Last updated Nov 3rd, 2026
1

বাংলাদেশের নিবন্ধিত ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের তালিকায় এখন 64টি নাম, তার একটিও রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি বা বান্দরবানের নয়। পিনন হাদি জিআই পণ্য হয়নি, কারণ পিনন বা হাদির জন্য কোনো আবেদনই সরকারি তালিকায় নেই, যদিও শিল্প মন্ত্রণালয় 2024 সালে হাইকোর্টে দেওয়া “সম্ভাব্য জিআই পণ্যের” তালিকায় দুটি নামই রেখেছিল। পাহাড় থেকে আবেদন গেছে মাত্র চারটি, সবই বান্দরবানের জেলা প্রশাসকের নামে, 2024 সালের এপ্রিল-মে মাসে। আড়াই বছর পরও সেগুলোর জার্নাল প্রকাশিত হয়নি, আর কেন হয়নি, তার কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশিত নথিতে নেই।
এই লেখা দাঁড়িয়ে আছে চারটি সরকারি নথির ওপর: ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন, 2013-এর পাঠ, 2015 সালের বিধিমালা ও তার 2026 সালের সংশোধনী, পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) নিবন্ধিত ও প্রক্রিয়াধীন আবেদনের তালিকা, আর জিআই জার্নালের তালিকা। সিলেটের মণিপুরী শাড়ি কীভাবে জিআই পেল, আর অপেক্ষমাণ তালিকায় বান্দরবানের চার আবেদনের মূল বিবরণ আমাদের আগের লেখা সিলেটের মণিপুরী শাড়ি ও ফানেকের জিআই-তে আছে। এখানে প্রশ্নটা অন্য: আইন কী চায়, কে আবেদন করতে পারে, পাহাড়ের কোন পণ্যের নাম কোথায় উঠেছে, আর কোথায় আটকে আছে।
এই লেখায় যা আছে
নেই। ডিপিডিটির “নিবন্ধিত ভৌগোলিক নির্দেশক (জি আই) পণ্যসমূহ” পাতায় (শেষ হালনাগাদ 16 জুন 2026) 64টি পণ্য আছে। আবেদনকারীর ঠিকানা, পণ্যের নাম বা উৎপাদন এলাকা, কোথাও রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি বা বান্দরবানের নাম নেই। শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির 22 জুন 2026 সংসদে যে 64টি পণ্যের নাম বলেছেন, সেই তালিকাতেও পার্বত্য জেলার কোনো পণ্য নেই।
তালিকার প্রথম নিবন্ধন জামদানি শাড়ী, আবেদনের তারিখ 1 সেপ্টেম্বর 2015। শেষ দুটি, 63 ও 64 নম্বরে, জয়পুরহাটের লতিরাজ কচু আর মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়। লতিরাজ কচুর আবেদন হয়েছিল 7 মার্চ 2017-এ, নিবন্ধন এসেছে নয় বছর পরে। অর্থাৎ দীর্ঘ অপেক্ষা কেবল পাহাড়ের আবেদনের বেলায় ঘটেনি।
দেশের বাকি অংশের সঙ্গে তুলনা করলে ফাঁকটা চোখে পড়ে। মৌলভীবাজারের দুটি পণ্য (আগর, আগর আতর) তালিকায় আছে, কুমিল্লা আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পণ্যও আছে। বস্ত্রের ঘরে আছে জামদানি, ঢাকাই মসলিন, রাজশাহী সিল্ক, টাঙ্গাইল শাড়ি, রংপুরের শতরঞ্জি, সিরাজগঞ্জের গামছা ও লুংগি, কুমিল্লার খাদি, জামালপুরের নকশিকাঁথা আর সিলেটের মনিপুরি শাড়ি। পাহাড়ের কোমর-তাঁতের কোনো বস্ত্র নেই। কোমর-তাঁতে কী বোনা হয়, তার বিবরণ আমাদের পিনন হাদি ও বেইন কোমর-তাঁত লেখায় আছে।
বেশির ভাগ আবেদন সরকারি দপ্তরের। নিবন্ধনবহির “আবেদনকারী” কলাম গুনলে 64টির 30টি জেলা প্রশাসক বা জেলা প্রশাসনের, 3টি উপজেলা প্রশাসনের, 10টি বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আর 3টি বিসিকের। উৎপাদক বা ব্যবসায়ীদের সংগঠন অথবা ব্যক্তির নামে আবেদন মাত্র 5টি। পাহাড়ের চার আবেদনও জেলা প্রশাসকের নামে।
| আবেদনকারীর ধরন | নিবন্ধিত পণ্য | উদাহরণ (তালিকার বানান) |
|---|---|---|
| জেলা প্রশাসক / জেলা প্রশাসন | 30 | টাঙ্গাইল শাড়ি, জামালপুরের নকশিকাঁথা, সুন্দরবনের মধু |
| বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড | 10 | ঢাকাই মসলিন, সিলেটের মনিপুরি শাড়ি, কালিগঞ্জের তোয়ালে |
| অন্যান্য সরকারি অধিদপ্তর ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান | 12 | বাংলাদেশ ইলিশ (মৎস্য অধিদপ্তর), ফরিদপুরের পাট (পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট) |
| উপজেলা প্রশাসন / উপজেলা নির্বাহী অফিসার | 3 | মুক্তাগাছার মণ্ডা, যশোরের খেজুরের গুড় |
| বিসিক | 3 | জামদানি শাড়ী, রংপুরের শতরঞ্জি, বাংলাদেশের শীতল পাটি |
| উৎপাদক/ব্যবসায়ী সংগঠন বা ব্যক্তি | 5 | বগুড়ার দই (রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি), নওগাঁর নাক ফজলী আম (চাষী সমবায় সমিতি) |
| সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন যৌথভাবে | 1 | রাজশাহী-চাপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম |
উৎস: ডিপিডিটি, নিবন্ধিত জিআই পণ্যের তালিকা, হালনাগাদ 16 জুন 2026। শ্রেণিবিভাগ তালিকার “আবেদনকারী” কলাম ধরে করা। মৌলভীবাজারের আগর ও আগর আতরের আবেদনকারী একটি উৎপাদক-রপ্তানিকারক সমিতি, রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা আমের আবেদনকারী একজন ব্যক্তি, “হাড়িভাঙ্গা আম কৃষক স্কুল”-এর নামে।
