Last updated Oct 19th, 2026
0

পার্বত্য চট্টগ্রামে মৌজার হেডম্যান নিয়োগ কে করেন — এর আইনি উত্তর এক বাক্যের: জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট সার্কেল চিফের সঙ্গে পরামর্শ করে, এবং চিফের ইচ্ছা মানতে তিনি বাধ্য নন। পদটি বংশানুক্রমিক নয়; তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির অধীনে তৈরি বিধিমালার 48 নম্বর বিধি বলে, যোগ্য হলে পুত্রকে পিতার জায়গায় নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। বাস্তবে অনেক মৌজায় একই পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম হেডম্যান থেকেছে, আর সেই ফারাকটাই এই লেখার বিষয়।
বিধির মূল বাক্যগুলো আর হেডম্যানের দৈনন্দিন কাজের হিসাব আমাদের আগের লেখা মৌজা হেডম্যান ও কার্বারি আসলে কী কী করেন-এ আছে, আর চিফের অভিষেকের দিকটি আছে সার্কেল চিফের ক্ষমতা নিয়ে লেখায়। এখানে সেগুলো আবার বলা হয়নি। এই লেখা চারটি জিনিস যোগ করে: বিধিটির পুরো পাঠ তিনটি আলাদা ছাপায় মিলিয়ে দেখা, 1906 সালের ছাপায় থাকা একটি শর্ত যা আজকের পাঠে নেই, সুপ্রিম কোর্টের যে দুটি রায়ে 48 নম্বর বিধি উদ্ধৃত হয়েছে তার বিবরণ, আর যেসব উৎস বিধিটিকে ভুলভাবে পড়েছে তাদের তালিকা।
এই লেখায়
48 নম্বর বিধি পাঁচটি বাক্যে তিনটি কাজ করে: চিফের অভিষেক সরকারের হাতে রাখে, হেডম্যানের নিয়োগ ও বরখাস্ত জেলা প্রশাসকের হাতে দেয়, আর পদটির উত্তরাধিকার প্রশ্নে একটি নিয়ম ও একটি ব্যতিক্রম বেঁধে দেয়। বর্তমান সংকলিত ইংরেজি পাঠ নিচে হুবহু, প্রতিটি বাক্যের পাশে বাংলা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (PCJSS) প্রকাশিত সংশোধনীসহ সংকলন অনুযায়ী বিধিটির শিরোনাম “Investiture of the Chiefs and Appointment and Dismissal of Headmen”। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ 2016 সালের রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলার রায়ে ঠিক এই পাঠটিই উদ্ধৃত করেছে, শব্দে শব্দে।
| # | ইংরেজি পাঠ (বর্তমান সংকলন) | বাংলায় |
|---|---|---|
| 1 | The investiture of the Chief is regulated by the Bengal Government. | চিফের অভিষেক নিয়ন্ত্রণ করে বেঙ্গল সরকার (আজ যার জায়গায় বাংলাদেশ সরকার)। |
| 2 | The headmen will be appointed by the Deputy Commissioner in consultation with the Chief | হেডম্যানদের নিয়োগ দেবেন জেলা প্রশাসক, চিফের সঙ্গে পরামর্শ করে |
| 3 | and they may be dismissed by the Deputy Commissioner for incompetence or misconduct after a reference to the Chief concerned. | আর অযোগ্যতা বা অসদাচরণের জন্য, সংশ্লিষ্ট চিফের কাছে বিষয়টি পাঠানোর পর, জেলা প্রশাসক তাঁদের বরখাস্ত করতে পারেন। |
| 4 | The Deputy Commissioner will not be bound, in either case by the wishes of the Chief, but full consideration should be given to them. | দুই ক্ষেত্রের কোনোটিতেই জেলা প্রশাসক চিফের ইচ্ছা মানতে বাধ্য নন, তবে সেই ইচ্ছাকে পূর্ণ বিবেচনা দিতে হবে। |
| 5 | This appointment is not hereditary, but a son, when competent, may be appointed to succeed his father. | এই নিয়োগ বংশানুক্রমিক নয়, তবে পুত্র যোগ্য হলে পিতার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন। |
পঞ্চম বাক্যে দুটি শব্দ গুরুত্বপূর্ণ। may — নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে, দিতেই হবে এমন নয়। আর when competent — যোগ্যতার শর্ত পুত্রের দাবির আগে বসানো। বিধিতে ‘যোগ্য’ শব্দের কোনো সংজ্ঞা নেই; শিক্ষা, বয়স বা অভিজ্ঞতার মাপকাঠি লেখা হয়নি।
বাক্যগুলোর একটি বাংলা সারাংশ জুমজার্নালের আর্কাইভেও আছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার সৃষ্টি, শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ লেখাটির ভাষায়: “হেডম্যান পদটি বংশানুক্রমিক নয়। তবে হেডম্যানের উপযুক্ত পুত্র হেডম্যান পদে নিয়োগ লাভের বেলায় অগ্রাধিকারের দাবী রাখেন।” এখানে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য চোখে পড়ে — ইংরেজি পাঠে পুত্র নিয়োগ পেতে পারেন, আর্কাইভের সারাংশে তিনি অগ্রাধিকারের দাবি রাখেন। দ্বিতীয়টি বাস্তব চর্চার কাছাকাছি, প্রথমটি বিধির অক্ষরের।
না। 1900 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি (Regulation I of 1900) নিজে একটি ছোট আইন, তার 18 নম্বর ধারা সরকারকে বিধি বানানোর ক্ষমতা দেয়। ‘Rules for the Administration of the Chittagong Hill Tracts’ নামের বিধিমালা সেই ক্ষমতায় তৈরি, আর 48 সেই বিধিমালার একটি বিধি। প্রচলিত লেখায় একে ‘48 ধারা’ বলা হলেও আইনগতভাবে এটি বিধি।
