Last updated Oct 19th, 2026
1

ভূমি অধিগ্রহণ রেগুলেশন ১৯৫৮-এর 3(1) ধারা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো জমি “জনপ্রয়োজনে” দরকার হলে ডেপুটি কমিশনার কেবল একটি লিখিত আদেশ দিয়েই তা অধিগ্রহণ করতে পারেন। আদেশের কপি মালিককে দেওয়া বা এলাকায় বিজ্ঞপ্তি টাঙানোর দিন থেকেই জমি সরকারের হয়ে যায়, আর প্রয়োজনে “বলপ্রয়োগ করে” দখল নেওয়ার ক্ষমতাও আইনটি ডেপুটি কমিশনারকে দিয়েছে। আপত্তি জানানোর আলাদা কোনো ধাপ আইনে নেই; আপিল চলে কেবল ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে।
পুরো আইনটি তিন পৃষ্ঠার, ধারা মাত্র ছয়টি। জুমজার্নালের আইন আর্কাইভে এর ইংরেজি পাঠ পার্বত্য চট্টগ্রাম (ভূমি অধিগ্রহণ) রেগুলেশনের মূল পাঠ নামে 2017 সাল থেকে আছে, কিন্তু বাংলায় ধারা ধরে ব্যাখ্যা ছিল না। এই লেখায় প্রতিটি ধারা মূল ইংরেজি পাঠ থেকে উদ্ধৃত করে বাংলায় বোঝানো হয়েছে, 2019 সালের সংশোধনী কী বদলেছে তা দেখানো হয়েছে, আর আইনটি কোথায় কোথায় প্রয়োগ হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠন, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাতিসংঘের নথি ও গবেষকেরা লিখেছেন, তা উৎসের নামসহ পাশাপাশি রাখা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি-ব্যবস্থার বড় ছবিটি আছে আমাদের লেখা পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন-এ; এখানে কেবল অধিগ্রহণের আইনটি।
সূচিপত্র
এটি পূর্ব পাকিস্তানের 1958 সালের 1 নম্বর রেগুলেশন, তারিখ 26 জুলাই 1958। তিন পার্বত্য জেলায় সরকারি প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণের মূল আইন এখনো এটিই। সমতলের জেলাগুলোতে অধিগ্রহণ চলে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন 2017 দিয়ে; বিশ্বব্যাংকের 2022 সালের পর্যালোচনা লিখেছে, ওই আইন দেশের সব জায়গায় প্রধান আইন, “তিন পার্বত্য জেলা বাদে”।
আইন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট bdlaws-এ আইনটির শিরোনাম “The Chittagong Hill-tracts (Land Acquisition) Regulation, 1958”, নিচে বন্ধনীতে “EAST PAKISTAN REGULATION NO. I OF 1958” আর তারিখ “26th July, 1958”। সেখানে কেবল ইংরেজি পাঠ আছে; সরকারি বাংলা অনুবাদ পাওয়া যায়নি। তাই এই লেখায় ধারাগুলোর বাংলা রূপ জুমজার্নালের অনুবাদ, প্রতিটির পাশে মূল ইংরেজি বাক্য।
বাংলা নামও এক নয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন-তালিকায় নামটি “চট্টগ্রাম পার্বত্য জেলা (ভূমি অধিগ্রহণ) অধ্যাদেশ, ১৯৫৮”, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকায় “পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি অধিগ্রহন রেগুলেশন-১৯৫৮”, আর গুগলে মানুষ খোঁজেন “পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি অধিগ্রহণ প্রবিধান ১৯৫৮” লিখে। তিনটি নামই একই আইন বোঝায়। আইনটি আসলে “অধ্যাদেশ” নয়, “রেগুলেশন” (প্রবিধান); কারণটি প্রস্তাবনাতেই আছে, পরের অংশে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য আলাদা আইনের পেছনে আছে এই অঞ্চলের আলাদা ভূমি-ব্যবস্থা। 1900 সালের শাসনবিধি অনুযায়ী এখানকার জমির বড় অংশ রাষ্ট্রীয় খাস জমি হিসেবে গণ্য, জমি বন্দোবস্ত ও খাজনায় হেডম্যান ও সার্কেল চিফের ভূমিকা আছে, আর সমতলের মতো সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নেই। বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনা স্পষ্ট লিখেছে, “তিন পার্বত্য জেলায় কোনো সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নেই”। এই ভিন্নতাই অধিগ্রহণের নিয়মকেও আলাদা করেছে।
প্রস্তাবনা নিজেই বলে দেয় আইনটি সংসদে পাস হয়নি। 1956 সালের পাকিস্তান সংবিধানের 103(3) অনুচ্ছেদে “বহির্ভূত এলাকা” (excluded area) শাসনের জন্য প্রাদেশিক গভর্নরকে রেগুলেশন জারির ক্ষমতা দেওয়া ছিল, আর পার্বত্য চট্টগ্রাম তখন সেই বহির্ভূত এলাকা। সেই ক্ষমতাতেই রেগুলেশনটি জারি হয়।
প্রস্তাবনার চারটি অংশ পরপর পড়লে প্রেক্ষাপট পরিষ্কার হয়:
অর্থাৎ আইনটি এসেছে প্রদেশে প্রেসিডেন্টের শাসন চলার সময়, গভর্নরের একক ক্ষমতায়। 1972 সালের বাংলাদেশ (বিদ্যমান আইন অভিযোজন) আদেশ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং 48) প্রস্তাবনা ও ধারাগুলোর “Governor”, “Governor of East Pakistan” ও “Provincial Government” শব্দগুলোকে “Government” দিয়ে বদলে দেয়; bdlaws-এর পাদটীকায় প্রতিটি বদলের উল্লেখ আছে।
বহির্ভূত এলাকার মর্যাদা কবে উঠে যায়, সে তারিখে উৎসে মিল নেই: জুমজার্নালের আর্কাইভে থাকা জনসংহতি সমিতির একটি ইংরেজি দলিল লিখেছে 1963, আর University of East Anglia-তে জমা দেওয়া Fariba Alamgir-এর 2017 সালের পিএইচডি অভিসন্দর্ভের সময়রেখা লিখেছে, 1964 সালের সংবিধান পার্বত্য চট্টগ্রামকে “excluded area” থেকে “tribal area” করে। যে তারিখই হোক, 1958 সালের রেগুলেশন জারি হয়েছিল ওই মর্যাদা থাকতেই, আর মর্যাদা উঠে যাওয়ার পরও আইনটি বহাল থেকেছে।
একই অভিসন্দর্ভ (পৃষ্ঠা 92) লিখেছে, পাকিস্তান আমলে জমির ওপর কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও অধিগ্রহণের ক্ষমতা বাড়ে, এবং “Chittagong Hill Tracts Land Regulation 1958 facilitated state acquisition of land for building the Kaptai dam” — 1958 সালের রেগুলেশন কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের জন্য রাষ্ট্রের জমি অধিগ্রহণ সহজ করেছিল। কাপ্তাই প্রসঙ্গটি নিচে আলাদা অংশে আছে।

রেগুলেশনের কেন্দ্র 3(1) ধারা। মূল পাঠ: “When any land held on valid title, which is not resumable under the Chittagong Hill-tracts Regulation, 1900, or the rules made thereunder, is required for any public purpose, the Deputy Commissioner may acquire such land by an order in writing.” এর তিনটি শর্ত: জমিটি বৈধ স্বত্বে ধারণকৃত, 1900 সালের শাসনবিধিতে পুনর্গ্রহণযোগ্য নয়, এবং কোনো জনপ্রয়োজনে দরকার। তিনটি মিললে একটি লিখিত আদেশই যথেষ্ট।
বাংলায়: “যখন বৈধ স্বত্বে ধারণকৃত কোনো জমি, যা চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল রেগুলেশন, 1900 বা তার অধীনে প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী পুনর্গ্রহণযোগ্য নয়, কোনো জনপ্রয়োজনে দরকার হয়, তখন ডেপুটি কমিশনার একটি লিখিত আদেশ দিয়ে সেই জমি অধিগ্রহণ করতে পারবেন।”
তিনটি জিনিস এখানে লক্ষ করার মতো।
এক, “জনপ্রয়োজন” (public purpose) শব্দটির কোনো সংজ্ঞা আইনে নেই। 2 নম্বর ধারায় মাত্র তিনটি সংজ্ঞা — “Deputy Commissioner”, “land” আর “person interested”। কোন কাজ জনপ্রয়োজন আর কোনটি নয়, তা আইন বলে দেয়নি; সিদ্ধান্তটি কার্যত আদেশদাতার।
দুই, “ডেপুটি কমিশনার” মানে কেবল জেলা প্রশাসক নন। 2(ক) ধারায় সংজ্ঞাটি হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনার এবং “সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে নিযুক্ত যেকোনো কর্মকর্তা”, যিনি এই রেগুলেশনের অধীনে ডেপুটি কমিশনারের সব বা যেকোনো কাজ করবেন। 1958 সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিল একটি জেলা; বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনা লিখেছে, এখন খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান — তিন জেলার ডেপুটি কমিশনারই এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