এই ছক থেকে একটি কথা স্পষ্ট হয়। আইনে উৎপাদকদের সমিতি নিজেও আবেদন করতে পারে, কিন্তু বাস্তবে প্রায় সব জিআই এসেছে জেলা প্রশাসন বা কোনো সরকারি সংস্থার উদ্যোগে। কাজেই কোনো জেলার পণ্য তালিকায় উঠবে কি না, তা অনেকটা নির্ভর করেছে সেই জেলার প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা আবেদন করেছে কি না তার ওপর।
পিনন হাদি জিআই পণ্য হয়নি, কারণ কেউ আবেদন করেনি। ডিপিডিটির নিবন্ধিত তালিকায় পিনন বা হাদি নেই, প্রক্রিয়াধীন আবেদনের তালিকাতেও (হালনাগাদ 4 নভেম্বর 2025) নেই। অথচ শিল্প মন্ত্রণালয় 6 মে 2024 হাইকোর্টে যে প্রতিবেদন দাখিল করে, তার সম্ভাব্য জিআই পণ্যের তালিকায় পিনন ও হাদি দুটিই আছে।
দৈনিক ইত্তেফাক সেদিন তালিকাটি পুরো ছেপেছিল। সেখানে খাগড়াছড়ির নামের পরে আছে “পিনন (মহিলাদের পরিধেয় বস্ত্র)” আর “হাদি (পিননের সাথে পরিধেয় ওড়না জাতীয় বস্ত্র)”। বান্দরবানের নামের পরে আবার আছে “পিনন”। রাঙামাটির নামের পরে আছে “চাকমাদের তাঁতবস্ত্র”। অর্থাৎ সরকারের নিজের তালিকা পাহাড়ের বস্ত্রকে সম্ভাব্য জিআই হিসেবে চিহ্নিত করেছে, কিন্তু সেই চিহ্ন থেকে কোনো আবেদন তৈরি হয়নি।
কেন আবেদন হয়নি, সে প্রশ্নের উত্তর কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি। খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটের প্রথম পাতা আর “জেলার ঐতিহ্য” পাতায় জিআইয়ের কোনো উল্লেখ নেই। ডিপিডিটির প্রক্রিয়াধীন তালিকায় এই দুই জেলার নামে কোনো আবেদনই নেই, কোনো পণ্যের জন্যই না। তাই “আবেদন বাতিল হয়েছে” বা “আবেদন আটকে আছে” বলা যায় না; নথি বলছে, আবেদনই জমা পড়েনি।
পিনন-হাদির বাজার, দাম আর তাঁতির আয়ের হিসাব আমাদের পিনন হাদির দাম ও তাঁতির আয় লেখায় আছে। পিননের নকশা কীভাবে আলামে লেখা থাকে, তা চাকমা আলাম নকশা লেখায়। জিআই আবেদনের সময় এই ধরনের বিবরণই “পণ্যের অনন্য বৈশিষ্ট্য” আর “উৎপাদন পদ্ধতি” অংশে লাগে, যা নিচে বিধিমালার অংশে আছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য 151 পণ্যের তালিকায় তিন পার্বত্য জেলার নামের পরে মোট 15টি নাম আছে: খাগড়াছড়ির 6টি, রাঙামাটির 6টি, বান্দরবানের 3টি। এর মধ্যে বস্ত্র 4টি, পিঠা 3টি, বাকিগুলো ফসল ও ফল। বান্দরবান জেলা প্রশাসন যে চারটি পণ্যের আবেদন করেছে, তার কেবল একটির (বিন্নি) সঙ্গে এই তালিকার মিল আছে।
| জেলা (তালিকায় যেভাবে) | সম্ভাব্য জিআই পণ্য (ইত্তেফাকে ছাপা বানান) | ডিপিডিটিতে আবেদন আছে? |
|---|---|---|
| খাগড়াছড়ি | হলুদ; পিনন (মহিলাদের পরিধেয় বস্ত্র); হাদি (পিননের সাথে পরিধেয় ওড়না জাতীয় বস্ত্র); বাঁশকুড়ল মার্মা পিঠা; বিনি পিঠা; সান্যা পিঠা | একটিরও নেই |
| রাঙ্গামাটি | চাকমাদের তাঁতবস্ত্র; জলডুবির আনারস; সাজেকের কমলা; হলুদ; আদা; মরিচ | একটিরও নেই |
| বান্দরবান | আদা; জুমের বিন্নিধান; পিনন | “কালো বিন্নি চাল” নামে একটি (জি আই 81) |
উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক, “সম্ভাব্য ১৫১ জিআই পণ্যের তালিকা প্রস্তুত”, 6 মে 2024; ডিপিডিটির নিবন্ধিত (16 জুন 2026) ও প্রক্রিয়াধীন (4 নভেম্বর 2025) তালিকা। ইত্তেফাক তালিকাটি একটানা কমা দিয়ে ছেপেছে; এখানে জেলার নামের পর থেকে পরের জেলার নামের আগ পর্যন্ত পণ্যগুলো সেই জেলার ঘরে রাখা হয়েছে। “সাজেকের কমলা”-র পরের হলুদ, আদা, মরিচ রাঙামাটির না কেবল সাজেকের, ছাপা তালিকা থেকে বোঝা যায় না।
উল্টো দিকটাও লক্ষ করার মতো। বান্দরবানের চার আবেদনের তিনটি, “থামি”, “মুরুংবাঁশি” আর “বম কাঁথা”, সম্ভাব্য তালিকায় বান্দরবানের নামে নেই। আবার সম্ভাব্য তালিকায় বান্দরবানের “আদা” আর “পিনন” থাকলেও সেগুলোর আবেদন হয়নি। অর্থাৎ মন্ত্রণালয়ের তালিকা আর জেলা প্রশাসনের আবেদন দুটি আলাদা পথে চলেছে।
মারমা পিঠা নিয়ে আমাদের লেখা মারমা খাবার ও রান্না-য় সাংগ্রাইয়ের পিঠার কথা আছে। সম্ভাব্য তালিকার “বাঁশকুড়ল মার্মা পিঠা”, “বিনি পিঠা” আর “সান্যা পিঠা” ঠিক কোন পিঠা, তালিকায় কোনো বিবরণ দেওয়া হয়নি।
এই তালিকা নিয়ে সংখ্যার একটি গরমিলও আছে, পরের অংশে বিস্তারিত। ইত্তেফাক 6 মে 2024-এর প্রতিবেদনে সম্ভাব্য পণ্য 151টি, দ্য ডেইলি স্টার 8 জুলাই 2024-এর প্রতিবেদনে 494টি, আর একই দিনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে ডিপিডিটির মহাপরিচালকের উদ্ধৃতিতে 496টি। 494 বা 496 পণ্যের পুরো তালিকা কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি, তাই সেখানে পাহাড়ের কোন কোন পণ্য আছে, জানা যায়নি।
চারটিই “প্রক্রিয়াধীন”। ডিপিডিটির তালিকায় আবেদনগুলো হলো থামি (জি আই 77) ও মুরুংবাঁশি (জি আই 78), আবেদন 17 এপ্রিল 2024; কালো বিন্নি চাল (জি আই 81) ও বম কাঁথা (জি আই 82), আবেদন 9 মে 2024। আবেদনকারী জেলা প্রশাসক, বান্দরবান পার্বত্য জেলা। কোনোটির জিআই জার্নাল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
