Last updated Nov 4th, 2026
0

পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন-এ আবেদন জমা দেওয়ার নিয়ম আইনে সহজ: সাদা কাগজে, বাংলায়, দস্তখত বা টিপসই দিয়ে কমিশনের কাছে দরখাস্ত। কমিশনের প্রধান কার্যালয় খাগড়াছড়িতে, শাখা রাঙামাটি ও বান্দরবানে। কিন্তু 1999 সালে গঠনের পর থেকে প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদনে একটি আবেদনেরও নিষ্পত্তির খবর নেই, আর কারণ হিসেবে বারবার যে কথাটি আসে তা হলো, আইনের 18 ধারার বিধিমালা আজও প্রণীত হয়নি।
2016 সালের 10 সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি থেকে কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে দেয়: ভুক্তভোগীরা 45 দিনের মধ্যে নিজে, প্রতিনিধির মাধ্যমে বা ডাকযোগে লিখিত আবেদন দিতে পারবেন। দেড় মাস পরে কমিশন জানায়, 15,669টি আবেদন জমা পড়েছে। তিন মাস পরে সংখ্যাটি 22,881। তারপর প্রায় এক দশক ধরে এই আবেদনগুলোর শুনানি শুরু হয়নি।
আইনের ধারা ধরে আবেদনের নিয়ম, কমিশনের গঠন আর কোন জমি এখতিয়ারে পড়ে, সেসব আমাদের আগের লেখা ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে আবেদন করবেন কীভাবে-তে আছে। এই লেখা বাস্তবের দিকটি নিয়ে: আবেদন কোথায় জমা হয়েছে, কমিশন কবে কবে আবেদন চেয়েছিল, কতগুলো জমা পড়েছে, এখন নতুন আবেদন নেওয়া হয় কি না, বিধিমালার কী হলো, আর কমিশনের সভাগুলো কেন বারবার আটকে গেছে। প্রতিটি তথ্যের পাশে উৎসের নাম ও তারিখ দেওয়া আছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আমাদের অন্য লেখাগুলো পাবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।
আইন অনুযায়ী আবেদন সাদা কাগজে বাংলায় লিখে কমিশনের কাছে দিতে হয়; নির্ধারিত ফরম আইনে নেই। কমিশনের প্রধান কার্যালয় খাগড়াছড়ি জেলা সদরে, শাখা রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলা পরিষদ ভবনে। নতুন আবেদন নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে কমিশনের দিক থেকেই দুই রকম বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, আর শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
| প্রশ্ন | প্রকাশিত উৎসে যা আছে | উৎস |
|---|---|---|
| দরখাস্ত কীভাবে লিখতে হয় | সাদা কাগজে, বাংলা ভাষায়, দস্তখত বা টিপসইসহ | আইন, ধারা 9(1) |
| প্রতিপক্ষ কারা | সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, অবৈধ বন্দোবস্ত গ্রহীতা, জানামতে বর্তমান দখলকার | আইন, ধারা 10(1) |
| কোথায় জমা | প্রধান কার্যালয় খাগড়াছড়ি; শাখা রাঙামাটি (ডিসেম্বর 2019) ও বান্দরবান (ফেব্রুয়ারি 2020) | আইন, ধারা 4; প্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022 |
| 2016 সালে কীভাবে নেওয়া হয়েছিল | নিজে, প্রতিনিধির মাধ্যমে বা ডাকযোগে; আগে আবেদন করে থাকলে সেটির উল্লেখসহ | ডেইলি অবজারভার, 11 সেপ্টেম্বর 2016 |
| নতুন আবেদন নেওয়া হয় কি | 2019: চেয়ারম্যান বলেন সময়সীমা নেই; 2022: কমিশন বলে 2017 থেকে বন্ধ | বাংলাদেশ পোস্ট, 12 সেপ্টেম্বর 2019; প্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022 |
| জমা পড়া আবেদন | 22,468 (2022, কমিশনের হিসাব); অন্য উৎসে 22,090 থেকে 26,000-এর বেশি | নিচের ছক দেখুন |
| নিষ্পত্তি হয়েছে কয়টি | কোনো প্রকাশিত উৎসে একটিরও উল্লেখ নেই | প্রথম আলো, 2022 ও 2023 |
| বিধিমালা | খসড়া জানুয়ারি 2017-এ ভূমি মন্ত্রণালয়ে; ডিসেম্বর 2023-এ “পর্যালোচনা চলছে”; মন্ত্রণালয়ের আইন-বিধি তালিকায় নেই | ডেইলি স্টার 2019; প্রথম আলো 2023; minland.gov.bd |
| বর্তমান চেয়ারম্যান | অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ, নিয়োগ 28 আগস্ট 2025 | জেএসএসের বার্ষিক প্রতিবেদন, প্রথম আলো, 1 জানুয়ারি 2026 |
ছকের প্রতিটি সারির বিস্তারিত নিচে, আলাদা অংশে। একটি কথা শুরুতেই পরিষ্কার থাকা দরকার: এই লেখা আইনি পরামর্শ নয়। নির্দিষ্ট কোনো জমির বিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আইনজীবী, সার্কেল চিফের কার্যালয় বা কমিশনের কার্যালয়ে খোঁজ নেওয়াই নিরাপদ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, 2001-এর 9(1) ধারা বলছে, আবেদনকারী “তাহার দস্তখত বা টিপসহিযুক্ত দরখাস্ত সাদা কাগজে বাংলা ভাষায় লিখিয়া কমিশনের নিকট দাখিল করিবেন”। 10(1) ধারায় প্রতিপক্ষ হিসেবে তিন পক্ষের নাম-ঠিকানা লাগে। কোর্ট ফি, স্ট্যাম্প বা আইনজীবীর শর্ত আইনে নেই।
তিনটি ধারা আজকের অবস্থা বোঝার জন্য জরুরি, তাই সেগুলো এখানে হুবহু:
প্রতিপক্ষের তালিকা, আবেদন একবার সংশোধনের সুযোগ, নিজের ভাষায় সাক্ষ্য দেওয়া, সাক্ষ্য আইন মানার বাধ্যবাধকতা না থাকা, আর কাপ্তাই-বেতবুনিয়ার ব্যতিক্রম — এসবের ধারা-ভিত্তিক ব্যাখ্যা আবেদনের নিয়ম নিয়ে আমাদের লেখায় আছে। কমিশন কোন মাপকাঠিতে বিচার করবে, সেই “প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি”-র অর্থ আলাদা করে আছে ৬ ধারা নিয়ে লেখায়, আর সিদ্ধান্তের পর আপিলের প্রশ্ন ১৬ ধারা নিয়ে লেখায়।
এখানে যেটুকু যোগ করার, তা হলো 7(1) ও 18 ধারা পাশাপাশি পড়লে দাঁড়ায়: কমিশন নিজের কার্যপদ্ধতি ঠিক করবে “বিধি সাপেক্ষে”, আর বিধি বানাবে সরকার। এই লেখার বাকি অংশের অনেকটাই সেই বিধি না আসার গল্প।
পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের প্রধান কার্যালয় আইন অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলা সদরে। শাখা কার্যালয় দুটি: রাঙামাটিতে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ভবনে, চালু ডিসেম্বর 2019-এ; বান্দরবানে, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চত্বরে, চালু ফেব্রুয়ারি 2020-এ। প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী শাখা দুটিতে আলাদা কর্মী নেই।

বাংলাদেশ পোস্টের 27 নভেম্বর 2019-এর প্রতিবেদনে কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ার-উল হক জানান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন ভবনে কমিশনের একটি শাখা কার্যালয় হবে এবং পরদিন তিনি সেটি উদ্বোধন করবেন। 23 ডিসেম্বর 2019-এর সভা এই কার্যালয়েই বসে (বাংলা ট্রিবিউন ও বাংলাদেশ পোস্ট, দুটিই 23 ডিসেম্বর 2019)। অক্টোবর 2025-এর যে সভা স্থগিত হয়, সেটিও “রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কার্যালয়ে স্থাপিত ভূমি কমিশনের অফিসে” হওয়ার কথা ছিল, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের বিবৃতির বরাতে প্রথম আলো লিখেছে।
