলার প্রতিবেদনে স্তরভেদে একই অঙ্ক: প্রাথমিকে 3,000, মাধ্যমিকে 5,000, উচ্চ মাধ্যমিকে 7,000 টাকা।
| উপজেলা | তারিখ | কী বিতরণ হয়েছে | প্রতিবেদনে কর্মসূচির পরিচয় | উৎস |
|---|---|---|---|---|
| পোরশা, নওগাঁ | 22 জুলাই 2026 | প্রাথমিক 164 জন × 3,000; মাধ্যমিক 98 জন × 5,000; উচ্চ মাধ্যমিক 66 জন × 7,000 টাকা; মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের 49টি বাইসাইকেল | প্রতিবেদনে কর্মসূচির নাম: “বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)”, 2025–26 অর্থবছর | দৈনিক শিক্ষাডটকম |
| কাহারোল, দিনাজপুর | 25 জুলাই 2026 | প্রাথমিক 40 জন × 3,000; মাধ্যমিক 24 জন × 5,000; কলেজ 16 জন × 7,000 টাকা; 12টি বাইসাইকেল, 8টি সেলাই মেশিন | “বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায়”; সভাপতি ইউএনও | দৈনিক জয়পুর বার্তা |
| বীরগঞ্জ, দিনাজপুর | জুলাই 2026 (প্রকাশ 23 জুলাই) | শিক্ষাবৃত্তি, বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন; অঙ্ক প্রতিবেদনে নেই | “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে বাস্তবায়নাধীন বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচি” | দিনাজপুর টিভি |
| দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড় | প্রকাশের তারিখ পাতায় পাওয়া যায়নি (প্রতিবেদনে “গতকাল রোববার”) | 18 জন শিক্ষার্থীকে তিন স্তরে মোট 74,000 টাকা; 3টি বাইসাইকেল, 2টি সেলাই মেশিন, 60টি ছাগল | “বিশেষ এলাকার উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও অসহায় পরিবারের মধ্যে” | দৈনিক নয়া দিগন্ত |
| লালপুর, নাটোর | 26 জানুয়ারি 2023 | 170 জন শিক্ষার্থীকে মোট 6,84,000 টাকা; 20 জনকে বাইসাইকেল | প্রতিবেদনে কর্মসূচির নাম নেই; আয়োজক উপজেলা প্রশাসন | দেশের আওয়াজ |
এই স্তরে শিক্ষার্থী বাছাই কীভাবে হয়, আবেদন কবে নেওয়া হয়, কোন কাগজ লাগে — কোনো প্রতিবেদনে বা কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে তা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনগুলোতে আয়োজক হিসেবে উপজেলা প্রশাসন আর সভাপতি হিসেবে ইউএনওর নাম আছে। তাই এই বৃত্তির খোঁজ নিতে হয় নিজের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে।
পাহাড়ে বৃত্তি দেয় তিন ধরনের প্রতিষ্ঠান: পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন), আর তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। 1997-এর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ঘ খণ্ডের 10 নম্বর দফায় উপজাতীয় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বেশি সংখ্যক বৃত্তি এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বৃত্তির অঙ্গীকার আছে।
দফাটির ধারা-ধরে ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়নের হিসাব আছে পার্বত্য চুক্তি ১৯৯৭: কী ছিল, কতটা হলো, কোথায় আটকে আছে লেখায়। সেখানে যেমন উল্লেখ আছে, কোটার মেয়াদ কোনো তারিখে বাঁধা নয়, বাঁধা অন্য অঞ্চলের সমপর্যায়ে পৌঁছানোর শর্তে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য আলাদা কোনো সরকারি বৃত্তির বিজ্ঞপ্তি — পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, উন্নয়ন বোর্ড বা জেলা পরিষদের — এই লেখার জন্য পাওয়া যায়নি।
জেলা পরিষদগুলোর হাতে শিক্ষা কতটা, তা পরিষদগুলোর ওয়েবসাইটেই দেখা যায়। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ওয়েবসাইটের মেনুতে হস্তান্তরিত দপ্তরের তালিকায় “মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর” ও “জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ” আছে; খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের “হস্তান্তরিত বিভাগসমূহ” তালিকায় “প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ” ও “মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর”। কোন সরকারের আমলে কোন দপ্তর হস্তান্তর হয়েছে, তা আছে পার্বত্য জেলা পরিষদে বিভাগ হস্তান্তর লেখায়। বৃত্তি দেওয়ার কথা রাঙ্গামাটি পরিষদের চেয়ারম্যানের বার্তায় স্পষ্ট:
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত জেলার স্থায়ী বাসিন্দা গরীব ও মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান করে আসছে।
— রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, শিক্ষা উপবৃত্তি ব্যবস্থাপনা সিস্টেম, চেয়ারম্যানের শুভেচ্ছা বাণী (নভেম্বর 2026-এ যেমন ছিল)