জিআই জার্নাল পাতাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে 23 আগস্ট 2026। সেখানে জার্নাল নং 68 পর্যন্ত আছে, শেষটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোপালভোগ আমের। বান্দরবানের কোনো পণ্যের জার্নাল তালিকায় নেই। আইনের ধারা 12 অনুযায়ী আবেদন পরীক্ষার পর রেজিস্ট্রার সন্তুষ্ট হলে তবেই বিজ্ঞপ্তি বা জার্নাল প্রকাশিত হয়। জার্নাল না হওয়া মানে আবেদনটি এখনো সেই ধাপ পার হয়নি।
প্রক্রিয়াধীন তালিকা নিয়ে একটি সতর্কতা আমাদের আগের লেখাতেও আছে: পাতাটি শেষ হালনাগাদ হয়েছে 4 নভেম্বর 2025, আর তার দুটি পণ্য (লতিরাজ কচু, হাজারী গুড়) এর মধ্যে নিবন্ধিত হয়ে গেলেও পাতায় রয়ে গেছে। তাই চার আবেদনের অবস্থা গত এক বছরে বদলেছে কি না, এই পাতা দেখে নিশ্চিত বলা যায় না। তবে নিবন্ধিত তালিকা (16 জুন 2026) আর জার্নাল তালিকা (23 আগস্ট 2026), দুটিতেই চারটির কোনোটি নেই।
“মুরুংবাঁশি” বলতে কোন বাঁশি বোঝানো হয়েছে, তালিকায় বর্ণনা নেই। বান্দরবানের ম্রো সমাজের প্লুং কীভাবে বানানো হয় আর এর প্রকারভেদ কী, তা আমাদের প্লুং বাঁশি লেখায় আছে। ইউনেসকোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি যুব-গবেষণার সারাংশে বলা হয়েছে, প্লুং তৈরির প্রাকৃতিক উপকরণ, যেমন বাঁশ, লাউ, সাংকু কাঠ আর প্রাকৃতিক আঠা, দ্রুত কমে যাচ্ছে। জিআই আবেদনে যে “উৎপাদন পদ্ধতি” আর “উপাদান” লিখতে হয়, সেখানে এই উপকরণের প্রশ্নও আসবে।
মিশ্র ফল। মার্চ থেকে মে 2024-এর মধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলোর (জি আই 71 থেকে 87) মধ্যে সাতটি নিবন্ধিত হয়েছে, বান্দরবানের চারটিসহ নয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন তালিকায়। বান্দরবানের পরে, 21-23 মে 2024-এ জমা পড়া তিনটি আবেদন নিবন্ধিত হয়ে গেছে। আবার পিরোজপুরের মাল্টা বা বরগুনার সোনামুগ ডালের মতো সমতলের আবেদনও পাহাড়েরগুলোর মতোই আটকে আছে।
| আবেদন নং | পণ্য | আবেদনের তারিখ | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| 71 | গাজীপুরের কাঁঠাল | 20.03.2024 | নিবন্ধিত (রেজি. 46) |
| 72 | মেহেরপুরের সাবিত্রী মিষ্টি | 28.03.2024 | নিবন্ধিত (রেজি. 61) |
| 73 | পিরোজপুরের মাল্টা | 28.03.2024 | প্রক্রিয়াধীন |
| 74 | টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের জামুর্কির সন্দেশ | 01.04.2024 | নিবন্ধিত (রেজি. 54) |
| 75 | ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী মিষ্টি | 08.04.2024 | নিবন্ধিত (রেজি. 41) |
| 76 | সোনামুগ ডাল (বরগুনা) | 08.04.2024 | প্রক্রিয়াধীন |
| 77 | থামি (বান্দরবান) | 17.04.2024 | প্রক্রিয়াধীন |
| 78 | মুরুংবাঁশি (বান্দরবান) | 17.04.2024 | প্রক্রিয়াধীন |
| 80 | গফরগাও এর লাফা বেগুন | 24.04.2024 | প্রক্রিয়াধীন |
| 81 | কালো বিন্নি চাল (বান্দরবান) | 09.05.2024 | প্রক্রিয়াধীন |
| 82 | বম কাঁথা (বান্দরবান) | 09.05.2024 | প্রক্রিয়াধীন |
| 83 | গোলপাতার গাছের গুড় (পটুয়াখালী) | 19.05.2024 | প্রক্রিয়াধীন |
| 84 | সোনামুগ ডাল (পটুয়াখালী) | 19.05.2024 | প্রক্রিয়াধীন |
| 85 | কিশোরগঞ্জের রাতা বোরো ধান | 21.05.2024 | নিবন্ধিত (রেজি. 47) |
| 86 | অষ্টগ্রামের পনির | 21.05.2024 | নিবন্ধিত (রেজি. 48) |
| 87 | কুমারখালীর বেডশিট | 23.05.2024 | নিবন্ধিত (রেজি. 50) |
উৎস: ডিপিডিটির নিবন্ধিত তালিকা (16 জুন 2026) ও প্রক্রিয়াধীন তালিকা (4 নভেম্বর 2025)। জি আই 79 নম্বরটি দুই তালিকার কোনোটিতেই নেই। হলুদ রঙের সারি বান্দরবানের আবেদন।
পরে জমা পড়া আবেদনও এগিয়ে গেছে। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের মাটির টালির আবেদন (জি আই 91, প্রক্রিয়াধীন তালিকায় নাম “বাংলাদেশের মাটির টালি”) জমা পড়ে 16 জুলাই 2024-এ, রাজবাড়ীর ক্ষীর চমচমের (জি আই 104) 9 অক্টোবর 2025-এ, গোপালভোগ আমের (জি আই 103) 7 অক্টোবর 2025-এ। তিনটিরই জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে: “সাতক্ষীরার মাটির টালি” নং 67, রাজবাড়ীর ক্ষীর চমচম নং 66, গোপালভোগ আম নং 68। অর্থাৎ বান্দরবানের আবেদনের দেড় বছর পরের আবেদনও জার্নাল পর্যন্ত পৌঁছেছে। কেন এমন হলো, ডিপিডিটি কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি।
বান্দরবানের আবেদনগুলো জমা পড়েছিল জিআই নিয়ে দেশজুড়ে তাড়াহুড়ার সময়। ভারত টাঙ্গাইল শাড়িকে নিজেদের জিআই হিসেবে নিবন্ধন করার পর 19 ফেব্রুয়ারি 2024 হাইকোর্ট দেশের সব জিআই পণ্যের তালিকা করতে নির্দেশ দেয়। এরপর মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য পণ্যের তালিকা দাখিল করে, আর প্রতি জেলায় অন্তত একটি পণ্যের জিআই নিবন্ধনের নির্দেশনার কথাও জানানো হয়।
