Last updated Nov 3rd, 2026
0

1936 সালের 25 ফেব্রুয়ারি লন্ডনের হাউস অব লর্ডসে ভারত-সচিব মার্কুইস অব জেটল্যান্ড একটি খসড়া আদেশ অনুমোদনের প্রস্তাব তোলেন। আদেশটি ঠিক করবে ব্রিটিশ ভারতের কোন কোন এলাকা “excluded area” বা বহির্ভূত এলাকা হবে। বক্তৃতায় তিনি বাংলার একটি মাত্র এলাকার নাম আলাদা করে বলেন: “the Chittagong hill tract”। পার্বত্য চট্টগ্রাম এক্সক্লুডেড এরিয়া হয় ভারত শাসন আইন, 1935-এর 91 ধারার অধীনে জারি করা 1936 সালের আদেশে; পাকিস্তানের 1956 সালের সংবিধানে মর্যাদাটি বহাল থাকে, 1962 সালের সংবিধানে নাম হয় “Tribal Area”, আর 10 জানুয়ারি 1964 সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অঞ্চলটিকে সেই তালিকা থেকে বাদ দেয়। 1972 সালের বাংলাদেশ সংবিধানে এই মর্যাদা ফেরেনি।
এই লেখা প্রতিটি ধাপের মূল দলিল ধরে এগোয়: 1874 সালের Scheduled Districts Act-এর তফসিল, 1919 সালের বিলের “backward tract” দফা, 1935 সালের আইনের 91 ও 92 ধারা, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিতর্কের রেকর্ড, পাকিস্তান আমলের দুটি রেগুলেশনের প্রস্তাবনা, 1964 সালে জার্মানির ম্যাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউটের পত্রিকায় ছাপা সংশোধনীর বিবরণ, আর বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ। ভূমি-আইনের বিস্তারিত আমাদের আগের লেখাগুলোতে আছে; এখানে সেগুলোর লিংক দেওয়া হয়েছে, পুনরাবৃত্তি করা হয়নি। কোন তারিখে উৎসগুলো একমত নয়, তা আলাদা ছকে আছে।
সূচিপত্র
1874 থেকে 1964 পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম পাঁচটি আলাদা আইনি পরিচয়ে চিহ্নিত হয়েছে: Scheduled District, Backward Tract, Excluded Area, পাকিস্তানের Excluded Area এবং Tribal Area। প্রতিটি নাম এসেছে আলাদা দলিল থেকে, আর প্রতিটির মূল কথা একই: সাধারণ আইন এই অঞ্চলে আপনা-আপনি চলবে না, সরকারের নির্বাহী প্রধানের আলাদা নির্দেশ লাগবে।
2024 সালের 10 ডিসেম্বর সংবিধান সংস্কার কমিশনে দেওয়া স্মারকলিপিতে ইউপিডিএফ ঠিক এই চারটি নামই তুলেছিল: “শিডিউলড ডিস্ট্রিক্ট, ব্যাকওয়ার্ড ট্র্যাক্ট, এক্সক্লুডেড এরিয়া ও ট্রাইবাল এরিয়া” (প্রথম আলো, 10 ডিসেম্বর 2024)। নিচের ছকে প্রতিটি নামের পেছনের দলিল, ধারা আর সেই দলিল কী বলত, তা পাশাপাশি রাখা হলো।
| নাম | দলিল ও ধারা | সাল | দলিলটি কী বলত |
|---|---|---|---|
| Scheduled District | Scheduled Districts Act (Act XIV of 1874), প্রথম তফসিল, তৃতীয় অংশ (বাংলা), ক্রমিক II: “The Hill Tracts of Chittagong” | 1874 | কোন আইন চলবে তা স্থানীয় সরকার গভর্নর-জেনারেলের পূর্বানুমতিতে প্রজ্ঞাপন দিয়ে ঘোষণা করবে (ধারা 3, 5) |
| Backward Tract | Government of India Bill 1919, দফা 15(2) | 1919 (ঘোষণার সাল উৎসভেদে আলাদা) | গভর্নর-জেনারেল-ইন-কাউন্সিল যেকোনো এলাকাকে “backward tract” ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বা প্রাদেশিক আইনের প্রয়োগ বন্ধ বা সংশোধিত করতে পারবেন |
| Excluded Area (সম্পূর্ণ বহির্ভূত) | Government of India Act 1935, ধারা 91 ও 92; Government of India (Excluded and Partially Excluded Areas) Order, 1936 | 1935–1936 | কেন্দ্রীয় বা প্রাদেশিক আইনসভার কোনো আইন গভর্নরের প্রকাশ্য প্রজ্ঞাপন ছাড়া প্রযোজ্য নয়; গভর্নর নিজের বিবেচনায় শাসন করবেন |
| Excluded Area (পাকিস্তান) | Constitution of the Islamic Republic of Pakistan 1956, অনুচ্ছেদ 103(3) | 1956–1958 | প্রাদেশিক গভর্নর “the excluded area in this province”-এর জন্য রেগুলেশন করতে পারবেন |
| Tribal Area | Constitution of the Republic of Pakistan 1962, অনুচ্ছেদ 223 | 1962–1964 | গভর্নর প্রেসিডেন্টের অনুমোদন নিয়ে ট্রাইবাল এরিয়ার জন্য রেগুলেশন করতে পারবেন (অনুচ্ছেদ 223(2)) |
| (কোনো বিশেষ নাম নেই) | Constitution (First Amendment) Act 1963, Act I of 1964, দফা 12 | 10 জানুয়ারি 1964 | চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চল ট্রাইবাল এরিয়ার তালিকা থেকে বাদ |
উৎস: প্রতিটি সারির দলিল নিচের অংশগুলোতে উদ্ধৃতিসহ আলাদা করে দেওয়া হয়েছে; শেষ সারির দফা-নম্বর Dieter Conrad, Zeitschrift für ausländisches öffentliches Recht und Völkerrecht, খণ্ড 24 (1964), পৃ. 744, পাদটীকা 79।
ছকের দ্বিতীয় কলামটি বোঝার চাবি। এই নামগুলো কোনো একটি আইনের অংশ নয়। প্রতিটি এসেছে পুরো রাষ্ট্রের সংবিধান বা সংবিধান-সমতুল্য আইন থেকে। ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি এর পাশাপাশি চলেছে; সেটি জমি, প্রবেশ আর প্রথাগত প্রশাসনের নিয়ম দিয়েছে। “এক্সক্লুডেড এরিয়া” মর্যাদা ঠিক করেছে কে এই অঞ্চলের জন্য আইন বানাতে পারে। এই পার্থক্যটিই পরে 2003 সালের হাইকোর্ট রায় আর 2016 সালের আপিল বিভাগের রায়ে দুই রকম ব্যাখ্যা পেয়েছে।
Scheduled Districts Act, 1874 (Act XIV of 1874) ব্রিটিশ ভারতের যে এলাকাগুলোকে সাধারণ আইন ও আদালতের বাইরে রাখা হয়েছিল, তাদের একটি তালিকা দেয়। তালিকার তৃতীয় অংশে বাংলার দ্বিতীয় নামটি “The Hill Tracts of Chittagong”। এই আইন অনুযায়ী কোন আইন সেখানে চলবে, তা ঠিক হতো সরকারি প্রজ্ঞাপনে, আইনসভায় নয়।
আইনটি গভর্নর-জেনারেলের সম্মতি পায় 8 ডিসেম্বর 1874। এর প্রস্তাবনায় সমস্যাটি স্পষ্ট করে লেখা:
“Whereas various parts of British India have never been brought within, or have from time to time been removed from, the operation of the general Acts and Regulations and the jurisdiction of the ordinary Courts of Judicature”
— Scheduled Districts Act, 1874, প্রস্তাবনা
অর্থাৎ এমন কিছু এলাকা ছিল যেগুলো কখনো সাধারণ আইনের আওতায় আসেনি, অথবা আইন করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, আর সেখানে কোন আইন চলে তা নিয়েই সন্দেহ ছিল। পার্বত্য চট্টগ্রাম দ্বিতীয় দলে পড়ে। আইনটির দ্বিতীয় তফসিলে যে আইনগুলো রহিত হয়, তার একটি Act XXII of 1860, যার শিরোনাম: “An Act to remove certain tracts on the Eastern border of the Chittagong District from the jurisdiction of the tribunals established under the General Regulations and Acts”। একই শিরোনামে বাংলার আরেকটি আইন, Bengal Act IV of 1863-ও রহিত তালিকায় আছে। 1860 সালের জেলা-ঘোষণা থেকে 1900 সালের শাসনবিধি পর্যন্ত ধাপগুলো আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি-ব্যবস্থার লেখায় সাজানো আছে।