তিন, আদেশের আগে কোনো প্রাথমিক নোটিশ বা আপত্তির সুযোগ আইনে নেই। সমতলের 2017 সালের আইনে অধিগ্রহণের নোটিশ জারির পর 15 কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে আপত্তি জানানো যায় (ধারা 5(1)); বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনা এই পার্থক্যটি আলাদা করে উল্লেখ করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের জুন 2013 সালের প্রতিবেদন Pushed to the Edge লিখেছে, 1958 সালের রেগুলেশনে “there is no provision for any appeal against land acquisition” — অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের কোনো বিধান নেই।
তবে বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনায় পার্বত্য জেলায় বাস্তবে যে ধাপগুলো অনুসরণ হয় তার একটি তালিকা আছে — প্রস্তাব জমা, জেলা পরিষদের অনুমোদন, জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটি, প্রাথমিক নোটিশ, যৌথ তদন্ত, মূল্যায়ন। ওই প্রতিবেদন লিখেছে, ভূমি অধিগ্রহণ দপ্তর রেগুলেশনের সঙ্গে যতটা মেলে ততটা পর্যন্ত 1997 সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ম্যানুয়াল অনুসরণ করে, এবং “এটি বছরের পর বছর গড়ে ওঠা একটি চর্চা বলে মনে হয়”। অর্থাৎ ধাপগুলো আইনের নয়, প্রশাসনিক অভ্যাসের।
রেগুলেশনটি কেবল সেই জমিতে প্রযোজ্য যা “বৈধ স্বত্বে” ধারণকৃত এবং 1900 সালের শাসনবিধিতে “পুনর্গ্রহণযোগ্য নয়”। এডিবির এক প্রকল্প-নথি সরাসরি লিখেছে, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে চলা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আদিবাসীদের প্রথাগত জমিতে প্রযোজ্য নয়, কারণ সে জমি নিবন্ধিত ব্যক্তিগত সম্পত্তিও নয়, রাষ্ট্রীয় জমির দখলও নয়।
এডিবির দ্বিতীয় পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের (RRP BAN 42248) ঋণের অর্থে ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে লেখা “Due Diligence Note”-এর মূল বাক্য: “The land acquisition process, operating through the Deputy Commissioner in an administrative district, does not apply to customary lands held by indigenous peoples in the district as such lands are neither titled private property nor encroachments on state land.” একই নথি লিখেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বেশির ভাগ জমিতে আদিবাসীরা প্রথাগত মালিকানায় বসবাস করেন, আর এডিবির 2009 সালের সুরক্ষা নীতিতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্যতার প্রশ্নে প্রথাগত মালিকানা নিবন্ধিত মালিকানার সমান। এ কারণেই প্রকল্পটি নিজস্ব “ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কাঠামো” বানিয়ে প্রথাগত জমির মালিকদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল।
“পুনর্গ্রহণযোগ্য” কথাটির উৎস 1900 সালের শাসনবিধির 50 নম্বর বিধি। IWGIA-র 2000 সালে প্রকাশিত Document No. 99 — আদিবাসী আইনজীবী Rajkumari Chandra Kalindi Roy-এর লেখা Land Rights of the Indigenous Peoples of the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh — বিধি 50(3)(ক) উদ্ধৃত করেছে: বন্দোবস্ত দেওয়া যেকোনো জমি ডেপুটি কমিশনার জনপ্রয়োজনে “resume” বা পুনর্গ্রহণ করতে পারেন, আর তখন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে ইজারাদার বা প্রজার তৈরি ঘরবাড়ি-স্থাপনা, ফসল আর লাগানো গাছের জন্য। জমির জন্য ক্ষতিপূরণ মিলবে কেবল তখন, যখন ইজারার দলিল অনুযায়ী জমিতে স্থায়ী ও উত্তরাধিকারযোগ্য অধিকার জন্মেছে।
Fariba Alamgir-এর অভিসন্দর্ভ (পৃষ্ঠা 79) একই বিধির আরেকটি দিক লিখেছে: হেডম্যানের অনুমতিতে একজন পাহাড়ি 0.30 একর পর্যন্ত বসতভিটা রাখতে পারেন রাষ্ট্রের দেওয়া আইনি দলিল ছাড়াই; রাষ্ট্র সেই ভিটা পুনর্গ্রহণ করলে ক্ষতিপূরণ কেবল ঘর, স্থাপনা ও গাছের জন্য, জমির জন্য নয়। একই পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন, অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বনভূমিতে পাহাড়িরা জুম চাষ করতে পারেন কিন্তু সেখানে জমির ওপর রাষ্ট্রস্বীকৃত দাবি নেই।
দুটি উৎস একসঙ্গে পড়লে একটি কাঠামো দাঁড়ায়, যা এই রেগুলেশন বোঝার চাবি:
| জমির ধরন | রাষ্ট্র যে পথে নিতে পারে | ক্ষতিপূরণ কীসের জন্য | উৎস |
|---|---|---|---|
| বৈধ স্বত্বের জমি, যা 1900 সালের বিধিতে পুনর্গ্রহণযোগ্য নয় | 1958 সালের রেগুলেশনের 3 ধারায় অধিগ্রহণ | জমির বাজারমূল্য, স্থাপনা, গাছ, ফসল ইত্যাদি (ধারা 4), সঙ্গে বাড়তি অর্থ | রেগুলেশনের পাঠ; bdlaws |
| বন্দোবস্ত দেওয়া জমি, যা পুনর্গ্রহণযোগ্য | 1900 সালের শাসনবিধির 50 নম্বর বিধিতে পুনর্গ্রহণ | স্থাপনা, ফসল ও গাছ; জমির জন্য কেবল স্থায়ী-উত্তরাধিকারযোগ্য অধিকার জন্মালে | IWGIA 2000; Alamgir 2017 |
| প্রথাগত মালিকানার জমি (দলিলবিহীন) | এডিবির ভাষায়, জেলা প্রশাসকের অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এখানে প্রযোজ্য নয় | আইনে নির্দিষ্ট নয়; এডিবির প্রকল্প নিজস্ব কাঠামোয় ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল | এডিবি, RRP BAN 42248 |
বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনাও একই সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করেছে, তবে সারা দেশের জন্য: জাতীয় আইন কেবল দখলে থাকা আইনি মালিককে স্বীকৃতি দেয়, অধিগৃহীত জমির আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক ব্যবহারকারীকে নয়; বিশ্বব্যাংকের নিয়মে স্বত্ব থাকুক বা না থাকুক তাঁদেরও বিবেচনা করতে হয়।
1900 সালের শাসনবিধিটি নিজেই আদালতে দীর্ঘ মামলার বিষয় হয়েছিল — হাইকোর্ট একসময় একে “মৃত আইন” বলেছিল, আপিল বিভাগ সে রায় বাতিল করে। সেই মামলার বিস্তারিত নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা: রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলা: ১৯০০ সালের শাসনবিধি যেভাবে ‘মৃত আইন’ হলো, আর যেভাবে ফিরে এল। 1958 সালের রেগুলেশনের 3(1) ধারা যেহেতু 1900 সালের শাসনবিধির ওপর ভর করে লেখা, শাসনবিধির বৈধতা এই আইনের প্রয়োগের সীমাও ঠিক করে।
আদেশ হলে ডেপুটি কমিশনার তার কপি “আগ্রহী ব্যক্তি”কে দেবেন (3(2))। কিন্তু তাঁর মনে হলে যে প্রত্যেককে কপি দিতে গেলে দখল নিতে দেরি হবে, তিনি তা না দিয়ে এলাকার সুবিধাজনক জায়গায় প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি টাঙাতে পারেন। কপি দেওয়া বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকেই জমি সব দায়মুক্ত হয়ে সরকারের, আর দখল নেওয়া যায় “প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করে” (3(3))।
3(3) ধারার মূল পাঠ: “On and from the date of service of a copy of the order or publication of a notice under sub-section (2), the land so acquired shall vest absolutely in the Government free from all incumbrances and the Deputy Commissioner may take possession of such land by using such force as may be necessary.”