আইন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট bdlaws-এ শাসনবিধির 18(2) ধারায় বিধি বানানোর বিষয়গুলোর তালিকা আছে। তার (h) দফা: “regulate the appointment and dismissal of headmen” — হেডম্যানের নিয়োগ ও বরখাস্ত নিয়ন্ত্রণ করা। আর 18(3) বলে, এই ধারার অধীনে তৈরি বিধি সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর “shall have effect as if enacted by this Regulation” — যেন শাসনবিধিরই অংশ হিসেবে প্রণীত। অর্থাৎ 48 নম্বর বিধি আইনের বাইরে কোনো প্রশাসনিক নির্দেশনা নয়, আইনের জোর তার আছে।
18(2)(h) দফার ইতিহাসেও একটি স্তর আছে। PCJSS-এর সংকলনের পাদটীকা অনুযায়ী দফাটিতে মূলে হেডম্যানের পাশাপাশি ‘Diwans’-এর নিয়োগ ও বরখাস্তের কথাও ছিল। 1925 সালের সংশোধনী রেগুলেশন (Reg IV of 1925) ‘Diwans’ শব্দটি বাদ দেয়, একই সঙ্গে ‘taluks’ শব্দও। ফলে আজ বিধি বানানোর ক্ষমতা কেবল হেডম্যানের নিয়োগ নিয়ে — মাঝের দেওয়ান স্তরটি আইন থেকে মুছে গেছে।
এই একই কারণে জুম করের লেখায় 41–42 বিধির নম্বর নিয়ে সংকলনভেদে গরমিলের কথা এসেছিল। 48 নম্বর বিধির ক্ষেত্রে সেই সমস্যা নেই: PCJSS-এর সংকলন, 1906 সালের ছাপা আর 2016 সালের আপিল বিভাগের রায় — তিন জায়গাতেই নম্বরটি 48।
1906 সালে বেঙ্গল সেক্রেটারিয়েট বুক ডিপো থেকে প্রকাশিত R. H. Sneyd Hutchinson-এর An Account of the Chittagong Hill Tracts বইয়ের পরিশিষ্টে বিধিমালাটি ছাপা আছে। সেখানে 48 নম্বর বিধি বলে, হেডম্যান নিয়োগ হবে “in consultation with the Chiefs and the inhabitants of the mauzas” — চিফ এবং মৌজার বাসিন্দাদের সঙ্গে পরামর্শ করে। আজকের সংকলিত পাঠে মৌজাবাসীর অংশটি নেই।

দুই পাঠ পাশাপাশি রাখলে চারটি পরিবর্তন দেখা যায়:
| বিষয় | 1906 সালের ছাপা (হাচিনসন) | বর্তমান সংকলন (PCJSS) ও 2016 সালের রায় |
|---|---|---|
| কে নিয়োগ দেন | the Superintendent | the Deputy Commissioner |
| কার সঙ্গে পরামর্শ | the Chiefs and the inhabitants of the mauzas | the Chief |
| বরখাস্তের কারণের ক্রম | misconduct or incompetence | incompetence or misconduct |
| প্রথম বাক্য | The investiture of the Chiefs (বহুবচন) | The investiture of the Chief (একবচন) |
| বংশানুক্রম-বাক্য | অপরিবর্তিত | অপরিবর্তিত |
‘Superintendent’ থেকে ‘Deputy Commissioner’ বদলটি শাসনবিধির ধারাগুলোতে এসেছে 1920 সালের সংশোধনী রেগুলেশন (Reg IV of 1920) দিয়ে, PCJSS সংকলনের পাদটীকা তাই বলে। 48 নম্বর বিধির নিজস্ব পাদটীকায় তিনটি সংশোধনী প্রজ্ঞাপনের তারিখ দেওয়া: 8 অক্টোবর 1900 (নম্বর 1233 P-D), 3 ডিসেম্বর 1920 (নম্বর 13066 P) এবং 16 মে 1933 (নম্বর 201 T-R)। 1906 সালের ছাপায় মৌজাবাসীর কথা থাকায় বোঝা যায়, শর্তটি বাদ পড়েছে 1906-এর পরে — 1920 বা 1933 সালের প্রজ্ঞাপনে, অথবা তালিকায় নেই এমন কোনো সংশোধনীতে। কোন প্রজ্ঞাপনে, কী কারণে, তা কোনো পঠিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
পরিবর্তনটির অর্থ ছোট নয়। 1906 সালের পাঠে হেডম্যান বাছাইয়ে মৌজার মানুষের একটি আনুষ্ঠানিক কণ্ঠ ছিল — ভোট নয়, কিন্তু পরামর্শের অধিকার। আজকের পাঠে আনুষ্ঠানিক পরামর্শের পক্ষ একজনই: চিফ। মৌজাবাসীর মত নেওয়া হলে তা প্রথা বা প্রশাসনিক অভ্যাস, বিধির দাবি নয়।
1900 সালের বিধির আগে প্রস্তাব ছিল উল্টো দিকের: হেডম্যান বাছবেন চিফ, সরকার শুধু অনুমোদন দেবে। হাচিনসনের 1909 সালের জেলা গেজেটিয়ার অনুযায়ী, 1867 সালের অক্টোবরে ক্যাপ্টেন লুইন সুপারিশ করেন যে প্রতিটি গ্রামে একজন হেডম্যান “should be appointed by the Chief, subject to the sanction of the Deputy Commissioner”।
1900 সালের বিধিমালা সেই ভারসাম্য উল্টে দিল। নিয়োগকর্তা হলেন সরকারি কর্মকর্তা, চিফ হলেন পরামর্শদাতা। পরের ধাপের কথা আছে আইডব্লিউজিআইএ-র 2000 সালের প্রকাশনায় (Chandra Kalindi Roy, Land Rights of the Indigenous Peoples of the Chittagong Hill Tracts): 1937 সালে চিফরা সার্কেলের প্রশাসনের দায়িত্ব থেকে সরে মূলত সরকারের নীতিগত উপদেষ্টার ভূমিকায় আসেন। 48 নম্বর বিধির ভাষা — “will not be bound … by the wishes of the Chief” — সেই উপদেষ্টা-ভূমিকারই আগাম রূপ।
মৌজা-ব্যবস্থার জন্মের সময়ের আরেকটি তথ্য বংশানুক্রমের প্রশ্নে আলো ফেলে। হাচিনসনের 1909 সালের গেজেটিয়ার চাকমা সমাজের বিবরণে লিখেছে, প্রতিটি গোত্রের (sept) মাথায় ছিলেন একজন “hereditary Diwan”, যিনি কর তুলতেন। 1892 সালের বিধি ও মৌজা-ব্যবস্থা চালুর পর সেই কাজ গেল মৌজা হেডম্যানের হাতে, আর গেজেটিয়ারের ভাষায় “care has been taken to assign mauzas to most of them” — বেশির ভাগ দেওয়ানকেই মৌজা দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ প্রথম প্রজন্মের অনেক হেডম্যান এসেছিলেন একটি বংশানুক্রমিক পদ থেকে। বিধি পদটিকে বংশানুক্রমিক বলেনি, কিন্তু যাঁরা পদে বসলেন তাঁদের অনেকের অবস্থান আগে থেকেই বংশসূত্রে পাওয়া।