বিডিনিউজ২৪ জানায়, 3 ফেব্রুয়ারি 2020 সোমবার সকালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ কার্যালয়ে কমিশনের “অস্থায়ী কার্যালয়” উদ্বোধন করেন চেয়ারম্যান। হিল ভয়েসের বর্ণনায় এটি জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে “দুই কক্ষ বিশিষ্ট নতুন শাখা অফিস”।
প্রথম আলোর 8 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন (প্রণব বল) বলছে, রাঙামাটি ও বান্দরবান শাখায় আলাদা কোনো কর্মী নেই, “বেশির ভাগ সময় এসব কার্যালয়ে তালা ঝোলে”, চেয়ারম্যান বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গেলে তালা খোলা হয়, আর কমিশনের ভাষ্যে কার্যকারিতা না থাকায় এই শাখায় নতুন আবেদনও পড়েনি। খাগড়াছড়ির প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদক দুজন কর্মী দেখেছেন, পাশে আবেদনের “ধুলোমলিন কাগজ”। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার ও সচিব ঢাকায় বসে দাপ্তরিক কাজ করেন।
শাখা খোলার আগে তিন জেলার আবেদন খাগড়াছড়ির প্রধান কার্যালয়েই যেত, প্রথম আলোকে জানিয়েছেন সেখানে কর্মরত একজন কর্মচারী।
প্রকাশিত উৎসে কমিশনের অন্তত দুটি আবেদন-আহ্বান পাওয়া যায়। প্রথমটি বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীর সময়ে, যাতে প্রায় সাড়ে চার হাজার আবেদন পড়ে। দ্বিতীয়টি 10 সেপ্টেম্বর 2016-এ, 45 দিনের সময় দিয়ে, যা পরে “পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত” বাড়ানো হয়। এখনকার 22 হাজারের বেশি আবেদনের বড় অংশ এই দ্বিতীয় দফার।
প্রথম আলোর 9 অক্টোবর 2014-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী বলেছিলেন, “আইন সংশোধন সরকারের বিষয়। সে জন্য কমিশন অকার্যকর থাকতে পারে না। বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই কমিশন কাজ করবে।” এরপর তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি জরিপের উদ্যোগ নেন এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আবেদন আহ্বান করেন। প্রায় সাড়ে চার হাজার আবেদন পড়ে, একটিরও নিষ্পত্তি হয়নি, জরিপের উদ্যোগও সফল হয়নি। একই তথ্য প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদনেও আছে।
এই পর্বে শুনানিরও একটি চেষ্টা হয়েছিল। জুমজার্নালের আর্কাইভে থাকা মঙ্গল কুমার চাকমার 4 মার্চ 2012-এর লেখা অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির তৃতীয় সভা (খাগড়াছড়ি, 26 ডিসেম্বর 2010) কমিশনের বিচারিক কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিলেও চেয়ারম্যান 28–29 ফেব্রুয়ারি 2012 মামলাগুলোর শুনানি শুরুর উদ্যোগ নেন। চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় কমিশনার ছাড়া অন্য কোনো সদস্য উপস্থিত না হওয়ায় শুনানি শুরু হয়নি, আর চেয়ারম্যান 1–2 এপ্রিল 2012 আবার শুরুর ঘোষণা দেন। লেখক জনসংহতি সমিতির নেতা (নিউ এজ 2017-এ তাঁর পরিচয় সংগঠনের প্রচার সম্পাদক), আর লেখায় তিনি চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করেছিলেন; এই অবস্থান তাঁর নিজের। আইন সংশোধন নিয়ে 2009 থেকে 2016 পর্যন্ত যে টানাপোড়েন চলে, তা বিস্তারিত আছে ২০১৬ সালের সংশোধনী নিয়ে লেখায়।
ডেইলি অবজারভারের 11 সেপ্টেম্বর 2016-এর প্রতিবেদন (খাগড়াছড়ি, 10 সেপ্টেম্বর) অনুযায়ী কমিশন তিন পার্বত্য জেলার ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। কমিশনের তৎকালীন সচিব মো. রেজাউল করিম বিজ্ঞপ্তির শর্তগুলো জানান:
একই প্রতিবেদনে কমিশনের সূত্র জানায়, তখন পর্যন্ত মোট 4,408টি আবেদন জমা ছিল এবং নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।
45 দিন শেষ হওয়ার আগেই সময় বাড়ে। ডেইলি স্টারের 30 অক্টোবর 2016-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী আগের দিন রাঙামাটি সার্কিট হাউসে কমিশনের দ্বিতীয় সভা আবেদন জমার সময় “পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত” বাড়ায়, কারণ অনেকে তখনো আবেদন দিতে পারেননি। চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল হক জানান, ততদিনে 15,669টি আবেদন জমা পড়েছে। সভাটি হয় রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে বাঙালি বসতিস্থাপনকারীদের পাঁচ সংগঠনের ডাকা সড়ক অবরোধের মধ্যে।
এত অল্প সময়ে এত আবেদন কীভাবে জমা পড়ল, তার একটি বিবরণ দিয়েছেন গবেষক হানা শামস আহমেদ, ডেইলি স্টারে 10 আগস্ট 2022-এর লেখায়। তাঁর ভাষায়, 2016 সালের সংশোধনের পর হেডম্যান (মৌজাপ্রধান) ও কার্বারিরা (পাড়াপ্রধান) নিজ নিজ এলাকা থেকে মানুষকে কমিশনে আবেদন জমা দিতে সংগঠিত করায় “very crucial role” পালন করেন। তিনি লেখেন, আবেদন জমার সময়সীমা “very short” ছিল; চাকমা সার্কেল চিফের কার্যালয়, হেডম্যান ও কার্বারি নেটওয়ার্ক এবং হেডম্যান-কার্বারিরা গ্রামে গিয়ে মানুষকে কমিশনের সিদ্ধান্ত ও আবেদনের প্রক্রিয়া জানান এবং দরখাস্ত লিখতে সাহায্য করেন। তাঁদের প্রথাগত দায়িত্ব নিয়ে দেখুন মৌজা হেডম্যান ও কার্বারির কাজ নিয়ে লেখা।
ডেইলি স্টারের 4 আগস্ট 2019-এর প্রতিবেদনে (জামিল মাহমুদ) খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার এক আবেদনকারীর কথা আছে, যিনি ফেব্রুয়ারি 2016-এ আবেদন করেছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী আবেদন জমার সময় তাঁকে একটি প্রাপ্তিস্বীকার স্লিপ (acknowledgement slip) দেওয়া হয়, কিন্তু তিন বছরে অগ্রগতি নিয়ে কোনো চিঠি বা নোটিশ তিনি পাননি। আবেদনের প্রাপ্তিস্বীকার দেওয়ার কথা অন্য কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নে প্রকাশিত দুটি বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর 2019-এ চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল হক বলেন, আবেদন গ্রহণ চলছে এবং এর কোনো সময়সীমা নেই। সেপ্টেম্বর 2022-এ প্রথম আলোকে কমিশন জানায়, আগের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ায় 2017 সাল থেকে নতুন আবেদন নেওয়া বন্ধ। 2022-এর পরের কোনো প্রকাশিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ পোস্টের 12 সেপ্টেম্বর 2019-এর প্রতিবেদনে রাঙামাটি সার্কিট হাউসের সভার পর চেয়ারম্যানের বক্তব্য: ভুক্তভোগীদের আবেদন গ্রহণ চলছে, “it had no time limit”, যেকোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কমিশনে আবেদন করতে পারেন, আর কমিশন যতদিন থাকবে প্রক্রিয়াটিও চলবে। একই কথা আবার এসেছে বাংলাদেশ পোস্টের 27 নভেম্বর 2019-এর প্রতিবেদনে।
প্রথম আলোর 8 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদনে খাগড়াছড়ির কার্যালয়ের একজন কর্মচারী বলেন, “২০১৭ সালেই শেষ আবেদন জমা পড়ে।” কমিশনের বক্তব্য হিসেবে প্রতিবেদনটি লিখেছে, ২২ হাজার ৪৬৮ আবেদনের কোনোটিরই নিষ্পত্তি না হওয়ায় “২০১৭ সাল থেকে নতুন আবেদন নেওয়া বন্ধ”।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন 18 আগস্ট 2025-এ ঢাকায় এক মতবিনিময় সভায় যে সুপারিশ দেয়, তার একটি ছিল “ভূমি বিরোধের নিষ্পত্তি চেয়ে আবেদনপত্র লেখা ও দাখিল করার ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া” (বাংলা ট্রিবিউন, 19 আগস্ট 2025)। আবেদন দাখিলের পথ তখন খোলা ছিল কি না, প্রতিবেদনে তা বলা নেই।
আইনে আবেদন দাখিলের কোনো সময়সীমা বা তামাদির বিধান নেই; 2016 সালের 45 দিনের সীমাটি এসেছিল কমিশনের নিজের বিজ্ঞপ্তি থেকে। ফলে আজ কেউ আবেদন দিতে চাইলে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ হলো কমিশনের খাগড়াছড়ি কার্যালয় থেকে সরাসরি জেনে নেওয়া, আর আবেদনের প্রাপ্তিস্বীকার রেখে দেওয়া।
সবচেয়ে বিস্তারিত সরকারি-সূত্রের হিসাব প্রথম আলোর 8 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদনে: মোট 22,468টি আবেদন — রাঙামাটি 9,941, খাগড়াছড়ি 7,975, বান্দরবান 4,552। জানুয়ারি 2017-এ চেয়ারম্যান দিয়েছিলেন 22,881, আর অক্টোবর 2025-এ 33 নাগরিকের বিবৃতি বলছে 26 হাজারের বেশি। নিচের ছকে প্রতিটি সংখ্যা তার উৎস ও তারিখসহ।
| যখনকার হিসাব | আবেদনের সংখ্যা | কে বলেছেন | উৎস |
|---|---|---|---|
| 2009–2012 (খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীর সময়) | প্রায় সাড়ে চার হাজার | প্রতিবেদক | প্রথম আলো, 9 অক্টোবর 2014 ও 8 সেপ্টেম্বর 2022 |
| 10 সেপ্টেম্বর 2016 | 4,408 | কমিশনের সূত্র | ডেইলি অবজারভার, 11 সেপ্টেম্বর 2016 |
| 29 অক্টোবর 2016 | 15,669 | চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল হক | ডেইলি স্টার, 30 অক্টোবর 2016 |
| 15 জানুয়ারি 2017 | 22,881 (রাঙামাটি 9,940; খাগড়াছড়ি 8,373; বান্দরবান 4,568) | চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল হক | ডেইলি স্টার, 16 জানুয়ারি 2017 |
| এপ্রিল 2017 | 24,000 | প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী | ডেইলি স্টার, 17 এপ্রিল 2017 |
| ডিসেম্বর 2017 | অন্তত 22,000 | জনসংহতি সমিতির মঙ্গল কুমার চাকমা | নিউ এজ, 4 ডিসেম্বর 2017 |
| ফেব্রুয়ারি ও অক্টোবর 2018 | 22,000 | চেয়ারম্যান | ডেইলি স্টার, 12 ফেব্রুয়ারি ও 9 অক্টোবর 2018 |
| সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর 2019 | 22,090 | চেয়ারম্যান; কমিশনের সচিব আলী মনসুর | দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 12 সেপ্টেম্বর 2019; বাংলাদেশ পোস্ট, 12 সেপ্টেম্বর ও 27 নভেম্বর 2019 |
| 23 ডিসেম্বর 2019 | 24,000 | কমিশনের সচিব মো. শাহাব উদ্দিন | বাংলাদেশ পোস্ট, 23 ডিসেম্বর 2019 |
| ফেব্রুয়ারি 2020 | প্রায় 24,000 / 24,000-এর বেশি | চেয়ারম্যান | বিডিনিউজ২৪, 3 ফেব্রুয়ারি 2020; ডেইলি স্টার, 3 ফেব্রুয়ারি 2020 |
| সেপ্টেম্বর 2022 | 22,468 (রাঙামাটি 9,941; খাগড়াছড়ি 7,975; বান্দরবান 4,552) | কমিশন | প্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022 |
| আগস্ট 2023 | প্রায় 23,000 | সম্পাদকীয় | প্রথম আলো ইংরেজি, 22 আগস্ট 2023 |
| নভেম্বর 2023 | 22,000-এর বেশি | কমিশনের সচিব মো. নেজাম উদ্দিন | প্রথম আলো, 2 ডিসেম্বর 2023 |
| অক্টোবর 2025 | 26,000-এর বেশি (“জানা যায়”) | 33 নাগরিকের বিবৃতি | প্রথম আলো, 20 অক্টোবর 2025 |
দুটি জেলাভিত্তিক হিসাব পাশাপাশি রাখা যায়। জানুয়ারি 2017-এ রাঙামাটি 9,940, খাগড়াছড়ি 8,373, বান্দরবান 4,568; সেপ্টেম্বর 2022-এ রাঙামাটি 9,941, খাগড়াছড়ি 7,975, বান্দরবান 4,552। দুই হিসাবের পার্থক্যের কোনো ব্যাখ্যা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদন আরও বলছে, “কমিশন এখনো আবেদনগুলো যাচাই–বাছাইও করতে পারেনি।” অন্যদিকে বাংলাদেশ পোস্টের 23 ডিসেম্বর 2019-এর প্রতিবেদনে চেয়ারম্যান বলেন, জমা পড়া আবেদন তাঁরা তখন যাচাই করছেন (“scrutinising”), আর ডেইলি স্টারের 2019 সালের প্রতিবেদনে কমিশনের সদস্য ও বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা বলেন, অভিযোগগুলো অগ্রাধিকার অনুযায়ী সাজানো হয়ে গেছে।
আইনে আবেদনের কোনো ফরম, ফি বা সময়সীমা নেই, আর সেগুলো ঠিক করার জায়গা হলো 18 ধারার বিধিমালা। সেই বিধিমালা আজও গেজেটে প্রকাশিত হয়নি। ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুটির ওয়েবসাইটের আইন-বিধি তালিকাতেই কমিশন আইন আছে, কমিশনের কোনো বিধিমালা নেই।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের “গ্রুপ ভিত্তিক সকল আইন/বিধি” পাতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন 2016 (প্রকাশ 13 অক্টোবর 2016), মূল কমিশন আইন 2001 (17 জুলাই 2001) আর ভূমি-খতিয়ান (পার্বত্য চট্টগ্রাম) অধ্যাদেশ 1984 তালিকাভুক্ত, কমিশনের কোনো বিধিমালা নেই। একই পাতায় 2026 সালের একটি বিধিমালাও তালিকাভুক্ত, অর্থাৎ পাতাটি হালনাগাদ হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের “বিধিমালা” পাতায় (শেষ হালনাগাদ 1 মে 2025) এগারোটি দলিল, তার মধ্যেও কমিশনের বিধিমালা নেই।
বিধিমালা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা কমিশনের ভেতরের মানুষেরা বারবার বলেছেন:
বিধিমালার খসড়ায় ঠিক কী আছে, তার পূর্ণ পাঠ প্রকাশিত হয়নি। একটি বাক্যই প্রকাশিত উৎসে মেলে: নিউ এজের 4 ডিসেম্বর 2017-এর প্রতিবেদনে কমিশনের এক সূত্র বলেছেন, খসড়া অনুযায়ী আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে কমিশন ভূমি-বিরোধে উদ্যোগ নেবে। আবেদনের ফরম, ফি বা শুনানির ধাপ খসড়ায় কীভাবে আছে, জানা যায়নি।
খসড়া বিধিমালা জানুয়ারি 2017-এ ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর সংসদীয় কমিটি (2018), পার্বত্য মন্ত্রী (2019), চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি (2023) সবাই দ্রুত চূড়ান্ত করার কথা বলেছেন; ডিসেম্বর 2023-এ ভূমি মন্ত্রণালয় বলেছে “পর্যালোচনা চলছে”। নিচে প্রকাশিত প্রতিটি ধাপ তারিখসহ।
| তারিখ | কী ঘটেছে | উৎস |
|---|---|---|
| 17 জুলাই 2001 | আইন বলবৎ; 18 ধারায় বিধি প্রণয়নের সময় “ছয় মাসের মধ্যে” | bdlaws, আইন ও পাদটীকা 14 |
| অক্টোবর 2016 | সংশোধনীতে “ছয় মাসের মধ্যে”-র জায়গায় “যথাশীঘ্র” | bdlaws; ভূমি মন্ত্রণালয়ের তালিকা |
| 1 জানুয়ারি 2017 | খসড়া বিধিমালা জমা | নিউ এজ, 4 ডিসেম্বর 2017 (সন্তু লারমার বরাতে) |
| 5 জুলাই 2018 (প্রতিবেদন) | পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির 32তম সভা (3 জুলাই) ভূমি মন্ত্রণালয়কে “পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন বিধিমালা-২০১৬” দ্রুত কার্যকর করতে সুপারিশ করে | ডেইলি রাঙামাটি, 5 জুলাই 2018 |
| অক্টোবর 2018 | চেয়ারম্যান: খসড়ায় আঞ্চলিক পরিষদ সংশোধনী দিয়েছে, তা “চুড়ান্ত করণের পর্যায়ে” | আইপিনিউজবিডি, 9 অক্টোবর 2018 |
| 19 মার্চ 2019 | কমিশনের সভা আবার সিদ্ধান্ত নেয়, বিধিমালা গৃহীত হলেই বিচারিক কাজ শুরু হবে | হিল ভয়েস, 19 মার্চ 2019 |
| 27 জুন 2019 | পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং ঢাকায় বলেন, খসড়া সম্প্রতি চূড়ান্ত হয়েছে, শিগগির কার্যকর হবে | ডেইলি স্টার, 4 আগস্ট 2019 |
| 2019 (আগস্টের প্রতিবেদনের আগে) | ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কামরুল হাসান ফেরদৌস: খসড়া নিয়ে কাজ চলছে; দেরির প্রশ্নে সরাসরি উত্তর দেননি | ডেইলি স্টার, 4 আগস্ট 2019 |
| 12 সেপ্টেম্বর 2019 | চেয়ারম্যান: “We have sent recommendations to the government, but the government is yet to draft the rules of business”; অন্যত্র বলেন, প্রক্রিয়া “almost at the end” | দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; বাংলাদেশ পোস্ট, দুটিই 12 সেপ্টেম্বর 2019 |
| সেপ্টেম্বর 2022 | সচিব: বিধিমালা প্রণয়ন করবে সরকার, মন্ত্রণালয় কাজ করছে; চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় ভূমিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন | প্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022 |
| 20 আগস্ট 2023 | চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভা বিধিমালা প্রণয়নের তাগিদ দেয়; আগের সভায় পার্বত্য মন্ত্রণালয় ও আঞ্চলিক পরিষদকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল | প্রথম আলো ইংরেজি সম্পাদকীয়, 22 আগস্ট 2023 |
| নভেম্বর 2023 | ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরিপ বিভাগের উপসচিব এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন: “বিধিমালার খসড়া নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।” | প্রথম আলো, 2 ডিসেম্বর 2023 |
| 18 আগস্ট 2025 | চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের প্রথম দাবি: “ভূমি কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ণ” | বাংলা ট্রিবিউন, 19 আগস্ট 2025 |
| নভেম্বর 2026 | ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন-বিধি তালিকায় কমিশনের বিধিমালা নেই | minland.gov.bd, 4 নভেম্বর 2026-এ দেখা |
খসড়াটি কে জমা দিয়েছিল, সে প্রশ্নে উৎসগুলোর ভাষা আলাদা। ডেইলি স্টার (2019) লিখেছে, কমিশন জানুয়ারি 2017-এ ভূমি মন্ত্রণালয়ে খসড়া দেয়; হিল ভয়েস (2019) লিখেছে, আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জানুয়ারি 2017-এ ভূমি মন্ত্রণালয়ে খসড়া জমা দেন; প্রথম আলো (2022) লিখেছে, আঞ্চলিক পরিষদ একটি খসড়া তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দিয়েছে।
কমিশনের প্রথম সভা হয় 7 জুন 2005, খাগড়াছড়িতে। 2016 সালের সংশোধনের পর রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে নিয়মিত সভা বসতে শুরু করে; হানা শামস আহমেদের হিসাবে 2016-এর পর 11টি। শেষ যে সভার খবর পাওয়া যায় তা 3 ফেব্রুয়ারি 2020-এর, কোরাম ছাড়া। সেপ্টেম্বর 2022 ও অক্টোবর 2025-এর সভা দুটি ডাকার পর স্থগিত হয়।
| তারিখ ও স্থান | যা ঘটেছে | উৎস |
|---|---|---|
| 7 জুন 2005, খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউস | প্রথম সভা, চেয়ারম্যান বিচারপতি এ এম মাহমুদুর রহমান। সন্তু লারমা: প্রয়োজনীয় আইন না হলে কমিশন কাজ শুরু করবে না। চেয়ারম্যান: কমিশনের চেয়ে “ট্রাইব্যুনাল” হলে বেশি কার্যকর হতো | ডেইলি স্টার, 8 জুন 2005 |
| 28–29 ফেব্রুয়ারি 2012, খাগড়াছড়ি | শুনানির উদ্যোগ; চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় কমিশনার ছাড়া কেউ আসেননি | মঙ্গল কুমার চাকমা, জুমজার্নাল আর্কাইভ |
| 3 সেপ্টেম্বর 2016, রাঙামাটি সার্কিট হাউস | সংশোধনী অনুমোদনের পর প্রথম সভা; একই দিনে বাঙালি বসতিস্থাপনকারীদের পাঁচ সংগঠনের হরতাল | ডেইলি স্টার, 4 সেপ্টেম্বর 2016 |
| 29 অক্টোবর 2016, রাঙামাটি সার্কিট হাউস | দ্বিতীয় সভা; আবেদনের সময় বৃদ্ধি; সড়ক অবরোধ | ডেইলি স্টার, 30 অক্টোবর 2016 |
| 15 জানুয়ারি 2017, বান্দরবান সার্কিট হাউস | 22,881 আবেদনের হিসাব; জনবল ও অফিস নিয়ে আলোচনা | ডেইলি স্টার, 16 জানুয়ারি 2017 |
| 11 ফেব্রুয়ারি 2018, রাঙামাটি সার্কিট হাউস | চেয়ারম্যানের পুনর্নিয়োগের পর প্রথম সভা; দুই শাখা অফিস খোলার ঘোষণা; প্রথমে ভারত-প্রত্যাগত শরণার্থীদের কাজ | ডেইলি স্টার, 12 ফেব্রুয়ারি 2018 |
| 27 জুন 2018, বান্দরবান সার্কিট হাউস | সভা (বিস্তারিত পাওয়া যায়নি) | হিল ভয়েস, 19 মার্চ 2019 |