| তারিখ | কী ঘটেছে | উৎস |
|---|---|---|
| 4 জানুয়ারি 2024 | ভারতে টাঙ্গাইল শাড়ি জিআই হিসেবে নিবন্ধিত হয় | দ্য ডেইলি স্টার, 8 জুলাই 2024 |
| 6 ফেব্রুয়ারি 2024 | টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই আবেদন করে | ডিপিডিটি নিবন্ধনবহি; দ্য ডেইলি স্টার |
| 19 ফেব্রুয়ারি 2024 | জনস্বার্থে করা রিটে হাইকোর্ট দেশের সব জিআই পণ্যের তালিকা করতে নির্দেশ দেয় | বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর; ইত্তেফাক |
| মার্চ 2024 | জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা বলা হয়, ডিপিডিটির মহাপরিচালকের ভাষ্যে | দ্য ডেইলি স্টার |
| 17 এপ্রিল ও 9 মে 2024 | বান্দরবানের জেলা প্রশাসক চার পণ্যের আবেদন করেন | ডিপিডিটি প্রক্রিয়াধীন তালিকা |
| 6 মে 2024 | শিল্প মন্ত্রণালয় হাইকোর্টে প্রতিবেদন দেয়: নিবন্ধিত 32টি, সম্ভাব্য 151টি পণ্য | ইত্তেফাক |
| জুনের প্রথম সপ্তাহ, 2024 | ডিপিডিটি সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে জিআই আবেদনের জন্য চিঠি দেয়; চিঠিতে প্রতি জেলায় অন্তত একটি পণ্য নিবন্ধনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার উল্লেখ | দ্য ডেইলি স্টার |
| 8 জুলাই 2024 | মহাপরিচালক জানান, মোট আবেদন 87টি, এর 12টি আইনগতভাবে না হওয়ায় বাদ, 24টি পেন্ডিং | বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর |
| 22 জুন 2026 | সংসদে শিল্পমন্ত্রী: নিবন্ধিত জিআই পণ্য 64টি | The Business Standard |
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী 494 পণ্যের তালিকাটি করা হয়েছিল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ই-কমার্স ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (ইডিসি) সহায়তায়। প্রথম আলো জানুয়ারি 2024-এ লিখেছিল, ইডিসির সদস্যরা নিজেদের খরচে 17টি জেলা ঘুরে 30টি পণ্যের তথ্য সংগ্রহ করেছেন, আর সেই তথ্য জেলা প্রশাসনের হাত হয়ে ডিপিডিটিতে যায়। ওই প্রতিবেদনে কোন 17টি জেলা, তার নাম নেই; পার্বত্য কোনো জেলায় এমন কাজ হয়েছে কি না, জানা যায়নি।
সংখ্যা নিয়ে উৎসগুলো একমত নয়। দ্য ডেইলি স্টার (8 জুলাই 2024) লিখেছে 494টি পণ্যের তালিকা, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম একই দিনে মহাপরিচালকের উদ্ধৃতি দিয়েছে 496টি। এর দুই মাস আগে ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য তালিকা ছিল 151টির। তিনটি সম্ভবত আলাদা সময়ের আলাদা তালিকা, তবে কোনো উৎস তা স্পষ্ট করে বলেনি।
ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন, 2013 (2013 সনের 54 নং আইন, 10 নভেম্বর 2013) অনুযায়ী জিআই পণ্য সেই কৃষিজাত, প্রকৃতিজাত বা প্রস্তুত করা পণ্য, যার বিশেষ গুণ, সুনাম বা বৈশিষ্ট্য তার ভৌগোলিক উৎপত্তিস্থলের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে যুক্ত। সংজ্ঞার কেন্দ্রে “এলাকা”, কোনো জনগোষ্ঠী নয়।
ধারা 2(9)-এর ভাষা হুবহু: “‘ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য’ অর্থ ভৌগোলিক নির্দেশক সম্পন্ন এইরূপ কৃষিজাত বা প্রকৃতিজাত অথবা প্রস্ত্ততকৃত পণ্য, যাহার দ্বারা উক্ত পণ্য কোন বিশেষ দেশে বা ভূখন্ডে বা উক্ত দেশ বা ভূখন্ডের কোন বিশেষ অঞ্চল বা এলাকায় জাত বা প্রস্ত্ততকৃত বুঝায়, যেইক্ষেত্রে উক্ত পণ্যের বিশেষ গুণাগুণ, সুনাম বা অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ আবশ্যিকভাবে উহার ভৌগোলিক উৎপত্তিস্থলের উপর প্রযুক্ত”। প্রস্তুত করা পণ্যের বেলায় উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ বা প্রস্তুতের যেকোনো একটি কাজ ওই এলাকায় হলেই চলে।
ধারা 2(8)-এ “পণ্য” মানে কৃষিজাত বা প্রকৃতিজাত দ্রব্য, হস্তশিল্পজাত বা শিল্প কারখানাজাত দ্রব্য, আর খাদ্য সামগ্রী। অর্থাৎ পাহাড়ের বস্ত্র (হস্তশিল্প), বিন্নি চাল বা হলুদ (কৃষিজাত), পিঠা (খাদ্য), বাঁশি (হস্তশিল্প), সবই আইনের সংজ্ঞায় পড়তে পারে। কোন পণ্য সত্যিই পড়ে, তা ঠিক হয় আবেদনের প্রমাণ দেখে।
ধারা 8 বলে কোন পণ্য নিবন্ধিত হবে না: সংজ্ঞার সঙ্গে না মিললে; বিভ্রান্তি বা প্রতারণার আশঙ্কা থাকলে; প্রচলিত আইন, জনশৃঙ্খলা বা নৈতিকতার পরিপন্থী হলে; ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের আশঙ্কা থাকলে; আর নামটি “জেনেরিক”, অর্থাৎ পণ্যের সাধারণ নামে পরিণত হয়ে গেলে বা অপ্রচলিত হয়ে পড়লে। ধারা 2(4)-এ জেনেরিক নামের সংজ্ঞাও আছে: যে নাম একসময় জায়গার পরিচয় দিত, কিন্তু এখন ওই ধরনের পণ্যের সাধারণ নাম।