এখানে তিনটি বিষয়।
প্রথমত, “আগ্রহী ব্যক্তি” (person interested) বলতে 2(গ) ধারায় বোঝানো হয়েছে তাঁদের, যাঁরা অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণে স্বার্থ দাবি করেন। জমিতে যিনি থাকেন বা চাষ করেন, তিনি আলাদা করে সংজ্ঞায় নেই। অ্যামনেস্টির 2013 সালের প্রতিবেদন এ কারণেই লিখেছে, রেগুলেশনে “there is no requirement to provide any notice directly to occupiers of land” — জমির দখলদারকে সরাসরি নোটিশ দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
দ্বিতীয়ত, বিজ্ঞপ্তি টাঙানোর সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ ডেপুটি কমিশনারের “মতামত”-নির্ভর। Fariba Alamgir লিখেছেন, এই বিধানের বলে ব্যক্তিগত নোটিশ বাদ দিয়ে একটি প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তিতেই জমি সঙ্গে সঙ্গে অধিগ্রহণ করা যায়। তিনি G.B. Chakma-র 2014 সালের একটি লেখা উদ্ধৃত করে আরও লিখেছেন, আইনটি এমনভাবে সাজানো যে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি তোলার জায়গা থাকে না।
তৃতীয়ত, জমি সরকারের হয়ে যাওয়ার মুহূর্তটি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আগে। সমতলের 2017 সালের আইনের সঙ্গে এটিই বড় পার্থক্য; বিশ্বব্যাংক লিখেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে জমি সরকারের নামে যায় (জেলা পরিষদের অনুমতি সাপেক্ষে) আদেশের কপি দেওয়া বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই।
ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ঠিক করেন ডেপুটি কমিশনার নিজেই। 4(1) ধারা ছয়টি বিষয় বিবেচনা করতে বলে: অধিগ্রহণ আদেশের দিনের বাজারমূল্য, স্থাপনা-বাঁশ-গাছ-ফসলের ক্ষতি, বাকি জমি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ক্ষতি, অন্য সম্পত্তি বা আয়ের ক্ষতি, বাসস্থান বা ব্যবসা সরানোর খরচ, আর আদেশ থেকে দখল পর্যন্ত মুনাফা কমে যাওয়া। এর ওপর বাড়তি অর্থ দেয় 4(2) ধারা।
| ক্রম | মূল ইংরেজি শব্দ | কী বিবেচনা করা হয় |
|---|---|---|
| 1 | firstly | অধিগ্রহণ আদেশের তারিখে জমির বাজারমূল্য; তবে যে প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ, সেই প্রকল্পের কারণে দামের যে ওঠানামা, তা ধরা হবে না |
| 2 | secondly | দখল নেওয়ার সময় জমিতে থাকা স্থাপনা, বাঁশ, গাছ বা দাঁড়িয়ে থাকা ফসলের ক্ষতি |
| 3 | thirdly | অধিগৃহীত অংশ মালিকের বাকি জমি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ক্ষতি |
| 4 | fourthly | অধিগ্রহণের ফলে মালিকের অন্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বা আয়ের ক্ষতি |
| 5 | fifthly | বাসস্থান বা ব্যবসার স্থান বদলাতে বাধ্য হলে তার যুক্তিসংগত খরচ |
| 6 | sixthly | আদেশের কপি বা বিজ্ঞপ্তির দিন থেকে দখল নেওয়া পর্যন্ত জমির মুনাফা সরল বিশ্বাসে কমে যাওয়ার ক্ষতি |
“বাঁশ” শব্দটি আলাদা করে থাকা এই আইনের একটি স্থানীয় বৈশিষ্ট্য — মূল পাঠে আছে “structures, bamboos, trees or standing crops”। জুমের ফসল দাঁড়িয়ে থাকলে তা দ্বিতীয় দফায় পড়ে; কিন্তু জুমের জমি নিজে বাজারমূল্যের হিসাবে আসবে কি না, তা নির্ভর করে জমিটি 3(1) ধারার “বৈধ স্বত্বে” ধারণকৃত কি না তার ওপর, যা আগের অংশে দেখা গেছে।
বাজারমূল্য কীভাবে ঠিক হয়, তা রেগুলেশনে নেই। বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনা লিখেছে, মূল রেগুলেশনে বাড়তি ক্ষতিপূরণ ছিল সরকারের নির্ধারিত বাজারমূল্যের 15 শতাংশ, আর সেই বাজারমূল্য নির্ধারণ হতো নিবন্ধিত জমি-লেনদেনের দাম দেখে। একই প্রতিবেদনের রাঙামাটির মামলার ছকে দেখা যায়, স্থাপনা ও গাছের দাম যাচাই করেছিল বন বিভাগ ও গণপূর্ত বিভাগ; সারা দেশের প্রসঙ্গে এই দুই দপ্তর বিশ্বব্যাংককে জানিয়েছে, নিজেদের কাজের চাপে মূল্যায়নের জন্য আলাদা কর্মী দিতে পারে না।
মূল 4(2) ধারায় বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণের বিবেচনায় বাজারমূল্যের ওপর বাড়তি 15 শতাংশ দেওয়ার কথা ছিল। 2019 সালের 3 নম্বর আইন সেটি বদলে জনপ্রয়োজনে অধিগ্রহণে বাজারমূল্যের 200 শতাংশ আর বেসরকারি প্রয়োজনে 300 শতাংশ বাড়তি দেওয়ার বিধান করে। বিশ্বব্যাংক লিখেছে, সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষতিপূরণকে দেশের বাকি অংশের সমান করা।
বর্তমান 4(2) ধারা, bdlaws অনুযায়ী: “In addition to the market value of the land, as provided above, the Deputy Commissioner shall, in every case, award a sum of 200 (two hundred) per centum for public purpose and 300 (three hundred) per centum for private purpose on such market value, in consideration of the compulsory nature of the acquisition.” পাদটীকায় লেখা, উপধারাটি “Chittagong Hill Tracts (Land Acquisition) Regulation (Amendment) Act, 2019 (Act No 3 of 2019)”-এর 2 ধারায় প্রতিস্থাপিত।
পরিবর্তনটি কয়েক ধাপে এসেছে:
| তারিখ | ঘটনা | উৎস |
|---|---|---|
| 21 সেপ্টেম্বর 2017 | সমতলের জন্য স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন 2017 কার্যকর; বাড়তি ক্ষতিপূরণ জমির জন্য 200 শতাংশ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য অধিগ্রহণে 300 শতাংশ | বিশ্বব্যাংক 2022 |
| 20 ডিসেম্বর 2018 | অধ্যাদেশ জারি করে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাড়তি ক্ষতিপূরণ 15 থেকে বাড়ানো হয় | ইউএনবি, 18 ফেব্রুয়ারি 2019 |
| 21 জানুয়ারি 2019 | মন্ত্রিসভা খসড়া বিল অনুমোদন করে | ইউএনবি |
| 18 ফেব্রুয়ারি 2019 | তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী (Saifuzzaman Chowdhury) সংসদে বিল উত্থাপন করেন; ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিকে ছয় দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয় | ইউএনবি |
| 2019 (তারিখ: 2019-02-28) | “পার্বত্য চট্টগ্রাম (ভূমি অধিগ্রহণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯” — 2019 সালের 3 নম্বর আইন; অধ্যাদেশটি রহিত | ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন-তালিকা; bdlaws; বিশ্বব্যাংক |
সংখ্যাগুলো কীভাবে পড়তে হবে, তা নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার। ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী পুরোনো নিয়মে মালিক পেতেন বাজারমূল্যের মোট 115 শতাংশ (100 শতাংশ মূল্য + 15 শতাংশ বাড়তি), আর বিল পাস হলে পাবেন 300 থেকে 400 শতাংশ। ইউএনবি অধ্যাদেশটিকে লিখেছে ক্ষতিপূরণ “15 থেকে 300 শতাংশে” বাড়ানো হিসেবে; বিশ্বব্যাংক লিখেছে 2018 সালের সংশোধন পার্বত্য রেগুলেশনকে 2017 সালের আইনের ক্ষতিপূরণ বিধানের “সমান” করে। এক জায়গায় পার্থক্যও আছে: 2017 সালের আইনে, বিশ্বব্যাংকের বর্ণনায়, জমি ছাড়া অন্য সম্পত্তি ও ক্ষতির জন্য বাড়তি 100 শতাংশ; পার্বত্য রেগুলেশনের সংশোধিত 4(2) ধারার শব্দে বাড়তি অর্থ হিসাব হয় কেবল “such market value” বা জমির বাজারমূল্যের ওপর।
আরেকটি বিষয় পাঠে চোখে পড়ে। 3(1) ধারা এখনো কেবল “public purpose”-এ অধিগ্রহণের কথা বলে, কিন্তু সংশোধিত 4(2) ধারায় “private purpose”-এর জন্য 300 শতাংশের হার আছে। বেসরকারি প্রয়োজনে অধিগ্রহণ রেগুলেশনের কোন ধারার অধীনে হবে, তা সংশোধনীতে বা পরবর্তী কোনো বিধিমালায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে কি না, প্রকাশিত কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। সমতলের 2017 সালের আইনে, বিশ্বব্যাংকের বর্ণনায়, জনস্বার্থের প্রকল্পে বেসরকারি সংস্থার জন্য অধিগ্রহণের বিধান আছে; পার্বত্য রেগুলেশনের হারটি সেখান থেকেই নেওয়া বলে মনে হয়, তবে সংসদের কার্যবিবরণী ছাড়া তা নিশ্চিত বলা যায় না।