একই বার্তায় পরিষদের অন্যান্য শিক্ষা-কাজের তালিকা আছে: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাস নির্মাণ, মাতৃভাষায় শিক্ষাদানে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, “বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অভিধান তৈরি”, বেসরকারি বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাঠ্যবই ও আসবাব। পাহাড়ের শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক চিত্র — সাক্ষরতা, প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় — আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থা লেখায়।
উন্নয়ন বোর্ডের শিক্ষাবৃত্তির 2025-2026 অর্থবছরের আবেদন নেওয়া হয় 20 এপ্রিল থেকে 19 মে 2026 রাত 12টা পর্যন্ত, শুধু অনলাইনে। পাওয়া তিনটি বিজ্ঞপ্তির মধ্যে কেবল এটিতে ন্যূনতম জিপিএ লেখা: 5.00 স্কেলে 3.20, 4.00 স্কেলে 2.75। 2022-23 ও 2024-25-এর বিজ্ঞপ্তিতে এমন শর্ত নেই।

তিনটি বছরের বিজ্ঞপ্তি পাশাপাশি রাখলে বদলগুলো চোখে পড়ে:
| বিষয় | 2022-23 (বিজ্ঞপ্তি) | 2024-25 (বিজ্ঞপ্তি) | 2025-26 (বিজ্ঞপ্তি) |
|---|---|---|---|
| বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ | 22-03-2023 | 27/03/2025 | 15-04-2026 |
| আবেদনের সময় | 23 মার্চ–24 এপ্রিল 2023 | 05 এপ্রিল–04 মে 2025 | 20 এপ্রিল–19 মে 2026 |
| যাদের জন্য | তিন জেলার “বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী এবং … বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোষ্য” | তিন জেলার “বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী” | তিন জেলার “বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী” |
| কোন ফল দিয়ে আবেদন নয় | জুন 2021-এর আগে প্রকাশিত ফল | বিজ্ঞপ্তিতে শর্তের বিস্তারিত নেই; ওয়েবসাইটের “অনলাইন সেবাসমূহ” মেনুর কথা বলা | সেপ্টেম্বর 2024-এর আগে প্রকাশিত ফল |
| আগের বছরের বৃত্তিপ্রাপ্ত | একই ফল দিয়ে 2021-22-এ চূড়ান্তভাবে মনোনীতদের আবেদন বাতিল; নতুন ফল দিয়ে চলবে | — | 2024-2025-এ বৃত্তিপ্রাপ্তরা একই ফল দিয়ে আবেদন করতে পারবেন না |
| ন্যূনতম জিপিএ | নেই | নেই | 5.00 স্কেলে 3.20; 4.00 স্কেলে 2.75 |
| ব্যাংক হিসাব | উল্লেখ নেই | — | নিজের বা বাবা/মায়ের নামে ব্যাংক হিসাব বাধ্যতামূলক |
| আয়ের সনদ | উপজেলা চেয়ারম্যান/পৌর মেয়র/ইউপি চেয়ারম্যানের দেওয়া; চাকরিজীবী হলে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের | — | একই; সঙ্গে শর্ত: 01 জানুয়ারি 2026-এর আগে ইস্যু করা চলবে না |
| প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন | অফিসিয়াল প্যাডে, প্রত্যয়নকারীর মোবাইল ও ই-মেইলসহ; ভর্তির রসিদ বা পরিচয়পত্র চলবে না | — | একই; 01 মার্চ 2026-এর আগের প্রত্যয়ন চলবে না |
| কোটা | বিশেষ কোটা (এতিম, প্রতিবন্ধী) এবং আলাদা “বীর মুক্তিযোদ্ধা কোটা” | — | কোটার সনদ: এতিম ও প্রতিবন্ধী (সমাজসেবা কার্যালয়), বোর্ডের রাজস্ব খাতের কর্মীর পোষ্য; মুক্তিযোদ্ধা কোটার উল্লেখ নেই |
| ছবি ও ফাইল | ছবি 300×300, স্বাক্ষর 300×80, সনদ 1000×750 পিক্সেল, JPEG; মোবাইলে তোলা ছবি গ্রহণযোগ্য নয় | — | একই |
2024-25-এর ছাপানো বিজ্ঞপ্তিটি এক পাতার, তাতে শুধু সময়সীমা আর ওয়েবসাইটের ঠিকানা; শর্তের বিবরণ ওয়েবসাইটে রাখার কথা লেখা। তাই ওই কলামে “—” মানে বিজ্ঞপ্তিতে লেখা নেই, শর্ত ছিল না এমন নয়। বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি তালিকা থেকে জানা যায়, এটি রাঙ্গামাটির দৈনিক গিরিদর্পণ, খাগড়াছড়ির দৈনিক অরণ্যবার্তা, বান্দরবানের দৈনিক নতুন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন ও প্রথম আলোর রাঙ্গামাটি প্রতিনিধির কাছে “২ কলাম ৫ ইঞ্চি আকারে” ছাপানোর জন্য পাঠানো হয়েছিল।
2025-2026 বিজ্ঞপ্তিতে একটি সতর্কবাণী মোটা হরফে: ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য ও “সৃজিত সনদপত্রের মাধ্যমে আবেদন পাওয়া গেলে” কাগজ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যাচাইয়ে পাঠানো হবে, অসামঞ্জস্য পেলে আবেদন বাতিলের সঙ্গে “প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা”। বৃত্তি নেওয়ার সময় মূল মার্কশিট বা সনদ দেখাতে হবে।