আইনের ধারা 3 বলছে, অন্য কোনো আইনে যা-ই থাকুক, এই আইনের বিধান প্রাধান্য পাবে। আর আইনের সব জায়গায় “রেজিস্ট্রার” শব্দের জায়গায় এখন “মহাপরিচালক”। বাংলাদেশ শিল্প-নকশা আইন, 2023-এর ধারা 37 এই বদল এনেছে, বাংলাদেশ আইনের সরকারি ওয়েবসাইটের পাদটীকায় তা লেখা আছে। এই লেখায় আইনের মূল পাঠ উদ্ধৃত করার সময় “রেজিস্ট্রার” শব্দটি রাখা হয়েছে।
উৎপাদকদের সমিতি বা সংগঠন, অথবা তাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে এমন সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ। একজন তাঁতি একা পণ্যের জিআই নিবন্ধনের আবেদন করতে পারেন না; তিনি পারেন নিবন্ধিত পণ্যের “অনুমোদিত ব্যবহারকারী” হওয়ার আবেদন। সমিতিটিকে প্রচলিত আইনে গঠিত বা নিবন্ধিত হতে হবে।
ধারা 9-এর পাঠ: “ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য উৎপাদনকারী ব্যক্তিবর্গের বা তাহাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী প্রচলিত আইনের অধীন গঠিত বা নিবন্ধিত কোন সমিতি, সংগঠন, সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফরম ও পদ্ধতিতে নির্ধারিত ফিস প্রদানপূর্বক রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত আবেদন করিতে পারিবে।”
“উৎপাদনকারী” কে, তা ধারা 2(3)-এ বলা আছে: যিনি বিক্রি বা বাণিজ্যের জন্য কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন, প্রকৃতিজাত পণ্য আহরণ করেন, হস্তশিল্প বা শিল্পপণ্য প্রস্তুত করেন, কিংবা এসবের কারবার করেন। পিনন-হাদির তাঁতি, বিন্নি চাষি, প্লুং নির্মাতা, সবাই এই সংজ্ঞায় পড়েন।
আবেদনের সঙ্গে আবেদনকারীকে একটি হলফনামা দিতে হয় যে সে কীভাবে আইনের অধীনে গঠিত, আর কীভাবে উৎপাদকদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে (বিধি 9(চ))। ডিপিডিটির আবেদন-প্রক্রিয়ার নথি বলছে, সমিতি বা উৎপাদক সংগঠনের পক্ষে স্বাক্ষর করবেন ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, আর সরকারি সংস্থার পক্ষে তার প্রধান নির্বাহী বা সচিব।
পাহাড়ে কারা আবেদনকারী হতে পারত, তার কোনো আলাদা তালিকা আইনে নেই। আইন কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ধরে বলেনি; শর্ত একটাই, আবেদনকারীকে উৎপাদকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বা সরকারি কর্তৃপক্ষ হতে হবে। নিবন্ধনবহির অভিজ্ঞতা বলছে, বাস্তবে আবেদন এসেছে মূলত জেলা প্রশাসন, তাঁত বোর্ড, বিসিক আর গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে।
নিবন্ধনের পর তাঁতি বা চাষির পথ ধারা 10: নিবন্ধিত পণ্যের উৎপাদক, আহরণকারী, প্রস্তুতকারী বা প্রক্রিয়াজাতকারী হিসেবে দাবি করে তিনি “অনুমোদিত ব্যবহারকারী” হওয়ার আবেদন করতে পারেন। এ ধাপের মেয়াদ ও নবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আমাদের মণিপুরী শাড়ির লেখায় আছে।
ডিপিডিটির নিবন্ধন চেকলিস্ট অনুযায়ী লাগে: জিআই ফরম-1 বা 2-এর তিন কপি, পণ্যের বর্ণনা ও স্পেসিফিকেশন, উৎপাদন পদ্ধতি, ব্যবহারকাল, উৎপাদকের তালিকা, উৎসের প্রমাণ হিসেবে ঐতিহাসিক দলিল, এলাকার তিন কপি প্রত্যায়িত মানচিত্র, পাঁচটি নমুনা, ছবি, 300 টাকার স্ট্যাম্পে হলফনামা, আর 15,000 টাকার ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার।
2015 সালের বিধিমালার বিধি 9 আবেদনের সঙ্গে যে তথ্য চায়, তার মূল অংশ এমন:
বিধি 6 আলাদা করে চায় পণ্যটি “কোন সময়কাল হইতে কাহার দ্বারা ব্যবহৃত হইতেছে” তার বিবরণ, আর বিক্রির পরিমাণ ও স্থানীয় এলাকার তথ্যসহ একটি হলফনামা। বিধি 7 অনুযায়ী আবেদনের সঙ্গে পণ্যের পাঁচটি নমুনা দিতে হয়। আবেদনে কোনো বৈশিষ্ট্যকে অনন্য বলে দাবি করা হলে তিন কপি সাদা-কালো আর পাঁচ কপি রঙিন ছবি লাগে।
প্রথম আলো জানুয়ারি 2024-এর প্রতিবেদনে লিখেছিল, জিআই পেতে পণ্যের “অন্তত ৫০ বছরের ঐতিহ্য থাকতে হয়”, আর প্রাচীন সাহিত্য, পুঁথি বা ছড়ায় উল্লেখ থাকলেও তা প্রমাণ হিসেবে তোলা হয়। আইনের ধারাগুলোতে আর বিধিমালার বিধি 6, 7 ও 9-এ বছরের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই; বিধি 6 কেবল ব্যবহারকালের বিবরণ চায়, আর চেকলিস্ট চায় “উৎসের প্রমাণ (ঐতিহাসিক দলিলাদি)”।
এখানেই পাহাড়ের পণ্যের জন্য একটি বাস্তব প্রশ্ন ওঠে, যদিও কোনো সরকারি নথি একে বাধা বলে উল্লেখ করেনি: পিনন, প্লুং বা জুমের বিন্নির ইতিহাসের লিখিত দলিল কোথায়? আমাদের আর্কাইভে পিনন-হাদি আর প্লুং নিয়ে যে লেখাগুলো আছে, সেগুলো দাঁড়িয়ে আছে নৃতাত্ত্বিক বই, গবেষণাপত্র আর সংবাদ প্রতিবেদনের ওপর। জিআই আবেদনে এ ধরনের উৎস গ্রহণযোগ্য হয় কি না, ডিপিডিটির কোনো প্রকাশিত নথিতে বলা নেই।