| অক্টোবর 2018, রাঙামাটি সার্কিট হাউস | রুদ্ধদ্বার সভা; শরণার্থীদের অগ্রাধিকার; খসড়া বিধিমালা চূড়ান্তকরণের পর্যায়ে | ডেইলি স্টার ও আইপিনিউজবিডি, 9 অক্টোবর 2018 |
| 19 মার্চ 2019, রাঙামাটি সার্কিট হাউস | প্রত্যাগত শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের মামলা অগ্রাধিকার পাবে; খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, বোমাং চিফ ও বিভাগীয় কমিশনার অনুপস্থিত | হিল ভয়েস, 19 মার্চ 2019 |
| 12 সেপ্টেম্বর 2019, রাঙামাটি সার্কিট হাউস | চেয়ারম্যান: বিধিমালার অপেক্ষা; পরের সভা অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে | দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; বাংলাদেশ পোস্ট |
| 27 নভেম্বর 2019, রাঙামাটি সার্কিট হাউস | চেয়ারম্যান: 23 ডিসেম্বর থেকে আবেদনের কার্যক্রম শুরু হবে | বাংলাদেশ পোস্ট, 27 নভেম্বর 2019 |
| 23 ডিসেম্বর 2019, রাঙামাটি জেলা পরিষদ ভবনে কমিশনের কার্যালয় | পার্বত্য নাগরিক পরিষদের ঘেরাওয়ের মধ্যে এক ঘণ্টা দেরিতে সভা শুরু | বাংলা ট্রিবিউন; বাংলাদেশ পোস্ট, 23 ডিসেম্বর 2019 |
| 3 ফেব্রুয়ারি 2020, বান্দরবান | কোরাম হয়নি, আনুষ্ঠানিক সভা হয়নি; অনানুষ্ঠানিক আলোচনা | হিল ভয়েস; বণিক বার্তা; ডেইলি স্টার |
| 7 সেপ্টেম্বর 2022, রাঙামাটি (ডাকা হয়েছিল) | আগের দিন স্থগিত; পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ 32 ঘণ্টার হরতাল ডেকেছিল | প্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022; নিউ এজ, 10 সেপ্টেম্বর 2022 |
| 19 অক্টোবর 2025, রাঙামাটি (ডাকা হয়েছিল) | 16 অক্টোবর রাতে “অনিবার্য কারণে” স্থগিত; পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ হরতাল ডেকেছিল | প্রথম আলো ও বিডিনিউজ২৪, 17 অক্টোবর 2025 |
সভা না বসার পেছনে তিন ধরনের কারণ উৎসগুলোতে আসে, আর প্রায়ই একসঙ্গে। প্রথমত, সদস্যদের অনুপস্থিতি: ফেব্রুয়ারি 2020-এর বান্দরবান সভায় হিল ভয়েসের হিসাবে নয়জনের মধ্যে চারজন এসেছিলেন — চেয়ারম্যান, বোমাং সার্কেল চিফ, বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার। হিল ভয়েস লিখেছে, আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান নিরাপত্তার কারণে সভা রাঙামাটিতে করার অনুরোধ করেছিলেন, তা গৃহীত না হওয়ায় তিনি ও চাকমা সার্কেল চিফ অনুপস্থিত ছিলেন। বণিক বার্তা লিখেছে, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির প্রতিনিধিরা না আসায় নিয়মিত বৈঠক হয়নি। প্রথম আলো (2022) লিখেছে, ওই সভায় কমিশনের পাঁচ সদস্যের “কেউই ছিলেন না”।
দ্বিতীয়ত, কোভিড: প্রথম আলোকে কমিশনের সচিব নেজাম উদ্দীন 2022 সালে বলেন, “করোনার কারণে ২০২০ সালের পর আর সভা হয়নি।” তৃতীয়ত, হরতাল ও অবরোধ: পরের দুটি সভা ডাকা হয়েছিল, দুটিই হরতাল বা অবরোধের ঘোষণার পর স্থগিত হয় (নিচের “হরতাল, ঘেরাও” অংশ দেখুন)।
আইনের 3(2) ধারায় কমিশন পাঁচ সদস্যের, আর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সার্কেল চিফ আসেন “সংশ্লিষ্ট” হিসেবে, অর্থাৎ বিরোধীয় জমি যে জেলা ও সার্কেলের। বাস্তবের সভাগুলোতে তিন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও তিন সার্কেল চিফ সবাই ডাক পান। হিল ভয়েস (2020) ও প্রথম আলো (2022) দুটিই সংখ্যাটি নয় বলে লিখেছে।
3(2) ধারার ব্যাখ্যায় লেখা: “সংশ্লিষ্ট” অর্থ “বিরোধীয় ভূমি যথাক্রমে যে পার্বত্য জেলা এবং যে সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত”। ফলে কোনো একটি আবেদনের নিষ্পত্তিতে পাঁচজনই বসার কথা। কিন্তু কমিশন এখনো কোনো আবেদনের নিষ্পত্তিতে বসেনি; যে সভাগুলো হয়েছে, সেগুলো সাধারণ প্রশাসনিক সভা। প্রথম আলো 2022 সালে সদস্যের তালিকা দিয়েছে এভাবে: আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, তিন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, তিন সার্কেল প্রধান, বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধি ও কমিশনের চেয়ারম্যান। ডেইলি স্টারের 2016–2020 সালের প্রতিবেদনগুলোর উপস্থিতি-তালিকাতেও তিন সার্কেলের চিফ বা প্রতিনিধি আর তিন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রতিনিধির নাম একসঙ্গে আছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের “ল্যান্ড কমিশন” পাতায় (শেষ হালনাগাদ 1 মে 2025) কমিশনকে বলা হয়েছে “৫ জন সদস্য নিয়ে” গঠিত। আঞ্চলিক পরিষদ কী, তার গঠন ও ক্ষমতা জানতে দেখুন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ: গঠন, ক্ষমতা ও আসন-বণ্টন।
এই সংখ্যার প্রশ্নটি রাজনৈতিক বিতর্কেও আছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) অক্টোবর 2025-এ দাবি তোলে, কমিশনে “পার্বত্য বাঙালীদের কোনো প্রতিনিধি নেই” (ইত্তেফাক, 16 অক্টোবর 2025)। ইউরেশিয়া রিভিউতে অক্টোবর 2024-এ ড. সালেহ শাহরিয়ার লেখেন, 3(2) ধারায় কোনো বাঙালি প্রতিনিধি না থাকা “one of the most contentious aspects” এবং এতে কমিশনে আদিবাসী সদস্যদের প্রাধান্য নিশ্চিত হয়, যা নিয়ে সমালোচনা আছে।
1999 থেকে 2025 পর্যন্ত যাঁরা কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন, তাঁদের নাম পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের তালিকা ও সংবাদে পাওয়া যায়; প্রথমজন দায়িত্ব নেওয়ার আগেই মারা যান, দ্বিতীয়জন অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেন। মাঝে মাঝে পদ ফাঁকা থেকেছে: 2007–2009, 2012–2014 এবং সেপ্টেম্বর–ডিসেম্বর 2017। সর্বশেষ নিয়োগ 28 আগস্ট 2025।
| চেয়ারম্যান | নিয়োগ | যা ঘটেছিল | উৎস |
|---|---|---|---|
| বিচারপতি আনোয়ারুল হক চৌধুরী | 3 জুন 1999 | দায়িত্ব নেওয়ার আগেই মৃত্যু | প্রথম আলো 2014; পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের তালিকা |
| বিচারপতি আবদুল করিম | 5 এপ্রিল 2000 | কিছুদিন পর অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ | প্রথম আলো 2014, 2022; পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের তালিকা |
| বিচারপতি এ এম মাহমুদুর রহমান | নভেম্বর 2001 (তারিখ নিয়ে অমিল, নিচে দেখুন) | 2007 সালে মৃত্যু; প্রথম সভা 2005-এ | প্রথম আলো 2014; নিউ এজ 2017; ডেইলি স্টার 2005 |
| বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী | 2009 | জরিপ ও আবেদন-আহ্বান; মেয়াদ শেষ 18 জুলাই 2012 | পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের তালিকা; প্রথম আলো 2014 |
| বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার-উল হক | 7 সেপ্টেম্বর 2014; পুনর্নিয়োগ 11 ডিসেম্বর 2017 | প্রথম মেয়াদ শেষ 6 সেপ্টেম্বর 2017; 2016-এর আবেদন-আহ্বান ও 2016–2020-এর সভাগুলো তাঁর সময়ে | প্রথম আলো 2014; নিউ এজ 2017; ডেইলি স্টার 2018 |
| বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ (আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি) | 28 আগস্ট 2025 | 19 অক্টোবর 2025-এর সভা ডাকেন, তা স্থগিত হয় | জেএসএস, প্রথম আলোর 1 জানুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদনে; প্রথম আলো 20 অক্টোবর 2025 |
আনোয়ার-উল হকের দ্বিতীয় মেয়াদ কবে শেষ হয়, তারপর আগস্ট 2025 পর্যন্ত কেউ দায়িত্বে ছিলেন কি না, প্রকাশিত উৎসে স্পষ্ট নেই। আইনের 5 ধারায় কমিশনের মেয়াদ চেয়ারম্যান নিয়োগের তারিখ থেকে তিন বছর। আগস্ট 2025-এর মতবিনিময় সভায় চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের দাবির তালিকায় ছিল “ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ” (বাংলা ট্রিবিউন, 19 আগস্ট 2025); দশ দিন পর নতুন নিয়োগ হয়। কমিশনের চেয়ারম্যানদের ইতিহাসের প্রেক্ষাপট পাবেন ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন লেখায়।
প্রথম আলোর 9 অক্টোবর 2014-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী নতুন চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল হক 14 সেপ্টেম্বর 2014 খাগড়াছড়ির প্রধান কার্যালয়ে বসেন এবং সদস্যদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তখন সন্তু লারমা তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত কমিশনের সভা করে লাভ হবে না, “কারণ, ত্রুটিপূর্ণ আইনের ভিত্তিতে কমিশনের কাজ তাঁরা মানবেন না।” দুই বছর পর সংশোধনী হয়, আর তার পরের সভাগুলোতে সন্তু লারমা উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী কমিশনের তিনটি শীর্ষ পদের (চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, সচিব) বাইরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদ পাঁচটি, আর বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক খরচ মিলে সরকারের বছরে খরচ প্রায় সোয়া কোটি টাকা। জনবল ও অফিসের সংকটের কথা 2016 থেকে প্রায় প্রতিটি সভার পর বলা হয়েছে।
আইনের 13(1) ধারায় কমিশনের সচিব হবেন “আইন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে অভিজ্ঞ সরকারের উপ-সচিব পদ মর্যাদার কর্মকর্তাগণের মধ্য হইতে”। প্রকাশিত প্রতিবেদনে 2022 ও 2025 সালের সচিবের পরিচয় দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে “যুগ্ম জেলা জজ” ও “যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ” হিসেবে। 13(3) ধারায় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার দিয়ে স্থায়ী অধিবাসী নিয়োগের বিধান আছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের “ল্যান্ড কমিশন” পাতায় লেখা, “এই কমিশনকে যাবতীয় সহায়তা দেয়া ভূমি মন্ত্রণালয় দায়িত্ব”, এবং “কমিশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে”।
2016 থেকে 2025 পর্যন্ত কমিশনের বিভিন্ন সভা বা কর্মসূচির দিনে বাঙালি সংগঠনগুলোর হরতাল, অবরোধ বা ঘেরাওয়ের খবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে আছে, আর সেপ্টেম্বর 2022 ও অক্টোবর 2025-এর সভা এমন ঘোষণার পর স্থগিত হয়। আপত্তিকারীদের মূল দাবি 2016 সালের সংশোধনী বাতিল, কমিশনে বাঙালি প্রতিনিধি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির আগে ভূমি জরিপ।
ইত্তেফাকের 16 অক্টোবর 2025-এর প্রতিবেদনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের আট দফা দাবি পুরোটা ছাপা হয়েছে। সংক্ষেপে:
2016 সালের সংশোধনীতে ঠিক কী বদলেছিল — সিদ্ধান্তের সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিয়ম, কোরাম, “পদ্ধতি” শব্দ — তা সংশোধনী নিয়ে লেখায় ধারা ধরে আছে, আর “রীতি ও পদ্ধতি” নিয়ে বাঙালি সংগঠনগুলোর আপত্তির ব্যাখ্যা আছে ৬ ধারা নিয়ে লেখায়।
2022 সালের স্থগিতের পর 23 জন অধিকারকর্মী 8 সেপ্টেম্বর বিবৃতি দেন; নিউ এজের সম্পাদকীয় অনুযায়ী তাঁদের অভিযোগ, সরকারের ভেতরের একটি অংশ নাগরিক পরিষদকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন দেয়। 2025 সালের স্থগিতের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন (যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন ও অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী) বিবৃতিতে বলে, “এ ধরনের অনভিপ্রেত হুঁশিয়ারিতে যদি বারবার সভা ডেকে স্থগিত করা হয়, তবে তাতে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়বে” (প্রথম আলো, 17 অক্টোবর 2025)। 33 নাগরিকের বিবৃতি একই ধরনের অভিযোগ তোলে এবং “উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত” দাবি করে (প্রথম আলো, 20 অক্টোবর 2025)। জনসংহতি সমিতির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী 22 অক্টোবর 2025-এ ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন টাস্কফোর্সের 12তম সভাও একইভাবে স্থগিত হয় (প্রথম আলো, 1 জানুয়ারি 2026)।
সংগঠনগুলোর অভিযোগ ও দাবি এখানে তাদের নিজেদের বক্তব্য হিসেবে দেওয়া হলো; সরকারের ভেতরের কোনো অংশের ইন্ধনের অভিযোগ কোনো সরকারি তদন্তে যাচাই হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদনে কমিশন নিজে একটি বড় কারণ বলেছে: শরণার্থীদের তালিকা না থাকা, যা টাস্কফোর্সের দায়িত্ব ছিল। 3 ফেব্রুয়ারি 2020-এর সভার আলোচ্যসূচিতে লেখা ছিল, টাস্কফোর্স থেকে শরণার্থীদের তালিকা পাওয়া যায়নি; সভা টাস্কফোর্সকে তাগিদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
