Jumjournal Logo

সাঙ্গু মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন: বন বিভাগ আর জুমিয়াদের সীমানা-বিরোধের গোড়া কোথায়

Last updated Oct 19th, 2026

0

সাঙ্গু সংরক্ষিত বন এলাকায় পাহাড়ের ঢালে ধানের শীষ আর ভুট্টার গাছে ভরা খেত, পেছনে মরা ও জীবিত গাছের সারি

2025 সালের 21 জুন বান্দরবানের আলীকদমে মেনতকপাড়া ও কাইংওয়াইপাড়ার কলা, আম আর পেঁপের বাগানে বন বিভাগের শ্রমিকেরা দা চালাতে শুরু করেন। বন বিভাগ বলছে জায়গাটি মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনের ভেতরে, ম্রো পরিবারগুলো বলছে তাঁরা সেখানে বংশপরম্পরায় জুম করে আসছেন। এই বিরোধের গোড়া সাঙ্গু মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন ঘোষণার মুহূর্তেই: ব্রিটিশ প্রশাসন মাতামুহুরী বন গঠন করে 1 ডিসেম্বর 1880 আর সাঙ্গু বন 6 মে 1881, আর সেই থেকে সংরক্ষিত বনের ভেতরে চাষ নিষিদ্ধ। কাগজে আঁকা সীমানার ভেতরে জুমের পাহাড় পড়েছিল কি না, আর পড়ে থাকলে কার অধিকার টিকেছে, সে প্রশ্নের নিষ্পত্তি আজও হয়নি।

এই লেখা সেই প্রশ্নটিকে নথি ধরে ধরে দেখে: কোন দলিলে কবে, কত আয়তনে বন দুটি সংরক্ষিত হলো; বন আইন অনুযায়ী ঘোষণার সময় মানুষের অধিকার যাচাইয়ের কী নিয়ম ছিল; আর আজ বন বিভাগ ও জুমিয়ারা নিজ নিজ অবস্থান কীভাবে বলছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের বনের সামগ্রিক ছবি, পাড়াবন বা কাপ্তাই বাঁধে ডোবা বনের হিসাব এখানে আবার বলা হয়নি; সেগুলোর জন্য আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের বন ও পরিবেশ সংকট পাতা আর পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভ দেখুন।

এই লেখায়

  1. সাঙ্গু মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন কবে ঘোষণা হয়েছিল
  2. আয়তন কত: পাঁচ উৎসের হিসাব পাশাপাশি
  3. বন দুটি কোথায়, কোন বন বিভাগ দেখে
  4. ঘোষণার সঙ্গে কী নিষিদ্ধ হয়েছিল
  5. বন আইনে সংরক্ষিত বন বানানোর ধাপ
  6. সীমানা-বিরোধের গোড়া: কাগজের রেখা, পাহাড়ের জুম
  7. বন বিভাগ কী বলে, জুমিয়ারা কী বলেন
  8. সাঙ্গু সংরক্ষিত বনে কারা থাকেন
  9. মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনে বসতি ও আলীকদমের ঘটনা
  10. সাঙ্গু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য: দুই প্রজ্ঞাপন, এক মানববন্ধন
  11. নতুন সংরক্ষিত বন আর পার্বত্য চুক্তির ব্যতিক্রম
  12. গাছ কাটছে কারা: 2020-এর অভিযোগ ও জবাব
  13. বন কতটা কমেছে: উপগ্রহ-চিত্রের হিসাব
  14. কী কী সমাধান প্রস্তাব এসেছে
  15. প্রশ্নোত্তর
  16. যা এখনো জানা যায়নি
  17. তথ্যসূত্র

সাঙ্গু মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন কবে ঘোষণা হয়েছিল?

R. H. Sneyd Hutchinson-এর 1909 সালের জেলা গেজেটিয়ার অনুযায়ী মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন গঠিত হয় 1 ডিসেম্বর 1880 তারিখে, আর সাঙ্গু সংরক্ষিত বন 6 মে 1881 তারিখে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচটি সরকারি সংরক্ষিত বনের মধ্যে মাতামুহুরীই প্রথম; কাসালং গঠিত হয় 1 মার্চ 1881, রাইনখিয়ং 15 মার্চ 1882, সীতাপাহাড় 1 এপ্রিল 1883।

তারিখগুলো একই লেখকের দুটি বইয়ে হুবহু এক। হাচিনসন (R. H. Sneyd Hutchinson) 1906 সালে An Account of the Chittagong Hill Tracts প্রকাশ করেন, তিন বছর পর একই তথ্য তুলে দেন সরকারি Eastern Bengal and Assam District Gazetteers: Chittagong Hill Tracts-এ। দুই বইয়েই তালিকার শিরোনাম “The dates of the formation of the above reserves”। ইন্টারনেট আর্কাইভে দুটি বইয়েরই স্ক্যান করা কপি আছে (1906, পৃ. 29–30; 1909, পৃ. 72)।

১৯০৯ সালের ছাপা গেজেটিয়ারের পাতার অংশ: পাঁচটি সংরক্ষিত বনের নাম ও বর্গমাইলে আয়তন, নিচে প্রতিটি বন গঠনের তারিখ
1909 সালের গেজেটিয়ারের 72 পৃষ্ঠা: সাঙ্গু 145 আর মাতামুহুরী 251 বর্গমাইল, গঠনের তারিখ 1 ডিসেম্বর 1880 ও 6 মে 1881। ছবি: R. H. Sneyd Hutchinson, Eastern Bengal and Assam District Gazetteers: Chittagong Hill Tracts (1909) · পাবলিক ডোমেইন · ইন্টারনেট আর্কাইভ

গেজেটিয়ার “formation” বা গঠনের তারিখ দেয়, কিন্তু যে প্রজ্ঞাপনে বন দুটি ঘোষিত হয়েছিল তার নম্বর বা কোন গেজেটে ছাপা হয়েছিল তা বলে না। ওই প্রজ্ঞাপনের মূল পাঠ কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

অন্য উৎসগুলো সময়টাকে মোটা দাগে বলে, তারিখ ধরে নয়, আর তাদের মধ্যেও মিল নেই। রাজকুমারী চন্দ্রা কালিন্দী রায়ের IWGIA প্রকাশিত বই (2000) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের 1976 সালের বনখাত প্রতিবেদন থেকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, প্রধান সংরক্ষিত বনগুলো “1875 থেকে 1882”-র মধ্যে তৈরি হয়, বড় নদীগুলোর অববাহিকা রক্ষার উদ্দেশ্যে। একই বই একটি উদ্ধৃতিতে জানায়, 1884 সালে সংরক্ষিত বনের মোট আয়তন ছিল 1,345 বর্গমাইল, “including the Sangu and the Matamuri Reserves”। জুমজার্নালের আর্কাইভে জুয়ামলিয়ান আমলাইয়ের লেখা চারটি বনকে একসঙ্গে ধরে ঘোষণাকাল লিখেছে 1882–83; প্রফেসর মংসানু চৌধুরীর লেখায় সংরক্ষিত বন সৃষ্টির শুরু 1870। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে, যেমন ডেইলি স্টারের 2020 সালের প্রতিবেদনে, সাঙ্গুর জন্য সাল 1880; একটি বন-পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পাতায় সাঙ্গু-মাতামুহুরী একসঙ্গে “1880 ও 1981” সালে ঘোষিত।

সাঙ্গু ও মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনের আয়তন কত — পাঁচ উৎসের পাঁচ হিসাব

হাচিনসনের 1909 সালের তালিকায় সাঙ্গু 145 বর্গমাইল (প্রায় 92,800 একর) আর মাতামুহুরী 251 বর্গমাইল (প্রায় 1,60,640 একর)। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের 1976 সালের প্রতিবেদন, IWGIA-র উদ্ধৃতিতে, সাঙ্গু 83,612 একর আর মাতামুহুরী 1,00,467 একর লিখেছে। পরের উৎসগুলোর সংখ্যাও এক নয়।

উৎস সাঙ্গু মাতামুহুরী
হাচিনসন, জেলা গেজেটিয়ার, 1906 ও 1909 145 বর্গমাইল 251 বর্গমাইল
Webb ও Roberts, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, 1976 (IWGIA 2000-এ উদ্ধৃত) 83,612 একর 1,00,467 একর
Creative Conservation Alliance, বন অধিদপ্তরে জমা দেওয়া সমীক্ষা, 2016 33,836 হেক্টর (83,612 একর) 40,661 হেক্টর (1,00,476 একর)
ডেইলি স্টার ও হিল ভয়েস, ডিসেম্বর 2020 82,080 একর মাতামুহুরী ও বামু মিলে 1,04,881.42 একর (হিল ভয়েসে 1,04,882.42)
বন-পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পাতা (explorer.land) দুটি মিলে 74,841 হেক্টর

কয়েকটি বিষয় ছকে চোখে পড়ে। 1976 সালের প্রতিবেদন আর 2016 সালের সমীক্ষার সাঙ্গুর সংখ্যা হুবহু এক, 83,612 একর; মাতামুহুরীতে পার্থক্য কেবল শেষ দুই অঙ্কে, 1,00,467 আর 1,00,476। মাতামুহুরীর ক্ষেত্রে 1909 সালের হিসাব আর পরের হিসাবের মধ্যে ফারাক প্রায় 60 হাজার একর। মাঝখানে কোনো অংশ সংরক্ষিত বনের তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল কি না, পড়লে কবে, সে বিষয়ে কোনো নথি পাওয়া যায়নি। 2020 সালের প্রতিবেদনে লামা বন বিভাগ মাতামুহুরীকে বামু বিলছড়ির সঙ্গে এক হিসাবে বলেছে; বামু আলাদা কবে, কীভাবে সংরক্ষিত হয়েছিল তাও জানা যায়নি।

পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের হিসাবেও দুটি ধারা আছে। হাচিনসন 1906 সালের বইয়ের এক জায়গায় সংরক্ষিত বন লিখেছেন 1,383 বর্গমাইল, আর তালিকার যোগফলে 1,356। IWGIA-তে উদ্ধৃত 1976 সালের প্রতিবেদন প্রধান চারটি বন ও ছোট বনগুলো মিলিয়ে বলছে 7,96,160 একর; আমলাইয়ের লেখায় চারটি বড় বন মিলে 7,86,710 একর।

সাঙ্গু ও মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন কোথায়, কোন বন বিভাগ দেখে?

