Jumjournal Logo

আইনে আদিবাসী শব্দ: বাংলাদেশের কোন কোন আইনে ‘আদিবাসী’ আজও লেখা আছে, ধারা ধরে তালিকা

Last updated Nov 4th, 2026

0

২০১০ সালের ১২ এপ্রিলের বাংলাদেশ গেজেটের ২২৫৮ পৃষ্ঠা, যেখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইনের সংজ্ঞা-ধারার দফা (২) থেকে (৭) ছাপা, প্রথম দফায় ‘আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দগুলো দেখা যাচ্ছে

রাষ্ট্রীয় নথিতে ‘আদিবাসী’ শব্দ নেই — এই কথাটি প্রায়ই শোনা যায়। আইনে আদিবাসী শব্দ কিন্তু আছে, আর তা আজও বলবৎ আইনের পাঠে লেখা। বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয়ের আইন-ভান্ডার bdlaws-এ প্রকাশিত আইনগুলোর পূর্ণ পাঠে বাংলা ‘আদিবাসী’ শব্দটি পাওয়া যায় একটি আইনে: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, 2010-এর ধারা 2(2), যেখানে সংজ্ঞাটি “বিভিন্ন আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”। এর বাইরে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, 1950-এর ধারা 97 ইংরেজিতে ‘aboriginal’ লেখে, আর ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত বাংলা পাঠে সেই শব্দই ‘আদিবাসী’।

তালিকাটি এখানেই শেষ নয়। দুটি আইনে আছে ‘indigenous hillman’ বা ‘indigenous hill-men’ — পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি মানুষদের বোঝাতে, কর-সংক্রান্ত বিধানে। আর বন্যপ্রাণী আইন — 2012 সালের আইনটি এবং তার জায়গায় আসা 2026 সালের আইন — 2010 সালের সংজ্ঞাটিকে সরাসরি ধার করে, ফলে ‘আদিবাসী’-যুক্ত সংজ্ঞাটি সেখানেও প্রযোজ্য। নিচে প্রতিটি আইনের নাম, ধারা, হুবহু শব্দ আর সাল দেওয়া হলো; সঙ্গে সেই আইনগুলোও, যেগুলো একই মানুষদের বোঝাতে ‘উপজাতি’, ‘উপজাতীয়’, ‘পাহাড়ী’ বা ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ লেখে।

এই লেখার পাশের লেখাগুলো আলাদা কাজ করে। সরকারি নথি, শুমারি ও মন্ত্রীদের বক্তব্যে কোন শব্দ কেন — সেই বিতর্ক আছে রাষ্ট্র কোন শব্দ ব্যবহার করে: সংবিধান, শুমারি ও সরকারি নির্দেশনায় ‘আদিবাসী’ প্রশ্নের নথি-কালানুক্রম লেখায়। ৯৭ ধারার জমি-হস্তান্তরের নিয়ম আছে প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭ ধারা লেখায়, আর 2010 সালের আইনের তফসিল 27 থেকে 50 নামে কীভাবে গেল, তা আছে স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা 27 থেকে 50 হলো কীভাবে লেখায়। এখানে বিষয় কেবল আইনের পাঠ: কোন আইনে কোন শব্দ, কোন ধারায়, কবে থেকে।

সূচিপত্র

  1. আইনে আদিবাসী শব্দ কোথায় কোথায় আছে: এক নজরে
  2. কোন পাঠ দেখা হয়েছে, আর কোনটি এই তালিকার বাইরে
  3. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন 2010-এর ধারা 2(2): “আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”
  4. যে আইনগুলো 2010 সালের সংজ্ঞা ধার করে: বন্যপ্রাণী আইন 2012 ও 2026
  5. প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা 97: ইংরেজিতে ‘aboriginal’, সরকারি বাংলা পাঠে ‘আদিবাসী’
  6. ‘Indigenous hillman’: অর্থ আইন 1995 আর আয়করের ষষ্ঠ তফসিল
  7. 1944 সালের রেগুলেশন: ‘indigenous hill-men’-দের ওপর কর খাটবে না
  8. পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি 1900: আইনের পাঠে ‘tribes’, পুরোনো তফসিল ও বিধিতে ‘indigenous’
  9. সংবিধানের অনুচ্ছেদ 23ক: বাংলায় ‘উপজাতি’, ইংরেজিতে ‘tribes’
  10. পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনগুলো কোন শব্দ লেখে: ‘উপজাতীয়’ ও ‘পাহাড়ী’
  11. ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দ কোন কোন আইনে, কোন কাজে
  12. পুরোনো ইংরেজি আইনের ‘tribe’ আর নতুন আইনের ‘উপজাতি’
  13. একই বিধান, দুই ভাষায় দুই শব্দ: ইংরেজি ও বাংলা পাঠের তুলনা
  14. সময়রেখা: কোন বছরের আইনে কোন শব্দ
  15. 2010 সালের আইনের নাম বদলের প্রস্তাব: 2025 সালের খসড়া
  16. উৎসভেদে অমিল
  17. প্রশ্নোত্তর
  18. যা এখনো জানা যায়নি
  19. তথ্যসূত্র

আইনে আদিবাসী শব্দ কোথায় কোথায় আছে: এক নজরে

বাংলা ‘আদিবাসী’ শব্দ bdlaws-এ প্রকাশিত বলবৎ আইনের পাঠে আছে একটি আইনেই — 2010 সালের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইনের ধারা 2(2)-এ। ইংরেজি ‘aboriginal’ আছে 1950 সালের প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা 97-এ, যার সরকারি বাংলা পাঠে শব্দটি ‘আদিবাসী’। ‘Indigenous hillman/hill-men’ আছে 1995 সালের অর্থ আইন ও 1944 সালের একটি পার্বত্য রেগুলেশনে।

নিচের ছকে প্রথম অংশে সেই আইনগুলো, যেখানে ‘আদিবাসী’, ‘aboriginal’ বা মানুষ-অর্থে ‘indigenous’ আছে। দ্বিতীয় অংশে তুলনার জন্য এমন কয়েকটি প্রধান আইন, যেগুলো একই জনগোষ্ঠীদের বোঝাতে অন্য শব্দ লেখে। প্রতিটি শব্দ আইনের পাঠ থেকে হুবহু নেওয়া; বানান মূল পাঠের মতো রাখা হয়েছে।

আইন ধারা হুবহু শব্দ বছর অবস্থা (bdlaws অনুযায়ী)
ক. ‘আদিবাসী’, ‘aboriginal’ বা মানুষ-অর্থে ‘indigenous’
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন (2010 সনের 23 নং আইন)2(2)“বিভিন্ন আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও শ্রেণীর জনগণ”2010বলবৎ
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 (East Bengal Act XXVIII of 1951)97 (শিরোনাম ও 1–10 উপধারা)“aboriginals”, “aboriginal castes or tribes”, “aboriginal raiyat”; 2022 সালের সরকারি বাংলা পাঠে “আদিবাসী বা উপজাতীয়দের”, “আদিবাসী সমাজ অথবা গোত্র”, “আদিবাসী রায়ত”1951 (বাংলা পাঠ 2022)বলবৎ
অর্থ আইন, 1995 (1995 সনের 12 নং আইন)6 (আয়কর অধ্যাদেশের ষষ্ঠ তফসিল, Part A, paragraph 27 সংযোজন)“being an indigenous hillman of any of the hill districts of Rangamati, Bandarban and Khagrachari”1995সংশোধনী আইনটি তালিকায় আছে; যে অধ্যাদেশে অনুচ্ছেদটি বসেছিল, সেটি 2023 সালে রহিত
The Excises and Salt Act and the Finance Act (Chittagong Hill-tracts) Regulation, 1944 (Bengal Regulation II of 1944)3-এর শর্তাংশ“the indigenous hill-men in the said tracts”1944তালিকায় আছে; রহিতের উল্লেখ নেই
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, 2026 (2026 সনের 86 নং আইন)2(59)‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ মানে 2010 সালের আইনের “ধারা ২ এর দফা (২) এ সংজ্ঞায়িত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” — অর্থাৎ ‘আদিবাসী’-যুক্ত সংজ্ঞাটি উল্লেখের মাধ্যমে প্রযোজ্য2026বলবৎ; 2012 সালের আইন (ধারা 2(45)) রহিত করেছে
খ. তুলনার জন্য: একই মানুষদের অন্য শব্দে
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানঅনুচ্ছেদ 23ক“উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়”; ইংরেজি পাঠে “tribes, minor races, ethnic sects and communities”2011বলবৎ
পার্বত্য জেলাসমূহ (আইন রহিত ও প্রয়োগ এবং বিশেষ বিধান) আইন (1989 সনের 16 নং আইন)13, 15, 16“পাহাড়ী লোকদিগকে”, “কোন পাহাড়ী ব্যক্তি”, “যে কোন উপজাতি বা উপজাতির সদস্য”1989বলবৎ
রাংগামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন2 ও আরও বহু ধারা“উপজাতীয়”, “অ-উপজাতীয়”1989বলবৎ
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন2(ক), 2(খ), 5(1)“উপ-জাতীয়”, “অ-উপজাতীয়”1998বলবৎ
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন (2001 সনের 53 নং আইন)প্রস্তাবনা, 2(চ), 13(3)“অনগ্রসর উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল”, “উপজাতীয় শরণার্থী”, “উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার”2001বলবৎ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (2018 সনের 63 নং আইন)11(2)“ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”2018বলবৎ
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন (2026 সনের 106 নং আইন)5(1)“ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সদস্য”2026বলবৎ; 2009 সালের আইনের “নৃতাত্তিক (Ethnic)” শব্দ ছিল