আইনের 2(চ) ধারায় “পুনর্বাসিত শরণার্থী” মানে 9 মার্চ 1997-এর আগরতলা চুক্তির আওতায় তালিকাভুক্ত শরণার্থী, তাই তালিকাটি আইনেরই অংশ। প্রথম আলোর একই প্রতিবেদনে টাস্কফোর্সের সূত্র বলছে, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু হিসেবে তিন জেলায় 81,777 পরিবারের খসড়া তালিকা আছে, ভারত-প্রত্যাগত 21,900 পরিবারও আবেদন করেছে, যাচাই চলছে, আর 1994 সাল থেকে আট দফায় সরকার 12,223 পরিবারকে ফিরিয়ে এনেছে। টাস্কফোর্সের তালিকা নিয়ে বিরোধের পুরো বিবরণ আছে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন টাস্কফোর্স লেখায়।
কমিশনের সভাগুলোও শরণার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়েছে: ফেব্রুয়ারি 2018-এ চেয়ারম্যান বলেন, “At first we will start work for the refugee people, those who had gone to India” (ডেইলি স্টার); মার্চ 2019-এর সভা প্রত্যাগত শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের মামলাকে অগ্রাধিকার দেয় (হিল ভয়েস)।

জরিপের প্রশ্নটি এখানেই আসে। চুক্তির (ঘ)2 দফার ইংরেজি সরকারি অনুবাদে ক্রমটি এরকম: চুক্তি স্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন, এবং শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের পরে সরকার আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে “shall start cadastral survey in CHT as soon as possible”। খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীর সময়ে জরিপ শুরুর উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি উঠেছিল এই ক্রম ঘিরেই (প্রথম আলো, 2014 ও 2022)।
উল্টো দিক থেকে, পিসিসিপির 2025 সালের দ্বিতীয় দাবি: বিরোধ নিষ্পত্তি শুরুর আগে ভূমি জরিপ সম্পন্ন করা। ইউরেশিয়া রিভিউতে ড. সালেহ শাহরিয়ার লিখেছেন, কিছু স্থানীয় বাঙালি অভিজাত বিরোধ নিষ্পত্তির প্রথম ধাপ হিসেবে জরিপের ওপর জোর দেন, আর চুক্তিতে জরিপ রাখা আছে শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের পরে।
প্রকাশিত উৎসে যে কারণগুলো বারবার আসে: বিধিমালা না থাকা, জনবল-অফিস-বাজেটের অভাব, সদস্যদের অনুপস্থিতি ও কোরাম, চেয়ারম্যান পদের ধারাবাহিকতার অভাব, শরণার্থী তালিকা না পাওয়া, সভার দিনে হরতাল-অবরোধ, আর 2016 পর্যন্ত আইন নিয়ে অচলাবস্থা। কোন কারণকে কে বড় করে দেখেন, তা পক্ষভেদে আলাদা।
| কে | কোন কারণ সামনে আনেন | উৎস |
|---|---|---|
| কমিশন (সচিব, 2022) | বিধিমালা না হওয়া, জনবলসংকট, অতীতে আইন সংশোধনের জটিলতা, টাস্কফোর্সের শরণার্থী তালিকা না পাওয়া, কোভিডের পর সভা না হওয়া | প্রথম আলো, 8 সেপ্টেম্বর 2022 |
| চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল হক (2019) | সরকার বিধিমালা করেনি; জনবল ও অফিস ভূমি মন্ত্রণালয়ে “red tape”-এ আটকে; আইন বদলানো সরকারের বিষয় | দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; বাংলা ট্রিবিউন, 2019 |
| সন্তু লারমা / জনসংহতি সমিতি | 2016 পর্যন্ত চুক্তিবিরোধী আইন; পরে বিধিমালা ও জনবলের অভাব; সভা স্থগিতের পেছনে “হুমকি” | প্রথম আলো 2014; নিউ এজ 2017; প্রথম আলো 1 জানুয়ারি 2026 |
| পার্বত্য মন্ত্রণালয় (অতিরিক্ত সচিব সুদত্ত চাকমা, 2019) | বিধিমালা প্রণয়ন করছে ভূমি মন্ত্রণালয় | ডেইলি স্টার, 4 আগস্ট 2019 |
| ভূমি মন্ত্রণালয় (2019, 2023) | খসড়া নিয়ে কাজ / পর্যালোচনা চলছে | ডেইলি স্টার 2019; প্রথম আলো 2023 |
| চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন ও 33 নাগরিক | বিধিমালা, চেয়ারম্যান, জনবল, তহবিল; হুমকিতে সভা স্থগিত; প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনের অভিযোগ | বাংলা ট্রিবিউন 2025; প্রথম আলো, 17 ও 20 অক্টোবর 2025 |
| পার্বত্য নাগরিক পরিষদ / পিসিসিপি | 2016 সালের সংশোধনী আইনই সমস্যা; বাঙালি প্রতিনিধি নেই; আগে জরিপ চাই | বাংলা ট্রিবিউন 2019; ইত্তেফাক 2025 |
| গবেষক হানা শামস আহমেদ | ভূমি মন্ত্রণালয়ে খসড়ার অগ্রগতি নেই; নজরদারি ও ভয়ের রাজনৈতিক পরিবেশ; রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব | ডেইলি স্টার, 10 আগস্ট 2022 |
| ড. সালেহ শাহরিয়ার | কোরাম ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিয়মে বিলম্ব ও উত্তেজনার ঝুঁকি; বাঙালি প্রতিনিধি না থাকা; কমিশনের লজিস্টিক ও সম্পদের অভাব | ইউরেশিয়া রিভিউ, 15 অক্টোবর 2024 |
একটি সরকারি মূল্যায়নও আছে। নিউ এজের 2017 সালের প্রতিবেদনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নভেম্বর 2014-এর একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত: ভূমি-বিরোধের সমাধানই অঞ্চলের সার্বিক শান্তির চাবি, আর এ জন্য গঠিত ভূমি কমিশন “proved incapable and failed to gain the trust and confidence of the CHT people”।
সর্বশেষ খবর সেপ্টেম্বর 2026-এর। 10 সেপ্টেম্বর 2026-এর বাংলাদেশ গেজেটে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক — তিনটি কমিটি গঠন করে। জনসংহতি সমিতি এর প্রতিবাদে যে বিবৃতি দেয়, তার দাবির মধ্যে আছে টাস্কফোর্স ও “ভূমি কমিশন পুনর্গঠন” (প্রথম আলো ও সংবাদ, 28 সেপ্টেম্বর 2026)। পুনর্গঠন বলতে তারা কী বোঝায়, বিবৃতির প্রকাশিত অংশে তা নেই। চুক্তির সামগ্রিক বাস্তবায়নের হিসাব পাবেন পার্বত্য চুক্তি ১৯৯৭: কী ছিল, কতটা হলো লেখায়।
প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদন কয়েকজন আবেদনকারীর কথা লিখেছে: কেউ 2008 সালে, কেউ 2014 সালে আবেদন করেছেন; কেউ ফল না পেয়ে আদালতে মামলা করেছেন; প্রতিবেদন অনুযায়ী অনেক আবেদনকারী মারাও গেছেন। ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বলেন, “অনেকে ভূমি কমিশনের পাশাপাশি আদালতে মামলা করেছেন।”
প্রতিবেদনের উদাহরণগুলো তিন জেলারই। খাগড়াছড়ির পানছড়ির এক আবেদনকারী 1984 সালে বাড়ি পুড়ে যাওয়ার পর ভারতের ত্রিপুরায় চলে যান, 1994 সালে ফিরে বসতভিটা পেলেও সাড়ে সাত একর জুমের জমি পাননি, কারণ প্রতিবেদনের ভাষায় “সেখানে তখন বাঙালি বসতি”; তিনি জানুয়ারি 2008-এ কমিশনে আবেদন করেন এবং বছর তিনেক আগে আদালতে মামলা করেন। রাঙামাটির লংগদুর ঘনমোর মৌজার এক আবেদনকারী তিন একর জমির জন্য 2014 সালে আবেদন করেন। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির এক মৌজার হেডম্যান আড়াই একর জমির জন্য আবেদন করে আদালতে যান, কারণ কমিশন তাঁকে ডাকেনি; তাঁর কথা: “জীবদ্দশায় জায়গা ফেরত পাব কি না জানি না।”