দুটি বনই বান্দরবান জেলার দক্ষিণ-পূর্বে, মিয়ানমার সীমান্তের দিকে। 2016 সালের সমীক্ষা অনুযায়ী সাঙ্গু সংরক্ষিত বন থানচি উপজেলায় বড় মদকের দক্ষিণে, আর মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন আলীকদম উপজেলায় বাবুপাড়ার দক্ষিণে, দুটি পাশাপাশি। নাম এসেছে দুই নদী থেকে; বন দুটি সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর উজানের অববাহিকা।

হাচিনসনের তালিকায়ও বনের পরিচয় নদী দিয়ে: “Sangu on the Sangu river”, “Matamuri on the Matamuri river”। একই গেজেটিয়ার জানায়, সাঙ্গু নামটি “Sankha” বা শঙ্খ শব্দের বিকৃতি, আর মাতামুহুরী নদীর আরেক নাম “Moree Khyong”। প্রশাসনিকভাবে তখন বান্দরবান অঞ্চল ছিল বোমাং সার্কেলে। 1909 সালের গেজেটিয়ার লিখেছে, বোমাং সার্কেলের মোট আয়তন 2,064 বর্গমাইল, তার মধ্যে 620 বর্গমাইল সংরক্ষিত বন, আর জনঘনত্বের হিসাব করা হয়েছে ওই সংরক্ষিত বন বাদ দিয়ে। সার্কেল প্রশাসনের ইতিহাস আছে আমাদের মৌজা, হেডম্যান ও কার্বারির দায়িত্ব লেখায়।

মেঘলা আকাশের নিচে সবুজ পাহাড়ে ঘেরা মাতামুহুরী নদীর উপত্যকা, ডান দিকে নদীর বাঁক আর তার ওপর রংধনু
আলীকদমের মেঘচূড়া থেকে মাতামুহুরী নদীর উপত্যকা। ছবি: Oaliammorsed · CC BY-SA 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

আজ কোন দপ্তর কোন অংশ দেখে, উৎসগুলোয় তা তিনভাবে আসে। প্রথম আলোর 2025 সালের প্রতিবেদনে মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনের আলীকদম অংশ লামা বন বিভাগের আলীকদম রেঞ্জের অধীনে। ডেইলি স্টারের 2020 সালের প্রতিবেদনে সাঙ্গু নিয়ে কথা বলেছেন বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, আর মাতামুহুরী ও বামু নিয়ে লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। ডেইলি স্টার বাংলার একই সময়ের আরেক প্রতিবেদনে সাঙ্গুর বিষয়ে জবাব দিয়েছেন বান্দরবান পাল্পউড বাগান বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক। উইকিপিডিয়া সাঙ্গু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যকে লামা বন বিভাগের অধীনে দেখায়। সীমানা ধরে দপ্তরগুলোর এখতিয়ারের কোনো সরকারি মানচিত্র পাওয়া যায়নি।

1909 সালে ছবিটা ছিল আরও সরল। গেজেটিয়ার অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম আর চট্টগ্রাম জেলার সব সংরক্ষিত বন মিলে ছিল একটিই “চট্টগ্রাম বন বিভাগ”, দায়িত্বে একজন ডেপুটি কনজারভেটর, যাঁর সদর দপ্তর রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রামে সরানো হয়েছিল। রেঞ্জগুলো দেখতেন ফরেস্টার, সঙ্গে বনরক্ষী।

সংরক্ষিত বন ঘোষণার সঙ্গে কী নিষিদ্ধ হয়েছিল?

নিষেধটা এক বাক্যের। 1906 ও 1909 দুই বইয়েই হাচিনসন লিখেছেন: “No cultivation is allowed within the area of forest reserve” — সংরক্ষিত বনের ভেতরে কোনো চাষ চলবে না। বনজ দ্রব্য বের করা যেত কেবল বিশেষ লাইসেন্সে, বন বিভাগের নিয়ম মেনে। জুম যেহেতু চাষ, সংরক্ষিত বনের ভেতরে জুম তখন থেকেই অবৈধ।

এই নিষেধের পাশে হাচিনসন রাজস্বের হিসাবও দেন। লাইসেন্স আর টোল থেকে আয় “very considerable”: 1903–04 সালে 86,902 রুপি, 1906–07 সালে 94,085 রুপি। নদীপথে কাঠ-বাঁশ ভাসিয়ে নেওয়ার সময় টোল-স্টেশনে কর আদায় হতো, স্টেশনগুলো চালাত বন বিভাগ। 1906 সালের বইয়ে আছে, সংরক্ষিত বনের “best localities” বন বিভাগ “closed forests” হিসেবে রেখেছে, আর মোট সংরক্ষিত বন জেলার “a little more than a quarter”।

সংরক্ষণের উদ্দেশ্য নিয়ে উৎসগুলো দুই রকম কথা বলে। IWGIA-তে উদ্ধৃত 1976 সালের প্রতিবেদন বলছে, বনগুলো সংরক্ষিত হয়েছিল বড় নদীগুলোর অববাহিকা রক্ষার জন্য। জুয়ামলিয়ান আমলাই লিখেছেন, ব্রিটিশ কর্তাব্যক্তিরা “এখানকার জনমানুষের জীবনযাত্রা ও মূল্যবোধকে অগ্রাহ্য করে কেবলমাত্র রাজস্ব আদায়ের দিকটি বিবেচনা করে” বনগুলো রক্ষিত ঘোষণা করেন।

চাষ ছাড়া আর কী কী নিষিদ্ধ, সেটা আজ ঠিক করে 1927 সালের বন আইনের 26 ধারা। সংরক্ষিত বনে চাষের জন্য জমি পরিষ্কার করা বা চাষ করা, গাছ কাটা বা পোড়ানো, আগুন লাগানো, শিকার বা ফাঁদ পাতা — এগুলোর শাস্তি কমপক্ষে 6 মাস থেকে 5 বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, সঙ্গে 5,000 থেকে 50,000 টাকা পর্যন্ত জরিমানা। গবাদি পশু চরানো বা কাঠ ছাড়া অন্য বনজ দ্রব্য সংগ্রহের শাস্তি 6 মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড ও 2,000 টাকা পর্যন্ত জরিমানা। বন কর্মকর্তার লিখিত অনুমতি থাকলে বা ধারা 15 অনুযায়ী টিকিয়ে রাখা অধিকারের চর্চায় এই নিষেধ খাটে না।

বন আইনে সংরক্ষিত বন বানানোর ধাপগুলো কী — আর জুমের দাবি কোথায় ঢোকে?

1927 সালের বন আইনে সংরক্ষিত বন হয় কয়েক ধাপে: সরকার 4 ধারায় সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন দেয়; বন নিষ্পত্তি কর্মকর্তা 6 ধারায় আশপাশের গ্রামে বাংলায় ঘোষণা দিয়ে 3 থেকে 4 মাসের মধ্যে দাবি চান; দাবির তদন্ত হয়; শেষে 20 ধারায় চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন। জুমের দাবির জন্য আলাদা ধারা আছে, 10 ধারা।

সাঙ্গু ও মাতামুহুরী ঘোষিত হয়েছিল 1927 সালের আইনের প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে, তাই তাদের মূল প্রজ্ঞাপন এই আইনের ধারায় হয়নি। কোন আইনের অধীনে হয়েছিল, হাচিনসন তা লেখেননি। তবু আজকের বিরোধ চলে এই আইনের ভাষাতেই — বন বিভাগের উচ্ছেদ, বনবাসীর আপত্তি, 1990-এর দশকের নতুন সংরক্ষিত বন — তাই ধারাগুলো ধরে দেখা দরকার। নিচের উদ্ধৃতি বাংলাদেশ আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের 30 জুন 2020-এর ছাপা কপি থেকে।