ছকে ‘অবস্থা’ কলামটি কেবল bdlaws-এর পাঠ ও পাদটীকা থেকে নেওয়া। কোনো আইন আদালতে কতটা কার্যকর, বা বাস্তবে প্রয়োগ হয় কিনা — সেটি এই ছকের প্রশ্ন নয়।

কোন পাঠ দেখা হয়েছে, আর কোনটি এই তালিকার বাইরে

তালিকাটি তৈরি হয়েছে bdlaws.minlaw.gov.bd-তে আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগের প্রকাশিত আইনগুলোর পূর্ণ পাঠ থেকে, 4 নভেম্বর 2026 তারিখের অবস্থায়। প্রতিটি আইনের বাংলা ও ইংরেজি পাঠে ‘আদিবাসী’, ‘aboriginal’, ‘indigenous’, ‘উপজাতি/উপজাতীয়’, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’, ‘পাহাড়ী/পাহাড়ি’, ‘tribe/tribal’ ও ‘ethnic’ শব্দ মিলিয়ে দেখা হয়েছে।

কয়েকটি জিনিস এই খোঁজের আওতায় পড়ে না, পাঠকের সেটা জানা দরকার:

  • তফসিল, যেখানে bdlaws তা ছাপে না। আয়কর অধ্যাদেশ 1984 ও আয়কর আইন 2023-এর পাতায় ষষ্ঠ তফসিলের পাঠ নেই, কেবল ধারাগুলো আছে। পার্বত্য তিন জেলার কর-অব্যাহতি ওই তফসিলেই।
  • বিধি, প্রবিধান ও প্রজ্ঞাপন। bdlaws মূলত আইন, অধ্যাদেশ ও রেগুলেশন ছাপে। 1900 সালের শাসনবিধির অধীনে প্রণীত বিধিমালা, বিভিন্ন এসআরও, বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্মারক সেখানে নেই।
  • ভিন্ন ভাষার পাঠ। 1950 সালের প্রজাস্বত্ব আইন bdlaws-এ কেবল ইংরেজিতে। তার বাংলা পাঠ ভূমি মন্ত্রণালয়ের 2022 সালের গেজেটে, যা আলাদাভাবে পড়া হয়েছে।
  • নীতিমালা ও সরকারি সিদ্ধান্ত। জাতীয় শিক্ষানীতি, কোটা-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র আইন নয়; সেগুলো এই তালিকায় নেই।

ফলে “একটি আইনেই বাংলা ‘আদিবাসী’ আছে” কথাটির সীমানা স্পষ্ট: bdlaws-এ যে আইনগুলোর পাঠ প্রকাশিত, তাদের মূল পাঠে। তফসিল, বিধি বা গেজেটে আর কোথাও শব্দটি আছে কিনা, তা এই খোঁজ থেকে বলা যায় না।

শব্দরূপের বেলায়ও একটি কথা: খোঁজা হয়েছে ‘আদিবাসী’ ও ‘আদিবাসি’ দুই বানানে, বিভক্তিসহ (‘আদিবাসীদের’, ‘আদিবাসীর’)। ইংরেজিতে ‘aboriginal’, ‘aborigines’, ‘indigenous’ এবং বাংলা হরফে ‘ইন্ডিজিনাস’। এর মধ্যে ‘indigenous’ শব্দটি অনেক আইনে পাওয়া যায় পণ্য বা উপকরণ অর্থে — “indigenous raw materials” (কাস্টমস আইন 1969), “indigenous petrol” (The President’s (Remuneration and Privileges) Act, 1975), “indigenous building materials” (The Housing and Building Research Institute Ordinance, 1977) — এগুলো মানুষ বোঝায় না, তাই তালিকায় রাখা হয়নি।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন 2010-এর ধারা 2(2): “আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”

2010 সালের 23 নং আইনের ধারা 2(2) ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দের সংজ্ঞা দিয়েছে এভাবে: “”ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” অর্থ তফসিলে উল্লিখিত বিভিন্ন আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও শ্রেণীর জনগণ”। আইনটির বাকি সব ধারা ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ লেখে; ‘আদিবাসী’ কেবল এই সংজ্ঞায়।

২০১০ সালের ১২ এপ্রিলের বাংলাদেশ গেজেটের ২২৫৮ পৃষ্ঠা, যেখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইনের সংজ্ঞা-ধারার দফা (২) থেকে (৭) ছাপা, প্রথম দফায় ‘আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দগুলো দেখা যাচ্ছে
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, 12 এপ্রিল 2010, পৃষ্ঠা 2258: ধারা 2-এর দফা (২) থেকে (৭)। ছবি: বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (dpp.gov.bd) · সরকারি দলিল

গেজেটের প্রথম পাতায় লেখা, সংসদে গৃহীত আইনটি 12 এপ্রিল 2010 (29 চৈত্র 1416) রাষ্ট্রপতির সম্মতি পায় এবং একই দিন অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। সংজ্ঞা-ধারাটি ছাপা হয়েছে পৃষ্ঠা 2258-এ। bdlaws-এর বর্তমান পাঠ গেজেটের এই বাক্যের সাথে হুবহু মেলে — ‘শ্রেণীর’ বানানসহ।

সংজ্ঞাটি কী কী বলে

বাক্যটির তিনটি অংশ আলাদা করে পড়া যায়। প্রথমত, কারা ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ তা ঠিক করে তফসিল — নামের তালিকা। দ্বিতীয়ত, সেই তালিকার মানুষদের বর্ণনা: “বিভিন্ন আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”। তৃতীয়ত, শেষে “ও শ্রেণীর জনগণ”। বাংলা ‘তথা’ শব্দের অর্থ ‘অর্থাৎ’ বা ‘এবং’ — আইনটি নিজে শব্দটির কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

তফসিলটি 2010 সালের গেজেটে 27টি নামে ছাপা হয়েছিল; 2019 সালের এসআরও 78-আইন/2019 সেটি বদলে 50টি নাম বসায়। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী 25 জুন 2026 সংসদে লিখিত প্রশ্নের জবাবে বলেন, “‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০’-এর তফসিল (সংশোধিত-২০১৯) অনুযায়ী বর্তমানে দেশে গেজেটভুক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০টি” (বাসস)। তালিকার ইতিহাস আলাদা লেখায় আছে; এখানে লক্ষ করার কথা এটুকু যে তফসিল বদলালেও ধারা 2(2)-এর বাক্য বদলায়নি।

আইনের অন্য ধারাগুলো

সংজ্ঞার বাইরে আইনটি ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দটি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের নামে ও কাজের বর্ণনায়। ধারা 4 নাম ধরে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে এই আইনের প্রতিষ্ঠান ঘোষণা করে — বিরিশিরি (নেত্রকোণা), রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাজশাহী ও মৌলভীবাজারের — আর প্রজ্ঞাপনে অন্য প্রতিষ্ঠান ঘোষণার সুযোগ রাখে। ধারা 12(1)-এর শর্তাংশ বলে, “শতকরা আশি ভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারী স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্য হইতে নিয়োগ করিতে হইবে।” আইনটির আর্কাইভ-কপি আমাদের সংগ্রহে আছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ পাতায়।

আইনটির প্রস্তাবনায় ‘আদিবাসী’ নেই। সেখানে লেখা: “বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে”। প্রস্তাবনার এই ভাষা পরের বছর সংবিধানের অনুচ্ছেদ 23ক-এর ভাষার খুব কাছাকাছি — “অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের” — তবে সংবিধান সেখানে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ নয়, “উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়” লেখে।

আইনটির কোনো ইংরেজি পাঠ bdlaws-এ প্রকাশিত নেই। ফলে ধারা 2(2)-এর ‘আদিবাসী’ ইংরেজিতে সরকারিভাবে কী শব্দে অনূদিত, তা জানা যায় না।

যে আইনগুলো 2010 সালের সংজ্ঞা ধার করে: বন্যপ্রাণী আইন 2012 ও 2026

দুটি আইন ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দের নিজস্ব সংজ্ঞা না দিয়ে 2010 সালের আইনের ধারা 2(2)-কে সরাসরি উল্লেখ করেছে। ফলে সেখানেও ‘আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ সংজ্ঞাটিই খাটে, যদিও শব্দটি ওই আইনের পাঠে লেখা নেই। একটি 2012 সালের বন্যপ্রাণী আইন, অন্যটি তার জায়গায় আসা 2026 সালের আইন।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, 2012 (2012 সনের 30 নং আইন, 10 জুলাই 2012), ধারা 2(45): “‘‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’’ অর্থ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ২৩ নং আইন) এর ধারা ২(২) এ সংজ্ঞায়িত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।” এই আইনে শব্দটি কাজে লেগেছে দুই জায়গায়: ধারা 21-এ অভয়ারণ্যে সহ-ব্যবস্থাপনায় “বনাঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও স্থানীয় জনসাধারণের” অংশীদারিত্ব, আর ধারা 32-এর শর্তাংশে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রথাগত, ঐতিহ্য বা দৈনন্দিন জীবন ধারণের অংশ হিসাবে ব্যবহৃত” বন্যপ্রাণীর ট্রফি বা স্মৃতিচিহ্ন জব্দের বাইরে রাখা।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, 2026 (2026 সনের 86 নং আইন, 10 এপ্রিল 2026) ধারা 54(1)-এ 2012 সালের আইন রহিত করেছে। নতুন আইনের ধারা 2(59)-এ সংজ্ঞাটি একই পদ্ধতিতে: “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ২৩ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (২) এ সংজ্ঞায়িত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”। সহ-ব্যবস্থাপনার বিধান এখন ধারা 25(1)-এ, “বনে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও স্হানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ”। ট্রফির ব্যতিক্রম ধারা 36-এ, তবে একটি শর্ত যোগ হয়েছে: ব্যতিক্রমটি কেবল “এই আইন প্রণয়নের পূর্বে সংগৃহীত ও ব্যবহৃত” ট্রফির জন্য।