বাছাই কীভাবে হয় (সম্প্রদায়ভিত্তিক মেধাক্রম, শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকার, এক পরিবার থেকে একাধিক আবেদন), কর্মসূচির বাজেট কোড, ফলাফল কোথায় প্রকাশ হয় আর 2025-2026-এর ফলাফল — এসব উন্নয়ন বোর্ড ও মন্ত্রণালয় নিয়ে আমাদের লেখায়। সেখানে যেমন বলা, বৃত্তির টাকার অঙ্ক কোনো বিজ্ঞপ্তি বা সেবা প্রতিশ্রুতিতে লেখা নেই। বিতরণের একটি উদাহরণ: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমের 11 এপ্রিল 2023-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সেদিন বান্দরবানের অরুন সারকী টাউন হলে উন্নয়ন বোর্ডের বৃত্তি পান জেলার সাত উপজেলা থেকে নির্বাচিত 725 জন শিক্ষার্থী; প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। মাথাপিছু অঙ্ক প্রতিবেদনে নেই।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বৃত্তির নাম “শিক্ষা উপবৃত্তি”। 2025-2026 অর্থবছরের বিজ্ঞপ্তি (তারিখ 26/04/2026) অনুযায়ী আবেদন 26 এপ্রিল থেকে 25 মে 2026 রাত 12টা, শুধু অনলাইনে; ন্যূনতম জিপিএ 5.00 স্কেলে 2.50, 4.00 স্কেলে 2.00; আবেদনকারীর “সচল বিকাশ (Bikash) Personal” নম্বর বাধ্যতামূলক।
| বিষয় | 2024-2025 (বিজ্ঞপ্তি) | 2025-2026 (বিজ্ঞপ্তি) |
|---|---|---|
| বিজ্ঞপ্তির তারিখ | মার্চ 2025 (ওয়েবসাইটে প্রকাশ 10-03-2025) | 26/04/2026 |
| আবেদনের সময় | 10/03/2025 থেকে 17/04/2025 রাত 12টা | 26/04/2026 থেকে 25/05/2026 রাত 12টা |
| স্তর | উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান, স্নাতক/সমমান, স্নাতকোত্তর/সমমান | উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান, স্নাতক (সম্মান)/সমমান, স্নাতকোত্তর/সমমান |
| ন্যূনতম জিপিএ | বিজ্ঞপ্তিতে নেই | 5.00 স্কেলে 2.50; 4.00 স্কেলে 2.00 |
| আগের বছরের বৃত্তিপ্রাপ্ত | বিজ্ঞপ্তিতে নেই | 2024-25-এ উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থী একই ফল দিয়ে আবেদন করতে পারবেন না |
| টাকা পাঠানোর মাধ্যম | বিকাশ পার্সোনাল নম্বর; নিজের, বাবা-মায়ের বা ভাই-বোনের নম্বর চলবে, অন্য কারও নয় | একই; নম্বর ভুল দিলে “কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না” |
| কাগজ (সবই PDF) | স্থায়ী বাসিন্দা সনদ (300KB); অভিভাবকের বার্ষিক আয়ের হালসনদ (300KB); বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়ন (300KB); সব শিক্ষাগত সনদ (900KB) | একই, সঙ্গে সর্বশেষ সেমিস্টার/বর্ষের মার্কশিট (500KB); আগের ইস্যু করা প্রত্যয়ন গ্রহণযোগ্য নয় |
| আয়ের সনদ দেবেন | উপজেলা চেয়ারম্যান/পৌর প্রশাসক/ইউপি চেয়ারম্যান বা মেম্বার | পৌর প্রশাসক/ইউপি চেয়ারম্যান বা মেম্বার |
| ছবি ও স্বাক্ষর | 300×300 পিক্সেল (100KB), স্বাক্ষর 300×80 (80KB) | একই |
| অনলাইনের বাইরে | সরাসরি বা ডাকযোগে আবেদন গ্রহণ নয় | একই |
দুই বিজ্ঞপ্তিতেই আবেদনের ঠিকানা লেখা www.rhdc.gov.bd অথবা www.scholarship.rhdcbd.org। নভেম্বর 2026-এ পরিষদের ওয়েবসাইটের “ই-সেবা” মেনুর “শিক্ষা উপবৃত্তি ব্যবস্থাপনা সিস্টেম” লিংক যায় নতুন ঠিকানা stipend.rhdcbd.org-এ। সেখানে “শিক্ষা উপবৃত্তি — ২০২৫-২৬ অর্থবছর” কার্ডের বর্ণনা: “দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এককালীন শিক্ষা উপবৃত্তি। এইচএসসি, ডিপ্লোমা, স্নাতক, স্নাতকোত্তর, মেডিকেল ও প্রকৌশলসহ সকল স্তরের শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন।” ধাপ চারটি: ফরম পূরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক যাচাই, প্রতিষ্ঠান-উপজেলা-জেলা পর্যায়ে যাচাই, তারপর ফল ও অর্থের খবর এসএমএসে। ট্র্যাকিং নম্বর দিয়ে লগইন ছাড়াই আবেদনের অবস্থা দেখা যায়।
অনলাইন ফরমটি কয়েকটি তথ্য জানায় যা বিজ্ঞপ্তিতে নেই। টাকা নেওয়ার পদ্ধতিতে বিকাশের পাশে নগদ, রকেট ও ব্যাংক — চারটি বিকল্প। “সম্প্রদায়”-এর তালিকায় এগারোটি জনগোষ্ঠীর নাম, “বাঙালি” ও “অন্যান্য”। অভিভাবকের পেশার তালিকায় “কৃষক”-এর পরেই “জুম চাষী”। চলমান কোর্সের তালিকায় এইচএসসি/সমমান, আলিম, ডিপ্লোমা (প্রকৌশল/কৃষি/মৎস্য/স্বাস্থ্য), বিএ-বিএসএস-বিএসসি-বিবিএস/বিকম (পাস), স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর, ফাজিল/কামিল, এলএলবি, এমবিবিএস/বিডিএস, বিএসসি নার্সিং, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি ও মৎস্য বিজ্ঞান, টেক্সটাইল/লেদার। শেষে অঙ্গীকারনামা: উপবৃত্তি নেওয়ার সময় “সকল মূল সার্টিফিকেট ও রেকর্ডপত্র” দেখাতে হবে।
