Jumjournal Logo

পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কেন এগোচ্ছে না: কত আবেদন জমা, বিধিমালা ও সভার হিসাব

Last updated Nov 4th, 2026

0

খাগড়াছড়ি শহরে ঢোকার পথে লাল ইটের দুই স্তম্ভের মাঝে রংধনু রঙের খিলান, বাঁ দিকের দেয়ালে বাংলায় লেখা খাগড়াছড়ি গেইট, নিচে পিচঢালা সড়ক

পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন-এ আবেদন জমা দেওয়ার নিয়ম আইনে সহজ: সাদা কাগজে, বাংলায়, দস্তখত বা টিপসই দিয়ে কমিশনের কাছে দরখাস্ত। কমিশনের প্রধান কার্যালয় খাগড়াছড়িতে, শাখা রাঙামাটি ও বান্দরবানে। কিন্তু 1999 সালে গঠনের পর থেকে প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদনে একটি আবেদনেরও নিষ্পত্তির খবর নেই, আর কারণ হিসেবে বারবার যে কথাটি আসে তা হলো, আইনের 18 ধারার বিধিমালা আজও প্রণীত হয়নি।

2016 সালের 10 সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি থেকে কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে দেয়: ভুক্তভোগীরা 45 দিনের মধ্যে নিজে, প্রতিনিধির মাধ্যমে বা ডাকযোগে লিখিত আবেদন দিতে পারবেন। দেড় মাস পরে কমিশন জানায়, 15,669টি আবেদন জমা পড়েছে। তিন মাস পরে সংখ্যাটি 22,881। তারপর প্রায় এক দশক ধরে এই আবেদনগুলোর শুনানি শুরু হয়নি।

আইনের ধারা ধরে আবেদনের নিয়ম, কমিশনের গঠন আর কোন জমি এখতিয়ারে পড়ে, সেসব আমাদের আগের লেখা ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে আবেদন করবেন কীভাবে-তে আছে। এই লেখা বাস্তবের দিকটি নিয়ে: আবেদন কোথায় জমা হয়েছে, কমিশন কবে কবে আবেদন চেয়েছিল, কতগুলো জমা পড়েছে, এখন নতুন আবেদন নেওয়া হয় কি না, বিধিমালার কী হলো, আর কমিশনের সভাগুলো কেন বারবার আটকে গেছে। প্রতিটি তথ্যের পাশে উৎসের নাম ও তারিখ দেওয়া আছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আমাদের অন্য লেখাগুলো পাবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।

এক নজরে: আজ আবেদন করতে চাইলে যা জানা দরকার

আইন অনুযায়ী আবেদন সাদা কাগজে বাংলায় লিখে কমিশনের কাছে দিতে হয়; নির্ধারিত ফরম আইনে নেই। কমিশনের প্রধান কার্যালয় খাগড়াছড়ি জেলা সদরে, শাখা রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলা পরিষদ ভবনে। নতুন আবেদন নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে কমিশনের দিক থেকেই দুই রকম বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, আর শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা এখনো প্রকাশিত হয়নি।

প্রশ্নপ্রকাশিত উৎসে যা আছেউৎস
দরখাস্ত কীভাবে লিখতে হয়সাদা কাগজে, বাংলা ভাষায়, দস্তখত বা টিপসইসহআইন, ধারা 9(1)
প্রতিপক্ষ কারাসংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, অবৈধ বন্দোবস্ত গ্রহীতা, জানামতে বর্তমান দখলকারআইন, ধারা 10(1)
কোথায় জমাপ্রধান কার্যালয় খাগড়াছড়ি; শাখা রাঙামাটি (ডিসেম্বর 2019) ও বান্দরবান (ফেব্রুয়ারি 2020)আইন, ধারা 4; প্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022
2016 সালে কীভাবে নেওয়া হয়েছিলনিজে, প্রতিনিধির মাধ্যমে বা ডাকযোগে; আগে আবেদন করে থাকলে সেটির উল্লেখসহডেইলি অবজারভার, 11 সেপ্টেম্বর 2016
নতুন আবেদন নেওয়া হয় কি2019: চেয়ারম্যান বলেন সময়সীমা নেই; 2022: কমিশন বলে 2017 থেকে বন্ধবাংলাদেশ পোস্ট, 12 সেপ্টেম্বর 2019; প্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022
জমা পড়া আবেদন22,468 (2022, কমিশনের হিসাব); অন্য উৎসে 22,090 থেকে 26,000-এর বেশিনিচের ছক দেখুন
নিষ্পত্তি হয়েছে কয়টিকোনো প্রকাশিত উৎসে একটিরও উল্লেখ নেইপ্রথম আলো, 2022 ও 2023
বিধিমালাখসড়া জানুয়ারি 2017-এ ভূমি মন্ত্রণালয়ে; ডিসেম্বর 2023-এ “পর্যালোচনা চলছে”; মন্ত্রণালয়ের আইন-বিধি তালিকায় নেইডেইলি স্টার 2019; প্রথম আলো 2023; minland.gov.bd
বর্তমান চেয়ারম্যানঅবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ, নিয়োগ 28 আগস্ট 2025জেএসএসের বার্ষিক প্রতিবেদন, প্রথম আলো, 1 জানুয়ারি 2026

ছকের প্রতিটি সারির বিস্তারিত নিচে, আলাদা অংশে। একটি কথা শুরুতেই পরিষ্কার থাকা দরকার: এই লেখা আইনি পরামর্শ নয়। নির্দিষ্ট কোনো জমির বিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আইনজীবী, সার্কেল চিফের কার্যালয় বা কমিশনের কার্যালয়ে খোঁজ নেওয়াই নিরাপদ।

আইনে আবেদনের নিয়ম কী, সংক্ষেপে

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, 2001-এর 9(1) ধারা বলছে, আবেদনকারী “তাহার দস্তখত বা টিপসহিযুক্ত দরখাস্ত সাদা কাগজে বাংলা ভাষায় লিখিয়া কমিশনের নিকট দাখিল করিবেন”। 10(1) ধারায় প্রতিপক্ষ হিসেবে তিন পক্ষের নাম-ঠিকানা লাগে। কোর্ট ফি, স্ট্যাম্প বা আইনজীবীর শর্ত আইনে নেই।

তিনটি ধারা আজকের অবস্থা বোঝার জন্য জরুরি, তাই সেগুলো এখানে হুবহু:

  • ধারা 4: “(১) কমিশনের প্রধান কার্যালয় খাগড়াছড়ি জেলা সদরে থাকিবে৷ (২) সরকার প্রয়োজনবোধে, যে কোন পার্বত্য জেলাসহ অন্য কোন স্থানে কমিশনের শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে৷” (দ্বিতীয় উপধারার “যে কোন পার্বত্য জেলাসহ অন্য কোন স্থানে” অংশটি 2016 সালের সংশোধনীতে বসানো।)
  • ধারা 7(1): “এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে, কমিশন উহার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে।”
  • ধারা 18: “এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, যথাশীঘ্র সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিবে।” bdlaws-এর পাদটীকা অনুযায়ী “যথাশীঘ্র” শব্দটি 2016 সনের 45 নং আইনের 9 ধারায় বসানো, আগে ছিল “এই আইন বলবৎ হইবার ছয় মাসের মধ্যে”।

প্রতিপক্ষের তালিকা, আবেদন একবার সংশোধনের সুযোগ, নিজের ভাষায় সাক্ষ্য দেওয়া, সাক্ষ্য আইন মানার বাধ্যবাধকতা না থাকা, আর কাপ্তাই-বেতবুনিয়ার ব্যতিক্রম — এসবের ধারা-ভিত্তিক ব্যাখ্যা আবেদনের নিয়ম নিয়ে আমাদের লেখায় আছে। কমিশন কোন মাপকাঠিতে বিচার করবে, সেই “প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি”-র অর্থ আলাদা করে আছে ৬ ধারা নিয়ে লেখায়, আর সিদ্ধান্তের পর আপিলের প্রশ্ন ১৬ ধারা নিয়ে লেখায়।

এখানে যেটুকু যোগ করার, তা হলো 7(1) ও 18 ধারা পাশাপাশি পড়লে দাঁড়ায়: কমিশন নিজের কার্যপদ্ধতি ঠিক করবে “বিধি সাপেক্ষে”, আর বিধি বানাবে সরকার। এই লেখার বাকি অংশের অনেকটাই সেই বিধি না আসার গল্প।

পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কার্যালয় কোথায়

পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের প্রধান কার্যালয় আইন অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলা সদরে। শাখা কার্যালয় দুটি: রাঙামাটিতে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ভবনে, চালু ডিসেম্বর 2019-এ; বান্দরবানে, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চত্বরে, চালু ফেব্রুয়ারি 2020-এ। প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী শাখা দুটিতে আলাদা কর্মী নেই।

খাগড়াছড়ি শহরে ঢোকার পথে লাল ইটের দুই স্তম্ভের মাঝে রংধনু রঙের খিলান, বাঁ দিকের দেয়ালে বাংলায় লেখা খাগড়াছড়ি গেইট, নিচে পিচঢালা সড়ক
খাগড়াছড়ি গেট। আইনের 4(1) ধারা অনুযায়ী কমিশনের প্রধান কার্যালয় এই জেলা সদরে। ছবি: Moheen Reeyad · CC BY-SA 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স (ডান পাশ কিছুটা ছাঁটা)

রাঙামাটি শাখা: ডিসেম্বর 2019

বাংলাদেশ পোস্টের 27 নভেম্বর 2019-এর প্রতিবেদনে কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ার-উল হক জানান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন ভবনে কমিশনের একটি শাখা কার্যালয় হবে এবং পরদিন তিনি সেটি উদ্বোধন করবেন। 23 ডিসেম্বর 2019-এর সভা এই কার্যালয়েই বসে (বাংলা ট্রিবিউন ও বাংলাদেশ পোস্ট, দুটিই 23 ডিসেম্বর 2019)। অক্টোবর 2025-এর যে সভা স্থগিত হয়, সেটিও “রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কার্যালয়ে স্থাপিত ভূমি কমিশনের অফিসে” হওয়ার কথা ছিল, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের বিবৃতির বরাতে প্রথম আলো লিখেছে।

বান্দরবান শাখা: ফেব্রুয়ারি 2020

বিডিনিউজ২৪ জানায়, 3 ফেব্রুয়ারি 2020 সোমবার সকালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ কার্যালয়ে কমিশনের “অস্থায়ী কার্যালয়” উদ্বোধন করেন চেয়ারম্যান। হিল ভয়েসের বর্ণনায় এটি জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে “দুই কক্ষ বিশিষ্ট নতুন শাখা অফিস”।

শাখা খোলার পরে কী হলো

প্রথম আলোর 8 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন (প্রণব বল) বলছে, রাঙামাটি ও বান্দরবান শাখায় আলাদা কোনো কর্মী নেই, “বেশির ভাগ সময় এসব কার্যালয়ে তালা ঝোলে”, চেয়ারম্যান বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গেলে তালা খোলা হয়, আর কমিশনের ভাষ্যে কার্যকারিতা না থাকায় এই শাখায় নতুন আবেদনও পড়েনি। খাগড়াছড়ির প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদক দুজন কর্মী দেখেছেন, পাশে আবেদনের “ধুলোমলিন কাগজ”। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার ও সচিব ঢাকায় বসে দাপ্তরিক কাজ করেন।