এর আগে একই বছর 7 জানুয়ারি জারি হওয়া বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, 2026 (2026 সনের 09 নং অধ্যাদেশ)-এর ধারা 2(59)-এও সংজ্ঞাটি হুবহু এক। অর্থাৎ 2026 সালে নতুন করে লেখা একটি আইনও ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ বোঝাতে 2010 সালের সংজ্ঞার ওপরই দাঁড়িয়েছে।

অন্য আইনগুলো — মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন 2018, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন 2014 বা মানবাধিকার কমিশন আইন 2026 — ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ লেখে, কিন্তু কোনো সংজ্ঞা দেয় না এবং 2010 সালের আইনকেও উল্লেখ করে না। সেগুলোর পাঠ নিচের একটি অংশে আলাদা আছে।

প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা 97: ইংরেজিতে ‘aboriginal’, সরকারি বাংলা পাঠে ‘আদিবাসী’

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, 1950-এর ধারা 97-এর শিরোনাম ইংরেজিতে “Restriction on alienation of land by aboriginals”। ভূমি মন্ত্রণালয় 2022 সালে যে বাংলা পাঠ গেজেটে প্রকাশ করেছে, সেখানে শিরোনাম “আদিবাসী বা উপজাতীয়দের দ্বারা ভূমি হস্তান্তরে বিধি-নিষেধ”, আর ধারার ভেতরে প্রতিটি ‘aboriginal’ হয়েছে ‘আদিবাসী’।

bdlaws-এ আইনটির পরিচয় East Bengal Act No. XXVIII of 1951, তারিখ 16 মে 1951। ধারা 97(1)-এর ইংরেজি পাঠ:

“The Government may from time to time, by notification, declare that the provisions of this section shall, in any district or local area, apply to such of the following aboriginal castes or tribes as may be specified in the notification, and that such castes or tribes shall be deemed to be aboriginals for the purposes of this section …”

এরপর 21টি নাম: “Sonthals, [Banais] Bhuiyas, Bhumijes, Dalus, Garos, Gonds, Hadis, Hajangs, Hos, Kharias, Kharwars, Kochs (Dhaka Division), Koras, Maghs (Bakerganj District), Mal and Sauria Paharias, Maches, Mundas, Mundais, Oraons and Turis”। উপধারা (2) থেকে বাকি ধারায় শব্দটি আসে “aboriginal raiyat” ও “another aboriginal” রূপে।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের বাংলাদেশ গেজেটের ১৯৯৩১ পৃষ্ঠার অংশ, যেখানে ৯৭ ধারার শিরোনাম ‘আদিবাসী বা উপজাতীয়দের দ্বারা ভূমি হস্তান্তরে বিধি-নিষেধ’, উপধারা (১)-এর জাতির তালিকা ও উপধারা (২) ছাপা
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, 1950-এর অনুমোদিত বাংলা পাঠ, ধারা 97 (বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, 31 ডিসেম্বর 2022, পৃষ্ঠা 19931)। ছবি: ভূমি মন্ত্রণালয় (minland.gov.bd) · সরকারি দলিল

বাংলা পাঠটি এসেছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন এস.আর.ও নং 378-আইন/2022 থেকে, তারিখ 22 ডিসেম্বর 2022 (7 পৌষ 1429), প্রকাশ বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায়, শনিবার 31 ডিসেম্বর 2022। প্রজ্ঞাপনের ভাষা: সরকার “State Acquisition and Tenancy Act, 1950 (Act No. XXVIII of 1951) এর অনুমোদিত বাংলা পাঠ সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে প্রকাশ করিল”। সেই পাঠে ধারা 97(1):

“সরকার, সময় সময়, প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ঘোষণা করিতে পারিবে যে, এই ধারার বিধানাবলি কোনো জেলা অথবা স্থানীয় এলাকার প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত আদিবাসী সমাজ অথবা গোত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে এবং এইরূপ সমাজ অথবা গোত্র এই ধারার উদ্দেশ্যে আদিবাসী হিসাবে গণ্য হইবে …”

আর উপধারা (2): “এই ধারায় যেরূপ বিধান রাখা হইয়াছে উহা ব্যতীত কোনো আদিবাসী রায়ত কর্তৃক তাহার জোত বা উহার অংশে তাহার কোনো অধিকার হস্তান্তর বৈধ হইবে না, যদিনা ইহা বাংলাদেশের নিবাসী বা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী আদিবাসীর নিকট করা হয় …”

দুই পাঠের শব্দ পাশাপাশি

ইংরেজি পাঠ (bdlaws)অনুমোদিত বাংলা পাঠ (গেজেট 2022)
Restriction on alienation of land by aboriginalsআদিবাসী বা উপজাতীয়দের দ্বারা ভূমি হস্তান্তরে বিধি-নিষেধ
aboriginal castes or tribesআদিবাসী সমাজ অথবা গোত্র
shall be deemed to be aboriginalsআদিবাসী হিসাবে গণ্য হইবে
aboriginal raiyatআদিবাসী রায়ত
another aboriginal domiciled or permanently residing in Bangladeshবাংলাদেশের নিবাসী বা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী আদিবাসীর
any person who is not such an aboriginalআদিবাসী নহেন এইরূপ কোনো ব্যক্তির

শিরোনামে বাংলা পাঠ একটি শব্দ যোগ করেছে — ‘বা উপজাতীয়দের’ — যা ইংরেজি শিরোনামে নেই। ধারার ভেতরে ‘castes or tribes’ হয়েছে ‘সমাজ অথবা গোত্র’, অর্থাৎ ‘tribe’-এর বাংলা এখানে ‘উপজাতি’ নয়, ‘গোত্র’।

এই ধারায় তালিকাভুক্ত নামগুলোর মধ্যে ‘Banais’ (বানাই) পরে যোগ হয়েছে। ধারাটি জমি হস্তান্তরে কী কী শর্ত দেয়, প্রতিকার কী, আর বাস্তবে তা কতটা খাটে — এসব আছে প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭ ধারা: সমতলে আদিবাসীর জমি হস্তান্তরে যে বিধান লেখায়।

একটি সাধারণ দাবি, মূল পাঠের পাশে

আমাদের আর্কাইভে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরার একটি প্রবন্ধ আছে, যা 20 এপ্রিল 2011 ঢাকার একটি আলোচনা সভার জন্য লেখা। তাতে আছে, 1950 সালের আইনে আদিবাসীদের “এবরোজিনাল কাস্ট এন্ড ট্রাইবস” বলা হয়েছে (আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও এর প্রাসঙ্গিকতা)। bdlaws-এর পাঠে শব্দগুচ্ছটি “aboriginal castes or tribes” — প্রবন্ধের উদ্ধৃতি ও আইনের পাঠ মেলে।

‘Indigenous hillman’: অর্থ আইন 1995 আর আয়করের ষষ্ঠ তফসিল

অর্থ আইন, 1995 (1995 সনের 12 নং আইন, 30 জুন 1995)-এর ধারা 6 আয়কর অধ্যাদেশ, 1984 সংশোধন করে। তার একটি অংশ অধ্যাদেশের ষষ্ঠ তফসিলের Part A-তে paragraph 26-এর পর নতুন paragraph 27 যোগ করে, যার ভাষা “an individual, being an indigenous hillman of any of the hill districts of Rangamati, Bandarban and Khagrachari”।

bdlaws-এ সংরক্ষিত অর্থ আইন 1995-এর পাঠে সংযোজনটি এভাবে ছাপা:

“(গ) paragraph 26 এর পর নিম্নরূপ paragraph 27 ও 28 সংযোজিত হইবে, যথা:- 27. Notwithstanding anything contained in any order or regulation for the time being in force, any income of an individual, being an indigenous hillman of any of the hill districts of Rangamati, Bandarban and Khagrachari, which has been derived solely from economic activities undertaken within the said hill districts.”

ষষ্ঠ তফসিলের Part A হলো মোট আয় থেকে বাদ যায় এমন আয়ের তালিকা। অর্থাৎ বিধানটির কাজ: পার্বত্য তিন জেলার একজন ‘indigenous hillman’-এর সেই আয়, যা কেবল ওই জেলাগুলোর ভেতরের অর্থনৈতিক কাজ থেকে এসেছে, করের হিসাবের বাইরে।

bdlaws-এর পাঠে ধারা 6-এর যে উপধারাটি ষষ্ঠ তফসিল সংশোধন করে, তার ক্রমিক চিহ্ন ঠিকমতো আসেনি — ঠিক আগের ‘(৪৭) THE FOURTH SCHEDULE’ উপধারাটি দুবার ছাপা হয়েছে, আর ষষ্ঠ তফসিলের অংশটি শুরু হয়েছে “(১) PART A এর-” দিয়ে। তাই এখানে উপধারার নম্বর না দিয়ে কেবল ‘ধারা 6’ লেখা হলো।

অধ্যাদেশটি রহিত, তফসিলের অনুচ্ছেদটি কোথায় গেল

আয়কর আইন, 2023 (2023 সনের 12 নং আইন, 22 জুন 2023)-এর ধারা 344(1) বলে: “এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে Income-tax Ordinance, 1984 (Ordinance No. XXXVI of 1984) … এতদ্দ্বারা রহিত হইবে।” ফলে paragraph 27-এর ইংরেজি পাঠ আর বলবৎ আইনের অংশ নয়।