এই তিন ধারা মিলিয়ে যে কাঠামো দাঁড়ায়, তা পরের প্রতিটি নামেই ফিরে এসেছে: আইনসভা নয়, নির্বাহী কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে কোন আইন পাহাড়ে ঢুকবে। 1900 সালের শাসনবিধির ধারা 4-এও একই কাঠামো। সেখানে তফসিলভুক্ত আইনগুলো কেবল ততটুকু চলবে যতটুকু শাসনবিধির সঙ্গে অসঙ্গত নয়, আর “No other enactment herebefore or hereafter passed shall be deemed to apply in the Chittagong Hill Tracts”, যদি না স্থানীয় সরকার গভর্নর-জেনারেলের পূর্বানুমতিতে কলকাতা গেজেটে প্রজ্ঞাপন দেয় (শাসনবিধির মূল পাঠ, SATP-র সংকলন)। ধারাটি 1937 সালে কীভাবে বদলেছিল আর আদালত কীভাবে পড়েছে, তা রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলার লেখায় আছে।
প্রফেসর মংসানু চৌধুরীর লেখা, জুমজার্নালের আর্কাইভে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বিরোধ প্রসঙ্গে প্রবন্ধটি লিখেছে, 1874 সালের আইন “৩৫টি বিশেষ অঞ্চলের” একটি তালিকা করেছিল আর তাতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্রমিক ছিল 7। latestlaws.com-এ রাখা আইনের সংশোধিত পাঠে তফসিলটি প্রদেশভিত্তিক 13টি অংশে সাজানো, আর পার্বত্য চট্টগ্রাম সেখানে বাংলা অংশের দ্বিতীয় ক্রমিক। মূল 1874 সালের মুদ্রিত তফসিলের ক্রম ভিন্ন ছিল কি না, তা যাচাই করা যায়নি।
“Backward tract” ধারণাটি আসে 1919 সালের ভারত শাসন বিলের 15 নম্বর দফা থেকে, যা গভর্নর-জেনারেল-ইন-কাউন্সিলকে যেকোনো এলাকাকে এই নাম দিয়ে আইনের প্রয়োগ থেকে আলাদা করার ক্ষমতা দেয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম কবে এই নামে ঘোষিত হয়েছিল, তা নিয়ে উৎসগুলোতে অন্তত চারটি আলাদা সাল পাওয়া যায়।
ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সে 4 ডিসেম্বর 1919 বিলটি পুনর্বিবেচনার সময় দফাটির পাঠ পড়া হয়। উপদফা (2):
“The Governor-General in Council may declare any territory in British India to be a ‘backward tract,’ and may, by notification, with such sanction as aforesaid, direct that the principal Act and this Act shall apply to that territory subject to such exceptions and modifications as may be prescribed in the notification.”
— Government of India (Re-committed) Bill, দফা 15(2); HC Deb 4 December 1919, vol 122, cc699–700
একই উপদফার পরের বাক্য বলে, এমন প্রজ্ঞাপনের পর গভর্নর-জেনারেল নির্দেশ দিতে পারবেন যে ভারতীয় আইনসভার কোনো আইন ওই এলাকায় চলবে না, অথবা ব্যতিক্রম ও সংশোধনসহ চলবে, আর প্রাদেশিক আইনসভার আইনের বেলায় একই নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা প্রাদেশিক গভর্নর-ইন-কাউন্সিলকে দিতে পারবেন। ছাপা বিলের এই দফাটি পাস হওয়া আইনে কোন ধারা-নম্বর পেয়েছিল, তার মূল পাঠ পাওয়া যায়নি।
ব্রিটিশ লাইব্রেরির ইন্ডিয়া অফিস নথির ক্যাটালগে “backward tracts” বিষয়ে ভারত সরকারের একটি প্রস্তাবের ফাইল আছে বলে উল্লেখ পাওয়া যায়, যার বিষয়তালিকায় দার্জিলিং, আসাম ও উত্তর কাছাড় পাহাড়ের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের নাম আছে; ফাইলটির ভেতরের পাঠ অনলাইনে নেই। ঘোষণাটি যে প্রজ্ঞাপনে হয়েছিল, তার নম্বর ও তারিখ কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
Government of India Act, 1935-এর পঞ্চম অধ্যায়ের শিরোনাম “Excluded Areas and Partially Excluded Areas”। ধারা 91 বলে, কোন এলাকা বহির্ভূত হবে তা ঠিক করবেন ব্রিটেনের রাজা, প্রিভি কাউন্সিলের আদেশ দিয়ে। ধারা 92 বলে, বহির্ভূত এলাকায় কেন্দ্রীয় বা প্রাদেশিক আইনসভার কোনো আইন চলবে না, যদি না গভর্নর প্রকাশ্য প্রজ্ঞাপনে নির্দেশ দেন।

“91.—(1) In this Act the expressions ‘excluded area’ and ‘partially excluded area’ mean respectively such areas as His Majesty may by Order in Council declare to be excluded areas or partially excluded areas.”
— Government of India Act, 1935 (26 Geo. 5 & 1 Edw. 8, c. 2), ধারা 91(1); মূল সরকারি মুদ্রণ, পৃ. 59
একই উপধারার দ্বিতীয় বাক্য ভারত-সচিবকে আইন পাসের ছয় মাসের মধ্যে আদেশের খসড়া পার্লামেন্টে পেশ করতে বাধ্য করে। ধারা 91(2) রাজাকে চারটি ক্ষমতা দেয়: (ক) পুরো বা অংশবিশেষ বহির্ভূত এলাকাকে আংশিক বহির্ভূত এলাকায় নামানো; (খ) আংশিক বহির্ভূত এলাকার মর্যাদা তুলে নেওয়া; (গ) কেবল সীমানা সংশোধন; (ঘ) নতুন প্রদেশ হলে নতুন এলাকা যুক্ত করা। উপধারার শেষ বাক্য বলে, এই ব্যতিক্রমগুলো ছাড়া 91(1)-এর আদেশ “shall not be varied by any subsequent Order”। 91(2)-এর চার দফার কোনোটিতে বহির্ভূত এলাকার মর্যাদা সরাসরি তুলে নেওয়ার কথা নেই: (ক) দফায় তাকে আংশিক বহির্ভূত করা যায়, আর (খ) দফায় আংশিক বহির্ভূত এলাকার মর্যাদা তুলে নেওয়া যায়।
“92.—(1) The executive authority of a Province extends to excluded and partially excluded areas therein, but, notwithstanding anything in this Act, no Act of the Federal Legislature or of the Provincial Legislature, shall apply to an excluded area or a partially excluded area, unless the Governor by public notification so directs”
— Government of India Act, 1935, ধারা 92(1); মূল সরকারি মুদ্রণ, পৃ. 59–60
গভর্নর নির্দেশ দেওয়ার সময় আইনটিকে “such exceptions or modifications as he thinks fit” সহ প্রয়োগ করতে পারতেন। ধারা 92(2) গভর্নরকে “peace and good government”-এর জন্য রেগুলেশন বানানোর ক্ষমতা দেয়, যা কেন্দ্রীয় বা প্রাদেশিক আইনসভার যেকোনো আইন রহিত বা সংশোধন করতে পারত; তবে গভর্নর-জেনারেলের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত রেগুলেশন কার্যকর হতো না। ধারা 92(3) সবচেয়ে ছোট, আর বহির্ভূত ও আংশিক বহির্ভূত এলাকার মূল পার্থক্য এখানে:
“(3) The Governor shall, as respects any area in a Province which is for the time being an excluded area, exercise his functions in his discretion.”