শাখা খোলার আগে তিন জেলার আবেদন খাগড়াছড়ির প্রধান কার্যালয়েই যেত, প্রথম আলোকে জানিয়েছেন সেখানে কর্মরত একজন কর্মচারী।

কমিশন কবে কবে আবেদন চেয়েছিল

প্রকাশিত উৎসে কমিশনের অন্তত দুটি আবেদন-আহ্বান পাওয়া যায়। প্রথমটি বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীর সময়ে, যাতে প্রায় সাড়ে চার হাজার আবেদন পড়ে। দ্বিতীয়টি 10 সেপ্টেম্বর 2016-এ, 45 দিনের সময় দিয়ে, যা পরে “পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত” বাড়ানো হয়। এখনকার 22 হাজারের বেশি আবেদনের বড় অংশ এই দ্বিতীয় দফার।

প্রথম দফা: খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীর সময়

প্রথম আলোর 9 অক্টোবর 2014-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী বলেছিলেন, “আইন সংশোধন সরকারের বিষয়। সে জন্য কমিশন অকার্যকর থাকতে পারে না। বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই কমিশন কাজ করবে।” এরপর তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি জরিপের উদ্যোগ নেন এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আবেদন আহ্বান করেন। প্রায় সাড়ে চার হাজার আবেদন পড়ে, একটিরও নিষ্পত্তি হয়নি, জরিপের উদ্যোগও সফল হয়নি। একই তথ্য প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদনেও আছে।

এই পর্বে শুনানিরও একটি চেষ্টা হয়েছিল। জুমজার্নালের আর্কাইভে থাকা মঙ্গল কুমার চাকমার 4 মার্চ 2012-এর লেখা অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির তৃতীয় সভা (খাগড়াছড়ি, 26 ডিসেম্বর 2010) কমিশনের বিচারিক কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিলেও চেয়ারম্যান 28–29 ফেব্রুয়ারি 2012 মামলাগুলোর শুনানি শুরুর উদ্যোগ নেন। চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় কমিশনার ছাড়া অন্য কোনো সদস্য উপস্থিত না হওয়ায় শুনানি শুরু হয়নি, আর চেয়ারম্যান 1–2 এপ্রিল 2012 আবার শুরুর ঘোষণা দেন। লেখক জনসংহতি সমিতির নেতা (নিউ এজ 2017-এ তাঁর পরিচয় সংগঠনের প্রচার সম্পাদক), আর লেখায় তিনি চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করেছিলেন; এই অবস্থান তাঁর নিজের। আইন সংশোধন নিয়ে 2009 থেকে 2016 পর্যন্ত যে টানাপোড়েন চলে, তা বিস্তারিত আছে ২০১৬ সালের সংশোধনী নিয়ে লেখায়।

দ্বিতীয় দফা: সেপ্টেম্বর 2016, 45 দিন

ডেইলি অবজারভারের 11 সেপ্টেম্বর 2016-এর প্রতিবেদন (খাগড়াছড়ি, 10 সেপ্টেম্বর) অনুযায়ী কমিশন তিন পার্বত্য জেলার ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। কমিশনের তৎকালীন সচিব মো. রেজাউল করিম বিজ্ঞপ্তির শর্তগুলো জানান:

  1. ভুক্তভোগী পরবর্তী 45 দিনের মধ্যে লিখিত আবেদন দিতে পারবেন — নিজে, প্রতিনিধির মাধ্যমে, অথবা ডাকযোগে।
  2. প্রচারের দিন থেকে 45 দিন পরে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
  3. পার্বত্য এলাকার তিনটি স্থানীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন ছাপা হবে।
  4. যাঁরা আগে আবেদন করেছেন, তাঁরাও নির্ধারিত সময়ে আবার আবেদন করতে পারবেন, তবে আগের আবেদনের উল্লেখ করতে হবে।
  5. বিজ্ঞপ্তির কপি গেছে কমিশনের চেয়ারম্যান, আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, তিন সার্কেল চিফ, তিন জেলা প্রশাসক এবং চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে।

একই প্রতিবেদনে কমিশনের সূত্র জানায়, তখন পর্যন্ত মোট 4,408টি আবেদন জমা ছিল এবং নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

সময় বাড়ানো: 29 অক্টোবর 2016

45 দিন শেষ হওয়ার আগেই সময় বাড়ে। ডেইলি স্টারের 30 অক্টোবর 2016-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী আগের দিন রাঙামাটি সার্কিট হাউসে কমিশনের দ্বিতীয় সভা আবেদন জমার সময় “পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত” বাড়ায়, কারণ অনেকে তখনো আবেদন দিতে পারেননি। চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল হক জানান, ততদিনে 15,669টি আবেদন জমা পড়েছে। সভাটি হয় রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে বাঙালি বসতিস্থাপনকারীদের পাঁচ সংগঠনের ডাকা সড়ক অবরোধের মধ্যে।

হেডম্যান ও কার্বারিদের ভূমিকা

এত অল্প সময়ে এত আবেদন কীভাবে জমা পড়ল, তার একটি বিবরণ দিয়েছেন গবেষক হানা শামস আহমেদ, ডেইলি স্টারে 10 আগস্ট 2022-এর লেখায়। তাঁর ভাষায়, 2016 সালের সংশোধনের পর হেডম্যান (মৌজাপ্রধান) ও কার্বারিরা (পাড়াপ্রধান) নিজ নিজ এলাকা থেকে মানুষকে কমিশনে আবেদন জমা দিতে সংগঠিত করায় “very crucial role” পালন করেন। তিনি লেখেন, আবেদন জমার সময়সীমা “very short” ছিল; চাকমা সার্কেল চিফের কার্যালয়, হেডম্যান ও কার্বারি নেটওয়ার্ক এবং হেডম্যান-কার্বারিরা গ্রামে গিয়ে মানুষকে কমিশনের সিদ্ধান্ত ও আবেদনের প্রক্রিয়া জানান এবং দরখাস্ত লিখতে সাহায্য করেন। তাঁদের প্রথাগত দায়িত্ব নিয়ে দেখুন মৌজা হেডম্যান ও কার্বারির কাজ নিয়ে লেখা।

আবেদনের প্রাপ্তিস্বীকার

ডেইলি স্টারের 4 আগস্ট 2019-এর প্রতিবেদনে (জামিল মাহমুদ) খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার এক আবেদনকারীর কথা আছে, যিনি ফেব্রুয়ারি 2016-এ আবেদন করেছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী আবেদন জমার সময় তাঁকে একটি প্রাপ্তিস্বীকার স্লিপ (acknowledgement slip) দেওয়া হয়, কিন্তু তিন বছরে অগ্রগতি নিয়ে কোনো চিঠি বা নোটিশ তিনি পাননি। আবেদনের প্রাপ্তিস্বীকার দেওয়ার কথা অন্য কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।

এখন কি নতুন আবেদন নেওয়া হয়

এই প্রশ্নে প্রকাশিত দুটি বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর 2019-এ চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল হক বলেন, আবেদন গ্রহণ চলছে এবং এর কোনো সময়সীমা নেই। সেপ্টেম্বর 2022-এ প্রথম আলোকে কমিশন জানায়, আগের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ায় 2017 সাল থেকে নতুন আবেদন নেওয়া বন্ধ। 2022-এর পরের কোনো প্রকাশিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ পোস্টের 12 সেপ্টেম্বর 2019-এর প্রতিবেদনে রাঙামাটি সার্কিট হাউসের সভার পর চেয়ারম্যানের বক্তব্য: ভুক্তভোগীদের আবেদন গ্রহণ চলছে, “it had no time limit”, যেকোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কমিশনে আবেদন করতে পারেন, আর কমিশন যতদিন থাকবে প্রক্রিয়াটিও চলবে। একই কথা আবার এসেছে বাংলাদেশ পোস্টের 27 নভেম্বর 2019-এর প্রতিবেদনে।

প্রথম আলোর 8 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদনে খাগড়াছড়ির কার্যালয়ের একজন কর্মচারী বলেন, “২০১৭ সালেই শেষ আবেদন জমা পড়ে।” কমিশনের বক্তব্য হিসেবে প্রতিবেদনটি লিখেছে, ২২ হাজার ৪৬৮ আবেদনের কোনোটিরই নিষ্পত্তি না হওয়ায় “২০১৭ সাল থেকে নতুন আবেদন নেওয়া বন্ধ”।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন 18 আগস্ট 2025-এ ঢাকায় এক মতবিনিময় সভায় যে সুপারিশ দেয়, তার একটি ছিল “ভূমি বিরোধের নিষ্পত্তি চেয়ে আবেদনপত্র লেখা ও দাখিল করার ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া” (বাংলা ট্রিবিউন, 19 আগস্ট 2025)। আবেদন দাখিলের পথ তখন খোলা ছিল কি না, প্রতিবেদনে তা বলা নেই।

আইনে আবেদন দাখিলের কোনো সময়সীমা বা তামাদির বিধান নেই; 2016 সালের 45 দিনের সীমাটি এসেছিল কমিশনের নিজের বিজ্ঞপ্তি থেকে। ফলে আজ কেউ আবেদন দিতে চাইলে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ হলো কমিশনের খাগড়াছড়ি কার্যালয় থেকে সরাসরি জেনে নেওয়া, আর আবেদনের প্রাপ্তিস্বীকার রেখে দেওয়া।

কতগুলো আবেদন জমা পড়েছে: বছর ধরে ধরে হিসাব

সবচেয়ে বিস্তারিত সরকারি-সূত্রের হিসাব প্রথম আলোর 8 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদনে: মোট 22,468টি আবেদন — রাঙামাটি 9,941, খাগড়াছড়ি 7,975, বান্দরবান 4,552। জানুয়ারি 2017-এ চেয়ারম্যান দিয়েছিলেন 22,881, আর অক্টোবর 2025-এ 33 নাগরিকের বিবৃতি বলছে 26 হাজারের বেশি। নিচের ছকে প্রতিটি সংখ্যা তার উৎস ও তারিখসহ।

যখনকার হিসাবআবেদনের সংখ্যাকে বলেছেনউৎস
2009–2012 (খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীর সময়)প্রায় সাড়ে চার হাজারপ্রতিবেদকপ্রথম আলো, 9 অক্টোবর 2014 ও 8 সেপ্টেম্বর 2022
10 সেপ্টেম্বর 20164,408কমিশনের সূত্রডেইলি অবজারভার, 11 সেপ্টেম্বর 2016
29 অক্টোবর 201615,669চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল হকডেইলি স্টার, 30 অক্টোবর 2016
15 জানুয়ারি 201722,881 (রাঙামাটি 9,940; খাগড়াছড়ি 8,373; বান্দরবান 4,568)চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল হকডেইলি স্টার, 16 জানুয়ারি 2017
এপ্রিল 201724,000প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীডেইলি স্টার, 17 এপ্রিল 2017
ডিসেম্বর 2017অন্তত 22,000জনসংহতি সমিতির মঙ্গল কুমার চাকমানিউ এজ, 4 ডিসেম্বর 2017
ফেব্রুয়ারি ও অক্টোবর 201822,000চেয়ারম্যানডেইলি স্টার, 12 ফেব্রুয়ারি ও 9 অক্টোবর 2018
সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর 201922,090চেয়ারম্যান; কমিশনের সচিব আলী মনসুরদ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 12 সেপ্টেম্বর 2019; বাংলাদেশ পোস্ট, 12 সেপ্টেম্বর ও 27 নভেম্বর 2019
23 ডিসেম্বর 201924,000কমিশনের সচিব মো. শাহাব উদ্দিনবাংলাদেশ পোস্ট, 23 ডিসেম্বর 2019
ফেব্রুয়ারি 2020প্রায় 24,000 / 24,000-এর বেশিচেয়ারম্যানবিডিনিউজ২৪, 3 ফেব্রুয়ারি 2020; ডেইলি স্টার, 3 ফেব্রুয়ারি 2020
সেপ্টেম্বর 202222,468 (রাঙামাটি 9,941; খাগড়াছড়ি 7,975; বান্দরবান 4,552)কমিশনপ্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022
আগস্ট 2023প্রায় 23,000সম্পাদকীয়প্রথম আলো ইংরেজি, 22 আগস্ট 2023
নভেম্বর 202322,000-এর বেশিকমিশনের সচিব মো. নেজাম উদ্দিনপ্রথম আলো, 2 ডিসেম্বর 2023
অক্টোবর 202526,000-এর বেশি (“জানা যায়”)33 নাগরিকের বিবৃতিপ্রথম আলো, 20 অক্টোবর 2025