নতুন আইনেও পার্বত্য জেলার জন্য এমন একটি অব্যাহতি আছে — ষষ্ঠ তফসিলের অংশ 1-এর অনুচ্ছেদ (19)-এ। অর্থ আইন, 2026 (2026 সনের 96 নং আইন, 30 জুন 2026)-এর ধারা 157(ক) বলে, আয়কর আইনের ষষ্ঠ তফসিলের “অংশ ১ এর অনুচ্ছেদ (১৯) এ উল্লিখিত “অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড” শব্দগুলির পর “(আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয় ব্যতীত)” শব্দগুলি ও বন্ধনী সন্নিবেশিত হইবে”। কিন্তু অনুচ্ছেদ (19)-এর পূর্ণ পাঠ bdlaws-এ ছাপা নেই, তাই সেখানে মানুষদের কোন শব্দে বলা হয়েছে, তা আইনের পাতা থেকে মেলানো যায় না।

প্রথম আলোর 23 জুন 2026-এর একটি প্রতিবেদনে পার্বত্য অঞ্চলের চার সংসদ সদস্যের অর্থমন্ত্রীকে লেখা চিঠির বিবরণ আছে। প্রতিবেদনটি আইনের বিধানকে এভাবে বর্ণনা করেছে: “আইনে বলা হয়েছে, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ‘উপজাতিদের’ কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তির আয়, যা কেবল পার্বত্য জেলায় পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত, তা আয়করমুক্ত হবে।” একই প্রতিবেদনে লেখা, বাজেট প্রস্তাব পাস হলে বেতন ও আর্থিক পরিসম্পদের আয় ছাড়া অন্য সব আয় করের আওতায় আসবে বলে সংসদ সদস্যরা আশঙ্কা করেছিলেন। 30 জুন পাস হওয়া অর্থ আইনের ধারা 157(ক)-এর শব্দ উপরে দেওয়া হলো।

অর্থাৎ 1995 সালে আইনে বসা ‘indigenous hillman’ 2023 সালের বাংলা আইনে কোন শব্দে এসেছে — প্রথম আলোর বিবরণে ‘উপজাতি’ — তা আয়কর আইনের তফসিলের মূল পাঠ দেখে নিশ্চিত করা যায়নি।

1944 সালের রেগুলেশন: ‘indigenous hill-men’-দের ওপর কর খাটবে না

The Excises and Salt Act and the Finance Act (Chittagong Hill-tracts) Regulation, 1944 (Bengal Regulation No. II of 1944, 10 আগস্ট 1944) দুটি কেন্দ্রীয় আইন পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রয়োগ করেছিল। তার ধারা 3-এর শর্তাংশ বলে, Finance Act, 1944-এর section 6 ও Second Schedule “shall not so apply … to the indigenous hill-men in the said tracts।” রেগুলেশনটি এখনো bdlaws-এর তালিকায় আছে।

ধারা 3-এর পূর্ণ পাঠ:

“The Finance Act, 1944, with the exception of sections 4, 7 and 8 of that Act shall apply to the Chittagong Hill-tracts and shall be deemed to have applied to the said tracts with effect from the 1st day of April, 1944 : Provided that section 6 of, and the Second Schedule to, the Finance Act, 1944, shall not so apply and shall not be so deemed to have applied to the indigenous hill-men in the said tracts.”

bdlaws-এর পাদটীকায় দেখা যায়, Bangladesh Laws (Revision And Declaration) Act, 1973 (Act No. VIII of 1973)-এর ধারা 3 ও দ্বিতীয় তফসিল অনুযায়ী রেগুলেশনের শিরোনাম ও পাঠ থেকে “Central” শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। রেগুলেশন রহিত হওয়ার কোনো পাদটীকা নেই। অর্থাৎ 1973 সালে বাংলাদেশের আইন হিসেবে পাঠটি সংশোধিত হয়েছিল, আর ‘indigenous hill-men’ শব্দগুচ্ছটি তখন যেমন ছিল তেমনই থেকেছে।

Finance Act, 1944-এর section 6 ও Second Schedule-এ ঠিক কী ছিল, সেই আইনের পাঠ bdlaws-এ প্রকাশিত নেই; তাই কোন করটি ‘indigenous hill-men’-দের ওপর খাটেনি, তা এই রেগুলেশনের পাঠ থেকে বলা যায় না।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি 1900: আইনের পাঠে ‘tribes’, পুরোনো তফসিল ও বিধিতে ‘indigenous’

bdlaws-এ প্রকাশিত The Chittagong Hill-tracts Regulation, 1900 (Regulation I of 1900)-এর পাঠে ‘indigenous’ বা ‘aboriginal’ শব্দ নেই। আছে ‘tribes’ — ধারা 8(4)-এ, যা 2003 সালের সংশোধনী আইনে যোগ হয়েছে। ‘indigenous hillmen’ ও ‘indigenous tribe’ পাওয়া যায় শাসনবিধির সঙ্গে ছাপা পুরোনো আইন-তালিকা ও বিধিমালায়, যা bdlaws-এ নেই।

ধারা 8(4)-এর পাঠ: “The Joint District Judge as a court of original jurisdiction, shall try all civil cases in accordance with the existing laws, customs and usages of the districts concerned, except the cases arising out of the family laws and other customary laws of the tribes of the districts of Rangamati, Khagrachory and Bandarban respectively which shall be triable by the Mauza Headmen and Circle Chiefs.” bdlaws-এর পাদটীকা অনুযায়ী উপধারা (3), (4) ও (5) যোগ হয়েছে The Chittagong Hill-Tracts Regulation (Amendment) Act, 2003-এর ধারা 4 দ্বারা।

পুরোনো আইন-তালিকায় ‘except the indigenous hillmen’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শাসনবিধি 1900-এর একটি সংকলনে, কোন কেন্দ্রীয় আইন কোন শর্তে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রয়োগ হয়েছিল তার একটি দীর্ঘ তালিকা আছে। সেখানে কয়েকটি করের আইনের পাশে শর্ত লেখা:

  • The Income-Tax Act, 1922: “Shall apply to all persons in the Chittagong Hill Tracts except the indigenous hillmen.” — প্রয়োগের সূত্র হিসেবে লেখা The Chittagong Hill Tracts Laws Regulation, 1937 (Bengal Regulation No. II of 1937)।
  • The Income-Tax (Amendment) Act, 1924: একই শর্ত, একই রেগুলেশন।
  • The Income Tax (Amendment) Ordinance, 1945: “none of the provisions shall apply to the Indigenous Hillmen”।
  • Pakistan Finance Act (Amendment) Ordinance, 1949: “section 2 shall not apply to the Indigenous Hillmen”।

এই সংকলনের উৎস-পাঠ, অর্থাৎ 1937 সালের রেগুলেশনটি, bdlaws-এ প্রকাশিত নেই। 1939, 1942, 1943, 1944 ও 1946 সালের কয়েকটি Chittagong Hill-tracts Laws Regulation bdlaws-এ আছে; তাদের কোনোটির পাঠে ‘indigenous’ শব্দ নেই, কেবল উপরের 1944 সালের এক্সাইজ ও ফাইন্যান্স রেগুলেশনে আছে।

বিধিমালায় ‘tribe indigenous to the Hill Tracts’

একই সংকলনের দেওয়ানি বিচার-সংক্রান্ত বিধিতে দুটি বাক্য আছে। একটি আপিলের কোর্ট-ফি নিয়ে: “No court-fess shall be payable on a memorandum of appeal in cases where a Chakma, Mogh or member of any tribe indigenous to the Hill Tracts is an appellant”। অন্যটি ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে: “In any case in which the judgment-debtor is a member of an indigenous tribe and was not residing in or carrying on business outside the Hill Tracts …”।

জুমজার্নালের ইংরেজি আর্কাইভের লেখা Why the Jumma Peoples’ claim for Indigenous Identity is reasonable (জুন 2020) প্রথম বাক্যটিকে শাসনবিধির “Rule 4 and 52”-এর বলে উল্লেখ করেছে। সংকলনের কপিতে বিধির ক্রমিক নম্বর পরিষ্কার পড়া যায় না। এই বিধিগুলো এখনো বলবৎ কিনা, আর 2003 সালের সংশোধনীর পর দেওয়ানি বিচারের নিয়মে কী বদলেছে, সে প্রশ্নে শাসনবিধির আইনি অবস্থা নিয়ে আদালতের রায়ের আলোচনা আছে রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলা: শাসনবিধি ১৯০০ মৃত আইন রায় লেখায়।

আমাদের আর্কাইভের শক্তিপদ ত্রিপুরার প্রবন্ধ (2011) লিখেছে, “১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি, ১৯৯৫ সালের অর্থ আইন, আদালতের রায়, রাজস্ব বোর্ডের একাধিক স্মারক ও নথিতে ‘ইন্ডিজিনাস হিলম্যান’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।” অর্থ আইন 1995-এর পাঠে শব্দটি আছে (উপরে)। শাসনবিধির ক্ষেত্রে শব্দটি bdlaws-এর মূল পাঠে নেই; তফসিল ও বিধির সংকলনে ‘indigenous hillmen’ ও ‘indigenous tribe’ আছে।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ 23ক: বাংলায় ‘উপজাতি’, ইংরেজিতে ‘tribes’

সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দ নেই। অনুচ্ছেদ 23ক-এর বাংলা পাঠ: “রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।” ইংরেজি পাঠ: “the tribes, minor races, ethnic sects and communities”। অনুচ্ছেদটি পঞ্চদশ সংশোধনী (2011 সনের 14 নং আইন)-এর ধারা 14 দ্বারা সন্নিবেশিত।