— Government of India Act, 1935, ধারা 92(3); মূল সরকারি মুদ্রণ, পৃ. 60
“In his discretion” কথাটির অর্থ একই আইনের ধারা 50(1)-এ পাওয়া যায়: প্রদেশে গভর্নরকে “aid and advise” করবে একটি মন্ত্রিসভা, “except in so far as he is by or under this Act required to exercise his functions or any of them in his discretion”। অর্থাৎ বহির্ভূত এলাকার শাসনে মন্ত্রিসভার পরামর্শের ব্যবস্থা ছিল না। আংশিক বহির্ভূত এলাকার জন্য আইনটি আলাদা ব্যবস্থা রাখে: ধারা 52(1)(e) সেগুলোর “peace and good government” গভর্নরের একটি “special responsibility” হিসেবে তালিকাভুক্ত করে, আর ধারা 52(3) অনুযায়ী বিশেষ দায়িত্বের বিষয়ে গভর্নর “individual judgment” প্রয়োগ করতেন। ধারা 52(2) আরও বলে, যে প্রদেশে বহির্ভূত এলাকা আছে, তার গভর্নরের বিশেষ দায়িত্ব হলো অন্য কোনো বিষয়ের পদক্ষেপে বহির্ভূত এলাকা-সংক্রান্ত কাজ যেন “prejudiced or impeded” না হয়।
বহির্ভূত এলাকার প্রশাসনের খরচ আইনসভার ভোটের বাইরে রাখা হয়েছিল। ধারা 78(3)(e) প্রাদেশিক রাজস্বের ওপর “charged” ব্যয়ের তালিকায় রাখে “expenditure connected with the administration of any areas which are for the time being excluded areas”। কেন্দ্রীয় স্তরে ধারা 33(3)(g) একই কাজ করে “any grants for purposes connected with the administration of any areas in a Province which are for the time being excluded areas”-এর জন্য। ধারা 79(1) অনুযায়ী “charged” ব্যয় “shall not be submitted to the vote of the Legislative Assembly”, যদিও আইনসভা তা নিয়ে আলোচনা করতে পারত। আইন বানানো, শাসন চালানো আর বাজেট, তিন জায়গাতেই বহির্ভূত এলাকা প্রাদেশিক আইনসভার ভোটের বাইরে ছিল।

1935 সালের আইনের বিলে প্রথমে একটি “ষষ্ঠ তফসিল” ছিল, যাতে বহির্ভূত এলাকার তালিকা দেওয়া। পার্লামেন্টে আপত্তির পর তফসিলটি আইন থেকে সরিয়ে আলাদা আদেশে নেওয়া হয়। সেই আদেশ, Government of India (Excluded and Partially Excluded Areas) Order, 1936, পার্বত্য চট্টগ্রামকে “wholly excluded” বা সম্পূর্ণ বহির্ভূত এলাকার শ্রেণিতে রাখে।
10 মে 1935 হাউস অব কমন্সে মি. ক্যাডোগান বিলের ষষ্ঠ তফসিল বদলানোর একটি সংশোধনী তোলেন। প্রস্তাবিত তালিকায় আসামের কয়েকটি পাহাড়ি এলাকার পর আলাদা শিরোনাম “Bengal”, তার নিচে একটিমাত্র নাম: “The Chittagong Hill Tracts” (HC Deb 10 May 1935, vol 301, cc1343–54)। 13 মে বিতর্ক চলে (vol 301, cc1387–449)। এর আগে 22 মার্চ 1935 বিলের 91 নম্বর দফা নিয়ে আলোচনায় কর্নেল ওয়েজউড বহির্ভূত এলাকার তালিকা পড়ে শোনান, যেখানে নাগা পাহাড় ও লুসাই পাহাড় জেলার সঙ্গে “The Chittagong Hill Tracts” ছিল (HC Deb 22 March 1935, vol 299, cc1548–55)।
হাউস অব কমন্সের রেকর্ড অনুযায়ী খসড়া আদেশটি সেখানে পেশ হয় 31 জানুয়ারি 1936 (লর্ডসে জেটল্যান্ডের প্রস্তাবে খসড়াটি পেশের তারিখ “the 5th instant”, অর্থাৎ 5 ফেব্রুয়ারি), আর 25 ফেব্রুয়ারি 1936 কমন্স রাজার কাছে আবেদন পাঠানোর প্রস্তাব পাস করে, আংশিক বহির্ভূত এলাকার তালিকায় (দ্বিতীয় অংশ) কয়েকটি সংশোধনসহ (HC Deb 25 February 1936, vol 309, cc410–1)। একই দিন লর্ডসে প্রস্তাবটি তোলেন ভারত-সচিব জেটল্যান্ড। তাঁর বক্তৃতা আদেশটির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে:
“The number of totally excluded areas is not great. They are to be found chiefly on the border tracts of Assam, but there is one considerable tract in Bengal, known as the Chittagong hill tract, which is also included in the category of wholly excluded areas”
— Marquess of Zetland, HL Deb 25 February 1936, vol 99, cc734–43
বক্তৃতায় জেটল্যান্ড বলেন জেলাটি তাঁর “personally” চেনা। তিনি তিন সার্কেল প্রধানের নাম নেন: “the Chakma Chief, the Bomong Chief, and the Mong Chief”, আর বলেন অঞ্চলটি তাঁদের অধীনে “for generations past” শাসিত। সম্পূর্ণ বহির্ভূত করার পক্ষে তিনি একজন অনামা ভারতীয় কর্মকর্তার মত উদ্ধৃত করেন, যিনি অঞ্চলে দীর্ঘদিন কাজ করেছিলেন; সেই কর্মকর্তার মতে সমতলের মানুষের সংস্পর্শে পাহাড়ের মানুষ শোষণের ঝুঁকিতে পড়বে, আর একমাত্র রক্ষা “turning it permanently into a totally excluded area”। বক্তৃতায় ঔপনিবেশিক আমলের ভাষায় পাহাড়ের মানুষকে “very primitive peoples” বলা হয়েছে; উদ্ধৃতিটি নথির ভাষা হিসেবেই রাখা হলো।
জেটল্যান্ড আংশিক বহির্ভূত এলাকা বাছাইয়ের তিনটি শর্তও বলেন: এলাকায় “backward or primitive peoples”-এর প্রাধান্য থাকতে হবে; আলাদা আইন প্রয়োগের মতো আকার থাকতে হবে; আর আলাদা প্রশাসনিক ব্যবস্থা অসুবিধা ছাড়া চালানো যেতে হবে। সম্পূর্ণ বহির্ভূত এলাকার জন্য আলাদা মানদণ্ডের কথা বক্তৃতায় নেই।
3 মার্চ 1936 লর্ড স্ট্র্যাবোলজি লিখিত প্রশ্নে বহির্ভূত এলাকাগুলোর মোট আয়তন ও জনসংখ্যা জানতে চান। জেটল্যান্ডের লিখিত উত্তরে “The Excluded Areas in Bengal”-এর হিসাব: আয়তন 5,000 বর্গমাইল, জনসংখ্যা 213,000 (HL Deb 3 March 1936, vol 99, cc863–4WA)। একই উত্তরে আসামের বহির্ভূত এলাকা 18,429 বর্গমাইল ও 388,923 জন, মাদ্রাজের 10 বর্গমাইল ও 16,000 জন, পাঞ্জাবের 4,695 বর্গমাইল ও 11,700 জন। উত্তরে বাংলার এলাকার নাম আলাদা করে লেখা নেই; এক সপ্তাহ আগের বক্তৃতায় জেটল্যান্ড বাংলার সম্পূর্ণ বহির্ভূত এলাকা হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের নামই বলেছিলেন।

বি. শিব রাও-এর সংকলন The Framing of India’s Constitution থেকে একটি ব্লগে প্রকাশিত পাঠ অনুযায়ী আদেশটি জারি হয় “At the Court at Buckingham Palace, The 3rd Day of March, 1936″। এর অনুচ্ছেদ 2 বলে, তফসিলের প্রথম অংশে লেখা এলাকাগুলো বহির্ভূত, দ্বিতীয় অংশেরগুলো আংশিক বহির্ভূত; অনুচ্ছেদ 3 বলে, তফসিলে কোনো জেলা বা এলাকার উল্লেখ মানে 1 জানুয়ারি 1936 তারিখের সীমানা। প্রকাশিত ওই পাঠে তফসিলের পুরো তালিকা নেই। আদেশের সরকারি মুদ্রিত পাঠ অনলাইনে পাওয়া যায়নি।