সংশোধনী কেবল টাকার অঙ্ক বদলেছে। নোটিশ, আপত্তির সুযোগ, পুনর্বাসন বা প্রথাগত জমির প্রশ্নে কিছু বদলায়নি — 3, 5 ও 6 নম্বর ধারা bdlaws-এর পাঠে আগের মতোই।
ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণের আদেশের বিরুদ্ধে নোটিশ পাওয়ার 30 দিনের মধ্যে আপিল করা যায় (5(1))। মূল 1958 সালের পাঠে আপিল যেত চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারের কাছে, আর রাজস্ব বোর্ড তা পুনর্বিবেচনা করতে পারত। আপিলটি কেবল ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে; অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে নয়।
কার কাছে আপিল, সে প্রশ্নে দুই সরকারি-আধা সরকারি উৎস এখন দুই রকম বলে। bdlaws-এর বর্তমান পাঠে 5(1) ধারায় আপিল যায় “Government”-এর কাছে; পাদটীকা বলছে, 1973 সালের বাংলাদেশ আইন (রহিতকরণ ও সংশোধন) আদেশ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং 12) “Commissioner of Chittagong Division” বা “Board” শব্দের জায়গায় “Government” বসিয়েছে, আর রাজস্ব বোর্ডের পুনর্বিবেচনার 5(2) উপধারা বাদ দিয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের আগস্ট 2022 সালের পর্যালোচনা লিখেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষতিপূরণের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় “চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের” কাছে, ধারা 5(1) উদ্ধৃত করে।
জনসংহতি সমিতির ওয়েবসাইট ও জুমজার্নালের আর্কাইভে থাকা পাঠ — দুটিতেই এখনো মূল 1958 সালের শব্দ: “Commissioner of Chittagong Division”, আর পুনর্বিবেচনা “Board of Revenue”-এর। যিনি আপিল করতে চান, তাঁর জন্য প্রশ্নটি ব্যবহারিক; তাই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বর্তমান চর্চা জেনে নেওয়াই নিরাপদ।
সমতলের সঙ্গে তুলনায় এখানে আরেকটি ফাঁক: 2017 সালের আইনে ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ পুনর্বিবেচনার জন্য সালিশকারীর কাছে, তারপর সালিশি আপিল ট্রাইব্যুনালে যাওয়া যায় (ধারা 30(1) ও 36(1), বিশ্বব্যাংকের বর্ণনায়)। পার্বত্য রেগুলেশনে এমন কোনো দ্বিতীয় স্তর নেই।
1958 সালের রেগুলেশনে জেলা পরিষদের কোনো উল্লেখ নেই, কারণ পরিষদ তখন ছিল না। কিন্তু 1998 সালে সংশোধিত তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের 64(1)(খ) ধারা বলে, পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন কোনো জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল পরিষদের সঙ্গে আলোচনা ও তার সম্মতি ছাড়া সরকার অধিগ্রহণ বা হস্তান্তর করতে পারবে না। ধারাটি শুরু হয় “অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন” দিয়ে।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের যে পাঠ রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের পূর্ণ পাঠ হিসেবে আমাদের আর্কাইভে আছে, তাতে ধারাটি এরকম: “(খ) পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন কোন প্রকারের জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল পরিষদের সহিত আলোচনা ও উহার সম্মতি ব্যতিরেকে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর করা যাইবে না৷”
একই ধারার (ক) উপদফা জমি ইজারা, বন্দোবস্ত, ক্রয়-বিক্রয় ও হস্তান্তরে পরিষদের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করে, আর তার শর্তাংশে পাঁচটি ব্যতিক্রম: রক্ষিত বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পকারখানা এবং সরকারের নামে রেকর্ড করা জমি। পাঠে এই শর্তাংশ বসেছে (ক)-এর নিচে; অধিগ্রহণের (খ) উপদফা আলাদা বাক্য, তার নিজের কোনো শর্তাংশ নেই। এই বিধানটি 1997 সালের চুক্তির “খ” খণ্ডের 26 নম্বর ধারা থেকে এসেছে; চুক্তির ধারাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭: ধারা ধরে ধরে লেখায়।
1997 সালের আগে পরিস্থিতি আলাদা ছিল। IWGIA-র 2000 সালের প্রকাশনা লিখেছে, 1989 সালের জেলা পরিষদ আইনে বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে পরিষদের “কোনো ক্ষমতা ছিল না”; চুক্তি ও তার পরের আইনি সংস্কারই প্রথম অধিগ্রহণে পরিষদের পূর্ব-আলোচনা ও সম্মতি বাধ্যতামূলক করে।
কাগজে নিয়মটি এখন বিশ্বব্যাংকও স্বীকার করে। পর্যালোচনাটি লিখেছে, তিন জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী ডেপুটি কমিশনার অধিগ্রহণ চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট পরিষদের পূর্বানুমোদন নেন, আর সমতলের সঙ্গে মূল পার্থক্যের তালিকায় লিখেছে: “Land in CHT cannot be acquired without prior permission from the respective HDC.”
কিন্তু একই প্রতিবেদনের মাঠ-উদাহরণে উল্টো চিত্র। রাঙামাটিতে দ্বিতীয় পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ মামলা নং 04(D)/2014-15-এর সময়রেখায় দ্বিতীয় ধাপ “Approval from the HDC” — তার পাশে লেখা “Not obtained”। জমির পরিমাণ 27.23 প্রমিত বিঘা, অধিগ্রহণ হয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য। অ্যামনেস্টির 2013 সালের প্রতিবেদনও লিখেছে, 1958 সালের রেগুলেশন জেলা পরিষদ আইনের এই বিধানের সঙ্গে “inconsistent” বা অসংগত।
বিশ্বব্যাংক যখন লিখছে পার্বত্য জেলায় অধিগ্রহণ চলে 1958 সালের রেগুলেশনে, তখন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, 2014-এর 15 ধারা বোর্ডের প্রয়োজনে অধিগ্রহণের জন্য সমতলের আইনের দিকে নির্দেশ করে। বোর্ড আগে সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন নেবে, তারপর সরকার জমিটি 1982 সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল অধ্যাদেশের অধীনে অধিগ্রহণ করবে।
আমাদের আর্কাইভে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০১৪-এর পাঠ অনুযায়ী 15(1) ধারা: “বোর্ডের কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য কোনো ভূমির প্রয়োজন হইলে, উহা জনস্বার্থে প্রয়োজন বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং বোর্ড উক্ত ভূমি অধিগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিবে; অতঃপর সরকার উক্ত ভূমি Acquisition and Requisition of Immovable property Ordinance, 1982 (Ordinance No. II of 1982) এর অধীন অধিগ্রহণ করিতে পারিবে।” 15(2) ধারা ক্ষতিপূরণও সেই অধ্যাদেশ অনুযায়ী ঠিক করতে বলে।
তিনটি পার্থক্য এখানে স্পষ্ট। এক, বোর্ডের যেকোনো প্রয়োজনকে আইন নিজেই “জনস্বার্থ” ঘোষণা করে দিয়েছে। দুই, জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদনের কথা আইনের মূল বাক্যেই আছে, যা 1958 সালের রেগুলেশনে নেই। তিন, যে 1982 সালের অধ্যাদেশের কথা বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের বর্ণনায় সেটি এখন কেবল 21 সেপ্টেম্বর 2017-এর আগে শুরু হওয়া মামলায় প্রযোজ্য; তার জায়গা নিয়েছে 2017 সালের আইন। উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণে এখন কোন আইন প্রয়োগ হয়, সে বিষয়ে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