দুটি জেলাভিত্তিক হিসাব পাশাপাশি রাখা যায়। জানুয়ারি 2017-এ রাঙামাটি 9,940, খাগড়াছড়ি 8,373, বান্দরবান 4,568; সেপ্টেম্বর 2022-এ রাঙামাটি 9,941, খাগড়াছড়ি 7,975, বান্দরবান 4,552। দুই হিসাবের পার্থক্যের কোনো ব্যাখ্যা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদন আরও বলছে, “কমিশন এখনো আবেদনগুলো যাচাই–বাছাইও করতে পারেনি।” অন্যদিকে বাংলাদেশ পোস্টের 23 ডিসেম্বর 2019-এর প্রতিবেদনে চেয়ারম্যান বলেন, জমা পড়া আবেদন তাঁরা তখন যাচাই করছেন (“scrutinising”), আর ডেইলি স্টারের 2019 সালের প্রতিবেদনে কমিশনের সদস্য ও বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা বলেন, অভিযোগগুলো অগ্রাধিকার অনুযায়ী সাজানো হয়ে গেছে।

ফরম, ফি আর বিধিমালা: যা এখনো ঠিক হয়নি

আইনে আবেদনের কোনো ফরম, ফি বা সময়সীমা নেই, আর সেগুলো ঠিক করার জায়গা হলো 18 ধারার বিধিমালা। সেই বিধিমালা আজও গেজেটে প্রকাশিত হয়নি। ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুটির ওয়েবসাইটের আইন-বিধি তালিকাতেই কমিশন আইন আছে, কমিশনের কোনো বিধিমালা নেই।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের “গ্রুপ ভিত্তিক সকল আইন/বিধি” পাতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন 2016 (প্রকাশ 13 অক্টোবর 2016), মূল কমিশন আইন 2001 (17 জুলাই 2001) আর ভূমি-খতিয়ান (পার্বত্য চট্টগ্রাম) অধ্যাদেশ 1984 তালিকাভুক্ত, কমিশনের কোনো বিধিমালা নেই। একই পাতায় 2026 সালের একটি বিধিমালাও তালিকাভুক্ত, অর্থাৎ পাতাটি হালনাগাদ হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের “বিধিমালা” পাতায় (শেষ হালনাগাদ 1 মে 2025) এগারোটি দলিল, তার মধ্যেও কমিশনের বিধিমালা নেই।

বিধিমালা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা কমিশনের ভেতরের মানুষেরা বারবার বলেছেন:

  • “কমিশন কী প্রক্রিয়ায় কাজ করবে, তার একটি বিধিমালা দরকার। কিন্তু এখনো বিধিমালা হয়নি।” — কমিশনের সচিব (যুগ্ম জেলা জজ) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন, প্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022।
  • “বিধিমালা চুড়ান্ত হলেই … জমা পড়া ২২ হাজার আবেদনের শুনানী শুরু হবে” — চেয়ারম্যান আনোয়ার উল হক, আইপিনিউজবিডি, 9 অক্টোবর 2018।
  • “We will start hearing them as soon as the government makes the rules” — সন্তু লারমা, অক্টোবর 2018-এর সভার পর, ডেইলি স্টারের 2019 সালের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত।
  • কাপেং ফাউন্ডেশন ডেইলি স্টারকে বলে, বিধিমালা ছাড়া কমিশন অভিযোগের শুনানি বা বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে না (ডেইলি স্টার, 4 আগস্ট 2019)।

বিধিমালার খসড়ায় ঠিক কী আছে, তার পূর্ণ পাঠ প্রকাশিত হয়নি। একটি বাক্যই প্রকাশিত উৎসে মেলে: নিউ এজের 4 ডিসেম্বর 2017-এর প্রতিবেদনে কমিশনের এক সূত্র বলেছেন, খসড়া অনুযায়ী আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে কমিশন ভূমি-বিরোধে উদ্যোগ নেবে। আবেদনের ফরম, ফি বা শুনানির ধাপ খসড়ায় কীভাবে আছে, জানা যায়নি।

বিধিমালার খসড়া কোথায় আটকে: 2017 থেকে 2026

খসড়া বিধিমালা জানুয়ারি 2017-এ ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর সংসদীয় কমিটি (2018), পার্বত্য মন্ত্রী (2019), চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি (2023) সবাই দ্রুত চূড়ান্ত করার কথা বলেছেন; ডিসেম্বর 2023-এ ভূমি মন্ত্রণালয় বলেছে “পর্যালোচনা চলছে”। নিচে প্রকাশিত প্রতিটি ধাপ তারিখসহ।

তারিখকী ঘটেছেউৎস
17 জুলাই 2001আইন বলবৎ; 18 ধারায় বিধি প্রণয়নের সময় “ছয় মাসের মধ্যে”bdlaws, আইন ও পাদটীকা 14
অক্টোবর 2016সংশোধনীতে “ছয় মাসের মধ্যে”-র জায়গায় “যথাশীঘ্র”bdlaws; ভূমি মন্ত্রণালয়ের তালিকা
1 জানুয়ারি 2017খসড়া বিধিমালা জমানিউ এজ, 4 ডিসেম্বর 2017 (সন্তু লারমার বরাতে)
5 জুলাই 2018 (প্রতিবেদন)পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির 32তম সভা (3 জুলাই) ভূমি মন্ত্রণালয়কে “পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন বিধিমালা-২০১৬” দ্রুত কার্যকর করতে সুপারিশ করেডেইলি রাঙামাটি, 5 জুলাই 2018
অক্টোবর 2018চেয়ারম্যান: খসড়ায় আঞ্চলিক পরিষদ সংশোধনী দিয়েছে, তা “চুড়ান্ত করণের পর্যায়ে”আইপিনিউজবিডি, 9 অক্টোবর 2018
19 মার্চ 2019কমিশনের সভা আবার সিদ্ধান্ত নেয়, বিধিমালা গৃহীত হলেই বিচারিক কাজ শুরু হবেহিল ভয়েস, 19 মার্চ 2019
27 জুন 2019পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং ঢাকায় বলেন, খসড়া সম্প্রতি চূড়ান্ত হয়েছে, শিগগির কার্যকর হবেডেইলি স্টার, 4 আগস্ট 2019
2019 (আগস্টের প্রতিবেদনের আগে)ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কামরুল হাসান ফেরদৌস: খসড়া নিয়ে কাজ চলছে; দেরির প্রশ্নে সরাসরি উত্তর দেননিডেইলি স্টার, 4 আগস্ট 2019
12 সেপ্টেম্বর 2019চেয়ারম্যান: “We have sent recommendations to the government, but the government is yet to draft the rules of business”; অন্যত্র বলেন, প্রক্রিয়া “almost at the end”দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; বাংলাদেশ পোস্ট, দুটিই 12 সেপ্টেম্বর 2019
সেপ্টেম্বর 2022সচিব: বিধিমালা প্রণয়ন করবে সরকার, মন্ত্রণালয় কাজ করছে; চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় ভূমিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেনপ্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022
20 আগস্ট 2023চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভা বিধিমালা প্রণয়নের তাগিদ দেয়; আগের সভায় পার্বত্য মন্ত্রণালয় ও আঞ্চলিক পরিষদকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলপ্রথম আলো ইংরেজি সম্পাদকীয়, 22 আগস্ট 2023
নভেম্বর 2023ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরিপ বিভাগের উপসচিব এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন: “বিধিমালার খসড়া নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।”প্রথম আলো, 2 ডিসেম্বর 2023
18 আগস্ট 2025চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের প্রথম দাবি: “ভূমি কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ণ”বাংলা ট্রিবিউন, 19 আগস্ট 2025
নভেম্বর 2026ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন-বিধি তালিকায় কমিশনের বিধিমালা নেইminland.gov.bd, 4 নভেম্বর 2026-এ দেখা

খসড়াটি কে জমা দিয়েছিল, সে প্রশ্নে উৎসগুলোর ভাষা আলাদা। ডেইলি স্টার (2019) লিখেছে, কমিশন জানুয়ারি 2017-এ ভূমি মন্ত্রণালয়ে খসড়া দেয়; হিল ভয়েস (2019) লিখেছে, আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জানুয়ারি 2017-এ ভূমি মন্ত্রণালয়ে খসড়া জমা দেন; প্রথম আলো (2022) লিখেছে, আঞ্চলিক পরিষদ একটি খসড়া তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দিয়েছে।

সভা বসে না কেন: 2005 থেকে 2025 পর্যন্ত বৈঠকের হিসাব

কমিশনের প্রথম সভা হয় 7 জুন 2005, খাগড়াছড়িতে। 2016 সালের সংশোধনের পর রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে নিয়মিত সভা বসতে শুরু করে; হানা শামস আহমেদের হিসাবে 2016-এর পর 11টি। শেষ যে সভার খবর পাওয়া যায় তা 3 ফেব্রুয়ারি 2020-এর, কোরাম ছাড়া। সেপ্টেম্বর 2022 ও অক্টোবর 2025-এর সভা দুটি ডাকার পর স্থগিত হয়।