বহির্ভূত মর্যাদা আসার কয়েক বছর আগে শাসনবিধির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম বদলেছিল। রাজকুমারী চন্দ্রা কালিন্দী রায়ের IWGIA প্রতিবেদন (Document No. 99, 2000, পৃ. 44) অনুযায়ী শাসনবিধির বিধি 52 অনুযায়ী বাইরের কেউ ডেপুটি কমিশনারের অনুমতিপত্র ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ বা বসবাস করতে পারতেন না; “Rule 52 was repealed in 1930. After 1930, plainspeople did not require a permit to enter the Hill Tracts.” একই প্রতিবেদনের কালানুক্রম (পৃ. 108) যোগ করে, 1930 সালের পরও “Prohibition on land ownership by outsiders continued”। প্রতিবেদনটি (পৃ. 44) আরও লেখে, 1930 সালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে গভর্নর-জেনারেল-ইন-কাউন্সিলের সরাসরি তত্ত্বাবধানে রাখা হয়, যাঁর ক্ষমতা সময় সময় প্রাদেশিক গভর্নরকে অর্পণ করা হতো। জমি বন্দোবস্তের 34 নম্বর বিধির সব সংশোধনী তারিখসহ আছে ৩৪ নম্বর বিধির লেখায়।
হ্যাঁ। 1956 সালের পাকিস্তান সংবিধানের অনুচ্ছেদ 103(3) প্রাদেশিক গভর্নরকে “excluded area”-র জন্য রেগুলেশন বানানোর ক্ষমতা দিয়েছিল, আর 26 জুলাই 1958 পূর্ব পাকিস্তান সরকার সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য জমি অধিগ্রহণ রেগুলেশন জারি করে। রেগুলেশনের প্রস্তাবনাই পাকিস্তান আমলে অঞ্চলটির বহির্ভূত মর্যাদার সবচেয়ে সরাসরি দলিল।
The Chittagong Hill-tracts (Land Acquisition) Regulation, 1958 (East Pakistan Regulation No. I of 1958)-এর চতুর্থ “whereas”, bdlaws-এ রাখা পাঠে:
“AND WHEREAS by clause (3) of Article 103 of the Constitution of the Islamic Republic of Pakistan, the [Government] is empowered to make Regulation for the peace and good Government of the excluded area in this province”
— East Pakistan Regulation No. I of 1958, প্রস্তাবনা (বন্ধনীর শব্দটি 1972 সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং 48-এ বদলানো; মূলে ছিল “Governor”)
“Peace and good Government” শব্দবন্ধটি 1935 সালের আইনের ধারা 92(2)-এর হুবহু। অর্থাৎ 1956 সালের সংবিধান 1935 সালের কাঠামোটিই বহন করেছিল। রেগুলেশনটি জারি হয় প্রদেশে প্রেসিডেন্টের শাসন চলাকালে, 25 জুন 1958 তারিখের একটি ঘোষণার পর। আইনটির ছয়টি ধারা, ক্ষতিপূরণের হিসাব আর কাপ্তাই বাঁধে এর প্রয়োগ আমাদের ভূমি অধিগ্রহণ রেগুলেশন ১৯৫৮-এর লেখায় আছে।
জনসংহতি সমিতির ইতিহাস-পাতা বলে, “The Pakistan government, however as per the provision of the Independence Act, recognised CHT as a fully Excluded Area and retained it even in the first constitution of Pakistan, which was passed in 1956, along with the CHT Regulation of 1900″। IWGIA প্রতিবেদন (পৃ. 45) লেখে, 1956 সালের সংবিধান পার্বত্য চট্টগ্রামকে “an Excluded Area” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যার অর্থ “an exclusive homeland for indigenous peoples with restrictions on settlement to non-indigenous people”। 1947–1956 সময়ে 1935 সালের আইনের কোন অভিযোজিত পাঠ পাকিস্তানে চলেছিল এবং তাতে 91–92 ধারা কী রূপে ছিল, তার মূল পাঠ পাওয়া যায়নি।
ডিটার কনরাডের 1964 সালের প্রবন্ধ (ZaöRV খণ্ড 24, পৃ. 734, পাদটীকা 6) 1956 সালের সংবিধানের তারিখ লিখেছে 2 মার্চ 1956, যা গণপরিষদে গৃহীত হয়েছিল, আর জানাচ্ছে 7 অক্টোবর 1958 প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার সামরিক আইন জারির ঘোষণায় সংবিধানটি অকার্যকর করা হয়। 1958 থেকে 1962 সালের সামরিক শাসনের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনি অবস্থান নিয়ে আলাদা কোনো দলিল পাওয়া যায়নি।
1962 সালের পাকিস্তান সংবিধান “excluded area” শব্দটি বাদ দিয়ে “Tribal Area” শব্দ ব্যবহার করে, আর পার্বত্য চট্টগ্রাম সেই তালিকায় থাকে। অনুচ্ছেদ 223(2) অনুযায়ী প্রাদেশিক গভর্নর প্রেসিডেন্টের অনুমোদন নিয়ে ট্রাইবাল এরিয়ার জন্য রেগুলেশন বানাতে পারতেন। নাম বদলালেও আইনসভার বাইরে আলাদা আইন-প্রণয়নের ব্যবস্থাটি থেকে যায়।
1962 সালের সংবিধানের মূল মুদ্রিত পাঠ অনলাইনে পাওয়া যায়নি। অনুচ্ছেদ 223(2)-এর ভাষা পাওয়া যায় পশ্চিম পাকিস্তানের একটি রেগুলেশনের প্রস্তাবনায়, যা বেলুচিস্তান সরকারের ওয়েবসাইটে রাখা আছে। The West Pakistan Civil Courts Ordinance (Extension to Tribal Areas of Quetta Division) Regulation, 1963 (W.P. Reg. II of 1963), তারিখ 30 জানুয়ারি 1963:
“WHEREAS clause (2) of Article 223 of the Constitution of the Republic of Pakistan provides that the Governor of West Pakistan with the approval of the President may, with respect to any matter within the legislative competence of the Provincial Legislature, make regulations for a Tribal Area or any part of a Tribal Area situated in the Province”
— W.P. Reg. II of 1963, প্রস্তাবনা
উদ্ধৃতিটি পশ্চিম পাকিস্তানের গভর্নরের কথা বলে, কারণ রেগুলেশনটি কোয়েটার। কনরাডের প্রবন্ধ (পৃ. 744) জানায়, ট্রাইবাল এরিয়ায় আদালতের এখতিয়ার ছিল না, আর সেখানে পাকিস্তানি আইনের প্রয়োগ প্রেসিডেন্টের বিশেষ নির্দেশের ওপর নির্ভর করত। প্রবন্ধটি এই বিবরণ দিয়েছে মূলত উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের এলাকাগুলোর কথা মাথায় রেখে।
উৎসগুলো 1962 সালের পরিবর্তনকে দুই ভাবে বর্ণনা করে। IWGIA প্রতিবেদন (পৃ. 45) লেখে, বহির্ভূত মর্যাদা “was subsequently upheld by the Constitution of 1962 and the CHT named as a Tribal Area”, এবং এই মর্যাদায় প্রশাসনে যেকোনো পরিবর্তনে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন লাগত, আর প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় আইনসভার আইন পাহাড়ে চলত “only by specific provisions with express Presidential assent”। জনসংহতি সমিতির ইতিহাস-পাতা লেখে, “In the second constitution of Pakistan, the Excluded Area Status was changed to ‘Tribal Area’ in 1962″। মংসানু চৌধুরীর প্রবন্ধও 1962 সালে অঞ্চলটিকে “উপজাতীয় অঞ্চল” হিসেবে দেখানোর কথা বলে। প্রথম পাঠে এটি একই সুরক্ষার ধারাবাহিকতা, দ্বিতীয় পাঠে একটি পরিবর্তন।