1906 সালের ছাপায় 47 নম্বর বিধির ঠিক আগে ‘Service Lands’ শিরোনামের বিধিটিও এই প্রশ্নে প্রাসঙ্গিক। তাতে প্রতি মৌজায় গ্রামের কর্মকর্তাদের — হেডম্যান, পাটোয়ারি বা কার্বারি, চৌকিদার — পারিশ্রমিকের জন্য খাস জমি আলাদা করে রাখার কথা ছিল, আর হেডম্যান সর্বোচ্চ 25 একর খাস জমি খাজনামুক্ত ভোগ করতে পারতেন “during their continuance in office” — যতদিন পদে আছেন। একই বিধি বলত, কোনো কর্মকর্তার ওই জমি হস্তান্তরের “indefeasible right” নেই, তবে কমিশনার নতুন নিয়োগপ্রাপ্তকে পূর্বসূরির করা উন্নয়নের জন্য যুক্তিসংগত ক্ষতিপূরণ দিতে বলতে পারেন। অর্থাৎ পদের জমিও পরিবারের সম্পত্তি হয়ে যেত না, পদের সঙ্গে আসত-যেত। PCJSS সংকলন অনুযায়ী 1938 সালের সংশোধনীতে (প্রজ্ঞাপন 837 E.A., 14 জানুয়ারি 1938) বর্তমান 46 নম্বর বিধি সেবা-জমির ব্যবস্থা তুলে দিয়ে নগদ পারিশ্রমিক চালু করে এবং পদে থাকাকালীন খাজনামুক্ত জমিগুলো ফেরত নেওয়ার কথা বলে।
বিধির ভাষায় নিয়োগ আর বরখাস্তের পদ্ধতি এক নয়। নিয়োগে চিফের সঙ্গে ‘consultation’, বরখাস্তে চিফের কাছে ‘reference’। দুই ক্ষেত্রেই চিফের মত মানা বাধ্যতামূলক নয়, তবে ‘full consideration’ দিতে হবে। আর বরখাস্তের কারণ মাত্র দুটি লেখা আছে: অযোগ্যতা ও অসদাচরণ।
চারটি অংশ আলাদা করে দেখা যায়:
লেখা নিয়ম আর চর্চার মধ্যে ফারাকের কথা বলেছে ঢাকা ল রিভিউ-তে 2020 সালের একটি প্রবন্ধ: “The unwritten practice in the appointment of headman is that the Deputy Commissioner shall appoint the person recommended by the circle chief.” অর্থাৎ অলিখিত রীতি হলো, চিফ যাঁর নাম সুপারিশ করেন জেলা প্রশাসক তাঁকেই নিয়োগ দেন। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের একটি প্রকল্প-নথির শব্দকোষেও হেডম্যানের সংজ্ঞা একই রকম — জেলা প্রশাসকের নিযুক্ত ব্যক্তি, সার্কেল চিফের সুপারিশে। এই ‘সুপারিশ’ শব্দটি বিধিতে নেই; বিধিতে আছে ‘পরামর্শ’।
বরখাস্তের ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়, তার একটি নথিভুক্ত দৃষ্টান্ত আছে কাপেং ফাউন্ডেশনের 2009–2010 সালের মানবাধিকার প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী 23 সেপ্টেম্বর 2009 বান্দরবানের জেলা প্রশাসক বোমাং সার্কেলের সব হেডম্যানকে চিঠি দিয়ে তাঁর অনুমতি ছাড়া কাউকে জমির দলিল না দেওয়ার নির্দেশ দেন, এবং দলিল দিলে হেডম্যানকে পদ থেকে সরানো হবে বলে সতর্ক করেন। কাপেং চিঠিটিকে হেডম্যানের অধিকারের লঙ্ঘন বলেছে। জেলা প্রশাসনের ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে নেই।
আইনে নয়, চর্চায় অনেকাংশে। 48 নম্বর বিধি স্পষ্ট বলে “This appointment is not hereditary”। কিন্তু নিচের ছকের পাঁচটি বাইরের উৎস হয় পদটিকে বাস্তবে বংশানুক্রমিক বলেছে, নয়তো পুত্রের অগ্রাধিকারের কথা বলেছে। দুটোই সত্য হতে পারে, কারণ বিধির ব্যতিক্রমটি — যোগ্য পুত্রের নিয়োগ — নিয়মিত প্রয়োগ হলে ফল বংশানুক্রমের মতোই দেখায়।
| উৎস | সাল | বংশানুক্রম নিয়ে যা বলে |
|---|---|---|
| 48 নম্বর বিধি | 1900, সংশোধিত | বংশানুক্রমিক নয়; যোগ্য পুত্র নিয়োগ পেতে পারেন |
| রাজা দেবাশীষ রায়, আইএলও-র জন্য তুলনামূলক সমীক্ষা | 2006 | চিফ, হেডম্যান ও কার্বারি — “traditional and largely hereditary institutions” |
| ব্র্যাক, State of Justice in Chittagong Hill Tracts | 2011 | পদ বংশানুক্রমিক নয়, তবে হেডম্যানের পুত্র অগ্রাধিকার পান; মং সার্কেলে হেডম্যান নিয়োগেও জ্যেষ্ঠতা ও রক্তের সম্পর্ক প্রাধান্য পায় |
| ঢাকা ল রিভিউ | 2020 | কার্বারি ও হেডম্যানের পদবি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যায় |
| এনসাইক্লোপিডিয়া ডটকম, চাকমা ভুক্তি | তারিখ নেই | “not in theory hereditary, but in practice usually it is” |
| PCJSS, CHT History & Struggle | তারিখ নেই | চিফ ও মৌজা হেডম্যান ছিলেন “hereditary representatives of the people nominated by the Deputy Commissioner at his discretion” |
| জুমজার্নাল আর্কাইভ, শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ | — | বংশানুক্রমিক নয়; উপযুক্ত পুত্র অগ্রাধিকারের দাবি রাখেন |
PCJSS-এর বাক্যটি দুটি বিপরীত জিনিস একসঙ্গে ধরে রেখেছে: পদধারীরা ‘বংশানুক্রমিক প্রতিনিধি’, অথচ মনোনীত হন জেলা প্রশাসকের ‘বিবেচনায়’। 48 নম্বর বিধির কাঠামো ঠিক এটাই — সামাজিক বাস্তবতায় বংশ, আইনি বাস্তবতায় সরকারি মনোনয়ন।
বিধির ভাষায় আরেকটি বিষয় স্পষ্ট: ব্যতিক্রমে লেখা a son ও his father। কন্যা, ভাই, ভাইপো বা অন্য কোনো আত্মীয়ের উল্লেখ নেই। পুত্র না থাকলে বা পুত্র অযোগ্য হলে পরিবারের অন্য কেউ বিধিগতভাবে কোনো সুবিধা পান না — তাঁরা আর দশজন প্রার্থীর মতোই। ব্র্যাকের সমীক্ষা মং সার্কেলের যে ‘জ্যেষ্ঠতা ও রক্তের সম্পর্ক’-এর কথা বলে, তা বিধি থেকে নয়, প্রথা থেকে আসা।
48 নম্বর বিধির অধীনে উত্তরাধিকার নিয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত রায়টি হেডম্যান নয়, বোমাং চিফকে নিয়ে: Aung Shwe Prue Chowdhury v. Kyaw Sain Prue Chowdhury and others, 50 DLR (AD) (1998) 73। আপিল বিভাগ 11 ডিসেম্বর 1997 রায় দিয়ে বলে, পদটি প্রথাগত, রাজনৈতিক নয়; সরকারকে প্রথা মেনেই বাছাই করতে হবে, আর বহিরাগত বিবেচনায় করা নিয়োগ আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া করা।
রায়ের বিবরণ অনুযায়ী 14তম বোমাং চিফ 16 জুন 1996 মারা গেলে পদ শূন্য হয়। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দুজনের নাম পাঠান — অং শৈ প্রু চৌধুরী ও ক্যসাইন প্রু চৌধুরী। বিভাগীয় কমিশনার জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য হিসেবে অং শৈ প্রু-র নাম সুপারিশ করেন। কিন্তু সরকারের বিশেষ বিষয়ক বিভাগের 2 নভেম্বর 1996 সালের সারসংক্ষেপে অং শৈ প্রু-র 1971 সালের রাজনৈতিক ভূমিকা ও রাজপরিবারের সমর্থন না থাকার কথা তুলে ক্যসাইন প্রু-কে প্রস্তাব করা হয়, এবং 4 নভেম্বর 1996 সালের প্রজ্ঞাপনে (গেজেটে প্রকাশ 21 নভেম্বর) তাঁকে চিফ হিসেবে নিয়োগ ও স্বীকৃতি দিয়ে কমিশনারকে 48 নম্বর বিধি অনুযায়ী অভিষেকের ব্যবস্থা করতে বলা হয়।
রিট পিটিশন 5101/1996-এ হাইকোর্ট বিভাগ 12 জানুয়ারি 1997 রুল খারিজ করে (49 DLR 217)। আপিল বিভাগের রায়ে উদ্ধৃত অংশ অনুযায়ী হাইকোর্ট বলেছিল, বোমাং চিফ “not a holder of any Government post but as a political office”, এবং সরকার রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্য থেকে যোগ্যতা ও বয়স বিবেচনা করে মনোনয়ন দেয়; জ্যেষ্ঠতম পুরুষ সদস্য সরকারের বিচারে যোগ্য না হলে দাবি করতে পারেন না।
বিচারপতি মোস্তফা কামালের লেখা রায়ে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত উল্টে দেয়। মূল কথাগুলো:
ফল: আপিল মঞ্জুর, 4 নভেম্বর 1996 সালের প্রজ্ঞাপন “without lawful authority and of no legal effect” ঘোষিত। দ্য ডেইলি স্টারের 24 আগস্ট 2012 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী অং শৈ প্রু চৌধুরী এরপর 19 নভেম্বর 1998 সালে 15তম বোমাং রাজা হিসেবে শপথ নেন এবং 8 আগস্ট রাজবাড়িতে মারা যান; বাংলা উইকিপিডিয়ার বোমাং রাজাদের তালিকাও তাঁর মেয়াদ 1998 থেকে 2012 দেখায়। একই উইকিপিডিয়া পাতা 14তম রাজার মৃত্যু 1998 সালে বলে লিখেছে, আর আপিল বিভাগের রায় তারিখটি দিয়েছে 16 জুন 1996।
রায়টি চিফের অভিষেক নিয়ে, 48 নম্বর বিধির প্রথম বাক্য নিয়ে। হেডম্যান নিয়োগের বাক্যগুলো আদালত ব্যাখ্যা করেনি। তবু দুটি নীতি সরাসরি প্রাসঙ্গিক: প্রথাগত পদে সরকারি বাছাইয়ের বিচারিক পর্যালোচনা সম্ভব, আর রাজনৈতিক বিবেচনা ‘বহিরাগত বিবেচনা’। হেডম্যানের ক্ষেত্রে পার্থক্য হলো, বিধি নিজেই বলে পদটি বংশানুক্রমিক নয় — বোমাং চিফের মতো প্রথাগত উত্তরাধিকারের দাবি সেখানে বিধির পাঠ দিয়ে সীমিত। হেডম্যান নিয়োগ বা বরখাস্তকে চ্যালেঞ্জ করা কোনো রিটের প্রকাশিত রায় অনলাইনে উন্মুক্ত আইন-ভাণ্ডারগুলোতে পাওয়া যায়নি।
রাজা দেবাশীষ রায় আইএলও-র জন্য 2006 সালের সমীক্ষায় এই রায়টিকে সেই মামলাগুলোর তালিকায় রেখেছেন, যেখানে শাসনবিধিকে পূর্ণ বৈধ আইন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ব্র্যাকের 2011 সালের সমীক্ষাও রায়টির সারাংশ দিয়েছে, তবে সেখানে নিযুক্ত ব্যক্তির নাম “Kya Shein Pru Chowdhury” লেখা।
2016 সালের রায়ে আপিল বিভাগ 48 নম্বর বিধি পুরোটা উদ্ধৃত করে একটি যুক্তির অংশ হিসেবে: সরকার নিজেই এই বিধিমালা মেনে চলছে, অতএব শাসনবিধি ‘মৃত আইন’ নয়। রায়ে সরকারপক্ষের উপস্থাপনা হিসেবে বলা আছে, 21 মে 1974 সালের প্রজ্ঞাপন (নম্বর 415-SEC(1)) সার্কেল চিফদের স্বীকৃতি দেয়, আর 4 ডিসেম্বর 2008 সালের প্রজ্ঞাপনে মং চিফ নিযুক্ত হন “following rule 48”।