বাংলা ও ইংরেজি পাঠে চারটি শব্দ জোড়ায় জোড়ায় মেলে: উপজাতি — tribes; ক্ষুদ্র জাতিসত্তা — minor races; নৃ-গোষ্ঠী — ethnic sects; সম্প্রদায় — communities। লক্ষ করার মতো একটি ব্যাপার: সংবিধানে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দবন্ধ নেই — ‘ক্ষুদ্র’ বসেছে ‘জাতিসত্তা’-র আগে, আর ‘নৃ-গোষ্ঠী’ আলাদা শব্দ।

অনুচ্ছেদটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অংশ, আর অনুচ্ছেদ 8(2) অনুযায়ী মূলনীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য নয়। এর বিস্তারিত আছে সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদ আদালতে বলবৎ করা যায় না — কারণটা ৮(২) অনুচ্ছেদে লেখায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনগুলো কোন শব্দ লেখে: ‘উপজাতীয়’ ও ‘পাহাড়ী’

1989 সাল থেকে প্রণীত পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনগুলো মানুষদের বোঝাতে ‘উপজাতি’ বা ‘উপজাতীয়’ লেখে, আর অন্যদের বোঝাতে ‘অ-উপজাতীয়’। একটি আইন — 1989 সালের পার্বত্য জেলাসমূহ (আইন রহিত ও প্রয়োগ এবং বিশেষ বিধান) আইন — ‘পাহাড়ী’ শব্দও ব্যবহার করে। এগুলোর কোনোটিতে ‘আদিবাসী’ নেই।

পার্বত্য জেলাসমূহ (আইন রহিত ও প্রয়োগ এবং বিশেষ বিধান) আইন, 1989

1989 সনের 16 নং আইন, তারিখ 2 মার্চ 1989। একই আইনে তিনটি ধারায় দুটি শব্দ:

  • ধারা 13 (শন ঘাস আহরণের অধিকার): “ডেপুটি কমিশনার যুক্তিসংগত মনে করিলে পার্বত্য জেলাসমূহে পাহাড়ী লোকদিগকে তাঁহাদের গৃহে ব্যবহারের জন্য বিনা রয়্যালটিতে শন ঘাস আহরণের অনুমতি দিতে পারিবেন৷”
  • ধারা 15(1) (বসতবাড়ীর জন্য গ্রামীণ জমি দখল): “কোন পাহাড়ী ব্যক্তি পৌর এলাকা-বহির্ভূত অনধিক ত্রিশ শতাংশ পর্যন্ত খাস জমি তাহার নিজ বসতবাড়ীর জন্য হেডম্যানের অনুমতিক্রমে বিনা বন্দোবস্তিতে দখল করিতে পারিবেন৷”
  • ধারা 16 (দলিল রেজিষ্টারী ফিস): সরকার “পার্বত্য জেলা সমূহের যে কোন উপজাতি বা উপজাতির সদস্য কর্তৃক প্রদেয় দলিল রেজিষ্টারী ফিসের হার হ্রাস করিতে পারিবে৷”

শাসনবিধি 1900-এর সংকলনের বিধির সূচিতে একই বিষয়ে ইংরেজি শব্দ ছিল ‘hillmen’ — “45A. Deputy Commissioner may allow hillmen to extract, free of royalty, Sungrass for home consumption”। 1989 সালের বাংলা আইনে সেটির জায়গায় ‘পাহাড়ী’।

তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ও আঞ্চলিক পরিষদ আইন

রাংগামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন (1989) — তিনটিই ধারা 2-এ ‘উপজাতীয়’ শব্দের সংজ্ঞা দিয়েছে, প্রতিটি জেলার জন্য নাম ধরে আলাদা তালিকায়। কোন জেলায় কোন নাম, তার তুলনা আছে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ আইন উপজাতীয় সংজ্ঞা লেখায়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন (1998)-এর ধারা 2(ক): “‘অ-উপজাতীয়’ অর্থ যিনি উপ-জাতীয় নহেন”। ধারা 5(1) পরিষদের গঠনে “বার জন উপ-জাতীয় সদস্য”, “ছয় জন অ-উপজাতীয় সদস্য”, “দুইজন উপ-জাতীয় মহিলা সদস্য” ও “একজন অ-উপজাতীয় মহিলা সদস্য” রাখে। একই আইনে বানান কোথাও ‘উপজাতীয়’, কোথাও ‘উপ-জাতীয়’।

ভূমি কমিশন আইন 2001 ও উন্নয়ন বোর্ড আইন 2014

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন (2001 সনের 53 নং আইন, 17 জুলাই 2001)-এর প্রস্তাবনা শুরু হয় এভাবে: “যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রাম অনগ্রসর উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল”। পরের বাক্যে “এই অঞ্চলের উপজাতীয় অধিবাসীগণসহ সকল নাগরিকের” অধিকারের কথা। ধারা 2(চ) ‘পুনর্বাসিত শরণার্থী’-র সংজ্ঞায় লেখে, 9 মার্চ 1997 আগরতলায় “সরকারের সহিত উপজাতীয় শরণার্থী নেতৃবৃন্দের সম্পাদিত চুক্তির” কথা। ধারা 13(3) — যা 2016 সালের সংশোধনী আইন (2016 সনের 45 নং আইন)-এর ধারা 8 দ্বারা যোগ হয়েছে — কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে “পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার” দেয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন (2014 সনের 8 নং আইন, 8 জুলাই 2014)-এর ধারা 6(2)-এর শর্তাংশ: “চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার উপজাতীয়দেরকে অগ্রাধিকার প্রদান করিবে”। আইনটি ‘উপজাতীয়’ শব্দের কোনো সংজ্ঞা দেয়নি।

‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দ কোন কোন আইনে, কোন কাজে

2010 সালের পর থেকে প্রণীত আইনগুলোতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দ ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’। শিক্ষা, ভাষা, বন, মাদক, মানবাধিকার, সংস্কৃতি, দুর্যোগ, উপাত্ত-সুরক্ষা ও আঞ্চলিক উন্নয়ন — নানা বিষয়ের আইনে শব্দটি আছে। কয়েকটি আইন আবার সংবিধানের ভাষা অনুসরণ করে ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তা’ ও ‘নৃ-গোষ্ঠী’ আলাদা লেখে।

আইনধারাহুবহু শব্দ ও প্রসঙ্গবছর
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আইন (2010 সনের 59 নং আইন)2(1)‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা’ মানে “পৃথিবীর সকল বৃহৎ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষা”2010
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন (2012 সনের 34 নং আইন)27-এর ব্যাখ্যা‘সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী’-র মধ্যে “উপ-জাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃ-গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত হইবে”2012
বাংলা একাডেমি আইন (2013 সনের 33 নং আইন)10(15)“বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসমূহের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সংরক্ষণে সহায়তা করা”2013
বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন (2013 সনের 48 নং আইন)6সমতা নীতি: “ভাষা, বয়স, নৃ-গোষ্ঠী, গোত্র-পরিচয়” ইত্যাদির কারণে বৈষম্য নয়2013
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন (2014 সনের 14 নং আইন)6(ঘ), 8(1)-এর শর্তাংশ“শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”; “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য তাহাদের অভিপ্রায় অনুযায়ী নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিজস্ব ভাষায় পাঠদানের ব্যবস্থা করা যাইবে”2014
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড আইন (2018 সনের 62 নং আইন)8(ঙ)বোর্ডের কাজ: “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন”2018
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (2018 সনের 63 নং আইন)11(2)অ্যালকোহল-বিধিনিষেধের ব্যতিক্রম: “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কর্তৃক তাড়ি ও পচুঁই পান” এবং পার্বত্য তিন জেলা ও অন্যান্য অঞ্চলের “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কর্তৃক ঐতিহ্যগতভাবে প্রচলিত অথবা প্রস্তুতকৃত মদ পান”2018
বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ আইন (2019 সনের 7 নং আইন)5(ক)“ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী” — কল্যাণের লক্ষ্যগোষ্ঠীর তালিকায়2019
বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন (2026 সনের 56 নং আইন)4(চ), 5(1)(গ), 6-এর শর্তাংশ“ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বন অধিকার, ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত অধিকার”; অধিগ্রহণে “পার্বত্য চট্টগ্রামসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চলে” প্রথাগত বন অধিকার নিষ্পত্তি সাপেক্ষে2026
ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন (2026 সনের 63 নং আইন)2(21)(গ)সংবেদনশীল উপাত্তের মধ্যে “ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়-সম্পর্কিত উপাত্ত”2026
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আইন, 1989 (2026 সনের 71 নং আইনে প্রতিস্থাপিত ধারা 5)5(1)(জ)পরিষদে “সরকার কর্তৃক মনোনীত ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী হইতে ১ (এক) জন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব”2026
ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন (2026 সনের 70 নং আইন)7(প)“ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন”; রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন (2026 সনের 74 নং আইন)-এ একই বাক্য2026
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন (2026 সনের 106 নং আইন)5(1), 7(1)(ঝ)কমিশনারদের মধ্যে “ন্যূনতম একজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সদস্য”; বাছাই কমিটিতে “নৃ-গোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্য হইতে” একজন প্রতিনিধি2026

এই তালিকার একটি আইনও ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’-র সংজ্ঞা দেয় না, আর কোনোটি 2010 সালের আইনকে উল্লেখ করে না — এখানে ব্যতিক্রম কেবল আগের অংশে বলা বন্যপ্রাণী আইন। ফলে মাদক আইনের ধারা 11(2)-এর ব্যতিক্রম কারা পাবেন, বা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষায় নিজস্ব ভাষায় পাঠদানের সুযোগ কাদের — সেটি আইনের পাঠে তালিকা ধরে নির্দিষ্ট নয়।

মাতৃভাষায় পাঠ্যবই কোন কোন ভাষায় দেওয়া হয়, তার বাস্তব হিসাব আছে কোন পাঁচটি ভাষায় পাঠ্যবই দেওয়া হয় লেখায়।