এম এন লারমার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আমাদের আর্কাইভের কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলেন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা লেখাটি অঞ্চলটিকে বলে “সরকারি ভাবে ‘উপজাতীয় এলাকা’ হিসাবে চিহ্নিত”; 1972 সালের গণপরিষদেও লারমা তখনকার সরকারি ভাষা মেনে পার্বত্য চট্টগ্রামকে “উপজাতীয় এলাকা” বলেছিলেন।
পাকিস্তানের 1962 সালের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী আইন, যার নাম Constitution (First Amendment) Act 1963 আর নম্বর Act I of 1964, প্রেসিডেন্টের সম্মতি পায় 10 জানুয়ারি 1964। এর 12 নম্বর দফা “Bergland von Chittagong”, অর্থাৎ চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলকে, ট্রাইবাল এরিয়ার তালিকা থেকে বাদ দেয়। সেদিন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের আর কোনো সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা থাকল না।
দফা-নম্বরসহ এই তথ্যের সবচেয়ে কাছের সমকালীন উৎস জার্মানির ম্যাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট ফর কম্পারেটিভ পাবলিক ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ল-এর পত্রিকা Zeitschrift für ausländisches öffentliches Recht und Völkerrecht (ZaöRV)। 1964 সালের খণ্ড 24-এ হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের ডিটার কনরাড সংশোধনীটির ওপর একটি প্রতিবেদন লেখেন (“Die Grundrechtsnovelle zur pakistanischen Verfassung”, পৃ. 734–748)। প্রবন্ধটির চারটি তথ্য এখানে প্রাসঙ্গিক:
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের 2016 সালের রায় একই তারিখ দেয়। রায়ের পৃ. 12–13-এ: “the expression ‘tribal area’ was removed by the Constitution (First Amendment) Act, 1963, which came into effect on 10th January, 1964″। একই রায়ের পৃ. 4–5-এ রাষ্ট্রপক্ষের জবাব উদ্ধৃত: “by the Constitution (First Amendment) Act, 1964, the definition of ‘Tribal Area’ was omitted on and from 10.1.1964″। নামের সাল দুই জায়গায় দুই রকম, কার্যকর হওয়ার তারিখ এক। কনরাডের প্রবন্ধ দেখায় কেন: আইনের নামের সাল 1963, আইন-নম্বরের সাল 1964।
মর্যাদা উঠে যাওয়ার একটি তাৎক্ষণিক ফল নথিতে আছে। আপিল বিভাগের রায় (পৃ. 16–17) Collector v. Azizuddin, 23 DLR (SC) 73 মামলার ঘটনা বর্ণনা করেছে। কেন্দ্রীয় রাজস্ব বোর্ড 30 জুন 1961 তারিখের প্রজ্ঞাপনে ট্রাইবাল এরিয়ায় তৈরি পণ্যে চার বছরের আবগারি শুল্ক-অব্যাহতি দিয়েছিল, আর একজন ব্যবসায়ী সেই সুবিধা নিতে তাঁর সিগারেট কারখানা পার্বত্য চট্টগ্রামে সরানোর অনুমতি চেয়েছিলেন। সংশোধনীর পর বোর্ড 28 ফেব্রুয়ারি 1964 কেন্দ্রীয় আবগারি পরিদর্শককে চিঠি দিয়ে জানায়, অঞ্চলটি আর ট্রাইবাল এরিয়া না থাকায় অব্যাহতি আর প্রযোজ্য নয়, আর একই দিন আরেকটি প্রজ্ঞাপনও জারি করে। এই মামলাটিই পরে, 2003 সালে, হাইকোর্টের “মৃত আইন” রায়ের প্রধান নজির হয়।
সংশোধনীটি আইনসভায় কীভাবে এসেছিল, তা নিয়ে উৎসগুলো আলাদা কথা বলে।
IWGIA প্রতিবেদন (পৃ. 46) সংশোধনীর তিনটি ফল লেখে: অঞ্চলটি আর “a separate homeland for the indigenous people” হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পেল না; সাংবিধানিকভাবে বাইরের মানুষের প্রবেশ ও বসতির পথ খুলল; বাস্তবে অ-আদিবাসীরা পাহাড়ে ঢুকে জমি অর্জন করতে পারলেন। একই অনুচ্ছেদের পরের বাক্য: “However, the Hill Tracts Manual (Regulation 1 of 1900) still existed and lands were not given indiscriminately to plainspeople”। প্রতিবেদনের কালানুক্রম (পৃ. 108) 1964 সালের ঘরে লেখে: “Special status of Chittagong Hill Tracts as an indigenous area removed. Non-indigenous people could own land on fulfilling certain criteria.”
জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার লার্স-আন্দার্স বায়ের 2011 সালের সমীক্ষা (E/C.19/2011/6, অনুচ্ছেদ 5) লেখে, “In 1963, however, a constitutional amendment eliminated the special status and immigration restrictions”। এশিয়া ইন্ডিজিনাস পিপলস প্যাক্টের 2021 সালের একটি জমা-দলিল একই বাক্য প্রায় হুবহু ব্যবহার করেছে। আর্কাইভের পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যার চিত্র লেখাটি পাকিস্তান আমলের ক্ষতিকর পদক্ষেপের তালিকায় সপ্তম হিসেবে লেখে: “আদিবাসীদের ভূমি অধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত সনদ ‘শাসন বহির্ভূত এলাকা’ স্ট্যাটাস (Excluded Area Status) বাতিল করেছিলো”।
1964 সালে যা হারায়, তা সাংবিধানিক মর্যাদা: আইনসভার আইন পাহাড়ে আপনা-আপনি না ঢোকার নিয়ম। 1900 সালের শাসনবিধি, তার জমি-বন্দোবস্তের বিধি, হেডম্যান-সার্কেল প্রধানের প্রশাসন আর জেলা প্রশাসকের বিচার-ক্ষমতা আইন হিসেবে থেকে যায়। 2003 ও 2016 সালের দুই রায় এই দুটির সম্পর্ক দুই ভাবে পড়েছে।
রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের রিটে হাইকোর্ট বিভাগ 13 মে 2003 বলে, শাসনবিধি একটি “dead law”। আপিল বিভাগের রায়ে উদ্ধৃত বিবরণ অনুযায়ী হাইকোর্টের মূল যুক্তি: 10 জানুয়ারি 1964 সংবিধান থেকে “Tribal Area” শব্দ বাদ যায় এবং বাংলাদেশের সংবিধানে তা ফেরেনি, তাই সেদিন থেকে শাসনবিধি প্রযোজ্য নয় (রায়, পৃ. 6)। আপিল বিভাগ 22 নভেম্বর 2016 এই পর্যবেক্ষণ বাতিল করে। রায়ের পৃ. 13–14 বলে, শব্দটি বাদ যাওয়ার পরও 26 মার্চ 1971 পর্যন্ত অঞ্চলটি শাসনবিধি অনুযায়ীই চলেছে, সেখানে সাধারণ দেওয়ানি বা ফৌজদারি আদালত গঠিত হয়নি, আর ডেপুটি কমিশনার জেলা জজের এবং বিভাগীয় কমিশনার দায়রা জজের কাজ করতেন। পৃ. 19-এ আদালতের সিদ্ধান্ত:
“Mere changing of the nomenclature does not ipso facto change the laws, customs and privileges which are being enjoyed by a section of a people of the country.”