Fariba Alamgir-এর অভিসন্দর্ভ লিখেছে, 1958 সালের রেগুলেশন কাপ্তাই বাঁধের জন্য রাষ্ট্রের জমি অধিগ্রহণ সহজ করেছিল। বাঁধ নির্মাণ শেষ হয় 1962 সালে। অভিসন্দর্ভের মাঠ-গবেষণা থেকে একটি গ্রামের হিসাব পাওয়া যায়, যেখানে 1960 সালে অধিগৃহীত জমির জন্য একরপ্রতি 250 টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল, অথচ সে জমি শেষ পর্যন্ত পানিতে ডোবেনি।

গ্রামটিকে অভিসন্দর্ভে Chakmachari নামে উল্লেখ করা হয়েছে — খাগড়াছড়ি শহর থেকে প্রায় 15 কিলোমিটার দূরের একটি চাকমা গ্রাম, পাশ দিয়ে চেঙ্গী নদী। অভিসন্দর্ভের 128 পৃষ্ঠার পাদটীকা অনুযায়ী, ধারণা করা হয়েছিল বাঁধের পর চেঙ্গীর পানি বেড়ে গ্রামের কিছু সমতল চাষের জমি ডুবে যাবে; তাই সরকার 1960 সালে গ্রামের মোট সমতল চাষের জমি বা “A Category Land”-এর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অধিগ্রহণ করে, মালিকেরা একরপ্রতি 250 টাকা পান। জমিগুলো ডোবেনি। মূল মালিকদের পরিবার এখনো সেখানে চাষ করে, খতিয়ান দেখিয়ে মালিকানা দাবি করে, আর গ্রামে জমিগুলো পরিচিত “khatipuroner jomi” বা “ক্ষতিপূরণের জমি” নামে।
একই পাদটীকা জানাচ্ছে, 1964 সালে সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল যে যাঁদের জমি ডোবেনি, তাঁরা জমি ফিরিয়ে নিতে পারবেন (সূত্র হিসেবে ALRD-এর 2010 সালের একটি প্রকাশনা উল্লেখিত); কিন্তু গবেষকের ভাষায় গ্রামের কেউ সেই বিজ্ঞপ্তির কথা শোনেননি। অধিগ্রহণটি ঠিক 1958 সালের রেগুলেশনেই হয়েছিল কি না, পাদটীকায় তা আলাদা করে লেখা নেই; অভিসন্দর্ভের 92 পৃষ্ঠার সাধারণ বক্তব্যই রেগুলেশন ও কাপ্তাইকে যুক্ত করে।
কাপ্তাইয়ের প্রভাব আজও অধিগ্রহণের গল্পে ফিরে আসে। নিচে ঝগড়াবিলের যে ঘটনা আছে, সেখানে কাপেং ফাউন্ডেশন লিখেছে, নোটিশ পাওয়া পরিবারগুলোর অনেকে কাপ্তাই বাঁধে একবার উচ্ছেদ হয়েছিলেন; বাবুছড়ার ঘটনাতেও একই কথা।
বান্দরবানের রুমায় সেনানিবাস সম্প্রসারণের অধিগ্রহণ এই রেগুলেশনের সবচেয়ে দীর্ঘ ও আলোচিত প্রয়োগ। জমির পরিমাণ উৎসভেদে চার রকম: কাপেং ফাউন্ডেশন, অ্যামনেস্টি ও আমাদের আর্কাইভের একটি লেখায় 9,560 একর; 2009 সালে জাতিসংঘের কাছে সরকারের জবাবে 7,570 একর; আর 10 ফেব্রুয়ারি 2016 সালে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে 997 একর, “এখনো প্রক্রিয়াধীন”।
| উৎস | তারিখ | জমির পরিমাণ | কতজন ক্ষতিগ্রস্ত |
|---|---|---|---|
| সরকারের জবাব, জাতিসংঘের বাসস্থান-বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারের প্রতিবেদনে (A/HRC/13/20/Add.1) | জবাব 16 সেপ্টেম্বর 2009; প্রতিবেদন 22 ফেব্রুয়ারি 2010 | 7,570 একর | 899 একর ব্যক্তিগত জমিতে 266টি পরিবার |
| কাপেং ফাউন্ডেশন, মানবাধিকার প্রতিবেদন 2009–2010 | 10 ডিসেম্বর 2010 | 9,560 একর | প্রায় 15,000 ম্রো |
| জুমজার্নালের আর্কাইভে “পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যার চিত্র” | লেখার তারিখ উল্লেখ নেই; সর্বশেষ উল্লিখিত ঘটনা 2009 | 9,560 একর | 3টি মৌজার 13টি গ্রাম, প্রায় 5,000 মানুষ |
| অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, Pushed to the Edge | জুন 2013 | বর্তমান 500 একরের সঙ্গে আরও 9,560 একর | 5,000 পাহাড়ি পরিবার |
| প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদে (প্রথম আলো) | 10 ফেব্রুয়ারি 2016 | 997 একর, “এখনো প্রক্রিয়াধীন” | উল্লেখ নেই |
সংখ্যাগুলো একই প্রস্তাবের ভিন্ন সময়ের রূপ, নাকি ভিন্ন প্রস্তাব — কোনো উৎস দুটিকে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করেনি। ক্ষতিগ্রস্তের হিসাবও তিন রকম: আর্কাইভের লেখা বলছে প্রায় 5,000 মানুষ, অ্যামনেস্টি বলছে 5,000 পরিবার, কাপেং বলছে প্রায় 15,000 ম্রো।
সময়রেখার টুকরোগুলো আলাদা আলাদা উৎসে আছে। কাপেং ফাউন্ডেশন লিখেছে, চুক্তির আগের সময়েই সেনা কর্তৃপক্ষ 9,560 একর অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করে, আর “1980-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে” বারবার চেষ্টা হয়েছে। আর্কাইভের লেখাটি লিখেছে, অধিগ্রহণের প্রথম চেষ্টা হয় মার্চ 2005-এ, যখন সেনাবাহিনী ও বান্দরবান জেলার রাজস্ব বিভাগ জরিপ সম্পন্ন করে; একই লেখা জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী থাকাকালে কল্পরঞ্জন চাকমা জমিটি অধিগ্রহণ না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, আর 2009 সালের মার্চে রুমায় প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। কাপেং আরেকটি প্রতিবাদের তারিখ দিয়েছে: 8 নভেম্বর 2010, রুমা উপজেলা সদরে।
সরকারের অবস্থান জাতিসংঘের নথিতে আছে। 16 সেপ্টেম্বর 2009-এর জবাবে সরকার জানায়, শান্তিচুক্তি অনুযায়ী রুমা উপজেলায় একটি সেনা গ্যারিসন থাকার কথা, যার জন্য 7,570 একর জমি অধিগ্রহণ দরকার; সেখানে 899 একর ব্যক্তিগত জমিতে বাস করা 266টি পরিবার স্থানীয় সেনা কমান্ডারের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে, এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও বিকল্প বাসস্থান পেলে তারা সরে যেতে রাজি। একই জবাবে সরকার বলে, ওই জমি নিয়ে মালিকেরা কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি, আর বান্দরবানে রুমা গ্যারিসন ছাড়া আদিবাসীদের জমি অধিগ্রহণের কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি।
অ্যামনেস্টি লিখেছে, 2008 ও 2009 সালে পাহাড়ি নেতারা সরকারপ্রধানের কাছে অধিগ্রহণ বাতিলের আবেদন করেছিলেন, আর আইনত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের পূর্বসম্মতি লাগা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসন প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যাচ্ছিল। 2016 সালে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে অধিগ্রহণ তখনো চলমান। এর পরের অবস্থা — অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে কি না, কত একরে — কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি। চুক্তি-পরবর্তী সেনা উপস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আছে অপারেশন উত্তরণ পার্বত্য চট্টগ্রাম লেখায়।
রুমায় আরেকটি ছোট অধিগ্রহণের কথাও কাপেং লিখেছে: 15 জুলাই 2010 তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ একটি চিঠিতে তৎকালীন বিডিআরের ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের জন্য Poli মৌজার Thana Para-য় 25 একর জমি অধিগ্রহণের কথা বলে। কাপেংয়ের দাবি, বিডিআর যে সীমানা চিহ্নিত করেছিল তা 25 একরের বেশি, আর তাতে তিনটি পাড়ার শতাধিক মারমা পরিবার উচ্ছেদ হবে।
কাপেং ফাউন্ডেশনের 2009–2010 সালের মানবাধিকার প্রতিবেদন কেবল বান্দরবান জেলায় সামরিক প্রয়োজনে অধিগৃহীত ও প্রক্রিয়াধীন জমির একটি তালিকা দিয়েছে, যার মোট 71,711.45 একর। এর মধ্যে সুয়ালকে গোলন্দাজ ও পদাতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য 11,445.45 একর অধিগৃহীত, আর আরও 19,000 একর এবং বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য 26,000 একর প্রক্রিয়াধীন।
| প্রয়োজন (কাপেংয়ের বর্ণনা) | কাপেং, 2010 (একর) | আর্কাইভের লেখা (একর) |
|---|---|---|
| সুয়ালক গোলন্দাজ ও পদাতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র — অধিগৃহীত | 11,445.45 | 11,445 (400 পরিবার উচ্ছেদ) |
| সুয়ালক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র — অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন | 19,000 | গোলন্দাজ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য 30,000 |