আবেদন জমা দিতে হয় ঢাকার মতিঝিলের শিল্প ভবনে ডিপিডিটির মহাপরিচালক বরাবর। আবেদন বাংলা বা ইংরেজিতে লেখা হতে হবে। ফি দিতে হয় এ-চালানের মাধ্যমে। এই তথ্যগুলো ডিপিডিটির “জি আই পণ্য আবেদন প্রক্রিয়া” নথির (হালনাগাদ 8 জুন 2026)।
আইন ও বিধিমালায় কয়েকটি ধাপের সময়সীমা আছে, কিন্তু রেজিস্ট্রার কত দিনের মধ্যে আবেদন পরীক্ষা শেষ করবেন বা জার্নাল ছাপবেন, তার কোনো সময়সীমা পাওয়া যায়নি। ত্রুটি সংশোধনে আবেদনকারী পান এক মাস, আপত্তির জবাবে দুই মাস, জার্নালের পর বিরোধিতার জন্য জনসাধারণ পান দুই মাস।
| ধাপ | কী হয় | সময়সীমা | আইন/বিধি |
|---|---|---|---|
| 1. প্রাপ্তি স্বীকার | আবেদনের নম্বর ও পণ্যের নামসহ প্রাপ্তি স্বীকার | উল্লেখ নেই | বিধি 14 |
| 2. প্রাথমিক পরীক্ষা | প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে কি না দেখা; ত্রুটি থাকলে সংশোধনের নির্দেশ | নির্দেশের 1 মাসের মধ্যে সংশোধন না হলে আবেদন পরিত্যক্ত | বিধি 15 |
| 3. রেজিস্ট্রারের আপত্তি | দলিল দেখে আপত্তি বা শর্তসাপেক্ষে মঞ্জুরের প্রস্তাব | জানানোর 2 মাসের মধ্যে জবাব বা শুনানির আবেদন না হলে পরিত্যক্ত | বিধি 16 |
| 4. পরামর্শক কমিটি | রেজিস্ট্রার চাইলে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নিয়ে কমিটি গঠন | কমিটি সর্বোচ্চ 3 মাসে সিদ্ধান্ত দেবে | বিধি 17 |
| 5. গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান | ভুলক্রমে গৃহীত হলে বা নিবন্ধন সমীচীন না হলে শুনানি দিয়ে প্রত্যাখ্যান | শর্ত পালনে 30 দিন | ধারা 11; বিধি 18 |
| 6. জার্নাল বা বিজ্ঞপ্তি | রেজিস্ট্রার সন্তুষ্ট হলে আবেদন বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ | উল্লেখ নেই | ধারা 12 |
| 7. বিরোধিতা | যে কেউ নোটিশ দিয়ে বিরোধিতা করতে পারেন | প্রকাশের 2 মাসের মধ্যে; আবেদনকারীর পাল্টা বিবৃতি 2 মাসে | ধারা 13, 14 |
| 8. নিবন্ধন ও সনদ | আপত্তি না থাকলে নিবন্ধন; কার্যকর আবেদনের তারিখ থেকে | উল্লেখ নেই | ধারা 15 |
| 9. আপিল | রেজিস্ট্রারের আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে সরকারের কাছে আপিল; সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত | আদেশ জানার 2 মাসের মধ্যে | ধারা 27 |
উৎস: ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন, 2013; ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) বিধিমালা, 2015 (বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, 3 আগস্ট 2015)।
এই ছক থেকে বোঝা যায়, আবেদনকারীর হাতে সময় কম, আর দপ্তরের হাতে সময়ের কোনো বাঁধন নেই। ত্রুটি সংশোধন বা আপত্তির জবাব নির্ধারিত সময়ে না দিলে আবেদন “পরিত্যক্ত” হয়ে যায়। বান্দরবানের কোনো আবেদন পরিত্যক্ত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য ডিপিডিটির পাতায় নেই; তালিকায় সেগুলো এখনো প্রক্রিয়াধীন।
বান্দরবানের চার আবেদন কেন জার্নাল পর্যন্ত পৌঁছায়নি, তার কারণ কোনো প্রকাশিত নথিতে নেই। ডিপিডিটি, বান্দরবান জেলা প্রশাসন বা কোনো সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে কিছু প্রকাশ করেনি। নথিতে আছে কেবল দেশজুড়ে আবেদন আটকে যাওয়ার সাধারণ কারণ: কাগজের ঘাটতি, আইনগত ত্রুটি, আর জেলা পর্যায়ে তথ্য জমা দিতে দেরি।
প্রকাশিত উৎসে যা পাওয়া যায়, তা নিচে আলাদা করে রাখা হলো। এগুলো দেশের সব আবেদন নিয়ে বলা কথা, পাহাড়ের আবেদন নিয়ে নয়।
এই সাধারণ কারণগুলোর কোনোটি বান্দরবানের আবেদনে প্রযোজ্য কি না, প্রকাশিত কোনো উৎসে বলা হয়নি। আর রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বেলায় প্রশ্নটা “আটকে আছে কেন” নয়, “আবেদন হয়নি কেন”। সেই প্রশ্নের উত্তরও কোনো সরকারি নথি বা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
একটি তুলনা অবশ্য নথি থেকেই করা যায়। নিবন্ধনবহিতে উৎপাদকদের নিজেদের সংগঠনের আবেদন মাত্র পাঁচটি, আর পাহাড়ের কোনো উৎপাদক সমিতি জিআই আবেদন করেছে, এমন কোনো নথি নেই। আইনে পথটি খোলা; ব্যবহার হয়নি।
জিআই নামের সঙ্গে একটি জায়গা যুক্ত থাকে, যেমন “টাঙ্গাইল শাড়ি” বা “জামালপুরের নকশিকাঁথা”। বান্দরবানের চার আবেদনের নামে কোনো জায়গার নাম নেই, কেবল “থামি”, “মুরুংবাঁশি”, “কালো বিন্নি চাল”, “বম কাঁথা”; উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে লেখা “বান্দরবান পার্বত্য জেলা”। নিবন্ধনের সময় নাম বদলাবে কি না, প্রকাশিত নথি থেকে বলা যায় না।
নিবন্ধিত তালিকায় জায়গার নামহীন পণ্যও আছে, যেমন “জামদানি শাড়ী”, “বাংলাদেশ ইলিশ”, “বাংলাদেশের শীতল পাটি”। তাই নামে জায়গা না থাকলেই আবেদন অচল, এমন নয়। কিন্তু আইনের ধারা 2(9) অনুযায়ী গুণ বা সুনাম একটি নির্দিষ্ট এলাকার সঙ্গে যুক্ত দেখাতে হয়, আর বিধি 9 অনুযায়ী সেই এলাকার মানচিত্র দিতে হয়।