তারিখ ও স্থানযা ঘটেছেউৎস
7 জুন 2005, খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসপ্রথম সভা, চেয়ারম্যান বিচারপতি এ এম মাহমুদুর রহমান। সন্তু লারমা: প্রয়োজনীয় আইন না হলে কমিশন কাজ শুরু করবে না। চেয়ারম্যান: কমিশনের চেয়ে “ট্রাইব্যুনাল” হলে বেশি কার্যকর হতোডেইলি স্টার, 8 জুন 2005
28–29 ফেব্রুয়ারি 2012, খাগড়াছড়িশুনানির উদ্যোগ; চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় কমিশনার ছাড়া কেউ আসেননিমঙ্গল কুমার চাকমা, জুমজার্নাল আর্কাইভ
3 সেপ্টেম্বর 2016, রাঙামাটি সার্কিট হাউসসংশোধনী অনুমোদনের পর প্রথম সভা; একই দিনে বাঙালি বসতিস্থাপনকারীদের পাঁচ সংগঠনের হরতালডেইলি স্টার, 4 সেপ্টেম্বর 2016
29 অক্টোবর 2016, রাঙামাটি সার্কিট হাউসদ্বিতীয় সভা; আবেদনের সময় বৃদ্ধি; সড়ক অবরোধডেইলি স্টার, 30 অক্টোবর 2016
15 জানুয়ারি 2017, বান্দরবান সার্কিট হাউস22,881 আবেদনের হিসাব; জনবল ও অফিস নিয়ে আলোচনাডেইলি স্টার, 16 জানুয়ারি 2017
11 ফেব্রুয়ারি 2018, রাঙামাটি সার্কিট হাউসচেয়ারম্যানের পুনর্নিয়োগের পর প্রথম সভা; দুই শাখা অফিস খোলার ঘোষণা; প্রথমে ভারত-প্রত্যাগত শরণার্থীদের কাজডেইলি স্টার, 12 ফেব্রুয়ারি 2018
27 জুন 2018, বান্দরবান সার্কিট হাউসসভা (বিস্তারিত পাওয়া যায়নি)হিল ভয়েস, 19 মার্চ 2019
অক্টোবর 2018, রাঙামাটি সার্কিট হাউসরুদ্ধদ্বার সভা; শরণার্থীদের অগ্রাধিকার; খসড়া বিধিমালা চূড়ান্তকরণের পর্যায়েডেইলি স্টার ও আইপিনিউজবিডি, 9 অক্টোবর 2018
19 মার্চ 2019, রাঙামাটি সার্কিট হাউসপ্রত্যাগত শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের মামলা অগ্রাধিকার পাবে; খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, বোমাং চিফ ও বিভাগীয় কমিশনার অনুপস্থিতহিল ভয়েস, 19 মার্চ 2019
12 সেপ্টেম্বর 2019, রাঙামাটি সার্কিট হাউসচেয়ারম্যান: বিধিমালার অপেক্ষা; পরের সভা অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহেদ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; বাংলাদেশ পোস্ট
27 নভেম্বর 2019, রাঙামাটি সার্কিট হাউসচেয়ারম্যান: 23 ডিসেম্বর থেকে আবেদনের কার্যক্রম শুরু হবেবাংলাদেশ পোস্ট, 27 নভেম্বর 2019
23 ডিসেম্বর 2019, রাঙামাটি জেলা পরিষদ ভবনে কমিশনের কার্যালয়পার্বত্য নাগরিক পরিষদের ঘেরাওয়ের মধ্যে এক ঘণ্টা দেরিতে সভা শুরুবাংলা ট্রিবিউন; বাংলাদেশ পোস্ট, 23 ডিসেম্বর 2019
3 ফেব্রুয়ারি 2020, বান্দরবানকোরাম হয়নি, আনুষ্ঠানিক সভা হয়নি; অনানুষ্ঠানিক আলোচনাহিল ভয়েস; বণিক বার্তা; ডেইলি স্টার
7 সেপ্টেম্বর 2022, রাঙামাটি (ডাকা হয়েছিল)আগের দিন স্থগিত; পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ 32 ঘণ্টার হরতাল ডেকেছিলপ্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022; নিউ এজ, 10 সেপ্টেম্বর 2022
19 অক্টোবর 2025, রাঙামাটি (ডাকা হয়েছিল)16 অক্টোবর রাতে “অনিবার্য কারণে” স্থগিত; পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ হরতাল ডেকেছিলপ্রথম আলো ও বিডিনিউজ২৪, 17 অক্টোবর 2025

সভা না বসার পেছনে তিন ধরনের কারণ উৎসগুলোতে আসে, আর প্রায়ই একসঙ্গে। প্রথমত, সদস্যদের অনুপস্থিতি: ফেব্রুয়ারি 2020-এর বান্দরবান সভায় হিল ভয়েসের হিসাবে নয়জনের মধ্যে চারজন এসেছিলেন — চেয়ারম্যান, বোমাং সার্কেল চিফ, বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার। হিল ভয়েস লিখেছে, আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান নিরাপত্তার কারণে সভা রাঙামাটিতে করার অনুরোধ করেছিলেন, তা গৃহীত না হওয়ায় তিনি ও চাকমা সার্কেল চিফ অনুপস্থিত ছিলেন। বণিক বার্তা লিখেছে, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির প্রতিনিধিরা না আসায় নিয়মিত বৈঠক হয়নি। প্রথম আলো (2022) লিখেছে, ওই সভায় কমিশনের পাঁচ সদস্যের “কেউই ছিলেন না”।

দ্বিতীয়ত, কোভিড: প্রথম আলোকে কমিশনের সচিব নেজাম উদ্দীন 2022 সালে বলেন, “করোনার কারণে ২০২০ সালের পর আর সভা হয়নি।” তৃতীয়ত, হরতাল ও অবরোধ: পরের দুটি সভা ডাকা হয়েছিল, দুটিই হরতাল বা অবরোধের ঘোষণার পর স্থগিত হয় (নিচের “হরতাল, ঘেরাও” অংশ দেখুন)।

আইনে সদস্য পাঁচজন, সভায় ডাকা হয় নয়জনকে

আইনের 3(2) ধারায় কমিশন পাঁচ সদস্যের, আর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সার্কেল চিফ আসেন “সংশ্লিষ্ট” হিসেবে, অর্থাৎ বিরোধীয় জমি যে জেলা ও সার্কেলের। বাস্তবের সভাগুলোতে তিন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও তিন সার্কেল চিফ সবাই ডাক পান। হিল ভয়েস (2020) ও প্রথম আলো (2022) দুটিই সংখ্যাটি নয় বলে লিখেছে।

3(2) ধারার ব্যাখ্যায় লেখা: “সংশ্লিষ্ট” অর্থ “বিরোধীয় ভূমি যথাক্রমে যে পার্বত্য জেলা এবং যে সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত”। ফলে কোনো একটি আবেদনের নিষ্পত্তিতে পাঁচজনই বসার কথা। কিন্তু কমিশন এখনো কোনো আবেদনের নিষ্পত্তিতে বসেনি; যে সভাগুলো হয়েছে, সেগুলো সাধারণ প্রশাসনিক সভা। প্রথম আলো 2022 সালে সদস্যের তালিকা দিয়েছে এভাবে: আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, তিন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, তিন সার্কেল প্রধান, বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধি ও কমিশনের চেয়ারম্যান। ডেইলি স্টারের 2016–2020 সালের প্রতিবেদনগুলোর উপস্থিতি-তালিকাতেও তিন সার্কেলের চিফ বা প্রতিনিধি আর তিন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রতিনিধির নাম একসঙ্গে আছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের “ল্যান্ড কমিশন” পাতায় (শেষ হালনাগাদ 1 মে 2025) কমিশনকে বলা হয়েছে “৫ জন সদস্য নিয়ে” গঠিত। আঞ্চলিক পরিষদ কী, তার গঠন ও ক্ষমতা জানতে দেখুন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ: গঠন, ক্ষমতা ও আসন-বণ্টন।

এই সংখ্যার প্রশ্নটি রাজনৈতিক বিতর্কেও আছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) অক্টোবর 2025-এ দাবি তোলে, কমিশনে “পার্বত্য বাঙালীদের কোনো প্রতিনিধি নেই” (ইত্তেফাক, 16 অক্টোবর 2025)। ইউরেশিয়া রিভিউতে অক্টোবর 2024-এ ড. সালেহ শাহরিয়ার লেখেন, 3(2) ধারায় কোনো বাঙালি প্রতিনিধি না থাকা “one of the most contentious aspects” এবং এতে কমিশনে আদিবাসী সদস্যদের প্রাধান্য নিশ্চিত হয়, যা নিয়ে সমালোচনা আছে।

চেয়ারম্যান কে কবে ছিলেন, আর মাঝের শূন্যতা

1999 থেকে 2025 পর্যন্ত যাঁরা কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন, তাঁদের নাম পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের তালিকা ও সংবাদে পাওয়া যায়; প্রথমজন দায়িত্ব নেওয়ার আগেই মারা যান, দ্বিতীয়জন অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেন। মাঝে মাঝে পদ ফাঁকা থেকেছে: 2007–2009, 2012–2014 এবং সেপ্টেম্বর–ডিসেম্বর 2017। সর্বশেষ নিয়োগ 28 আগস্ট 2025।

চেয়ারম্যাননিয়োগযা ঘটেছিলউৎস
বিচারপতি আনোয়ারুল হক চৌধুরী3 জুন 1999দায়িত্ব নেওয়ার আগেই মৃত্যুপ্রথম আলো 2014; পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের তালিকা
বিচারপতি আবদুল করিম5 এপ্রিল 2000কিছুদিন পর অসুস্থতার কারণে পদত্যাগপ্রথম আলো 2014, 2022; পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের তালিকা
বিচারপতি এ এম মাহমুদুর রহমাননভেম্বর 2001 (তারিখ নিয়ে অমিল, নিচে দেখুন)2007 সালে মৃত্যু; প্রথম সভা 2005-এপ্রথম আলো 2014; নিউ এজ 2017; ডেইলি স্টার 2005
বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী2009জরিপ ও আবেদন-আহ্বান; মেয়াদ শেষ 18 জুলাই 2012পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের তালিকা; প্রথম আলো 2014
বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার-উল হক7 সেপ্টেম্বর 2014; পুনর্নিয়োগ 11 ডিসেম্বর 2017প্রথম মেয়াদ শেষ 6 সেপ্টেম্বর 2017; 2016-এর আবেদন-আহ্বান ও 2016–2020-এর সভাগুলো তাঁর সময়েপ্রথম আলো 2014; নিউ এজ 2017; ডেইলি স্টার 2018
বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ (আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি)28 আগস্ট 202519 অক্টোবর 2025-এর সভা ডাকেন, তা স্থগিত হয়জেএসএস, প্রথম আলোর 1 জানুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদনে; প্রথম আলো 20 অক্টোবর 2025

আনোয়ার-উল হকের দ্বিতীয় মেয়াদ কবে শেষ হয়, তারপর আগস্ট 2025 পর্যন্ত কেউ দায়িত্বে ছিলেন কি না, প্রকাশিত উৎসে স্পষ্ট নেই। আইনের 5 ধারায় কমিশনের মেয়াদ চেয়ারম্যান নিয়োগের তারিখ থেকে তিন বছর। আগস্ট 2025-এর মতবিনিময় সভায় চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের দাবির তালিকায় ছিল “ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ” (বাংলা ট্রিবিউন, 19 আগস্ট 2025); দশ দিন পর নতুন নিয়োগ হয়। কমিশনের চেয়ারম্যানদের ইতিহাসের প্রেক্ষাপট পাবেন ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন লেখায়।

প্রথম আলোর 9 অক্টোবর 2014-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী নতুন চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল হক 14 সেপ্টেম্বর 2014 খাগড়াছড়ির প্রধান কার্যালয়ে বসেন এবং সদস্যদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তখন সন্তু লারমা তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত কমিশনের সভা করে লাভ হবে না, “কারণ, ত্রুটিপূর্ণ আইনের ভিত্তিতে কমিশনের কাজ তাঁরা মানবেন না।” দুই বছর পর সংশোধনী হয়, আর তার পরের সভাগুলোতে সন্তু লারমা উপস্থিত ছিলেন।