  1. ধারা 3: সরকারের মালিকানাধীন বা সরকারের স্বত্ব আছে এমন বনভূমি, পতিত জমি বা বনায়নের উপযোগী জমিকে সংরক্ষিত বন করা যায়।
  2. ধারা 4: সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন — সিদ্ধান্তের ঘোষণা, জমির অবস্থান ও সীমানা “as nearly as possible”, আর একজন বন নিষ্পত্তি কর্মকর্তা নিয়োগ, যিনি জমির ওপর কার কী অধিকার আছে তা তদন্ত করে নির্ধারণ করবেন। সীমানা বোঝাতে রাস্তা, নদী, পাহাড়ের শিরা বা পরিচিত চিহ্ন দিলেই যথেষ্ট।
  3. ধারা 5: প্রজ্ঞাপনের পর ওই জমিতে উত্তরাধিকার বা লিখিত সরকারি অনুদান ছাড়া নতুন কোনো অধিকার জন্মায় না, আর চাষের জন্য নতুন জমি পরিষ্কার করা যায় না।
  4. ধারা 6: বন নিষ্পত্তি কর্মকর্তা আশপাশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে বাংলায় ঘোষণা দেবেন — সীমানা, সংরক্ষণের পরিণতি, আর দাবি জানানোর সময়সীমা, যা 3 মাসের কম আর 4 মাসের বেশি হবে না।
  5. ধারা 9: যে অধিকারের দাবি ওই সময়ের মধ্যে জানানো হয়নি এবং তদন্তেও ধরা পড়েনি, তা বিলুপ্ত হয় — যদি না দাবিদার চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের আগে দেরির যুক্তিসংগত কারণ দেখাতে পারেন।
  6. ধারা 10: জুম বা “shifting cultivation”-এর দাবি এলে কর্মকর্তা দাবির বিবরণ ও স্থানীয় নিয়ম লিখে সরকারের কাছে মতামতসহ পাঠাবেন; সরকার জুম পুরো বা আংশিক অনুমোদন বা নিষেধ করবে। অনুমোদন হলে দুটি উপায়: প্রস্তাবিত বনের সীমা বদলে জুমের উপযোগী জমি বাদ দেওয়া, অথবা বনের ভেতরে আলাদা অংশ চিহ্নিত করে শর্তসাপেক্ষে জুমের অনুমতি।
  7. ধারা 20: দাবির নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন, যে তারিখ থেকে জমিটি সংরক্ষিত বন।
  8. ধারা 27: সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে কোনো বন বা তার অংশকে আর সংরক্ষিত না রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে; কিন্তু তাতে বিলুপ্ত অধিকার ফিরে আসে না।

বিরোধের সবচেয়ে বড় সূত্রটি 10 ধারার শেষ উপধারায়। 10(5) উপধারা বলছে: “The practice of shifting cultivation shall in all cases be deemed a privilege subject to control, restriction and abolition by the Government.” অর্থাৎ আইনের চোখে জুম অধিকার নয়, সুবিধা — সরকার চাইলে নিয়ন্ত্রণ করতে, সীমিত করতে বা পুরো বাতিল করতে পারে। জুমিয়াদের অবস্থান এর ঠিক উল্টো: তাঁদের কাছে জুমের পাহাড় প্রথাগত অধিকার। 1900 সালের শাসনবিধি ও মৌজা ব্যবস্থায় জুমের অধিকার কীভাবে স্বীকৃত, তা আছে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: 1900 সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন লেখায়।

9 ধারার সময়সীমাও বিরোধের আরেক উৎস: নির্ধারিত 3–4 মাসের মধ্যে দাবি না জানালে অধিকার বিলুপ্ত হয়। IWGIA-র বই লিখেছে, আদিবাসীরা প্রায়ই জাতীয় আইন সম্পর্কে জানেন না, আর দাবি নিষ্পত্তির নিয়মকানুন “cumbersome and complicated”। সুদত্ত বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা 2010-এর দশকে বন আইন সংশোধনের প্রস্তাবের সমালোচনায় লিখেছেন, প্রস্তাবে 6 ধারার বিজ্ঞাপনের 18 মাস পর দাবি তোলার সুযোগ “বিলুপ্ত করার প্রস্তাব” রাখা হয়েছে (আমাদের আর্কাইভে তাঁর পূর্ণ মতামত)। একই সংশোধনী নিয়ে আরেকটি পর্যবেক্ষণ আছে Forest (Amendment) Act, 2012 নিয়ে আর্কাইভের লেখায়।

সীমানা-বিরোধের গোড়া কোথায়: কাগজের রেখা আর পাহাড়ের জুম

উৎসগুলো একসঙ্গে পড়লে বিরোধের গোড়া তিনটি জায়গায়: সীমানা টানা হয়েছিল নদী আর পাহাড় ধরে, মানুষের ব্যবহার ধরে নয়; জুমের দাবি আইনের চোখে “সুবিধা”, অধিকার নয়; আর যে জমি জুমিয়ারা খাজনা দিয়ে ব্যবহার করতেন, তার অনেকটা সংরক্ষিত বনের ভেতরে পড়েছে বলে অভিযোগ।

প্রথম বিষয়টি সরাসরি আইন থেকে আসে। 4 ধারা সীমানা বোঝাতে “roads, rivers, ridges” যথেষ্ট বলে মেনে নেয়, আর হাচিনসনের তালিকায় প্রতিটি বনের পরিচয় একটি নদী। এমন সীমানার ভেতরে কোন ঢালে কার জুম, কোন ছড়ার পাশে কোন পাড়া, তা মানচিত্রে আসে না।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাজকুমারী চন্দ্রা কালিন্দী রায়ের IWGIA বইয়ে (2000)। বইটি বলছে, সংরক্ষিত বন ঘোষণার আগে জমিতে কারও প্রতিদ্বন্দ্বী দাবি আছে কি না, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা “seldom” নেওয়া হয়; সাধারণ পদ্ধতি হলো “merely declare a specific area as Reserved Forest” — ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘিত হলো কি না নিশ্চিত না করেই। বইয়ের ভাষায়, সংরক্ষিত বনের ভেতরের অনেক জমিই জুমের জমি, যার জন্য জুমচাষিরা 1900 সালের শাসনবিধির 42 বিধি অনুযায়ী বার্ষিক কর দেন। খাজনা দেওয়া জমিতে সংরক্ষিত বন প্রতিষ্ঠা আইনত অবৈধ, এমন মামলার নজিরও বইটি উল্লেখ করে।

বইটি সংরক্ষিত বন ঘোষণার পাঁচটি প্রভাব গুনেছে: জমি ও সম্পদের ক্ষতি; জীবিকার কাজে বাধা; বাধ্য হয়ে আবার বনে ঢোকা; উচ্ছেদ; আর অপরাধী বানানো। শেষটি নিয়ে তার বাক্য: শণ কাটা, ফাঁদ পাতা, শিকার আর জুম — এসব প্রথাগত কাজ সংরক্ষিত বনের ভেতরে “now categorised as crimes”; আর বন আইন ভঙ্গই আদিবাসীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আনা অভিযোগ।

এই চিত্রের বিপরীত দাবিও আছে, আর তা সাঙ্গু নিয়ে নির্দিষ্টভাবে। বন অধিদপ্তরে জমা দেওয়া Creative Conservation Alliance-এর 2016 সালের সমীক্ষা বলছে, সাঙ্গু সংরক্ষিত বনে “Until very recently, there were no permanent settlements”; বেশির ভাগ বসতি গড়ে উঠেছে গত এক দশকে। ডায়ালগ আর্থে 2018 সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনও লিখেছে, ব্রিটিশ আমলে ঘোষণার সময় সাঙ্গুতে “there were no settlements”, আর স্থানীয় ম্রো জনগোষ্ঠী জমির অভাবে আনুমানিক 2007 সাল থেকে বনে ঢুকতে শুরু করে। অর্থাৎ সাঙ্গুর ক্ষেত্রে এই উৎসগুলোর মতে বিরোধ পুরনো সীমানা নিয়ে নয়, নতুন বসতি নিয়ে। মাতামুহুরীর ক্ষেত্রে একই সমীক্ষা বলছে, বনটি 1980-এর দশক থেকে বাঙালি ও আদিবাসী বসতি স্থাপনকারীদের দখলে গেছে। অন্যদিকে আলীকদমের ম্রোরা প্রথম আলোকে বলেছেন, তাঁরা সেখানে “বংশপরম্পরায়” বসবাস করছেন।

1880–81 সালে সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর সীমানার ভেতরে কোনো পাড়া বা জুম ছিল কি না, আর থাকলে তাদের দাবি শোনা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে সমসাময়িক কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

বন বিভাগ কী বলে, জুমিয়ারা কী বলেন — পাশাপাশি

মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা বন, পাহাড়, পরিবেশ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠী লেখায় দুই অবস্থানকে এক বাক্যে বেঁধেছেন: “বনবিভাগের মতে এই জুমচাষ পদ্ধতি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিন্তু আদিবাসীদের মতে প্রথাগত জুমচাষ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়।” নিচের ছকে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নিয়ে দুই পক্ষের নথিভুক্ত বক্তব্য, প্রতিটি যার মুখে বা যে উৎসে এসেছে তার নামসহ।