— Government of Bangladesh v. Rangamati Food Products Ltd. and others, সিভিল আপিল নং 08/2008, আপিল বিভাগ, 22 নভেম্বর 2016, পৃ. 19
দুই রায়ের যুক্তি, রিভিউ আবেদন আর শুনানির হিসাব আমাদের শাসনবিধি ১৯০০ মৃত আইন রায়ের লেখায় পৃষ্ঠা ধরে ধরে আছে। এখানে কেবল একটি বিষয় লক্ষ করার: দুই আদালতই একমত যে 1964 সালে সাংবিধানিক শব্দটি বাদ গিয়েছিল। বিরোধ ছিল তার ফল নিয়ে, শব্দ বাদ যাওয়ায় শাসনবিধিও বাতিল হয়েছিল কি না।
মর্যাদা হারানোর আগে-পরে শাসনবিধির নিজের বিধিগুলোও বদলেছে, আর সেগুলো আলাদা প্রজ্ঞাপনে। IWGIA প্রতিবেদনের কালানুক্রম (পৃ. 108) ও জুমজার্নালের লেখাগুলো মিলিয়ে:
| সাল | কী বদলাল | স্তর | উৎস |
|---|---|---|---|
| 1920 | বিধি 34: ইজারা কেবল পাহাড়িদের; গ্রামে প্রকৃত বসবাসকারী অ-পাহাড়ি কৃষককে সর্বোচ্চ 25 একর | শাসনবিধির বিধি | IWGIA 2000, পৃ. 108 |
| 1930 | বিধি 52 (প্রবেশ-অনুমতি) রহিত; জমির মালিকানায় বাইরের লোকের নিষেধ বহাল | শাসনবিধির বিধি | IWGIA 2000, পৃ. 44, 108 |
| 1935–1936 | সম্পূর্ণ বহির্ভূত এলাকা | সাংবিধানিক | ভারত শাসন আইন, ধারা 91–92; HL Deb 25.2.1936 |
| 1956 | পাকিস্তান সংবিধানে বহির্ভূত এলাকা | সাংবিধানিক | অনুচ্ছেদ 103(3), East Pakistan Reg. I of 1958-এর প্রস্তাবনায় |
| 1958 | জমি অধিগ্রহণ রেগুলেশন, বহির্ভূত মর্যাদার ক্ষমতাতেই জারি | রেগুলেশন | bdlaws |
| 1962 | “Tribal Area” | সাংবিধানিক | অনুচ্ছেদ 223; IWGIA পৃ. 45 |
| 1964 | ট্রাইবাল এরিয়ার তালিকা থেকে বাদ | সাংবিধানিক | Act I of 1964, দফা 12 (কনরাড 1964) |
| 1971 | বিধি 34: পাহাড়ি বা অ-পাহাড়ি বাসিন্দা পরিবারপ্রতি সমতল জমির সর্বোচ্চ সীমা | শাসনবিধির বিধি | IWGIA 2000, পৃ. 108; ৩৪ নম্বর বিধির লেখা |
জনসংহতি সমিতির ইতিহাস-পাতা বিধি 34-এর একটি 1961 সালের সংশোধনীর কথাও বলে (“amended Section 34 of the CHT Regulation of 1900 in 1961 and later in 1971”)। 1961 সালের এই সংশোধনীর প্রজ্ঞাপন বা পাঠ অন্য কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
1972 সালের সংবিধানে পার্বত্য চট্টগ্রামের নাম নেই, “excluded area” বা “tribal area”-র মতো কোনো আলাদা মর্যাদাও নেই। অনুচ্ছেদ 149 আগের “existing law” বহাল রাখে, ফলে 1900 সালের শাসনবিধি টিকে যায়; অনুচ্ছেদ 28(4) “backward section of citizens”-এর জন্য বিশেষ বিধানের সুযোগ রাখে। এর বেশি কোনো সুরক্ষা সংবিধানে লেখা হয়নি।
bdlaws-এ রাখা সংবিধানের বর্তমান পাঠে তিনটি অনুচ্ছেদ প্রাসঙ্গিক:
আপিল বিভাগ 2016 সালের রায়ে (পৃ. 19) পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রসঙ্গে ঠিক এই 28(4) অনুচ্ছেদই উল্লেখ করেছে। IWGIA প্রতিবেদন (পৃ. 47) লেখে, সরকারিভাবে না হলেও আদিবাসীদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ 14, 28 ও 29-এর “backward section”-এর মধ্যে ধরা হয়। 2011 সালের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুচ্ছেদ 23A যোগ করে, যাতে রাষ্ট্র “the unique local culture and tradition of the tribes, minor races, ethnic sects and communities” রক্ষা ও বিকাশে পদক্ষেপ নেবে; অনুচ্ছেদটি আদালতে কেন বলবৎযোগ্য নয়, তা আছে ২৩ক অনুচ্ছেদের লেখায়, আর রাষ্ট্র কোন কোন শব্দ ব্যবহার করে তা রাষ্ট্রীয় পরিভাষার লেখায়।
মর্যাদা ফেরানোর দাবি সংবিধান লেখার সময়ই উঠেছিল। আর্কাইভের লারমা-বিষয়ক লেখাটি, মঙ্গল কুমার চাকমার 2016 সালের বই উদ্ধৃত করে, জানায়: 15 ফেব্রুয়ারি 1972 প্রধানমন্ত্রীর কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাবসহ একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়, আর 24 এপ্রিল 1972 গণপরিষদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা স্বাক্ষরিত “পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের শাসনতান্ত্রিক অধিকার দাবি” খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির কাছে জমা পড়ে। গণপরিষদে নাগরিকত্ব প্রশ্নে লারমার অবস্থান আছে ৩১ অক্টোবর ১৯৭২-এর লেখায়।
IWGIA প্রতিবেদন (পৃ. 46–47) একটি উদ্ধৃতি দেয়: “Manobendra Narayan Larma, Member of Parliament for Chittagong Hill Tracts North, in protest, refused to endorse the constitution. Because the main provisions safeguarding [indigenous] interests have been abrogated, government officials in the hill tracts now enjoy wide discretionary authority”। জাতিসংঘ স্থায়ী ফোরামের 2011 সালের সমীক্ষা (অনুচ্ছেদ 5) লেখে, স্বাধীনতার পর “the restoration of the special constitutional safeguards were rejected when the first constitution of Bangladesh was adopted in 1972″। মংসানু চৌধুরীর প্রবন্ধও বলে, 1972 সালের সংবিধানে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য “আলাদা কোন শাসনতান্ত্রিক মর্যাদা কিংবা কোন ধরণের রক্ষাকবচ” অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
1972 সালের বাংলাদেশ (বিদ্যমান আইন অভিযোজন) আদেশ, রাষ্ট্রপতির আদেশ নং 48, পাকিস্তান আমলের আইনগুলোর শব্দ বদলায়। 1958 সালের অধিগ্রহণ রেগুলেশনের প্রস্তাবনায় “Governor” শব্দটি এই আদেশেই “Government” হয় (bdlaws-এর পাদটীকা)। আপিল বিভাগের রায়ের যুক্তি (পৃ. 7) এই আদেশ ও অনুচ্ছেদ 149 ধরে: 26 মার্চ 1971-এ বলবৎ থাকায় শাসনবিধি “existing law”, আর সংসদ রহিত না করা পর্যন্ত বহাল। দুটি বিধান পাশাপাশি রাখা যায়। 1935 সালের আইনের ধারা 92(1): আইনসভার কোনো আইন বহির্ভূত এলাকায় চলবে না, যদি না গভর্নর প্রজ্ঞাপন দেন। 1972 সালের সংবিধানের অনুচ্ছেদ 149: existing law চলবে, তবে “may be amended or repealed by law made under this Constitution”।