এখানে পাহাড়ের বস্ত্রের একটি জটিলতা নথিতেই চোখে পড়ে। সম্ভাব্য তালিকায় “পিনন” আছে খাগড়াছড়ি আর বান্দরবান দুই জেলার নামে। “থামি” নামটি কোন জনগোষ্ঠীর পোশাক বোঝাচ্ছে, তালিকায় বলা নেই। আমাদের থামি আর আঙ্গি: মারমা নারীরা কোন তাঁতে কী বোনেন লেখায় আছে, বাজারে “থামি” নামটি কীভাবে অন্য জনগোষ্ঠীর তাঁতিদের বোনা কাপড়েও ব্যবহৃত হয়।
একই পণ্য একাধিক জেলায় উৎপাদিত হলে আইন কী বলে? ধারা 7 সমনামীয় জিআই নিবন্ধনের সুযোগ রেখেছে, আর একই শ্রেণির সমনামীয় পণ্যের প্রতিটি উৎপাদককে “ন্যায়সংগত মূল্যায়ন ও সুরক্ষা” দিতে বলেছে। ধারা 6(3) অনুযায়ী পণ্যের উৎপাদন এলাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে রেজিস্ট্রারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। একটি জেলার নামে নিবন্ধন হলে পাশের জেলার তাঁতিরা কী অবস্থায় থাকবেন, তা আবেদনের এলাকা কীভাবে আঁকা হয় তার ওপর নির্ভর করবে; বান্দরবানের আবেদনগুলোর মানচিত্র প্রকাশিত হয়নি।
নিবন্ধনের পর অনুমোদিত ব্যবহারকারী জিআই নাম ব্যবহারের অধিকার আর লঙ্ঘনের প্রতিকার পান (ধারা 18)। অনুমোদিত ব্যবহারকারী ছাড়া কেউ নামটি এমনভাবে ব্যবহার করলে, যাতে ভুল উৎপত্তির ধারণা হয়, তা লঙ্ঘন (ধারা 28)। 30 এপ্রিল 2026-এর গেজেটে বিধিমালায় একটি সরকারি “জিআই ট্যাগ” যুক্ত হয়েছে, যা নিবন্ধিত পণ্যের মোড়কে ব্যবহার করতে হবে।
ধারা 18(1)-এর দুটি অধিকার: “(ক) এই আইনে বর্ণিত পদ্ধতিতে ভৌগোলিক নির্দেশক লঙ্ঘনের জন্য প্রতিকার পাইবার অধিকার; এবং (খ) যে পণ্য সম্পর্কে ভৌগোলিক নির্দেশক নিবন্ধিত হইয়াছে, সেই পণ্য সম্পর্কে উক্ত ভৌগোলিক নির্দেশক ব্যবহার করিবার অধিকার।” ধারা 19 বলে, এই অধিকার বিক্রি, হস্তান্তর, লাইসেন্স বা বন্ধক দেওয়া যায় না; তবে অনুমোদিত ব্যবহারকারীর মৃত্যু হলে অধিকার তাঁর বৈধ উত্তরাধিকারীর ওপর বর্তায়।
ধারা 28 লঙ্ঘনের চারটি রূপ বলেছে। সংক্ষেপে: পণ্যের নামে বা উপস্থাপনে জিআই এমনভাবে ব্যবহার, যাতে মনে হয় পণ্যটি প্রকৃত উৎপত্তিস্থল থেকে ভিন্ন এলাকার; অন্যায় প্রতিযোগিতা সৃষ্টি বা নিবন্ধিত জিআই হিসেবে চালিয়ে দেওয়া (passing off); আক্ষরিকভাবে সঠিক কিন্তু বিভ্রান্তিকর নির্দেশক ব্যবহার; আর উৎপত্তি অন্য জায়গায় হওয়া সত্ত্বেও জিআই ব্যবহার। পিনন-নকশার কারখানায় বোনা কাপড়ের মতো প্রশ্নগুলো এই ধারার আওতায় আসত কেবল পিনন নিবন্ধিত হলে। নিবন্ধনের আগে সুরক্ষা আছে কেবল ধারা 6(1)-এর সীমিত অর্থে, যা আমাদের মণিপুরী শাড়ির লেখায় ব্যাখ্যা করা আছে।
2026 সালের সংশোধনী (এস.আর.ও. নং 86-আইন/2026, তারিখ 28 এপ্রিল 2026, গেজেট 30 এপ্রিল 2026) বিধিমালায় নতুন বিধি 28ক, 28খ ও 28গ যোগ করেছে। এর মূল কথা:
অর্থাৎ নিবন্ধিত 64টি পণ্যের উৎপাদকেরা এখন একটি সরকারি চিহ্ন পাচ্ছেন। পাহাড়ের কোনো পণ্য নিবন্ধিত না হওয়ায় এই চিহ্ন পাহাড়ের কোনো পণ্যের মোড়কে আইনত বসতে পারে না। জিআই সনদ তাঁতির হাতে সরাসরি কী আনে আর কী আনে না, তার আলোচনা আমাদের মণিপুরী শাড়ির লেখার “জিআই সনদ তাঁতিকে কী দেয়” অংশে আছে।
পেয়েছে। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার ভারতীয় জিআই তালিকা অনুযায়ী মিজোরামের পাঁচটি হস্তশিল্প 2019–20 সালে নিবন্ধিত, আর ত্রিপুরার “Tripura Risa Textile” ও “Tripura Pachra-Rignai” 2023–24 সালে। একই তালিকায় 2026 পর্যন্ত ভারতে নিবন্ধিত জিআই মোট 822টি।
| রাজ্য | জিআই (তালিকার নাম) | ধরন | বছর |
|---|---|---|---|
| মিজোরাম | Pawndum; Ngotekherh; Hmaram; Tawlhlohpuan; Mizo Puanchei | হস্তশিল্প | 2019–20 |
| ত্রিপুরা | Tripura Risa Textile | হস্তশিল্প | 2023–24 |
| ত্রিপুরা | Tripura Pachra-Rignai | হস্তশিল্প | 2023–24 |
উৎস: “Geographical indications in India”, ইংরেজি উইকিপিডিয়া (তালিকাটি ভারতের পেটেন্ট অফিসের নথি উদ্ধৃত করে)। এই অংশের সব তথ্য ভারতের, বাংলাদেশের নয়।
ত্রিপুরার রিসা ও রিগনাইয়ের জিআই কবে, কাদের হাতে এসেছে, তার বিবরণ আমাদের রিনাই, রিসা ও কুবাই লেখায় আছে। মিজোরামের পাঁচটি নাম কোন পণ্যের, আর সেগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো জনগোষ্ঠীর বস্ত্রের সম্পর্ক আছে কি না, এই তালিকা থেকে বলা যায় না; সে দাবি করতে আলাদা উৎস লাগবে।
এই তুলনার জায়গা একটাই: প্রতিবেশী দেশে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব পোশাক, যেমন ত্রিপুরার রিসা, জিআই তালিকায় উঠেছে। বাংলাদেশে হয়নি, কারণ এখনো আবেদনই হয়নি, কিংবা যে কয়টি হয়েছে, সেগুলো জার্নাল পর্যন্ত পৌঁছায়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের সংস্কৃতি, ইতিহাস আর অধিকার নিয়ে আমাদের সব লেখা একসঙ্গে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।