পুরোনো ইংরেজি আইনের ‘tribe’ আর নতুন আইনের ‘উপজাতি’

উনিশ ও বিশ শতকের কয়েকটি ইংরেজি আইনে ‘tribe’ শব্দ আছে, প্রায় সবখানে “race, sect or tribe” শব্দগুচ্ছে — কোনো জনগোষ্ঠীকে আইনের কিছু বিধান থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা হিসেবে। যেখানে এমন আইন পরে বাংলায় নতুন করে লেখা হয়েছে, সেখানে ‘tribe’ হয়েছে ‘উপজাতি’।

  • The Succession Act, 1925, ধারা 3(1): সরকার “the members of any race, sect or tribe” আইনের নির্দিষ্ট ধারাগুলো থেকে অব্যাহতি দিতে পারে, যাদের ক্ষেত্রে সেগুলো প্রয়োগ “impossible or inexpedient”।
  • The Married Women’s Property Act, 1874, ধারা 2: একই ধরনের অব্যাহতির ক্ষমতা, “the members of any race, sect or tribe”।
  • The Transfer of Property Act, 1882, ধারা 69(1)(a): বন্ধকীর বিক্রয়-ক্ষমতা প্রসঙ্গে “a member of any other race, sect, tribe or class”।
  • The Representation of the People Order, 1972, অনুচ্ছেদ 73: কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট চাওয়া, এই কারণে যে তিনি একটি নির্দিষ্ট “religion, community, race, caste, sect or tribe”-এর।
  • The Chittagong Hill-tracts Frontier Police Regulation, 1881, ধারা 2: ‘active service’ মানে সীমান্ত-চৌকিতে বা “against hostile tribes” কাজ।

ইংরেজি আইন বাংলায় নতুন করে লেখা হলে

দুটি জোড়া সরাসরি তুলনা করা যায়, কারণ পরের বাংলা আইন আগের ইংরেজি আইনটি রহিত করেছে:

  • ট্রেডমার্ক। The Trade Marks Act, 1940-এর ধারা 6(d) নিবন্ধনের অযোগ্য শব্দের মধ্যে রাখে “the name of a sect, caste or tribe in Bangladesh”। ট্রেডমার্ক আইন, 2009 (2009 সনের 19 নং আইন)-এর ধারা 127(1) আগের আইনটি রহিত করে, আর তার ধারা 6(1)(ঘ)-তে একই কথা: “বাংলাদেশের কোন সম্প্রদায়, গোত্র বা উপজাতীর নাম”।
  • তাঁত। The Bangladesh Handloom Board Ordinance, 1977-এর তাঁতের তালিকায় “special type looms used by tribal people”। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড আইন, 2013 (2013 সনের 64 নং আইন) সেই অধ্যাদেশ রহিত করে পুনঃপ্রণয়ন করেছে, আর ধারা 2(8)-এ লিখেছে: “উপজাতি কর্তৃক ব্যবহৃত বসতবাড়িতে বিশেষ ধরনের তাঁত”।

একটি ক্ষেত্রে উল্টো দিকে বদল: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, 2009 (2009 সনের 53 নং আইন)-এর ধারা 5(3) বলত, সদস্যদের মধ্যে “একজন নৃতাত্তিক (Ethnic) জনগোষ্ঠীর সদস্য হইতে হইবে।” 2026 সালের আইনটি (ধারা 41(1)) 2009 সালের আইন রহিত করেছে, আর নতুন ধারা 5(1)-এ শব্দ “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সদস্য”।

একই বিধান, দুই ভাষায় দুই শব্দ: ইংরেজি ও বাংলা পাঠের তুলনা

যে আইনগুলোর ইংরেজি ও বাংলা দুই পাঠ পাওয়া যায় — বা ইংরেজি আইনের জায়গায় বাংলা আইন এসেছে — সেগুলো পাশাপাশি রাখলে দেখা যায়, একই ইংরেজি শব্দ ভিন্ন আইনে ভিন্ন বাংলায় গেছে। ‘aboriginal’ গেছে ‘আদিবাসী’-তে, ‘tribe’ কখনো ‘উপজাতি’, কখনো ‘গোত্র’।

আইন ও ধারাইংরেজিবাংলাবাংলা পাঠের উৎস
প্রজাস্বত্ব আইন 1950, ধারা 97 (শিরোনাম)aboriginalsআদিবাসী বা উপজাতীয়দেরঅনুমোদিত বাংলা পাঠ, গেজেট 2022
প্রজাস্বত্ব আইন 1950, ধারা 97(1)aboriginal castes or tribesআদিবাসী সমাজ অথবা গোত্রঐ
সংবিধান, অনুচ্ছেদ 23কtribes, minor races, ethnic sects and communitiesউপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়সংবিধানের বাংলা পাঠ (bdlaws)
ট্রেডমার্ক: 1940 → 2009, ধারা 6sect, caste or tribeসম্প্রদায়, গোত্র বা উপজাতীনতুন বাংলা আইন
তাঁত বোর্ড: 1977 → 2013tribal peopleউপজাতিনতুন বাংলা আইন
মানবাধিকার কমিশন আইন 2009, ধারা 5(3)Ethnic (বন্ধনীতে)নৃতাত্তিকবাংলা আইনেই ইংরেজি শব্দ বন্ধনীতে

2010 সালের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন এই ছকে নেই, কারণ তার কোনো ইংরেজি পাঠ bdlaws-এ নেই। একইভাবে 1944 সালের রেগুলেশন ও 1995 সালের অর্থ আইনের ইংরেজি অংশের কোনো সরকারি বাংলা পাঠ পাওয়া যায়নি।

শব্দগুলোর আন্তর্জাতিক আইনি সংজ্ঞা — ‘indigenous’, ‘tribal’ ইত্যাদি আইএলও কনভেনশনে কী অর্থে — তা আছে আদিবাসীর সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনে আসলে কী লেখায়।

সময়রেখা: কোন বছরের আইনে কোন শব্দ

নিচের সময়রেখা কেবল এই লেখায় উল্লিখিত আইনগুলোর, সাল অনুযায়ী। ‘শব্দ’ কলামে সেই আইন মানুষদের বোঝাতে যে শব্দ লিখেছে, তা হুবহু।

বছরআইনশব্দ
1874Married Women’s Property Actrace, sect or tribe
1881CHT Frontier Police Regulationhostile tribes
1925Succession Actrace, sect or tribe
1937 (সংকলন অনুযায়ী)Chittagong Hill Tracts Laws Regulation (Income-Tax Act 1922 প্রয়োগ)except the indigenous hillmen
1944Excises and Salt Act and the Finance Act (CHT) Regulation, ধারা 3indigenous hill-men
1951State Acquisition and Tenancy Act 1950, ধারা 97aboriginals; aboriginal castes or tribes; aboriginal raiyat
1977Bangladesh Handloom Board Ordinancetribal people
1989পার্বত্য জেলাসমূহ (আইন রহিত ও প্রয়োগ এবং বিশেষ বিধান) আইন; তিন জেলা পরিষদ আইনপাহাড়ী; উপজাতি; উপজাতীয়
1995অর্থ আইন, ধারা 6 (আয়কর অধ্যাদেশের ষষ্ঠ তফসিল)indigenous hillman
1998পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইনউপ-জাতীয়; অ-উপজাতীয়
2001ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনঅনগ্রসর উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল; উপজাতীয়
2003শাসনবিধি 1900 (সংশোধন) আইন, ধারা 8(4) যোগcustomary laws of the tribes
2009জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন; ট্রেডমার্ক আইননৃতাত্তিক (Ethnic); উপজাতী
2010ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ধারা 2(2)আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
2011সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন), অনুচ্ছেদ 23কউপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়
2012বন্যপ্রাণী আইন (2(45) — 2010 সালের সংজ্ঞা); দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী; উপ-জাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃ-গোষ্ঠী
2013–2014বাংলা একাডেমি, তাঁত বোর্ড, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইনক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী; উপজাতি; উপজাতীয়
2018–2019পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, সমাজকল্যাণ পরিষদ আইনক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী; ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী
2022প্রজাস্বত্ব আইনের অনুমোদিত বাংলা পাঠআদিবাসী বা উপজাতীয়; আদিবাসী রায়ত
2023আয়কর আইন (অধ্যাদেশ 1984 রহিত)ষষ্ঠ তফসিলের পাঠ bdlaws-এ নেই
2026বন্যপ্রাণী, বন ও বৃক্ষ, ব্যক্তিগত উপাত্ত, মানবাধিকার কমিশন আইন ইত্যাদিক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী (বন্যপ্রাণী আইনে 2010 সালের সংজ্ঞা)

সময়রেখা থেকে যা দেখা যায়, শুধু তা-ই: ইংরেজি আইনের যুগে ‘tribe’, ‘aboriginal’ ও ‘indigenous hillmen’; 1989 থেকে পার্বত্য আইনে ‘উপজাতীয়’ ও ‘পাহাড়ী’; 2010 থেকে সাধারণ আইনে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’। এই তালিকার আইনগুলোর মধ্যে বাংলা ‘আদিবাসী’ শব্দ প্রথম দেখা যায় 2010 সালের আইনে, আর একটি ইংরেজি আইনের সরকারি বাংলা পাঠে আসে 2022 সালে।

2010 সালের আইনের নাম বদলের প্রস্তাব: 2025 সালের খসড়া

2025 সালের জুনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় 2010 সালের আইনটি সংশোধনের একটি খসড়া নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে। দ্য ডেইলি স্টারে মং সিং হাই মারমার 6 জুলাই 2025-এর লেখা অনুযায়ী খসড়ার নাম “Cultural Institution for Ethnic Diversity Act 2025”, যেখানে “small ethnic group”-এর জায়গায় “ethnic diversity” প্রস্তাব করা হয়েছে।