লোকবল, অফিস ও টাকা: কমিশন কীভাবে চলে

প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী কমিশনের তিনটি শীর্ষ পদের (চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, সচিব) বাইরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদ পাঁচটি, আর বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক খরচ মিলে সরকারের বছরে খরচ প্রায় সোয়া কোটি টাকা। জনবল ও অফিসের সংকটের কথা 2016 থেকে প্রায় প্রতিটি সভার পর বলা হয়েছে।

  • সেপ্টেম্বর 2016: চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায় বলেন, আইনের অসংগতি দূর হয়েছে, “Now the commission needs manpower and office to work” (ডেইলি স্টার, 4 সেপ্টেম্বর 2016)।
  • জানুয়ারি 2017: বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা: কমিশনের কাজের জন্য জনবল ও অফিস দরকার (ডেইলি স্টার, 16 জানুয়ারি 2017)।
  • ডিসেম্বর 2017: সন্তু লারমা বলেন, জনবলসংকট এবং বান্দরবান ও রাঙামাটিতে আলাদা অফিস না থাকায় কাজ ব্যাহত (নিউ এজ, 4 ডিসেম্বর 2017)।
  • মার্চ 2019: হিল ভয়েস লিখেছে, তহবিলের অভাবে শাখা অফিস ও জনবল নিয়োগে অগ্রগতি নেই।
  • সেপ্টেম্বর 2019: চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল হক: কমিশন এখনো জনবল নিয়োগ ও তিন জেলায় অফিস করতে পারেনি, “These issues are tied up in red tape at the Ministry of Land” (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 12 সেপ্টেম্বর 2019)।
  • সেপ্টেম্বর 2022: সচিব নেজাম উদ্দীন: বিধিমালা ছাড়াও “জনবলসহ আরও কিছু জটিলতা রয়েছে। তাই কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।” (প্রথম আলো)
  • অক্টোবর 2025: 33 নাগরিকের বিবৃতি: কমিশন পরিচালনার জন্য যথাযথ লোকবল ও প্রয়োজনীয় বাজেটের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি (প্রথম আলো, 20 অক্টোবর 2025)।

আইনের 13(1) ধারায় কমিশনের সচিব হবেন “আইন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে অভিজ্ঞ সরকারের উপ-সচিব পদ মর্যাদার কর্মকর্তাগণের মধ্য হইতে”। প্রকাশিত প্রতিবেদনে 2022 ও 2025 সালের সচিবের পরিচয় দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে “যুগ্ম জেলা জজ” ও “যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ” হিসেবে। 13(3) ধারায় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার দিয়ে স্থায়ী অধিবাসী নিয়োগের বিধান আছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের “ল্যান্ড কমিশন” পাতায় লেখা, “এই কমিশনকে যাবতীয় সহায়তা দেয়া ভূমি মন্ত্রণালয় দায়িত্ব”, এবং “কমিশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে”।

হরতাল, ঘেরাও আর স্থগিত সভা: কারা আপত্তি করছেন, কী চাইছেন

2016 থেকে 2025 পর্যন্ত কমিশনের বিভিন্ন সভা বা কর্মসূচির দিনে বাঙালি সংগঠনগুলোর হরতাল, অবরোধ বা ঘেরাওয়ের খবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে আছে, আর সেপ্টেম্বর 2022 ও অক্টোবর 2025-এর সভা এমন ঘোষণার পর স্থগিত হয়। আপত্তিকারীদের মূল দাবি 2016 সালের সংশোধনী বাতিল, কমিশনে বাঙালি প্রতিনিধি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির আগে ভূমি জরিপ।

ঘটনাক্রম

  • 3 সেপ্টেম্বর 2016: বাঙালি বসতিস্থাপনকারীদের পাঁচ সংগঠন তিন জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে, দাবি সংশোধনী আইন বাতিল ও কমিশনের প্রথম সভার প্রতিবাদ। রাঙামাটির 10 উপজেলার সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক ও নৌ যোগাযোগ বন্ধ থাকে (ডেইলি স্টার, 4 সেপ্টেম্বর 2016)।
  • 29 অক্টোবর 2016: রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে একই পাঁচ সংগঠনের সড়ক অবরোধের মধ্যে সভা (ডেইলি স্টার, 30 অক্টোবর 2016)।
  • 23 ডিসেম্বর 2019: সকাল 8টা থেকে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রবেশপথ ঘেরাও করে, শহরে যান চলাচল বন্ধ থাকে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. সোলাইমান বলেন, “যদি কমিশন আইন সংশোধন না করে কোনও সভা করতে চায় আমরা তা হতে দেবো না।” (বাংলা ট্রিবিউন, 23 ডিসেম্বর 2019)
  • 3 ফেব্রুয়ারি 2020: বান্দরবানে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ চেয়ারম্যানের গাড়ি অবরোধ করে, মানববন্ধন করে, স্মারকলিপি দেয় (বিডিনিউজ২৪; বণিক বার্তা)। হিল ভয়েসের বর্ণনায় দাবিগুলোর মধ্যে ছিল বর্তমান কমিশন বাতিল, আইনের সংশোধন এবং বাঙালি সম্প্রদায় থেকে সমান সদস্য নিয়োগ।
  • সেপ্টেম্বর 2022: 7 সেপ্টেম্বরের সভার আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ 32 ঘণ্টার হরতাল ডাকে; সরকার সভা স্থগিত করে (নিউ এজ সম্পাদকীয়, 10 সেপ্টেম্বর 2022)। প্রথম আলো লিখেছে, “একটি সংগঠন” অবরোধ ডাকার পর সভা স্থগিত হয়।
  • অক্টোবর 2025: “রাঙ্গামাটির সচেতন ছাত্র-জনতা” ব্যানারে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ 19 অক্টোবরের সভা বাতিলের দাবিতে হরতাল ডাকে, এবং সভা অন্য জেলায় সরানো হলে সেখানেও একই কর্মসূচির ঘোষণা দেয় (ইত্তেফাক, 16 অক্টোবর 2025)। 16 অক্টোবর রাতে কমিশনের সচিব মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিনের চিঠিতে সভা “অনিবার্য কারণে” স্থগিত হয় (প্রথম আলো; বিডিনিউজ২৪)।

পিসিসিপির আট দফা (অক্টোবর 2025)

ইত্তেফাকের 16 অক্টোবর 2025-এর প্রতিবেদনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের আট দফা দাবি পুরোটা ছাপা হয়েছে। সংক্ষেপে:

  1. কমিশনে জনসংখ্যার অনুপাতে সব জাতিগোষ্ঠী থেকে “সমান সংখ্যক সদস্য” নিশ্চিত করা।
  2. বিরোধ নিষ্পত্তি শুরুর আগে ভূমির বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করতে ভূমি জরিপ সম্পন্ন করা।
  3. সংবিধানের সঙ্গে “সাংঘর্ষিক” বলে 2016 সালের সংশোধনী আইনের ধারাগুলো বাতিল।
  4. পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবস্থাপনা দেশের প্রচলিত আইনে চালানো এবং সমতলের মতো জেলা প্রশাসকদের বিরোধ নিষ্পত্তির অধিকার দেওয়া।
  5. কমিশনের সিদ্ধান্তে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারি খাস জমিতে পুনর্বাসন।
  6. চেয়ারম্যানের ক্ষমতা 2001 সালের আইন অনুযায়ী ফিরিয়ে আনা।
  7. “তথাকথিত রীতি, প্রথা ও পদ্ধতি”-র বদলে দেশে বিদ্যমান ভূমি আইনে কমিশনের কাজ চালানো।
  8. জেলা প্রশাসকের বন্দোবস্ত বা কবুলিয়তপ্রাপ্ত মালিকানা থেকে কাউকে উচ্ছেদ না করা।

2016 সালের সংশোধনীতে ঠিক কী বদলেছিল — সিদ্ধান্তের সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিয়ম, কোরাম, “পদ্ধতি” শব্দ — তা সংশোধনী নিয়ে লেখায় ধারা ধরে আছে, আর “রীতি ও পদ্ধতি” নিয়ে বাঙালি সংগঠনগুলোর আপত্তির ব্যাখ্যা আছে ৬ ধারা নিয়ে লেখায়।

স্থগিতের প্রতিক্রিয়া

2022 সালের স্থগিতের পর 23 জন অধিকারকর্মী 8 সেপ্টেম্বর বিবৃতি দেন; নিউ এজের সম্পাদকীয় অনুযায়ী তাঁদের অভিযোগ, সরকারের ভেতরের একটি অংশ নাগরিক পরিষদকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন দেয়। 2025 সালের স্থগিতের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন (যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন ও অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী) বিবৃতিতে বলে, “এ ধরনের অনভিপ্রেত হুঁশিয়ারিতে যদি বারবার সভা ডেকে স্থগিত করা হয়, তবে তাতে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়বে” (প্রথম আলো, 17 অক্টোবর 2025)। 33 নাগরিকের বিবৃতি একই ধরনের অভিযোগ তোলে এবং “উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত” দাবি করে (প্রথম আলো, 20 অক্টোবর 2025)। জনসংহতি সমিতির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী 22 অক্টোবর 2025-এ ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন টাস্কফোর্সের 12তম সভাও একইভাবে স্থগিত হয় (প্রথম আলো, 1 জানুয়ারি 2026)।

সংগঠনগুলোর অভিযোগ ও দাবি এখানে তাদের নিজেদের বক্তব্য হিসেবে দেওয়া হলো; সরকারের ভেতরের কোনো অংশের ইন্ধনের অভিযোগ কোনো সরকারি তদন্তে যাচাই হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

শরণার্থীর তালিকা আর জরিপ-আগে-না-পরে বিতর্ক

প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদনে কমিশন নিজে একটি বড় কারণ বলেছে: শরণার্থীদের তালিকা না থাকা, যা টাস্কফোর্সের দায়িত্ব ছিল। 3 ফেব্রুয়ারি 2020-এর সভার আলোচ্যসূচিতে লেখা ছিল, টাস্কফোর্স থেকে শরণার্থীদের তালিকা পাওয়া যায়নি; সভা টাস্কফোর্সকে তাগিদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

আইনের 2(চ) ধারায় “পুনর্বাসিত শরণার্থী” মানে 9 মার্চ 1997-এর আগরতলা চুক্তির আওতায় তালিকাভুক্ত শরণার্থী, তাই তালিকাটি আইনেরই অংশ। প্রথম আলোর একই প্রতিবেদনে টাস্কফোর্সের সূত্র বলছে, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু হিসেবে তিন জেলায় 81,777 পরিবারের খসড়া তালিকা আছে, ভারত-প্রত্যাগত 21,900 পরিবারও আবেদন করেছে, যাচাই চলছে, আর 1994 সাল থেকে আট দফায় সরকার 12,223 পরিবারকে ফিরিয়ে এনেছে। টাস্কফোর্সের তালিকা নিয়ে বিরোধের পুরো বিবরণ আছে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন টাস্কফোর্স লেখায়।

কমিশনের সভাগুলোও শরণার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়েছে: ফেব্রুয়ারি 2018-এ চেয়ারম্যান বলেন, “At first we will start work for the refugee people, those who had gone to India” (ডেইলি স্টার); মার্চ 2019-এর সভা প্রত্যাগত শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের মামলাকে অগ্রাধিকার দেয় (হিল ভয়েস)।

১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সরকারি ইংরেজি অনুবাদের একটি পাতা, যেখানে (ঘ) খণ্ডের ২ থেকে ৫ নম্বর দফা: ভূমি জরিপ, ভূমিহীনদের দুই একর জমি, ভূমি কমিশন গঠন ও তার সদস্য
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির (ঘ) খণ্ডের 2–5 দফা, সরকারের প্রকাশিত ইংরেজি অনুবাদ থেকে। দফা 2 অনুযায়ী জরিপ শুরু হবে শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের পরে। দলিল: বাংলাদেশ সরকার · সরকারি দলিল হিসেবে কপিরাইটমুক্ত (EdictGov-Bangladesh) · উইকিমিডিয়া কমন্স, পৃষ্ঠা 10 থেকে ছাঁটা

জরিপের প্রশ্নটি এখানেই আসে। চুক্তির (ঘ)2 দফার ইংরেজি সরকারি অনুবাদে ক্রমটি এরকম: চুক্তি স্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন, এবং শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের পরে সরকার আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে “shall start cadastral survey in CHT as soon as possible”। খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীর সময়ে জরিপ শুরুর উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি উঠেছিল এই ক্রম ঘিরেই (প্রথম আলো, 2014 ও 2022)।

উল্টো দিক থেকে, পিসিসিপির 2025 সালের দ্বিতীয় দাবি: বিরোধ নিষ্পত্তি শুরুর আগে ভূমি জরিপ সম্পন্ন করা। ইউরেশিয়া রিভিউতে ড. সালেহ শাহরিয়ার লিখেছেন, কিছু স্থানীয় বাঙালি অভিজাত বিরোধ নিষ্পত্তির প্রথম ধাপ হিসেবে জরিপের ওপর জোর দেন, আর চুক্তিতে জরিপ রাখা আছে শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের পরে।

কমিশন কেন এগোচ্ছে না: কে কী কারণ বলছেন

প্রকাশিত উৎসে যে কারণগুলো বারবার আসে: বিধিমালা না থাকা, জনবল-অফিস-বাজেটের অভাব, সদস্যদের অনুপস্থিতি ও কোরাম, চেয়ারম্যান পদের ধারাবাহিকতার অভাব, শরণার্থী তালিকা না পাওয়া, সভার দিনে হরতাল-অবরোধ, আর 2016 পর্যন্ত আইন নিয়ে অচলাবস্থা। কোন কারণকে কে বড় করে দেখেন, তা পক্ষভেদে আলাদা।

কেকোন কারণ সামনে আনেনউৎস
কমিশন (সচিব, 2022)বিধিমালা না হওয়া, জনবলসংকট, অতীতে আইন সংশোধনের জটিলতা, টাস্কফোর্সের শরণার্থী তালিকা না পাওয়া, কোভিডের পর সভা না হওয়াপ্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022
চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল হক (2019)সরকার বিধিমালা করেনি; জনবল ও অফিস ভূমি মন্ত্রণালয়ে “red tape”-এ আটকে; আইন বদলানো সরকারের বিষয়দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; বাংলা ট্রিবিউন, 2019
সন্তু লারমা / জনসংহতি সমিতি2016 পর্যন্ত চুক্তিবিরোধী আইন; পরে বিধিমালা ও জনবলের অভাব; সভা স্থগিতের পেছনে “হুমকি”প্রথম আলো 2014; নিউ এজ 2017; প্রথম আলো 1 জানুয়ারি 2026
পার্বত্য মন্ত্রণালয় (অতিরিক্ত সচিব সুদত্ত চাকমা, 2019)বিধিমালা প্রণয়ন করছে ভূমি মন্ত্রণালয়ডেইলি স্টার, 4 আগস্ট 2019
ভূমি মন্ত্রণালয় (2019, 2023)খসড়া নিয়ে কাজ / পর্যালোচনা চলছেডেইলি স্টার 2019; প্রথম আলো 2023
চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন ও 33 নাগরিকবিধিমালা, চেয়ারম্যান, জনবল, তহবিল; হুমকিতে সভা স্থগিত; প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনের অভিযোগবাংলা ট্রিবিউন 2025; প্রথম আলো, 17 ও 20 অক্টোবর 2025
পার্বত্য নাগরিক পরিষদ / পিসিসিপি2016 সালের সংশোধনী আইনই সমস্যা; বাঙালি প্রতিনিধি নেই; আগে জরিপ চাইবাংলা ট্রিবিউন 2019; ইত্তেফাক 2025
গবেষক হানা শামস আহমেদভূমি মন্ত্রণালয়ে খসড়ার অগ্রগতি নেই; নজরদারি ও ভয়ের রাজনৈতিক পরিবেশ; রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবডেইলি স্টার, 10 আগস্ট 2022
ড. সালেহ শাহরিয়ারকোরাম ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিয়মে বিলম্ব ও উত্তেজনার ঝুঁকি; বাঙালি প্রতিনিধি না থাকা; কমিশনের লজিস্টিক ও সম্পদের অভাবইউরেশিয়া রিভিউ, 15 অক্টোবর 2024

একটি সরকারি মূল্যায়নও আছে। নিউ এজের 2017 সালের প্রতিবেদনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নভেম্বর 2014-এর একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত: ভূমি-বিরোধের সমাধানই অঞ্চলের সার্বিক শান্তির চাবি, আর এ জন্য গঠিত ভূমি কমিশন “proved incapable and failed to gain the trust and confidence of the CHT people”।

সর্বশেষ খবর সেপ্টেম্বর 2026-এর। 10 সেপ্টেম্বর 2026-এর বাংলাদেশ গেজেটে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক — তিনটি কমিটি গঠন করে। জনসংহতি সমিতি এর প্রতিবাদে যে বিবৃতি দেয়, তার দাবির মধ্যে আছে টাস্কফোর্স ও “ভূমি কমিশন পুনর্গঠন” (প্রথম আলো ও সংবাদ, 28 সেপ্টেম্বর 2026)। পুনর্গঠন বলতে তারা কী বোঝায়, বিবৃতির প্রকাশিত অংশে তা নেই। চুক্তির সামগ্রিক বাস্তবায়নের হিসাব পাবেন পার্বত্য চুক্তি ১৯৯৭: কী ছিল, কতটা হলো লেখায়।

আবেদন করে যাঁরা অপেক্ষায়

প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদন কয়েকজন আবেদনকারীর কথা লিখেছে: কেউ 2008 সালে, কেউ 2014 সালে আবেদন করেছেন; কেউ ফল না পেয়ে আদালতে মামলা করেছেন; প্রতিবেদন অনুযায়ী অনেক আবেদনকারী মারাও গেছেন। ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বলেন, “অনেকে ভূমি কমিশনের পাশাপাশি আদালতে মামলা করেছেন।”

প্রতিবেদনের উদাহরণগুলো তিন জেলারই। খাগড়াছড়ির পানছড়ির এক আবেদনকারী 1984 সালে বাড়ি পুড়ে যাওয়ার পর ভারতের ত্রিপুরায় চলে যান, 1994 সালে ফিরে বসতভিটা পেলেও সাড়ে সাত একর জুমের জমি পাননি, কারণ প্রতিবেদনের ভাষায় “সেখানে তখন বাঙালি বসতি”; তিনি জানুয়ারি 2008-এ কমিশনে আবেদন করেন এবং বছর তিনেক আগে আদালতে মামলা করেন। রাঙামাটির লংগদুর ঘনমোর মৌজার এক আবেদনকারী তিন একর জমির জন্য 2014 সালে আবেদন করেন। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির এক মৌজার হেডম্যান আড়াই একর জমির জন্য আবেদন করে আদালতে যান, কারণ কমিশন তাঁকে ডাকেনি; তাঁর কথা: “জীবদ্দশায় জায়গা ফেরত পাব কি না জানি না।”

কমিশন আর আদালত — দুই জায়গায় একসঙ্গে একই বিরোধ চললে কী হয়, আইনে সে বিষয়ে আলাদা কোনো ধারা নেই, আর কোনো প্রকাশিত রায়েও প্রশ্নটির উত্তর পাওয়া যায়নি। কমিশনের সিদ্ধান্ত হলে তার বিরুদ্ধে আপিলের পথ নেই, সে আলোচনা আছে ১৬ ধারা নিয়ে লেখায়। পার্বত্য অঞ্চলে প্রথাগত সামাজিক বিচারের আপিল কোন ধাপে যায়, তা আলাদা বিষয়: কার্বারি থেকে বিভাগীয় কমিশনার পর্যন্ত আপিলের ধাপ।

প্রকাশিত উৎস থেকে আবেদনকারীর জন্য যা কাজে লাগে

  1. দরখাস্তের রূপ: সাদা কাগজ, বাংলা ভাষা, দস্তখত বা টিপসই; প্রতিপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসক, অবৈধ বন্দোবস্ত গ্রহীতা ও জানামতে বর্তমান দখলকারের নাম-ঠিকানা (আইন, 9 ও 10 ধারা)।
  2. আগের আবেদনের উল্লেখ: 2016 সালের বিজ্ঞপ্তিতে যাঁরা আগে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের নতুন আবেদনে আগেরটির উল্লেখ করতে বলা হয়েছিল (ডেইলি অবজারভার, 2016)।
  3. প্রাপ্তিস্বীকার: 2016 সালে আবেদন জমার সময় প্রাপ্তিস্বীকার স্লিপ দেওয়া হয়েছে, এমন বিবরণ আছে (ডেইলি স্টার, 2019)।
  4. জমার পথ: 2016 সালে নিজে, প্রতিনিধির মাধ্যমে বা ডাকযোগে আবেদন নেওয়া হয়েছিল (ডেইলি অবজারভার, 2016)।
  5. সহায়তা: 2016 সালে চাকমা সার্কেল চিফের কার্যালয়, হেডম্যান ও কার্বারিরা দরখাস্ত লিখতে সাহায্য করেছিলেন (ডেইলি স্টার, 2022)।
  6. সংশোধন: নিষ্পত্তির আগে কমিশনের অনুমতি নিয়ে একবার আবেদন সংশোধন করা যায় (আইন, 9(2) ধারা)।

উৎসভেদে অমিল

কয়েকটি তথ্যে প্রকাশিত উৎসগুলো একমত নয়। প্রতিটি অমিল এখানে উৎসের নামসহ পাশাপাশি রাখা হলো।