না। ডিপিডিটির নিবন্ধিত তালিকায় (16 জুন 2026) পিনন বা হাদি নেই, প্রক্রিয়াধীন আবেদনের তালিকাতেও (4 নভেম্বর 2025) নেই। তবে শিল্প মন্ত্রণালয় 6 মে 2024 হাইকোর্টে যে সম্ভাব্য জিআই পণ্যের তালিকা দেয়, তাতে খাগড়াছড়ির নামে “পিনন” ও “হাদি” এবং বান্দরবানের নামে “পিনন” আছে। কোনোটির জন্য আবেদন জমা পড়েনি।
না। নিবন্ধিত 64টি জিআই পণ্যের কোনোটি রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি বা বান্দরবানের নয়। শিল্পমন্ত্রী 22 জুন 2026 সংসদে যে 64টি পণ্যের নাম বলেছেন, তাতেও পার্বত্য জেলার কোনো পণ্য নেই। পাহাড় থেকে আবেদন আছে চারটি, সবই বান্দরবানের জেলা প্রশাসকের, এখনো প্রক্রিয়াধীন।
চারটি: থামি (জি আই 77) ও মুরুংবাঁশি (জি আই 78), আবেদন 17 এপ্রিল 2024; কালো বিন্নি চাল (জি আই 81) ও বম কাঁথা (জি আই 82), আবেদন 9 মে 2024। আবেদনকারী জেলা প্রশাসক, বান্দরবান পার্বত্য জেলা। 23 আগস্ট 2026 পর্যন্ত কোনোটির জিআই জার্নাল প্রকাশিত হয়নি।
ডিপিডিটির প্রক্রিয়াধীন আবেদনের তালিকায় (4 নভেম্বর 2025) এই দুই জেলার নামে কোনো আবেদন নেই, নিবন্ধিত তালিকাতেও নেই। অথচ মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য তালিকায় খাগড়াছড়ির 6টি (হলুদ, পিনন, হাদি, তিনটি পিঠা) আর রাঙামাটির 6টি (চাকমাদের তাঁতবস্ত্র, জলডুবির আনারস, সাজেকের কমলা, হলুদ, আদা, মরিচ) নাম আছে।
আইনের ধারা 9 অনুযায়ী উৎপাদকদের সমিতি বা সংগঠন, অথবা তাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ, যা প্রচলিত আইনে গঠিত বা নিবন্ধিত। একজন তাঁতি বা চাষি একা পণ্যের নিবন্ধন চাইতে পারেন না; নিবন্ধনের পর ধারা 10 অনুযায়ী তিনি “অনুমোদিত ব্যবহারকারী” হওয়ার আবেদন করতে পারেন।
ডিপিডিটির চেকলিস্ট অনুযায়ী মহাপরিচালক বরাবর 15,000 টাকার ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার লাগে। সঙ্গে জিআই ফরমের তিন কপি, পণ্যের বর্ণনা ও স্পেসিফিকেশন, উৎপাদন পদ্ধতি, উৎপাদকের তালিকা, ঐতিহাসিক দলিল, তিন কপি প্রত্যায়িত মানচিত্র, পাঁচটি নমুনা, তিন কপি সাদা-কালো ও পাঁচ কপি রঙিন ছবি, আর 300 টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হলফনামা।
প্রথম আলো (জানুয়ারি 2024) লিখেছে, জিআই পেতে অন্তত 50 বছরের ঐতিহ্য থাকতে হয়। কিন্তু 2013 সালের আইনের ধারাগুলোতে এবং 2015 সালের বিধিমালার বিধি 6, 7 ও 9-এ এমন কোনো সংখ্যা নেই। বিধি 6 চায় পণ্যটি কোন সময় থেকে কারা ব্যবহার করছেন তার বিবরণ, আর চেকলিস্ট চায় উৎসের প্রমাণ হিসেবে ঐতিহাসিক দলিল।
আইন বা বিধিমালায় দপ্তরের জন্য কোনো সময়সীমা পাওয়া যায়নি। সময়সীমা আছে আবেদনকারী ও জনসাধারণের জন্য: ত্রুটি সংশোধনে 1 মাস (বিধি 15), রেজিস্ট্রারের আপত্তির জবাবে 2 মাস (বিধি 16), জার্নাল প্রকাশের পর বিরোধিতায় 2 মাস (ধারা 13)। লতিরাজ কচুর আবেদন 2017-এ, নিবন্ধন হয়েছে 2026-এ।
তিনটি সংখ্যাই প্রকাশিত। ইত্তেফাক (6 মে 2024) লিখেছে, শিল্প মন্ত্রণালয় হাইকোর্টে 151টি সম্ভাব্য পণ্যের তালিকা দিয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার (8 জুলাই 2024) লিখেছে 494টি, একই দিনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে ডিপিডিটির মহাপরিচালকের উদ্ধৃতিতে 496টি। কেবল 151 পণ্যের তালিকাটি পুরো প্রকাশিত হয়েছে।
30 এপ্রিল 2026-এর গেজেটে প্রকাশিত বিধিমালা সংশোধনী (এস.আর.ও. নং 86-আইন/2026) একটি সরকারি জিআই ট্যাগ চালু করেছে। ট্যাগে সবুজ “G”, লাল খাড়া অংশের “i”, তার সবুজ ফোঁটায় সাদা রঙে বাংলাদেশের মানচিত্র, আর ট্যাগলাইন “UNIQUE TREASURE OF BANGLADESH”। নিবন্ধিত পণ্যের লেবেল ও মোড়কে এটি হুবহু ব্যবহার করতে হবে; স্বত্ব ডিপিডিটির।
কোনো প্রকাশিত নথিতে কারণ লেখা নেই। দেশজুড়ে আবেদন আটকে যাওয়ার যে কারণগুলো প্রকাশিত, যেমন কাগজের ঘাটতি বা আইনগত ত্রুটি (জুলাই 2024 পর্যন্ত 87টির 12টি বাদ), সেগুলো বান্দরবানের আবেদনে প্রযোজ্য কি না, বলা হয়নি। বান্দরবানের পরে জমা পড়া কয়েকটি আবেদন, যেমন অষ্টগ্রামের পনির ও কুমারখালীর বেডশিট, এর মধ্যে নিবন্ধিত হয়েছে।
হ্যাঁ। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার ভারতীয় জিআই তালিকা অনুযায়ী মিজোরামের পাঁচটি হস্তশিল্প (Pawndum, Ngotekherh, Hmaram, Tawlhlohpuan, Mizo Puanchei) 2019–20 সালে আর ত্রিপুরার “Tripura Risa Textile” ও “Tripura Pachra-Rignai” 2023–24 সালে নিবন্ধিত। এগুলো ভারতের জিআই; বাংলাদেশে এর কোনো আইনি প্রভাব নেই।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 2 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:আইন, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।