Last updated Oct 17th, 2026
0

পাহাড়ি ও বাঙালি জনসংখ্যার অনুপাত পার্বত্য চট্টগ্রামে আট দশকে উল্টে গেছে, আর এ কথা শুমারির নিজের সংখ্যাই বলে। 1941 সালের ভারতীয় শুমারিতে জেলার 247,053 জনের মধ্যে “Tribes” ছিলেন 233,392 জন, অর্থাৎ 94.47%। 2022 সালের জনশুমারিতে তিন পার্বত্য জেলার 1,842,811 জনের মধ্যে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” 920,248 জন, অর্থাৎ 49.94%।
এই দুই প্রান্তের মাঝখানের শুমারিগুলো নিয়েই গোলমাল। কোনো বছরের মূল প্রতিবেদন অনলাইনে পাওয়া যায়, কোনো বছরের সংখ্যা কেবল গবেষক বা রাজনৈতিক দলের লেখায় টিকে আছে, আর একই বছরের জন্য দুই উৎস দুই রকম সংখ্যা দেয়। এই পাতায় প্রতিটি শুমারির মোট জনসংখ্যা, পাহাড়ি জনসংখ্যা ও বাকি জনসংখ্যা আলাদা করে দেওয়া হলো, প্রতিটি ঘরের পাশে উৎসের নাম। অনুপাত কেন বদলাল, সে প্রশ্নে কোন উৎস কী বলে, তা-ও আছে; তবে কোনো ব্যাখ্যাকে এখানে “ঠিক” বলা হয়নি।
এই পাতার সংখ্যা কোথা থেকে
1941: Census of India 1941, Bengal, Tables Part II। 1951: Census of Pakistan 1951, Vol. 3, East Bengal: Report and Tables। 1974–2011-এর জেলাওয়ারি মোট জনসংখ্যা ও 2011-এর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী: BBS-এর 2011 সালের তিনটি Zila Report। 2022: BBS-এর তিনটি District Report। 1961, 1974, 1981 ও 1991-এর পাহাড়ি-বাঙালি ভাগ: মূল শুমারি-প্রতিবেদন অনলাইনে পাওয়া যায়নি, তাই সেগুলো জুমজার্নাল আর্কাইভের লেখা ও প্রকাশিত গবেষণা থেকে, প্রত্যেকটির নামসহ। যেখানে শতাংশ বা যোগফল মূল ছকে ছাপা নেই, সেখানে “হিসাব” লেখা আছে।
শব্দ নিয়ে এক কথা। জুমজার্নাল সাধারণ লেখায় “আদিবাসী” ও “পাহাড়ি” বলে। কিন্তু শুমারিগুলো নিজেরা ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করেছে: 1941 সালে “Tribes”, 1951 সালে “Tribes” ও ধর্মের ঘরে “Tribal”, 2011 ও 2022 সালে “Ethnic Population” বা “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”। কোনো শুমারিই “বাঙালি” নামে আলাদা সারি ছাপেনি; এই পাতায় “বাকি জনসংখ্যা” মানে মোট থেকে পাহাড়ি সংখ্যা বাদ দিলে যা থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিচয়ের জন্য দেখুন আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতা।
এই পাতায়
নিচের ছকে প্রতিটি শুমারির জন্য একটি করে সারি। যে বছরের মূল শুমারি-প্রতিবেদন পড়া গেছে (1941, 1951, 2011, 2022), সেখানে সংখ্যা সেই প্রতিবেদন থেকে। বাকি বছরগুলোর পাহাড়ি-বাঙালি ভাগ এসেছে এমন লেখা থেকে, যারা শুমারির নাম করে সংখ্যা দিয়েছে। একই বছরের ভিন্ন সংখ্যাগুলো এর পরের অংশগুলোতে আর “একই বছরের একাধিক সংখ্যা” ছকে আছে।
| শুমারি | মোট জনসংখ্যা | পাহাড়ি | বাকি (বাঙালি ও অন্যান্য) | পাহাড়ি % | উৎস |
|---|---|---|---|---|---|
| 1941 | 247,053 | 233,392 | 13,661 | 94.47 (হিসাব) | Census of India 1941, Bengal, Tables Part II: Provincial Table I (মোট) ও Imperial Table XI (জনগোষ্ঠী ধরে) |
| 1951 | 287,274 | 261,538 | 25,736 | 91.04 (হিসাব) | Census of Pakistan 1951: Table 6, Religion (মোট) ও Vol. 3-এর Supplementary Table 2 “Tribes in Chittagong Hill Tracts” |
| 1961 | পাওয়া যায়নি | পাওয়া যায়নি | পাওয়া যায়নি | 88.23 | জুমজার্নাল আর্কাইভ, এডিসন চাকমা (শুমারি-প্রতিবেদনের নাম নেই) |
| 1974 | 508,199 | প্রায় 350,000 | পাওয়া যায়নি | প্রায় 70 | মোট: BBS 2011 Zila Report-এর Table PT02, তিন জেলার যোগফল। পাহাড়ি: Peter J. Bertocci, Cultural Survival Quarterly |
| 1981 | 751,692 | 441,776 | 304,873 | 59 | মোট: BBS 2011 Zila Report, Table PT02। পাহাড়ি ও বাকি: জুমজার্নাল আর্কাইভে বি এইচ সোহরোয়ারদীর ছক (যার নিজের মোট 746,649) |
| 1991 | 974,445 | 501,144 | 473,301 | 51.43 (হিসাব) | মোট: BBS 2011 Zila Report, Table PT02। পাহাড়ি ও বাকি: জুমজার্নাল আর্কাইভ, শক্তিপদ ত্রিপুরা (1991 শুমারির বরাতে) |
| 2001 | 1,331,966 | পাওয়া যায়নি | পাওয়া যায়নি | 44 | মোট: BBS 2011 Zila Report, Table PT02। শতাংশ: Kabir, Karim ও Alam, BIISS Journal (2025) |
| 2011 | 1,598,231 | 845,541 | 752,690 | 52.90 (হিসাব) | BBS, Population and Housing Census 2011, তিনটি Zila Report: অংশ 3.4 “Ethnic Population” ও Table PT02 (গণনাকৃত সংখ্যা) |
| 2022 | 1,842,811 | 920,248 | 922,563 | 49.94 (হিসাব) | BBS, Population and Housing Census 2022, তিনটি District Report: Table P17 |
1941 ও 1951 সালের সংখ্যা পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার; 1974 থেকে সংখ্যাগুলো আজকের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার যোগফল। 1941 থেকে 2022 পর্যন্ত মোট জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত গুণ হয়েছে; পাহাড়ি জনসংখ্যা হয়েছে প্রায় চার গুণ (233,392 থেকে 920,248), আর বাকি জনসংখ্যা প্রায় 67 গুণ (13,661 থেকে 922,563)। শেষের তিনটি গুণফল এই ছক থেকে হিসাব করা।
শুমারির আগের যুগের দুটি সংখ্যাও আর্কাইভে ঘোরে। বি এইচ সোহরোয়ারদীর যে ছক আমাদের আর্কাইভের “পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস” লেখায় উদ্ধৃত, তাতে 1872 সালে পাহাড়ি 61,957 (98%) ও বাঙালি 1,097 (2%), 1901 সালে পাহাড়ি 116,000 (93%) ও বাঙালি 8,762 (7%)। Imperial Gazetteer of India-র বরাতে ইংরেজি Wikipedia 1872 সালের মোট জনসংখ্যা দেয় 69,607 আর 1901 সালের 124,762, এবং একই বিবরণে 1872 সালের গণনাকে “very imperfect” বলা হয়েছে।
1941 সালের শুমারিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার মোট জনসংখ্যা 247,053 জন: পুরুষ 130,822, নারী 116,231। জনগোষ্ঠী ধরে ভাগে “Tribes” 233,392, মুসলিম 7,270, হিন্দু 4,881, খ্রিষ্টান 77 এবং “Others” 1,433 জন। পাঁচটি ঘরের যোগফল মোট সংখ্যার সঙ্গে হুবহু মেলে।
সংখ্যাগুলো Census of India 1941, Bengal, Tables Part II-এর দুটি ছক থেকে। মোট সংখ্যা Provincial Table I-এ (থানা ধরে এলাকা ও জনসংখ্যা), আর জনগোষ্ঠী ধরে ভাগ Imperial Table XI-এ (জনগোষ্ঠী ও বয়স ধরে সাক্ষরতা), যেখানে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর 0–21 বছর ও 21-এর বেশি বয়সের সংখ্যা আলাদা ছাপা। যেমন “Tribes” 131,928 (0–21) আর 101,464 (21 ও তদূর্ধ্ব)।
সবচেয়ে জরুরি তথ্যটি ছকের ভূমিকায়। Imperial Table XIII-এর টীকায় শুমারি লিখেছে, এবার ধর্মভিত্তিক শ্রেণির বদলে জনগোষ্ঠীভিত্তিক শ্রেণি নেওয়া হয়েছে, আর “the figures for tribes include all members of tribal communities, no matter what their individual religion may be”। অর্থাৎ বৌদ্ধ, হিন্দু, খ্রিষ্টান বা মুসলিম যে-ই হোন, কোনো জনগোষ্ঠীর সদস্য হলে তিনি “Tribes”-এর ঘরে; আর হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিষ্টানের ঘরে কেবল জনগোষ্ঠীর বাইরের মানুষ।
এই কথাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইংরেজি Wikipedia-র রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার পাতায় 1941 সালের একই সংখ্যা “Religion” শিরোনামের ছকে বসানো, আর টীকায় “Tribal”-কে বলা হয়েছে সব জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় রীতির সাধারণ নাম। শুমারির নিজের টীকা অনুযায়ী শ্রেণিটি ধর্মের নয়, জনগোষ্ঠীর। Wikipedia-র তিন জেলার “Tribal” সংখ্যা (রাঙামাটি এলাকা 102,275, খাগড়াছড়ি এলাকা 73,324, বান্দরবান এলাকা 57,793) যোগ করলে 233,392 হয়, যা শুমারির জেলা-মোটের সঙ্গে মেলে।
একটি সংখ্যা নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার। আমাদের আর্কাইভে এডিসন চাকমার “পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িকতার উৎসমুখ” লেখায় 1941 সালের অনুপাত পাহাড়ি 97.06% ও বাঙালি 2.94%। শুমারির ছক থেকে হিসাব করলে মুসলিমদের অংশ ঠিক 2.94% (7,270 ÷ 247,053)। অর্থাৎ লেখাটির “বাঙালি” সংখ্যাটি শুমারির মুসলিম ঘরের সঙ্গে মেলে, আর জনগোষ্ঠীর বাইরের সবাইকে ধরলে অংশটি দাঁড়ায় 5.53%।
1941 সালের ছকে কয়েকটি জনগোষ্ঠীর আলাদা সংখ্যাও আছে (Imperial Table XIV, “Variation in Population of Selected Tribes”): পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা 105,677, ম্রো (“Mru”) 12,932 ও কুকি 3,584 জন। মারমা ও ত্রিপুরার সংখ্যা এই ছকে নেই।
পাকিস্তান আমলের 1951 সালের শুমারিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যা 287,274 জন। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সদস্য 261,538 জন, অর্থাৎ 91.04%; বাকি 25,736 জন (8.96%)। প্রতিবেদন নিজেই লিখেছে, জেলার জনসংখ্যার “more than 91 percent” পাহাড়ি।
সংখ্যাগুলো Census of Pakistan 1951, Vol. 3: East Bengal, Report and Tables থেকে। পাহাড়ি জনসংখ্যা এসেছে Supplementary Table 2, “Tribes in Chittagong Hill Tracts” থেকে। ছকের টীকা বলে, গণনাকারীদের বলা হয়েছিল শুমারির স্লিপে উত্তরদাতার নামের পাশে জনগোষ্ঠীর নাম লিখতে, তারপর সেই স্লিপগুলো আলাদা করে বাছাই করা হয় (“special sort”)। অর্থাৎ 1951 সালের পাহাড়ি সংখ্যা একটি সরাসরি গণনা।
একই শুমারির ধর্মের ছক (Table 6) ভিন্ন জিনিস মাপে। সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামে মুসলিম 18,070, বর্ণহিন্দু 34,254, তফসিলি হিন্দু 6,730, বৌদ্ধ 215,000, খ্রিষ্টান 3,745, “Tribal” 9,366 ও অন্যান্য 109 জন। এখানে “Tribal” মানে নিজস্ব প্রথাগত ধর্ম, জনগোষ্ঠী নয়; তাই 9,366 সংখ্যাটিকে পাহাড়ি জনসংখ্যা ভাবলে ভুল হবে।
দুই ছক মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায় কেন ধর্ম দিয়ে পাহাড়ি-বাঙালি গোনা যায় না। Supplementary Table 2 অনুযায়ী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যেই বর্ণহিন্দু 29,672 ও তফসিলি হিন্দু 5,127 জন, আর তাঁদের বড় অংশ ত্রিপুরা: শুমারির পরিশিষ্টের ছকে “Tipra” 37,246 জনের মধ্যে 29,576 জন বর্ণহিন্দু। আবার মুসলিম পাহাড়ি মাত্র 845 জন, সবাই “Magh” সারিতে।
জনগোষ্ঠী ধরে 1951 সালের সংখ্যা (প্রতিবেদনের চতুর্থ অধ্যায়ের পরিশিষ্ট, “Notes on the people of Chittagong Hill Tracts”): চাকমা 124,762; মগ (মারমা) 65,889; টিপরা (ত্রিপুরা) 37,246; মোরাং (ম্রো) 16,121; তঞ্চঙ্গ্যা 8,313; কুকি 1,972; খুমি (“Komi”) 1,951; লুসাই 1,369; খিয়াং (“Khayan”) 1,300; রিয়াং 1,011; বম (“Bon”) 977; পাংখোয়া (“Panku”) 627। নামগুলোর ইংরেজি বানান শুমারির।
পরিশিষ্টে আরেকটি পর্যবেক্ষণ আছে: আগের দশকগুলোতে জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান অংশ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী থেকে এসেছে বলা যায় (“mainly contributed by the tribal elements”)। একই জায়গায় জেলার বৃদ্ধির হার দেওয়া আছে: 1921–31 সালে 22.9%, 1931–41 সালে 16.0%।
আর্কাইভে 1951 সালের জন্য আরও দুটি সংখ্যা আছে। এডিসন চাকমার লেখায় পাহাড়ি 93.71% ও বাঙালি 6.29%। সোহরোয়ারদীর ছকে পাহাড়ি 261,538 ও বাঙালি 26,150, মোট 287,688; এখানে পাহাড়ির সংখ্যা শুমারির সঙ্গে হুবহু মেলে, কিন্তু মোট সংখ্যা শুমারির 287,274-এর চেয়ে 414 বেশি। সোহরোয়ারদীর সংখ্যায় পাহাড়ির অংশ দাঁড়ায় 90.91%।
1961 সালের শুমারির পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা-প্রতিবেদন অনলাইনে পাওয়া যায়নি। ফলে 1961 সালের পাহাড়ি অংশ কেবল মাধ্যমিক উৎস থেকে জানা যায়, আর সেগুলো একমত নয়।
প্রথম দুটি উৎস প্রায় একই কথা বলে; তৃতীয়টি প্রায় তিন গুণ বড় বাঙালি অংশ দেয়। একই অনুচ্ছেদে Hossain 1981 সালে পাহাড়ি অংশ 49% আর বাঙালি 41% লিখেছেন, যার যোগফল 100 হয় না। 1961 সালের মোট জনসংখ্যা কোনো পঠিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
পটভূমির একটি তথ্য এখানে প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি গণনার বাইরের মানুষের কথা বলে: এডিসন চাকমার লেখা অনুযায়ী কাপ্তাই বাঁধে 99,977 জন জমি ও ঘর হারান, আর 1964 সালে প্রায় 50,000 জন ভারতে ও 30,000 জন বার্মায় চলে যান। কাপ্তাইয়ের উদ্বাস্তুরা কোথায় গেলেন, তার বিস্তারিত আছে ভারতের চাকমাদের নিয়ে আমাদের লেখায়।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শুমারিতে (1974) আজকের তিন পার্বত্য জেলার মোট জনসংখ্যা 508,199 জন: রাঙামাটি 202,798, খাগড়াছড়ি 188,975, বান্দরবান 116,426। সংখ্যাগুলো BBS-এর 2011 সালের তিনটি Zila Report-এর Table PT02 থেকে; যোগফল হিসাব করা। পাহাড়ি-বাঙালি ভাগের কোনো শুমারি-ছক পাওয়া যায়নি, আর তিনটি উৎস তিন রকম অংশ দেয়।
Banglapedia-র 1974 সালের 11.6% আর এডিসন চাকমার 1961 সালের 11.77% প্রায় সমান, অথচ বছর দুটির ব্যবধান তেরো বছর। অন্যদিকে Arens ও চাকমার 26% Bertocci-র হিসাবের (প্রায় 30% অ-পাহাড়ি) কাছাকাছি। এই অমিলের কারণ কোনো উৎস ব্যাখ্যা করেনি।
1974 থেকে 1981 সালের মধ্যে তিন জেলার মোট জনসংখ্যা 47.91% বেড়েছে (হিসাব)। BBS-এর জেলাওয়ারি আন্তঃশুমারি বৃদ্ধি: রাঙামাটি 48.79%, খাগড়াছড়ি 47.35%, বান্দরবান 47.28%। প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা তাঁর প্রবন্ধে একই সময়ের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে 47% ও সারা দেশে প্রায় 18% বৃদ্ধির কথা লিখেছেন; তাঁর 47% সংখ্যাটি BBS-এর ছকের সঙ্গে মেলে।
1981 সালের শুমারিতে তিন পার্বত্য এলাকার মোট জনসংখ্যা 751,692 (BBS 2011 Zila Report-এর Table PT02-এর যোগফল)। পাহাড়ি জনসংখ্যা 441,776 জন; সংখ্যাটি আমাদের আর্কাইভের দুটি লেখার ছকে আছে, যদিও কোনোটিতেই 1981 সালের শুমারি-প্রতিবেদনের নাম বা পৃষ্ঠা দেওয়া নেই। অনুপাত দাঁড়ায় পাহাড়ি প্রায় 59%, বাঙালি প্রায় 41%।
দুটি লেখা হলো: শক্তিপদ ত্রিপুরার “পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি বিরোধ ও ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি” এবং “পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস” (যেখানে ছকটির উৎস বি এইচ সোহরোয়ারদীর “পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনীতির রূপরেখা: একটি পর্যালোচনা”, ভিশন-1995, রাঙামাটি)। দুটিতেই বাঙালি 304,873 জন।
মোট সংখ্যা নিয়ে তিনটি সংস্করণ আছে। সোহরোয়ারদীর ছকে মোট 746,649 (পাহাড়ি ও বাঙালির যোগফল), শক্তিপদ ত্রিপুরার ছকে 748,630, আর BBS-এর জেলাওয়ারি সংখ্যার যোগফল 751,692। পাহাড়ির অংশ তাই 59.17% (সোহরোয়ারদীর মোট ধরে) বা 58.77% (BBS-এর মোট ধরে)। শক্তিপদ ত্রিপুরার প্রথম ছকে জনগোষ্ঠী ধরে সংখ্যা যোগ করে পাহাড়ি মোট লেখা 441,796, দ্বিতীয় ছকে 441,776।
অনুপাতটি আরও কয়েকটি উৎসে আছে। প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা লিখেছেন 59:41। Arens ও কীর্তি নিশান চাকমা বলেছেন বাঙালি 1981 সালে 41%-এ পৌঁছায়। BIISS Journal-এ Kabir, Karim ও Alam (2025) লিখেছেন 1951 থেকে 1981 সালের মধ্যে বাঙালি অংশ 9% থেকে 41% হয়েছে। 1981 সালের শুমারির নিজস্ব প্রতিবেদন অনলাইনে পাওয়া যায়নি।
1991 সালের শুমারিতে তিন পার্বত্য জেলার মোট জনসংখ্যা 974,445 (BBS Table PT02-এর যোগফল)। পাহাড়ি 501,144 ও অ-পাহাড়ি 473,301 জন, যার যোগফলও ঠিক 974,445। অনুপাত দাঁড়ায় পাহাড়ি 51.43%, বাকি 48.57%; প্রথমবারের মতো দুই ভাগ প্রায় সমান।
পাহাড়ি ও অ-পাহাড়ির সংখ্যা শক্তিপদ ত্রিপুরার লেখা থেকে, যেখানে 1991 সালের শুমারির বরাতে বলা হয়েছে মোট 976,436, “পাহাড়ী আদিবাসী” 501,144 ও “অ-আদিবাসী” 473,301। লক্ষ করার বিষয়, লেখাটির মোট সংখ্যা তার নিজের দুই ভাগের যোগফলের (974,445) চেয়ে 1,991 বেশি। সোহরোয়ারদীর ছকে পাহাড়ি 501,114 (শেষের দিকের একটি অঙ্ক আলাদা), বাঙালি 473,301, মোট 974,445।
অন্য উৎসগুলোর সঙ্গে শতাংশ মেলে। আমেনা মহসিন Banglapedia-য় লিখেছেন, 1991 সালে বাঙালি প্রায় 48.5%। BIISS Journal-এর লেখকেরা পাহাড়ি অংশ “around half (51.4%)” বলেছেন। Banglapedia-র “Population” ভুক্তি অনুযায়ী 1991 সালে দেশের মোট “tribal” জনসংখ্যা প্রায় 1.2 মিলিয়ন, যার 18.52% রাঙামাটিতে, 13.9% খাগড়াছড়িতে ও 9.15% বান্দরবানে। তিনটি শতাংশের যোগফল 41.57%, যা 1.2 মিলিয়নের প্রায় পাঁচ লাখ, অর্থাৎ 501,144-এর কাছাকাছি (হিসাব)।
মোট জনসংখ্যা নিয়ে একটি বড় অমিল আছে। Banglapedia-র “Chittagong Hill Tracts” ভুক্তি বলে, 1991 সালে গণনাকৃত মোট জনসংখ্যা 1.042 মিলিয়ন (পুরুষ 562,597, নারী 479,776)। আর্কাইভে জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার লেখায়ও 1991 সালের মোট 1,042,373। BBS-এর জেলাওয়ারি ছকের যোগফল 974,445। পার্থক্য 67,928 জন। দুটির কোনটি গণনাকৃত আর কোনটি সমন্বয়কৃত সংখ্যা, তা কোনো উৎসে বলা নেই।