মামলাটি সরকার বনাম রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড ও অন্যান্য, সিভিল আপিল 8/2008, হাইকোর্টের রিট পিটিশন 1774/2001 থেকে। ব্লাস্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রায়ের পাঠে শুনানি ও রায়ের তারিখ দুটোই 22 নভেম্বর 2016, বেঞ্চে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। 48 নম্বর বিধি উদ্ধৃত করার পরের বাক্যটি রায়ের যুক্তির সারকথা: “So, till 4th December, 2008, the government recognized the Rules framed in exercise of powers under Regulation 1 of 1900.” আপিল মঞ্জুর হয়, এবং হাইকোর্টের যে পর্যবেক্ষণ শাসনবিধিকে ‘মৃত আইন’ বলেছিল তা বাতিল হয়।
মামলার পুরো ইতিহাস — হাইকোর্টের 2003 সালের রায়, রিভিউ আবেদন ও পরের শুনানি — জুমজার্নালের আলাদা লেখা ‘রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলা’-র বিষয়। এখানে শুধু হেডম্যান-প্রশ্নে এর গুরুত্বটুকু: সর্বোচ্চ আদালত শাসনবিধি ও তার বিধিমালাকে বলবৎ ধরায় 48 নম্বর বিধিও বলবৎ আইন। হেডম্যান নিয়োগ নিয়ে কোনো বিরোধ হলে আইনি ভিত্তি এই বিধিই।
2008 সালের মং চিফ নিয়োগের প্রেক্ষাপট দ্য ডেইলি স্টারের 17 জানুয়ারি 2009 সালের প্রতিবেদনে আছে। সপ্তম মং রাজা পাইহলা প্রু চৌধুরী 22 অক্টোবর 2008 সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান; তাঁর পুত্র সাচিং প্রু চৌধুরী 16 জানুয়ারি 2009 সন্ধ্যায় অষ্টম মং রাজা হিসেবে সিংহাসনে বসেন, আর চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার তাঁর হাতে ঐতিহ্যবাহী তরবারি তুলে দেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁর অধীনে 88টি মৌজা ও 88 জন হেডম্যান। অভিষেকে বিভাগীয় কমিশনারের উপস্থিতি 48 নম্বর বিধির প্রথম বাক্যের — অভিষেক সরকার নিয়ন্ত্রিত — বাস্তব রূপ।
রাজা দেবাশীষ রায় আইএলও-র জন্য 2006 সালের তুলনামূলক সমীক্ষায় নয়টি মামলার তালিকা দিয়েছেন, যেখানে তাঁর ভাষায় শাসনবিধিকে “a fully valid law” হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এগুলোর কোনটি হেডম্যান বা চিফের নিয়োগ নিয়ে, তা তালিকা থেকে বোঝা যায় না; কেবল বোমাং চিফ মামলাটির বিষয়বস্তু ওপরের রায় থেকে নিশ্চিত।
| মামলা (রায়ের প্রতিবেদন) | বিষয় জানা আছে? |
|---|---|
| Mustafa Ansari v. DC, CHT & Another (7 DLR, 1965, 553) | জানা যায়নি |
| Collector of Central Excise & Land Customs v. Azizuddin Industries Ltd (23 DLR SC, 1971, 73) | শুল্ক-ছাড়; 2016 সালের রায়ে আলোচিত |
| Shewe Hla Prue TK v. Commissioner Chittagong & Others (44 DLR, 1992, 539) | জানা যায়নি |
| Aung Shwe Prue Chowdhury v. Kyaw Sain Prue Chowdhury & Others (50 DLR, AD, 1998, 73) | বোমাং চিফের উত্তরাধিকার, 48 নম্বর বিধি |
| Sampriti Chakma v. Commissioner of Customs & Others (5 BLC, AD, 2000, 29) | জানা যায়নি |
| Bikram Kishore Chakma v. Land Appeal Board (6 BLC, 2001, 436) | জানা যায়নি |
| BFIDC & Others v. Sheikh Abdul Jabbar (53 DLR, 2001, 488) | জানা যায়নি |
| Abu Taher v. Land Appeal Board (8 BLC, 2003, 453) | জানা যায়নি |
| Rajkumari Unika Devi v. Bangladesh & Others (9 BLC, AD, 2004, 181) | জানা যায়নি |
তালিকার Shewe Hla Prue মামলার নামে ‘TK’ সংক্ষেপটি কী বোঝায়, এবং মামলাটি কোনো মৌজা বা পদ নিয়ে কি না, পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা 44 DLR-এর 539 পৃষ্ঠা থেকে সেটি মিলিয়ে দেখতে পারেন।
না। 1989 সালের তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের 64(2) ধারা পরিষদকে হেডম্যানের কার্যাদি তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেয়, নিয়োগের ক্ষমতা নয়। নিয়োগ ও বরখাস্ত এখনো 48 নম্বর বিধি অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের হাতে।
জুমজার্নালে সংরক্ষিত রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের পাঠে ধারাটি: “হেডম্যান, চেইনম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যাদি পরিষদ তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে৷” বান্দরবানের আইনেও শব্দে শব্দে একই। ধারাটি এসেছে 1997 সালের চুক্তির খ খণ্ডের 26(গ) দফা থেকে, যেখানে PCJSS-এর ইংরেজি পাঠে আছে “The Parishad may supervise and control the works of the Headmen …”।
তালিকায় হেডম্যানের পাশে আমিন, কানুনগো, সহকারী কমিশনার (ভূমি) — সবাই ভূমি-প্রশাসনের সরকারি কর্মী। আইনের চোখে হেডম্যান এই সারিতেই, অর্থাৎ ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থার একজন কর্মকর্তা, যাঁর কাজ পরিষদ দেখবে কিন্তু যাঁকে নিয়োগ দেবেন জেলা প্রশাসক।
একই আইনে হেডম্যানের আরও দুটি আনুষ্ঠানিক ভূমিকা আছে, যা নিয়োগের গুরুত্ব বাড়ায়। 4(6) ধারায় কোনো ব্যক্তি অ-উপজাতীয় কি না এবং কোন সম্প্রদায়ের, তা সার্কেল চিফ স্থির করেন মৌজার হেডম্যান বা ইউনিয়ন বা পৌর চেয়ারম্যানের সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে — জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থিতার প্রশ্ন, যা নিয়ে আসন বণ্টনের লেখায় বিস্তারিত আছে। আর 66 ধারায় সামাজিক ও প্রথাগত বিরোধ প্রথমে যায় কার্বারি বা হেডম্যানের কাছে। যিনি সনদ দেন ও বিচার করেন, তাঁকে কে বাছেন — প্রশ্নটি তাই কেবল প্রশাসনিক নয়।
অনলাইনে বেশ কয়েকটি পরিচিত উৎস হেডম্যান নিয়োগের কর্তৃত্ব সার্কেল চিফকে দিয়েছে। 48 নম্বর বিধির বর্তমান পাঠ, 1906 সালের ছাপা এবং 2016 সালের আপিল বিভাগের রায় — তিনটিতেই নিয়োগকর্তা সরকারি কর্মকর্তা, চিফ পরামর্শদাতা। নিচের উৎসগুলোর বক্তব্য এই পাঠের সঙ্গে মেলে না।
| উৎস | যা লেখা | বিধির পাঠের সঙ্গে |
|---|---|---|
| বাংলা উইকিপিডিয়া, ‘বোমাং সার্কেল’ | “বোমাং রাজা মৌজার হেডম্যানদের এবং কারবারি বা গ্রাম প্রধানদের নিয়োগ করেন” | মেলে না — হেডম্যানের নিয়োগকর্তা জেলা প্রশাসক |
| ইংরেজি উইকিপিডিয়া, ‘Mong Circle’ | “The Mong chieftains appoint and oversee headmen” | মেলে না |
| এনসাইক্লোপিডিয়া ডটকম, ‘Chakma’ | হেডম্যান “appointed by the circle chief, in consultation with the concerned headman” | মেলে না — পরামর্শ চিফের সঙ্গে, নিয়োগ জেলা প্রশাসকের |
| ব্র্যাক, State of Justice (2011) | “Rule No. 48 of the Act of 1892” | বিষয়বস্তু ঠিক, উৎস ভুল — বিধিটি 1900 সালের শাসনবিধির অধীনে তৈরি বিধিমালার |
| বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি বাতায়ন, ‘হেডম্যান এর দায়িত্ব ও কর্তব্য’ (হালনাগাদ 16 জুলাই 2013) | চিফ নিয়োগ ও অপসারণে জেলা প্রশাসককে পরামর্শ দেন, জেলা প্রশাসক মানতে বাধ্য নন (বিধি 48) | মেলে |
বিভ্রান্তির একটি সম্ভাব্য উৎস বাস্তব চর্চা। ঢাকা ল রিভিউ যেমন বলেছে, চিফের সুপারিশ করা ব্যক্তিকেই সাধারণত নিয়োগ দেওয়া হয় — বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় চিফই বাছছেন। আরেকটি উৎস 47 নম্বর বিধি: কমিশনারের অনুমোদনে চিফ নিজের সার্কেলের এক বা একাধিক মৌজা ‘খাস মৌজা’ হিসেবে রাখতে পারেন, যেখানে তিনি নিজেই হেডম্যানের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করেন। সেই মৌজাগুলোতে হেডম্যানের কাজ কে করবেন, তা ঠিক করেন চিফ। কিন্তু সাধারণ মৌজার হেডম্যান নিয়োগ 48 নম্বর বিধির অধীনে।
কার্বারির ক্ষেত্রে ছবিটি আলাদা। রাজা দেবাশীষ রায়ের 2006 সালের সমীক্ষার শব্দকোষে কার্বারি “Traditionally nominated by the villagers and formally appointed by the chiefs” — গ্রামবাসীর মনোনয়নে, চিফের আনুষ্ঠানিক নিয়োগে। আইডব্লিউজিআইএ-র 2000 সালের প্রকাশনা বলে, কার্বারিকে গ্রামবাসীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেন রাজা, সরাসরি অথবা মৌজা হেডম্যানের সুপারিশে। শাসনবিধির বিধিমালায় কার্বারি নিয়োগের কোনো বিধি নেই; বিষয়টি আমাদের চাকমা সার্কেল, হেডম্যান ও কার্বারি লেখাতেও খোলা প্রশ্ন হিসেবে রাখা আছে। উইকিপিডিয়ার বাক্যগুলো কার্বারির ক্ষেত্রে প্রথার কাছাকাছি হতে পারে, হেডম্যানের ক্ষেত্রে নয়।
48 নম্বর বিধির নিয়োগ-বাক্যে লিঙ্গের কোনো শর্ত নেই — ‘the headmen’। কেবল বংশানুক্রমের ব্যতিক্রমে ‘a son’ ও ‘his father’ লেখা। অর্থাৎ নারীকে হেডম্যান নিয়োগে বিধিগত বাধা নেই, তবে উত্তরাধিকারের সুবিধাজনক পথটি শুধু পুত্রের জন্য। বাস্তবে নারী হেডম্যান কবে থেকে আছেন, সে প্রশ্নে উৎসগুলো একমত নয়।
জুমজার্নালের আর্কাইভে মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ানের লেখা আদিবাসী নারীর অবস্থান: প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম তিনজন নারী হেডম্যানের মৌজার নাম দেয়: রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়াচর ও শুকরছড়ি মৌজা, আর খাগড়াছড়ি জেলার 196 নম্বর মাটিরাঙ্গা মৌজা। লেখাটির রচনাকাল দেওয়া নেই; তার গ্রন্থপঞ্জির সর্বশেষ বই 2006 সালের।
উৎসগুলো এভাবে ভিন্ন: রাজা দেবাশীষ রায় 2006 সালে লেখেন, হেডম্যানদের মধ্যে “a few female headmen” আছেন; ব্র্যাকের 2011 সালের সমীক্ষা তার গবেষণা-এলাকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে “No female Karbari or Headman” পায়নি; আর হানা শামস আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারে 10 আগস্ট 2022 লিখেছেন, 2013–14 সালের আগে নারীরা হেডম্যান ও কার্বারির পদে আসেননি, এসেছেন চাকমা রানি ইয়ান ইয়ানের উদ্যোগে। আমাদের আগের লেখাও ব্র্যাকের সমীক্ষা থেকে একই অনুপস্থিতির কথা বলেছিল।