কমিশন আর আদালত — দুই জায়গায় একসঙ্গে একই বিরোধ চললে কী হয়, আইনে সে বিষয়ে আলাদা কোনো ধারা নেই, আর কোনো প্রকাশিত রায়েও প্রশ্নটির উত্তর পাওয়া যায়নি। কমিশনের সিদ্ধান্ত হলে তার বিরুদ্ধে আপিলের পথ নেই, সে আলোচনা আছে ১৬ ধারা নিয়ে লেখায়। পার্বত্য অঞ্চলে প্রথাগত সামাজিক বিচারের আপিল কোন ধাপে যায়, তা আলাদা বিষয়: কার্বারি থেকে বিভাগীয় কমিশনার পর্যন্ত আপিলের ধাপ।
কয়েকটি তথ্যে প্রকাশিত উৎসগুলো একমত নয়। প্রতিটি অমিল এখানে উৎসের নামসহ পাশাপাশি রাখা হলো।
আইনের 4 ধারা অনুযায়ী কমিশনের প্রধান কার্যালয় খাগড়াছড়ি জেলা সদরে। প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী রাঙামাটিতে ডিসেম্বর 2019-এ এবং বান্দরবানে ফেব্রুয়ারি 2020-এ শাখা কার্যালয় খোলা হয়, দুটিই জেলা পরিষদ ভবনে। তবে শাখা দুটিতে আলাদা কর্মী নেই এবং সেখানে নতুন আবেদন পড়েনি বলে কমিশন জানিয়েছে।
আইনে কোনো ফরম বা ফি নেই। 9(1) ধারা অনুযায়ী দরখাস্ত সাদা কাগজে বাংলা ভাষায় লিখে দস্তখত বা টিপসই দিয়ে কমিশনের কাছে দাখিল করতে হয়। ফরম, ফি বা শুনানির ধাপ ঠিক করার কথা 18 ধারার বিধিমালায়, যা নভেম্বর 2026 পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত আইন-বিধি তালিকায় নেই।
প্রকাশিত দুটি বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর 2019-এ চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল হক বলেন, আবেদন গ্রহণ চলছে এবং এর কোনো সময়সীমা নেই (বাংলাদেশ পোস্ট)। সেপ্টেম্বর 2022-এ কমিশন প্রথম আলোকে জানায়, আগের আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়ায় 2017 থেকে নতুন আবেদন নেওয়া বন্ধ। কার্যালয়ে সরাসরি জেনে নেওয়াই নিরাপদ।
প্রথম আলোর 8 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদনে কমিশনের হিসাবে 22,468টি: রাঙামাটি 9,941, খাগড়াছড়ি 7,975, বান্দরবান 4,552। জানুয়ারি 2017-এ চেয়ারম্যান বলেছিলেন 22,881, সেপ্টেম্বর 2019-এ 22,090, আর অক্টোবর 2025-এ 33 নাগরিকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে 26 হাজারের বেশি। হিসাবগুলোর পার্থক্যের কোনো প্রকাশিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
প্রকাশিত কোনো উৎসে একটিরও নিষ্পত্তির উল্লেখ নেই। প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদন বলছে কারও আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি, এমনকি যাচাই-বাছাইও হয়নি। 2 ডিসেম্বর 2023-এ কমিশনের সচিব মো. নেজাম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, 22 হাজারের বেশি আবেদনের কোনোটির সুরাহা হয়নি।
খসড়া বিধিমালা জানুয়ারি 2017-এ ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। অক্টোবর 2018-এর মধ্যে আঞ্চলিক পরিষদ তাতে সংশোধনী দেয়, জুন 2019-এ পার্বত্য মন্ত্রী বলেন খসড়া চূড়ান্ত, আর নভেম্বর 2023-এ ভূমি মন্ত্রণালয় বলে “পর্যালোচনা চলছে”। দেরির কারণ নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রকাশিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
আইনের 7(1) ধারা বলছে, “এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে” কমিশন তার কার্যপদ্ধতি ঠিক করবে। কমিশনের চেয়ারম্যান, সচিব, সন্তু লারমা ও কাপেং ফাউন্ডেশন বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, বিধিমালা হলেই শুনানি শুরু হবে। 2012 সালে বিধিমালা ছাড়াই শুনানির একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সদস্যরা উপস্থিত না হওয়ায় তা শুরু হয়নি।
জনসংহতি সমিতির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকার 28 আগস্ট 2025 সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজকে কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় (প্রথম আলো, 1 জানুয়ারি 2026)। তাঁর ডাকা 19 অক্টোবর 2025-এর সভা হরতালের ঘোষণার পর স্থগিত হয়। তাঁর আগে চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার-উল হক।
সেপ্টেম্বর 2022-এ পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের 32 ঘণ্টার হরতালের ঘোষণার পর এবং অক্টোবর 2025-এ পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের হরতালের ঘোষণার পর সভা স্থগিত হয়। ফেব্রুয়ারি 2020-এ বান্দরবানের সভায় কোরাম হয়নি। কমিশনের সচিব 2022 সালে বলেন, কোভিডের কারণে 2020-এর পর সভা হয়নি।
আইনের 3(2) ধারায় সদস্যপদ পদভিত্তিক: চেয়ারম্যান (অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি), আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট সার্কেল চিফ বা প্রতিনিধি এবং বিভাগীয় কমিশনার বা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার। জাতিগত পরিচয়ভিত্তিক কোনো আসন নেই। পিসিসিপি অক্টোবর 2025-এ অভিযোগ করে, কমিশনে পার্বত্য বাঙালিদের কোনো প্রতিনিধি নেই।
ডেইলি অবজারভারের 11 সেপ্টেম্বর 2016-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 10 সেপ্টেম্বর 2016-এর বিজ্ঞপ্তিতে 45 দিনের সময় দেওয়া হয়; নিজে, প্রতিনিধির মাধ্যমে বা ডাকযোগে আবেদন দেওয়া যেত। ডেইলি স্টার জানায়, 29 অক্টোবর 2016-এর সভায় সময় “পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত” বাড়ানো হয়, ততদিনে 15,669টি আবেদন জমা পড়েছিল।
আইনের 2(চ) ধারায় “পুনর্বাসিত শরণার্থী” মানে 9 মার্চ 1997-এর আগরতলা চুক্তির আওতায় তালিকাভুক্ত শরণার্থী। প্রথম আলোর 2022 সালের প্রতিবেদনে কমিশন বলেছে, টাস্কফোর্স থেকে শরণার্থীদের তালিকা না পাওয়া নিষ্পত্তি না হওয়ার একটি বড় কারণ; ফেব্রুয়ারি 2020-এর সভার আলোচ্যসূচিতেও এ কথা ছিল।
এই লেখা আইনি পরামর্শ নয়। কোনো নির্দিষ্ট বিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আইনজীবী বা কমিশনের কার্যালয়ের সঙ্গে কথা বলুন।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 4 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি সমস্যা, ভূমি অধিকার, ভূমি কমিশন আইন, ভূমি বিরোধ
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।