পুরনো পোর্টাল (bpmcbd.com/rhdc_scholarship) এখনো খোলে। তার নিয়মাবলীর শেষে স্বাক্ষরের তারিখ 19/01/2020, আর একটি শর্ত: “জিপিএ ফলাফলের ২.০০ পয়েন্টের নীচে প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আবেদন করার প্রয়োজন নাই।” পাতার শিরোনামে লেখা, 2019-2020 অর্থবছরে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে “বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবৃত্তি”-র আবেদন। 2020 সালের ওই শর্ত আর 2026-এর 2.50 — দুটি সংখ্যাই সাল ধরে পড়া দরকার।
কতজন পান, তার একটি পুরনো তথ্য: অনলাইন সংবাদমাধ্যম নিউজনাউ২৪-এর 6 জুলাই 2023-এর শিরোনাম “রাঙ্গামাটিতে ৬৫০ শিক্ষার্থীদের মাঝে জেলা পরিষদের শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান”; সারাংশে লেখা “বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ব-বিদ্যালয়ে পড়ুয়া” শিক্ষার্থী। মাথাপিছু অঙ্ক বা 2025-26-এর সংখ্যা পাওয়া যায়নি।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অনলাইন পোর্টালের নিয়মাবলী অনুযায়ী 5 স্কেলে 4.00 এবং 4 স্কেলে 3.50-এর নিচে জিপিএ বা সিজিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদনের “প্রয়োজন নাই” — তিন জেলা পরিষদের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু সীমা। 2025-2026 অর্থবছরের নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ হয় 30 আগস্ট 2026, চেক বিতরণ 12 অক্টোবর 2026।
নিয়মাবলীর পাতায় কোনো তারিখ নেই; ওপরের তালিকা পোর্টালের পাতা থেকে, নভেম্বর 2026-এ যেমন ছিল। পোর্টালের মূল পাতায় দৃশ্যমান বার্তা: “শিক্ষা বৃত্তি সহায়তার জন্য আবেদনের সময়সীমা শেষ।”
30 আগস্ট 2026-এ প্রকাশিত 23 পাতার তালিকায় প্রতিটি গ্রুপের শিরোনামে নির্বাচিতের সংখ্যা লেখা। মেডিক্যাল ও কলেজ গ্রুপ ছাড়া বাকিগুলোতে প্রতিষ্ঠানের পাশে অধ্যয়নরত বিভাগও লেখা।
| গ্রুপ | শিক্ষার্থীর ধরন | তালিকার শিরোনামে লেখা সংখ্যা |
|---|---|---|
| ক | মেডিক্যাল | 35 জন |
| খ | ইঞ্জিনিয়ারিং | 15 জন |
| গ | বিশ্ববিদ্যালয় | 100 জন |
| ঘ | কলেজ (একাদশ-দ্বাদশ) | 100 জন |
| ঙ | ডিপ্লোমা | 50 জন |
| চ | বিভিন্ন কলেজ/জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, স্নাতক/স্নাতকোত্তর | 80 জন |
তালিকায় শিক্ষার্থীর নামের পাশে বাবার নাম আর প্রতিষ্ঠান লেখা; নামগুলো এখানে দেওয়া হয়নি। মেডিক্যাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, মানিকগঞ্জ ও জামালপুর মেডিকেল কলেজ; ডিপ্লোমা গ্রুপে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি, পলিটেকনিক। জেলার শিক্ষার্থী দেশের যেখানেই পড়ুন, আবেদন করা যায় — বিতরণ বিজ্ঞপ্তির ভাষায় “খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন কলেজ, কারিগরি, মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে” পড়া “বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অস্বচ্ছল, এতিম, মেধাবি ছাত্র-ছাত্রী”।

07 অক্টোবর 2026-এর বিতরণ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী চেক দেওয়া হয় 12 অক্টোবর 2026, সোমবার বিকাল 3টায়, খাগড়াছড়ি টাউন হলে, ছয় গ্রুপেরই একই সময়ে। সেদিন সকাল 10টায় পরিষদের চতুর্থ তলায় নিবন্ধন; সঙ্গে আনতে হবে পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নিজের প্রতিষ্ঠানের স্টুডেন্ট আইডি কার্ড — মূল কপি দেখাতে হবে, ফটোকপি এক কপি জমা। বিজ্ঞপ্তির মাথায় বাংলা তারিখ লেখা “২২ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ”, পাশে খ্রিষ্টীয় তারিখ 07 অক্টোবর 2026।
একই দিনে, একই টাউন হলে আরেকটি চেক বিতরণ হয়: ইউএনডিপির ইআরআরডি-সিএইচটি-র সহযোগিতায় পরিষদের বাস্তবায়নাধীন “Women and Girls Empowerment through Inclusive Education in CHT” প্রকল্পের আওতায় 2026-2027 অর্থবছরে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়া 40 জন মেয়েশিক্ষার্থীকে বৃত্তি (বিজ্ঞপ্তি, 07/10/2026)। এটি প্রকল্পভিত্তিক; পরের বছর চলবে কি না, বিজ্ঞপ্তিতে লেখা নেই।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ 2026 সালে দুই ধাপে বৃত্তি দেয় — প্রথম ধাপে 4 মে 1,456 জন, দ্বিতীয় ধাপে 5 জুলাই 1,323 জন; সিএইচটি টাইমসের প্রতিবেদনে দুই ধাপে মোট 2,779 জন ও 1 কোটি 50 লাখ টাকা। প্রথম ধাপের প্রতিবেদনে স্তরভেদে অঙ্কও আছে।
| স্তর | প্রথম ধাপে শিক্ষার্থী (4 মে 2026) | জনপ্রতি |
|---|---|---|
| এমবিবিএস ও প্রকৌশল | 104 জন | 11,000 টাকা |
| একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি | 1,018 জন | 4,000 টাকা |
| ডিগ্রি ও বিএ (পাস) | 334 জন | 6,000 টাকা |
সূত্র: সিএইচটি টাইমস, “বান্দরবানে ১,৪৫৬ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিলো জেলা পরিষদ” (প্রকাশ 5 মে 2026), যেখানে তথ্যটি “জেলা পরিষদ সূত্রে” বলে উল্লেখ; আর “মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাবৃত্তি তুলে দিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান” (প্রকাশ 7 জুলাই 2026)। প্রথম প্রতিবেদন অনুযায়ী বৃত্তি পান “বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত” শিক্ষার্থী; দ্বিতীয়টিতে “বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত”। দ্বিতীয় ধাপের স্তরভেদে অঙ্ক প্রতিবেদনে নেই।
পরিষদের চেয়ারম্যান প্রথম অনুষ্ঠানে বলেন, “দ্বিতীয় ধাপে বাকি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হবে।” আবেদন কবে, কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, কোন শর্তে — বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ওয়েবসাইটের নোটিশ পাতায় নভেম্বর 2026-এ এমন কোনো বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি; সেখানে সাম্প্রতিক নোটিশগুলো মূলত অফিস আদেশ ও ঠিকাদার তালিকাভুক্তির। তিন জেলা পরিষদের মধ্যে টাকার অঙ্ক কেবল বান্দরবানেরটিই প্রকাশ্য উৎসে পাওয়া গেছে, তাও সংবাদপত্রের মাধ্যমে।
একই তথ্য এক ছকে, প্রতিটি সারিতে সাল সহ। “লেখা নেই” মানে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নেই; “জানা যায়নি” মানে ওই বছরের কোনো বিজ্ঞপ্তিই পাওয়া যায়নি।
| কর্মসূচি | সাল | ন্যূনতম জিপিএ | আবেদনের সময় | টাকার অঙ্ক | টাকা পাঠানো | মূল কাগজ |
|---|---|---|---|---|---|---|
| প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (উচ্চ শিক্ষাবৃত্তি) | 2023 | নেই (2012-র পরে এসএসসি) | 16/03–30/04/2023 (বিজ্ঞপ্তি); পোর্টালে 14/03–15/05/2023 | লেখা নেই | নিজের নামে সঞ্চয়ী ব্যাংক হিসাব (13+ ডিজিট) | ইউএনওর প্রত্যয়নপত্র, প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন, চেক বইয়ের পাতা |
| প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (উচ্চ শিক্ষাবৃত্তি) | 2024 | জানা যায়নি | 04/04–15/05/2024 | লেখা নেই | নিজের নামের ব্যাংক হিসাব | ওপরের সঙ্গে ছবি, এনআইডি/জন্মসনদ; উপজেলায় স্ব-শরীরে জমা |
| একই কর্মসূচি (উপজেলায় বিতরণ) | 2025-26 | জানা যায়নি | জানা যায়নি | 3,000 / 5,000 / 7,000 (প্রাথমিক / মাধ্যমিক / উচ্চ মাধ্যমিক) | জানা যায়নি | জানা যায়নি |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড | 2025-26 | 3.20 (5 স্কেল), 2.75 (4 স্কেল) | 20/04–19/05/2026 | লেখা নেই | নিজের বা বাবা/মায়ের ব্যাংক হিসাব | প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন, স্থায়ী বাসিন্দা সনদ, অভিভাবকের আয়ের সনদ, কোটার সনদ |
| রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ | 2025-26 | 2.50 (5 স্কেল), 2.00 (4 স্কেল) | 26/04–25/05/2026 | লেখা নেই | বিকাশ পার্সোনাল (নতুন পোর্টালে নগদ, রকেট, ব্যাংকও) | স্থায়ী বাসিন্দা সনদ, আয়ের হালসনদ, বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়ন ও মার্কশিট, সব শিক্ষাগত সনদ |
| খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ | 2025-26 | 4.00 (5 স্কেল), 3.50 (4 স্কেল) | দৃশ্যমান: “সময়সীমা শেষ” | লেখা নেই | লেখা নেই | মূল বা সত্যায়িত কাগজের স্ক্যান; বিতরণের দিন ছবি, এনআইডি/জন্মনিবন্ধন, স্টুডেন্ট আইডি |
| বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ | 2026 | জানা যায়নি | জানা যায়নি | 11,000 (এমবিবিএস/প্রকৌশল), 4,000 (একাদশ-দ্বাদশ), 6,000 (ডিগ্রি/বিএ পাস) — সংবাদপত্রে | জানা যায়নি | জানা যায়নি |
| মাউশি (বিশেষ ক্যাটাগরি) | 2024-25 | লেখা নেই | প্রতিষ্ঠানে জমা 17/03/2025; আঞ্চলিক অফিসে 24/03/2025 | লেখা নেই | অনলাইন ব্যাংক হিসাব, 13–17 ডিজিট, সচল | প্রতিষ্ঠান প্রধানের সনদ; ইউপি চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কমিশনার/প্রতিষ্ঠান বা বিভাগীয় প্রধানের মূল সনদ |