1989 সালের পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনগুলো আর 1998 সালের আঞ্চলিক পরিষদ আইন পরে আলাদা প্রতিষ্ঠান গড়ে, কিন্তু সেগুলোও সাধারণ আইন। এশিয়া ইন্ডিজিনাস পিপলস প্যাক্টের 2021 সালের জমা-দলিল সুপারিশ করেছে, আঞ্চলিক পরিষদ আইন ও তিন জেলা পরিষদ আইনকে সংবিধানের প্রথম তফসিলে “existing laws” হিসেবে যোগ করা হোক, আর অনুচ্ছেদ 28(4)-এ “backward sections of citizens”-এর পরে “or the hill people of Chittagong Hill Tracts” শব্দগুলো বসানো হোক। চুক্তি বাস্তবায়নের হিসাব আছে পার্বত্য চুক্তি ১৯৯৭-এর লেখায়।
10 ডিসেম্বর 2024 ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজের কাছে 17 দফা প্রস্তাবসহ স্মারকলিপি দেয়, যার কেন্দ্রীয় দাবি পার্বত্য চট্টগ্রামের “বিশেষ শাসনতান্ত্রিক মর্যাদা”। স্মারকলিপি 1972 সালের আগের চারটি নাম উল্লেখ করে বলে, নতুন সংবিধানে মর্যাদাটি ফেরানো উচিত।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিনিধিদলে ছিলেন ইউপিডিএফের ঢাকা অঞ্চলের সংগঠক মাইকেল চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি অংকন চাকমা। স্মারকলিপির ভাষ্য, প্রথম আলোর উদ্ধৃতিতে: পার্বত্য চট্টগ্রাম “১৯৭২ সালের সংবিধান পাস হওয়ার আগপর্যন্ত বিভিন্ন সময় ‘শিডিউলড ডিস্ট্রিক্ট’, ‘ব্যাকওয়ার্ড ট্র্যাক্ট’, ‘এক্সক্লুডেড এরিয়া’ ও ‘ট্রাইবাল এরিয়া’ হিসেবে স্বীকৃত ছিল”; স্বাধীনতার পর “অতীতের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে” বিশেষ মর্যাদার দাবি উপেক্ষিত হয়, যার ফলে “পরে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জন্ম হয়”। 17টি প্রস্তাবের পূর্ণ তালিকা প্রতিবেদনে নেই।
কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ বাংলা ট্রিবিউন 9 ফেব্রুয়ারি 2025 প্রকাশ করে। সেখানে কমিশনের সাতটি মূল সুপারিশ ও প্রস্তাবিত পাঁচ মূলনীতি (সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র) আছে; পার্বত্য চট্টগ্রামের মর্যাদা নিয়ে কোনো সুপারিশের উল্লেখ সেই সারসংক্ষেপে নেই।
শাসনবিধি নিয়ে আদালতের প্রশ্নও খোলা। ডেইলি স্টার 3 ফেব্রুয়ারি 2022 জানায়, আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চ 2016 সালের রায়ের বিরুদ্ধে দুটি রিভিউ আবেদনের শুনানিতে শাসনবিধি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না তা আরও খতিয়ে দেখবে। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের ওয়েবসাইটে 1 আগস্ট 2024 প্রকাশিত একটি লেখা জানায়, 9 মে 2024 প্রধান বিচারপতিসহ আট বিচারপতির পূর্ণ বেঞ্চে রিভিউ শুনানি হয়েছিল। রিভিউ নিষ্পত্তির কোনো আদেশ পাওয়া যায়নি।
পাঁচটি প্রশ্নে উৎসগুলো একমত নয়: “backward tract” ঘোষণার সাল, বহির্ভূত মর্যাদার শ্রেণি, 1962 সালের পরিবর্তনের প্রকৃতি, মর্যাদা তুলে নেওয়ার সাল, আর তুলে নেওয়ার পর আইনটি স্থগিত হয়েছিল কি না। নিচের ছকে প্রতিটি ভাষ্য তার উৎসসহ রাখা হলো।
| প্রশ্ন | ভাষ্য | উৎস |
|---|---|---|
| “Backward tract” কবে | 1900, শাসনবিধি জারির সঙ্গে | জনসংহতি সমিতির ইতিহাস-পাতা |
| 1909 সালের ভারত শাসন আইনে | আপিল বিভাগ, সিভিল আপিল 08/2008, পৃ. 12 | |
| 1919 সালের ভারত শাসন আইনে | জুমজার্নাল আর্কাইভ (পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস; মংসানু চৌধুরী); জাতিসংঘ E/C.19/2011/6 | |
| 1921, শাসনবিধি সংশোধন করে | জনসংহতি সমিতির ইতিহাস-পাতা | |
| 1935 সালে কোন শ্রেণি | “Totally” বা “wholly” excluded; আর্কাইভের কোনো কোনো লেখায় কেবল “Excluded Area” | জেটল্যান্ড, HL Deb 25.2.1936; IWGIA পৃ. 44; জনসংহতি সমিতি |
| 1962 সালে কী হলো | মর্যাদা “upheld”, নাম Tribal Area | IWGIA পৃ. 45 |
| Excluded Area মর্যাদা “changed” হয়ে Tribal Area | জনসংহতি সমিতি; মংসানু চৌধুরী | |
| মর্যাদা কবে উঠল | 1963 | জনসংহতি সমিতি; জাতিসংঘ E/C.19/2011/6; AIPP 2021; জুমজার্নাল আর্কাইভ (পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস) |
| 1964 (10 জানুয়ারি থেকে কার্যকর) | কনরাড, ZaöRV 1964; আপিল বিভাগ 2016; IWGIA পৃ. 45–46, 108 | |
| 1964 সালের সংবিধান অঞ্চলটিকে “excluded area” থেকে “tribal area” করে | Fariba Alamgir-এর 2017 সালের পিএইচডি অভিসন্দর্ভ, ১৯৫৮ রেগুলেশনের লেখায় উদ্ধৃত | |
| মর্যাদা তুলে নেওয়া আইন কার্যকর হয়েছিল কি | 10 জানুয়ারি 1964 থেকে কার্যকর; 28 ফেব্রুয়ারি 1964 রাজস্ব বোর্ড সেই অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন দেয় | আপিল বিভাগ 2016, পৃ. 12–13, 16–17; কনরাড 1964 |
| আইয়ুব খানের সরকার নির্বাহী আদেশে শাসনবিধি পুনর্বহাল করে এবং পাস হওয়া আইনটি স্থগিত রাখে | মংসানু চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বিরোধ প্রসঙ্গে (জুমজার্নাল আর্কাইভ) | |
| 1874 সালের তালিকায় ক্রমিক | 35টি অঞ্চলের মধ্যে 7 / বাংলা অংশের মধ্যে II | মংসানু চৌধুরী / latestlaws.com-এর সংশোধিত পাঠ |
Act-এর নামের সাল (1963) আর কার্যকর হওয়ার সাল (1964) আলাদা হওয়ায় “1963” ও “1964” ভাষ্য দুটির একটি অংশ একই ঘটনার দুই নাম হতে পারে; কনরাডের প্রবন্ধ দুটি সালই একসঙ্গে দেয়। “1963 সালের শেষদিকে জাতীয় পরিষদে প্রস্তাব অনুমোদন” ভাষ্যটিও এর সঙ্গে মেলে। মংসানু চৌধুরীর লেখার স্থগিতাদেশের ভাষ্যটির কোনো দ্বিতীয় উৎস পাওয়া যায়নি।
ভারত শাসন আইন, 1935-এর ধারা 91 অনুযায়ী বহির্ভূত এলাকার তালিকা দেওয়ার কথা ছিল রাজার আদেশে। সেই আদেশ, Government of India (Excluded and Partially Excluded Areas) Order, 1936, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনুমোদন পায় 25 ফেব্রুয়ারি 1936। লর্ডসে ভারত-সচিব জেটল্যান্ড বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম “wholly excluded areas” শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।