  • মাহমুদুর রহমানের নিয়োগের তারিখ: প্রথম আলো (2014, 2022) বলছে 29 নভেম্বর 2001; পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকায় 04/11/2001।
  • আনোয়ার-উল হকের প্রথম নিয়োগ: প্রথম আলো (9 অক্টোবর 2014) ও মন্ত্রণালয়ের তালিকা বলছে 7 সেপ্টেম্বর 2014; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (2019) বলছে 2016; প্রথম আলো (2022) লিখেছে, 2017 সালে তাঁকে দিয়ে কমিশন পুনর্গঠিত হয়।
  • 2016-এর পর প্রথম সভা: ডেইলি স্টার (4 সেপ্টেম্বর 2016) বলছে 3 সেপ্টেম্বর 2016-এর সভা সংশোধনী অনুমোদনের পর প্রথম; ডেইলি স্টার (9 অক্টোবর 2018) বলছে প্রথম সভা হয়েছিল 4 আগস্ট 2016।
  • সভার ক্রমিক নম্বর: আইপিনিউজবিডি অক্টোবর 2018-এর সভাকে বলছে “৬ষ্ঠ বৈঠক”, ডেইলি স্টার একই সভাকে বলছে চেয়ারম্যানের নিয়োগের পর চতুর্থ; বাংলাদেশ পোস্ট সেপ্টেম্বর 2019-এর সভাকে পঞ্চম এবং নভেম্বর ও ডিসেম্বর 2019-এর দুটি সভাকেই ষষ্ঠ বলেছে।
  • মার্চ 2019-এর আগের সভা: হিল ভয়েস (19 মার্চ 2019) লিখেছে, তার আগের সভা 27 জুন 2018 বান্দরবানে, প্রায় নয় মাস আগে; ডেইলি স্টার ও আইপিনিউজবিডি অক্টোবর 2018-এ রাঙামাটিতে একটি সভার খবর দিয়েছে।
  • ফেব্রুয়ারি 2020-এর সভা: হিল ভয়েস ও বণিক বার্তা বলছে কোরামের অভাবে আনুষ্ঠানিক সভা হয়নি; ডেইলি স্টার লিখেছে সভা “was held … apparently without any headway”; প্রথম আলো (2022) একে “সর্বশেষ সভা” বলেছে।
  • আবেদনের মোট সংখ্যা: 22,881 (জানুয়ারি 2017), 24,000 (এপ্রিল 2017, ডিসেম্বর 2019), 22,090 (সেপ্টেম্বর 2019), 22,468 (সেপ্টেম্বর 2022), 26,000-এর বেশি (অক্টোবর 2025) — উৎস ওপরের ছকে।
  • নতুন আবেদন: চেয়ারম্যান (2019) বলছেন সময়সীমা নেই; কমিশন (2022) বলছে 2017 থেকে বন্ধ।
  • খসড়া বিধিমালা কে জমা দেয়: কমিশন (ডেইলি স্টার, 2019) / আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান (হিল ভয়েস, 2019) / আঞ্চলিক পরিষদ (প্রথম আলো, 2022)।
  • ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার পদ: প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2023-এর প্রতিবেদনে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে বলা হয়েছে জরিপ বিভাগের “উপসচিব”।

প্রশ্নোত্তর

পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে আবেদন কোথায় জমা দিতে হয়?

আইনের 4 ধারা অনুযায়ী কমিশনের প্রধান কার্যালয় খাগড়াছড়ি জেলা সদরে। প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী রাঙামাটিতে ডিসেম্বর 2019-এ এবং বান্দরবানে ফেব্রুয়ারি 2020-এ শাখা কার্যালয় খোলা হয়, দুটিই জেলা পরিষদ ভবনে। তবে শাখা দুটিতে আলাদা কর্মী নেই এবং সেখানে নতুন আবেদন পড়েনি বলে কমিশন জানিয়েছে।

ভূমি কমিশনে আবেদন করতে কি নির্ধারিত ফরম বা ফি লাগে?

আইনে কোনো ফরম বা ফি নেই। 9(1) ধারা অনুযায়ী দরখাস্ত সাদা কাগজে বাংলা ভাষায় লিখে দস্তখত বা টিপসই দিয়ে কমিশনের কাছে দাখিল করতে হয়। ফরম, ফি বা শুনানির ধাপ ঠিক করার কথা 18 ধারার বিধিমালায়, যা নভেম্বর 2026 পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত আইন-বিধি তালিকায় নেই।

এখন কি ভূমি কমিশনে নতুন আবেদন নেওয়া হয়?

প্রকাশিত দুটি বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর 2019-এ চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল হক বলেন, আবেদন গ্রহণ চলছে এবং এর কোনো সময়সীমা নেই (বাংলাদেশ পোস্ট)। সেপ্টেম্বর 2022-এ কমিশন প্রথম আলোকে জানায়, আগের আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়ায় 2017 থেকে নতুন আবেদন নেওয়া বন্ধ। কার্যালয়ে সরাসরি জেনে নেওয়াই নিরাপদ।

ভূমি কমিশনে এ পর্যন্ত কতগুলো আবেদন জমা পড়েছে?

প্রথম আলোর 8 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদনে কমিশনের হিসাবে 22,468টি: রাঙামাটি 9,941, খাগড়াছড়ি 7,975, বান্দরবান 4,552। জানুয়ারি 2017-এ চেয়ারম্যান বলেছিলেন 22,881, সেপ্টেম্বর 2019-এ 22,090, আর অক্টোবর 2025-এ 33 নাগরিকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে 26 হাজারের বেশি। হিসাবগুলোর পার্থক্যের কোনো প্রকাশিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

ভূমি কমিশন এ পর্যন্ত কয়টি বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে?

প্রকাশিত কোনো উৎসে একটিরও নিষ্পত্তির উল্লেখ নেই। প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদন বলছে কারও আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি, এমনকি যাচাই-বাছাইও হয়নি। 2 ডিসেম্বর 2023-এ কমিশনের সচিব মো. নেজাম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, 22 হাজারের বেশি আবেদনের কোনোটির সুরাহা হয়নি।

ভূমি কমিশনের বিধিমালা কেন হয়নি?

খসড়া বিধিমালা জানুয়ারি 2017-এ ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। অক্টোবর 2018-এর মধ্যে আঞ্চলিক পরিষদ তাতে সংশোধনী দেয়, জুন 2019-এ পার্বত্য মন্ত্রী বলেন খসড়া চূড়ান্ত, আর নভেম্বর 2023-এ ভূমি মন্ত্রণালয় বলে “পর্যালোচনা চলছে”। দেরির কারণ নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রকাশিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বিধিমালা ছাড়া কি কমিশন শুনানি করতে পারে না?

আইনের 7(1) ধারা বলছে, “এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে” কমিশন তার কার্যপদ্ধতি ঠিক করবে। কমিশনের চেয়ারম্যান, সচিব, সন্তু লারমা ও কাপেং ফাউন্ডেশন বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, বিধিমালা হলেই শুনানি শুরু হবে। 2012 সালে বিধিমালা ছাড়াই শুনানির একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সদস্যরা উপস্থিত না হওয়ায় তা শুরু হয়নি।

ভূমি কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান কে?

জনসংহতি সমিতির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকার 28 আগস্ট 2025 সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজকে কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় (প্রথম আলো, 1 জানুয়ারি 2026)। তাঁর ডাকা 19 অক্টোবর 2025-এর সভা হরতালের ঘোষণার পর স্থগিত হয়। তাঁর আগে চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার-উল হক।

ভূমি কমিশনের সভা কেন বারবার স্থগিত হয়?

সেপ্টেম্বর 2022-এ পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের 32 ঘণ্টার হরতালের ঘোষণার পর এবং অক্টোবর 2025-এ পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের হরতালের ঘোষণার পর সভা স্থগিত হয়। ফেব্রুয়ারি 2020-এ বান্দরবানের সভায় কোরাম হয়নি। কমিশনের সচিব 2022 সালে বলেন, কোভিডের কারণে 2020-এর পর সভা হয়নি।

ভূমি কমিশনে কি বাঙালি প্রতিনিধি আছেন?

আইনের 3(2) ধারায় সদস্যপদ পদভিত্তিক: চেয়ারম্যান (অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি), আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট সার্কেল চিফ বা প্রতিনিধি এবং বিভাগীয় কমিশনার বা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার। জাতিগত পরিচয়ভিত্তিক কোনো আসন নেই। পিসিসিপি অক্টোবর 2025-এ অভিযোগ করে, কমিশনে পার্বত্য বাঙালিদের কোনো প্রতিনিধি নেই।

2016 সালে ভূমি কমিশন কতদিনের জন্য আবেদন চেয়েছিল?

ডেইলি অবজারভারের 11 সেপ্টেম্বর 2016-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 10 সেপ্টেম্বর 2016-এর বিজ্ঞপ্তিতে 45 দিনের সময় দেওয়া হয়; নিজে, প্রতিনিধির মাধ্যমে বা ডাকযোগে আবেদন দেওয়া যেত। ডেইলি স্টার জানায়, 29 অক্টোবর 2016-এর সভায় সময় “পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত” বাড়ানো হয়, ততদিনে 15,669টি আবেদন জমা পড়েছিল।

ভূমি কমিশনের কাজে শরণার্থী তালিকার ভূমিকা কী?

আইনের 2(চ) ধারায় “পুনর্বাসিত শরণার্থী” মানে 9 মার্চ 1997-এর আগরতলা চুক্তির আওতায় তালিকাভুক্ত শরণার্থী। প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদনে কমিশন বলেছে, টাস্কফোর্স থেকে শরণার্থীদের তালিকা না পাওয়া নিষ্পত্তি না হওয়ার একটি বড় কারণ; ফেব্রুয়ারি 2020-এর সভার আলোচ্যসূচিতেও এ কথা ছিল।

যা এখনো জানা যায়নি

  • খসড়া বিধিমালার পাঠ। জানুয়ারি 2017-এর খসড়া ও 2018 সালের সংশোধিত খসড়ার পূর্ণ পাঠ কোথাও প্রকাশিত হয়নি; তাতে আবেদনের ফরম, ফি, শুনানির ধাপ বা সময়সীমা কীভাবে রাখা আছে, জানা যায়নি।
  • 2022-এর পর নতুন আবেদনের অবস্থা। 2017 থেকে আবেদন নেওয়া বন্ধ, নাকি সময়সীমা ছাড়াই খোলা — 2022-এর পর কমিশনের কোনো প্রকাশিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
  • আনোয়ার-উল হকের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ ও তারপরের সময়। ডিসেম্বর 2017-এর পুনর্নিয়োগের পর মেয়াদ কবে শেষ হয়, আর আগস্ট 2025 পর্যন্ত পদটি ফাঁকা ছিল কি না, স্পষ্ট নয়।
  • 2020-এর পর কোনো সভা। ফেব্রুয়ারি 2020-এর পর কমিশনের কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, এমন খবর পাওয়া যায়নি; সেপ্টেম্বর 2022 ও অক্টোবর 2025-এর দুটি সভা স্থগিত হয়েছে। 2026 সালে কোনো সভা ডাকা হয়েছে কি না, জানা যায়নি।
  • জেলাভিত্তিক সংখ্যার পার্থক্য। খাগড়াছড়ির আবেদন জানুয়ারি 2017-এ 8,373, সেপ্টেম্বর 2022-এ 7,975 — এই পার্থক্যের কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি।
  • আবেদনের বিষয়ভিত্তিক ভাগ। কয়টি আবেদন শরণার্থীদের, কয়টি অবৈধ বন্দোবস্ত বা বেদখলের, কয়টি জলেভাসা জমির — এমন কোনো ভাগ প্রকাশিত হয়নি।
  • কমিশনের বাজেট ও জনবলের সরকারি হিসাব। প্রথম আলোর হিসাবের বাইরে কমিশনের বাজেট, অনুমোদিত পদ ও শূন্য পদের কোনো সরকারি প্রকাশনা পাওয়া যায়নি; কমিশনের নিজস্ব কোনো ওয়েবসাইটও পাওয়া যায়নি।
  • “পুনর্গঠন” দাবির অর্থ। সেপ্টেম্বর 2026-এ জনসংহতি সমিতি ভূমি কমিশন পুনর্গঠনের দাবি তুলেছে; এর ব্যাখ্যা প্রকাশিত অংশে নেই।
  • ইন্ধনের অভিযোগ। সভা স্থগিতের পেছনে সরকারের ভেতরের কোনো মহলের ইন্ধনের যে অভিযোগ বিবৃতিগুলোতে এসেছে, তার কোনো তদন্ত হয়েছে কি না, জানা যায়নি।