রাজা দেবাশীষ রায় একই সমীক্ষায় আরেকটি তথ্য দেন: বেশির ভাগ হেডম্যান পুরুষ এবং এগারোটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কোনো একটির সদস্য, তবে “a small number of ethnic Bengali headmen (all male)” আছেন। অর্থাৎ 48 নম্বর বিধিতে জাতিগত পরিচয়েরও কোনো শর্ত নেই।
প্রতিটি মৌজায় একজন হেডম্যান — সংখ্যাটি তাই মৌজার সংখ্যার সমান হওয়ার কথা। কিন্তু উৎসভেদে মৌজার মোট সংখ্যা 350-এর বেশি থেকে 390 পর্যন্ত, আর কোনো সরকারি তালিকা অনলাইনে পাওয়া যায়নি।
| উৎস | সংখ্যা |
|---|---|
| জুমজার্নাল আর্কাইভ, শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ | তিন সার্কেলে 390টি মৌজা |
| ঢাকা ল রিভিউ (2020) | 380টি মৌজার হেডম্যান |
| ব্র্যাক (2011), রফি 2001-এর ভিত্তিতে | প্রায় 377টি মৌজা, 377 জন হেডম্যান; 4,098 জন কার্বারি |
| ব্র্যাক (2011), চাকমা 2007-এর ভিত্তিতে | 369টি মৌজা |
| রাজা দেবাশীষ রায়, আইএলও সমীক্ষা (2006) | “more than 350” |
| দ্য ডেইলি স্টার (2009), শুধু মং সার্কেল | 88টি মৌজা, 88 জন হেডম্যান, 950 জন কার্বারি |
| বাংলা উইকিপিডিয়া, শুধু বোমাং সার্কেল | বান্দরবানের 95টি ও রাঙ্গামাটির কাপ্তাই-রাজস্থলীর 14টি, মোট 109টি মৌজা |
ব্র্যাকের সমীক্ষা একই পৃষ্ঠায় দুটি আলাদা সংখ্যা দিয়েছে — 377 ও 369 — দুটি আলাদা উৎস থেকে। এই অমিলগুলোর একটি কারণ হতে পারে খাস মৌজা, যেখানে চিফ নিজেই হেডম্যান; আরেকটি, শূন্য পদ। কোন মৌজায় এখন হেডম্যান নেই, তার হিসাব কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
48 নম্বর বিধির প্রথম বাক্য চিফের, বাকি চারটি হেডম্যানের। চিফের ক্ষেত্রে বিধি শুধু অভিষেক সরকারের হাতে রেখেছে, উত্তরাধিকার প্রথার ওপর ছেড়েছে। হেডম্যানের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা, পরামর্শ, বরখাস্তের কারণ আর উত্তরাধিকারের সীমা — সবই বিধিতে লেখা।
| প্রশ্ন | সার্কেল চিফ | মৌজা হেডম্যান |
|---|---|---|
| বিধিতে কী লেখা | অভিষেক সরকার নিয়ন্ত্রণ করে | জেলা প্রশাসক নিয়োগ ও বরখাস্ত করেন, চিফের সঙ্গে পরামর্শ করে |
| উত্তরাধিকার | বিধিতে নেই; প্রথা অনুযায়ী | বংশানুক্রমিক নয়; যোগ্য পুত্র নিয়োগ পেতে পারেন |
| প্রথাগত নিয়ম (উৎস অনুযায়ী) | চাকমা ও মং: জ্যেষ্ঠ পুত্র; বোমাং: বয়স ও যোগ্যতা (আইডব্লিউজিআইএ 2000; আপিল বিভাগ 1997) | পুত্রের অগ্রাধিকার (ব্র্যাক 2011); মং সার্কেলে জ্যেষ্ঠতা ও রক্তের সম্পর্ক |
| বরখাস্তের বিধান | বিধিতে নেই | অযোগ্যতা বা অসদাচরণ, চিফের কাছে পাঠানোর পর |
| সর্বোচ্চ আদালতের রায় | বোমাং চিফ মামলা, 50 DLR (AD) 73 | প্রকাশিত রায় পাওয়া যায়নি |
বোমাং সার্কেলের প্রথা নিয়ে উৎসে একটি ইতিহাসও আছে। হাচিনসনের 1909 সালের গেজেটিয়ার লিখেছিল, বোমাং পদের উত্তরাধিকার “the next eldest male blood relative, and does not follow in the direct line”। আপিল বিভাগের রায়ে উদ্ধৃত কের-এর 1917 সালের স্মারক চট্টগ্রামের কমিশনারের 1916 সালের চিঠির একই ধরনের বক্তব্য — চিফের পদ জ্যেষ্ঠতম জীবিত পুরুষ আত্মীয়ের কাছে যায় — “not strictly accurate” বলেছিল: বয়স ও যোগ্যতাই নির্ধারক, বংশধারার অগ্রাধিকার নয়। আদালত কের-এর নীতিটিই বহাল রেখেছে।
পুরো ব্যবস্থাটির ভূগোল ও ইতিহাস জানতে দেখতে পারেন আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক লেখাগুলোর সূচিপাতা।
পার্বত্য চট্টগ্রামে মৌজা হেডম্যান নিয়োগ করেন জেলা প্রশাসক। শাসনবিধি 1900-এর অধীনে তৈরি বিধিমালার 48 নম্বর বিধি অনুযায়ী তিনি সংশ্লিষ্ট সার্কেল চিফের সঙ্গে পরামর্শ করেন, কিন্তু চিফের ইচ্ছা মানতে বাধ্য নন; সেই ইচ্ছাকে কেবল পূর্ণ বিবেচনা দিতে হয়। ঢাকা ল রিভিউ-র 2020 সালের প্রবন্ধ অনুযায়ী অলিখিত রীতি হলো চিফের সুপারিশ করা ব্যক্তিকেই নিয়োগ দেওয়া।
আইনত নয়। 48 নম্বর বিধির শেষ বাক্য: “This appointment is not hereditary, but a son, when competent, may be appointed to succeed his father.” অর্থাৎ যোগ্য পুত্র নিয়োগ পেতে পারেন, দাবি করতে পারেন না। বাস্তবে রাজা দেবাশীষ রায় (2006) ও ঢাকা ল রিভিউ (2020) পদটিকে মূলত বংশানুক্রমিক বলে বর্ণনা করেছেন, কারণ ব্যতিক্রমটিই নিয়মিত প্রয়োগ হয়।
পাঁচটি বাক্য: চিফের অভিষেক সরকার নিয়ন্ত্রণ করে; জেলা প্রশাসক চিফের সঙ্গে পরামর্শ করে হেডম্যান নিয়োগ দেন; অযোগ্যতা বা অসদাচরণে চিফের কাছে পাঠানোর পর বরখাস্ত করতে পারেন; দুই ক্ষেত্রেই চিফের ইচ্ছা বাধ্যতামূলক নয় তবে পূর্ণ বিবেচ্য; আর পদটি বংশানুক্রমিক নয়, যদিও যোগ্য পুত্র পিতার স্থলে নিয়োগ পেতে পারেন।