লেখাটির বর্ণনায় সভার তারিখ 23 জুন। লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, শব্দের এই বদল কি আরও বড় নীতিগত পরিবর্তনের পূর্বাভাস। খসড়ায় ধারা 2(2)-এর ‘আদিবাসী তথা’ অংশটি থাকছে কিনা, সে বিষয়ে লেখাটিতে কিছু বলা নেই, আর খসড়ার পূর্ণ পাঠ প্রকাশিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

bdlaws-এ 4 নভেম্বর 2026 তারিখে আইনটি তার পুরোনো নামেই আছে, ধারা 2(2) অপরিবর্তিত। 25 জুন 2026 সংসদে সংস্কৃতিমন্ত্রীর জবাবেও আইনটির নাম “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০” (বাসস)। এ ছাড়া 2026 সালে পাস হওয়া বন্যপ্রাণী আইন এই আইনের ধারা 2(2)-কেই তার সংজ্ঞার ভিত্তি করেছে।

স্বীকৃতি দিলে বা না দিলে আইনত কী বদলায়, সেই আলাদা প্রশ্নটি আছে আদিবাসী স্বীকৃতি দিলে কী হবে: আইনত কী বদলায়, কী বদলায় না লেখায়।

উৎসভেদে অমিল

এই লেখার উৎসগুলোর মধ্যে তিনটি জায়গায় অমিল আছে। প্রতিটি এক বাক্যে, উৎসের নামসহ:

  • ‘Banais’ যোগ করা সংশোধনী আইনের নম্বর। bdlaws-এর পাদটীকা বলছে State Acquisition and Tenancy (Amendment) Act, 1974 “Act No. LXI of 1974”; 2022 সালের সরকারি বাংলা পাঠের পাদটীকা বলছে “১৯৭৪ সনের ৫৬ নং আইন”।
  • শাসনবিধি 1900-এ ‘indigenous hillman’। শক্তিপদ ত্রিপুরার প্রবন্ধ (2011) বলছে শাসনবিধিতে ‘ইন্ডিজিনাস হিলম্যান’ শব্দ আছে; bdlaws-এর শাসনবিধির পাঠে শব্দটি নেই, আর জনসংহতি সমিতির সংকলনে শব্দটি আছে শাসনবিধির সঙ্গে ছাপা আইন-তালিকা ও বিধিতে।
  • বিধির নম্বর। ইংরেজি আর্কাইভের ‘Why the Jumma Peoples’ claim…’ লেখা “tribe indigenous to the Hill Tracts” বাক্যটিকে “Rule 4 and 52”-এর বলে উল্লেখ করে; জনসংহতি সমিতির সংকলনের কপিতে বাক্যটি দেওয়ানি বিচার-বিধির একটি ক্রমিকে, যার নম্বর পরিষ্কার পড়া যায় না।

প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশের কোন আইনে ‘আদিবাসী’ শব্দটি আছে?

bdlaws-এ প্রকাশিত বলবৎ আইনের মূল পাঠে বাংলা ‘আদিবাসী’ শব্দ আছে একটি আইনে: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, 2010 (2010 সনের 23 নং আইন)-এর ধারা 2(2)। এর বাইরে 1950 সালের প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা 97-এর ইংরেজি ‘aboriginal’ শব্দ ভূমি মন্ত্রণালয়ের 2022 সালের অনুমোদিত বাংলা পাঠে ‘আদিবাসী’ হিসেবে লেখা।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইনের ধারা 2(2)-এ ঠিক কী লেখা?

ধারা 2(2)-এর পূর্ণ বাক্য: “”ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” অর্থ তফসিলে উল্লিখিত বিভিন্ন আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও শ্রেণীর জনগণ”। বাক্যটি 12 এপ্রিল 2010 তারিখের বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যার পৃষ্ঠা 2258-এ ছাপা, আর bdlaws-এর বর্তমান পাঠেও হুবহু একই। আইনের অন্য কোনো ধারায় ‘আদিবাসী’ নেই।

সংবিধানে কি ‘আদিবাসী’ শব্দ আছে?

না। সংবিধানের অনুচ্ছেদ 23ক লেখে “উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়”, আর ইংরেজি পাঠে “tribes, minor races, ethnic sects and communities”। অনুচ্ছেদটি 2011 সালের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ধারা 14 দ্বারা যোগ হয়েছে। সংবিধানে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দবন্ধও নেই। অনুচ্ছেদটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অংশ, যা অনুচ্ছেদ 8(2) অনুযায়ী আদালতে বলবৎযোগ্য নয়।

প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭ ধারায় ‘আদিবাসী’ শব্দটি কীভাবে এল?

ধারা 97-এর আইনি মূল পাঠ ইংরেজি, সেখানে শব্দ “aboriginals” ও “aboriginal castes or tribes”। ভূমি মন্ত্রণালয় এস.আর.ও 378-আইন/2022 (22 ডিসেম্বর 2022) দিয়ে আইনের অনুমোদিত বাংলা পাঠ প্রকাশ করে; সেখানে শিরোনাম “আদিবাসী বা উপজাতীয়দের দ্বারা ভূমি হস্তান্তরে বিধি-নিষেধ” এবং ভেতরে “আদিবাসী সমাজ অথবা গোত্র”।

‘Indigenous hillman’ শব্দটি কোন আইনে আছে?

অর্থ আইন, 1995 (1995 সনের 12 নং আইন)-এর ধারা 6-এ, যা আয়কর অধ্যাদেশ 1984-এর ষষ্ঠ তফসিলে paragraph 27 যোগ করে: পার্বত্য তিন জেলার “indigenous hillman”-এর জেলার ভেতরের অর্থনৈতিক কাজের আয় করমুক্ত। আর 1944 সালের Bengal Regulation II-এর ধারা 3-এ আছে “indigenous hill-men”।

আয়কর আইন 2023-এ পার্বত্য জেলার কর-অব্যাহতি কোন শব্দে লেখা?

আয়কর আইন 2023 সালের ধারা 344(1) আয়কর অধ্যাদেশ 1984 রহিত করেছে। নতুন আইনের অব্যাহতিটি ষষ্ঠ তফসিলের অংশ 1-এর অনুচ্ছেদ (19)-এ, কিন্তু তফসিলের পাঠ bdlaws-এ ছাপা নেই। প্রথম আলোর 23 জুন 2026-এর প্রতিবেদন বিধানটিকে ‘উপজাতিদের’ কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তির আয় বলে বর্ণনা করেছে।

অর্থ আইন 2026 পার্বত্য জেলার কর-অব্যাহতিতে কী বদলেছে?

অর্থ আইন, 2026 (2026 সনের 96 নং আইন, 30 জুন 2026)-এর ধারা 157(ক) আয়কর আইনের ষষ্ঠ তফসিলের অংশ 1-এর অনুচ্ছেদ (19)-এ “অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড” শব্দগুলোর পর “(আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয় ব্যতীত)” যোগ করেছে। অর্থাৎ আর্থিক পরিসম্পদ থেকে আয় ওই অব্যাহতির বাইরে।

শাসনবিধি 1900-এ কি ‘indigenous’ শব্দ আছে?

bdlaws-এ প্রকাশিত শাসনবিধি 1900-এর পাঠে নেই; আছে ‘tribes’, ধারা 8(4)-এ, যা 2003 সালের সংশোধনীতে যোগ হয়েছে। জনসংহতি সমিতির প্রকাশিত সংকলনে শাসনবিধির সঙ্গে ছাপা আইন-তালিকায় “except the indigenous hillmen” এবং বিধিতে “tribe indigenous to the Hill Tracts” আছে; এগুলো bdlaws-এ নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনগুলো কোন শব্দ ব্যবহার করে?

তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন (1989), আঞ্চলিক পরিষদ আইন (1998), ভূমি কমিশন আইন (2001) ও উন্নয়ন বোর্ড আইন (2014) ‘উপজাতি’, ‘উপজাতীয়’ ও ‘অ-উপজাতীয়’ লেখে। 1989 সালের পার্বত্য জেলাসমূহ (বিশেষ বিধান) আইনের ধারা 13 ও 15-এ ‘পাহাড়ী’ শব্দও আছে। এগুলোর কোনোটিতে ‘আদিবাসী’ নেই।

কোন কোন আইনে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ লেখা আছে?

2010 সালের আইন ছাড়াও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন 2014 (ধারা 6, 8), বাংলা একাডেমি আইন 2013 (ধারা 10), পাঠ্যপুস্তক বোর্ড আইন 2018 (ধারা 8), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন 2018 (ধারা 11(2)), বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন 2026, বন্যপ্রাণী আইন 2026 ও মানবাধিকার কমিশন আইন 2026-এ শব্দটি আছে।

অন্য আইন কি 2010 সালের সংজ্ঞা ব্যবহার করে?

হ্যাঁ, বন্যপ্রাণী আইন। 2012 সালের আইনের ধারা 2(45) এবং তার জায়গায় আসা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, 2026-এর ধারা 2(59) ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ বলতে 2010 সালের আইনের ধারা 2(2)-এ সংজ্ঞায়িত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বোঝায়। ফলে ‘আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ সংজ্ঞাটি সেখানেও খাটে।

2010 সালের আইনের নাম কি বদলেছে?

bdlaws-এ 4 নভেম্বর 2026 পর্যন্ত বদলায়নি; ধারা 2(2)-ও অপরিবর্তিত। দ্য ডেইলি স্টারের 6 জুলাই 2025-এর লেখা অনুযায়ী 23 জুন 2025 সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় “Cultural Institution for Ethnic Diversity Act 2025” নামে একটি খসড়া নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করেছিল। 25 জুন 2026 সংসদে মন্ত্রী আইনটিকে পুরোনো নামেই উল্লেখ করেন।

ইংরেজি ‘tribe’ শব্দ আইনের বাংলা পাঠে কী হয়েছে?