প্রশ্ন বন বিভাগ ও সংরক্ষণপক্ষের অবস্থান জুমিয়া ও স্থানীয় অধিবাসীদের অবস্থান
জমিটা কার? আলীকদমের মেনতকপাড়া এলাকা মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনের ভেতরে (বন বিভাগ, প্রথম আলো, জুন 2025)। চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের পর উত্তরাধিকার বা লিখিত সরকারি অনুদান ছাড়া নতুন কোনো অধিকার জন্মায় না (বন আইন, ধারা 23)। “তাঁরা সেখানে বংশপরম্পরায় বসবাস করছেন” (মেনতকপাড়ার বাসিন্দা, প্রথম আলো)। সাঙ্গু মৌজাবাসী শত শত বছর ধরে আছেন (হিল ভয়েসে প্রকাশিত স্মারকলিপি, জুন 2023)।
বনের ভেতরের বসতি কবেকার? সাঙ্গুতে বেশির ভাগ বসতি গত এক দশকের (Creative Conservation Alliance, 2016); ম্রোরা আনুমানিক 2007 থেকে ঢুকছে (ডায়ালগ আর্থ, 2018)। এনটিভির প্রতিবেদনের ভাষায় তাঁরা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে “অবৈধভাবে বসতি গড়ে তোলা”। শান্তিচুক্তির আগে জমিদখলকারীদের কারণে তিনটি পাড়া উচ্ছেদ হয়েছিল; মৌজায় মোট 13টি পাড়া (হিল ভয়েসে প্রকাশিত স্মারকলিপি)।
জুম কি বন ধ্বংস করে? অতিরিক্ত বন উজাড়ে সাঙ্গুর পানিপ্রবাহ কমছে (সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক, ডায়ালগ আর্থে); গাছ কাটা আর জুম দ্রুত এলাকাটি ন্যাড়া করছে (ডায়ালগ আর্থের প্রতিবেদন, 2018); নিয়ন্ত্রণহীন জুম বনের অবশিষ্ট অংশ ধ্বংস করবে (Creative Conservation Alliance)। বাগানের নামে বন কেটে দোষ চাপানো হয় জুমচাষির ঘাড়ে (বান্দরবানের আইনজীবী Madhavi Marma, ডায়ালগ আর্থে); জুমিয়ারা বন নষ্ট করেন, কিন্তু একমাত্র দায়ী নন (জুয়ামলিয়ান আমলাই, ডায়ালগ আর্থে)।
বনায়ন কার জন্য? জায়গাটি পরিত্যক্ত জুম, বাগান নয়; ম্রোদের সঙ্গে কথা বলেই বনায়ন, ম্রোরাই উপকারভোগী (আলীকদম রেঞ্জ কর্মকর্তা, প্রথম আলো)। কোনো কথা না বলে 12 একর বাগান কাটা হয়েছে; বাধা দিলে জেলে নেওয়ার হুমকি (মেনতকপাড়ার বাসিন্দা, প্রথম আলো)।
আইন কী বলে? জুম “a privilege subject to control, restriction and abolition by the Government” (বন আইন, ধারা 10(5))। 1900 সালের শাসনবিধিতে জুম, বসতভিটা, শণ কাটা ও গবাদি চরানোর অধিকার স্বীকৃত; খাজনা দেওয়া জুমভূমিতে সংরক্ষিত বন অবৈধ (IWGIA, 2000)।
কাঠ পাচারে কারা জড়িত? বন কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার; দুর্গমতা ও লোকবলের ঘাটতি সমস্যা (বান্দরবান পাল্পউড বাগান বিভাগ ও লামা বন বিভাগ, ডেইলি স্টার 2020)। “বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে” বন ধ্বংস (পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলন, ডেইলি স্টার বাংলা 2020)।

ছকের দুই পাশেই একজন ব্যক্তি নন, অনেক পক্ষ। সংরক্ষণপক্ষে বন বিভাগের কর্মকর্তা ছাড়াও আছে বন অধিদপ্তরের জন্য কাজ করা সংরক্ষণ সংস্থা আর থানচি উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান, যিনি বসতি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন (নিচে “প্রস্তাব” অংশ)। জুমিয়া পক্ষে আছেন সাঙ্গু মৌজার হেডম্যান, ম্রো পরিবার, বান্দরবানের হেডম্যান-কার্বারিদের সংগঠন আর পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলন। জুমচাষের পদ্ধতি ও জুমের বিরতিকাল কমার কারণ নিয়ে বিস্তারিত আছে আমাদের জুম চাষ: পাহাড়ের কৃষিবিদ্যা, মাসে মাসে লেখায়।

সাঙ্গু সংরক্ষিত বনে কারা থাকেন, কতজন?

বন অধিদপ্তরে জমা দেওয়া Creative Conservation Alliance-এর সমীক্ষা (এপ্রিল 2016) অনুযায়ী সাঙ্গু সংরক্ষিত বনের ভেতরে 16টি গ্রাম: 11টি ম্রো, 3টি মারমা আর 2টি ত্রিপুরা পাড়া। আনুমানিক জনসংখ্যা 1,632, গ্রামপ্রতি গড়ে 102 জন। ডায়ালগ আর্থের 2018 সালের প্রতিবেদন বলছে, বনের ভেতরে স্থায়ীভাবে বাস করেন 2,000-এর বেশি মানুষ।

সমীক্ষা ম্রো গ্রামগুলোর বিস্তারিত দিয়েছে: গড়ে 15টি পরিবার (5 থেকে 24), গড়ে 84 জন (34 থেকে 150)। নিকটতম শহর থেকে গ্রামগুলোর গড় সরলরৈখিক দূরত্ব 22.65 কিলোমিটার, সবচেয়ে দূরেরটি 49.54 কিলোমিটার। জীবিকার প্রধান উৎস জুম; জুমের খেত সাধারণত গ্রাম থেকে 3 কিলোমিটার হাঁটাপথের মধ্যে। ধান প্রধান ফসল, সঙ্গে কুমড়া-জাতীয় সবজি। প্রায় প্রতিটি পরিবারে মুরগি আর শূকর আছে, কারও কারও গরু।

বসতির কারণ নিয়ে সমীক্ষার ব্যাখ্যা: বান্দরবানের বেশির ভাগ অঞ্চলে মাটির উর্বরতা ও জুমের ফলন কমে যাওয়ায় আদিবাসী পরিবারগুলো সাঙ্গুর “pristine areas”-এ সরে আসছে। সমীক্ষার হুমকি-তালিকায় প্রথম দুটি “human influx” আর “jhum cultivation”; তৃতীয়টি শুকনো মৌসুমে (অক্টোবর–মার্চ) হাজার হাজার মানুষের বেত, বাঁশ ও গাছ সংগ্রহ। সমীক্ষা 2002 আর 2015 সালের দুটি উপগ্রহ-চিত্র পাশাপাশি রেখে বসতির বিস্তার দেখিয়েছে।

সাঙ্গু সংরক্ষিত বন এলাকায় একটি ছড়ার পাশে ঘাসে ঢাকা পরিষ্কার পাহাড়ি ঢাল, চূড়ার কাছে একটি ছোট ঘর, দুপাশে ঝোপ ও গাছ
সাঙ্গু সংরক্ষিত বন এলাকায় ছড়ার পাশে পরিষ্কার করা ঢাল ও একটি ঘর, অক্টোবর 2017। ছবি: Fayedmasudkhan · CC BY-SA 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

সমীক্ষাটি একই সঙ্গে ম্রো জনগোষ্ঠীর সহযোগিতার কথাও লিখেছে: কয়েকজন ম্রোকে প্যারাবায়োলজিস্ট হিসেবে ক্যামেরা-ট্র্যাপ ও জিপিএস চালাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, আর ডিসেম্বর 2011 থেকে আগস্ট 2015 পর্যন্ত মাঠের তথ্য সংগ্রহ হয়েছে 33টি গ্রামের 28টিতে। বাঘ, দুই প্রজাতির ভালুক, হাতি, হুলক গিবন আর তিন প্রজাতির ধনেশের উপস্থিতির প্রমাণ এই কাজেই। বসতি ও শিকার নিয়ে সমীক্ষার তথ্য এসেছে মূলত গ্রামবাসীদের সাক্ষাৎকার থেকে।

আরেকটি সংখ্যা এসেছে সাঙ্গু মৌজা থেকে; মৌজাটি সংরক্ষিত বনের ভেতরে কি না, উৎসগুলো তা স্পষ্ট করে না। সাঙ্গু মৌজার হেডম্যান ও বাসিন্দারা 2023 সালে বলেছেন, অভয়ারণ্য ঘোষণায় মৌজার 13টি পাড়ার প্রায় সাড়ে পাঁচশ পরিবার উচ্ছেদের ঝুঁকিতে (নিচে “অভয়ারণ্য” অংশ)।

মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনে বসতি, আর আলীকদমের 2025 সালের ঘটনা

মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনে বসতি সাঙ্গুর চেয়ে পুরনো। 2016 সালের সমীক্ষা লিখেছে, বনটি 1980-এর দশক থেকে “Bengali and ethnic settlers”-এর দখলে গেছে এবং সেখানে তুলনামূলক বড় প্রাকৃতিক বনের অংশ আর অবশিষ্ট নেই। নয়াপাড়া ইউনিয়নের একজন ইউপি সদস্যের হিসাবে সংরক্ষিত বনের ভেতরে নয়াপাড়া ও কুরুকপাতা ইউনিয়নে “হাজারো পরিবার” থাকে।

লামা অঞ্চলে সমতল থেকে আসা বসতির ইতিহাস আরও আগের। প্রফেসর মংসানু চৌধুরীর লেখা অনুযায়ী 1954 সালে “তৎকালীন লামা থানায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাঙ্গালী পরিবারদের এনে বসতি করানো হয়”। ডায়ালগ আর্থে থানচি উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যানের বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে: মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনকে সরকার 2017 সালে আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি ইউনিয়ন ঘোষণা করেছে। কোন ইউনিয়ন, কোন প্রজ্ঞাপনে, সংরক্ষিত বনের মর্যাদা তাতে বদলেছে কি না — এর কোনো সরকারি নথি পাওয়া যায়নি।