প্রচলিত লেখায় একই অর্থে বলা হয়, কিন্তু আইনগতভাবে এটি বিধি। শাসনবিধি 1900-এর 18 নম্বর ধারা সরকারকে বিধি বানানোর ক্ষমতা দেয়, যার 18(2)(h) দফা হেডম্যানের নিয়োগ ও বরখাস্তের কথা বলে। সেই ক্ষমতায় তৈরি বিধিমালার একটি বিধি 48। 18(3) অনুযায়ী গেজেটে প্রকাশিত বিধি শাসনবিধির অংশের মতোই কার্যকর।
সাধারণ মৌজায় না। 48 নম্বর বিধি অনুযায়ী নিয়োগকর্তা জেলা প্রশাসক, চিফ পরামর্শদাতা। ব্যতিক্রম 47 নম্বর বিধির খাস মৌজা: কমিশনারের অনুমোদনে চিফ নিজের সার্কেলের কিছু মৌজা খাস হিসেবে রাখতে পারেন, যেখানে তিনিই হেডম্যানের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করেন। বাংলা উইকিপিডিয়ার ‘বোমাং সার্কেল’ ও ইংরেজি উইকিপিডিয়ার ‘Mong Circle’ পাতার উল্টো বক্তব্য বিধির পাঠের সঙ্গে মেলে না।
48 নম্বর বিধিতে দুটি কারণ লেখা: অযোগ্যতা (incompetence) ও অসদাচরণ (misconduct)। বরখাস্তের আগে জেলা প্রশাসককে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সার্কেল চিফের কাছে পাঠাতে হয়, তবে চিফের মত মানতে তিনি বাধ্য নন। বিধিতে মেয়াদ বা অবসরের বয়স লেখা নেই। কাপেং ফাউন্ডেশন 2009 সালে বান্দরবানে হেডম্যানদের পদচ্যুতির হুমকিসহ একটি প্রশাসনিক চিঠির কথা নথিভুক্ত করেছে।
হাচিনসনের 1906 সালের বই An Account of the Chittagong Hill Tracts-এ ছাপা 48 নম্বর বিধিতে হেডম্যান নিয়োগ হতো “in consultation with the Chiefs and the inhabitants of the mauzas” — চিফ ও মৌজাবাসী দুপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে, আর নিয়োগকর্তা ছিলেন Superintendent। বর্তমান সংকলিত পাঠে মৌজাবাসীর অংশটি নেই। বিধির পাদটীকায় 1920 ও 1933 সালের সংশোধনী প্রজ্ঞাপনের উল্লেখ আছে।
হেডম্যান নিয়োগ নিয়ে প্রকাশিত কোনো রায় উন্মুক্ত আইন-ভাণ্ডারে পাওয়া যায়নি। 48 নম্বর বিধির প্রথম বাক্য নিয়ে আছে বোমাং চিফ মামলা, 50 DLR (AD) 73, যেখানে আপিল বিভাগ 1997 সালে বলেছে পদটি প্রথাগত, রাজনৈতিক নয়, এবং বহিরাগত বিবেচনায় দেওয়া 1996 সালের নিয়োগ আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া করা। 2016 সালের রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলায় পুরো বিধিটি উদ্ধৃত হয়েছে।
আপিল বিভাগ 1917 সালের কের-স্মারকের নীতি বহাল রেখেছে: বোমাং পদে উত্তরাধিকার ঠিক করে বয়স ও যোগ্যতা, বংশধারার অগ্রাধিকার নয়। আদালতের মতে দুটি শব্দ একসঙ্গে পড়তে হবে — জ্যেষ্ঠতম ব্যক্তি দায়িত্ব পালনে সক্ষম থাকলে পদ তাঁর। রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বা সমর্থনের চিঠি প্রথাগত মানদণ্ড নয়। সরকারের 4 নভেম্বর 1996 সালের প্রজ্ঞাপন বাতিল ঘোষিত হয়।
না। 1989 সালের পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের 64(2) ধারা পরিষদকে হেডম্যান, চেইনম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-র কার্যাদি তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেয়। ধারাটি 1997 সালের চুক্তির খ খণ্ডের 26(গ) দফা থেকে এসেছে। নিয়োগ ও বরখাস্তের ক্ষমতা 48 নম্বর বিধি অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের হাতেই আছে।
পারেন; 48 নম্বর বিধির নিয়োগ-বাক্যে লিঙ্গের শর্ত নেই, কেবল উত্তরাধিকারের ব্যতিক্রমে ‘a son’ লেখা। জুমজার্নাল আর্কাইভে ইলিরা দেওয়ান নানিয়াচর, শুকরছড়ি ও মাটিরাঙ্গা মৌজায় তিনজন নারী হেডম্যানের কথা লিখেছেন। রাজা দেবাশীষ রায় 2006 সালে “a few female headmen”-এর কথা বলেন; ব্র্যাক 2011 সালে তার গবেষণা-এলাকায় কাউকে পায়নি; ডেইলি স্টারের 2022 সালের লেখা বলে নারীরা এসেছেন 2013–14 থেকে।
প্রতি মৌজায় একজন, কিন্তু মৌজার মোট সংখ্যা উৎসভেদে আলাদা। জুমজার্নাল আর্কাইভ 390টি মৌজা বলে, ঢাকা ল রিভিউ 380টি, ব্র্যাক দুটি উৎস থেকে 377 ও 369, আর রাজা দেবাশীষ রায় 350-এর বেশি। দ্য ডেইলি স্টার 2009 সালে শুধু মং সার্কেলে 88টি মৌজা ও 88 জন হেডম্যানের কথা লিখেছে। কোনো সরকারি তালিকা অনলাইনে পাওয়া যায়নি।
পদ্ধতি সম্পর্কে: বিধির বর্তমান ইংরেজি পাঠ PCJSS-এর সংকলন থেকে, এবং আপিল বিভাগের 2016 সালের রায়ে উদ্ধৃত পাঠের সঙ্গে শব্দে শব্দে মিলিয়ে দেখা। 1906 সালের পাঠ ইন্টারনেট আর্কাইভের স্ক্যান থেকে, ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পড়া। আদালতের রায়ের উদ্ধৃতি ইংরেজি মূল থেকে, বাংলা ব্যাখ্যা এই লেখার। শিরোনামের ছবি: হাচিনসনের 1906 সালের বইয়ের পরিশিষ্ট পৃষ্ঠা xxi, পাবলিক ডোমেইন।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:CHT Regulation 1900, সার্কেল চীফ, হেডম্যান
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।