ছকটি থেকে একটি বিষয় দেখা যায়: যে সরকারি বিজ্ঞপ্তিগুলো পাওয়া গেছে, তার কোনোটিতেই বৃত্তির টাকার অঙ্ক লেখা নেই। যে দুটি অঙ্ক এখানে আছে, দুটিই বিতরণ অনুষ্ঠানের সংবাদ প্রতিবেদন থেকে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রাজস্ব খাতভুক্ত উপবৃত্তির আটটি ক্যাটাগরির একটি “উপজাতীয় (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী)”। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির জন্য ফরম নং-01, একাদশ থেকে স্নাতকোত্তরের জন্য ফরম নং-02; আবেদন জমা হয় নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, অনলাইনে নয়। পাহাড় ও সমতল — দুই অঞ্চলের শিক্ষার্থীর জন্যই এটি খোলা।
2024-2025 অর্থবছরের বিজ্ঞপ্তি (মাউশির সাইটে প্রকাশ 14-01-2025) জারি হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের 04/02/2016 তারিখের একটি স্মারকের সূত্রে। ক্যাটাগরিগুলো: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, তফসিলি (হিন্দু), বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, সশস্ত্র বাহিনী, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, প্রতিবন্ধী (দৃষ্টি ও অটিস্টিক ব্যতীত), অটিস্টিক এবং উপজাতীয় (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী)। শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানে জমা দেবেন 17/03/2025-এর মধ্যে; প্রতিষ্ঠান আঞ্চলিক উপপরিচালক (ষষ্ঠ-দশম) বা আঞ্চলিক পরিচালকের (একাদশ-স্নাতকোত্তর) কার্যালয়ে পাঠাবে 24/03/2025-এর মধ্যে। আঞ্চলিক কার্যালয়ের তালিকায় ঢাকা (মিরপুর), চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর ও সিলেট।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশ, ঢাকা কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত কোন আবেদন গ্রহণ করা হয় না। তাই শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদনপত্র দাখিল/প্রেরণ করা হলে তা সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।
— মাউশি, 2024-2025 অর্থবছরের রাজস্ব খাতভুক্ত উপবৃত্তির বিজ্ঞপ্তি, জানুয়ারি 2025
ফরম নং-02-এর শর্তাবলীর চতুর্থটি পরিচয়ের কাগজ নিয়ে: তফসিলি, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, সশস্ত্র বাহিনী, প্রতিবন্ধী ও “উপজাতীয় (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী)” শিক্ষার্থীদের “স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কমিশনার/প্রতিষ্ঠান প্রধান/বিভাগীয় প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত মূল সনদপত্র” দাখিল করতে হবে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বৃত্তির মতো ইউএনওর প্রত্যয়ন এখানে চাওয়া হয়নি। অন্য শর্তের মধ্যে: শিক্ষার্থীর নাম আর অনলাইন ব্যাংক হিসাবের নাম অভিন্ন হতে হবে (যৌথ হিসাব হলে দুজনের নামই); হিসাব নম্বর 13 থেকে 17 ডিজিট, সচল; নির্ধারিত তারিখের আগে বা পরে জমা দেওয়া আবেদন বাতিল; চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে আঞ্চলিক অফিসের ওয়েবসাইটে।
2025-2026 অর্থবছরের বিজ্ঞপ্তির কথা জানা যায় দুটি প্রতিবেদন থেকে — শিক্ষাবার্তা ডট কম (2 মার্চ 2026) ও দৈনিক নয়া দিগন্ত (বাসসের বরাতে)। দুটিতেই একই তথ্য: অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি, ক্যাটাগরির তালিকায় “উপজাতীয় (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী)”, শিক্ষার্থীর জমার শেষ দিন 25 মার্চ, প্রতিষ্ঠানের পাঠানোর শেষ দিন 31 মার্চ। মূল বিজ্ঞপ্তিটি এই লেখার জন্য পাওয়া যায়নি; তাই 2025-26-এর শর্তগুলো 2024-25-এর মতোই কি না, যাচাই করা যায়নি। উপবৃত্তির অঙ্ক কোনো বছরের বিজ্ঞপ্তিতেই নেই।
বিজ্ঞপ্তিগুলোর বাতিলের কারণ পাশাপাশি রাখলে কয়েকটি বারবার আসে: ফরমের ফল আর সংযুক্ত সনদের অমিল, পুরনো তারিখের প্রত্যয়ন, মোবাইলে তোলা ছবি, একাধিক আবেদন, আর আগের বছরের একই ফল দিয়ে আবার আবেদন। প্রতিটি কারণের পাশে কোন বিজ্ঞপ্তিতে তা আছে:
| বাতিলের কারণ | কোন বিজ্ঞপ্তিতে, কোন সালে |
|---|---|
| অনলাইন ছাড়া আবেদন | প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় 2023; রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ 2024-25 ও 2025-26 (“সরাসরি বা ডাকযোগে” নয়) |
| সময়সীমার পরে (মাউশিতে আগেও) জমা | প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় 2023; মাউশি ফরম নং-02 |
| নির্দিষ্ট তারিখের আগের ফল দিয়ে আবেদন | উন্নয়ন বোর্ড 2022-23 (জুন 2021-এর আগের ফল) ও 2025-26 (সেপ্টেম্বর 2024-এর আগের ফল) |