তথ্যসূত্র

আইন, চুক্তি ও সরকারি নথি

  1. বাংলাদেশ সরকার, আইন ও বিচার বিভাগ, “পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১ (২০০১ সনের ৫৩ নং আইন)”, সংশোধনীসহ — ধারা 2, 3, 4, 5, 7, 9, 10, 13, 18 ও পাদটীকা 3, 14। http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-877.html
  2. Government of Bangladesh, “Chittagong Hill Tracts Peace Accord (Translation in English)”, 1997, section D, clauses 2–5 (p. 10), Wikimedia Commons। https://commons.wikimedia.org/wiki/File:Chittagong_Hill_Tracts_Peace_Accord_(Translation_in_English).pdf
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, “Land Dispute Resolution Commission” (চেয়ারম্যানদের তালিকা, PDF), “ভূমি ব্যবস্থাপনা” পাতা, শেষ হালনাগাদ 1 মে 2025। https://mochta.gov.bd/pages/static-pages/694032a935ce18e1c0560238
  4. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, “বিধিমালা” পাতা, শেষ হালনাগাদ 1 মে 2025। https://mochta.gov.bd/pages/static-pages/694032ac35ce18e1c056049c
  5. ভূমি মন্ত্রণালয়, “গ্রুপ ভিত্তিক সকল আইন/বিধি”, 4 নভেম্বর 2026-এ দেখা। https://minland.gov.bd/pages/static-pages/694032ce35ce18e1c0562b60
  6. ভূমি মন্ত্রণালয়, “ল্যান্ড কমিশন”, শেষ হালনাগাদ 1 মে 2025। https://minland.gov.bd/pages/static-pages/6940329635ce18e1c055ef2d

জুমজার্নাল আর্কাইভ

  1. মঙ্গল কুমার চাকমা, “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার : অর্জন ও সম্ভাবনা”, 4 মার্চ 2012 (কেদাকতুক বৈসুক-সাংগ্রাই-বিঝু-বিষু-বিহু সংকলন 2012), জুমজার্নাল আর্কাইভ। jumjournal.com
  2. জুমজার্নাল, “ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে আবেদন করবেন কীভাবে”। https://www.jumjournal.com/bhumi-commission-abedon-poddhoti
  3. জুমজার্নাল, “ভূমি কমিশন সংশোধন আইন ২০১৬”। https://www.jumjournal.com/land-commission-amendment-act-2016
  4. জুমজার্নাল, “ভূমি কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলও চলে না, রিভিশনও নয়”। https://www.jumjournal.com/land-commission-no-appeal-section-16
  5. জুমজার্নাল, “ভূমি কমিশন আইন ও প্রথাগত আইন: ৬ ধারা”। https://www.jumjournal.com/land-commission-section-6-customary-law
  6. জুমজার্নাল, “পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন”। https://www.jumjournal.com/cht-land-regulation-1900-commission

সংবাদ, সম্পাদকীয় ও বিশ্লেষণ

  1. Monirul Alam, “Frame laws for CHT Land Commission”, The Daily Star, 8 June 2005। https://www.thedailystar.net/node/2639386
  2. বিশেষ প্রতিনিধি, “আবারও অকার্যকর হওয়ার আশঙ্কা”, প্রথম আলো, 9 অক্টোবর 2014। prothomalo.com
  3. A Correspondent, Rangamati, “Bangalee Settlers Observe Hartal in CHT”, The Daily Star, 4 September 2016। https://www.thedailystar.net/country/news/land-commission-work-all-1280839
  4. “Ad seeking application to resolve CHT land disputes circulated”, The Daily Observer, 11 September 2016। https://www.observerbd.com/news/32995
  5. A Correspondent, Rangamati, “CHT Land Dispute: Time for submitting application extended”, The Daily Star, 30 October 2016। https://www.thedailystar.net/country/news/time-submitting-application-extended-1306795
  6. Our Correspondent, Bandarban, “Govt to be sincere about land issues”, The Daily Star, 16 January 2017। https://www.thedailystar.net/node/1346227
  7. Staff Correspondent, “Bangalees in CHT won’t be deprived: Gowher”, The Daily Star, 17 April 2017। https://www.thedailystar.net/city/bangalees-cht-wont-be-deprived-gowher-1392646
  8. Mohiuddin Alamgir, “CHT land commission still ineffective”, New Age, 4 December 2017। https://www.newagebd.net/article/29688/cht-land-commission-still-ineffective
  9. Our Correspondent, Rangamati, “CHT body seeks rules of business”, The Daily Star, 12 February 2018। https://www.thedailystar.net/country/cht-body-seeks-rules-business-1533754
  10. “পার্বত্য ভূমি কমিশন নীতিমালা নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে ক্ষোভ”, ডেইলি রাঙামাটি, 5 জুলাই 2018। dailyrangamati.com
  11. Our Correspondent, Rangamati, “Slow progress in land settlement”, The Daily Star, 9 October 2018। https://www.thedailystar.net/node/1644883
  12. নিজস্ব প্রতিবেদক, “রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত”, আইপিনিউজবিডি, 9 অক্টোবর 2018। ipnewsbd.net
  13. Hill Voice, “Land disputes of refugees and IDPs prioritized in resolution, LC meeting decides”, 19 March 2019। https://hillvoice.net/?p=157
  14. Jamil Mahmud, “Land Disputes in Cht: 22,000 complaints gather dust”, The Daily Star, 4 August 2019 (updated 5 August)। https://www.thedailystar.net/frontpage/news/land-disputes-cht-22000-complaints-gather-dust-1781815
  15. “CHT land commission yet to get rules of business”, The Business Standard, 12 September 2019। https://www.tbsnews.net/node/11415
  16. Shantimoy Chakma, “Work for resolving land dispute in CHTs begins soon”, Bangladesh Post, 12 September 2019। https://bangladeshpost.net/posts/work-for-resolving-land-dispute-in-chts-begins-soon-11714
  17. “22,090 applications submitted since CHT Land Commission’s inception”, Bangladesh Post, 27 November 2019। https://bangladeshpost.net/posts/22-090-applications-submitted-since-cht-land-commission-s-inception-18491
  18. “CHT commission now waiting for gazette over regulations”, Bangladesh Post, 23 December 2019। https://www.bangladeshpost.net/posts/cht-commission-now-waiting-for-gazette-over-regulations-20863
  19. “সংবিধান ও আইনের বাইরে ভূমি কমিশনের কোনও কাজ হবে না: চেয়ারম্যান”, বাংলা ট্রিবিউন, 23 ডিসেম্বর 2019। https://www.banglatribune.com/country/600211/
  20. “পাহাড়ে জোর করে উচ্ছেদ করা হবে না: ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান”, বিডিনিউজ২৪, 3 ফেব্রুয়ারি 2020। https://bangla.bdnews24.com/samagrabangladesh/article1719952.bdnews
  21. “পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ মীমাংসা করা হবে—কমিশন চেয়ারম্যান”, বণিক বার্তা, 3 ফেব্রুয়ারি 2020। https://www.bonikbarta.com/bangladesh/CXK2QUGm7LxP8kT4
  22. হিল ভয়েস, “বান্দরবানে ভূমি কমিশনের সভা কোরাম সংকটে”, 3 ফেব্রুয়ারি 2020। hillvoice.net
  23. Our Correspondent, Bandarban, “CHT Land Commission meet held”, The Daily Star, 3 February 2020। https://www.thedailystar.net/node/1863313
  24. Hana Shams Ahmed, “CHT Land Commission work, and the power struggles, contradictions, and tensions around it”, The Daily Star, 10 August 2022। https://www.thedailystar.net/opinion/views/news/cht-land-commission-work-and-the-power-struggles-contradictions-and-tensions-around-it-3091791
  25. প্রণব বল, “২৩ বছরে কিছুই করতে পারেনি পার্বত্য ভূমি কমিশন”, প্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022। https://www.prothomalo.com/bangladesh/2knmbsym19
  26. Editorial, “A working CHT land commission can resolve many issues”, New Age, 10 September 2022। https://www.newagebd.net/article/180628/a-working-cht-land-commission-can-resolve-many-issues
  27. Editorial, “CHT Land Commission: How long to finalise the regulations?”, Prothom Alo English, 22 August 2023। https://en.prothomalo.com/opinion/editorial/ro7b8v3r3g
  28. পার্থ শঙ্কর সাহা, “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৬ বছর: ভূমিসহ ৩ বিষয়ে অগ্রগতি নেই”, প্রথম আলো, 2 ডিসেম্বর 2023। https://www.prothomalo.com/bangladesh/q1z607ysav
  29. Dr. Saleh Shahriar, “The Paradox Of Land Disputes In Bangladesh’s Chittagong Hill Tracts – Analysis”, Eurasia Review, 15 October 2024। https://www.eurasiareview.com/15102024-the-paradox-of-land-disputes-in-bangladeshs-chittagong-hill-tracts-analysis/
  30. “পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনকে সক্রিয় করার দাবি”, বাংলা ট্রিবিউন, 19 আগস্ট 2025। https://www.banglatribune.com/others/911798/
  31. “ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠক বাতিলের দাবিতে রাঙ্গামাটিতে হরতালের ডাক”, ইত্তেফাক, 16 অক্টোবর 2025। https://www.ittefaq.com.bd/757052/
  32. নিজস্ব প্রতিবেদক, “ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সভা স্থগিত: পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের উদ্বেগ”, প্রথম আলো, 17 অক্টোবর 2025। https://www.prothomalo.com/bangladesh/dznl2dk9ls
  33. “‘হুমকিতে’ পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সভা স্থগিতে উদ্বেগ”, বিডিনিউজ২৪, 17 অক্টোবর 2025। https://bangla.bdnews24.com/bangladesh/3f442f188b70
  34. “পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সভা স্থগিতে উদ্বেগ ৩৩ বিশিষ্টজনের”, প্রথম আলো, 20 অক্টোবর 2025। https://www.prothomalo.com/bangladesh/aglojajq5e
  35. “পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০২৫ সালে আরও অবনতি হয়েছে: জেএসএস”, প্রথম আলো, 1 জানুয়ারি 2026। https://www.prothomalo.com/bangladesh/c16d9r3nyi
  36. “পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ৩ কমিটি গঠন, উদ্বেগ জনসংহতি সমিতির”, প্রথম আলো, 28 সেপ্টেম্বর 2026। https://www.prothomalo.com/bangladesh/vb7nsq6twh
  37. “পার্বত্য চট্টগ্রাম: গঠিত ৩ কমিটি নিয়ে উদ্বেগ, বাতিলের দাবি জনসংহতির”, সংবাদ, 28 সেপ্টেম্বর 2026। https://sangbad.net/news/18997

এই লেখা আইনি পরামর্শ নয়। কোনো নির্দিষ্ট বিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আইনজীবী বা কমিশনের কার্যালয়ের সঙ্গে কথা বলুন।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 4 নভেম্বর 2026

প্রসঙ্গ:পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি সমস্যা, ভূমি অধিকার, ভূমি কমিশন আইন, ভূমি বিরোধ

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় মেঘলা আকাশের নিচে বনে ঢাকা পাহাড়ের সারি

Oct 19th, 2026 · আইন আর্কাইভ

20

ভূমি অধিগ্রহণ রেগুলেশন ১৯৫৮: এক লিখিত আদেশেই ডেপুটি কমিশনার যেভাবে পাহাড়ের জমি নিতে পারেন