| রুমা গ্যারিসন | 9,560 | 9,560 |
| বান্দরবান ব্রিগেড সদর দপ্তর সম্প্রসারণ | 181 | 183 |
| সেনাবাহিনীর ইকোপার্ক ও পর্যটন (Tankabati Hill) | 5,500 | — |
| বান্দরবান-লামা বিমানবাহিনী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র — প্রক্রিয়াধীন | 26,000 | 26,000 |
| রুমায় বিডিআর ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর | 25 | — |
| পানছড়ি জোন সম্প্রসারণ (খাগড়াছড়ি) | — | 143 |
| মোট (কাপেংয়ের হিসাব) | 71,711.45 | মোট দেওয়া নেই |
কাপেংয়ের তালিকার নিচে “Source:” লেখা, কিন্তু উৎসের নাম ফাঁকা। আর্কাইভের লেখাটির লেখকের নাম ও তারিখ পোস্টে নেই; এর সর্বশেষ উল্লিখিত ঘটনা 2008–2009 সালের। দুটি উৎসই আদিবাসী অধিকারের পক্ষে লেখা, এবং সরকারি কোনো নথিতে এই অঙ্কগুলো মিলিয়ে দেখা যায়নি। তালিকার সব অধিগ্রহণ 1958 সালের রেগুলেশনেই হয়েছে, এমনও দুটি উৎসের কোনোটি বলেনি; তারা “acquired” বা “অধিগ্রহণ” শব্দ ব্যবহার করেছে, আইনের নাম নয়।
একই প্রতিবেদনে বন বিভাগের জন্য অধিগ্রহণের আলাদা হিসাব আছে: বান্দরবানের সাত উপজেলার 35টি মৌজায় সংরক্ষিত বনের জন্য 94,066.97 একর, আর অধিগ্রহণ ছাড়াই বন বিভাগের দখলে 23,933.03 একর। বন-বিষয়ক অধিগ্রহণ চলে মূলত 1927 সালের বন আইনে, যা এই লেখার বিষয় নয়; সাঙ্গু-মাতামুহুরী অঞ্চলের উদাহরণ আছে আমাদের লেখা সাঙ্গু মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন: বন বিভাগ আর জুমিয়াদের সীমানা-বিরোধ-এ।
পরের বছরগুলোতেও প্রস্তাব থেমে থাকেনি, কাপেংয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী। 2014 সালের প্রতিবেদন 2013 সালের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে লিখেছে, বান্দরবান সদর ও রুমা উপজেলায় Dola Mro Para, Kaprupara (নীলগিরি), চিম্বুক, Owai Junction ও কেওক্রাডং এলাকায় সেনাবাহিনী 600 একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করছে, আর জায়গাগুলো ম্রো ও বম জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত বসতি। একই প্রতিবেদনে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে সেনাবাহিনীর পর্যটন কমপ্লেক্সের জন্য মোট 68 একর অধিগ্রহণের পরিকল্পনার কথা আছে, যাতে 53টি ত্রিপুরা ও 12টি পাংখোয়া পরিবারের উচ্ছেদের আশঙ্কা লেখা হয়েছে। সাজেকের পাড়াগুলোর ইতিহাস আছে সাজেকে পর্যটনের আগে কারা থাকতেন লেখায়।
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন একটি ম্রো সম্প্রদায়ের প্রধান Rang Lai Mro-র বিবরণ দিয়েছে, যিনি বান্দরবানে সেনাবাহিনীর ম্রো জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদ করছিলেন এবং 2007–08 সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আটক হন বলে জানিয়েছেন। অ্যামনেস্টির ভাষায় তিনি চান সম্প্রদায়ের জমি ফেরত, আর সরকার ও সেনাবাহিনীর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি যে আর কোনো জমি বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করা হবে না।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) 51 ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরের জমি নিয়ে 10 জুন 2014-এ সংঘর্ষ হয়। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস লিখেছে, 15 মে 2014 স্থানীয় প্রশাসন 29.81 একর জমি বিজিবিকে হস্তান্তর করে; কাপেং ফাউন্ডেশন জমির পরিমাণ লিখেছে 45.0 একর, তিনটি পাড়ার। কাপেংয়ের দাবি, জেলা পরিষদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা তার সম্মতি নেওয়া হয়নি।
কাপেংয়ের 2014 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী জমি নেওয়া হয়েছিল Santosh Kumar Karbari Para, Gobinda Karbari Para ও Notun Chandra Karbari Para থেকে; তাতে 21টি আদিবাসী পরিবারের জমির সঙ্গে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি বৌদ্ধ বিহারের জমিও পড়ে, কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার আগে 21টি পরিবারকে সরিয়ে দেওয়া হয়, আর 200 শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। একই প্রতিবেদন লিখেছে, পরিবারগুলোর অনেকে 1960-এর দশকে কাপ্তাই প্রকল্পে উচ্ছেদ হয়েছিলেন, 1980 সালে ভারতে শরণার্থী হন, 1998 সালে ফিরে নিজেদের ভিটায় ঢুকতে পারেননি, এবং 2005 সালে হাইকোর্টে রিট করে স্থিতাবস্থার আদেশ পান।
বিজিবির বক্তব্যও কাপেং উদ্ধৃত করেছে: সরকারি নিয়ম মেনে 1991 সালেই জমিটি বিজিবির জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। দ্য ডেইলি স্টার 25 মার্চ 2015-এ লিখেছে, Shashi Mohon Karbari Para ও Jatna Mohon Karbari Para-র প্রায় 21টি পরিবারের 80-র বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত, আর বিজিবি 51 ব্যাটালিয়নের এক কর্মকর্তা বাস্তুচ্যুতদের ক্ষতিপূরণ দাবিকে বলেছেন “false and irrational claims”। পাড়ার নামের বানান কাপেং ও ডেইলি স্টারে আলাদা, আর 1991 সালের অধিগ্রহণ কোন আইনে হয়েছিল, কোনো উৎসে তা নেই।
সংঘর্ষে আহতের সংখ্যাও উৎসভেদে আলাদা: দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস (2 জুলাই 2014) লিখেছে 6 জন বিজিবি সদস্যসহ 19 জন, আর কাপেং লিখেছে অন্তত 18 জন আদিবাসী গ্রামবাসী। 2 জুলাই 2014-এ দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ থেকে বাবুছড়া বাজার পর্যন্ত 144 ধারা জারি হয়।
এটি সেই বিরল ঘটনা, যেখানে মানবাধিকার প্রতিবেদন অধিগ্রহণের আইন ও ধারার নাম নির্দিষ্ট করে লিখেছে। কাপেং ফাউন্ডেশন জানায়, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক 17 ডিসেম্বর 2014 তারিখে ঝগড়াবিল এলাকার 80-র বেশি বাসিন্দাকে প্রায় 100 একর জমি অধিগ্রহণের নোটিশ দেন, “Chittagong Hill Tracts Land Acquisition Act 1958”-এর 3(2) ধারায়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য।
কাপেংয়ের 2014 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী 80 জন জমির মালিকের বাইরে অন্তত 250টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আর বাসিন্দাদের বেশির ভাগ একবার কাপ্তাই বাঁধে নিজেদের ভিটা হারিয়েছিলেন। প্রতিবেদনটি একটি পুরোনো অধিগ্রহণ মামলার কথাও লিখেছে: 2001 সালে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের খবর পেয়ে গ্রামবাসী আবেদন করেছিলেন, এবং পরে প্রকল্পটি ও L.A. Case No. 01(D) 2001-01 (তারিখ 28/01/2001) অনুযায়ী অধিগ্রহণের আদেশ বাতিল হয়। 2009 সালে সরকার পরিকল্পনাটি আবার চালু করে।
প্রতিবাদও নথিভুক্ত। কাপেং লিখেছে, 28 ডিসেম্বর 2014 রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন হয়, আর 104 নং ঝগড়াবিল মৌজার হেডম্যানসহ 249 জনের সই করা স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়।
শেষ পর্যন্ত কতটা জমি গেল, তার হিসাব বাংলা উইকিপিডিয়ায় আছে: “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ঝগড়াবিল মৌজার ৬৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।” প্রস্তাবিত প্রায় 100 একরের তুলনায় সংখ্যাটি কম। ইংরেজি উইকিপিডিয়া লিখেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় জনসংহতি সমিতিসহ স্থানীয় সংগঠনগুলোর প্রকাশ্য বিরোধিতার মুখে পড়ে; সেই বিরোধিতার যুক্তি ছিল বাইরের মানুষের বসতি নিয়ে আশঙ্কা।
বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনা অনুযায়ী 2001 থেকে 2018 সালের মধ্যে কেবল রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় 39টি অধিগ্রহণ মামলা প্রক্রিয়া হয়েছে, যার দুটি তখনো নিষ্পন্ন হয়নি (LA Case No. 01-(D)/2018-19 ও 02(D)/2019-20)। দেরির প্রধান দুই কারণ হিসেবে প্রতিবেদনটি লিখেছে: প্রত্যাশী সংস্থার কাছ থেকে প্রাক্কলিত অর্থের আংশিক বরাদ্দ, আর মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধ।
একটি মামলার পুরো সময়রেখা প্রতিবেদনে ছক আকারে আছে — দ্বিতীয় পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ মামলা নং 04(D)/2014-15, জমি 27.23 প্রমিত বিঘা। তথ্যগুলো বিশ্বব্যাংকের দল ফেব্রুয়ারি 2020-এ রাঙামাটি ও চট্টগ্রামে মাঠ সফরে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিল।
| ধাপ | প্রক্রিয়া | তারিখ |
|---|---|---|
| 1 | প্রস্তাব জমা | নভেম্বর 2014 |
| 2 | জেলা পরিষদের অনুমোদন | নেওয়া হয়নি (“Not obtained”) |
| 3 | জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটি | মার্চ 2015 |
| 4 | প্রাথমিক নোটিশ | জানুয়ারি 2016 |
| 5 | যৌথ তদন্ত | ফেব্রুয়ারি 2016 |
| 6 | বন বিভাগ ও গণপূর্ত বিভাগের মূল্যায়ন | মে 2016 |
| 7 | প্রাক্কলন তৈরি | মে 2016 |
| 8 | প্রত্যাশী সংস্থার কাছে অর্থের চাহিদাপত্র | জুন 2016 |
| 9 | অর্থ জমা | জুন 2016 |
| 10 | ক্ষতিপূরণ বিতরণ শেষ | জানুয়ারি 2017 |
| 11 | জমি হস্তান্তর | জানুয়ারি 2017 |
প্রস্তাব থেকে জমি হস্তান্তর পর্যন্ত প্রায় দুই বছর লেগেছে, তবে প্রথম নোটিশের 12 মাসের মধ্যে আর অর্থ জমার 8 মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া শেষ হয় — বিশ্বব্যাংকের ভাষায়, মাঠকর্মীদের জন্য বিশেষ ভাতা এই প্রকল্পে অধিগ্রহণ দ্রুত করতে কাজে লেগেছিল। মামলাটি একটি বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পের, তাই সাধারণ মামলার প্রতিনিধিত্ব করে কি না, তা প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায় না।
প্রতিবেদনের আরেকটি পর্যবেক্ষণ সারা দেশের জন্য: সরকারি দপ্তরগুলোতে কর্মীসংখ্যা এখনো 1980-এর দশকের বরাদ্দের সমান, অথচ উন্নয়ন প্রকল্পের সংখ্যা বেড়েছে; জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মীও অধিগ্রহণ মামলার চাপ সামলাতে যথেষ্ট নয়।
সমতলে অধিগ্রহণ চলে 2017 সালের আইনে, পার্বত্য জেলায় 1958 সালের রেগুলেশনে। মূল পার্থক্য পাঁচটি: পার্বত্য জেলায় জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন লাগে, আপত্তির কোনো আনুষ্ঠানিক ধাপ নেই, আদেশের দিনেই জমি সরকারের হয়ে যায়, আপিলের স্তর একটি, আর আইনে পুনর্বাসনের কোনো বিধান নেই। ক্ষতিপূরণের হার 2019 সালের পর প্রায় এক।
| বিষয় | পার্বত্য চট্টগ্রাম (রেগুলেশন 1958, সংশোধিত 2019) | সমতল (আইন 2017) |
|---|---|---|
| ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা | ডেপুটি কমিশনার বা সরকার-নিযুক্ত বিশেষ কর্মকর্তা (ধারা 2(ক)) | জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ধারা 2(5)) |
| স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অনুমতি | সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মতি (জেলা পরিষদ আইন 64(1)(খ)) | প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রাজউক, কেডিএ, সিডিএ প্রভৃতির অনাপত্তিপত্র |
| আপত্তির সুযোগ | আইনে নেই | নোটিশের 15 কার্যদিবসের মধ্যে (ধারা 5(1)) |
| জমি কখন সরকারের | আদেশের কপি দেওয়া বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন (ধারা 3(3)) | পরবর্তী ধাপে, ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত |
| বাড়তি ক্ষতিপূরণ | জমির বাজারমূল্যের ওপর 200% (জনপ্রয়োজন), 300% (বেসরকারি প্রয়োজন) | জমিতে 200%, অন্য সম্পত্তিতে 100%; বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য জমিতে 300% |
| ক্ষতিপূরণে আপত্তি | 30 দিনের মধ্যে একটি আপিল (ধারা 5(1)) | সালিশকারী, তারপর সালিশি আপিল ট্রাইব্যুনাল (ধারা 30(1), 36(1)) |
| পুনর্বাসন | আইনে উল্লেখ নেই | পুনর্বাসনের কথা আছে, সংজ্ঞা নেই; 2017 সালের সার্কুলারে পরিকল্পনা জমার নিয়ম |
ছকের সমতলের কলাম বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনার বর্ণনা থেকে নেওয়া; 2017 সালের আইনের মূল পাঠ এই লেখায় আলাদা করে মেলানো হয়নি। সমতলের অন্য একটি আইনের প্রশ্ন — আদিবাসীর জমি হস্তান্তরে প্রজাস্বত্ব আইনের সুরক্ষা — নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে: প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭ ধারা।
আইনটির সমালোচনা মূলত তিন জায়গা থেকে: আদিবাসী রাজনৈতিক সংগঠন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আর উন্নয়ন-অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান। সরকারের অবস্থান পাওয়া যায় জাতিসংঘে দেওয়া জবাব ও সংসদের বক্তব্যে। কোনো পক্ষের দাবি এখানে বিচার করা হয়নি; প্রত্যেকে কী বলেছেন, সেটুকুই।
জনসংহতি সমিতি। আমাদের আর্কাইভে থাকা সমিতির ইংরেজি দলিল Brief History and Struggle of the people of the Chittagong Hill Tracts লিখেছে, সরকার 1958 সালের রেগুলেশন জারি করেছিল “in order to grab Jumma peoples’ ancestral land” — জুম্মদের পূর্বপুরুষের জমি দখলের জন্য। একই দলিল লিখেছে, সরকারগুলো নানা উন্নয়ন কর্মসূচির নামে “যথাযথ পুনর্বাসন ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ছাড়া” হাজার হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করেছে।
IWGIA ও Chandra Kalindi Roy (2000)। প্রকাশনাটির সুপারিশে বলা হয়েছে, আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি-অধিকার স্বীকৃতি ও বাইরের মানুষের কাছে জমি হস্তান্তর নিষিদ্ধ করতে 1900 সালের রেগুলেশন, 1958 সালের অধিগ্রহণ রেগুলেশন, 1989 সালের জেলা পরিষদ আইন ও 1927 সালের বন আইন সংশোধন করতে হতে পারে। একই প্রকাশনা লিখেছে, সেনাবাহিনী মালিকদের সম্মতি ছাড়া শত শত, সম্ভবত হাজার হাজার একর জমি দখলে রেখেছে, আর রেগুলেশনের অধিগ্রহণ বা 1900 সালের বিধির পুনর্গ্রহণ — কোনো আইনি পদ্ধতিই “সাধারণ চর্চা হিসেবে প্রয়োগ হয় না”। উদাহরণ হিসেবে রাঙামাটির কাপ্তাই থানার Mogban পুনর্বাসন প্রকল্পের ঘটনা দেওয়া আছে, যেখানে 1990-এর দশকের শুরুতে সেনা কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসককে জমিটি বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণ করতে অনুরোধ করেছিল।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল (2013)। প্রতিবেদনটি লিখেছে, 1958 সাল থেকে রাষ্ট্র এই রেগুলেশন প্রয়োগ করে নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি দপ্তর ও বনভূমির জন্য পাহাড়িদের জমি অধিগ্রহণ করেছে; আইনটি জোরপূর্বক উচ্ছেদ এড়ানোর আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করে না, আর আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত জমি নেওয়ার আগে তাঁদের স্বাধীন, পূর্বাবহিত ও অবহিত সম্মতি নেওয়ার কোনো বিধানও এতে নেই। সুপারিশে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণের আইন, নীতি ও প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে সংশোধন করতে হবে।