| গত বছর বৃত্তি পাওয়া একই ফল আবার ব্যবহার | উন্নয়ন বোর্ড 2022-23 ও 2025-26; রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ 2025-26 |
| অনলাইন ফরমে লেখা ফল আর সংযুক্ত সনদের ফল না মেলা | উন্নয়ন বোর্ড 2022-23 ও 2025-26; রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ 2025-26 |
| মোবাইলে তোলা ছবি দিয়ে সনদ সংযুক্ত করা | উন্নয়ন বোর্ড 2022-23 ও 2025-26 (“স্ক্যান ব্যতীত অন্যভাবে ধারণকৃত … গ্রহণযোগ্য হবে না”) |
| নির্দিষ্ট তারিখের আগে ইস্যু করা আয় বা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন | উন্নয়ন বোর্ড 2025-26 (আয়: 01/01/2026-এর আগে নয়; প্রতিষ্ঠান: 01/03/2026-এর আগে নয়); রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ 2025-26 (“পূর্বের ইস্যুকৃত প্রত্যয়ন গ্রহণযোগ্য নয়”) |
| ভর্তির রসিদ বা পরিচয়পত্রকে প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন হিসেবে দেওয়া | উন্নয়ন বোর্ড 2022-23 ও 2025-26 |
| একাধিকবার আবেদন | উন্নয়ন বোর্ড 2022-23 ও 2025-26 |
| অন্য কারও বিকাশ নম্বর | রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ 2024-25 (নিজের, বাবা-মা ও ভাই-বোনের নম্বর ছাড়া) |
| ব্যাংক হিসাবের নাম শিক্ষার্থীর নামের সঙ্গে না মেলা | মাউশি ফরম নং-02; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় 2023 (নিজের নামে সঞ্চয়ী হিসাব) |
| প্রাথমিক তালিকার পর উপজেলায় কাগজ জমা না দেওয়া | প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় 2024 |
| সৃজিত বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ সনদ | উন্নয়ন বোর্ড 2022-23 ও 2025-26; রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ 2024-25 ও 2025-26 — বাতিলের সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থার কথা |
মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির কোটা, তার জন্য কোন সনদ লাগে আর কে দেয়, তা আছে মেডিকেল ভর্তিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা লেখায়।
উৎসগুলোর মধ্যে যেখানে তথ্য মেলে না, সেগুলো এক জায়গায়:
এই অংশের প্রতিটি উত্তর আলাদাভাবে পড়লেও যাতে চলে, সেভাবে লেখা; সাল ও উৎস ওপরের অংশগুলোতে।
স্থায়ী ঠিকানার ওপর নির্ভর করে। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বাইরে হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের empl.pmo.gov.bd পোর্টালে, যা “বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)” কর্মসূচির। তিন পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে (chtdb.gov.bd) এবং নিজ জেলার পার্বত্য জেলা পরিষদের পোর্টালে। মাউশির উপবৃত্তির আবেদন যায় নিজের প্রতিষ্ঠানে।
না। 2023 সালের বিজ্ঞপ্তির প্রথম শর্ত অনুযায়ী আবেদনকারী হবেন সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত নাগরিক, যিনি “পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) অন্য যে কোন জেলার স্থায়ী বাসিন্দা।” কর্মসূচির নামেই বন্ধনীতে “পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত” লেখা। তিন পার্বত্য জেলার শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদের আলাদা বৃত্তি আছে।
2023 সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অনলাইনে তিনটি স্ক্যান: ইউএনওর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রত্যয়নপত্র (নির্ধারিত ফরমেটে), শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র বা প্রত্যয়নপত্র, আর নিজের নামের চেক বইয়ের প্রথম পাতা। প্রাথমিক তালিকায় নাম এলে উপজেলায় জমা দিতে হয় আবেদনের সারসংক্ষেপ, এসএসসি-এইচএসসির মার্কশিট, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ, এনআইডি বা জন্মসনদ, চেক বইয়ের পাতা ও প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন; 2024-এ যোগ হয় দুই কপি ছবি।
বয়সের সরাসরি সীমা নেই, তবে 2023 সালের বিজ্ঞপ্তির তৃতীয় শর্তে লেখা, “কেবল ২০১২ খ্রি. ও তার পরবর্তীতে এসএসসি/সমমানের পাসকৃতরাই” আবেদন করতে পারবেন। চতুর্থ শর্ত অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কর্মরত কেউ আবেদন করতে পারবেন না, আর দ্বিতীয় শর্ত অনুযায়ী আবেদনকারীকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তরের নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে।