এই প্রেক্ষাপটে 2025 সালের ঘটনাটি দুই পক্ষের বক্তব্য পাশাপাশি রাখার মতো। প্রথম আলো (26 জুন 2025) অনুযায়ী আলীকদম উপজেলা সদর থেকে প্রায় 8 কিলোমিটার দূরে, আলীকদম-নাইক্ষ্যংছড়ি নির্মাণাধীন সড়কের পাশে মেনতকপাড়া ও কাইংওয়াইপাড়া। 21 জুন থেকে আলীকদম রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে 20 থেকে 25 জন শ্রমিক ছয় পরিবারের প্রায় 12 একর বাগান কাটেন; প্রথমে ইয়াঙবুং ম্রোর পাঁচ একরের কলা ও আমগাছ। বাসিন্দাদের হিসাবে বাগানে ছিল 1,200 কলাগাছ, কয়েক শ আম আর তিন শতাধিক পেঁপেগাছ।

বাসিন্দাদের বক্তব্য। দীংওয়াই ম্রো ও অংহ্লা ম্রো প্রথম আলোকে বলেন, এলাকার ম্রোরা সবাই জুমচাষি, যুগ যুগ ধরে জুম করে আসছেন; সড়ক হওয়ায় এখন জুমের সঙ্গে ফলের বাগান ও আদা-হলুদ করে সংসার চালান, আর গত বছর জুমে করা বাগানে সবেমাত্র ফলন আসা শুরু হয়েছিল। পাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন বিভাগের লোকজন পাড়াবাসীর সঙ্গে কোনো কথা বলেননি, আর বাধা দিলে জেলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের 8 নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রুমতুই ম্রো বলেন, সংরক্ষিত বনে কুরুকপাতা ইউনিয়নে “অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি খামারবাড়িও করেছেন”, কিন্তু বন বিভাগ তাঁদের কিছু করেনি, কাটা হয়েছে “দরিদ্র ম্রোদের বাগান”।

বন বিভাগের বক্তব্য। লামা বন বিভাগের আলীকদম রেঞ্জ কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন এলাহী প্রথম আলোকে বলেন, জায়গাটি ম্রোদের জুমচাষ শেষে পতিত পড়ে ছিল; “কয়েক বছর আগের পরিত্যক্ত জুমে কিছু কলাগাছ ও পেঁপেগাছ থাকলেও সেটি বাগান নয়”। তাঁর ভাষ্যে, ম্রোদের সঙ্গে কথা বলেই বনায়নের কাজ হচ্ছে এবং ম্রোরাই বনায়নের উপকারভোগী হবেন। সংরক্ষিত বনের শত শত একর প্রভাবশালীরা দখল করেছে কি না — এই প্রশ্ন তিনি অস্বীকার করেন।

দুই বক্তব্যের মাঝখানে বিরোধের মূল প্রশ্নটি স্পষ্ট: পরিত্যক্ত জুম কি “পতিত জমি”, নাকি জুমচক্রের বিশ্রামে থাকা জমি, যেখানে কয়েক বছর পর আবার জুম হবে? রেঞ্জ কর্মকর্তার ভাষ্যে জমিটি পতিত; ম্রোদের ভাষ্যে সেটি তাঁদের জুম আর সদ্য ফল ধরা বাগানের জমি।

সাঙ্গু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য: দুই প্রজ্ঞাপন, এক মানববন্ধন

বন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের অভয়ারণ্য-তালিকায় সাঙ্গু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের আয়তন 2,331.98 হেক্টর, আইইউসিএন শ্রেণি II, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ “06/04/2010″। অভয়ারণ্য আর সংরক্ষিত বন এক জিনিস নয়; উইকিপিডিয়া ও 2016 সালের সমীক্ষা অনুযায়ী অভয়ারণ্যটি সাঙ্গু সংরক্ষিত বনের একটি অংশ।

তারিখটি দুইভাবে পড়া হয়েছে। বাংলা উইকিপিডিয়া লিখেছে 6 এপ্রিল 2010; Creative Conservation Alliance-এর সমীক্ষা লিখেছে “Gazzetted on June 4, 2010”, যদিও একই সমীক্ষার আরেক তালিকায় প্রতিষ্ঠার সাল 2011। হিল ভয়েসে প্রকাশিত সাঙ্গু মৌজাবাসীর স্মারকলিপি অনুযায়ী পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পুনঃপ্রজ্ঞাপনের স্মারক নম্বর “PBM/Forest Branch-2/02 Wildlife Sanctuaries 13/2010/212”, তারিখ 4-6-2010। আর প্রথম প্রজ্ঞাপন, একই স্মারকলিপি অনুযায়ী, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের গেজেট প্রজ্ঞাপন নম্বর “PBM (Branch-3) 11/93/190”, তারিখ 7/3/1996।

অভয়ারণ্যটি কোথায়, তা নিয়েও দুই রকম তথ্য। 2016 সালের সমীক্ষা বলছে, অভয়ারণ্যটি থানচির সাঙ্গু সংরক্ষিত বনের ভেতরে, তবে “there is no clear demarcation of its boundaries”। এনটিভি ও হিল ভয়েসের 2023 সালের প্রতিবেদন বলছে, অভয়ারণ্য ঘোষিত হয়েছে লামা উপজেলার সাঙ্গু মৌজার 5,760 একর জমিতে। 2,331.98 হেক্টর আর 5,760 একর প্রায় একই আয়তন।

14 জুন 2023 বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে “সাঙ্গু মৌজাবাসী”র ব্যানারে মানববন্ধন হয়। এনটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী বক্তব্য দেন হেডম্যান কারবারি কল্যাণ পরিষদের সভাপতি হ্লাথোয়াই হ্লী মারমা, সাঙ্গু মৌজার হেডম্যান চ্যংপাত ম্রো, উক্যমং মারমা ও তনয়া ম্রো। হ্লাথোয়াই হ্লী মারমার বক্তব্য: “অভয়ারণ্যে ঘোষণার কারণে সাঙ্গু মৌজার ১৩টি পাহাড়ি বাঙালিপাড়ার প্রায় সাড়ে পাঁচশ পরিবার উচ্ছেদ হওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।” হিল ভয়েস জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো স্মারকলিপিতে প্রজ্ঞাপন বাতিল ও “13 Paras” উচ্ছেদ থেকে রক্ষার দাবি করা হয়, আর জুমকে বলা হয় সারা বছরের খাদ্য ও মৌসুমি ফসলের আয়ের উৎস। স্মারকলিপির অনুলিপি যায় বন ও পরিবেশমন্ত্রী থেকে শুরু করে বান্দরবান ও লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা পর্যন্ত।

একই খবরে এনটিভি নিজের ভাষায় লিখেছে, দীর্ঘদিন পর বন বিভাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করায় “সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে বসতি গড়ে তোলা লোকজনদের মধ্যে উচ্ছেদ আতঙ্ক তৈরি হয়”। হিল ভয়েস “নির্ভরযোগ্য সূত্রে” জানায়, লামা বন বিভাগ প্রকল্প বাস্তবায়নে 15 জুন কক্সবাজারের একটি হোটেলে উচ্চপর্যায়ের সভা ডেকেছিল। বন বিভাগের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দুই প্রতিবেদনের কোনোটিতে নেই।

সাঙ্গু সংরক্ষিত বন এলাকায় পাহাড়ের ঢালে ধানের শীষ আর ভুট্টার গাছে ভরা খেত, পেছনে মরা ও জীবিত গাছের সারি
সাঙ্গু সংরক্ষিত বন এলাকায় ধান ও ভুট্টার খেত, অক্টোবর 2017; উইকিমিডিয়া কমন্সে ছবিটি সাঙ্গু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিভাগে রাখা। ছবি: Fayedmasudkhan · CC BY-SA 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

1990-এর দশকের নতুন সংরক্ষিত বন আর পার্বত্য চুক্তির ব্যতিক্রম

সাঙ্গু-মাতামুহুরীর বিরোধ একা নয়; 1990-এর দশকে তিন পার্বত্য জেলায় নতুন সংরক্ষিত বন ঘোষণার প্রক্রিয়া একই প্রশ্ন বড় আকারে তোলে। আর 1997 সালের পার্বত্য চুক্তি ও জেলা পরিষদ আইন জমির হস্তান্তরে জেলা পরিষদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করলেও সংরক্ষিত বনকে সেই নিয়মের বাইরে রেখেছে।