এডিবি ও বিশ্বব্যাংক। দুটি প্রতিষ্ঠান সমালোচনার ভাষায় নয়, নিজেদের প্রকল্পের নিয়মের ভাষায় লিখেছে। এডিবি প্রথাগত মালিকানাকে ক্ষতিপূরণের প্রশ্নে নিবন্ধিত মালিকানার সমান ধরে নিজস্ব কাঠামোয় ক্ষতিপূরণ দিয়েছে, কারণ তাদের ভাষায় জেলা প্রশাসকের প্রক্রিয়া প্রথাগত জমিতে প্রযোজ্য নয়। বিশ্বব্যাংক লিখেছে, জাতীয় আইন স্বত্বহীন ব্যবহারকারীকে বিবেচনা করে না, যা তাদের নিয়মের সঙ্গে একটি ফাঁক।
সরকার। জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারকে দেওয়া 16 সেপ্টেম্বর 2009-এর জবাবে সরকার জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের অনুমোদন ছাড়া জমি ইজারা ও হস্তান্তর হচ্ছে — এমন অভিযোগ সঠিক নয়; ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ভূমি কমিশন গঠিত হয়েছে, আর চুক্তির পর গ্রামাঞ্চল থেকে 200টি সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার হয়েছে। ক্ষতিপূরণের হার বাড়ানোর 2019 সালের সংশোধনীকে সরকার উপস্থাপন করেছিল সমতলের সঙ্গে বৈষম্য দূর করার পদক্ষেপ হিসেবে, ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী। ভূমি কমিশনে কীভাবে আবেদন করতে হয়, তা নিয়ে আছে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে আবেদন করবেন কীভাবে।
একটি বিষয় সব পক্ষের লেখায় অনুপস্থিত: অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কাগজ পরে কী কাজে লাগে। Fariba Alamgir খাগড়াছড়ির যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি জমি-মামলা পর্যবেক্ষণ করে লিখেছেন (পৃষ্ঠা 224–227), সরকারি অধিগ্রহণের পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দলিল একজন বসতিস্থাপনকারীর মালিকানার প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয়েছিল, আর খতিয়ান থাকা সত্ত্বেও ক্ষতিপূরণের কাগজ দেখাতে না পারায় পাহাড়ি দাবিদার মামলায় হেরে যান। গবেষকের ব্যাখ্যায়, এভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের হাত দিয়ে একটি পক্ষের মালিকানা-দাবি শক্ত হয়। অধিগ্রহণের কাগজ তাই কেবল একটি লেনদেনের রসিদ নয়; পরের দশকের ভূমি বিরোধেও তা প্রমাণ হিসেবে ফিরে আসে।
এটি পূর্ব পাকিস্তানের 1958 সালের 1 নম্বর রেগুলেশন, তারিখ 26 জুলাই 1958, যা তিন পার্বত্য জেলায় সরকারি প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণের মূল আইন। ধারা মাত্র ছয়টি। 3(1) ধারায় ডেপুটি কমিশনার জনপ্রয়োজনে একটি লিখিত আদেশে বৈধ স্বত্বের জমি অধিগ্রহণ করতে পারেন। সমতলে একই কাজ চলে 2017 সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ আইনে।
3(2) ধারায় আদেশের কপি মালিককে দেওয়ার কথা আছে, তবে ডেপুটি কমিশনার যদি মনে করেন এতে দখল নিতে দেরি হবে, তিনি কপি না দিয়ে এলাকায় প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি টাঙাতে পারেন। কপি দেওয়া বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকেই জমি সরকারের, আর 3(3) ধারায় প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগে দখল নেওয়া যায়।
রেগুলেশনে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তির কোনো ধাপ নেই; অ্যামনেস্টির 2013 সালের প্রতিবেদনও তা লিখেছে। আপিল চলে কেবল ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে, নোটিশের 30 দিনের মধ্যে (ধারা 5)। bdlaws অনুযায়ী আপিল যায় সরকারের কাছে, আর বিশ্বব্যাংকের 2022 সালের পর্যালোচনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে।
2019 সালের 3 নম্বর আইনে সংশোধিত 4(2) ধারা অনুযায়ী জনপ্রয়োজনে অধিগ্রহণে জমির বাজারমূল্যের সঙ্গে বাড়তি 200 শতাংশ, আর বেসরকারি প্রয়োজনে বাড়তি 300 শতাংশ দিতে হয়। এর সঙ্গে 4(1) ধারার ছয়টি বিবেচ্য বিষয় — স্থাপনা, বাঁশ, গাছ, ফসল, স্থানান্তরের খরচ ইত্যাদি — আলাদাভাবে হিসাব হয়।
কেবল 4(2) ধারার বাড়তি ক্ষতিপূরণের হার। আগে বাজারমূল্যের ওপর বাড়তি 15 শতাংশ ছিল; ইউএনবির হিসাবে মালিক মোট 115 শতাংশ পেতেন। 20 ডিসেম্বর 2018-এর অধ্যাদেশের পর 2019 সালের 3 নম্বর আইন হারটি 200 ও 300 শতাংশ করে। নোটিশ, আপত্তি, আপিল বা পুনর্বাসনের বিধান বদলায়নি।
আইনত না। 1998 সালে সংশোধিত তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের 64(1)(খ) ধারা বলে, পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন জমি, পাহাড় ও বন পরিষদের সঙ্গে আলোচনা ও তার সম্মতি ছাড়া সরকার অধিগ্রহণ করতে পারবে না। তবে বিশ্বব্যাংকের 2022 সালের পর্যালোচনায় রাঙামাটির একটি অধিগ্রহণ মামলার ছকে পরিষদের অনুমোদনের ঘরে লেখা “Not obtained”।
রেগুলেশন প্রযোজ্য কেবল “বৈধ স্বত্বে” ধারণকৃত জমিতে। এডিবির একটি প্রকল্প-নথি লিখেছে, জেলা প্রশাসকের অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আদিবাসীদের প্রথাগত জমিতে প্রযোজ্য নয়, কারণ তা নিবন্ধিত সম্পত্তি নয়। দাঁড়িয়ে থাকা জুম ফসলের ক্ষতি 4(1) ধারার দ্বিতীয় দফায় পড়তে পারে, কিন্তু জমির দাম পাওয়ার বিধান আইনে স্পষ্ট নয়।
সংখ্যা উৎসভেদে আলাদা। কাপেং ফাউন্ডেশন (2010) ও অ্যামনেস্টি (2013) লিখেছে 9,560 একর; 2009 সালে জাতিসংঘকে দেওয়া জবাবে সরকার বলেছিল 7,570 একর, যার 899 একর ব্যক্তিগত জমিতে 266টি পরিবার; আর 10 ফেব্রুয়ারি 2016-এ সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানান 997 একর অধিগ্রহণ “এখনো প্রক্রিয়াধীন”।
সমতলে 2017 সালের আইনে নোটিশের পর 15 কার্যদিবসে আপত্তি জানানো যায়, ক্ষতিপূরণ নিয়ে সালিশকারী ও আপিল ট্রাইব্যুনাল আছে। পার্বত্য জেলায় 1958 সালের রেগুলেশনে আপত্তির ধাপ নেই, আদেশের দিনেই জমি সরকারের, আপিল একটিই, তবে জেলা পরিষদের সম্মতি লাগে। ক্ষতিপূরণের হার 2019 সাল থেকে প্রায় সমান।
রেগুলেশনে “public purpose” শব্দের কোনো সংজ্ঞা নেই; 2 নম্বর ধারায় সংজ্ঞা আছে কেবল ডেপুটি কমিশনার, জমি ও আগ্রহী ব্যক্তির। কোন প্রকল্প জনপ্রয়োজন, তা কার্যত আদেশদাতাই ঠিক করেন। তুলনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন 2014-এর 15 ধারা বোর্ডের যেকোনো ভূমি-প্রয়োজনকে সরাসরি “জনস্বার্থে প্রয়োজন” ঘোষণা করেছে।
বিশ্বব্যাংকের আগস্ট 2022 সালের পর্যালোচনা অনুযায়ী 2001 থেকে 2018 সালের মধ্যে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় 39টি অধিগ্রহণ মামলা প্রক্রিয়া হয়েছে, যার দুটি তখনো নিষ্পন্ন হয়নি। দেরির প্রধান কারণ হিসেবে প্রতিবেদনটি লিখেছে প্রত্যাশী সংস্থার আংশিক অর্থ বরাদ্দ আর মালিকানা-বিরোধ। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মোট সংখ্যা প্রতিবেদনে নেই।
University of East Anglia-তে জমা দেওয়া Fariba Alamgir-এর 2017 সালের অভিসন্দর্ভ লিখেছে, 1958 সালের রেগুলেশন কাপ্তাই বাঁধের জন্য রাষ্ট্রের জমি অধিগ্রহণ সহজ করেছিল। একই অভিসন্দর্ভের মাঠ-গবেষণায় খাগড়াছড়ির একটি চাকমা গ্রামে 1960 সালে একরপ্রতি 250 টাকা ক্ষতিপূরণে অধিগৃহীত জমির কথা আছে, যা শেষ পর্যন্ত ডোবেনি।
প্রাথমিক উৎস: জুমজার্নালের আর্কাইভ
আইনের সরকারি পাঠ ও সরকারি নথি
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা
মানবাধিকার প্রতিবেদন
সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে জুমজার্নালের সব লেখা এক জায়গায়: পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:আইন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি সমস্যা, পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ভূমি অধিকার
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।