আইনভেদে ভিন্ন। সংবিধানে ‘tribes’ হয়েছে ‘উপজাতি’; প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা 97-এর বাংলা পাঠে ‘castes or tribes’ হয়েছে ‘সমাজ অথবা গোত্র’; ট্রেডমার্ক আইন 2009-এ ‘উপজাতী’; তাঁত বোর্ড আইন 2013-এ ‘tribal people’ হয়েছে ‘উপজাতি’। অন্যদিকে মানবাধিকার কমিশন আইন 2009 ইংরেজি ‘Ethnic’ শব্দটি বন্ধনীতে রেখে বাংলায় লিখেছিল ‘নৃতাত্তিক’।

যা এখনো জানা যায়নি

  • আয়কর আইন 2023-এর ষষ্ঠ তফসিলের অনুচ্ছেদ (19)-এর হুবহু শব্দ। তফসিলটি bdlaws-এ ছাপা নেই। প্রথম আলোর প্রতিবেদন ‘উপজাতিদের’ বলেছে উদ্ধৃতিচিহ্নে, তবে সেটি আইনের হুবহু বাক্য কিনা, গেজেট-পাঠ দেখে যাচাই করা যায়নি।
  • শাসনবিধি 1900-এর বিধিমালার বর্তমান পাঠ ও অবস্থা। ‘tribe indigenous to the Hill Tracts’ বাক্যটি যে বিধিতে, তা কোনো সরকারি আইন-ভান্ডারে প্রকাশিত পাওয়া যায়নি; বিধিটি এখনো বলবৎ কিনা, জানা যায়নি।
  • The Chittagong Hill Tracts Laws Regulation, 1937-এর মূল পাঠ। আয়কর আইন 1922 ‘indigenous hillmen’ ছাড়া সবার ওপর প্রয়োগের সূত্র হিসেবে এটির নাম আছে, কিন্তু রেগুলেশনটি bdlaws-এ নেই।
  • 2010 সালের আইনের সরকারি ইংরেজি অনুবাদ। ধারা 2(2)-এর ‘আদিবাসী’ ইংরেজিতে সরকারিভাবে কোন শব্দে অনূদিত, তা জানা যায়নি।
  • 2025 সালের সংশোধনী খসড়ার পাঠ। খসড়ায় ‘আদিবাসী তথা’ শব্দগুলো রাখা হয়েছিল কিনা, আর খসড়াটির বর্তমান অবস্থা কী — প্রকাশিত কোনো নথিতে পাওয়া যায়নি।
  • বিধি, প্রবিধান ও এসআরও। আইনের অধীনে জারি হওয়া বিধিমালা, প্রজ্ঞাপন বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্মারকে ‘আদিবাসী’ বা ‘indigenous hillmen’ কোথায় কোথায় আছে, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ সংকলন পাওয়া যায়নি।
  • Finance Act, 1944-এর section 6 ও Second Schedule-এর বিষয়বস্তু। 1944 সালের রেগুলেশন কোন করটি ‘indigenous hill-men’-দের ওপর প্রয়োগ থেকে বাদ রেখেছিল, তা ওই আইনের পাঠ ছাড়া জানা যায় না।

তথ্যসূত্র

আইনের পাঠ (bdlaws.minlaw.gov.bd, আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগ; পাঠ দেখা হয়েছে 4 নভেম্বর 2026)

  1. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, 2010 (2010 সনের 23 নং আইন), ধারা 2, 4, 12। act-details-1043
  2. The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 (East Bengal Act XXVIII of 1951), section 97 ও পাদটীকা 55। act-241/section-7077
  3. অর্থ আইন, 1995 (1995 সনের 12 নং আইন), ধারা 6। act-796/section-33227
  4. The Excises and Salt Act and the Finance Act (Chittagong Hill-tracts) Regulation, 1944 (Bengal Regulation II of 1944), section 3। act-details-1491
  5. আয়কর আইন, 2023 (2023 সনের 12 নং আইন), প্রস্তাবনা ও ধারা 344। act-details-1429
  6. অর্থ আইন, 2026 (2026 সনের 96 নং আইন), ধারা 157। act-details-1725
  7. The Chittagong Hill-tracts Regulation, 1900 (Regulation I of 1900), section 8 ও পাদটীকা 12, 15। act-details-1313
  8. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ 23ক ও পাদটীকা 17 (বাংলা)। act-details-957; ইংরেজি পাঠ, Article 23A ও পাদটীকা 19। act-details-367
  9. বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, 2012 (2012 সনের 30 নং আইন), ধারা 2(45), 21, 32। act-details-1102
  10. বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, 2026 (2026 সনের 86 নং আইন), ধারা 2(59), 25, 36, 54। act-details-1715; অধ্যাদেশ, 2026 (09 নং)। act-details-1602
  11. পার্বত্য জেলাসমূহ (আইন রহিত ও প্রয়োগ এবং বিশেষ বিধান) আইন, 1989 (1989 সনের 16 নং আইন), ধারা 13, 15, 16। act-details-722
  12. রাংগামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989। act-details-724, 725, 726
  13. পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998, ধারা 2, 5। act-details-822
  14. পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, 2001 (2001 সনের 53 নং আইন), প্রস্তাবনা, ধারা 2(চ), 13(3) ও পাদটীকা 13। act-details-877
  15. পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, 2014 (2014 সনের 8 নং আইন), ধারা 6(2)। act-details-1150
  16. মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, 2018 (2018 সনের 63 নং আইন), ধারা 11(2)। act-details-1276
  17. উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন, 2014, ধারা 6, 8। act-details-1153; বাংলা একাডেমি আইন, 2013, ধারা 10। act-details-1123; জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড আইন, 2018, ধারা 8। act-details-1275
  18. বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, 2026, ধারা 4, 5, 6। act-details-1685; ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, 2026, ধারা 2। act-details-1692; জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, 2026, ধারা 5, 7, 41। act-details-1736; জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, 2009, ধারা 5। act-details-1023
  19. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, 2012, ধারা 27। act-details-1103; বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, 2013, ধারা 6। act-details-1131; বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ আইন, 2019, ধারা 5। act-details-1288; আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আইন, 2010, ধারা 2। act-details-1064
  20. বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) আইন, 2026, ধারা 5। act-details-1704; ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, 2026, ধারা 7। act-details-1699; রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, 2026। act-details-1702
  21. ট্রেডমার্ক আইন, 2009 (2009 সনের 19 নং আইন), ধারা 6, 127। act-details-1010; The Trade Marks Act, 1940, section 6। act-details-184
  22. বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড আইন, 2013 (2013 সনের 64 নং আইন), প্রস্তাবনা ও ধারা 2। act-details-1142; The Bangladesh Handloom Board Ordinance, 1977। act-details-562
  23. The Succession Act, 1925, section 3। act-details-138; The Married Women’s Property Act, 1874, section 2। act-details-30; The Transfer of Property Act, 1882, section 69। act-details-48; The Representation of the People Order, 1972, Article 73। act-details-424; The Chittagong Hill-tracts Frontier Police Regulation, 1881, section 2। act-details-1324

গেজেট ও অন্যান্য সরকারি দলিল

  1. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, 12 এপ্রিল 2010: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, 2010, পৃষ্ঠা 2257–2258। dpp.gov.bd
  2. ভূমি মন্ত্রণালয়, প্রজ্ঞাপন এস.আর.ও নং 378-আইন/2022 (22 ডিসেম্বর 2022): রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, 1950-এর অনুমোদিত বাংলা পাঠ, বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, 31 ডিসেম্বর 2022, পৃষ্ঠা 19853, 19931। minland.gov.bd (PDF)
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, “The Chittagong Hill Tracts Regulation, 1900” (আইন-তালিকা ও বিধিসহ সংকলন)। pcjss.org (PDF)

সংবাদ ও মতামত

  1. “দেশে গেজেটভুক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০”, বাসস, 25 জুন 2026। bssnews.net
  2. “পাহাড়ে সব ধরনের আয়কর অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি চার সংসদ সদস্যের”, প্রথম আলো, 23 জুন 2026। prothomalo.com
  3. Mong Sing Hai Marma, “The future of indigenous recognition in Bangladesh”, The Daily Star, 6 জুলাই 2025। thedailystar.net

জুমজার্নালের আর্কাইভ

  1. শক্তিপদ ত্রিপুরা, “আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও এর প্রাসঙ্গিকতা”। jumjournal.com
  2. “Why the Jumma Peoples’ claim for Indigenous Identity is reasonable”, জুমজার্নাল ইংরেজি আর্কাইভ, জুন 2020। jumjournal.com
  3. “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০” (আইনের আর্কাইভ-কপি)। jumjournal.com

জুমজার্নালের সম্পর্কিত লেখা

সর্বশেষ হালনাগাদ: 4 নভেম্বর 2026

প্রসঙ্গ:আইন, আদিবাসী, আদিবাসী অধিকার, সংবিধানে আদিবাসী

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

টমাস হারবার্ট লুইনের ১৮৬৯ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত বই The Hill Tracts of Chittagong and the Dwellers Therein-এর শিরোনাম পৃষ্ঠা

Oct 19th, 2026 · আর্কাইভ, ইতিহাস ও প্রশাসন

12

বাঙালিরাই কি পার্বত্য চট্টগ্রামের আদি বাসিন্দা? প্রত্নতত্ত্ব ও ঔপনিবেশিক নথি যা বলে, যা বলে না