ভারত শাসন আইন 1935-এর ধারা 92 অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বা প্রাদেশিক আইনসভার কোনো আইন বহির্ভূত এলাকায় চলত না, যদি না গভর্নর প্রকাশ্য প্রজ্ঞাপনে নির্দেশ দিতেন। গভর্নর এলাকাটির জন্য নিজে রেগুলেশন বানাতে পারতেন, আর ধারা 92(3) অনুযায়ী সেখানে মন্ত্রিসভার পরামর্শ ছাড়া “in his discretion” কাজ করতেন। প্রশাসনের খরচ আইনসভার ভোটের বাইরে ছিল (ধারা 78(3)(e))।
দুটিতেই আইনসভার আইন গভর্নরের প্রজ্ঞাপন ছাড়া চলত না (ধারা 92(1))। পার্থক্য শাসনে: সম্পূর্ণ বহির্ভূত এলাকায় গভর্নর মন্ত্রিসভার পরামর্শ ছাড়া নিজের বিবেচনায় কাজ করতেন (ধারা 92(3)), আর আংশিক বহির্ভূত এলাকায় মন্ত্রিসভার পরামর্শ চলত, তবে সেখানকার শান্তি ও সুশাসন গভর্নরের “special responsibility” ছিল (ধারা 52(1)(e))। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিল প্রথম শ্রেণিতে।
1956 সালের সংবিধানে অঞ্চলটি “excluded area” ছিল; অনুচ্ছেদ 103(3) প্রাদেশিক গভর্নরকে এর জন্য রেগুলেশন বানানোর ক্ষমতা দেয়, আর 26 জুলাই 1958 সেই ক্ষমতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম (ভূমি অধিগ্রহণ) রেগুলেশন জারি হয়। 1962 সালের সংবিধানে নাম হয় “Tribal Area”, অনুচ্ছেদ 223-এর অধীনে। 10 জানুয়ারি 1964 প্রথম সংশোধনী অঞ্চলটিকে সেই তালিকা থেকে বাদ দেয়।
পাকিস্তানের Constitution (First Amendment) Act 1963, যার আইন-নম্বর Act I of 1964। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সম্মতি পায় 10 জানুয়ারি 1964, গেজেটে প্রকাশ 16 জানুয়ারি 1964। ম্যাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউটের পত্রিকায় ডিটার কনরাডের 1964 সালের প্রবন্ধ অনুযায়ী আইনের 12 নম্বর দফা চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলকে ট্রাইবাল এরিয়ার তালিকা থেকে বাদ দেয়।
দুটিই উৎসে পাওয়া যায়। জনসংহতি সমিতি, জাতিসংঘ স্থায়ী ফোরামের 2011 সালের সমীক্ষা ও এশিয়া ইন্ডিজিনাস পিপলস প্যাক্ট লেখে 1963; IWGIA 2000, কনরাড 1964 ও আপিল বিভাগের 2016 সালের রায় লেখে 1964। আইনটির নামে সাল 1963, আইন-নম্বরে 1964, আর কার্যকর হওয়ার তারিখ 10 জানুয়ারি 1964; আপিল বিভাগের রায় এক জায়গায় “Act, 1963” আর আরেক জায়গায় “Act, 1964” লিখেছে।
হাইকোর্ট বিভাগ 13 মে 2003 বলেছিল, 10 জানুয়ারি 1964 থেকে শাসনবিধি “dead law”। আপিল বিভাগ 22 নভেম্বর 2016 সেই পর্যবেক্ষণ বাতিল করে বলে, শব্দ বাদ গেলেও 26 মার্চ 1971 পর্যন্ত অঞ্চলটি শাসনবিধিতেই চলেছে, আর “Mere changing of the nomenclature does not ipso facto change the laws” (রায়, পৃ. 19)। 2016 সালের রায়ের বিরুদ্ধে দুটি রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তির আদেশ পাওয়া যায়নি।
IWGIA প্রতিবেদন (পৃ. 46) অনুযায়ী অঞ্চলটির আলাদা আবাসভূমির সরকারি স্বীকৃতি যায়, বাইরের মানুষের প্রবেশ ও জমি অর্জনের পথ খোলে, তবে শাসনবিধি থাকায় জমি “indiscriminately” দেওয়া হয়নি। আপিল বিভাগের রায়ে উল্লেখিত একটি তাৎক্ষণিক ফল: কেন্দ্রীয় রাজস্ব বোর্ড 28 ফেব্রুয়ারি 1964 জানায়, ট্রাইবাল এরিয়ার পণ্যের আবগারি শুল্ক-অব্যাহতি আর পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য নয়।
1919 সালের ভারত শাসন বিলের দফা 15(2) গভর্নর-জেনারেল-ইন-কাউন্সিলকে যেকোনো এলাকাকে “backward tract” ঘোষণা করে সেখানে আইনের প্রয়োগ বন্ধ বা সংশোধিত করার ক্ষমতা দেয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘোষণার সাল উৎসভেদে 1900, 1909, 1919 বা 1921; ঘোষণার প্রজ্ঞাপনের নম্বর কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
Scheduled Districts Act, 1874 (Act XIV of 1874) যে এলাকাগুলোকে সাধারণ আইন ও আদালতের বাইরে চিহ্নিত করে, সেগুলো শিডিউলড ডিস্ট্রিক্ট। আইনের প্রথম তফসিলে বাংলা অংশে “The Hill Tracts of Chittagong” আছে। ধারা 3 ও 5 অনুযায়ী এখানে কোন আইন চলবে, তা স্থানীয় সরকার গভর্নর-জেনারেলের পূর্বানুমতিতে গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে ঠিক করত।
সংবিধানে পার্বত্য চট্টগ্রামের নাম বা আলাদা মর্যাদা নেই। অনুচ্ছেদ 149 ও 152 অনুযায়ী 1900 সালের শাসনবিধি “existing law” হিসেবে বহাল, আর অনুচ্ছেদ 28(4) “backward section of citizens”-এর জন্য বিশেষ বিধানের সুযোগ দেয়। 2011 সালে যুক্ত অনুচ্ছেদ 23A “tribes, minor races, ethnic sects and communities”-এর সংস্কৃতি রক্ষার কথা বলে, তবে এটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, আদালতে বলবৎযোগ্য অধিকার নয়।
1972 সালে এম এন লারমা গণপরিষদে ও খসড়া সংবিধান কমিটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের “শাসনতান্ত্রিক অধিকার” দাবি করেন (24 এপ্রিল 1972-এর দাবিপত্র)। 10 ডিসেম্বর 2024 ইউপিডিএফ সংবিধান সংস্কার কমিশনে 17 দফা স্মারকলিপি দিয়ে “বিশেষ শাসনতান্ত্রিক মর্যাদা” ফেরানোর দাবি জানায়, যেখানে আগের চারটি নাম উল্লেখ আছে (প্রথম আলো)।
3 মার্চ 1936 হাউস অব লর্ডসে লিখিত উত্তরে ভারত-সচিব জেটল্যান্ড “The Excluded Areas in Bengal”-এর আয়তন 5,000 বর্গমাইল ও জনসংখ্যা 213,000 জানান। উত্তরে এলাকার নাম আলাদা করে নেই; এক সপ্তাহ আগে লর্ডসে তিনি বাংলার সম্পূর্ণ বহির্ভূত এলাকা হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের নাম বলেছিলেন।
প্রাথমিক দলিল
জুমজার্নালের আর্কাইভ
গবেষণা, আন্তর্জাতিক দলিল ও সংবাদ
পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে জুমজার্নালের সব লেখা একসঙ্গে: পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:আইন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধি ১৯০০
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।