2025-2026 অর্থবছরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী 5.00 স্কেলে 3.20 এবং 4.00 স্কেলে 2.75। এই শর্ত আগের দুটি বিজ্ঞপ্তিতে ছিল না — 2022-23 ও 2024-25-এর বিজ্ঞপ্তিতে ন্যূনতম জিপিএর উল্লেখ নেই। 2025-26-এ সেপ্টেম্বর 2024-এর আগে প্রকাশিত ফল দিয়ে আবেদন করা যায়নি, আর 2024-25-এর বৃত্তিপ্রাপ্তরা একই ফল দিয়ে আবেদন করতে পারেননি।
সাম্প্রতিক তিনটি বিজ্ঞপ্তিতে মার্চ-এপ্রিল থেকে এপ্রিল-মে: 2022-23-এ 23 মার্চ থেকে 24 এপ্রিল 2023; 2024-25-এ 05 এপ্রিল থেকে 04 মে 2025; 2025-26-এ 20 এপ্রিল থেকে 19 মে 2026, প্রতিবার রাত 12টা পর্যন্ত, শুধু অনলাইনে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় chtdb.gov.bd-এর নোটিশ পাতায়, আর পার্বত্য জেলার দৈনিকে।
2025-2026 বিজ্ঞপ্তি (26/04/2026) অনুযায়ী আবেদন 26 এপ্রিল থেকে 25 মে 2026, শুধু অনলাইনে; ন্যূনতম জিপিএ 5 স্কেলে 2.50, 4 স্কেলে 2.00; সচল বিকাশ পার্সোনাল নম্বর লাগবে, যা নিজের, বাবা-মায়ের বা ভাই-বোনের হতে পারে। কাগজ: জেলা প্রশাসক বা সার্কেল চিফের স্থায়ী বাসিন্দা সনদ, অভিভাবকের আয়ের হালসনদ, বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়ন, সর্বশেষ মার্কশিট ও সব শিক্ষাগত সনদ।
পরিষদের অনলাইন পোর্টালের নিয়মাবলী অনুযায়ী 5 স্কেলে 4.00 এবং 4 স্কেলে 3.50-এর নিচে জিপিএ বা সিজিপিএ পেলে আবেদনের প্রয়োজন নেই। নিয়মাবলীর পাতায় কোনো তারিখ লেখা নেই। 2025-2026 অর্থবছরের নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ হয় 30 আগস্ট 2026; ছয় গ্রুপে মেডিক্যাল 35, ইঞ্জিনিয়ারিং 15, বিশ্ববিদ্যালয় 100, কলেজ 100, ডিপ্লোমা 50 এবং স্নাতক/স্নাতকোত্তর 80 জন।
সিএইচটি টাইমসের 5 মে 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 4 মে 2026-এর প্রথম ধাপে এমবিবিএস ও প্রকৌশলের 104 জন পান জনপ্রতি 11,000 টাকা, একাদশ-দ্বাদশের 1,018 জন 4,000 টাকা, আর ডিগ্রি ও বিএ (পাস)-এর 334 জন 6,000 টাকা। 7 জুলাই 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী দুই ধাপে মোট 2,779 জন পান 1 কোটি 50 লাখ টাকা। আবেদনের বিজ্ঞপ্তি পরিষদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি।
2025-26 অর্থবছরে নওগাঁর পোরশা (22 জুলাই 2026) ও দিনাজপুরের কাহারোলে (25 জুলাই 2026) উপজেলা প্রশাসনের বিতরণে প্রাথমিকে 3,000, মাধ্যমিকে 5,000 ও উচ্চ মাধ্যমিক বা কলেজে 7,000 টাকা করে দেওয়া হয়, সঙ্গে বাইসাইকেল। প্রতিবেদনে কর্মসূচির নাম “বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা”। আবেদনের নিয়ম জানতে হয় নিজের ইউএনও কার্যালয়ে।
মাউশির ওয়েবসাইটের নোটিশ পাতায় (dshe.gov.bd)। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির জন্য ফরম নং-01, একাদশ থেকে স্নাতকোত্তরের জন্য ফরম নং-02। জমা দিতে হয় নিজের প্রতিষ্ঠানে; প্রতিষ্ঠান পাঠায় আঞ্চলিক কার্যালয়ে। ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো আবেদন বাতিল। 2025-26-এ শিক্ষার্থীর শেষ দিন ছিল 25 মার্চ 2026, প্রতিষ্ঠানের 31 মার্চ।
উন্নয়ন বোর্ডের 2022-23 ও 2025-26 এবং রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের 2024-25 ও 2025-26 বিজ্ঞপ্তিতে অন্য প্রতিষ্ঠানের বৃত্তি পেলে আবেদন নিষেধ — এমন কোনো শর্ত পাওয়া যায়নি। নিষেধ আছে কেবল একই প্রতিষ্ঠানের আগের বছরের বৃত্তি একই ফল দিয়ে আবার নেওয়ায়, আর একাধিকবার আবেদনে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনলাইন ফরম অবশ্য জানতে চায়, আগে কোনো সহায়তা পেয়েছেন কি না।
না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের 2023 সালের বিজ্ঞপ্তি, উন্নয়ন বোর্ডের 2022-23, 2024-25 ও 2025-26-এর বিজ্ঞপ্তি, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের দুটি বিজ্ঞপ্তি, খাগড়াছড়ির তালিকা ও বিতরণ বিজ্ঞপ্তি এবং মাউশির 2024-25-এর বিজ্ঞপ্তি — কোনোটিতেই টাকার অঙ্ক নেই। যে অঙ্কগুলো জানা যায়, সেগুলো বিতরণ অনুষ্ঠানের সংবাদ প্রতিবেদন থেকে।
পাঠকের জন্য: চাকরি ও ভর্তিতে কোটার প্রকাশিত হিসাব নিয়ে আছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কোটা কারা পাচ্ছেন: প্রকাশিত হিসাব কী দেখায় লেখাটি।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:আদিবাসী শিক্ষা, আদিবাসী শিক্ষার্থী, উচ্চশিক্ষা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, পার্বত্য জেলা পরিষদ
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।