IWGIA-র বই অনুযায়ী পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের এই প্রজ্ঞাপনগুলোর বেশির ভাগের শুরু জানুয়ারি 1992-এ, মোট প্রায় 2,20,000 একর; তার প্রায় অর্ধেক চূড়ান্তভাবে সংরক্ষিত ঘোষিত হয় জুন 1996 এবং এপ্রিল–মে 1998-এর প্রজ্ঞাপনে। বইয়ের অন্য জায়গায় 1992 সালের প্রক্রিয়ার আয়তন 1,77,849.57 একর, আর 21 মে 1992-এর গেজেটের প্রজ্ঞাপন নিয়ে লেখা পাদটীকায় “nearly 150,000 acres”। সুদত্ত বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যার হিসাবে 1992 থেকে 1998-এর মধ্যে 83টি মৌজায় প্রায় 2 লক্ষ 18 হাজার একর। এই প্রজ্ঞাপনগুলোর তালিকায় সাঙ্গু বা মাতামুহুরী সংলগ্ন কোনো মৌজা ছিল কি না, তা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি; তবে সাঙ্গু অভয়ারণ্যের প্রথম প্রজ্ঞাপনের যে তারিখ স্মারকলিপিতে আছে (7 মার্চ 1996), তা এই সময়কালের মধ্যেই পড়ে।

প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আপত্তিগুলো IWGIA লিপিবদ্ধ করেছে: প্রজ্ঞাপনগুলো বন আইনের প্রয়োজনীয় প্রচার পায়নি, ফলে বহু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দাবি জানানোর সুযোগ পাননি; সংকীর্ণ ব্যাখ্যায় তাঁদের অধিকার বিলুপ্ত হতে পারে; আর আঞ্চলিক পরিষদ বা জেলা পরিষদের ওই জমির ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। ক্ষতিগ্রস্তরা “Committee for the Protection of Forest and Land Rights in the Chittagong Hill Tracts” গঠন করেন; সুদত্ত বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা ছিলেন তার সদস্যসচিব, আর প্রতিনিধিদলে ছিলেন গৌতম দেওয়ান ও চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়। IWGIA লিখেছে, তৎকালীন মন্ত্রী সাজেদা চৌধুরী আশ্বাস দিয়েছিলেন, মানুষ উচ্ছেদ করে কোনো বনায়ন হবে না। 1992 সালের প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত ও ভূমি কমিশনের প্রসঙ্গ আছে আমাদের ভূমি ব্যবস্থার লেখায়, আর জুমভূমি দখলের মাঠপর্যায়ের দৃষ্টান্ত আছে আর্কাইভের পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যার চিত্র লেখায়।

পার্বত্য চুক্তির পরে এই বিষয়ে আইনের অবস্থান স্পষ্ট লেখা আছে। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের 64 ধারা (1998 সালের 11 নং আইনে প্রতিস্থাপিত) বলছে, পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া জেলার কোনো জমি বন্দোবস্ত, ইজারা, ক্রয়, বিক্রয় বা হস্তান্তর করা যাবে না। কিন্তু শর্তাংশে: “সংরক্ষিত (Reserved) বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুত্ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পকারখানা ও সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নামে রেকর্ডকৃত জমির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না৷” (আইনের পূর্ণ পাঠ আমাদের আর্কাইভে)। ব্যতিক্রমটি এসেছে চুক্তির খ খণ্ডের 26 দফা থেকে; দফাটির ব্যাখ্যা আছে পার্বত্য চুক্তি 1997: ধারা ধরে ধরে লেখায়।

এর অর্থ, সংরক্ষিত বনের জমির বন্দোবস্ত, ইজারা বা হস্তান্তরে জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদনের বিধান খাটে না। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের এখতিয়ারে সংরক্ষিত বনের জমি পড়ে কি না, সে প্রশ্নে কমিশন আইন কী বলে তা ব্যাখ্যা করা আছে ভূমি কমিশনে আবেদনের লেখায়।

সাঙ্গু সংরক্ষিত বনে গাছ কাটছে কারা: 2020-এর অভিযোগ ও জবাব

2020 সালের শেষে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনে বড় আকারে গাছ কাটার খবর আসে। অভিযোগের তীর ছিল কাঠ ব্যবসায়ীদের দিকে, জুমিয়াদের দিকে নয়; বন বিভাগ কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে লোকবল ও দুর্গমতার সীমাবদ্ধতার কথা বলে।

ডেইলি স্টার বাংলা (9 নভেম্বর 2020) অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি গৌতম দেওয়ান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে এক হাজারের বেশি কাঠুরিয়া লাগিয়ে কাঠ পাচারকারীরা “বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে” সাঙ্গু বন ধ্বংস করছে, আর বন বিভাগ, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর প্রায় 12–14টি চেকপোস্ট পেরিয়ে কাঠ পাচার হচ্ছে। দাবি ছিল: কাঠুরিয়াদের সরানো, অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা, বড় মদক, ছোট মদক, রেমাক্রি ও তিন্দু এলাকায় জোত পারমিট ও কাঠ পরিবহন বন্ধ, আর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। জবাবে বান্দরবান পাল্পউড বাগান বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “দুর্গম এলাকা হওয়ায় সাঙ্গু বনাঞ্চলে আমাদের পক্ষে যাওয়া সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না”।

ডেইলি স্টারের 26 ডিসেম্বর 2020-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও পরদিনের হিল ভয়েস কাটা পড়ার জায়গাগুলোর নাম দেয় — আন্দারমানিক, দুংদুং পাড়া, মিলিঙ্গা পাড়া, ম্রংগং পাড়া, নারিশা ঝিরি, বড় মদক ঝিরি, সিঙ্গাপা মৌজার ঝিরি [যাচাই প্রয়োজন: নামগুলোর বাংলা বানান ইংরেজি সূত্র থেকে]। থানচি উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যানের হিসাবে গত কয়েক মাসে প্রায় “30,000 feet” গাছ কাটা হয়েছে (ডেইলি স্টারের ভাষায়)। প্রতিবেদনে বান্দরবান জেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির বক্তব্য: সাত-আটজন অসাধু ব্যবসায়ী, বেশির ভাগ চট্টগ্রামের, গাছ কাটায় জড়িত। কাঠুরেরা এসেছেন কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে, এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যে।

বন বিভাগের দিক থেকে তিনটি বক্তব্য একই প্রতিবেদনে: বান্দরবানের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বলেন, কখনো কখনো সংলগ্ন মৌজা থেকে গাছ কাটা হয়; প্রধান বন সংরক্ষক তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান; আর লামার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বলেন, মাতামুহুরী ও বামুর 1,04,881 একর মাত্র 14 জন কর্মী দিয়ে পাহারা দেওয়া “really tough”। IWGIA-র বই দুই দশক আগে একই অভিযোগ লিখেছিল: সংগঠিত কাঠ চোরাকারবারিরা সংরক্ষিত বনে বড় আকারে কাঠ কাটে “in collaboration with Forest Department officials and the local police force”।

সাঙ্গু-মাতামুহুরী অববাহিকায় বন কতটা কমেছে?

PLOS One-এ 2025 সালে প্রকাশিত Ajit Kumar Rudra ও A K M Rashidul Alam-এর গবেষণা উজানের সাঙ্গু-মাতামুহুরী অববাহিকার প্রায় 3,10,317 হেক্টর এলাকা উপগ্রহ-চিত্রে মেপেছে। বনভূমি 1988 সালে ছিল 2,34,634 হেক্টর (76%), 2019 সালে 1,68,476 হেক্টর (54%)। একই সময়ে কৃষিজমি 21,787 হেক্টর (7%) থেকে বেড়ে 78,704 হেক্টর (25%)।

গবেষণাটি পুরো অববাহিকার, শুধু সংরক্ষিত বনের নয়; তাই এর সংখ্যা দিয়ে সংরক্ষিত বনের ভেতরের ক্ষতি আলাদা করা যায় না। মাঝের দুটি বছরের হিসাবও আছে: 1999 সালে 1,97,852 হেক্টর (64%), 2009 সালে 1,81,953 হেক্টর (59%)। গবেষকেরা লিখেছেন, জুমচক্র একসময় 12 থেকে 15 বছরের ছিল, এখন কমে 2–3 বছরে নেমেছে। বাক্যটির পেছনে আলাদা কোনো উৎস নির্দেশ করা নেই। 1988–1999 সালের বন হ্রাসকে তাঁরা 1997 সালের শান্তিচুক্তির আশপাশের সময়ে জমির অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা ও গাছ কাটার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

ছোট পরিসরের হিসাব এসেছে 2020 সালের প্রতিবেদনগুলোয়। স্পারসোর (SPARSO) একজন বিজ্ঞানী সাঙ্গুর 867 হেক্টরের একটি অংশ বিশ্লেষণ করে দেখান, তার অন্তত 40 হেক্টর পরিষ্কার হয়ে গেছে (হিল ভয়েস; একই হিসাব ডেইলি স্টারে); হিল ভয়েস লিখেছে, উপগ্রহ-চিত্রে গত কয়েক বছরে প্রায় 100 একর বন পুরোপুরি সাফ। বনের এই ক্ষতি জুমে, কাঠ চুরিতে না বাগানে — উপগ্রহ-চিত্র তা আলাদা করে বলে না।

সাঙ্গু-মাতামুহুরী নিয়ে কী কী সমাধান প্রস্তাব এসেছে?