2001 সালের শুমারিতে তিন পার্বত্য জেলার গণনাকৃত মোট জনসংখ্যা 1,331,966 জন (রাঙামাটি 508,182, খাগড়াছড়ি 525,664, বান্দরবান 298,120), আর সমন্বয়কৃত মোট 1,392,362 (BBS 2011 Zila Report-এর সূচক-সারণি)। পাহাড়ি কতজন ছিলেন, তা নিয়ে উৎসগুলো এমনকি এটা নিয়েও একমত নয় যে গণনাটি আদৌ হয়েছিল কি না।
আমাদের আর্কাইভের দুটি লেখা বলে হয়নি। শক্তিপদ ত্রিপুরা লিখেছেন, “2001 সালের আদমশুমারীতে জাতিভিত্তিক জনসংখ্যার হিসাব নেই”। সঞ্জীব চাকমার “চাকমা জাতি” লেখায় আছে, 1991 সালের পর শুমারি প্রতিবেদনে জাতিভিত্তিক কোনো গণনা নেই।
অন্যদিকে Banglapedia-র “Population” ভুক্তি (লেখক হিসেবে বন্ধনীতে M Ataharul Islam ও Shamal Chandra Karmaker) বলে, 2001 সালে দেশের “tribal” জনসংখ্যা 1.4 মিলিয়ন, যার 18.27% রাঙামাটি, 13.66% খাগড়াছড়ি ও 10.12% বান্দরবানে। এই শতাংশ ধরে হিসাব করলে তিন জেলায় প্রায় 5.9 লাখ, যা গণনাকৃত মোটের প্রায় 44%। BIISS Journal-এর লেখকেরাও লিখেছেন, 2001 সালে “Ethnic Minority” ছিল 44%, এবং এর সূত্র দিয়েছেন BBS-এর 2022 সালের জাতীয় প্রতিবেদন।
জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা 2001 সালের মোট হিসেবে লিখেছেন 1,392,364, সূত্র “Population Census 2001, National Series, Vol. I”। সংখ্যাটি BBS-এর সমন্বয়কৃত মোট 1,392,362-এর প্রায় হুবহু; তাঁর দেওয়া খাগড়াছড়ি (549,134) ও বান্দরবানের (311,741) সংখ্যা BBS-এর সমন্বয়কৃত সংখ্যার চেয়ে একজন করে বেশি। একই লেখায় তিনি 1991 থেকে 2001 সালে বৃদ্ধি 349,991 জন বা 33.57% লিখেছেন; কিন্তু সেখানে 1991-এর সংখ্যা ধরা 1,042,373, আর 2001-এর সমন্বয়কৃত সংখ্যা। একই ধরনের দুটি সংখ্যা (গণনাকৃত বনাম গণনাকৃত) নিলে বৃদ্ধি দাঁড়ায় 36.69%।
2011 সালের শুমারিতে তিন পার্বত্য জেলায় গণনাকৃত মোট জনসংখ্যা 1,598,231; এর মধ্যে “ethnic population” 845,541 জন, অর্থাৎ 52.90%। জেলা ধরে: রাঙামাটি 356,153 (59.76%), খাগড়াছড়ি 316,987 (51.63%), বান্দরবান 172,401 (44.39%)। তিনটি শতাংশই BBS-এর নিজের ছাপা; তিন জেলার যোগফল ও মোট শতাংশ হিসাব করা।
সংখ্যাগুলো রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের 2011 সালের Zila Report-এর অংশ 3.4 “Ethnic Population” থেকে। প্রতিবেদনগুলো জনগোষ্ঠী ধরে ভাগ দেয় না, কেবল মোট।
2011 সালে প্রথমবার দুই রকম মোট জনসংখ্যা ছাপা হয়। “Enumerated” বা গণনাকৃত সংখ্যা, আর “Adjusted” বা সমন্বয়কৃত সংখ্যা, যেখানে শুমারি-পরবর্তী যাচাইয়ে (Post Enumeration Check) গণনায় বাদ পড়া মানুষের হার যোগ করা হয়েছে। সমন্বয়কৃত মোট: রাঙামাটি 620,214, খাগড়াছড়ি 638,967, বান্দরবান 404,090; তিন জেলায় 1,663,271। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য আলাদা সমন্বয়কৃত সংখ্যা Zila Report-এ নেই।
আর্কাইভে এডিসন চাকমার লেখায় 2011 সালের জন্য আছে মোট 1,663,214, পাহাড়ি 856,541, বাঙালি 806,673; রাঙামাটির জন্য মোট 620,214, পাহাড়ি 365,153, বাঙালি 255,061। তাঁর মোট সংখ্যাগুলো BBS-এর সমন্বয়কৃত সংখ্যার কাছাকাছি (রাঙামাটিরটি হুবহু), কিন্তু তাঁর পাহাড়ি সংখ্যা BBS-এর গণনাকৃত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সংখ্যার চেয়ে 11,000 বেশি (856,541 বনাম 845,541)। দুই ধরনের সংখ্যা মিশিয়ে ভাগ করায় তাঁর হিসাবে পাহাড়ি অংশ দাঁড়ায় 51.50%, আর BBS-এর গণনাকৃত সংখ্যায় 52.90%। BIISS Journal-এর লেখকেরা 2011 সালের জন্য 53% লিখেছেন।
2001 থেকে 2011 সালে পাহাড়ি অংশ বেড়েছে বলে দেখায় (প্রায় 44% থেকে 52.90%), কিন্তু 2001 সালের সংখ্যাটি নিজেই অনিশ্চিত, তাই এই দুই বছরের তুলনা সাবধানে পড়া দরকার।
2022 সালের জনশুমারিতে তিন পার্বত্য জেলার মোট জনসংখ্যা 1,842,811 জন, যার মধ্যে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” 920,248 জন (49.94%) আর বাকি 922,563 জন (50.06%)। রাঙামাটিতে পাহাড়ি সংখ্যাগরিষ্ঠ (57.58%), খাগড়াছড়িতে প্রায় অর্ধেক (48.93%), বান্দরবানে সংখ্যালঘু (41.15%)।
| জেলা | মোট | ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী (Table P17) | % | বাকি | % |
|---|---|---|---|---|---|
| রাঙামাটি | 647,586 | 372,875 | 57.58 | 274,711 | 42.42 |
| খাগড়াছড়ি | 714,119 | 349,390 | 48.93 | 364,729 | 51.07 |
| বান্দরবান | 481,106 | 197,983 | 41.15 | 283,123 | 58.85 |
| তিন জেলা | 1,842,811 | 920,248 | 49.94 | 922,563 | 50.06 |
2022 সালের “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” সারিতে কেবল পার্বত্য চট্টগ্রামের এগারোটি জনগোষ্ঠী নেই। খাগড়াছড়ির ছকে যেমন সাঁওতাল (“Saontal”) 541, রাখাইন 475 ও গারো 97 জন গোনা হয়েছে। ফলে “পাহাড়ি” আর “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” হুবহু এক জিনিস নয়, যদিও পার্থক্যটি সামান্য। একইভাবে “বাকি” কলামটি পুরোটা বাঙালি কি না, শুমারি তা বলে না।
মোট সংখ্যা নিয়ে ছোট একটি অমিল আছে: তিন District Report-এর যোগফল 1,842,811, আর Parbattanews-এর 2022 সালের বিশ্লেষণের বরাতে ইংরেজি Wikipedia লিখেছে 1,842,815। পার্থক্য 4 জন। জনগোষ্ঠী ধরে ও উপজেলা ধরে 2022 সালের পূর্ণ সংখ্যা এই পাতার বিষয় নয়; জনগোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব পরিচয়ের জন্য দেখুন পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী।
BBS-এর নিজের প্রকাশনায় আজকের তিন জেলার মোট জনসংখ্যার ধারা 1974 থেকে পাওয়া যায়। 1974 থেকে 2011 পর্যন্ত সংখ্যা 2011 সালের Zila Report-এর Table PT02 থেকে, 2022-এর সংখ্যা District Report থেকে। সবগুলো গণনাকৃত সংখ্যা।
| শুমারি | রাঙামাটি | খাগড়াছড়ি | বান্দরবান | তিন জেলা (হিসাব) | আগের শুমারি থেকে বৃদ্ধি (হিসাব) |
|---|---|---|---|---|---|
| 1974 | 202,798 | 188,975 | 116,426 | 508,199 | 1951 থেকে 76.90% |
| 1981 | 301,753 | 278,461 | 171,478 | 751,692 | 47.91% |
| 1991 | 401,388 | 342,488 | 230,569 | 974,445 | 29.63% |
| 2001 | 508,182 | 525,664 | 298,120 | 1,331,966 | 36.69% |
| 2011 | 595,979 | 613,917 | 388,335 | 1,598,231 | 19.99% |
| 2022 | 647,586 | 714,119 | 481,106 | 1,842,811 | 15.30% |
সবচেয়ে বড় দুটি লাফ 1974–81 ও 1991–2001 দশকে। জেলা ধরে দ্বিতীয়টি অসমান: BBS-এর হিসাবে 1991–2001 সালে খাগড়াছড়ির জনসংখ্যা বেড়েছে 53.48%, রাঙামাটির 26.61%, বান্দরবানের 29.30%। 1981 থেকে 1991 সালে খাগড়াছড়ির বৃদ্ধি ছিল মাত্র 22.99%। খাগড়াছড়ির এই দুই দশকের পার্থক্যের কারণ BBS-এর প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা নেই।
খাগড়াছড়ির ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক একটি দীর্ঘ ধারা BBS-এর 2011 সালের Zila Report-এর Table PT14-এ আছে: মুসলিম 1981 সালে 32.19%, 1991 সালে 47.45%, 2001 সালে 43.52%, 2011 সালে 44.67%; বৌদ্ধ যথাক্রমে 49.98%, 35.51%, 39.28% ও 37.68%। 1981 থেকে 1991 সালে জেলার মুসলিম জনসংখ্যা 89,630 থেকে 162,504 হয়েছে, আর বৌদ্ধ 139,166 থেকে কমে 121,631। ধর্ম জাতিগত পরিচয়ের বিকল্প নয়, যেমন 1951 সালের ছকে ত্রিপুরাদের বড় অংশ হিন্দু হিসেবে গোনা হয়েছিল।
আশি বছরে প্রতিটি শুমারি পাহাড়ি জনসংখ্যা গুনেছে ভিন্ন প্রশ্ন, ভিন্ন শব্দ ও ভিন্ন ছকে। ফলে এক শুমারির “Tribes” আর আরেক শুমারির “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” হুবহু এক জিনিস কি না, তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয়। যে শুমারিগুলোর মূল প্রতিবেদন পড়া গেছে, তাদের শ্রেণির পার্থক্য নিচের ছকে।
| শুমারি | পাহাড়ি জনসংখ্যার শ্রেণি | কীভাবে গোনা | বাঙালি কি আলাদা শ্রেণি |
|---|---|---|---|
| 1941 | “Tribes” (জনগোষ্ঠী) | ধর্ম নির্বিশেষে জনগোষ্ঠীর সব সদস্য; হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টানের ঘরে কেবল জনগোষ্ঠীর বাইরের মানুষ | না; হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, Others |
| 1951 | “Tribes” (সম্পূরক ছক); ধর্মের ছকে আলাদা “Tribal” ধর্ম | স্লিপে জনগোষ্ঠীর নাম লিখে আলাদা বাছাই; মূল ছক ধর্মভিত্তিক | না |
| 1961–2001 | মূল প্রতিবেদন অনলাইনে পাওয়া যায়নি | 1981 ও 1991 সালের জনগোষ্ঠীভিত্তিক সংখ্যা মাধ্যমিক উৎসে উদ্ধৃত; 2001 নিয়ে উৎসে বিরোধ | জানা যায়নি |
| 2011 | “Ethnic Population” | প্রশ্নপত্রে জাতিসত্তার প্রশ্ন (“ethnicity”); Zila Report-এ কেবল মোট | না |
| 2022 | “Ethnic Population” / ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী | জনগোষ্ঠী ধরে (Table P17), উপজেলা পর্যন্ত | না |
দুটি ব্যাপার সব শুমারিতে একই। প্রথমত, কোনো শুমারি “বাঙালি” নামে সারি ছাপেনি; বাঙালির সংখ্যা সবসময় মোট থেকে পাহাড়ি বাদ দিয়ে পাওয়া। দ্বিতীয়ত, ধর্মের ছক দিয়ে পাহাড়ি-বাঙালি ভাগ করা যায় না। 1951 সালেই পাহাড়িদের মধ্যে প্রায় 35,000 হিন্দু ও 845 জন মুসলিম ছিলেন।
2011 সালের Zila Report-এর ভূমিকায় শুমারির প্রশ্নের তালিকায় “ethnicity” আছে। 1941 সালে শ্রেণিবদলের সিদ্ধান্তটি শুমারি নিজে লিখেছে (Imperial Table XIII-এর টীকা)। 1951 সালের “special sort”-এর কথা Supplementary Table 2-এর টীকায়। মাঝের পাঁচটি শুমারিতে কোন প্রশ্ন করা হয়েছিল, তার মূল নথি পড়া যায়নি।
পাঁচটি বড় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আলাদা করে দেখলে বোঝা যায় “পাহাড়ি” মোট সংখ্যাটি কাদের নিয়ে। নিচের ছকের সংখ্যা পার্বত্য চট্টগ্রামের ভেতরের; 1981 ও 1991-এর সংখ্যা শক্তিপদ ত্রিপুরার “জুম্ম জাতিভিত্তিক জনসংখ্যা (1871-1991)” ছক থেকে, যেখানে প্রতিটি সংখ্যার শুমারি-সূত্র আলাদা করে লেখা নেই।
| জনগোষ্ঠী | 1941 | 1951 | 1981 | 1991 | 2022 (তিন জেলা) |
|---|---|---|---|---|---|
| চাকমা | 105,677 | 124,762 | 230,273 | 239,417 | 454,925 |
| মারমা | ছকে নেই | 65,889 | 122,734 | 142,334 | 209,783 |
| ত্রিপুরা | ছকে নেই | 37,246 | 54,375 | 61,129 | 133,372 |
| ম্রো | 12,932 | 16,121 | 17,811 | 22,161 | 51,724 |
| তঞ্চঙ্গ্যা | ছকে নেই | 8,313 | ছকে ফাঁকা | 19,211 | 42,943 |
উৎস: 1941, Census of India 1941, Imperial Table XIV; 1951, Census of Pakistan 1951, Vol. 3-এর পরিশিষ্ট ও Supplementary Table 2; 1981 ও 1991, শক্তিপদ ত্রিপুরার লেখা; 2022, BBS-এর তিন District Report-এর Table P17 যোগ করে (ম্রো সংখ্যাটি তিন জেলার যোগফল)। 1981 সালের তঞ্চঙ্গ্যার ঘরটি শক্তিপদ ত্রিপুরার ছকে ফাঁকা; তখন তঞ্চঙ্গ্যাদের আলাদা গোনা হয়েছিল কি না, তা ছক থেকে বোঝা যায় না।
একই জনগোষ্ঠীর সংখ্যাতেও উৎসভেদ আছে। শক্তিপদ ত্রিপুরার ছকে 1951 সালের চাকমা 133,075, শুমারির পরিশিষ্টে 124,762। 1991 সালের চাকমা: শক্তিপদ ত্রিপুরা ও সঞ্জীব চাকমা 239,417; আর্কাইভের “চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা আদিবাসীর জাতিত্ত্ব বিচার ও অভিবাসন” লেখায় 252,858; Banglapedia-র “Population” ভুক্তিতে সারা দেশে 252,258। শেষ সংখ্যাটি সারা দেশের, পার্বত্য চট্টগ্রামের নয়।
এক নজরে সব অমিল: কোন বছরের কোন সংখ্যা কোন উৎস দেয়। কোন উৎস ঠিক, তা এখানে বিচার করা হয়নি; দুটি সংখ্যা পাশাপাশি থাকা মানেই সংখ্যাটি উদ্ধৃত করার আগে মূল সূত্র মিলিয়ে নেওয়া দরকার।
| বছর | কী | উৎস ও সংখ্যা |
|---|---|---|
| 1872 | মোট | Imperial Gazetteer (Wikipedia-র বরাতে) 69,607; সোহরোয়ারদী 63,054; শক্তিপদ ত্রিপুরা 64,926 |
| 1941 | বাঙালি / অ-পাহাড়ি % | শুমারি থেকে হিসাব 5.53% (জনগোষ্ঠীর বাইরের সবাই); এডিসন চাকমা 2.94% (শুমারির মুসলিম অংশের সমান) |
| 1947 | পাহাড়ি % | শরদিন্দু শেখর চাকমা 97.5% (মুসলিম 1.5%, মোট প্রায় 275,000); Hossain/Barua 98%। কোন শুমারির ভিত্তিতে, দুই উৎসের কেউ বলেনি |
| 1951 | পাহাড়ি % | শুমারি থেকে হিসাব 91.04%; সোহরোয়ারদী 90.91%; এডিসন চাকমা 93.71% |
| 1951 | মোট | শুমারি 287,274; সোহরোয়ারদী 287,688; শক্তিপদ ত্রিপুরার ছকে (কলামে “1959” লেখা) মোট 161,184 ও আদিবাসী 133,075 |
| 1961 | বাঙালি % | এডিসন চাকমা 11.77%; প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা 12%; Hossain/Barua 31% |
| 1974 | বাঙালি / অ-পাহাড়ি % | আমেনা মহসিন (Banglapedia) প্রায় 11.6%; Arens ও কীর্তি নিশান চাকমা 26%; Bertocci প্রায় 30% (পাহাড়ি প্রায় 70%) |
| 1981 | মোট | BBS 751,692; শক্তিপদ ত্রিপুরা 748,630; সোহরোয়ারদী 746,649 |
| 1991 | মোট | BBS ও সোহরোয়ারদী 974,445; শক্তিপদ ত্রিপুরা 976,436; Banglapedia ও জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা 1,042,373 |
| 1991 | পাহাড়ি | শক্তিপদ ত্রিপুরা 501,144; সোহরোয়ারদী 501,114 |
| 2001 | পাহাড়ি গণনা | শক্তিপদ ত্রিপুরা ও সঞ্জীব চাকমা: জাতিভিত্তিক হিসাব নেই; Banglapedia: দেশে 1.4 মিলিয়ন, জেলাওয়ারি শতাংশসহ; BIISS: 44% |
| 2011 | পাহাড়ি | BBS (গণনাকৃত) 845,541; এডিসন চাকমা 856,541 |
| 2011 | মোট | BBS গণনাকৃত 1,598,231; BBS সমন্বয়কৃত 1,663,271; এডিসন চাকমা 1,663,214 |
| 2022 | মোট | তিন District Report-এর যোগফল 1,842,811; Wikipedia (Parbattanews-এর বরাতে) 1,842,815 |
সবচেয়ে বড় অমিলগুলো 1961 ও 1974 সালে, যে দুই বছরের মূল শুমারি-ছক অনলাইনে পাওয়া যায়নি। যেসব বছরের মূল ছক আছে (1941, 1951, 2011, 2022), সেখানে মাধ্যমিক উৎসের অমিল প্রায় সবসময় এক-দুই শতাংশের মধ্যে, আর অনেক ক্ষেত্রে তার কারণ চিহ্নিত করা যায়: মুসলিম অংশকে বাঙালি অংশ ধরা, অথবা গণনাকৃত ও সমন্বয়কৃত সংখ্যা মেশানো।
1979 থেকে 1985 সালের মধ্যে সমতল থেকে আনা বাঙালি বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা হিসেবে “প্রায় 400,000” সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত। এটি গবেষক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের প্রকাশনার সংখ্যা, সরকারের নয়। কর্মসূচির কোনো সরকারি পরিসংখ্যান কোনো পঠিত উৎসে পাওয়া যায়নি; আমাদের আর্কাইভে জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা লিখেছেন, “বাঙালী বসতি স্থাপনকারীদের সংখ্যার বিষয়ের কোন সরকারি তথ্য পাওয়া যায়না”।
| কে বলছে | সময়কাল | সংখ্যা |
|---|---|---|
| Shapan Adnan ও Ranajit Dastidar, পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের ফরমায়েশে করা গবেষণা (2011) | 1979–85 | “approximately 400,000”; এর 30–50% কয়েক বছরের মধ্যে ফিরে যান বলে উল্লেখ |
| Shapan Adnan (2004), জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার লেখায় উদ্ধৃত | 1979–80 থেকে 1984–85 | 340,000–350,000 জন; তিন দফায় 30,000 + 25,000 + 25,000 = 80,000 পরিবার “বলে ধারণা করা হয়” |
| শরদিন্দু শেখর চাকমা, Ethnic Cleansing in Chittagong Hill Tracts (2006) | তিন দফা | প্রায় 80,000 পরিবার, “about 400,000” মানুষ (দফাভেদে 25,000, 25,000 ও 30,000 পরিবার) |
| Jenneke Arens ও কীর্তি নিশান চাকমা (আর্কাইভে অনূদিত) | 1979–85 | 400,000 ভূমিহীন বাঙালি |
| Kabir, Karim ও Alam, BIISS Journal (2025), Chakma ও Uddin-এর বরাতে | 1979 থেকে | 350,000–450,000; প্রায় 15% ফিরে যান |
| প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা, “কিছু প্রতিবেদন”-এর বরাতে | 1960–1987 | প্রায় 580,000 |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, ওয়েবসাইট (সূত্র উল্লেখ নেই) | 1978–84 | “More than 400,000”; প্রথম দফা 30,740 পরিবার (প্রায় 140,000), দ্বিতীয় দফা 23,519 পরিবার (প্রায় 100,000), তৃতীয় দফা প্রায় 50,000 জন |
সংখ্যাগুলোর পার্থক্য আংশিকভাবে সময়কালের পার্থক্য: কেউ 1979–85 ধরেছেন, কেউ 1960–87। Adnan ও Dastidar আরও লিখেছেন, Adnan-এর আগের (2004) হিসাবে ফিরে যাওয়া বাঙালির অংশ 15% ধরা হয়েছিল, যা 40–50%-এ সংশোধন করা দরকার; আর ফিরে যাওয়াদের জায়গায় এসেছেন ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মতো পার্শ্ববর্তী জেলার বাঙালিরা, নিজস্ব উদ্যোগে।
শুমারির সংখ্যার সঙ্গে এই সংখ্যাগুলো সরাসরি মেলানো যায় না। 1981 সালের অ-পাহাড়ি জনসংখ্যা (304,873 বা 309,916, মোট কোনটি ধরা হয় তার ওপর নির্ভর করে) আর 1991 সালের 473,301 শুমারির দিনের হিসাব; কর্মসূচিতে আসা, ফিরে যাওয়া ও পরে আসা মানুষের আলাদা হিসাব শুমারিতে নেই। কর্মসূচির জমি-বরাদ্দ ও আইনি দিকের বিস্তারিত আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি নিয়ে আমাদের লেখায়।
অনুপাত যে বদলেছে, তা নিয়ে কোনো উৎসে বিরোধ নেই; বিরোধ কারণ নিয়ে। নিচে প্রতিটি ব্যাখ্যা তার উৎসের নামে, উৎস যতটুকু বলেছে ততটুকু। এখানে কোনো ব্যাখ্যাকে ঠিক বা ভুল বলা হয়নি।
আমেনা মহসিন (Banglapedia): সরকার 1979 সালে বাঙালি বসতি স্থাপনের কর্মসূচি শুরু করে; 1974 সালকে তিনি “pre-settlement period” বলেছেন, যখন বাঙালি প্রায় 11.6%, আর 1991 সালে প্রায় 48.5%।
Adnan ও Dastidar (2011): 1970-এর দশকের শেষ থেকে রাষ্ট্রের “demographic engineering”-এর দুটি দিক ছিল, পাহাড়িদের জমি থেকে উচ্ছেদ এবং 1979–85 সালে প্রায় 400,000 বসতি স্থাপনকারী আনা। তাঁদের মতে 1997 সালের চুক্তির পরেও সমতল থেকে বাঙালির আগমন ও আগে আসাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে বাঙালি জনসংখ্যা বেড়েছে, এবং কোনো সরকার এই আগমন সীমিত করার উদ্যোগ নেয়নি।
প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা: 1974–81 সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে 47% বৃদ্ধি “সরকারের অর্থায়নে সমতল থেকে বাঙালি সেটলারদের পরিকল্পিত অভিবাসনের কারণে”।
Arens ও কীর্তি নিশান চাকমা: 1979 থেকে 1985 সালের মধ্যে সরকারের একটি গোপন স্থানান্তর কার্যক্রমে সমতলের 400,000 ভূমিহীন বাঙালিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়, যা তাঁদের ভাষায় জনসংখ্যার গঠন নাটকীয়ভাবে বদলে দেয়।
শরদিন্দু শেখর চাকমা: গত পাঁচ দশকে পাহাড়ি জনসংখ্যা দ্বিগুণও হয়নি, অথচ বাঙালি জনসংখ্যা অন্তত 100 গুণ বেড়েছে; তিনি একে সরকারের পরিকল্পিত নীতির ফল বলেছেন (তাঁর ভাষায় “systematic policy of ethnic cleansing”)। শুমারির ছক থেকে হিসাব করলে 1941 থেকে 2022 সালে অ-পাহাড়ি জনসংখ্যা প্রায় 67 গুণ, পাহাড়ি প্রায় চার গুণ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি: দলের ওয়েবসাইটে বসতি স্থাপনকে “Govt-Sponsored Migration & Islamization” শিরোনামে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক দলের বক্তব্য, আর পাতায় কোনো সূত্র নেই।
Rafiqul Islam, Susanne Schech ও Udoy Saikia (Climate and Development, 2021): তাঁরা লিখেছেন, প্রচলিত মত হলো দারিদ্র্য ও দুর্যোগ ঠেলে দিলেও জনসংখ্যার এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ সরকারি বসতি স্থাপন কর্মসূচি। তাঁদের জরিপ ও সাক্ষাৎকারে বেশিরভাগ উত্তরদাতা বলেছেন বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙন তাঁদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে; আর সরকারের সুরক্ষা ও জমি প্রদান এবং পাহাড়ে আগে থেকে থাকা পরিচিতজনের যোগাযোগ তাঁদের স্থায়ী হতে সাহায্য করেছে।
Kabir, Karim ও Alam (BIISS Journal, 2025): এই লেখা বসতি স্থাপনের দফাগুলোর সংখ্যা অন্য গবেষকদের বরাতে দিয়েছে এবং জনমিতিক পরিবর্তনকে পরিবেশের ক্ষতি ও মানব নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর 1872–1991 সালের শতাংশগুলোর সূত্র জনসংহতি সমিতির 2003 সালের একটি প্রকাশনা।
1951 সালের শুমারি-প্রতিবেদনের পরিশিষ্ট বলে, আগের দশকগুলোতে জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান অংশ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী থেকে। Bertocci লিখেছেন, গত এক শতাব্দীতে পার্বত্য চট্টগ্রামে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে “due to immigration from the lowlands of Bengal”। ব্রিটিশ আমলে বাঙালির বসতি নিয়ে আমাদের আর্কাইভে জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ আছে, “পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের বসতি স্থাপন”, যা ঔপনিবেশিক নথি ধরে প্রশ্নটি দেখেছে।
পাহাড়ি জনসংখ্যা শুমারিতে পুরোটা ধরা পড়ে কি না, সে প্রশ্ন পাহাড়ি লেখকেরা একাধিকবার তুলেছেন। সবচেয়ে নির্দিষ্ট উদাহরণ খিয়াং: 1981 সালে 5,453, 1991 সালে 1,950। আমাদের আর্কাইভের “খিয়াং” লেখা এ থেকে সিদ্ধান্ত টেনেছে, “আদমশুমারিতে খিয়াং জনগোষ্ঠীর লোকসংখ্যা যথাযথভাবে গণনা করা হয় না”।
আরও কয়েকটি আপত্তি নথিভুক্ত। সঞ্জীব চাকমা লিখেছেন, 1991 সালের শুমারির সময় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে প্রায় 60,000 চাকমা শরণার্থী ছিলেন, যাঁরা গণনায় অন্তর্ভুক্ত হননি। শরদিন্দু শেখর চাকমা লিখেছেন, “Banjugi” নামে একটি ছোট জনগোষ্ঠী 1991 সালের শুমারির তালিকা থেকে হারিয়ে গেছে। জনসংহতি সমিতি তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে, শুমারির প্রতিবেদন সম্প্রদায়ভিত্তিক তথ্য দেখায় না (“not reflected with community-wise data”)।
শুমারির নিজের দিক থেকে 2011 ও 2022 সালে গণনায় বাদ পড়ার হার মাপা হয়েছে (Post Enumeration Check), কিন্তু সেই হার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য আলাদা করে Zila Report-এ ছাপা নেই। ফলে পাহাড়ি জনসংখ্যা বেশি বাদ পড়ে কি না, শুমারির প্রকাশিত ছক থেকে তা যাচাই করা যায় না। ছোট জনগোষ্ঠীগুলোর সংখ্যা নিয়ে বিস্তারিত আছে খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখোয়া ও লুসাই নিয়ে আমাদের লেখায়।
জনসংখ্যার ভাগ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের সঙ্গেও জড়িত। আমেনা মহসিন Banglapedia-য় লিখেছেন, 1989 সালের আইনে গঠিত পার্বত্য জেলা পরিষদের 30 সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ আদিবাসী ও এক-তৃতীয়াংশ বাঙালি। সেই ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে, তা আছে পার্বত্য জেলা পরিষদের আসন ভাগ নিয়ে আমাদের লেখায়, আর চুক্তির সংশ্লিষ্ট ধারার ব্যাখ্যা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997 নিয়ে লেখায়।
জনশুমারি 2022 অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলার 1,842,811 জনের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী 920,248 জন (49.94%) এবং বাকি 922,563 জন (50.06%)। জেলাভেদে ছবি আলাদা: রাঙামাটিতে পাহাড়ি 57.58%, খাগড়াছড়িতে 48.93%, বান্দরবানে 41.15%। সংখ্যাগুলো BBS-এর তিনটি District Report-এর Table P17 থেকে; শুমারি “বাঙালি” নামে আলাদা সারি ছাপে না।
Census of India 1941 অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার 247,053 জনের মধ্যে “Tribes” 233,392 জন, অর্থাৎ 94.47%। মুসলিম 7,270, হিন্দু 4,881, খ্রিষ্টান 77 ও অন্যান্য 1,433 জন। শুমারির টীকা অনুযায়ী “Tribes” সংখ্যায় ধর্ম নির্বিশেষে জনগোষ্ঠীর সব সদস্য আছেন। আর্কাইভে প্রচলিত 97.06% ও 2.94% সংখ্যাটির 2.94% শুমারির কেবল মুসলিম অংশের সমান।
Census of Pakistan 1951-এর Supplementary Table 2 অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সদস্য 261,538 জন, জেলার মোট 287,274 জনের 91.04%। গণনাকারীরা স্লিপে জনগোষ্ঠীর নাম লিখেছিলেন, পরে স্লিপগুলো আলাদা বাছাই করা হয়। চাকমা 124,762, মারমা 65,889, ত্রিপুরা 37,246 ও ম্রো 16,121 জন ছিলেন।
1991 সালের শুমারিতে। তিন পার্বত্য জেলার মোট 974,445 জনের মধ্যে পাহাড়ি 501,144 (51.43%) এবং অ-পাহাড়ি 473,301 (48.57%), যা শক্তিপদ ত্রিপুরার লেখায় 1991 সালের শুমারির বরাতে দেওয়া। আমেনা মহসিন Banglapedia-য় একই বছরের বাঙালি অংশ প্রায় 48.5% লিখেছেন। 2022 সালে অ-পাহাড়ি অংশ সামান্য বেশি, 50.06%।
উৎসগুলো একমত নয়। আমেনা মহসিন (Banglapedia) বলেন প্রায় 11.6%, Jenneke Arens ও কীর্তি নিশান চাকমা বলেন 26%, আর Peter Bertocci পাহাড়িদের প্রায় 70% ধরেছেন, যাতে অ-পাহাড়ি প্রায় 30%। BBS-এর ছক অনুযায়ী 1974 সালে তিন এলাকার মোট জনসংখ্যা ছিল 508,199। পাহাড়ি-বাঙালি ভাগের মূল শুমারি-ছক অনলাইনে পাওয়া যায়নি।
BBS-এর 2011 সালের তিনটি Zila Report অনুযায়ী 845,541 জন, গণনাকৃত মোট 1,598,231 জনের 52.90%। রাঙামাটিতে 356,153 (59.76%), খাগড়াছড়িতে 316,987 (51.63%), বান্দরবানে 172,401 (44.39%)। আর্কাইভে প্রচলিত 856,541 সংখ্যাটি BBS-এর সংখ্যার চেয়ে 11,000 বেশি, আর সেখানে মোট হিসেবে সমন্বয়কৃত সংখ্যা (প্রায় 1,663,000) ব্যবহার করা।
উৎসে বিরোধ আছে। আর্কাইভে শক্তিপদ ত্রিপুরা ও সঞ্জীব চাকমা লিখেছেন, 2001 সালের শুমারিতে জাতিভিত্তিক হিসাব নেই। Banglapedia-র “Population” ভুক্তি অবশ্য 2001 সালে দেশে 1.4 মিলিয়ন “tribal” জনসংখ্যা এবং রাঙামাটি 18.27%, খাগড়াছড়ি 13.66% ও বান্দরবান 10.12% অংশ দেয়। BIISS Journal (2025) 2001 সালের পাহাড়ি অংশ 44% লিখেছে।
সরকারি কোনো পরিসংখ্যান কোনো পঠিত উৎসে পাওয়া যায়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের ফরমায়েশে করা Shapan Adnan ও Ranajit Dastidar-এর গবেষণা (2011) বলে, 1979–85 সালে প্রায় 400,000। Adnan-এর 2004 সালের হিসাব 340,000–350,000; শরদিন্দু শেখর চাকমা প্রায় 80,000 পরিবার বা 400,000 মানুষ; BIISS Journal (2025) অন্য গবেষকদের বরাতে 350,000–450,000।
BBS-এর 2011 সালের Zila Report-এর Table PT02 অনুযায়ী 1981 সালে রাঙামাটি 301,753, খাগড়াছড়ি 278,461 ও বান্দরবান 171,478, মোট 751,692। আর্কাইভের দুটি লেখার ছকে পাহাড়ি জনসংখ্যা 441,776 এবং বাঙালি 304,873, যাতে অনুপাত প্রায় 59:41; ছকগুলোতে শুমারি-প্রতিবেদনের নাম নেই। 1974–81 সালে মোট জনসংখ্যা 47.91% বেড়েছিল।
না। 1941, 1951, 2011 ও 2022 সালের যে প্রতিবেদনগুলো পড়া গেছে, তার কোনোটিই “বাঙালি” নামে সারি ছাপেনি। 1941 সালে ভাগ ছিল Tribes, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান ও Others; 1951 সালে মূল ছক ধর্মভিত্তিক; 2011 ও 2022 সালে কেবল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। বাঙালির সংখ্যা সবসময় মোট থেকে পাহাড়ি বাদ দিয়ে পাওয়া, তাই তাতে অল্প কিছু অন্য মানুষও থাকতে পারেন।
না। 1951 সালের শুমারিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের মধ্যে বর্ণহিন্দু 29,672 ও তফসিলি হিন্দু 5,127 জন ছিলেন, যাঁদের বড় অংশ ত্রিপুরা, আর মুসলিম পাহাড়ি 845 জন। একই শুমারির ধর্মের ছকে “Tribal” মানে প্রথাগত ধর্মের অনুসারী, মাত্র 9,366 জন। তাই ধর্মভিত্তিক শতাংশকে জাতিগত অনুপাত হিসেবে পড়লে ভুল হয়।
পুরোপুরি নয়। 1941 ও 1951 সালের সংখ্যা পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার, পরে তিন জেলার যোগফল। 1941 সালে “Tribes” ছিল জনগোষ্ঠীর শ্রেণি, 1951 সালে আলাদা বাছাই, 2011 থেকে “ethnic population”। 2011 থেকে গণনাকৃত ও সমন্বয়কৃত দুই রকম মোট ছাপা হয়; ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সমন্বয়কৃত সংখ্যা নেই। একই রকম সংখ্যা মিলিয়ে তুলনা করা দরকার।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 17 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:আদিবাসী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, পার্বত্য চট্টগ্রাম, পাহাড়ি-বাঙালি, সেটেলার বাঙালি
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।