প্রস্তাবগুলো তিন দিকে টানে: বনের ভেতরের পরিবারগুলোকে বাইরে সরানো; তাঁদের রেখে বন ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা; আর ঘোষণা বা প্রজ্ঞাপন বাতিল। কোনো প্রস্তাবের বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে সরকারি নথি পাওয়া যায়নি।

  1. সরিয়ে নেওয়া। ডায়ালগ আর্থ (2018) লিখেছে, থানচি উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান সংরক্ষিত বনের ভেতরের আদিবাসী পরিবারগুলোকে কাছের বাইরের এলাকায় সরাতে সরকারের কাছে একটি পাঁচ বছরের পরিকল্পনা দিয়েছেন, আর তাঁর ভাষ্যে সরকার “positively” সাড়া দিয়েছে। তাঁর আশঙ্কা ছিল, মাতামুহুরীর মতো সাঙ্গুতেও ইউনিয়ন হলে বনের ভেতরের বসতি বৈধতা পাবে।
  2. রেখে দিয়ে সহ-ব্যবস্থাপনা। একই প্রতিবেদনে সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক বলেছেন, সাঙ্গু টিকবে স্থানীয় মানুষের হাতেই; তাঁদের স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে বন ও নদী ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করতে হবে, সহ-ব্যবস্থাপনার বিধিমালা সরকার অনুমোদন করেছে, আর বনের রাজস্ব ভাগ দিয়ে উৎসাহ দেওয়া যায়। প্রতিবেদনে “experts”-এর মত হিসেবে আছে, পরিবারগুলোর উপস্থিতি নয়, তাঁদের জীবিকার ধরনই সমস্যা; বিকল্প জীবিকা পেলে তাঁরা বনের ভেতরেই থাকতে পারেন। explorer.land-এর বন-পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পাতা সংরক্ষিত বনের ভেতরে প্রায় 35,000 এবং চারপাশে প্রায় 1,00,000 বাসিন্দার কথা বলে, আর সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে “trust” গড়ার লক্ষ্য রাখে।
  3. ঘোষণা বাতিল। সাঙ্গু মৌজাবাসী 2023 সালে অভয়ারণ্যের প্রজ্ঞাপন বাতিল চেয়েছেন। 1990-এর দশকে বন ও ভূমি অধিকার কমিটি নতুন সংরক্ষিত বনের প্রজ্ঞাপন বাতিল চেয়েছিল; IWGIA লিখেছে, রাঙামাটির তৎকালীন সংসদ সদস্য দীপঙ্কর তালুকদারও মেনে নিয়েছিলেন, মানুষের অধিকার রক্ষায় প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার দরকার হবে।
  4. আইনের ভেতরের পথ। বন আইনের 10(3) ধারা নিজেই দুটি উপায় রাখে — জুমের উপযোগী জমি বনের সীমা থেকে বাদ দেওয়া, অথবা বনের ভেতরে আলাদা অংশ চিহ্নিত করে শর্তসাপেক্ষে জুমের অনুমতি। আর 27 ধারায় সরকার কোনো অংশকে সংরক্ষিত বনের বাইরে ঘোষণা করতে পারে, যদিও তাতে বিলুপ্ত অধিকার ফেরে না। সাঙ্গু বা মাতামুহুরীতে এই ধারাগুলো কখনো প্রয়োগ হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

সংরক্ষিত বনের বাইরে পার্বত্য চট্টগ্রামে মৌজা বন বা পাড়াবনের প্রথাগত ব্যবস্থাও আছে; তার নিয়ম ও কমিটির বিবরণ অম্লান চাকমার গ্রামীণ সাধারণ বন ব্যবস্থাপনা লেখায়। সংরক্ষিত বনের প্রসঙ্গে মিশুক চাকমার বনজ সম্পদ ও পরিবেশ লেখাও পড়তে পারেন; তিনি লিখেছেন, পাচারের ফলে “সাঙ্গু ও মাতামুহুরী বনাঞ্চল আজ বৃক্ষ শূন্য হয়ে পড়েছে”, আর আবর্তন পদ্ধতির জুমে সংরক্ষিত বনের ক্ষতি হয় না।

প্রশ্নোত্তর

সাঙ্গু সংরক্ষিত বন কবে ঘোষণা করা হয়?

R. H. Sneyd Hutchinson-এর 1906 সালের বই ও 1909 সালের জেলা গেজেটিয়ার অনুযায়ী সাঙ্গু সংরক্ষিত বন গঠিত হয় 6 মে 1881 তারিখে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম, যেমন ডেইলি স্টারের 2020 সালের প্রতিবেদন, সাল হিসেবে 1880 লেখে। মূল প্রজ্ঞাপনের নম্বর বা গেজেটের পাতা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন কবে গঠিত হয়?

হাচিনসনের 1906 ও 1909 সালের দুই বইয়েই মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন গঠনের তারিখ 1 ডিসেম্বর 1880। এটিই পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচটি সরকারি সংরক্ষিত বনের মধ্যে প্রথম; এরপর কাসালং 1 মার্চ 1881, সাঙ্গু 6 মে 1881, রাইনখিয়ং 15 মার্চ 1882 আর সীতাপাহাড় 1 এপ্রিল 1883 সালে গঠিত হয়।

সাঙ্গু সংরক্ষিত বনের আয়তন কত?

উৎসভেদে সংখ্যা আলাদা। হাচিনসনের 1909 সালের গেজেটিয়ারে 145 বর্গমাইল, মানে প্রায় 92,800 একর। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের 1976 সালের প্রতিবেদন ও বন অধিদপ্তরে জমা দেওয়া 2016 সালের সমীক্ষায় 83,612 একর বা 33,836 হেক্টর। ডেইলি স্টার ও হিল ভয়েসের 2020 সালের প্রতিবেদনে 82,080 একর। বনটি থানচি উপজেলায় বড় মদকের দক্ষিণে।

মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনের আয়তন কত?

1909 সালের গেজেটিয়ারে মাতামুহুরী 251 বর্গমাইল, প্রায় 1,60,640 একর। 1976 সালের প্রতিবেদনে 1,00,467 একর, আর 2016 সালের সমীক্ষায় 40,661 হেক্টর বা 1,00,476 একর। লামা বন বিভাগ 2020 সালে মাতামুহুরী ও বামু বিলছড়ি মিলিয়ে 1,04,881 একরের কথা বলেছে। মাঝের প্রায় 60 হাজার একরের ফারাকের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সংরক্ষিত বনে জুমচাষ কি বৈধ?

না। 1906 সালেই হাচিনসন লিখেছেন, সংরক্ষিত বনে কোনো চাষ চলবে না। 1927 সালের বন আইনের 26 ধারায় সংরক্ষিত বনে চাষের জন্য জমি পরিষ্কারের শাস্তি 6 মাস থেকে 5 বছর কারাদণ্ড, সঙ্গে 5,000 থেকে 50,000 টাকা জরিমানা। তবে বন কর্মকর্তার লিখিত অনুমতি থাকলে, বা 10 ধারা অনুযায়ী চিহ্নিত অংশে, শর্তসাপেক্ষে জুম চলতে পারে।

বন আইনে জুমের অধিকার কতটুকু স্বীকৃত?

বন আইন 1927-এর 10 ধারায় জুমের দাবি শোনার ব্যবস্থা আছে: বন নিষ্পত্তি কর্মকর্তা দাবি লিখে সরকারকে পাঠান, সরকার পুরো বা আংশিক অনুমতি দিতে পারে। কিন্তু 10(5) উপধারা জুমকে বলে “a privilege subject to control, restriction and abolition by the Government” — অধিকার নয়, সরকার-নিয়ন্ত্রিত সুবিধা। জুমিয়া পক্ষের লেখকেরা এর বিপরীতে 1900 সালের শাসনবিধির প্রথাগত অধিকারের কথা বলেন।

সাঙ্গু সংরক্ষিত বনে কতজন মানুষ থাকেন?

বন অধিদপ্তরে জমা দেওয়া Creative Conservation Alliance-এর 2016 সালের সমীক্ষায় সাঙ্গু সংরক্ষিত বনের ভেতরে 16টি গ্রাম — 11টি ম্রো, 3টি মারমা ও 2টি ত্রিপুরা — আর আনুমানিক 1,632 জন বাসিন্দা। ডায়ালগ আর্থের 2018 সালের প্রতিবেদনে সংখ্যাটি 2,000-এর বেশি। দুটি উৎসই বলছে, বেশির ভাগ বসতি সাম্প্রতিক।

সাঙ্গু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য কবে ঘোষণা হয়, আয়তন কত?

বন অধিদপ্তরের তালিকায় সাঙ্গু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের আয়তন 2,331.98 হেক্টর, প্রজ্ঞাপনের তারিখ “06/04/2010”; বাংলা উইকিপিডিয়া এটিকে 6 এপ্রিল 2010 পড়েছে, Creative Conservation Alliance পড়েছে 4 জুন 2010। সাঙ্গু মৌজাবাসীর স্মারকলিপি অনুযায়ী প্রথম প্রজ্ঞাপন 7 মার্চ 1996-এর। স্থানীয়দের হিসাবে আয়তন 5,760 একর।

সাঙ্গু মৌজার বাসিন্দারা অভয়ারণ্যের বিরোধিতা করছেন কেন?

14 জুন 2023 বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে হেডম্যান কারবারি কল্যাণ পরিষদের সভাপতি হ্লাথোয়াই হ্লী মারমা বলেন, অভয়ারণ্য ঘোষণার কারণে সাঙ্গু মৌজার 13টি পাড়ার প্রায় সাড়ে পাঁচশ পরিবার উচ্ছেদের আতঙ্কে আছে। স্মারকলিপিতে জুমকে সারা বছরের খাদ্যের উৎস বলে প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানানো হয়।

পার্বত্য চুক্তির পর সংরক্ষিত বনের জমিতে জেলা পরিষদের কোনো ক্ষমতা আছে কি?

না। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের 64 ধারা জেলার জমি হস্তান্তরে পরিষদের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করেছে, কিন্তু শর্তাংশে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় শিল্পকারখানা ও সরকারের নামে রেকর্ডকৃত জমিকে এর বাইরে রেখেছে। ব্যতিক্রমটি এসেছে 1997 সালের চুক্তির খ খণ্ডের 26 দফা থেকে।

আলীকদমে 2025 সালে বন বিভাগ আর ম্রোদের মধ্যে কী হয়েছিল?

প্রথম আলোর 26 জুন 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 21 জুন থেকে লামা বন বিভাগের আলীকদম রেঞ্জের লোকজন মেনতকপাড়া ও কাইংওয়াইপাড়ার ছয় ম্রো পরিবারের প্রায় 12 একর বাগান কেটে বনায়ন শুরু করে। বন বিভাগ বলছে জায়গাটি মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনে, পরিত্যক্ত জুম; ম্রোরা বলছেন তাঁরা বংশপরম্পরায় সেখানে জুম করেন।

সাঙ্গু-মাতামুহুরী অববাহিকায় বন কতটা কমেছে?

PLOS One-এ 2025 সালে প্রকাশিত Rudra ও Alam-এর গবেষণা অনুযায়ী উজানের সাঙ্গু-মাতামুহুরী অববাহিকায় বনভূমি 1988 সালের 2,34,634 হেক্টর (76%) থেকে 2019 সালে 1,68,476 হেক্টরে (54%) নেমেছে, আর কৃষিজমি 7% থেকে 25%-এ উঠেছে। মাঝের দুই হিসাবে বন ছিল 1999 সালে 64% আর 2009 সালে 59%। হিসাবটি গোটা অববাহিকার, শুধু সংরক্ষিত বনের নয়।

যা এখনো জানা যায়নি

  • মূল প্রজ্ঞাপন। 1880 ও 1881 সালের যে প্রজ্ঞাপনে মাতামুহুরী ও সাঙ্গু সংরক্ষিত হয়েছিল, তার নম্বর, কোন গেজেটে ছাপা, সীমানার বর্ণনা আর কোন আইনের অধীনে — কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। হাচিনসন কেবল গঠনের তারিখ দেন।
  • ঘোষণার সময়ের অধিকার-তদন্ত। ঘোষণার আগে সীমানার ভেতরে কোনো পাড়া বা জুম ছিল কি না, দাবি নেওয়া হয়েছিল কি না, জুমের জন্য কোনো অংশ বাদ রাখা হয়েছিল কি না — এর সমসাময়িক নথি পাওয়া যায়নি।
  • মাতামুহুরীর আয়তনের ফারাক। 1909 সালের 251 বর্গমাইল আর 1976 সালের 1,00,467 একরের মাঝে প্রায় 60 হাজার একরের ফারাক কোনো ডি-রিজার্ভেশনের ফল কি না, জানা যায়নি। বামু বিলছড়ি সংরক্ষিত বন কবে আলাদা হলো, তাও জানা যায়নি।
  • অভয়ারণ্যের অবস্থান ও তারিখ। সাঙ্গু অভয়ারণ্য থানচির সাঙ্গু সংরক্ষিত বনে, নাকি লামার সাঙ্গু মৌজায় — উৎসগুলো দুই কথা বলে; সীমানার মানচিত্র প্রকাশিত পাওয়া যায়নি। প্রজ্ঞাপনের তারিখ 6 এপ্রিল না 4 জুন 2010, তা মূল গেজেট দেখে মেলানো যায়নি।
  • 2017 সালের ইউনিয়ন ঘোষণা। মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন এলাকায় 2017 সালে ইউনিয়ন ঘোষণার কথা একজন উপজেলা চেয়ারম্যানের বক্তব্যে আছে; কোন ইউনিয়ন, কোন প্রজ্ঞাপনে, সংরক্ষিত বনের মর্যাদায় কী প্রভাব — সরকারি নথি পাওয়া যায়নি।
  • বন বিভাগের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। বনের ভেতরের বসতি নিয়ে বন অধিদপ্তরের কোনো লিখিত নীতি, উচ্ছেদ বা পুনর্বাসনের পরিকল্পনা, কিংবা 2023 সালের মানববন্ধনের জবাব প্রকাশিত পাওয়া যায়নি; এখানে উদ্ধৃত বন বিভাগের বক্তব্য সবই সংবাদমাধ্যমে কর্মকর্তাদের মৌখিক মন্তব্য।
  • মামলার সংখ্যা। সাঙ্গু ও মাতামুহুরীতে বন আইনে কতগুলো মামলা হয়েছে, কাদের বিরুদ্ধে — এর কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
  • দখলের অভিযোগ। কুরুকপাতা ইউনিয়নে প্রভাবশালীদের খামারবাড়ির অভিযোগ একজন ইউপি সদস্যের; বন বিভাগ তা অস্বীকার করেছে। স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র

জুমজার্নালের আর্কাইভ

  1. মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা, বন, পাহাড়, পরিবেশ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠী, জুমজার্নাল।
  2. জুয়ামলিয়ান আমলাই, বন-বনায়ন প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম, জুমজার্নাল (মূল: তাক্রুপ্ সংকলন 2013)।
  3. মিশুক চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রামের বনজ সম্পদ এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব, জুমজার্নাল।
  4. সুদত্ত বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা, Forest Act 1927 সংশোধনী প্রস্তাবের উপর মতামত, জুমজার্নাল।
  5. প্রফেসর মংসানু চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বিরোধ প্রসঙ্গে, জুমজার্নাল।
  6. পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যার চিত্র, জুমজার্নাল।
  7. বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989 (ধারা 64, 1998 সালের 11 নং আইনে প্রতিস্থাপিত), জুমজার্নাল আর্কাইভে পূর্ণ পাঠ।

নথি ও গবেষণা

  1. R. H. Sneyd Hutchinson, An Account of the Chittagong Hill Tracts, 1906, পৃ. 29–31। ইন্টারনেট আর্কাইভ।
  2. R. H. Sneyd Hutchinson, Eastern Bengal and Assam District Gazetteers: Chittagong Hill Tracts, Allahabad: Pioneer Press, 1909, পৃ. 15–16, 71–72। ইন্টারনেট আর্কাইভ।
  3. Rajkumari Chandra Kalindi Roy, Land Rights of the Indigenous Peoples of the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh, IWGIA Document No. 99, Copenhagen, 2000 (Webb ও Roberts, Asian Development Bank, 1976-এর উদ্ধৃতিসহ)। IWGIA PDF।
  4. The Forest Act, 1927 (Act No. XVI of 1927), বাংলাদেশ আইন মন্ত্রণালয়ের ছাপা কপি, 30 জুন 2020। FAOLEX।
  5. Creative Conservation Alliance, A Preliminary Wildlife Survey in Sangu-Matamuhuri Reserve Forest, Chittagong Hill Tracts, Bangladesh, বন অধিদপ্তরে জমা দেওয়া অপ্রকাশিত প্রতিবেদন, এপ্রিল 2016। PLOS One-এর সম্পূরক ফাইল।
  6. Ajit Kumar Rudra ও A K M Rashidul Alam, “Spatiotemporal pattern of land use and land cover changes of upper Sangu-Matamuhuri Watershed in the South-Eastern Bangladesh”, PLOS One 20(7): e0327284, 2025। PMC।
  7. বন অধিদপ্তর, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের তালিকা।
  8. সাঙ্গু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, বাংলা উইকিপিডিয়া; Sangu Matamuhari Wildlife Sanctuary, ইংরেজি উইকিপিডিয়া।
  9. Forest Landscape Restoration of Sangu-Matamuhuri Reserve Forest (SMRF), explorer.land।

সংবাদ ও প্রতিবেদন

  1. প্রথম আলো, আলীকদমে বন বিভাগের বিরুদ্ধে ম্রোদের বাগানের গাছ কেটে বনায়নের অভিযোগ, 26 জুন 2025।
  2. এনটিভি অনলাইন, সাঙ্গু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, 14 জুন 2023।
  3. Hill Voice, Human chain to cancel declaration of Sangu wildlife sanctuary and stop eviction of villagers, 14 জুন 2023।
  4. সঞ্জয় কুমার বড়ুয়া, সাঙ্গু-মাতামুহুরি অভয়ারণ্য ও সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বনাঞ্চল রক্ষা করুন, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 9 নভেম্বর 2020; ইংরেজি সংস্করণ: ‘Protect Sangu-Matamuhuri sanctuary, reserve forest’।
  5. Pinaki Roy ও Sanjoy Kumar Barua, Sangu Reserve Forest: Left exposed to human greed, The Daily Star, 26 ডিসেম্বর 2020।
  6. Hill Voice, Matamahuri and Sangu forests being cut down every day, 27 ডিসেম্বর 2020।
  7. Sohara Mehroze Shachi, The Sangu, a dying transboundary river, Dialogue Earth, 12 ফেব্রুয়ারি 2018।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 17 অক্টোবর 2026

 

প্রসঙ্গ:জুমচাষ, বনভূমি, বান্দরবান, ভূমি অধিকার, ভূমি বিরোধ, ম্রো

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা